যাদের নিঃস্বার্থ সেবা অন্যদের জীবন বাঁচায়, প্রেরণা জুগিয়ে সমাজকে আলোকিত করে, তাঁরাই এবার আলো ছড়ালেন মঞ্চে। আর দেশে-বিদেশে আলো ছড়ানো এইসব নক্ষত্রদের সম্মান জানাল টিভি নাইন বাংলা। তাই, ১৯ মার্চ-এর রাতে কলকাতা শহরের এক অভিজাত হোটেলের ব্যাংকোয়েট হল-এর মঞ্চ হয়ে উঠেছিল বর্ণময়। আলোকিত এই অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল ‘নক্ষত্র সম্মান’।
এই ‘নক্ষত্র সম্মান’-এর মঞ্চে কুর্নিশ জানানো হয়েছে ক্রীড়া, নাটক, চিকিৎসা-গবেষণা, ইতিহাস-গবেষণা, মানবসেবায় ব্রতী বাংলার ৬জন কৃতী সন্তানকে। পাশাপাশি, নীরবে মানুষের জন্য কাজ করে চলা একঝাঁক রিয়েল হিরোকেও সম্মান জানানো হল আনুষ্ঠানিক ভাবে।
যাঁর পরিকল্পনা, সক্রিয় উদ্যোগ এবং অংশগ্রহণে বাংলার দ্বিতীয় এই ‘নক্ষত্র সম্মান’ অনুষ্ঠান সাফল্যমণ্ডিত হয়ে উঠেছিল, সেই মানুষটি হলেন—টিভি নাইন নেটওয়ার্ক-এর এমডি বরুণ দাস। আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, বাংলার দ্বিতীয় ‘নক্ষত্র সম্মান’ অনুষ্ঠানটি টিভি নাইন বাংলা-য় সম্প্রচারিত হবে ৩০ মার্চ,(২০২৫)রবিবার বিকেল ৫টা থেকে।
এই অনুষ্ঠানে ‘প্রথম থেকে প্রথমে’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। ‘জীবনকৃতি’ সম্মান দেওয়া হয় প্রবীণ নাট্যকর্মী রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তকে। এ ছাড়া, ক্যানসার গবেষণার জন্য ডা. অসীমা মুখোপাধ্যায়, সিন্ধুলিপির পাঠোদ্ধারের দিশা দেখানোর জন্য বহতা অংশুমালী, দৃষ্টিহীনদের নিয়ে নাটক পরিচালনার জন্য শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায় এবং শবর জাতির শিশুদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের জন্য ড. অরূপ রায়কে দেওয়া হয় নক্ষত্র সম্মান।
প্রচারের আলোর বাইরে কাজ করে চলা যে পাঁচজনকে এই অনুষ্ঠানে আলোকবৃত্তের মাঝে এনে সম্মানিত করা হল, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন একক উদ্যোগে বনসৃজন করা দুখু মাঝি, গরীবদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠাকারী রেবা মুর্মু, বিশেষ ভাবে সক্ষম শিক্ষক প্রবীর পাল এবং ভবঘুরেদের মাথা গোঁজার ঠাঁই গড়ে দেওয়া সাজু তালুকদার।
”এই ‘নক্ষত্র সম্মান’-এর মঞ্চে আমরা যে মানুষগুলোকে দেখতে পাই, তাঁরা সারা বছরে দৌড়ে বেড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগান। আমরাও তাঁদের থেকে প্রেরণা নিয়ে চেষ্টা করি মানুষের পাশে থাকতে, কারণ মানুষ সত্যি-সত্যি কিছু-কিছু ক্ষেত্রে খুব একলা। মানুষের পাশে থাকতে গিয়ে আমরা দেখেছি যে, এটার জন্য একটা অদ্ভূত লড়াই দরকার হয়, অদ্ভূত একটা মানসিকতার দরকার হয়, যেই মানসিকতার জায়গায় অনেক কিছু ছাড়তে হয়, ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। এগুলো করার কথা ভাবতে গেলে, বাইরে থেকে অনেকেই রয়েছেন যারা সত্যি-সত্যি আমাদের পথ দেখান, আমরা তাঁদেরকে সব সময় দেখতে পাই না, কিন্তু তাঁদের নিঃস্বার্থ কাজগুলো আমাদের কোথাও গিয়ে অনুপ্রাণিত করে। যাঁরা আমাদের এ ভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন, তাঁদের সম্মান জানিয়ে আমরা আপনাদের পাশে থাকার বেশ একটা রসদ জোগাব। ৩০ মার্চ টিভির পর্দায় যাঁদের দেখবেন এবং জানবেন, তাদের থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। আমরা তাই এই বিশেষ সম্মান জানানোর ক্ষেত্রটিকে ‘নক্ষত্র সম্মান’ প্রদানের মঞ্চ আখ্যা দিয়েছি।’’—এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কথাগুলো জানিয়েছেন টিভি নাইন বাংলা নিউজ চ্যানেল-এর ম্যানেজিং এডিটর এবং বিজনেস হেড অমৃতাংশু ভট্টাচার্য।
টিভি নাইন নেটওয়ার্ক-এর এমডি বরুণ দাস এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘‘আমরা যদি ইতিহাসের পাতা ওল্টাই, প্রথম থেকেই ভারত যখন সাফল্যের মুখ দেখেছিল, তখন বাংলা নেতৃত্ব দিয়েছে। ১৮৯৩ সালে মহাসম্মেলনে শিকাগোতে স্বামীজি যেখানে ভাতৃত্ব ও সম্প্রীতির আদর্শে গোটা পৃথিবীকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। ঊনবিংশ শতাব্দীতে রামদুলাল দে প্রথম মাল্টিনেশন্যাল কোম্পানিতে নিজেকে ভারতীয় শিল্পপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এর পর একের পর এক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আচার্য জগদীশচন্দ্র বোস, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চলচ্চিত্রে সত্যজিৎ রায়, অর্থনীতিতে অমর্ত্য সেন, অভিজিৎ বিনায়ক। বিশ্ব স্তরে ভারত যেখানেই সাফল্য পেয়েছে, বাঙালিরা নেতৃত্ব দিয়েছে। সঙ্গে আছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ভারতীয় ক্রিকেটকে কোথায় তিনি নিয়ে গেছেন, আমরা তা জানি। তাই আমার আশাবাদী মন বলছে, একটা সুবর্ণ সুযোগ আছে, বিশ্বস্তরে বাঙালিদের মধ্যে একটা অস্বাভাবিক ক্ষমতা আছে, যে বাঙালিরা আবার নেতৃত্ব দিতে পারে। আমি বাঙালি যুবসমাজকে বলছি, বড়ো স্বপ্ন দেখতে ও স্বপ্নের পেছনে নিরলস ভাবে ছুটতে। যখন আমরা স্বপ্নের পিছনে ছুটি, আমাদের আবেগ, কঠোর পরিশ্রম ও দক্ষতা আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। আর এই অনুপ্রেরণার খোঁজে টিভি নাইন বাংলার ‘নক্ষত্র সম্মান’-এ আমরা কয়েকজন কৃতি বাঙালিকে সম্মান জানাতে পারলাম। এঁরা আমাদের প্রত্যেকের অনুপ্রেরণা হতে পারেন আর এই অনুপ্রেরণাই পারে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে, এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’’