জেনু ভালগাম, যা সাধারণত নক-নিস নামে পরিচিত, এমন একটি অবস্থা, যেখানে হাঁটু দুটি ভেতরের দিকে বেঁকে একে অপরের সঙ্গে লেগে যায়, কিন্তু গোড়ালি দুটি আলাদা থাকে। নক-নিস আক্রান্ত কোনও শিশু যখন হাঁটু দুটি জোড়া করে দাঁড়ায়, তখন গোড়ালির ভেতরের দিকের হাড় দুটির মধ্যে একটি স্পষ্ট ফাঁক দেখা যায়। যদিও এটি শৈশবের বিকাশের সময় একটি সাধারণ ও স্বাভাবিক পর্যায়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এই সমস্যা ১৮-২০ বছর বয়স পর্যন্ত থাকে। আসলে নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক অসুস্থতার কারণেও হতে পারে এই সমস্যা। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং পরামর্শ দিয়েছেন পেডিয়াট্রিক অর্থোপেডিক সার্জন ডা. সৌম্য পাইক।
জেনু ভ্যালগামের কারণ প্রায়ই ব্যক্তির বয়সের উপর নির্ভর করে। বেশিরভাগ শিশুদের ক্ষেত্রে, এটি বৃদ্ধির একটি স্বাভাবিক অংশ। অনেক শিশুর তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে এই অবস্থাটি দেখা দেয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাত বা আট বছর বয়সের মধ্যে কোনও চিকিৎসা ছাড়াই তাদের পা স্বাভাবিক ভাবে সোজা হয়ে যায়।
তবে, কিছু ক্ষেত্রে এই অবস্থাটি অন্যান্য কারণের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। যদি এটি হঠাৎ দেখা দেয়, শুধুমাত্র একটি পা-কে প্রভাবিত করে কিংবা গুরুতর বলে মনে হয়, তবে এটি ভিটামিন ডি বা ক্যালসিয়ামের অভাবে সৃষ্ট রিকেটসের মতো পুষ্টিগত ঘাটতি। হাঁটুর কাছের গ্রোথ প্লেটকে প্রভাবিত করে এমন আঘাত বা সংক্রমণ, নির্দিষ্ট কিছু হাড়ের রোগ কিংবা স্থূলতার মতো সমস্যার কারণে হতে পারে, যেখানে অতিরিক্ত শারীরিক ওজন হাঁটুর জয়েন্টগুলিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং এর বিন্যাসকে আরও খারাপ করে তোলে।

যদি এই অবস্থাটি গুরুতর হয় কিংবা এর চিকিৎসা না করা হয়, তবে এটি হাঁটুর জয়েন্টের উপর শরীরের ওজন কীভাবে পড়ে, তা প্রভাবিত করতে পারে। এই অবস্থাটি হাঁটুর বাইরের অংশে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে।
এর মধ্যে থাকতে পারে হাঁটু, কোমর বা গোড়ালিতে জয়েন্টের ব্যথা, হাঁটার ধরনে পরিবর্তন এবং লিগামেন্টের ক্ষতি বা হাঁটুর মালাইচাকির স্থানচ্যুতির মতো হাঁটুর আঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি। দীর্ঘমেয়াদে, জয়েন্টের উপর এই অসম চাপ তরুণাস্থির ক্ষয়ের কারণে অকাল অস্টিওআর্থারাইটিসের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
জেনু ভালগাম আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশুর কোনও চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না, যদি না গোড়ালি দুটির মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি হয়। অনেক ক্ষেত্রে, শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে-সঙ্গে এই অবস্থাটি স্বাভাবিক ভাবেই ভালো হয়ে যায়। যেসব ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘস্থায়ী হয় কিংবা ব্যথার কারণ হয়, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকরা সতর্ক পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিতে পারেন। এক্ষেত্রে পায়ের কোণ ট্র্যাক করতে এবং অবস্থাটি আরও খারাপ হচ্ছে কি-না তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে নিয়মিত চেক-আপ।
কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। যেসব শিশু এখনও বাড়ন্ত, তাদের জন্য গাইডেড গ্রোথ নামক একটি পদ্ধতিতে ছোটো প্লেট ব্যবহার করে বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হাড়কে ধীরে ধীরে সঠিক দিকে চালিত করা হয়। কিশোর-কিশোরী কিংবা প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অস্টিওটমি নামক একটি অস্ত্রোপচার করা যেতে পারে, যেখানে হাঁটুর কোণ ঠিক করার জন্য হাড় কেটে সেটিকে পুনরায় বিন্যস্ত করা হয়।





