চলো যাই ঘুরি আসি প্রাণ ভরে,

বনেতে, পাহাড়ে, মরুপ্রান্তরে…

বেড়াতে সকলেই ভালোবাসে। তার উপর বহুদিন গৃহবন্দি অবস্থায় যদি কাটাতে হয় তবে খোলা আকাশের নীচে মুক্তির আনন্দে নিজেকে নিমজ্জিত করার আনন্দ থেকে কে আর বঞ্চিত থাকতে চাইবে। তাহলে বেরিয়ে পড়া যাক নিজের দেশেরই আনাচে-কানাচে।

পুদুচেরী:

খুবই রোমান্টিক কাপল শীর্ষ আর তিস্তা। দুজনের কমন ইন্টারেস্ট সমুদ্র। কিছুদিন হল শীর্ষকে যেন সমুদ্র বড়ো বেশি টানছে। মা বেঁচে থাকতে মা-কে নিয়ে দুবার পণ্ডিচেরী গিয়েছিল সে। এখন তো নামও বদলে পুদুচেরী হয়ে গিয়েছে। বিয়ের পর একটা বছর কেটে গেছে। তিস্তাকে নিয়ে বাইরে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। এখন তিস্তাকে নিয়ে পুদুচেরী দেখাতে বড় ইচ্ছা করছে শীর্ষর। ওখানে গিয়ে সমুদ্রের ধারে বসার জন্য মনটা উতলা হয়ে উঠেছে ওর।

২০০৬ সালে পণ্ডিচেরীর নাম বদলে করা হয় পুদুচেরী। ট্রেন বা ফ্লাইটে চেন্নাই হয়ে পুদুচেরী পৌছনো যায়। ভেলোর থেকে ত্রিবান্দ্রম হয়ে পুদুচেরী। পুদুচেরীর সবচেয়ে সুন্দর বিচ হল প্যারাডাইস বিচ। এখানে একটি খাঁড়ি এসে মিশেছে সমুদ্রে। অনেকখানি জায়গা জুড়ে রয়েছে একটি ব্যাকওয়াটার-এর বিস্তৃতি। এখানে নৌকাভ্রমণও করা যায়। এটি একটি দ্বীপ যেখানে স্পিডবোট বা ছোটো ফেরি নৌকোয় পেঁছোনো যায়।

সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত বিচে থাকার সময় এবং টিকিট কেটে বিচে প্রবেশাধিকার পাওয়া যায়। এরপর দেখে নেওয়া যায় পিলায়ারকুপ্পাম বিগ বিচ। এই বিচ বেশ নির্জন। সারি সারি মাছ ধরার ট্রলার রয়েছে। জেলেরা জালের জট ছাড়াতে ব্যস্ত। ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে নির্জন সমুদ্র সৈকতে। এছাড়াও সূর্যাস্ত এবং সূর্যদয় দেখতে ভিরামপাট্টিনাম বিচ এবং রক বিচ বেছে নিতে পারেন। সকালের দিকে চলে যান অরোভিলে বিচ যেখানে সাঁতার থেকে সার্ফিং, বিচ ধরে হেঁটে চলা এমনকী সূর্যদয়ও প্রাণভরে উপভোগ করতে পারবেন।

১৯৬৮ সালে মীরা আলফাসা (মা হিসেবে পরিচিত) দ্বারা অরোভিল জনপদের প্রতিষ্ঠা হয়। এর উদ্দেশ্য হল মানবিক একতাকে উপলব্ধি করানো। এখানে সমস্ত দেশের পুরুষ ও মহিলা সকল ধর্ম, রাজনীতি এবং জাতীয়তার ঊর্ধ্বে শান্তি ও প্রগতিশীল সম্প্রীতিতে বসবাস করতে সক্ষম হন।

অরোভিল-এর কেন্দ্রে রয়েছে মাতৃমন্দির, সেখানে উপাসনা করা হয়। বাইরের কোলাহলপূর্ণ সমাজ থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন অরোভিলের শান্তিপূর্ণ জগৎটি। বিচগুলি ছাড়াও ঘুরে নেওয়া যায় ফ্রেঞ্চ কলোনি, ওয়ার মেমোরিয়াল, আরুলমিগু ভিনায়াগার মন্দির, ব্যাসিলিকা চার্চ, প্যারিসের নোটরে ডেম-এর অনুকরণে তৈরি ক্যাথিড্রাল চার্চটি, চুন্নামবার বোট হাউস, অরো বিচ, ভারতী পার্ক, বোটানিকাল গার্ডেন।

যারা একান্তে মেডিটেশন করতে আগ্রহী তারা অবশ্যই যাবেন শ্রীঅরবিন্দ ঘোষ আশ্রমে। মনে শান্তি এবং একাগ্রতাকে অনুভব করতে হলে অরবিন্দ আশ্রমের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তবে পুদুচেরী যাবার সবথেকে ভালো সময় হল শীতকাল। কারণ গরমের সময় প্রচণ্ড গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়া ঘোরার জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়।

 

Tags:
COMMENT