গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে সহবাস করা কি নিরাপদ?

আমার প্রেগনেন্সির ২ মাস হয়েছে। আমার স্বামী সহবাসের ইচ্ছা প্রকাশ করেন কিন্তু আমি সন্তানের ক্ষতি হবে ভেবে এগোতে সাহস পাই না। অনেকেই বলেন প্রথম কিছু মাস Sex করা একেবারেই অনুচিত। আমি জানতে চাই এই সময় কি যৌনসম্পর্ক স্থাপন করা উচিত হবে কিনা?

গর্ভাবস্থায় সহবাস কতটা নিরাপদ এই প্রশ্ন অনেকের মনেই উদয় হয়। এই অবস্থায় অনেকের স্বাভাবিক যৌনতার ইচ্ছা একেবারেই থাকে না আবার অনেকে বেশি করে যৌনতায় মেতে ওঠেন। কিন্তু প্রশ্ন হল এই শারীরিক অবস্থায় Sex করলে অনাগত সন্তানের কি কোনও ক্ষতি হতে পারে? বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস এবং শেষের তিন মাস সহবাস করলে অনেকেই আশঙ্কা করেন গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হতে পারে বলে।

প্রেগনেন্সির প্রথম তিনমাস ইন্টরকোর্স বা যৌনসম্পর্ক গড়া সেফ নয়। এর ফলে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে গর্ভাবস্থা যদি স্বাভাবিক হয় এবং যদি নির্দিষ্ট কোনও স্বাস্থ্যের জটিলতার কারণে ডাক্তার সহবাস থেকে বিরত থাকার পরামর্শ না দিয়ে থাকেন তাহলে সহবাস করা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত।

তবে সবসময় যে Sex নিরাপদ বা সহজ হবে সেটা নিশ্চিত হয়ে সকলের ক্ষেত্রে বলা যায় না। স্বাভাবিক সময়ের মতো গর্ভাবস্থায় সহবাস করতে কোনও সমস্যা হলে বিভিন্নভাবে পজিশন বা অবস্থান পরিবর্তন করে চেষ্টা করাও যেতে পারে। এক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীর ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যাপারটিই মুখ্য।

ইন্টারকোর্স করার সময় খেয়াল রাখা উচিত ফোরপ্লে এবং হৃদয়ের ভালোবাসার সংমিশ্রণ এই ক্ষেত্রে বেশি থাকা উচিত। অর্থাৎ পার্টনারের সঙ্গে জোরজবরদস্তি করা একেবারেই অনুচিত। যৌনসম্পর্কের মধ্যে দিয়ে দম্পতি উভয়ের মানসিক ভাবে আরও কাছাকাছি চলে আসেন। দ্বিতীয় তিনমাসের সময়কাল অতিবাহিত হয়ে গেলে যৌনমিলনের সময় অক্সিটোন নামক লভ হরমোন রিলিজ হয়, যার ফলে মা-বাবা ও সন্তানের মধ্যে বন্ধন আরও মজবুত হয়। সুতরাং Sex নিয়ে ঘাবড়াবার কোনও কারণ নেই। জানবেন এর ফলে নর্মাল ডেলিভারি হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যাবে। হাইজিন মেনটেইন করা অবশ্য দরকার এবং কনডোম ব্যবহার করতে ভুলবেন না। মনে রাখবেন, এনজয় সেক্স, সেফ সেক্স-এর ক্ষেত্রে ডেলিভারিও সেফ।

 

মহিলা কৃষকদের ভূমিকাও প্রশংসনীয়

কৃষি ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য মোকাবিলার লক্ষ্যে, ভারতে সঠিক কৃষি প্রশিক্ষণ, অর্থনৈতিক সহায়তা, কৃষক সম্প্রদায়ের জন্য টেকসই ও স্থিতিশীল আয় নিশ্চিত করা হয়েছে। সেইসঙ্গে, সাপ্লাই চেইন উন্নতির মাধ্যমে, ক্ষুদ্র পরিসরের মহিলা উৎপাদনকারীদের ভূমিকাকে শক্তিশালী করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে তৈরি করা হয়েছে ‘শি ফিডস দ্য ওয়ার্ল্ড’ কর্মসূচি।

‘শি ফিডস দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রোগ্রামটি টেকসই খাদ্য ব্যবস্থার তিনটি মাত্রা জুড়ে, মহিলা কৃষক এবং তাদের পরিবারকে আর্থিক সুবিধে দেবে।  অর্থনৈতিক স্তরে এটি ছোটো পরিসরের কৃষকদের চাষাবাদের পদ্ধতি উন্নত করতে, ফলন বাড়াতে এবং আরও টেকসই আয়ের জন্য জীবিকার বিকল্পগুলিকে বৈচিত্র্যময় করার ক্ষমতা তৈরি করবে। সামাজিকভাবে, এই প্রকল্পটি অসুরক্ষিত কৃষকদের জন্য জ্ঞান, সম্পদ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজারগুলিতে আরও ন্যায়সঙ্গত অ্যাকসেস-এর প্রচার করে তাদের সুরক্ষাকে সমৃদ্ধ করবে। ভারতে, এই কর্মসূচি পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় বাস্তবায়িত করা হবে বলে জানা গেছে।

পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে এই প্রকল্পটি প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের উপর প্রভাব কমাতে মাটি, জল, জীববৈচিত্র্য এবং কার্বন ফুটপ্রিন্টের সমস্যাগুলিকে মোকাবিলা করবে। ভারতে এই কর্মসূচির সম্প্রসারণের মাধ্যমে, পেপসিকো, পেপসিকো ফাউন্ডেশন এবং কেয়ার-এর লক্ষ্য ৪৮,০০০-এরও বেশি মহিলা, পুরুষ এবং শিশুদের কাছে পৌঁছানো এবং পশ্চিমবঙ্গের ১,৫০০০,০০০ জন মানুষকে পরোক্ষভাবে উপকৃত করা। ‘শি ফিডস দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রোগ্রাম মহিলা কৃষকদের পুষ্টি ও জলের অ্যাকসেস সহ একটি সুরক্ষিত এবং স্থিতিস্থাপক জীবিকা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে নিম্নলিখিত উপায়ে:

১. সক্ষমতাকে উন্নত করা: আর্থিক ও ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং টেকসই কৃষি অনুশীলন সম্পর্কে বোঝার উন্নতির জন্য প্রশিক্ষণ এবং সংস্থান।

২. কমিউনিটিতে পুষ্টির উন্নতি করা: মহিলা অংশগ্রহণকারীদের পুষ্টি এবং ওয়াশ-এর বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া।

৩. সম্পদের উপর মহিলাদের অ্যাকসেস ও নিয়ন্ত্রণের উন্নতি ঘটানো: ক্ষমতা এবং লিঙ্গ বিশ্লেষণ ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য কর্মশালার আয়োজন করা।

৪. মহিলাদের ছোটো-পরিসরের উৎপাদকদের জন্য বহুগুণ প্রভাব: অংশগ্রহণকারীদের প্রয়াসকে হাইলাইট করা এবং স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ডিজিটাল প্রশিক্ষণ প্যাকেজ ও অডিও-ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট।

এছাড়াও, পেপসিকো ফাউন্ডেশন পশ্চিমবঙ্গে পেপসিকো-ইউএসএআইডি মহিলা কৃষক অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির ধারাবাহিকতার মাধ্যমে মহিলা কৃষকদের স্বীকৃতি দিয়েছে। এর আগে কৃষকরা কৃষিক্ষেত্রে তাদের অসাধারণ কাজের জন্য এবং তাদের স্থানীয় কমিউনিটির মধ্যে প্রচলিত প্রথা ভাঙার জন্য স্বীকৃতি পেয়েছিল। পুরষ্কারের প্রথম সংস্করণ হয়েছিল ২০২২ সালে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার কৃষকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা গড়ে তোলার বিষয়ে কাজ করছে। শিল্প এবং কমিউনিটির এই ধরনের যৌথ প্রয়াস সত্যিকারের পরিবর্তনকে চালিত করে এবং এটি বিদ্যমান সংস্থান এবং সুযোগগুলির চারপাশে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সচেতনতা তৈরির একটি কার্যকরী উপায়।’  পেপসিকো ফাউন্ডেশনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার এবং পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রবার্তো আজেভেদো জানিয়েছেন, ‘শি ফিডস দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রকল্প হল আমাদের পেপ+ প্রতিশ্রুতির একটি মূল স্তম্ভ, যার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে কৃষি সরবরাহ চেইন এবং কমিউনিটিতে আমাদের পুনরুৎপাদনশীল কৃষিচর্চাকে ছড়িয়ে দেওয়া এবং আমাদের ২৫০,০০০-এরও বেশি মানুষের জীবন-জীবিকাকে উন্নত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা কেয়ার-এর সঙ্গে আমাদের পার্টনারশিপ চালিয়ে যেতে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এই বিশ্বব্যাপী প্রচার শুরু করতে পেরে গর্বিত। এই প্রোগ্রামটি আরও সম্পদ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মহিলা কৃষকদের ক্ষমতায়ন করবে।’

পেপসিকো ইন্ডিয়া`র প্রেসিডেন্ট আহমেদ এলশেখ প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, ‘পেপসিকো ইন্ডিয়াতে, আমরা কৃষকদের এই কোম্পানির সাপ্লাই চেইনে নিয়ে আসা, তাদের কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের উদ্যোগী হিসেবে গড়ে তোলার দিকে মনোনিবেশ করে থাকি। আমরা পশ্চিমবঙ্গের ওই সমস্ত মহিলা কৃষকদের সঙ্গে কাজ করে চলেছি ও তাদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছি, যারা সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ও জেন্ডার স্টিরিওটাইপগুলিকে ভাঙছে। আমরা কেয়ার-এর সঙ্গে ভারতে  ‘শি ফিডস দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রোগ্রাম চালু করতে পেরে আনন্দিত এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, এই ধরনের উদ্যোগ মহিলা কৃষকদের স্থিতিস্থাপক জীবিকা গড়ে তুলতে আরও বেশি করে সাহায্য করবে।’

কেয়ার ইন্ডিয়ার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শ্রী পুনীত বালি জানিয়েছেন, ‘ভারতে ‘শি ফিডস দ্য ওয়ার্ল্ড’ চালু করা কেয়ার, পেপসিকো এবং পেপসিকো ফাউন্ডেশনের টেকসই কৃষির জন্য সরকারি-বেসরকারি পার্টনারশিপের প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরেছে। এই প্রোগ্রামটির লক্ষ্য হল প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং দক্ষতাকে সনাক্ত করা এবং ভারতে ১.৫ মিলিয়ন মহিলা কৃষকদের ক্ষমতায়ন, কমিউনিটির পুষ্টি এবং উৎপাদনশীল সংস্থানগুলিতে অ্যাকসেস ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায়ন করা।

আইএলআরজি`র ভারতের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুব্রত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘ইউএসএআইডি-তে, আমরা বিশ্বাস করি যে, এই প্রোগ্রামগুলি মহিলাদের জন্য আয় বাড়াতে সাহায্য করে এবং সেটা সমগ্র কমিউনিটি, অর্থনীতি এবং দেশে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাব ফেলে৷ মহিলাদের ভূমি`র ওপর অধিকার এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচি চালু করার পর থেকে, ইউএসএআইডি পেপসিকো ইন্ডিয়া, পেপসিকো ফাউন্ডেশন এবং আমাদের পার্টনারদের সঙ্গে মিলিতভাবে ১,৫০০ জনেরও বেশি মহিলা কৃষককে সফলভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। আজ আমরা মহিলা কৃষকদের কৃষিক্ষেত্রে তাদের অসাধারণ কাজের জন্য স্বীকৃতি দিতে পেরে সম্মানিত এবং আমরা এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আরও ৩০০,০০০০-এরও বেশি মহিলাকে এই বিষয়ে যুক্ত করার অপেক্ষায় রয়েছি।’

নতুন বছরের অন্দরসজ্জা – পর্ব ১

নতুন বছর নিজের বাড়িটিকে পছন্দমতো সাজিয়ে তুলতে কার না মন চায় কিন্তু পকেট পারমিট করতে হবে। সবকিছু ভেবেচিন্তে তবে কাজে নামা। বিভিন্ন ধরনের কাস্টমারদের কথা মাথায় রেখে বিপণিগুলি নিত্যনতুন পণ্যসম্ভারে বাজার ভরিয়ে তুলেছে। বাজেট অনুযায়ী, পছন্দসই ফার্নিশিংস আর আসবাবের কোনও অভাব নেই বাজারে। বাছাই করে নিতে পারলেই হল।

প্রথমে ঠিক করে নিতে হবে কীরকম অন্দরসজ্জা আপনার এবং আপনার পরিবারের পছন্দ— ট্র্যাডিশনাল না ফিউশন। তারপরে আসবে আলোর বিকল্প, আসবাব, ফ্লোরিং, বাড়ির বাইরের এবং ভিতরের রং অথবা ওয়ালপেপার। এই সবকিছুরই দাম জেনে, কিছুটা দরদাম করে, বাজেটের মধ্যে যেটা আসবে, সেই পছন্দের জিনিস দিয়েই সাজিয়ে তুলুন নিজের ‘একান্ত আপন’ বাড়িটিকে।

বাড়িটি সাজাবার আগে, যিনি ওই বাড়িতে থাকবেন তাঁর প্রয়োজন জেনে নেওয়া জরুরি। বাড়ির প্রত্যেকটি ঘর, রান্নাঘর, বাথরুম, বারান্দা, সেখানে কতটা করে জায়গা রয়েছে, কতটা জায়গা খালি ছাড়তে হবে ইত্যাদি মাথায় রেখে যখন বাড়িটিকে সাজাবার কথা ভাবা হয়, তখন তাকেই বলা হয় কাস্টমাইজড ইন্টিরিয়র ডিজাইনিং। এতে ব্যক্তির প্রয়োজন, ঘরের রং, আসবাবের শেপ, ফ্যাব্রিক, মেটিরিয়াল, ডিজাইনিং, একের সঙ্গে অপরের সামঞ্জস্য বজায় রেখে সোফা, কুশন, দেয়াল, সিলিং, পর্দা— সবকিছুরই বিশেষ খেয়াল রাখা হয়।

বাজারে গিয়ে কিছু পছন্দসই জিনিস কিনলেন অথচ বাড়িতে নিয়ে এসে দেখলেন ঘরের আকার অনুযায়ী ঠিকমতো আঁটানো যাচ্ছে না— এরকম ঝামেলা অনেকসময়ই হয়ে থাকে। যেটাই বাড়িতে নতুন তৈরি করা হবে, তা যেন বাড়ির পুরো ডেকরের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে করানো হয় অথচ বাজেটও অ্যাপ্রুভ করে। লিভিংরুম-টি হয়তো আকারে ছোটো অথচ দোকানে গিয়ে পছন্দ হল বড়োসড়ো একটি সোফা। কখনওই সেটা মানানসই হবে না। উপরন্তু জায়গাতেও সংকুলান ঘটবে। তার থেকে ভালো, ঘরের আকার অনুযায়ী কাস্টমাইজড সোফা বানিয়ে নেওয়া এবং সেইসঙ্গে ঘরের অন্যান্য আসবাবপত্রও।

একটি নামি বিপণির কর্ণধার জানালেন ‘কাস্টমাইজড ইন্টিরিয়র বিভিন্ন রকমের ডিজাইন নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করে, গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বাড়ির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, জায়গা ইত্যাদি দেখে বানানো হয়। এতে গ্রাহকের নিজস্ব পছন্দের বিষয়টিও বিদ্যমান থাকে। সারা বাড়ির ডেকর এইভাবে পুরো বদলে ফেলা সম্ভব।

লেদার আপহোলস্ট্রির সঙ্গে সলিড কাঠের আসবাব মানানসই হলেও গরমের অনুভূতি জাগায়। একটু বদলে যদি উড-এর জায়গায় তা কাচের করানো যায়, তাহলে রুচির সঙ্গে সঙ্গে গরজিয়াস লুক-ও পাওয়া যাবে। এইরকম ডিজাইনার ফার্নিচারের প্রচুর বিকল্পও রয়েছে আজকাল। এগুলিকে মডার্ন লুকও দেওয়া যায় আবার গ্রাহক চাইলে ট্র্যাডিশনাল লুক দিয়েও তৈরি করা যায়।’

অবসাদে আক্রান্ত হই না– হুমা কুরেশি

হুমা কুরেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন ‘গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর’ ছবিটি মুক্তির পর থেকে। চোখে পড়ার মতো অভিনয় করেছেন ডেড় ইশকিয়াঁ, ডি-ডে, র, এক থি ডায়ান প্রভৃতি ছবিতে। তাঁর অভিনয়ের অ্যালবামে রয়েছে তৃষ্ণা, লভ শুভ থে চিকেন খুরানা, শর্টস, বদলাপু্‌ হাইওয়ে, জলি এলএলবি টু, বেল বটম, ডাবল এক্স এল প্রভৃতি। আর এই হুমা যেমন স্বভাবে সোজাসাপটা, অভিনয়েও তেমনই সাবলীল। তাই তিনি খুব কম সময়ের মধ্যে পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে পেরেছেন বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে।

ছোটোবেলা থেকেই অভিনয়ের ইচ্ছে ছিল হুমার, তাই তিনি বড়ো হয়ে যোগ দিয়েছিলেন দিল্লির এক থিয়েটার গ্রুপ-এ। আর এই থিয়েটার ব্যাকগ্রাউন্ড থাকার কারণে, খুব সহজেই তিনি কাজ পেয়ে যান বিজ্ঞাপন ছবিতে। ‘গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর’ ছবিতেও এইভাবেই অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। সুন্দরী এবং প্রতিভাময়ী এই অভিনেত্রীর জন্ম দিল্লির এক মুসলিম পরিবারে। হুমার বাবা এক রেস্তোরাঁর মালিক। মা সাধারণ গৃহবধূ। অভিনয়ের জন্য হুমাকে ওর বাবা-মা দু’জনেই প্রেরণা জুগিয়েছেন। তবে দিল্লিতে নয়, এখন হুমা থাকেন মুম্বইয়ে তাঁর অভিনেতা ভাই সাকিবের সঙ্গে। অভিনয়ের জন্য ভীষণ ব্যস্ত এই অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্প্রতি নানা বিষয় নিয়ে কথা হল কাজের ফাঁকে।

সাফল্য পাওয়ার জন্য কতটা লড়াই চালাতে হয়েছে আপনাকে?

লড়াই জারি আছে, থাকবেও। আর আমি মনে করি, লড়াই থেকে অনেককিছু শেখা যায়। তাই আমি এভাবেই সারাজীবন শিখতে চাই। কারণ, শিক্ষা থেমে গেলে বিকাশও থেমে যাবে এবং বিকাশ থেমে গেলে কেরিয়ার গড়ার উদ্দমও ব্যাহত হবে।

আপনার ভক্তদের জন্য নিজের সম্পর্কে কী ব্যাখ্যা দেবেন?

আমি খুব ইমোশনাল । তাই সবার ভালোবাসাই আমার কাছে সবচেয়ে বড়ো প্রেরণা। আর আমি বিভিন্নরকম চরিত্রে অভিনয় করতে পছন্দ করি। জলের মতো সময় এবং জীবনও বহমান। তাই সবসময় হাসি-আনন্দে কাটাতে চাই।

দিল্লি থেকে মুম্বই এসে গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে টিকে থাকা কতটা মুশকিলের মনে হয়েছে?

প্রথম দিকে মুশকিল ছিল কিন্তু এখন নয়। আমি ভাইয়ের সঙ্গে থাকি, তাই ভাই আমাকে সব ব্যাপারে সাহায্য করে। তাছাড়া সমস্যা হলে আমি নিজেই তা কাটিয়ে ওঠার জন্য মানসিক শক্তি রাখি। বাধা কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য মা-ও আমাকে সাহস জোগান।

কোনও অভিনেত্রীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা আছে আপনার?

কোনও অভিনেত্রী নয়, আমার প্রতিযোগী আমি নিজেই। প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে ভাবি, কী করে আরও ভালো কাজ করব। কারণ, ফিল্‌ম ইন্ডাস্ট্রিতে আমার কোনও গডফাদার নেই।

কোনও সিনিয়র অভিনেতা-অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করতে ভয় লাগে আপনার?

প্রথমদিকে খুব ভয় হতো। কোনও ভুল হলে বকুনি খাব এমন ভয় হতো কিন্তু তা হয়নি কখনও । হয়তো আমি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজটা করি বলেই সবাই আমাকে আন্তরিক ভাবে সাহায্য করেন। তবে, বড়োদের কাছ থেকে আমি অনেককিছু শিখেছি এবং আরও শিখতে চাই।

কোনও অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ের সময় আপনি কতটা কমফর্ট ফিল করেন?

চিত্রনাট্যে অন্তরঙ্গ হওয়ার সাবলীল চাহিদা থাকলে, একজন অভিনেত্রী হিসাবে আমি তা করতে বাধ্য। কিন্তু অকারণে বোল্ড সিন চাইলে আমি নিশ্চয়ই তা মানব না। তবে প্রয়োজন থাকলে আমি সানন্দে তা আন্তরিক ভাবেই প্রেজেন্ট করার চেষ্টা করি।

মহিলাদের জন্য শিক্ষা কতটা জরুরি বলে আপনি মনে করেন?

নারী-পুরুষ সবারই শিক্ষার সমান অধিকার রয়েছে। তাছাড়া, শিক্ষা মানুষকে আলোকিত করে, পথ দেখায়। তাই জীবনে সাফল্যলাভের জন্য এবং নিজের অধিকার বুঝে নেওয়ার জন্য, মহিলাদেরও উচ্চশিক্ষা অর্জন করা জরুরি। অতএব, মা-বাবার উচিত, নিজের কন্যাসন্তানকে উচ্চশিক্ষালাভের সুযোগ করে দেওয়া।

জীবনে কখনও অবসাদে ভুগেছেন?

আমি অবসাদে আক্রান্ত হই না। পরিশ্রম এবং নিষ্ঠা সহকারে কাজ করি, অসফল হলে ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করার সংকল্প করি। করোনা অতিমারীর সময়ও অবসাদকে কাছাকাছি আস তে দিইনি।

আপনি কতটা ফ্যাশনেবল?

আমি ভীষণ ফ্যাশনেবল। পরিবেশ, পরিস্থিতি বুঝে সাজগোজ করি। কারণ, আমি জানি, ফ্যাশন ব্যক্তিত্বকে প্রভাবিত করে।

 

যখন আপনার মন খারাপ

জীবন একই ছন্দে চলে না। কখনও দুঃখ কখনও আনন্দ, এভাবেই জীবন এগোতে থাকে। আনন্দ, দুঃখ, বেদনা সব মিলিয়েই আমাদের জীবন। তাই মন খারাপ হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। তবে বেশিক্ষণ মন খারাপকে টিকিয়ে রাখা ঠিক নয়। কারণ এতে হতাশা তৈরি হয়। নিজের ওপর রাগ হয়, কোনও কিছুই করতে ইচ্ছা করে না। এমনকী সেই সময় অন্যের সঙ্গে কথা বলা তো দূরের, সামনে আসতেও ইচ্ছা করে না। এর পাশাপাশি মন খারাপ শরীরের উপরেও প্রভাব ফেলে। তাই মন খারাপ রেখে কোনও লাভ নেই। চলুন জেনে নেওয়া যাক মন ভালো করার সহজ কিছু উপায়।  এই সহজ সরল টিপ্স ফলো করে আবার মন ভালো করে ফেলতে পারি।

মেডিটেশনে শান্তিলাভ

যখন খুব একা লাগবে, তখন নিবিষ্ট মনে কিছুটা সময় ধ্যান করে দেখুন। দেখবেন, সঙ্গে সঙ্গে আপনার মন কিছুটা পজিটিভ এবং ভালো হয়ে যাবে।

মেলামেশার পরিধি বাড়াতে চেষ্টা করুন

সব সময় মন ভালো না লাগার সমস্যা তাদের মধ্যে বেশি দেখা যেতে পারে, যারা বেশিরভাগ সময় একা থাকেন।তাই, যতটুকু সম্ভব লোকেদের সাথে মিশতে এবং বন্ধুত্ব করতে শিখুন।এতে আপনি তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন নতুন নতুন বিষয় ও  জীবনযাপনের প্রণালী ইত্যাদির বিষয়ে জানতে পারবেন ও শিখতে পারবেন।

এছাড়া, নিজের মনের কথা কোনও বিশেষ বন্ধু বা প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করে মন হালকা করতে পারবেন।

যদি লাগাতার আপনার এই মনখারাপের পর্যায়টা চলতে থাকে, তাহলে জোর করে হলেও কারো সাথে কথা বলেই দেখুন না।অনেকটা হাল্কা লাগবে। সে আপনার ঘরের যে-কোনও সদস্য হলেও হবে, দেখবেন কিছুক্ষণ কথা বলার পর আপনার মন অনেকটাই ভালো লাগতে শুরু করবে।

মনে রাখবেন, talk therapy-র মাধ্যমে অনেক জটিল মানসিক সমস্যাগুলোর সমাধান সহজেই করা যায়। তাই, সাধারণ মন ভালো না লাগার সমস্যা এর মাধ্যমে সহজেই দূর করতে পারবেন। একবার এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করেই দেখুন না।

বই পড়ে মন ভালো রাখুন

বর্তমান সময়ে বই পড়ার ট্রেন্ড অনেক কমে গিয়েছে এবং এই জেনারেশন মোবাইল এবং কম্পিউটার ছাড়া কিছুই জানে না। কিন্তু, বই পড়ে মন ভালো রাখার এই প্রক্রিয়া এক সময়ে খুব জনপ্রিয় ছিল।যখন আপনি কোনও ভালো বই পড়েন, তখন আপনার মন সম্পূর্ণ ভাবে সেই বই এর তথ্যের ওপরে ফোকাস করে থাকে। যার ফলে, বই এর মধ্যে থাকা তথ্য, রহস্য, গল্প, কাহিনি, চরিত্র ইত্যাদি আপনাকে আপনার চিন্তা, দুঃখ এবং ভয় থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে।

নিয়মিত ভাবে নিজের ফাঁকা সময়ে বই পড়ার অভ্যেস করতে পারলে দেখবেন আপনার মন আগের থেকে অনেক ফুরফুরে এবং খুশি থাকবে। অনেকেই বই পড়ার অভ্যেসের মাধ্যমে নিজের মন মেজাজ ভালো করতে সফল হয়েছেন। ভালো ভালো বই পড়ে আপনি নিজের মুড সম্পূর্ণ চেঞ্জ করে ফেলতে পারবেন।

জীবনের উদ্দেশ্যের প্রতি ফোকাস

যদি আপনার জীবনে কোনো উদ্দেশ্য না থাকে, তাহলে এখনই নিজের উদ্দেশ্য নির্ধারিত করুন।কারণ, উদ্দেশ্য ছাড়া আপনার জীবনে কোনও মানে থাকবে না, আর তাই মন ভালো রাখতে সমস্যা হবে।

যদি আপনি নিজেই না জানেন যে, জীবনে আপনি কোথায় যাচ্ছেন, তাহলে খুশি থাকবেন কীভাবে।যখন আপনার জীবনের একটি উদ্দেশ্য নির্ধারিত করবেন তখন দেখবেন আপনার মন সেই উদ্দেশ্যের প্রতি ফোকাসড হয়ে থাকবে।

যখনই আপনার মন খারাপ লাগবে, আপনি নিজের উদ্দেশ্য,  জীবনে কী করতে চান,  জীবনে কী পেতে চান– সেগুলোর বিষয়ে ভাবতে থাকুন।যখনই আপনি এটা করবেন, তখন মনের ফোকাস আবার উদ্দেশ্যের প্রতি চলে আসবে এবং মনে উৎসাহভাব তৈরি কবে। 

অপরকে সাহায্য করুন

সবাই কিন্তু অন্যেকে সাহায্য করার মতো মানসিকতা রাখতে পারেন না এবং এটা স্বাভাবিক।তবে, জীবনে একদিন হলেও আর্তের পাশে দাঁড়িয়ে দেখুন না, দেখবেন মনে কতটা শান্তি পাবেন।মানুষ কেন শুধু, রাস্তায় কত রকমের নিরীহ প্রাণী রয়েছে যারা কষ্ট পাচ্ছে, একদিন তাদের জন্যই কিছু করে দেখুন।

যখন আমরা মন থেকে অন্যেকে সাহায্য করি, তখন আমাদের মধ্যে একটি positive feeling এবং energy তৈরি হয়ে থাকে। আর এই ইতিবাচক শক্তি আমাদের মনে প্রচুর শান্তি এবং সন্তুষ্টির ভাব এনে দেয়। তাই, যদি আপনার মন ভালো না লাগে,, তাহলে কোনও অসহায় ব্যক্তির জন্য কিছু করেই দেখুন না।

জোরে জোরে হাসুন

বিভিন্ন গবেষণা  থেকে পাওয়া গেছে যে, জোরে জোরে হাসির অভিনয় (act of smiling)  করলেও আমাদের মুড  ভালো হয়ে যায় এবং আমরা খুশি অনুভব করতে শুরু করি।

এর মধ্যে কারণ অবশই রয়েছে। হাসির ফলে জরুরি কিছু ব্রেইন ক্যামিক্যাল নিসৃত হয়ে থাকে, যেগুলো আমাদের মন মেজাজ ভালো করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আপনার হাসার মুড না থাকলেও, জোর করে হাসুন। ভালো কাজ হবে এবং আপনার মন ভালো লাগবে।

এছাড়া, মন ভালো করার জন্য আপনি কোনও হাসির সিনেমা দেখতে পারেন বা এমন কোনও বন্ধুর সাথে কথা বলুন- যে আপনাকে হাসাতে পারবে বলে আপনি জানেন।

আসল কথা হল, যদি আপনি সব সময় খুশি থাকতে চান তাহলে নিজের মানসিকতা পজিটিভ রাখতে চেষ্টা করুন।সব সময় নেগেটিভ কথা ভাবলে আপনার জীবন থেকে আনন্দ উধাও হয়ে যেতে পারে।

স্ত্রী মানেই দাসী নয়

সুখী ও সুন্দর দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর  গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে স্ত্রীর ভরণপোষণ দেওয়া ও তাকে সম্মানের আসন দেওয়া। স্ত্রীর  মর্যাদা নির্ধারণ করেছে সমাজ, তাই এটাও গুরুত্বপূর্ণ যে স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে।আমরা আজ বলব এমন একটা ঘটনার কথা যেটা একেবারে নজিরবিহীন। দাম্পত্য কলহে কী কী অভিযোগ তুললে স্ত্রী-র চরিত্র কলুষিত করা যায়, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে আহমেদাবাদের একটি ঘটনা। ২০০৮ সালে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া শুরু হওয়ায়, ২০১০ সালে ওই মহিলা তার বাপের বাড়ি চলে যান এবং কর্মসূত্রে তার স্বামীর ঠিকানা হয় দুবাই।

এরপর যখন ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স এবং খোরপোশ চেয়ে মামলা শুরু করেন স্ত্রী, তখন স্বামী এমন কিছু চার্জ আনেন স্ত্রী-র বিরুদ্ধে, যার দ্বারা তিনি প্রমাণ করতে চান যে, তার স্ত্রী নিষ্ঠুর, বিবেকহীন এবং চরিত্রহীনা। প্রমাণস্বরূপ এক ভাজপা বিধায়কের সঙ্গে স্ত্রী-র একটি ফেসবুক ফোটো আদালতে জমা দেন স্বামী।

কিন্তু আদালত এক্ষেত্রে সদর্থক ভমিকা নিয়েছিল। ওই ফেসবুক ফোটো-কে উপযুক্ত প্রমাণ হিসাবে গ্রাহ্য না করে, তা ভিত্তিহীন বলে দিয়েছিল এবং মাসিক ১০ হাজার টাকা খোরপোশ বাবদ দেওয়ার আদেশ দিয়েছিল। কিন্তু এই মামলা এটা-ই প্রমাণ করেছিল যে, কীভাবে একটা ফেসবুক ফোটো দেখিয়ে স্ত্রী-কে চরিত্রহীনা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিল স্বামী।

স্ত্রী-র সফলতা যে ফিল্ড-এই হোক-না কেন, অনেক স্বামীর তাতে গাত্রদাহ হয়, ইগো প্রবলেম হয়। স্ত্রী যদি উপার্জনও করেন, তাও তাকে স্বামীর হাতে মার খেতে হয় অনেকসময়।

অনেকে স্বামী আছেন যারা এমনও ভাবেন যে, বাড়ি ছেড়ে আর যাবে কোথায়, দাসীর মতো-ই থাকতে হবে তার কাছে। আর যারা স্ত্রী-কে চাকরি কিংবা ব্যাবসা করার অনুমতিও দেন, তারা স্ত্রী-র উপার্জিত টাকা আত্মসাৎ করেন।

অবশ্য এটা ঠিক যে, ধনী পরিবারের অনেক বউরা হয়তো প্রচুর টাকা খরচ করেন নানা ভাবে। তারা হয়তো দামি শাড়ি, গয়না কেনেন, বিউটি পার্লারে যান কিংবা কিটি পার্টিতে টাকা খরচ করেন। এসব আসলে স্ত্রী-র মন ভালো রাখার জন্য স্বামীরা করতে দেন কিন্তু স্ত্রী-কে তার আনুগত্যে রাখার এও এক কৌশল। এরপর স্ত্রী হয়ে যান স্বামীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি। যেভাবে ইচ্ছে তিনি সেই সম্পত্তি ব্যবহার করার অধিকার কায়েম করেন।

কিন্তু এটা মনে রাখা দরকার, অকারণে স্ত্রী চরিত্র কলুষিত করার কোনও অধিকার স্বামীর নেই। এটাও মনে রাখতে হবে যে, অন্যায় করার পর আদালতের নির্দেশে স্ত্রী-কে ১০ হাজার টাকা খোরপোশ দিলেই স্বামী মহান ব্যক্তি হয়ে যান না।

নতুন সাজে সাজান বাড়ি (দ্বিতীয় পর্ব)

নিজের বাড়ি বা ফ্ল্যাট নিয়ে অনেকেরই একটা গর্ব থাকে। তাই, কিছুদিন পরপর নতুন নতুন সাজে নিজের বাসস্থানকে তারা সাজিয়ে তুলতে চান। New Look দেওয়ার বাসনাটা যদি একটু সিসটেমেটিক্যালি করতে চান, যাতে ব্যয়বাহুল্য কম করেও ইচ্ছেমতন বাড়িকে সাজিয়ে তোলা যায়-তাহলে একটু ভেবে চিন্তে বুদ্ধি করে উদ্যোগ নিতে হবে।

যারা ধনী, তারা বাড়ি সাজানোটা খুব সহজেই করে ফেলতে পারেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ এটাই একটু আলাদা করে বুদ্ধি খরচ করেও করতে পারেন। টাকা দিয়ে সব সময় সব কিছুর মূল্যায়ন করা চলে না। নিজের প্রাইজড পজেশন বেছে নিয়ে তাদের যোগ্য জায়গায় রাখতে হবে যাতে সকলেই সেগুলোর যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারে।

পুরোনো আসবাব সারিয়ে নিয়ে

পুরোনো আসবাবের খোঁজ রাখুন এবং টুকিটাকি সারিয়ে নিয়ে বাড়িতে রাখতে পারেন। দামি আসবাব সস্তায় কেনার এটা একটা ভালো উপায়। পুরোনো কোনও ফার্নিচারের হয়তো একটা পা ভেঙে গেছে। কার্পেনটারকে দিয়ে অন্য পা-গুলোর সঙ্গে ম্যাচ করিয়ে ভাঙা পা-টা সারিয়ে নতুন একটা কাঠ দিয়ে পা তৈরি করিয়ে নিন। তাছাড়াও পুরোনো কাঠের কাজ করা ফোটো ফ্রেম কিনে নিয়ে এসে, কোনও নতুন আর্টওয়ার্ক সেই ফ্রেম দিয়ে বাঁধিয়ে নিতে পারেন।

পুরোনো পর্দার ব্যবহার

পুরোনো পর্দা যদি দেখতে খুব সুন্দর হয় তাহলে সেটা ডিসকার্ড করার কোনও দরকার নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হয়তো কোথাও সামান্য ছিঁড়ে বা ফেটে গেছে— পুরো পর্দা ফেলে না দিয়ে পর্দার ফেব্রিকের সঙ্গে ম্যাচ করে নতুন ফ্লেবিক ওর সঙ্গে এমনভাবে জোড়া দিন, যাতে মনে হয় পর্দার নকশাটাই ওইরকম। ছেঁড়া জায়গাটা কেটে বাদ দিয়ে দিতে হবে। এইসব টুকরো টুকরো সারানো, ঠিক করার কাজগুলো খুব অল্প খরচেই সেরে নেওয়া যাবে।

নিজেকে এক্সপ্রেস করাটাই মডার্ন ট্রেন্ড। সুতরাং নিজের মনকে জানতে হবে। ঠিক কী চান, কোনটা আপনার পছন্দ। কী আপনার প্রায়োরিটি। কোন জিনিসের সঙ্গে আপনার সেন্টিমেন্ট জড়িয়ে আছে। সেগুলো ভালো করে বুঝে নিয়ে, সেই ভাবনাকেই রূপ দিতে হবে এবং সেটাই আপনার ‘হাউস’কে ‘বিউটিফুল হোম’ হয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

বাড়ি সাজাতে গেলে কোনও স্পেসিফিক সময়ের কালেকশন সংগ্রহ করবার দরকার নেই। কালচার স্পেসিফিক হওয়ার প্রয়োজন নেই। বংশ পরম্পরায় হয়তো আপনি একটা এলিগেন্ট এলিজাবেথান ডাইনিং টেবল ইনহেরিট করেছেন। সম্প্রতি হয়তো আপনার কোনও বন্ধু জাপান থেকে আপনাকে একটা পেপার ল্যাম্প এনে উপহার দিয়েছে। এই দুটো জিনিসই কিন্তু আপনি একসাথে ম্যাচ করিয়ে বাড়িতে রাখতে পারেন যদিও সময় এবং কালচারের ক্ষেত্রে দুটো জিনিসে মস্ত পার্থক্য। এছাড়াও বাড়ির দেয়ালে সবসময় নিউট্রাল শেড-এর পেইন্ট ব্যবহার করুন, যাতে জায়গা বেশি আছে বলে মনে হয় এবং ঘরগুলোও বড়ো লাগে দেখতে।

সুতরাং বাড়িকে New Look দিতে যেমন মস্তিষ্ক ব্যবহার করবেন, তেমনি যোগ করবেন প্রাণের স্পর্শ ।

 

 

এক যাত্রায় ৪ গন্তব্যে পর্ব-০১

কাটরা থেকে বৈষ্ণোদেবী যাওয়ার রাস্তাটি মনোরম আশ্চর্যতায় ভরা। প্রশান্ত উপত্যকা, সবুজ গাছের সমারোহ, পাখি এবং প্রবাহিত মনোরম বাযু মনকে আনন্দে ভরিয়ে দেয়।

দুরাত্রি ট্রেন জার্নির পর সকাল ৭টার সময় জম্মুতে নেমে হোটেলে গিয়ে স্নান সেরে সকালের খাবার খেয়ে জ্বালামুখী মন্দির দেখতে বেরিয়ে পড়ি। জ্বালামুখী মন্দির একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিপীঠ। এখানে সতীর জিভ পড়েছে বলে জানা গেছে। বহু প্রাচীন শাস্ত্রে এর উল্লেখ রয়েছে। মন্দিরটি একটি পাহাড়ে অবস্থিত। ভিতরে, একটি তামার পাইপ থেকে চিরন্তন শিখা জ্বলতে থাকে, যা দেবী দুর্গার নয় রূপকে উপস্থাপন করে বলে বিশ্বাস করা হয়। সম্রাট আকবর শিখার উপরে একটি সোনার ছাতা দান করেছিলেন।

জ্বালামুখী মন্দির দেখে এসে আমরা দুপুরের খাবার খেয়ে বাসে করে কাটরা যাবার জন্য রওনা দিই। দুঘন্টার মধ্যে কাটরা পৌঁছে গেলাম। সারাদিন হোটেলে বিশ্রাম করার পর রাতে সবাই মিলে বৈষ্ণোদেবী যাওয়া হবে বলে ঠিক হল।

ভারতের অন্যতম তীর্থস্থান মাতা বৈষ্ণোদেবী গুহা মন্দিরটি জম্মুর কাটরায় ত্রিকূট পাহাড়ে অবস্থিত। কাটরা থেকে বৈষ্ণোদেবী মন্দিরটি ১৩ কিলোমিটার পথ। অনেকে হেঁটে যান, আর যারা হাঁটতে পারেন না তাঁদের জন্য পোর্টার, পালকি এবং পোনি ভাড়া করে যাওয়া যায়। আবার কাটরা থেকে হেলিকপ্টার পরিষেবাও আছে। যাইহোক কাটরা বাস স্টেশনের কাছে যাত্রা নিবন্ধকরণ কাউন্টার থেকে যাত্রা স্লিপ নিয়ে আমাদের দলের ২৫ জনের মধ্যে অনেকে হেঁটে গিয়েছে,আবার অনেকে পোনির পিঠে করে গিয়েছে। আমাদের পরিবার অবশ্য পোনির পিঠে করে উঠেছি আর নামার সময় হেঁটে নেমেছি।

আমরা রাত ১১টায় পোনির পিঠে চেপেছিলাম আর ভোর ৪টের সময় বৈষ্ণোদেবী গুহার কাছে পেঁছোলাম। তারপর লাইন দিয়ে দেবীর গর্ভগৃহে ভোর ৫টায় প্রবেশ করে দেবী দর্শন করে চোখ ও মন জুড়িয়ে গেল।

দেবী সাড়ে পাঁচফুট লম্বা শিলা আকারে আছেন যার তিনটে মাথা রয়েছে। মাতা বৈষ্ণোদেবীর ভক্তরা লালচুনরি, শাড়ি, শুকনো ফল, ফুল ইত্যাদি দিয়ে থাকেন। আমরাও দিয়েছিলাম। মাতা বৈষ্ণোদেবীর পবিত্র গুহাটি হিন্দু পুরোহিত পণ্ডিত শ্রীধর আবিষ্কার করেছিলেন বলে জানা যায়। বৈষ্ণোদেবী দর্শন করে নীচে নেমে হোটেলে গিয়ে খাবার খেয়ে বিশ্রাম নেওয়া হল। অবশ্য ওই দিন কাটরা হোটেলে রাত কাটিয়ে পরদিন সকালে আমরা বাসে করে মানালির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।

প্রায় সাড়ে নয় ঘন্টা জার্নি করে বিকেলবেলা মানালি পেঁছোলাম। হোটেলে গিয়ে ঘরে বিশ্রাম নিয়ে কিছু খাবার খেয়ে সবাই মিলে ম্যালে ঘুরতে বেরোলাম। মানালির ম্যাল খুব সুন্দর। ম্যালের কাছে প্রচুর গরম পোশাকের দোকান ও হস্তশিল্প কেনাকাটির জন্য অনেক দোকান আছে। এছাড়াও হরেক দোকান আছে খাবারদাবারের। তাছাড়া ম্যালের কাছাকাছি তিব্বতি বাজার এবং তিব্বতি মঠ রয়েছে। আমরা সবাই কিছু কেনাকাটি করে হোটেলে ফিরে আসলাম।

বিয়াস নদীর ধারে অবস্থিত মানালির সৌন্দর্য‌ ভাষায় বর্ণনা করা খুব শক্ত। এখানে যেমন আছে সবুজ পার্বত্য উপত্যকা, বরফে ঢাকা সারি সারি পর্বতশৃঙ্গ, তেমনি আছে পাহড়ের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া সুন্দরী বিয়াস নদী। মানালিতে আমরা দুদিন ছিলাম। একদিন আমরা হিড়িম্বা মন্দির দেখতে যাই। পাইন, দেবদারুর ঘন বনের মধ্যে এই মন্দির। জনশ্রুতি, হিড়িম্বা এইখানেই একটি গুহায় বসবাস করতেন। মন্দিরটি নির্মাণ করেন মহারাজা বাহাদুর সিংহ ১৫৫৩ সালে।

Sexual Abuse ট্রমা

যুবতিটির বয়স ২৯, মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষিকা। পোস্ট ডেলিভারি ডিপ্রেশনে জর্জরিত। শুধু প্রসবের পরে নয়, আগেও বারবার পেট-ব্যথা, মাথা-যন্ত্রণা আর সাময়িক ডিপ্রেশনে ভুগেছেন, কিন্তু তা কখনওই ডাক্তার দেখানোর মতো জোরালো হয়নি। স্বামী, সন্তানের সঙ্গে তার সম্পর্কের ক্রমশ অবনতি হচ্ছে দেখে কাউন্সেলিং করানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। কাউন্সেলিং চলার পর, একদিন তিনি জীবনের এমন একটা ইতিহাস জানালেন যা বিগত একুশ বছর ধরে কাউকে বলেননি। আট বছর বয়সে, কোনও অপরিচিত লোক নয়, তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক নিকট আত্মীয় তাকে যৌননিগ্রহ করেন। বিষয়টা তার কাছে ছিল এমনই লজ্জার যে, কুড়ি বছরেরও বেশি তিনি মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন।

একটি সরকার নিয়োজিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই যুবতির মতোই তিপ্পান্ন শতাংশ ভারতীয় নারী জীবনকালে অন্তত একবার যৌননিগ্রহের শিকার হয়েছেন। এই সমীক্ষার আরও বড়ো ভয়ংকর দিকটি হল যে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিগ্রহকারী, শিশুটির আত্মীয় বা তার পরিচিত এবং তার, আস্থা ও দায়িত্বে থাকা মানুষ। বেশিরভাগ ঘটনাগুলো ভিক্টিম-এর পাঁচ থেকে বারো বছর বয়সের মধ্যে ঘটেছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে কাউকে জানানো হয়নি। সোসাল সাইট-এ ‘ME TOO’ প্রায় ভাইরাল হওয়ার পর স্বীকারোক্তিতে সাহসী হয়েছেন আরও অনেক নারী। এর থেকে স্পষ্ট যে, কোনও না কোনও ভাবে মেয়েরা শৈশবে যৌননিগ্রহের শিকার হয়।

৫৩% ভারতীয় নারী জীবনকালে অন্তত একবার যৌননিগ্রহের শিকার হয়েছেনবেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিগ্রহকারী, শিশুটির আত্মীয়

যেমহিলারা জীবনে একবারও যৌননিগ্রহের শিকার হয়েছেন, তাদের জীবনের কতগুলো দিক নিয়ে সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা প্রবল

  • অনুভূতি প্রকাশের দিক : হয় অকারণে অতি অনুভূতিপ্রবণ হয়ে পড়েন অথবা সঠিক মাত্রায় অনুভূতি প্রকাশই করতে পারেন না
  • আচরণের দিক : হয় অতিমাত্রায় উদ্বেগপ্রবণ, সর্বদা যেন চড়া সুরে বাঁধা, সবসময়ে নার্ভাস বা অতি-উত্তেজিত হয়ে পড়েন
  • নিজের সম্পর্কে ধারণার দিক : লো- সেলফ এস্টিম, কনফিডেন্সের অভাব
  • যৌনজীবনের দিক : নানান যৌনসমস্যা
  • শরীরস্বাস্থ্যের দিক : মানসিক কারণ জনিত নানা শারীরিক সমস্যা, ক্রনিক ব্যথা ইত্যাদি নিয়ে বারবার ডাক্তার দেখানো
  • ব্যক্তিগত সম্পর্কের দিক : সম্পর্ক বজায় রাখায় সমস্যা, অতি পরনির্ভরতা, অত্যন্ত বায়না ও নানান দাবি, অতি নমনীয়তা
  • সামাজিক দিক : অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মেলামেশা পছন্দ করেন না কারণ আত্মীয় বা পারিবারিক বন্ধুদের ওপর আস্থার অভাব।

এই ধরনের মানসিক আঘাতের ঘটনাগুলো যেহেতু কখনওই আলোচিত বা প্রকাশিত হয় না, তাই এর শিকার যারা তারা এর কবল থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যে সার্বিক সাহায্যের প্রয়োজন– তা কখনওই পায় না। দেখা গেছে এই ধরনের মহিলারাই পরবর্তী জীবনে সাইকো-সোমাটিক সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে বার বার ছুটে যান।

যে- উপসর্গগুলো সাধারণ ভাবে দেখা দেয় :

  • ক্রনিক তলপেট-ব্যথা
  • পেটের গোলমাল
  • অস্থি-পেশি সমস্যা
  • খাওয়া নিয়ে সমস্যা
  • ঘুমের সমস্যা/ ইনসমনিয়া
  • যৌন জীবনে সমস্যা
  • অ্যাজমা/ শ্বাসকষ্ট
  • নেশা
  • ক্রনিক মাথাযন্ত্রণা
  • ক্রনিক পিঠে ব্যথা
  • ডিপ্রেশন ও অ্যাংজাইটি
  • পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার
  • নিজেকে আঘাত করার প্রবণতা
  • আত্মহত্যার প্রবণতা
  • মিথ্যে বলার প্রবণতা
  • জন্মনিরোধক পদ্ধতিতে অনীহা
  • কম্পালসিভ যৌন আচরণ
  • সোমাটাইজিং ডিসঅর্ডার
  • ঘনিষ্ঠতার প্রতি অসহিষ্ণুতা
  • একাধিক যৌনসঙ্গী
  • অকালমৃত্যুর আশঙ্কা
  • যৌনমিলনে অনীহা

শুধুমাত্র লক্ষণগুলো জেনে কিছু না করে চুপ করে বসে থাকাটা অর্থহীন। নিজে যদি কখনও এরকম যন্ত্রণার সম্মুখীন হয়ে থাকেন অথবা কোনও বন্ধুকে জানেন এরকম সহ্য করেছেন– তাহলে ভয় কাটিয়ে উঠে কোনও বিশ্বস্ত বন্ধু বা কোনও সাইকোলজিস্টের কাছে সব খুলে বলুন। তার সঙ্গে সঙ্গে কতগুলো পরামর্শ মেনে সমস্যার সমাধান করুন।

১) নিজেকে একটি চিঠি লিখে জানান কীভাবে ওই সেক্সুয়াল ট্রমা আপনাকে মানুষ হিসেবে বদলে দিয়েছে। আপনি তার থেকে কী শিক্ষা পেয়েছেন? কী হারিয়েছেন? কীসের জন্য মনস্তাপ করেন?

২) কোন কোন কাজ আপনি পছন্দ করেন তার একটা তালিকা বানান এবং বিষণ্ণবোধ করলেই সে সব করা শুরু করে দিন। জোর করে নিজেকে আরও বেশি সামাজিক, আরও বেশি কর্মঠ করে তুলুন।

৩) আপনি কোন কোন জিনিসে ভয় পান তার একটা লিস্ট বানান। শুরু করবেন সবচেয়ে কম ভয়েরটা দিয়ে এবং ওপরে উঠতে উঠতে শেষ করবেন সবচেয়ে বেশি ভয়েরটায় এসে।

৪) কোনও সাইকোথেরাপিস্টের সাহায্য নিয়ে রিল্যাকসেশন টেকনিকগুলো শিখে নিন। আপনার বেশি পছন্দেরগুলো তার মধ্যে থেকে বেছে নিয়ে রোজ প্র্যাকটিস করতে থাকুন। মনে রাখবেন অতীতে যা ঘটে গেছে তা তো আর পালটাতে পারবেন না কিন্তু ওই বাজে অভিজ্ঞতার জন্য প্লিজ সেই সুন্দর মানুষটাকে পালটে যেতে দেবেন না যা আসলে আপনি। লড়াই করুন একটি সুখী স্বাস্থ্যোজ্জ্বল জীবনে প্রবেশ করার জন্য। নিজেকে ভালোবাসুন, নিজের যত্ন নিন।

নতুন সাজে সাজান বাড়ি (প্রথম পর্ব)

নিজের বাড়ি বা ফ্ল্যাট নিয়ে অনেকেরই একটা গর্ব থাকে। তাই, কিছুদিন পরপর নতুন নতুন সাজে নিজের বাসস্থানকে তারা সাজিয়ে তুলতে চান। New Look দেওয়ার বাসনাটা যদি একটু সিসটেমেটিক্যালি করতে চান, যাতে ব্যয়বাহুল্য কম করেও ইচ্ছেমতন বাড়িকে সাজিয়ে তোলা যায়-তাহলে একটু ভেবে চিন্তে বুদ্ধি করে উদ্যোগ নিতে হবে।

নিজের কাছে থাকা জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখুন 

যারা ধনী, অর্থ ব্যয় করা যাদের কাছে কোনও বাধা নয়, তারা বাড়ি সাজানোটা খুব সহজেই করে ফেলতে পারেন। দু’হাতে অর্থ ব্যয় করে ইন্টিরিয়ার ডিজাইনার দিয়ে দু-তিন বছর অন্তর তারা বাড়ি নতুন করে সাজিয়ে নেন। দামি দামি আসবাবপত্র, পেইন্টিং, কিউরিও এধার ওধার ছড়িয়ে থাকে। এমনকী সেগুলো কোথা থেকে এসেছে বা তার মূল্য সম্পর্কেও বাড়ির মালিকের কোনও মাথাব্যথা থাকে না। কারণ সবটাই ঠিক করে ইন্টিরিয়র ডিজাইনার। এই পুরো ব্যাপারটাই খুব ইমপার্সোনাল ওয়েতে করা হয় ৷

কিন্তু এটাই একটু আলাদা করে বুদ্ধি খরচ করেও করা যেতে পারে। টাকা দিয়ে সব সময় সব কিছুর মূল্যায়ন করা চলে না। নিজের প্রাইজড পজেশন বেছে নিয়ে এক জায়গায় করুন এবং মনে রাখবেন সেই জিনিসগুলোকে তাদের যোগ্য জায়গায় রাখতে হবে যাতে সকলেই সেগুলোর যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারে।

পুরোনো ফোটোগ্রাফ

ফেড হয়ে যাওয়া পুরোনো পারিবারিক ফটোগ্রাফ ফেলে দিতেও মন চাইছে না অথচ বাড়িতেও আলাদা আলাদা করে টাঙিয়ে রাখার জায়গার অভাব রয়েছে। চিন্তার কিছু নেই— ছবির সাইজ এবং হাইট অনুযায়ী ছবিগুলিকে গ্রুপ করুন। আয়নার ট্রেন্ড এখন ভীষণ ভাবে ইন সুতরাং মিস্টেড, ডিজাইন করা আয়নায় ছবিগুলি পেস্ট করে মেটালিক কালারের ফ্রেমিং করিয়ে নিন যাতে ওয়াল হ্যাংগিং হিসেবে সেগুলি ব্যবহার করতে পারেন।

পুরোনো ব্রাসের পটস

ঘরের কোণায় পড়ে পড়ে কালো হয়ে গেছে এক সময়ের যত্নে রাখা ব্রাস পটগুলি কোণা থেকে বার করে পালিশ করিয়ে নিন এবং এমন জায়গায় সাজিয়ে রাখুন যেখানে রাখলে ঘরে ঢুকেই চোখে পড়ে। এখন বিভিন্ন ধরনের ধাতু, মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে সাজাবার যুগ, সুতরাং ব্রাসের পাত্রের সঙ্গে অন্য মেটাল ম্যাচ করিয়েও ঘর সাজাতে পারেন। পুরোনো আসবাবপত্র পুরোনো দিনের কাঠের আসবাব ফেলে দিতে মন চায় না কারণ ওই ভালো কাঠ এখন আর কেউ দেয় না। পুরোনো ফার্নিচারের সঙ্গে কনটেম্পোরারি ফার্নিচারও মিলিয়ে মিশিয়ে রাখা যেতে পারে। শুধু পুরোনো আসবাবগুলি পালিশ করে নেওয়া দরকার। রোজউড, সেগুন কাঠের ফার্নিচার পেইন্ট করালে কিন্তু তার সৌন্দর্য শেষ। সুতরাং New Look দিতে দরকার শুধু পালিশ করাবার।

কাচের বাসনপত্র

কাচের বাসনপত্র সকলেই যখন কেনে খুব শখ করে কেনে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাসনের সেট-এ একটা দুটো কাচের বাসন ভাঙতেই থাকে। সুতরাং কাচের বাসনগুলো যদি সত্যি দেখতে খুব সুন্দর হয় তাহলে বুদ্ধি করে ওগুলো প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। কাচের কাপ, বাটি বা বোল যদি থেকে যায় তাহলে তাই দিয়ে কনটেনার গার্ডেনিং করা যেতে পারে।

কনটেনার গার্ডেনিং ব্যাপারটা খুবই ব্যয়সাপেক্ষ। কিন্তু কাচের কনটেনার যদি নিজের কাছে থাকে তাহলে খরচাও অর্ধেক হয়ে যাবে। শুধু শিখে নিতে হবে কনটেনার গার্ডেন কীভাবে পরিষ্কার রাখবেন। বাইরে বাগান করতে গেলে যতটা পরিচর্যার দরকার পড়ে কনটেনার গার্ডেন-এর ক্ষেত্রেও ততটাই যত্নের প্রয়োজন। সুন্দর গেলাস থাকলে সেটা দিয়ে জেল ক্যান্ডেল বানিয়ে সাজিয়ে রাখতে পারেন।

 

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব