সামলে চলুন সন্তানের বয়ঃসন্ধি

রাত্তিরে ডিনারের একটা ইনভিটেশন আছে। হাজব্যান্ডের অফিসের একটা ফরম্যাল পার্টি। ফুল ফ্যামিলি ইনভাইটেড। ঠিক সময়ে আপনি ড্রেস-আপ করে ঘরের বাইরে এসে দাঁড়াতেই আপনার মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে উঠল। আপনার ১৭ বছরের Puberty time ছেলে অলরেডি তৈরি হয়ে বসবার ঘরে অপেক্ষা করছে। ফরম্যাল ড্রেসের বদলে তার পরনে ছেঁড়া ফাটা জিনস, টি-শার্ট এবং পায়ে নোংরা স্নিকার্স। সেটা পরে আর যাই হোক, ফর্ম্যাল পার্টিতে কখনওই যাওয়া যেতে পারে না। সুতরাং পরের ১৫ মিনিট আপনার কাটবে ছেলেকে বোঝাতে, যাতে সে পোশাকটা আপনার রুচি অনুযায়ী পালটায়। কিন্তু বৃথাই তাকে বোঝানো কারণ এরপরই নাটকের যবনিকা পতন, প্রচণ্ড জোরে দরজা বন্ধ হওয়ার আওয়াজে। পার্টিতে আপনি গেলেন ঠিকই কিন্তু ছেলেকে ছাড়াই।

শুধু ছেলেরাই বা কেন, আপনার ১৩ বছরের মেয়ের কথাই ধরুন না কেন। বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিকে যাবে আপনার কাছে অনেকদিন আগেই পারমিশন নিয়ে রেখেছে। আপনিও সবদিকে খোঁজখবর নিয়ে ‘হ্যাঁ’ বলেছেন এবং আপনার কয়েকটি শর্তের কথাও মেয়েকে জানিয়ে দিয়েছেন। পৌঁছে ফোন করে দিও এবং মাঝেমধ্যে এক-দুবার আরও ফোন করে খবরাখবর জানিও। আর অবশ্যই পিকনিক থেকে ফেরার সময় ধার্য করে দিয়েছেন যেটা মানা মেয়ের জন্যে বাধ্যতামূলক। মেয়েও আপনার সমস্ত শর্তে রাজি। এক্ষেত্রে মা-মেয়ের দ্বন্দ্ব থাকারই কথা নয় তাও পিকনিকের দিন সকালবেলায় আপনার মেজাজ খারাপ হল। বুঝলেন মস্ত ভুল করে ফেলেছেন, মেয়ের ড্রেসকোড নির্দিষ্ট করে দেননি। মেয়ের শর্ট ড্রেস আপনাকে ক্ষুব্ধ করল।

ড্রেসের লেংথ নিয়ে আপনার নিজস্ব মাথাব্যথা খুব একটা না থাকলেও রাস্তাঘাটে হিংস্র নেকড়ের অভাব নেই। এটাই আপনার মূল কনসার্ন। মেয়েকে ড্রেস চেঞ্জ করে পিকনিকে যেতে বলার সঙ্গে সঙ্গে পুরো দৃশ্যপটের পরিবর্তন। চ্যাঁচামেচি, রেগে পা ঠোকা মেঝেতে, কান্নাকাটি এবং জোরে দরজা বন্ধ হওয়ার আওয়াজ।

এই দুটি দৃষ্টান্তই টিনএজ ছেলেমেয়েদের রাগের এবং প্রত্যেক পরিবারের অভিভাবকরাই এই সিচুয়েশনের সঙ্গে পরিচিত। টিনএজারদের রাগকে সামলানোর জন্যে বিশেষ মানসিকতার প্রয়োজন যা খুব কম মা-বাবার আয়ত্তে থাকে। বেশি সংখ্যক অভিভাবকরাই জানেন না যে, ঠিক কীভাবে এই ধরনের সিচুয়েশন হ্যান্ডেল করবেন যা আজকের দিনে খুবই কমন।

বয়ঃসন্ধির সময়

কিশোর বয়সের একেবারে শেষপ্রান্তে পৌঁছে Puberty time অথবা যৌবনের প্রারম্ভে– দুটো পর্যায়কেই বয়ঃসন্ধির সময় বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সময়টা একজন পুরুষ কিংবা নারীর জীবনে যতটা গুরুত্বপূর্ণ ততটাই কমপ্লিকেটেড। শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠার সময়। টিনএজার তখন না শিশু আর না প্রাপ্তবয়স্ক। কার্যক্ষেত্রে বহু জায়গায় তখন সে, নয় অন্যদের থেকে বড়ো অথবা এখনও ‘ছোটো’ রয়েছে বলে বিবেচিত হয়। আগে সংযুক্ত পরিবারে, ছোটোদের মানসিক চাহিদার প্রয়োজন মেটাতে অনেক সদস্য উপস্থিত থাকতেন। এখন পরিবার ছোটো হয়েছে, সদস্য সংখ্যা কমেছে। ৩ অথবা ৪-এর বেশি নয়। তার ওপর অভিভাবকেরা দুজনেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চাকুরিরত। সন্তানদের সঙ্গে মা-বাবার কমিউনিকেশন গ্যাপ প্রচণ্ড। এছাড়াও বাড়ির বড়ো, ছোটো সকলেই নেট এবং মোবাইল স্যাভি। একে অপরের সঙ্গে বসে কথা বলার সময়, সুযোগ নেই বললেই চলে। সুতরাং এই পরিস্থিতিতে এবং এই টিনএজ বয়সটাতে বাচ্চাদের যেখানে মা-বাবার সহযোগিতা সবথেকে বেশি কাম্য, সেখানে এটার অভাব তাদের অসহিষ্ণুতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। তাদের মধ্যে বিদ্রোহ ভাব কাজ করে। চিরাচরিত যে পথ তাদের অনুসরণ করা উচিত বলে সকলে মনে করে, তার ঠিক বিপরীত পথ তারা বেছে নেওয়া স্থির করে। তারা অত্যন্ত অ্যাগ্রেসিভ, আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন হয়ে ওঠে এমনকী মা-বাবার দেওয়া শিক্ষার রাস্তায় চলতেও তারা অস্বীকার করে।

তাদের এই মানসিক অবস্থায় ক্রমাগত বড়োদের শাসন এবং প্রতি পদক্ষেপে তাদের সঙ্গে সমবয়সীদের কাজের এবং চরিত্রের তুলনার মানসিকতা, টিনএজারদের আরও বেশি করে সমস্যার সম্মুখীন করে তোলে। ক্রমাগত বকাঝকা টিনএজাররা বরদাস্ত করতে পারে না কারণ তারা নিজেদের যথেষ্ট প্রাপ্তবয়স্ক বলেই গণ্য করে এবং মনে করে যে-কোনও কঠিন কাজও তারা সহজেই করে ফেলতে পারে। সুতরাং বড়োদের উচিত, প্রাপ্তবয়স্কদের মতোই টিনএজ সন্তানকে সম্মান করা। তারা বড়োদের কাছে সম্মান পেলেই বুঝতে পারবে তাদেরও বড়োদের প্রতি কিছু দায়িত্ব রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী তারা দায়িত্ব পালন করতেও পিছপা হবে না। সুতরাং প্রতি ক্ষেত্রে তাদের কাজের সমালোচনা করলে তারাও বিমুখ হয়ে পড়বে বড়োদের সঙ্গে মৈত্রীর সম্পর্ক স্থাপন করতে।

সম্প্রীতি রক্ষার্থে তাই সন্তানের সঙ্গে অভিভাবকদের প্রতিদিন কমিউনিকেট করা একান্ত প্রয়োজনীয়। এমনভাবে ওদের সঙ্গে কথা বলুন যাতে ওদের কখনওই মনে না হয় যে, আপনি অনধিকারচর্চা করছেন অথবা ওদের জীবনে অলিখিত দখল নিতে চাইছেন। আপনি যে সত্যিই ওদের ভালোমন্দের জন্যে চিন্তিত সেটা আপনার ব্যবহারে প্রমাণ করুন। মৃদু ভাষণে আপনার ইচ্ছা, অনিচ্ছা সন্তানের কাছে প্রকাশ করুন। জোর করে নিজের ইচ্ছা ওদের উপর চাপাবার চেষ্টা করবেন না। দৃষ্টান্ত স্বরূপ, আপনি হয়তো সন্তানের কোনও ব্যাপারে কোনওদিনই তেমন মাথা ঘামাননি। অথচ হঠাৎ একদিন সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে সামনে বসিয়ে, তার পারিপার্শ্বিক সম্পর্কে জানার চেষ্টা যদি করেন, তখন দেখবেন আপনার আশা অনুযায়ী সঠিক উত্তর সন্তানের থেকে পাচ্ছেন না।

শিশু বয়স থেকেই সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে যাতে বয়সের ব্যবধান হওয়া সত্ত্বেও সন্তানের, আপনার কাছে কনফাইড করতে অসুবিধা না হয়।

দিনের শেষে অভিভাবকদের উচিত, সন্তানের সঙ্গে বসে সারাদিনের উভয়ের কর্মব্যস্ততার ডিটেল্স আলোচনা করা। টিনএজ সন্তানকে বোঝাতে হবে যে সে প্রাপ্তবয়স্ক হতে চলেছে সুতরাং সামাজিক কিছু দায়িত্ব তার উপরেও বর্তায়। অভিভাবক হিসেবে কিছু কথা মাথায় রাখতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে, শৈশব পেরিয়ে Puberty time তারা যৌবনে পা দিতে চলেছে সুতরাং কিছু অভ্যাস এবং জীবনের প্রতি তাদের মূল্যবোধ, ভবিষ্যৎ জীবনে পা রাখতে তাদের নানা ভাবে সাহায্য করবে। হেলদি লাইফস্টাইল মেনে চলা তাদের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় সেটা ধীর স্বরে বুঝিয়ে বলা বাঞ্ছনীয়। শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে খেলাধুলোতেও তাদের প্রেরণা যোগানো উচিত।

সন্তানের সঙ্গে সহযোগিতার সমস্ত রাস্তা খোলা রাখতে হবে যাতে সন্তানের প্রয়োজনে সহজেই মা-বাবা তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়াতে পারে। সন্তানকেও তার প্রাপ্য স্বাধীনতা দেওয়া খুবই দরকার। যাতে প্রয়োজন পড়লে নিজের মতো করে যে-কোনও অসুবিধার অথবা সমস্যার মীমাংসা করতে তার দ্বিধা না-হয়। অভিভাবক মানেই সন্তানের মাথার উপর ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা না বরং তাদের প্রয়োজনীয় জায়গা ছেড়ে দেওয়া। যাতে দায়িত্ববান প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে তারা নিজেদের পরিচয় গড়ার সুযোগ পায়।

 

সন্তানের চিন্তাশক্তি বাড়ান

অর্পিতা অবাক হয় তার ৭ বছরের শিশুপুত্রের কথায়। কথাবার্তা শুনলে কে বলবে ওইটুকু একটা দুধের শিশু। মনে হয় যেন শেখানো বুলি বলছে। স্কুলে, বাইরে বড়োরা যা আওড়াচ্ছে হুবহু তারই নকল দেখতে পাচ্ছে চোখের সামনে। কোথায় শিশুসুলভ চিন্তাধারা হারিয়ে যাচ্ছে শিশুমন থেকে, তা ভেবে পায় না অর্পিতা। স্কুলেও এই একই ব্যাপার। সব বিষয়গুলি খালি মুখস্থ করে গোগ্রাসে গিলছে। নিজস্ব চিন্তা, মেধা খাটিয়ে কিছু করতে চায় না। পরীক্ষার জন্য সেই বাঁধাগতে নোটস মুখস্থ করছে। পরীক্ষা শেষ, জ্ঞানের ভান্ডারও শেষ।

এ শুধু তার একার সমস্যা নয়। ঘরে ঘরে বাচ্চাদের নিয়ে এই একই সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বহু অভিভাবকদেরই। যত তাড়াতাড়ি বাচ্চারা চিন্তা করতে শিখবে ততই বাচ্চার জন্য মঙ্গল। কিন্তু আমাদের এডুকেশন সিস্টেম এমনই যে, শিশুরা মাথা খাটিয়ে চিন্তা করার প্রবণতা হারিয়ে ফেলছে। এ যেন রবীন্দ্রনাথের ‘তোতা কাহিনী’-রই নামান্তর। অথচ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এবং জীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে হলে চিন্তাশক্তি থাকা প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই হল চিন্তাশক্তি উন্নত করার সবথেকে ভালো জায়গা। শুধু প্রয়োজন, চিরাচরিত একঘেয়ে উপায়গুলি ত্যাগ করে, বাচ্চারা পছন্দ করবে এমন কিছু রাস্তা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বার করা। এর ফলে শিশুরাও স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সুযোগ পাবে।

সাম্প্রতিক সময়ে নির্ধারিত পড়ার বইয়ের বাইরে গিয়ে শিক্ষকরা পড়ান না। বাঁধাগতে বছরের পর বছর একই নোটস ব্ল্যাকবোর্ডের গায়ে লিখিয়ে চলেছেন। ক্লাসের জন্য নির্ধারণ করা বই দেখে শিশু যেটুকু শিখছে, সেটুকুই শিক্ষা তারা শিক্ষকদের কাছেও পাচ্ছে। এই ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা শিশুর চিন্তাশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে না। ‘মনে রাখা বিদ্যা’ শিশু কতটা রপ্ত করে আওড়াতে পারছে, এটাই যেন পরীক্ষা করে নেওয়া হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে।

শিক্ষকের ঘাড়ে বোঝা চাপানো হচ্ছে যে, সময়ের মধ্যে পাঠ্যপুস্তকের সিলেবাস শেষ করে দিতে হবে। ভেবেই নেওয়া হয়েছে সময়ে-সময়ে টিচার ক্লাসে পরীক্ষা নেবেন এবং পরীক্ষার খাতা চেক করবেন কিন্তু এটা কি সত্যিই বিদ্যার্থীদের চিন্তাশক্তি বাড়াতে কোনও কাজে লাগছে? শিক্ষার ক্ষেত্রে তেমন কোনও উপকার পাওয়া যায়নি উপরন্তু শিশুসুলভ মনের কল্পনাশক্তিও উধাও হয়ে যাচ্ছে। স্কুলে এক-একটি ক্লাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবং তার মধ্যেই পাঠ্যপুস্তকের সিলেবাস শেষ করার চাপ থাকে শিক্ষকদের উপর। সুতরাং শিক্ষক এবং বিদ্যার্থীদের মধ্যে, প্রশ্ন উত্তরের পালা অথবা বিষয়ের গভীরে গিয়ে বিশ্লেষণ, কোনওটাই হয়ে ওঠে না। পরীক্ষার প্রেক্ষিতেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং উত্তরও সীমার মধ্যে বেঁধে দেওয়া হয়। ছোটো থেকে শিশু কল্পনা করবে, প্রশ্নবাণে বড়োদের জর্জরিত করবে এমনটাই হওয়ার কথা। অথচ ছোটো ক্লাসের শিক্ষাব্যবস্থা শিশুমনটাকেই শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলতে চাইছে।

চিন্তা অথবা কল্পনাশক্তি বাড়াতে

 ক্রমাগত শিশুদের মন থেকে কল্পনাশক্তি হারিয়ে যাওয়ার কারণে, এখন কিছু স্কুলে বাচ্চাদের পড়াশোনার নতুন পদ্ধতি এক্সপেরিমেন্টাল বেসিসে গ্রহণ করা হচ্ছে। বাচ্চারা যে-যেটা করতে ভালোবাসে, শিক্ষকরা তাদের সেই বিষয়ে এনকারেজ করছেন যাতে তারা নিজে থেকে সেই বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে। শুধু ক্লাসে নোটস আউড়ে গেলে হবে না। ছবি এবং অডিও-র সাহায্য নিয়ে সেই বিষয়টি সোজা-সাপটা ভাষায় বাচ্চাদের বোঝাতে হবে। ব্ল্যাকবোর্ডের ব্যবহার আরও বেশি করতে হবে।

যে-বিষয়টি শিশুটি ভালোবাসে, সেটা পড়ে নিজে থেকে যাতে সে তার উপর নোটস বানায়, তার জন্যে বাচ্চাটির আগ্রহ বাড়াতে হবে। বিষয়টি নিয়ে শিশুটি যত নাড়াচাড়া করবে ততই গভীরভাবে বিষয়টি শিশুর মস্তিষ্কে গেঁথে যাবে। এমনও হতে পারে, ক্লাসে সবাইকে একটি টপিক দিয়ে দেওয়া  হল। বিদ্যার্থীদের বলা হল, বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে আসতে। সেটা পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে বাইরের যে-কোনও সোর্স থেকেও হতে পারে। ক্লাসে এসে একজনকে ডাকা হল বিষয়টি সম্পর্কে যা তথ্য জোগাড় হয়েছে সেটাই ক্লাসের অন্যান্য বাচ্চাদের সঙ্গে শেয়ার করতে। ফলে একজনের মুখ থেকে বিষয়টি সম্পর্কে জানাও হল, আবার অন্যান্য বাচ্চারা নিজেদের মতামতও সকলের সঙ্গে বন্টন করে নিতে পারল।

নীচু ক্লাসে সময়ের অভাবে হয়তো এই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না কিন্তু কলেজে এই ধরনের পদক্ষেপই গ্রহণ করা হয়। বইয়ের প্রতিটি চ্যাপ্টারও যে এই একই ভাবে পড়াতে হবে এমনও কোনও বাধ্যবাধকতা থাকে না।

পুরো বিষয়টিতে আসল উদ্দেশ্য হল, শিশুর চিন্তাশক্তি বাড়িয়ে পড়াশোনাটাকে আরও গ্রহণযোগ্য এবং চ্যালেঞ্জিং করে তোলা। এই ব্যবস্থায় শিশুকে চালিত করতে পারলে, বিষয়টির জ্ঞান আজীবন শিশুর জীবনকে সমৃদ্ধ করবে এবং স্বাধীনভাবে জীবনকে পরিচালনা করার শক্তি জোগাবে শিশুর মধ্যে।

 

আপনি কি বাচ্চাদের বেশি বকাবকি করেন?

এটাই প্রচলিত যে, বাচ্চা ভালো সংস্কার এবং ব্যবহার শেখে মা-বাবার কাছ থেকেই এবং শৈশবেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। বাচ্চাকে এই শিক্ষা দেওয়ার দাযিত্ব অভিভাবকদের। কিন্তু বাচ্চাকে শেখাতে গিয়ে মা-বাবারা ওভার কারেক্টিভ অথবা অসম্ভব ক্রিটিকাল হয়ে ওঠেন। তাঁরা মনে করে বসেন তাদের সন্তানকে সর্বাপেক্ষ ভালো হতে হবে এবং এই ভালো করে তুলতে গিয়ে অতিরিক্ত শাসন এবং সমালোচনা করা শুরু করেন। কিন্তু তাদের এই ব্যবহার বেশিরভাগ সময় ভালোর বদলে বাচ্চার ক্ষতি করে বসে। কোনওরকম সিদ্ধান্ত নিতে অথবা নিজেদের সমস্যার সমাধান করা বাচ্চাদের মুশকিল হয়ে ওঠে এবং সমস্যা আরও বেশি তাদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে। এই ক্ষেত্রে অভিভাবকদের উচিত হচ্ছে বাচ্চার বদলে নিজেকে বিশ্লেষণ করা এবং নিজেকে আগে উপযুক্ত করে তোলা। এই সমস্যার সমাধানে বিশেষজ্ঞদের মতামত হল,

বাচ্চার কনফিডেন্স এবং সেলফ রেসপেক্ট কমতে থাকে : বাচ্চাকে সবসময় ডমিনেট করতে চাইলে সেটা বাচ্চাকে ভিতরে ভিতরে অসহজ করে তুলতে পারে। যার ফলে বাচ্চা নিজের উপর বিশ্বাস এবং সম্মান হারিয়ে ফেলতে শুরু করে। এটা আরও হয় যখন বাচ্চাকে কিছু করতে না দিয়ে মা-বাবাই বাচ্চার হয়ে সিদ্ধান্ত নেয় এবং বাচ্চার করার ক্ষমতাকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে। এতে বাচ্চার মনে নিজের প্রতি বিশ্বাস কমতে থাকে, সে নিজেকে দুর্বল ভাবতে শুরু করে এবং হীন মনোভাবের শিকার হয়। কারণ তারা বড়োদের সিদ্ধান্তের সামনে মনের মধ্যে অস্বস্তিবোধ করতে থাকে।

বাচ্চা জেদি হয়ে ওঠে : মা-বাবা যদি সবসময় বাচ্চাকে শোধরানোর চেষ্টা করতে থাকে এবং বাচ্চাকে পারফেক্ট করে তুলতে চায় তাহলে বাচ্চার দম বন্ধ হয়ে আসতে থাকে। বাচ্চার ক্ষমতাও এতে সীমিত হয়ে পড়ে। অপরের সামনে নিজেকে তার অক্ষম বলে মনে হয়। এতে বাচ্চারা খিটখিটে মেজাজের এবং জেদি হয়ে ওঠে।

মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলে : যত কম কথা বলবেন, ততই আপনার আশেপাশের লোকজন আপনার কথার গুরুত্ব দেবে, এই প্রবাদবাক্য আপনি আপনার সন্তানের উপরেও চেষ্টা করে দেখতে পারেন। যখনই বাচ্চার প্রত্যেকটি সিদ্ধান্তকে আপনি সমালোচনা করতে শুরু করবেন এবং প্রত্যেক কথায় ওকে বকাঝকা করবেন তখনই আপনার কথার গুরুত্ব বাচ্চার কাছে কমে যাবে। পরিস্থিতি যতই গম্ভীর হোক না কেন, আপনার বাচ্চাকে শুধরোবার চেষ্টা সব বিফল হয়ে যাবে। মা-বাবা সবসময়ই সব জিনিস নিয়ে বলতেই থাকে – এই ধরনের পাত্তা না দেওয়ার মনোভাব তৈরি হবে বাচ্চার মনে। মা-বাবার কথার জবাব দেওয়াও বাচ্চা ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেবে। গুরুজনদের প্রতি বাচ্চার মনে মূল্যবোধ হারিয়ে যাবে।

বাচ্চার অবণতি হতে থাকে : অভিভাবকদের কাছে সন্তান-কে ঘিরেই আবর্তিত হয় তাদের জগত্। মা-বাবার সঙ্গ এবং গাইডেন্স-এর প্রযোজন পড়ে তাদের। কিন্তু সর্বক্ষণ যদি মা-বাবা বাচ্চাকে শোধরাবার চেষ্টা করতে থাকে তাহলে সেটা বাচ্চরা অপছন্দ করা শুরু করে। বড়োদের উচিত শান্ত এবং বিনম্র ভঙ্গিতে তাদের বাস্তবের সম্মুখীন করানো। বাচ্চার চরিত্রের দুর্বলতাগুলোও বড়োদের স্বীকার করে নিতে হবে। যদি প্রতি মুহূর্তে বাচ্চার পছন্দ এবং সিদ্ধান্তের উপর বড়োরা হস্তক্ষেপ করতে থাকে তাহলে বাচ্চার সঙ্গে বড়োদের সম্পর্কের অবণতি ঘটতে থাকবে এবং বাচ্চারও বিপথে যাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।

সমাধান : বাচ্চাকে শোধরানো খুব সহজ কাজ নয়। বকাঝকা করে শোধরানোর চেষ্টা করা মানে সন্তানের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক খারাপ করা। অন্য ভাবে দেখতে গেলে এতে বাচ্চার কনফিডেন্স এবং আত্মসম্মান নষ্ট হতে থাকে এবং এর দায় বড়োদেরই নিতে হবে। যদি মনে করেন এইসব কিছুর থেকে বাচ্চাকে দূরে রাখবেন তাহলে সমাধানের রাস্তা হল –

১) বাচ্চাকে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিন।

২) যদি সিদ্ধান্ত ভুল হয় তাহলে সুযোগ দিন বাচ্চাকে নিজেকে ভুলটা শুধরে নেওয়ার।

৩) আত্মবিশ্বাস এবং আত্মসম্মান বাড়াতে বাচ্চাকে সাহায্য করুন।

৪) কঠিন চ্যালেঞ্জ-এর মোকাবিলা বাচ্চাকে নিজেকেই করতে দিন।

৫) বাচ্চার প্রতি পদক্ষেপে তার সমালোচনা করবেন না।

৬) ছোটো ছোটো কথা নিয়ে বাচ্চার সঙ্গে লড়াই করে নিজের সময় এবং এনার্জি নষ্ট করবেন না।

এই টিপসগুলি মেনে চললে সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত হবে। বাচ্চাদের মনের শক্তি বাড়ান, দুর্বলতা নয়।

 

কস্টিউম জুয়েলারির যত্ন

আজ রাতেই একটা বিয়ে বাড়ি অ্যাটেন্ড করার আছে সুপর্ণা-র। অফিস কলিগের দাদার বিয়ে। অসুবিধার কিছু নেই কারণ, যাতায়াতের জন্য চারজন মিলে গাড়ির ব্যবস্থাও করে ফেলেছে। গোল বাধল বিয়ে বাড়িতে যাওয়ার জন্যে, পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে গয়না বাছতে গিয়ে। সোনা পরে আজকাল বাইরে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ, তাই এইসব অনুষ্ঠানগুলিতে পরে যাওয়ার জন্যে সুপর্ণা প্রায়শই পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কস্টিউম জুয়েলারি কেনে। অথচ এই মুহূর্তে কোনও কিছুই সুপর্ণা-র পছন্দ হচ্ছে না। কেনার সময় গয়নাগুলির জৌলুস যা ছিল, তার বিন্দুমাত্রও আর অবশিষ্ট নেই। এই গয়না পরে বিয়েবাড়ি কিছুতেই যাওয়া যেতে পারে না। কিন্তু কেন এমন হল, ভেবে কূল পায় না সুপর্ণা।

Grihshobha Fashion tips
Model : Anusua Das

এই ধরনের ঘটনার সম্মুখীন প্রায় সকলকেই হতে হয় কমবেশি। সুতরাং জেনে নিন কস্টিউম জুয়েলারির যত্ন কীভাবে করবেন।

  •  কস্টিউম জুয়েলারি যখনই পরবেন, ফিরে এসে খুলে বাক্সে তোলার আগে, কিছুক্ষণ খোলা হাওয়ায় রেখে দিন। শরীরের ঘামের থেকে গয়নায় দাগ হয়ে যায়।
  • কস্টিউম জুয়েলারি তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের মেটাল দিয়ে। যেমন—- প্লেটেড ব্রাস, তামা, রুপো, স্টিল, ক্রিস্টাল ইত্যাদি। এছাড়াও কাঠ এবং মাটি দিয়েও গয়না তৈরি হচ্ছে। বাজারে পলিশিং প্যাড্স কিনতে পাওয়া যায়, যা দিয়ে খুব সহজে তামা, পিতল, ব্রোঞ্জ, রুপো অথবা হোয়াইট মেটালের (স্টারলিং সিলভার) গয়না অল্প রগড়ে ঝকঝকে করে তোলা যায়।

  • যদি নতুনের বদলে পুরোনো জুয়েলারি দিয়ে কাজ চালাতে হয়,  তাহলে বাড়িতে রাখা রোঁয়া ওঠা গরম কম্বল দিয়ে ধীরে ধীরে গয়নাগুলি রগড়ান। পুরোনো জেল্লা ফিরে আসবে। যদি খুবই পুরোনো গয়না হয়, তাহলে দোকান থেকে পালিশ করানোই ভালো।
  • রুপোর গয়না পরিষ্কার করার জন্য, বাজার থেকে টারনিশ রিমুভার লাগিয়ে গয়নার উপর ধীরে ধীরে রগড়ান। গয়না ঝকঝক করবে।
  • ক্রিস্টালের গয়না হলে বাসন মাজার লিকুইড সাবান দিয়ে, হাত দিয়ে অল্প রগড়ে অথবা পুরোনো নরম টুথব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।
  • গয়না পরিষ্কার করার পর পেপার তোয়ালেতে মুড়ে জিপলক ব্যাগের মধ্যে রেখে দিন। প্রত্যেকটি গয়না আলাদা আলাদা করে মুড়ে রাখা উচিত, যাতে একটার সঙ্গে একটা রগড়ে না-যায়। জিপলক ব্যাগের মুখ ভালো করে বন্ধ করতে হবে যাতে বাইরের হাওয়া গয়নার গায়ে না লাগে।
  • বাজারে গয়না পরিষ্কার করার অনেক ধরনের ক্লিনার পাওয়া যায়। যে-কোনও ক্লিনার ব্যবহারের আগে, ওর উপর লেখা নির্দেশাবলী অবশ্যই পড়ুন, কারণ কস্টিউম জুয়েলারিতে অনেক কেমিক্যাল ব্যবহার করা যায় না। সুতরাং প্রথমেই এই ব্যাপারে সাবধান হন।
  • ফ্যাশন জুয়েলারি অল্পেতেই নষ্ট হয়ে যায়। স্নানের সময় অথবা সুইমিং করার সময় এই ধরনের গয়না পরবেন না। হাতে এই ধরনের আংটি পরা থাকলেও, হাত ধোওয়ার সময় অবশ্যই তা খুলে রাখুন।
Grihshobha fashion tips
Model : Anusua Das
  • কস্টিউম জুয়েলারি পরার উদ্দেশ্যই হচ্ছে, পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং করে পরা। এছাড়াও এগুলি দামেও সস্তা, সহজে অ্যাভেলেবল। সুতরাং যাতে গয়নাগুলি অনেকদিন টিকিয়ে রাখা যায়, তার জন্য পরার পরেই টিস্যু পেপার অথবা পেপার তোয়ালে দিয়ে ভালো করে গয়নাগুলি মুছে ফেলুন। এতে ঘাম এবং ধুলোময়লা গয়নার গায়ে লেগে থাকবে না।
  • মেক-আপের জিনিস যেমন লোশন, নেলপলিশ রিমুভার ইত্যাদি থেকে কস্টিউম জুয়েলারি দূরে সরিয়ে রাখবেন।
  • গয়না পরার সময় ভিজে হাতে গয়না পরবেন না। হাতে লেগে থাকা জল গয়নার ক্ষতি করবে।
  •  নতুন সুটকেস অথবা জুতো কেনার সময় ওর মধ্যে সিলভার প্রোটেক্টর স্ট্রিপ্স দেওয়া থাকে। এই ধরনের স্ট্রিপ্স গয়নার বাক্সে রেখে দিলে গয়নার জেল্লা নষ্ট হবে না।
  • যদি কাঠ দিয়ে তৈরি গয়না হয় তাহলে সামান্য উড্ক্লিনার অথবা উড্পলিশে অল্প জল মিশিয়ে পালিশ করুন। গয়নার জেল্লা ফিরে আসবে।
  • সিলভার অথবা গোল্ড প্লেটেড গয়নার উপরের পরতে প্রোটেকটিভ কোটিং করাতে পারেন। তাতে গয়নার রং বহুদিন ভালো থাকে।
  • কৃত্রিম মুক্তোর গয়না, সেন্ট, শরীরের ঘাম ইত্যাদির সংস্পর্শে এলে খুব তাড়াতাড়ি খারাপ হয়ে যায়। সুতরাং এরকম গয়না পরলে বাড়িতে এসে টিস্যুপেপার দিয়ে ভালো করে মুছে, পাখার তলায় শুকিয়ে নিতে হবে। তারপর পেপার তোয়ালেতে মুড়ে জিপলক ব্যাগে তুলে রাখতে হবে।
  • বাড়িতে কোনও কিছু পরিষ্কার করার কাজ করতে গেলে কস্টিউম জুয়েলারি খুলে রাখা উচিত।
  • সাবানজলে গয়না পরিষ্কার করার সময় একসঙ্গে সমস্ত গয়না ওতে দেবেন না। সাবানের সঙ্গে মেটালের কেমিক্যাল রি-অ্যাকশন হতে পারে।
  • গলার নেকলেস অথবা মালার পিছনে মেটালের ক্লিপ থাকে, তাতে চুল অনেকসময় আটকে যায়। খুব সাবধানে পরিষ্কার করুন নয়তো সুতো ছিঁড়ে যেতে পারে।

মডেলঃ অনুসূয়া দাস।

আসবাবের দেখভাল

অনেকেই শখ করে পারম্পরিক কিংবা হাল ফ্যাশনের আসবাবে ঘর সাজান। কিন্তু শুধু আসবাব দিয়ে ঘর ভরে ফেললেই সৌন্দর্য বাড়ে না। আসবাবেরও চাই নিয়মিত যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ। দীর্ঘদিন সাফসুতরো না করার ফলে ফার্নিচারে ধুলো জমে, দাগ পড়ে, এমনকী এতে পোকামাকড়ও জন্মায়। তাই সময় থাকতে সজাগ হোন। আসবাব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই মেনে চলুন কয়েকটি সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণের নিয়ম।

১)   আসবাব খুব রোদের মধ্যে রাখবেন না। এর ফলে আসবাবের রং নষ্ট হতে পারে, কাঠের চলটা উঠতে পারে। তাই আগুনের তাত ও রোদের ঝাঁঝ, দুইয়ের প্রকোপ থেকেই আসবাবগুলি বাঁচান।

২)   পরিষ্কার করার জন্য সপ্তাহে একদিন ভ্যাকুম ক্লিনার ব্যবহার করুন, অন্য দিনগুলিতে কাপড়ের সাহায্যে ডাস্টিং করুন।

৩)   সোফায় বা অন্য কোনও ফার্নিচারে দাগ-ছোপ লাগলে, তা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে দিন।

৪)   চামড়ার ফার্নিচার পরিষ্কার করার জন্য নির্দিষ্ট লেদার ফার্নিচার কেয়ার লিকুইডই ব্যবহার করুন।

৫)   কাঠের আসবাবের বেশি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সব ঋতুতেই কাঠের ফার্নিচারের বিশেষ কেয়ার নেবেন। কাঠের ফার্নিচারে ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট মেলামাইন পালিশ করানো ভালো। এর ফলে বর্ষাকালের স্যাঁতসেতে আবহাওয়াতেও আসবাবগুলি ভালো থাকবে।

৬)   কাঠ ও চামড়ার তৈরি আসবাবের উপরেই পোকামাকড়ের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়। তাই এই ধরনের আসবাবের বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন।

৭)   স্টেনলেস স্টিলের দেখভালের জন্য চিন্তা না করলেও চলবে, কারণ এই ধরনের আসবাবে তেমন মেন্টেনেন্সের প্রয়োজন হয় না। শুধু কেনার সময় খেয়াল রাখবেন, স্টিলের গুণগত মান যেন ভালো হয়।

৮)   ফার্নিচারগুলিকে সবসময় শুকনো কাপড়ের সাহায্যেই পরিষ্কার করুন। ভেজা কাপড় একেবারেই ব্যবহার করবেন না। এর ফলে ফার্নিচারের পালিশ নষ্ট হয়ে যায়। সেইসঙ্গে কাঠও কমজোরি হয়ে যায়।

৯)   আসবাবের খুব খারাপ অবস্থা হয়ে গিয়ে থাকলে, জোড়াতালি দিয়ে সারানোর চেষ্টা না করে, বদলে ফেলাই ভালো।

১০) যদি আসবাবের উপর মোমের দাগ পড়ে যায়, গরম ছুরি দিয়ে বা স্পিরিট দিয়ে তা সরিয়ে ফেলুন।

 

১১) ফার্নিচার অনেকদিনের পুরোনো হয়ে গিয়ে থাকলে, একবার পালিশ করিয়ে নিন।

১২) যদি কাঠের আসবাবই আপনার বেশি পছন্দের হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই ভালো কাঠের, সলিড উড-ফার্নিচারই ব্যবহার করুন।

১৩) বোর্ড বা প্লাইয়ের ল্যামিনেশন করা ফার্নিচারে বেশি গরম কোনও জিনিস না রাখাই ভালো। শুকনো তুলো দিয়ে এই ধরনের আসবাব মুছে রাখুন।

১৪) সেগুন কাঠের আসবাবে ঘুণ ধরে না, তাই দীর্ঘদিন ধরে ফার্নিচার না বদলানোর কথা ভাবলে, সেগুন কাঠের ফার্নিচারই আদর্শ।

১৫) রট আয়রনের তৈরি ফার্নিচার বা পিতলের ফার্নিচার, সরংক্ষণ করতে রেড অক্সাইড ব্যবহার করুন।

১৬) আসবাবের জয়েন্টের জায়গাগুলি যাতে জং পড়ে নষ্ট না হয়ে যায়, তাই এর উপর রেড অক্সাইড লেপে দিন।

১৭) বর্ষার মরশুম শুরু হওয়ার আগেই আসবাবে পেইন্ট বা ভার্নিশ ব্যবহার করুন। এরফলে আসবাবে ঘুণ ধরবে না।

১৮) লিভিং-রুম বা বাগানে ব্যবহূত বেতের আসবাবগুলি যাতে বৃষ্টির জলে না ভেজে, সেদিকে নজর দিন। কারণ এই ধরনের আসবাব ভিজে গেলেই এতে কালচে ছোপ ধরে ও ফাংগাস পড়ে যায়।

১৯) দীর্ঘদিন যদি ঘর বন্ধ করে কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, অতি অবশ্যই আসবাবগুলি কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে যাবেন। এর ফলে আসবাব ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

২০) যদি আসবাবে ফ্রেঞ্চ পালিশ থাকে, তাহলে এই ফার্নিচারের এক্সট্রা কেয়ার প্রয়োজন। খেয়াল রাখবেন এগুলি যেন কোনওভাবেই জলের সংস্পর্শে না আসে।

 

গুড পেরেন্টিং ও আজকের অভিভাবক

ক্রমাগত প্রযুক্তির বিকাশ, নানা ক্ষেত্রে কম্পিটিশন এবং জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মা-বাবা Parents হওয়াটাই এখন বিশাল দায়িত্বের কাজ। তার ওপর পরিবর্তিত জীবনশৈলী, অভিভাবক এবং সন্তানের সম্পর্ককে এক নতুন আঙ্গিকে পৌঁছে দিয়েছে। আগেকার থেকে আজকাল মা-বাবার দায়িত্ব সামলানো আরও বেশি কঠিন হয়ে গেছে।

বেশিরভাগ অভিভাবকই এখন চাকুরিরত। যারা আগে বাড়ি সামলাতেন তারা আজ প্রায় সকলেই নিজের কেরিয়ার নিয়ে ব্যস্ত। সন্তান ছোটো হলেও, মায়ের পুরো সময় সন্তানের সঙ্গে কাটাবার উপায় নেই। সংসারে অর্থের যোগান দেওয়াটাও খুবই জরুরি হয়ে গেছে। সারাদিন বাইরে কাজে ব্যস্ত মায়েদের, সন্তানদের দেখাশোনার জন্যে নির্ভর করতে হচ্ছে ডে’কেয়ার সেন্টার, ক্রেশ অথবা কোনও পরিচারকের উপর।

আজকাল বাচ্চাদের গ্যাজেট অথবা টেকনিক স্যাভি বলাটা বোধহয় ভুল নয়। বেড়ে ওঠার পুরো প্রক্রিয়াটাতেই দেখা যায় এদের হাতে মোবাইল, ল্যাপটপের আনাগোনা। ৫০ শতাংশের বেশি সংখ্যক বাচ্চা, কম্পিউটার ছাড়া চলতেই পারে না, সকলের বাড়িতেই কম্পিউটার রয়েছে। না থাকলেও অসুবিধে নেই, সাইবার কাফে, স্কুলকলেজ, বন্ধুদের বাড়ি তো রয়েইছে।

মডার্ন মায়েদেরও বক্তব্য যে, সময়ের চাহিদার জন্যে বাচ্চাদের কম্পিউটার জানাটা খুবই জরুরি। তাই কম্পিউটারে বসতে বাচ্চাদের বাধা দেওয়া যেমন উচিত নয়। তেমনই লক্ষ্য রাখাও উচিত যে তারা কম্পিউটারে কী করছে। ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহারও অভিভাবকদের শেখানো উচিত সন্তানকে। নেটের ব্যবহার আজ সকলের জীবনকে এতটাই গ্রাস করেছে যে, প্রত্যেক মা-বাবারই চিন্তা থাকে কীভাবে অশ্লীল সাইটগুলি থেকে শিশুর ইনোসেন্স-কে আড়াল করা যায়। কাজের নাম করে কম্পিউটারে বসলে, সর্বদা লক্ষ্য রাখতে হয় যে কম্পিউটারে কোনও পর্ণ-সাইট সেই সন্তান খুলেছে কিনা অথবা সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোনও খারাপ লোকের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব বাড়ছে কিনা। এই সাইটগুলি খুবই সহজে খোলা যায় এবং এগুলি জানারও একটা সুপ্ত বাসনা শিশুমনে কাজ করে।

এই বিষয়ে একটি সমীক্ষা করা হয়েছিল ১,৫০০ ভারতীয় অভিভাবক Parents  এবং কিশোরের উপর। তাতে ২০ শতাংশ টিন এজার স্বীকার করেছে যে, সারাদিনে একবারের বেশিই তারা পর্ণ সাইট ভিজিট করে। ৭০ শতাংশ অভিভাবকরা দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে তাদের সন্তানরা সারাদিনে ইন্টারনেটে কী কী সাইট ভিজিট করছে তার পুরো তথ্য মা-বাবাকে তারা জানায়। অথচ এরই মধ্যে ৫৮ শতাংশ কিশোর-কিশোরীরা জানিয়েছে যে তারা খুব ভালো করেই জানে মা-বাবার কাছে সত্যিটা কীভাবে লুকোনো যায়।

সাইবার বুলিং

সোশ্যাল নেটওয়ার্কগুলির ব্যবহার যত বাড়ছে ততই সাইবারের মাধ্যমে অশ্লীল কমেন্ট, অশ্লীল ছবি পাঠিয়ে বুলিং করার ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। খবরের কাগজে মাঝেমধ্যেই চোখে পড়ছে নেটের মাধ্যমে বুলিং-এর জন্য বেশ কিছু আত্মহত্যার ঘটনার বিবরণ। বেশিরভাগ অভিভাবকই জানিয়েছেন তাদের সন্তানরা কখনও না কখনও এই সাইবার বুলিং-এর শিকার হয়েছে। ফেসবুকে, কখনও মেল হ্যাক করে এই ধরনের অপরাধমূলক কাজকর্ম অনেকে চালিয়ে যায়। চিন এবং সিঙ্গাপুরের পর বুলিং-এর ঘটনা সবথেকে বেশি ভারতে।

শুধুমাত্র কম্পিউটার অথবা মোবাইলের নয়, মনোরঞ্জনের আরও অন্যান্য মাধ্যম যেমন টিভি, ফিল্ম-এ অশ্লীল দৃশ্য, অকথ্য গালিগালাজ, খুনের দৃশ্য, ষড়যন্ত্র, অপরাধের নানা দৃশ্য বাচ্চাদের অপরাধের রাস্তায় নিয়ে যেতে প্ররোচিত করে। বাচ্চারা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে পড়ে। স্কুলকলেজেও এমন অনেক শিশু পড়ে, যাদের সঙ্গে মিশলেও অন্যান্য বাচ্চারা অপরাধের পথে পা বাড়াতে পারে।

কিশোরাবস্থায় অপরাধের ঘটনা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধর্ষণ, খুন, রাহাজানি মামলায় যেমন কিশোররা জড়িয়ে পড়ছে, কিশোরীরাও অপরাধের গ্রাস থেকে বাঁচতে পারছে না। প্রতি বছর প্রায় ৩৪ হাজার কিশোর অপরাধী আইনের হাতে ধরা পড়ে, যার মধ্যে ৩২ হাজার ছেলে এবং ২ হাজার মেয়ে।

সন্তানকে নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়

যদি মা-বাবা জানতে পারেন যে তাদের সন্তান লুকিয়ে পর্ন মুভি অথবা কম্পিউটারে অশ্লীল সাইটগুলি ভিজিট করছে, সোশ্যাল সাইটে বুলিং-এর শিকার হচ্ছে– তাহলে তাদের বকাঝকা করার বদলে অন্য কোনও কাজে ব্যস্ত রাখার প্রয়াস করা উচিত। মনস্তত্ত্ববিদের সঙ্গেও পরামর্শ করা যায়। ওয়েবের মাধ্যমে পর্ন ভিডিও দেখা থেকে বাচ্চাদের দূরে রাখতে ইন্টারনেট ফিলটারিং ব্যবস্থার সুযোগ নেওয়া উচিত। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার অপেরা, ক্রোম ইত্যাদি বিভিন্ন ব্রাউজারে, আপত্তিজনক ওয়েব পেজ যাতে চট্ করে খোলা না-যায়, তার ব্যবস্থা দেওয়া রয়েছে। সুতরাং তার প্রয়োগ করুন।

আজকাল অভিভাবকদের জন্য সবথেকে জরুরি হল নিজের সন্তানদের সঙ্গে সবসময় ইন্টার‍্যাক্ট করা। ওদের সঙ্গে সবসময় সব বিষয়ে আলোচনা করা। ড্রাগ, অ্যালকোহলের অপকারিতা যেমন সন্তানের সঙ্গে মা-বাবা আলোচনা করেন, তেমনই মডার্ন টেকনোলজির খারাপ দিকটাও তাদের বোঝানো উচিত। দৈনন্দিন প্রতিটি কাজের প্রতি অভিভাবকদের লক্ষ্য রাখা উচিত। সন্তান কাদের সঙ্গে মেলামেশা করছে সেটার প্রতিও দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।

ভালো অভিভাবক হবেন কীভাবে

এখন নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির যুগ। বাবা-মা এবং ম্যাক্সিমাম দুটি সন্তান। সুতরাং মা-বাবার দৃষ্টি সর্বদাই বাচ্চাদের উপর নিবন্ধ, আবার ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দুও তারা। মা-বাবার Parents সন্তানের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ এখন অনেক লঘু। ভালোবাসার অর্থ শুধুমাত্র টাকা দিয়ে জিনিস কিনে দেওয়া নয়। বরং মা-বাবা নিজের কতটা সময় সন্তানের সঙ্গে কাটাচ্ছেন সেটা অনেক বেশি ইম্পরট্যান্ট। এমন অ্যাক্টিভিটিজ-এ তাদের ব্যস্ত রাখা উচিত যেখানে তাদের এনার্জির পূর্ণপ্রয়োগ হতে পারে। ল্যাপটপ, মোবাইলের বদলে বাচ্চাদের বই পড়ার অভ্যাস করান। এতে মস্তিষ্কের বিকাশ যেমন ঘটবে তেমনই কল্পনাশক্তি এবং রচনাশক্তিও বাড়বে। সবথেকে প্রয়োজনীয় হল যে মা-বাবার, সন্তানদের, নিজেদের ইচ্ছেমতো সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সৎসাহস দেওয়া উচিত।

অভিভাবকদের জন্য কিছু টিপস

১)   নিজের বাচ্চাকে বোঝার জন্য তাদের বন্ধু হয়ে উঠুন তবেই ওদের মতো ভাবতে পারবেন। ওদের সম্পর্কে ডিসিশন নেবার সময় ওদের বয়স এবং দৃষ্টিকোণের প্রতি সতর্ক থাকাটা জরুরি।

২)   শাসন প্রয়োজন, তবে অবস্থা বিশেষে ভালোবেসে বোঝালে অনেক বেশি রেজাল্ট পাওয়া যায়।

৩)   সন্তানের ফ্রেন্ড সার্কেল-এ কারা আছে সেই খবর রাখুন। কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে খেয়াল রাখুন। যাদের সঙ্গে বেশি মেশে, তাদের ফোন নম্বর নিজের কাছে নোট করে রাখুন।

৪)   ল্যাপটপের বদলে ডেস্কটপ কম্পিউটার দিন এবং লক্ষ্য রাখুন কম্পিউটারে আপনার সন্তান কী করছে।

৫)   সন্তানের প্রশংসা তার সামনে করবেন না।

৬)   বড়োদের সম্মান করতে শেখান এবং ‘থ্যাংক ইউ’, ‘সরি’ ইত্যাদি শব্দগুলি বলতে শেখান।

৭)   বাচ্চাদের প্রতিটি কথার নঞর্থক মানে বার করবেন না। বন্ধুদের সামনে বকবেন না।

১০)  কখনও কখনও তাদের জেদের প্রশ্রয় দিন।

১১)  অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে নিজের সন্তানের তুলনা করবেন না।

১২)  ছোটো থেকেই শেয়ার করতে শেখান।

১৩)  পারিবারিক অথবা বড়োদের ঝগড়ার মধ্যে বাচ্চাকে ঢোকাবেন না অথবা দাবার ঘুঁটি হিসেবেও তাকে ব্যবহার করবেন না।

১৪)  খুব বেশি আশা ওদের ওপর রাখবেন না। অনুশাসন শেখান কিন্তু অনুশাসনের বেড়ায় তাদের বন্ধ করে রাখবেন না।

১৫)  ওদের সামনে খারাপ ভাষা ব্যবহার করবেন না।

১৬)  যে-কোনও অনুষ্ঠানে, পারিবারিক গেট-টুগেদার-এ সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে যান। যাতে সে সোশ্যাল হতে পারে।

১৭)  এতটাও স্বাধীনতা বাচ্চাকে দেবেন না যাতে সেটার ভুল অর্থ তার কাছে পৌঁছোয়।

১৮)  আত্মনির্ভর হতে শেখান সন্তানকে।

 

বাছুন সঠিক ম্যাট্রেস

ঘুম থেকে উঠেই অনেকে পিঠের যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়েন। ডাক্তার দেখালেই জানা যায় শোবার দোষে অথবা উপযুক্ত গদি বা ম্যাট্রেসের অভাবেই শরীরের এই হাল হয়েছে। সারাদিন বাড়ি ও অফিসের কাজ সামলাবার পর, ক্লান্ত শরীর চায় একটু আরামের ঘুম। সুতরাং দরকার উপযুক্ত বিছানা এবং বিছানার কমফর্টের জন্যে সঠিক সরঞ্জাম, যার মধ্যে ম্যাট্রেস এবং পিলো সবথেকে জরুরি। শরীরের আরাম হলেই ব্যথা, যন্ত্রণারও হাত থেকেও অব্যাহতি।

উপযুক্ত গদি অথবা ম্যাট্রেস ভালো ঘুম হতে যেমন সাহায্য করে তেমনি স্বাস্থ্যেরও খেয়াল রাখে। ভালো ম্যাট্রেস শিরদাঁড়ার হাড়ে চাপ সৃষ্টি হতে দেয় না, তাই কোমরের ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা কম হয়ে যায়। এখন বিশেষ কিছু কোম্পানি বাজারে এমন ম্যাট্রেস নিয়ে আসছে, যেগুলি আকুপাংচারের সঙ্গে স্পা-এর চাহিদাও অনেকটা মেটাচ্ছে।

আগে তুলোর গদি ব্যবহার হতো বেশি। কিন্তু এখন বাজারে ফোম, নারকেল ছোবড়া ইত্যাদির তৈরি ম্যাট্রেস পাওয়া যায়, যেগুলি আরামদায়ক তো বটেই এবং বিভিন্ন বাজেট অনুযায়ীও বটে।

১)  রিগাল ম্যাট্রেস – দু’দিকে কয়ার ও মধ্যেখানে ফোম দিয়ে বানানো হয়। দাম ৮,৮৩৮ টাকা।

২)  ম্যামো কেয়ার স্প্রিং ম্যাট্রেস – দাম তুলনায় বেশি। এই ম্যাট্রেসে স্প্রিং থাকার ফলে এটি অনেক বেশি বাউন্স করে। ম্যাট্রেসের উপরের লেয়ারটি ম্যামোরি ফোম থাকার ফলে খুব সহজে ম্যাট্রেসটি বডি শেপের সঙ্গে অ্যাডজাস্ট হয়ে যায়। এর ফলে শরীরে আরাম পাওয়া যায়। দাম ৩২,৫৮০ টাকা।

৩)  ভিভান্টা স্প্রিং ম্যাট্রেস – দাম কম। এতে স্প্রিং-এর উপর ফোমের পরত দেওয়া থাকে না। এর দাম ১৪,৮৬৮ টাকা।

৪)  ভিভান্টা কয়্যার ম্যাট্রেস – এতে কয়্যারের উপর বনডেড ফোম দেওয়া থাকে। এর দাম ১৮,৮১০ টাকা এবং শোবার জন্যে খুবই উপযুক্ত ম্যাট্রেস। সকলেই এটি ব্যবহার করতে পারেন।

৫)  বনডেড ফোম দিয়ে তৈরি অল্টিমা ম্যাট্রেস – ৩ ইঞ্চি কয়্যারের লেয়ার দেওয়া থাকে এতে। এর দাম ১৬,৫০৬ টাকা।

৬)  পেন কেয়ার – এটি এক ধরনের অর্থোপেডিক ম্যাট্রেস। যাদের শিরদাঁড়ায় ব্যথার সমস্যা রয়েছে তাদের জন্যে এটি অত্যন্ত উপযোগী ম্যাট্রেস। বাজারে এই ম্যাট্রেসের চাহিদা বেশ ভালো। এর বাজার মূল্য ১৬,২০০ টাকা।

৭)  ডিউরা প্লাস বনডেড ম্যাট্রেস – অত্যন্ত আরামদায়ক ম্যাট্রেস। বনডেড ফোমের উপর সুপার সফট ফোম ব্যবহার করা হয়। বাজার মূল্য ১৭,৭৮০ টাকা।

৮)  ম্যামোরি বনডেড ম্যাট্রেস – বনডেড ফোমের উপর ম্যামোরি ফোম লাগানো হয়, ফলে ম্যাট্রেসটি খুবই আরামদায়ক এবং এর মূল্য ৩২,০০০ টাকা।

৯)  ম্যামো কিওর কয়্যার ম্যাট্রেস – বনডেড কয়্যারের উপর সুপার সফট ম্যামোরি ফোম দেওয়া থাকে। এটি প্রচন্ড নরম হয়। দাম ৩৫,০০০ টাকা।

বেশিরভাগ গ্রাহক পেন কেয়ার ম্যাট্রেস এবং ম্যামো কেয়ার বেশি কেনেন কারণ আরামদায়ক হওয়ার পাশাপাশি সঙ্গে পিঠের হাড়েও চাপ দেয় না এই ম্যাট্রেস।

কীভাবে ম্যাট্রেসের যত্ন নেবেন

ক)  প্রতিটি ম্যাট্রেসের সঙ্গে কোম্পানির ওয়ারেন্টি দেওয়া থাকে। ওয়ারেন্টির সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার ২ থেকে ৪ বছর পর্যন্ত ম্যাট্রেস ভালো থাকে। ম্যাট্রেসের মধ্যেখানটা গর্ত হয়ে গেলে, সেটা বদলে ফেলাই বাঞ্ছনীয়।

খ)  কিছুদিন বাদে বাদে ম্যাট্রেসের সাইড পরিবর্তন করুন।

গ)  জল এবং ময়েশ্চার থেকে ম্যাট্রেসকে বাঁচাতে ওয়াটারপ্রুফ ম্যাট্রেস প্রোটেকটর পরিয়ে রাখুন।

আজকাল ম্যাট্রেসের ভিতর নানাধরনের কেমিক্যাল দেওয়া হয় ফলে এতে যেমন ধুলোমাটি জমতে পারে না তেমনি পোকামাকড় হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে না।  অনেক সময় অসাবধানতাবশত ম্যাট্রেসের উপর চা অথবা খাবার পড়ে যায় এবং ম্যাট্রেসে বিশ্রী দাগ হয়ে যায়। এটি পরিষ্কার করা খুব সহজ হয় না। কয়েকটি উপায় অবলম্বন করলে ম্যাট্রেস পরিষ্কার রাখতে পারবেন।

১)  ম্যাট্রেসে দাগ লাগলে পরিষ্কার করার জন্যে একটি পাত্রে জল এবং বেকিং সোডা মিশিয়ে দাগের উপর ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর পরিষ্কার ভিজে কাপড় দিয়ে জায়গাটা মুছে নিন।

২)  ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের সাহায্যে ম্যাট্রেস পরিষ্কার করুন।

৩)  লেবুর রস লাগিয়েও দাগ তোলা যায়।

৪)  ম্যাট্রেসে রক্তের দাগ লাগলে, ঠান্ডা জলে নুন মিশিয়ে ভিজে পরিষ্কার কাপড়ের সাহায্যে জায়গাটা মুছে নিন। হঠাৎ যদি ম্যাট্রেসের উপর জল পড়ে যায় তাহলে তৎক্ষণাৎ শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে, তোয়ালে অথবা খবরের কাগজ দিয়ে রাখুন।

 

 

বন্ধু চল …

শিপ্রা এই সবে সবে তিন্নিকে প্লে-স্কুলে ভর্তি করেছে। ও একটু চুপচাপ, তাই শিপ্রা আর অচিন্ত্য দু’জনে মিলে ঠিক করেছিল, তাড়াতাড়ি মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করে দিলে একটু বন্ধুবান্ধব friendship হবে। ফলে মেয়ে সকলের সঙ্গে মিশতেও শিখবে এবং মুখেও বুলি ফুটবে। এই একই মানসিকতা নিয়ে বর্ণালিও একবছর আগে মেয়ে রিমাকে প্লে-স্কুলে ভর্তি করেছিল। স্কুলে এই একবছরে রিমার বন্ধুর সংখ্যা বেড়েছে। বাড়িতেও কথা বলছে খুব। এছাড়া বন্ধুবান্ধবদের জন্মদিনের পার্টিও প্রচণ্ড এনজয় করছে।

অনেক অভিভাবকদেরই এরকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বাচ্চা খুব মিশুকে না হলে সহজে কারও সঙ্গে friendship কথা বলতে চায় না। বন্ধু তৈরি হয় না। একা একা সবসময় নিজের সঙ্গেই থাকা আর সঙ্গী বলতে শুধু বাড়ির কয়েকজন। এর ফলে বাচ্চার পার্সোনাল ডেভেলপমেন্ট ঠিকমতো হয় না। আবার অনেক সময় বন্ধু নির্বাচনেও অনেকে ভুলভ্রান্তি করে ফেলে। সুতরাং উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োজন অভিভাবকদের গাইডেন্স-এর। নানা ভাবে একটা বাচ্চাকে গাইড করা যেতে পারে।

বাচ্চার অনুভূতিকে গাইড করুন

এখনকার মাইক্রো ফ্যামিলিতে প্রত্যেক বাচ্চার মধ্যেই একটা নেগেটিভ, স্বার্থপরতাপ্রবণ ইচ্ছাশক্তি থাকে। ছোটো থাকাকালীন যখন অনেক বাচ্চা একসঙ্গে খেলা করে অথবা বাইরের কোনও বাচ্চা নিজের মা-বাবার সঙ্গে অন্য একটি বাচ্চার বাড়িতে বেড়াতে আসে তখন নিজের খেলনা অথবা প্রিয় জিনিস অপর কারও সঙ্গে ভাগ না করে নেওয়ার প্রবণতা বাচ্চাদের মধ্যে দেখা যায়। এই সিচুয়েশনে মা-বাবার উচিত বাচ্চাকে বকাঝকা না করে নম্রস্বরে তাকে বোঝানো বন্ধুত্বের প্রকৃত অর্থ কী।

শাসনের প্রয়োজন, অত্যাচার নয়

শাস্তির পথ নিয়ে অতিরিক্ত শাসন করতে গেলে বাচ্চা বিগড়ে বসবে। বাচ্চাদের নেগেটিভ ব্যবহারকে যদি কড়া শাস্তির মাধ্যমে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করা হয় তাহলে বাচ্চার মধ্যে বিরোধীতা করার, জেদ দেখানোর এবং মারমুখী হয়ে ওঠার মনোভাব আরও বেশি প্রবল হবে। যা একেবারেই বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহারের বিপরীত। শাসন ততটুকুই করুন যাতে ভালোবাসার উষ্ণতা থাকবে। সন্তানকে কাছে বসিয়ে তার বোধগম্য হয় এমন আলোচনা ও উদাহরণের গল্প শুনিয়ে তার মধ্যে চলতে থাকা কনফ্লিক্টগুলোকে আয়ত্তে নিয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে। এতে নিঃসন্দেহে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে সুবিধা হবে।

কথা বলার অভ্যাস বদলান

মার্জিত কথাবার্তা চালাবার অভ্যাসও বাচ্চাদের মধ্যে রোপন করার দায়িত্ব থেকেও অভিভাবকদের পিছু হটা উচিত নয়। কথা বলার অভ্যাস তৈরি হয় বাড়িতেই। যেখানে বাড়িতে অভিভাবকেরা সমানে বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের সঙ্গে কথার মাধ্যমে অনেক সুবিধা অসুবিধার কথা শেয়ার করেন, পরবর্তী কালে সেইসব বাচ্চারা দেখা যায় সামাজিক স্তরে অনেক বেশি যোগ্যতা অর্জন করে এবং অপরের সঙ্গে নিগোশিয়েট করার ক্ষমতাও তাদের অনেক বেশি হয়। কথা বলার সময় চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা, মুখে অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তোলা, অন্যে যখন কথা বলছে তার দিকে তাকিয়ে থেকে সম্পূর্ণ অ্যাটেনশন দেওয়া, উপযুক্ত উত্তর দেওয়ার অভ্যাসও বাচ্চাকে তার বন্ধুদের কাছে প্রিয় করে তুলতে সাহায্য করে।

প্রথম প্রথম বাচ্চারা যখন বন্ধুত্ব গড়ে তোলার চেষ্টায় রয়েছে তখন তাদের মধ্যে তুলনামূলক কোনও খেলা খেলাবার চেষ্টা থেকে বিরত হওয়া উচিত। এছাড়াও এমন কোনও সিচুয়েশন তৈরি করা উচিত নয় যেখানে অপর বাচ্চার সঙ্গে দ্বন্দ্বের মনোভাব তৈরি হবে অথবা প্রয়োজনে অপরের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে বাচ্চা দ্বিধা করবে।

প্রথম স্কুল যেতে আরম্ভ করলে বাড়ি থেকে অনেক মা-বাবাই শিখিয়ে পড়িয়ে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠান যাতে অন্যান্য সহপাঠীদের সঙ্গে মিশতে তাদের অসুবিধা না হয়। যেমন সহপাঠীদের সঙ্গে মেশার আগে একটু লক্ষ্য রাখা যে তারা কী করছে অথবা কী ধরনের খেলায় তারা বেশি ব্যস্ত থাকে। নিজেকে কী ভাবে ওই দলে ফিট করাবে? সহপাঠীদের সঙ্গে খেলার জন্যে তাকে ওই রকমই সংগত আচরণ করতে হবে। চোর-পুলিশের খেলায় যেমন চোর হয়ে খেলায় ঢোকার চেষ্টা চালানো। সবার খেলার মাঝে খেলা ভন্ডুল করে দেবার প্রচেষ্টা করা উচিত নয় বা খেলা বদলে দেবার আবদার করাও উচিত হবে না এতে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

অভিভাবকদের খেয়াল রাখা উচিত কী ধরনের বাচ্চাদের সঙ্গে নিজেদের সন্তান মেলামেশা বেশি করছে। কারণ যেসব বাচ্চার বন্ধুরা খুব বেশি অ্যাগ্রেসিভ হয়, পরবর্তী সময়ে সেই বাচ্চাদের মধ্যে ব্যবহারে অসামঞ্জস্যতা লক্ষ্য করা যায়। আর এই সমস্যার কারণে বন্ধুরা অনেক সময় তাদের অ্যাভয়েড করার চেষ্টা করে। শিশু অবস্থায় অভিভাবকের তদারকির প্রয়োজন আছে কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা করে তাকে একলা ছাড়া উচিত যাতে নিজের অসুবিধাগুলোর নিজেই সুরাহা করে নিতে বাচ্চারা শিখতে পারে। এতে কনফিডেন্স লেভেল বাড়ে। দুর্বল বাচ্চাদের পীড়ন (বুলি) করা অনুচিত এটা বাচ্চাকে বুঝিয়ে বলা দরকার।

তবে এত কিছুর পরেও নিয়ম মেনে বন্ধু হয় না। দেখা যায় সম্পূর্ণ বিপরীত চরিত্রের দুটি শিশুর মধ্যেই গড়ে ওঠে প্রগাঢ় বন্ধুত্ব friendship। বাচ্চার মধ্যে অপরকে সাহায্য করার মানসিকতা, দয়া, মায়া, আনুগত্যের গুণগুলিই অপর আর একটি বাচ্চাকে তার প্রতি আকর্ষণ করে। কেউ বা ব্যবহারে আকৃষ্ট হয়ে বন্ধুত্বের হাত বাড়ায়, আবার কাউকে আকৃষ্ট করে অ্যাকাডেমিক সাফল্য। কেউ কেউ আবার এসব কিছুর ধার ধারে না। অপরজনের খেলাধুলো অথবা এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ-এর প্রতি আকর্ষণই অন্য বাচ্চাটিকে তার প্রতি আকৃষ্ট করে। বন্ধুত্বের হাতেখড়ি সেখানেই। তাই বন্ধুত্ব গড়ে তোলার কোনও বিধি-বিধান নেই। আছে শুধু সাবলীলভাবে ভালোবাসার তাগিদ। তাও অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার দরকার আছে বই-কি। হাত ধরে কিছুটা পথ পার করে দেওয়ার দায় তো তাদেরই।

 

শৈশবই সঞ্চয় শেখাবার উপযুক্ত বয়স

শৈশবই প্রকৃত সময় শিক্ষার বীজ savings বপণ করার, কারণ শিশুমন তখন উদগ্রীব থাকে নতুন শিক্ষা গ্রহণ করার জন্যে। সুতরাং তখন থেকেই তাকে আর্থিক বিষয়ে ধীরে ধীরে সচেতন করে তুলতে বাধা কোথায়? তাই বলে, টাকা-পয়সা অথবা জমা-পুঁজি নিয়ে গুরুগম্ভীর পাঠ পড়ানোর প্রয়োজন নেই এই বয়সে। যদি সঠিক পথে আপনি শিক্ষা দিতে পারেন তাহলে দেখবেন খেলাচ্ছলেই আপনার সন্তান যা-কিছু গ্রহণযোগ্য সব আয়ত্ত করে নিচ্ছে। জেনে নিন কয়েকটি উপায় যা আপনি আপনার সন্তানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে দেখতে পারেন।

১)   সন্তানের সঙ্গে রোজকার কথাবার্তায় রোজগার, খরচ, টাকা জমাবার savings বিভিন্ন উপায় নিয়ে খুব হালকা এবং জানিয়ে রাখার মতো কিছু বেসিক আলোচনা করুন। সন্তান যত বড়ো হতে থাকবে শিক্ষার বিষয় এবং মান, সন্তানের বয়স অনুপাতে রাখার চেষ্টা করুন।

২)   সন্তানের সঙ্গে গল্পের ছলে আলোচনা করুন, বাচ্চার মা-বাবা হয়ে আপনাদের সংসার চালাবার জন্য কী কী দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। খাবারদাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের জোগান দিতে গিয়ে অভিভাবক হিসেবে কত ধরনের কাজ করতে হচ্ছে। কীভাবে টাকার জোগাড় হচ্ছে এবং তার পেছনে কতটা পরিশ্রম রয়েছে ইত্যাদি। শৈশব থেকেই বাচ্চারা তাহলে শিখবে টাকার মূল্য কতটা।

৩)   অর্থের মূল্য কী, এটা বাচ্চারা একবার বুঝতে শিখলেই জমাবার অভ্যাস তাদের মধ্যে তৈরি করে দিতে হবে। তাদের একটা পিগি ব্যাংক উপহার দিতে পারেন এবং তাদের বলুন রোজ কম করে ওতে দুটো করে কয়েন ফেলতে।

৪)   বোঝার একটু বয়স হলেই সন্তানকে নিজের সঙ্গে ব্যাংক-এ নিয়ে যান এবং যেগুলো সহজ ব্যাংকিং পদ্ধতি সেগুলো বিশদে ওকে বুঝিয়ে বলুন। ব্যাংকিং টার্ম যেমন ‘সেভিংস অ্যাকাউন্ট’, ‘ফিক্সড্ ডিপোজিট’, ‘উইথড্রল’ এবং ‘ডিপোজিট’, এগুলির সঙ্গে বাচ্চাকে পরিচয় করান।

৫)   বাড়িতে বিভিন্ন পেমেন্ট যন্ত্রের সঙ্গে তাকে পরিচয় করান। চোখে দেখা জিনিস সহজে ভোলার নয়। তাই চোখের সামনে জিনিসগুলির ব্যবহারের নিয়ম দেখলে ওর মস্তিষ্কে সহজে জিনিসটা গেঁথে যাবে। কী করে চেক বুক, এটিএম কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ব্যাবহার করতে হয় সন্তানকে দেখান এবং এগুলির কাজ ওদের কাছে ব্যাখ্যা করে বলুন।

৬)   সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ‘ফিল্ড ট্রিপ’ প্ল্যান করুন কাছের সুপারমার্কেটে। ধরুন মাসকাবারির বাজার করতে গেছেন। জিনিস কেনার সঙ্গে সঙ্গে দামটা আপনার সন্তানকে বলুন এবং মনে মনে যোগ করে একটা হিসেব রাখতে বলুন। দোকানে দাম দেবার সময় দোকানের বিলে টোটাল দাম এবং বাচ্চার মনে মনে অঙ্ক কষে বার করা দামটা মেলাতে বলুন। ভুল কি ঠিক বাচ্চা নিজেই বুঝতে পারবে। এছাড়াও দাম দেবার সময় পুরো টাকাটা যখন দিচ্ছেন, তখন ব্যালান্স টাকা ফেরত পাওয়ার হলে বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করুন কত টাকা আপনার ফেরা উচিত। এগুলি আপনার বাচ্চার অঙ্ক করার ক্ষমতা যেমন বাড়াবে তেমনি ভবিষ্যতে কেনাকাটার বিষয়ে তাকে স্মার্ট করে তুলবে।

৭)   ‘রোল প্লে’, শিক্ষা দেবার একটা দারুণ রাস্তা। বাচ্চারা যখন বাড়িতে বসে ক্লান্ত তখন একটা মজার খেলা খেলুন। ওদের হাতে কিছু খুচরো টাকা দিয়ে রাখুন। তারপর কিছু জিনিস নিয়ে মিছিমিছি দোকান সাজিয়ে বসুন। প্রত্যেকটি জিনিসে দামের ট্যাগ লাগান। প্রত্যোকটির দাম যেন আলাদা আলাদা হয়। এবার মজার ছলে দোকানদার এবং ক্রেতার ভূমিকায় সন্তানকে নিয়ে খেলুন।

৮)   এমন খেলনা বাচ্চাকে কিনে দিন যেটা খেললে টাকা-পয়সার হিসেবের অঙ্কটা তার মগজে গেঁথে যাবে। যেমন ‘মোনোপলি’ এমন একটা খেলা যার মাধ্যমে টাকা-পয়সার লেনদেন সংক্রান্ত একটা পরিষ্কার ধারণা জন্মায়। ট্র্যাডিশনাল বোর্ড গেমও বাচ্চাদের অর্থ-সংক্রান্ত জ্ঞানকে আরও নিখুঁত করতে সাহায্য করে।

৯)   যখন বাচ্চার উপযুক্ত বয়স হবে ‘পকেট মানি’ পাবার তখন তাদের প্রয়োজনমতো টাকা দিন। কীভাবে টাকাটা তারা খরচ করবে তাই নিয়ে খুব বেশি তর্কবিতর্ক করবেন না। কিন্তু খেয়াল রাখবেন পকেট মানি থেকে খানিকটা টাকা যেন তারা আলাদা বাঁচিয়ে রাখে ‘সেভিংস’-এর জন্য। কী খাতে তারা খরচ করছে তারও একটা খেয়াল আপনাকে রাখতে হবে। তাদের এমন পদক্ষেপ নিতে অ্যাডভাইস দিন যাতে ভবিষ্যতে তাদের আর্থিক স্বাধীনতা নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হয়।

১০)  নানা ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বাচ্চারা নিজেদের অজান্তেই, মা-বাবা যা করেন তাই অন্ধের মতো অনুসরণ করে। যদি মা-বাবা টাকা পয়সা দিয়ে সাবধানি হন তাহলে চান্স থাকে তাদের ছেলেমেয়েরাও ওই সঞ্চয়ের savings পথই অবলম্বন করবে। সুতরাং শিক্ষা দিন সন্তানকে, ভবিষ্যতে উপযুক্ত হয়ে নিজেদের যেন তারা গড়ে তুলতে পারে।

 

সোনা ঘুমোল পাড়া জুড়োল

শৈশব অবস্থায় সন্তানের ‘ঘুম’ নিয়ে প্রায়শই মায়েদের আলোচনা করতে শোনা যায়। দৈনন্দিন মানসিক এবং সামাজিক চাপ, স্কুলের ব্যস্ত জীবনশৈলী, এসবের সঙ্গে শিশুর নিজেকে মানিয়ে নিতে পরিমাণমতো ঘুম খুবই সাহায্য করে। এছাড়াও মস্তিষ্কের সজাগ এবং সতেজ থাকার জন্যেও ঘুমের একান্ত প্রয়োজন রয়েছে শিশুর জীবনেও।

ঘুমের প্রয়োজন কতটা?

মায়েদের মনে এই প্রশ্নটা সবসময় থাকে। শিশুর জন্মের ১ বছর পর্যন্ত ঘুমটা পুরোপুরি শিশুর উপরই নির্ভর করে সে কখন কতটা ঘুমোবে? প্রত্যেকটি শিশু আলাদা আলাদা ভাবে নিজের একটা অভ্যাস তৈরি করে। একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে ঘুমোনো এবং সময়মতো ঘুমের থেকে জাগার প্রত্যেকেরই নিজস্ব প্যাটার্ন তৈরি হয়। প্রত্যেকদিনই ওই একই সময়েই সাধারণত শিশুটি ঘুমোয় এবং জাগেও প্রায় একই সময়ে। এরকম ভাবেই কেউ হয়তো রাত্রে জাগে দিনে ঘুমোয় আবার কেউ দিনে জেগে থেকে রাত্রে ঘুমিয়ে পড়ে। এক বছর থেকে দেড় বছর পর্যন্ত সারদিনে বাচ্চারা দু’বারের বেশি ঘুমোতে চায় না এবং দেড় বছর হয়ে গেলে একবারের বেশি ওদের ঘুম পাড়ানোই অসুবিধেজনক হয়ে ওঠে। বয়স বাড়তে থাকার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা, নানা ধরনের চিন্তা, রাত্রে ঘুমোতে গেলে খারাপ স্বপ্ন দেখার ভয়, অন্যান্য ভাইবোনেদের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ইত্যাদি শিশুর ঘুমের সময়কে আরও কমিয়ে দেয়।

প্রত্যেকটি শিশুরই ঘুমের প্রয়োজন একে অপরের থেকে আলাদা। নির্ধারিত কোনও সময়ের গন্ডি তাদের জন্যে প্রযোজ্য নয়। স্কুলে ভর্তি হওয়ার বয়সের আগে পর্যন্ত, প্রতিদিন বাচ্চাদের ১০ থেকে ১২ ঘন্টার ঘুমের প্রয়োজন। স্কুলে যেতে শুরু করার পর বাচ্চাদের মধ্যে অদ্ভুত একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তাদের ঘুমোনো এবং জাগার ঘড়ির কাঁটা দু’ঘন্টার মতো পিছিয়ে যেতে দেখা যায়। এই সব বাচ্চারা একটু বেশি রাতে ঘুমোতে যায়, ফলে দিনের বেলা তাদের ঘুম ভাঙতেও দেরি হয়।

ঘুম কম হলে বাচ্চারা স্কুলে অমনোযোগী হয়ে পড়ে, স্মরণশক্তি কমে যায়, পড়াশোনা, খেলাধুলোর ক্ষেত্রেও আশানুরূপ ফল দেখাতে পারে না, অল্পতেই রেগে যায়, খিটখিটে স্বভাব শান্ত করতে ঘুমের ওষুধও দেওয়া হয়ে থাকে। বাচ্চারা যাতে রাত্রে ভালো ঘুমোতে পারে, তার জন্যে বাবা-মাকেও কিছু জিনিস খেয়াল রাখতে হবে। বাচ্চার জীবনে কী পরিবর্তন আনা যেতে পারে আর কী নয়, সেটা অভিভাবক হিসেবে আমাদের একটু ভালোভাবে জেনে নিতে হবে।

বাচ্চাদের দিনযাপনের নির্দিষ্ট প্যাটার্ন ঠিক করে দিতে হবে

সারা বিশ্বজুড়ে বহু পরীক্ষা করে দেখা গেছে যেসব বাচ্চারা রাত্রে তাড়াতাড়ি ঘুমোয় এবং তাড়াতাড়ি সকালে ওঠে তারা অনেক বেশি সজাগ, স্মার্ট হয় এবং মোটা হওয়ার প্রবণতা কম হয়। যত দিন যাচ্ছে ততই বাচ্চাদের রাত অবধি জাগিয়ে রাখার রাস্তা প্রশস্ত হচ্ছে, নানা সরঞ্জাম দিয়ে। টেলিভিশন, ইন্টারনেট, ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনের মাধ্যমে কথা বলা, ভিডিও গেমস ইত্যাদি বাচ্চাদের চোখে ঘুমের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে।

শহরে, মফসসলে এখন ট্রেন্ড হচ্ছে, বাড়ির অভিভাবকেরা সকলেই চাকুরিজীবী। সন্ধেবেলায় বাড়ি ফিরতে ফিরতে সাড়ে সাতটা আটটা। সুতরাং বাড়ি ফিরে বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলে, তাদের প্রয়োজনীয় পড়াশোনা করিয়ে, খাইয়ে বিছানায় ঘুমোতে পাঠাতে পাঠাতে ঘড়ির কাঁটা গভীর রাত্রি ছুঁই ছুঁই। সকালে তাড়াতাড়ি উঠেই আবার স্কুল, অফিস বেরোবার তাড়া। সুতরাং চাপ সৃষ্টি হয় ঘুমের সময়টার ওপরেই। তাড়াতাড়ি শোওয়াতে গেলে বাচ্চারা হয়তো প্রতিবাদ করতে পারে, চ্যাঁচাতে পারে কিন্তু মা-বাবার উচিত সপ্তাহের পাঁচ-ছটা দিন রাত্রে একটাই সময় ঠিক করে তাড়াতাড়ি বিছানায় শুইয়ে দেওয়া বাচ্চাদের। খেয়ালও রাখতে হবে তারা যেন জেগে না থেকে সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ে। তাহলেই ঘুমটা ওদের পর্যাপ্ত হবে। তবে সপ্তাহে একটা দিন ওদের কিছুটা ছুট দেওয়া যেতেই পারে এবং সেদিনটা একটু রাত্রে দেরি অবধি জাগার পারমিশনও দেওয়া চলতে পারে।

ঘুমোনোটাকে আনন্দদায়ক করে তুলুন

তিনটে জিনিস খেয়াল রাখুন। বাচ্চার ঘুমোবার জায়গা, ঘুমোবার সময় এবং সকালে ওঠার সময়। বাচ্চারা যখন ঘুমোয় তখন মা-বাবা আশেপাশে থাকলে ওরা নিজেদের খুব নিরাপদ মনে করে। তাই ওদের রাত্রে শোয়াবার একটা প্যাটার্ন ঠিক করে দিন। তাড়াতাড়ি নির্দিষ্ট সময়ে বাচ্চাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে ওর কাছে ১৫-২০ মিনিট থাকুন। সম্ভব হলে ওই সময়টাতে ওকে গল্প বলুন অথবা গল্প পড়ে শোনান। মাথায় ধীরে ধীরে হাত বুলিয়ে দিন এবং ঘুমিয়ে পড়লে নিশ্চিত হয়ে ঘরের আলো নিভিয়ে দরজা ভেজিয়ে বেরিয়ে আসুন।

বদঅভ্যাসগুলি মেনে নেবেন না

টেলিভিশন, কম্পিউটার, মোবাইল ইত্যাদি যদি বাচ্চাদের নেশার বস্তু হয়ে ওঠে তাহলে সেগুলি বন্ধ করে দেওয়া আপনার দায়িত্ব। অন্য বদভ্যাসেও যেন সে অভ্যস্ত না হয়ে পড়ে, তার খেয়ালও আপনাদেরই রাখতে হবে। এছাড়াও স্ন্যাক্স, ক্যাফেন, ফাস্টফুড ইত্যাদি খাওয়া থেকে আপনার সন্তানকে বিরত রাখতে হবে।

বাচ্চাদের নিয়ম মেনে চলতে শেখান

বাচ্চাকে যদি একা শোয়াতে চান তাহলে হঠাৎ করে তাদের আলাদা ঘরে ব্যবস্থা না করে ধীরে ধীরে তাদের অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রথমে নিজের পাশে আলাদা একটি খাটে ওদের শোয়ানো শুরু করুন। রাত্রে একটা নাইট-লাইট জ্বালিয়ে রাখুন এবং তার মাথার কাছে একটা অ্যালার্ম বেল রাখুন যাতে রাত্রে ভয় পেলে তারা ওটা বাজাতে পারে। ধীরে ধীরে এভাবে অভ্যাস হলে আলাদা ঘরে ওকে শিফট করতে পারেন। ঘরটি সম্পূর্ণ বাচ্চাকে ছেড়ে দিন যাতে নিজের জিনিসপত্র সে নিজের ঘরে রাখতে পারে এবং একা যখন থাকতে চাইবে তাকে সেই অধিকারটুকু দিন একা থাকার। কিন্তু দু’জন শিশু একটা ঘরে হলে সাধারণত দু’জনেরই ইচ্ছে হবে একে অপরকে বিরক্ত করার এবং তাতে ওদের ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটবে।

কিছু রুটিন মেনে বাচ্চাকে শোয়ার অভ্যাস করান

রুটিনের মধ্যে, শোবার আগে ব্রাশ করা, হাত-পা-মুখ ভালো করে ধুয়ে বিছানায় ওঠা, গল্পের বই পড়া ইত্যাদি অভ্যাসগুলি বাচ্চাদের করাতে পারেন।

ঘুমের মধ্যে হাঁটা

৩ থেকে ৭ বছরের বাচ্চাদের ঘুমের মধ্যে হাঁটার অভ্যাস দেখা যায়। রাত্রেই এটা বেশি হয়ে থাকে। আগে থেকে সাবধান থাকুন। বাড়ির জিনিসপত্র এমন ভাবে গুছিয়ে রাখুন যাতে রাত্রে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে চলার সময় আপনার সন্তান যেন কোনওরকম আঘাত না পায়। ধীরে ধীরে হাত ধরে ওকে বিছানায় শুইয়ে দিন। সাবধান থাকবেন যাতে ওর ঘুম ভেঙে না যায়। হাঁটার মধ্যে ও যদি হঠাৎ করে জেগে যায় তাহলে মানসিক ভাবে ও আঘাত পেতে পারে।

রিল্যাক্স রাখার টেকনিক

যেসব বাচ্চাদের অমনোযোগী হওয়ার সমস্যা থাকে, তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রচণ্ড হাইপারঅ্যাক্টিভ হয়, ফলে ঘুমেরও প্রবলেম হয় তাদের। চেষ্টা করুন সন্তানকে মেডিটেশন, যোগা ইত্যাদিতে ব্যস্ত রাখতে। এগুলি রিল্যাক্স থাকার নানান উপায়। এছাড়াও ৩০ মিনিটের ব্যায়াম করান নিজের সন্তানকে, যাতে ব্যায়াম শেষে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। শারীরিক পরিশ্রম করলে শিশুর ঘুমের ব্যাঘাত হওয়ারও সমস্যা হবে না।

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব