বৃষ্টিতে Smart Fashion

রোম্যান্টিক বৃষ্টিভেজা আবহাওয়া আর আপনার ময়ূরের মতো পেখমমেলা মন— এই মরশুমে এর চেয়ে সুন্দর আর কী হতে পারে! আসলে প্যাচপেচে গরমের পর, মন ও শরীরের ক্লান্তি নিবারণী এই বর্ষা, সকলের মনেই আনন্দের সঞ্চার করে। আকাশ জুড়ে কালো মেঘের ঘনঘটা, আর থেকে থেকে ঝমঝম করে পড়া বৃষ্টিতে বাড়িতেই থাকুন বা অফিসে, নিজেকে ফ্যাশনেবল করে তুলতে কিন্তু কখনওই যেন ভুল না হয়। এই সময় ঠিক কী ধরনের স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করবেন— তারই কিছু জরুরি পরামর্শ নিয়ে এলাম আমরা।

ফ্যাশন ট্রেন্ড ইন মনসুন

বৃষ্টিতে সাজগোজ নষ্ট হয়ে যাবার ভয় থাকে বলে অনেকেই এই সময় ফ্যাশন করতে দ্বিধান্বিত থাকেন। আমাদের পরামর্শ হল, ভয় ঝেড়ে ফেলুন। সব মরশুমেরই কিছু নিজস্ব স্টাইলিং ফিচার থাকে। বর্ষারও আছে। ব্রাইট সলিড কালার বা ফ্লোরাল প্রিন্টস ক্যারি করার এটাই সঠিক মরশুম। আরামদায়ক স্লিভলেস টপ, মিডি ড্রেস বা ক্রপ টপ, কিংবা ক্রপ প্যান্ট— এমন নানা অপশন এই সময় ট্রাই করতে পারেন। কিমোনো কিংবা শ্রাগ ব্যবহার করতে পারেন। স্টাইলিশও লাগবে আবার ভিজে গেলে শুকোতেও সময় নেবে না।

আপনার যদি সেমি ক্যাজুয়াল লুক বেশি পছন্দ হয়, তাহলে আপনি প্রিন্টেড ব্লাউজ-এর সঙ্গে ফ্লেয়ার্ড প্যান্ট-এর স্মার্ট লুক ক্যারি করতে পারেন। কন্টেম্পোরারি এবং ট্রেন্ডি লুক-এর জন্য এথনিক হ্যান্ড প্রিন্টেড স্লিভলেস বা নুডল স্ট্র্যাপ কুর্তির সঙ্গে সিগারেট প্যান্টস পরতে পারেন। এটা অত্যন্ত আধুনিক ও অ্যামেজিং লুক দেবে।

এই মরশুমে নির্দ্বিধায় ভাইব্র্যান্ট কালার্স ও প্রিন্টস ট্রাই করুন। তবে ফ্যাব্রিক এমন বাছুন, যা ওজনে হালকা হয়, আর তাড়াতাড়ি শুকিয়েও যেতে পারে। টি-শার্ট বা শার্ট-এর সঙ্গে হট প্যান্টস কিংবা ফ্লোরাল স্যান্ডলস্-এর সঙ্গে প্রিন্টেড ড্রেস বেছে নিতে পারেন। উজ্জ্বল রঙের রেনকোট ও গামবুটস অথবা ফ্লিপফ্লপ অবশ্যই আপনার সংগ্রহে রাখুন। আপনার স্টাইলিং আর বর্ষায় ভরসা যোগাবে এগুলিই।

stylish tips for the season

অ্যাক্সেসরি ও ফুটওয়্যার

আপনার আউটফিট-কে আরও আকষর্ণীয় করে তুলতে অ্যাক্সেসরির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জুয়েলারি পরতে চাইলে ফাইবারকে প্রাধান্য দিন। স্টাড ইয়াররিংস-এর সঙ্গে পরুন সিলিকন ওয়াটার প্রুফ ব্যান্ড ওয়াচ বা মেটাল স্ট্র্যাপ ঘড়ি।

জুতো নির্বাচন করার সময়, ভালো গ্রিপ আছে এমন জুতোই বাছুন। এই সময় লেদার ব্যাগ ও চামড়ার জুতো এড়িয়ে চলুন। ফ্লোটার স্যান্ডল বা ফ্লিপ ফ্লপ-ই এই সময়ের জন্য আদর্শ। ভেজা ভেজা ওয়েদার-কে পুরোপুরি উপভোগ করতে সঙ্গে নিন ব্রাইট প্রিন্টেড ছাতা।

স্মার্ট ফিনিশ, কুল লুক

ব্রাইট রঙের পোশাককে যেমন প্রাধান্য দেবেন, তেমন পুরুষরা প্রিন্ট, প্লেন সলিড কালার, জিওমেট্রিক প্রিন্ট, বা ব্লকস-কে গুরুত্ব দিন। ডার্ক রঙের লোয়ার ও লাইট কালারের আপার— এই কম্বো এই মরশুমে দারুণ মানানসই।

মনসুন ওয়ার্ডরোব

গায়ের সঙ্গে লেপটে থাকা পোশাক এই সময় চয়ন না করাই ভালো। লেগিংস এবং ডেনিম অ্যাভয়েড করুন। এমন প্রিন্ট ব্যবহার করুন, যা দাগ ছোপ ঢাকতে সাহায্য করে। এমন লোয়ার বাছুন যাতে জংলা প্রিন্ট আছে। সহজে কুঁচকে যায় এমন ফ্যাব্রিক বাছবেন না। জেমস্টোনের হালকা জুয়েলারি, উজ্জ্বল প্যাটার্নের জুতো ভালো মানাবে।

ফ্যাব্রিক সিলেকশন

রেয়ন, ভিসকস এবং ক্রেপ এই মরশুমের জন্য আদর্শ। গায়ে দুর্গন্ধ ও অ্যালার্জি রোধ করতে সিন্থেটিক পোশাক অ্যাভয়েড করুন। এই সময় অবশ্যই ওয়াটার প্রুফ মেক-আপ, শুজ, ব্যাগ ও অ্যাক্সেসরি ব্যবহার করুন।

ফ্যাশনে ইন

কনট্রাস্ট কালারের সঙ্গে প্রিন্টেড ফ্যাশন এখন দারুণ জনপ্রিয়। মিনিমাম মেক-আপ ও অ্যাক্সেসরি ব্যবহার করুন। সহজে মরচে পড়ে যায় বা সুতো উঠে আসে এমন নকশা করা অ্যাক্সেসরি ব্যবহার করবেন না।

গার্লস পিজি-তে থাকার আগে ( পর্ব ০১ )

মেয়েরা এখন আর বাড়িতে বসে শুধু রান্নাবান্না করে না, বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে এগোতে চায়। তাই উচ্চশিক্ষা নিয়ে নিজের কেরিয়ার মজবুত করতে তারা সদা সচেষ্ট। আর এই লক্ষ্যপূরণের জন্য ছোটো শহর কিংবা গ্রাম থেকে দিল্লি, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, গুজরাত, মুম্বই কিংবা কলকাতা-র মতো মেট্রোসিটি-তে এসে বসবাস করছে। অবশ্য শুধু ছোটো শহর বা গ্রাম থেকে-ই নয়, এক বড়ো শহর থেকে অন্য বড়ো শহরেও পাড়ি দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, ভারতবর্ষের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। আর এর জন্য যা সবার প্রথমে দরকার, তা হল-থাকার জায়গা। যেহেতু আলাদা ভাবে বাড়ি ভাড়া করা কিংবা ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া ব্যয়বহুল, তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পিজি-তে থাকার ঝোঁক দেখা যায়।

অজানা আশঙ্কা

অন্য শহরে লেখাপড়া কিংবা কর্মসূত্রে আসার আগে অনেক কৌতূহল, প্রশ্ন এবং আশঙ্কা থাকে মনের মধ্যে। যেমন— কোথায়, কীভাবে পিজি-র সন্ধান পাব, কেমন হবে সেই বাসস্থানের পরিবেশ, পিজি-র মালিক বা মালকিনের ব্যবহার কেমন হবে, পিজি-র অন্য সদস্যরা কেমন হবে, সবকিছু মানিয়ে নিতে পারব তো, অন্য কোনও সমস্যায় পড়ব না-তো, প্রভৃতি প্রশ্ন এবং আশঙ্কা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে। এইসব প্রশ্ন মনের মধ্যে থাকাটাও স্বাভাবিক এবং প্রশ্ন কিংবা কৌতূহল থাকলেই আগেভাগে সতর্কতার সঙ্গে সবকিছু ব্যবস্থা করা যায়। এবার জেনে নিন কী ধরনের ভয় থাকে মনে কিংবা কী ধরনের সমস্যা হতে পারে। শুধু তাই নয়, এই সমস্যাগুলো থেকে কীভাবে মুক্তি পাবেন, জেনে নিন সেই বিষয়েও।

কিছু সাধারণ সমস্যা বা ভয়

পিজি মানেই বেশ কয়েকজন একসঙ্গে থাকতে হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পিজি-র অন্য সদস্যরা কেমন হবে, সেই বিষয়ে একটা ভয় কাজ করে মনের মধ্যে। সবাই যে একরকম হবে না, এটাই স্বাভাবিক। অনেক সময় পিজি-র কেউ কেউ ভালো বন্ধু যেমন হয়ে ওঠে, ঠিক তেমন-ই কাউকে আবার মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়। কারণ অনেকে বদমেজাজি হয়, কারও-র অতিরিক্ত কৌতূহল থাকে অন্যের বিষয়ে, কেউ আবার অন্যকে ব্যঙ্গ করে, কেউ আবার বেশি কথা বলে অন্যকে বিরক্ত করে ইত্যাদি৷

শুধু তাই নয়, অনেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে না, ঘরদোর নোংরা করে রাখে, বাথরুমে ঠিকমতো হাইজিন মেনটেইন করে না। আবার এমন অনেকে আছে, যারা অন্যের অসুবিধার কথা না ভেবে বিরক্তিকর কিছু কাজ করে। যেমন—টিভির সাউন্ড বাড়িয়ে টিভি দেখা, জোরেজোরে কথা বলা কিংবা অনেক রাত পর্যন্ত মোবাইল ফোনে কথা বলা ইত্যাদি। আর এইসব বদভ্যাসগুলো যে বা যারা মানিয়ে নিতে পারবে না, তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা এমনকী ঝগড়া বা মারামারির ঘটনা পর্যন্ত ঘটে।

এ ছাড়া এমন কিছু কাজ থাকে, যা অনেকসময় সবাইকে ভাগাভাগি করে করতে হয়। যেমন— রান্নার লোক না এলে কিংবা ঘরদোর পরিষ্কার করার লোক না এলে নিজেদের-ই সেই সমস্ত কাজ ভাগাভাগি করে করতে হয়। কিন্তু কেউ কেউ সাময়িক সেই সমস্যা সমাধানের কাজটাও করতে চায় না। কিংবা ধরুন রাতে ঠিক সময়ে আলো নিভিয়ে দেওয়া, দরজা বন্ধ করা ইত্যাদি কাজগুলোও দায়িত্ব সহকারে সবাই না করলেই সমস্যা।

অনেকে আবার গভীর রাতে ফেরে, সেই সময় ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলে দেওয়ার বিষয়টিও বেশ বিরক্তিকর। এক-দুদিন এসব মানিয়ে নেওয়া যায় কিন্তু প্রতিদিন কিংবা প্রায়ই এরকম ঘটতে থাকলে তা মানিয়ে নেওয়া খুবই মুশকিল। এছাড়া আরও একটি সমস্যা দেখা দেয় যেমন— কাজের লোক, রান্নার লোক কিংবা পানীয় জলের ভাগের টাকা ঠিক সময়ে না দেওয়া। টাকা থাকলেও অনেকে স্বভাববশত এটা করে।

অনেকের আবার এমন স্বভাব আছে যে, অনুমতি না নিয়ে অন্যের জিনিসপত্রে হাত দেয়। শুধু তাই নয়, কেউ কেউ আবার অন্যের সাজগোজের জিনিস এমনকী, টাকাপয়সাও চুরি করে নেয়। আর এই সমস্ত সমস্যাগুলো ঠান্ডা মাথায় যারা ওভারকাম করতে পারেন না, তারা অসুবিধেয় পড়েন।

( ক্রমশ…)

কতদিন পর আবার তোমাকে (পর্ব-০১)

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে অমিতাভ সদ্য এমবিবিএস পাশ করেছে। ডাক্তারি পাশ করার পর তার ইন্টার্নশিপের ডিউটি পড়ে আর জি কর মেডিকেল হাসপাতালে। তার আরও দুই বন্ধু— সুদীপ্ত ও অনুপের ইন্টার্নশিপ পড়ে একই হাসপাতালে। তিন বন্ধু খুবই উচ্ছ্বসিত তাদের ডাক্তারি পাশ করা নিয়ে।

আর জি কর হাসপাতালে জয়েন করার পর কাজের চাপ বেড়ে যায়। এ যেন অমিতাভর কাছে ডাক্তারি পাশের চেয়েও কঠিন। সিনিয়র ডাক্তারদের আন্ডারে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে ডিউটি পড়ে। বিশেষত সার্জিক্যাল, মেডিসিন এবং গাইনো বিভাগে দিনের অর্ধেকটা সময় কেটে যায় তার। এমন হয় এক একদিন দম ফেলার অবকাশ থাকে না। তার কাজের জন্য সিনিয়ার ডাক্তার থেকে নার্সিং স্টাফ প্রায় সকলেই তাকে সমীহ করে। মাসখানেক কাটতেই সিনিয়র নার্সিং স্টাফদের সঙ্গেও তার খুবই সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।

একদিন হাসপাতালে ডিউটি আওয়ারে অমিতাভর সার্জিক্যাল ডিপার্টমেন্টে ডিউটি ছিল। সে নিজের কাজে মগ্ন ছিল। হঠাৎ একটি মেয়ে দরজা ঠেলে ওই ডিপার্টমেন্টে প্রবেশ করে। মেয়েটির জুতোর শব্দে কাজ থেকে চোখ সরিয়ে, সে মেয়েটির দিকে একঝলক তাকাল। মেয়েটির উচ্চতা প্রায় পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি। গায়ের রং ফরসা। মাথায় ঈষৎ ঢেউখেলানো চুল পিছনের দিকে পনিটেল করে বাঁধা। মুখের তুলনায় চোখ দুটো ছোটো। স্বল্প চ্যাপটা নাক। পায়ের নখ থেকে হাঁটু পর্যন্ত সাদা মোজায় ঢাকা। গায়ে স্কুলের বাচ্চাদের মতো টিউনিক টাইপের সাদা ড্রেস, বেল্টের লুপ-এ কাপড়ের তৈরি নীল রঙের বেল্ট। সব মিলিয়ে মেয়েটির বাহ্যিক কাঠামো দেখে অনুমান করাই যায় মেয়েটি নার্সিং স্টাফ। সে সিনিয়র নার্সিং স্টাফ পৃথাদির সঙ্গে কথা বলে হন্তদন্ত হয়ে সার্জিক্যাল ডিপার্টমেন্ট ছেড়ে বেরিয়ে গেল।

অমিতাভর কাজ শেষ। সে-ও সিনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে আলোচনা করে বেরিয়ে গেল। সুদীপ্ত ও অনুপ, অমিতাভর জন্য বাইরে অপেক্ষা করছিল। অমিতাভ আসতেই হাসপাতালের পিছনের গেট দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল ওরা। এমন সময় অমিতাভ লক্ষ্য করল যে, সার্জিক্যাল ডিপার্টমেন্ট থেকে দ্রুত পায়ে বেরিয়ে আসা মেয়েটি, তাকে দেখে স্মিত হাসছে। বন্ধুদের সঙ্গে থাকায় অমিতাভও মৃদু হাসল মেয়েটির দিকে তাকিয়ে। যাইহোক দু’জনে দু’জনকে অতিক্রম করে যে-যার গন্তব্যস্থলে চলে গেল।

এদিকে অমিতাভর তিন দিন ব্যস্ততার মধ্যেই কেটে গেল। আজ মেডিসিন ডিপার্টমেন্টে তার ডিউটি। ডিপার্টমেন্টে পৌঁছে অমিতাভ দেখে যে, সেই অনামি মেয়েটি এখানেও হাজির হয়েছে। সিনিয়র ডাক্তাররা বিভিন্ন বিষয় জুনিয়রদের সামনে তুলে ধরছেন। বিভিন্ন প্রশ্ন, উত্তরের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছিল। ভাগ্যক্রমে যে- প্রশ্ন সিনিয়র ডাক্তাররা সেদিন অমিতাভর দিকে ছুড়ে দিয়েছিলেন, সেগুলি তার জানা ছিল। সে অন্যান্যদের তুলনায় প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর দেওয়ায়, সিনিয়র ডাক্তারদের থেকে অনেক বাহবা কুড়োল। সিনিয়র ডাক্তাররা চলে যাবার পর অমিতাভ সচেতন হল খিলখিল হাসির শব্দে। সে লক্ষ্য করল যে ওই অনামি মেয়েটি হাসছে তার দিকে তাকিয়ে। মেয়েটির চোখে চোখ পড়তেই অমিতাভ চোখ সরিয়ে নিল।

মেয়েটির দিকে এগিয়ে গিয়ে অমিতাভ জিজ্ঞাসা করে বসল, ‘আপনার নাম কী? বাড়ি কোথায়?”

মেয়েটি হাসি থামিয়ে যথেষ্ট আত্মাভিমানের সুরে বলল, ‘বহরমপুর।’ মেয়েটি আর কিছু বলার সুযোগ পেল না সিনিয়র নার্সিং স্টাফ পৃথাদি আসার ফলে।

পৃথাদি বলল, “পান্না, তুই এখনও এখানে! আমাদের দীপংকর স্যার তোর খোঁজ করছে। সদ্য ঢুকেছিস নার্সিং-এ। কাজে এত ফাঁকি দিলে চলে! দেরি করিস না।’ মেয়েটি মেডিসিন ডিপার্টমেন্ট ছেড়ে ঝড়ের মতো বেরিয়ে গেল।

স্বপ্ন

কলকাতার পুরোনো বাড়িগুলো কোনওক্রমে আজও আশ্চর্য ভাবে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। তারই একটি ঘরে থাকে শিবু। তার অন্যদিকে জানালা বরাবর থাকে ভাড়াটে সীমা, তার বাবা-মা আর ঠাকুমা। সীমাদের ঘরের এ পাশের জানালাটা খোলা হয় না, পাছে বাইরের লোকের কাছে ঘরের দারিদ্র্যটা উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। বড্ড মুশকিল হয় গরমে। বুড়ো আমগাছটা যদিও বা একটু-আধটু হাওয়া দেয়, সেটাও বন্ধ। মাঝে মাঝে সীমার মনে হয় এ জীবন থেকে মুক্তি বোধহয় আর নেই। কয়েকটা টিউশন সম্বল করে এবং বাবার পেনশনে চলে চারজনের সংসার। স্বপ্ন দেখা তো সে কবেই ছেড়ে দিয়েছে। সীমা ভাবে গরিবের আবার স্বপ্ন কী? সকালে একমুঠো জুটলেও বিকেলে জুটবে কিনা সন্দেহ।

রাতের বেলায় শিবু মাঝে মাঝে জানালাটা একটু ফাঁক করে দেখে, সীমা বাড়ির ছাদে উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার ভীষণ ইচ্ছে হয় সীমার মুখে একটুকরো হাসি দেখতে। হাসির রাস্তা দিয়ে সীমার আর যাতায়াত কোথায়? কবে যে একটু হেসেছে তা-ও মনে পড়ে না।

আজ গরম বড্ড বেশি। সীমার বাবা হাতপাখা করতে করতে বলেন, ‘সীমা এক গ্লাস জল দে তো মা।’

সীমা জলের গ্লাস হাতে বাবার পাশে দাঁড়িয়ে বলে, ‘বড্ড গরম লাগছে তাই না বাবা?”

পরমেশবাবু বলেন, ‘ও কিছু নয়। গরমে গরম তো হবেই।’

সীমা মনে মনে ভাবে যে করেই হোক এবার একটা পাখা কিনতেই হবে।

টিউশন সেরে ফেরার পথে শিবুর ইলেকট্রিক দোকানে ঢুকে পড়ে সীমা। ওকে দেখে শিবুর বুকের ভিতরে বসন্তের হাওয়া বয়ে যায়।

সে আস্তে করে জিজ্ঞেস করে, ‘কিছু লাগবে?’

সীমা বলে, ‘একটা পাখার জন্য এসেছিলাম।’

শিবু তাকে কয়েক রকমের পাখা এনে দেখায়। সংকোচের সঙ্গে সীমা বলে, ‘চারটে কিস্তিতে পয়সা দিলে চলবে?’

শিবু বলে, ‘চারটে কেন ছ’টা কিস্তিতে দিলেও চলবে।’

সাদা রঙের একটা পাখা পছন্দ করে সেটা নিয়ে বাড়ির পথে বাড়ায় সীমা। মনের মধ্যে বাবার খুশিভরা মুখটা ফুটে ওঠে। পাখা হাতে মেয়েকে ঘরে ঢুকতে দেখে সীমার মা রীতিমতো চিৎকার করে ওঠেন, ‘আরে এটা কী করেছিস, পরের মাসে খাব কী?’

সীমা শান্ত কণ্ঠে বলে, “তুমি একটুও চিন্তা কোরো না মা, এর পয়সা কিস্তিতে দিলেই চলবে।’

বাবা মাকে ধমক দিয়ে বলেন ‘চুপ করো তো, মেয়েটা কত শখ করে পাখাটা বয়ে নিয়ে এল আগে সেটা দ্যাখো।’

মা আঁচলে হাত মুছতে মুছতে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে যান। মনে মনে চিন্তা করেন নিজের জীবনে তো কোনও সাধ আহ্লাদ পূরণ হল না। মেয়েটার ইচ্ছে অন্তত পূরণ হোক। ভগবান আর কত কষ্ট দেবেন কে জানে।

পরদিন টিউশন থেকে ফিরে সীমা জানালার দিকে তাকিয়ে অবাক। মা সেখানে তার পুরোনো শাড়ি কেটে পর্দা ঝুলিয়ে দিয়েছে। আমগাছের হাওয়ায় পর্দাটা একটু একটু করে দুলছে। এক অজানা আনন্দের ঢেউ সীমার মনের বারান্দায় লুটোপুটি খেতে থাকে। মনে হয়, হয়তো আবারও স্বপ্ন দেখা যায়।

পোস্ট ওয়েডিং Makeup টিপস (Last Part)

বিয়ের পর বাড়িতে থেকেই কীভাবে মেক-আপ করবেন, নতুন বিবাহিতার তা জেনে রাখা জরুরি, যাতে সে নিজেকে সকলের চোখে সুন্দর করে তুলতে পারে।

আসলে সবসময় খুব বেশি মেক-আপের প্রয়োজন হয় না। তবে Makeup-এর কিছু জিনিস বাড়িতে সবসময় দরকার হয়। কীভাবে একজন নববধূকে সুন্দর দেখাবে এবং তাকে যাতে সুন্দর দেখাতে পারে সে সম্পর্কে সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞ ভারতী তানেজা, নিম্নলিখিত কিছু  এক্সট্রা টিপস শেয়ার করেছেন।

বাড়িতে দ্রুত মেক-আপের জন্য আরও কিছু টিপস এবং ট্রিকস

গাল হাইলাইট করতে ব্লাশার প্রয়োগ করুন। গাল থেকে কানের দিকে সরিয়ে এনে ব্লাশারটি প্রয়োগ করুন। এছাড়াও মনে রাখবেন যে, ব্লাশার এবং লিপস্টিকের শেডগুলি যেন একই রকম হয়।

চোখের মেক-আপ হাইলাইট করতে চাইলে ঠোঁটের মেক-আপ হালকা রাখুন অর্থাৎ গোলাপি, পিচের মতো হালকা শেডের লিপস্টিক লাগান। চোখের মেক-আপ হালকা রাখলে লাল, কমলা, মেরুনের মতো উজ্জ্বল রঙের লিপস্টিক লাগান।

আপনি যদি স্মোকি আই Makeup করতে চান তবে চোখের উপরের পাতায় গাঢ় ধূসর আইশ্যাডো প্রয়োগ করুন এবং এটি ভালো ভাবে মারজ করুন। আরও স্মোকি চেহারার জন্য, ধূসর আইশ্যাডোর উপরে কালো আইশ্যাডো প্রয়োগ করুন এবং উভয়কে ভালো ভাবে ব্লেনড করুন।

এই হেয়ার স্টাইলিং সরঞ্জামগুলি কাছাকাছি রাখুন

আমাদের সামগ্রিক চেহারার সৌন্দর্যের জন্য, পোশাক এবং গয়নার পাশাপাশি চুলের স্টাইলিং-ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরভাবে সাজানো চুল কনেকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। চুলকে আলাদাভাবে স্টাইল করার জন্য অনেক ধরনের হেয়ার স্টাইলিং সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়। চুল কোঁকড়ানো, সোজা করা বা ঢেউ খেলানো, যাই হোক না কেন, হেয়ার স্টাইলিং টুলস-এর সাহায্যে আপনি ঘরে বসে আপনার চুলকে আপনার পছন্দমতো স্টাইলিশ লুক দিতে পারেন।

হেয়ার স্ট্রেইটনার

হেয়ার স্ট্রেইটনারের সাহায্যে আপনি যেমন আপনার চুলকে স্ট্রেইট লুক দিতে পারেন, তেমনি ওয়েভ লুক-এর জন্যও এই টুল-টি খুবই সহায়ক। শুধু মনে রাখবেন যে ভেজা চুলে কখনওই এটি ব্যবহার করবেন না। চুলে হেয়ার স্ট্রেইটনার ব্যবহার করার সময়, সবসময় এটি শক্ত করে ধরে রাখবেন। এটি আপনার চুল স্ট্রেইট করতে এবং তাদের একটি ন্যাচারাল ফিনিশ দিতে সহায়তা করবে।

ব্লো ড্রায়ার

মহিলারা সাধারণত চুল শুকানোর জন্য এটি ব্যবহার করেন, তবে চুলকে বিভিন্ন উপায়ে স্টাইল করতেও এটি ব্যবহার করা যায়। এর সাহায্যে আপনি আপনার চুলকে একটি সুন্দর শেপ দিতে পারেন। আজকাল হট ও কুল-এর সংমিশ্রণে হেয়ার ড্রায়ার বাজারে আসছে। এই ধরনের শীতল হেয়ার ড্রায়ারে ইএইচডি প্রযুক্তি রয়েছে যা আপনার চুলে সঠিক মাত্রায় গরম দিতে সক্ষম যাতে আপনার চুল কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

ব্লো ড্রায়ার-এর ব্যবহার সর্বদা চুলের ডগা থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে চুলের শেষের দিকে নিয়ে যেতে হবে। প্রথমত গোলাকার ব্রাশ ব্যবহার করুন এবং চুলের শেষে নিয়ে গিয়ে চুলটা ব্রাশের সঙ্গে জড়িয়ে রোল করুন। পাশাপাশি ব্লো ড্রায়ারটিও সেই অঞ্চলে ফোকাস করুন এবং বেশ কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করুন। প্রতিটি স্ট্র্যান্ডকে ডগা থেকে শেষ পর্যন্ত আলাদা করতে আঙুল ব্যবহার করুন। এর মাধ্যমে আপনি আপনার চুলে আরও ভলিউম দিতে সক্ষম হবেন।

কার্লিং আয়রন

কার্লিং আয়রনের সাহায্যে, আপনি আপনার চুলকে কার্লিং করে স্টাইল করতে পারেন। এতে আপনি বিভিন্ন সাইজের টং-ও পাবেন, যার সাহায্যে আপনি চুলে নানা ধরনের কার্ল লুক তৈরি করতে পারবেন। এগুলি ব্যবহার করাও খুব সহজ। এর জন্য, আপনার চুলকে ছোটো ছোটো অংশে ভাগ করুন এবং তারপরে এটি একটি রডের মধ্যে মুড়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন এবং তারপরে ছেড়ে দিন। চুল কার্ল করার জন্য, চুলের মিড লেংথ থেকে শুরু করুন এবং চুলের ডগার খুব কাছাকাছি যাবেন না। এর সাহায্যে আপনার চুল বেশ বাউন্সি দেখাবে।

মনে রাখবেন চুলের গোড়ায় এটি ব্যবহার করবেন না। এটি চুলে প্রয়োগ করার আগে এর তাপমাত্রা ভালো ভাবে পরীক্ষা করুন। তাপমাত্রা কম থাকলে আপনার চুলের কার্ল দ্রুত খুলে আসবে, অন্যদিকে তাপমাত্রা বেশি হলে চুল পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

হেয়ার স্প্রে

আপনি যদি চান যে আপনার করা চুলের স্টাইল দীর্ঘ সময় ধরে নষ্ট না হয়, তবে আপনাকে অবশ্যই হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করতে হবে। এটি ব্যবহার না করলে যে-কোনও চুলের স্টাইলই দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। যদি চুল স্টাইল করার সময় হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার চুলের স্টাইল দীর্ঘক্ষণ টিকে থাকবে এবং আপনাকে বারবার চিন্তা করতে হবে না।

পেশাদার ব্রেইড সরঞ্জাম

বিভিন্ন স্টাইলে চুল বাঁধতে ব্রেইড টুলস-এরও বড়ো ভূমিকা রয়েছে। এতে আপনি পাবেন ওভাল হেয়ার পাফ আপ মেকার, ডোনাট ম্যাজিক বান, সেট টপসি টেইল, পনিটেল হোল্ডার ইত্যাদি।

Social Media এবং আপনি

ইন্টারনেটের এই যুগে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ বিরল। ছোটো বড়ো সকলেই এখন সোশ্যাল মিডিয়ার অনুরাগী৷  বর্তমানের দৌড়াদৌড়ির জীবনে, যখন আত্মীয় বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর অবকাশ নেই– তখন মানাজিক মাধ্যমই হয়ে উঠেছে কানেক্টেড থাকার আধার৷  আপনি অনেক দূরে বসেও, সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে প্রিয়জনের সঙ্গে সংযোগ করতে পারেন।কিন্তু বুঝতে হবে, সোশ্যাল মিডিয়া যেখানে মানুষকে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে, সেখানে সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু অসুবিধাও রয়েছে যা সবসময় উপেক্ষা করা হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতির কথা যদি বলা হয়, তাহলে সব বয়সের মানুষেরই ক্ষতি হয়, কিন্তু সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় বাড়ন্ত শিশুদের অর্থাৎ টিনএজারদের যাদের খারাপ ভালো বিচার করার বিচক্ষণতা তৈরি হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ার জগৎটাকে তারা বাস্তব জীবনের সঙ্গে এতটাই মিশিয়ে ফেলে যে,  তাদের ক্ষতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়া প্রাপ্ত বয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও বেশ প্রভাব ফেলে। আসুন জেনে নিন সামাজিক মিডিয়া কী কী অসুবিধা সৃষ্টি করছে।

যদিও সোশ্যাল মিডিয়া  যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য একটি ভালো হাতিয়ার, তবে ডিজিটাল ভাবে যোগাযোগ রাখা এবং আপনার চারপাশের লোকেদের সঙ্গে মুখোমুখি যোগাযোগ বজায় রাখার মধ্যে একটি বিশাল পার্থক্য রয়েছে। এই ধরনের মানুষেরা যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুদের সাথে বেশি সংযুক্ত থাকে, তারা তাদের আশেপাশের মানুষের সাথে কথা বলতে বা যোগাযোগ বজায় রাখতে কম পছন্দ করে। যার কারণে বাস্তব জীবনের সম্পর্কে ফাটল দেখা যায়।তারা ক্রমশ একা হয়ে পড়ে৷ সুখ দুঃখগুলো বাস্তবিক ভাবে শেয়ার করার কোনও মানুষ পাশে থাকে না৷

সোশ্যাল মিডিয়ার এই ভার্চুয়াল লাইফ যেহেতু আত্মসুখ প্রদর্শন করার একটি পন্থা হয়ে গেছে, অন্যের সুখ দেখে এখন মানুষের মধ্যে ঈর্ষার অনুভূতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মানুষ নিজের না পাওয়া গুলোর সঙ্গে অপরের পরিপূর্ণতা, তাদের সুখী জীবনের সঙ্গে নিজেদের অতৃপ্তির তুলনা করতে শুরু করে।এই তুলনার কারণেই  ঈর্ষার অনুভূতি শুরু হয়। তাদের আচরণের এই পরিবর্তনের কারণ হিসেবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে দায়ী করা যেতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ার প্রত্যক্ষ প্রভাব হল, সবসময় আপনার মনে হতে থাকে এমন কিছু করা উচিৎ যাতে সমাজ মাধ্যমে নজর কাড়া যায় এবং লোকেরা এটি দেখতে পায়। এই ভাবনা  আসামাত্র, আপনিও অন্যদের মতো, আপনার জীবনের সুখী দিকগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের কাছে দেখাতে শুরু করেন।এরপর প্রত্যাশিত সংখ্যায় লাইক আর কমেন্ট না এলেই  শুরু হয় মানসিক চাপ।

অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার ফলে অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্কে ফাটল দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে দুই সঙ্গী  একে অপরের সামাজিক মাধ্যমের উপর বিশেষ ভাবে দখলদারি দেখাতেও চেয়েছেন অনেক সময়। অনেক ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই জন্ম নেয় সন্দেহ। সেই সন্দেহের উপর ভর করেই একের পর এক সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। এমনকী বহু ক্ষেত্রে কেবল এই সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের জন্য সম্পর্ক ভেঙে পর্যন্ত যায়। তাই বিশেষজ্ঞরা বারবার বলেন যে, সম্পর্কে থাকার সময় অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।

আজকের ব্যস্ত সময়ে রোজ রোজ সামাজিকতা রক্ষা করা কঠিন৷ কারও বাড়ি গিয়ে বা বন্ধুরা নিয়মিত বসে আড্ডা দেওয়া কঠিন৷ সেক্ষেত্রে জনসংযোগের উপায় হিসেবে সামাজিক মাধ্যমের কোনও তুলনা নেই৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় দিনের কিছুটা সময় কাটানো যেতেই পারে। তবে অনেকের অভ্যাস আছে সবসময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত থাকার। তারা নাওয়া খাওয়া ভুলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটিয়ে দিতে পারেন। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম তাদের জীবনের সঙ্গে এমনই মিশে গেছে যে, একটা কাল্পনিক জীবশৈলীকেই তারা বাস্তব মনে করতে শুরু করেছেন। এই অভ্যাস আপনার সঙ্গীর বা পরিবারের মানুষদের ভালো না লাগাই স্বাভাবিক। কারণ আপনি তাদের সঙ্গে থাকা সত্ত্বেও, তাদের উপস্থিতিকে গুরুত্ব না দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটাচ্ছেন। আপনার সর্বক্ষণ অনলাইন থাকাটাও তাদের চোখে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই এই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকুন। এক্ষেত্রে যতটা দ্রুত সম্ভব এই অভ্যাস থেকে দূরে চলে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

বোন ও সফট টিস্যুর ক্যান্সারের জন্য লিম্ব স্পেয়ারিং সার্জারি

বোন টিউমার, সফট টিস্যু টিউমার অথবা ক্যান্সার এবং বোন মেটাস্টাসিস তুলনামূলক ভাবে বিরল রোগ।সারকোমা অথবা বোন ক্যান্সার প্রাপ্ত-বয়স্কদের সমস্ত ক্যান্সারের মধ্যে প্রায় ২ শতাংশ থাকে এবং শিশুদের সমস্ত কঠিন ক্যান্সারের মধ্যে এর পরিমাণ হল ২০ শতাংশ। এর ফলে প্রায়ই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নষ্ট হয়ে যায় এবং অন্যান্য অঙ্গে মেটাস্টাসিস হয়।

বোন ও সফট টিস্যু-সম্পর্কিত ক্যান্সার হল ক্যান্সার রোগের একটি অস্বাভাবিক রূপ। এই রোগটি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যার বিষয়ে মণিপাল হসপিটাল সম্প্রতি সাংবাদিক সম্মেলনের  আয়োজন করেছিল। এর লক্ষ্য ছিল বোন ও সফট টিস্যু ক্যান্সারের ক্ষেত্রে লিম্ব স্পেয়ারিং সার্জারির বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বেঙ্গালুরু-র মণিপাল হসপিটাল-এর অর্থোপেডিক অঙ্কোসার্জারি-র লিড কনস্যাল্ট্যান্ট ডা. শ্রীমন্থ বি এস প্রাথমিক অবস্থাতেই রোগ নির্ণয় ও মূল্যায়ন এবং এই মাস্কিওলোস্কেলিটাল টিউমারগুলির ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রতিক অগ্রগতির উপর আলোকপাত করলেন। কয়েকজন বোন ক্যান্সার যোদ্ধাও তাদের পরিচর্যাকারীদের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত থেকে এই রোগকে পরাজিত করার জন্য তাদের সংগ্রাম ও সাহসের কাহিনী জানিয়েছেন।

Dr. Srimanth B S

ক্ষতিকর নয় এমন টিউমার, সফট টিস্যু ও বোনের ম্যালিগন্যান্ট টিউমার এবং মেটাস্টাসিক টিউমারের মতো তিন প্রকারের রোগে আক্রান্ত গড়ে ১০০-১২০ রোগীর চিকিৎসা করে (প্রতি বছর) মণিপাল হসপিটাল । এগুলি হল মাস্কিওলোস্কেলিটাল সিস্টেমে ছড়িয়ে পড়া অন্যান্য বিভিন্ন ক্যান্সারের ফল।এই রোগীদের বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা করার প্রয়োজন হয়, যেমন কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি এবং অস্ত্রোপচার। এক্স-রে, এমআরআই স্ক্যান, বায়োপসি এবং পিইটি স্ক্যানের মতো বিভিন্ন স্ক্রিনিং পদ্ধতি ব্যবহার করার পাশাপাশি অন্যান্য ধরণের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত স্ক্রিনিং করার মাধ্যমে স্কেলিটাল সিস্টেমের বিভিন্ন অংশে এই টিউমারগুলির সনাক্তকরণ করা হয়। ব্যথা, ফুলে যাওয়া, এমনকি কখনও কখনও অকারণে অথবা খুব তুচ্ছ কারণে হাড় ভেঙে যাওয়া এই সমস্যাগুলি সনাক্ত করার তিনটি সবচেয়ে সাধারণ উপায়।

মাস্কিওলোস্কেলিটাল টিউমারের ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রতিক দশকগুলিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু এখন চিকিৎসা পদ্ধতিগুলির মধ্যে আছে ফাংশন-প্রিজারভিং রিসেকশন এবং জটিল অঙ্গ-পুনর্গঠন। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও প্রাণহানি রোধ করতে প্রথম দিকেই এই ধরণের ক্যান্সারের সনাক্তকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডা. শ্রীমন্থ বি এস বোন ও সফট টিস্যু টিউমারের সম্ভাব্য নিরাময়ের ক্ষেত্রে লিম্ব স্পেয়ারিং অস্ত্রোপচারের ভূমিকার উপর জোর দেন। তিনি প্রসঙ্গত আরও জানিয়েছেন, ‘মণিপাল কম্প্রিহেনসিভ ক্যান্সার সেন্টারে আমরা একটি মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি পদ্ধতি গ্রহণ করি। এই পদ্ধতিতে ক্যান্সার কেয়ার টিম বোন টিউমার অথবা বোন মেটাস্ট্যাসিসে আক্রান্ত রোগীদের শনাক্ত করতে একসঙ্গে কাজ করেন। তারা আক্রান্ত অঙ্গটিকে বাঁচিয়ে রোগটির নিরাময়ের জন্য অস্ত্রোপচার এবং মিনিমালি ইনভেসিভ বিকল্পের (নীচু-গ্রেডের টিউমারের ক্ষেত্রে) প্রস্তাব দেন। এর ফল হল আমরা যে বোন সারকোমাগুলি দেখতে পাই, সেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি একটি উন্নত মানের জীবন এবং বেশ কিছুটা নিরাময় দেয়। এছাড়াও, আমরা আমাদের রোগীদের ক্ষেত্রে সেরা ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় রেডিয়েশন থেরাপি, কেমোথেরাপি এবং রিহ্যাবিলিটেশন পদ্ধতিও প্রয়োগ করে থাকি।’

ডাঃ শ্রীমন্থ একটি শিশুর সেরে ওঠার কাহিনীর উল্লেখ করেছেন। এই শিশুটির ফিমার বোনের ক্যান্সার, অর্থাৎ অস্টিওসারকোমা হয়েছিল। তার লিম্ব স্পেয়ারিং অস্ত্রোপচার এবং কেমোথেরাপি করা হয়েছিল। যে হাড়টিতে ক্যান্সার হয়েছিল অস্ত্রোপচার করে সেটিকে একটি কৃত্রিম অথবা ধাতব জয়েন্ট দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পরের দিনই শিশুটি নিজেই হাঁটতে পারছিল। অস্ত্রোপচারের স্থানের ক্ষত ভালো ভাবে সেরে যাওয়ার পরে সেই শিশুটির কেমোথেরাপি করা হয়েছিল। ৬ মাসের মধ্যে রিহ্যাবিলিটেশন থেরাপি সম্পন্ন হয় এবং শিশুটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে।

পোস্ট ওয়েডিং Makeup টিপস (1st Part)

বিয়ের পরে, নববধূ চায় নিজের সৌন্দর্য বজায় রাখতে। তার স্বামীর জন্য বা যে আত্মীয়রা বাড়িতে আসছেন তাদের জন্য নিজেকে সব দিক দিয়ে প্রস্তুত রাখার প্রয়োজন বোধ করে সে। বিয়ের পরেই নববধূর পার্লারে যাওয়া অনেক সময়েই সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে ঘরে বসে কীভাবে মেক-আপ করবেন, নতুন বিবাহিতার তা জেনে রাখা জরুরি, যাতে সে নিজেকে সকলের চোখে সুন্দর করে তুলতে পারে।

আসলে সবসময় খুব বেশি মেক-আপের প্রয়োজন হয় না। তবে Makeup-এর কিছু জিনিস বাড়িতে সবসময় দরকার হয়। কীভাবে একজন নববধূকে সুন্দর দেখাবে এবং তাকে যাতে সুন্দর দেখাতে পারেন সে সম্পর্কে সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞ ভারতী তানেজা, নিম্নলিখিত টিপসগুলি শেয়ার করেছেন।

১. মেক-আপ করার আগে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার প্রথম ধাপ হচ্ছে, আপনার ত্বকের যত্ন নেওয়া। ত্বক সুস্থ থাকলে মেক-আপ আরও ভালো দেখাবে। মেক-আপের আগে ত্বককে ভালোভাবে প্রস্তুত করা জরুরি।

২. রাতে ঘুমানোর আগে যে-কোনও অবস্থাতেও মুখ পরিষ্কার করে তারপর ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম বা পুষ্টিকর ক্রিম বা তেল লাগিয়ে ঘুমাতে হবে। যদি আপনার ত্বক খুব শুষ্ক হয় তবে আপনি ভালো পুষ্টিকর ক্রিম বা তেল প্রয়োগ করতে পারেন। আপনার ত্বক খুব বেশি তৈলাক্ত মনে হলে আপনি পুষ্টিকর ময়েশ্চারাইজারও প্রয়োগ করতে পারেন।

৩. সকালে Makeup লাগানোর আগে ত্বক প্রস্তুত করুন। এজন্য প্রথমে ত্বক পরিষ্কার করুন এবং তারপর তার ওপর টোনার স্প্রে করুন। টোনারটি সর্বদা একটি স্প্রে বোতলে সংরক্ষণ করুন এবং এটি ফ্রিজে রাখুন। আপনি যখনই আপনার ত্বককে টোন করতে চান, এটি ফ্রিজ থেকে নিয়ে মুখে স্প্রে করুন। এবার এটি নিজেই শুকিয়ে যেতে দিন যাতে মুখটি ভালোভাবে টোন হয়। এরপর ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম লাগান। এমন একটি ক্রিম নিন যাতে এসপিএফ অর্থাৎ সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর রয়েছে।

৪. আপনার মেক-আপ কিটে অবশ্যই এমন কিছু জিনিস থাকতে হবে যা আপনার সঙ্গে সবসময় থাকে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি এতে গোল্ড অয়েল রাখুন।

৫. মেক-আপের আগে হাতে ২-৩ ফোঁটা গোল্ড অয়েল নিন এবং ভালো করে মুখে লাগান। ৫-১০ মিনিট অপেক্ষা করুন এবং তারপরে হাতে ২-৩ ফোঁটা প্রাইমার বেস নিন এবং এটি পুরো মুখে প্রয়োগ করুন। আপনার মুখ মেক-আপের জন্য প্রস্তুত।

৬. পার্লারে মেক-আপ করলে অনেক কিছুই ব্যবহার করা হয়। এখানে আপনাকে একটি বেস দেওয়া হয় এবং তারপরে পাউডার দেওয়া হয়। আপনি যদি বাড়িতে সহজেই মেক-আপ করতে চান তবে আপনার টু-ওয়ে কেক কেনা উচিত। এটি ফাউন্ডেশন এবং পাউডারের মিশ্রণ। এটি প্রয়োগ করার পরে, আপনার পাউডার প্রয়োগ করার দরকার নেই। এর ভিতরে একটি স্পঞ্জ আছে, এটি ভিজিয়ে জল চিপে নিন এবং তারপরে এটি মুখের উপর ভালোভাবে প্রয়োগ করুন। এটি খুব দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থায়ী হবে এবং আপনাকে আর কিছু করতে হবে না। কয়েক সেকেন্ড মাত্র লাগে এটি প্রয়োগ করতে, এবং চটজলদি আপনি প্রস্তুত হয়ে নিতে পারেন।

৭. আপনার চোখের নীচে ডার্ক সার্কেল বা দাগ থাকলে কনসিলার লাগাতে হবে। কনসিলার লাগানোর পরে, টু-ওয়ে কেক লাগান।

৮. সকলেই Makeup কিটে ব্লাশার রাখেন, কিন্তু যখন আপনার হাতে সময় কম বা হাতের কাছে ব্লাশার নেই, তখন এই কাজের জন্য দ্রুত আপনার লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন। আপনি আঙুলে সামান্য লিপস্টিক নিয়ে এটি ব্লাশার হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন। এটি দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থায়ী হবে এবং আপনি, একটি পৃথক ব্রাশ দিয়ে ব্লাশার প্রয়োগ করার সময়ও সাশ্রয় করবেন।

৯. বিয়ের আগে আইল্যাশ এক্সটেনশন করিয়ে নেওয়াই ভালো, যাতে বিয়ের পর মাস্কারা লাগানোর প্রয়োজন না হয়। চোখের পাতা আপনার সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে। আপনি যদি আইল্যাশ এক্সটেনশন না করিয়ে থাকেন তবে নিজের সঙ্গে এমন মাস্কারা রাখুন যা আপনার চোখের পাতাকে ভলিউম দেবে এবং দৈর্ঘ্য দিতেও সাহায্য করবে। আপনি যদি চোখের পাতার গোড়া থেকে নিয়ে বাইরে অবধি মাস্কারা নিয়ে গিয়ে চোখের পাতা কার্লিং করা অবধি লাগান, তাহলে আপনার চোখের পাতা খুব সুন্দর লাগবে দেখতে।

১০. আপনার চোখের পাতা যদি খুব হালকা হয়, তাহলে সেই সমস্যার জন্য চোখের পাতায় একবার মাস্কারা লাগান। এরপর আঙুলে সামান্য লুজ পাউডার নিয়ে চোখের পাতার উপর ও নীচে প্রয়োগ করুন। তারপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন এবং মাস্কারাটি ডাবল লেপ লাগান। মুহূর্তে আপনার চোখের পাতা পুরু, লম্বা এবং সুন্দর হয়ে উঠবে।

১১. আইশ্যাডো চোখের মেক-আপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্রাশে সামান্য আইশ্যাডো নিন এবং এটি আপনার চোখের উপর লাগান। ভ্রূয়ের ঠিক নীচে হাইলাইটার প্রয়োগ করুন।

১২. চোখকে গাঢ় দেখাতে চাইলে ক্রিজ লাইনের উপরে গাঢ় বা হালকা বাদামি রঙের আইশ্যাডো নিয়ে মারজ করুন। চোখ দেখতে বড়ো এবং সুন্দর লাগবে।

১৩. সহজে আইলাইনার প্রয়োগ করতে, আপনি একটি আইলাইনার প্যান কিনুন। এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই আইলাইনার লাগাতে পারবেন। এটির টেক্সচার খুব স্পঞ্জি।

১৪. মাস্কারা কেনার সময় খেয়াল রাখতে হবে, মাস্কারা যেন মসৃণ হয়।

১৫. আপনি কিছু স্টিকার বিন্দিও কিনতে পারেন। এই শৈল্পিক বিন্দি সব ধরনের ডিজাইনে পাওয়া যায় যা আপনি সহজেই প্রয়োগ করতে পারেন।

১৬. চোখের পরে ঠোঁটের মেক-আপ করুন। লিপস্টিক লাগানোর জন্য প্রথমে ঠোঁটের পেন্সিল দিয়ে ঠোঁটের আউটলাইন আঁকুন। যদি এটি সঠিকভাবে কাজ না করে তবে ঠোঁটের পেন্সিলের উপর সামান্য ক্রিম লাগান। তখন এটি খুব মসৃণভাবে কাজ করবে। এবার লিপ লাইন তৈরি করার পর ব্রাশের সাহায্যে লিপস্টিক লাগান। লিকুইড লিপস্টিকও পাওয়া যায় যা আপনি আরও সহজে প্রয়োগ করতে পারেন। লিপস্টিককে দীর্ঘস্থায়ী করতে আপনি ম্যাট লিপস্টিক প্রয়োগ করতে পারেন।

মেক-আপটি দীর্ঘস্থায়ী করতে একটি মেক-আপ সিলার ব্যবহার করুন। এটি মুখে স্প্রে করলে মেক-আপ দীর্ঘস্থায়ী হবে। এর ফলে আপনি নিজেকে সারাদিন সুন্দর দেখাতে পারবেন। অবশেষে, একটি চমৎকার পারফিউম প্রয়োগ করুন এবং আকর্ষণীয় সৌন্দর্য পান।

 

 

কুইজিন উইথ গ্রেভি

অনেকেই রান্নার পদে একটু ঝোল পছন্দ করেন৷ আমিষ বা নিরামিষ যা-ই রাঁধুন না কেন, উপযুক্ত মশলার গুণে সুস্বাদু হয়ে ওঠে তার ঝোল৷ দিশি শব্দে এটাকে আমরা গ্রেভি বলি৷ গ্রেভি তৈরির অনেক উপায় আছে, এবং বিদেশে নানা প্রকারে তৈরি সস -কে গ্রেভি বলে উল্লেখ করা হয়৷ কিন্তু আমরা সাধারণত  তরলতার জন্য  ঝোল- যুক্ত প্রিপারেশনকে গ্রেভি বলে অভিহিত করি৷।আজ রইল ভারতের এমনই দুটি গ্রেভি পদ৷

অপ্পম কারি

উপকরণ : ১ কাপ পালংশাককুচি, ১ বড়ো চামচ সুজি, এক চিমটে খাওয়ার সোডা, ১ ছোটো চামচ আদাকুচি, ১ ছোটো চামচ কাঁচালংকা কুচি, ১ ছোটো চামচ আমচুর পাউডার, ১ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো, ১/৪ ছোটো চামচ রিফাইন্ড তেল, নুন স্বাদমতো।

গ্রেভির জন্য: ১ বড়ো চামচ মাখন, ১ বড়ো চামচ জিরেবাটা, ১ ছোটো চামচ আদাবাটা, ১ বড়ো চামচ কসৌরি মেথি, ১ কাপ টম্যাটো পেস্ট, ১ বড়ো চামচ ধনেগুঁড়ো, ১/৪ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ গরমমশলা, ১/২ ছোটো চামচ গোটা জিরে।

প্রণালী: অপ্পম তৈরির সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। প্রয়োজনমতো জল দিয়ে ঘন করে গুলে নিন। অপ্পম মেকার-এ তেল বুলিয়ে, এই মিশ্রণ অল্প অল্প করে দিয়ে, মধ্যম আঁচে অপ্পম কড়া করে সেঁকে নিন।

এবার গ্রেভি তৈরি করার জন্য কড়ায় মাখন গরম করুন ও জিরে ফোড়ন দিন। জিরেবাটা ও কসৌরি মেথি দিয়ে নাড়তে থাকুন। টম্যাটো পেস্ট ও অন্যান্য মশলা দিয়ে কষতে থাকুন। মশলা তেল ছেড়ে দিলে, প্রয়োজনমতো জল দিন ও গ্রেফি ফুটতে দিন। গ্রেভিতে অপ্পম ঢেলে রান্না হতে দিন ও সার্ভ করুন।

 

আলুর মশলা গ্রেভি

Potato curry recipe

উপকরণ: ১০০ গ্রাম আলু কাটা, ২ টেবিল চামচ বেসন, ১ ছোটো চামচ আদাকুচি, ১/২ ছোটো চামচ কাঁচালংকাকুচি, ১ বড়ো চামচ ধনেপাতাকুচি, ১ বড়ো চামচ দই, ১ ছোটো চামচ জিরে, ১/৪ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ ধনেগুঁড়ো, ১/৪ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ গরমমশলা, এক চিমটে হিং, ১ বড়ো রিফাইন্ড তেল, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: কড়ায় তেল গরম করুন। আলুর সরু ফালিগুলি নুন ও বেসনের সঙ্গে মেখে নিন। গরম তেলে কড়া করে ভেজে নিন। তুলে রাখুন। এবার কড়ায় তেল গরম করে জিরে-হিং ফোড়ন দিন। আদা, কাঁচালংকা, হলুদগুঁড়ো, ধনেগুঁড়ো, লংকাগুঁড়ো ও ২ কাপ জল দিন। ৫ মিনিট রান্না করুন। এরপর আলুভাজাগুলো মিশিয়ে দিন। দই ফেটিয়ে দিয়ে দিন। ধনেপাতা ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।

শাহরুখ-কন্যা সুহানার বলিউডে পদার্পণ

২০১৮ সালে এক পত্রিকার প্রচ্ছদের মাধ্যমে ফ্যাশন দুনিয়ায় পদার্পণ করেন শাহরুখ-কন্যা সুহানা। এ ছাড়াও তিনি একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি এবং বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেছেন। এ বার জো়য়া আখতারের ছবিতে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন সুহানা খান।

খুব শীঘ্রই জোয়া আখতারের পরিচালনায় আসছে ‘দ্য আর্চিস’। ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে সেই ছবির ট্রেলার। নেটফ্লিক্সের এই ছবির হাত ধরেই বলিউডে আত্মপ্রকাশ করছেন তিনজন স্টার কিড- সুহানা খান (শাহরুখ-গৌরী কন্যা), খুশি কাপুর (শ্রীদেবী ও বনি কাপুরের ছোট মেয়ে) এবং অগস্ত্য নন্দা (বচ্চনের নাতি)। তাই শুরুতেই এই ছবিকে ‘নেপোটিজমের’ তকমা দিয়েছে নেটিজেনরা।

নেটমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় শাহরুখ এবং গৌরী খানের কন্যা সুহানা। সুহানা শুধু ‘স্টার কিড’ নন, বলিউড বাদশা-র কন্যা হওয়ার সুবাদে বেশ কয়েক দিন ধরেই তাঁর বলিউডে আত্মপ্রকাশ নিয়ে কানাঘুষো চলছিল। অবশেষে  সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। বাবার খ্যাতির ছায়ায় বেড়ে ওঠা আদরের কন্যা সুহানা, ২০০০ সালের ২২ মে মুম্বাইতে জন্মগ্রহণ করেন।  সুহানা ধিরুবাই আম্বানী স্কুলে পড়াশোনা করেন। তার প্রিয় শখের মধ্যে আছে নাচ ও খেলাধূলা। সোশ্যাল হ্যান্ডেলে নিজের ব্যক্তিগত মুহূর্ত শেয়ার করে তরুণ প্রজন্মের কাছে ইতিমধ্যেই সুহানা বেশ পরিচিত মুখ, বলা যেতে পারে ‘স্টাইল আইকন’।

‘দ্য আর্চিস’ ছবির গল্প মার্কিন কমিক ‘দ্য আর্চিস’ থেকে অনুপ্রাণিত হলেও চরিত্রগুলো গড়ে তোলা হয়েছে ৬০-এর দশকের ভারতের প্রেক্ষাপটে। এক কথায় জোয়া আখতার ভারতীয়করণ ঘটিয়েছেন আর্চিস কমিকসের।১৯৬৪ সালে ভারতের এক কাল্পনিক পাহাড়ি অঞ্চল, রিভারডেলের প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছে জোয়ার ‘দ্য আর্চিস’। এই ছবির ফোকাসে সেখানের একদল অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান স্কুল পড়ুয়া। যারা গান-নাচ-হাসি-হুল্লোড়-মজায় সময় কাটায় নিজেদের মধ্যে। রেট্রো লুক, টাইপরাইটার, সাইকেল, মিল্কশেক, ওয়াকম্যান– সেইসময়কার সব জিনিসই ছবিতে হাজির করেছেন জোয়া।

Sharukh-Suhana-Sujoy Ghosh Bollywood film

নেটফ্লিক্স-এর এই ছবির পাশাপাশি, মেয়ের বড়ো পর্দায় ডেবিউ নিয়ে অন্য পরিকল্পনা রয়েছে শাহরুখের। সেই জন্যই তিনি চান  বড়ো পর্দায় মেয়ের অভিনয়ে অভিষেক হোক সুজয় ঘোষের মতো পরিচালকের হাত ধরে৷  টিনসেল টাউনের অন্দরমহলের খবর, বড়োপর্দায় তাঁর ডেবিউ এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা! শুধু তাই নয়, বাবা শাহরুখ খানের সঙ্গে ছবিতে অভিনয় করবেন সুহানা খান, জোর জল্পনা এমনটাই। এতে ক্যামিও চরিত্রে হলেও বেশ লম্বা অ্যাপিয়ারেন্স থাকবে কিং খানের। জানা যাচ্ছে, এই নতুন ছবিটি একটি অ্যাকশন থ্রিলার। ছবিটিতে সহ-প্রযোজক হিসেবে থাকবেন শাহরুখ খান ও সিদ্ধার্থ আনন্দ দুজনেই। তবে এখন পুরো ব্যাপারটা গোপন রাখা হচ্ছে।

সুজয় এর আগে শাহরুখের প্রোডাকশন হাউস রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের অধীনে বদলা বানিয়েছেন ২০১৯ সালে। যেখানে অভিনয় করেছিলেন তাপসী পন্নু এবং অমিতাভ বচ্চন। অভিষেক বচ্চন অভিনীত ‘বব বিশ্বাস’-এর সহ-প্রযোজনাও করেছিলেন তিনি রেড চিলিজের সঙ্গে হাত মিলিয়েই। এবার সুজয়ের পরিচালনায় এবং রেড চিলিজ প্রোডাকশনের প্রযোজনায় নির্মাণ হতে চলেছে সুহানা খানের ছবিটি৷ বাবা-মেয়ের স্ক্রিন শেয়ার করার এই অভিজ্ঞতা নিতে অপেক্ষা থাকবে দর্শকদের৷

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব