গ্রেভি Recipes

অনেকেই রুটি বা পরোটার সঙ্গে গ্রেভি-যুক্ত সাইড ডিশ পছন্দ করেন৷ নিরামিষ পদ হলেও সেই রান্না যদি সুস্বাদু হয়, তাহলে ডিনার-টা কিন্তু এনজয় করার মতো হয়ে ওঠে৷ এই পদগুলো শীতে করা যায় টাটকা সবজিতে৷ কিন্তু গ্রীষ্মেও করতে বাধা নেই কারণ এথন সারা বছরই ফ্রোজেন কড়াইশুঁটি কিংবা কর্ন পাওয়া যায়৷

কর্নপনির কারি

উপকরণ: ২০০ গ্রাম পনির, ১ কাপ ফ্রোজেন সুইট কর্ন, ১ কাপ টম্যাটো পেস্ট, ১ ছোটো চামচ আদাপেস্ট, ১ ছোটো চামচ কাঁচালংকা মিহি কুচি করা, ১ ছোটো চামচ আটা, ১/২ ছোটো চামচ জিরে, ৫-৬টা গোটা গোলমরিচ, ১/৪ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, ১/৪ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ গরমমশলা, ১/৪ ছোটো চামচ চিনি, অল্প ধনেপাতাকুচি, ১ বড়ো চামচ রিফাইন্ড তেল, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: পনির লম্বা করে ফালি করে কেটে নিন। প্রেশার প্যানে তেল গরম করে, জিরে ফোড়ন দিন। এর সঙ্গে দিন গোলমরিচ, আদাবাটা, কাঁচালংকাকুচি। অল্প একটু আটা দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। টম্যাটো পেস্ট, লংকাগুঁড়ো, হলুদগুঁড়ো, নুন ও হলুদ দিয়ে নাড়তে থাকুন। ঢিমে আঁচে ততক্ষণ নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না এই মিশ্রণ পাত্রের গা ছেড়ে আসে।

এবার পনির, সুইট কর্ন ও আধ কাপ জল দিয়ে নাড়াচাড়া করে প্যান চাপা দিয়ে দিন। একটা সিটি হলেই নামিয়ে নিন। প্রেশার প্যান খুলে কারি সার্ভিং বোল-এ ঢেলে নিন। উপর থেকে গরমমশলাগুঁড়ো এবং ধনেপাতা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

মুগের ডালের বড়া ও মটরশুঁটির কারি

Matar Moong Curry

উপকরণ:  ১০০ গ্রাম মুগডাল (বেটে নেওয়া), ৫০ গ্রাম কড়াইশুঁটি, ১ ছোটো টুকরো আদা সরু ফালি করা, ১ টা কাঁচালংকা কুচোনো, ১/২ কাপ টম্যাটোবাটা, ১ ছোটো চামচ জিরে, ১/৪ ছোটো চামচ হিং, ১ ছোটো চামচ ধনেগুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, ১/৪ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ গরমমশলা, ১/২ কাপ ফেটানো দই, রিফাইন্ড তেল, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: কড়ায় তেল গরম করুন। মুগডাল বাটায় নুন দিয়ে ফেটিয়ে নিন। বড়া ভেজে নিন। বাদামি রং হলে তুলে নিন। প্রেশার প্যানে ১ বড়ো চামচ রিফাইন্ড তেল গরম করুন। এতে হিং ফোড়ন দিন। আদা, কাঁচালংকা ও টম্যাটোবাটা দিয়ে কষতে থাকুন। মশলা তেল ছেড়ে দিলে প্রয়োজনমতো জল দিন। মুগের বড়া ও কড়াইশুঁটি দিন। প্রেশার বন্ধ করে একটা সিটি দিন। এবার আঁচ বন্ধ করুন। প্রেশার বেরিয়ে গেলে, এতে ফেটানো দই দিন ও গরমমশলাগুঁড়ো দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। রাইস বা পরোটার সঙ্গে সার্ভ করুন।

বিতর্ক কাটিয়ে ‘আদিপুরুষ’ বড়ো পর্দায়

নানা বিতর্ক পিছনে ফেলে ওম রাউত পরিচালিত ‘আদিপুরুষ’ সিনেমাটি আগামী ১৬ জুন পেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে বলে প্রযোজনা সংস্থা টি-সিরিজ জানিয়েছে। বছরের শুরুতেই রামায়ণ নির্ভর এই ছবিটি বড়ো পর্দায় আসার কথা ছিল। কিন্তু কয়েকবার তারিখ পিছিয়ে এবার নতুন করে ‘আদিপুরুষ’ এর মুক্তির দিন স্থির করা হয়েছে। রামায়ণ মহাকাব্যের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই পৌরাণিক সিনেমা গেল বছরের আগস্ট-এ মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। পরে এই বছরের জানুয়ারিতে মুক্তির দিনক্ষণ ঠিক করা হয়। সেটাও পরিবর্তিত হয়ে ১৬ জুন করা হয়।

‘বাহুবলী’ খ্যাত দক্ষিণী অভিনেতা প্রভাস এই সিনেমায় ‘রাম’ চরিত্রটি রূপায়ন করছেন, যা সিনেমার মূল আকর্ষণ। সীতার চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেত্রী কৃতি স্যানন। এই ছবিটির মাধ্যমেই প্রথম জুটি বাঁধছেন তাঁরা। রাবণের চরিত্রে রয়েছেন বলিউডের খ্যাতনামা অভিনেতা সইফ আলি খান।

গত বছর আদিপুরুষের টিজার প্রকাশের পর সিনেমার ভিজ্যুয়াল এফেক্টস-এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার এবং নির্মাণ কৌশল নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। টিজারের বেশিরভাগ দৃশ্যেই ভিজ্যুয়াল এফেক্টের বাড়াবাড়ি ও হাস্যকর ব্যবহার করা হয়েছে বলে মন্তব্যও করেন অনেকে। একইসঙ্গে হিন্দু দেব-দেবীদের ভুলভাবে উপস্থাপন ও বিকৃত রূপে দেখানোরও অভিযোগ ওঠে ছবিটির বিরুদ্ধে। এছাড়াও ‘রাবণ’ চরিত্রে সাইফের দাড়ি, ছোটো করে কাটা চুল আর কাজল দেওয়া চোখ নিয়েও অনেকেই আপত্তি তোলেন। ওই সময় ‘রাবণ’ চরিত্র নিয়ে এক মন্তব্যের জেরে সইফ আলিকে সোশাল মিডিয়ায় রোষানলের মুখে পড়তে হয়েছিল। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, Adipurush রামায়ণের গল্প হলেও মূল প্লটটিকে সম্পূর্ণ অন্য দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখানো হয়েছে। রাবণের মানবিক দিকটি তুলে ধরা হয়েছে এখানে। সীতাহরণের ঘটনাটির ন্যায্যতাও নাকি প্রকাশ পাবে এই ছবির মাধ্যমে। ছবির বক্তব্য, গোটা ঘটনাই শুরু হয়েছে শুর্পণখার নাক কেটে দেওয়ার ফলে। এখান থেকেই শুরু বিতর্ক। সোশাল মিডিয়ায় মাধ্যমে অনেকেই তখন ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগ তোলা হয়। এসব কারণে সিনেমাটি মুক্তির ঘোষণা বেশ কয়েকবার করা হলেও পরে সেই তারিখগুলোর মান্যতা রাখা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ক্রমাগত মুক্তির তারিখ পিছোতে থাকে।

তবে ছবির নায়ক প্রভাস এই ছবিটি নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী। ইনস্টাগ্রামে তিনি জানিয়েছেন যে, Adipurush-এ রামের চরিত্রে অভিনয় করাটা তিনি গর্বের বলেই মনে করেন। তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি আশা রাখেন যে, অবশ্যই পৌরাণিক কাহিনীর উপর নির্ভর আদিপুরুষ ছবিটি তাদের ভালো লাগবে।  

এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি নবরাত্রি উপলক্ষে সিনেমার সাফল্যের জন্য আশীর্বাদ নিতে বৈষ্ণদেবীর মন্দির দর্শন করতে যান প্রযোজক ভূষণ কুমার এবং পরিচালক ওম রাউত। প্রযোজনা সংস্থা, টুইটারে ভূষণ কুমার ও ওম রাউতের ছবিসহ সিনেমাটির মুক্তির তারিখ ১৬ই জুন, শুক্রবার, ঘোষণা করেছে। নির্ধারিত তারিখে হিন্দি, তামিল, তেলেগু ও মালায়লম – এই চার ভাষায় মুক্তি পাবে সিনেমাটি। এর পরেই নির্ধারিত হবে ছবির ভবিষ্যৎ।

 

 

 

 

Fashion-এ লটকন

বর্তমানে পোশাকের গুরুত্বপূর্ণ অ্যাক্সেসরি হল লটকন। ইদানীং যা ভীষণভাবে ইন। মহিলাদের মনের খুব কাছাকাছিও বলা যেতে পারে। আজকাল লটকন ছাড়া ফ্যাশন— ভাবাই যায় না। গুজরাতে চনিয়া চোলি, রাজস্থান আর হরিয়ানার ঘাগরা চোলি, পঞ্জাবে পরান্দা এবং চূড়ার সাথে লটকন বংশপরম্পরায় চলে আসছে। বিহারেও চমকদার লটকনের বেশ জনপ্রিয়তা দেখা যায়। পোশাকে বৈচিত্র্য আনার কারণে যা ধীরে-ধীরে বাংলার মহিলাদের ব্লাউজ বা কামিজের অ্যাক্সেসরিজ হিসাবে শোভা বাড়াচ্ছে।

এখন ঙীষণ ইন কাপড়ের পানের খিলির মতো লটকন৷ একসঙ্গে একাধিক এমন লটকন সেলাই হচ্ছে ব্লাউজের পিঠে৷এছাড়া চিরাচরিত লো-কাট চোলিতে ঘুংরু সমেত মেটালের নানান রঙের লটকন, নয়তো রংবেরঙের বিস দেওয়া লটকন তো আছেই৷ এই সব লটকন, উন্মুক্ত পিঠকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। ব্লাউজের হাতের কানায় ঝুমকো লাগানো লটকন, ঘাগরার ঠিক কোমরের নীচে ভেলভেটের সঙ্গে পুঁথি দিয়ে তৈরি লটকন, চুড়ির লটকন, গয়নাতে বিভিন্ন ডিজাইনের কান থেকে ঘাড় পর্যন্ত ঝোলা লটকন, সবই এখন ইন।

জুয়েলারি থেকে পোশাক-আশাক, সাজগোজের নানা পোশাকি-অ্যাক্সেসরিজ-এ তা ফিরে আসছে নবরূপে। ষাট থেকে সত্তর দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মালা সিন্হা, আশা পারেখ, মুমতাজ, শর্মিলা ঠাকুর-দেরও পোশাকে লটকন ব্যবহার করতে দেখা গেছে। চোলির পিছন দিক ক্রিসক্রস করা ডিজাইন আর তার মাঝে ঝুলন্ত ভেলভেটের লটকন, তাঁদের আরও আবেদনময়ী করে তুলত। যুগ যুগ ধরে পোশাকের এই অলংকরণ জয় করেছে দর্শকদের মন।

Latkan designs

আর আজ খ্যাতির শীর্ষে থাকা বিদ্যা বালন, প্রিয়ংকা চোপড়া, দীপিকা পাড়ুকোনের মতো নামিদামি অভিনেত্রীরাও, অচিরেই লটকনের ফ্যাশনে গা-ভাসিয়ে দিয়েছেন। বিয়েবাড়ির সাজ ঙোক বা সান্ধ্য পার্টিতে, ভারতীয় ট্র্যাডিশনাল পোশাকই অনেকে পরতে পছন্দ করেন৷ শাড়ি বা লেহঙ্গা চোলিই সেখানে নজরকাড়া চয়েস৷সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলাচ্ছে ব্লাউজ বা চোলির কাট৷কখনও রাফেলড স্লিভস, কখনও গ্লাস হাতা কিংবা বেল স্লিভস, কাট যা-ই হোক না কেন, ব্লাউজের ব্যাক কিন্তু আকর্ষণীয় করতে এখনও মেয়েদের লটকনই পছন্দ৷

এর কারণ হল ভারতীয় পোশাকের নিজস্ব পারস্পরিক ঐতিহ্য বজায় রাখতে, লটকনকে সুন্দর ভাবে ব্যবহার করা যায়। ব্লাউজের ব্যাক যেভাবে নানা বৈচিত্রে সেজে উঠছে, সেভাবে সামঞ্জস্য রেখে স্থান করে নিচ্ছে লটকন। পার্টি লুকের জন্য, সিকুইন্স বা এমব্রয়ডারি নকশার শাড়ি বা ঘাগরা চোলি— যে কোনও সাজকেই আরও একটু স্টাইলিশ আর সেক্সি করে তুলতে তাই  স্টাইলিশ লটকনের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

গহন অরণ্যের কোলে (Pench – মধ্যপ্রদেশ)

পেঞ্চ (মধ্যপ্রদেশ)

মধ্যপ্রদেশের দক্ষিণে সাতপুরা পর্বতমালার কোলে অবস্থিত পেঞ্চ ন্যাশনাল পার্ক। পেঞ্চের সংরক্ষিত এলাকা দিয়ে বয়ে গেছে পেঞ্চ নদী যার অনুসরণেই এই পার্কের নামকরণ। ১৯৬৫ সালে এটি অভয়ারণ্য ঘোষিত হয়। ১৯৭৫ সালে জাতীয় উদ্যানের মর্যাদায় উন্নীত হয় আর ১৯৯২ তে একটি ব্যাঘ্র সংরক্ষণাগার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। এখান থেকে ৮০ কিলোমিটারের দূরত্বে নাগপুর শহর। ভারতের সর্বত্র থেকে নাগপুরের রেল যোগাযোগ রয়েছে।

ব্যাঘ্র প্রকল্পের আয়ত্তে পার্কটিকে নিয়ে আসার পর বাঘের সংখ্যা এখানে বেড়ে প্রায় ৪০। Pench নদী এপ্রিলে শুকিয়ে গেলেও পার্কে বহু ঝরনা এবং নালা রয়েছে যেখানে বনের পশুরা এসে জল পান করে। লেপার্ড, বনবেড়াল, চিতল, সম্বর, বার্কিং ডিয়ার, নীলগাই, গউর, বন্য শূকর, অ্যান্টিলোপ, শ্লথ বেয়ার, হায়েনা, সজারু, উড়ন্ত কাঠবেড়ালি ইত্যাদি প্রায় ৩৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী জীবের দেখা পাওয়া যায় এই জঙ্গলে। ২১০ রকমের পাখির সন্ধান এপর্যন্ত এখানে পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে কয়েকটি হল ময়ূর, রেড ভেনটেড বুলবুল, কাক তিতির, ক্রিমসন-ব্রেসটেড বারবেট, ইন্ডিয়ান রোলার, পিনটেইল, শোভেলার ইত্যাদি। ১৩ রকমের সরীসৃপ রয়েছে এই জঙ্গলে। এই জঙ্গলের বৃক্ষরাজির মধ্যে টিক হচ্ছে সবচেয়ে দুর্লভ সম্পদ। এছাড়াও রয়েছে মোয়ান, মহুয়া, মোখা, তেন্দু, বিজা, গরাবি, বরাঙ্গা, পলাশ, বাঁশঝাড় ইত্যাদি বৃক্ষরাশি।

পেঞ্চ ন্যাশনাল পার্কটিতে দর্শনীয় স্থান রয়েছে সাতটি। এই সাতটি জায়গা ঘুরে নিলেই সম্পূর্ণ পার্কটির বন্যসম্পদ এবং এখানে বিচরণকারী পশু-পক্ষীর সঙ্গে আপনার পরিচয় হয়ে যাবে। প্রধান স্পটগুলি হল সীতাঘাট, আলিকাট্টা, চিণ্ডিমাত্তা রোড, বোধানালা রেঞ্জ, রাইয়াকাস্সা ওয়াচটাওয়ার দুব রোড এবং কালাপাহাড় ।

টুরিস্টদের জন্য পার্ক খোলা থাকে ১ অক্টোবর থেকে ৩০ জুন অবধি। বর্ষার সময় (জুলাই- সেপ্টেম্বর) পার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পার্ক খোলা থাকে সকাল ৬টা থেকে ১১টা এবং বিকেল ৩টে থেকে ৬টা।

কীভাবে যাবেন : হাওড়া থেকে ট্রেনে নাগপুর। গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেস, দুরন্ত, জ্ঞানেশ্বরী সুপার ডিলাক্স, হাওড়া-আমেদাবাদ এক্সপ্রেস সবই নাগপুর জংশনে দাঁড়ায়। নাগপুর থেকে গাড়ি ভাড়া করে পেঞ্চ ন্যাশনাল পার্কে পৌঁছোনো যায়। এছাড়াও ৩৫ কিলোমিটার দূরে রামটেক থেকে রোজের বাস সার্ভিস রয়েছে।

কোথায় থাকবেন : Pench টাইগার রিজার্ভে থাকার জন্য রয়েছে মধ্যপ্রদেশ পর্যটনের হোটেল কিপলিংস কোর্ট। নাগপুর থেকে গাড়িতে পিক-আপ ও ড্রপ-এর ব্যবস্থা করে পর্যটন দফতর।

যোগাযোগের ঠিকানা : www.mptourism.com কলকাতা অফিস- মধ্যপ্রদেশ পর্যটন, চিত্রকূট, রুম নম্বর-৭, ষষ্ঠ তল, ২৩০এ, এ জে সি বোস রোড, কলকাতা-২০, ফোন – ২২৮৭-৫৮৫৫, ২২৮৩-৩৫২৬, ৩২৯৭-১০০০।

সুভাষিণীর একটি দিন (শেষ পর্ব)

মুগের ডাল কোথায় আছে বার করে দাও তো দিদিভাই। এমনি করে আজ মহানন্দে সুভাষিণী রান্না করেন মুগের ডাল, পটলের তরকারি, পোস্ত, চাটনি—সবই নিরামিষ। মাছ উনি ছোঁন না। তবে আজ উনি মাছও রান্না করতে রাজি আছেন সংসারের সবার জন্য।

খেতে বসেছে ছেলেরা। পঁচাত্তর বছরের বৃদ্ধা পরিবেশন করছেন। অনেকদিনের পর বড়ো আনন্দে মন ভরে যাচ্ছে তাঁর। ‘মেজোখোকা, তোর জন্য আগে তুলে রেখেছি। তুই তো ঝাল খেতে পারিস না।’

“তুমি তাও এখনও মনে রেখেছ মা।”

‘মায়েদের সবই মনে থাকেরে। যার যা লাগে চেয়ে নিস।”

আজ যে একাদশী একথা তার আজ মনেই নেই। একসময় বড়োছেলে শুভ বলে, ‘তোমার কখন রান্না হবে মা?”

‘আমার এ বেলার খাওয়ার ব্যবস্থা কিছু নেই। একেবারে রাত্রে, আজ আমার একাদশী।’ ছেলেরা বলে আসার সময় তারা ফলমিষ্টি নিয়ে আসবে।

সংগীতা বলে, ‘চলো ঠাম্মা, তোমার ঘরে যাই। আমার স্নান হয়ে গেছে। তোমায় চা করে দিই। কতদিন তোমার ঘরে যাইনি। চা খাবার পর বাগানে গিয়ে কালকের ঝড়ে তোমার যে চাঁপাফুলের গাছটা পড়ে গেছে সেটা দুজনে তোলার চেষ্টা করব।’

আজ বাগানে ফুল তুলতে গিয়ে সুভাষিণী দেখেন ওঁর স্বামী প্রিয়তোষের হাতে লাগানো সেই চাপা গাছটি শিকড়-সহ মাটিতে উপড়ে পড়ে আছে। সেই থেকে মনটা খুব খারাপ হয়ে আছে সুভাষিণীর। বাড়ি করার পর এই মস্ত বাগানখানি যখন প্রিয়তোষ ফল ও ফুলের গাছে ভরিয়ে ফেলেছেন তখন এক বর্ষার দিনে অফিস ফেরত এই চাঁপা গাছটি হাতে করে বাড়ি ফিরলেন। সব কাজ ফেলে সন্ধ্যার মুখে দুজনে এই গাছটি লাগালেন গেটের মুখে। ঠাকুরঘরের পিছনে। আর গর্ত করার সময় প্রিয়তোষের হাতের আংটি খুলে জলে কাদায় কোথায় হারিয়ে গেল। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও পাওয়া গেল না সেই আংটি।

নাতনি-ঠাকুমা দুজনেই আপ্রাণ চেষ্টা করেন গাছটিকে দাঁড় করানোর। কিন্তু একি! শিকড়ের নীচে কী ওটা চকচক করছে। অনেক চেষ্টায় সংগীতা জল কাদায় মাখানো জিনিসটা তুলে আনে।

“দ্যাখো ঠাম্মা কী পেয়েছি— ভালো করে দ্যাখো।’

এত বছর পরে আংটিটি পেলেন তিনি। আজকের দিনটা সত্যিই তাঁর কাছে খুব সুন্দর আর পবিত্র। অনেকগুলি হারিয়ে যাওয়া জিনিস ফিরে পেলেন। তাঁর হারানো অধিকার আবার ফিরে পেয়েছেন। একান্ত আপন ছেলে-বউমার সঙ্গ পেয়েছেন। পরমপ্রিয় নাতি-নাতনিদের বুকে টেনে নিয়েছেন। আংটিটি হাতে করে বসে থাকেন সুভাষিণী। কত কথা আজ মনে পড়ছে তাঁর। প্রিয়তোষের জন্য মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল হঠাৎ। অতীতের পলি পড়া টুকরো টুকরো কত স্মৃতি মনে আসছে আজ, যা ছিল তাঁর কাছে বর্ণময় আর মনোরম। এই বাগানটি ছিল বলেই দশ দশটি বছর তিনি একা একা বাঁচতে পেরেছেন।

‘কী এত ভাবছ গো ঠাম্মা? তোমার চোখে জল কেন?’ সংগীতার ডাকে মিষ্টি হেসে ওর মুখের দিকে তাকান তিনি।

সংগীতা বলে, ‘আংটিটা দাও ঠাম্মা। কাদামাটি ধুয়ে নিয়ে আসি। আর এবার তোমার ঘরে চলো। মা-কাকিমাদের নামতে এখন অনেক দেরি। আর আমিও তো কিছু খাব না। এখ ন তোমার সাথে অনেক গল্প করব। আজ আমায় কয়েকটা রান্না শিখিয়ে দিতে হবে।

‘রান্না শিখে এখন কী করবে ভাই? আগে পড়াশোনা শেষ করো। যদি শেখার ইচ্ছা থাকে রান্না শিখতে ক’দিনই বা লাগবে?”

“মানস বলে, আমার দ্বারা নাকি কিচ্ছু হবে না।’ বলেই লজ্জা পেয়ে যায় সংগীতা।

‘মানস, সে আবার কেরে দিদিভাই!”

“আগে বলো কাউকে এখন বলবে না কিছু। তাহলে সব বলব তোমায়।”

ওর কথায় সব বুঝতে পারেন সুভাষিণী। হেসে ওঠে দুজনেই।

(সমাপ্ত)

সাইকো-সোমাটিক ডিসঅর্ডার

আমাদের শরীর ও মন অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত৷ একটিকে ছাড়া অপরটির পরিচয় দেওয়া যেমন অসম্ভব, তেমনি এদের একটি কখনওই ভালো বা সুখী থাকতে পারে না অপরটি না হলে। অর্থাৎ শরীর ভালো না থাকলে মন কখনওই ভালো থাকতে পারে না এবং এর বিপরীতটাও ঠিক।

যে-অসুখে শরীর ও মন দুই-ই জড়িয়ে থাকে তাকে বলে সাইকো-সোমাটিক ডিসঅর্ডার। এই অসুখ সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে । প্রথম ধরনটিতে কোনও ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক দু’রকমেরই রোগ হয় এবং একে অপরের লক্ষণগুলি ও চিকিৎসা জটিল করে তোলে।

যেমন ধরুন কোনও মহিলার ওসিডি (অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার) আছে, তিনি সারাক্ষণ জিনিসপত্র ধোওয়া-মোছা না করে থাকতে পারেন না। আবার তারই আথ্রাইটিস আছে। দ্বিতীয় ধরনটিতে রোগীর কোনও শারীরিক রোগের বা তার চিকিৎসার সরাসরি ফলস্বরূপ, কোনও সাইকিয়াট্রিক রোগ দেখা দেয়। ক্যানসার বা তার চিকিৎসার ফলে যেমন ডিপ্রেশন দেখা দিতে পারে।

তৃতীয় ও শেষ ধরনের সাইকো-সোমাটিক অসুস্থতার নাম সোমাটোফর্ম ডিসঅর্ডার, যেখানে মানসিক অসুস্থতার প্রকাশ দেখা যায় কোনও শারীরিক অসুস্থতার মধ্যে দিয়ে। অর্থাৎ রোগের শারীরিক লক্ষণগুলির কারণ আসলে মানসিক ফ্যাক্টর, শারীরিক নয়। সাইকো-সোমাটিক অসুখগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়ংকর।

শুরুতেই কিছু অভিজ্ঞতার কথা জানাই। এক মহিলা, মুখের ভেতরে আলসার নিয়ে বহু বছর ভুগেছেন। তিনি রোগটি সারানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। অসংখ্য ডাক্তার দেখিয়েছেন এবং তাদের ট্রিটমেন্ট ভালো ভাবে ফলো করেছেন, কিন্তু কোনও ফল পাননি। ধীরে ধীরে তার ব্যাক-পেইন দেখা দিল যার জন্য তাকে বহু রকম টেস্ট করাতে হয়েছে। রোগের কোনও শারীরিক কারণ ধরা না পড়ায় তাকে একজন সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে রেফার করা হল। তিনি সোমাটোফর্ম ডিসঅর্ডার ট্রিটমেন্ট করার ফলে তার পিঠে ব্যথা এবং মুখের আলসার, দুটোই সেরে গেল।

নানা ধরনের সোমাটোফর্ম ডিসঅর্ডার

. বডি সিসমর্থিক ডিসঅর্ডার শরীরের খুব সামান্য অথবা একেবারে কাল্পনিক কোনও খুঁত নিয়ে প্রচণ্ড বাতিক দেখা দেয়, যেমন ধরুন মুখের ত্বকের কুঞ্চন যাকে রিংকলস বলে বা ছোটো স্তন অথবা শরীরের যে-কোনও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাপ বা গঠন নিয়ে মানসিক বিকারের ফলে দেখা দেয় সিভিয়ার অ্যাংজাইটি এবং রোগীর দৈনন্দিন জীবনযাপনে স্বাভাবিক কাজকর্মের ব্যাঘাত ঘটে।

. কনভালশন ডিসঅর্ডার এক্ষেত্রে রোগীর এমন কিছু নিউরোলজিকাল সিম্পটম দেখা দেয় যার কোনও শারীরিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। হয়তো দেখা যাবে শরীরে খিঁচুনি, অন্ধত্ব বা এমনকী প্যারালিসিস হয়ে যাচ্ছে কোনও শারীরিক কারণ ছাড়াই।

. হাইপোকনড্রিয়াসিস কোনও সিরিয়াস অসুখ হওয়ার ভয় নিয়ে বাতিক বা বিকার। এই অসুখের রোগীরা শরীরের সাধারণ কোনও প্রক্রিয়া বা খুব সামান্য কোনও রোগের লক্ষণগুলিকেও ভীষণ গুরুতর কিছু বা জীবনহানিকর বলে ভেবে স্থির বিশ্বাস করতে শুরু করে দেন। যেমন ধরুন এই ধরনের কোনও রোগীর বাঁধাকপি খেয়ে তাৎক্ষণিক গ্যাস হওয়ার কারণে পেটে ব্যথা শুরু হয়েছে, কিন্তু তার স্থির বিশ্বাস যে তার কোলন ক্যানসার হয়েছে।

. সোমাটাইজেশন ডিসঅর্ডার এই অসুখে রোগীর মাথার যন্ত্রণা, পেটখারাপ বা প্রিম্যাচিওর ইজ্যাকুলেশনের মতো শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় যার কোনও শারীরিক কারণ নেই।

সোমাটোফর্ম ডিসঅর্ডারগুলির প্রকৃত কারণ এখনও আমাদের কাছে অজানা বললেই চলে। হয়তো এর কারণ কোনও জোরালো অনুভূতি যেমন উদ্বেগ, শোক, কষ্ট, আঘাত, অপব্যবহার, চাপ, অবসাদ, ক্রোধ বা অপরাধবোধ। রোগী কিন্তু বুঝতে পারে না যে এই অনুভূতিই তার শারীরিক সমস্যার কারণ। তাই বাড়ির লোকের বোঝা প্রয়োজন যে উনি এই শারীরিক সিম্পটমগুলি ইচ্ছাকৃত সৃষ্টি করছেন না বা বাড়িয়ে দেখাচ্ছেন না। এগুলি বাস্তব কিন্তু ঘটছে মানসিক কারণে।

সোমাটোফর্ম সিম্পটমগুলির মধ্যে রয়েছে হজমের সমস্যা, মাথাব্যথা, যন্ত্রণা, অবসন্নতা, মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকের সমস্যা এবং সেক্সুয়াল অসুবিধা। বছরে বছরে এর তীব্রতার হেরফের হতে পারে কিন্তু কোনও একটা সময় দেখা যায় সিম্পটম নেই। এমন ঘটনা বিরল। বহু ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, যাদের সেক্সুয়াল, ইমোশনাল বা ফিজিকাল অ্যাবিউসের অথবা শৈশবে কঠিন অসুখের হিস্ট্রি আছে অথবা যাদের অনুভূতি প্রকাশের ক্ষমতা খুবই সীমিত তারা এই রোগে আক্রান্ত হন সবচেয়ে বেশি।

সাইকো-সোমাটিক ডিসঅর্ডার ট্রিটমেন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ এতে দৈনন্দিন জীবনযাপনের বহু দিক ব্যহত হয়ে পড়ে। কাজের ক্ষতি হয়, সম্পর্কগুলোর ক্ষতি হয়, লাইফের কোয়ালিটি কমে যায়, বড়োসড়ো ডিপ্রেশন হতে পারে, আত্মহত্যার ভাবনা বা প্রচেষ্টা দেখা দেয়— তাই আবার বলছি ট্রিটমেন্ট খুবই প্রয়োজনীয়। আপনার কোনও ভালোবাসার, কোনও কাছের মানুষকে এরকম সিম্পটমে ভুগতে দেখলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কোনও ডাক্তার বা সাইকোলজিস্টকে দেখাতে অবশ্যই অনুরোধ করবেন।

সুভাষিণীর একটি দিন (পর্ব ০২)

এদের কথাবার্তার মাঝে ওদের মা সুভাষিণী এক সময় এসে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নারে, সরমা তেমন মেয়ে নয়। হয়তো কোনও অসুবিধায় পড়েছে। আটকে গেছে কোনও কারণে।’

‘তুমি এখন ঘরে যাও মা। আমরা মরছি নিজেদের জ্বালায়, তোমার আর কী? বেশ তো আছ নিজের নিয়ে।’

‘দেখ বড়োখোকা, একদিন এই আমিই তো সারা সংসারটা টেনেছি। তোদের সকলকে মানুষ করেছি। তারপর আসা-যাওয়া তো নিত্যদিন। সব তো একা এক হাতেই সামলেছি।’ ‘এই শুরু হল’, বলে মেজোবউ। তা আপনিও তো একটা দিন করে দিতে পারেন মা। আমাদেরও তো ইচ্ছে হয় আপনার হাতের রান্না খেতে। আমরা এদিকটা তাহলে সেরে নিতে পারি।’

‘হ্যাঁ মা, তুমি ব্যবস্থা করো যা হোক করে। অনেকদিন তোমার হাতের রান্না খাইনি।’ বলে ছোটোছেলে সমু।

সবার অনুরোধে আজ সুভাষিণী রান্না করবেন ঠিক হয়েছে। অনেক-অনেকদিন তিনি এ ঘরে ঢোকেননি। সে প্রায় বছর দশ আগের কথা। সবে কর্তা দেহ রেখেছেন। ছেলেদের বিয়ে থা হয়ে গেছে। মেয়েরা সব শ্বশুরবাড়ি করছে। পিঠের দিকে হঠাৎ একটা সাদা দাগ দেখা গেল সুভাষিণীর। বড়োবউমা সেটা আবিষ্কার করলে। সারা বাড়িতে হইহই পড়ে গেল। ভাগ্যিস মেয়েদের বিয়ে থা হয়ে গেছে। নয়তো কী হতো, অস্থির সুভাষিণীর বউমা।

ছেলেরা ডাক্তার নিয়ে এল। তিনি সব দেখে বললেন, এটি কুষ্ঠ কিংবা শ্বেতি নাও হতে পারে। উনি নিশ্চয়ই কোনও এক সময় অসুস্থতার জন্য প্রচুর ওষুধ খেয়ে থাকবেন। তার বিষক্রিয়াও হতে পারে। তা যাই হোক, ধৈর্য ধরে ওষুধ খেতে হবে ওনাকে।

মন থেকে তবু ওদের শঙ্কা গেল না। ভরা সুখের সময় সুভাষিণী নির্বাসিতা হলেন নীচের তলার একটি কোণের ঘরে, যার পাশে ঠাকুরঘর। ছেলেরা বাধা দেবার চেষ্টা করেছিল। ‘আমরা সবাই উপরে থাকব আর মা একা কী করে নীচে থাকবে? রোগ অসুখ কার না হয়। আজ যদি আমাদের কারও হয়?’ কিন্তু ওদের হার মানতে হয়েছে সহধর্মিণীদের কাছে।

সুভাষিণীর অনুগত বউমারা ধীরে ধীরে দুর্বিনীতা হয়ে গেল। নাতি-নাতনিগুলি যেগুলি ছিল ওদের ঠাকুমার প্রাণস্বরূপ, তাদের কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হল না সেদিন থেকে। আদরের নাতি-নাতনিদের না দেখে মরায় বাঁচায় হয়ে রইলেন তিনি। জানালার রড ধরে দাঁড়িয়ে থাকতেন কখন ওরা স্কুল যাবে। কখন ওদের দেখতে পাবেন এই আশায় ৷ তারপর রোগ সেরে গেছে একদিন। দাগ মুছে গেছে। কিন্তু মন থেকে দাগ মুছতে পারেনি সুভাষিণীর পুত্রবধূরা। সুভাষিণীও কতকটা অভিমানবশত স্বেচ্ছানির্বাসন নিয়েছেন। নিজেই রান্না করে খান। ছেলেরা খোঁজখবর নেয়। রান্নার মেয়ে সরমা বাজারহাট যা লাগে এনে দেয় সময়মতো। একা বিধবা মানুষের আর কতই বা লাগে । আজ একাদশী। একথা এদের কারও জানার কথা নয়। এক সরমা থাকলে সেই এনে দিত ফলমিষ্টি। তা যাই হোক এবেলা তিনি কিছু খাবেনও না।

গ্যাসে একটি বড়ো হাঁড়ি বসিয়েছেন সুভাষিণী। অনেকদিনের পর আজ সবার অনুরোধে তিনি রান্নাঘরে ঢুকেছেন। অথচ এই রান্নাঘরে তাঁর দিনের বারো আনা সময় কেটে যেত। নিজের হাতে মশলা বাটা, কুটনো কাটা সবই। ছ-ছটি ছেলেমেয়ে, কর্তা নিজে। তারপর তো দেওর, ননদ, ভাগনে, ভাগনি লেগেই থাকত বাড়িতে। রান্নাঘরের কোথায় কী আছে এখন আর তিনি কিছুই জানেন না। নাতনি সংগীতা এসেছে ঠাকুমাকে সাহায্য করার জন্য। আজ অনেকদিন পরে ওকে দেখলেন সুভাষিণী একেবারে কাছের থেকে। চমৎকার দেখতে হয়েছে তাঁর বড়ো নাতনিটি। এখন কলেজে পড়ে। এই নাতনিটির ঠাকুমার কাছে ছাড়া ঘুম হতো না একসময়।

(ক্রমশঃ…)

ঘামের সমস্যা এবং চুল পড়ার সমস্যায় আমি জেরবার

আমি ২৫ বছর বয়সি চাকুরিরতা। আমি অসম্ভব ঘামি। ঘামের ফলে গায়ে Bad smell হয়। ভিড়ের মধ্যে থেকে আমার কাজ করতে খুব অসুবিধা হয়। আত্মবিশ্বাসও ক্রমশ হারিয়ে ফেলছি। কী করব? এছাড়াও আমার চুলের গোড়া খুব আলগা হয়ে যাচ্ছে। অলিভ অয়েল কি চুলের গোড়া শক্ত করে? বাড়িতে কন্ডিশনার তৈরির সহজ উপায় কিছু আছে কি?

গরম মানেই ঘাম, দুর্গন্ধ এবং অস্বস্তি। শরীরের তাপমাত্রাকে স্বাভাবিক রাখতে ঘাম হয়। বেশি অথবা কম ঘামাটা নির্ভর করে বাইরের তাপমাত্রা এবং শারীরিক প্রক্রিয়ার ওপর। সুতরাং ঘাম বন্ধ করার সম্ভবত কোনও উপায় নেই। কিন্তু ঘামের দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকাটা খুবই জরুরি। সবসময় সুতির পোশাক পরুন যাতে ঘাম হলেও তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায় এবং দুর্গন্ধ বেরোনোর সম্ভাবনাও অনেক কমে যায়। লেবুর সাথে মধুর সংমিশ্রণ ঘামের Bad smell দূর করার খুবই কার্যকরী উপাদান। একটি পাত্রে হালকা গরমজলের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ মধু আর ৩ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণে একটি পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত স্থানগুলি এবং শরীরের যেখানে যেখানে বেশি ঘাম হয় সেই স্থানগুলি ভালো করে রিন্স করুন এবং পরে শুকনো করে মুছে নিন। এতে ঘাম হওয়া অনেক কমে যাবে। এছাড়াও কমলালেবুর খোসা স্নানের জলে রেখে দিন এবং সকালে ওই জল দিয়ে স্নান সারুন। গরমের সময় সকালে অন্তত দু’বার স্নান করুন। স্নানের জলে পছন্দের অ্যারোমাথেরাপি অয়েলের কয়েক ফোঁটা ফেলে দিয়ে স্নান করতে পারলে ভালো হয়। পার্সে একটা ছোটো ডিয়োড্রেন্ট সবসময় রাখুন এবং দিনের বেলায় অন্তত তিন-চারবার করে লাগান। এতে নিজেকে তরতাজা যেমন লাগবে তেমনি আত্মবিশ্বাসও ফিরে পাবেন।

শরীরের ভিতর কোনও সমস্যা থাকলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়। আপনি এমন কোনও স্যালনে যান যেখানে চুলের বিশেষজ্ঞ নিয়মিত ভিজিট করেন। তিনিই সবকিছু পরীক্ষা করে আসল কারণ এবং তার চিকিৎসার উপায় বলে দিতে পারবেন। এর সঙ্গে সঙ্গে ডায়েটে প্রোটিন এবং ভিটামিন ‘ই’-যুক্ত আহার যেমন দুধ, দই, অঙ্কুরিত ছোলা, বাদাম, ডিম, মাছ ইত্যাদিও শামিল করুন। অলিভ অয়েলও স্ক্যাল্পের জন্য খুবই ভালো। এতে চুলের গোড়ায় নিউট্রিশন ঢোকে। চুলের লেংথ-এর রুক্ষতা দূর করতে একটি প্যাক বানিয়ে নিতে পারেন। ১টি ডিমে অলিভ অয়েল, লেবুর রস এবং ইউক্যালিপটাস অয়েলের কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে নিন এবং এই মিশ্রণ চুলে লাগান। কয়েক মিনিট পর চুল শ্যাম্পু করে নিন।

সুভাষিণীর একটি দিন (পর্ব ০১)

পরিস্থিতির ফেরে হঠাৎই পরিবারে আবার অপরিহার্য হয়ে ওঠেন একদা ব্রাত্য হয়ে যাওয়া সুভাষিণী। খুঁজে পান হারানো সময়গুলো এবং এমন এক বহুমূল্য সম্পদ, যা জীবন থেকে হারিয়ে গিয়েছিল বহুদিন।

তিনদিন টানা বৃষ্টির পর আজ কমেছে। রোদ দেখা দিয়েছে বাড়ির আনাচেকানাচে। সকলের আগে এ বাড়িতে ওঠে ছোটোবউ মাধবী। কারণ তার ছেলেকেই স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি করিয়ে দিতে হয়। বারোমাস তার মর্নিং স্কুল।

এরপর একে একে বাড়ির অন্যেরা উঠবে। ওর শাশুড়ি অবশ্য অনেক আগেই ওঠেন। খুব প্রয়োজন না থাকলে তিনি ভিতরের দিকে আসেন না। এই সময়টা তিনি ‘ঠাকুর গোপালকে’ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

লোকে বলে, সারাদিন কেমন যাবে তা বোঝা যায় দিনের শুরু দেখেই। বেশ তো রোদ ঝলমলে সকাল আজ। কিন্তু রাঁধুনি বা সারাদিনের কাজের মেয়ে কেউ তো এখনও এল না। প্রতিদিন রান্নার মেয়ে সরমা এসে সবাইকে চা দেয়। আজ এত দেরি করছে কেন?

একে একে সবাই উঠে এসেছে মাধবীর শোরগোল শুনে। এখন এতগুলি লোকের চা-ই বা করে কে? গতকালের বাসনও তো কম নয়। সেগুলিই বা মাজে কে? তারপর অন্যান্য কাজ তো আছেই। কে করবে এত সব? গালে হাত দিয়ে বসে পড়ে বড়োবউ। সে বলে, ‘তাইতো এত দিন জলে ভিজে এলি, আর আজকের দিনেই নেই। দুটোর একটাও তো আসতে পারত। এখন কী হবে?’

বড়োকর্তা বলে, ‘বাসনগুলো বরং কুয়োতলাতে নামিয়ে দাও। আমি আর সমু মিলে মেজে ফেলি। তোমরা কেউ চা-টা করার ব্যবস্থা করো।”

বড়োবউ বলে, ‘তারপর এতগুলো লোকের রান্না করবে কে? আমার খুব মাথা ধরেছে। মেজোবউয়ের শরীর তো গতকাল থেকেই খারাপ। সেজোবউয়ের তো এখন বেডরেস্ট চলছে, আর ছোটোবউ সে তো কখনও এসব কাজ করে না। তারচেয়ে আজ তোমরা হোটেলে খাওয়ার ব্যবস্থা করো। যে যার খেয়েদেয়ে অফিসে চলে যাও।’

‘ছেলেমেয়েদের কী হবে? ওরা কোথায় খাবে? তোমরাই বা কী করবে? তার চেয়ে ভাতটা বসিয়ে দাও কেউ একজন। ফ্রিজে তো মাছ আছে। স্রেফ ঝোল-ভাত। মা তো নিজেই নিজেরটা করে নেন।’ কথাগুলি বলে মেজোভাই সুরেন। মেজোবউ বিনতা বলে, ‘তা সরমার কামাই করার মতো কী হল? বলেও তো যেতে পারত।’

‘হয়তো শরীর খারাপ হয়ে থাকবে। জলে ভিজে ভিজে এসেছে তো এ ক’দিন।

‘কাজের মেয়ের হয়ে কথা বোলো না তো। আর চাপা, সে-ই বা এল না কেন? আসলে আগে থেকে ঠিক করে আসেনি। জব্দ করছে।’ সেজোবউ কথাগুলি বেশ ঝাঁঝের সাথেই বলে। এভাবে কাজের কাজ কিছুই হয় না। বেলা ক্রমশ বেড়েই চলে।

মেজোবউ অতিকষ্টে এতগুলি লোকের চা করে এনেছে। সবারই এক চিন্তা, এত কাজ হবে কীভাবে। চার জনের সবারই দুটি করে ছেলেমেয়ে। সেজোবউয়ের তো আবার হবে। সেজোভাই শুভ বলে, ‘বড়দা তুমিই বরং ভাতটা বসিয়ে দাও। ভাতের সঙ্গে কয়েকটা আলু ছাড়িয়ে দিয়ে দাও। আমি মশলা বেটে দিচ্ছি। তারপর মাছের ঝোলটা যা হোক করে হয়ে যাবে। নুন একটু দেখেশুনে দিতে হবে। সত্যি এবাড়ির বউগুলির আর রান্নার ক্ষমতা নেই। বরং আর একটি লোকের ব্যবস্থা করো।’

(ক্রমশঃ…)

ও মাই গড ২ এবং আক্কি-রসায়ন

অবশেষে তারিখ ঘোষণা করা হল৷ ও মাই গড ২ মুক্তি পেতে চলেছে আগস্টের ১১ তারিখ৷এমন একটি ঘোষণারই পোস্ট দিয়েছেন একদা রোড টু সঙ্গম খ্যাত ছবির নর্দেশক আমিত রাই৷ তিনিই  ও মাই গড ২ ছবির লেখক ও পরিচালক৷ওদিকে সম্রাট পৃথ্বিরাজ ছবির নির্দেশক চন্দ্রপ্রকাশ দ্বিবেদি, হলেন ও মাই গড ২-এর ক্রিয়েটিভ প্রোডিউসার৷

যদিও বক্স অফিসে সময়টা একদম ভালো যাচ্ছে না অক্ষয় কুমারের, তবু এই সময়েই মুক্তি আসন্ন সিকুয়েল ছবি O my God 2-এর৷ ‘সেলফি’, ‘রামসেতু’, ‘রক্ষাবন্ধন’, ‘সম্রাট পৃথ্বীরাজ’-এর মতো চর্চিত ছবি পরপর ফ্লপের ব্যর্থতা ভুলে আপতত ও মাই গড-এর ওপর আশা রাখছেন অক্ষয়।

এর আগে, ছবি পোস্ট করে ‘ওএমজি ২’-এ তার অভিনয় করার কথা ঘোষণা করেছিলেন অভিনেতা অক্ষয় কুমার স্বয়ং। ছবিতে অন্যান্য চরিত্রে দেখা যাবে ইয়ামি গৌতম, পঙ্কজ ত্রিপাঠীকে। ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছিলেন অভিনেতা– ‘আপনাদের আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছা চাই OMG2-এর জন্য।’ ক্যাপশনে তিনি উল্লেখ করেন এক প্রয়োজনীয় সামাজিক বার্তা দেবে এই ছবি। সম্প্রতি লঞ্চ হল এই ছবির নতুন পোস্টার৷ ছবিতে শিবকে যে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা পোস্টার এবং ক্যাপশনেই স্পষ্ট। বলিউডসূত্রে খবর, যৌন শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করবে এই ছবি।

২০১২ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘ওহ মাই গড’, বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পায় এই ছবি। ১১ বছর পর ছবির সিকুয়েল নিয়ে হাজির হচ্ছেন অক্ষয় কুমার। পোস্টারে দেখা মিলল মহাদেবের রুদ্ররূপের। মাথায় জটা, হাতে ডমরু, সারা গায়ে মাখা ছাইভস্ম, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা৷তাণ্ডব ভঙ্গিমায় রয়েছেন মহাদেব। ছবির পোস্টারে সামনে এনে অক্ষয় জানান, ‘আমি আসছি… আপনরাও আসুন, ওহ মাই গড ২ দেখতে আগামী ১১ই অগস্ট।’

হলিউডের বিখ্যাত ছবি The Man Who Sued God-এর থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই তৈরি হয়েছিল ‘ওহ মাই গড’। সেখানে অক্ষয়ের সঙ্গে দেখা মিলেছিল পরেশ রাওয়ালের, এবার জুটি বদল হয়েছে। ছবির সিকুয়েলে অক্ষয়ের সঙ্গে থাকছে পঙ্কজ ত্রিপাঠি। গত বার শ্রীকৃষ্ণ হিসাবে দেখা মিলেছিল আক্কির, এবার শিব।‘ওহ মাই গড ২’-এ দেখা মিলবে ইয়ামি গৌতম ছাড়াও, ‘রামায়ণ’ খ্যাত অভিনেতা অরুণ গোয়েলেরও।আবারও রামের চরিত্রেই থাকছেন তিনি।

আরও একটা বিষয় ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় সকলের নজর কেড়েছে। তা হল ‘ও এম জি ২’-এর যে-পোস্টার অক্ষয় কুমার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে, তাঁর গায়ের রঙ নীল।আর বড়ো বড়ো চুল৷ লুক নিয়ে বরাবরই এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করেন বলিউডের খিলাড়ি। এবারও তিনি নতুন ছবিতে নতুন লুকে ধরা দিয়েছেন। আর তা দেখে উচ্ছ্বসিত অনুরাগী থেকে নেট নাগরিকরা। কেউ কমেন্টে লিখেছেন, ‘হর হর মহাদেব’। আবার কেউ লিখেছেন, ‘আমরা সকলে অক্ষয় কুমারের সঙ্গে রয়েছি’।

২০১২-তে মুক্তি পাওয়া ‘ও এম জি’ দর্শককে প্রভাবিত করেছিল। এই ছবিতে অক্ষয় কুমার শুটিং শুরু করেছিলেন উজ্জয়নীতে।সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে,  ‘বচ্চন পাণ্ডে’, ‘সম্রাট পৃথ্বীরাজ’ দুটি ছবিই বক্স অফিসে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। ‘সম্রাট পৃথ্বীরাজ’-এর ব্যর্থতার দায় আবার পুরোটাই অভিনেতার উপর চাপিয়েছেন প্রযোজক আদিত্য চোপড়া। তা নিয়েও কম বিতর্ক তৈরি হয়নি। তাই বক্স অফিস কালেকশনের দিক থেকে অক্ষয় কুমার বর্তমানে কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছেনই বলা যায়। দেখা যাক শিব সত্যিই অক্ষয় কুমারের সহায় হন কিনা OMG 2 ছবিটি রিলিজ করার পর৷

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব