নরদেহ পর্ব-৩

তাপসকে কড়া ভাষায় কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন সিদ্ধার্থ, হঠাৎ তখনই মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন জেগে উঠল। আচ্ছা, হরিশ কি তাপসের নাম দিয়ে নিজের কোনও প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চাইল তাঁর কাছে? পর্যবেক্ষণ করে দেখল সিদ্ধার্থের প্রতিক্রিয়া? কী মারাত্মক! সেজন্যই কি বারবার বলত ফিরে এলে এটা করবে, সেটা করবে। সেসব কি এই সম্পর্কিত অনুসন্ধান? মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে অনুসন্ধান করার সময় না থাকাতে তাপসকে সামনে রেখে প্রশ্নটা করে বসেছিল? কাপুরুষ! এতই যখন সন্দেহ তখন নিজে সরাসরি প্রশ্ন করে জেনে নিতে পারতিস। এই ভনিতার কী দরকার ছিল?

শ্রাদ্ধ হয়ে গেল হরিশের। কঠোর নিয়মে বাঁধা লকডাউন-শ্রাদ্ধ৷ গোনা গুনতি লোক নিয়ে কোনওরকমে পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন করা, আড়ম্বরহীন, আতিশয্যহীন। সিদ্ধার্থের মনে হল, এটাই যথার্থ। আত্মার মুক্তি কামনায় করণীয় বিধি এমনই তো হওয়া উচিত। সবকিছুতেই আড়ম্বর যুক্ত করে দেওয়ার প্রক্রিয়া বড়ো অদ্ভুত। কিছু কিছু জিনিস অন্তরের অন্তঃস্থলে বসে সমাধা করতে হয়, প্রকৃতির সংযোগে হয় না। মুশকিল হল, অন্তরের ঘরটাকে দেখেই বা ক’জন, চেনেই বা ক’জন! চর্মচক্ষু যা দেখে তার বাইরে যেন আর কিছুই নেই।

হরিশ আর নেই। ওঁর অনুরোধ রক্ষা করার দায়ও আর নেই। এখন ওঁর নির্দেশ পালন করাই বেশি যুক্তিযুক্ত। সিদ্ধার্থ মনে মনে ঠিক করলেন, এবার বন্ধ করবেন আসা যাওয়ার অভ্যাস। কী কারণে আর যাবেন? এমনও তো হতে পারে, হরিশের কথাই ঠিক। তাপস মনে মনে সত্যি সত্যি এমন একটা নোংরা ধারণা পোষণ করে। এতদিন বলেনি সামনাসামনি কিন্তু এবার বলবে। কারণ হরিশের ঢাল আর নেই।

চারদিনের মাথায় ডাক পড়ল সিদ্ধার্থের। অপমান করার নিমন্ত্রণ? না গিয়েও উপায় নেই। ডাকার পর না গেলে অন্যভাবে নিতে পারে। হরিশ ওদের মনে এমন ভাবে গেঁথে দিয়ে গিয়েছে তাঁকে, এখন সিদ্ধার্থের মাঝে হরিশকে দেখবে ওরা। অন্তত যাদের মনে নোংরা কিছু নেই।

তাপস আলাদা করে ডেকে বলল, ‘আপনি তো আমাদের পরিবারের সবই জানেন। আসল কথাটা একবারেই বলি। তপন, নীপা ওরা সবাই বলছে, বাবা যখন নেই তখন সম্পত্তির একটা বন্দোবস্ত করে ফেলাই ভালো। আমি বড়ো ভাই হিসাবে ভেবে দেখলাম, সেটাই ভালো, ওদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিলে আমারও শাস্তি। তাই ডেকেছি আপনাকে।”

“আমি কেন? আমি কে? না না তোদের পৈতৃক সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারা করবি, সেখানে আমার থাকাটা শোভন দেখায় না। তোরা ঠিক করে নে। তাছাড়া তোর মা তো এখনও বেঁচে আছেন।’

“ওখানেই তো সমস্যা। আমি একচোট আলোচনা করেছি ওদের সঙ্গে। সম্পত্তির ভাগ নেবে সবাই অথচ মায়ের কী হবে, সে বিষয়ে এড়িয়ে যাচ্ছে। আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম, আমরা সবাই মিলে রোটেশন করে মাকে রাখব। চার মাস বা এক মাস করে করে। কিন্তু তাতেও রাজি নয়। এ বলে ব্যাবসার সমস্যা, ও বলে কাজের লোকের সমস্যা নানা অজুহাত। আমি তো ওদের চিনি, একবার ভাগবাটোয়ারা হয়ে গেলে আর টিকিও খুঁজে পাওয়া যাবে না ওদের।’

খানিক চুপ করে থেকে সিদ্ধার্থ বললেন, ‘মায়ের একটা সঠিক বন্দোবস্ত না করে ভাগ বাটোয়ারা করার প্রশ্ন আসে না। তাঁর মতামত নিয়েছিস কিছু, নাকি তিনি সরল মানুষ বলে নিজেরাই সব ডিসিশন নিচ্ছিস? তাঁর ইচ্ছে অনিচ্ছেটাও তো জানা দরকার। তোরা এমন করছিস যেন সে অনাথ শিশু, তাঁকে নিয়ে যা খুশি তাই করা যায়।”

“মায়ের কোনও মতামত নেই। তাঁর বক্তব্য, তোরা যেটা ভালো বুঝিস তাই করবি। ওরা আমার ওপর দায় চাপাতে চায় কাকু। সেটা কি সম্ভব, নাকি নায্য, আপনিই বলুন? অপর্ণা বলছিল আপনিই পারেন এর সমাধান করতে। আমিও জানি মায়ের প্রতি আপনার একটা দায়িত্ব বোধ আছে, যেটা আপনি কোনওদিনই এড়িয়ে যেতে পারবেন না।’

হঠাৎ কথা হারিয়ে ফেললেন সিদ্ধার্থ। তবে কি হরিশের কথাই ঠিক? সেই সত্যেরই ইঙ্গিত দিল তাপস?

ইচ্ছে না থাকলেও বসতে হল সিদ্ধার্থকে। হরিশের সবচেয়ে বড়ো গুণ ভীষণ গোছানো টাইপের মানুষ ছিলেন। জীবনে রোজগারও করেছেন অনেক। কে কী পাবে না পাবে তার একটা ইঙ্গিতও দিয়ে গিয়েছেন। সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ সেরকম না হলেও সমস্যা হল মায়ের প্রশ্নেই।

ভারতীয় বোঝাতে সংস্কারাচ্ছন্ন নিয়ম পালন?

বিদেশে ভারতীয় হিসাবে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অনেকেই আজকাল কিছু ধর্মীয় সংস্কারের শরণাপন্ন হচ্ছেন। নিজের ভারতীয়ত্ব প্রমাণ করতে যুগ যুগ ধরে চলে আসা পূজাপাঠ বা ধর্মীয় রীতি রেওয়াজকেই মূলধন করতে হচ্ছে কেন? বিজ্ঞান চেতনা বা তার্কিক বুদ্ধি দিয়ে কি নিজের অস্তিত্ব এবং চিন্তা দর্শানো এতই কঠিন?

কয়েক মাস আগে কানাডায় দুই যুবতি পরস্পরের সঙ্গে গড়ে ওঠা ভালোবাসার সম্পর্ককে স্বীকৃতি দিয়েছেন বিয়ের মাধ্যমে। লেসবিয়ান বিবাহ কানাডায় স্বীকৃত। তাই ওই দুজন যুবতি ভারতীয় সংস্কৃতির উদযাপন করতে ভারতীয় মতেই বিবাহ করেন। একজন তামিল ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে, অন্যজন বাংলাদেশি। একটি ডেটিং অ্যাপ-এ দুজনের আলাপ ও সম্পর্ক। দুটি আলাদা দেশ ও সংস্কৃতিকে এক করতে তারা ভারতীয় আচার অনুষ্ঠানকে বিবাহের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেন।

তামিল বিবাহে যেমন পাত্র ও পাত্রীর সম্প্রদান হয় পিতার কোলে বসে, এই বিবাহও সম্পাদন হয় একই পদ্ধতিতে। কন্যাদান পর্বের পর অগ্নিসাক্ষী রেখে বিবাহের সমস্ত রীতিই পালন করেন তারা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই পৌরাণিক ভাবধারা তাদের বিবাহকে স্বীকৃত করার জন্য প্রয়োজন হল কেন?

Marriage within same gender in Canada

কানাডা যথেষ্ট উদার মানসিকতার দেশ। সেখানে লেসবিয়ান ম্যারেজ আইনসিদ্ধ। ওদেশে বহু ভারতীয় উপার্জন বা অধ্যয়নের জন্য যান। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে তারা বসবাসও করেন। ব্যবসায়ীরা বহু বছর ধরে ব্যাবসা বাণিজ্যও করে যাচ্ছেন ওই দেশে। সামাজিক মেলামেশায় তাদের ভারতীয়ত্ব প্রমাণ করার কোনও দায় থাকে না। তাহলে এই বিবাহকে ভারতীয় মোড়ক দিতে পৌরাণিক আচারের বশবর্তী হতে হল কেন ?

বিবাহের দুই পাত্রী সুবীক্ষা এবং টিনা পরস্পরকে ভালোবাসেন। হৃদয় যেখানে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে, সেখানে এই দেশীয় আচার আড়ম্বর কিছুটা লোকদেখানো একটি প্রক্রিয়া নয় কী? কানাডা একটি তামিল ব্রাহ্মণ কন্যা ও বাংলাদেশি মেয়ের বিবাহকে আইনি ভাবে এমনিই স্বীকৃতি দিয়েছে। সেখানে দুটি পরিবার গর্ব করে অন্ধবিশ্বাস প্রচার করার এই উদ্যোগ না নিলেও কিছু কি সত্যিই এসে যেত?

মা হওয়ার পর অবসাদ গ্রাস করছে

মা হওয়ার আনন্দ নিয়ে অনেকে অনেক কিছু বলেন কিন্তু আমি আমার কিছু সমস্যার কথা বলতে চাই৷ আমায় ভুল বুঝবেন না কিন্তু শিশুর জন্ম হওয়ার প্রাথমিক আনন্দ যে আমার হয়নি তা নয়৷ কিন্তু কিছুদিন পর থেকে ভীষণ অবসাদ ঘিরে ধরতে শুরু করে৷ এখন আমার আর কিছুই ভালো লাগে না৷ আমি সম্পূর্ণ অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছি৷ এর থেকে কীভাবে বের হব বুঝতে পারছি না৷ দয়া করে বলুন আমি কি অস্বাভাবিকতার শিকার? এটা কি কোনও মানসিক রোগের প্রথম পর্যায়ে রয়েছি?

 

সন্তান জন্মানোর পর মহিলাদের মধ্যে এটা দেখা যায়।এটাকে বলে প্রসবোত্তর অবসাদ৷ এর মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নেই৷ এরকম বহু মহিলারই হয়৷ আসলে মা হওয়ার পরই মহিলাদের মনে, শরীরে নানান পরিবর্তন আসে। হরমোনের ভারসাম্য থাকে না, যার ফলে তাদের নানান মানসিক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়, অনেক উদ্ভট চিন্তা আসে। এটাকেই বলা হয় প্রসবোত্তর অবসাদ।

এই অবসাদের কারণেই, মেজাজের পরিবর্তন হয়৷ আচমকাই রেগে যাওয়া, হঠাৎ কষ্ট পাওয়া,  কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে না করা, বিরক্তি, কান্না পাওয়া, একা থাকতে চাওয়া, অনেক সময় নিজের সন্তানকেই সহ্য করতে না পারা – এইসব লক্ষণ দেখা যায়। এই আচরণগুলি এই ডিপ্রেশনেরই অঙ্গ৷

 গবেষণা বলছে ৭০ শতাংশ মহিলার মধ্যে এই সমস্যা দেখা দেয়। আর এগুলো এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত থাকতে পারে। কিন্তু যে লক্ষণগুলো এই সময় দেখা যায় সেগুলো নিয়ন্ত্রণ না করা হলে সেগুলো থেকেই যায়। এর মধ্যে থাকতে পারে ঘুম না আসা, খিদে না পাওয়া, নিজেকে শেষ করে দেওয়ার প্রবণতা, শিশু কাঁদলে রাগ হওয়া, ইত্যাদি।

তাই প্রথমেই নিজের কাউন্সেলিং নিজেই করা শুরু করুন৷এটা আপনাকে বুঝতে হবে যে, মা হওয়া মানে অনেকটা দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়া। পরিবার পাশে না থাকলে এটা হয় অনেক সময়। তার মধ্যে আবার শরীর দুর্বল থাকে, মনে নানান চিন্তা চলে। তাই এই অবসাদ ঘিরে ধরে।

এটার মূল চিকিৎসা হল পরিবারের আদর, যত্ন। পরিবার যদি সমর্থন করে এবং ভালোবাসে তাহলে দ্রুত এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায়। স্বামীকে এই সময় স্ত্রীর পাশে থাকতে হবে৷ তাই স্বামীর সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করুন৷তাঁকেও বুঝতে হবে খাবার আর ওষুধ তো আছেই, তার সঙ্গে স্ত্রীর ছোটোখাটো  খুশির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। আর যদি অবস্থার আরও অবনতি ঘটে তাহলে কোনও মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

গ্লুকোমা সনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা

গ্লুকোমা হল চোখের এমন একটি অবস্থা, যার চিকিৎসা করা না হলে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হতে পারে। এটি এমন একটি রোগ, যা অপটিক স্নায়ুকে, যে চোখ থেকে মস্তিষ্কে দর্শন তথ্য প্রেরণ করে, তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। গ্লুকোমা সাধারণত সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং ধীরে ধীরে চোখের পেরিফেরাল দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দেয়। সঠিক সময়ে এর চিকিৎসা করা না হলে,শেষ পর্যন্ত এটি অন্ধত্বের দিকে নিয়ে যায়।

সারা বিশ্বে, ছানি`র পরে অন্ধত্বের দ্বিতীয় প্রধান কারণ গ্লুকোমা। গ্লুকোমা সারা বিশ্বের ৪.৫ মিলিয়ন লোকের অন্ধত্বের কারণ বলে অনুমান করা হয়েছে। যেখানে ভারতে ২০১২ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে গ্লুকোমায় আক্রান্ত ১২ মিলিয়ন লোকের মধ্যে এই রোগের কারণে ১.২ মিলিয়ন লোক অন্ধ। তা সত্ত্বেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গ্লুকোমা সনাক্তকরণ করা হয় না। ৯০ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে গ্লুকোমার চিকিৎসা করা হয় না। এটা দেশের জন্য ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্ধত্বের ক্ষেত্রে গ্লুকোমা একটি অন্যতম প্রধান কারণ হওয়ায়, এর প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এবারের এই বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহে, একটি অ্যাবভি কোম্পানি, অ্যালারগান, চক্ষুচিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একত্রিত হয়েছিল, যেখানে দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা প্রতিরোধে গ্লুকোমা`র প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার গুরুত্বের উপর জোর দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা ঝুঁকি এবং প্রতিরোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি, চিকিৎসার সর্বশেষ বিকাশের ওপরেও আলোকপাত করেন।

গ্লুকোমার প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে, প্রতি বছর মার্চ মাসে বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহ পালিত হয়ে থাকে। গ্লুকোমার বৃদ্ধির কারণে, চোখের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।

ভারতের বর্তমান গ্লুকোমা পরিস্থিতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে, সুপার-স্পেশালিটি আই কেয়ার সেন্টার, নেত্রালয়ম-এর ডিরেক্টর ডা. মনীশ সিং জানিয়েছেন, ‘ভারতে গ্লুকোমার প্রকোপের মাত্রা গ্রাম এবং শহরাঞ্চলে ভিন্ন। এটি বিভিন্ন কারণের জন্য দায়ী করা যেতে পারে। যেমন জীবনযাত্রার পরিবর্তন, আয়ু বৃদ্ধি এবং চোখের চিকিৎসা পরিষেবা`র ক্ষেত্রে সীমিত অ্যাকসেস। বর্ধিত জনসংখ্যা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং ডায়াবেটিসের মত ক্রনিক রোগের বৃদ্ধির মত বিভিন্ন কারণের জন্য আগামী বছরগুলিতে ভারতে গ্লুকোমার চাপ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সমস্ত ফ্যাক্টরগুলি গ্লুকোমার ক্ষেত্রে ঝুঁকির কারণ। অতএব, গ্লুকোমা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, চোখের চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে সুযোগসুবিধাকে উন্নত করা এবং বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় কার্যকর স্ক্রিনিং প্রোগ্রামগুলিকে বাড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কলকাতার সেন্টার ফর সাইট-এর কনসালটেন্ট চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ, গ্লুকোমা এবং ক্যাটারাক্ট সার্ভিসেস ডা. দেবাশিস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘গ্লুকোমা সম্পর্কিত অসংখ্য মিথ এবং ভুল বিশ্বাস রয়েছে যা লোকেদের তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করতে পারে৷ সাধারণ ধারণা যে, গ্লুকোমা শুধুমাত্র বয়স্ক ব্যক্তিদের প্রভাবিত করে। এই রোগ সম্পর্কে সবচেয়ে ভুল ধারণাগুলির মধ্যে এটি একটি। যদিও বয়স্ক ব্যক্তিদের গ্লুকোমা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তাহলেও এটি শিশু এবং অল্প বয়স্ক ব্যক্তি সহ যে-কোনও বয়সের যে কাউকে আক্রান্ত করতে পারে। উপরন্তু, বয়স নির্বিশেষে, যাদের অসুস্থতার পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি রয়েছে। ধারণা করা হয় যে, গ্লুকোমা প্রাথমিকভাবে চোখের উচ্চ চাপযুক্ত ব্যক্তিদের প্রভাবিত করে, এটা এই রোগ সম্পর্কে আরও একটি বড়ো রকমের মিথ। যদিও চোখের উচ্চ চাপ থাকা ব্যক্তিদের গ্লুকোমা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়, তাহলেও এটি একমাত্র ঝুঁকির কারণ নয়।’

গ্লুকোমা সনাক্ত করতে এবং দৃষ্টিশক্তি হ্রাস রোধ করতে, প্রাথমিক অবস্থায় প্রতি বছর চোখের পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া অপরিহার্য। এই ধরনের সময়মত পদক্ষেপের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে, একটি অ্যাবভি কোম্পানি, অ্যালারগান-এর মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. ঋষি জৈন বলেন, ‘দৃষ্টিশক্তি হারানোর বিষয়টিকে প্রতিরোধ করার জন্য প্রাথমিক সনাক্তকরণই প্রধান। কারণ, দৃষ্টিশক্তি একবার হারিয়ে গেলে সেটা আর ফেরানো যায় না। তাই আপনার চোখ পরীক্ষা করার জন্য প্রতি বছরে অন্তত একবার একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যান। গ্লুকোমার প্রাথমিক লক্ষণগুলি সাধারণত একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ বা চক্ষু বিশেষজ্ঞ দ্বারা চোখের পরীক্ষার সময় সনাক্ত করা যায়। টোনোমেট্রি, অপথালমোস্কোপি এবং পেরিমেট্রি হল চোখের চাপ বৃদ্ধি (টোনোমেট্রি), অপটিক নার্ভ ড্যামেজ (অফথালমোস্কোপি) এবং দৃষ্টিশক্তি হারানো (পেরিমেট্রি) সনাক্ত করার ক্ষেত্রে সহজ পরীক্ষা। এছাড়াও, আপনার চিকিৎসক অন্যান্য পদ্ধতি যেমন গনিওস্কোপি এবং প্যাকাইমেট্রি করতে পারেন, যা কর্নিয়া এবং আইরিসের মধ্যে কোণ পরিমাপ করে।’

কলকাতার ত্রিনেত্রালয়ের মেডিক্যাল ডিরেক্টর এবং চেয়ারপার্সন, সাইন্টিফিক কমিটি, অল ইন্ডিয়া অপথালমোলজি সোসাইটি, ডা. পার্থ বিশ্বাস চোখের চিকিৎসার বিভিন্ন ব্যবস্থা সম্পর্কে যা জানিয়েছেন, তা গ্লুকোমা হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাঁর মতে, ‘কোনও গুরুতর ক্ষতি হওয়ার আগে গ্লুকোমা শনাক্ত করার জন্য নিয়মিত চোখের পরীক্ষা অপরিহার্য। ৪০ বছরের বেশি বয়সিদের প্রতি বছরে অন্তত একবার বিস্তৃত চক্ষু পরীক্ষা করা উচিত এবং যারা উচ্চতর ঝুঁকিতে রয়েছে (যেমন যাদের এই অবস্থার পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে) তাদের আরও ঘন ঘন চেক-আপ করা উচিত। নিয়মিত চোখের পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক সনাক্তকরণ গ্লুকোমা মোকাবেলার সর্বোত্তম উপায়। গ্লুকোমা প্রতিরোধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, চোখকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করা।’

সঠিক এবং সময়মত চিকিৎসা করালে, গ্লুকোমা পরবর্তী অন্ধত্ব প্রতিরোধ করতে পারে। নিয়মিত প্রতিরোধমূলক চক্ষু পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একজন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যিনি প্রয়োজনে আরও বিশেষ পরীক্ষা করতে পারেন এবং ওষুধ, লেজার বা গ্লুকোমা সার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।

নরদেহ পর্ব-২

সিদ্ধার্থ জানেন হরিশের ছেলেরা ওঁকে খুব একটা ভালোবাসে না। বিশেষ করে ছোটো ছেলে তপনের সঙ্গে একদমই বনিবনা হতো না। বড়ো দুজনেরও যেটুকু আছে সেটা অন্তরের নয়, কেজো আর লোক দেখানি ভালোবাসা। মাঝে মাঝেই বাবা-মাকে নিয়ে টাগ অফ ওয়ার চলে। বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর মতো কথাও ওরা বলে, সিদ্ধার্থের কানে এসেছে। হরিশও সব জানত।

বৈঠক বসেছে সামনের ঘরে। হরিশের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান সম্পর্কে আলোচনার জন্য।

হরিশের বড়ো ছেলে তাপস বলল, ‘বাবা গলদা চিংড়ি খুব ভালোবাসতেন। আমার ইচ্ছে ছিল মৎসমুখীতে গলদা চিংড়ি হবে। কিন্তু পরিস্থিতি যেভাবে খারাপ হচ্ছে তাতে খাওয়ানো তো দূরের কথা, অনুষ্ঠান করা যাবে কিনা সেটাই সন্দেহ। পুলিশ পঁচিশ-ত্রিশের বেশি লোকের পারমিশন দেবে না।”

সিদ্ধার্থ বললেন, “কী দরকার? নিষ্ঠা নিয়ে শ্রাদ্ধের ক্রিয়াকর্ম কর, তাহলেই তোর বাবার আত্মা শান্তি পাবে। গলদা চিংড়ি খাওয়ালেই আত্মা শান্তি পাবে, কে বলেছে তোদের? গুরুদশা পার হল, এবার বাকি কাজগুলো কীভাবে করা যায় সেটা ভাব৷’

মেজ নীলু বলল, ‘তবুও লোকে ঠিক বলবে ছেলেগুলো কিপটে…।’

“কেন বলবে? লোকে পরিস্থিতি জানে না? ওটা তোর মনের ভুল ধারণা। বরং উলটোটা হবে, ডাকলেও কেউ আসবে না। আর যদি এতই খাওয়ানোর ইচ্ছে থাকে তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে না হয় খাইয়ে দিস।’

ছোটো ছেলে তপন বলল, ‘আমাদের কপালটাই খারাপ। কী ট্রিটমেন্ট হল কে জানে, গুচ্ছের টাকা খেয়ে লোকটাকেও মেরে ফেলল। শালা হারামির…।’

তপনের বউ রীতা কনুইয়ের গুঁতো দিয়ে বলল, ‘হচ্ছেটা কী? সবাই রয়েছে এখানে। মুখের ভাষা কি তোমার কোনওদিনই ভালো হবে না?”

হরিশের মেয়ে নীপা বলে, ‘ছোড়দার মুখের ভাষা হয়তো খারাপ কিন্তু অন্যায্য তো কিছু বলেনি। ব্যাবসা করার একটা ভালো সুযোগ পেয়েছে মানুষের জীবন নিয়ে। তাও যদি বেঁচে ফিরত।’

সিদ্ধার্থ বিরক্ত গলায় বললেন, “তোরা কি আবার ওদের সঙ্গে ঝগড়া করতে চাস? তবে একটা কমপেনসেশন কেস ঠুকে দে৷ জিতে গেলে অনেক টাকা ফেরত পাবি ৷ ‘

“সেটাই তো উচিত ছিল।’ রাগে গজগজ করতে করতে বলল তপন।

মনে মনে হাসলেন সিদ্ধার্থ। এসব কি বাবার প্রতি ভালোবাসা, নাকি পাহাড় প্রমাণ বিলের জন্য হতাশা? যতদূর জানেন সিদ্ধার্থ, হরিশ নিজের চিকিৎসার জন্য একটা বড়ো অ্যামাউন্ট সব সময় রেডি রাখত। হয়তো তার বাইরে কিছু দিতে হয়েছে তাই রাগ সামলাতে পারছে না এরা। কিন্তু একদিক থেকে এদের আনন্দিত হওয়ারই কথা। কারণ বৃদ্ধ বাবাকে আমৃত্যু টানার হাত থেকে মুক্তি দিয়ে গেছে হরিশ। কতটা পেলে মানুষ সন্তুষ্ট হয় এখনও বুঝে উঠতে পারেন না সিদ্ধার্থ। মানুষের মনোভূমিতে চাহিদার বিষবৃক্ষ কতটা বেড়ে উঠলে সম্পর্কগুলোকে নস্যাৎ করে শুধু চাহিদার কথাই ভাবতে থাকে— তার পরিমাপ আজও শিখলেন না। হরিশের মৃত্যুশোক ধীরে ধীরে টাকার শোকে পরিণত হচ্ছে। এই তো মানুষের অস্তিত্ব!

‘এসব কথা মায়ের সামনে বারবার তুললে তাঁর মনে কতটা আঘাত লাগে তোরা বুঝতে পারিস? বাবা গেল, মাকেও খুঁচিয়ে মারতে চাস? এমন করলে আমাকে আর ডাকিস না। সত্যি কথা বলতে এ বাড়িতে আমার আসার আর কোনও কারণ রইল না।”

তাপস কাঁচুমাচু করে বলল, ‘ওদের কথায় কিছু মনে করবেন না কাকু। আপনি এরকম বললে আমরা খুব কষ্ট পাব। বাবা নেই, এখন আপনিই আমাদের গার্জিয়ান।’

হাসতে গিয়েও কোনওরকমে নিজেকে সামলালেন সিদ্ধার্থ। এই মুহূর্তে হাসলে বড্ড বেমানান দেখাত। বেড়ে মিথ্যে কথাটা বলেছে ছোকরা! মরার ক’দিন আগেই হরিশ ফোনে চরম এক স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছিলেন, ‘জানি না আমি আর ফিরতে পারব কিনা, তোকে একটা গোপন কথা বলতে চাই।’ তারপরে সংকোচ ভরে বলেছিলেন, “জানি না বলাটা কতটা যুক্তিযুক্ত হবে, তবুও বলছি কারণ একজন মৃত্যুপথযাত্রীর কাছে যুক্তিতর্কের চেয়ে সত্যটা স্বীকার করার মধ্যে প্রাণের আরাম বেশি মনে হয়। অন্তত আমার কাছে তাই মনে হচ্ছে। শোন সিদ্ধার্থ, আমার মৃত্যু হলে তুই আর আমাদের বাড়ি আসিস না। একদিন এক ঝগড়ার সূত্রে তাপস কি বলেছিল জানিস? বলেছিল, তোমরা যাকে এত প্রশ্রয় দাও সে তো আসলে লম্পট, চরিত্রহীন। ছোটো থাকতে ও নাকি দেখেছে, তুই নাকি ওর মার সঙ্গে একই বিছানায়… আমি বিশ্বাস করিনি। আমি জানি ওটা ওর বানানো গল্প। ও সব পারে। আমি বেঁচে থাকতে যেটা পারেনি সেটা আমার অবর্তমানে ঠিক করে দেখাবে।”

শোনার পর কিছুক্ষণ কোনও কথা বলতে পারেননি সিদ্ধার্থ। সুতীব্র গ্লানিতে ভরে গিয়েছিল মন। এটা শুনতেও বাকি ছিল তাঁর! দু’দিন এতটাই তোলপাড় ছিল মন, হরিশের বাড়ির চৌকাঠ পর্যন্ত মাড়াননি। পরে হরিশের অনুরোধেই আবার গিয়েছিলেন। হরিশ আকুতি মিশিয়ে বলেছিলেন, “আমার মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত অন্তত আসিস।”

 

 

 

মুক্তি পেতে চলেছে অতনু ঘোষ-এর ছবি ‘শেষ পাতা’

মানবিক সম্পর্কের বিষয় নিয়ে সিনেমা তৈরি করে ইতিমধ্যেই দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছেন পরিচালক অতনু ঘোষ। তাই আবারও তিনি বাংলা ছবির দর্শকদের উপহার দিতে চলেছেন ‘শেষ পাতা’ শীর্ষক আরও একটি মানবিক সম্পর্কের ছবি। সম্প্রতি আইনক্স কোয়েস্ট মল-এ ছবিটির ট্রেলার লঞ্চ হল৷

ছবিটিতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-কে দেখা যাবে বাল্মীকির চরিত্রে। যিনি একজন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। কিন্তু কিছু ঘটনা বাল্মীকির জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করে এবং বাল্মীকি এখন অবহেলিত ও বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করছেন।

অতনু ঘোষের ‘শেষ পাতা’ মূল্যবোধ, নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সেইসঙ্গে  বিবেকের যন্ত্রণার গল্প। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলোর সন্ধান পাবে কিনা মুখ্য চরিত্ররা, তা বোঝা যাবে ছবিটি দেখার পর। জানা গেছে, ‘শেষ পাতা’-য়  চারটি প্রধান চরিত্র সমাজের ভিন্ন মানসিকতা এবং স্তরের। তাদের চেহারা, তাদের সাধারণ জীবনধারার উপর প্রভাবও ফেলে।

বাল্মীকি (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়) বেপরোয়া, আবেগপ্রবণ এবং বোহেমিয়ান। পরিশীলিত এবং সংবেদনশীল, মেধা (গার্গী রায়চৌধুরী) তার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সঙ্গে মরিয়া হয়ে লড়াই করছে। সৌনক (বিক্রম চট্টোপাধ্যায়) এমন একটি পেশার মানুষ, যার কার্যকলাপও বেশ অভিনব।  দীপা (রায়তি ভট্টাচার্য) একজন চিত্রশিল্পী হিসাবে কাজ করে, জীবনকে চালিয়ে যাওয়ার জন্য সংগ্রাম করে কিন্তু তার স্বপ্নকে আঁকড়ে থাকে। এই ছবির মুখ্য চরিত্র বাল্মীকি একজন প্রাক্তন সুপরিচিত লেখক। যিনি মর্যাদা এবং সম্মান থেকে বঞ্চিত। বছরখানেক আগে একটি প্রকাশনা সংস্থা বাল্মীকিকে চল্লিশ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়েছিল তার স্ত্রীর কথা লেখার জন্য, যাকে ত্রিশ বছর আগে খুন করা হয়েছিল। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও, বাল্মীকি পাণ্ডুলিপির এক পাতাও দিতে ব্যর্থ হন।লেখাটি পুনরুদ্ধার করতে, প্রকাশনা সংস্থা সৌনককে নিযুক্ত করে। বাল্মীকি সৌনককে জানায়, সে অসুস্থতার কারণে লিখতে পারে  না। বাল্মীকিকে লিখতে সাহায্য করার জন্য নিয়োগ করা হয় মেধাকে। কিন্তু কী ঘটবে এরপর, তা-ই ‘শেষ পাতা’ ছবির ক্লাইম্যাক্স বলে জানানো হয়েছে।

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এর আগেও অতনু ঘোষের ময়ূরাক্ষী এবং রবিবার ছবিতে কাজ করেছেন। এই ছবি দুটি ছাড়াও, অতনুর প্রায় সব ছবিই দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছে। জানা গেছে, ‘শেষ পাতা’ ছবির মুখ্য চরিত্র বাল্মীকির লেখার শেষ পাতায়ও নাকি  অনেক চমক রয়েছে। দেবজ্যোতি মিশ্র এ ছবির সুরকার। সম্পাদক সুজয় দত্ত রায়। ছবিটির প্রযোজক ‘ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন’। পরিচালক অতনু ঘোষ নিজেই লিখেছেন ‘শেষ পাতা’ ছবির কাহিনি। আজ আনুষ্ঠানিক ভাবে ছবিটির ট্রেলার লঞ্চ করা হবে কোয়েস্ট মল-এর আইনক্স-এ। আগামী পয়লা বৈশাখ ছবিটি মুক্তি পাবে বলে জানা গেছে।

রসে বসে রোববার

আসছে রোববার ছেলে আসছে বেঙ্গালুরু থেকে৷থাকবে কয়েকটা দিন৷ সব মায়েদেরই ইচ্ছে হয় এই সুযোগে ছেলের পছন্দের ডিশ তৈরি করে খাওয়ানোর৷ লহমাও তাই খুলে বসেছেন তাঁর পুরোনো রেসিপির খাতা৷ এই সব রান্না শাশুড়ি-মায়ের কাছ থেকে শিখে নিয়েছিলেন বিয়ের পরে ৷ তিনি বলেছিলেন এই সব ডিশ তাঁর ছেলেরও ফেভারিট৷অর্থাৎ তাঁর স্বামীর পছন্দের রান্না হিসেবেই শিখেছিলেন লহমা৷ কিন্তু লহমার পুত্রও এই স্বাদেরই ভক্ত৷ আসলে বংশ পরম্পরায় রান্নাও বাহিত হয় এক  একটি পরিবারের মধ্যে৷ এভাবেই চলে রান্নার ধারাবাহিকতা৷কেতাদুরস্ত বিদেশি রান্নাই হোক বা বাঙালি ঘরের সাবেক রান্না– স্বাদে অমলিন থাকে শুধু মাত্র সঠিক পদ্ধতিতে রান্না ও পরিবেশনের গুণে৷

 

ফ্রুট কার্ড

উপকরণ: ১ বাটি ইয়োগার্ট, ২ ছোটো চামচ খোয়াক্ষীর, ১ ছোটো চামচ এলাচগুঁড়ো, ১টা কলা গোল টুকরোয় কাটা, ৪-৫টা নারকেলের ফালি, ৯-১০টা মাখানা, ১ ছোটো চামচ বেদানার দানা, ১ ছোটো চামচ টুটিফুটি, ১/২ ছোটো চামচ ঘি।

প্রণালী: বাদাম কুচি করে নিন, ঘি গরম করে মাখানা আর বাদাম ভেজে নিন। ইয়োগার্ট ঠান্ডা হওয়ার জন্য ফ্রিজে রেখে দিন। তারপর বের করে একটা বোল-এ ঢালুন। ইয়োগার্ট- 6-এর সঙ্গে মেশান, খোয়াক্ষীর, এলাচগুঁড়ো, নারকেলকুচি, কলার টুকরো, টুটি ফ্রুটি, বেদানার দানা। এরপর ভালো ভাবে মেশাতে থাকুন। বাদামকুচি ও টুটি ফ্রুটি দিয়ে সাজিয়ে ছোটো কাচের বাটিতে করে সার্ভ করুন। লাঞ্চের পর খেতে দারুণ লাগবে।

 

ছোলার ডালের ফিরনি

Chana daal firni recipe

উপকরণ : ১ কাপ ছোলার ডাল, ১ ছোটো চামচ ঘি, ১/২ কাপ গুড়, ১/২ কাপ দুধ, ১/৪ ভাগ তাজা নারকেল, ৭-৮টা কাজু, ৭-৮টা বাদাম, ৪-৫টা গোলমরিচ, ২টি লবঙ্গ, ৩-৪টি ছোটো এলাচ, ১ ছোটো চামচ এলাচগুঁড়ো।

প্রণালী: ছোলার ডাল ৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন। নারকেল কুরে নিন এবং বেটে নিন। ডাল ধুয়ে প্রেশারে গোলমরিচ, লবঙ্গ এবং এলাচ দিয়ে, প্রয়োজনমতো জল ঢেলে সেদ্ধ করে নিন।

এবার ঢাকনা খুলে ডাল সেদ্ধটা বের করে নিন। কড়ায় দুধ, নারকেলবাটা ও ডাল একসঙ্গে দিয়ে ভালো ভাবে নাড়তে থাকুন। বেশি ঘন যেন না হয়, অথবা অতিরিক্ত পাতলা। আঁচ বন্ধ করে গুড় দিন। কাজু ও বাদাম অল্প ভেজে নিয়ে মেশান, মাটির পাত্রে ঠান্ডা করে সার্ভ করুন। উপর থেকে ড্রাই ফ্রুট ও এলাচগুঁড়ো ছড়িয়ে দিন।

নরদেহ পর্ব-১

“এখন সবাই একটু কিছু মুখে দাও।’’ গম্ভীর মুখে কথাটা বললেন সিদ্ধার্থ।

ঘরের সবাই অবাক চোখে তাকাল তাঁর দিকে। বলে কী লোকটা! মাথার ঠিক আছে তো? বাবার মৃত্যুর পর তিন ঘন্টাও কাটেনি। কোভিডে মৃত্যু, তাই ছুঁয়ে দেখারও সুযোগ পায়নি কেউ। শুধু ওখানে উপস্থিত তাপস আর নিলু দূর থেকে প্ল্যাস্টিকের মোড়কে আটকানো বাবার মুখটা দেখতে পেয়েছিল কয়েক মুহূর্তের জন্য। সৎকারের ব্যবস্থা করেছিল ওদের লোকেরাই। কাঁদতেও পারেনি ওখানে। বাড়িতে ফিরে আসার পর একচোট কান্নার রোল উঠেছিল। সময় কান্নার জল শুষে নেয়। অন্তর গুমরে উঠলেও জল সাপ্লাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল একসময়। মাঝে মাঝে একটু নাক মোছা চলছিল, ঠিক তখনই সিদ্ধার্থ কাকুর এই কথা!

কান্না পর্ব শেষ। এখন চলছে শোক স্তব্ধতার পর্ব। পর্বের সমাহারই জীবন। অনেকক্ষণ কেউ কোনও কথা বলেনি। মনে মনে হয়তো সিদ্ধার্থকে তুলোধনা করছিল। এইসময় এরকম একটা কথা বলা যায়? লোকটা মানুষ না জানোয়ার? অথচ যিনি মারা গিয়েছেন তিনি তো তাঁরই বাল্যবন্ধু। একটা মানুষ মরে গেল আর ওর কাছে খাওয়াটাই বড়ো হল? তিনি বিচক্ষণ, তিনি আবার একজন অধ্যাপক!

সময় আর কিছুক্ষণ সময় নিল, তারপরেই নিজের খেল দেখিয়ে দিল। সিদ্ধার্থ মনে মনে কষ্ট পেলেও জানতেন এটাই হবে। শোক আসলে একটা ঝোড়ো হাওয়া, সবকিছু উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে না।

তাপসদের মিনু মাসি খবর পেয়েই চলে এসেছেন লকডাউন উপেক্ষা করে। খুব বেশি দূরে থাকেন না বলেই সেটা সম্ভব হয়েছে। তিনি বললেন, “যে গেল সে তো আর ফিরে আসবে না। ভাবলেই বুক ফেটে কান্না আসছে। কী ভালোমানুষ ছিলেন জামাইবাবু। সবই নিয়তি। তোরা চেষ্টার তো কোনও ত্রুটি করিসনি। কিন্তু দাদার কথাটাও মানতে হবে। সবশুদ্ধু খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দিলে কেমন করে চলবে? সামনে কত কাজ। আমি বরং ফ্রিজ থেকে কিছু ফল বের করে রাখি, একটু গরম হবে।’

সময় আর শোকের খেলা জমে উঠছে। এতক্ষণ শোক একচেটিয়া মাঠ দখল করে খেলছিল, এবার শিথিল হচ্ছে তার আধিপত্য, খেলা ধরছে সময়।

তাপসের বউ অপর্ণা বলল, ‘ফলগুলো ভালো করে স্যানিটাইজ করতে হবে। আমি যাচ্ছি আপনার সঙ্গে, চলুন।

শোকের চেয়ে বড়ো কর্তব্য। জীবন থাকলে কর্তব্য থাকবে। যে মরে যায় তার সঙ্গে সবাই তো একসঙ্গে মরতে পারে না। জীবন-মৃত্যুর টানাটানিতে যে যেদিকে থাকবে, তাকে সেখানেই লড়াই করতে হবে।

সিদ্ধার্থ সে অর্থে এ বাড়ির কেউ নন। আবার অন্যদিক থেকে অনেক কিছু। মৃত হরিশ মুখার্জির বাল্যবন্ধু তিনি। অকৃতদার। নিজের পরিবার বলতে এক আধপাগল ভাই, একটা পোষা কুকুর, আর রান্নার কাজের লোক রামের মা। রামের মায়ের আসল একটা নাম আছে বটে কিন্তু সেটা ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড আর আধার কার্ডের বাইরে নিজের স্বরূপ প্রকাশ করার সুযোগই পায় না। মজার ব্যাপার, তিনি নিজেও সেটা মাঝে মাঝে ভুলে যান।

সিদ্ধার্থ ফিলোজফির অধ্যাপক ছিলেন। বছর পাঁচেক হল রিটায়ার করেছেন। বন্ধু হরিশের পরিবারকে নিজের পরিবারের মতো ভালোবাসেন। তার কারণও আছে একটা। সিদ্ধার্থের মা মারা গিয়েছিলেন শৈশবেই। সেই সময় থেকে হরিশের মা তাকে মাতৃস্নেহ দিয়েছিলেন। সখির ছেলে বলে কথা! সবাইকে বলতেন, ওরা দুজন আমার দুই সন্তান। ওদের বলতেন— আমি যখন থাকব না, তোরা দুজনে দুজনকে দেখে রাখবি।

হরিশের ডায়াবেটিস ছিল। কিছুদিন আগে হার্টের কিছু মাইনর সমস্যাও ধরা পড়েছিল। ইদানীং একটুতেই হাঁপিয়ে যেতেন। তবুও থেমে থাকেননি। বয়সের সিম্পটম বলে দিব্যি ইগনোর করে যাচ্ছিলেন। তবে করোনার আবির্ভাবে সবার মতো হরিশও ভয় পেয়েছিলেন। যথেষ্ট সচেতনতা অবলম্বন করে চলার চেষ্টা করতেন। মাঝে মাঝে হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার, ঘরবন্দি হয়ে থাকা, নিয়ম করে গার্গেল করা, প্রোটিন, ভিটামিন সি, কোনও কিছুই বাদ দেননি। তবুও তিনি করোনা আক্রান্ত হলেন। প্রথমে সর্দি, কাশি, গা-হাত-পা ব্যথা, তারপরে এল জ্বর। হাউজ ফিজিশিয়ান ডাক্তার মিত্র বললেন, ‘টেস্টটা করিয়ে নিন।’

টেস্টের রেজাল্ট পজিটিভ। হালকা শ্বাসকষ্ট শুরু হতেই হসপিটালে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হল। পুরো এলাকা তখন কনটেইনমেন্ট জোন। কেউ কোথাও যেতে পারে না, কেউ কাউকে সাহায্য করতে পারে না, সে এক মহা বিড়ম্বনা। এক একটা বাড়ি যেন এক একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। সন্ধ্যা হতেই কোলাহলের শহরে মৃত্যুপুরীর নির্জনতা নামে। টিভি আর মোবাইল বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।

দশ দিন লড়াই করার পর হেরে গেলেন হরিশ। হেরে গেলেন জীবনের কাছে। মাঝখানে অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। তখন দু’বেলা ফোন করতেন সিদ্ধার্থকে। বাড়ির খবরাখবর নিতেন। আর বলতেন, এবার ফিরলে এটা করব সেটা করব, কত প্ল্যান! আসলে আইসোলেশন পর্বে হরিশ পিছনের জীবনটাকে দেখার, মূল্যায়ন করার অখণ্ড অবকাশ পেয়েছিলেন ওখানে। দূরে গেলে কাছটাকে দেখা যায়, একদম খাঁটি সত্য। কাছ থেকে কাছটাকে দেখাই হয়ে ওঠে না! হঠাৎ করে একটা লোক আবার অতটা সিরিয়াস হয়ে গেল কী করে কে জানে, চলে গেলেন হরিশ। হরিশের ছেলেরা হসপিটালের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছিল। কিন্তু এই ডামাডোলে ধোপে টেকেনি।

 

মেটের কালিয়া

পুষ্টিবিদদের মতে, মাংসের তুলনায় লিভারের পুষ্টিগুণ কোনও অংশে কম নয়।  লিভারে রয়েছে নানা রকম ভিটামিন, আয়রন, ক্যালশিয়াম, ফাইবার ছাড়াও আরও অনেক উপকারি উপাদান।মেটেতে থাকা ভিটামিন-এ এবং বি আমাদের দৃষ্টিশক্তি ও মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়ক। ডায়বেটিসের মতো অসুখে আক্রান্তদের জন্য খুবই উপকারী। এ ছাড়াও, লিভারে থাকা ফাইবার ও আয়রন আছে তা শরীর ও হার্টের পক্ষে খুব উপকারী। একটু স্বাদবদল করতে আসুন জেনে নিই কীভাবে রুটি বা পরোটার সঙ্গে খাওয়ার জন্য রান্না করবেন অতি উপদেয় মেটের কালিয়া৷

উপকরণ :

২৫০ গ্রাম ছাগলের মেটে, ১০০ গ্রাম আলু, ৩ টেবিল চামচ টক দই, ১ চা চামচ গরম মশলার গুঁড়ো, ১ চা চামচ রসুনের কোয়া তেলে ভেজে কুচিয়ে নেওয়া, ১ চিমটে জাফরান, ১০ গ্রাম কিশমিশ, ২০ গ্রাম কাজু, ১/২ টেবিল চামচ কসুরি মেথি, ৩ টেবিল চামচ ভেজিটেবল ঘি, ১ চা চামচ কাশ্মীরি লাল লংকার গুঁড়ো, সামান্য হলুদ, ১০ গ্রাম পোস্ত শুকনো তাওয়ায় ভাজা, লবণ স্বাদমতো, ১কাপ কিশমিশ সস, ১টি পেঁয়াজ কুচোনো, ১ চা চামচ শাহি জিরে বাটা।

প্রণালী : কিশমিশ সস তৈরি করার পদ্ধতি : ১০০ গ্রাম কিশমিশ, ৩ চা চামচ ভিনিগার, ১ কাপ গরমজল।

৩ ঘন্টা কিশমিশ গরমজলে ভিজিয়ে নরম হলে পিষে নিন।

মেটে রান্নার পদ্ধতি :

মেটে ছোটো টুকরোয় কেটে নিন। ছোটো ছোটো আলু আস্ত ঘি তে ভেজে নিন। একটি পুরু তলযুক্ত ডেকচি আগুনে বসান। ঘি দিন। গরম হলে কুচোনো পেঁয়াজ লাল ও শুকনো করে ভেজে নিন। মেটের টুকরো, আলু, লবণ, লংকার গুঁড়ো, হলুদ, শাহি জিরে বাটা ও দই দিন। বাদামি না হওয়া পর্যন্ত ভাজতে থাকুন। এবারে দুধ ও জাফরান দিন। ঘি আলাদা না হওয়া পর্যন্ত ভাজতে থাকুন। এবারে রসুন, কুচোনো কাজু, ২ কাপ জল, পোস্ত বাটা দিন ও কসুরি মেথি ওতে দিয়ে দিন। ঢাকনার উপর ভারি কিছু দিয়ে চাপা দিন। খুব ঢিমে আঁচে ২০ মিনিট মতো রান্না হতে দিন। পরিবেশনের আগে ২ টেবিল চামচ কিশমিশ সস ছড়িয়ে পরোটার সঙ্গে পরিবেশন করুন।

অস্কারের আঙিনায় ভারতের স্বপ্নপূরণ

৯৫তম অস্কার সত্যিই ব্যতিক্রমী বলে প্রমাণিত হল। বিশ্বের নানা প্রান্তের সিনেমা শিল্পীদের হাতে উঠল সেই বহু কাঙ্ক্ষিত সোনালি পুতুল। উদ্বাস্তু কাহিনির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ছবি ‘এভরিথিং এভরিহোয়্যার অল অ্যাট ওয়ান্স’, সাতটি পুরস্কার জিতে নিয়েছে । এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্যই সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন মালয়েশিয়ান অভিনেত্রী মিশেল ইয়ো। আর ‘দ্য হোয়েল’ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেতা হয়েছেন ব্রেন্ডন ফ্রেজার।

৯৫তম অ্যাকাডেমি পুরস্কারের মঞ্চে সেরা  চমকটি ছিল ভারতের অস্কার জয়৷ অরিজিনাল সং বিভাগে অস্কার বিজয়ী হয়েছে RRR  সিনেমার ‘নাটু নাটু’ গান। RRR-এর সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন এমএম কিরাবাণী। এদিন অস্কারের মঞ্চে আনন্দে রাজমৌলীর জন্য দু-কলি গাইতেও দেখা গেছে তাঁকে। আর পশ্চিমী আঙিনাতেও যে ভারতীয় গান ‘নাটু নাটু’ এত ঝড় তুলে দিয়েছে,  সেই গানের দুই গায়ক হলেন রাহুল সিপলগঞ্জ ও কলা ভৈরব।

প্রসঙ্গত, যাদেরকে টেক্কা দিয়ে সেরা মৌলিক গানের পুরস্কার ছিনিয়ে নিয়েছে ‘নাটু নাটু’, সেই তালিকাতে রয়েছে রিহানা, লেডি গাগাদের মতো তাবড় নামও। ‘Natu Natu’ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিভাগে মনোনীত হয়েছিল আরও ৪টি গান- ‘টেল ইট লাইক আ ওম্যান’-এর ‘অ্যাপ্লোয়েজ’ (ডায়েন ওয়ারেন), ‘টপ গান মাভেরিক’-এর ‘হোল্ড মাই হ্যান্ড’ (লেডি গাগা, ব্লাডপপ), ‘ব্ল্যাক প্যান্থার ওয়াকান্ডা ফরেভার’-এর ‘লিফ্ট মি আপ’ (টেমস, রিহানা) এবং ‘এভরিথিং এভরিহোয়্যার’ -এর ‘দিস ইজ আ লাইফ’। আর এদের সকলকে টেক্কা দিয়ে অস্কার মঞ্চে জয়জয়কার ভারতীয় সিনেমার গান ‘নাটু নাটু’র।

এর আগে সত্যজিৎ রায় থেকে শুরু করে এ আর রহমান, শেখর কাপুর, রাসুল পুকুট্টির মতো গণ্যমান্য ভারতীয়রা অস্কার পেয়েছেন। আমির খানের ছবি লগান সেরা ছবির মনোনয়ন পেয়েও অস্কার জিততে পারেনি। কিন্তু ভারতীয় তথ্যচিত্র The Elephant Whispers ছিনিয়ে এনেছে সেরা তথ্যচিত্রের জন্য অস্কার।  প্রথম ভারতীয় ছবি হিসাবে অস্কার জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে কার্তিকীর এই তথ্যচিত্র। গোটা দেশের কাছে  এ নিঃসন্দেহে এক গর্বের মুহূর্ত৷

এই ছবি নেটফ্লিক্সে দেখা্ যাচ্ছে। বাঘা বাঘা তথ্যচিত্রের সঙ্গে মনোনয়নের তালিকায় লড়াই করেছে এই ছবি। শেষপর্যন্ত এল কাঙ্খিত জয়। আর কে খী পেলেন অস্কারের মঞ্চে, রইল তার তালিকা৷

সেরা অ্যাডাপ্টেড চিত্রনাট্য – সারা পোলে (উইমেন টকিং)
সেরা অ্যানিমেটেড ফিচার ফিল্ম  গুইলার্মো দেল তোরো’স পিনোচিও
সেরা বিদেশি ছবি – অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট (জার্মানি)
সেরা ডকুমেন্টারি ফিচার – নাভালনি
সেরা ডকুমেন্টারি শর্ট সাবজেক্ট  দ্য এলিফ্যান্ট হুইস্পারার্স
সেরা লাইভ অ্যাকশন শর্ট ফিল্ম – অ্যান আইরিশ গুডবাই
সেরা অ্যানিমেটেড শর্ট ফিল্ম  দ্য বয়, দ্য মোল, দ্য ফক্স অ্যান্ড দ্য হর্স
সেরা অরিজিনাল স্কোর  ভলকার বার্টেলম্যান (অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট)
সেরা অরিজিনাল সং – নাতু নাতু (RRR)
সেরা সাউন্ড – মার্ক ওয়েনগার্টেন, জেমস ম্যাথের, এআই নেলসন, ক্রিস বার্ডন, মার্ক টেলর (টপ গান: ম্যাভরিক)
সেরা প্রোডাকশন ডিজাইন – অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট
সেরা সিনেমাটোগ্রাফি – জেমস ফ্রেন্ড (অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট)
সেরা মেকআপ ও হেয়ারস্টাইলিং – আদ্রিয়ান মোরোট, জুডি চিন, অ্যান মেরি ব্রাডলি (দ্য হোয়েল)
সেরা কস্টিউম ডিজাইন – রুথ ই কার্টার (ব্ল্যাক প্যান্থার: ওয়াকান্ডা ফরেভার)
সেরা সম্পাদনা – পল রজার্স (এভরিথিং এভরিহোয়্যার অল অ্যাট ওয়ান্স)
সেরা ভিজ্যুয়াল এফেক্ট – অ্যাভাটর: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব