গরমকালে মানানসই গয়না

গরমকালে ঘামের সমস্যা এবং শারীরিক কষ্ট যেমন আছে, ঠিক তেমনই নিজের সৌন্দর্যকে মেলে ধরার সুযোগও রয়েছে। কারণ, গরমকাল মানেই হালকা এবং স্বল্প পোশাক পরার যেমন সুযোগ পাওয়া যায়, ঠিক তেমনই সুন্দর অলংকারেও নিজেকে মেলে ধরা যায়। আর নিজের সৌন্দর্যকে সঠিক ভাবে তুলে ধরতে পারা মানেই কিন্তু ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্যকে লালন করা। তাই, আর দেরি না করে নিজেকে অলংকার শোভিত করে জাগিয়ে তুলুন আত্ম-প্রেম। বেছে নিন খাঁটি প্ল্যাটিনাম গয়না। কারণ, প্ল্যাটিনাম গহনা মার্জিত ডিজাইনের সঙ্গে আপনার স্বতন্ত্র স্টাইল স্টেটমেন্টকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে, স্থিতিস্থাপক প্ল্যাটিনাম সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অবর্ণহীন আকৃতি এবং ফর্ম বজায় রাখে।

৯৫ শতাংশ খাঁটি প্ল্যাটিনাম সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে মনোমুগ্ধকর নেকলেস, ব্রেসলেট, দারুণ  কারুকাজ করা কানের দুল এবং সুন্দর আংটি। এগুলি আপনার লুকে গ্ল্যামারের ছোঁয়া যোগ করতে পারে এবং একটি ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ককটেল পোশাকের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হলে ইথারিয়াল জাদু তৈরি করতে পারে। সাদা ধাতুর চকচকে এবং অত্যাশ্চর্য কারুকার্য, আপনার সৌন্দর্যকে আরও  সমৃদ্ধ করে চেহারায় আনতে পারে কমনীয়তা। মনে রাখবেন, প্ল্যাটিনাম গয়নার মার্জিত নকশা, ফর্ম, মোটিফ এবং সিলুয়েট সবার মন জয় করে নিতে পারে অনায়াসে।

সাধারণ পোশাক থেকে শুরু করে পার্টি পরিধান, কাজের পোশাক যাই হোক না কেন, প্লাটিনাম ইভারা-র গহনার সংগ্রহ আপনার বসন্ত-গ্রীষ্মের পোশাকের সঙ্গে  থাকা আবশ্যক। এই ইভারার কিউরেটেড সংগ্রহ থেকে তৈরি করুন অনন্য স্টাইল স্টেটমেন্ট।

 প্ল্যাটিনাম ইনচ্যান্টিং রেইনড্রপ: এই ব্রেসলেটটিতে একটি ওভারল্যাপ করা ড্রপলেট মোটিফ দ্বারা একসঙ্গে রাখা চেইন রয়েছে। এটির নকশা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। পুঁতিযুক্ত এই ব্রেসলেটটি একটি সূক্ষ্ম অথচ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য তৈরি করতে পারে।

প্ল্যাটিনাম কনস্টাল্যাশন: নক্ষত্রের মতো এই গয়না যখন আপনার গলার চারপাশে শোভিত হবে, তখন তার আলো ছড়িয়ে পড়বে চারিদিকে। সন্ধবেলা মার্জিত শাড়ির সঙ্গে কিংবা ককটেল গাউনের সঙ্গে এই গয়না ব্যবহার করে আপনি নজর কাড়তে পারেন সকলের।

প্ল্যাটিনাম ব্লুমস: এই ফ্লোরাল ডিজাইনটি একটি খোদাই করা হিরে সমৃদ্ধ হয়। এই কানের দুলগুলি অত্যন্ত আকর্ষনীয় এবং পার্টিতে কিংবা ডেট নাইটের জন্য শিফট ড্রেসের সঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন।

প্ল্যাটিনাম ডান্সিং লাইন: বিরল প্ল্যাটিনামে তৈরি এই মার্জিত চেইনটিতে অমিল দৈর্ঘ্যের নলাকার প্ল্যাটিনাম ফর্ম রয়েছে। রিশেপশন পার্টি কিংবা অফিস পার্টিতে এটি পরুন এবং সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন।

প্লাটিনাম স্টারফল: রাতের আকাশ থেকে ঝরে পড়া তারার মতো এই গয়নার ডিজাইন। পরতে পারেন যে-কোনও উৎসব-অনুষ্ঠানে।

পেট এবং থাইয়ের কাছে স্ট্রেচ মার্কস হয়ে গেছে

আমার বয়স ২৫ বছর। আগে আমি খুবই স্থূল ছিলাম। কিন্তু সকলে আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করত ফলে ওজন কমাতে তৎপর হই নিজে থেকেই। আমি সাফল্যের সঙ্গে নিজের শরীরের ওজন কম করেছি কিন্তু এতে আমার পেট এবং থাইয়ের কাছে স্ট্রেচ মার্কস হয়ে গেছে। যেমন গর্ভধারণের পর অনেক সময় হয়। আমি এখন কী করব? 

ওজন কম করার ফলে ত্বকের টাইটভাব নষ্ট হয়ে যায় এবং স্ট্রেচ মার্কস দেখা দেয়। এছাড়াও দ্রুত ওজন বৃদ্ধি হলেও ত্বক প্রসারিত হয়, ফলে নীচে ডারমাল টিসু (dermal tissue)ফেটে যায় এবং স্ট্রেচ মার্কস দেখা দেয়। আপনি ভিটামিন ‘ই’ ক্যাপসুল ব্যবহার শুরু করুন। ক্যাপসুলের ভিতরের লিকুইড বের করে তা স্ট্রেচ মার্কস-এর উপর লাগান। এতে কিছুটা হলেও লাভ পাবেন। কোনও ক্লিনিকে গিয়ে লেজার থেরাপির সিটিং-ও নিতে পারেন। লেজার(laser) ও মাইক্রোনিডলিং রেডিওফ্রিকুয়েন্সি (microneedling radiofrequency),স্ট্রেচ মার্কস দূর করার খুবই কার্যকরী চিকিৎসা।

স্ট্রেচ মার্কস একবার হলে ত্বক আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা খুব মুশকিল। তবে রোজ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে দাগ অনেকটাই হালকা হয়ে আসবে। ময়েশ্চারাইজ করার জন্য মাখন, নারকোল তেল, অর্গ্যানিক অয়েল ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন যাতে আপনার ত্বক সঠিক ভাবে ময়েশ্চারাইজ থাকতে পারে। এছাড়াও ডাক্তারের পরামর্শ মতন ওষুধ খেতে পারেন। তাছাড়া লেজার টেকনিক, কেমিক্যাল পিল্স ইত্যাদিও ট্রাই করে দেখতে পারেন।

আজকাল স্ট্রেচ মার্কস দূর করার জন্য নানারকম অয়েলও বাজারে পাওয়া যায়। বাড়িতে অ্যালোভেরা জেলও ব্যবহার করতে পারেন। টাটকা অ্যালোভেরা নিয়ে সেটাকে ডায়াগোনালি কেটে কিছুক্ষণ রেখে দিন। ওটা থেকে হলুদ রঙের একটা তরল বেরোবে যেটা বেরোতে দিন। তারপর মধ্যেখান থেকে কেটে ছুরির সাহায্যে জেল বার করে নিন। রোজ এই জেল দিয়ে স্ট্রেচ মার্কস-এর উপর মাসাজ করুন। দাগ কমে যাবে।

 

 

প্রতিধ্বনি ফেরে ( পর্ব ২ )

অবশেষে সিকিম যাওয়ার সময় হয়ে এল। সাতদিনের প্রোগ্রাম। ধ্রুব নম্রতা এবং আশাকে সঙ্গে নিয়ে রাতের ট্রেনে পাড়ি দিল সিকিমের উদ্দেশ্যে। ট্রেন থেকে সকালে শিলিগুড়িতে নেমে গাড়িতে প্রায় ছয় ঘণ্টার জার্নি। ধ্রুব অবশ্য সব আগে থেকে ঠিক করে রেখেছিল। ছয় ঘণ্টা জার্নির পর ধ্রুবরা গ্যাংটকের হোটেলে পৌঁছাল। ধ্রুব এবং আশার মেজাজ ফুরফুরে হলেও নম্রতার মুড বেশ অফ। সেটা ধ্রুবর দৃষ্টি এড়ায়নি। নম্রতা-রা একদিন গ্যাংটকে থাকার পর লাচেন এবং লাচুং-এর উদ্দেশ্যে রওনা দিল।

সারাদিন ঘুরে বেড়িয়ে লাচুং-এর হোটেলে দ্বিতীয় দিন রাত্রে ধ্রুব নম্রতার কাছাকাছি আসার চেষ্টা করল। আশা বাচ্চা মেয়ে সারাদিন বেড়ানোর ফলে তার শরীর ক্লান্ত ছিল। বিছানায় শুতেই সে বেঘোরে ঘুমিয়ে পড়ল। রাতের খাবার খেয়ে নম্রতা হোটেলের ঘরের লাগোয়া বারান্দায় নীরবে দাঁড়িয়ে কী যেন ভাবছিল। পাহাড়ের বুকে তারাগুলো জোনাকির মতো জ্বলছে। রাত্রের নিস্তব্ধতায় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার জলের শব্দ, নীচে খরস্রোতে বয়ে চলা লাচুং নদীর শব্দ যেন শান্ত মনকে উত্তাল করে তুলছে। বরফাবৃত উত্তুঙ্গ হিমালয়, রাতের প্রশান্ত আকাশকে যেন চুম্বন করতে চাইছে। ধ্রুব বিছানা ছেড়ে নম্রতাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলল, এত ঠান্ডায় বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছো কেন? ঘরে শোবে চলো।

—তুমি শুয়ে পড়ো। অযথা সময় নষ্ট কোরো না।

—সময় নষ্ট! এই প্রথমবার আমি সময়ে সদ্ব্যবহার করছি। তোমাকে একা ফেলে আমি ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে যেতে পারব না তা তুমি ভালো করেই জানো। তোমাকে আমি ভালোবাসি।

ধ্রুবর হাত ছাড়িয়ে একটু দূরত্বে দাঁড়িয়ে নম্রতা উদাস কণ্ঠে বলল, ভালোবাসার সংজ্ঞাটা যে ঠিক কি সেটাই আমি এখনও বুঝে উঠতে পারি না। কেউ আমাকে সত্যিই ভালোবাসতে পারে সে বিশ্বাসও আমি করি না।

—তার মানে তুমি বিশ্বাস করো না যে আমি তোমাকে ভালোবাসি। তাই তো! আমাকে আমার ভালোবাসার প্রমাণ দিতে কী করতে হবে তাই বলো।

—আমি তোমাকে কিছু প্রমাণ দিতে বলছি না। যার প্রমাণ দেবার কথা, সে তো বিনা প্রমাণেই অনেক কিছু প্রমাণ করে দিয়ে গেল।

ধ্রুব নম্রতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তার দুটো হাত জড়িয়ে ধরে বলল, কী হয়েছে তোমার! আমার সঙ্গে কি কিছু শেয়ার করা যায় না! আমি কি এতটাই তোমার অযোগ্য স্বামী হিসেবে! আচ্ছা নম্রতা, স্বামী হিসাবে নয়, বন্ধু হিসাবে তো তুমি আমাকে তোমার মনের দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণা শেয়ার করতেই পার। বিয়ে হওয়ার পর থেকে আমি বুঝি তুমি কষ্ট পাচ্ছো কোনও কারণে। তোমার অতীত আমি কোনওদিন জানতে চাইনি। আজ বড়ো জানতে ইচ্ছে করছে। আমাদের একটা মেয়ে আছে। তার কথা ভেবে আমাদের দাম্পত্যের দূরত্ব ঘোচাতে হবে নম্রতা। আমি আর পারছি না।

ধ্রুবর কথা নম্রতা এড়িয়ে গিয়ে বলল, রাত অনেক হল। চলো ঘরে।

ধ্রুব বলল, তুমি আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছ!

নম্রতা বলল, এড়িয়ে যাচ্ছি না। এসব কথা বলার সময় এটা নয়। আর তাছাড়া তুমি কি আশার মতো বাচ্চা নাকি! আমি আশার জন্য এখানে বেড়াতে এসেছি। বিয়ে এত বছর পর সিকিমে এসে আমরা নিজেদের নিয়ে আলোচনা করতে আসিনি। আফটার অল, আমি এসব নিয়ে কখনও ভাবিনি। দাম্পত্য, প্রেম, ভালোবাসা আমি তোমার থেকে কিছু চাইছি না। এই সহজ কথাটা বুঝতে এত সময় লাগছে কেন! আমি এই পৃথিবীতে কারওর কাছে কিছু প্রত্যাশা করি না। প্রত্যাশা বড়ো আঘাত দেয়। কথা শেষ করে নম্রতা বিছানায় চলে গেল।

ধ্রুব কিছুক্ষণ পর বিছানায় নীরবে নম্রতার পাশে শুয়ে পড়ল। পাশে শুয়ে সে টের পেল নম্রতা চোখের জলে বালিশ ভেজাচ্ছে। মাঝে মাঝে নম্রতা কাঁদতে কাঁদতে ফুঁপিয়ে উঠছে। স্ত্রীর চোখের জলের কারণ খুঁজে না পাওয়ায় স্বামী হিসাবে ধ্রুবর নিজেকে বড়ো অসহায় মনে হল।

নতুন সকাল আসে নতুন একটা দিনের সূচনা করতে। রাতের সব কালিমাকে এক নিমেষে মুছে দিয়ে জীবনকে আলোকিত করতে। পাহাড়ি সূর্যটাও নম্রতার রাতের মলিন মুখটাকে তার রাঙা আলোয় ভরিয়ে দিয়েছে। নম্রতার সারা মুখে ছড়িয়ে আছে স্নিগ্ধতার মাধুর্য। বারান্দায় কফি মগ হাতে নিয়ে সে, আশার সঙ্গে গল্পে মশগুল। রাত্রের নম্রতার সঙ্গে এই মানুষটার আকাশ-পাতাল তফাত। ধ্রুব মাঝেমাঝে আশা এবং নম্রতাকে তাড়া লাগাতে থাকে তৈরি হওয়ার জন্য। আধ ঘণ্টার মধ্যেই তারা লাচেনের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যাবে। নির্দিষ্ট সময়মতো ড্রাইভার এসে হাজির।

পাহাড়ি সর্পিল পথ বেয়ে গাড়ি লাচুং ছেড়ে ছুটল লাচেনের উদ্দেশ্যে। চোপতা উপত্যকা, কালাপাহাড় দেখিয়ে ধ্রুবদের গাড়ির ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে চলল গুরুদোংমার লেকের পথে। গাড়ি যত পাহাড়ের উপর উঠতে থাকল চোখে পড়ল শুধু সোনালি ধূসর পাহাড়। গাছপালা প্রায় নেই বললেই চলে। ভারতীয় সেনাদের এলাকা অতিক্রম করে গাড়ি ছুটল গুরুদোংমার লেকের দিকে। একদিকে নীচে পাহাড়ের গা বেয়ে লাচেন নদী খরস্রোতে বয়ে চলেছে অন্যদিকে রুক্ষ বিস্তৃত প্রান্তর।

উন্নতশির পাহাড়ের মাথায় সাদা বরফের মুকুট যেন আলাদা শোভাবর্ধন করছে। পাহাড়ি রাস্তার দুধারে মনে হচ্ছে কেউ যেন বরফের গুঁড়ো ছিটিয়ে রেখেছে। গাড়ির চাকা বরফ গুঁড়ো করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছে। অদূরে পাহাড়ের গা থেকে নেমে আসা ঝরনার জল বরফে জমাট বেঁধে যেন থমকে গেছে।

আশা বাবা-মার সঙ্গে এই বেড়াতে আসাটা খুব উপভোগ করছে। নম্রতার বর্তমান কখনও কখনও তার অতীতকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। ধ্রুব নম্রতার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করতে চাইলেও পারছে না। নম্রতার ক্ষণে ক্ষণে মুড অফ হয়ে যাচ্ছে। বিস্তীর্ণ পাহাড়ি পথ পিছনে ফেলে গাড়ি এসে পৌঁছোল গুরুদোংমার লেকে। লেকে ঘুরতে ঘুরতে নম্রতার অন্যমনস্কতার জন্য একজন লোকের সঙ্গে জোরে ধাক্কা লাগল। নম্রতার সঙ্গে ধাক্কা লাগায় লোকটির হাত থেকে জলের বোতলটা ছিটকে পড়ে গেল। নম্রতা বোতল তাড়াহুড়ো করে কুড়িয়ে লোকটির হাতে তুলে দিয়ে বলল, সরি। আমি আসলে বুঝতে পারিনি।

নম্রতা লোকটির চোখের দিকে তাকাতেই তার মাথায় তুলে রাখা রোদচশমা চোখে পড়ে ভারিক্কি গলায় বলল, ইটস ওকে। সাবধানে চলবেন তো। কথা শেষ করে লোকটি ঝড়ের গতিতে গাড়িতে ওঠার জন্য পা বাড়াল। লোকটির চোখ, হাঁটাচলা, ওই ভারী কণ্ঠস্বর নম্রতার খুব পরিচিত মনে হল।

লোকটির পিছন পিছন ছুটতে ছুটতে সে ডাকল, এই যে শুনছেন। একটু দাঁড়ান। নম্রতাকে ছুটতে দেখে ধ্রুব সামনে এসে দাঁড়াল।

ধ্রুব বলল, কাকে ডাকছ তুমি? কে ছিল?

নম্রতা ব্যাকুল গলায় বলল, আরে ওই যে ভদ্রলোক। যার সঙ্গে আমার একটু আগে ধাক্কা লাগল। ধাক্কা খেয়ে ওনার হাতে জলের বোতল পড়ে গেল।

ধ্রুব ভদ্রলোককে দেখতে না পেয়ে বলল, কেউ তো নেই ওখানে দুটো গাড়ি ছাড়া। আমাদের মতোই টুরিস্টদের গাড়ি হবে। তাড়াহুড়ো করে ভদ্রলোক ততক্ষণে গাড়ি নিয়ে ওখান থেকে কেটে পড়েছে।

আশা মায়ের হাতটা নাড়িয়ে বলল, মাম্মা, তুমি কি কাউকে খুঁজছ?

নম্রতা আনমনা হয়ে বলল, না। না তো।

ধ্রুব বলল, চলো। আমরা গাড়ির কাছে যাই। ড্রাইভার আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

রান্নার পাত্রের যত্ন নেবেন কীভাবে?

এখন প্রায় সবাই কর্মব্যস্ত। আর এই কর্মব্যস্ত জীবনে সবাই চান সহজে সব কাজ করে নিতে। আর তাই রান্নাঘরেও লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। সাধারণ রান্নার পাত্রের পাশাপাশি, এখন অনেক উচ্চ মানের এবং দামি কুকওয়্যার ব্যবহার করছেন বেশিরভাগ মানুষ। তাই সেইসব কুকওয়্যার-এর যত্ন নেওয়াও জরুরি। কিন্তু কীভাবে দামি রান্নার পাত্রের যত্ন নেবেন, তা জানা আবশ্যক।

স্টেইনলেস স্টীল কুকওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণ:

স্টেইনলেস স্টিলের রান্নার জিনিসপত্রে শুধুমাত্র পেশাদার শেফদের জন্যই নয় বরং হোম শেফদের জন্যও আবশ্যক। কারণ এটি অত্যন্ত আকর্ষনীয় এবং টেকসই। এটি সাধারণত ক্ষয় বা স্ক্র্যাচ পড়ে না। কেউ তাদের স্টেইনলেস স্টিলের রান্নার পাত্র ধোয়ার জন্য গরম জল, থালাবাসনের সাবান এবং একটি স্কোরিং প্যাড বা স্পঞ্জ ব্যবহার করতে পারেন। সাধারণভাবে, নোংরা পাত্র এবং প্যানগুলিকে সারারাত না রেখে, লিকুইড সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কারণ, খাবার শুকিয়ে যেতে পারে এবং শুকনো খাবার তুলতে গিয়ে অতিরিক্ত পরিশ্রম যেমন হবে, ঠিক তেমনই রান্নার পাত্রের ক্ষয়ক্ষতিও হতে পারে।

সাধারণ লোহার বাসনপত্র রক্ষণাবেক্ষণ:

লোহার বাসনপত্র পরিষ্কার করার সর্বোত্তম উপায় হল গরম জল এবং একটি হালকা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধোয়া। পৃষ্ঠে আটকে থাকা কিছুকে আলগা করতে পাঁচ মিনিটের জন্য গরম জলে ভিজিয়ে রাখুন। তারপরে, কেবল একটি নরম স্পঞ্জ ব্যবহার করুন এবং পৃষ্ঠটি মুছুন। ওয়াশিং পাউডার কিংবা ধাতব স্কাউয়ার ব্যবহার করবেন না, কারণ এগুলো নন-স্টিক আবরণের ক্ষতি করতে পারে।

নন স্টিক ফ্রাইং এবং গ্রিল প্যানের রক্ষণাবেক্ষণ:

নন স্টিক প্যানের আবরণ বজায় রাখতে, রান্না করার সময় ধাতব স্প্যাটুলা, চিমটি এবং অন্যান্য পাত্র ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন। কারণ, ওইসব উপকরণে রান্নার দামি বাসনের ক্ষতি হতে পারে। সাধারণ ভাবে পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে, একটি নন স্টিক প্যান পরিষ্কার করার জন্য হালকা ডিশ সাবান এবং একটি নরম কাপড় বা স্পঞ্জ দিয়ে গরম জলে দ্রুত স্ক্রাব করা যথেষ্ট। খাবারের অবশিষ্টাংশের আলগা করতে বেকিং সোডা এবং জলের মিশ্রণ ব্যবহার করুন। আপনি যদি ননস্টিক পাত্র এবং প্যানগুলি স্ট্যাক করে থাকেন, তাহলে প্রতিটি প্যানের মধ্যে একটি কাগজের তোয়ালে বা একটি শুকনো কাপড়ের  তোয়ালে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন থিঙ্ককিচেন-এর সিইও আনন্দ বলদাওয়া।

ডাচ ওভেন রক্ষণাবেক্ষণ:

ডাচ ওভেনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। ওভেন ব্যবহারের পরে, একটি শুকনো কাগজের তোয়ালে দিয়ে মুছে ফেলা উচিত। যে-কোনও আঠালো অবশিষ্টাংশ মুছে ফেলার জন্য আপনি একটি আর্দ্র কাগজের তোয়ালে ব্যবহার করতে পারেন। তবে ভালো করে শুকিয়ে নিতে ভুলবেন না। যদি ডাচ ওভেনে কিছু খাবারের টুকরো লেগে থাকে, তবে আপনাকে যা করতে হবে তা হল–ডাচ ওভেনটি জল দিয়ে পূর্ণ করুন এবং এটিকে ফুটিয়ে নিন। তারপর তাপ থেকে সরান এবং জল ঠাণ্ডা হয়ে গেলে, একটি ডিশ স্ক্রাবার এবং ডিশ সাবান দিয়ে দাগগুলি ঘষুন। একটি ডিশ সোপ ব্যবহার করা ভাল, তবে ডাচ ওভেনে অল্প পরিমাণে রান্নার তেল ঢেলে ডাচ ওভেনকে সিজন করতে হতে পারে এবং এটি শুকানোর পরে একটি কাগজের তোয়ালে ব্যবহার করে ঘষতে হবে।

কুকওয়্যার ব্যয়বহুল হতে পারে, তাই এটি যত্ন নিয়ে সঠিকভাবে ব্যবহার করা উচিত।  কুকওয়্যার সামগ্রীর জন্য আপনার পছন্দ যাই হোক না কেন, এই পরিষ্কারের কৌশলগুলি আপনাকে জেনে রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন থিঙ্ককিচেন-এর সিইও আনন্দ বলদাওয়া।

প্রতিধ্বনি ফেরে (পর্ব ১ )

দীর্ঘ পনেরো বছর দাম্পত্য জীবন কাটালেও ধ্রুবর সঙ্গে নম্রতার মনের সখ্যতা কোনওদিনই গড়ে ওঠেনি। এতগুলো বছরে গড়ে ওঠার সম্ভবনাও তেমন ছিল না। ধ্রুব এবং নম্রতার অবস্থান দুই বিপরীত মেরুতে। একটা প্রচলিত কথা আছে বিপরীত মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে। এখানে আকর্ষণের সব রাস্তাই বিয়ে দিন থেকেই নম্রতা রুদ্ধ করে রেখেছিল। দুটো ভিন্ন মানুষের মধ্যে ক্রমাগত দূরত্ব বিকর্ষণের পথকে প্রশস্ত করে তোলে। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

বিয়ে তিন বছর পর নম্রতার কোল আলো করে এক ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। ধ্রুবর স্নেহকাতর পিতৃহৃদয় কন্যার মুখ দেখে, স্ত্রী নম্রতার প্রতি অনেকখানি কোমল হয়েছিল। অনেক আশা করে ধ্রুব কন্যার নাম রেখেছিল আশা। তার আশা ছিল মেয়ে আশাই পারবে তাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে স্বাভাবিক করতে। কিন্তু নম্রতা সে আশা পূরণের চেষ্টাটুকু করেনি। তবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যতই মনোমালিন্য এবং অমিল থাকুক, মেয়ে আশাকে দুজনেই প্রাণাধিক ভালোবাসত। আশা এই বছর এগারোয় পা দিল।

ধ্রুবর সঙ্গে নম্রতার স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক মধুর না হওয়ার কারণে বিয়ে পর দুজনের কোথাও ঘুরে বেড়ানো বা সময় কাটানোর সুযোগ হয়নি। এমনকী দুজনের তরফ থেকে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি নিমন্ত্রণ থাকলেও কৌশলে তারা এড়িয়ে গেছে। ধ্রুব অবশ্য বিয়ে কয়েক সপ্তাহ পর নম্রতাকে নিয়ে অরুণাচল প্রদেশে হনিমুনে যাবে বলে স্থির করে। সে ঠিক করে যে, নম্রতাকে না জানিয়ে সারপ্রাইজ দেবে। ফ্লাইটের টিকিট বুক থেকে হোটেল বুক সব হয়ে যাবার পর নম্রতার দৃঢ় অনিচ্ছায় তার কোনও আশাই পূরণ হয়নি। স্ত্রীর এই আচরণে ধ্রুব কষ্ট পায়। ফলে পরবর্তীকালে নম্রতার কাছে ভুলেও কোথাও বেড়াতে যাবার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি।

ধ্রুব থেমে গেলেও এগারো বছরের মেয়ে আশা থামার পাত্রী নয়। আশা ক্লাস সিক্স-এ পড়ে। স্কুলের বড়োদিনের ছুটিতে তার বায়না স্কুলের অন্যসব বন্ধুদের মতো সেও বাবা মা-র সঙ্গে বেড়াতে যাবে। ধ্রুব বেড়াতে যাবার জন্য এক পায়ে খাড়া। ব্যক্তিগত ভাবে বেড়াতে যেতে তার খুব ভালো লাগে। নম্রতার জন্য তার সেই ভালোলাগাকে সরিয়ে রাখতে হয়েছে। স্ত্রী তাকে ভালোবাসে না জেনেও সে আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকে নম্রতার ভালোবাসা পাওয়ার। বুকের সুপ্ত কোণে ধ্রুব নম্রতার প্রতি ভালোবাসাকে জিইয়ে রেখে দুহাত বাড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। স্ত্রীর সঙ্গে এত মনোমালিন্য, এত অমিল, এত ঔদাসীন্য তবুও দিনের শেষে নম্রতার স্বামীর পরিচয়ে ধ্রুব বাঁচতে চায়। এই পরিচয়টুকুতেই সে খুব খুশি। তার মনের গভীরে জোরালো বিশ্বাস যে, নম্রতা তার ভালোবাসা একদিন ঠিকই বুঝবে। ধ্রুব ভাবে, আজ এতগুলো দিন পর মেয়ে আশা একটা সুযোগ এনে দিয়েছে নম্রতাকে কাছে পাবার। এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। আশা তো হাজার হোক নম্রতার মেয়ে সে তার মায়ের মতোই জেদী। যেটা সে একবার মুখে বলে সেটা না করে তার শান্তি নেই।

ধ্রুব তাই মেয়ে বেড়াতে যাবার প্রস্তাবে পূর্ণ সমর্থন জানায়। বাবার মত পেয়ে আশাও বেশ খুশি। কিন্তু সে জানে বাবা রাজি হলেও মাকে রাজি করানো তার পক্ষে বেশ কঠিন। তবু ভালোবাসা মানুষের জীবনে একটা দুর্বল জায়গা। সেই ভালোবাসার জোরেই আশা সন্ধেবেলায় নম্রতার কোল ঘেঁষে বসে হঠাৎ বলে বসল, মাম্মা, আমি তোমার সবকিছু! তুমি আমার জন্য সব করতে পারবে?

নম্রতা মেয়ে অন্য সুরে কথা শুনে বলল, কী ব্যাপার! এসব কথা বলছ হঠাৎ! যতটুকু আমার পক্ষে তোমার জন্য করা সম্ভব নিশ্চয়ই করব।

আশা একটু ঢোক গিলে আবদারের গলায় নম্রতাকে বলল, মাম্মা, আমার স্কুলে বড়োদিনের ছুটি পড়েছে। স্কুলের প্রায় সব বন্ধুরা ঘুরতে যাচ্ছে। আমিও বেড়াতে যাব। তোমরা দুজন কখনও কোথাও আমাকে নিয়ে যাওনি। প্লিজ মাম্মা, কোথাও চলো না। আমরা কদিনের জন্য ঘুরে আসি। পাপা রাজি।

নম্রতা শান্তস্বরে বলল, তোমাকে যেমন কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাইনি, তেমনি আমরাও তো কোথাও ঘুরতে যাইনি। পাপা যখন রাজি তখন পাপার সঙ্গেই ঘুরে এসো। তুমি জানো যে আমার বেড়াতে ভালোলাগে না।

নম্রতার কথা শুনে আশা হতাশ হয়ে বলল, ঠিক আছে। তুমি না গেলে আমিও যাব না। সে মায়ের কোল ছেড়ে মলিন মুখে বলল, মাম্মা, আসি। আমার কার্টুন শো টম অ্যান্ড জেরি শুরু হয়ে যাবে। আশার অভিমানী মুখ দেখে সুর নরম করে স্মিত হেসে নম্রতা বলল, রাগ হল বুঝি আমার কথায়! আমি তো জাস্ট মজা করছিলাম। দেখছিলাম যে আমার মেয়ে আমাকে ফেলে কোথাও চলে যায় কিনা। আমি যাব ঘুরতে তোমাকে নিয়ে এবার খুশি তো!

নম্রতার কথা শুনে খুশিতে আত্মহারা হয়ে আশা তার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ল। আশাকে জড়িয়ে ধরে নম্রতা তার কপালে মাথায় চুমু খেল। একটু ধরা গলায় সে বলল, তুমি আমার সন্তান। সন্তানের জন্য মায়েরা অনেক কিছু পারে। অনেক কিছু পারতে হয়।

ধ্রুব দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে নম্রতার দিকে গভীর বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিল। ভিতরে মা-মেয়ে সব কথাই তার কানে এসেছিল। এই চিরন্তন দৃশ্য দেখে সে ভিতরে না এসে পারল না। নম্রতার উদ্দেশ্যে বলল, নম্রতা, তোমার এই সিদ্ধান্তের জন্য থ্যাংক ইউ। আমি সিকিম যাওয়ার সব ব্যবস্থা করছি। পরশু আমরা বেরোব। ধ্রুবর কথায় নম্রতার কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না।

আশা মায়ের কোল ছেড়ে বাবার কোলে উঠে বলল, পাপা, আমরাও একসঙ্গে বেড়াতে যাব। কী মজা হবে।

নম্রতাও বিছানা ছেড়ে ঘরের বাইরে যাবার জন্য পা বাড়াতেই ধ্রুব তার হাতটা টেনে ধরল। হ্যাঁচকা টানে নম্রতা ধ্রুবর বুকের কাছাকাছি চলে এল। ফ্যানের হাওয়ায় নম্রতার ঠোঁটের কাছে আসা চুলগুলো আলতো হাতে সরিয়ে ধ্রুব বলল, তুমি আমাকে যতই এড়িয়ে যাও ততই আমি তোমাকে বেশি করে ভালোবেসে ফেলি। নম্রতা তুমি আমার স্ত্রী। তুমি কি বোঝো না, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি? আমার জন্য না হোক আমার মেয়ে জন্য যে তুমি কিছু সময় আমার সঙ্গে কাটাবে এতেই আমার বুকের ভিতর কী হচ্ছে তোমাকে কী করে বলব।

ধ্রুবর স্পর্শ নম্রতার কাছে এক অচেনা মানুষের মতো। তার স্পর্শে নম্রতার শরীর মন সব সংকুচিত হয়ে আসে। আশা হবার পর ধ্রুব এই প্রথম তাকে স্পর্শ করল। নম্রতা নিরুত্তাপ গলায় বলল, আমার হাতটা ছাড়ো। আশার জন্য বেড়াতে যেতে রাজি হয়েছি ঠিকই। তুমি আমার এই বেড়াতে যাওয়াতে খুব খুশি। কিন্তু আমাকে ঘিরে তোমার বাড়াবাড়ি না দেখলে আমি বেশি খুশি হব।

নম্রতা ধ্রুবর হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে বাইরে বেরিয়ে গেল। ধ্রুব মনে মনে একটু হেসে শূন্য ঘরে দাঁড়িয়ে বলল, তুমি আর কতদিন আমার থেকে দূরে থাকবে! একদিন আমার ভালোবাসাই তোমাকে ভালোবাসতে বাধ্য করবে।

কাজল পরতে সমস্যা হয়, চোখের চারপাশে ছড়িয়ে যায়

কাজল লাগাতে আমি খুব ভালোবাসি। কিন্তু Kajal লাগালেই চোখের চারপাশে কাজল ছড়িয়ে যায়। আমি চাই দীর্ঘ সময় চোখে কাজল টিকিয়ে রাখতে। কী করলে এই সমস্যা রোধ করতে পারব?

আজকাল মার্কেটে খুবই ভালো মানের কাজল কিনতে পাওয়া যায়। এগুলি ওয়াটারপ্রুফ এবং স্মাজপ্রুফ হয়। এই কাজল তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়বে না। এছাড়াও কাজল লাগাবার পর কাজল যাতে না ছড়িয়ে পড়ে তাই চোখের নীচে ওয়াটারপ্রুফ আইলাইনারের একটা লাইন টেনে নিন।

কাজল লাগাবার আগে মুখ অবশ্যই টোনার দিয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। এতে ত্বকের অয়েলি ভাব দূর হয়ে যাবে এবং Kajal ছড়িয়ে পড়বে না। ঘাম যাতে না হয় তার জন্য সারা মুখে এবং চোখের চারপাশে বরফ ঘষে নিতে পারেন। আপনি যদি রোজ কাজল ব্যবহার করেন তাহলে চোখের নীচে ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার লাগিয়ে নিতে পারেন। এছাড়াও চোখের বাইরের কোণে ভালো করে পাউডার লাগিয়ে নিন। এতের চোখের কোণ শুকনো থাকবে। এরপর কাজল লাগান।

কাজল লাগানো হয়ে গেলে চোখের পাতায় সামান্য নিউট্রাল কালারের আইশ্যাডো ব্রাশ দিয়ে লাগিয়ে নিন। এতে কাজল তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে এবং দীর্ঘসময় টিকেও থাকবে। আজকাল বাজারেও এমন অনেক Kajal কিনতে পাওয়া যায়, যেগুলি দীর্ঘ সময় ধরে চোখে থেকে যায়। সেরকম কাজল ব্যবহার করুন এবং খেয়াল রাখবেন সেগুলো যেন ভালো কোম্পানির হয়।

কাজল লাগাবার পর একটি পাতলা ব্রাশের সাহায্যে ব্রাউন ব্ল্যাক, পিংক গ্রিন অথবা ব্লু অর্থাৎ ড্রেসের সঙ্গে ম্যাচ করে কমপ্লিমেন্টারি কালারের আইশ্যাডো দিয়ে কাজলের ঠিক নীচে একটা লাইন টেনে নিতে পারেন, এতেও Kajal চারপাশে ছড়িয়ে পড়বে না। দীর্ঘকাল সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারমানেন্ট কাজল লাগাতে পারেন। যেটি ১৫ বছরেরও বেশি দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকে।

 

 

ফ্যাশনে বসন্ত উদযাপন

ফাল্গুন ও চৈত্র মাস মিলে হয় বসন্ত ঋতু। বসন্ত বরণের সাজও তাই হতে হবেো স্পেশাল। পোশাক হিসেবে বসন্ত উৎসবে শাড়িকেই বেশি প্রাধান্য দেন নারীরা। বিগত কয়েক বছরে সাজ-ফ্যাশনে বেশ পরিবর্তন এসেছে। আগে হলুদ, কমলা বা বাসন্তি রঙের পোশাকের চাহিদা বেশি ছিল। তবে এখন বাহারি রঙের পোশাকেও বসন্ত বরণ করা হয়– যার মধ্যে লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ, টিয়া, সি গ্রিন থেকে শুরু করে মাল্টি কালার কম্বিনেশনও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক এবারের বসন্ত বরণে কেমন হবে আপনার Spring Fashion অনুযায়ী কেমন হওয়া উচিৎ আপনার  সাজ-পোশাক।

বর্তমানে ফুলের হেডব্যান্ডেরও চল বেড়েছে। এটি পরতে পারেন। হালকা ধাঁচের নকশার পোশাকের সঙ্গে ফুলের গয়না পরলে ফুলের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।তবে কেউ কেউ চাইলে একটু ভারী নকশার শাড়ির সঙ্গে ফুল দিয়ে হালকাভাবেও সাজতে পারেন।

চুল বেঁধে রাখলে কানে পাশা বা টপ পরতে পারেন। চুল খুলে রাখার প্ল্যান থাকলে দুল বাদ দিন, পরুন আংটি। দেখতে ভালো লাগবে বড়ো আকারের ককটেল রিং। অথবা ডান হাত পুরো খালি রেখে বাম হাতে এক গোছা চুড়ি পরলেও দারুণ দেখাবে।যারা চুড়িতে ফ্যাশনেবল হতে পছন্দ করেন তারা,  দু’হাত ভর্তি করে বিভিন্ন রঙের কিংবা একরঙা কাচের চুড়ি পরুন।

যদি গলায় ভারী গয়না পরেন, তা হলে হাতে বা কানে কিছু পরার দরকার নেই। চুলটা সামান্য ওয়েভ করে ছেড়ে রাখুন। কানে সুন্দর দুল পরলে কিন্তু চুলটা তুলে বেঁধে রাখা উচিত এবং এমন পোশাক বাছা উচিত যার কাঁধের কাছটা খালি।

এদিন শাড়ির সঙ্গে খোঁপা বা বেণী বেশ মানিয়ে যায়। খোঁপায় রাখতে পারেন গাঁদা ফুল। সঙ্গে লাল টিপ দিন কপালে।গালে আবিরের ছোঁয়া। রঙিন ফুলের সাজে পাবেন বসন্তের আমেজ। চুল খোলা রাখলেও এক পাশে ফুল দিতে পারেন।চুলের জন্য বড়ো আকারের ফুল বেছে নিলে একটিই যথেষ্ট। গয়নাও রাখুন হালকা ধাঁচের। আর ছোটো আকারের হলে অবশ্য একাধিক ফুল নিতে পারেন।

চুলের বেণীতে ফুল জড়ানো যেতে পারে নানাভাবে। ফুলের মালা কিংবা আটকে নিতে পারেন নানা আকারের ছোটো-বড়ো ফুল। বেণীও সাজাতে পারেন ফুল দিয়ে।

মেকআপের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিন আর্দি, ন্যাচরাল শেডের উপর। সান্ধ্য সাজের জন্য অবশ্য টুকটুকে লাল লিপস্টিক চলতে পারে। মেকআপের ক্ষেত্রে আবহাওয়া দেখে নিন। সাজে ন্যুড রং, বাদামি, লাল, মেরুন, গেরুয়া ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন।চোখের সাজে আনতে পারেন সবুজের ছোঁয়া। আর দিনের মেকআপে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

জল জঙ্গল পাহাড়ে ঘেরা খয়রাবেড়া (শেষ পর্ব)

থাকার জন্য তাঁবুতে ঢুকে চমকে গেলাম! স্টার হোটেলের থেকে কোনও অংশে কম নয়। ফ্রিজ, এসি, গিজার, শাওয়ার রয়েছে সবই। দুই শয্যার এই বিলাসী তাঁবুতে থাকার জন্য তিন-চার হাজার টাকা (প্রতিদিন) দিয়েও দুঃখ হবে না ।

সন্ধে নামতেই কানে এল বাঁশির সুর। সে সুর বড়ো মর্মস্পর্শী। কনকনে শীতের রাতে বনফায়ার আর বারবিকিউ সহযোগে উপভোগ করলাম ঝুমুর আর ছৌ নাচ।

পরের দিন প্রাতরাশ সেরে লেকের বুকে কিছুক্ষণ ভেসে বেড়ালাম ছোট্ট জলযানে (কায়াকিং)। রোমাঞ্চিত হলাম জলপথে পাহাড় আর গভীর জঙ্গল দেখে। তারপর গাড়ি নিয়ে চললাম পুরুলিয়ার চেনা-অচেনা প্রকৃতি দর্শনে।

ক্যাম্প থেকে তিরিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মারবেল লেকটি (পাথর খাদান) দেখার মতো। খাদের মতো জলাশয়টি পাথরময়। সাদা মারবেলের মতো পাথরের উপর সূর্যের আলো পড়ে ঝকমক করছে। খাদানে নেমে জলের কাছাকাছি গিয়ে একটু জোরে কথা বললেই কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হয়।

পাথর খাদান থেকে মুরগুমার জঙ্গলে (ক্যাম্প থেকে ৪৫ কিমি) পিকনিক করতে যাওয়ার পথে ঘুরেফিরে দেখে নিলাম পাহাড়ি জলে পুষ্ট তুরগা ফলস এবং অনতিদূরের চরিদা গ্রামে ছৌ-এর মুখোশ তৈরির কৌশল।

ক্যাম্পের তত্ত্বাবধায়ক অসীম চৌধুরির উদ্যোগে দুপুরে বেশ জমে গেল পিকনিক। মেনুতে ছিল। খিচুড়ি, বেগুনভাজা, পাঁঠার মাংস, পাপড় আর পায়েস। বিকেলে কংসাবতীর হাঁটু জলে পা ডুবিয়ে খানিক আরাম নেওয়ার পর দেউলঘাটার শিবমন্দির দর্শন করলাম। ক্যাম্প-এ ফেরার পথে উপভোগ করলাম আদিবাসী হাটের কেনাবেচার দৃশ্য।

দ্বিতীয় রাতে ক্যাম্প-এর ময়দান মাতিয়ে দিল আদিবাসী যুবক-যুবতিরা। ধামসা-মাদল সহযোগে পরিবেশিত হল আদিবাসী নৃত্য। নৈশভোজের পর, আদৃত তার ডেবিউ ফিল্ম ‘নূরজাহান’-এর গান শুনিয়ে মুগ্ধ করল। আর মনের সুখে ভাঙা চাঁদের ছবি নিজের ক্যামেরায় বন্দি করলেন অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়।

তৃতীয় দিনের সকালে বাড়ি ফেরার জন্য গাড়িতে ওঠার আগে আলাপ হল প্রথম রাতে যার বাঁশির সুর হৃদয় স্পর্শ করেছিল, সেই বাঁশিবাদক রামু মাছুয়ার সঙ্গে। আবার ওর বাঁশি শুনতে আসার অনুরোধ জানাল রামু।

ফিরতি পথে আমাদের গাড়ি যখন আপার ড্যাম-এর সেতু ধরে ছুটে চলেছে, তখন শুরু হল মন খারাপের পালা। ঠিক করলাম, টুসু, ভাদু আর পলাশ-পার্বণ দেখার জন্য আবার আসতেই হবে। আর তখনও আশ্রয় নেব খয়রাবেড়া ইকো- অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প-এ।

 

মুখোশ (শেষ পর্ব)

গত সপ্তাহে এদিক ওদিক ঘুরতে ঘুরতে সমর, মদের নেশায় চুর হয়ে একটা ওর চেনা-পরিচিত ক্যাসিনোতে যায়। ওখানে ও প্রায়ই যেত তাই ক্যাসিনোর মালিক ওকে খেলার জন্য দুই লক্ষ টাকা ধারও দেয়। কিন্তু সমর একঘন্টার মধ্যেই পুরো টাকা হেরে যায় এবং তার পরেও আবার টাকা ধার দেওয়ার জন্য ক্যাসিনোর মালিককে জোরাজুরি করতে থাকে। কিন্তু ওখানকার মালিক আর টাকা ধার না দিয়ে সমরকে চব্বিশ ঘন্টা সময় দেন আগের দুই লক্ষ টাকার ধার মেটাবার জন্য। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে বচসা হয় এবং পরিস্থিতি মারমারি পর্য‌ন্ত পৌঁছোয়। মারামারির মধ্যে সমরের হাতে ক্যাসিনোর মালিক খুন হয়ে যায়। ফলে খুনের চার্জ গিয়ে পড়ে সমরের উপর। ও কোনওমতে ওখান থেকে পালাতে পারলেও উপস্থিত সকলেই ওকে খুন করতে দেখেছিল। ফলে পুলিশের কাছেও ওর বিরুদ্ধে যথেষ্ট ছিল।

প্রণতি এবার একটু গম্ভীর হল। প্রণতির চোখে কিছুটা অনুকম্পা প্রকাশ পেল কিনা ঠিক বুঝতে পারল না সঞ্চিতা। আরও কিছু শোনার অপেক্ষায় নিঃশ্বাস প্রায় আটকে উঠছিল সঞ্চিতার। প্রণতি নিজেকে একটু গুছিয়ে নিল। আবার বলতে আরম্ভ করল, এবার নিজেকে একটু শক্ত করো সঞ্চিতা, কারণ এখন আমি যেটা বলতে যাচ্ছি সেটা তুমি নিশ্চয়ই স্বপ্নেও কোনওদিন ভাবোনি। তোমাকে বিয়ে করার ছয়মাস আগে সমর একটি জার্মান মেয়েকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু মেয়েটি দুতিন মাস পরেই স্বামীর চালচলন ঠিক নয় বুঝে ওকে ছেড়ে চলে যায়। এখনও পর্য‌্যন্ত আইনত ওদের ডিভোর্স হয়নি। সেজন্য তোমার বিয়ে কতটা আইনসিদ্ধ সে নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। সম্ভবত সেই কারণেই তোমার গর্ভপাত করানো হয়েছে, যাতে তোমার আর বাচ্চার জন্য ও সমস্যায় না পড়ে।

সমর ছেলেটি একেবারে ধোঁকাবাজ একটা ছেলে। ওকে দয়া করার কোনও মানেই হয় না। তুমি যেমন করে পারো এই বিয়েটা থেকে বেরিয়ে এসো। আমার পরিচিত উকিলের সঙ্গে আমি কথা বলছি, দেখি তিনি কী পরামর্শ দেন। কাল দুপুরে সমরকে কোর্টে তোলা হবে। আমি আমার উকিলের সঙ্গে ওখানে যাব। তুমি এখন বাড়ি যাও। তোমার যত জিনিস, গয়না, টাকা-পয়সা— সব নিয়ে আমার বাড়ি চলে এসো। এখানে তোমার একটা জিনিসেও কেউ হাত দেবে না। কেস মেটা না পর্য‌্যন্ত তুমি আমার বন্ধু, বোন হিসেবে এই বাড়িতেই থাকবে আমার কাছে।

চোখের জল মুছে সঞ্চিতা মাথা নেড়ে প্রণতিকে নিজের সম্মতি জানাল এবং ধন্যবাদ জানিয়ে প্রণতির বাড়ি থেকে বেরিয়ে এল।

নিজের বাড়িতে এসে সঞ্চিতা শাড়ি, জামাকাপড়, গয়না যা যা ছিল সব দুটো সুটকেসে ভরে নিল। গয়নাগুলো সব ঠিক আছে দেখে একটু আশ্চর্যও হল। ওর কাছে যা টাকা ছিল, জরুরি কাগজপত্র, পাসপোর্ট-ভিসা সব ব্যাগে ভরে নিয়ে সারা বাড়িটা একবার চোখ বুলিয়ে দরজায় তালা ঝুলিয়ে প্রণতির বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেল।

 

পরের দিন সমরকে কোর্টে হাজির করা হল। সঞ্চিতা, প্রণতি উকিলের সঙ্গে ওখানেই উপস্থিত ছিল। সঞ্চিতা এবার সমরের মুখোমুখি হল, জিজ্ঞেস করল কেন একটা মেয়েকে ও এভাবে ধোঁকা দিল? সমরের কাছে কোনও উত্তর ছিল না। শুনানি হয়ে যেতে পুলিশ ওকে নিয়ে চলে গেল।

প্রণতির সাহায্যে সঞ্চিতা জার্মান মেয়েটির সঙ্গেও দেখা করল। সমরের সব ঘটনা শুনে মেয়েটিও অবাক হয়ে গেল। সমরের হাত থেকে রেহাই পেতে মেয়েটি কথা দিল সঞ্চিতাকে সবরকম ভাবে ও সাহায্য করবে।

সবার আশ্বাস পেয়ে সঞ্চিতা অনেকটাই চিন্তামুক্ত হতে পারল। ওর মনে হল সমরের হাত থেকে সহজেই ও মুক্ত হয়ে যাবে। কিন্তু সমরের কেস-টার নিষ্পত্তি হতে দেড় বছর গড়িয়ে গেল। ওর দশ বছরের সাজা হল। সঞ্চিতা এবার ডিভোর্স পেপার সাইন করাতে সমরের সঙ্গে দেখা করল। সমর শেষপর্য‌্যন্ত বিনা বাক্যব্যয়ে সমস্ত কাগজে সাইন করে দিল। অবশেষে সঞ্চিতা স্বাধীনতার স্বাদ পেল। এর জন্য প্রণতিকে ও বার বার ধন্যবাদ জানাল।

এতদিনে সমরের কুকীর্তির কথা বনানী পিসি আর নিজের মা-বাবাকে জানিয়েছে সঞ্চিতা। সকলেই প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পেলেন। বনানীও সঞ্চিতার মা-বাবার থেকে ক্ষমা চাইলেন সঞ্চিতার এখানে বিয়ে ঠিক করার জন্য। যদিও এটাতে তাঁর কোনও দোষই ছিল না। তিনি নিজেও সমরের এই চারিত্রিক অবনতির কথা জানতেন না। কারণ সমর তাঁকেও অন্ধকারে রেখেছিল। সঞ্চিতার মা-বাবাও ওনাকে ক্ষমা করে দিলেন। একে অপরকে দোষারোপ করে আর লাভ কী?

দিনকয়েক পরে সঞ্চিতা মুম্বই এয়ারপোর্টে নামলে ওকে স্বাগত জানাবর জন্য ওর মা-বাবার সঙ্গে বনানী পিসিও হাজির হলেন। প্রণতির সাহায্য নিয়ে সঞ্চিতা পেরেছিল সমরের ভালোমানুষি চেহারাটা থেকে মিথ্যার মুখোশটা টেনে খুলে দিতে। সকলের সামনে ওর আসল চেহারাটা প্রকাশ করে দিতে। মুখোশধারি এরকম হাজার হাজার সমর সর্বত্র রয়েছে। সাহসের সঙ্গে সেই মুখোশ টেনে সরিয়ে দিতে মেয়েদেরই আজ এগিয়ে আসার দরকার।

জল জঙ্গল পাহাড়ে ঘেরা খয়রাবেড়া (পর্ব-০১)

শীতের সফরে একটা আলাদা মজা আছে। মোলায়েম রোদ বেশ গায়ে মাখা যায়। তেমনই একটা সুযোগ এল হঠাৎই। গন্তব্য— খয়রাবেড়া ইকো-অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প। পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় থেকে মাত্র কুড়ি কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। ট্রেনে পুরুলিয়া কিংবা বরাভূম স্টেশনে নেমেও গন্তব্যে পৌঁছানো যায়।

বহুবার পুরুলিয়া সফর করলেও, এবারের সফরে ছিল একটা আলাদা উত্তেজনা। কারণ ছিল দুটি। এক- জায়গাটি নতুন আবিষ্কার। দুই- সফরসঙ্গী অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, অরিজিৎ দত্ত, পরিচালক রাজ চক্রবর্তী এবং রাজের নতুন ছবি ‘নূরজাহান’-এর নায়ক আদৃত রায়।

সকাল সাতটা। দেশপ্রিয় পার্কের প্রিয়া প্রেক্ষাগৃহের সামনে থেকে ছাড়ল আমাদের গাড়ি। শক্তিগড়ে নেমে গরম কচুরি, ছোলার ডাল আর ল্যাংচা খেয়ে আবার আমাদের গাড়ি ছুটল আসানসোল হয়ে। মসৃণ রাস্তার দু’দিকে ফসলের খেত, শালগাছ আর ইউক্যালিপটাসের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম পুরুলিয়ার খয়রাবেরা ইকো-অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প-এ। সময় লাগল সাতঘন্টার একটু বেশি।

Eco adventure camp purulia

গাড়ি থেকে নামতেই কুল-টাওয়েল আর এক গেলাস শরবত দিয়ে আপ্যায়ন করলেন ক্যাম্প-এর কর্মীরা। হঠাৎ অনুভব করলাম এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। শুধু কানে এল পাখির কলকাকলি। মন আনন্দে ভরে গেল পাহাড়, জঙ্গল আর তাদের কোলে থাকা বিশালায়তনের শান্ত জলাধার (ড্যাম) দেখে। চোখ টানল সবুজ ঘাসের কার্পেটের উপর নানারঙের ছাতার নীচে পাতা চেয়ারগুলি। বসলাম আরাম করে। ভলিবল এবং ব্যাডমিন্টন খেলার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। তিনটি কটেজ আর সাতটি স্থায়ী তাঁবুতে সমৃদ্ধ এই অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প। ক্যাম্প-বেস্টিত পাহাড়সারির নাম চেংটাবুরু। আর তারই কোলে অবস্থিত অবসরযাপনের এই অপরূপ লোকেশন, যার পরিধি কয়েক একর। সীমানা বরাবর রয়েছে প্রচুর শাকসবজি এবং ফলের গাছ। ওই টাটকা সবজি, ভাত আর মুরগির ঝোল খেয়ে তৃপ্ত হলাম মধ্যাহ্নে। বেরোলাম লাগোয়া জঙ্গল ভ্রমণে। চোখে পড়ল খরগোশ, বনমোরগ, ময়ূর, বেশ কিছু আঙুরের গাছ আর ধবধবে সাদা পাতাবাহার গাছ পয়েনসেটিয়া।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব