দৃষ্টিনন্দিত হল ‘ভাবাঞ্জলি’

রোটারি সদন প্রেক্ষাগৃহে সম্প্রতি পরিবেশিত হল ‘ভাবাঞ্জলি’। নৃত্যানুষ্ঠানটির নিবেদক ছিল ‘সৃজন ছন্দ ‘।

ভাবাঞ্জলি-র মূল উপজীব্য বিষয় ছিল গুরু কেলুচরণ মহাপাত্র ঘরানার ঐতিহ্যপূর্ণ খাঁটি নৃত্যশৈলীকে আধুনিক চিন্তাভাবনার প্রলেপে দৃষ্টি নন্দন করে বর্তমান প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করা। যাতে, তারা অনুপ্রাণিত হয়ে এই প্রাচীন শাস্ত্রীয় নৃত্যের ঐতিহ্য প্রচার এবং প্রসারে সহায়ক হয়। অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় সংস্থার উপ সভাপতি ড. কৌশিকী চক্রবর্তীর বক্তব্য দিয়ে। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথির আসন গ্রহণ করেছিলেন রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ব বিদ্যালয়ের নৃত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায় এবং কত্থক নৃত্যশিল্পী গুরু অসীমবন্ধু ভট্টাচার্য।

অনুষ্ঠানের প্রথমার্ধে এই সংস্থার কলা কূশলীরা প্রদর্শন করলেন তাণ্ডব ও লাস্য আঙ্গীকে স্থাপত্য অঙ্গ বিলাস। মন্দির গাত্রে বর্ণিত প্রাচীণ স্থাপত্য কলার নিদর্শন স্বরূপ সুচারু দেহ ভঙ্গিমাগুলোকে নৃত্যের মাধ্যমে তাল, লয় ও ছন্দ সহযোগে সুনিপুণ ভাবে পরিবেশন করা হয় এই স্থাপত্য অঙ্গবিলাস নৃত্যাংশটিতে। আদি তাল এবং ইমন রাগাশ্রিত নৃত্যাংশটির নৃত্য নির্মাণে ছিলেন সৃজন ছন্দ’-র কর্ণধার শ্রী রাজীব ভট্টাচার্য। সঙ্গীত রচনায় ছিলেন শ্রী দেবাশিষ সরকার।

পরবর্তী নৃত্যাংশটি ‘মা সরস্বতী সারদে’ । রাগ ভীমপলশ্রী এবং একতালি আধৃত অপূর্ব এক বিরল সঙ্গীত সহযোগে সরস্বতী বন্দনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

এরপর রাগ শিবরঞ্জনি এবং একতালি আধৃত তাণ্ডব লাস্য নৃত্যাংশটির মনোরম দলগত উপস্থাপনা প্রশংসার দাবি রাখে।

ওড়িশি নৃত্যে অভিনয় একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ‘শুন মন হরি কা নাম’ এই সঙ্গীতাংশটির সঙ্গে গুরু শ্রী রাজীব ভট্টাচার্যের পরিশীলিত ও পরিমার্জিত নৃত্যাভিনয় দর্শকমন আপ্লুত করে। পরবর্তী নৃত্যাংশটিতে সংস্থার কুশলীরা পারদর্শীতার সঙ্গে  আধ্যাত্মিক প্রেমের মাধ্যমে পরমাত্মার সঙ্গে জীবাত্মার মিলন বর্ননা করে ‘গোবিন্দ ধাম’ এই অভিনয় অংশটির মাধ্যমে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সরস্বতী বন্দনা, জটাটবী এবং ‘গোবিন্দ ধাম শুন সখী’ এই তিনটি সঙ্গীতাংশ প্রথাগত ওড়িশি সঙ্গীতাংশ থেকে ভিন্ন স্বাদের উত্তরভারতীয় সঙ্গীতাংশ যার সঙ্গে খাঁটি ওড়িশি নৃত্যের মেলবন্ধন ‘ভাবাঞ্জলি’-র অন্যতম বিশেষত্ব। প্রথমার্ধের শেষ পর্বে পরিবেশিত হয় কীভাবে অশুভ শক্তির বিনাশপূর্বক ব্রহ্মান্ডে সাম্যাবস্থা পুনরুদ্ধার করছেন। তাণ্ডব অঙ্গ পরিবেশনায় কুশলীদের পারদর্শীতা দর্শকদের নজর কাড়ে। প্রথমার্ধের নৃত্যানুষ্ঠানের অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন তৃষা দাস, রঞ্জাবলী দে , সৃঞ্জয়ী ছেত্রী, অঙ্গনা বোস, কমলিকা বোস, শালিনী সিনহা, সৌমেন কুণ্ডু, সুরজিৎ বিশ্বাস এবং শ্রী রাজীব ভট্টাচার্য।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়ার্ধে সৃজন ছন্দ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নবীন সম্ভবনাময় শিল্পীদের একক পরিবেশনা সমগ্র অনুষ্ঠানটিকে বর্নময় করে তোলে।

প্রথম পরিবেশনায় দেবদত্তা মান্না উপস্থাপন করেন ‘মাতঙ্গি ধ্যানম’। দেবদত্তা তার সাবলীল নৃত্যভঙ্গিমায় জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মাতঙ্গির রূপ বর্ননা করেন। রাগ মালিকা এবং যোতি ও আদি তাল আধৃত এই নৃত্যাংশটির নৃত্য নির্মিতিতে গুরু রতিকান্ত মহাপাত্র এবং সঙ্গীত নির্মিতিতে শ্রী প্রদীপ কুমার দাসের নাম উল্লেখ্য।

দ্বিতীয় পরিবেশনায় একতালি এবং মোহোনা রাগাশ্রিত স্থায়ী বটু উপস্থাপিত হয় ঐশী ঝা এর ছন্দবদ্ধ পদসঞ্চালনার মাধ্যমে।

ওড়িশি নৃত্যে পল্লবী একটি আকর্ষনিয় অধ্যায় যা বিভিন্ন রাগের নামানুযায়ী নামাঙ্কিত হয় এবং ধীর গতি থেকে শুরু হয়ে মধ্য ও দ্রুত লয়ে ক্রমবিকশিত হয়। সায়ন্তনী বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ‘মেঘপল্লবী’ পরিবেশনা দর্শকদের ভালো লাগে। ঝম্পা তাল এবং মেঘ রাগাশ্রিত এই পল্লবীটির নৃত্য নির্মাণ করেন গুরু  রতিকান্ত মহাপাত্র।

এরপর সৃজিতা মুখোপাধ্যায় পরিবেশন করেন ‘সাভেরি পল্লবী’। লাস্য আঙ্গিকে তার পরিবেশনা বেশ ভালো লাগে। একতালি সহযোগে সাভেরি রাগাশ্রিত এই পল্লবীটির নৃত্য নির্মাণ করেন পদ্মবিভূষণ গুরু কেলুচরণ মহাপাত্র। সঙ্গীত রচনা করেন পণ্ডিত ভুবনেশ্বর মিশ্র।

অনুষ্ঠানের সর্বশেষ নিবেদনটি ছিল আরাভি পল্লবী। সিনড্রালা কর্মকারের প্রাণবন্ত উপস্থাপনা দর্শকমন তৃপ্ত করে। আদি তাল এবং আরাভি রাগাশ্রিত নৃত্যাংশটির সঙ্গীত রচনা করেন পণ্ডিত ভুবনেশ্বর মিশ্র, নৃত্য নির্মাণ করেন পদ্মবিভূষণ গুরু কেলুচরণ মহাপাত্র। ‘ভাবাঞ্জলি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটির মূল ভাবনা এবং পরিচালনায় ছিলেন সৃজন ছন্দের কর্ণধার শ্রী রাজীব ভট্টাচার্য। সমগ্র অনুষ্ঠানটিকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য যাদের নাম উল্লেখ্য, তারা হলেন— মেসার্স অল এন্ড কোম্পানি কলকাতা, দেবজ্যোতি মান্না, অবন্তিকা মান্না, সুমনা দাস ভট্টাচার্য, উপাসনা বন্দ্যোপাধ্যায়, অয়ন বোস এবং ইমন বোস।

টিভির কেরিয়ারে খুশি জেসমিন

ছোটো পর্দায় তিনি চেনা মুখ। মুম্বইয়ে হিন্দি সিরিয়ালে দীর্ঘদিন কাজ করছেন জেসমিন ভসিন। ‘টশন-এ ইশক’ ধারাবাহিক দিয়ে তাঁর টেলিভিশন-এ কাজের সূত্রপাত। অভিনেত্রী জেসমিন ভসিন শুধু অভিনেত্রীই নন,  একজন মডেলও। অভিনয়ের সূত্রপাত হয়েছিল দক্ষিণী ছবিতে অভিনয় করা দিয়ে। কোটাতে জন্মেছিলেন তিনি, যদিও বেড়ে ওঠা দিল্লিতে।

বাড়িতে ছিল পড়াশোনার পরিবেশ। প্রথা ভেঙে তিনিই প্রথম অভিনয়ের ক্ষেত্রটাতে আসেন। সেই কারণেই তাই কেরিয়ার  শুরু করতে মুম্বইয়ে আসেন জেসমিন। সুযোগ মেলে তামিল ধারাবাহিকে কাজ করার। তারপর ক্রমশ হিন্দি ধারাবাহিকে নিজের স্থান কায়েম করেন তিনি। মা অধ্যাপিকা, দিদাও শিক্ষিকা ছিলেন। কিন্তু জেসমিন আজ এটা বলতে গর্ব অনুভব করেন যে, ‘আমার দিদা আমায় টিভিতে দেখে দারুণ খুশি হতেন।’

পরিবারের সাপোর্টটাকে বরাবরই খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করেন জেসমিন। তাঁর ওপর পরিবারের সকলে আস্থা রেখেছিলেন বলেই, তিনি কেরিয়ারে এগোতে পেরেছেন বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। ‘আমার পারফর্মেন্স দেখে ওঁরা কড়া সমালোচনা করেন বলেই, আমি প্রতিবার নিজের ভুলগুলো শুধরে নিতে পারি’, বলেন জেসমিন। আমি ছোটো শহর থেকে এসেছি। কোটা-তে টিভি-ই মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত ছিল। ফলে টিভির সাফল্যেই মানুষের মনে জায়গা পাব এই বিশ্বাস আমার ছিল। বাস্তবে ঘটেছেও তাই, খুশির গলায় বলেন তিনি।

টিভির এই কেরিয়ারে তিনি যে খুব সুখী তা আর বলে দিতে হয় না। কোটার সেই পুরোনো বাড়িতে গেলে আজও, প্রতিবেশীরা তাঁকে সমান ভাবে ভালোবাসায় ভরিয়ে তোলেন। এটাই তাঁর প্রাপ্তি বলে মনে করেন জেসমিন। প্রাপ্তির ঝুলি ভরে গেছে— এবার অন্যদের জন্যও কিছু করার কথা ভাবেন তিনি। তাঁর ইচ্ছে মেয়েদের শিক্ষা আর দু’বেলার খাবার জোটানোর পথ যাতে তৈরি হয়, সেরকম কোনও সামাজিক কাজে যোগ দেবেন তিনি।

ফারহানের কাছে বর্তমানটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

সতেরো বছর বয়সে, অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসাবে তাঁর বলিউড ফিল্ম ইন্ডস্ট্রিতে পদার্পণ। রক অন তাঁর অভিনীত প্রথম ছবি। ফিল্মি পরিবার-এ জন্মগ্রহণ করার কারণেই, ফারহান শৈশব থেকেই খুব ক্রিয়েটিভ। ছবির জগতের সঙ্গে সম্পর্কটাও খুব অনায়াসে গড়ে উঠেছিল। নেপোটিজম নিয়ে যখন বলিউডে জমে গেছে বিতর্ক ফারহান তখনও জোরের সঙ্গে বলেন, তিনি সাহায্য নেননি কারও, নিজের কেরিয়ারে প্রতিষ্ঠিত হতে। সেই ট্যালেন্ট য়ে তাঁর রয়েছে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই। সেই জন্যই ভালো অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি, ফারহান একজন সুদক্ষ নির্দেশক, প্রযোজক, স্ক্রিনপ্লে রাইটার এবং গায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন।

‘টেক লাইফ অ্যাজ ইট কামস’ এই মন্ত্রে দীক্ষিত ফারহান। তাই জীবনের সাফল্যের পাশাপাশি, অসফল মুহূর্তগুলোর কথাও কখনও ভোলেন না। দুই কন্যার পিতা ফারহান, সেই শিক্ষাই দেন তাঁর সন্তানদের, যাতে তারাও কখনও জীবনে হার না মেনে এগিয়ে য়েতে পারে। তাঁর সাম্প্রতিক ছবি ‘দ্য স্কাই ইজ পিংক’-এ তিনি একজন টিনএজার কন্যার বাবার চরিত্রেই অভিনয় করেছেন। ফলে ব্যক্তিগত জীবন আর ফিল্ম-এর চরিত্র কোথাও য়েন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। এই সিনেমার প্রসঙ্গ টেনেই তাই তাঁকে জিগ্যেস করা হল,

স্কাই তো বরাবর ‘ব্লু’ বলেই আমরা জানি। পিংক বলা হল কেন ছবির শিরোনামে?

আসলে এই ছবির গল্প এক দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত একটি মেয়ে ও তার মা-বাবাকে ঘিরে। কীভাবে এই রোগের সঙ্গে যুঝেছেন গোটা পরিবার, যখন স্বাভাবিকটা আর স্বাভাবিক থাকছে না— এই তাৎপর্যই ছবির নামের মধ্যে লুকিয়ে আছে।

এরকম কোনও ইমোশনাল ট্র‌্যাক কি নিজে অতিক্রম করেছেন কখনও?

এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা ইমোশনাল ট্র‌্যাক। সত্যি বলতে কী, চাই না কোনও মা-বাবাই এই পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে যান। কারণ সন্তানের এই দূরারোগ্য ব্যাধি হলে, তাদের কোল শূন্য হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে বাস্তবে যাঁদের এই রোগের সঙ্গে যুঝতে হয়, তারাই জানেন এই যন্ত্রণার দিকটি।

বাস্তবিক জীবনে একজন বাবা হওয়ার সুবাদে, নিজেকে এই চরিত্রের সঙ্গে কতটা আইডেন্টিফাই করতে পেরেছিলেন?

আমি প্রথম যখন এই ছবির গল্পটা শুনি, তখন মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে যায়। নির্দেশক খুব দক্ষ ভাবে চরিত্রগুলোর মধ্যে সেই যন্ত্রণার রূপ ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। তাঁর আবেগ ও সহানুভতি মিশে চরিত্রগুলো এতটাই জীবন্ত হয়ে উঠেছে য়ে, আমি চরিত্রটার মধ্যে নতুন ভাবে নিজেকে মোল্ড করে ফেলতে পেরেছিলাম। সন্তানের পিতা হয়ে বুঝতে পারি তাদের ঘিরে কী ধরনের আবেগ কাজ করে। কোনও মা-বাবাই চান না তাঁদের সন্তানকে কোনও রোগ-ব্যাধি, বিপদ-আপদ স্পর্শ করুক। কিন্তু সবসময় যা চাওয়া হয়, তা ঘটে না।

জীবনকে আপনি কীভাবে দেখেন? কীভাবে খারাপ পর্যায়গুলোকে অতিক্রম করেন?

আমি বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে একটা সংযোগ রক্ষার চেষ্টা করি। আজ যা করব, ভবিষ্যতে সেটার ফলই প্রতিফলিত হবে জীবনে এটা অনুভব করি। তাই বর্তমান সময়টাতেই ভালো ভাবে বাঁচার চেষ্টা করি। আমার কাছে বর্তমানটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাফল্য পাওয়ার জন্য আমরা অনেক সময় অনেক কিছু ত্যাগ করে ফেলি। সেটা না করে নিজের পছন্দটাকেই গুরুত্ব দেওয়া ভালো। তাই যা ঘটে গেছে আর যা ঘটতে পারে দুটোর কোনওটা নিয়ে বেশি ভাবি না।

‘স্কাই ইজ পিংক’-কি আপনার চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করেছে?

হ্যাঁ অনেকাংশে করেছে। ছবিটা করতে করতে আমার বারবার আনন্দ ছবিটার কথা মনে পড়েছে। ওখানে একটা ডায়লগ ছিল না? জিন্দগী বড়ি হোনি চাহিয়ে লম্বি নেহি। এই কথাটা ভীষণ দামি সেটা এখন রিযোইজ করি।

প্রিযংকা চোপড়ার সঙ্গে দ্বিতীয়বার অভিনয় করে কেমন লাগল?

ডন-২ ছবির পর থেকেই প্রিযংকার সঙ্গে আমার বন্ডিং খুব ভালো। আমরা একসঙ্গে বহুবার বেড়াতেও গেছি। এই বন্ডিংটা পর্দাতেও প্রতিফলিত হয়।

পরিবার-কে কতটা সময় দিতে পারেন?

আমার কাছে প্রত্যেকটা সম্পর্কই খুব গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সাপোর্ট ছাড়া জীবনের পথে এগোনো যায় না। কাজের সূত্রে ব্যস্ত থাকলেও আমার বন্ডিং-টা ওদের সবার সঙ্গে খুব ভালো।

আপনার মতে সাফল্যের সংজ্ঞা কী?

সাফল্য জিনিসটা ব্যক্তিগত পরিশ্রমের দ্বারা অর্জন করা হলেও এটা শেয়ার করার জন্য অনেকে আপনার সঙ্গে থাকে। কিন্তু ব্যর্থ মানুষরা একা হয়ে যান। এই ধরনের মানুষদের পাশে থাকা সবচেয়ে জরুরি। তাঁদের জীবনের ওই কষ্টকর পর্যায়ক্রমে অতিক্রম করতে সাহায্য করা উচিত। প্রত্যেকটা মানুষকে সাফল্য ও ব্যর্থতা পর্যায়ক্রমে পেরোতে হয়। কারও ভেতরের শক্তি সাহায্য করে, কারও কোনও একজন বন্ধুর প্রযোজন হয়, নেতিবাচক মনোভাব ও পরিস্থিতিটা পেরিয়ে আসার জন্য।

আপনার ছবি তুফান সম্পর্কে কিছু বলুন?

একজন ন্যাশনাল লেভেল বক্সার-এর জীবন নিয়ে রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরার নির্দেশনায় অভিনয় করেছি ওই ছবিতে। স্পোর্টস ফিল্ম-এর প্রতি মানুষের একটা ভালোবাসা আছে এটা আগেও প্রমাণ পেয়েছি।

বহুদিন হয়ে গেল আপনাকে নির্দেশক হিসাবে দেখা যাচ্ছে না, এটা কেন?

আমার য়ে-কোনও ক্রিয়েটিভ কাজই ভালো লাগে। তাই নির্দেশনা বন্ধ করে অভিনয়ে মন দিয়েছিলাম। তারপর মাঝে অভিনয় বন্ধ রেখে গান গাওয়ায় মনোনিবেশ করি। আসলে আমার মধ্যে যখন যেটা ন্যাচারালি আসে, সেটাই করি।

সমাজসেবার সঙ্গেও আপনি যুক্ত। সে ব্যাপারে কিছু বলুন?

উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট-এর পাশাপাশি পুরুষদের জন্য তৈরি সংস্থা মর্দ-এর সঙ্গেও আমি সক্রিয় ভাবে যুক্ত। ফিল্ম-এর মতোই, কিছু ভালো সামাজিক কাজও করতে চাই।

সাহিত্য যখন সিনেমায়

বাংলা ছবির দর্শক সিনেমা দেখতে গিয়ে শুধু নায়ক-নায়িকার অভিনয় কিংবা বিনোদনেই সন্তুষ্ট হন না। আখেরে তারা ছবি দেখেন একটি ভালো গল্পের আশায়। ব্যক্তিগত জীবনের হাসি-কান্না, বিরহ-বিষাদ ভুলে, আড়াই ঘণ্টার এই ‘অলীক সুখে’ গা-ভাসাতে একটি মন ভোলানো কাহিনি সত্যিই এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে।

বর্তমানে বাংলা ছবির যে সমস্ত প্রযোজক, পরিচালক এই সারমর্মটুকু বোঝেন, তাঁরা মাধ্যম করছেন বাংলা সাহিত্যকে। ফলে, সাফল্যের পথও সহজ হচ্ছে। বাংলা সাহিত্যকে মাধ্যম করে বাংলা সিনেমা তৈরির রীতি নতুন নয়। সত্যজিৎ রায়ের মতো গুণী পরিচালকও বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালি’-কে অবলম্বন করে পেয়েছেন বিশ্বজোড়া খ্যাতি। রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র তো আছেনই। এছাড়াও বনফুল, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, বিমল মিত্র, শংকর, মতি নন্দী প্রমুখ নানা যুগের নানা লেখকের গল্প অবলম্বনে তৈরি হয়েছে বহু জনপ্রিয় বাংলা ছবি।

সাহিত্যমূলক ছবি তৈরির এই ধারা অব্যাহত ছিল গত শতকের প্রায় সাতের দশক পর্যন্ত। কিন্তু তারপর প্রায় এক দশক কোনও এক অলৌকিক কারণে সাহিত্যকে বর্জন করেছিলেন বাংলা ছবির প্রযোজক, পরিচালকরা। মাঝের এই সময়টুকুতে সিংহভাগ পরিচালক নিজেকে অলরাউন্ডার প্রমাণ করার জন্য গল্প, চিত্রনাট্য সবকিছু নিজেরাই লিখেছেন। আর গল্প, চিত্রনাট্য লেখার গুণ না থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ তা করেন, তাহলে যা ফল হওয়ার তাই হয়েছে। মুখ থুবড়ে পড়েছে তাঁদের ছবি। দর্শকরাও তখন বাংলা ছবির থেকে প্রায় মুখ ফিরিয়েই নিয়েছিলেন।

এই হল-বিমুখতার ‘ছবি’টা সামান্য হলেও বদলাতে শুরু করল নয়ের দশক থেকে। বাণী বসুর লেখা গল্প অবলম্বনে ‘শ্বেত পাথরের থালা’ ছবিটি উপহার দিয়ে পরিচালক প্রভাত রায় কিছুটা পুনরুদ্ধার করেছিলেন বাংলা ছবির হারানো গৌরব।আর ওই দশকেরই শেষের দিকে গৌরব পুনরুদ্ধারের বৃত্ত অনেকটাই পূর্ণ করেছিলেন পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ। তিনি উপহার দিয়েছিলেন সুচিত্রা ভট্টাচার্যর লেখা গল্প অবলম্বনে তৈরি ছবি ‘দহন’। তবে, ‘শ্বেত পাথরের থালা’ এবং ‘দহন’ দুটি ছবিই সাহিত্যমূলক হলেও, দুটি ছবির গল্পের ধরনের বিশেষ পার্থক্য নজরে পড়েছে। ‘দহন’ অনেক বেশি যুগোপযোগী কাহিনিতে সমৃদ্ধ। আর এই যুগোপযোগী কাহিনিতে সমৃদ্ধ ছবির সাফল্য প্রেরণা যুগিয়েছে সাম্প্রতিককালের অনেক পরিচালককেই। তাই তাঁরাও হেঁটেছেন ঋতুপর্ণ ঘোষের পথ ধরে। এই তালিকায় রয়েছেন অঞ্জন দাস, শেখর দাস, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, সোমনাথ গুপ্ত, নীলাঞ্জন ভট্টাচার্য, বিষ্ণুপাল চৌধুরি, সুদেষ্ণা রায়-অভিজিৎ গুহ প্রমুখ।

আবার যাঁরা যুগোপোযোগী না হলেও, মাঝেমধ্যে সাহিত্যকেই মাধ্যম করছেন ছবির জন্য, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গৌতম ঘোষ, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, অপর্ণা সেন, অঞ্জন দত্ত, অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরি, অনীক দত্ত, সুমন মুখোপাধ্যায়, বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায় প্রমুখ পরিচালক। কিন্তু যাঁদের লেখা গল্প-উপন্যাসে সমৃদ্ধ হচ্ছে সাম্প্রতিককালের বাংলা ছবি, কী বলছেন সেইসব সাহিত্যিকরা? কারাই বা আছেন এই তালিকায়? কতটাই বা খুশি তাঁরা? এই সমস্ত কৌতূহল মেটানোর জন্য সম্প্রতি তাঁদের ব্যক্তিগত মতামত ব্যক্ত করেছেন তিন সাহিত্যিক– সুচিত্রা ভট্টাচার্য, স্বপ্নময় চক্রবর্তী এবং রূপক সাহা।

সুচিত্রা ভট্টাচার্য

আমার লেখা অনেকগুলি গল্প-ই চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে। এরমধ্যে দহন, ইচ্ছে, টলিলাইটস, অলীক সুখ, হেমন্তের পাখি এবং ক্যানসার অনেকদিন আগেই মুক্তি পেয়েছে এবং সকলেই জানেন যে, ছবিগুলি দর্শকদের মন জয় করতে পেরেছে। এছাড়া মুক্তির প্রতীক্ষায় রয়েছে ‘কাচের দেয়াল’।

সত্যি বলতে কী, গল্প-উপন্যাস লেখা আমার নেশা এবং পেশাও। লেখার সময় প্রথমে মাথায় থাকে পাঠকদের ভালোলাগার বিষয়টি। সেইসঙ্গে থাকে নিজস্ব অনুভূতি। যে-সমস্ত স্পর্শকাতর বিষয় আমার মনকে নাড়া দেয়, তা আমি লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করে মনের ভার কিছুটা লাঘব করি। আর সাহিত্য এবং সিনেমা যেহেতু সমাজদর্পন, তাই আমার লেখা কোনও গল্প-উপন্যাস নিয়ে যখন সিনেমা হয়েছে কিংবা হচ্ছে, তখন তো ভালো লাগবেই। কারণ, আমি লেখার মাধ্যমে যে বার্তা দিতে চেয়েছি, তা সিনেমার মাধ্যমে আরও অনেক লোকের কাছে পৌঁছোবে। তবে এ প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যে, আমি যেভাবে যা লিখি, সেই লেখার মতো হুবহু প্রতিফলন ঘটে না সিনেমায়। চিত্রনাট্যকার এবং পরিচালক তাঁর মনের মতো সাজিয়ে পরিবেশন করেন। ‘দহন’-এ ঋতুপর্ণ ঘোষ এবং ‘ইচ্ছে’ ও ‘অলীক সুখ’-এও নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নিজস্ব মনন দিয়ে ছবিগুলি তৈরি করেছিলেন। অবশ্য আমি যে বার্তা দিতে চেয়েছি তা ঠিক আছে কিনা জানার জন্য চিত্রনাট্য দেখে নিই। কখনও আবার কাহিনির প্রধান চরিত্রে কাকে নিলে ভালো হয় সেই পরামর্শও দিই কিন্তু কোনও পরিচালক তা গ্রহণ করেন আবার কেউ হয়তো গ্রহণ করেন না। অবশ্য এসব নিয়ে তেমন মনখারাপ হয় না কিন্তু পারিশ্রমিকের পরিমাণের জন্য খুব মনখারাপ হয়ে যায়। কারণ, তা এতটাই কম যে, বলতেই লজ্জা করে।

স্বপ্নময় চক্রবর্তী

আগে সিনেমাকে সবাই ‘বই’ বলতেন। ‘ছবি’, ‘মুভি’ প্রভৃতি শব্দগুলি এসেছে অনেক পরে। আর ওই ‘বই’ বলার অভ্যাস এখনও অনেকে ছাড়তে পারেননি। আসলে, আগে সাহিত্যেরই চলচ্চিত্র রূপায়ণ হতো, তাই সিনেমাকে ‘বই’ বলা হতো। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখের গল্প-উপন্যাস নিয়ে তখন বেশি সিনেমা তৈরি হতো। পরে অবশ্য এই তালিকায় যোগ হয়েছিল বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম।

যাইহোক, মাঝে কিছুদিন সাহিত্য ছাড়া সিনেমা তৈরি হলেও, আবারও সাহিত্য ফিরে এসেছে সিনেমায়। এখন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখের গল্প নিয়ে ছবি করার পাশাপাশি, আমার মতো সাম্প্রতিককালের অনেক লেখকদের যুগোপযোগী গল্প-উপন্যাস নিয়েও সিনেমা তৈরি হচ্ছে। তবে আমার লেখা নিয়ে এপর্যন্ত মাত্র দুটো ছবি তৈরি হয়েছে। আমার ‘ঝড়ের পাতা’ গল্প অবলম্বনে ‘আমি আদু’ ছবিটি ‘নিউ থিয়েটার্স’-এর ব্যানারে ইতিমধ্যে মুক্তিও পেয়েছে এবং দেশবিদেশে সম্মান এবং পুরস্কারলাভও করেছে। সারা পৃথিবীর যেখানেই যুদ্ধ হোক না কেন, তার প্রভাব যে-কোনও দেশেই যে পড়তে পারে, এই বার্তা আমি ঠিক যেভাবে দিতে চেয়েছি, সেভাবেই পরিচালক সোমনাথ গুপ্ত তুলে ধরেছেন ‘আমি আদু’ ছবিটিতে। তাই তাঁর উপর আমি আস্থা রেখে আমার লেখা ‘প্রমোদ সন্ত্রাস’ উপন্যাসটিও দিয়েছি সিনেমা তৈরির জন্য। কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো মুক্তি পাবে এই ছবিটি।

তবে এ প্রসঙ্গে আমার আক্ষেপও রয়েছে। যতই সাহিত্যিকের গল্পে সিনেমা সমৃদ্ধ হোক কিংবা সাফল্য পাক না কেন, আসলে তা শেষপর্যন্ত শুধু পরিচালকেরই ছবি হয়ে যায়। লাইমলাইট-এ আসেন শুধু পরিচালক-ই, লেখক স্বীকৃতি পান সৌজন্যমূলক, নামমাত্র। পারিশ্রমিকের বিষয়টিতেও লেখকের প্রাপ্তির ঝোলা ভরে না। দশ-পনেরো হাজারের বেশি কপালে জোটে না আমার মতো লেখকদের। আর যদি সিনেমা তৈরির জন্য বন্ধুস্থানীয় কেউ গল্প চায়, তাহলে তো পারিশ্রমিকের বিষয়টি ‘উহ্য’ থাকে। তবে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের মতো নামি লেখকদের অবশ্য আমার মতো অবস্থা হয় না, তাঁদের প্রাপ্তির ঝোলাতে ষাট-সত্তর হাজার জমা পড়ে।

তাই আমার মতে, ভালো সিনেমা তৈরির জন্য গল্প যতই প্রধান ভূমিকা নিক না কেন, গল্পকারের কপালে নামযশ, অর্থ তেমন জোটে না। যেমন অমলেন্দু চক্রবর্তীর লেখা উপন্যাস নিয়ে ‘একদিন প্রতিদিন’ এবং ‘আকালের সন্ধানে’ ছবি বানিয়ে খ্যাতি পেয়েছেন মৃণাল সেন কিন্তু অমলেন্দু চক্রবর্তীর নাম কতজন জানেন? যাইহোক, ক্ষেপ-আক্ষেপ নিয়েই এগিয়ে যেতে হয়, আমিও সেভাবেই এগোচ্ছি। আমার লেখা ‘ঝাকিনি তন্ত্র’ কাহিনি নিয়ে একটি ছবি বানাতে চেয়েছেন পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায়। অন্য অনেকেও আমার লেখা গল্প নিয়ে ফিল্ম তৈরির ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন, তবে সেসব কথা খুব প্রাথমিক স্তরে রয়েছে, বেশিদূর এগোয়নি।

রূপক সাহা

একসময় সাংবাদিকতা ছিল আমার পেশা, এখন গল্প-উপন্যাস লেখা আমার প্যাশন। তাই আমার লেখালেখিতে কোনও ফাঁকি থাকে না, পুরোদস্তুর রিসার্চ করে তারপর লিখি। আমার লেখা ‘লাল রঙের পৃথিবী’-র জন্যও ভীষণ খেটেছিলাম।

যৌনকর্মীদের জীবনযাপন, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-যন্ত্রণা, বেঁচে থাকার লড়াই প্রভৃতি বিষয়ে নিখুঁতভাবে জেনেবুঝে এসে, তবেই লিখেছিলাম ‘লাল রঙের পৃথিবী’। উপন্যাসটি যখন ‘লাল রঙের দুনিয়া’ নামে চলচ্চিত্রায়িত হল, তখন ভালো ফলের আশা করেছিলাম কিন্তু ছবিটি মুক্তির পর আশাহত হলাম। কারণ, আমার উপন্যাসে যা ছিল তার প্রতিফলন ঘটেনি ছবিতে।দেবশ্রী রায় যে-চরিত্রটিতে অভিনয় করেছিলেন, শুধু যদি সেই চরিত্রটিকে ধরে ছবিটা এগোত, তাহলে ঠিকঠাক দাঁড়াত ছবিটা। কিন্তু পরিচালক (নীলাঞ্জন ভট্টাচার্য) চিত্রনাট্য করার পর আমাকে না দেখিয়ে ছবি বানিয়েছিলেন, তাই এই খারাপ পরিণতি। পরিচালকের নিশ্চয়ই স্বাধীনতা আছে তাঁর নিজের মতো করে ছবি তৈরির কিন্তু এত দুর্বল চিত্রনাট্য নিয়ে তিনি যে ছবিটা বানিয়ে ফেলবেন, তা আমি ভাবতে পারিনি।

যাইহোক, এ বিষয়ে আমার দ্বিতীয় অভিজ্ঞতাও তিক্ত।পরিচালক পান্না হোসেন আমার লেখা ‘জুয়াড়ি’ গল্পটি নিয়ে ছবি বানাতে গিয়েও বারোটা বাজালেন। তবে এই আপশোশ মেটানোর জন্য আমি নিজে কখনও ফিল্ম ডিরেক্টর হওয়ার কথা ভাবব না। কারণ ওটা একটা আলাদা মাধ্যম। টেকনিক্যাল দিকটা ঠিকঠাক শিখতে হবে। যা আমার সিলেবাসের বাইরে।অবশ্য অনেকেই তো এখন নিজেরাই গল্প লিখে ছবি বানিয়ে পুরস্কারও বাগিয়ে নিচ্ছেন। আমি তা কখনওই পারব না, কারণ আমি তো আর বিজ্ঞাপন জগতের লোক নই। এখন যাঁরা বাংলা ছবির হাল ধরেছেন তাঁদের বেশিরভাগই তো বিজ্ঞাপন জগতেরই লোকজন। অনিকেত চট্টোপাধ্যায়, সুদেষ্ণা রায়ের মতো হাতেগোনা দু-তিনজন অবশ্য সাংবাদিকতার পেশা থেকে গিয়ে ফিল্ম ডিরেক্টর হয়েছেন। অতএব, যিনি যে বিষয়ে দক্ষ এবং যেটাতে ন্যাক রয়েছে, সেই কাজটাই তাঁর করা উচিত, নচেৎ তাঁর নিজের এবং অন্যেরও ক্ষতি অনিবার্য বলে আমি মনে করি।

পরিচালক সুজিত সরকার আমার লেখা ‘একাদশে সূর্যোদয়’ নিয়ে একটি হিন্দি ছবি তৈরির ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন। খেলার দুনিয়ার কাহিনিতে সমৃদ্ধ এই লেখাটি নিয়ে ছবি তৈরির কথা এর আগেও অবশ্য বলেছিলেন ইন্দ্রনীল গোস্বামী, তবে তা হয়ে ওঠেনি। এখন সুজিত সরকার ছাড়াও অবশ্য ঈপ্সিতা পাল আমার লেখা ‘ঘাতক’ উপন্যাসটি নিয়ে ছবি করার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন। কিছুদিন আগে পিনাকী চৌধুরীও আমার লেখা ‘সাদা পাতায় কালো দাগ’ শীর্ষক গল্পটি নিয়ে পদ্মনাভ দাশগুপ্তকে দিয়ে চিত্রনাট্য লিখিয়ে রেখেছেন সিনেমা তৈরির জন্য।জেলের কয়েদিদের নিয়ে বক্সিং টুর্নামেন্ট-এর বিষয়ে আমার লেখা সাম্প্রতিক উপন্যাস ‘কাচে ঢাকা হিরে’ যদি কেউ সিনেমা তৈরি করেন আমি ভীষণ খুশি হব। কারণ, উপন্যাসটি সিনেমা তৈরির জন্য আদর্শ।

( এই লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করা হল )

প্রকাশিত হল অমিত বন্ধু ঘোষ-এর নতুন গান

শারদোৎসব আসন্ন। আর এই মহা উৎসবের প্রাক্কালে, সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে রাগা মিউজিক তাদের নতুন ভিডিও অ্যালবাম ‘জয় মা দুর্গা দুর্গতিনাশিনী’ প্রকাশ করলো আনুষ্ঠানিক ভাবে। কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে, ‘Raga Music’- এর কর্ণধার প্রেম কুমার গুপ্তা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিল্পী অমিত বন্ধু ঘোষ, বিধায়ক তাপস রায়, সমাজসেবী প্রশান্ত প্রামাণিক, ধৃতি রঞ্জন পাহাড়ি এবং আরও অনেকে।

এই অ্যালবামের গানে  সুরারোপ করেছেন এবং গেয়েছেন অমিত বন্ধু ঘোষ।

মিউজিক অ্যালবামটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ উপলক্ষ্যে শিল্পী অমিত বন্ধু ঘোষ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে শারদীয়ার যে সব অ্যালবাম বেরোচ্ছে, সেই অ্যালবামগুলোর থেকে এটা অনেকটাই আলাদা। আগে শারদীয়া অ্যালবাম মানে শুধু গানের ক্যাসেট বা সিডি বেরোত কিন্তু এখন অডিয়ো সিডির পাশাপাশি ইউটিউবেও মিউজিক ভিডিয়ো অ্যালবাম আপলোড করা হচ্ছে।

Music launch event
Singer Amit Bondhu Ghosh with MLA Tapas Roy at Kolkata Press Club

তবে এই প্রবীন শিল্পী বর্তমানের কিছু আধুনিক গান নিয়ে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করে বলেন যে, ‘এখন গানের জগতেও দলবাজি চলছে। একটা গোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়েছে।তারজন্য অনেক ভালো শিল্পীও নতুন গান গাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।অনেক নতুন শিল্পীও রয়েছেন, যারা খুব ভালো গান করেন কিন্তু এই গোষ্ঠীর ফলে তারাও ঠিকমতো সুযোগ পাচ্ছেন না।’

প্রসঙ্গত তিনি আরও জানান, ‘বিভিন্ন রিয়েলিটি শোতে পুরনো গানের মাধ্যমেই শিল্পীরা পুরস্কৃত হচ্ছেন। আমার মতে, পুরোনো গান-ই যদি অর্থ, যশ দেয়, তাহলে পুরনো ধারার গানের উপরই ভরসা রাখা উচিত এবং মর্যাদা দেওয়া উচিত।’

Music launch

এই মিউজিক অ্যালবামের গানটি লিখেছেন দেব প্রসাদ চক্রবর্তী, সঙ্গীত ব্যবস্থাপনায় ছিলেন অরুণাভ দেব, ভিডিয়ো পরিচালনায় পাখি এবং গানটি রেকর্ডিং হয়েছে স্টুডিয়ো ওয়ার্ল্ডে।

এই মিউজিক লঞ্চ অনুষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মৃত্যুঞ্জয় রায়। পুরো অনুষ্ঠানটি কোভিড বিধি মেনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ক্যামেরাবন্দি হতে চলেছে ‘উয়োম্যান পাওয়ার’

নতুন একটি ছবি প্রযোজনা করতে চলেছেন ইন্দোর-প্রবাসী ডা. রাজীব পাল। তাঁর এই নতুন ছবিটির পরিচালনার জন্য বেছে নিয়েছেন শুভেন্দু দাস-কে। নারীকেন্দ্রিক কাহিনিতে আধারিত এই ছবির শিরোনাম ‘উয়োম্যান পাওয়ার’। কলকাতা প্রেস ক্লাবে ছবিটির শুটিং শুরু করার কথা ঘোষণা করা হল আনুষ্ঠানিক ভাবে।মুখ্য চরিত্রে রূপদানকারী জুটি অলিভিয়া সরকার এবং সাহেব ভট্টাচার্য ছাড়াও, এই ঘোষণা-পর্বে উপস্থিত ছিলেন ছবির পরিচালক, প্রযোজক, অন্যান্য শিল্পী ও কলাকুশলীরা। সকলে মিলে এই ছবির পোস্টার-ও লঞ্চ করলেন মহানন্দে।

Entertainment news

আজকের সমাজের নারীর আত্ম-মর্যাদার কথা উঠে আসবে এই ছবিতে—এমনটাই জানালেন পরিচালক। ছবির নায়ক সাহেব ভট্টাচার্য জানালেন, এই ছবিতে অজয় এবং পূজার ভালোলাগা এবং ভালোবাসা তৈরি হয় মেডিকেল কলেজের শিক্ষা-পর্বে। এরপর খুব স্বাভাবিক ভাবে নিয়ম মেনে বিয়েও হয়। তবে বিয়ের পর হঠাৎই দু’জনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। কিন্তু কেন? কী ঘটবে এরপর? আত্ম-মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে পারবে কি পূজা? ওদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের পরিণতি-ই বা কী হবে? এমন অনেক প্রশ্নের-ই নাকি উত্তর দেবে এই ছবি। ছবিতে সাহেব ভট্টাচার্য, অলিভিয়া সরকার,  উপাসনা মৈত্র, স্নেহা বিশ্বাস ছাড়াও, অভিনয়ে থাকবেন  আরও অনেকে। অলিভিয়া জানালেন, ‘এই ছবিতে আমার চরিত্র সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত যতটা শুনেছি, একদম অন্যরকম চরিত্র। আমি নিজে খুব উত্তেজিত এই ছবিতে অভিনয় নিয়ে।আশা করছি, অভিনয় শুরু হলে আমার চরিত্র সম্পর্কে আরও ভালো করে বলতে পারব।’ পরিচালক জানিয়েছেন, রাজেশ শর্মা সহ আরও একাধিক অভিনেতার সঙ্গেও প্রাথমিক কথা হয়েছে এই ছবিতে অভিনয়ের ব্যাপারে। আগামী নভেম্বরে ছবির শুটিং শুরু হবে। কলকাতা ছাড়াও শুটিং লোকেশন হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে ইন্দোর এবং কাশ্মীরকে।

 

নতুন চ্যানেলে নতুন ধারাবাহিক

টিভি চ্যানেল ‘দঙ্গল’-এর সঙ্গে অনেকেই পরিচিত। আর এই হিন্দি চ্যানেল-এর সাফল্যের ভিত্তিতে বাংলাতেও নতুন একটি চ্যানেল লঞ্চ করলেন কর্তৃপক্ষ। ‘এন্টার১০বাংলা’ শীর্ষক এই চ্যানেলটি আনুষ্ঠানিক ভাবে লঞ্চ করা হল কলকাতার ললিত গ্রেট ইষ্টার্ন হোটেলে। অবশ্য শুধু চ্যানেল লঞ্চ-ই নয়,সেই সঙ্গে লঞ্চ করা হল নতুন একটি মেগা ধারাবাহিক। ‘সাগর-জ্যোতি’ শিরোনামের এই ধারাবাহিকটির অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উপস্থিতিতে, চ্যানেল এবং ধারাবাহিকের প্রচার করা হল মহা-ধূমধামে।

Entertainment
Chandreyee Ghosh, Rahul Dev Bose and Nabanita Malakar

মেগা ধারাবাহিকটির পরিচালক পাভেল প্রসঙ্গত জানালেন,দুই পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়স্বজনদের পারস্পরিক বন্ধন, হাসি, মজা, জটিলতা প্রভৃতিতে সমৃদ্ধ হলেও, মূলত সাগর ও জ্যোতি-র মিষ্টি প্রেম প্রাধান্য পাবে এই ধারাবাহিকে। অভিজাত পরিবারের ছেলে সাগর সেন বিদেশ থেকে ফিরে আসার পর,গরীব পরিবারের মেয়ে জ্যোতির সঙ্গে তার সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেবে,তা-ই নাকি দর্শকদের কাছে আকর্ষনীয় হয়ে উঠবে,এমনটাই দাবী করলেন ধারাবাহিকটির পরিচালক। রাহুল দেব বোস এবং নবনীতা মালাকার এই ধারাবাহিকে রূপদান করছেন কেন্দ্রীয় দুই চরিত্রে। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে চান্দ্রেয়ী ঘোষ, নীলিমা সেন, অভিজিত সরকার, বিকাশ ভৌমিক, শিবনাথ সেন, শ্রীতমা, অনিন্দ্য সেনগুপ্ত, সনমিত্র ভৌমিক, অর্ণব ভদ্র, সায়ন্তনী মল্লিক, লিজা, সৌম্যদীপ, সৌমক বসু, রূপসা মণ্ডল, অনিতা সেনগুপ্ত, সুজয় সিনহা, রুম্পা চট্টোপাধ্যায়, আইভি বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। প্রতি সোমবার থেকে শুক্রবার রাত ৮টায় সম্প্রচারিত হবে ‘সাগর-জ্যোতি’ শীর্ষক এই ধারাবাহিকটি।

Entertainment news

চ্যানেলের কর্ণধার শমিক মৌলিক প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, প্রতি মাসে নতুন-নতুন মেগা ধারাবাহিকের সম্প্রচার শুরু করার প্রস্তুতি চলছে এখন। এছাড়া, আগামী দিনে আরও অভিনব কিছু অনুষ্ঠান দর্শকদের উপহার দেওয়ার ইচ্ছে রয়েছে তাঁদের।

নাটক এবং নাট্যচর্চা এবার ডিজিটাল মাধ্যমে

করোনা-আবহে অনেককিছু বদলে গেছে মানুষের জীবনে। বিধিনিষেধের কারণে এখন আমরা নানারকম সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি।  করোনার আগের সেই চলমান স্বাভাবিক আনন্দ-বিলাসের পথ এখন অনেকক্ষেত্রে-ই রুদ্ধ।  কিন্তু জীবন তো আর থেমে থাকে না। তাই, বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছেন অনেকে কিংবা বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। নাট্যমোদিদের তৃপ্ত করার জন্যও এমন-ই এক বিকল্প মাধ্যম তৈরির উদ্যোগ নিলেন অভিনয় ও সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে যুক্ত জনপ্রিয় কিছু ব্যক্তিত্ব। এই তালিকায় আছেন নাট্যব্যক্তিত্ব শুভময় বসু,নাট্য-নির্দেশক দেবেশ চট্টোপাধ্যায়,অভিনেতা তপন দাস,অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী প্রমুখ। কিন্তু এঁরা কীভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে নাটক পরিবেশন কিংবা নাট্যচর্চা করতে চলেছেন, এবার জেনে নিন সেই প্রসঙ্গে।

পেশায় গ্রাফিক ডিজাইনার শুভময় বসু। কিন্তু নাটকের সঙ্গে যোগ আনেকদিনের। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনেকদিন ধরেই নাটকের জন্য কিছু করার ভাবনা মাথায় ছিল তাঁর। আপাতত বেছে নিলেন বাংলা নাটককেই। তৈরি হল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম— টাইম্‌স অফ থিয়েটার। বাংলা নাটক বলতে যে শুধু পশ্চিমবাংলা নয়, বাংলাদেশও আছে,সে কথা ভুলে জাননি এই মানুষটি। তাই তাঁর উদ্যোগের সঙ্গে জুড়ে নিলেন বাংলাদেশকেও। আর এই ভাবেই শুরু হল এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম-এর পথ চলা।

‘এখনকার এই ইন্টারনেট-এর যুগে নাটকের খবর পাওয়াটা কি এতোটাই শক্ত? খোঁজ-খবর করে দেখা যায় যে, নাটকের বিজ্ঞাপন ঠিক করে হয় না সব সময়। আসলে নাটকের কর্মীদের সঙ্গে এই ব্যাপারে হাতে হাত মেলানোর লোকের বড়ো অভাব। তাছাড়া নাটকের দলগুলির কাছে অত পয়সা নেই যে তাঁরা নিজেদের ওয়েবসাইট তৈরি করবেন বা সোশ্যাল মিডিয়া তে খরচা করবেন। তাই,এই কঠিন কাজের দায়িত্ব নিলাম সমবেত উদ্যোগে।’—প্রসঙ্গত জানালেন শুভময়।

Entertainment
Sudipta Chakraborty

এই উদ্যোগের সঙ্গে আছেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী। তিনি এখানে অভিনয় এর ওয়ার্কশপ করাবেন সেপ্টেম্বর মাস থেকে। আছেন প্রখ্যাত অভিনেতা তপন দাস। তপনবাবু মৃণাল সেনের বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন, তার মধ্যে ‘একদিন প্রতিদিন’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তপনবাবু এখানকার বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। আরও আছেন অভিনেতা প্রদীপ মিত্র, জনসংযোগ প্রতিনিধি শুভজিৎ রায় প্রমুখ। আর এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম-এর উদ্যোগে দেবেশ চট্টোপাধ্যায় তৈরি করতে চলেছেন পাঁচটি বাংলা নাটক।

Entertainment
Debesh Chattopadhyay

উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, www.timesoftheatre.com নাটকের একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এখানে সারা বাংলা এবং বাংলাদেশের নাটকের খবর যেমন পাওয়া যাবে, তেমনই আপনি পেয়ে যাবেন নাটকের সম্পূর্ণ যোগাযোগ। পশ্চিমবঙ্গের কোথায় কোন হল আছে, কে আলো সরবরাহ করে, কার থেকে প্রপ্স পাওয়া যাবে, কারা কম্পিটিশন করে, নাটকের এই সব যাবতীয় তথ্য এবং যোগাযোগ এখন পাওয়া যাবে এক ক্লিক-এই। এছাড়া, প্রতি শুক্রবার রাত ৮টা থেকে একটি করে শ্রুতি নাটক শোনা যাবে। বছরে একটা করে ডিজিটাল থিয়েটার ফেস্টিভাল করার কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানালেন এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম-এর উদ্যোক্তারা।

Entertainment
Shubhajit Roy

এত সব উদ্যোগের পাশাপাশি, এবার প্রকাশিত হতে চলেছে প্রথম বাংলা অডিও শারদীয়া। এতে থাকছে অভিনব সব নাটক এবং গান। থাকছে অনুপকুমার অভিনীত ‘বিনি পয়সার ভোজ’, ধীরেন দাসের (অনুপকুমারের বাবা) শারদীয়ার গান, নৃত্যশিল্পী মধুবনি চট্টোপাধ্যায়ের ছোটোদের জন্য গল্পপাঠ এবং তাঁর উদ্যোগে বাচ্চারা করবে নাটক। এছাড়াও এখানে অংশগ্রহন করবে BAGC (Bengali Association of Greater Chicago)-এর বাঙালি ছোটো বন্ধুরা। এইভাবে একটা গ্লোবাল নেটওয়ার্ক তৈরি হবে বাংলা এবং ইউএসএ-এর মধ্যে।

Entertainment
Tapan Das

আসছে পার্থ সারথি-র হিন্দি ছবি ‘আগর তুম মিল যাও’

সিনেমাপ্রেমীদের আবার একটি কাহিনিচিত্র উপহার দিতে চলেছেন পার্থ সারথি জোয়ারদার। ‘আগর তুম মিল যাও’ শীর্ষক এই হিন্দি ছবিটির কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক পার্থ স্বয়ং।

মূলত প্রেম এবং সম্পর্কের জটিলতায় এই ছবির কাহিনি সমৃদ্ধ হয়েছে—এমনটাই জানিয়েছেন পরিচালক।

বিক্রম মধ্যবিত্ত পরিবারের গুণী যুবক।সে যার বাড়িতে আশ্রিত,সেই বাড়ির মেয়ে পায়েলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলেও,ধনী পরিবারের ছেলে আরব হঠাৎই দমকা হাওয়ার মতো এসে পায়েলের মনে বাসা বাঁধে। কিন্তু একদিন আবার সবকিছু উলোটপালোট হয়ে যায়। কাহিনির এই অভাবিত পালা বদলের কারণেই নাকি ছবিটি দর্শকদের মন জয় করে নেবে,এমনই আশাপ্রকাশ করেছেন পরিচালক পার্থ সারথি জোয়ারদার।

এই ছবির বিভিন্ন চরিত্রে রূপদান করেছেন জুবের কে খান (বিক্রম),শ্রদ্ধা তিওয়ারি (পায়েল), নীল মাতওয়ানি (আরব) এবং রাজেশ শর্মা (পায়েলের বাবা)।

ছবিটির নিবেদক ‘বের্লিয়া ফিল্মস’ এবং প্রযোজক আরতি বিজয় সিংহল।

ছবিতে কয়েকটি গানও আছে। গানগুলি লিখেছেন সুদীপ ভট্টাচার্য এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন সঞ্চয়িতা।

ছবিটির চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন মলয় মণ্ডল।শিল্প নির্দেশক মুকেশ সিংহ। পোশাক সরবরাহে মীরা আগরওয়াল।

লকডাউন-এর আগে, দক্ষিণ কলকাতার রানিকুঠি অঞ্চলে অবস্থিত এক আবাসনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে, ছবিটি তৈরির কথা আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করেন পরিচালক স্বয়ং। জানানো হয়,অতিমারীর আবহ কাটিয়ে জনজীবন স্বাভাবিক হলেই ছবিটির মুক্তির ব্যাবস্থা করা হবে। আর এই প্রসঙ্গে ছবিটির সাফল্যের বিষয়ে আশাপ্রকাশ করেছেন পরিচালক এবং অভিনেতা-অভিনেত্রী সকলেই।

—-

 

মানবিক মূল্যবোধের ছবি ‘সব চরিত্র তোমার আমার’

এ যেন একই অঙ্গে দুই রূপ। অর্থাৎ, একই ছবিতে রয়েছে দুটি গল্প। ছবির নাম—সব চরিত্র তোমার আমার। ‘অবসরে’ এবং ‘পরাণের বাঁশি’ কাহিনিতে সমৃদ্ধ এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন তপন দত্ত। ছবির দুটো কাহিনির-ই স্রষ্টা পরিচালক স্বয়ং।

‘সব চরিত্র তোমার আমার’ ছবিটির নিবেদক—‘ফাইভ স্টার কমিউনিকেশন’। প্রযোজক অপর্ণা দত্ত। ছবিটির মুখ্য চরিত্রে রূপদান করেছেন অমিতাভ ভট্টাচার্য এবং দেবশ্রী ভট্টাচার্য। ছবিটির প্রথমার্ধে রয়েছে ‘অবসরে’ এবং দ্বিতীয়ার্ধে রয়েছে ‘পরাণের বাঁশি’।

করোনার আবহে হতাশাগ্রস্ত মানুষ কীভাবে শারীরিক এবং মানসিক বিপর্যয়ের মোকাবিলা করছে, তাই নিয়েই আধারিত ‘অবসরে’ কাহিনি। তবে ছবিটি বিপর্যয় থেকে উত্তরণের পথ দেখাবে বলে এক অডিয়ো বার্তায় জানিয়েছেন এ ছবির মুখ্য অভিনেত্রী দেবশ্রী ভট্টাচার্য। এই ছবিতে তিনি এক প্রভাবশালী প্রযোজকের মেয়ের চরিত্রে রূপদান করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রসঙ্গত। তাঁর চরিত্রের নাম বিপাশা সেন। তিনি মদ্যপ অবস্থায় থাকাকালীন, তাঁকে সাহায্য করার অজুহাতে, একদল ছেলেমেয়ে তার গাড়ি চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু,এরপর কী ঘটবে,তাই নিয়েই ‘সব চরিত্র তোমার আমার’ ছবির প্রথমার্ধের গল্প ‘অবসরে’র ক্লাইম্যাক্স।

Bengali film news
Director with actors

এ ছবির দ্বিতীয়ার্ধের কাহিনিটি সমৃদ্ধ হয়েছে পরাণ নামের এক তরুণ জেলেকে নিয়ে। এই কাহিনির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন অমিতাভ ভট্টাচার্য।

ছবিটির চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনা করেছেন পরিচালক তপন দত্ত নিজে। চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন অমিত কুমার দত্ত ও কৃষ্ণ ঘোষ। সম্পাদনায় নারায়ণ বিশ্বাস। সংগীত পরিচালনা করেছেন পার্থ পাল চৌধুরি। আবহসংগীতে আবলু চক্রবর্তী ও অতনু মণ্ডল। ছবিটি সবার মন জয় করে নেবে,এমনই আশাপ্রকাশ করেছেন ছবির পরিচালক তপন দত্ত এবং ছবির নায়িকা দেবশ্রী ভট্টাচার্য।

New movie news
Actress Debashree Bhattacharya in front of the movie poster

——

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব