মুখোশ (দ্বিতীয় পর্ব)

কয়েক ঘন্টা পর সমর এসে ওকে বাড়ি নিয়ে গেল। বাড়ি পৌঁছোবার পর সন্ধেবেলায় সমর সঞ্চিতাকে শুধু এটুকুই বলল যে, ও এখন বাচ্চার দায়িত্ব নিতে মানসিক ভাবে প্রস্তুত নয়। ওর এখন অনেক কাজ বাকি রয়েছে। ও যদি সঞ্চিতাকে গর্ভপাত করাবার কথা বলত, তাহলে হয়তো ও রাজি হতো না। তাই বাধ্য হয়ে সমরকে এই ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।

সবকিছু শোনার পর নিজের মনে গুমরে মরা ছাড়া অন্য কোনও রাস্তা ওর কাছে খোলা নেই— সেটা খুব ভালো করেই বুঝে নিয়েছিল সঞ্চিতা। সমরের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিল। এতদিন সমরের প্রতি যে-সম্মান, ভালোবাসা সঞ্চিতার হৃদয়কে ঘিরে রেখেছিল— সেখানে জায়গা হল ঘৃণা, তিরস্কারের। কিন্তু বিদেশ-বিভুঁইয়ে থেকে সমরের বিরুদ্ধতা করা উচিত মনে করল না সঞ্চিতা। কারণ এখানে ও কাউকেই চেনে না, যে ওর পক্ষ নেবে। এখানে না কোনও বন্ধু, আত্মীয়স্বজন বা চেনা-পরিচিত— কার সঙ্গে ও মনের দুঃখ শেয়ার করবে?

একদিন দুপুরে বনানী পিসির ফোন এল সঞ্চিতার কাছে। পিসির কাছ থেকেই সঞ্চিতা জানতে পারল— গত পনেরো দিনে সমর বনানী পিসিকে তিনবার ফোন করেছে। প্রতিবারই নাকি পঁচিশ লক্ষ টাকা বনানীকে পাঠাতে বলেছে সমর ওর আমেরিকার অ্যাকাউন্টে। ও পিসিকে বলেছে, ও চাকরি ছেড়ে দিয়েছে এবং এই টাকা দিয়ে নিজের ব্যাবসা শুরু করবে। তাই টাকাটা ওর খুব প্রয়োজন।

সমরের হাবভাবে বনানীর সন্দেহ হওয়াতে সঞ্চিতাকে ফোন করে তিনি নিশ্চিত হতে চাইছিলেন। কিন্তু এ ব্যাপারে সঞ্চিতা কিছু জানতই না বরং মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে সঞ্চিতার গর্ভপাত ঘটানোর কথা সঞ্চিতা পিসিকে জানালে— বনানী সমরের ব্যবহারে মানসিক ভাবে খুবই মুষড়ে পড়লেন।

সঞ্চিতা সমরকে ভয় পেতে আরম্ভ করল। সমর সম্পর্কে সমস্ত সত্যটা ধীরে ধীরে সঞ্চিতার সামনে আসতে আরম্ভ করল। বিদেশে সমরের শত্রুতা করার সাহস ছিল না সঞ্চিতার— আর দেশে মা-বাবাকে জানিয়ে তাদের চিন্তিত করে তুলতে কিছুতেই মন চাইছিল না তার।

বাড়িতেও আর সময় কাটছিল না সঞ্চিতার। ভাগ্যের কাছে পরাজিত সঞ্চিতা একদিন বসে খবরের কাগজের পাতা ওলটাচ্ছিল। পত্রিকাটি আমেরিকার হলেও আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয়দের জন্যই মূলতঃ পত্রিকাটি বার হতো। একটা খবরের দিকে দৃষ্টি পড়তে সঞ্চিতার চোখ সেখানে আটকে গেল।

প্রণতি নামের একজন ক্রাইম রিপোর্টার কীভাবে নিজের সাহস এবং বুদ্ধির জোরে একটি বড়ো সেক্স র‌্যাকেটের পর্দা ফাঁস করেছে। ভারত ও পাকিস্তানের বেশ কিছু প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তি, যারা এর সঙ্গে জড়িত ছিল, প্রমাণ-সহ আইনের চোখে তাদের সে দোষী সাব্যস্ত করে ছেড়েছে— তার সম্পূর্ণ বিস্তারিত খবর ‘দ্য ট্রুথ’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছে।

খবরটা তিন-চারবার পড়ল সঞ্চিতা। আশার একটা আলো দেখতে পেল সে। সঙ্গে সঙ্গে পত্রিকাটির দফতরে ফোন করে প্রণতির ঠিকানা এবং ফোন নম্বর সংগ্রহ করল সে। প্রণতিকে ফোন করে একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিল সঞ্চিতা। কথায় কথায় জানতে পারল প্রণতি ওর স্কুলেরই মেয়ে ওর থেকে দুবছরের সিনিয়র ছিল। তার বাবা চাকরি নিয়ে আমেরিকা চলে আসাতে ওদের পরিবার আমেরিকায় পাকাপাকি ভাবে থেকে গেছে।

প্রণতি নিজের বাড়িতেই আসতে বলল সঞ্চিতাকে। আমেরিকাতেও সঞ্চিতার নিজের বলতে কেউ আছে, এটা ভেবেই সঞ্চিতার মন অনেকটা হালকা বোধ হল। প্রণতির সঙ্গে দেখা করে ওর সঙ্গে যা যা ঘটেছে সব খুলে বলল। এমনকী পিসির কাছে পঁচিশ লক্ষ টাকা সমর চেয়েছে, এটা জানাতেও ভুলল না।

প্রণতিও মন দিয়ে সব শুনল। প্রায় দুঘন্টা ধরে ওদের কথাবার্তা চলল। প্রণতি কথা দিল, ও সমর সম্পর্কে সবকিছু অনুসন্ধান করে সঞ্চিতার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। নিশ্চিন্ত মনে সঞ্চিতা বাড়ি ফিরে এল।

সেদিন সারারাত সমর বাড়ি ফিরল না। ওর জন্য অপেক্ষা করতে করতে, সঞ্চিতার কখন তন্দ্রা এসে গিয়েছিল ও নিজেই বুঝতে পারেনি। বহুবার ফোন করার পরেও কোনও রিপ্লাই না আসাতে, সঞ্চিতাও খোঁজ করা বৃথা চেষ্টা, ভেবে হাল ছেড়ে দিল। পরের দিন দুপুরে সমর বাড়ি ফিরল। ও কোথায় ছিল জিজ্ঞেস করাতে উত্তর দিল না। এক সপ্তাহর বেশি সময় পেরিয়ে গেল। রাতে বাড়ি না ফেরাটা প্রায়শই হতে লাগল সমরের। ফেরার কোনও ঠিক থাকত না। একবার টানা দুই রাত বাড়ি ফিরল না। জিজ্ঞেস করাও ছেড়ে দিল সঞ্চিতা।

পরের সপ্তাহের শেষের দিকে প্রণতির ফোন এল দেখা করার জন্য। তার আগের রাতেও সমর বাড়ি ফিরল না। সকালে উঠে চা খেয়ে সঞ্চিতা তৈরি হয়ে নিল। ওর অনুপস্থিতিতে সমর বাড়ি ফিরতে পারে, এই ভেবে একটা কাগজে মার্কেট যাচ্ছে লিখে খাবার টেবিলে চাপা দিয়ে রাখল।

প্রণতির বাড়ি পৌঁছোতেই প্রণতি ওকে বসার ঘরে আসার জন্য বলল। সঞ্চিতা সোফায় এসে বসলে প্রণতি বলতে শুরু করল, সঞ্চিতা তুমি আমাকে সমরের অফিস এবং ওর সম্পর্কে যা যা প্রয়োজনীয় তথ্য জানিয়েছিলে, সেই মতন আমি খোঁজখবর নেওয়া শুরু করে দিয়েছিলাম। ও একটা খুনের কেসে জড়িয়ে গেছে। গতকাল পুলিশ ওর ডেরায় পৌঁছে ওকে অ্যারেস্ট করেছে। এই কয়েকদিন ও পালিয়ে বেড়াচ্ছিল, তাই রাতে বাড়ি ফিরত না। ও এখন পুলিশের লক-আপে রয়েছে।

দ্বিতীয়ত ও চাকরি ছাড়েনি বরং কোম্পানি ওকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে। ও অফিসে ভারতীয় মুদ্রায় পঁচিশ লক্ষ টাকা তছরুপ করেছে। বনানী পিসিকেও মিথ্যা বলেছিল। উনি সমরের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতেই ওই টাকা তুলে ও কোম্পানিকে দিয়ে আইনি সাজা পাওয়ার হাত থেকে রেহাই পেয়েছে।

 

সব মরশুমেই আমার ত্বক রুক্ষ থাকে

গ্রীষ্ম কিংবা শীত সব মরশুমেই আমি Dry Skin-এর সমস্যায় ভুগি। ময়েশ্চারাইজার লাগাবার পর কিছুক্ষণ ঠিক থাকে তারপর আবার ড্রাই হওয়া শুরু হয়ে যায়। এই অবস্থায় কী করা উচিত?

আপনার ত্বক অতিরিক্ত ড্রাই হওয়ার ফলে নর্মাল ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে কোনও লাভ হবে না। কারণ এগুলিতে অয়েলের তুলনায় জলের পরিমাণ বেশি থাকে। আপনার উচিত অয়েল-যুক্ত ময়েশ্চারাইজার লাগানো। স্নানের পর ত্বক শুকনো করে মুছে আমন্ড অয়েল বা শিয়া বাটার দিয়ে পুরো বডি মাসাজ করুন। সপ্তাহে একবার বডি মাসাজ করানো লাভদায়ক।

Dry Skin-এর সমস্যা দূর করতে রাত্রে শোবার সময় মুখে বাদামের তেল লাগান। তেল লাগাবার সময় পাঁচ মিনিট হালকা ভাবে মুখে মালিশ করুন। দুধের মধ্যে ২-৩টি কেসরের পাপড়ি ফেলেও মুখে মাসাজ করতে পারেন। শুকিয়ে গেলে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এর ফলে গায়ের রংও যেমন উন্নত হবে তেমনি ত্বকও মসৃণ এবং উজ্জ্বল হবে।

ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া মানে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলা এবং ত্বকের ডিহাইড্রেটেড হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়া। ঘরোয়া উপায়ে ত্বক মসৃণ উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে। চার-পাঁচটি কাঠবাদাম পিষে নিয়ে তার মধ্যে ১ চামচ মধু মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে রাখুন। ১৫ মিনিট এই পেস্ট মুখে লাগিয়ে রেখে ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

ঘরোয়া উপায়ে মাস্ক তৈরি করতে: সমান পরিমাণে লেবুর রস এবং মধু মিশিয়ে প্রভাবিত অংশে লাগান। হালকা গরম জলে তোয়ালে ভিজিয়ে ভালো করে নিংড়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট মুখ ঢেকে রাখুন তারপর হালকা গরম জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একদিন প্রক্রিয়াটি করে দেখুন, উপকার পাবেন।

কাঁচা আলু ও লেবুর মাস্কও ব্যবহার করতে পারেন। আলুতে ক্যাটাকোলেস নামে একটি এনজাইম থাকে যা পিগমেনটযুক্ত ত্বকে ভালো কাজ করে এবং দাগ হালকা করতে সাহায্য করে। লেবু একটি প্রাকৃতিক ব্লিচ। লেবু ত্বকের ক্ষত সারাতেও সাহায্য করবে। আলু গ্রেট করে তার সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন আধঘণ্টা। তারপর জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফল পেতে দিনে দুবার করে মাস্কটি ব্যবহার করতে পারেন, আশা করি Dry Skin-এর সমস্যা রোধ করতে পারবেন।

 

 

 

জীবনকে করে তুলুন আনন্দময়

মা হওয়ার পর চাকরি ছেড়ে দেয় দিশা। কিন্তু বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতি কিংবা কর্মক্ষেত্রের সম্মানপ্রাপ্তির কথা দিশা এখনও ভুলতে পারেনি। পুষ্পিতার বিষয়টা আবার অন্যরকম। ও বেকার। কিন্তু চায়, সমাজে আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকতে। তাই বন্ধুদের নিয়ে সবসময় আনন্দে মেতে থাকে সে। রিয়া আবার খুব ভালো রাঁধুনি। স্বামী-সন্তানকে ভালো খাবার খাওয়াতে পারলেই তার মানসিক শান্তি এবং রান্নার প্রশংসা পেলেই সে ভীষণ খুশি।

আসলে যে-যার মতো আনন্দে থাকতে চায়। তাই, ভালোলাগার বিষয় যাই হোক, উপলক্ষ্য কিন্তু একটাই— আনন্দলাভ। কারণ আমরা মনে-মনেই বাঁচি বেশি। অতএব, জীবনের সমস্ত প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে, মানসিক শান্তি এবং আনন্দলাভের চেষ্টা করতে হবে। কারণ, জীবনকে আরও আনন্দময়, আরও সুন্দর করতে হলে, সংকল্প নিতেই হবে এবং সেই সংকল্পের সূচনা হোক আজই।

কর্মপ্রাধান্য

ভাগ্য নয়, কর্ম পাক প্রাধান্য। মনে রাখবেন, সফল ব্যক্তি ভাগ্যে বিশ্বাস করেন না, কর্মময় জীবনযাপন করেন। তাই সুযোগ পাওয়ার জন্য বসে থাকবেন না, সুযোগ করে নেবেন। ‘কাল করব’ বলে কাজ ফেলে রাখলে, মহাকাল পার হয়ে গেলেও সে কাজ আর হবে না। অতএব, কাজ শুরু করুন এখনই এবং কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে অসাধ্য সাধনের চেষ্টা করুন। সাময়িক বাধা এলেও নিরাশ হবেন না, অপেক্ষা করুন, বাধা কাটবেই। কারণ, ঝড় ওঠে, আবার থেমেও যায়। তাই, সাময়িক বাধা অতিক্রম করতে পারলেই জয় সুনিশ্চিত। নতুন বছরের শুরুতে তাই নিজের কাজকে প্রাধান্য দিন।

পরিকল্পনা জরুরি

প্রথমে আপনার পরিকল্পনাগুলি নথিভুক্ত করুন। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সুষ্ঠু ভাবে কাজ করতে সাহায্য করবে। আর পরিকল্পনামাফিক উপকরণ এবং সময় বরাদ্দ করুন। কর্মসাফল্য পেতে অর্থের প্রয়োজন হতে পারে, তাই আগে থেকেই মজুত করুন অর্থ। কোনও কাজ নিশ্চিন্তে সম্পূর্ণ করতে হলে, পরিকল্পনামাফিক যথেষ্ট খোঁজখবর নিয়ে কাজ শুরু করা উচিত।

আত্মবিশ্লেষণ

আয়নার সামনে দাঁড়ান। দেখুন নিজেকে। কী কী দোষগুণ আছে তা বিশ্লেষণ করুন। দোষগুলিকে কাটানোর চেষ্টা করুন এবং গুণগুলির কথা ভেবে আত্মবিশ্বাস বাড়ান। প্রয়োজনে অন্যদের (শুভাকাঙ্ক্ষী) থেকে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন আপনার কী কী দোষগুণ আছে। কারণ, নেগেটিভ পয়েন্টস না কাটালে, পজিটিভ কাজ আটকে যেতে পারে। অতএব, নিজেই নিজের সমালোচনা করুন এবং অন্যের থেকে সমালোচনা শুনে নিজেকে শুধরে নিন।

সামাজিকতা

টেলিভিশন কিংবা কম্পিউটারের সামনে অহেতুক দীর্ঘ সময় ব্যয় না করে, মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করুন। যত মানুষের সঙ্গে মিশবেন, ততই আপনি জ্ঞানবুদ্ধিতে সমৃদ্ধ হবেন, উপকার পাবেন। শুধু তাই নয়, অন্যের গুণগুলি নিতে পারলে আপনি আরও গুণী এবং স্মার্ট হয়ে উঠবেন। মনে রাখবেন, কুপমণ্ডুকরা কল্পনার জগতে বাস করে, কিন্তু সামাজিকতা বাস্তবের মুখোমুখি করে।

গুরুত্বের বিচার

গুরুত্ব অনুযায়ী কাজের তালিকা তৈরি করুন। কারণ, সঠিক গুরুত্ব মানেই সঠিক সাফল্য। এতে বাজে কাজে সময় নষ্ট হবে না। আপনার জীবনের উপযোগী এবং লাভজনক কাজগুলিকে তালিকার শীর্ষে রাখুন। ঠান্ডা মাথায় নিজের কাজের গুরুত্ব নিজেই বিচার করুন।

স্বাস্থ্য সচেতনতা

স্বাস্থ্যই সম্পদ। শরীর-স্বাস্থ্যের যত্ন না নিলে, একসময় সব ধনসম্পদ হারাতে হতে পারে। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে শরীরচর্চা করুন। খাদ্যতালিকায় রাখুন শাক-সবজি এবং ফল। পান করুন পর্যাপ্ত জল। আর ফার্স্ট ফুড থেকে সরিয়ে রাখুন নিজেকে।

পারিবারিক আনন্দ

নিজেকে গুটিয়ে রাখবেন না। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দে থাকুন সর্বদা। সময় পেলেই আড্ডা-গল্পে মেতে থাকুন। বছরে অন্তত দু’বার বেড়াতে যান পরিবারের সবাইকে নিয়ে। তাই বছরের শুরু থেকেই টাকা জমাতে থাকুন।

আয়ব্যয়ের হিসাব

একটা খাতা কিংবা ডায়ারি হাতে নিন। প্রথমে আপনার বাৎসরিক আনুমানিক আয়ের পরিমাণ লিখুন। এবার প্রতি মাসের খরচ লিখুন। যেমন সংসার খরচ, সন্তানের শিক্ষাখাতে খরচ, জামাকাপড় কেনার খরচ, ঋণ শোধের ব্যাপার থাকলে তার খরচ (ইএমআই), যাতায়াতের খরচ, অতিথি আপ্যায়নের খরচ, বিমার খরচ, উৎসব-অনুষ্ঠান প্রভৃতির খরচ হিসাব করুন। এরপর সারা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব কষে দেখুন আর কত টাকা আপনার হাতে থাকছে। এবার সেই মতো ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য টাকা জমান এবং কিছু টাকা রাখুন শখ-আহ্লাদ পূরণের জন্য। নতুন বছরে এটুকু করতে পারলে আপনি থাকবেন মানসিক চাপমুক্ত এবং জীবনযাপন করতে পারবেন নিশ্চিন্তে।

মুখোশ (প্রথম পর্ব)

বিয়ের পর ভারতীয় মেয়েদের দুরাবস্থার খবর আমাদের আশেপাশে, খবরের কাগজে প্রায়শই চোখে পড়ে, বিশেষ করে পাত্র যদি বিদেশে বসবাসকারী হয়। এর কারণ হচ্ছে মেয়ের পরিবারের লোকজন পাত্রের ঠিকমতো খোঁজখবর না নিয়েই মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি হয়ে যান।

নির্মলা পুণাতে থাকে। ওর মা আর ওখানকার মহিলা সমিতির মেম্বার বনানী খুব ভালো বন্ধু, সেই সূত্রে নির্মলার সঙ্গেও বনানী আন্টির ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। একদিন কথায় কথায় নির্মলা নিজের মেয়ে সঞ্চিতার বিয়ের সম্বন্ধ দেখা শুরু করেছে জানাতে, বনানী আন্টি নিজের ভাইপো সমরের কথা বললেন। পাত্র বর্তমানে আমেরিকায় থাকে এবং ওখানে খুব ভালো চাকরি করে। বনানীর কথায় নির্মলা জানতে পারল— সমরের জন্যও পাত্রী সন্ধান করা হচ্ছে।

বাড়িতে স্বামী এবং মেয়েকে সমরের কথা জানাতে, নির্মলার স্বামী একটু ইতস্তত করলেও, সঞ্চিতা কিন্তু বিদেশে থাকা ছেলেকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে গেল। ওদিকে বনানীও সমরকে ফোনে সঞ্চিতার ছবি-সহ ওর সম্পর্কে, সবকিছু জানাতে সমরও কথা দিল পাত্রীর সঙ্গে কথা বলে পিসিকে জানিয়ে দেবে। বনানী পাত্র-পাত্রী উভয়কে ভিডিও চ্যাটে যোগাযোগ করিয়ে দিলেন। বেশ কিছুদনি ওরা ফোনে নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা চালিয়ে সবকিছু ঠিক মনে হতে, নিজের নিজের পরিবারকে জানিয়ে দিল উভয়ে বিয়েতে রাজি আছে।

বিয়ের দিন স্থির হতে সমর এক মাসের ছুটি নিয়ে পুণা এসে পৌঁছোল। সবকিছু আগে থেকে ঠিক করাই ছিল। সমর ও সঞ্চিতার বিয়ে হয়ে গেল। সমরের কোনওরকম খোঁজখবর না নিয়ে সঞ্চিতার মা-বাবা বনানীর উপর ভরসা করে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিলেন।

ভরসা করার অবশ্য আরও একটা কারণ ছিল, শৈশবে এক দুর্ঘটনায় মা-বাবাকে হারিয়ে সমর তার বনানী পিসির কাছেই মানুষ হয়েছিল। অবশ্য টাকা-পয়সার জন্য বনানীকে চিন্তা করতে হয়নি। মা-বাবার অকালে মৃত্যু হওয়াতে ওই শিশু বয়সেই সমর বিপুল সম্পত্তির একমাত্র মালিক হয়ে উঠেছিল। বিধবা নিঃসন্তান বনানী, সমরকে দত্তক হিসেবে গ্রহণ করাতে সমরের বাবার তৈরি ট্রাস্ট থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ভাতা হিসেবে বনানীকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

অর্থের লোভে বনানী সমরকে দত্তক নিলেও ওকে মানুষ করতে কোনও কার্পণ্য করেননি। ভালো স্কুল থেকে পড়াশোনা করিয়ে সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়র হতে উদ্বুদ্ধ করেছেন সমরকে। একুশ বছর বয়সে সম্পত্তির অধিকার সমরের হাতে চলে আসায়, ধীরে ধীরে সমরের স্বভাব পালটাতে থাকে। সে ঠিক করে আমেরিকায় গিয়ে পাকাপাকি বসবাস করবে।

সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়র হিসেবে চাকরি নিয়ে সমর আমেরিকায় পাড়ি জমায় এবং ওখানেই থেকে যাওয়া মনস্থির করে। এত বছর বাদে বিয়ের জন্য দেশে ফিরেও বিয়ে মিটতে না মিটতেই সঞ্চিতাকে সঙ্গে নিয়ে আমেরিকায় ফিরে আসে ও।

কী করে দেখতে দেখতে দুটো বছর কেটে যায়, নতুন বিয়ের আনন্দে সঞ্চিতা বুঝতেই পারে না। রোজই মনে হতো সমরকে বিয়ে করে সারা বিশ্বের সুখ ওর মনের কোণায় জমা হয়েছে। একদিন হঠাৎ-ই সঞ্চিতা বুঝতে পারে যে, সে মা হতে চলেছে। এর পরেই ঠিক করে ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে তবে সমরকে জানাবে। ডাক্তার সব রিপোর্ট পজিটিভ জানালে খুশিতে আত্মহারা হয়ে ওঠে সঞ্চিতা। অধীর আগ্রহে সমরের ফেরার অপেক্ষা করতে থাকে সবকিছু সমরকে বলার জন্য।

সন্ধেবেলায় সমর বাড়ি ফিরলে সবথেকে আগে সঞ্চিতা এই আনন্দ সংবাদ সমরকে জানায়। কিন্তু ওর মুখে আনন্দের বদলে অন্যকিছু চোখে পড়াতে সঞ্চিতা ভিতরে ভিতরে কেঁপে উঠল। সমরের মুখের এই ভাবান্তর আগে কখনও সঞ্চিতা দেখেনি। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে সমর নিজেকে সামলে নিল। সঞ্চিতাকে দুই হাতে নিজের কাছে টেনে নিতে নিতে বলল, আমি তো বিশ্বাস করতেই পারছি না যে আমি বাবা হতে চলেছি। খবরটা শুনে কিছু মুহূর্ত আমার ব্রেন কাজ করাই বন্ধ করে দিয়েছিল। তুমি এখন থেকে খুব সাবধানে থাকবে। আমার পরিচিত একজন ভালো গাইনিকোলজিস্ট আছেন, কাল আমি তোমাকে তার কাছে নিয়ে যাব সম্পূর্ণ চেক-আপের জন্য।

পরের দিন সঞ্চিতার যখন চোখ খুলল, দেখল অপরিচিত একটা বিছানায় ও শুয়ে আছে। কোমরের নীচের থেকে একটু ভারী ভারী মনে হচ্ছিল, পেটেও একটা সামান্য ব্যথা ছিল। চারপাশে চোখ বোলাতে মনে হল কোনও হাসপাতালের ঘরে ও শুয়ে আছে। উঠে বসার চেষ্টা করেও শক্তিতে কুলিয়ে উঠতে পারল না। সেই মুহূর্তে একজন নার্স দৌড়ে এসে বলল, আপনি আরও খানিক্ষণ বিশ্রাম করুন। তিন ঘন্টা পর আপনি উঠতে পারেন।

হাসপাতালের বিছানায় ও কীভাবে এল জানতে, কাউকে না পেয়ে নার্সকেই জিজ্ঞেস করাতে নার্স একটু অবাক হল। নার্স সঞ্চিতার দিকে একটা অবিশ্বাসের দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল, আপনি জানেন না আপনার কী হয়েছে? আপনার অ্যাবর্শন হয়েছে।

শুনেই সঞ্চিতার মাথা ঘুরে গেল। ওর মনে পড়ল সমরের সঙ্গে ও হাসপাতালে গাইনিকোলজিস্ট-এর কাছে এসেছিল চেক-আপ করাতে। ওখানে ওকে জল খেতে দেওয়া হয়েছিল তারপরেই ওর খুব ঘুম পাচ্ছিল। ব্যস আর কিছু ওর মনে নেই। এখন পুরো ঘটনাটাই সঞ্চিতার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল।

 

দোল উৎসবে মিষ্টি

শীতের পাতাঝরা দিনগুলোর পর যখন ডালে ডালে বসন্ত আসে, ফুলে ফুলে লাগে রঙের রায়ট– , তখন প্রকৃতির মতো মানুষের মনের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার হয় । আর  বসন্ত মানেই বসন্ত উৎসব অর্থাৎ দোল বা হোলি । প্রতি বছর এই দোলের অপেক্ষায় থাকে আপামর বাঙালি। কারণ, দোল উৎসব হল আনন্দ, সম্প্রীতি, বন্ধুত্ব এবং অবশ্যই প্রেম উদযাপনের দিন । কিন্তু  শুধু রঙের খেলায় মেতে উঠলেই তো চলবে না। দোলের ষোলো কলা পূর্ণ হবে যদি থাকে বাদামের শরবত আর সঠিক মিষ্টিমুখের আয়োজন। পেটপুজো ছাড়া দোল অসম্পূর্ণ। তাই দোল উৎসবের আনন্দকে আরও রঙিন করে তোলার জন্য রইল দুটি স্পেশাল Sweet recipe।

 

গুলাব জামুন

উপকরণ: গুলাবজামুন মিক্স, অল্প বাতাসা, ১/২ কেজি চিনি, ভাজার তেল।

প্রণালী: ১/৪ ভাগ জলে ১ ভাগ গুলাবজামুন মিক্স মিশিয়ে, মেখে নিন এবং ৫ মিনিট রেখে দিন। এবার মিশ্রণ থেকে ছোটো ছোটো বল তৈরি করুন ও ভেতরে বাতাসা ভরে দিন। সবকটা বল তৈরি হয়ে গেলে, ভেজা কাপড় দিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রেখে দিন।

চিনি ও জল আঁচে বসিয়ে ফুটতে দিন, রস ঘন হলে নামিয়ে রাখুন। এবার কড়ায় ডোবা তেলে বলগুলো বাদামি করে ভেজে নিন। তৈরি হওয়া গুলাবজামুন চিনির রসে দিয়ে দিন। রস ঢুকলে গরম গরম সার্ভ করুন।

 

মালাই লাড্ডু

Malai Laddu recipe

উপকরণ: ১/২ লিটার দুধ, ১০০ গ্রাম পনির, ৩ ছোটো চামচ মালাই, ৪২ ছোটো চামচ চিনি, ১/৪ ছোটো চামচ এলাচগুঁড়ো।

প্রণালী: কড়ায় দুধ ঢেলে ঘন হতে দিন। এবার এই দুধে চিনি মিশিয়ে এতটাই ঘন করুন, যাতে কড়ার গায়ে আটকে যাওয়ার মতো হয়। এই অবস্থায় এতে পনির মিশিয়ে দিন। মালাই ও এলাচগুঁড়ো দিয়ে নাড়তে থাকুন। এতটাই শুকনো করুন, যাতে লাড্ডু তৈরি করার মতো হয়। আঁচ থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। হাতের চেটোয় ঘি বুলিয়ে লাড্ডু গড়ে নিন।

ব্রণর সমস্যার জন্য বেরনো মুশকিল হচ্ছে

আমার বয়স ১৮। আমার মুখে Pimples সমস্যা শুরু হয়েছে? বাড়ির বাইরে ব্রণর জন্য বেরোতে ইচ্ছে করে না। দেখতেও মুখটা খুব বিচ্ছিরি লাগে। ঘরোয়া কিছু সমাধানের উপায় বলুন যাতে মুখের কোনওরকম ক্ষতি হবে না?

 এই বয়সের স্বাভাবিক একটি সমস্যা হল Pimples। এতে ঘাবড়াবার কোনও দরকার নেই। এই বয়সে হরমোনাল ইমব্যালেন্স হয়ে থাকে যার ফলে ত্বক তৈলাক্ত হয়ে পড়ে। ত্বকের উপরের পরতে থাকা তেল বাইরের ধুলোমাটির সঙ্গে মিশে ব্ল্যাকহেডস তৈরি করে। এতে সংক্রমণ হওয়ার ফলে এগুলো ব্রণর আকার ধারণ করে। সুতরাং ত্বক পরিষ্কার রাখুন বিশেষ যত্ন নিয়ে। সারাদিনে ২ থেকে ৩ বার অ্যালকোহল মুক্ত স্কিন টোনার ব্যবহার করুন। অ্যালকোহল ত্বক রুক্ষ করে তোলে।

ঋতুস্রাবের কারণেও ব্রণর সমস্যা হয়ে থাকে। মহিলাদের এই সময় হরমোনের তারতম্য ঘটে। অ্যানড্রজেন হরমোন সিবাম উৎপাদনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঋতুস্রাব শুরুর মুখে বা চলাকালীন গালে, ঘাড়ে, পিঠে ব্রণর সমস্যা দেখা দেয়। একে প্রিমেন্সটুয়াল সিনড্রোম বলে। এছাড়াও বিভিন্ন কারণে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ঘটে। মানসিক চাপ, অনিয়ন্ত্রিত জীবনধারা ইত্যাদি।

১ চামচ ভিনিগারে ৩ চামচ জল মেশান। তুলোর সাহায্যে ব্রণর উপর মিশ্রণটি ৩-৪ বার লাগান। Pimples হওয়া কমে যাবে। কোনও ভালো ক্লিনিকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন যেখানে মেডিকেল হিস্টরি নেওয়া হয়। যদি শরীরের ভিতরে কোনও সমস্যা থাকে তাহলে ওষুধ খাওয়া জরুরি।

পুদিনাতে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারি গুণ থাকে যা ত্বককে পরিষ্কার রাখার সঙ্গে সঙ্গে ন্যাচারাল টোন প্রদান করে। ত্বকের বর্জ্য পদার্থ বার করে ত্বককে শুদ্ধ রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে Pimples-এর থেকেও নিস্তার পাওয়া যায়। পুদিনায় স্যালিসিলিক অ্যাসিড থাকে যা ত্বকের মৃত কোশ হঠাতে সাহায্য করে। এক গুচ্ছ পুদিনাপাতা নিয়ে থেঁতো করে রস বার করে নিন এবং ভালো করে সারা মুখে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এছাড়াও গোলাপজলের সঙ্গে পুদিনার রস মিশিয়ে লাগালেও আপনি সমস্যা মুক্ত হবেন।

নিয়মিত ডায়েটে পরিবর্তন আনলে ব্রণর সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা যায়। এর জন্য কম কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খাওয়া দরকার। তবে খেয়াল রাখবেন অয়েলি খাবার একদম খাবেন না । এই ক্ষেত্রে রাস্তার ফাস্টফুড বর্জন করাই বাঞ্ছনীয়। প্রচুর জল পান করুন। ব্যালেন্সড ডায়েট নেওয়াটা জরুরি। যদি ব্রণ নর্মাল চিকিৎ‍সায় না সারে, তাহলে কেমিক্যাল পিলও করাতে পারেন। ২-৩টি সিটিং নিলেই উপকার পাওয়া যায়।

 

 

 

 

 

মেদ কমাতে ব্যায়াম

আপনার কাঠামো সুগঠিত হলে যে-কোনও পোশাকেই আপনাকে ভালো মানাবে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেদও বাড়ে। আর সেখানেই প্রয়োজন হয় নিয়ন্ত্রণের।খাবারের পরিমাণে যেমন রাশ টানা দরকার, তেমনই প্রয়োজন ব্যায়ামের। এই সর্বাঙ্গীন Fitness and lifestyle management আপনার জীবনকে সুন্দর করে তুলবে।

ব্যায়াম করার আরও কিছু সুফল তো আছেই৷ এর ফলে বাড়ে আত্মবিশ্বাস, মোটিভেশন আসে৷ প্রথমদিকে শরীর একটু বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে, পেশিতে ব্যথা হয় বটে, তবে কিছুদিনের মধ্যেই দেখবেন ব্যায়াম করার ফলে কেমন ঝরঝরে লাগছে নিজেকে। সারাদিনে আগের চেয়ে বেশি কাজ করতে পারছেন৷ রাতে ঘুম ভালো হচ্ছে, বিরক্তি গ্রাস করে নিচ্ছে না আপনাকে৷ সেই সঙ্গে বাড়তি মেদ ঝরিয়ে টানটান শরীর ফিরে পাওয়াটা তো একটা উপহার! আর কোন মেয়েই না নির্মেদ পেট চান? কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, পেটে একবার মেদ জমে গেলে সেটা তাড়ানো খুব মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়৷ তাই খাওয়াদাওয়া আর ব্যায়ামের পারফেক্ট কম্বিনেশনই একমাত্র কাজে দেবে৷

কোন কোন ব্যায়াম দিয়ে আরম্ভ করবেন?

প্লাঙ্ক কোর মাসলকে শক্তিশালী করে তোলার ক্ষেত্রে খুব কার্যকর ৷ মেঝেতে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন৷ কনুইয়ের উপর ভর দিয়ে দুই হাত মুঠো করে রাখুন৷ তার পর পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে পুরো শরীরটা মেঝে থেকে উপরে তুলুন৷ মাথা থাকবে সোজা৷ আপনার শরীরটা ঠিক একটা ব্রিজের আকার নেবে৷ শুধু কোর নয়, আপনার কাঁধ, হিপ, পেট, গ্লুটসের মাসলকেও প্লাঙ্ক শক্তিশালী করে তোলে৷ প্রথমদিকে চেষ্টা করুন অন্তত 30 সেকেন্ড প্লাঙ্ক পজিশন ধরে রাখার৷ তার পর সেটা বাড়াতে বাড়াতে দু’ মিনিটে নিয়ে যান৷ সেই সঙ্গে অভ্যেস করুন সাইড প্লাঙ্কও৷ তবে খেয়াল রাখবেন, প্লাঙ্ক করার সময় শরীর যেন একেবারে সোজা থাকে, না হলে চোটের আশঙ্কা আছে৷

পেটের চর্বি কমাতে ক্রাঞ্চেস

ক্রাঞ্চ নিঃসন্দেহে খুব ভালো ব্যায়াম, দারুণ কাজেরও৷ কিন্তু যাঁরা কেবল ক্রাঞ্চের ভরসায় পেটকে নির্মেদ করে তোলার স্বপ্ন দেখছেন, তাঁরা ভুল করছেন ৷ আপনার কোর মাসলগুলি শক্তিশালী না হলে পেটের মেদের আবরণ পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা অসম্ভব৷ কোর-এর মধ্যে কেবল পেট নয়, হিপ, লোয়ার ব্যাক আর গ্লুটসের পেশিও পড়ে৷ ক্রাঞ্চ কেবল পেটের পেশির উপর কাজ করে৷ তাই শুধু অজস্র ক্রাঞ্চ করলেই আপনার পেটের মেদ কমবে না৷ মেদহীন ছিপছিপে পেট ও কোমর পেতে চাইলে কোর মাসলগুলিকে শক্তিশালী করে তোলার চেষ্টা করুন৷

এছাড়া নিয়মিত হাল্কা Floor exercise, সিট আপ, স্কেয়াট এগুলিও করুন। কিন্তু মনে রাখবেন কোনও ব্যায়ামই প্রশিক্ষকের পরামর্শ ছাড়া করা উচিৎ হবে না ৷ এর কারণ ব্যায়াম সঠিক পদ্ধতিতে না করলে হিতে বিপরীত হবে। আর ব্যায়াম সঠিক হচ্ছে কিনা সেটা একমাত্র একজন ট্রেনার-ই বলতে পারবেন।

সিগারেট খাওয়ার ফলে ঠোঁট কালো হয়ে গেছে

আমি একজন ইউনিভার্সিটি পাঠরত ছাত্রী। বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে আমি সিগারেট খাওয়া শুরু করেছিলাম যার ফলে আমার ঠোঁট খুব কালো হয়ে গেছে। এখন Smoking ছেড়ে দিয়েছি কিন্তু ঠোঁটকে আবার স্বাভাবিক গোলাপি রঙে কীভাবে ফিরিয়ে আনব যদি পরামর্শ দেন? এছাড়া ঠোঁটের চারপাশ মাঝে মাঝে রুক্ষ হয়ে পড়ে। এ থেকে মুক্তির উপায় কী?

 সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিয়ে খুব ভালো করেছেন। এতে শুধু ঠোঁটই নয় শরীর স্বাস্থ্যও খারাপ হয়ে যায়। ঠোঁটের গোলাপি রং ফিরিয়ে আনতে সর্বপ্রথম স্ক্রাব করা শুরু করুন। ১/২ চামচ বাদাম তেলে মধু এবং চিনি অল্প একটু পিষে মিশিয়ে নিন এবং মিশ্রণটি দিয়ে রোজ ঠোঁট ঘষুন। এতে কালো হয়ে যাওয়া ত্বক ধীরে ধীরে বেরিয়ে যাবে। ১ চামচ চিনির মধ্যে কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস দিন। এটি ঠোঁটে লাগিয়ে কয়েক মিনিট স্ক্রাব করুন। এরপর ঠোঁট জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটা ছাড়াও পাতলা একটুকরো লেবুর উপরে সামান্য ছিনি ছড়িয়ে প্রতিদিন ঠোঁটে ঘষুন। চিনি ঠোঁটের মরা চামড়াগুলোকে পরিষ্কার করতে এবং লেবু রোদে পোড়া কালো হয়ে যাওয়া ঠোঁটের চামড়াকে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করবে।

স্ক্রাব করার পর সামান্য দুধের সরে বীটরুটের কয়েক ফোঁটা রস মিশিয়ে নিন এবং ৪-৫ ফোঁটা মধু ঢালুন। এই মিশ্রণ ঠোঁটে লাগিয়ে আধঘন্টা রেখে মুছে ফেলুন। ধীরে ধীরে আপনার ঠোঁটের গোলাপি রং ফিরে আসবে। শরীরেরও এটি কোনও ক্ষতি করবে না। ভুল করে মুখের ভিতর চলে গেলেও ঘাবড়াবার কিছু নেই।

ঠোঁটের চারপাশের ত্বকের রুক্ষতা দূর করতে রাতে শোয়ার আগে মাখন বা ঘি লাগান ঠোঁটে। ঠোঁটের হলদেটে ভাব হঠাতে গোলাপের পাপড়ি ব্যবহার করুন। এটি ঠোঁটের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রেখে ঠোঁটের রং গোলাপি করতে সাহায্য করবে। একটি পাত্রে গোলাপের পাপড়ি রেখে ওতে কিছুটা কাঁচা দুধ ঢেলে কয়েক ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন। পাপড়িগুলি পিষে পেস্ট বানিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখুন। এরপর ঠান্ডা জল দিয়ে ঠোঁট ধুয়ে ফেলুন। Smoking এর কালো দাগ কিছুদিন পর থেকেই কমতে শুরু হবে। ঠোঁটকে ময়েশ্চারাইজ করতে গ্লিসারিনের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান, ঠোঁট নরম থাকবে।

 

 

 

 

 

 

পিরামিড (শেষপর্ব)

মাস তিন আরও পেরিয়ে গেল। রূপার মায়ের গর্ভের সেই অপত্যস্নেহের প্রাণ এই তিনমাসে আরও তিনমাস বড়ো হয়ে গেছে। রূপার মাকে এখন দেখলে বোঝা যায়। সেদিনের ঘটনার পর রূপার ব্যবহার জটিল থেকে যৌগিক হয়ে উঠল।

রূপার বাবা-মা ডাক্তারের কাছে গিয়ে ওয়াশের ব্যাপারে আলোচনা করেছিল। রূপার কথাও বলেছিল। কিন্তু ডাক্তারবাবু সবকিছু পরীক্ষা করে বললেন, আপনাদের এইরকম পরিকল্পনা থাকলে আরও আগে ভাবতে হতো। এখন ব্যাপারটা রিস্কি হয়ে যাবে। এমনকী ম্যাডামের কিছু ভালো-মন্দ হয়ে যেতে পারে। তার থেকে মেয়ের সঙ্গে আবার কথা বলুন, বোঝান।

বাড়ি ফিরে রূপাকে কিছু বোঝানোর চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। বরং দিন দিন রূপা তার নিজস্ব পৃথিবীর মধ্যে নিজেকে আরও বেশি করে পেঁচিয়ে রাখতে আরম্ভ করে। প্রযোজন ছাড়া বাবা মায়ের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। লাঞ্চ তো একা খেতই, ডিনার নিয়ে নিজের ঘরে চলে যেতে আরম্ভ করল। বাবা-মায়ের প্রশ্নের কোনও উত্তর দিত না। স্কুল বা টিউশন থেকে দেরি করে বাড়ি ফিরতে আরম্ভ করল। কিছু জিজ্ঞেস করলেই বেশির ভাগ সময়ে এড়িয়ে চলে যেত, অথবা চিল্লিয়ে বলত, তোমাদের কী?

একটা ছেলের সঙ্গে ঘোরাঘুরির কথাও কানে এল। কিন্তু রূপাকে কিছু বলতে সাহস হয় না। একদিন রাত্রি নটার সময় বাবা বাড়ির সামনে একটা ছেলের বাইক থেকে রূপাকে নামতে দেখে। বাড়ি ফিরলে ছেলেটার ব্যাপারে প্রশ্ন করতে খুব বাজে ভাবে উত্তর দেয়, ইজ ইট ইযোর বিজনেস?

মা শুয়ে শুয়ে চেল্লাতে আরম্ভ করে, এর মানে! আমরা জিজ্ঞেস করব না তো কে করবে?

বাবা শান্ত করে বলে, ডাক্তার তোমায় উত্তেজিত হতে বারণ করেছে, শান্ত থাকো। আমি ওর সঙ্গে কথা বলছি। তারপর খুব শান্ত ভাবেই ছেলেটার কথা আবার জিজ্ঞেস করতে রূপা জবাব দেয়, ও চাঙ্কি, আমার টাইম পার্টনার, এনি প্রবলেম?

তবে ব্যাঙ্কের ব্যালান্স শূন্যের দিকে গেলে বাবার কাছে এসে গম্ভীর গলায় বলে, বাবা আমাকে কিছু ফান্ড ট্রান্সফার করে দেবে তো।

বাড়িতে টুকটাক কাজ করবার জন্যে আলপনা মাসি ছাড়াও রান্নার জন্যে আরকজন এসেছে। খিদে পেলে তাদের কাউকে বলে টিফিন থেকে আরম্ভ করে বাকি সব নিয়ে নেয়।

মা কিন্তু এখন এক্কেবারে শয্যাশাযী। ডাক্তার বলেছেন, বেশি বয়সের তো, বেশ কমপ্লিকেটেড প্রেগন্যান্সি। রেস্ট না নিলে রিস্ক হতে পারে।

রূপা কিন্তু কোনওদিন মায়ের ঘরে ঢুকে জিজ্ঞেস করে না, কেমন আছো? সাধের দিন পিসি আর দূর সম্পর্কের মাসি মামিরা এলেও রূপা স্কুল চলে যায়। এমনকী আগের রাতে মাকে শুনিয়ে শুনিয়ে ফোনে বলে, তাহলে কাল টিউশন থেকে ফেরার সময় পার্টি হবে।

আরও মাস দেড় পরে একরাতে দরজাতে বাবার জোরে জোরে ধাক্কা মারবার আওয়াজে রূপার ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বাবার গলার আওয়াজ পায়, মাম্পি তোর মায়ের শরীর খারাপ, তুই দরজা খোল।

একবার দুবার তিনবার। রূপা কিন্তু দরজা খোলে না। শুধু ভিতর থেকেই জোরে বলে ওঠে, শরীর খারাপ তো আমি কী করব? তোমাদের ব্যাপার, তোমরা বোঝো।

মিনিট পনেরো পরে একটা গাড়ির আওয়াজ পাওয়া যায়। ঘরের ভিতরে আরও কয়েকজন মানুষের উপস্থিতিও বোঝা যায়। আস্তে, একটু নামাও। এইসব কয়েকটা কথাও কানে আসে। আরও কিছু সময় পরে আবার বাবার গলা পায়।

—মাম্পি, তোর মাকে নিয়ে হাসপাতাল যাচ্ছি। আলপনা থাকল, পারলে সকালে আসবি।

রূপা কিন্তু তার পরের দিন হাসপাতালে যায়নি। সকালে উঠেই টিউশন চলে গেল। বাড়ি ফিরে তাকে আরও গুম হয়ে থাকতে হল। ঘরভর্তি লোকজন। ঢুকতেই প্রশ্ন, তোর মা কেমন আছে জানিস? সে কী রে?

তারপরেও হাজারটা অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা। রূপা কোনওরকমে সবাইকে এড়িয়ে নিজের ঘরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দেয়। কিছুসময় পরে দরজাতে টোকা দেওয়ার আওয়াজ শুনে দরজা খুললে, পিসি ঘরের ভিতরে এসেই বলে উঠল, পড়তে গেছিলি?

—হ্যাঁ।

—তোদের রান্নার মেয়েটা বলল সাড়ে আটটার মধ্যে চলে আসবে। তোর জন্যেই অপেক্ষা করছিলাম।

—কেন?

—তোর মাকে দেখতে যাবি না?

—তোমরা যাচ্ছ তো।

—তোর মায়ের এখনও জ্ঞান ফেরেনি।

—ও।

—ও মানে! ডাক্তার বলেছে ক্রিটিক্যাল স্টেজ।

কিছু সময় চুপ থেকে রূপার কাঁধে হাত রেখে বলল, কাল ওটিতে ঢোকানোর সময়ে ওই ব্যথার মধ্যেও তোর নাম ধরে ডাকছিল। দাদাকে বলে, তুমি বাড়ি যাও, মাম্পি একা আছে। কথাগুলো বলে বেরিয়ে যাবার সময় দরজাতে হাত রেখে বলে উঠল, তোর বোনটাও বাঁচেনি।

নিজের ঘরে এই প্রথম রূপা নিজে খুব একা হয়ে উঠল। খোলা জানলা দিয়ে বাইরের হাওয়া ঢুকলেও তার গরম লাগছিল। ব্যাগটা কিছুসময় আগেই বিছানাতে রেখেছিল। এবার নিজের শরীরটাকেও বিছানাতে জড় পদার্থের মতো ফেলে রাখল। মায়ের যদি কিছু হয়ে যায়…

মোবাইলে হিন্দি গান বেজে উঠল। একবার, দুইবার তিনবারের বার মোবাইলে চোখ রাখল। স্ক্রিনে চাঙ্কির ছবি দেখা যাচ্ছে।

—বল।

—বাড়িতে কেউ নেই তো, স্কুলে আসবি?

—কেন?

—আমারও বাড়ি ফাঁকা।

—একটু ব্যস্ত, পরে কল করব।

ফোনটা কেটে বিছানাতে মুখ নীচু করে কিছুসময় শুয়ে থাকল রূপা। পিসির কথাগুলো কানে বাজছে। কিছুসময় পরেই বিছানাতে উঠে বসল। বাইরে একটা আওয়াজ আসছে। সবাই বেরোচ্ছে। রূপা ফোনটা সাইলেন্ট করে জোরে বলে উঠল, পিসি… তোমরা কখন যাবে? আমি রেডি।

 

 

প্রেম ভাঙার পরেও

যে-সম্পর্কটি ভেঙে গেছে তাতে ফেরা কি উচিৎ হবে? অনেকেই মনে করেন, না সেটা একেবারেই ঠিক কাজ হবে না। কারণ এতে পুরোনো ভুলেরই পুনরাবৃত্তি হবে। তবে অনেকেই আছেন যারা এটা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেন যে, প্রেম ভেঙে যাওয়ার পরেও প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকা তার প্রতি উৎসাহ বোধ করেন।সম্পর্কের রেখা সরল পথে চলে না। আমাদের মনেরও অজস্র চোরা কুঠুরি। তাই বোঝার চেষ্টা করে দেখুন আপনার প্রাক্তনের মনোভাবটা ঠিক কী রকম?

কী করে বুঝবেন প্রাক্তন এখনও আপনার প্রতি দুর্বল?

প্রেম ভেঙে যাওয়া মানেই ভালোবাসা ফুরিয়ে যাবে এমন নয়। জীবনের যে-কোনও পর্বে  দু’জনের মধ্যে যে-কোনও একজনের টান আবার তৈরি হতে পারে। অবশ্য সবার ক্ষেত্রেই যে এমনটা ঘটবে তা নয়, কিন্তু কোনও কোনও জুটির ক্ষেত্রে, নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার পরও কোনও এক পক্ষের মনে হতে পারে আগের প্রেমিক বা প্রেমিকাই তাকে যথার্থ ভাবে বুঝত। তখন তার সঙ্গ পাওয়ার জন্য মনের কোনে একটা ইচ্ছে তৈরি হয়। কী করে বুঝবেন যে আপনার প্রাক্তনের আপনার প্রতি নতুন করে দুর্বলতা তৈরি হয়েছে?

কোনও বিশেষ কারণ ছাড়াই ফোন

সেই মানুষটি যদি একদিন হঠাৎই কারণ ছাড়া আপনাকে ফোন করে– আউট অফ টাচ্ থাকার পরও তার তরফে এমন অপ্রত্যাশিত ব্যবহারে অবাক হবেন না। হঠাৎ টেক্সট বা হঠাৎ ফোন তার আপনার প্রতি দুর্বলতা থেকে যাওয়ারই লক্ষণ।

আপনার বর্তমান প্রেমের ব্যাপারে তার কৌতুহল

যদি আপনার প্রাক্তন, কথায় কথায় আপনার বর্তমান সম্পর্কের ব্যাপারে কৌতূহল দেখায়, একটা তুলনা টানে নিজেকে তার সাথে, তাহলে নিশ্চিত ভাবে বুঝবেন আপনার প্রতি তার আগ্রহ এখনও অবশিষ্ট আছে। হয়তো ভাঙা সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টাও হতে পারে এটা।

ভিডিয়ো কলিং করতে আগ্রহী

সে যদি বারবার আপনাকে ভিডিয়ো কলিং করার জন্য পীড়াপীড়ি করে, বুঝতে হবে যে আপনাকে দেখার জন্য সে তৃষিত। আপনাকে মিস না করলে এমন ঘটত না।

স্মৃতিবহুল জিনিস উদ্ধারের চেষ্টা

আপনার কাছে গচ্ছিত কোনও কোনও জিনিসের উল্লেখ করা মানে, সে চাইছে যাতে আপনি পুরোনো দিনগুলোর সঙ্গে সঙ্গে ওই সব জিনিসের তাৎপর্য না ভোলেন। অর্থাৎ আপনার কাছে পুনরায় গুরুত্ব পাওয়ার চেষ্টা এটা।

আপনার সঙ্গে দেখা করার অজুহাত

অস্বস্তি কাটিয়ে সে যদি আপনাকে সরাসরি বা পরোক্ষ ভাবে বারবার দেখা করার কথা বলতে থাকে, বুঝবেন সে আপনাকে ভুলতে পারেনি। হয়তো প্যাচ আপ করার এটা একটা চেষ্টা। সে যদি কোনও সম্পর্কে নিজে জড়িয়ে না থাকে, অবশ্যই চাইবে আপনিও যেন তার জন্য অপেক্ষায় আছেন, সেটা দেখার। দেখা করে এটার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়াই তার উদ্দেশ্য।

এই পরিস্থিতিতে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকুন। আবেগে ভেসে গিয়ে আবার একই ভুল না করাই ভালো। কারণ এটা নিশ্চিত যে, আগের বার ভুল মানুষকে নির্বাচন করেছিলেন বলেই সম্পর্কটা ভেঙে গিয়েছিল।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব