ও মাই গড ২ এবং আক্কি-রসায়ন

অবশেষে তারিখ ঘোষণা করা হল৷ ও মাই গড ২ মুক্তি পেতে চলেছে আগস্টের ১১ তারিখ৷এমন একটি ঘোষণারই পোস্ট দিয়েছেন একদা রোড টু সঙ্গম খ্যাত ছবির নর্দেশক আমিত রাই৷ তিনিই  ও মাই গড ২ ছবির লেখক ও পরিচালক৷ওদিকে সম্রাট পৃথ্বিরাজ ছবির নির্দেশক চন্দ্রপ্রকাশ দ্বিবেদি, হলেন ও মাই গড ২-এর ক্রিয়েটিভ প্রোডিউসার৷

যদিও বক্স অফিসে সময়টা একদম ভালো যাচ্ছে না অক্ষয় কুমারের, তবু এই সময়েই মুক্তি আসন্ন সিকুয়েল ছবি O my God 2-এর৷ ‘সেলফি’, ‘রামসেতু’, ‘রক্ষাবন্ধন’, ‘সম্রাট পৃথ্বীরাজ’-এর মতো চর্চিত ছবি পরপর ফ্লপের ব্যর্থতা ভুলে আপতত ও মাই গড-এর ওপর আশা রাখছেন অক্ষয়।

এর আগে, ছবি পোস্ট করে ‘ওএমজি ২’-এ তার অভিনয় করার কথা ঘোষণা করেছিলেন অভিনেতা অক্ষয় কুমার স্বয়ং। ছবিতে অন্যান্য চরিত্রে দেখা যাবে ইয়ামি গৌতম, পঙ্কজ ত্রিপাঠীকে। ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছিলেন অভিনেতা– ‘আপনাদের আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছা চাই OMG2-এর জন্য।’ ক্যাপশনে তিনি উল্লেখ করেন এক প্রয়োজনীয় সামাজিক বার্তা দেবে এই ছবি। সম্প্রতি লঞ্চ হল এই ছবির নতুন পোস্টার৷ ছবিতে শিবকে যে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা পোস্টার এবং ক্যাপশনেই স্পষ্ট। বলিউডসূত্রে খবর, যৌন শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করবে এই ছবি।

২০১২ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘ওহ মাই গড’, বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পায় এই ছবি। ১১ বছর পর ছবির সিকুয়েল নিয়ে হাজির হচ্ছেন অক্ষয় কুমার। পোস্টারে দেখা মিলল মহাদেবের রুদ্ররূপের। মাথায় জটা, হাতে ডমরু, সারা গায়ে মাখা ছাইভস্ম, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা৷তাণ্ডব ভঙ্গিমায় রয়েছেন মহাদেব। ছবির পোস্টারে সামনে এনে অক্ষয় জানান, ‘আমি আসছি… আপনরাও আসুন, ওহ মাই গড ২ দেখতে আগামী ১১ই অগস্ট।’

হলিউডের বিখ্যাত ছবি The Man Who Sued God-এর থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই তৈরি হয়েছিল ‘ওহ মাই গড’। সেখানে অক্ষয়ের সঙ্গে দেখা মিলেছিল পরেশ রাওয়ালের, এবার জুটি বদল হয়েছে। ছবির সিকুয়েলে অক্ষয়ের সঙ্গে থাকছে পঙ্কজ ত্রিপাঠি। গত বার শ্রীকৃষ্ণ হিসাবে দেখা মিলেছিল আক্কির, এবার শিব।‘ওহ মাই গড ২’-এ দেখা মিলবে ইয়ামি গৌতম ছাড়াও, ‘রামায়ণ’ খ্যাত অভিনেতা অরুণ গোয়েলেরও।আবারও রামের চরিত্রেই থাকছেন তিনি।

আরও একটা বিষয় ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় সকলের নজর কেড়েছে। তা হল ‘ও এম জি ২’-এর যে-পোস্টার অক্ষয় কুমার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে, তাঁর গায়ের রঙ নীল।আর বড়ো বড়ো চুল৷ লুক নিয়ে বরাবরই এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করেন বলিউডের খিলাড়ি। এবারও তিনি নতুন ছবিতে নতুন লুকে ধরা দিয়েছেন। আর তা দেখে উচ্ছ্বসিত অনুরাগী থেকে নেট নাগরিকরা। কেউ কমেন্টে লিখেছেন, ‘হর হর মহাদেব’। আবার কেউ লিখেছেন, ‘আমরা সকলে অক্ষয় কুমারের সঙ্গে রয়েছি’।

২০১২-তে মুক্তি পাওয়া ‘ও এম জি’ দর্শককে প্রভাবিত করেছিল। এই ছবিতে অক্ষয় কুমার শুটিং শুরু করেছিলেন উজ্জয়নীতে।সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে,  ‘বচ্চন পাণ্ডে’, ‘সম্রাট পৃথ্বীরাজ’ দুটি ছবিই বক্স অফিসে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। ‘সম্রাট পৃথ্বীরাজ’-এর ব্যর্থতার দায় আবার পুরোটাই অভিনেতার উপর চাপিয়েছেন প্রযোজক আদিত্য চোপড়া। তা নিয়েও কম বিতর্ক তৈরি হয়নি। তাই বক্স অফিস কালেকশনের দিক থেকে অক্ষয় কুমার বর্তমানে কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছেনই বলা যায়। দেখা যাক শিব সত্যিই অক্ষয় কুমারের সহায় হন কিনা OMG 2 ছবিটি রিলিজ করার পর৷

বান্দিপুর অভয়ারণ্য (কর্ণাটক)

বান্দিপুর (কর্ণাটক)

ভারতবর্ষে যতগুলি ন্যাশনাল পার্ক রয়েছে তার মধ্যে সৌন্দর্যে এবং দক্ষ তত্ত্বাবধানের অন্তর্গত বলা যেতে পারে বান্দিপুর ন্যাশনাল পার্ককে।

কর্ণাটকের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার কোলে নীলগিরির গায়ে মাইসোর-উটি হাইওয়ের উপর, চামরাজনগর জেলায় অবস্থিত এই পার্কটির আয়তন ৮৭৪.২ স্কোয়ার কিলোমিটার। তামিলনাড়ুর মৃদুমালাই বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ, কেরলের ওয়েনাড বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং উত্তরে নাগারহোল ন্যাশনাল পার্ক বান্দিপুরের সঙ্গে যোগ হয়ে একত্রে ভারতের সবথেকে বড়ো প্রাণী সংরক্ষিত এরিয়া হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে।

মাইসোর থেকে বান্দিপুরের দূরত্ব মাত্র ৮০ কিলোমিটার এবং উটি থেকে ৭০ কিলোমিটার। সরকারি বাস, প্রাইভেট বাস এবং ট্যাক্সি যোগাযোগ রয়েছে মাইসোর থেকে।

বহু ধরনের বৃক্ষরাজির ভাণ্ডার এই অঞ্চলে। তার মধ্যে প্রধান টিক এবং রোজউড। বাঘের সংখ্যা হিসেবে Bandipur জাতীয় উদ্যান ভারতের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এছাড়াও আলগা ভল্লুক, মুগারস, ইন্ডিয়ান রক পাইথন, চার শৃঙ্গযুক্ত মৃগ, ধূসর ল্যাঙ্গুর, প্যানথার, জংলি কুকুর, শুয়োর, অ্যান্টিলোপ, চিতল, সম্বর, বার্কিং ডিয়ারের দেখা মেলে। হাতির সংখ্যা প্রচুর। হাতির দলের দেখা না পেয়ে এখান থেকে কাউকে ফিরে আসতে শোনা যায় না। সরীসৃপের মধ্যে পাইথন, কিং কোবরা, র‍্যাট স্নেক, গ্রিন পিট ভাইপার হামেশাই চোখে পড়ে। জলাশয়গুলিতে ২০০-র উপরে পাখির দেখা পাওয়া যায়। কুইলম, মালাবার গ্রে হর্নবিল, ট্রোগান, ব্লুউইং প্যারাকিট ইত্যাদি আরও বহু পাখির দেখা মেলে এখানে, যা পৃথিবীর কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না।

Bandipur-এর অন্যতম আকর্ষণ হিমাবাদ গোপালস্বামী বেট্টা (পাহাড়) মন্দির। পার্কের সর্বোচ্চ শিখরে (১৪৫৪ মিটার) এই মন্দির অবস্থিত এবং এখান থেকে পুরো বান্দিপুরের অপার্থিব সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়। বন্দিপুরের সংরক্ষিত এলাকার বুক চিরে বয়ে গেছে মোয়ার, কাবিনি এবং নুগু নদীর জলধারা। একসময় মাইসোরের মহারাজাদের প্রিয় শিকারের জায়গা ছিল বান্দিপুর। এখানে যাওয়ার সবথেকে ভালো সময় হল অক্টোবর থেকে মার্চ।

কীভাবে যাবেন : হাওড়া থেকে মাইসোর এক্সপ্রেস আপনাকে মাইসোর জংশনে নামিয়ে দেবে। মাইসোর থেকে বাস, ট্যাক্সি পৌঁছে দেবে বান্দিপুর।

কোথায় থাকবেন : বান্দিপুর টুরিজম বোর্ডের ‘জঙ্গল বাড়ি’ আছে পার্কের ভিতর। ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের গেস্ট হাউসেও থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বেশিরভাগ পর্যটকই মাইসোরে থেকে একদিনের জন্যে গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে আসতে পছন্দ করেন।

যোগাযোগের ঠিকানা : বান্দিপুর টুরিজম বোর্ডের ‘জঙ্গল বাড়ি’- ১৪৪৮৪৮৫ ১৬০, ০৮০-৪১৩০০০৮

ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট ‘গেস্ট হাউস’- অরণ্য ভবন (মাইসোর) – ০৮২১-২৪৮০৯০২ অথবা কলকাতার অথরাইজড্ এজেন্ট ‘ওয়েফেরার্স’, 2424-0682/ 6562। www.karnatakatourism.org

 

চোখ টেপা মেয়ে ( শেষ পর্ব )

হালকা গোলাপি রঙের শাড়ি পরে কাকলিকে খুব একটা খারাপ লাগল না অরিত্রর। ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটা চায়ের দোকানে বসে কাকলিই প্রথম কথা শুরু করল। বলল, “আপনাকে কষ্ট না দিয়ে আমার উপায় ছিল না, অরিত্রবাবু। আমার ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেননি তো আপনারা?”

—না। আপনাকে খোলাখুলি বলি,আমরা কলকাতায় এসে আরও দুটি মেয়েকে দেখেছি। —পছন্দ হলে ওই দুটি মেয়ের একটিকে বেছে নিন। আমাকে বিয়ে করবেন না অরিত্রবাবু।

বিস্ময়ে অরিত্রের মুখ হাঁ হয়ে গেল। মা-বাবার কাছে অরি্ত্র শুনেছে ঈর্ষাবশত কুচুটে পাড়াপড়শিরা বেনামি চিঠি লিখে বা ফোন করে কোনও মেয়ের বিয়ে ভাঙিয়ে দিত আগের দিনে। কিন্তু নিজের বিয়ে ভাঙতে মেয়ে নিজেই এসে হাজির! নিশ্চয়ই ও অন্য কাউকে ভালোবাসে। হয়তো পাড়ার কোনও দাদা হবে। কিন্তু এটা তো ওকে ফোনেও বলা যেত।

—এ কথাটা বলার জন্যই কি আমাকে এতদূর ডেকে আনা জরুরি ছিল? একটু বিরক্ত হয়েই বলল অরিত্র।

—না, আমি আপনাকে চোখ মেরে দিয়েছিলাম তার জন্য আপনার কাছে ক্ষমা চাইতেই আপনাকে ডেকে আনলাম। কাকলি দুই হাত জোড় করে মাথা ঝুঁকিয়ে ক্ষমা চাইল ওর কাছে।

অরিত্র বুঝতে পারল না কাকলি নাটক করছে না সত্যিই দুঃখ প্রকাশ করছে ওর ফিচলেমির জন্য।

—তা আমাকে দেখে চোখ টিপলেন কেন বলুন তো?

—আপনাকে এক নজর দেখেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম আপনি, আমরা যাকে সত্যিকার ‘ভালো ছেলে’ বলি তাই। হঠাৎ কীরকম বদবুদ্ধি মাথায় চেপে গেল, চোখ টিপে দিলাম। আপনারা চলে যাবার পরে মনে হল শেষ পর্যন্ত যদি আপনি আমাকে পছন্দ করে বসেন তবে তো কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে আর সেটা ঠেকাতেই এখানে ছুটে আসা।

—আপনি আমাকে ধন্দের মধ্যে ফেলে দিলেন। একদিকে আমাকে ভালো ছেলে বলছেন, অন্যদিকে আপনাকে বিয়ে করতে নিষেধ করছেন… আসল ব্যাপারটা কী খুলে বলুন দেখি?

চায়ে চুমুক দিয়ে কাকলি বলল, ‘আসলে আমি আপনার মতো ভালো ছেলের বউ হতে চাই না। আমার হিস্ট্রি জিওগ্রাফি কোনওটাই ভালো নয়। পাড়ার একটা ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল, সেটা এতদূর গড়িয়েছিল যে শেষে অ্যাবর্শন করাতে হল। ও আমাকে ডিচ্ করে আমারই এক কলেজের বান্ধবীকে পয়সার জন্য বিয়ে করল। আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে দাদা-বউদি ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটে আমার ছবি আর বায়োডাটা দিয়ে দিয়েছিল। এই নিয়ে তিনবার নিজের বিয়ে ভাঙলাম আমি। অন্যকে ঠকাতে মন চায় না যে, কী করব বলুন?’

কাকলি মাথা নীচু করল, সম্ভবত চোখের জল লুকোতেই। অরিত্র কিছু না ভেবেই ওর মাথায় হাত রাখল, তারপর পকেট থেকে রুমালটা বের করে ওর হাতে দিয়ে বলল, ‘আপনার সততার জন্য ধন্যবাদ জানাই আপনাকে। সম্বন্ধ করা বিয়েতে চেস্টিটি একটা ফ্যাক্টর আমি স্বীকার করি, কিন্তু সেটার জন্য বিয়ে আটকে থাকে না। আপনি চাইলে আপনার নিশ্চয়ই ভালো জায়গায় বিয়ে হবে।”

কাকলি ভেজা চোখ তুলে বলল, “ওসব কথা এখন থাক। আমাকে ক্ষমা করেছেন তো?”

অরিত্র মাথা হেলাল, তারপর বলল, ‘আপনার সঙ্গে কথা বলে কেন জানি আমার খুব ভালো লাগল। যদি আবার কখনও ফোনে কথা বলি কিছু মনে করবেন না তো?

—সেটাতো আমার সৌভাগ্য হবে। আপনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে সত্যিই খুব খুশি হব আমি।

চায়ের দোকান থেকে বেরিয়ে দু’জন দুদিকে পা বাড়াল কিন্তু কিছুটা গিয়ে একই সময়ে দু’জন ফিরে তাকাল। আর কাকলি হেসে আবার চোখ টিপল অরিত্রকে তারপর হাত তুলে টাটা করল।

তিন মাস পরে অফিসের কাজে কলকাতা এসে কাকলিকে বিয়ে করল অরিত্র। এই তিন মাসে অন্তত পঞ্চাশ বার ফোনে কথা বলেছে ওরা। কখনও লাঞ্চের সময়, কখনও বা রাতের দিকে আর প্রত্যেকবারই কথা শেষ করে অরিত্রর মনে হয়েছে এই পাগলি মেয়েটাকে নিয়ে জীবনে অসুখী হবার কোনও সম্ভাবনা নেই ওর।

কাকলির ইচ্ছেতেই বিয়েটা ওরা করল কালীঘাটে গিয়ে, দাদা বউদির উপস্থিতিতে। লাল শাড়ি, শাঁখা, সিঁদুর পরে ভিড়ের মধ্য দিয়ে বেরোনোর সময় ওরা দু’জন ছিটকে দু’দিকে চলে গেল। অরিত্র এদিক ওদিক তাকাচ্ছিল ঠিক সেসময়ই জোরে সিটি বাজল। অরিত্র মাথা ঘুরিয়ে দেখল পাঁপড় হাতে কাকলি দাঁড়িয়ে আছে একটু দূরেই। চোখে চোখ পড়তেই ও চোখ টিপল, যেমনটা টিপেছিল সেই প্রথম দিন।

                                                                                                                                         সমাপ্ত৷

অরণ্যের সান্নিধ্যে (বাংরিপোশি – ওড়িশা)

Bangriposhi (ওড়িশা)

কলকাতা থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটারের দূরত্বে বাংরিপোশির জঙ্গল। ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলায় অবস্থিত বাংরিপোশি। অনাবিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকর এই বন্য পরিবেশ। সপ্তাহ শেষের ছুটির সঙ্গে দুটো-তিনটে দিন, অনায়াসে এখানে কাটিয়ে আসা যায়।

হাওড়া থেকে ট্রেনে বালাসোর প্রথমে পৌঁছোতে হবে। সেখান থেকে Bangriposhi প্রায় ১০০ কিলোমিটারের দূরত্ব। গাড়িতে পৌঁছোতে প্রায় দু’ঘণ্টা। বিএসএনএল ছাড়া অন্যান্য মোবাইল নেটওয়ার্ক কাজ করে না, ফলে সভ্যতার বিড়ম্বনা থেকে মুক্ত।

সিমলিপাল ন্যাশনাল পার্কের তোরণদ্বার বলা হয় বাংরিপোশিকে। এখান থেকে দু ঘণ্টার দূরত্বে ছোটো ছোটো টিলা ও ঠাকুরানি পাহাড় চোখে পড়ে। ঠাকুরানি ছাড়াও বুড়াবুড়ি পাথরকুসি, বিদ্যাভাণ্ডার নামের নানান পাহাড় ঘিরে রেখেছে রূপসী বাংরিপোশিকে। মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে খরকাই নদী। এই নদীর ওপরেই গড়ে তোলা হয়েছে সুলাইপাট ড্যাম। পথের দু’ধারে পড়বে আদিবাসীদের ছোটো ছোটো কুঁড়েঘর, নিকানো উঠোন আর সুদৃশ্য লতাপাতা আঁকা আলপনায় চিত্রিত দেয়াল এবং লাল মাটির রাস্তা ধরে এগিয়ে চলার অভিজ্ঞতা সহজে ভোলার নয়। চারিদিকে নির্জন প্রকৃতি যেন অভ্যর্থনা জানাচ্ছে নতুন আগত অতিথিকে। ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে পাহাড়ি রাস্তায় দেখা মিলবে অসংখ্য বানর ও হনুমানের। জায়গায় জায়গায় রয়েছে হাতি চলাচলের করিডোর। নদীর সবুজ জল ড্যামের অপরদিকে বাঁধা পড়ে অপূর্ব এক মায়াজাল সৃষ্টি করেছে। ‘পিকনিক স্পট’ হিসেবে জায়গাটির জনপ্রিয়তা। এছাড়া স্বাধীনতা সংগ্রামী বাঘাযতীন, যে বুড়িবালাম নদীর চরে ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন সেটাও টুরিস্টরা দেখতে ভোলেন না। Bangriposhi রেল স্টেশন ছাড়িয়ে বুড়িবালাম নদীর ব্রিজ থেকে সূর্যদয় বা সূর্যাস্ত যেন শিল্পীর আঁকা ছবি। নদীর এক এক জায়গায় একেক রূপ। পাহাড়ের পটভূমিকায় ছোটো ছোটো ঝোপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা বুড়িবালাম নদীর নৈঃস্বর্গিক সৌন্দর্য মনে দাগ কাটে। গা ছমছমে আরণ্যক পরিবেশে নানা দিক দিয়ে ব্রাহ্মণ কুণ্ডে যাওয়ার পথ রয়েছে, পথ কখনও পীচের বা কনক্রিটের আবার কখনও বা শুধুই লালমাটির। এখানের গ্রামে গেলে দেখতে পাওয়া যায় প্রসিদ্ধ ডোকরা আর্ট কীভাবে রূপ পাচ্ছে কারিগরদের হাতের জাদুতে। যাওয়ার আদর্শ সময় শীতকাল।

কীভাবে যাবেন : হাওড়া থেকে ধৌলি এক্সপ্রেস অথবা ফলকনামা এক্সপ্রেসে বালাসোর পৌঁছোতে লাগবে প্রায় ৩ ঘণ্টা। বালাসোর থেকে গাড়ি ভাড়া করে যেতে হবে Bangriposhi (১০০ কিলোমিটার)। সময় লাগবে ২ ঘণ্টা।

কোথায় থাকবেন : ওটিডিশি-র পান্থশালা রয়েছে বাংরিপোশিতে। এছাড়াও দু-তিনটি প্রাইভেট হোটেলও রয়েছে।

যোগাযোগের ঠিকানা : ওটিডিশির পান্থশালার (বাংরিপোশি, এখন খইরি রিসোর্ট নামে পরিচিত) বাংলোর বুকিং পেতে হলে যোগাযোগ করতে হবে অরুণ মিশ্র(ওটিডিশি) – ০৯৪৩৭২৮৯৭৮৭, ০৬৭৯১২২৩২৯২, ০৮৩২৭৭৮৯৯৯৭(মোবাইল)। ০৬৭৯২-২৫২৭১০ (বারিপদা অফিস)। ০৬৭৯১-২২৩২৯২ (বাংরিপোশি)। কলকাতা যোগাযোগ ওড়িশা পর্যটন, উৎকল ভবন, ৫৫ লেনিন সরণি, কলকাতা-১৩, ফোন- ২২৪১- 3653।

চোখ টেপা মেয়ে (পর্ব ২)

শনিবার বিকেলে ওদের শর্ট লিস্টের শেষ মেয়েটিকে দেখতে ক্যাবে করে ওঁরা এসে হাজির হলেন সিরিটিতে প্রফুল্ল সেন কলোনির দেড়তলা একটা বাড়িতে। যারা ওঁদের অভ্যর্থনা করে বাইরের ছোটো ঘরটিতে বসালেন, তাঁরা সম্পর্কে মেয়ের দাদা বউদি। মেয়ের বাবা মারা গিয়েছেন বছর খানেক আগে। মা একটু মোটার দিকে, জর্দা দিয়ে পান খাবার অভ্যেস। কেতকীকে উনি সাদর আমন্ত্রণ জানালেন পান সেবন করার জন্য কিন্তু কেতকী হাত জোড় করে জানালেন ও রসে তিনি বঞ্চিত।

প্রথম নজরেই কাকলিকে অপছন্দ করে বসলেন কেতকী। মুখটা একটু চ্যাপটা ধরনের, রং শ্যামলা বলা চলে আর চোখদুটো ছোটো। শাড়ি না পরে চিকনের কাজ করা সালোয়ার কুর্তা পরে ও কি নিজেকে স্মার্ট বলে জাহির করতে চায় ওর ভাবি শ্বশুড়- শাশুড়ি আর বরের সামনে? থার্ড ডিভিশানে যে-মেয়ে পাস কোর্সে বিএ পাশ করেছে তার চাকরি জুটবে কী করে? তাই ছাতের ঘরে দুই ব্যাচে গোটা দশেক পাড়ার বাচ্চাকে পড়িয়ে নিজের হাত খরচাটা উঠিয়ে নেয় কাকলি।

মেয়ের দাদা বিকাশ কুঁদঘাটার একটা শাড়ির দোকানে সেল্সম্যান। এই পরিবারের মাসিক আয় যে পনেরো হাজার টাকার উপরে হবে না— সেটা বুঝতে অবিনাশ এবং কেতকীর কোনও অসুবিধে হল না। এই পরিবারের যা আর্থিক অবস্থা তাতে এ ঘরে বিয়ে হলে মেয়ের হাতে, গলায়, কানে পরাবার মতো গয়নার ব্যবস্থা ওরা করতে পারবে কিনা তাতে সন্দেহ জাগতেই পারে কেতকীর মনে!

কাকলিকে শর্ট লিস্টে রাখার পেছনে অরিত্র আর আবিনাশবাবুর একটাই যুক্তি ছিল— চোখে মুখে বুদ্ধির ছাপ আছে মেয়েটার। শুধু ওদের দু’জনের সন্মান রক্ষা করতেই চায়ের কাপটা হাতে তুলে নিয়ে কেতকী জানতে চাইলেন ও রান্নাবান্না জানে কিনা৷ কাকলি সরাসরি কেতকীর মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, বিয়ের পর ও কাজটা তো সব মেয়েকেই করতে হয় মাসিমা। কিন্তু আমরা তো বাঙাল, আমার রান্না কি আপনাদের পছন্দ হবে?

কাকলির বউদি শম্পা আগ বাড়িয়ে বললেন, ‘কেন তুই তো ঘটিদের রান্নাও জানিস। বিউলির ডাল আর আলুপোস্ত করে খাওয়ালি সেদিন, খুব ভালো হয়েছিল।’

—সে আমাদের রান্না না হয় শিখিয়ে নেওয়া যাবে, বললেন কেতকী। আর বেশি সময় দিতে রাজি নন উনি এ দারিদ্র্যক্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে। ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন, “তোর কিছু জিজ্ঞেস করার থাকলে এই বেলা জিজ্ঞেস করে নে খোকা। আমাদের আবার শপিং করতে যেতে হবে তো।’

অরিত্র মাথা তুলে ওর দিকে তাকাতেই ওকে চোখ মারল কাকলি। অরিত্র প্রথমে ভাবল মেয়েটা হয়তো একটু ট্যারা তাই… কিন্তু মেয়েটা যেভাবে ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল তাতে বুঝল, ও ভুল দেখেনি। আশ্চর্যের ব্যাপার ওর বাবা-মা কেউই লক্ষ্য করেননি মেয়েটার এই শরারতি।

গেস্টহাউসে ফিরে খাওয়াদাওয়া সেরে মা-বাবা টিভির সামনে বসে গেলেন আর অরিত্র চলে গেল ব্যালকনিতে। পথে আসতে আসতেই মা জানিয়ে দিয়েছিলেন বেলেঘাটার মেয়ে শুভমিতাকেই ওঁর পছন্দ আর বিয়ের ব্যাপারে বাবার নয়, মার পছন্দটাই যে শেষ কথা, সেটা অরিত্রও ভালো ভাবেই জানে।

শুভমিতাকে অরিত্র-র খারাপ লাগেনি, খারাপ লাগেনি বাগুইআটির বর্ণালিকেও। ওদের দু’জনেরই কিছু গুণ এবং ক্ষমতা আছে যা হয়তো তার নেই। অরিত্রর মনে হয় বিয়ের জন্য মেয়ে দেখা ব্যাপারটাই একটা মধ্যযুগীয়, কুৎসিত সামাজিকপ্রথা কিন্তু একটি মেয়েকে ভালোবেসে বিয়ে করার জন্য যে সাহস, সময় এবং উদ্যোগের প্রয়োজন তা কোনওদিনই খুঁজে পায়নি অরিত্র। আর সেই জন্যই এই নোংরা প্রথাটাকে মেনে চলতে হচ্ছে ওকে।

কিন্তু কাকলি নামের মেয়েটি তাকে চোখ মেরে বসল কেন? ও কি তাকে ঠাট্টা করল মা বাবার সঙ্গে মেয়ে দেখতে এসেছে বলে? নাকি ওর অন্য কোনও মতলব আছে? অনেক রাত পর্যন্ত কাকলির চোখ টেপার পিছনে কী হেঁয়ালি আছে বুঝবার চেষ্টা করে ঘুমিয়ে পড়ল অরিত্র।

পরের দিন সকাল ন’টা নাগাদ ফোনটা এল অবিনাশবাবুর কাছে। কেতকী তখন বাথরুমে৷ ‘ও হ্যাঁ, ও কাছেই আছে, দিচ্ছি ওকে।” অবিনাশবাবু মুচকি হেসে মোবাইলটা এগিয়ে দিলেন অরিত্রর দিকে। ‘নাও কথা বলো কাকলির সঙ্গে’, অবিনাশবাবু বললেন গলা খাটো করে। ‘হ্যাঁ বা না বলার দরকার নেই এখন।’

অরিত্র ভাবতে পারেনি কাকলি ওকে সরাসরি ফোন করবে। ‘হ্যালো’ বলতেই কাকলি বলল, ‘অবাক হয়েছেন নিশ্চয়ই, বুঝতে পারছি। আপনার সঙ্গে আমি একটু কথা বলতে চাই— ফোনে নয়, সাক্ষাতে। কখন কোথায় আমার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন যদি বলেন।’

—বিকেলে আমাদের ফ্লাইট, কাজেই দেখা করতে হলে এখনই দেখা করতে হয়, অরিত্র বলল। কিন্তু আপনি তো সিরিটিতে থাকেন আর আমি এখন সল্টলেকে।

—নো প্রবলেম। মাঝামাঝি কোনও জায়গায় দেখা করতে পারি আমরা। আমি যদি মেট্রোতে পার্ক স্ট্রিট এসে যাই?

—তাই করুন। পার্ক হোটেলের সামনেই দাঁড়াবেন। সাড়ে দশটা, ঠিক আছে?

—একদম। অনেক ধন্যবাদ।

                                                                                                                                        চলবে…

চোখ টেপা মেয়ে ( পর্ব ১)

প্রফুল্ল সেন কলোনি থেকে বেরিয়ে ক্যাবে বসে কেতকী ঘোষণা করে দিলেন, এই মেয়ে আমি ঘরে তুলব না। আমার মুখের দিকে যেভাবে ও সোজাসুজি তাকাল তাতে মনে হল ও আমাকে পারলে গিলে খায়।

অবিনাশবাবু হেসে বললেন, “কেন ও তো তোমাকে মাসিমা বলে ডাকল। তুমি ওকে আমাদের রান্নাবান্না শিখিয়ে দেবে বললে… আমার তো মনে হল খুব ইন্টেলিজেন্ট মেয়েটা আর সোজাসুজি কথা বলে।’

—অত স্পষ্ট বক্তা মেয়ের দরকার নেই বাপু আমার। চ্যাপটা মুখ, জোড়াভুরু, ছোটো ছোটো চোখ। দশ জনের সামনে দাঁড় করানো যাবে না ওকে। আমার শুভমিতাকেই পছন্দ, স্পষ্ট বলে দিলুম।

অবিনাশবাবু তাকালেন ছেলের দিকে। ‘কী রে খোকা, তুই কী ভাবছিস?”

অরিত্র যা ভাবছিল তা মা-বাবাকে কী করে বলবে ও? মেয়েটা যে ওকে চোখ টিপে দিয়েছে সেটা আর কেউ না দেখুক, ওতো দেখে নিয়েছে। বহুদিন আগে শোনা কুমার শানু আর কবিতা কৃষ্ণমূর্তির গাওয়া সেই হিন্দি ছবির গানের কলিটাই মনে মনে ভাঁজছিল অরিত্র – ‘আঁখ মারে, ও লেড়কি আঁখ মারে/ দিল ধড়কায়ে, বিচ সড়ক মে নখরে দিখায়ে উয়ো সারে/ হো করকে ইশারে ও লেড়কি আঁখ মারে’।

গাজিয়াবাদের বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট-এ কর্পোরেট ফাইন্যান্সিং পড়ায় অরিত্র। আইআইটি, আইআইএম-এর প্রোডাক্ট অরিত্র দাশগুপ্ত লম্বা, সুদর্শন, মৃদুভাষী, কর্তব্যনিষ্ঠ, উনত্রিশ বছরের যুবক। বছরে আঠাশ লাখ টাকার প্যাকেজ, পাণিপ্রার্থী যুবক, তার বাড়ির সামনে তো মেয়েদের লাইন লেগে যাবারই কথা! কিন্তু অরিত্র আঠারো ঘণ্টা ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করে এমন মেয়ে ঘরে আনতে চায় না। ও চায় এমন একটি ঘরোয়া মেয়ে যে নিজের শিক্ষার মর্যাদা দিতে দিনে কয়েক ঘন্টার জন্য ছোটোখাটো কোনও কাজ করুক ক্ষতি নেই কিন্তু ঘরেই বেশির ভাগ সময় থাকবে।

বড়ো কোম্পানিতে উচ্চ শিক্ষিতা যেসব মেয়েরা কাজ করে, তারা নিজের কেরিয়ার খারাপ করে হাউজওয়াইফ হতে রাজি নয়। কাজেই দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই-এ কর্মরতা হাজার হাজার উচ্চশিক্ষিতা বিবাহযোগ্যা মেয়েদের প্রলোভন এড়িয়ে দক্ষিণ কলকাতার গলি খুঁজিতে মেয়ে খুঁজতে বেরিয়েছে অরিত্র।

গুড ফ্রাইডের ছুটির সঙ্গে শনি আর রবিবারের ছুটি মিলিয়ে তিনটে দিন হাতে পেয়ে, প্লেনে করে বাবা-মাকে নিয়ে কলকাতা ছুটে এসেছে অরিত্র। যে-তিনটি মেয়েকে ম্যাট্রিমনিয়াল সাইট ঘেঁটে কেতকী আর অবিনাশ আগে থেকেই শর্ট লিস্ট করে রেখেছিলেন, তাদের মধ্যেই একটি মেয়েকে পছন্দ করে যাবেন ওঁরা। থাকার ব্যবস্থা সল্টলেক সেক্টর ফাইভে ওদের ইন্সটিটিউট-এর গেস্ট হাউসেই করে নিয়েছে অরিত্র।

শুক্রবার বিকেলে বেলেঘাটায় একটি মেয়ে দেখে শনিবার বাকি দুটো মেয়ে দেখার ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন অবিনাশ। বেলেঘাটার মেয়েটি দেখতে সুশ্রী, কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে এমএসসি করেছে, একটা প্রাইভেট স্কুলে পড়ায় সে। কেতকীর মেয়েটিকে একরকম পছন্দ হয়ে গিয়েছে। দিল্লিতে এলে ওকে কোনও স্কুলে ঢুকিয়ে দিতে পারবে অরিত্র। ওর নামটাও পছন্দ হয়েছে কেতকীর— শুভমিতা।

পরের দিন সকালে বাগুইআটির বর্ণালিকে দেখতে গেল ওরা। মেয়েটি বড্ড রোগা, চোখে চশমা, দমদম পার্কের কোনও এক উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে ইংরেজি পড়ায়। কথাবার্তা খুব গুছিয়ে বলতে পারে মেয়েটি যেটা ভালো শিক্ষিকা হবার জন্য প্রয়োজন। ওর ব্যাকগ্রাউন্ডও খুব ভালো, বাবা কাকা দাদারা সবাই স্কুল কলেজে পড়ান অথবা সরকারি চাকরি করেন। রংটাও বেশ ফরসা ছিল বর্ণালির, কিন্তু স্বাস্থ্যের কারণে ওকে ঘরে তুলতে ইচ্ছুক নন কেতকী। ছেলেপুলে যদি মায়ের মতো রোগা পটকা হয় তবে বাবা-মার আজীবন ভোগান্তি।

                                                                                                                                      চলবে….

জলে-জঙ্গলে (তাডোবা – মহারাষ্ট্র)

তাডোবা (মহারাষ্ট্র)

যাদের জঙ্গল আগে কখনও দেখা হয়নি তাদের Tadoba নামটা কিছুটা অচেনা ঠেকতে পারে। এটি ১৯৭২ সালে বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ভারতে গৃহীত একটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ প্রকল্প। ২০০৭ সালের হিসেব অনুযায়ী দেশের ৩১,৭৬১ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ৪০টি ব্যাঘ্র প্রকল্প বন্যপ্রাণী সংরক্ষণাগার রয়েছে। ১৯৯০ এর দশকে বাঘের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৩,৫০০ কিন্তু ২০০৮ এ ব্যাঘ্রগণনা থেকে জানা যায় সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১,৪১১। কিন্তু প্রকৃতি প্রেমিক এবং বন-জঙ্গল ও বন্যপ্রাণী যারা ভালোবাসেন তাদের কাছে Tadoba আন্ধারি ন্যাশনাল পার্ক খুবই প্রিয় একটি ডেস্টিনেশন হয়ে উঠেছে। মহারাষ্ট্রের সবথেকে পুরোনো এবং বড়ো এই ন্যাশনাল পার্কটি, চন্দ্রপুর জেলায় অবস্থিত। নাগপুর থেকে মাত্র ৩ ঘণ্টার ড্রাইভ করে এখানে পৌঁছোনো যায়।

‘Tadoba’ নামটি এসেছে, এখানকার আদিবাসীদের পূজ্য দেবতা ‘তাড়ু’ থেকে এবং ‘আন্ধারি’ হচ্ছে নদীর নাম যেটি এই সংরক্ষিত জঙ্গলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চলেছে। এই ন্যাশনাল পার্কটির মূল আকর্ষণ হল এর ক্রমবর্ধমান বাঘের সংখ্যা। এছাড়াও রয়েছে অন্যান্য বন্যপ্রাণী যেমন লেপার্ড, শ্লথ বেয়ার, সম্বর, শিয়াল, বাইসন, কুমির, বার্কিং ডিয়ার, নীলগাই, স্পটেড ডিয়ার, উড়ন্ত কাঠবেড়ালি, বন্য শুয়োর ও কুকুর, লঙ্গুর ইত্যাদি। এই ন্যাশনাল পার্ক এবং ব্যাঘ্র প্রকল্পে বন্যসম্পদেরও ছড়াছড়ি। গাছের মধ্যে রয়েছে টিক, বিজা, ধাওদা, বাঁশ, হালদু, অর্জুন, তেন্দু, সালাই, জাম, মহুয়া ইত্যাদির সম্ভার। তাড়োবা হ্রদ-টিও টুরিস্টদের অন্যতম আকর্ষণের জায়গা। এখানে যাওয়ার সবথেকে ভালো সময় হল ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস।

কীভাবে যাবেন : সবথেকে সহজ উপায় নাগপুর হয়ে তাড়োবায় পৌঁছোনো। হাওড়া থেকে ট্রেনে নাগপুর (গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেস, আমেদাবাদ এক্সপ্রেস, হাওড়া-মুম্বই এক্সপ্রেস এবং হাওড়া-মুম্বই মেল জ্ঞানেশ্বরী সুপার ডিলাক্স)। নাগপুর থেকে চন্দ্রপুর গাড়ি, বাস সব যায়। চন্দ্রপুর থেকে Tadoba ন্যাশনাল পার্ক মাত্র ১ ঘণ্টার ড্রাইভ (৩২ কিলোমিটার)।

কোথায় থাকবেন : Tadoba লেকের সামনে এমটিডিসি-র রিসর্ট আছে। মহারাষ্ট্র ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (এফডিসিএম) ৫টি ইকো-হাট এবং গেস্টহাউস সম্প্রতি টুরিস্টদের জন্য খোলা হয়েছে।

যোগাযোগের ঠিকানা : এমটিডিসি অফিস আছে মুম্বই এবং নাগপুরে। টোল-ফ্রি নম্বর 1800 229930। এফডিসিএম-এর অনলাইন বুকিং করাতে এই লিঙ্কটি ব্যবহার করুন। www.maharashtratourism.gov.in

কলকাতা যোগাযোগ : ১৫৫ লেনিন সরণি, নিগম সেন্টার, দ্বিতীয় তল, সুইট নম্বর ২১৭, কমলালয় সেন্টার-এর পাশে, কলকাতা-৭০০০১৩। ফোন- ২২১৫৮৭৪৫।

কুর্তি–কামিজে ফ্যাশনেবল

ফ্যাশনেবল হতে গেলে যে ভীষণ দামি জামাকাপড় কিনতে হবে তা মোটেই নয়৷ আপনার ড্রেসিং সেন্স যদি ভালো হয়. সাধারণ সাজেও আপনি হয়ে উঠতে পারেন অসাধারণ৷আজকাল ফ্যাশন সচেতন নন, এমন মানুষ পাওয়া বেশ মুশকিল।ঘরে-বাইরে, ঋতুভেদে, ফ্যাশনপ্রেমী মানুষ সবসময় চায় পোশাকে নতুনত্ব।

এ সময়কার মেয়েদের পোশাকের তালিকায় বড়ো জায়গা জুড়ে আছে কুর্তি এবং কামিজ। আজকাল যেহেতু ফ্যাশন জগতে বিশ্বায়নের প্রভাব ব্যাপক, তাই এতে প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে নিত্যনতুন ধরনের কুর্তি বা টপসের ব্যবহার।বিশেষ করে কিশোরী থেকে তরুণীরা বেসিক প্যাটার্ন ও টপস-কুর্তি কাটের মধ্যেও খুঁজে বেড়ান বৈচিত্র্য। কিন্তু সনাতনী ভারতীয় সাজে সালোয়ার -স্যুটের চাহিদা আজও অক্ষুন্ন৷ভালো সালোয়ার স্যুট পরে বিবাহ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া আজও ভারতীয় সংষ্কৃতিরই অঙ্গ৷ কুর্তি এবং টপস ছাড়াও তাই সুন্দর নকশা বা এমব্রয়ডারি করা কামিজ, ফ্যাশনে চিরকালীন ক্রেজ৷

ফরমাল পরিবেশে সালোওয়ার কামিজ আভিজাত্য নিয়ে আসে। রাতে ও দিনের সব আয়োজনেই, যার ব্যবহার আপনাকে করে তুলবে আরও ফ্যাশনেবল।আবার ক্যাজুয়াল সাজের জন্য সব ধরনের কুর্তি মানিয়ে যায়৷  কুর্তি এবং টপস আজকাল মেয়েদের বিশেষ পছন্দের পোশাক। কারণ কুর্তি, টপসের কাটিংয়ে রয়েছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। পোশাকটা ঢিলা হওয়ায় এর সঙ্গে একটু চাপা টাইপের জিন্স  বা Ankle length প্যান্টের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায় এবং লেগিংসের সঙ্গেও দেখতে ভালো লাগে।

একরঙা ও প্রিন্ট দু-ধরনের লেগিংসের সঙ্গে একটা সলিড কালার কুর্তি পরে ফেলা যায় নির্দ্বিধায়। টপসের চেয়ে কুর্তিতে লেন্থটা বেশি থাকে। তাই স্ট্রেট প্যান্টস-এর সঙ্গে মানায় ভালো৷কিছু কুর্তিতে নানা ডিজাইনের কলার ব্যবহারে নতুনত্ব আনা হচ্ছে আজকাল। কুর্তির নীচের অংশের কাটে নতুনত্বের প্রয়াস চোখে পড়ার মতো। গোলাকার, অ্যাসিমেট্রিকাল কাটের বৈচিত্র্য নিয়ে আসা হয়েছে সেখানে।

এদিকে কামিজের নীচের অংশে মানে বটম লাইনে লেয়ারিং নকশা দেখা যাচ্ছে আজকাল। সামনের অংশের চেয়ে পেছনের বেশ খানিকটা ঝুল নামানো কাটিংও আছে। বিভিন্ন কাটিং ও প্যাটার্নে তৈরি হচ্ছে কামিজগুলি৷ কখনও গলায়, কখনও হাতা অথবা বটম লাইনে আসছে বৈচিত্র্য।

সিল্ক, খাদি সিল্ক, মটকা, জর্জেট, সুতি কাপড়ের ব্যবহার বেশি হচ্ছে। টপস এবং কুর্তির কাটের মধ্যেও বৈচিত্র্য আনা হচ্ছে। ইয়োকে থাকছে পুঁতি-চুমকি, প্যাচওয়ার্ক-সহ বিভিন্ন কাজ৷ কখনও কলমকারি বা আজরখের ব্যবহারে ইয়োকে যোগ করা হচ্ছে নতুনত্ব।

কুর্তি বা কামিজ শুধু আড্ডা বা ঘোরাঘুরিতেই নয়, অফিস অথবা কলেজেও দারুণ মানানসই। আজকাল সালোয়ার-কামিজে অনেক টিনই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। আবার ফ্রকও এ সময় ঠিক তাদের মানায় না। তাই বিকল্প হিসেবে কামিজ বা কুর্তি পরছেন জিন্স-এর সঙ্গে৷ ইউনিভার্সিটি, বার্থডে পার্টি, হ্যাংআউট, কেনাকাটা– এমনকী কর্পোরেট কালচারেও পোশাকটি নিজের জায়গা করে নিয়েছে গুরুত্বের সঙ্গে।

স্পাইস ইট আপ (শেষ পর্ব)

বেশিরভাগ মানুষই এখন ব্যস্ত। এই ব্যস্ততার কারণে আত্মসুখের বিষয়টিকে অনেকে সঠিক ভাবে গুরুত্ব দেন না কিংবা গুরুত্ব দিতে পারেন না। অথচ আত্মসুখ ছাড়া জীবন বৃথা। আর এই আত্মসুখের মধ্যে রয়েছে মানসিক এবং শারীরিক তৃপ্তি-র বিষয়। মনে রাখতে হবে, খাওয়া-পরার মতো দাম্পত্য জীবনে যৌনতার গুরুত্ব অপরিসীম। এই বক্তব্য মেনে নিলে, যৌনসুখ পেতেও হবে, আবার পার্টনার-কে যৌনসুখ দিতেও হবে। তবেই মজবুত হবে সম্পর্কের ভিত। কিন্তু সত্যিটা এই যে, ভরপুর যৌনতা বা যৌনক্ষমতা সবার মধ্যে থাকে না। এই না-থাকার বিষয়টিতে খলনায়কের ভূমিকা নিয়েছে আধুনিক জীবনশৈলী। আমরা এখন এতটাই যান্ত্রিক, এতটাই আরামপ্রিয় যে, শরীরকে ফিট রাখার মতো সামান্য পরিশ্রমও করি না। তাছাড়া ফার্স্ট ফুড, ভেজাল খাবার খেতে খেতেও আমরা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে ফেলেছি। সেইসঙ্গে, এখন বাতাসে ভাসছে বিষ। তাই জল, বায়ু সবই দূষিত। আর এই দূষিত জলবায়ুও সুস্বাস্থের পরিপন্থী। এছাড়া অফিসে ওয়ার্কলোড, অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা, সাংসারিক ঝুট-ঝামেলা প্রভৃতির কারণেও বাড়ছে মানসিক চাপ এবং অবসাদ। এরই পাশাপাশি রয়েছে অপুষ্টি, অনিদ্রা, হরমোনাল ইমব্যালেন্স, ওবেসিটি এবং ডায়াবেটিস-এর সমস্যা। ফলে এখন অনেকেরই কমছে যৌনইচ্ছে কিংবা যৌনক্ষমতা। অনেকে তো আবার চল্লিশ বছর বয়সেই যৌনশক্তি পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেন। অতএব, যৌনক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যম করা যেতে পারে মশলাকে। কারণ, ভারতীয়দের রান্নায় ব্যবহৃত কিছু মশলায় রয়েছে যৌনক্ষমতা বাড়ানোর রসদ। এবার জেনে নিন, কোন্ কোন্ মশলা কীভাবে খেলে বাড়বে আপনার যৌনক্ষমতা। আজ শেষ পর্ব।

এলাচ :

যৌনক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম মাধ্যম হতে পারে। এলাচ। এই মশলাটি খেলে যেমন মুড ভালো থাকে, তেমনই যৌন উত্তেজনা বাড়ে। তাছাড়া, সঙ্গমকালে শরীরকে ঠান্ডা রেখে চট করে ডিসচার্জ হতে দেয় না। এলাচ আপনি সরাসরি চিবিয়ে খেতে পারেন কিংবা চায়ের সঙ্গে ফুটিয়ে খেতে পারেন। সেক্স ড্রাইভ বৃদ্ধির জন্য নারী-পুরুষ উভয়েই খেতে পারেন এলাচ। তবে এটা শুধু যৌনক্ষমতাই বৃদ্ধি করে না, ডিপ কিস করার আগে কিংবা ওরাল সেক্স করার আগে এলাচ চিবিয়ে খেলে মুখ থেকে সুগন্ধ বেরোয় এবং মুখের ভিতরের জীবাণু নাশ হয়।

আদা :

রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি, সেক্স গ্রন্থিগুলিকে অ্যাক্টিভ রাখতে সাহায্য করে আদা। আসলে ব্রেস্ট, ভ্যাজাইনা কিংবা পেনিস এই তিনটি প্রধান সেক্স-অরগান-এ রক্ত সঞ্চালন ঠিকঠাক হলে তবেই যৌনসঙ্গমে সাফল্য পাওয়া যায়। আর এই যৌন সাফল্যের রসদ লুকিয়ে আছে আদায়।

হলুদ :

স্নায়ু দুর্বল হলে যৌনসঙ্গমের সাফল্যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। তাই স্নায়ুকে সবল করতে হবে। আর এর জন্য চাই হলুদ। খালি পেটে নিয়মিত কিছুটা কাঁচা হলুদ চিবিয়ে কিংবা বেটে শরবত বানিয়ে খেতে পারলে যেমন আপনার নার্ভাস ডিসঅর্ডার-এর সমস্যা মিটবে, ঠিক তেমনই বাড়বে আপনার যৌনক্ষমতা। নারী-পুরুষ উভয়েই খেতে পারেন এই কাঁচা হলুদ।

লবঙ্গ :

সেক্স ড্রাইভ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দারুণ ভাবে কাজ করে লবঙ্গ। মাত্র দুটো লবঙ্গ চিবিয়ে খেতে পারলে কিছুক্ষণের মধ্যে আপনার শরীর গরম হয়ে উঠবে এবং যৌন অঙ্গগুলি প্রো-অ্যাক্টিভ হয়ে উঠবে। তবে লবঙ্গ যাদের চিবিয়ে খেতে অসুবিধা হয়, তারা চা-কড়িতে ফুটিয়ে কিংবা হট্‌ চকোলেট দিয়ে খেলেও একই ফল পাবেন।

বাঙালির সাবেক রান্না

অতিথি আপ্যায়নও আমাদের এই যাপিত জীবনেরই অঙ্গ। একে একধরনের সামাজিক বিনোদনও বলা যায়। এক সময় অতিথি বাড়িতে এলে, দোকান থেকে মিষ্টি বা রোল, চপ কাটলেট কিনে আনার চল ছিল না৷ কোনও অ্যাপ-এ খাবার অর্ডার দেওয়ার তো প্রশ্নই নেই৷ তখন বাড়িতেই তৈরি হতো এই স্পেশাল খাবারগুলি৷ চলুন ফিরে দেখা যাক সেই সব পদ৷

কেশরি সন্দেশ

উপকরণ : ১ কিলো ছানা, ২৫০ গ্রাম চিনি, এক চিমটে জাফরান, ৪-৫ চামচ গোলাপজল, পেস্তা সাজানোর জন্য, ৫০ গ্রাম খোয়াক্ষীর।

প্রণালী : ছানা ভালো করে চটকে নিন। চিনি মিশিয়ে আরও মসৃণ করে মাখুন তারপর একটি পাত্রে রেখে ঢিমে আঁচে গরম করুন। ১০ মিনিট পর ছানা দানা বাঁধা শুরু করলে আঁচ থেকে নামিয়ে নিন। গোলাপজলে ভেজানো জাফরান দিয়ে আবার ভালো ভাবে ছানা মাখতে থাকুন। মসৃণ মণ্ডটা সমান ভাবে একটি প্লেটে চারিয়ে নিয়ে উপর থেকে পেস্তা ও খোয়াক্ষীর ছড়িয়ে দিন। এবার সন্দেশ ইচ্ছেমতো আকারে কেটে পরিবেশন করুন।

ঘুঘনি

Gughni recipe

 

উপকরণ : ১ কিলো মটর, ৫০০ গ্রাম পেঁয়াজ, ৫০ গ্রাম আদাবাটা, ৫০ গ্রাম রসুন ও লবঙ্গ পেস্ট, ৫০০ গ্রাম টম্যাটো, নুন স্বাদমতো, ২ চা-চামচ হলুদগুঁড়ো, ২ চা-চামচ লংকাগুঁড়ো, ২ চা-চামচ জিরেগুঁড়ো, ১০ গ্রাম গরম মশলাগুঁড়ো, ৫০০ গ্রাম আলু, ২৫০ গ্রাম সরষের তেল, ৫টা তেজপাতা।

প্রণালী : মটর ঘন্টা ছয়েক জলে ভিজিয়ে রাখুন। এবার মটর ও আলুকুচি ২ লিটার জলে সেদ্ধ করে নিন। একটি প্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজকুচি ছেড়ে দিন। বাদামি হলে এতে টম্যাটো, আদাবাটা, রসুন-লবঙ্গ বাটা দিয়ে ১০ মিনিট নাড়াচাড়া করুন। এবার হলুদগুঁড়ো দিন ও লংকাগুঁড়ো দিন। জিরেগুঁড়ো ও তেজপাতা দিয়ে আরও ৫ মিনিট কষতে থাকুন। সেদ্ধ মটর ও আলু এতে মিশিয়ে নুন ছড়িয়ে রান্না করুন। ঘন হয়ে এলে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

মাটন ঘুঘনি

Mutton Ghugni recipe

উপকরণ : ২৫০ গ্রাম কাবলি মটর, ২৫০ গ্রাম মাংসের কিমা, ২টো বড়ো পেঁয়াজ, ৫০ গ্রাম আদা, ৪ কোয়া রসুন, ২টো টম্যাটো, প্রয়োজন অনুসারে লংকাগুঁড়ো, হলুদগুঁড়ো, এমডিএইচ মশলা, ধনেপাতা, জিরেগুঁড়ো, নুন ও তেল, অল্প গোটা জিরে।

প্রণালী: মটরগুলো আগের রাতে ভিজিয়ে রাখুন। একটি প্যানে তেল গরম করুন। জিরে ফোড়ন দিন। এবার কুচোনো পেঁয়াজ, আদা-রসুনবাটা ও টম্যাটো দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। পেঁয়াজ বাদামি হলে হলুদগুঁড়ো লংকাগুঁড়ো দিন। এবার কিমাটা দিয়ে দিন। নুন ছড়িয়ে ভালো করে কষতে থাকুন। এরপর ভেজানো মটরগুলো দিয়ে দিন ও নাড়তে থাকুন। এমডিএইচ মশলা ছড়িয়ে ও প্রয়োজনমতো জল দিয়ে ১ ঘন্টা রান্না হতে দিন। মটর ও মাংসের কিমা সেদ্ধ হয়েছে বুঝলে নামিয়ে, ধনেপাতাকুচি ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব