অতিরিক্ত কেনাকাটার অভ্যাস নয়তো? শেষ পর্ব

আমাদের ইমোশনাল ক্ষতগুলির প্রতিক্রিয়াগুলি বেশিরভাগ সময়েই, ধ্বংসাত্মক ক্রিয়াকলাপ, মোহগ্রস্ত হওয়া বা নেশাসক্ত হয়ে পড়ার মাধ্যমেই ফুটে ওঠে। অসুখি দাম্পত্য বা জীবনে কোনও স্বপ্নপূরণ না হওয়ার ফলে হতাশায় ভোগা ব্যক্তিরা কষ্টমুক্তির জন্য আড্ডামারা, ডেটিং করা, অনিয়ন্ত্রিতভাবে জাংক ফুড খাওয়া ও অনাবশ্যক Impulsive buying বা শপিং করার মতো নানা উপায়ের সাহায্য নিয়ে থাকেন। তাহলে কীভাবে এই ইচ্ছা দমন করা সম্ভব বা প্রতিরোধ করা যেতে পারে চলুন জেনে নেওয়া যাক:-

শপাহলিকইজম প্রতিরোধের উপায়

  • কেনাকাটার বাতিক বড্ড বেড়ে গেছে মনে হলে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজে সাধারণত বুঝতে পারেন না তার ডাক্তার দেখানো দরকার। কিন্তু সেই ব্যক্তির কাউন্সেলিং-এর প্রয়োজন আছে। তাই তার পরিজনদের উচিত তাঁকে বুঝিয়ে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া।
  • এরকম ব্যক্তির পরিবার পরিজনের উচিত তাঁর বিনোদনের সময়টা এমনভাবে পরিচালিত করা, যাতে তিনি কোনও দোকানে না যান। কেনাকাটি ছাড়া অন্য কোনও উপায়ে তাঁর মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ব্যায়াম, বাগানে ঘোরা বা বাগানেরই জন্য কাজ করা, গান শোনা, মাসাজ নেওয়া ইত্যাদি কিছু করা যেতে পারে। এধরনের এক শপ অ্যাডিক্ট ব্যক্তি, হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করে Impulsive buying-এর বাতিক থেকে রেহাই পেয়েছিলেন। এভাবে মনের কষ্ট কমানো ও দূর করা যায়।
  • এখন খরচ করা বা কেনাকাটা করার পদ্ধতি ও উপায়ের সংখ্যা অগুন্তি। প্রশ্ন হল, কেনার দরকার আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা। সংসারে কী বা কোন সামগ্রীর দরকার আছে তা নিয়ে বাড়িতে আলোচনা করুন। সবার মতামত সাপেক্ষেই কেনা উচিত। যে-সামগ্রীটি প্রয়োজন বলে সবারই মত, সেটির আবশ্যিকতা আছে। অন্যথায় সেটা কেনার ইচ্ছে দমন করুন বা কেবলমাত্র উইনডো-শপিং করে কেনার ইচ্ছে নষ্ট করে ফেলুন।
  • কেনাকাটার বাতিক থাকতে কখনও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করবেন না। সবসময় ক্যাশ ব্যবহার করুন। লোভ জাগিয়ে তোলা হোমশপিং চ্যানেল দেখবেন না। ডিসকাউন্ট স্টোর ইত্যাদিতে যাবেন না। যা যা কেনা আবশ্যিক তার তালিকা বানান। কেবল সেই তালিকা অনুযায়ী কেনাকাটা করুন এবং Impulsive buying অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। সঙ্গে বন্ধু বা পরিজনকে নিয়ে গেলে অনেক লোভ এড়ানো যায়।

মনোবিশেষজ্ঞরা বলেন কোনও বদ অভ্যাস সারাজীবনের জন্য নিজস্ব ট্রেডমার্ক হয়ে গেলেও সঠিক ভাবে চেষ্টা করলে, তা নিশ্চয়ই বদলানো যায় বা ছেড়ে দেওয়াও যায়। তাই এই ক্ষতিকারক বাতিক দমন করে, তা থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করুন।

ভিড়েও নজর কাড়ুন আপনি

এখন হইহুল্লোড়ের সময়। আর তাই চটপট নিজেকে সাজিয়ে তুলতে কিছু রুটিন আপনাকে মেনে চলতেই হবে। এখানে দেওয়া হল তারই কিছু টিপ্‌স।

পোশাকে এবং মেক-আপে স্লিম লুক

সঠিক মেক-ওভার আপনার চেহারায় অভূতপূর্ব পরিবর্তন এনে দিতে পারে। হাইলাইটিং বা কন্ট্যুরিং টেকনিক ব্যবহার করুন মেক-আপের সময়, মুখের বিসদৃশ ফোলাভাব কমিয়ে এটি আপনাকে শার্প লুক দেবে। গালের হাড়, নাকের দুপাশে কন্ট্যুরিং করলে মুখের ডৌলে খানিকটা কৃশভাব আনা যাবে। নাকের উপরের অংশ, চোখের নীচের অংশ, চিবুক, ভ্রুর নীচের অংশ হাইলাইট করলে, মুখের ডৌল-এ তীক্ষ্ণভাব আনা যায়।

পার্টির পোশাক নির্বাচন করার সময় আপনার বডি অ্যাপল শেপ না পিয়ার শেপ সেদিকে খেয়াল রাখুন। যদি পার্টির পোশাক হিসাবে কোনও শর্ট ড্রেস বাছাই করে থাকেন, তাহলে পায়ে স্টিলেটোস পরুন। স্কিন শেড বা ন্যুড শেডের স্টিলেটোস মানাবে ভালো।

রঙের নির্বাচনের উপরেও আপনার শরীরের গঠনে পরিবর্তন আনা যেতে পারে। একই রঙের টপ ও লোয়ার পরলে স্লিম দেখাবে। কন্ট্রাস্ট শেডের জুতো পরলে সাজটা সম্পূর্ণ হবে। কেপ্রি, লং ব্যাগি শর্টস, নি-লেংথ প্যান্টস এড়িয়ে চলুন। তার বদলে ডার্ক কালার স্ট্রেট জিন্স পরুন যা আপনাকে রোগা দেখাতে সাহায্য করবে। সঙ্গে ডার্ক হিলস্ বা অ্যাংকল বুটস্, ফ্ল্যাট হিল শুজ পরতে পারেন। জুতোটা খুব ঢাকা না হয়ে খানিকটা খোলা ধরনের হলেও আপনাকে স্লিম দেখাবে। এই ধরনের জুতো, স্কার্ট, শর্টস-এর সঙ্গে পরতে পারেন।

লাইফস্টাইলে পরিবর্তন

রেস্তোরাঁয় খাওয়া কমিয়ে দিন। যদি বাইরে খাওয়ার অভ্যাস থাকে সপ্তাহে পাঁচদিন, তাহলে সেটা কমিয়ে সপ্তাহে একদিনই বাইরের খাবার খান। জাংক ফুড খাওয়ার অভ্যাস সরাসরি আপনার ওজনের উপর পড়ে। বাইরের খাবার খাওয়া কমালে, ওজনও কমবে। বাইরে খেলেও তেল মশলা বেশি এমন ডিশ না অর্ডার করে, গ্রিলড্ ডিশ আর স্যালাড অর্ডার করুন। মনে রাখবেন ওজন কমাতে গেলে ফুড হ্যাবিট চেঞ্জ করা প্রয়োজন সর্বাগ্রে। ফ্রিজে রাখা আইসক্রিম, চিপ্‌স, মাফিস-এর মায়া ত্যাগ করে, কৌটোয় ভরে রাখুন ড্রাই ফ্রুট্স, লো-ক্যালোরি স্ন্যাক্স এবং ফ্রিজে রাখুন, সবুজ পাতা-যুক্ত শাকসবজি, ফল ও স্প্রাউট্স। আপনার লাইফস্টাইলে পরিবর্তন আনতে এক্সারসাইজ করুন। শরীরের অতিরিক্ত জল বের করে দেওয়ার সহজ রাস্তা হল স্টিম বাথ নেওয়া। আপনার জিম-এ যদি সেই ব্যবস্থা থাকে, সপ্তাহে দুবার স্টিম নিন, আর তারপর কোল্ড শাওয়ার নিন। কিছুদিনের মধ্যেই এতে অনেকটা হালকা অনুভব করবেন।

ব্রেকফাস্ট স্কিপ করবেন না। চেষ্টা করুন ব্রেকফাস্ট ৩০০ ক্যালোরির মধ্যে রাখতে। এতে হোলগ্রেন আর প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। স্যান্ডউইচ বা টোস্ট-এ সাধারণ মাখনের বদলে পিনাট বাটার ব্যবহার করুন। এটা খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকবে, বারবার ইন-বিটউইন মিল্স খাবার হ্যাবিট থেকে বেরোতে পারবেন। ফলে বাড়তি ক্যালোরি ইনটেক-ও হবে না।

ওয়ার্কআউট করার ১ ঘন্টা আগে কফি খান। এর ফলে ব্যায়াম করার সময় এক্সট্রা এনার্জি পাবেন আর অল্প আয়াসেই অনেক বেশি ক্যালোরি বার্ন করতে পারবেন। কোনও একটা ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি আপনার দৈনিক জীবনচর্যায় রাখুন। সেটা নাচ, সুইমিং, ভলিবল, বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন, টেনিস— যাই হোক না কেন।

ওয়ার্কআউট ব্লান্ডার

মর্নিংওয়াক-এর চেয়ে ভালো এক্সারসাইজ আর হয় না। পারলে ২০ মিনিট জগিং করুন, সেই সঙ্গে ১০টা পুশ-আপ ও ২০টা স্কোয়াট। কিছুদিনের মধ্যে নিজেই ওজনের তফাতটা অনুভব করবেন।

ওভার ওয়ার্কআউট এড়িয়ে চলুন। এর ফলে চোট আঘাত লাগতে পারে। এছাড়া আপনার শরীরের ব্যায়ামেরও যেমন প্রয়োজন আছে, বিশ্রামেরও ঠিক ততটাই দরকার।

খালি পেটে ব্যায়াম করবেন না। ব্যায়ামের জন্যও শরীরের পুষ্টি দরকার, তবেই প্রয়োজনীয় এনার্জি পাবেন ওয়ার্কআউট করার জন্য। পেটে যদি একেবারেই খাবার না থাকে এবং সেই অবস্থায় এক্সারসাইজ চালিয়ে যান, তাহলে শরীরে অচিরেই পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হবে।

এক্সারসাইজ করার ক্ষেত্রে একই এক্সারসাইজ দীর্ঘদিন করে যাবেন না। এর ফলে শরীর একই ফর্ম-এ অভ্যস্ত হয়ে যাবে। তখন আর সেটা কার্যকরী হবে না। ওয়ার্কআউট শেষ করার আগে, অবশ্যই কিছু স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ রাখুন। এর ফলে শরীর ধাতস্থ হবার সুযোগ পাবে। পোস্ট এক্সারসাইজ আপনার হার্টবিট-ও স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে, শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং মাসগুলি আগের অবস্থায় ফিরে এসে রিল্যাক্সড্ হবে।

অতিরিক্ত কেনাকাটার অভ্যাস নয়তো? পর্ব ২

কিছু মহিলার কাছে বাড়ি বসে থাকার চেয়ে বাইরে গিয়ে কিছু কেনাকাটা করাটাই সময় কাটানোর শ্রেষ্ঠ উপায়। বাড়ির বাইরে বের হওয়াটাতে এই ধরনের মহিলারা একধরনের আত্মবিশ্বাস ফিরে পান ও শেষে কেনার মাধ্যমে, তা যেন পরিপূর্ণতা পায়। রেগুলার শপিং যেতে না পারলে অনেক সময় অবসাদগ্রস্ত হয়েও পড়তে দেখা যায়। কেনাকাটায় নেশাগ্রস্ত মানুষের আচরণে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট থাকে। Excessive shopping করার সময় শপঅ্যালকোহলিকদের শরীরে অ্যাড্রেনালিন-এর নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়। এটা তাদের সাময়িক সুখের অনুভূতি দেয়।

কেনার ঝোঁকের শুরু কীসে

সমীক্ষা বলছে, মনের চাপ, একাকীত্ব, আত্মবিশ্বাস হ্রাস পাওয়া ও সহযোগীদের সঙ্গে দলে পড়া, ইত্যাদি কারণে কেনাকাটার ঝোঁক চাপে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কেনাকাটা করার পর এক ধরনের অপরাধবোধও ঘিরে ধরে।

কম্পালসিভ বাইং ডিসঅর্ডার

যারা ডিপ্রেশনে ভোগেন, প্রায়ই তাদের মধ্যে কম্পালসিভ বাইং ডিসঅর্ডার হতে দেখা যায়। সমাজে অন্য মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের খামতিকে প্রায়ই অনাবশ্যক কেনাকাটা দিয়ে ভরিয়ে তুলতে চান এঁরা। কেনাকাটা করলে, এঁদের অনুভূত মনের কষ্ট কমে যায়। এই পরিস্থিতির চরমে কেনবার টাকা জোগাড়ের জন্য তারা মিথ্যের আশ্রয় নেন বা চুরি পর্যন্তও করেন। এতে অনেকসময় তাদের অন্যের সঙ্গে খারাপ হতে থাকা সম্পর্ক, আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে। এমনকী তারা ঋণগ্রস্তও হতে পারেন। কিন্তু তাও তারা একধরনের আনন্দ পেতে, মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে Excessive shopping করতে পেছপা হন না।

অসুখী বিবাহিত জীবন, মারাত্মক হীনম্মন্যতায় ও হতাশায় ভোগা মহিলারা, তাদের কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নানান শপিং মলে যান, অনাবশ্যক কেনাকাটা করেন ও টাকা ওড়ান। তুলনায় পুরুষরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এধরনের জীবনযাত্রা থেকে আপাতমুক্তি পেতে খেলাধুলোর বা অন্য কাজকর্মের সাহায্য নেন।

‘মেন, উইমেন অ্যান্ড রিলেশনশিপস’ বইয়ের লেখক জন গ্রে বলেছেন, ‘আমাদের ইমোশনাল ক্ষতগুলির প্রতিক্রিয়াগুলি বেশিরভাগ সময়েই, ধ্বংসাত্মক ক্রিয়াকলাপ, মোহগ্রস্ত হওয়া বা নেশাসক্ত হয়ে পড়ার মাধ্যমেই ফুটে ওঠে। মনে করা হয় মদ্যপানের মতো বেশিরভাগ নেশার কারণই হল মানসিক কষ্ট। অসুখি দাম্পত্য বা জীবনে কোনও স্বপ্নপূরণ না হওয়ার ফলে হতাশায় ভোগা ব্যক্তিরা কষ্টমুক্তির জন্য আড্ডামারা, ডেটিং করা, অনিয়ন্ত্রিতভাবে জাংক ফুড খাওয়া ও অনাবশ্যক শপিং করার মতো নানা উপায়ের সাহায্য নিয়ে থাকেন।

প্রচুর অর্থ উপার্জনকারী ললিতা মিত্র’র উদাহরণটা নেওয়া যাক। ললিতা একজন ক্রনিক শপ অ্যালকোহলিক। তার সময় কাটানোর উপায় হল, এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে বেড়ানো ও প্রচুর টাকা খরচ করে বিশাল পরিমাণে নানান সামগ্রী কিনে আনা। এই করতে গিয়ে অর্জিত টাকার একটা বড়ো অংশ স্রেফ উড়িয়ে দেওয়া হয়, কারণ কিনে আনা পণ্যগুলি সাধারণত বাড়ির আলমারি ও তাক দখল করে পড়েই থাকে। কোনওদিনও ব্যবহৃত হয় না, কারণ সেগুলো অনাবশ্যক। মনোবিশেষজ্ঞের মতে ললিতা হীনম্মন্যতায় ভুগছে। বেশ কয়েকটি বিষয়কে এর কারণ বলা যেতে পারে। এক, ললিতাকে দেখতে তেমন আকর্ষণীয় নয়, সে পড়াশোনায় তেমন চৌকশ হয়ে উঠতে পারেনি, তার কিছু পারিবারিক সমস্যাও রয়েছে ইত্যাদি। ফলে এসবের চাপ থেকে মুক্তি পেতেই তার এই উদ্দাম কেনাকাটার বাই।

 

স্ময়ন

নির্জন রাস্তার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছি। আমার আয়ু বড়োজোর আর কিছুক্ষণের। ছটফট করার মতো শক্তিটুকুও লোপ পেয়েছে। এই গল্পের নায়ক অন্য কেউ। আমি পার্শ্বচরিত্র মাত্র। আমি প্রীতিশাকে খুব ভালোবেসেছিলাম। ও আমার সঙ্গে একই কলেজে একই বিভাগে পড়ে। বিএ, বাংলা বিভাগ। তবে প্রথম দিন থেকে আমার মনে প্রীতিশার প্রতি ভালোলাগার অনুভূতি সৃষ্টি হলেও ও অন্য একজনকে ভালোবেসে ফেলেছিল। ছেলেটির নাম স্ময়ন। সে পুরো ক্লাসের চোখের মণি হয়ে উঠেছিল। ওর পার্সোনালিটিতেই এমন কিছু ছিল, যা প্রফেসর থেকে শুরু করে ক্লাসের সহপাঠীদের প্রবল ভাবে আকৃষ্ট করত। অল্প সময়ের মধ্যেই সে আমারও খুব ভালো বন্ধু হয়ে গিয়েছিল। পড়াশোনায়ও সে খুব ভালো। আমিও তার আশেপাশেই নম্বর পেতাম।

প্রীতিশার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব বেশ জমে উঠেছিল। বসন্তের মনোরম দুপুরে ক্যান্টিনে বসে ওর সঙ্গে সময় কাটাতে বেশ ভালোই লাগত। সেইসব দিনগুলোর কথা কোনও দিন ভুলব না। আমি মনে মনে ঠিক করে ফেলেছিলাম আর কয়েকদিনের মধ্যেই প্রীতিশাকে আমার মনের কথা জানিয়ে দেব। তবে ওই যে কথায় আছে, ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই। তবে এক্ষেত্রে অন্য কথা আসবে। কপালে নেই তো ঘি, ঠকঠকালে হবে কি? আমার আগেই স্ময়ন বাজি মেরে দিয়েছিল। প্রীতিশা আমারই চোখের সামনে অন্য একজনের হয়ে গিয়েছিল। সেই মুহুর্তে আমার মনের ভেতরটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল।

প্রীতিশা এই ঈশানের জীবন থেকে একটু একটু করে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছিল। সে কোনও দিনও আমার হবে না, ব্যাপারটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারলাম না। আমি মানছি, আমার স্মার্টনেস স্ময়নের তুলনায় অনেক কম। কিন্তু তাই বলে প্রীতিশা আমার মন বুঝল না, সেটা ভেবেই ভিতরে ভিতরে আমি গুমরে মরছি। না, এভাবে চলতে থাকলে একদিন হয়তো আমি পাগল হয়ে যাব। আমি মনে মনে ঠিক করলাম— প্রীতিশার সঙ্গে একান্তে কথা বলব। পরের দিন প্রথম ক্লাস শেষ হওয়ার পর ওর কাছে গিয়ে বললাম, “তোর সঙ্গে কিছু কথা আছে। আমার সঙ্গে ওপরে চল।”

প্রীতিশা আমার পিছন পিছন সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে জিজ্ঞেস করল, “কী কথা? এখানে বলা যায় না?”

“না যায় না।”

আমি ওকে তিনতলার একটা ফাঁকা ক্লাসরুমে নিয়ে গিয়ে চোখে চোখ রেখে বললাম, “আমি তোকে আজ একটা কথা বলতে চাই। জানি না কথাটা শোনার পর তোর-আমার বন্ধুত্ব টিকবে কি না, কিন্তু আমি যেভাবে কষ্ট পাচ্ছি, তার তুলনায় সেই কষ্ট অনেক কম হবে।”

“ধোঁয়াশা না করে পরিষ্কার করে বল কী বলতে চাস?”

“আমি তোকে খুব ভালোবাসি। কলেজের প্রথম দিন থেকে একটু একটু করে তোর প্রতি যে-ভালোলাগার অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছিল, তা অজান্তেই কবে ভালোবাসায় পরিণত হয়ে গিয়েছিল। আমি তোকে মনের কথা বলব বলব করেও বলতে পারিনি।”

“তবে আজ কেন বলছিস? তুই জানিস আমি স্ময়নকে ভালোবাসি। ক’দিন পরেই আমাদের এনগেজমেন্ট।”

“ক’দিন পর। এখনও তো হয়নি। তবে আটকাচ্ছে কোথায়? কত মেয়ে বিয়ের দিন মণ্ডপ ছেড়ে পালিয়ে যায়। সেখানে তো তোর…”

“পাগলামো করিস না। আমি তোকে কখনও ভালোবাসতে পারব না। কারণ আমি এখন স্ময়নের হয়ে গিয়েছি। তুই তো সব জানিস। তারপরেও তুই কেন এমন জেদ করছিস?”

আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারলাম না। ঠিক সেই মুহুর্তে নিজেকে সামলানো বড়োই কঠিন হয়ে পড়েছিল। আমি ওকে কাছে টেনে নিয়ে গালে, কপালে, চোখে চুমুতে ভরিয়ে দিতে লাগলাম। প্রীতিশারও ভিতরটা বোধহয় সেই মুহুর্তে উথাল-পাথাল হয়ে গিয়েছিল। কয়েক মুহুর্ত পর বুঝতে পারলাম আমি বড়ো ভুল করে ফেলেছি। এমনটা করা আমার উচিত হয়নি। প্রীতিশা কিছুক্ষণের জন্য কাঠ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারপর কিছু না বলে শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল।

আমি বুঝতে পারিনি ঠিক সেই মুহুর্তে আমার কী করণীয় ছিল। তখনও আমি বুঝতে পারিনি আজ রাতে আমার জীবনে এমন মারাত্মক ঘটনা ঘটবে, যা আমাকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দেবে। তবে আমার জীবনই শুধু নয়। তার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল আরও দুটো জীবন। এক প্রীতিশা, দুই আমার বাবা।

বাবা শ্বাসকষ্টের রোগী। বাবার আজ একটু বেশিই শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছিল। ইনহেলার শেষ হয়ে গিয়েছিল। বাবার এই কষ্ট আমি একেবারেই সহ্য করতে পারছিলাম না। তাই আমি তড়িঘড়ি করে মেডিকেল শপে ইনহেলার আনতে ছুটে গিয়েছিলাম।

বাড়ি ফেরার রাস্তাটা রাত দশটার পরে জনমানবশূন্য হয়ে পড়ে। সেই সুযোগ নিয়েই আমার সামনে হঠাৎ করে স্ময়ন এসে পড়ে। তারপরই আমার মুখের ওপর এলোপাথাড়ি ঘুষি চলতে থাকে। আর সে বলতে থাকে, “বল, তুই প্রীতিশার সঙ্গে কী করেছিস? ও কেন আজ হঠাৎ করে আমার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক শেষ করার কথা বলল? তুই ওকে ফুসলিয়েছিস। আমি তোকে ছাড়ব না।”

প্রচণ্ড যন্ত্রণার মধ্যেও আমার এটা ভেবে সুখ হচ্ছিল যে, প্রীতিশা আমার ভালোবাসা স্বীকার করে নিয়েছে। আমার ভালোবাসা জিতে গিয়েছে। এর থেকে আনন্দ আমার আর কিছুতেই হবে না। ঠিক সেই মুহুর্তে স্ময়ন আচমকা প্যান্টের পকেট থেকে ছুরি বের করে পরপর দুটো কোপ আমার পেটের ওপর মারল। আমি অসহ্য যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে পেটে হাত দিয়ে বসে পড়লাম। সে আমার আর্তনাদ শুনেই প্রচণ্ড ভয় পেয়ে চম্পট দিয়েছে।

আমি ওঠার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছি। বেশ বুঝতে পারছি আমার আয়ু বড়োজোর আর কিছুক্ষণের। তারপর সব শেষ। এই তল্লাটে কেউ নেই যে আমাকে হসপিটালে নিয়ে যাবে। আমার প্রাণ বাঁচাবে। যখন প্রীতিশা আমার চোখের সামনে অন্যের হয়ে গিয়েছিল, তখন মরে যেতে ইচ্ছে করছিল। আর আজ যখন ও আমার হয়ে গেল, তখন বাঁচার প্রবণতা আরও বেড়ে যেতে শুরু করল। কিন্তু আমার আয়ু আর ক্ষণিকের, কথাটা ভাবতেই চোখের জলে চারপাশের পরিবেশটা ঘোলাটে হয়ে এল।

আমি রাস্তার ওপর এলিয়ে পড়লাম। চোখদুটো বুজে এলো। ঠিক সেই মুহুর্তেই মনে হল কারা যেন এদিকে ছুটে এসে আমায় টেনে তুলছে, আর বলছে, “ওকে তাড়াতাড়ি হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে। না হলে ও বাঁচবে না। ভাগ্যিস এ রাস্তায় সিসিটিভি লাগানো ছিল। তাই দেখতে পেলাম কেউ ওর পেটে চাকু মেরেছে।”

ব্যস্, এটুকুই শুনতে পেয়েছিলাম। তারপর জ্ঞান হারাই। হসপিটালে চোখ খুলতেই দেখি প্রীতিশা আমার মাথার কাছে বসে আছে। আমি উঠে বসার চেষ্টা করতেই ও বলল, “ঈশান, এখন উঠিস না। ডাক্তারবাবু রেস্ট নিতে বলেছেন। আর স্ময়নকে আমি পুলিশে দিয়েছি। আমি বুঝতে পারিনি ছেলেটার তলে তলে এই ছিল। আমি ওকে খুব ভালো ভেবেছিলাম। যাই হোক, আমি এখন তোর, শুধুই তোর।”

শেষপর্যন্ত আমি পার্শ্বচরিত্র থেকে গল্পের নায়ক হয়ে গিয়েছি। আর বাবার কাছে ইনহেলারও সময়মতো পৌঁছে গিয়েছিল। প্রীতিশাকেও সারা জীবনের মতো পেয়ে গিয়েছি। একেই বলে হ্যাপি এন্ডিং।

সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-৩৩

( ১৪ )

মরতে চেষ্টা করেও পারলাম না।

একদম বাজে কথা বলবেন না। আরেকটু হলে পুলিশ কেস হয়ে যেত…। তারপর? ভাবতে পারছেন কী হতো?

অনেকক্ষণ থেকেই আপনাকে দেখছিলাম। যেন কেমন ভাবে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ওদিকটায়…।

আমি তো ভাবতে চাইনি…। আপনি এলেন কেন? আমাকে একা ছেড়ে দিন।

একা ছেড়ে আর কী করব? এক্ষুনি যে সর্বনাশটা হতো, আমার চাকরি খুঁজতে যাওয়া মাথায় উঠত? আবার কী না কী করেন, চলুন চলুন বাড়ি চলুন…।

আপনি চলে যান। আমি পরে…।

তা হয় না…।

কস্তুরী মরতে চেয়েছিল। হ্যাঁ বাঁচার আর কোনও ইচ্ছেই ছিল না তার। ওই রেজাল্ট বাপি-মায়ের সামনে রাখা মানেই তো আরেক মৃত্যুকে স্বইচ্ছায নিজের দিকেই টেনে আনা। বাপি-মা একমুহূর্ত সময় নষ্ট করবে না। দিদির মনোমতো পাত্রের সঙ্গেই বিয়ে দেবেনই, কোনও ভাবেই ঠেকাতে পারবে না কস্তুরী। আর তারপরেই হয় জামাইবাবু, নয় বুম্বা স্যার, নয়তো ওদেরই মতো কোনও পিশাচের কাছে বৈধ ভাবে রোজ দিনেরাতে অত্যাচারিত হবে। তার চেয়ে এই ভালো।

স্কুল থেকে বেরিয়ে বাড়ির উলটোপথে টিকিট কেটেছিল মেট্রোর। মোহগ্রস্তের মতো এগিয়ে গেছিল একটা মা ও তার হাতে ধরা শিশুটিকে দেখতে দেখতে। মনে হচ্ছিল খুব স্বাভাবিক ভাবে ওই আদর মাখা একটা সম্পর্কের তিক্ত অতীত ওকে অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কেন অমন আদর, অমন ভালোবাসা পেল না ও? নিজের মায়ের মতো মুখের আদল না হলে ও ভাবত হয়তো ওকে অন্য কোথাও থেকে নিয়ে আসা হয়েছে।

নিজের সন্তান কী করে এতটা অবহেলিত হতে পারে? এমন রূপ চায় না কস্তুরী। চায় না অপরের চোখ ঝলসানো এমন আকর্ষণ।

যে-আকর্ষণে একই ভাবে দিনের পর দিন পুড়েছে ও, জ্বলেছেও, বাতাসে ভর করে একটা প্রবল যন্ত্রযান এগিয়ে আসছিল ওর দিকে। লোহার পাত গড়িয়ে দুহাতে জড়িয়ে ধরতে আসছিল কেউ। ঝিমঝিম ঝিমঝিম থেমে থেমে শব্দটা যে এত মধুর হতে পারে, জানত না ও। কস্তুরীও সমআকর্ষণে এগিয়ে যেতে থাকে। ওর চোখের চারপাশ জুড়ে নেমে আসে একটা মিশমিশে কালো পর্দা, এলোমেলো ভাবনাগুলো দমকা দাপটে বাক্সবন্দি করতে গিয়ে পারে না, হালকা অবশ একটা শূন্যতা গ্রাস করে। আর তখনই ওকে হেঁচকা টানে

যে-মানুষটা নিজের কাছে টেনে আনে তারই হাত ধরে অনেকটা স্থবিরের মতো মেট্রোর সিঁড়ি বেযে উঠে যাচ্ছে এখন…

কে ও?

কী নাম ওর?

কেন বাঁচাল ওকে?

এত ভিড়ের মধ্যে কই আর কেউ তো এগিয়ে আসেনি?

কস্তুরী কেন ছেলেটার হাত ছাড়িয়ে নিতে পারছে না? কেন বলতে পারছে না ওর ধুলোটে জীবনটায় নতুন কোনও রং কোনওদিন আসেনি, আসতে পারে না। কেন এই অপরিচিত মানুষটাকে বোঝাতে পারছে না কস্তুরীর অভিভাবকহীন জীবনটা নিতান্তই তুমুল স্রোতে বয়ে চলা একটা ভেলার মতো ধাক্কা খেয়ে এগিয়ে চলেছে, তাকে যে-কোনও ভাবেই মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা যাবে না।

কটা কচুরি? কস্তুরীর মুখের কাছে মুখ নীচু করে বলে ওঠে ছেলেটা।

মেট্রো স্টেশন থেকে হাঁটতে হাঁটতে এতটা পথ চলে এসেছে এই প্রথম দেখে ও। চারপাশের গাড়ি, বাজার, দোকানপাট আবারও একটা সচল নিত্য জীবনের মাঝে ফিরে এসেছে কস্তুরী। কিন্তু এমনটা তো হবার কথা ছিল না।

কী হল বলুন? আসলে আমারও খুব খিদে পেয়েছে। ছেলেটা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে।

দোকানটার ভেতর থেকে খাবারের গন্ধটা হুড়হুড়িয়ে বেরিয়ে আসছে বাইরে। কস্তুরীর একটুও খিদে পাচ্ছে না। ও দেখছে, ফুটপাথের রেলিংঘেরা গাছটার একটা ছোটো ডালে উড়ে এসে বসে দুটো শালিখ। দুজনের ঠোঁটে ঠোঁট ঠেকিয়ে কীসব বলে পাখিদুটো পিরিং পিরিং করে একটা শব্দ করে ঢুকে পড়ে গাছটার মধ্যে। ঝুপড়ি গাছের মধ্যে ওদের আর দেখতে পাচ্ছে না কস্তুরী।

ওরা কি নতুন বাসা বেঁধেছে?

কে জানে!

অতিরিক্ত কেনাকাটার অভ্যাস নয়তো ? পর্ব ১

আপনি কি কেনাকাটা করতে ভালোবাসেন, নাকি আপনি একজন শপ-অ্যালকোহলিক। যদি ক্রনিক শপ-অ্যালকোহলিক হন, তবে সেই বাড়াবাড়ি রকমের কেনাকাটার রোগটা Excessive shopping Habits সারাবার চেষ্টা করুন। কারণ এই লক্ষণগুলি যার মধ্যে আছে বস্তুত সেই ব্যক্তিটি এক ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এতে তার কষ্টার্জিত অর্থও অনাবশ্যকভাবে খরচ হয়ে যায়।

লাইফস্টাইল বজায়ের সর্বোত্তম উপায়

যে-কোনও মহিলাকে জিজ্ঞেস করুন কীসে তিনি সবচেয়ে সুখ পান? অবধারিতভাবে উত্তরটা হবে শপিং করে। অনেকেই কিছুদিন অন্তর অন্তর কেনাকাটা করতে বেরোনোর অদম্য ইচ্ছেকে দমন করতে পারেন না। জেনে রাখুন, এই ইচ্ছে একধরনের ম্যানিয়া বা অসুখ—Excessive shopping habits। এই অসুখে পুরুষের চেয়ে মহিলারাই বেশি আক্রান্ত হন। দেখা যায় এক্ষেত্রে দশজনের মধ্যে ছ’জনই মহিলা। ১৯-৪৫ বছর বয়সি মহিলাদের মধ্যে করা এক সমীক্ষার ফলাফল, ৭৪ শতাংশ মহিলাই মনে মনে অনেক সময়ই শপিং করার কথা ভাবেন। কিছু কিনতে পারলে এক বিশেষ ধরনের সুখভোগ করেন এঁরা।

উইকএন্ডগুলিতে কিছু মহিলার কাছে বাড়ি বসে থাকার চেয়ে বাইরে গিয়ে কিছু কেনাকাটা করাটাই সময় কাটানোর শ্রেষ্ঠ উপায়। বাড়ির বাইরে বের হওয়াটাতে এই ধরনের মহিলারা একধরনের আত্মবিশ্বাস ফিরে পান ও শেষে কেনার মাধ্যমে, তা যেন পরিপূর্ণতা পায়। সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হল, এই কেনাকাটার পর সেইসব সামগ্রীর বেশিরভাগই পড়ে থাকে, ব্যবহৃত হয় না।

এসব শপ অ্যালকোহলিকদের মধ্যে, যেসব মহিলার স্বামীর দেওয়া হাত খরচ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে, তারাই একটু বুঝেশুনে কেনেন। অন্যরা কিন্তু চুটিয়ে শপিং উপভোগ করেই যান কারণ অনেকেরই হাতে এখন রয়েছে ক্রেডিট কার্ড। এছাড়া সমাজে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর উচ্চআয়কারী মহিলার সংখ্যা বাড়ার ফলে শপিং-মলে, প্রদর্শনীতে, আমরা পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের ভিড়ই দেখি বেশি। তাই বাড়তি খরচের আর্থিকসম্পন্নতা ও ক্রমবর্ধমান হারে বাজারে নানান ভোগ্যপণ্যের আগমনের ফলে, শপ অ্যালকোহলিকদের সংখ্যাও বাড়ছে।

 

 

 

শ্রীজা-র সংগ্রাম-কে স্যালুট

মূল ভারতের বেশিরভাগ গ্রামেই রান্নাবান্না, বাড়ির কাজে ব্যস্ততার মধ্যে দিন কাটে মেয়েদের। নিম্নবিত্ত পরিবারে একজন গৃহিনী হিসেবে, গৃহস্থালির সব কাজের দায়িত্ব তার কাঁধে ন্যস্ত হয় কিশোরীবেলা থেকেই। কিন্তু সেই ধারা ভেঙে যখন বেরিয়ে আসে কেউ কেউ, সমাজ তখন অগ্রগতির পথে এক ধাপ এগোল বলে মনে হয়।এমনই ঘটেছিল গত বছর শ্রীজার ক্ষেত্রে।

মায়ের মৃত্যুর পর যদি বাবাও বিমুখ থাকে, তাহলে সন্তানের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ যে খারাপ হবে, একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু মা-বাবা ছাড়া মামার বাড়িতে থেকে, বিহারের শ্রীজা দশম শ্রেণীতে ৯৯.৪% নম্বর পেয়ে চমকে দিয়েছে সবাইকে। এ এক মস্ত চ্যালেঞ্জ ছিল তার কাছে।

শ্রীজার যখন চার বছর বয়স, তখন তার মা মারা যান এবং ওর বাবা দ্বিতীয়বার বিয়ে করে নেন। শ্রীজা এবং ওর ছোটো বোন তখন অসহায়ের মতো দাদু-দিদার কাছে চলে যায়। ওদের বাবা কোনও খেয়ালই রাখতেন না কন্যাদের।মামার বাড়ি পাঠিয়ে প্রায় দায়মুক্ত হয়ে যান যেন। কিন্তু শ্রীজা প্রতিকূলতা কাটিয়ে লেখপড়ায় মন দেয়।

একটা সময় ছিল যখন সৎ মায়ের কাছে খুব অবহেলায় বড়ো হতো অনেক বাচ্চা। তখন যেমন একাধিক বিয়ের রীতি ছিল, ঠিক তেমনই সন্তানের সংখ্যাও বেশি ছিল। কিন্তু এখন তো প্রত্যেকেরই সন্তান এক কিংবা দুই। তাই বাচ্চারা অ্যাটেনশনও চায় অনেক বেশি। আর মা-বাবার সঙ্গে ছেলেমেয়ের এই ভালোবাসার বন্ধন দেখে, অনাথ বা পারিবারিক ভাবে অবহেলিত সন্তানেরা আরও কষ্ট পায় এখন। শ্রীজা এবং ওর বোনের ক্ষেত্রেও হয়তো এমনটাই হয়েছিল।

এখন বাচ্চাদের চাহিদাও অনেক বেড়ে গেছে। বড়োদের ব্যবহৃত পোশাক এখন আর ছোটোরা পরে না। মোবাইল, ল্যাপটপ, পেটিএম, হ্যাং আউট, রেস্তোরাঁ প্রভৃতি শব্দের সঙ্গে পরিচিত এখনকার ছেলেমেয়েরা। কিন্তু শ্রীজা-র মতো যারা মা-বাবা ছাড়া মানুষ হয়, বর্তমান সময়ে তাদের কষ্ট সহজেই অনুমেয়। তবে শ্রীজা কিছুটা ভাগ্যবতী ছিল এই কারণে যে, ওর মামা ওকে লেখাপড়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।

অনাথ বাচ্চাকে মানুষ করে তোলার মধ্যেও যে-আত্মসুখ পাওয়া যায় এবং তা যে যথেষ্ট সুখকর, তা অনেকে বোঝেন, আবার অনেকে বোঝেন না।

অনাথ বাচ্চারা যে আশ্রমে থাকলেই সুরক্ষিত থাকেন এমন কিন্তু নয়। অনেকক্ষেত্রে অনাথ শিশুদের উপর যৌন নিগ্রহের ঘটনাও ঘটে। তবু, অনাথ শিশুদের মানুষ করার ক্ষেত্রে, ভণ্ড সেবকদের থেকে মামা-কাকারা অনেক ভালো। তারা অন্তত শ্রীজাদের মতো স্টুডিয়াসদের লেখাপড়ার সুযোগটুকু করে দেন। তাই মা-বাবার আদর থেকে বঞ্চিত শ্রীজাও মামার সাহায্য পেয়ে তার কৃতিত্ব প্রমাণ করে দেখিয়েছে।

সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-৩২

এরকম জ্বালা তো ওর বড্ড পরিচিত। কস্তুরী উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করে। পড়ে যায়। মনে হয় কেউ ওর চারধারে রয়েছে। ওকে আঘাত করে, ওর নিস্তেজ শরীরটার দিকে এগিয়ে আসছে।

ওই তো কস্তুরী দেখতে পাচ্ছে। ওর ঠিক মুখোমুখি। অতিকায় একটা শরীর। কস্তুরী এত বড়ো শরীর আগে কখনও দেখেনি। একটা বুনোজন্তু গন্ধ বাতাসে ভেসে আসছে। তাহলে কি ও-ই আঘাত করেছে কস্তুরীকে?

উফঃ কী ভয়ানক যন্ত্রণা। একটু একটু করে ঝুঁকে আসছে দানব শরীরটা। লোমে ঢাকা মুখটা নীচু হচ্ছে। ওর দিকে এগিয়ে আসছে। নাহ একে চেনে না কস্তুরী। চোখদুটো কী অসম্ভব ধূর্ত। কী প্রখর দৃষ্টি। ওকে জ্বলে পুড়ে শেষ হতে দেখছে…

কস্তুরী বাতাসে আঁক কেটে ধরতে যায় শরীরটাকে। উঠতে চায়। কেউ যেন বলে, এসো এসো আরও কাছে এসো…।

( ১৩ )

এসো, বসো। তোমার বাড়ি কোথায়?

হাজরা।

কী করো তুমি? মানে কোন কোম্পানিতে চাকরি করছ?

একটা ছোটোখাটো অ্যানিমেশন স্টুডিওতে।

কতদিন হল চাকরি করছ? স্যালারি?

সামনের মাসে এক বছর হবে। ছহাজার, বছর পড়লে ইনক্রিমেন্টের কথা হবে।

এই কটা টাকায় সংসার করার কথা ভাবলে কী করে? আমার বড়ো জামাই টাটায় টেলকো ডিপার্টমেন্টে কাজ করে। মাইনের কথা আর কী বলব। এখনকার ছেলে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ। তাছাড়া তোমার বাবা-মা এই বিয়েছে রাজি হবেন? ওনারা জানেন তোমাদের কথা?

না জানেন না। তবে আমি ওনাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জানিয়ে দেবার চেষ্টা করব। আমার ইনক্রিমেন্টটা হয়ে গেলেই…।

তাহলে এখন তুমি কী বেসিসে কথা বলতে এসেছ? ওনাদের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা না করেই? তোমার বাবা-মা যদি রাজি না হন তাহলে কী করবে ভেবে দেখেছ? কোথায় দাঁড়াবে? ওই ছহাজারে ঘর ভাড়া পাবে কোথায় কলকাতা শহরে? শুনেছি তো তোমার বাবা ব্যাংকে চাকরি করেন, দোতলা বাড়িও আছে। এতদিন যে তোমারই ভাই আমাদের বাড়িতে যাতায়াত করছে, তার বিন্দুমাত্র টের পাইনি আমরা। একমাত্র পড়াশোনা ছাড়া বাকি সব কিছুতেই আমার মেয়ে বুদ্ধি আছে দেখছি। আমাদের ভালোরকম বোকা বানিয়েছে। নাকি এই বুদ্ধিগুলো তুমি দিয়েছিলে?

আমি আপনার মেয়েকে ভালোবাসি, আরও কয়েকটা বছর আমার সময় লাগবে, এটা ঠিক। কিন্তু আমি কস্তুরীকেই বিয়ে করতে চাই। আমার বাবা মাকেও আমিই রাজি করাব।

চেয়ারে বসে বসে বাপি-মায়ের সঙ্গে ওর নির্ভীক উত্তরগুলো শুনছিল কস্তুরী। অসম্ভব একটা দৃঢ়তা লেগে ওর গলায়। এটা ভালোবাসা ছাড়া আর কী? ও নিজেই ভুল বুঝেছিল। চিনতে পারেনি! সেদিন ওর ভাইয়ে হাত দিয়ে চিঠিটা পাঠানোর পর উত্তর এসেছিল। নিজেই আবার দেখা করতে চেয়েছিল বু।

যে মানুষটা নিজেই সবকিছু শেষ হবার ইঙ্গিত দিয়েছিল যখন সেই মানুষটাই পায়ে পায়ে এসে দাঁড়িয়েছিল কস্তুরীর সামনে, এভাবে একা থাকতে সে পারবে না। তখনই একসাথে হাজার মাদল বেজে উঠেছিল কস্তুরীর মন উঠানে। দমকা হাওয়ার মতো উবে গেছিল মনের যাবতীয় সন্দেহ। জেনেছিল, স্বাগতা শুধুই ওর বন্ধু। ও কস্তুরীর কথাও স্বাগতাকে জানিয়েছে। কস্তুরী চাইলে ওকে যে-কোনও সময় স্বাগতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পারে।

বু হাতে হাত ছুঁয়ে নিতান্ত চেনা মানুষের মতো আদুরে গলায় বলেছিল, আমি ভয় পেয়ে গেছিলাম কস্তুরী। ছোটো থেকেই আদপে বড্ড ভীতু আমি। তাই পিছু হটছিলাম। আরও একটু সময় দাও। আমার পাশে থাকবে। ঠিক একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

কিন্তু সেই সময়টা সত্যি কি পাব আমি? আমাদের বাড়িতে যেভাবে তোড়জোড় চলছে। বাপির একটা জমি বিক্রি হয়েছে, অনেকটা থোক টাকা বাড়িতে এসেছে। দিদি এখন নিশ্চয়ই একটা কিছু করবে। তুমি একবার বাপি মায়ের সঙ্গে কথা বলবে। তারপর দেরি হলেও।

উত্তরে কস্তুরী বলেছিল, ঠিক আছে দেখছি। আমি যাব। কস্তুরীর কথাতে রাজি হয়ে এভাবেই ছুটে এসেছে ভালোবাসার মানুষটা।

কিন্তু তোমার সঙ্গে কথা বলে আর কতটুকু বুঝব? আমরা তোমার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চাই। কোন ভরসায় আমরা মেয়েকে বাড়ি রেখে দেব বলতে পারো? আমাদের বাবু যে তলে তলে এমন একটা কাজ করে রেখেছে তা কি আমরা জানি? মাপু বলেছিল একদিন ঠিক মুখ পোড়াবে। আর ঠিক তাইই হল। রাগে গজগজ করতে করতে বলেছিল কস্তুরীর মা।

কস্তুরী মনে মনে বুঝেছিল এবারের লড়াইটা আর ওর একার নয়। ওদের দুজনের। ওদের দুজনকে এগিয়ে যেতেই হবে। পার্ট টু পরীক্ষাটা আরও ভালো করে দিতে হবে। একটা চাকরির চেষ্টা ওকেও করতেই হবে।

ক্রমশ…

যখন আপনি over stressed

সকাল সকাল অফিসের কাজে ডুবে যাওয়া, সারা দিন তাতেই মগ্ন থাকা, ডেডলাইন মিট করতে রাতের পর রাত জেগে কাজ করা, সব মিলিয়ে শরীরের রুটিনের বারোটা বাজতে বেশিক্ষণ লাগে না। সত্যি বলতে একটানা রাত জেগে কাজ করার অভ্যেস থাকলে তা শরীরের নানাভাবে ক্ষতি করতে পারে। ঘুমোনোর রুটিন তো ঘেঁটে যায়ই, খিদে নষ্ট হওয়া, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার মতো নানা উপসর্গ দেখা দেয়।  Over stressed lifestyle – এ দিনের পর দিন রাত জেগে কাজ করলে অনেক বড়ো শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

সমস্যার ধরন

শুধু কি শারীরিক সমস্যা? রাতের পর রাত জেগে কাজ করলে শরীরের পাশাপাশি পারিবারিক জীবনেও ঝড় ওঠার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠতে পারে! প্রথমত আপনার ফ্যামিলি লাইফ বলে কিছু আর থাকে না, পুরোটাই অফিসের সময় হয়ে যায়। দুই, বাড়ির কাজ, দায়দায়িত্বও আপনি সেভাবে আর নিতে পারেন না সময়ের অভাবে। ফলে অফিস ও পরিবার, দু’দিক থেকেই একটা চাপ কাজ করতে শুরু করে যার অবশ্যম্ভাবী ফল বাড়তি স্ট্রেস! আর সেই স্ট্রেসের ফল ফের গিয়ে পড়ে শরীর আর মনের উপর! এই কারণেই নাইট শিফটের কর্মীদের অনেকেই শারীরিক মানসিকভাবে সহজেই বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন। রোজ এক্সারসাইজ করার হ্যাবিট গড়ে তুলুন, stress free থাকতে।

 টাইম ম্যানেজমেন্ট

হাতে যদি কাজের চাপ থাকে, তা হলে ম্যানেজ দিতে রাত জেগে কাজ করা ছাড়া উপায় কী! উপায় আছে আর সেটার নাম টাইম ম্যানেজমেন্ট! আপনার যদি বিশেষ করে নাইট শিফটের কাজ না হয় বডি ক্লকের বারোটা না বাজিয়ে বরং শিখে নিন কীভাবে অফিসের সময়টা পুরোটা কাজে লাগাবেন আর পরিবারের সময়টা বরাদ্দ থাকবে শুধুই পরিবারের জন্য!

কাজের রুটিন বানিয়ে নিন
আজকের দিনে আপনার হাতে কী কী কাজ আছে, আর কোন কাজগুলো আজই সেরে ফেলতে হবে তার একটা লিস্ট বানিয়ে রাখুন আগের রাতে। যদি হাতে অনেক কাজ জমে গিয়ে থাকে, তা হলে রাত না জেগে বরং ভোরবেলা উঠুন। সকালের দিকে আপনার এনার্জি লেভেল বেশি থাকে, আর চারপাশটাও নিরিবিলি থাকে। ফলে তখন মন দিয়ে কাজ করতে পারবেন।

প্রায়োরিটি ঠিক করুন
কোন কাজটা আগে জমা দিতে হবে, কোনটা দু’দিন পরে দিলেও চলবে, সেটা ঠিক করে নিন। এবার প্রতিটি কাজের জন্য সময় বেঁধে নিন মনে মনে এবং চেষ্টা করুন সেই সময়ের মধ্যে কাজটা শেষ করতে। তাতে অনেকটা এগিয়ে থাকতে পারবেন।

কাজ নিয়ে বসে থাকবেন না
কাজের ফাঁকে অনেকেরই একটু গেম খেলা, একটু সোশাল মিডিয়া দেখার অভ্যেস থাকে। হালকা ব্রেক নিতে একটু আধটু এ সব করতেই পারেন, কিন্তু এটাই যেন নিয়ম হয়ে না যায়! তা হলে কিন্তু সময় নষ্ট হবে আর কাজের বোঝা বাড়তেই থাকবে! সারাদিনে ওয়ার্কিং আওয়ারের মধ্যে পনেরো মিনিটের বেশি সোশাল মিডিয়া বা গেমের পিছনে নষ্ট করবেন না! বরং দ্রুত কাজগুলো সেরে ফেলুন, তারপর ইচ্ছেমতো অবসর কাটান।

জটিল কাজগুলো আগে করে নিন
কাজের নানা রকমফের হয়। কোনওটা সহজেই হয়ে যায় আবার কোনওটা করতে সময় বেশি লাগে। আবার কোনওটা শেষ করতে অপরের সহায়তা দরকার হয়। সহজ কাজগুলো পরে করবেন, অপেক্ষাকৃত সময়সাপেক্ষ কাজ বা যে কাজ করতে অপরের ইনপুট প্রয়োজন, সেগুলো আগে শেষ করুন। তাতে মাথা থেকে বোঝা নেমে যাবে, সহজ কাজগুলো চটপট করে ফেলতে পারবেন।

‘না’ বলতে শিখুন
অনেক সময়ই আমাদের সহকর্মীরা নিজেদের কাজ আমাদের উপর চাপিয়ে দেন। সব ক্ষেত্রে না বলা সম্ভব নয়, কিন্তু প্রয়োজনে অবশ্যই ‘না’ বলুন। হাতে খুব বেশি কাজের চাপ থাকলে আগে সেটাই শেষ করা আপনার দরকার, সহকর্মীকে পরেও সাহায্য করতে পারবেন!

মহিলাদের আর্থিক ভাবে সাবলম্বী হওয়ার উপায়

মহিলাদের জন্য অধিক আর্থিক নিশ্চয়তা এবং কেরিয়ার গঠন করার জন্য নতুন নতুন উদ্যম, মহিলাদের আর্থিক ভাবে সাবলম্বী করে তোলার মাধ্যম হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে কোথায় কোথায় আর্থিক বিনিয়োগ করলে লাভ বেশি পাওয়া যাবে, সেটা বুঝে নেওয়াটা খুব জরুরি।

বিনিয়োগ করার অর্থ-ই হল, ভবিষ্যতের জন্য চিন্তাভাবনা করে বর্তমান সময়ে প্রস্তুতি নিয়ে নেওয়া— যাতে ভবিষ্যতে মুশকিলে না পড়তে হয়।

প্রস্তুতি নিন এখনই

প্রথম থেকেই মহিলাদের বুঝে নিতে হবে, টাকা-পয়সার যোগান বন্ধ হয়ে গেলে বাস্তবে কী কী বিপদের সম্মুখীন হতে হবে। উপার্জন এবং খরচের একটা হিসেব রেখে তার থেকেই অর্থ জমাবার একটা উপায় করতে হবে। পেশা এবং জীবনশৈলীতে ছেদ টানতে পারে, এমন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি থেকে নিজেকে এবং প্রিয়জনদের (বয়স্ক মা-বাবাও শামিল এর মধ্যে) সুরক্ষা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জীবনবিমা এবং স্বাস্থ্যবিমা করানো উচিত। পরিবারের জন্য সবথেকে ভালো এবং বিপন্মুক্ত Investment হল জীবনবিমা এবং স্বাস্থ্যবিমা ।

একক মহিলাদের নিজের উপর ভরসা রেখে ভবিষ্যতের বোঝা থেকে বাঁচার একটা উপায় খোঁজা উচিত। হঠাৎই কোনও খরচার সম্মুখীন হওয়া যেমন, বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মেরামতি, কোথাও বেড়াতে যাওয়া অথবা কিছুদিনের জন্য ঋণ নিয়ে সেটা শোধ করার প্রয়োজনীয়তা বা গাড়ি কেনা, ভবিষ্যতের জন্য আর্থিক ভাবে সাবলম্বী হওয়া অর্থাৎ রিটায়ারমেন্ট-এর পরের অবস্থা, ঋণ থাকলে সেটা শোধের ব্যবস্থা— এই সবকিছুর জন্যই Investment করা অত্যান্ত জরুরি। যে- যোজনাগুলিতে বিনিয়োগ করলে রিটার্ন-এর সুবিধা পাওয়া যায়, সেগুলির মধ্যে রয়েছে লিকুইড ফান্ড, মানিব্যাক বিমা পলিসি, রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান ইত্যাদি।

পুরুষদের মতো মহিলাদেরও বড়ো বড়ো স্বপ্ন দেখা উচিত, যেমন নিজের নামে জমি, বাড়ি কেনা, নিজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা। এর জন্য বর্তমানের প্রয়োজন কী এবং রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান কী কী আছে, সেগুলিও মহিলাদের মনোযোগ সহকারে দেখা কর্তব্য।

যদি আর্থিক ভাবে আপনি নিজেকে স্বনির্ভর মনে করেন এবং আপনার বয়স ৪০-এর কোটা পার হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে জেনে রাখুন আগামী ৪০ বছরকে সুরক্ষিত করতে আপনার হাতে ১৫ থেকে ২০ বছর সময় আছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেকেই নিজে কয়েকটা প্রশ্ন করুন, যেমন—

আমি কি জানি, আসলে আমার রোজগার কত এবং খরচা কত ?

যদি না জানেন তাহলে দৈনন্দিন সবকিছুর হিসেব রাখা শুরু করুন। হয়তো দেখবেন প্রতি মাসে এমন কিছু ব্র্যান্ডেড জিনিসের পিছনে ছুটেছেন যেটা অর্থহীন অথচ আপনার পকেটের জন্য একটা বড়ো ভারও বটে।

আমি কি অর্থ ‘সঞ্চয়’ করছি না ‘বিনিয়োগ’ করছি?

দুটো কিন্তু আলাদা আলাদা জিনিস। খরচ না করাটাই কিন্তু ‘সঞ্চয়’ করা। আপনার অর্থ ব্যাংকে পড়ে রয়েছে যার উপর মাত্র ৪ শতাংশ সুদ পাচ্ছেন আপনি। অথচ এর উপর সরকার ‘ট্যাক্স’-ও কাটছে আপনার থেকে। যেখানে মূল্যবৃদ্ধির হার শতকরা ৬ শতাংশ, সেখানে ব্যাংকে রাখা টাকার মূল্য দিনে দিনে কমছে সেটা বলাই বাহুল্য। তাছাড়া ওই টাকাটা ভবিষ্যতের কতটা বোঝা হালকা করতে পারবে?

৫ বছর পরে আমার জীবনে কী ঘটবে সেটা কি এখনই দেখতে পাচ্ছি ?

২০ থেকে ২৫ বছর পর কীসের প্রয়োজনীয়তা বেশি, অর্থাৎ গুরুত্ব অনুসারে কোন কাজটা আগে বাছা উচিত এবং নিজের জীবন কীভাবে কাটাব, সেই কল্পনাও আমরা বেশিরভাগই করে উঠতে পারি না। সুতরাং ৪০ বছর হওয়ার প্রশ্ন তো ছেড়েই দিন। আমরা সাপোর্ট সিস্টেম হিসেবে বিনিয়োগের প্রয়োজন উপলব্ধি করতে পারি না। বিশেষ করে মেয়েরা সামাজিক সম্পর্ক এবং পরনির্ভরতার বশবর্তী হয়ে জীবন কাটিয়ে দেয়, অর্থের প্রয়োজনীয়তা বোঝার চেষ্টা খুব একটা করে না। কিন্তু আপনি একক। সুতরাং সময় থাকতেই রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানগুলো নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করা খুব দরকার।

আমি কি নিজেকে এবং আমার উপর নির্ভরশীলদের কোনওরকম আকস্মিক বিপদ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি?

অনেকেই একলা এবং ৪০ বছরের বেশি হয়ে গেলেই ভাবতে শুরু করে যে আমার দায়দায়িত্ব নেই। অথচ তার বুড়ো মা-বাবা থাকতে পারে বা আত্মীয়পরিজন, যারা তার ব্যাপারে রীতিমতো চিন্তা করে। ভালো বন্ধু কেউ থাকতে পারে। তবে সবচেয়ে জরুরি বিষয়টি হল, নিজের প্রয়োজনেই নিজের ভালো ভাবে দেখাশোনা করা উচিত।

মহিলাদের উচিত বিনিয়োগ যোজনাগুলি নিয়ে সচেতন এবং সুচিন্তিত পদক্ষেপ নেওয়া। নিজের জীবনবিমা থেকে শুরু করে মা- বাবার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সবরকম প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকাটা খুব দরকার। বর্তমানের কথা খেয়াল রাখার সঙ্গে সঙ্গে একক মহিলাদের, রিটায়ারমেন্টের জন্য সুরক্ষিত পেনশন যোজনায় Invest করা উচিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে। আসল কথা হল এখন সময় এসেছে আর্থিক ভাবে সাবলম্বী মহিলাদের নিজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার।

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব