প্রাপ্য সম্পত্তির সমস্যা ও সমাধান

কথায় বলে, বিচক্ষণ-বিবেচক লোকের সমস্যা কম। অর্থাৎ, যে-ব্যক্তি ভবিষ্যতের কথা ভেবে আগাম পরিকল্পনামাফিক কাজ করে রাখেন, তিনি অনেকটাই সমস্যামুক্ত থাকেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল এই যে, সুবিবেচক মানুষের সংখ্যা খুব বেশি নয়।

উত্তরাধিকারীদের জন্য গৃহকর্তা কিংবা গৃহকর্ত্রী যদি তাঁর জীবিতাবস্থায় বিষয়সম্পত্তি কিংবা টাকাপয়সার প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র তৈরি না করে রাখেন, তাহলে সমস্যা জট পাকাবেই। আর যদি সম্পত্তি এবং অর্থের একাধিক দাবিদার থাকে, তাহলে সমস্যা ঝগড়া-মারামারি থেকে খুনোখুনি পর্যন্ত যে গড়াতে পারে, এমন উদাহরণ পাওয়া যাবে অসংখ্য। প্রায় প্রতিদিনই এরকম ঘটনার খবর আমরা পাই নিউজ চ্যানেল কিংবা খবরের কাগজের মাধ্যমে। আর যদি সমস্যা মারামারি কিংবা খুনোখুনি পর্যন্ত না-ও গড়ায়, তাহলেও মনোমালিন্য থেকে সম্পর্ক নষ্ট, এমনকী আর্থিক এবং মানসিক ক্ষতির শিকার হতে পারেন উত্তরাধিকারীরা।

অবশ্য, সমস্যা যেমন আছে, সমাধানের পথ নিশ্চয়ই আছে। কারণ, ওই যে কথায় বলে, যে- সমস্যার সমাধান নেই, সেটা কোনও সমস্যাই নয়। অতএব, সমস্যার সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং সাহায্য নিতে হবে। আর এই বিশেষজ্ঞ হলেন আইনজীবী। সমস্যা যতই গভীর হোক না কেন, আইনের পথ খোলা আছেই। তবে সতর্ক থাকলে সহজে সমস্যার সমাধান করা যাবে। এই সতর্কতার মধ্যে রয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা।

এছাড়া গৃহকর্তা কিংবা গৃহকর্ত্রী, অর্থাৎ যার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে আপনি বিষয়সম্পত্তির অধিকারী হবেন, তাঁর সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রেখে চলা, নমিনি হিসাবে নিজের নাম নথিভুক্তিকরণের অনুরোধ, প্রত্যেকটি আইনি কাগজপত্র কোথায় তিনি রাখছেন তা জেনে রাখা ইত্যাদি।

আসলে এসব সতর্কতা সমস্যা কমানোর অন্যতম পথ। এছাড়া আর যা করা প্রয়োজন তা হল, গৃহকর্তা কিংবা গৃহকর্ত্রী যদি পেনশনার হন, তাহলে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ফেলে রাখবেন না, প্রতি মাসের পেনশনের পুরো টাকাটাই তুলে রাখবেন। নয়তো, পেনশনারের মৃত্যুর পর তাঁর অ্যাকাউন্টে জমানো টাকা তুলতে সমস্যা হবে। আর এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার অন্য একটি পথও খোলা আছে। পেনশনারের সঙ্গে যদি জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট করে রাখেন তাঁর নমিনি, তাহলে পেনশনারের মৃত্যুর পর নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা খুব সহজেই জমা পড়ে যাবে ওই জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট-এ। এর জন্য অবশ্য পেনশনার-এর মৃত্যুর পর তাঁর ডেথ সার্টিফিকেট-এর ফোটোকপি এবং নাম পরিবর্তনের জন্য একটি আবেদনপত্র জমা দিতে হবে নির্দিষ্ট ব্যাংকে।

যিনি সম্পত্তি এবং টাকাপয়সার মালিক, তাঁর যদি কোথাও ধারবাকি থাকে কিংবা আয়কর জমা না দেওয়া থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডেথ সার্টিফিকেটের ফোটোকপি জমা দিন নির্দিষ্ট দফতরে। এতে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত বকেয়া আয়কর এবং ঋণের সুদ বহন করতে হবে, এর বেশি নয়।

তবে শুধু আয়কর এবং ঋণ মুকুবের ক্ষেত্রেই নয়, উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির মালিকানা পাওয়ার জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মৃত ব্যক্তির ডেথ সার্টিফিকেট কর্পোরেশনে জমা দিয়ে সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনের জন্য (নাম পরিবর্তন) আবেদন করুন। তবে এক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীর প্রমাণপত্রও জমা দিতে হবে।

ইন্ডিয়ান আউটফিট Party wear

বাহারি সব ডিজাইনের কুর্তি কামিজ শুধু ক্যাজুয়াল পোশাক হিসেবেই নয়, সান্ধ্য পার্টিতেও প্রাধান্য পাচ্ছে ব্যাপকভাবে। পরিধেয় পোশাকের ধরনে নতুনত্ব আনলে যেমনটি ভালো লাগবে নিজের, তেমনি অন্যদের চোখেও হয়ে ওঠা যায় আকর্ষণীয়। ভদ্র-নম্র পোশাক হিসাবে গোটা উত্তর ভারতে লম্বা ঝুলের কামিজ ও সালোয়ার বা পালোজো স্যুটের জয়জয়কার৷ কাপড়ের ধরন ও প্যাটার্নভেদে বিভিন্ন দাম পড়ে এই সব পোশাকের। ডিজাইনাররা নিজস্ব পছন্দ এবং তরুণীদের কথা মাথায় রেখে, নিয়ে এসেছেন বিভিন্ন মনমাতানো ডিজাইনের কুর্তি আর কামিজ।

সালোয়ার স্যুটের সুন্দর মার্জিত শৈলী চিরকালই ফ্যাশনেবল। নরম আরামদায়ক ফ্যাব্রিক, সুন্দর কাট দ্বারা আকর্ষণীয় করা হয়েছে এই সব পোশাককে। কখনো মাল্টিকালার ফ্লাওয়ার মোটিফ,কখনও প্রিন্টেড বা ফাইন এমব্রয়ডারি করা ইয়োক বা হেমলাইন। স্টোন ফিটিং-সহ থ্রি-কোয়ার্টার হাতা। যেন হাজারো রঙের সংযোজন ঘটেছে এই সব পোশাকে৷

বিয়েবাড়িতেও সালোয়ার স্যুট খুবই মানানসই৷ এই পোশাক পরতে চাইলে, সবচেয়ে ভালো মানাবে সিল্কের কুর্তা আর বেনারসি দুপাট্টার কম্বিনেশন। সিল্ক কুর্তার সঙ্গে মানিয়ে যায় যে-কোনও উজ্জ্বল রঙের  দুর্দান্ত একটি বেনারসি দুপাট্টা৷ সুবিধে হচ্ছে, বাঙালিদের বাড়িতে বেনারসি এক-আধটা পাওয়া যাবেই। অনেক সময় মা-দিদিমাদের পুরোনো বেনারসিও অযত্নে পড়ে থাকে আলমারির এক কোণে, কোনওটা হয়তো পিঁজে গিয়েছে, কোনওটার স্রেফ পাড়টুকুই ভালো আছে। সেই শাড়িগুলিকে কাজে লাগানোর একটা চেষ্টা করে দেখাই যায়৷
এমন অনেক ডিজাইনার আছেন, যাঁরা পুরোনো বেনারসির পাড় বা আঁচলটুকু দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে আপনার জন্য তাক লাগানো পোশাক বানিয়ে দিতে পারেন। এমনি পরলে যে-শাড়ি পিঁজে যাচ্ছে, সেই শাড়ির ভালো দিকটুকু কেটে নিয়ে খুব ভালো মানের লাইনিং লাগিয়ে আস্ত কুর্তা তৈরি করে নেওয়া সম্ভব। কারুকাজ করা আঁচল দিয়ে বানানো যায় স্কার্ফ, স্রেফ পাড়টুকু খুলে নিয়ে অন্য কোনও সলিড কালারের শাড়িতে লাগিয়ে নিন – চমৎকার দেখাবে!

যেহেতু আজকাল কামিজের কারিগরি তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতোই সুন্দর, তাই এর সঙ্গে একগাদা গয়না পরে পোশাকের সৌন্দর্যটা নষ্ট করার মানেই হয় না! যে কোনও একটি তাক লাগানো গয়না বেছে নিন। তা চোকার হতে পারে, হতে পারে কানের ভারী দুল বা হাতের ব্রেসলেট। মেক-আপ করুন পোশাকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। লিপস্টিক, আইশ্যাডো বা ব্লাশ অনে অতি উচ্চকিত রঙের ব্যবহার, বা দারুণ কেতার হেয়ারস্টাইল ছাড়াও আপনি ঝলমলিয়ে উঠবেন অনুষ্ঠানবাড়িতে!

গরম কেমন সেই বুঝে সাজগোজ করুন৷ ফুরফুরে হাওয়া বইলে চুল খোলা রাখতে পারেন, তবে গরম আর ঘামের হাত থেকে মুক্তি পেতে চাইলে চুল বেঁধে রাখাই ভালো। মেক-আপ একেবারেই নিষ্প্রয়োজন। স্রেফ ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য ক্লেনজ়িং, টোনিং, ময়েশ্চরাইজ়িংয়ের পর খানিকটা প্রাইমার লাগিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। তার পর লুজ পাউডার লাগান। চোখে সামান্য ব্রাউন আইশ্যাডো, মাসকারা আর ব্লাউন আই পেনসিল ব্যবহার করতে পারেন। ঠোঁটে সামান্য ব্রাউন লিপস্টিকই যথেষ্ট!

মণিদা আমি এলাম (পর্ব-৩)

পর্ব ৩

বাড়ি ফিরেই তনু ওর মণিদাকে ফোন করে জব্বর খরটা দিল। মণি তো আত্মহারা! লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নামতে গিয়ে পা মচকে ফেলার জোগাড়। ভাবা যায় কড়কড়ে আড়াই লাখ জাস্ট আড়াই লাখ। খরচ খরচা বাদ দিয়ে আরামসে দেড় থেকে যাবে পকেটে। এত বড়ো দাঁও ওর জীবনে এই প্রথম।

—আরে মণিদা, কী হল শুনতে পাচ্ছ?

—হ্যাঁ হ্যাঁ বলো বলো….। হ্যাঁ নিশ্চয় নিয়ে আসবে সামনের রোববার। দেখবে ওদের যেন কোনও অসুবিধা না হয়। আর সঙ্গে করে ওরা যেন অবশ্যই নিজের নিজের লেখার স্ক্রিপ্টগুলো নিয়ে আসে। ওখান থেকেই ওরা কবিতা পাঠ করবে সাহিত্যবাসরে। আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে রাখো। দেখা হবে। বাই।

কোমর থেকে আলগা হয়ে ঝুলে পড়া লুঙ্গিটার, অবস্থা মণি এতক্ষণ খেয়াল করেনি। ভাগ্যিস ঘরে একলা ছিল। একহাত জিভ কেটে মণি যথাস্থানে বেশ শক্ত করে লুঙ্গিটাকে বেঁধে নিল। অনেক দিন চিকেন খাওয়া হয়নি। মণি বাজারের থলি হাতে, গায়ে কোনওরকমে একটা ফতুয়া গলিয়ে হাওয়াই চটি ফটফট করতে করতে দ্রুত বেরিয়ে গেল।

রাতে অনেক দিন পর ভরপেট মুখরোচক খাবার খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে সিগারেটে লম্বা একটা টান— আহা কী আনন্দ! সামনের সুখের দিনগুলোর কথা ভেবে মশগুল হয়ে রইল বেশ কিছুক্ষণ। তাহলে ভগবান এতদিনে মুখ তুলে চেয়েছেন। এখন শুধুই সুদিন আর সুদিন। সামনে শুধু আলো আর আলো। ‘তমসো মা জ্যোতির্গময়’– যাকে বলে! তবে আনন্দের আতিশয্যে সেই রাতটি তার নির্ঘুম গেল। তা যাক। এরকম নির্ঘুম এই রাত তার একটা অমূল্য অর্জন বলেই সে ভেবে নিল।

সারাজীবন এইরকম নির্ঘুম কেটে গেলেও তার আপত্তি নেই এখন। কত হেনস্থা, কত কটূক্তি, যাচ্ছেতাই অপমান— কত কিছুই যে তাকে হজম করতে হয়েছে। তার স্বপ্ন এই ‘আসানসোলের দিনরাত্তির’-র প্রকাশনা নিয়মিত রাখতে গিয়ে, তা তার চাইতে আর বেশি কে জানে!

বিজ্ঞাপন চাইতে গেলে দেবে তো না-ই উলটে আঁকাবাঁকা কত কথা শোনাবে। পত্রিকা কেউ কিনবে না। তার ওপর সৌজন্য সংখ্যা পাঠাতে হবে। ভালো লেখক কবিরা সাম্মানিক না দিলে লেখা দেবে না। আবার ভালো লেখা না থাকলে পত্রিকা বিক্রি হবে না। স্টলওয়ালারা বেশি কমিশন না পেলে বিক্রির জন্য স্টলেই রাখবে না। এত ‘না’ হলে কি আর পত্রিকা চালানো যায়! তবে এখন থেকে আর এই ক্রাইসিস থাকবে বলে মনে হয় না। জয় মা কালী দুগ্গা দুগ্গা।

পরের রোববার তনু-সহ পাঁচ বন্ধুই হাজির যথাসময়ে মণির সভা আলো করে। ওরা এক্কেবারে সামনের সারিতে। সাড়ে এগারোটা নাগাদ মণি হাতে মাইক তুলে নিয়ে সদর্প ঘোষণায় নতুন চার সদস্যের, মানে রূপা গোপা সীমা ও মণিকার উজ্জ্বল উপস্থিতি বরণ করে নিল। তারা প্রত্যেকেই মঞ্চে উঠে নিজের নিজের সংক্ষিপ্ত পরিচয় জ্ঞাপন করল।

মণি এরপর ভবিষ্যতের সাহিত্যের গতিপ্রকৃতির দিকনির্দেশ করার ক্ষেত্রে লিটল ম্যাগের অবদান সম্পর্কে একটা ভয়ানক জ্বালাময়ী বক্তিমে ঝাড়ল প্রায় আধঘণ্টার মতন। সভাস্থল ঘিরে তখন হুলুস্থুলু ভাবে হাততালির হুল্লোড়! কেউ কেউ আবার বলে উঠল, আহা, এই না হলে সম্পাদক! কী ভীষণ একখানা লেকচার দিল বটে!

তনু গোপা সীমা-রা তো অভিভূত। ওরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে মণিদার সাহিত্যসভায় ওদের অনেক আগেই জয়েন করা উচিত ছিল। যাক যা হবার তা হয়েছে। এখান থেকেই না হয় শুরু হল আজ। ওরা পাঁচজনের প্রত্যেকেই পাঁচটি করে স্বরচিত কবিতা পাঠ করে খুব খুশি। মণিদাও ওদের সকলের লেখার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছে। আনন্দে ডগমগ ওরা যেন হাতে এক একখানা করে আকাশের চাঁদ পেয়ে গেছে!

অনুষ্ঠান শেষে মণি ঘোষাল স্ক্রিপ্টগুলো চাইলে ওরা খুব কুণ্ঠিত হয়ে বলল— কয়েকটা দিন সময় চাই। লেখাগুলো একটু গুছিয়ে নিতে হবে। উলটো পালটা হয়ে আছে। কমপ্লিট হলেই আপনাকে খবর দেব। মণি বলল— আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে। খবর পেলেই আমি নিজে গিয়ে নিয়ে আসব। তোমাদেরকে আসতে হবে না কেমন। চাপ নিও না তোমরা যতক্ষণ আমি আছি। আর আমি তো আছিই আছি।

মোটামুটি সপ্তাহ দু’য়েকের ভিতর মণি আলাদা আলাদা দিনে ওদের সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্ক্রিপ্ট সংগ্রহ করে গান্ডেপিন্ডে গেলাকোটা সেরে, তারপর সন্ধেনাগাদ ফিরে এসেছে। সাথে পঁচিশ পঁচিশ করে অগ্রিম নিতেও ভুল করেনি। মণি বাড়ি ফিরে অন্ধকার একটু গভীর হলে বিড়ি ফুঁকতে ফুঁকতে সোজা ছাদে। আকাশের তারাদের দিকে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে গুন গুন করে ‘ও আমার ময়না রে…’ গাইতে গিয়ে তালেগোলে গেয়ে উঠল— ‘ও আমার সোনার ডিম পাড়া হাঁস ৱে এএএ…..!’

যখন একটি দু’টি তারা খসে পড়ল ঠিক পায়ের পাশটিতে। তারার আলো যে এত তরল হয় সে আগে জানত না। পা-টা কেমন যেন একটু হালকা ভিজে মতন বোধ হতেই তার মোহাচ্ছন্ন ভাবের ঘোরটা যাকে বলে এক্কেবারে ঘেঁটে ‘ঘ’ হয়ে গেল।

সিউড়ি আর বাঁকুড়ার দু’টো নিয়ে মোট সাত সাতখানা বইয়ের ডিটিপি এবং প্রিন্টিং-এর কাজে নেমে পড়তে হবে কাল থেকেই। প্রেসের সঙ্গে কথা হয়ে গেছে। ডিটিপিও হয়ে যাবে, তারপর প্রুফ দেখা। প্রচ্ছদ সাতটা তো আগেই এসে গেছে। করেছেন প্রখ্যাত কিন্তু নিতান্ত প্রচারবিমুখ শিল্পী মণির অন্তরঙ্গ একদা শান্তিনিকেতনি আপাতত কলকাতাস্থিত ব্যাংক ম্যানেজার শুক্রাচার্য সান্যাল।

ক্রমশ…

 

ডেঙ্গু এবং পরবর্তী সমস্যা ও সতর্কতা

আমরা সবাই জানি যে, ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ। মূলত পৃথিবীর ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় এলাকার দেশগুলিতে দেখা যায় এই রোগ। যদিও আজকের পৃথিবীতে এই রোগটি অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া সব মহাদেশেই অল্পবিস্তর ছড়িয়ে পড়েছে। তাই সবার সুস্থতার জন্য এই রোগের লক্ষণ, প্রতিরোধ এবং সুস্থতায় ফেরার পরামর্শ দিলেন ডা. অতনু কুণ্ডু।

ডেঙ্গুর অন্য নাম ব্রেক বোন ফিভার (break bone fever)। কারণ এই রোগে আক্রান্ত হলে জ্বরের সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সংযোগস্থলে অসহ্য যন্ত্রণা হয়। এই রোগের জীবাণু বহনকারী এডিস ইজিপ্টাই মশার কামড়ের ফলে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয় মানুষ৷ আসলে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত মানুষকে এডিস মশা কামড়ালে মশাটি সংক্রামিত হয়। এডিস মশা প্রকৃতপক্ষে ডেঙ্গুর জীবাণু বহন করে। এরপর সে অন্য কোনও সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ালে তিনি ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হন। সাধারণত মশা কামড়ানোর চার থেকে দশ দিনের মধ্যে এ রোগের লক্ষণ দেখা যায় মানব দেহে। এর প্রাথমিক লক্ষণ ফ্লু বা অন্য সাধারণ জ্বরের মতোই।

১০৩-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট শারীরিক তাপমাত্রা, মাথার যন্ত্রণা, হাড় এবং মাংসপেশিতে ব্যথা এবং শরীরের বিভিন্ন সংযোগস্থলে যন্ত্রণা হয়। কিন্তু এর সঙ্গে বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, চোখের ভিতরে ব্যথা, গায়ে চুলকানির ভাব ইত্যাদি লক্ষণ ডেঙ্গুকে অন্য জ্বরের থেকে আলাদা করে। একমাত্র উপযুক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে একজন চিকিৎসকই পারেন ডেঙ্গুর সংক্রমণ সনাক্ত করতে।

সাধারণ ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণ দুই থেকে সাত দিন থাকে। কিন্তু ডেঙ্গু জীবন-মরণ সমস্যা হয়ে ওঠে যখন রক্তে অনুচক্রিকার সংখ্যা খুব কমে যায়। ডেঙ্গু শক এবং হেমোরেজিক ফিভারের লক্ষণগুলি হল— নাক ও দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, বমি বন্ধ না হওয়া, মল-মূত্র-বমির সঙ্গে রক্ত আসা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি। এক্ষেত্রে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। এখানে বলে রাখা ভালো, যদিও ডেঙ্গু প্রতিরোধী টিকা পাওয়া যায় কিন্তু এর কার্যকারিতা সেই ভাবে প্রমাণিত নয়।

প্রকৃতপক্ষে সাপোর্টিভ ট্রিটমেন্ট (supportive treatment) ছাড়া সেই অর্থে ডেঙ্গুর কোনও ওষুধ এখনও নেই। একটি উল্লেখযোগ্য এবং কিছুটা স্বস্তিদায়ক বিষয় হল যে, ডেঙ্গু ছোঁয়াচে নয়, অর্থাৎ মানুষ থেকে মানুষে সরাসরি ছড়িয়ে পড়ে না যদি না ডেঙ্গুর জীবাণু বহনকারী মশা কামড় দেয়। আর ডেঙ্গু প্রতিরোধের সব থেকে কার্যকরী উপায় হচ্ছে মশার কামড় থেকে নিজেকে যতটা সম্ভব বাঁচিয়ে রাখা এবং বাড়ির আশপাশে কোনও স্থানে বা পরিত্যক্ত পাত্রে জল জমতে না দেওয়া।

এতক্ষণ ডেঙ্গু কী, কীভাবে ছড়ায় ও প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হল। কিন্তু যে-বিষয়টা একটু অবহেলিত থেকে যায় তা হল— ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পর ডেঙ্গুজনিত শারীরিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাপ এবং তা পূরণের ব্যবস্থা গ্রহণ। পোস্ট ভাইরাল ফ্যাটিগ সিনড্রোম (Post-viral fatigue syndrome) বা পোস্ট ডেঙ্গু কমপ্লিকেশন সিনড্রোম (Post-Dengue complication syndrome)-এর ফলস্বরূপ খিদে কমে যায়, ওজন কমে যায়, অত্যধিক ক্লান্তি বোধ হয়, এমনকী হার্ট, কিডনি, ব্রেনেরও ক্ষতি হয়। এর থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য কতকগুলি পদক্ষেপ গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজনীয়—

) সুষম খাবার

ডেঙ্গু আক্রান্তের সুস্থ হওয়ার জন্য সুষম খাবারের একান্ত প্রয়োজন। এই খাবারে প্রোটিন ও ভিটামিন প্রচুর পরিমাণে থাকতে হবে। মাছ, মাংস, ডিম, টাটকা শাকসবজি— খাদ্যতালিকায় থাকা একান্ত প্রয়োজন। তবে এগুলি স্বাস্থ্যকর ভাবে কম তেলমশলা দিয়ে রান্না হতে হবে। সঙ্গে সাধ্যমতো ফলমূল খেতে হবে। জাঙ্ক ফুড বা বেশি তেলে ভাজা খাবার একান্ত ভাবে পরিত্যাজ্য, কারণ ডেঙ্গু আক্রান্তের লিভার সাময়িক ভাবে দুর্বল হয়। ফলে বেশি তেলমশলা-যুক্ত খাবার এবং জাঙ্ক ফুড খেলে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর সুষম, সহজপাচ্য খাবার নির্দিষ্ট সময় অন্তর নিয়ম মেনে খেতে হবে, যা পুষ্টির সহায়ক এবং আক্রান্তকে স্বাভাবিক শারীরিক অবস্থায় ফিরতে সাহায্য করবে।

() জল এবং স্বাস্থ্যকর পানীয় গ্রহণ

ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত সুস্থ হওয়ার আরেকটি শর্ত প্রচুর পরিমাণে জল এবং স্বাস্থ্যকর পানীয় গ্রহণ। সারাদিনে অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার পরিশুদ্ধ জল পান করতে হবে। ঘরোয়া একটি পদ্ধতি এক্ষেত্রে অনুসরণ করা যেতে পারে। জলের পাশাপাশি আলাদা ভাবে আখ, পাতিলেবু, কমলালেবু, বেদানার রস এবং বিশেষত ডাবের জল খেলে তা শরীরকে শক্তি যোগায় এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ফলে যে-ভিটামিন ও খনিজের ক্ষয় হয়, তা পূরণ হয়। এক কথায়, ডেঙ্গু আক্রান্তের সুস্থ হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হাইড্রেটেড (hydrated) থাকা।

() পরিমিত শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম

পরিমিত শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হওয়ার আরেকটি শর্ত। পরিমিত শারীরিক পরিশ্রম করা, নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করা, হালকা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করা শরীরে সঠিক ভাবে রক্ত সঞ্চালন করতে সাহায্য করে এবং নার্ভগুলিকে সক্রিয় রাখে। পরিমিত পরিশ্রম বা ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ খিদে বাড়ায় এবং ঘুমে সাহায্য করে।

() মাল্টিভিটামিন থেরাপি

যদিও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ বিভিন্ন ফলের রসের মাধ্যমে ভিটামিনের ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হয়ে যায়, তবুও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে উপযুক্ত মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়া ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।

() পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম

সর্বোপরি ডেঙ্গু আক্রান্তের দ্রুত সুস্থ হওয়ার পক্ষে সহায়ক পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রাম— যা ডেঙ্গুর কারণে যে-ক্লান্তি গ্রাস করে আক্রান্তকে তা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রাম আক্রান্তকে দ্রুত শারীরিক শক্তি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে এবং তাকে পুনরায় কর্মক্ষম করে তোলে।

এখন ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রবল মাত্রায় চলছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই কিন্তু একইসঙ্গে সতর্ক থাকতে হবে। জ্বর হলেই সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং তার নির্দেশ কঠোর ভাবে পালন করতে হবে। আর যা করণীয় তা হল— মশার কামড়ের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাড়ির আশপাশে খানাখন্দে বা পরিত্যক্ত পাত্রে জল না জমতে দেওয়া।

সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন সকলে। ডেঙ্গু নিয়ে নয় অবহেলা, নয় আতঙ্ক, থাক সতর্কতা।

রান্নায় টম্যাটোর গুণাগুণ

রান্নায় শুধু স্বাদ বাড়ানোর জন্যই নয়,  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে টম্যাটোর তুলনা নেই।
ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ টম্যাটো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং স্ট্রেস হরমোন কমায়। এই কারণে নিয়মিত টম্যাটো খেলে শরীরের শক্তি বাড়ে এবং শরীর সুস্থ থাকে।টম্যাটো খেলে শরীরের রক্তশূন্যতা দূর হয়।  এ ছাড়া রক্ত পরিষ্কার হয়, হজম ভালো হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। টম্যাটোতে  থাকা লাইকোপিন ত্বকের ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বক পরিষ্কার ও সতেজ রাখে।

কাঁচা টম্যাটো খাওয়ার সময় যদি না-ও পান, রান্নায় রোজ ব্যবহার করুন টম্যাটো৷ আজ আমরা দুটি পদ হাজির করছি যার প্রধান উপকরণ টম্যাটো৷

সুইট অ্যান্ড সাওয়ার টম্যাটো

উপকরণ: ৬টা সবুজ টম্যাটো, ১ ছোটো চামচ আদা মিহি কুচি করা, হিং ১ চিমটে, ১ ছোটো চামচ কাঁচালংকা, ১ ছোটো চামচ মেথিদানা, ১/২ ছোটো চামচ মৌরি, ১ ছোটো চামচ ধনেবাটা, ১ ছোটো চামচ কালো জিরে, ১/২ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, ১/৪ ছোটো চামচ গরমমশলা, ১ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো, ১ বড়ো চামচ অলিভ অয়েল, ১ ছোটো চামচ চিনি, ১৫-২০টা কিশমিশ, চেরি টম্যাটো সাজানোর জন্য, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: টম্যাটো লম্বা ফালি করে কেটে নিন। কড়ায় অলিভ অয়েল গরম করে মেথিদানা দিন। আদা, কাঁচালংকা, হিং ও কালোজিরে ফোড়ন দিন। মৌরি ও গোটা ধনে ভেজে নিন। টম্যাটোর ফালিগুলো দিয়ে নাড়তে থাকুন। নুন, হলুদ ও লংকাগুঁড়ো দিন। টম্যাটো নরম হওয়া অবধি কষতে থাকুন। গরমমশলা, চিনি ও কিশমিশ দিয়ে আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন। চেরি টম্যাটো দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

 

পালং কোফতা ইন টম্যাটো গ্রেভি

 

Palak Kofte In Tomato Gravy recipe

উপকরণ: ২৫০ গ্রাম পালংশাক, ২টো আলু, ১ বড়ো চামচ কর্নফ্লাওয়ার, ১/২ ছোটো চামচ শুকনো বেদানার দানা, ১ ছোটো চামচ আদা মিহি করে কুচোনো, ১/২ কাপ নারকেলকোরা, ১ বড়ো চামচ কিশমিশ, ভাজার জন্য তেল, নুন স্বাদমতো।

গ্রেভির জন্য: ২ টো টম্যাটো, ১ বড়ো চামচ দই, ১ ছোটো চামচ কর্নফ্লাওয়ার, ১টা কাঁচালংকা, ১/২ ছোটো চামচ গোটা জিরে, ১/৪ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ গোটা ধনেবাটা, ১/৪ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ গরমমশলা, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: আলু সেদ্ধ করে চটকে নিন। পালংশাক ভালো করে ধুয়ে কুচিয়ে নিন। পালং, আলু, আদাকুচি ও কর্নফ্লাওয়ার একসঙ্গে চটকে নিন। নুন ও বেদানার দানাও মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ থেকে বল তৈরি করুন। বলগুলির মধ্যে নারকেলকোরা ও কিশমিশের পুর ভরে কোফতা গড়ে নিন। কড়ায় তেল গরম করে কোফতা বাদামি করে ভেজে নিন।

এবার গ্রেভির জন্য টম্যাটো ও কাঁচালংকা একসঙ্গে মিক্সিতে পেস্ট করুন। দই ও কর্নফ্লাওয়ার মিশিয়ে ফেটিয়ে নিন। কড়ায় তেল গরম করে জিরে ফোড়ন দিন। এতে টম্যাটো পেস্ট ঢেলে কষতে থাকুন। নুন, লংকাগুঁড়ো, ধনেবাটা, হলুদগুঁড়ো দিয়ে নাড়তে থাকুন। প্রয়োজনে অল্প জল দিন। যখন এই মিশ্রণ তেল ছাড়তে শুরু করবে, তখন গ্রেভির পরিমাণ বুঝে জল দিন। ২ মিনিট রান্না হতে দিন। তারপর কোফতাগুলো ছেড়ে দিন। গরমমশলা ছড়িয়ে দিন। কোফতার সঙ্গে গ্রেভি মিশে গেলে নামিয়ে নিন।

একটা ডেট হবু বরের সঙ্গে (শেষ পর্ব)

বিয়ে মানে শুধু মনের মিল হওয়া নয়, একটি দায়িত্ববোধও এর সঙ্গে জুড়ে থাকে। উভয়ে উভয়ের প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে ওঠা একান্ত জরুরি। এই সম্পর্কের সূত্রপাতে তাই পরস্পরের সমব্যথি হয়ে উঠুন। বিয়ের আগের জীবনের সঙ্গে বিবাহোত্তর জীবনের অমিলটাকে অ্যাকসেপ্ট করতে হবে। বিয়ের মন্ত্রোচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে, পরস্পর যখন গাঁটছড়া বাঁধবেন, দুটি একক মানুষ থেকে ‘স্বামী-স্ত্রী’ হয়ে উঠবেন— জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও তখনই আনতে হবে। ব্যক্তিগত সুখ নয়, স্বার্থপরতা নয়, সঙ্গীটির ভালোমন্দের ব্যাপারে আপনাকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হয়ে উঠতে হবে সেই মুহুর্ত থেকেই। এই মানুষটির সঙ্গে জীবনের সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দেবেন, এই ভাবনা থেকেই তাকে গ্রহণ করুন। দোষে-গুণে মানুষ। তাই ‘সুখ-দুঃখ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে’— এই মন্ত্রে নিজেদের জারিত করুন বিয়ের এই প্রাক্‌লগ্ন থেকেই।

পারিবারিক অন্তরঙ্গতা : আমাদের ভারতীয় সমাজে এখনও বিয়েটা কেবল দুটি মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বিয়ে বস্তুত পরস্পরের পরিবারের সঙ্গে বন্ধনও বটে। তাই দুটি পরিবারের মানুষজনকে এবং আত্মীয়দেরও আপন ভাবতে শুরু করুন। তাদের পারিবারিক সংস্কার, শিক্ষাদীক্ষা বিষয়েও ধারণা তৈরি করে নিন। বিয়ের পরও দুই পরিবারের আত্মীয়বান্ধবদের নিয়ে পারিবারিক অনুষ্ঠানে মিলিত হোন।

বয়সের বিষয়ে নিশ্চিত হোন : সাধারণত বর ও কনের মধ্যে পাঁচ বছরের তফাত থাকলে, পরস্পরকে বোঝা এবং মানিয়ে নেওয়া অর্থাৎ কম্প্যাটিবিলিটি ফ্যাক্টর ভালো হয়। যদিও ব্যতিক্রম সবক্ষেত্রেই রয়েছে, তবু খুব বেশি বয়সের তফাতে মানসিক গঠনে তফাত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। দুজনের ম্যাচিওরিটি লেভেল সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে, সংসারে নানা সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়। এক সময় বর ও বধূর বয়সে বিস্তর গ্যাপ রাখার সামাজিক রীতি ছিল। এর ফলে স্বামী, স্ত্রীর অনেক আগেই শারীরিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বয়সজনিত অসামঞ্জস্যতা অনেকটা মুছে গেছে। দুজনেই ইয়াং অ্যান্ড ডায়নামিক হলে, চট করে মিলমিশ হয়ে যায়। রাগ-অনুরাগের পর্বেও দুজনেই দ্রুত পরস্পরের সঙ্গে সঙ্গত করতে পারে। আরও একটি বিষয়ে খেয়াল রাখবেন আকারে প্রকারে পুরুষটি যেন আপনার থেকে ক্ষীণ না হয়। কাঠামোগত সঙ্গতিটাও একটি জরুরি বিষয়।

হবু বরের স্বাস্থ্য : যাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন তিনি শারীরিক ভাবে কতটা ফিট সে ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে নিন। কোনও ক্রনিক রোগ আছে কিনা, পারিবারিক কোনও জেনেটিক ব্যাধি আছে কিনা, তা-ও জেনে নিন। এইচআইভি টেস্ট উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ব্লাড গ্রুপ ও অন্যান্য রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নিন। পরিবার পরিকল্পনা বিষয়েও আলোচনা করতে পারেন জড়তা কেটে গেলে।

লাইফস্টাইল বিষয়ক : ছেলেটির জীবনশৈলী সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে নেওয়া ভালো। সে স্মোক করে কিনা, ড্রিংক করলে সেটি নিয়মিত করে নাকি অকেশনাল, সেটাও জেনে নিন। পার্টি বা নাইটলাইফ-এ অভ্যস্থ কিনা খোঁজ নিন। কোনও পুরোনো প্রেম বা রিলেশনশিপ থাকলে, সেটির বিষয়ে তার বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি কী সেটাও জানার চেষ্টা করুন। কমিটেড কিনা, সহানুভূতিশীল কিনা বোঝার চেষ্টা করুন। বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করে কিনা, নিজের কেরিয়ার সম্পর্কে কতটা সিরিয়াস, কাজে কতটা ডেডিকেটেড— এগুলি সম্বন্ধেও আগাম ধারণা থাকা ভালো। কানপাতলা কিনা, কতটা বিবেচক এগুলিও বুঝে নেওয়া দরকার। সবচেয়ে বড়ো কথা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্মান। এ দুটি অটুট থাকলে আপনাদের দাম্পত্যও অটুট থাকবে।

মণিদা আমি এলাম (পর্ব-২)

পর্ব ২

মণি ঘোষাল গল্প কবিতার বাঘ-সিংহ-ভল্লুক সব একসাথে। কলম দিয়ে কলকল করে কাব্যি ছোটে ঝরনাধারার মতো। এককালে তার নাকি দুর্ধর্ষ এক গুরু সঙ্গ হয়েছিল। ওর মতো আর কেউ নাকি গুরুকে তেমন করে পায়নি। আর গুরুও মণি বলতে অজ্ঞান ছিল। তা সেই গুরুই একদিন সত্যি সত্যিই মণির একটা কবিতা পড়তে গিয়ে গোঁ গোঁ শব্দ করতে করতে মুখে লালা উঠে এই মরে কি, সেই মরে অবস্থা! অন্য যারা ছিল তারা গুরুকে হাসপাতালে গ্যারেজ করাতে কোনও মতে সে যাত্রা গুরুর পঞ্চত্বপ্রাপ্তি হয়নি।

তা মণি নাকি কবিতার কাটাছেঁড়ায় অদ্বিতীয়ম বলে মনে করে নিজেকে। এটাকে সে তার গুরুর দান বলেই ভাবে। কবিতার নাড়িভুঁড়ি ঘেঁটে সে তার পেটের কথা বার করে নিয়ে আসবে। হুঁ হুঁ বাবা কারওর নিস্তার নেই! বিটকেল হিংসুটে সতীর্থরা বলে— ও ব্যাটা নিজে কোনওদিন একটা সম্পূর্ণ কবিতা লিখতে পারেনি আজ পর্যন্ত। আর সে করে কিনা সমালোচনা! কালে কালে কতই হল, পুলি পিঠের ল্যাজ গজাল। যাইহোক, তা বলে সাহিত্যচর্চায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সংবর্ধনা পাওয়াতে কোনও ঘাটতি ছিল না, আর এগুলো সে পেয়েছে ঠিক তারই মতন অন্যান্য সব সম্পাদকদের থেকে।

এখন নভেম্বর। হালকা শীতের আমেজ পোশাক চুঁইয়ে শরীর ছুঁয়ে দিচ্ছে শিরা উপশিরা ছাড়িয়ে অন্তরে অন্তরে। সামনের এপ্রিল আসতে হাতে আর মাস পাঁচেক মতন। সামনের পঁচিশে বৈশাখে এবার অন্তত পাঁচখানা বই প্রকাশ করতেই হবে। তবে মলাট উন্মোচনে এবার এমন সব আনকমন এক একজন থাকবে না, যা দেখে সবাই চমকে (পড়ুন ঘাবড়ে যাবে! মণি ওর ফিল্ডের পাকা মাথার লোক। টিকে থাকতে হলে যা যা করার দরকার, সবই করে সাধ্যমতো এবং পরিকল্পনা মাফিক।

একটা নেটওয়ার্ক ভালো মতন তৈরি করেছে আশেপাশের দু’তিনটে জেলা জুড়ে। সেখানের বিভিন্ন অঞ্চলে এক একজন কবি সাহিত্যিক রিপ্রেজেন্টেটিভের কাজ করে। তারা নতুন লেখক জোগাড় করে, প্রকাশিত বই পুশসেল করে। মণি অবশ্য পরিশ্রম করে যথেষ্ট। ফোনে যোগাযোগ তো থাকেই তাছাড়াও মাঝেমধ্যে ওইসব জায়গায় গিয়ে সাহিত্যবাসরও বসায়। দরকার হলে এক আধদিন থেকেও যায় সেখানে। দূরের কবি সাহিত্যিকরাও মণির আসানসোলে আসে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি মার্চ নাগাদ দু’দিন ব্যাপী চলা আসানসোল লিটলম্যাগের মেলাতে তো আসবেই আসবে। আপাতত তিনটে বইয়ের মেটেরিয়াল প্রায় হাতের মুঠোয়। এখানকার বলতে তনুরটা আর বাকি দু’টোর একটা সিউড়ি আর একটা বাঁকুড়ার। এর মধ্যে একটা ছোটোগল্পের সংকলন, অন্য দু’টি কবিতার।

ফেসবুকে লেখার সূত্রে এখন অনায়াসে অনেকের সুপ্ত প্রতিভা ফেটে বেরোতে পারছে জনসমক্ষে। মন্দ না। যেমন সেদিন দেখলাম একজন লিখেছেন— বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এলো বান/ আমার বর দেখতে এমন যেমন জাম্বুবান। অথবা, সেদিন গোধূলিবেলা/ তোমার রাঙা ঠোঁটে আমার ওষ্ঠ চকাম চকাম করিছে খেলা। ইত্যাদি ইত্যাদি।

মণি মূলত ফেসবুক ঘেঁটে এই জাতীয় কবি লেখকদেরকে ট্যাপ করে। প্রথমে মেসেঞ্জারে প্রশংসা তারপরে ফোন, তারপর সোজা কবির বাড়িতে হানা। মহিলা কবি হলে তো সোনায় সোহাগা। বরের সামনে বউ-কবির কবিতার ফাটিয়ে প্রশংসা। দুপুরে গান্ডেপিন্ডে খাওয়াদাওয়া তারপর একটা জম্পেশ ঘুম। বিকেলে স্ন্যাক্স সহযোগে চা সাঁটিয়ে খানকতক কবিতা ব্যাগে পুরে নিয়ে চলল মদন। তনুকে মণি এভাবেই কবি বানিয়েছে। তনু বলেছে ওর কয়েকজন বন্ধুও লেখালেখি করছে ফিলহাল। মণি বলেছে— তা ওদেরকেও পরের কবিতা পাঠের আসরে নিয়ে এসো না। তনু রাজি হয়েছে বলেছে, দেখি যোগাযোগ করে। আপনাকে জানাব। তনু, ওর বন্ধু মানে রূপা গোপা সীমা আর মণিকার সাথে ফোনে কথা বলেছে। ওরা খুবই আগ্রহী।

একদিন রোববার বিকেলে বিগবাজারে, ওদের সবার সঙ্গে সপরিবারে হঠাৎই দেখা হয়ে গেল। আর যায় কোথা! ওরা সবাই যে যার বরকে কেটে পড়তে বলল। তারপর সোজা চারতলার ফাঁকা একটা খাবার দোকানের একটি টেবিল দখল করে পাঁচটা ঠান্ডা পানীয় নিয়ে গল্পে মেতে উঠল।

বেচারা বরসকল একটা চায়ের দোকানে মাটির ভাঁড়ে চা আর মুখে সিগারেট নিয়ে হোস্টেল জীবনের স্মৃতিচারণে মিনিট কুড়ি পঁচিশ কাটিয়ে যে-যার মতন যাবার তোড়জোড় করছে, ঠিক তখনই তনুর বর বলল, ‘জানিস তো তনু লেখালেখি করছে। কিছু টাকা গচ্চা যাচ্ছে বটে তবে শালা মুক্তি পেয়েছি বলতে পারিস একরকম। কাজকম্ম নেই শুধু ভুলভাল বকত আর আমার মাথা চেটে সাফ করে দিত। এখন মাঝে মধ্যে দু’একটা আগডুম বাগডুম লেখা শুনে বাঃ বাঃ বলে দিলেই ছুটি।’

বাকিরাও সবাই বলল— বাব্বা তুমি একা নও আমরাও তোমার মতনই ওই একই পথের পথিক। তবে এখন আছি বিন্দাস কিন্তু বস! বেঁচে থাকুক ওদের সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা— তাতে যদি হয় হোক আমাদের খরচা। তনুর বর অনুপম বলল— আরিব্বাস বস তুমিও তো দেখছি কাব্যি করে কথা বলছ, কী ব্যাপার রূপার ছোঁয়া লেগেছে মনে হচ্ছে।

বিরূপাক্ষ প্রবল প্রতিবাদ জানিয়ে বলে উঠেছে— আরে না না… ওটা বাইচান্স মিলে গেছে, এই আর কি!

—আমি? তাও আবার কাব্যি! বাংলায় প্রায় ফেল মারতে মারতে পাশ করে গেছিলাম হায়ার সেকেন্ডারিতে কোনওরকমে।

এদিকে তনুদের আড্ডা জমে উঠেছে। তনু বলল— হ্যাঁরে তোদের চারজনের লেখা কবিতা আমি ফেসবুকে পড়েছি। তোরা কী ভালো লিখিস রে৷ ফেসবুক না থাকলে তো কোনওদিন জানতেই পারতাম না। এই শোন তোদেরকে না বলা হয়নি, জানিস তো আমার না একটা কবিতার বই বের হচ্ছে।

—ওহ তাই নাকি তাই নাকি। তা কবে?

—মণিদাই সব করছে। এই সামনের পঁচিশে বৈশাখ। শোন না মলাট উন্মোচনের দিন কিন্তু আমি তোদের সবাইকে অনুষ্ঠানে চাই।

রূপা বলল— আচ্ছা, দিদি কমপক্ষে কতগুলো কবিতা হলে একটা বই করা যেতে পারে?

—অতটা তো জানি না। তবে আমারটা করতে মণিদা সত্তর থেকে বাহাত্তরটা দরকার বলেছে। তা’ তুই বের করবি নাকি একটা?

—হ্যাঁ দিদি হতে পারে। আমার স্টকে এখনই প্রায় সত্তর আশিটা হয়ে যাবে।

—বলিস কী রে? তাহলে করে ফেল। মণিদাকে বলি ?

—দাঁড়াও। দু’টো দিন ভেবে নিই। তা খরচ খরচা কেমন গো?

—তেমন কিছু না। ওই পঞ্চাশ মতো সাকুল্যে!

গোপা সীমা মণিকাও ততক্ষণে জেগে উঠেছে। তাহলে তো অতগুলো কবিতা আমারও আছে। আমারও আছে করে কলকল করে উঠল ওরা সকলে।

তনু বলল— থাম থাম। ধীরে। এক কাজ কর তোরা। সামনের সপ্তাহে একটা সাহিত্যবাসর হচ্ছে। চল না তোরা। মণিদা এমনিতেই বলেছে আগ্রহী বন্ধুদেরকে নিয়ে যেতে। রেডি থাকিস বেলা এগারোটা নাগাদ আমি তোদের প্রত্যেককে বাড়ি থেকে তুলে নেব আমার গাড়িতে। তোদের সবাইকে আর আলাদা করে গাড়িতে যেতে হবে না। তাহলে ওই কথাই রইল। ততক্ষণে তো ওদের সবার মনে ওই যাকে বলে লাড্ডু ফুটতে আরম্ভ করেছে।

ক্রমশ…

বিয়ের আগেই হয়ে উঠুন আরও সুন্দরী

বিয়ের দিনে সেরা সুন্দরী হয়ে ওঠার ইচ্ছে থাকে সব মেয়েরই। তাই ওজন, ত্বক এবং চুলের প্রতি নজর দিতে হয় বেশি। কারণ, এগুলির প্রতি-ই নজর থাকে সবার। ঠিক এইজন্যই ডায়েট চার্ট মেনে খাওয়ার অভ্যাস খুব জরুরি।

সাধারণত দেখা যায়, ব্যস্ত জীবনযাত্রা, স্ট্রেস এবং ভুল খাওয়ার অভ্যাসের জন্য শরীর মেদবহুল হয়ে ওঠে। এভাবেই শরীর যখন হয়ে ওঠে স্থূলকায় এবং সৌন্দর্যে ঘাটতি দেখা দেয়, ঠিক তখনই দ্রুত ওজন কমিয়ে, হারানো সৌন্দর্য ফিরে পাওয়ার পথ খোঁজেন অনেকেই। আর এর জন্য হয় তারা দিনের অনেক সময় উপোস থেকে মেদ ঝরানোর চেষ্টা করেন এবং শরীরকে সঠিক পুষ্টি না জুগিয়ে জিমে যান, নয়তো ওজন কমানোর বাজার-চলতি ওষুধ খেয়ে নিজের শারীরিক সর্বনাশ করেন। অতএব, বিয়ের আগে সুস্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য সঠিক পথ খুঁজে বের করার প্রয়োজন আছে।

বিয়ের প্রাক্কালে ভালোবাসার অনুভূতি এবং উত্তেজনার পাশাপাশি, প্রচুর স্ট্রেসও থাকে। আর এই স্ট্রেস, হরমোনাল ব্যালান্স-এর উপর প্রভাব ফেলে। এর ফলে ত্বক হয় খুব তৈলাক্ত কিংবা রুক্ষ্ম হয়ে ওঠে, মুখে জন্ম নেয় ব্রণ। তাই বিয়ের আগে থেকেই সঠিক পরিচর্যা জরুরি।

কনের সুস্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য কিংবা লাবণ্য ধরে রাখার জন্য, প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। এর জন্য সময় লাগবে তিন থেকে চার মাস।

প্রথমে জেনারেল ফিজিশিয়ান-কে ভিজিট করুন। তাঁর পরামর্শ মতো হাইট, ওয়েট মাপান এবং লিভারের অবস্থা কেমন তা পরীক্ষা করান। যদি রোগ ব্যাধি থাকে তাহলে উপযুক্ত চিকিৎসা করান। বন্ধ করুন ধূমপান এবং মদ্যপান। খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিন ভাজাভুজি এবং প্রসেসড ফুড। কমান আলু এবং কলা খাওয়া। চব্বিশ ঘণ্টায় পান করুন অন্তত চার লিটার জল। উপযুক্ত ঘুমেরও প্রয়োজন আছে। রাতে অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমোন। ঘাম ঝরানো পরিশ্রম করুন।

খাদ্য তালিকা

  • সকাল ৬টায় পান করুন এক গেলাস লেবুর জল (উষ্ণ) এবং সঙ্গে খান ভেজানো ছোলা-বাদাম সামান্য পরিমাণে
  • সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে খান মাল্টি গ্রেইন ফ্লেক্স এবং গরম দুধ অথবা উপমা বা চিড়ের পোলাও এবং একটা ডিম
  • সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে পান করুন আঙুর, কমলালেবু, বেদানা অথবা মুসম্বি লেবুর এক কাপ জুস অথবা গ্রিন টি এবং মাল্টিগ্রেইন বিস্কুট
  • দুপুর ১টার মধ্যে খান ২টো মাল্টিগ্রেইন রুটি অথবা ভাত, ডাল এবং সবজি। সঙ্গে যেন থাকে স্যালাড এবং দই। ৩০ মিনিট বাদে পান করুন এক গেলাস জল
  • বিকেল ৫টার সময় খান বাড়িতে বানানো ভেজ স্যান্ডুইচ এবং স্যুপ অথবা গ্রিন টি, বিস্কুট
  • রাত ৯টার সময় খান ২টো মাল্টিগ্রেইন রুটি অথবা ভাত, ডাল এবং সবজি। সঙ্গে যেন থাকে স্যালাড এবং দই। ৩০ মিনিট বাদে পান করুন এক গেলাস জল
  • সম্ভব হলে বিছানায় যাওয়ার আগে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করুন এবং পাঁচ মিনিট বিশ্রাম নিয়ে এক কাপ উষ্ণ দুধ পান করুন।

একটা ডেট হবু বরের সঙ্গে (পর্ব ১)

বিয়ের আগের জীবন আর তার পরের অধ্যায়— দুটির মধ্যে প্রায় জমিন আসমান তফাত। সংসারে প্রবেশ করার আগে পৃথিবীটাকে রঙিন চশমা পরে দেখতে খারাপ লাগে না । কিন্তু দাম্পত্যজীবন শুরু হওয়ার পর কিছুটা প্র্যাকটিকাল হয়ে উঠতে হয় পুরুষ-নারী উভয়কেই। মেয়েরা একটু বেশিমাত্রায় আবেগপ্রবণ। সুতরাং তাদের ক্ষেত্রে কষ্টটা বেশি হয় দৃশ্যপটের এই পরিবর্তনকে মেনে নিতে। কিন্তু জীবনসঙ্গীটি যদি মনের মতো হয়, জীবনটা সুন্দর করে তোলা যায় তার সাহচর্যে। তাই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়া হবে যদি পরস্পরকে বিয়ের আগেই একটু জেনে নেওয়ার সুযোগ মেলে। পাত্র যদি আপনার পূর্ব পরিচিত হয়, তাহলে তো কথাই নেই। কিন্তু যদি সে পরিবার মনোনীত পাত্র হয়, বিয়ের আগে একটা রোমান্টিক ডেট-এ যান তার সঙ্গে।

ডেটএর পোশাক : আপনি যে-পোশাকে সবচেয়ে কমফর্টেবল, সেটাই ডেট-এর জন্য পারফেক্ট। অযথা নিজেকে অতি আধুনিকা প্রমাণ করার জন্য এমন কিছু পরবেন না, যা পরে অস্বস্তি বোধ করেন। মনে রাখবেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো ফ্যাশন ডিজাইনাররাও মনে করেন, যে-পোশাক সবচেয়ে স্বচ্ছন্দে ক্যারি করা যায়, সেটাই ফ্যাশন। তাই নিজের রুচি অনুযায়ী সামঞ্জস্যপূর্ণ সাজগোজই ভালো। হালকা মেক-আপ এবং অবশ্যই সুন্দর একটি পারফিউম আপনার ব্যক্তিত্বে আলাদা মাত্রা এনে দেবে। সুন্দর আচার, শিষ্টতা, আস্তে আস্তে কথা বলা এবং অযথা কৌতূহল সংবরণ করা ব্যবহারই আপনাকে সামগ্রিক ভাবে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

কোথায় ডেট করবেন : কোনও কফি শপে বা উন্মুক্ত কোনও জায়গায় পরস্পরকে মিট করুন। প্রাথমিক জড়তা কাটিয়ে কথাবার্তা শুরু হলে নিজে বলুন কম, শুনুন বেশি। প্রশ্ন করলে তবেই উত্তর দিন, আগ বাড়িয়ে নিজেকে জাহির করবেন না। গল্পে গল্পে আন্তরিকতার আভাস দিন। নিজের যা যা প্রশ্ন আছে, প্রসঙ্গান্তরে সেগুলির উত্তর জেনে নিন। হালকা ঠাট্টাইয়ার্কির সঙ্গে সঙ্গে হনিমুন প্ল্যানিংটাও সেরে নিতে পারেন।

কী নিয়ে কথা : কথা বলতে বলতে বোঝার চেষ্টা করুন আপনার সঙ্গে তার মতের মিল কতটা। আলোচনা করুন আপনার বিশ্বাস-অবিশ্বাস নিয়ে। সেটি ধর্মীয় বিষয় বা কুসংস্কারজনিত বিষয় হতে পারে। কোষ্ঠী বিচার কতটা গ্রহণযোগ্য, বা আদৌ এর প্রয়োজন আছে কিনা নিজেরাই বিবেচনা করে ঠিক করুন। নিজেদের ভালো লাগার বিষয়, শখ, হবিস প্রভৃতি নিয়েও কথা বলুন। তার পরিবারের বিষয় জানতে চান। নিজের কথাও বলুন। শৈশবের কোনও অন্তরঙ্গ স্মৃতি শেয়ার করুন পরস্পরের সঙ্গে। আরও কিছু জরুরি বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন। এখানে যেগুলি সম্পর্কে কিছু পরামর্শ রইল। কিছু সিরিয়াস বিষয় ও কিছু হালকা মেজাজের কথা যা আপনাকে অন্তরঙ্গ হয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

আয়ের বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা : ছেলেটির আয় এবং আর্থিক সঙ্গতি সম্পর্কে পরিচ্ছন্ন ধারণা থাকা দরকার আপনার। তাই আপনার ভাবি বর আপনার দায়িত্ব নিতে অর্থনৈতিক ভাবে সক্ষম কিনা সেটা পরিষ্কার জেনে নিন। ঠিক কী কী উপায়ে সে অর্থ উপার্জন করে, ভবিষ্যতে আয় বাড়ার সম্ভাবনা কতটা, কোনও পদোন্নতির আভাস পাচ্ছে কিনা— সে বিষয়ে জেনে নিন। শুনতে যতই রূঢ় লাগুক, এটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত একটি আলোচনা। সে প্রাইভেট বা সরকারি যে-প্রতিষ্ঠানেই কাজ করুক না কেন, তার জব স্যাটিসফ্যাকশন বিষয়েও নিঃসন্দেহ হয়ে নিন। নিজের ব্যাবসা থাকলে, সেটি কতটা লাভজনক, ঝুঁকির পরিমাণ-ই বা কতটা, সবটাই খোলাখুলি আলোচনা করুন।

                                                                                                                          চলবে…

মণিদা আমি এলাম (পর্ব ১)

মণি ঘোষাল। ইন্টেলেকচুয়াল। ছুঁচলো তার দাড়ি, অনেকটা আব্দুল মাঝির মতন। চোখে রিমলেস। ষাটোর্দ্ধ। টানটান আপাদমস্তক। ঠোঁট সতত একটা আলগা হাসির ক্লান্তিতে ঝুলন্ত। লম্বা চুলের মাথা সাহিত্যে খচাখচ। পায়ে কোলাপুরি। কাঁধে পত্রিকা ঠাঁসা শান্তিনিকেতনি ঝোলাব্যাগ। নীল জিনস-এর সাথে সাদা পাঞ্জাবি। সেই কোন বছর চল্লিশ আগে পথ চলা শুরু।

মণি তখন বছর কুড়ির উঠতি কবি সাহিত্যিক। দু’চারজন ঘনিষ্ঠকে সাথে নিয়ে প্রকাশ করল— ‘আসানসোলের দিনরাত্তির’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যা। তখন তো তার বিশ্বজয়ের আনন্দ। দু’টো ছোটোগল্প আর খান চল্লিশেক কবিতার প্রশ্রয়কে সঙ্গী করে তার সদর্প আবির্ভাব আসানসোলের সাহিত্যজগৎকে আলোকময় করে তুলল।

তারপর তো দেখতে দেখতে বেশ কয়েকটা দশক কেটে গেছে। মণি ঘোষালের সোসিও—ইকনমিক ফান্ডাও নাকি বাড়তে বাড়তে এখন দারুণ শক্তিশালী! কিছুদিনের মধ্যেই বুঝে গেছিল পত্রিকা প্রকাশের সাথে সাথে বই প্রকাশনাটাও একান্ত জরুরি। পত্রিকা কুনকি হাতির কাজ করবে— যাতে করে বই প্রকাশনাটাও নিয়মিত থাকে৷ এইভাবেই মণি মূলত অর্থকরী দিকটা সামাল দেয়।

পত্রিকা নতুন নতুন কাব্য প্রতিভার সন্ধানের একটা ইন্সট্রুমেন্ট আর তারপর কিছু সময় অপেক্ষা এবং একদিন ঝপাং করে বই প্রকাশনার যাঁতাকলে পড়ে ছটপটাবে বেচারা কবি সাহিত্যিক কমপক্ষে হাজার পনেরোর ধাক্কায়! আর পায় কে? মণি তার মলাট উন্মোচনের জন্য পকেট কাটবে, তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য পকেট কাটবে। পুশসেলের সব পয়সাই যে মণির পকেটস্থ হবে সেটা বলাই বাহুল্য। নামডাকে মণি কিন্তু বেশ তুখোড় পরিচিতির নিরিখে। নিন্দুকেরা সময় সময় তার সম্পর্কে মন্দভালো কিছু না কিছু বলেই থাকে। তাতে অবশ্য তার কিছু যায় আসে না। সে নাকি আদ্যোপান্ত নিবেদিত সুমহান এক সাহিত্য প্রাণ। অক্ষরকর্মী শব্দকর্মী এরকম নানা বিশেষণেই নাকি তার ঝুলি বিভূষিত।

লোকে পিছনে তাকে ‘মাল ঘোষাল’ বললে কী হবে, সামনে তো গদগদ ভাব দেখিয়ে দাঁত কেলিয়ে হে হে… করতে থাকে! মণি এটাও জানে লোকে ঈর্ষা থেকেই এইসব অপপ্রচার করে থাকে। যাইহোক, নেগেটিভ হলেও প্রচার তো একটা বটেই। লাদেনের নাম কে না জানে— সে যে- জন্যই হোক! জানে কি না? একশোবার হাজারবার অস্বীকার করে সাধ্যি কার? মণি তার প্রবল অস্তিত্বটার গোড়ায় নিয়মিত জল সার দিতে ভুল করে না কখনও। মাসে দু’তিনটে গল্প আলোচনা কবিতা পাঠের আসর জমাবেই জমাবে। দশ পনেরো জন তো এমনি এমনিই জুটে যায়। অবশ্য তাদের অধিকাংশই একদা চাকুরিজীবী বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। সময় কাটাতে কবি সাহিত্যিক হতে গিয়ে মণির খপ্পরে।

কিংবা হয়তো একদা গৃহকর্মে নিপুণা এখন প্রৌঢ়ত্বে পা দিয়ে কবি কিংবা গল্পকার হয়ে ওঠার বাসনায় মণির ভেল্কিবাজি ধরতে না পেরে গল্পপাঠের আসরে দিস্তাখানেক কাগজ নিয়ে হাজির। মাঝবয়সিরা থাকে না এমন নয় তবে সংখ্যারলঘু পর্যায়ের। আর অবশ্যই অকর্মণ্য কিছু গ্র্যাজুয়েট, বাপের হোটেলে খেয়ে সাহিত্যের খোলনলচে পালটে তাকে উত্তর আধুনিকের পথ দেখানোর প্রতিজ্ঞায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কিছু দামড়া ছেলে। লিটল ম্যাগের মাহাত্ম্যে তার বিপ্লবী ইমেজ সম্পর্কে মাইক হাতে টানটান বক্তিমের জোরে হল ফাটানো হাততালি। ওরে বাপরে! শুনলে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে শুধু নয়, সেই কাঁটা আবার ফুটেও যায়। সাথে মণির উস্কানির উত্তেজনা কামাল করে দেয় তাদের।

আঃ ভাবা যায়— ছোটোগল্পের কী দুর্দান্ত আলোচনাটাই না করলি রে অমরেশ। আর বোঝাতে গিয়ে তোর নিজের লেখা যে গল্পটা পড়ে শোনালি— তার জন্য কোনও তারিফই যথেষ্ট নয় রে! আয় আয় আমার বুকে আয়। একটা হামি দিইরে তোকে। আমার চাঁদের ছেলে আমার সোনার ছেলে। তারপরই গলাটা একপর্দা খাদে নামিয়ে বলে— বিমল করের মতো লেখকও তোর মতন এমন একটা লিখতে পারলে ধন্য হয়ে যেত রে। অমরেশ বিনয়ে মাটিতে মিশে যেতে বসেছে আর ভিতরে ভিতরে ফুলে ফেঁপে ঢোল— যে-কোনও সময় বিস্ফোরণের দিকে চলে যেতে পারে আপ খেতে খেতে। অমরেশ কিন্তু ফাটল না, যেহেতু আনকোরা নতুন নয়। তবে ফুলেফেঁপে থাকবেই এখন দিনকয়েক।

এবারের শারদসংখ্যায় তনু নাগরাজের গুচ্ছ কবিতা প্রকাশ করেছে মণি। তনু নাগরাজ বাড়িতে প্রায় সারাদিন একা। ছেলে বাইরে। বর একটা কোম্পানির ম্যানেজার। রান্নার লোক কাজের লোক বাগানের মালি ঠাকুর চাকর— কী নেই তার। নিজহাতে তাকে কুটোটি কেটে দু’টো করতে হয় না। বয়কাট চুল, তাও আবার আঁচড়ে দেওয়ার জন্য একটি মেয়ে আসে, তার পার্লারে যাওয়ার আগে ম্যামকে সাইজ করে দিয়ে যায়। তারপর সে তার লেডিস পার্লারের দোকান খোলে। আর সাহিত্যসভাতে গেলে তার তো আবার বিশেষ প্রস্তুতি থাকে, সেদিন সে মেয়ে তনু ম্যাডামকে একেবারে চিকনাই করে ছেড়ে দেয় ঘণ্টা দুয়েকের পরিচর্যায়।

মণির আদরের তনু কবিতাগুচ্ছ পাঠ করে শোনাল। মুগ্ধ হলঘর করতালি মুখরিত। মণি এবার তনুর একটা কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের কথা ভাবছে। পাঁচ ফর্মার করার প্ল্যান আছে। সত্তর বাহাত্তরটা কবিতা হলেই হবে। তা তনুর সংগ্রহে এখন ষাটটার মতন আছে। বলেছে সপ্তাহ দু’য়েক সময় পেলেই নাকি নামিয়ে ফেলবে। মণির আদেশ লেখা শেষ হলেই যেন তনু তাকে ফোন করে। কোনও কালক্ষেপ না, সাথে সাথেই ডিটিপি-র জন্য চলে যাবে যথাস্থানে।

মণি খরচখরচা বাবদ দু’টো ইনস্টলমেন্টে পঁচিশ পঁচিশ করে মোট পঞ্চাশ দিতে বলেছে। বাকিটা নাকি মণি বুঝে নেবে। নীচে কোথাও কোনও ফুটনোট নেই, কোনও শর্তাবলী নেই, এমনকী নেই কোনও হিডেন কস্ট-ও। ফার্স্ট অ্যান্ড ফাইনাল যাকে বলে। হাতি কা দাঁত মরদ কা বাত। এই হচ্ছে মণি ঘোষাল।

ক্রমশ…

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব