পারিবারিক একাত্মতা বাড়ায় ডাইনিং স্পেস

আমরা আজকাল অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়ি বাচ্চাদের একাকিত্বের বিষয়ে৷ কিন্তু সেই সমস্যাও কিছুটা সমাধান করতে পারে আমাদের ডাইনিং স্পেস৷ শুনে অবাক হচ্ছেন? গবেষণা বলছে, পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করে একসঙ্গে বসে খাওয়াদাওয়া করার অভ্যাস৷ আর এর জন্য আপনার ডাইনিং টেবিলের ভূমিকা অপরিসীম৷

দিনে ২-৩ বার এক সঙ্গে বসে খাবার খাওয়ার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠত পারিবারিক সুসম্পর্ক।অনেকেই ব্যস্ততার অজুহাত দিতে পারেন৷ অনেকে ফোনে মুখ গুঁজে খাবার থালা নিয়ে নিজের বেডরুমে চলে যান, কেউ টিভির পর্দায় চোখ আটকে রেখে খাবার খান। এর ফলে অতীতের খাবার টেবিলের সেই খোশগল্প এখন লোপ পেয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই শীথিল হচ্ছে পারস্পরিক সম্পর্কও। কিন্তু একটু সময় বের করে নিজের পরিবারের সঙ্গে বসে খাওয়াদাওয়া করে দেখুন—এই সময়টা কিন্তু দুর্দান্ত স্ট্রেস রিলিভিং হতে পারে৷

মনোবিদদের মতে  প্রতিদিন কিছুক্ষণের জন্য নিজেকে স্ক্রিন থেকে দূরে সরিয়ে রেখে এবং আহারের সময় পরস্পরের সঙ্গে কথা বলার মধ্য দিয়ে পরিবারের প্রতিটি সদস্য, বিশেষত বাচ্চাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশ সম্ভব।

এছাড়াও এর অনেক গুলি ভালো দিক আছে৷ একটি সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে, পরিবারের প্রতিটি সদস্য বিশেষত কিশোর-কিশোরীরা এক সঙ্গে বসে খাবার খেলে তাদের সামগ্রিক ডায়েট ভালো হয়। যে সমস্ত কিশোর-কিশোরীরা পরিবারের সঙ্গে বসে খাবার খায়, তাঁরা ফাস্ট ফুড ও শর্করা-যুক্ত খাবারের পরিবর্তে অধিক পরিমাণে ফল এবং সবজি খেয়ে থাকে।

happy family secrets
big family drinking tea in dining room

সম্প্রতি উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ জার্নাল অফ পিডিয়াট্রিকসে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে যে, পরিবারের সঙ্গে বসে আহার করা এবং স্থূলতা কম করার মধ্যে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। ১০ বছর পর এর সুফল লাভ করা যাবে। এই সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, প্রতিটি পরিবারের প্রতি সপ্তাহে এক বা দুবার অন্তত এক সঙ্গে বসে খাবার খাওয়া উচিত। এর ফলে পরবর্তী জীবনে তাদের সন্তানরা ওজন বৃদ্ধির সমস্যা থেকে দূরে থাকতে পারবে।কারণ এতে নিয়ন্ত্রতিত পরিমাণে খাবার খাওয়া হয়৷ বাড়ির খাবার জাধ্ক ভুডের তুলনায় অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর৷ পরিবারের গৃহিণী পরিবেশনের সময় মনিটর করতে পারেন কে কতটা খাচ্ছে৷ পুষ্টির দিকটি এতে তার নজরে থাকে৷

এবার আসা যাক মনের বিষয়টিতে৷Bonding while dinning, অর্খা খাবার খাওয়ার সময় কথাবার্তার মাধ্যমে সন্তান অভিভাবক ও বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে যে নিরাপত্তা অনুভব করতে পারে, তা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়৷কোনও সমস্যা মেটাতে এই সময় তারা বড়োদের পরামর্শ নিতে পারে৷ বড়োরাও হালকা মেজাজে খেতে খেতে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন৷ এই পারস্পরিক ভাবনার আদানপ্রদান, অনেক জটিল সমস্যারও সমাধান করে দেয়৷

তাই বাচ্চাদের নিজের খাবার টেবিলে তার বসার জায়গাটি নিজেকে বেছে নিতে দিন। পাশাপাশি খাবারের প্রস্তুতি সংক্রান্ত কিছু কাজ যেমন খাবার পরিবেশন বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ তাকেও করতে দিন।এতে সে পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বলে নিজেকে ভাবতে শিখবে৷

সাহসী তরুণীর মর্মস্পর্শী কাহিনি ‘মুকুট’

‘মুকুট’ এমন একজন মেয়ের গল্প, যাকে তার বাবা বড়ো করে তুলেছেন নীতি এবং আদর্শের শিক্ষা দিয়ে। তিনি দুর্গা প্রতিমা তৈরিতে পারদর্শী ছিলেন। তার মতাদর্শ এমন যে, তিনি মনে করেন, মা দুর্গা অস্ত্রে সজ্জিত ঠিকই কিন্তু অস্ত্র দিয়ে নয়, ভালোবাসা এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সমস্ত বাধা অতিক্রম করার জন্য-ই মা দুর্গা। যাইহোক, নারী পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই এবং প্রান্তিক ব্যক্তিদের জীবনকে উন্নত করার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে ‘মুকুট’ ধারাবাহিকের কাহিনিতে।

ধারাবাহিক্টির মুখ্য চরিত্রের জীবনে হঠাৎই বদলে যাবে। মেয়েটির শ্বশুর বাড়ির একজন সদস্য গভীরভাবে নারী পাচারের সঙ্গে জড়িত। এখান থেকে গল্পটি একটি আকর্ষণীয় মোড় নেবে। নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ নিয়ে বাংলার প্রাণকেন্দ্রে বেড়ে উঠেছে ‘মুকুট’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র। প্রেমময় প্রকৃতিকে পুঁজি করে, চারপাশে ঘটতে থাকা বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতার সমাধান করতে থাকে সে। যদি কোনও অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি দেখা দেয়, তাহলে তা সামলে নেওয়ার ক্ষমতাও রাখে। এভাবেই জি বাংলা-র পর্দায় নারী চরিত্র উপস্থাপন করতে চলেছে, যা দর্শকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে দাবি করা হচ্ছে।

গল্পটি বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরবে বলেও জানানো হয়েছে। অভিনেতা-অভিনেত্রীরা তাদের প্রতিটি চরিত্রকে বাস্তব এবং যুক্তিযুক্ত করে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন চিফ ক্লাস্টার অফিসার (ইস্ট) সম্রাট ঘোষ। আরও জানানো হয়েছে, ধারাবাহিকের কাহিনিতে প্রাধান্য পাবে বোঝাপড়া, সহানুভূতি এবং সম্মান।  শুধু তাই নয়,  প্রেমের সম্পর্ককে লালন করে, সমাজে কীভাবে শান্তি বজায় রাখতে হয়, তাও প্রতিফলিত হবে ধারাবাহিকটির মাধ্যমে। পরিবারে যখন ঝড় উঠবে, তখন সেই পরিবার ভেঙে না দিয়ে,কীভাবে সবকিছু রক্ষা করবে, তা-ই হবে ধারাবাহিকটির প্রধান আকর্ষণ, এই কথা জানিয়েছেন জি বাংলা-র বিজনেস হেড নবনীতা চক্রবর্তী।

‘মুকুট’-এর অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে শ্রীপর্ণা রায়, আনন্দ ঘোষ এবং শুভাশিস মুখোপাধ্যায়-কে। ‘ব্লুজ প্রোডাকশন’-এর ব্যানারে, ‘মুকুট’ শীর্ষক মেগা ধারাবাহিকটি প্রযোজনা করছেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। যিনি এই ধারাবাহিক-এর সঙ্গীত পরিচালকও।

২৭ মার্চ, ২০২৩ থেকে শুরু করে, প্রতি সোম থেকে শুক্রবার রাত ৯টা ৩০মিনিটে, শুধুমাত্র জি বাংলা-য় উপভোগ করতে পারবেন ‘মুকুট’ মেগা ধারাবাহিকটি।

‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ ছবিটি কেমন হল

প্রযোজক: নিখিল আদভানি, মনিশা আদভানি, মধু ভোজওয়ানি এবং জি স্টুডিও
লেখক: সমীর সতিজা, অসীমা ছিব্বার ও রাহুল হান্ডা
পরিচালক: অসীমা ছিব্বার
অভিনয়ে: রানি মুখার্জি, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, জিম সার্ভ, নীনা গুপ্তা প্রমুখ।
সময়কাল:
 2 ঘন্টা 15 মিনিট

হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণকারী এবং দিল্লিতে বেড়ে ওঠা অসীমা ছিব্বার পরিচালিত পারিবারিক আইনি ছবি ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ দেখার পর মনে হয়, ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় ঘটনা অনেকটাই বদলানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ছবির গল্প কতটা সঠিক এবং কতটা বিভ্রান্তকর পরিস্থিতি তুলে ধরেছে সেটি অবশ্যই বিতর্কিত বিষয়। ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ সাগরিকা ভট্টাচার্যের আত্মজীবনী ‘দ্য জার্নি অব এ মাদার’ অবলম্বনে নির্মিত, যার দুই সন্তানকে ২০১১ সালে, নরওয়েজিয়ান চাইল্ড কেয়ার সিস্টেম(বার্নভারনেট) তার কাছ থেকে নিয়ে নিয়েছিল, মা সন্তানদের সঠিক দেখভালে ব্যর্থ এই অভিযোগের ভিত্তিতে।

২০১৩ সালে অসীমা, যশরাজ ফিলমস থেকে স্বাধীনভাবে ‘মেরে ড্যাড কি মারুতি’ পরিচালনার সুযোগ পান। রানি মুখার্জি অভিনীত সাম্প্রতিক এই ছবিতে অনেক তথ্যগত ত্রুটি রয়েছে, তবে সাগরিকা ভট্টাচার্য এবং তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া নরওয়ের ঘটনা নিয়ে যে ছবি তৈরি করা হয়েছে, সেটি দেখে সাগরিকা নিজেও ছবিটির প্রশংসা করেছেন। সিনেমার স্বাধীনতার নামে সাগরিকা ভট্টাচার্যর জায়গায় দেবিকা চ্যাটার্জি এবং অনুরূপ ভট্টাচার্যর জায়গায় তাঁর স্বামীর নাম  অনিরুদ্ধ চ্যাটার্জি রাখা হয়েছে।

গল্প: অনিরুদ্ধ একজন প্রকৌশলী এবং তাঁর স্ত্রী দেবিকা বিএসসি গ্র্যাজুয়েট। কন্যাসন্তান সুচির বয়স যখন মাত্র চারমাস, তখন ছেলে শুভ এবং সুচিকে তাদের পিতামাতার অনুপযুক্ত আচরণের ভিত্তিতে, বার্নভারনেট(নরওয়েজিয়ান চাইল্ড ওয়েলফেয়ার সার্ভিসেস নামেও পরিচিত) দ্বারা ওই দুই ভাই, বোনকে মা বাবার কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্তানদের ফিরে পেতে নরওয়ে সরকারের সঙ্গে মামলায় জড়িয়ে পড়েছিলেন সাগরিকা। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি সন্তানদের ঠিকমতো দেখাশোনা করতে পারছেন না, তাই শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে সেই দেশের সরকার সাগরিকার দুই সন্তানকে তাঁদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়। এই ঘটনা ভারত সরকারেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন নরওয়ের সঙ্গে একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করতে আসেন, তখন দেবিকা সংবাদ সম্মেলনে তাঁর সন্তানদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন। কিন্তু নরওয়ে সরকার সন্তানদের ভরণপোষণের দায়িত্ব দেবিকার লোভী দেওর, শাশুড়ি ও শ্বশুরকে দেয় এবং ঠিক হয় বাচ্চারা ১৮ বছরের না হওয়া পর্যন্ত নরওয়ে সরকার বাচ্চাদের দেখাশোনার জন্য অর্থ দেবে যা ভারতীয় মুদ্রায় বিপুল একটা পরিমাণ। এর পরেই দেবিকার সঙ্গে তার স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদ হয় এবং দেবিকার দেওর তার সন্তানদের ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করে। অবশেষে, ২০১২ সালের নভেম্বরে, দেবিকা বাচ্চাদের পায়।

লেখা ও নির্দেশনা: ১০ বছর পর পরিচালক হিসেবে পারিবারিক এই ছবি নিয়ে হাজির হলেন অসীমা ছিব্বার। বইটি আমাদের পড়া নয় যার উপর ভিত্তি করে পরিচালক ছবিটি বানিয়েছেন, তাই আমরা গল্পের সততা দাবি করতে পারি না। কিন্তু ছবিটি দেখার পর সাগরিকা ভট্টাচার্য অবশ্যই ছবিটির এবং তাঁর চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রী রানি মুখার্জির অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। নরওয়েতে শিশু কল্যাণের নামে যে বিশাল দুর্নীতি হচ্ছে, তা নিয়ে চলচ্চিত্রটিতে খুব বেশি কথা বলা হয়নি। চলচ্চিত্রটি দর্শকদের এত দ্রুত সম্মোহিত করে যে দর্শক গল্পের সত্যতা সম্পর্কে বিশেষ মাথা ঘামাবার অবকাশ পায়নি। পুরো চলচ্চিত্রের ঘটনাগুলি দ্বন্দ্বে পূর্ণ। একজন বাবা কি কেবল নরওয়ের নাগরিকত্ব পেতে বা কিছু টাকার জন্য তার সন্তানদের বলি দিতে প্রস্তুত হতে পারেন?
চলচ্চিত্র নির্মাতা অসীমা ছিব্বার রানি মুখার্জিকে একটি পুরুষনাটকীয় চরিত্রে অভিনয় করার দিকেই বেশি মনোনিবেশ করেছেন। বাচ্চাদের তাদের মায়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া এবং দত্তক হিসেবে অন্য পরিবারে স্থানান্তরিত করা, এই পুরো ঘটনায় বাচ্চাদের কী ধরণের মানসিক টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তার কোনওরকম উল্লেখ ছবিতে দেখানো হয়নি। দুটি নিরীহ শিশু এখানে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার, কিন্তু ছবিতে সেই দিকটা অবহেলিত হয়েছে। মনে হয় এটি এই চলচ্চিত্রের সবচেয়ে দুর্বল দিক।

ছবির শেষে যেভাবে ভারতীয় সংগীত উপস্থাপনা করা হয়েছে, তা অদ্ভুত মনে হয়েছে। দুই দেশের সংস্কৃতির সংঘাত নিছক কান্নায় পরিণত হয়েছে। ছবির শেষে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রয়াত সুষমা স্বরাজ এবং বৃন্দা কারাতকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে, সাগরিকাকে তার সন্তান ফিরে পেতে সবরকম ভাবে সাহায্য করার জন্য।

অভিনয়: দেবিকা চ্যাটার্জির চরিত্রে সাগরিকার অনুভূতি চিত্রিত করতে রানি মুখার্জি ব্যর্থ হয়েছেন। বাস্তবতার মাটিতে পা রেখে সন্তান হারানোর ঘটনায় কী ধরনের মানসিক অবস্থা ঘটে রানি তা উপলব্ধি করতে পারেননি। তাই রানি মুখার্জির অভিনয় ছবিতে মেলোড্রামা বলেই মনে হয়েছে। স্বামী অনিরুদ্ধের চরিত্রে অনির্বাণের অভিনয় বেশ ভালো। নাভে’তে আইনজীবী ড্যানিয়েল সিং সিসপুকের ছোট চরিত্রে জিম সার্ভের অভিনয় প্রাণবন্ত, তিনি কেবল পুরো ছবিকেই প্রভাবিত করেন নি, ছবিটি শেষ হওয়ার পরেও তিনি দর্শকদের হৃদয় ও মনে রয়ে গেছেন।

 

 

 

এক স্বর্গরাজ্যের নাম বোরং

অনেকেই বলেন মেঘমুক্ত দিনই পাহাড়ে সবচেয়ে ভালো৷ কিন্তু আমার মতে মেঘের খেলা আর কুয়াশা মাখা পাহাড়ের মায়াময়তার সঙ্গে কোনও সৌন্দর্যেরই তুলনা চলে না৷এমনই মেঘের চাদর ভেদ করে আমরা চলেছি সিকিম পাহেড়ের বাঁক পেরোতো পোরোতে৷ আমাদের গন্তব‍্য রঙ্গিত নদীতে সৃষ্টি হওয়া একটা উষ্ম-প্রস্রবণ বা hot sulphur spring দেখা। সকালে ভেসে চলা মেঘেদের সাদা ক‍্যানভাসের আড়ালে যে অপার সৌন্দর্যটি লুকিয়ে ছিল তা আমাদের চোখে ধরা দেয়নি ঠিকই, কিন্তু যত বেলা বাড়ল কুয়াশার মোটা বালাপোশ ছেড়ে বেরিয়ে এল প্রকৃতি৷প্রাতঃরাশ সেরে তাই বেরিয়ে পড়লাম গন্তব‍্যের উদ্দেশ‍্যে।

কিছুটা পথ গাড়িতে যাবার পর পায়ে হেঁটে যেতে হবে প্রায় ৪কিমি উৎরাই পথ। ড্রাইভার গুরুংজি আমাদের গাইড করে নিয়ে গেল  ভেজা পাতায় মোড়া পাহাড়ি পথ ধরে।জঙ্গলের ফাঁকে আজস্র পাখির মেলা৷ এভাবেই চলতে চলতে দেখা পেলাম স্কারলেট মিনিভেট, ব্ল্যাক ম্যাগপাই, ব্লু ফ্রন্টেড রেডস্টার্ট, স্ট্রাইপড থ্রেটেড ইউহিনা প্রভৃতি পাখির৷ পাখি দেখা এবং ছবি তোলার যে অভিলাষ নিয়ে আজ বেরিয়েছিলাম, তা পুরোপুরি সার্থক৷সবাইকে ক‍্যামেরা বন্দি করতে না পারলেও বন্দি করলাম মনের মনিকোঠায়।

অবশেষে প্রস্রবণের কাছে পৌঁছে মন ভরে গেল।এটা যেন একটা natural spa৷ প্রস্রবণের জলস্রোতে শীতল হয়ে আসা আমাদের শরীর ক্রমশ উষ্ম হতে শুরু করল।খরস্রোতা রঙ্গিতের মাঝে বেশ বড়ো আকারের একটা পাথরের ওপর অনেক্ষন বসে থাকলাম।চারিদিকের নৈঃশব্দকে ভেঙে গমগম শব্দে বয়ে চলা রঙ্গিত বর্ষায় যে কী ভয়ঙ্কর রূপ নেয় সেটা আন্দাজ করার চেষ্টা করলাম৷

প্রকৃতির নেশা মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল৷সম্বিত ফিরল গুরুংজির ডাকে-এবার যে উঠতে হবে ৪ কিমি খাড়াই পথ।আস্তে আস্তে পা বাড়ালাম।স্মৃতিতে থেকে গেল এই অসাধারন Nature trail.
দুপুরে homestyaতে যখন ফিরলাম আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল গরম গরম ভাত আর ডিমভাজা৷ এর সুবাস জানান দিল পেটের ভেতরটা খাবারের জন্যই অধীর হয়ে আছে। সেদিন বিকেলটায় একটু হেঁটে কাছেই বোরং মনাস্ট্রি দেখতে গেলাম।রাতে আকাশটা একটু পরিস্কার হওয়ায় খাওয়াদাওয়ার পর মেঘমুক্ত আকাশের কালো ক‍্যানভাসে রত্নখচিত তারামন্ডলীর নৈস্বর্গিক শোভা উপভোগ করে অবশেষে শুতে গেলাম।জূরের পাদাড়গুলো তখন সেজে উঠেছে আলোর মেলায়৷ কোনটা কালিংপং কোনটাই বা দার্জিলিং ঠাওর করতে পারলাম না৷

খুব সকাল সকাল হোমস্টের মালকিন ডেকে তুললেন গরম চায়ের কাপ হাতে৷বললেন পাহাড় আজ পরিষ্কার৷ দূরে ঝকঝক করছে চূড়াগুলি৷ মেঘমুক্ত আকাশ দেখে মনটা এক অনাবিল আনন্দে ভরে উঠল।Homestay থেকেই দেখা মিলল পান্ডিম,সিনোলচু, নার্সিং-এর শ্বেতশুভ্র মুকুট পরা শৃঙ্গগুলোর।দু’চোখ ভরে দেখলাম আমাদের হোমস্টে-কে চারিদিক দিয়ে ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন পাহাড়ি গাছের সারি।পাখিদের কলকাকলি আর ঝিঁঝিঁর ডাকে সরগরম চারিপাশ৷ রংবেরঙের অর্কিড,প্রজাপতিদের মেলা,সবুজ বাগিচা দেখে তাক লেগে গেল।এ যেন ঠিক এক স্বর্গরাজ‍্য!
এরই মধ‍্যে হোমস্টের মালকিন আমাদের ঘুরিয়ে দেখালেন তাদের vegetable garden টা যা পুরোপুরি জৈবসার নির্ভর।জলখাবার খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম কাছাকাছি দ্রষ্টব‍্যগুলো ঘুরে দেখার জন‍্য। গুরুংজি আমাদের ঘুরিয়ে দেখাল ওদের গ্রাম।তারপর একে একে দেখলাম সিলভার ফলস,রেনবো ফলস,হ্যাঙিং ব্রিজ, সুইসাইড রক প্রভৃতি। রামধনু দেখেছি এর আগেও বার কয়েক কিন্তু Rainbow falls এ তাকে ছুঁয়ে দেখার বিরল অভিজ্ঞতা হল এই প্রথম।

বিকেলে ঘুরে এলাম রালং মনস্ট্রি।পড়ন্ত বিকেলের আকাশ জুড়ে রক্তিম আভা ও মায়াবি রঙের খেলা উপভোগ করলাম মনস্ট্রি থেকেই।ওম মণি পদ্মে হুম মন্ত্রে পাহাড়ে প্রতিধ্বণি তুলে শুরু হল লামাদের সান্ধ্য প্রার্থনা৷

ফিরে এসে চা-পকোড়া সহযোগে টিফিন ও রাতে হাড় হিম করা ঠান্ডায় জমিয়ে গরম মুরগির ঝোল আর ভাত খেয়ে সোজা কম্বলের উষ্ঞতায় সেঁধিয়ে গেলাম।

পরদিন আমাদের ফেরার পালা।অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিদায় জানাতে হল এই স্বপ্নের জগৎকে৷অল্প সময়ে আপন করে নেওয়া এই প্রকৃতি আর পাহাড়ি মানুষগুলোর ভালোবাসাকে এড়ানো কঠিন।তাও বিদায় জানাতেই হয়৷

ফেরার পথে নামচি হয়ে দেখে নিলাম Samdruptse মনস্ট্রি। সেখানকার ৪৫মিটার দীর্ঘ গুরু পদ্মসম্ভবার বিশালাকার মূর্তি নাকি কালিঙ্পঙ পাহাড় থেকেও দেখা যায়।পরের গন্তব‍্য ছিল তারে ভির৷এখানকার ভিউ পয়েন্ট থেকে দেখা সবুজ উপত‍্যকার প্যানোরামা আর নিচের তিস্তা ও রঙ্গিতের মিলন অনেকদিন মনের মধ‍্যে ফ্রেমবন্দি হয়ে থাকবে।পাহাড়ের মাথা বরাবর ১০,০০০ ফুট রাস্তাটা কোথায় হারিয়ে গেছে তা আর সময়ের অভাবে দেখা হল না।অগত‍্যা গাড়িতে এসে বসলাম।মোহময়ী প্রকৃতির আশ্চর্য রূপ উপভোগ করতে করতে বিকেলের মধ‍্যে NJP পৌঁছে গেলাম।
রাভাংলায় stay করে একদিনের জন‍্য ঘুরে আসাই যায় বোরং।কিন্তু তাতে জায়গাটির মাহাত্ম‍্য আবিষ্কার করা কঠিন।তাই হাতে ২-৩ দিন সময় নিয়ে আসলে এই স্বর্গরাজ‍্যের নৈস্বর্গিক শোভা অনুধাবন করা সহজ হবে।

হোমস্টে ঘরপিছু(৩ জন থাকা যায়):১৫০০টাকা
খাওয়া(প্রতিদিন/জনপ্রতি):৫০০ টাকা

ও এসেছিল ( শেষ পর্ব )

এরপর থেকেই ক্রমশ এই পরিবারের সঙ্গে তার পরিচয় আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠতে থাকে। এভাবে কখন পলাশ-মৌ-এর ঘনিষ্ঠতা গভীরে পৌঁছেছে তা ওরা নিজেরাও বুঝতে পারেনি। পরিচয় থেকে ক্রমশ তা প্রেমে পরিণত হয়।

মৌ-এর জন্ম ও পড়াশোনা দিল্লিতেই, তাই দিল্লির রাস্তা-ঘাট ওর কাছে খুব পরিচিত ছিল। দিল্লির লোকেদের নার্ভও ওর ভালো ভাবে জানা ছিল। ওর সঙ্গে পলাশ দিল্লির বহু জায়গায় ঘুরেছে। সেসব দিনের কথা মনে পড়ে যায় পলাশের। মনে পড়ে যায় দিল্লির সেইসব সুখস্মৃতি।

মৌ-এর হাত ধরে ছুটির দিনে ইন্ডিয়া গেটের সামনে বেড়াতে যাওয়া। মনে পড়ে সেই দিনগুলো যখন লোদী গার্ডেনের বা মোগল গার্ডেনের ফুলগুলো হাতছানি দিয়ে ডাকত, মনটা চলে যেত সেই স্বপ্ন-পুরীর এক অচিন রাজ্যে। ওই পুরোনো স্মৃতিগুলো তাকে আজও বড়ো কষ্ট দেয়।

সেই পুরোনো রাস্তা, লোদি গার্ডেন, ইন্ডিয়া গেট, যেখানে সে মৌ-এর হাত ধরে দিনের পর দিন ঘুরে বেড়িয়েছে সেগুলো যেন তাকে দেখে আজও বিদ্রূপ করে আর প্রেমের বদনাম করে বেড়ায়। হঠাৎ একটা বড়ো ভমিকম্পে মনে হল ওদের স্বপ্নের প্রাসাদটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।

পলাশ দিল্লি থেকে ফেরার আগে মৌ-এর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ওর দেখা পায়নি। জানতে পেরেছিল ওরা সরোজিনীনগর থেকে অন্য কোথাও শিফট করে গেছে। এর

দু-একদিনের মধ্যেই পলাশকে কলকাতা ফিরতে হয়েছিল চাকরিতে জয়েন্ট করার তাগিদে। এরপরও পলাশ দুবার দিল্লি গেছে মৌ-এর খোঁজ নিতে কিন্তু মৌ-এর খোঁজ পায়নি। হয়তো মৌ-ও তাকে খুঁজে বেড়িয়েছে এদিক সেদিক।

মৌ-কে সে একদিন খুঁজে বার করবেই এই আশায় আজও সে বিয়ে করেনি। তার স্থির বিশ্বাস পলাশ একদিন মৌ-কে খুঁজে বের করবেই। কিন্তু আজ এ কী দৃশ্য সে দেখল। নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছে না। একটিবার যদি মৌ-কে বলতে পারত এই আশায় আজ বুক বেঁধেছিল। মৌ-কে বলবে ঠিক করেছিল যে, এবার সে আর মৌ-কে ওর থেকে দূরে সরে যেতে দেবে না।

ও বড়ো ছেলেমানুষি করত। দরকারের থেকে বেশি উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠত। আনন্দ হলে বাচ্চাদের মতো খুশি হতো। ওদের বাড়ির বাগানটা ছিল খুব বড়ো, উদ্যান বলা চলে। কোথাও ফুলের কেয়ারি, কোথাও ফলের গাছ, কোথাও আবার এমনিই জংলা।

পলাশ মাঝে মাঝে বলত, মালি এনে জায়গাটা পরিষ্কার করে ভালোমতো সাজানো বাগান করার কথা। যদিও সে পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নেয়নি। মৌ ওই আধ-বুনো বাগানটাকেই বেশি ভালোবাসত।

পলাশের স্পষ্ট মনে আছে, একবার ওদের বাড়ি গিয়ে দেখল, মৌ বাগানের একটা শ্যাওলা ধরা বড়ো পাথরের ওপর বসে, হাতে আচারের বয়াম নিয়ে জীবনানন্দের কবিতা আবৃত্তি করে যাচ্ছে নিজের মনেই।

একবার সন্ধেবেলা পাণ্ডব কেল্লার কাছে বোটে চেপে আকাশের তারাগুলোর দিকে তাকিয়ে কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছিল পলাশকে। খুব ভালো আবৃত্তি করতে পারত। আবৃত্তি করতে করতে হারিয়ে যেত এক অচিন রাজ্যে।

একবার ছুটির দিনে ভোরবেলা বেড়াতে বেরিয়ে দুজনে খুব আনন্দ করেছিল। দিল্লির রাস্তার দুপাশে চিরহরিৎ গাছের সারি, পাতার ফাঁক দিয়ে মৌ-এর মুখে যখন সকালের মিষ্টি রোদ এসে পড়ত, তখন কী সুন্দরই না লাগত তাকে।

রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ কোনও ভিখারি নজরে পড়লে দৌড়ে গিয়ে মৌ তাকে সাহায্য করে আসত। কখনও কখনও যে দুজনের মধ্যে মান-অভিমানের পালা চলেনি তেমন নয়। তবে নিজেরাই তা মিটিয়ে ফেলত। কখনও একজন আরেকজনকে ছেড়ে থাকতে হবে তা স্বপ্নেও ভাবেনি।

একবার পলাশ মজা করে মৌ-কে জিজ্ঞাসা করেছিল, আচ্ছা তুমি প্রেম বলতে কী বোঝো?

তার উত্তরে মৌ যা বলেছিল, তা পলাশ আজও মনে করে নিজের মনেই হাসতে থাকে।

মৌ বলেছিল, প্রেম অনেকরকম হয়। তবে জীবনের প্রথম প্রেম সকলের কাছেই স্মরণীয় হয়ে থাকে। প্রথম প্রেমের কোনও নির্দিষ্ট বয়স নেই। অনেকের বেলায় খুব কম বয়সে প্রথম প্রেম এসে থাকে। প্রথম প্রেম বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আসলে প্রেম হয় না, সেটা হয়ে থাকে ইনফ্যাচুয়েন। প্রথম প্রেম হতে পারে কোনও বাল্যবন্ধু, হতে পারে গৃহশিক্ষক বা স্কুলের শিক্ষক বা শিক্ষিকা, হতে পারে বয়সে বড়ো কোনও ব্যক্তি, হতে পারে কোনও ফিল্মের নায়ক বা নায়িকা, হতে পারে পাড়ার কোনও হ্যান্ডসাম তরুণী বা বড়ো দাদার বয়সি কোন লোক।

—আরেকরকম প্রেম হল Love at First Site অর্থাৎ প্রথম দেখাতেই প্রেম। এ ধরনের প্রেম অবশ্য একতরফাই হয়। ছেলেদের ক্ষেত্রেই এ ধরনের প্রেম বেশি দেখা যায়। এই প্রথম দেখাটা বিয়ে অনুষ্ঠানে, শপিং মল-এ, কলেজে, ইউনিভার্সিটি-তে, কোচিং সেন্টারে, স্যারের বাড়িতে বা বন্ধুদের আড্ডা-তেই বেশি দেখা যায়। এ ধরনের প্রেমে অবশ্য বন্ধুদের বা বড়োদের সাহায্যের দরকার পড়ে। এ ধরনের প্রেমের সূত্রপাত রূপ সৌন্দর‌্য ও দৈহিক সৌন্দর‌্যের ভমিকাই বেশি।

—বাব্বা, এসব শুনে তো মনে হচ্ছে, তুমি প্রেম নিয়ে ডক্টরেট করেছ!

—আরও আছে মশাই। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। এই ধরনের প্রেমের ক্ষেত্রে প্রেমিক ও প্রেমিকা দুজনেই প্রথমে বন্ধু থাকে।

এক রাতের প্রেম এগুলোকে প্রেম বললে পাপ হবে। নব্বই শতাংশ ক্ষেত্রে ছেলেরাই এ ধরনের প্রেমের আযোজক। দৈহিক বাসনাকে পূর্ণতা দেওয়াই এই প্রেমের প্রধান উদ্দেশ্য।

বিবাহোত্তর প্রেম এই প্রেমে শুধুমাত্র স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে যা দেখা যায়। বিয়ে ঠিক পর পর প্রথম কয়েক মাস এই প্রেম প্রবল থাকে।

পরকীয়া প্রেম এটা নিয়ে আর নাই বা বললাম। এটা সবাই জানে।

না বুঝেই প্রেম সাধারণত এ ধরনের প্রেম স্কুল-পডুয়াদেরই হয় বেশি।

কর্মক্ষেত্রে প্রেম এটাও তোমাদের কাছে অজানা নয়। আজকাল তো মোবাইলেও প্রেম হয়। ইন্টারনেটে ও সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমেও প্রেম হচ্ছে। সেখানে ধোঁকাও হচ্ছে খুব বেশি।

—তুমি বরং এ নিয়ে একটা ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি করে ফেলো। ভালো নম্বর পাবে।

এসব পুরোনো কথা ভাবতে ভাবতে মনটা বড়ো উদাস হয়ে যায়।

এখনও পলাশ মাঝে মাঝে মৌ-এর কথা ভাবতে ভাবতে প্রায়ই আনমনা হয়ে যায়। এটা অ্যাসিস্ট্যান্ট স্টেশন মাস্টার, অবস্তিও অনেকদিন লক্ষ্য করেছে। তাই সে একদিন পলাশকে জিজ্ঞাসা করেই ফেলল, আচ্ছা, স্যার আপনার মনের মধ্যে মনে হয় অনেক দুঃখ জমে আছে। আপনাকে মাঝে মাঝেই আনমনা হতে দেখি। কারও সঙ্গে মনের কথা ভাগ করে নিন, নয়তো অসুস্থ হয়ে যাবেন। প্রতিবারই পলাশ এর উত্তর না দিয়ে কোনও না কোনও বাহানায় এড়িয়ে গেছে।

এসব কথা ভাবতে ভাবতে কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ সম্বিত ফিরে পেল অবস্তির ডাকে।

অবস্তি বলল, স্যার, এবার আপনি বাড়ি যান। আমি ডিনার করে ফিরেছি।

পলাশের শরীরটা কেমন যেন ভারী লাগছিল। কিছুতেই দাঁড়াতে পারছিল না। টেবিলে ভর দিয়ে দাঁড়াতে গিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।

অবস্তি পরীক্ষা করে দেখল পলাশের নিথর দেহটায় আর প্রাণ নেই। আচানক স্ট্রোকে একটা সুস্থ লোকের এভাবে চলে যাওয়াতে, সারা স্টেশন চত্বরে এক শোকের ছায়া নেমে এল।

ও এসেছিল ( প্রথম পর্ব)

পলাশ মিত্র ছোটোবেলা থেকে কলকাতাতেই মানুষ হয়েছে। যখন স্কুলে পড়ত তখন বাবাকে হারিয়েছে। এরপর রেলের চাকরিতে জয়েন্ট করার পর মাকে-ও হারিয়েছে। তাই এখন একদম একা। বর্তমান জীবনটা বড়ো শুষ্ক, কঠিন, মরুভমির মতো লাগে। মা মারা যাওয়ার পর বেশ কয়েকটা বছর কেটে গেছে কিন্তু কিছুতেই মা-কে ভুলতে পারেনি। বাবা মারা যাওয়ার পর মা-ই ছিল তার অনুপ্রেরণা।

মা একটা স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন তাই ছেলেকে যথাযথ শিক্ষা দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু আজও মায়ের মৃত্যুটা পলাশ কিছুতেই মেনে নিতে পারে না। কারণ মা স্কুল থেকে ফেরার পথে একদিন গাড়ির ধাক্কায় মারা যান। আজও পলাশের জীবনে একটা নিঃসঙ্গতা তাড়া করে বেড়ায়। কী করলে যে জীবনে একটু শান্তি ফিরে পাবে তা বুঝে উঠতে পারে না। তাই তো নিজের ইচ্ছেয় দূরবর্তী একটা স্টেশনে চাকরি নিয়ে চলে এসেছে।

বর্তমানে পলাশ মিত্র হাতিয়া স্টেশনের স্টেশন মাস্টার। স্টেশনের পাশেই কোয়ার্টারে থাকে। রেলওয়ে সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়েছিল। তারপর বদলি হতে হতে এখানে এসে পৌঁছেছে। সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত স্টেশনেই থাকে। মা, বাবা দুজনেই গত হয়েছেন, তাই পিছুটান বলে কিছু নেই। পলাশ কাজের মধ্যেই আনন্দ খুঁজে নেয়। ওই স্টেশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট স্টেশন মাস্টার বীরেন্দর অবস্তি অনেকবার বলেছে পলাশবাবু আপনি এবার বিয়েটা করে নিন। কিন্তু পলাশকে কিছুতেই রাজি করাতে পারেননি। পলাশ যখন একা একা বসে থাকে নিজের কেবিনে, তখন মাঝে মাঝে উদাস হয়ে নানা কথা ভাবতে থাকে। এটা বীরেন্দরের চোখ এড়ায়নি।

পলাশের মনে অতীতের কথাগুলো তাকে আরও উদাস করে দেয়। পশ্চিমবঙ্গে চাকরি না পেয়ে দিল্লি চলে যায়। সেখানে গিয়ে একটা ফুড ডেলিভারি সার্ভিসের ডেলিভারি বয়-এর চাকরিও সে করেছে। তাই এখানকার খেটে খাওয়া মানুষগুলোকে দেখলেই তার মনটা কেমন নরম হয়ে যায়। তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। তাই রেলের ছোটো-বড়ো সব কর্মচারীই পলাশকে খুব ভালোবাসে।

দিল্লিতে ফুড ডেলিভারি বয়-এর চাকরি করতে করতে যখন প্রায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল সে, তখন একদিন মা-র ফোন এল। মা জানালেন যে, ওর রেলের চাকরিটা হয়ে গেছে। দিল্লি যাওয়ার আগে যে-ইন্টারভিউ দিয়ে গিয়েছিল তাতে সে পাশ করেছে। চাকরির জয়েনিং লেটার এসেছে। খবরটা পেয়ে দিল্লির সব পাট চুকিয়ে বাড়ি ফিরে এসেছিল পলাশ।

প্রতিদিনই সারাদিনের ডিউটি সেরে সন্ধ্যায় কোয়ার্টারে গিয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে রাতের ডিনার সেরে আবার ফিরে আসে স্টেশনে। বিশেষ করে হাওড়া-রাঁচি এক্সপ্রেসটাকে পাস করাতে। এটা একটা বেশ নামকরা ট্রেন এই লাইনের। কোয়ার্টারটা স্টেশনের সঙ্গে একেবারে লাগোয়া তাই খুব একটা অসুবিধে হয় না।

অন্যদিনের মতো সেদিনও রাঁচি এক্সপ্রেসটাকে পাস করাতে স্টেশনে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে, বীরেন্দর অবস্তির সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। বীরেন্দর বলল আমি আপনাকেই খবর দেওয়ার জন্য পোর্টারকে বলতে যাচ্ছিলাম। যাক আপনি যখন এসে গেছেন তাহলে আপনি রাঁচি এক্সপ্রেসটা পাস করিয়ে দেবেন। আমি খাবারটা খেয়ে আসছি ততক্ষণে। আর হ্যাঁ, আপনার সঙ্গে এক মহিলা দেখা করতে এসেছেন। আমি তাকে আপনার কেবিনে বসিয়ে রেখে এসেছি।

—এত রাতে আবার কে এল দেখা করতে! ঠিক আছে আপনি যান। আমি দেখে নেব।

কেবিনে ঢুকেই পলাশ চমকে উঠল। দেখল একটা চেয়ারে মৌ বসে আছে। উচ্ছ্বাস চেপে রাখতে না পেরে সে বলে উঠল আরে তুমি, এখানে। আর আমি তোমাকে তন্ন তন্ন করে কোথায় না খুঁজেছি। কোথাও তোমার খোঁজ পাইনি। কী খাবে বলো। তোমার মুখটা দেখে কেমন শুকনো শুকনো লাগছে, নিশ্চয়ই খুব খিদে পেয়েছে তোমার। কী হল কোনও কথা বলছ না কেন?

এমন সময় পোর্টার এসে খবর দিল বাবু, রাঁচি এক্সপ্রেস স্টেশনে ঢুকছে। এদিকে একটা ডেডবডি এসেছে দূরের এক গ্রাম থেকে। রাঁচি হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে পোস্টমর্টেমের জন্য। আপনার সই চাই।

—তুমি যাও আমি আসছি বলেই পলাশ মিত্র, মৌ-কে উদ্দেশ্য করে বলল, তুমি একটু বসো, আমি যাব আর আসব। আমার কাজটাই এরকম বুঝলে, বলেই কেবিন থেকে বেরিয়ে প্ল্যাটফর্মে বেরিয়ে গেল।

যে-কামরায় বডিটা তোলা হবে তার সামনে বডিটা রাখা আছে। পলাশ সেখানে পৌঁছে কাগজে সই করতে করতে বলল মুখের কাপড়টা খুলে মুখটা একটু দেখাও। এটা নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। একবার দেখে কনফার্ম করে নেওয়া আর কী।

ডেডবডির মুখ থেকে কাপড়টা সরাতেই পলাশের মাথাটা কেমন যেন ঝিম-ঝিম করে উঠল। এ কী করে সম্ভব। এ তো মৌ-এর ডেডবডি। এইমাত্র যাকে ওর কেবিনে বসিয়ে রেখে এসেছে। ইতিমধ্যেই ডেডবডিটা হাতিয়া এক্সপ্রেসে কামরায় তোলার সময় দেখল, মৌ কামরার দরজায় দাঁড়িয়ে পলাশের দিকে তাকিয়ে হাসছে। যেন কিছু বলতে চাইছে।

পলাশের মুখ দিয়ে কোনও কথা বেরোল না। পাগলের মতো নিজের কেবিনের দিকে দৌড়ে গেল। কেবিনে ঢুকে দেখল সেখানে মৌ নেই। ওর মাথাটা যেন ঘুরছে মনে হচ্ছে। চোখে অন্ধকার দেখছে। একি স্বপ্ন না সত্যি? মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল নিজের চেয়ারে।

পলাশ ভূত-প্রেত ইত্যাদিতে কোনও দিনই বিশ্বাস করে না। রাতের পর রাত অনেক ছোটো ছোটো রেলওয়ে স্টেশনে ডিউটি দিয়েছে। ট্রেনের তলায় কাটা-পড়া বহু ডেডবডি তাকে দেখতে হয়েছে কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তা এর আগে কখনও ভাবেনি। এ কী করে সম্ভব তা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিল না!

চোখের সামনে পুরোনো দিনের স্মৃতিগুলো ভেসে উঠল একে একে। দিল্লিতে চাকরি করতে গিয়ে তার পরিচয় হয়েছিল মৌ-এর সঙ্গে। পরিচয়টাও খুব অদ্ভুত ভাবে হয়েছিল। একদিন ফুড ডেলিভারি করতে গিয়ে পলাশের আলাপ হয়েছিল মৌ-এর বাবার সঙ্গে। মৌ-এর বাবা কথায় কথায় পলাশের সঙ্গে গল্প জমিয়ে দেন এবং জানতে পারেন যে, পলাশ একজন শিক্ষিত যুবক। কিন্তু অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই ডেলিভারির কাজ করতে দিল্লিতে এসেছে।

এরপর আরও জানতে পারেন যে, পলাশ একাই থাকে এখানে তাই রাতে ফিরে গিয়ে কোনও কোনও দিন খাওয়াও জোটে না কপালে। এরপর একদিন পলাশ যখন দুটো খাবারের প্যাকেট নিয়ে মৌ-দের বাড়িতে ডেলিভারি দিতে যায়, সে সময় মৌ এসে একটি প্যাকেট নেয় এবং অন্যটি পলাশের হাতে দিয়ে বলে, বাবা আজ বাড়িতে নেই। বলেছেন এটা আপনার জন্য। আর আগামী রবিবার আমাদের বাড়িতে আপনার নিমন্ত্রণ।

পলাশ এরকম একটা পরিস্থিতির জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিল না। তাই অনেক আপত্তি সত্ত্বেও মৌ-এর অনুরোধে প্যাকেটটি নিতে রাজি হয় এবং রবিবার নিমন্ত্রণ রক্ষা করবে বলে জানিয়ে আসে।

ওষুধে তৈরি ফেস প্যাক

উজ্জ্বল ত্বক পেতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ভিটামিন ও মিনারেলস। আমাদের সব সময় প্রচেষ্টা থাকে নিখুঁত ত্বক পাওয়ার জন্য। এমন ত্বক যেখানে কোনও দাগ, বলিরেখা, ফুসকুড়ি এবং ব্রণ থাকবে না। এ ধরনের skin পাওয়া সহজ না হলেও কিছু ভিটামিন ফেস মাস্ক এই ক্যারিশমা দেখাতে পারে। পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল ত্বক পেতে, আপনার ভিটামিন এবং খনিজগুলো সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ভিটামিন ‘ই’ আপনাকে দাগ থেকে মুক্তি দেয় এবং ভিটামিন ‘সি’ আপনার ত্বককে তরুণ রাখে। এজন্য আপনার ত্বক ও Skin সম্পর্কিত সমস্যাগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, অ্যাসপিরিন ট্যাবলেটে উপস্থিত স্যালিসিলিক অ্যাসিড ব্রণ উপশম করে, ভিটামিন ই ক্যাপসুলে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি আপনার ত্বককে পরিষ্কার এবং নরম করে তোলে। তবে এই সবকিছুর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল ব্যবহৃত ক্যাপসুলের পরিমাণ। কোন ক্যাপসুলটি কত পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত বা সপ্তাহে কতবার, তৈরি করা প্যাক প্রয়োগ করা উচিত এমন প্রশ্নের উত্তরও আপনার জানা উচিত। এখানে নীচে কিছু ফেস প্যাক প্রস্তুত করার পদ্ধতি দেওয়া হল। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে, একটি প্যাক তৈরি করুন এবং এটির প্যাচ টেস্ট করে নিন। চেষ্টা করলে এই প্যাকগুলির কার্যকারিতা ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে দেখা যাবে।

১) অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট: অ্যাসপিরিনে উপস্থিত স্যালিসিলিক অ্যাসিড ত্বক থেকে মৃত কোশ দূর করে মুখের দাগ ও ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে।

উপকরণ: অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট ৩টি, জল ১ কাপ, জৈব মধু ১ চা চামচ।

প্রণালী: ১ চা চামচ জলে অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট ভিজিয়ে নিন। ঘন পেস্ট তৈরি করতে প্রয়োজন হিসাবে জল যোগ করুন। এবার এতে মধু মিশিয়ে দ্রবীভূত করুন। এই পেস্টটি আপনার মুখ এবং ঘাড়ে ছড়িয়ে দিন এবং ২০ মিনিটের জন্য রেখে দিন। তারপরে জল দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে মাত্র একবার এই প্যাকটি ব্যবহার করুন।

মনে রাখবেন: কখনওই ৪টির বেশি ট্যাবলেট ব্যবহার করবেন না।

২) ভিটামিন ই: ভিটামিন ই ক্যাপসুল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এবং এগুলি থেকে তৈরি প্যাকটি ত্বকের অভ্যন্তরে দ্রুত কাজ করে। এই প্যাকটি আপনার ত্বককে নরম এবং তারুণ্যময় করে তুলবে।

উপকরণ: ৩ ভিটামিন ই ক্যাপসুল, ৫ ফোঁটা বাদাম তেল।

প্রণালী: ভিটামিন ই ক্যাপসুল ভেঙ্গে এর ভেতরের জেল একটি বাটিতে বের করে নিন। এবার এতে বাদাম তেল যোগ করুন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই প্যাকটি দিয়ে আপনার ত্বকে মাসাজ করুন। সকালে ঠাণ্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

৩) ভিটামিন সি পিল: ভিটামিন সি-তে উপস্থিত এল-অ্যাসকরবিক অ্যাসিড ত্বকে কোলাজেনের মাত্রা বাড়ায়, যা আপনার ত্বককে তরুণ এবং টানটান রাখে।

উপকরণ: ভিটামিন সি ক্যাপসুল ১টি, গোলাপজল ১ চা চামচ, গ্লিসারিন ১/২ চা চামচ, গোলাপ তেল ৫ ফোঁটা।

প্রণালী: উপরের সব উপকরণ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। রাতে ঘুমানোর আগে এই পেস্টটি আপনার ত্বকে ময়েশ্চারাইজার হিসাবে প্রয়োগ করুন। ভিটামিন সি দিয়ে তৈরি এই প্যাকটি শুধু ব্রণ থেকেই মুক্তি দেবে না, মুখের বলিরেখা ও সূক্ষ্ম রেখা থেকেও মুক্তি দেবে।

৪) প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল: এসব ক্যাপসুলে উপস্থিত ভালো ব্যাকটেরিয়া, ফ্রি র‍্যাডিকেলস থেকে আপনার ত্বককে রক্ষা করে এবং মুখের কালো দাগছোপ কমিয়ে ত্বককে নরম করে তোলে।

উপকরণ: ২ বা ৩টি প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল, ৫ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল, ৫ ফোঁটা বাদাম তেল।

প্রণালী: প্রথমে ওই দুটি তেল মেশান এবং তারপরে এতে ক্যাপসুলগুলি ভেঙে জেলটি ওতে মেশান। সব উপকরণ ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি আপনার মুখ এবং ঘাড়ে প্রয়োগ করুন। মাস্কটি মুখে শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। নিখুঁত Skin পেতে সপ্তাহে দু’বার এই প্রতিকারটি ব্যবহার করুন।

৫) সি উইড ক্যাপসুল: সি উইড ক্যাপসুলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং খনিজ থাকে। এগুলো ত্বক থেকে মৃত কোশ দূর করে ত্বককে সুস্থ করে বলিরেখা থেকে মুক্তি দেয়।

উপকরণ: সি উইড ক্যাপসুল ৩টি, এপ্রিকট অয়েল ১০ ফোঁটা, জৈব মধু ১ চা চামচ।

প্রণালী: ক্যাপসুল ভেঙ্গে তাতে মধু ও এপ্রিকট অয়েল মিশিয়ে নিন। ভিটামিন সমৃদ্ধ এই প্যাকটি আপনার মুখ এবং ঘাড়ে লাগান। এই প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দু’বার এই ঘরোয়া প্রতিকারটি ব্যবহার করুন।

৬) গাজর তেল ক্যাপসুল: আমরা সকলেই জানি গাজরে বিটা ক্যারোটিন থাকে, যা ক্ষতিগ্রস্থ কোশগুলি নিরাময় করে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। এতে আপনার মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

উপকরণ: গাজরের তেল ক্যাপসুল ২ টি, রোজমেরি অয়েল ২ ফোঁটা, বাদাম তেল ২ ফোঁটা।

প্রণালী: প্রথমে মুখ ধুয়ে ফেলুন। তারপর এই সব জিনিস মিশিয়ে সেই মিশ্রণটি দিয়ে আপনার মুখে মালিশ করা শুরু করুন। সারারাত রেখে দিন, সকালে ঠাণ্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। আপনি যদি মিশ্রণটি বেশি আঠালো বোধ করেন তবে সেটি কিছুটা কম পরিমানে প্রয়োগ করুন।

 

নরদেহ শেষ পর্ব

চুপচাপ নিঃসঙ্গ ভাবে ক’টাদিন ঘরের মধ্যেই কাটালেন সিদ্ধার্থ। কোভিডের ভয়ে কেউ দেখা করতেও এল না। ভয় আর আতঙ্কে দিশেহারা মানুষ ঘরবন্দি থাকতে বাধ্য হচ্ছে। উল্লাস নেই, আনন্দ নেই, উৎসব নেই— এ যেন এক অন্য পৃথিবী। অচেনা অজানা৷

কয়েক দিন পর এক রাতে সিদ্ধার্থ ফোন করলেন নিবারণকে। নিবারণ সেনগুপ্ত। লিগাল অ্যাডভাইজার। অনেক জুনিয়র, সদাহাস্যময় অমায়িক মানুষ। কাজের সূত্রে আলাপ হলেও সম্পর্কটা ধীরে ধীরে পারিবারিক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। যথেষ্ট স্নেহ করেন সিদ্ধার্থ।

‘সবই তো শুনেছ, ভাই আর নেই নিবারণ। আমি ভাবছি আমার যা কিছু আছে তার একটা উইল করে রাখব। তোমার সহায়তা চাই। একটা ভিডিও করে আমি ডিটেলসটা ব্যাখ্যা করেছি। তোমাকে পাঠাচ্ছি। তুমি সেই মতো কাগজপত্র তৈরি করবে। এই সিচুয়েশনে একটু অসুবিধা হবে, তবুও করবে। আমার অনুরোধ। পারিশ্রমিক নিয়ে ভেব না। আসলে এই অতিমারিতে কে ক’দিন বাঁচব কোনও গ্যারান্টি নেই। বারো ভূতে খাওয়ার চেয়ে… বুঝতে পারছ নিশ্চয়ই! বয়সও তো কম হল না।’

ভাই মারা যাওয়ার ঠিক দশ দিনের মাথায় নিজের ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলেন সিদ্ধার্থ রায়চৌধুরী। রামের মায়ের চিৎকারে সবাই জানল কিন্তু কেউ ছুটে এল না, ব্যালকনি, জানালা থেকে উঁকি দিয়ে দেখল। পুলিশ এসে লাশ নামাল। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পরবর্তী সমস্ত প্রোসিডিওর ওরা নিজেদের দায়িত্বেই পালন করল। রিপোর্টে লিখল, একমাত্র ভাইয়ের মৃত্যুর পর চরম অবসাদে ভুগছিলেন, তাতেই এই সিদ্ধান্ত৷ এই ঘটনার কয়েকদিন পর। হরিশ মুখার্জির ছোটো ছেলেকে একদিন ফোন করলেন অ্যাডভোকেট নিবারণ সেনগুপ্ত, তপনবাবু কাল সকালে একবার আমার বাড়িতে আসুন। জরুরি কিছু কথা আছে।

নিবারণ তপনের মুখ চেনা৷ একই পাড়াতে থাকে, তবে দু’জনে দুমাথায়। নিবারণের কী কথা থাকতে পারে তার সঙ্গে? ধন্দে পড়ল তপন। ‘সে না হয় যাব’খন। কিন্তু কারণটা কী?”

‘একটু গোপন৷ ফোনে বলা ঠিক হবে না। তাছাড়া একটু সময়ও লাগবে। তাই সামনাসামনি বলাই বোধহয় ভালো৷”

এভাবে কেউ টেনশন বাড়ায়? মনে মনে প্রচণ্ড রেগে গেলেও কিছু বলতে পারল না। বুঝতে পারল, গলার মধ্যে কাঁটাটা নিয়েই রাতে ঘুমোতে হবে। রীতা পাশেই ছিল। কথাবার্তা শুনে কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিল। তপন পুরোটাই খুলে বলল। শুনে রীতা হেসে বলল, “এতে টেনশনের কী আছে? উকিল ফোন করলেই কি ভয়ের ব্যাপার থাকে নাকি? তাছাড়া নতুন করে আর কী বিপত্তি হবে আমাদের?’

পরের দিন সকালে যথাসময়ে হাজির হল তপন। স্যানিটাইজ করে, সোশ্যাল ডিসট্যান্স মেনে ঘরে বসালেন নিবারণ, এই মুহূর্তে কেউ কারও বাড়ি যেতে সংকোচ বোধ করে। ডাকাটাও ঠিক নয়। আসলে ব্যাপারটা এমন, না ডেকে উপায় ছিল না। কৌতূহল না বাড়িয়ে আসল কথায় আসি। সিদ্ধার্থ জেঠু মরার আগে একটা উইল করে গেছেন, বিষয়টি সেটা নিয়েই।

আমি আপনার বাড়ি যেতে পারতাম কিন্তু সিদ্ধার্থ জেঠু বারবার বলেছেন ব্যাপারটা যেন পাঁচ কান না হয়, তাই আর সাহস পাইনি। সিদ্ধার্থ জেঠু তাঁর সম্পত্তির একটা অংশ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে দান করে গেছেন। ওঁর বিশ্বস্ত কাজের মাসি রামের মায়ের জন্য একটা বড়ো অ্যামাউন্ট সেভিংস করে রেখে গেছেন যাতে তার সুদে ওঁর চলে যায়। আর বসত বাড়িটা লিখে দিয়েছেন আপনার নামে।

‘কী! আকাশ থেকে পড়ল তপন৷’

নিবারণ বললেন, “আরও আছে, পুরোটা শুনুন। তাঁর নির্দেশ, বসতবাড়ির দখল না নিয়ে আপনি টাকাও নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে বাকি বন্দোবস্তের দায়িত্ব আমার। তার জন্য আমার পারিশ্রমিকও ঠিক করে দিয়ে গেছেন। এই হল ব্যাপার, এবার বলুন আপনি কী করবেন?’ তপনের চোখে বোবা বিস্ময়। এসব কী শুনছে সে! শেষ বেলায় কি ভীমরতি ধরেছিল লোকটার?

নিবারণ হেসে বলল, “বুঝতে পারছি আপনার ভিতরে কী চলছে। জেঠুও বুঝেছিলেন বোধহয়। আপনার জন্য একটি চিঠি রেখে গেছেন। কাগজপত্রের মধ্যে ছিল। পরে খুঁজতে গিয়ে পাই। উদ্দেশ্য বুঝতে অসুবিধা হয়নি।’

তপনের হাতে খাম গুঁজে দিয়ে নিবারণ বললেন, “আপনি পড়ুন ধীরে সুস্থে। আমি জরুরি একটা ফোন করে আসছি। মনে হয় আপনার কৌতূহলের উত্তর পেয়ে যাবেন।’ নিবারণ ভেতরে চলে গেলেন। তপন খাম ছিঁড়ে চিঠি বের করল। সাদা কাগজে নীল কালি দিয়ে লেখা। একটু জড়ানো, তবে পড়তে অসুবিধা হয় না।

স্নেহের তপন,

জানি না এই চিঠি তুই কবে পড়বি, যখনই পড়বি আমার আত্মা তোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে। কারণ আগে যে-লেখাগুলো পড়বি সেগুলো নিছক কোনও কথার কথা নয়, একটা মানুষের আত্মার আকুতি। আমি জানি তোর বাবা তোকে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত করেছে। কোনও সন্দেহ থেকে সে ক্ষোভের জন্ম। কিন্তু তোর মা তোকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা দিয়ে সে ক্ষোভ মেটানোর চেষ্টা করেছেন। জানি না তুই সেটা বুঝিস কিনা। মা আমাদের উৎস, মা আমাদের অস্তিত্বের আধার। যে আমাদের অস্তিত্বকে আশ্রয় দিয়েছে তার তুলনা একমাত্র ঈশ্বরের সঙ্গেই করা যায়। মাতৃরূপী ঈশ্বরকে আশ্রয়হীন করে দেওয়ার অর্থ স্বেচ্ছায় ঈশ্বরকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া। তোর মা আমাকে কেঁদে বলেছিলেন, যে-তপনকে আমি প্রাণের চেয়ে বেশি ভালোবাসি সেও আমাকে তাড়িয়ে দিতে চায়। কতটা কষ্টের কথা! আমি সব খবর জানি, তোর ব্যাবসার অবস্থা খুবই খারাপ। একে লকডাউন তার উপর অনেক ধারদেনা, নাভিশ্বাস চলছে তোর। তোর পরিস্থিতি এতটা খারাপ জেনেও তোর দাদারা এতটুকু সাহায্য করেনি। উলটে বাবার চিকিৎসার টাকা জোর করে আদায় করেছে। তবুও বলছি, সে রাগ মায়ের উপর কেন? আমি ঠিক করেছি স্বেচ্ছায় পৃথিবী ত্যাগ করব। পৃথিবীতে আমার আর কোনও পিছুটান নেই। আমার অস্তিত্ব আলগা হয়ে গেছে। এ গাছ মরবেই! শিকড়ে মাটি নেই। আমার যা কিছু ছিল তার একটা অংশ দিয়েছি যারা অসহায়ের সহায় হয় তাদেরকে। বাড়িটা তোর নামে দিলাম। যদি বাড়ি নিতে লজ্জা করে তবে টাকা নিস, নিবারণ সব ব্যবস্থা করে দেবে, কেউ জানবে না। আশা করি এই টাকায় ব্যাবসাটা আবার দাঁড়িয়ে যাবে। তোর মনে হয়তো প্রশ্ন উঠছে, আমি তোকে দিলাম কেন বাড়িটা? এর উত্তর সহজ। পৃথিবীতে আমার গণ্ডিটা ছিল ছোট্ট। ক’টা মানুষকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে। তাপস, নিলুদের অনেক আছে তবুও ওরা মনে ভিখিরি। ওই অভাব মেটার নয়। সর্বোপরি তোর মা। অনেক ভেবে দেখেছি, কিছু ব্যাপার থাকে জীবনে করা যায় না, জীবন দিয়ে করতে হয়। দর্শনের পরিভাষায় এই জগৎটা হল মায়া, মানুষ, মানুষের সম্পর্ক, এই বেঁচে থাকা, সবই একটা ইল্যুউশন। যে যেমন দেখে! হেঁয়ালি মনে হচ্ছে? না রে সেটাই সত্যি, একদিন ঠিক বুঝতে পারবি। এবার তোর পালা। মায়ের একটু সেবা যত্ন করিস। ভালো থাকিস সবাই। আমার আশীর্বাদ সব সময় তোর মাথার উপর থাকবে।

ইতি-

সিদ্ধার্থ কাকু

কিছুক্ষণ পর ঘরে ঢুকলেন নিবারণ। বললেন, ‘পড়া হল? স্পেশাল কিছু লিখেছেন নাকি আমাকে যা যা বলেছেন সে সবই?”

‘সেরকম কিছু না। আপনি বুঝবেন না। আপনি বাড়িটা বিক্রির ব্যবস্থা করুন।”

তপনের পালটে যাওয়া থমথমে মুখের দিকে তাকিয়ে নিবারণ বললেন, “বেশ, আপনার যেমন ইচ্ছা।’

বাড়ির পথে যেতে যেতে তপনের মনে হল, সিদ্ধার্থ কাকুর বাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা, চিঠি লিখে যাওয়া, তাঁর সুইসাইড, সবকিছুর সঙ্গে যেন একটা গভীর রহস্য লুকিয়ে আছে। কিন্তু সেই দুর্ভেদ্য রহস্য খুঁজে বের করার মতো বিরাট বুদ্ধি কি তপনের আছে? বাড়িটা না নিলেও টাকা তপনকে নিতেই হবে। আর টাকা নিলে মায়ের দায়িত্বও নিতে হবে, নিজের মৃত্যু দিয়ে চক্রব্যূহ রচনা করেছিল লোকটা। কিন্তু কীসের জন্য? হঠাৎ আপন মনেই স্বগতোক্তি করে তপন, জগৎটা আসলেই মায়া!

 

নরদেহ পর্ব-৪

সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ সেরকম না হলেও সমস্যা হল মায়ের প্রশ্নেই। সিদ্ধার্থ একটা ছোটো চাল খাটানোর চেষ্টা করলেন, “ইচ্ছাপুরের হরিশের পৈতৃক বাড়ি থাকবে কুসুমের নামে। যে তাঁর দেখভাল করবে ওটা সেই পাবে, সেই সঙ্গে কুসুমের নামে রাখা টাকাও।”

নিলু তির্যক হেসে বলল, ‘বড়দা বোধহয় ও-ঘর থেকে আপনাকে শিখিয়ে এনেছে। আমার অত লোভ নেই কাকু। আমি অল্পতেই সন্তুষ্ট। মায়ের নামের জিনিস আমি কেন নিতে যাব?’ সেয়ানা আর কাকে বলে! ইঙ্গিতটা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল। সিদ্ধার্থ তাকালেন তপনের দিকে।

তপন বলল, ‘আমার ওসব কিছু লাগবে না। পরিস্থিতি একটু ঠিকঠাক হলে আমি এমনিতেই মাকে নিয়ে যাব। আমার একটু সময় চাই। বড়দা তো মুখের কথায় বিশ্বাস করছে না। ভাবছে কেটে পড়ব।’

নীপা বলল, ‘আমি দায়িত্ব নিতে পারি। কিন্তু দাদারা থাকতে মা আমার কাছে গিয়ে থাকলে সেটা কি ভালো দেখাবে? তাছাড়া আমার শ্বশুর-শাশুড়ি এখনও জীবিত। মা কি ওভাবে থাকতে পারবে?”

সিদ্ধার্থ বললেন, ‘সেটা হয় না। তবে মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর ব্যবস্থাই কর। তোদের মা শক্ত সমর্থ মানুষ। এখনও চলাফেরা করতে সক্ষম। এমন একটা মানুষকে নিয়েই যদি টানাহেঁচড়া হয়, তাহলে অশক্ত হলে কী অবস্থা হবে সহজেই অনুমেয়। বৃদ্ধাশ্রমই ওঁর জন্য ভালো জায়গা। অচেনা মানুষ অবহেলা করলে তবু মেনে নিতে পারবেন।’

চাল সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এরা যেমন লোভী তেমনি সেয়ানা। জানে সবাই, এই সম্পত্তি ফিরিয়ে দিলে ঘুরেফিরে ওদের কাছেই ফিরে আসবে আবার। বহুকাল আগে পড়া একটা গল্প মনে পড়ে গেল, নোনাজল। মনে মনে হাসলেন সিদ্ধার্থ। কিছু কিছু জিনিস হাজার চেষ্টা করেও আটকানো যায় না৷ এরা মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়েই ছাড়বে। সেটাই বোধহয় কুসুমের নিয়তি। এদের কাছে সম্পর্কের কোনও মূল্য নেই। আর মূল্যহীন সম্পর্ক অচল পয়সার মতন, থাকা না থাকা সমান।

শেষ হুমকিটা দিলেন সিদ্ধার্থ, ‘আমি যতদিন বেঁচে আছি তোদের মাকে আমার কাছে নিয়ে রাখতেই পারি। কিন্তু সেটা কি ভালো দেখাবে? লোকে তোদের বদনাম করবে। আমারও। কিন্তু আমি পরোয়া করি না। তিনকাল গিয়ে এককালে ঠেকেছে। বৃদ্ধাশ্রমে কেউ মন থেকে যায় না, পাঠানো হয়। একটা বড়ো গাছকে শিকড় টেনে তুলে অন্য জায়গায় পুঁতলে সেটা হয়তো মরে না কিন্তু সে কেমন বাঁচে সহজেই অনুমান করা যায়। আর কিছু বলার নেই আমার। এবার কী করবি তোরা বোঝ। তবুও তোদের মায়ের সঙ্গে আলাদা করে একটু কথা বলব, শুনব তিনি কী বলেন।”

এবার আক্রান্ত হল সিদ্ধার্থের আধপাগল ভাই মতি৷ ছোঁয়াচে রোগ, পাগল বলে তো আর কাউকে ক্ষমা করবে না। রাস্তা ঘাটে নিয়মনীতি না মেনেই বেরিয়ে পড়ত। কতক্ষণ আর পাহারা দেওয়া যায়? ফাঁক-ফোকর দিয়ে ঠিক বেরিয়ে যেত। ধরে নিল মারণ ভাইরাস। পজিটিভ রিপোর্ট আসার পরেই হসপিটালে শিফট করে দিলেন সিদ্ধার্থ। কোভিড হসপিটালে বেডের সমস্যা থাকলেও অনিমেষের সহায়তায় একটা বেড জোগাড় হয়ে গেল৷ প্রাক্তন ছাত্র অনিমেষ সরকারি আমলা, ওর অনেক হাত। নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধার্থ ও রামের মায়েরও টেস্ট করাতে হয়েছে। দুজনেরই নেগেটিভ।

চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখলেন না সিদ্ধার্থ। তবুও বাঁচাতে পারলেন না ভাইকে। এই পৃথিবীতে রক্তের যোগসূত্রে একমাত্র এই ভাই-ই ছিল। ভাইয়ের দেখাশোনা, নিজের চাকরি, পড়াশোনা— এসব করতে গিয়ে বিয়েটাই আর করা হয়ে ওঠেনি। ভাই মারা যাওয়ার পর তাঁর জগৎটা হঠাৎ করে শূন্য হয়ে গেল। নিজেকে মনে হল শূন্যে ভাসমান এক নরদেহ মাত্র, যে-নরদেহের অস্তিত্বের আভাসটুকুও আর থাকবে না, দেহ বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে।

 

ছোটোরা জারি রাখুক হাত ধোয়ার অভ্যাস

ঋতু পরিবর্তনের সময় বাতাসে নানারকম জীবাণু ভেসে বেড়ায়। তাই এই সময়টা সবাইকে, বিশেষকরে শিশুদের বেশি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। আর একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আপনার সন্তানকে রোগ থেকে নিরাপদে রাখতে সবচেয়ে সস্তা, সহজ এবং  গুরুত্বপূর্ণ উপায়গুলির মধ্যে একটি হল  ঘনঘন হাত ধোয়ানোর অভ্যাস।কারণ,হাত ধোয়ার অভ্যাস জীবাণুর বিস্তার রোধ করতে পারে।

জীবাণুর বিস্তার সম্পর্কে মৌলিক ধারণার অভাব থাকতে পারে বাচ্চাদের মধ্যে। হাত ধোয়া একটি  তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। হাত ধোয়া এবং শৈশবের অসুস্থতা প্রতিরোধও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) উভয়ই সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে হাত ধোয়ার মতো অ-ফার্মাসিউটিক্যাল উপায় অবলম্বনের পরামর্শ দেয়। পূর্ববর্তী গবেষণায় দেখা গেছে যে, আগে হাত ধোয়ার শিক্ষা কম ছিল। বিশ্বব্যাপী করোনা-মহামারীর পর মানুষের মধ্যে হাত ধোয়ার অভ্যাস বেড়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধের এটি অন্যতম উপায় অবশ্যই। সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার, শচিন তেণ্ডুলকরকে বিশ্বের প্রথম ‘হ্যান্ড অ্যাম্বাসাডর’ ঘোষণা করেছে স্যাভলন স্বাস্থ্য ইন্ডিয়া মিশন। একজন হ্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে লক্ষ লক্ষ মানুষকে সঠিকভাবে হাত ধোয়ার অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করার জন্য যুক্ত হয়েছেন তিনি৷ এ বিষয়ে তাঁর পরামর্শ, নিয়মিত হাত ধোয়া`র অভ্যাস বজায় রাখতে পারলে,সংক্ৰমক রোগের বিস্তার বন্ধ করা অনেক সহজ হতে পারে।

আপনার সন্তানকে জানান যে, হাত ধোয়া তাকে ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস থেকে নিরাপদ রাখতে পারে, যা তাকে এবং তার আশেপাশের অন্যদেরও সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। কীভাবে জীবাণু অদৃশ্য হওয়া সত্ত্বেও তারা আমাদের শরীরে বাসা বাঁধতে পারে, সে সম্পর্কে শেখান ছোটোদের। তাদের বুঝিয়ে বলুন যে, নিয়মিত হাত ধোয়া, দাঁত ব্রাশ করা বা স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাখ্যা করুন যে,  হাতের সংক্রমণ-সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াগুলির কু-প্রভাব এড়াতে,বারবার হাত ধোয়া উচিত।

হাত ধোয়ার সঠিক উপায়ঃ

বহমান জল দিয়ে হাত ধুতে বলুন প্রথমে। তারপর পর্যাপ্ত সাবান লাগাতে বলুন। হাতের সমস্ত পৃষ্ঠতল, আঙুলের মধ্যে এবং নখের নীচে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ডের জন্য স্ক্রাব করার পরামর্শ দিন। এরপর একটি পরিষ্কার কাপড় বা একক ব্যবহার করা তোয়ালে দিয়ে হাত শুকিয়ে নিতে বলুন।

হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করার পরামর্শও দিতে পারেন। তবে সুযোগ থাকলে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার উপায় বেছে নেওয়া ভালো। আইটিসি লিমিটেডের পার্সোনাল কেয়ার প্রোডাক্টস বিজনেসের ডিভিশনাল চিফ এক্সিকিউটিভ সমীর শতপথী এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়া দৈনন্দিন স্বাস্থ্যবিধির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। বৃহত্তর সমাজের বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। এই অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য ক্রমাগত জোর দেওয়া প্রয়োজন। স্যাভলন স্বাস্থ্য ইন্ডিয়া মিশন হাতের পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে এই আচরণগত পরিবর্তনকে তুলে ধরতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। শচিনকে আমাদের সঙ্গে পেয়ে আমরা খুব খুশি। তিনি নিজে স্যাভলন স্বাস্থ্য ইন্ডিয়া মিশনের ‘হ্যান্ড অ্যাম্বাসাডর’ হিসাবে এই অভ্যাস গড়ে তোলার বিষয়ে একজন শক্তিশালী প্রচারক৷’ আর ছোটোরা যেন প্রতিবার খাবার গ্রহণ করার আগে নিজের হাত ধুয়ে নেয় ভালো ভাবে এই সু-অভ্যাস শেখান। শুধু তাই নয়, টয়লেট ব্যবহারের পরও যেন ভালো ভাবে হাত ধোয়, সেই অভ্যাস শেখান শিশুদের। বাড়িতে রাখা কুকুর, বিড়াল ধরলেও যেন ভালো ভাবে হাত ধোয় বাচ্চারা, সেই পরামর্শ দিন। কাশি কিংবা হাঁচির পরও যদি হাত ধুয়ে নেয় কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করে তাহলে আরও ভালো।

মনে রাখবেন, বাচ্চারা সবচেয়ে বেশি ভোগে কৃমির সমস্যায়। আর ওদের পেটে কৃমি জন্মায় হাত দিয়ে নোংরা পেটে যাওয়ার কারণে। তাই খাওয়ার আগে বাচ্চারা যাতে অবশ্যই হাত ধোয়, সেই বিষয়ে সচেতন থাকুন। এছাড়া, অসুস্থ ব্যক্তিকে ধরার পরও বাচ্চারা যাতে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত পরিস্কার করে নেয়, সেই বিষয়ে খেয়াল রাখুন।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব