বর্ষার পোশাক

বর্ষার অবিরল বারিধারায় এককথায় মনে আসে বর্ষাতির কথা। পোশাকের উপর বর্ষাতি চাপিয়ে নিলেই জামাকাপড় ভেজার ভয় নেই। কিন্তু অনেক রকমের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হলে শুধুমাত্র বর্ষাতি চাপালেই চলে না। যেমন হেঁটে পথ চলার সময় বর্ষাতি চাপিয়ে নিলে সুবিধা হয় ঠিকই কিন্তু রাস্তার জমে থাকা বৃষ্টির জলে পোশাক ভিজবেই। এছাড়াও পাবলিক ট্রান্সপোর্টে উঠতে গেলেও ভিজে বর্ষাতি গায়ে ওঠা একেবারেই সম্ভব নয়। বর্ষাতি গা থেকে খুলে ফেললেই বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবেই।

বর্ষাকালে বৃষ্টি বলে কয়ে আসে না। যে-কোনও মুহূর্তে কাজের জন্যে রাস্তায় বেরিয়ে হঠাৎই বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া এবং তারপর অফিসে বসে ভিজে কাপড়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করা কর্মরতা মহিলা-পুরুষ উভয়ের জন্যেই বিরক্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। সুতরাং বর্ষার জন্যে উপযুক্ত পোশাক যদি বেছে নেওয়া যায় তাহলে পরিস্থিতি অনেকটাই সামলে ওঠা যায়। বর্ষার জন্যে সুতি, লিনেন ইত্যাদি ফ্যাব্রিক একেবারেই উপযুক্ত নয়। বরং এই মরশুমে বেছে নিন পলিকটন, ক্রেপ, পলিয়েস্টার, নাইলন ইত্যাদি ফ্যাব্রিকের তৈরি পোশাক।

বর্ষায় কী ধরনের পোশাক পরবেন এবং কী পরবেন না

১)  জর্জেট, শিফন কাপড়ের তৈরি পোশাক অ্যাভয়েড করুন কারণ বর্ষায় ভিজে গেলে শরীরের সঙ্গে লেপটে থাকে ফলে দেখতে বিশ্রী লাগে।

২)  এমন পোশাক পরা উচিত যা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।

৩)  চেহারা যদি স্থূল হয় তাহলে বডি হাগিং পোশাক একেবারেই পরা উচিত নয়।

৪)  প্রয়োজনে হাঁটু অবধি পোশাক পরতে পারলে ভালো।

৫)  জমকালো গাঢ় রঙের প্রিন্ট-এর পোশাক বেছে নিন।

৬)  টাইট ফিটিং-এর পোশাক এড়িয়ে চলুন।

৭)  বর্ষাকালে সবসময় নিজের ব্যাগে একটা আলাদা পোশাকের সেট রেখে দেওয়া উচিত যাতে প্রয়োজনে পোশাক বদলানো যেতে পারে। এই মরশুমে গোলাপি, সবুজ, নীল, অরেঞ্জ ইত্যাদি রঙের পোশাক দেখতে ভালো লাগে।

৮)  ক্যাজুয়াল লুকের জন্যে কেপরি, স্কার্ট, লুজ প্রিন্টেড শার্ট এবং প্যান্ট খুব ভালো। গ্ল্যামারাস লুক পেতে হলে কাফতান, টিউনিক্স, শর্ট ড্রেস খুব সুন্দর লাগবে। এছাড়া যারা ড্রেস পরতে অভ্যস্ত নন তাদের জন্যে রয়েছে বর্ষায় পরার মানানসই শাড়ি যা ভিজে গেলেও সহজে শুকিয়ে নেওয়া যাবে। সিন্থেটিক শাড়ি এই মরশুমে পরার জন্যে ‘দ্য বেস্ট’।

পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুতো এবং গয়নাও আবশ্যক। লেদার জুতো এই বর্ষার মরশুমে একেবারেই চলবে না। দোকানে, বর্ষায় পরার জুতো এখন সবসময় পাওয়া যায়। হালকা গয়না পরা যেতে পারে এবং ওয়াটার প্রুফ মেক-আপ বর্ষাকালে অত্যন্ত জরুরি।

 

হারিয়ে যাওয়া সেই খেলাঘর

পুরোনো দিনের কথা আজ বড়ো বেশি মনে পড়ছে নীলিমার। শহর প্রায় স্তব্ধ। মেয়ের কাছে বেড়াতে এসে আটকে পড়েছেন মুম্বই শহরে। বাড়িতে নাতি, নাতনি রয়েছে, ওদের কষ্টটাই বড়ো ভাবাচ্ছে নীলিমাকে। দুধের শিশু, সারা বিশ্ব সংসারে কী হচ্ছে কতটুকুই বা ওরা বুঝছে!

দুই সপ্তাহ হয়ে গেল হঠাৎ করে স্কুল বন্ধ হয়ে গেল। প্রথম কটাদিন বেশ কেটেছে হঠাৎ পাওয়া ছুটির আনন্দে। কিন্তু এখন শুধুই পড়াশোনা সঙ্গে মোবাইল গেম, টিভি দেখা। কতক্ষণ আর বাচ্চার ভালো লাগতে পারে। এছাড়া মোবাইল বা টিভির পর্দায় বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে দেওয়া যায় না বাচ্চাদের। ডাক্তাররা বারবার সাবধান করছেন এতে শিশুর চোখের ক্ষতি হবে।

অথচ নীলিমার মনে হল তাঁদের সময় কোথায় ছিল এই মোবাইল, টিভি। তবুও তো তাঁরা কোনওদিন বোর ফিল করেননি। সবসময় মা বাবার কড়া শাসনে থাকতে হয়েছে। স্কুল আর বাড়ি। খুব বেশি হলে বাড়ির সামনের ছোট্ট একফালি জমিতে চার-পাঁচজন বন্ধু মিলে একটু দৌড়াদৌড়ি। চোর-পুলিশ খেলা। সবাই লুকোবে একজন খুঁজবে। প্রথম যে ধরা পড়বে সে আবার পরের সবাইকে খুঁজবে। কী মজাটাই না হতো। আর বাড়ির উঠোনে সেই চু… কিত্ কিত্ খেলা। কে কতক্ষণ দম ধরে রাখতে পারে। চক দিয়ে ঘর কেটে এক পায়ে খেলতে হতো।  পাথর বা ইটের টুকরো দিয়েই কাজ চলত। নীলিমা মনে মনে হাসলেন, দমে ওনাকে কেউ হারাতে পারত না।

দস্যি মেয়ে বলে খ্যাতি ছিল ঠিকই কিন্তু পাড়ায় আর সব সমবয়সীদের সঙ্গে পুতুলের বিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে রান্নাবাটি খেলা এগুলোও বাদ দেননি। পুতুলের বিয়ে মানে সে কী ধুমধাম। সবার বাড়ি থেকে একটা একটা রান্না করা জিনিস একত্রিত হতো। রীতিমতো সবাইকে নেমন্তন্ন করে খাওয়ানো হতো। বাড়িতে মায়েরাও কনেকে বেনারসিতে সাজিয়ে দিতেন সে মেয়ের পুতুল হোক না কেন। গরমে স্কুলের ছুটি পড়লে কারো না কারো বাড়িতে তার পুতুলের বিয়ে লেগেই থাকত।

বাড়িতে দাদা ছিল নীলিমার। ইংরেজি স্কুলে পড়ার দৌলতে ওর স্ট্যান্ডার্ড একটু হাই ছিল- নিজের মনেই একটু হেসে নিলেন নীলিমা। ওর সঙ্গে বসেই বেশিরভাগ নীলিমা চাইনিজ চেকার, ক্যারাম, লুডো এগুলো খেলতেন তবে সেটা খানিকটা বড়ো হয়ে। মা বাবাও অনেক সময় তাদের সঙ্গে এসে যোগ দিতেন। দাদার সঙ্গে সাপ লুডো খেলতে বসলে শেষ হতো ঝগড়ায় কারণ বেশিরভাগ তাঁরই পাকাগুটি সাপের মুখে যেত। সেটা নিজের অসাবধানতা ছিল নাকি দাদার চালাকি আজও নীলিমার অজানা।

বাড়িতে একটা বাগাডুলি ছিল। খেলার সাথি কেউ না থাকলে একা বসেই লাঠি দিয়ে বলগুলো ঘরে ফেলবার চেষ্টা করতেন। পয়েন্ট কত হল নিজের মনেই হিসেব করতেন আর খাতায় লিখে রেখে দিতেন।

সান্যাল কাকুর কথা মনে হল নীলিমার। ক্লাস এইট এ যখন নীলিমা, কাকু লন্ডন থেকে একটা বোর্ড গেম ওকে উপহার দিয়েছিলেন নাম ‘মনোপলি’। টাকার বিনিময়ে প্রপার্টি কেনা বেচার খেলা। বুঝতে একটু সময় লেগেছিল কিন্তু দারুণ ইন্টারেস্টিং একটা খেলা।

দাদা যেহেতু ইংরেজি স্কুলে পড়ত ওর হাত ধরেই নীলিমা বেশ রপ্ত করে ফেলেছিলেন টেবিল টেনিস খেলাটা। বাবা প্রাকটিস করার জন্য টেবিল টেনিস ব্যাট কিনে দিয়েছিলেন দাদাকে। সেটা দিয়েই খাবার টেবিলে চলত টেবিল টেনিসের প্রশিক্ষণ। নিজেদের স্কুলে অবশ্য ব্যাডমিন্টন খেলাটা শিখেছিলেন খেলার দিদিমণির কাছে। দিদিমণি জানতেন নীলিমার খেলাধুলোর উপর বিশেষ আকর্ষণ আছে।

নীলিমার মনে হল মায়ের কাছে বসে সামান্য সেলাই বোনা ছাড়া আর পড়াশোনাটুকু করা ছাড়া খেলার সময় ছিল প্রচুর। বিয়ের আগে রান্নাঘরে তাঁকে ঢুকতে হয়নি। তাই বলে কী পড়াশোনা হয়নি? অর্থনীতি নিয়ে স্নাতক হয়েছেন।

আজ বারবার এটাই মনে হচ্ছে নীলিমার, সামগ্রিক বন্দি হয়ে পড়া জীবনে এরকম হারিয়ে যাওয়া কিছু খেলাই হয়তো শিশুদের জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।

গরমের সমস্যা

গরমে মানুষের প্রাণান্ত অবস্থা হয়। প্রচণ্ড রোদের তাপে ত্বক শুষ্ক, ডি-হাইড্রেটেড হয়ে পড়ে। সরাসরি সূর্যের তাপ ত্বকের ক্ষতি করে। সুতরাং রোদে ত্বকের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

ত্বকে রোদের প্রভাব

গ্রীষ্মে রোদের তেজ প্রখর হয়। রোদে বেরোলে ঘাম হয়, ত্বক জ্বালা করে। অনেকের ত্বকেই লাল চাকা চাকা র‍্যাশ বেরিয়ে ত্বক ফুলে ওঠে এবং দাগ হয়ে যায়। সংবেদনশীল ত্বকেই এই সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। এই পরিস্থিতি এড়াতে হলে ত্বককে সরাসরি সূর্যের তাপ থেকে বাঁচানো দরকার। এছাড়া শরীরের যে-অংশ পোশাকে ঢাকা থাকে না, সেই খোলা ত্বকে নিয়মিত সানস্ক্রিন ক্রিম অথবা লোশন লাগান রোদে বেরোবার আগে। সাধারণত মুখ, ঘাড়, গলা এবং হাতে সানব্লক লোশন লাগাবার দরকার পড়ে। সুতির পোশাক গরমের দিনে আদর্শ। গরমে ত্বককে শীতল করতে সন্ধের সময় অ্যালোভেরা জেলের ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন।

ডি-হাইড্রেশন থেকে ত্বককে বাঁচান

গরমকালে ঘাম হয়ে শরীর যেমন ডি-হাইড্রেটেড হয়ে পড়ে তেমনি ত্বকের ডি-হাইড্রেশনের সমস্যাও হয়ে থাকে। ক্রমাগত ঘাম হতে থাকার কারণে শরীরে জল কমে যায়। জলের অভাব পূরণ করার জন্যে পর্যাপ্ত পানীয় নেওয়া আবশ্যক নয়তো ত্বক রুক্ষ, শুষ্ক এবং নিষ্প্রাণ ও অনুজ্জ্বল হয়ে পড়ে। ঠোঁট ফেটে যায়। এই সমস্যা রোধ করার জন্য প্রতি আধ ঘণ্টা অন্তর জল খাওয়া উচিত। রসালো ফল, যেমন তরমুজ, ফুটির মতো ফল শরীর এবং ত্বকের জন্য গরমে খুব উপকারী। ত্বককে হাইড্রেট করার জন্য কিছু ডিপ হাইড্রেটিং ট্রিটমেন্ট রয়েছে যেমন হাইড্রেটিং ইলেক্ট্রোপোরেশন থেরাপি, অক্সিজেন থেরাপি, জুভেডার্ম রিফাইন ইত্যাদি।

ব্যাকটিরিয়াল সংক্রমণ

গ্রীষ্মের আবহাওয়া, ব্যাকটিরিয়া এবং ভাইরাস গ্রোথের জন্য অনুকূল। সর্বত্র ব্যাকটিরিয়ার উপস্থিতি থাকলেও খালি চোখে তাদের দেখা যায় না। যারা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করেন, ভিড়, কনজেসটেড জায়গায় যাতায়াত করেন তাদের ব্যাকটিরিয়াল সংক্রমণ হওয়ার ভয় বেশি থাকে। বাস, ট্রামে ওঠার সময় হ্যান্ডেল ধরতে হয়, সিট বা জানলায় অজান্তেই আমরা হাত দিয়ে ফেলি। এইসব জায়গায় ব্যাকটিরিয়া জমা হয়ে থাকে। পরে ওই হাত অসাবধানতাবশত নিজেদের মুখে দিয়ে ফেলি। এইভাবে সংক্রমণ ছড়াতে থাকে। সুতরাং হাত পরিষ্কার রাখার জন্য সঙ্গে হ্যান্ডওয়াশ রাখলে ভালো। কয়েক ঘণ্টা পরপর হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধুয়ে ফেললে সংক্রমণের ভয় থাকবে না। হাত ধুতে যদি অসুবিধা থাকে তাহলে হ্যান্ড স্যানিটাইজারও ব্যবহার করা যেতে পারে এবং বারবার মুখে হাত দেওয়ার বদভ্যাস ছাড়তে হবে।

গরমে ব্রণ, ফুসকুড়ির সমস্যা

গরমকালে ঘাম হলে ধুলো ময়লা এবং দূষণের কারণে ত্বক সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘর্মাক্ত কলেবরে ধুলো ময়লা সহজে আটকে ধরে এবং ত্বকের কোশ বন্ধ হয়ে যায়। ত্বকের এই অবস্থা, ব্রণ, ফুসকুড়ির মতো সমস্যা তৈরি করে। ত্বকের কোশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভিতরে ব্যাকটিরিয়াগুলি আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। ব্রণর সমস্যা হ্রাস করার জন্য ত্বক পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। সঙ্গে সবসময় ফেসওয়াশ রাখা খুব দরকার। ত্বক পরিষ্কার রাখার জন্যে সারাদিনে কম করে চারবার মুখ ধোওয়া উচিত। ত্বকের রোমছিদ্র যাতে বন্ধ না হয় সেজন্য রোজ সন্ধেবেলা ভালো কোয়ালিটির স্কিন ক্লিনজার অথবা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। রাত্রে মুলতানি মাটি অথবা চন্দন পাউডারের প্যাক লাগান, এতে ত্বক ঠান্ডা থাকবে। ত্বকে ব্রণর সমস্যা যদি ঘরোয়া উপায়ে ঠিক না হয়, তাহলে স্কিন স্পেশালিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করুন কারণ হরমোনাল ইমব্যালেন্স-এর জন্যও ব্রণর সমস্যা হতে পারে।

ঘামাচির সমস্যা

গরমে ত্বক বেশিমাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং ছোটো ছোটো কারণেই ত্বকে ইরিটেশন হতে থাকে। ঘামের সমস্যা শুরু হয়। রাস্তার ধুলোমাটি ঘামে আটকে রোমকূপের ছিদ্র বন্ধ করে দেয় ফলে ত্বক শ্বাস নিতে পারে না। ত্বক লাল লাল র‍্যাশে ভরে যায় এবং চুলকোতে থাকে। এর থেকে বাঁচতে ত্বক পরিষ্কার রাখা বাঞ্ছনীয়। দিনে অন্তত তিনবার স্নান করুন। সারাদিনের ঘোরাঘুরির পর রাত্তিরে স্নান করা একান্ত জরুরি। স্নানের সময় অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল সোপ অথবা বাথ জেল ব্যবহার করুন। ত্বক সবসময় শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। ত্বকে যেখানে ঘামাচি হয়েছে সেখানটা বরফ ঘষুন, এতে জ্বালা ভাব কিছুটা কমবে। পরিস্থিতি না শোধরালে ডাক্তার দেখান।

ট্যানিং-এর সমস্যা

ত্বক সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির সংস্পর্শে এলে, ত্বকে উপস্থিত মেলানিন, ত্বককে বাঁচাতে একটা সুরক্ষাকবচ তৈরি করে। মেলানিনের কারণেই ত্বকে ডার্ক স্পটের সমস্যা হয়। কখনও কিছু কিছু জায়গায় আবার কখনও পুরো ত্বক জুড়ে এই সমস্যা হয়ে থাকে যাকে স্কিন ট্যানিং বলা হয়। এই ধরনের সমস্যায় ৩০ এসপিএফ যুক্ত সানস্ক্রিন অল্প সময়ের ব্যবধানে ত্বকে লাগানো উচিত। ট্যানিং-এর প্রভাব দূর করার জন্য লেজার স্কিন রিজুভিনেশন, কেমিক্যাল পিলস অথবা মাইক্রোডার্মাব্রেজন এর মতো চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্য নিন। এই ছোটো ছোটো অথচ গুরুত্বপূর্ণ টিপসগুলি মেনে চললে গরমে মন খুলে বেড়ানোর মজা যেমন উপভোগ করতে পারবেন তেমনি স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, সুন্দর ত্বকও বজায় রাখতে পারবেন।

 

কেমন হবে ঘরের সাজ

বহু মানুষ আছেন যারা কেবল নিজের সাজ-পোশাককেই গুরুত্ব দেন। কিন্তু কিছু মানুষ আবার ভীষণ শৌখিন মানসিকতার। তারা নিজেদের পোশাক-আশাকের ব্যাপারেও যেমন চুজি, তেমনি বাড়িঘর সাজানোর ক্ষেত্রেও ভীষণ ভাবে পারফেক্টশনিস্ট। বেডরুমের রং কেমন হবে, লিভিংরুমে কোন আসবাবপত্র রাখলে মানানসই হবে, কার্টেনের কালার কোনটা হলে ভালো লাগবে– সব ব্যাপারেই ভীষণ খুঁতখুতে তারা। কেউ কেউ তো আবার ঘরে ক্লাসি লুক আনার জন্য বিশেষজ্ঞেরও পরামর্শ নিয়ে থাকেন। কোন রুমের কোন দেয়ালে ডার্ক শেড হবে আবার কোনটা হালকা, কোথায় কোন আসবাবপত্র রাখলে ভালো লাগবে, বাচ্চাদের রুমের ডেকোরেশন কেমন হবে– পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সমস্ত কিছুই বাতলে দেন তারা। আবার এমন অনেকেই আছেন যারা কোনও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই ঘরের পুরোনো আসবাব দিয়েই ঘরকে নতুন ভাবে নিজের মনের মতো করে সাজিয়ে তুলতে চান। কিন্তু ভাবছেন কোনটা দিয়ে শুরু করবেন। তাদের জন্য রয়েছে কিছু পরামর্শ।

দেয়াল রাঙান

ঘর সাজানোর প্রথম ধাপই শুরু হয় রং দিয়ে। রং-ই হল আনন্দের উৎস। তাই রং এমন হওয়া উচিত যা আপনাকে পজিটিভ এনার্জি জোগাবে। যেহেতু আমাদের দেশে গ্রীষ্মের প্রাধান্য বেশি, তাই একটু হালকা শেড বাছলেই ভালো হয়। সেক্ষেত্রে বেডরুমের কালার হিসাবে বাছতে পারেন হালকা আর গাঢ় নীলের কম্বিনেশন। ক্রিমের সঙ্গে গ্রিন অ্যাপল। লিভিং রুম রাঙিয়ে তুলতে পারেন গোল্ডেন ইয়েলো বা হালকা পিংক দিয়ে। বাচ্চাদের ঘরের জন্য হালকা সি-গ্রিন, কচিকলাপাতা অথবা লাইট পিংক একেবারে আদর্শ। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন অতিরিক্ত ডার্ক শেড গরমে কখনওই বাছবেন না বরং এমন রং বাছুন যা চোখের পক্ষে সুদিংও।

আসবাবপত্রের স্থান পরিবর্তন

ঘরকে নতুন আর স্টাইলিশ লুক দিতে হলে মাঝেমধ্যেই আসবাবপত্রের জায়গা পরিবর্তন করা দরকার। খাটের ডিরেকশন থেকে শুরু করে সোফা, সাইড টেবিল, শোকেস এবং ঘরের অন্যান্য আসবাবের স্থান পরিবর্তন বাঞ্ছনীয়। তবে প্রয়োজন ছাড়া ঘরে বাড়তি ফার্নিচার না রাখাই ভালো।

পর্দা এবং কভারস্

মূলত ঘরের রঙের উপর বেস করেই পর্দা বানানো হয়ে থাকে। আপনার ঘরের রং যদি অরেঞ্জ আর ক্রিম-এর কম্বিনেশনে থাকে তাহলে অরেঞ্জ রঙের পর্দা একেবারে পারফেক্ট। আবার বেস যদি নীল হয় তাহলে নীলের উপর হালকা ডিজাইন করা পর্দা ভালো যাবে। তেমনই গ্রিন অ্যাপল বেস হলে কচিকলাপাতা পারফেক্ট। সোফার কভার ও সেই মতোই বানাতে হবে।

ম্যাট্রেস এবং পাপোশ

যথাযথ ম্যাট্রেস আর পাপোশ ড্রইংরুম আর বেডরুমের চেহারাই বদলে দিতে পারে। এগুলি থেকেও আপনার রুচি সম্পর্কে ধারণা করা যায়। ঘরের রং থেকে শুরু করে আনুষাঙ্গিক অন্যান্য জিনিসপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যদি ম্যাট্রেস-পাপোশ কেনা যায় তাহলেই ঘরের সাজ সঠিক মাত্রায় সম্পূর্ণ হবে। এগুলি হালকা গ্রে নয়তো হালকা গোলাপি রঙের হলে, যে-কোনও ঘরের ক্ষেত্রেই মানানসই হবে।

সাজানোর জন্য

ফোটোফ্রেম, পেইন্টিং, ওয়াল হ্যাংগিং সিজন অনুযায়ী বদলানো সম্ভব, কারণ এই জিনিসগুলির দাম বেশ কম। ছোটো ছোটো জিনিস হলেও নিয়ম করে এগুলি বদলালে ঘরের লুকেরও পরিবর্তন হবে।

ফুলের সাজি

ফুল কে না ভালোবাসে। আর সেই পছন্দের ফুল যদি কাজে লাগে ঘরের শোভা বাড়াতে তাহলে তো কথাই নেই। যুগ যুগ ধরে মহিলারা সুগন্ধি ফুল দিয়ে ঘর সাজিয়ে এসেছেন। এখনও যে খুব একটা হেরফের হয়েছে তা কিন্তু নয়, হ্যাঁ ফুল রাখার ভাবনাটা বদলেছে। আগে গোলটেবিল নয়তো ড্রেসিং টেবিলের এককোণে ফুলদানি রাখা হতো। আর এখন সেন্টার টেবিল বা কর্ণার টেবিলে আধুনিক ডিজাইনের ফ্লাওয়ার ভাসের মধ্যে শোভা পায় এই ফুল। এতে মন ভালো হতে বাধ্য। ঘরের কোণায় বা সিঁড়ির ল্যান্ডিং-এ আর্টিফিশিয়াল ফুলের ঝাড়, টেরাকোটার পট-এ মানায় ভালো।

বারান্দার কোণে ছোট্ট বাগান

অনেকেই গাছ লাগাতে ভীষণ ভালোবাসেন। কিন্তু এই ফ্ল্যাট কালচারে পরিসর না থাকায় অনেকেই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটান। শখপূরণ করতে তাই বারান্দার এককোণেই টুকটাক ফুলগাছ লাগিয়ে ফেলেন কিংবা ঝুলিয়ে দেন বাহারি গাছ। বেল, জুঁই, গোলাপ বা লতানো সবুজ গাছ। ওগুলিও ঘরের শোভা বাড়ায়। সিঁড়িতে ওঠার মুখে পাতাবাহার গাছও লাগাতে পারেন। সবুজের স্পর্শে আপনার মন ভালো হয়ে যাবে।

অভিভাবক হিসেবে দায়িত্বের মাপকাঠি

সন্তানের ভালোমন্দের দায়িত্ব মা-বাবার। তাকে ভালোভাবে মানুষ করা, পড়াশোনা শেখানো, কেরিয়ার গড়ে তুলতে সাহায্য করা, সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করা– এসবই বাবা-মায়ের কর্তব্য। কিন্তু কর্তব্য পালন করতে করতে কখনও কি মনে হয়েছে, আপনার কর্তব্যের অতিরিক্ত বোঝার ভারে আপনার সন্তান ত্রস্ত, নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো জায়গাটুকুর তার প্রয়োজন? সুতরাং আগে না ভাবলেও যুগের আধুনিকতার সঙ্গে নিজেকে এবং সন্তানকে যদি মানানসই করে তুলতে চান তাহলে প্রত্যেক অভিভাবকেরই সচেতন হওয়া উচিত। এই নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের খুব সাবধানে হ্যান্ডল করাই বাঞ্ছনীয়।

দক্ষিণ কলকাতার নামি কলেজের ছাত্র সায়ন। বাড়ি বাগুইহাটিতে। মা-বাবার একমাত্র সন্তান। একমাত্র সন্তান হওয়াতেই হয়তো মা-বাবার চিন্তা বেশি। ছেলে কলেজে কী করছে, বন্ধুত্ব কাদের সঙ্গে করছে, কলেজ শেষ হতেই ছেলে সোজা বাড়ির পথ ধরছে কিনা– এই নিয়ে হাজারো চিন্তা সায়নের বাবা-মায়ের। বড়োদের মাত্রাতিরিক্ত চিন্তা সায়নের স্বাধীন ভাবনাচিন্তার পথে কিছুটা বাধা হয়েই দাঁড়ায়, ফলে মিথ্যার আশ্রয় না নিয়ে সে মা-কে জানায় এতদূর আসা যাওয়া করতে প্রতিদিন তার যে সময় নষ্ট হচ্ছে সেটা বন্ধ হবে যদি কলেজের কাছাকাছি কোনও থাকার ব্যবস্থা খুঁজে নেয়। এতে সময় বাঁচবে এবং পড়াশোনার জন্যেও সায়ন বেশি সময় দিতে পারবে। মা-বাবা ছেলের এই ইচ্ছে মেনে নেন। কিন্তু সায়ন বাবা-মায়ের বিশ্বাসের অমর্যাদা কোনওদিন হতে দেয়নি। বরাবর ভালোভাবে প্রতিটি পরীক্ষায় সফল হয়েছে সে। তাহলে কেন এই বাড়ি ছেড়ে যাওয়া? কারণ হচ্ছে প্রতিনিয়ত উঠতে বসতে তার প্রতি তার আচরণের প্রতি বড়োদের শ্যেণ দৃষ্টি রাখাটাই হয়তো তার মনকে সবার অগোচরে বিদ্রোহী করে তুলেছিল। কোনটা ভুল, কোনটা ঠিক, এই বিচার করার বয়স সায়নের হয়েছিল।

এখন এই নতুন জেনারেশনের ছেলেমেয়েরা নিজেদের অ্যাকাডেমিক, কেরিয়ার নিয়ে এত বেশি সচেতন যে, কারণ অকারণে তারা খুব সহজে মানসিক শান্তি হারিয়ে ফেলে, টেনশনে ভোগে, সহজে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে আত্মহত্যা করার প্রবণতা আগের তুলনায় বেড়েছে। এক্ষেত্রে কোনও পক্ষকেই দোষ দেওয়া যায় না। আমরা এমনই একটা সমাজে বাস করছি, যেখানে মানুষ স্ট্রেসের ভারে জরাজীর্ণ সুতরাং যে-কোনও মুহূর্তে অঘটন ঘটা আশ্চর্যজনক নয়।

কমপিটিটিভ ওয়ার্ল্ডের আমরা নাগরিক তারপর জায়গাটা ভারতবর্ষ, এটা ভুললে চলবে না। দায়িত্ব এবং সম্পর্কের কোনও সীমাপরিসীমা নেই, কিন্তু সেগুলো এড়াবার রাস্তাগুলোও আমরা বন্ধ রেখে দিই। চারদিক দিয়ে প্রেশার বাড়ছে। এই অবস্থায় বাস্তববাদী হতে পারা ভালো, তাতে চারপাশের অবস্থার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের জীবনের লক্ষ্য, বাস্তব থেকে না সরিয়ে সম্ভাব্য লক্ষ্যে নিশানা স্থির রেখে এগোনো সহজ হবে। লক্ষ্যে পৌঁছোতেও কষ্ট হবে না এবং চাহিদা মতো ফলও পাওয়া যাবে। সুতরাং সন্তানদের থেকে ওভার এক্সপেকটেশন করা মা-বাবার উচিত নয়। টিনএজারদের কার্যক্ষমতা এবং কাজের কোয়ালিটিকে অপরের দৃষ্টিগোচর করে তোলার ইচ্ছে থেকে অনেক অভিভাবকই নিজেদের অজান্তেই ছেলে-মেয়েকে আরও বেশি ক্ষতির মুখে ঠেলে দেন। নিজেদের সংস্কৃতি দিয়ে সবাই সন্তানদের বড়ো করে তুলতে চান। সেক্ষেত্রে ছেলেমেয়েদের দৈনিক রুটিনে, আমাদের সংস্কৃতির অন্তর্গত অনেক ধরনের আচরণ যথাযথ খাপ খায় না। সময়ের অভাব অথবা তাদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশই সাধারণত খাপ খেতে না পারার জন্য দায়ী হয়। এই সব ক্ষেত্রে মা-বাবার উচিত প্রেশার তৈরি না করে তাদের সুযোগ দেওয়া, সংস্কৃতির মূল অর্থ বুঝে তাকে উপোভোগ করার।

খেয়াল রাখতে হবে, বাড়ির বাচ্চাদের কখনও যেন মনে না হয় তাদের এতটাই বন্ধনের মধ্যে রাখা হয়েছে যে, তারা নিজেদের স্বপ্ন ইচ্ছেমতো পূরণ করতে পারছে না। অথচ পরিবারের সংস্কৃতিটাও তাদের শিক্ষার মধ্যে পড়ে তাই হঠাৎ চেষ্টা না চালিয়ে একদম ছোটো থেকেই অল্প অল্প করে তাকে ফ্যামিলি ভ্যালুজ, এথিক্স এগুলো শেখানো কর্তব্য। এতকিছু সাবধানতা অবলম্বন করার পরেও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না, এমনটা বলা যায় না। তাই অহরহ বাক্যবাণে সন্তানকে জর্জরিত না করে, অভিভাবকের উচিত তাদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা।

ছেলে-মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধির সময়টা খুব স্পর্শকাতর। বয়ঃসন্ধির এই সময়টায় কতটা অভিভাবকের শাসনের প্রয়োজন রয়েছে এটা নিঃসন্দেহে চিন্তার বিষয়। এটাও ভাবতে হবে সন্তানকে ওভার এক্সপোজ করতেও মা-বাবা কখনওই চাইবেন না। তাই মাঝেমধ্যে কাউন্সেলরের পরামর্শ নিয়ে, সিচুয়েশন বুঝে তবেই কোনও ডিসিশনে আসা উচিত।

টিনএজারদের শেখানো দরকার নিজেদের লাইফকে কনট্রোল কীভাবে তারা করতে পারবে। কনট্রোল করা মানেই কিন্তু ইচ্ছেমতন স্বাধীনতার অপব্যবহার করা নয়। বরং বলা যেতে পারে কতটা সুদক্ষতার সঙ্গে তারা নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছোতে পারছে স্বাধীনভাবে এবং সুযোগের সঙ্গে নিজেদের স্বপ্নপূরণ করতে পারছে, তারই চয়েস টিনএজারদের সামনে খোলা রাখা। মা-বাবার মনের ইচ্ছেটাও সন্তানের কাছে পরিষ্কার থাকা উচিত।

সন্তানের বয়ঃসন্ধিক্ষণের সময়টা অভিভাবকের কাছেও একটা পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়া। এটা সহজ নয়। অতিরিক্ত শাসন যেমন চলবে না তেমনি অতিমাত্রায় স্বাধীনতা দেওয়াও শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে এই বয়সের ছেলেমেয়েরা জীবনকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাই চাইলে তাদেরকে বোঝানো যেতে পারে যে অ্যাম্বিশন এবং কঠিন পরিশ্রম জীবনকে সুরক্ষিত করে তুলতে পারে এবং জীবনের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নিয়ে আসতে পারবে।

মন পরিবর্তন করার সুযোগ যেন পায় এই বয়সের বাচ্চারা। বাবা, মায়েরা পুরোনো প্রতিষ্ঠিত পেশায় বিশ্বাসী যেখানে এখন নতুন নতুন বহু ধরনের পেশা বেছে নেওয়ার সুযোগ এযুগের ছেলেমেয়েদের রয়েছে। কেউ হয়তো এমনই কোনও পেশায় যেতে আগ্রহী যার সঙ্গে চিরাচরিত ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং-এর কোনও যোগ নেই। অভিভাবকদের উচিত সেই ক্ষেত্রে সন্তানের মনোভাব বোঝা এবং তার ইচ্ছেকে সম্মান দেওয়া। পড়াশোনার মাঝে খেলাধুলো অথবা অন্য ধরনের হবি থেকে থাকলে বাধা না দিয়ে শুধু একটু খেয়াল রাখলেই চলবে এগুলির কারণে পড়াশোনার কোনও ক্ষতি হচ্ছে কিনা। ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে ধীরে সুস্থে তাদের বোঝাতে হবে, তারা জীবনকে যেভাবে চালাচ্ছে বা চালাবার ইচ্ছে রাখছে তার পরিণাম ভালো হোক কি খারাপ পুরোটাই ভোগ করতে হবে তাদেরকেই। টিনএজারদের অতিরিক্ত অ্যাকাডেমিকস্-এর জন্যে পুশ করাটা আজকাল স্ট্রেসের একটা প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্ট্রেস কিন্তু উভয়পক্ষেরই রয়েছে সে বড়োই হোক কি ছোটো, সুতরাং কোনও পুরোনো অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ে ব্রুড না করে এবং ছোটোদের এতে সামিল না করে সুখের, আনন্দের ঘটনাগুলি মনে করুন। ছোটোদের সঙ্গে শেয়ারও করুন। দুঃখের ঘটনা, স্মৃতি বারবার রোমন্থন করে লাভ কী? আপনি কষ্টের সময়টা, দুঃখ, বেদনার মধ্যে দিয়ে ইতিমধ্যেই পেরিয়ে এসেছেন। ছোটোদের সঙ্গে হাসি ঠাট্টায় মাতুন, নিজেদের মধ্যের সম্পর্কটাকে সহজ রাখুন যাতে ছোটোরা নিজেদের ব্যথা আপনার বুকে মাথা রেখে ভুলতে পারে। তাদেরকে বোঝান বিপদের দিনে আপনি তাদের পাশে আছেন। আপনি সন্তানদের ভালোবাসেন, তাদের জন্যে কেয়ার করেন। তাদের প্রয়োজনটা আপনার জীবনে কতখানি মূল্যবান সেটা জানাতে দ্বিধা হওয়া উচিত নয়।

বয়ঃসন্ধির সময়টা বাচ্চারা পেরিয়ে গেলে অনেকটা নিশ্চিন্ত বোধ করতে পারেন অভিভাবকেরা। পূর্ণতার ছোঁয়ায় কৈশোরের অনিশ্চয়তার ঘোর তখন কেটে যায়। পৃথিবীর মাটিটা তখন অনেক শক্ত তাদের কাছে। দৃঢ়তার সঙ্গে পদক্ষেপ ফেলতে তারা তখন প্রস্তুত।

গরমে শরীরের যত্ন

কলকাতায় এত গরম বোধকরি ৭-৮ বছর আগেও টের পাওয়া যেত না। আবহাওয়ায় এক অদ্ভুত রকমের পরিবর্তন এসেছে, বলছেন আবহবিদরা। মনসুন ভারতে ঢুকে গেছে তবু গরমের প্রকোপ এতটুকু কম হওয়ার কোনও লক্ষণ নেই। এই অদ্ভুত তাপমাত্রার হেরফেরের সঙ্গে শরীরকে অভ্যস্ত করাটা বেশ বড়োসড়ো একটা চ্যালেঞ্জ। শরীর, বিশেষ করে ত্বকের সঠিক যত্ন ও সতর্কতার অভাবে নানারকম রোগ অসুখ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় গরমের সময়টায়। ডিহাইড্রেশন, অ্যালার্জি, ব্রণ, ঘাম ও ময়লা জমে ফাংগাল ইনফেকশন, চুলকানি, ঘামাচি, র‍্যাশ – এমন নানান সমস্যার সৃষ্টি হয় এই ঋতুতে।

এমন নানা সমস্যার মোকাবিলা করার জন্য কিছু জরুরি বিষয় অবশ্যই মনে রাখুন

১) হাইপার হাইড্রোলিসিস অর্থাৎ শরীরের কিছু অংশে যেমন হাতের পাতা, পায়ের তলা প্রভৃতি অতিরিক্ত ঘামতে থাকে। এর ফলে অস্বস্তি তৈরি হতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে ডার্মাটোলজিস্ট-এর পরামর্শ মতো অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। এতে ঘাম কম পরিমাণে নিসৃত হয়। এছাড়া হাত-পা বেশিবার ধোয়ার চেষ্টা করুন। হাইজিন-এর বিষয়টি মাথায় রেখে হ্যান্ড স্যানিটাইজারও ব্যবহার করুন।

২) গ্রীষ্মে আন্ডারআর্মস পরিচ্ছন্ন রাখতে মুলতানি মাটির প্রলেপ লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। ভিটামিন ‘ই’-যুক্ত নারকেল তেল মাসাজ করলে, আন্ডারআর্মস-এর ঘাম কমবে এবং সেই সঙ্গে দুর্গন্ধও।

৩) রোদে বেরোনোর সময় ব্যাগে অবশ্যই ওয়েট ওয়াইপ্স ও সুতির রুমাল রাখুন। মুখ পরিচ্ছন্ন থাকলে র‍্যাশ বেরোবে না। চুলকানি, র‍্যাশ বা ফাংগাল ইনফেকশন রোধ করতে গোলাপজলে মুখ ধুয়ে নিন। রাতে নারকেল তেল মাসাজ করুন।

৪) কেউ কেউ বছরভর হালকা গরমজলে স্নান করতে অভ্যস্ত। এটি করা উচিত নয়। গরমকালে স্বাভাবিক জলে স্নান করুন। একান্তই যদি অভ্যাস ত্যাগ করতে না পারেন, চেষ্টা করুন বেশিক্ষণ ধরে গরমজলে স্নান না করতে। ত্বকের উপর গরমজলের ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে, ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।

৫) বেশি সময় ধরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে না থাকার চেষ্টা করুন, কারণ এতে ত্বক শুষ্ক হয়ে গিয়ে চেহারা রুক্ষ হতে থাকে।

৬) মুখের ত্বক সজীব ও কোমল রাখতে দিনে অন্তত তিনবার জলের ঝাপটায় মুখ ধোন এবং মাইল্ড ক্লিনজারের সাহায্যে মুখ পরিষ্কার করুন।

৭) একটি গবেষণায় জানা গেছে যে শতকরা ৯০ শতাংশ এজিং-এর সমস্যা সৃষ্টি হয় অতিরিক্ত সময় রোদে ঘুরে কাজ করার জন্য। তাই রোদে বেরোনোর আগে সানস্ক্রিন মাস্ট এবং ফিরে আসার পর স্ক্রাবার ব্যবহার করাও সমান জরুরি।

৮) গরমে পরিশ্রান্ত হয়ে এনার্জি লেভেল ড্রপ করে যায়। তাই তাজা ফলের রস নিয়মিতভাবে পান করুন।

৯) সপ্তাহে দুবার চ্ চামচ মধু, ২০ ফোঁটা লেবুর রস, আধচামচ দুধের সর, ১ চামচ দেশি ঘি ও ১ চামচ জবের ভুসি একসঙ্গে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে সমস্ত গায়ে লাগান। আধঘন্টা পর ঈষদুষ্ণ গরম জলে ধুয়ে ফেলুন। তারপর ভিটামিন ‘ই’-যুক্ত ক্রিম লাগান।

১০) আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত হয়, সর ব্যবহার করবেন না এবং মাস্ক ধোয়ার পর ভিটামিন ‘ই’-ক্রিমের বদলে ময়েশ্চারাইজার লাগান।

 

বর্ষায় সঙ্গী হোক ফ্যাশনেবল ছাতা

আকাশে মেঘ জমেছে, বৃষ্টি হতে পারে। মাথার উপর ছাতা না ধরলে ভিজে যেতে পারেন। ভিজে গেলে সৌন্দর্য নষ্ট হবে, ঠান্ডা লেগে সর্দি-কাশি, জ্বরও হতে পারে। তাই হাতে রাখা চাই ছাতা। শুধু কালো ছাতা নয়, ছাতা হোক বর্ণময়। ছাতা হোক আপনার রুচি এবং সৌন্দর্যের বাহক। শোভিত হোক পথ এবং পথিক।

এই প্রজন্মের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ছাতা প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি বাজারে এনেছে নানারকম গুণমানের বাহারি ছাতা। অনেকে হয়তো জানেনই না, কেমন সেই ছাতা, কী তার বৈচিত্র্য?

সিম্পল প্লেইন কালার্ড ছাতাঃ  আপনার ড্রেস-এর সঙ্গে ম্যাচিং করে কিনুন এই ছাতা। লাল, নীল, হলুদ, সবুজ, গোলাপি প্রভৃতি রং-এর এই সব ছাতা আপনার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলবে।

ইউ হ্যান্ডেল-এর লম্বা দণ্ডযুক্ত ছাতাঃ  শুধু বর্ষায় নয়, যে-কোনও ঋতুতেই এই ছাতা ব্যবহার করা যায়। এই ছাতা আপনার ব্যক্তিত্ব বাড়িয়ে তুলবে। এক কাঁধে এই ছাতা নিয়ে অন্য কাঁধে ব্যাগ রেখে ধীর পায়ে হেঁটে গেলে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেই।

লেসযুক্ত ছাতাঃ  কালারফুল স্কার্ট কিংবা প্রিন্টেড সালোয়ার-এর সঙ্গে দারুণ মানাবে লেসযুক্ত ছাতা। এই ছাতা যেমন নানারকম উজ্জ্বল রং-এর হয়, ঠিক তেমনই সুন্দর ঝালর দিয়ে সাজানো থাকে। চলার সময় এই ঝালর দুলতে থাকলে আপনার চলায় একটা ছন্দ যোগ হবে।

স্কেলোপ্ড ছাতাঃ  গোল কিন্তু প্রতিটি খাঁজ ইউ-শেপ-এর এবং ছোটো ঝালরযুক্ত এই ছাতা। কলেজ-পড়ুয়াদের এই ছাতা ভীষণ মানানসই হবে।

ডবল অথবা ট্রিপল ফ্রিল গিগি ছাতাঃ  প্রিন্টেড কিংবা প্লেইন, ডবল কিংবা ট্রিপল ফ্রিল গিগি ছাতা ওয়েস্টার্ন ড্রেস-এর সঙ্গে দারুণ মানাবে।

ক্লাউড এবং রেইনড্রপ ছাতাঃ  ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়ছে আর আপনি যে-ছাতা মাথার উপর রেখে হেঁটে চলেছেন, সেই ছাতার ওপরে যদি মেঘ কিংবা বৃষ্টির অসংখ্য ফোঁটার নকশা শোভিত হয়, তাহলে ব্যাপারটা জমে যাবে। নিমেষে মনটা রোমান্টিক হয়ে উঠবে আর না ভিজেও বৃষ্টির আমেজ অনুভব করবেন সারা গায়ে।

ডেজি ফুললেন্থ ছাতাঃ  ডেজি ফুল মাথায় থাকলে ঠিক যেমন সুন্দর লাগবে আপনাকে, ঠিক তেমনই ডেজি ফুললেন্থ ছাতাও আপনার সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলবে। লাল, নীল, হলুদ সবরকম রং-এ পাওয়া যায় এই ছাতা।

সানফ্লাওয়ার ব্লুম ফুললেন্থ ছাতাঃ  সবুজ রং-এর পোশাকের সঙ্গে সানফ্লাওয়ার ব্লুম ফুললেন্থ ছাতা ব্যবহার করলে মনে হবে, সত্যিই বৃষ্টির মধ্যে হেঁটে যাচ্ছে একটি সূর্যমুখী ফুল।

অ্যাসফল্ট ছাতাঃ  ঘনবৃষ্টির ধারার সঙ্গে অ্যাসফল্ট ছাতা দারুণ জমবে। কিনে আনুন অ্যাসফল্ট ছাতা আর প্রেমিকের সঙ্গে উপভোগ করুন বৃষ্টির আমেজ। বৃষ্টিতে রোমান্স করার জন্য অ্যাসফল্ট-এর জুড়ি নেই।

নিউব্রেলা ছাতাঃ  জিনিসপত্র হাতে থাকলে বৃষ্টির মধ্যে হাঁটতে অনেকসময় অসুবিধা হয়। কিন্তু নিউব্রেলা ছাতা কিনলেই সমস্যামুক্তি। এই ছাতা হাতে ধরার প্রয়োজন হয় না, কাঁধে সেঁটে থাকে। অতএব আর কোনও চিন্তা নেই, জিনিসপত্র হাতে নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে পথ চলুন নিশ্চিন্তে।

তলোয়ার ছাতাঃ  তলোয়ার ছাতার হ্যান্ডল ঠিক তলোয়ারের শেপ-এর মতো হয়। এটা লম্বা এবং স্ট্যান্ডিং ছাতা। বন্ধ করার পর হাতে ধরলে তলোয়ারের মতো মনে হবে।

গার্ডেন আমব্রেলাঃ  কোনও পিকনিক পার্টিতে রোদবৃষ্টি থেকে বাঁচতে কিংবা খাবার জিনিস ইত্যাদি ঢাকতে ব্যবহার করা হয় গার্ডেন আমব্রেলা। এই ছাতা আকার-আকৃতিতে বড়ো হওয়ার কারণে একসঙ্গে অনেক লোক আশ্রয় নিতে পারে এই ছাতার নীচে। অনেকরকম রং-এ পাওয়া যায় এই মজবুত ছাতা।

পকেট ছাতাঃ  এই পকেট ছাতা হাতে রাখলে চট করে কেউ বুঝতেই পারবে না ছাতা নাকি অন্যকিছু। শুধু একটা বোতাম টিপলেই খুলে যাবে স্বাভাবিক মাপের ছাতা এবং লোকে অবাক হবে। এই ছাতা বৃষ্টিতে বাসে-ট্রামে বহন করতে কিংবা কোথাও রাখতে সুবিধে।

টিউবলাইট ছাতাঃ  এটা খুবই মজাদার ছাতা। বর্ষাকালে বিদ্যুৎ-বিভ্রাটে যখন অন্ধকার রাস্তায় হাঁটতে অসুবিধা হয় এবং বিপদের ঝুঁকি নিতে হয়, তখন আপনাকে বাঁচাবে টিউবলাইট ছাতা। শুধু একটা বোতাম টিপলে যখন খুশি জ্বালাতে পারবেন এই ছাতায় যুক্ত থাকা ছোট্ট টিউবলাইট-এর মতো আলো। রাস্তায় চলার সময় লোকজন বেশ অবাক হয়ে তাকাবে আপনার ছাতার দিকে।

ডিজাইনার ব্লাউজ

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব বাড়িয়ে তোলাটাই ফ্যাশনের মূল লক্ষ্য। যুবক-যুবতি, বয়স্ক, সব বয়সের মানুষরাই চান অপরের সামনে নিজের সৌন্দর্যকে মেলে ধরতে। নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে কার না মনে ইচ্ছে জাগে? ফ্যাশনে পরিধানের গুরুত্ব কিন্তু অপরিসীম। পোশাক আকর্ষণীয় হওয়া বাঞ্ছনীয়। ঘরে-বাইরে, কর্মক্ষেত্রে, উৎসবে, যে-কোনও ফাংশন অথবা ঘরোয়া অনুষ্ঠানে সবসময় প্রাধান্য পায় পরিধেয় বস্ত্র। আর ভারতীয় পরম্পরায় শাড়ি এবং ব্লাউজের তুলনা কিছুর সঙ্গেই করা যায় না। যুগে যুগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শাড়ি এবং ব্লাউজকে নানাভাবে, নতুন নতুন ফ্যাশনে নারীর শরীরের শোভা বর্ধন করতে দেখা গেছে।

এখন ডিজাইনার পোশাকের ক্রেজ। সুতরাং শাড়ির সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে ডিজাইনার ব্লাউজের ফ্যাশন ভীষণভাবে ইন। নারীর কোমলতা-কে গরজাস লুক দিতে ডিজাইনাররা সকলেই উঠেপড়ে লেগেছেন। হালফিল সময়ে আধুনিকাদের মধ্যে পার্টি ওয়্যার হিসাবে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে একরঙা প্যালেটের সঙ্গে কন্ট্রাস্ট করা অর্নামেন্টাল ডিজাইনার ব্লাউজ। ব্লাউজের নকশায় থাকছে লেস, জারদৌসি, কাচ, বিড্স, সিকুইন্স ও গোটা ওয়ার্ক আর সুতোর সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারি নকশা এবং চিকনের সঙ্গে গোটা ওয়ার্ক-এর মেলবন্ধনে মুক্বেশ ওয়ার্ক।

ফিগারের সঙ্গে মানানসই কাট-এর ব্লাউজ বেছে নিচ্ছেন এযুগের কন্যারা। বাঙালি মেয়েদের ঈষৎ স্ফীত লাবণ্যময়ী গড়নের সঙ্গে লো-কাট পিঠের ব্লাউজ মানায় ভালো। আবার হাঁসের মতো কণ্ঠ ও কৃশাঙ্গীদের জন্য রয়েছে হাইনেক-এর নানা বৈচিত্র্য।

এখনকার ডিজাইনাররা ভারতীয় ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গে পাশ্চাত্যের মিশ্রণ ঘটিয়ে ডিজাইনার ব্লাউজ প্রস্তুত করছেন। বেশিরভাগ ডিজাইনার ব্লাউজেরই এথনিক একটা লুক থাকে। ব্লাউজগুলি তৈরি করতেও অনেক সময় লাগে। ব্লাউজের কাজ এবং মেটেরিয়াল অনুযায়ী এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়। তিনশো টাকা থেকে শুরু করে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত তৈরি ব্লাউজ বাজারে পাওয়া যায়। এছাড়াও রয়েছে পার্টি ওয়্যার ব্লাউজ যা মূলত রুচিশীল শ্রেণির জন্যে যেখানে মেটেরিয়াল এবং ডিজাইনের সঙ্গে কোনওরকম কমপ্রোমাইজ করা হয় না। ইম্পোর্টেড সিল্ক এবং আর্ট মেটেরিয়াল ব্যবহার করা হয়, লেয়ারস বেশি থাকে।

ওয়ার্ডরোবে রাখুন

ক)  কালো রঙের শিফন ও সিল্ক ব্লাউজের উপর গোল্ডেন সুতোর কাজ করা থাকলে, যে-কোনও রঙের শাড়ির সঙ্গে মানানসই হবে।

খ)  উৎসব অনুষ্ঠানে গাঢ় রঙের ব্লাউজ পরলে দেখতে বেশি ভালো লাগে যেমন লাল, নীল, কমলা, সবুজ, এমারেল্ড গ্রিন, বেগুনি ইত্যাদি। ফেস্টিভ সিজনে এই রঙের ব্লাউজ মার্কেটে বেশি করে পাওয়া হয়। এরকম কয়েকটি বেস কালার সংগ্রহে রাখুন।

গ)  গরমের সময় হালকা রং যেমন পিংক এবং টারকোয়াইজ ব্লু-র উপর সিলভার থ্রেড ওয়ার্ক, সাদা, হালকা ক্রিম রঙের ব্লাউজ, মুক্বেশ-এর কাজ করা ব্লাউজ খুব জনপ্রিয় এখন। এগুলি সিল্ক, শিফন, জর্জেট ইত্যাদি সব ধরনের শাড়ির সঙ্গে পরা যায়।

ব্লাউজের যত্নআত্তি

ডিজাইনার ব্লাউজ কেনার সঙ্গে সঙ্গে সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রেও অনেক যত্নের প্রয়োজন।

মলমল কাপড়ে জড়িয়ে তবে আলমারিতে রাখা উচিত।

ঘামে ভিজে গেলে খোলা হাওয়ায় শুকিয়ে স্টোর করুন।

ডিজাইনার ব্লাউজ সবসময় ড্রাইওয়াশ করানো বাঞ্ছনীয়।

 

বর্ষায় নিন পায়ের যত্ন

‘বৃষ্টি’ শব্দটা শুনলেই মনটা কেমন যেন রোমান্টিক হয়ে ওঠে। কিন্তু পরক্ষণেই আবার মন খারাপ হয়ে যায় জল-কাদার কথা ভাবলে! ছাতা কিংবা রেনকোটকে মাধ্যম করে মাথা এবং শরীরের অনেকটা অংশ বাঁচানো সম্ভব হলেও, পা বাঁচানো প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।

আসলে ছাতা, রেনকোট যাই থাকুক না কেন, বৃষ্টিতে হাঁটলে পা ভিজবেই। তাছাড়া অনেক রাস্তায় তো জলও জমে থাকে। অনেকসময় নিরুপায় হয়ে রাস্তার সেই নোংরা জলে পা দিতে হয় এবং ঠিক এই কারণে শুরু হয়ে যায় পায়ের নানারকম সমস্যা। পায়ের নখের গোড়ায় বাসা বাঁধে জীবাণু। তাছাড়া পায়ে দীর্ঘসময় নোংরা জল লেগে থাকার কারণে, শুরু হয়ে যায় পায়ের ত্বকের গভীর সমস্যা। তবে সতর্ক থাকলে পায়ের সমস্যা এড়ানো যায় অনেকটাই। এ প্রসঙ্গে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

  •  বর্ষাকালে দীর্ঘসময় বন্ধ জুতো পরবেন না। ভেজা জুতোও পরিত্যাগ করুন।
  • বাইরে থেকে ঘরে ঢুকলে প্রথমেই অ্যান্টিসেপটিক সাবান দিয়ে ভালো ভাবে পা ধুয়ে নিন। এরপর শুকনো তোয়ালে দিয়ে পা মুছে শুকিয়ে নেওয়া দরকার।
  • আঙুলের ফাঁকে যেন জল না থাকে। তুলো কিংবা নরম কাপড় দিয়ে আঙুলের ফাঁকে আটকে থাকা জল মুছে দিন।
  • পা এবং পায়ের আঙুল ভালো ভাবে ধুয়ে মুছে নেওয়ার পর ময়শ্চারাইজর লাগাতে ভুলবেন না।
  • নখের ভিতর যেন কোনওরকম নোংরা জমে না থাকে। কারণ নখের গোড়ায় জীবাণু আক্রমণ করতে পারে। নখ কেটে পরিস্কার রাখুন।
  • বর্ষার আলাদা জুতো, এবং শু পাওয়া যায়। ওই স্পেশাল জুতো (স্যান্ডাক) কিনে ব্যবহার করুন।
  • জুতো ভিজে গেলে, খুলে খবরের কাগজ দিয়ে জড়িয়ে রাখুন কিছুক্ষণ, এতে ভেজা জুতো অনেকটাই শুকিয়ে যাবে। অথবা ভেজা জুতো চড়া রোদে শুকিয়ে নিয়ে তারপর পরুন। নয়তো জুতোতে জীবাণু বাসা বাঁধবে এবং সেই জুতো পরলে আপনার পায়ের ত্বকের ক্ষতি হবে।
  • বর্ষাকালে ফ্যাশনেব্ল জুতো পরার ইচ্ছে হলে, প্লাস্টিকের জুতো পরুন, চামড়ার জুতো নয়।
  • বর্ষাকালে এমন জুতো ব্যবহার করুন, যা ভিজলেও সঙ্গে সঙ্গে শুকিয়ে যাবে এবং পায়ের ত্বকে কোনও খারাপ প্রভাব ফেলবে না।
  • দীর্ঘসময় একনাগাড়ে জুতো পরে থাকবেন না। মাঝেমধ্যে জুতো খুলে বসুন।
  • বর্ষাকালে বেশি উঁচু (হাই হিল) জুতো পরবেন না। কারণ জল-কাদায় বেকায়দায় পা পড়লে, হড়কে গিয়ে পায়ে ব্যাথা পেতে পারেন।
  • বর্ষাকালে অন্তত দু’জোড়া স্যান্ডাক রাখবেন বাড়িতে। যাতে একজোড়া ভিজে গেলে অন্য জোড়া ব্যবহার করতে পারেন।
  • বর্ষাকালে মাঝেমধ্যে পেডিকিওর করিয়ে নেবেন।
  • নখ কেটে পরিস্কার করে রাখবেন বর্ষাকালে। কৃত্রিম নখ একেবারেই ব্যবহার করবেন না। এতে জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে।
  • সপ্তাহে একবার ঠান্ডা জলে কয়েক ফোঁটা তেল ফেলে, ওই তেলযুক্ত জলে পা চুবিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। এতে পা মোলায়েম থাকবে এবং দুর্গন্ধ দূর হবে।
  • ময়শ্চারাইজার দিয়ে মাঝেমধ্যে পা ম্যাসাজ করবেন।
  • অ্যান্টিসেপ্টিক লোশন দিয়ে পা মুছে নিয়ে মাঝেমধ্যে সুগন্ধি স্প্রে করে নেবেন পায়ে।
  • ঘরের মধ্যে শুকনো জায়গায় খালি পায়ে হাঁটা ভালো, কারণ এতে জমির সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হয়, যা শরীরে রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে। কিন্তু জল-কাদাযুক্ত রাস্তায় খোলা জুতো পরে ভুলেও হাঁটবেন না। এতে আঙুলের নখের ফাঁকে যেমন নোংরা জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে, ঠিক তেমনই পায়ের আঙুলের ফাঁকে জীবাণু সংক্রমণ ঘটতে পারে।
  • প্রতিদিন স্নানের সময় ভালো সাবান দিয়ে যত্ন সহকারে পা ধোবেন এবং পা শুকিয়ে নিয়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন।
  • সপ্তাহে অন্তত একবার পায়ের স্ক্রাবিং করিয়ে নেবেন। এতে পায়ের ডেড স্কিন দূর হয়ে ঔজ্জ্বল্য বাড়বে।
  • পা কেটে ছিঁড়ে গেলে বাড়ির বাইরে জল-কাদায় বেরোবেন না। কারণ, কাটা জায়গায় জীবাণুর সংক্রমণ ঘটতে পারে, যা বড়োরকম বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
  • প্রতিদিন অন্তত দু’বার শুকনো পায়ে সরষের তেল দিয়ে ভালো করে মালিশ করুন। এতে পায়ের রক্ত সঞ্চালন ভালো হবে এবং ছোটোখাটো আঘাতেও বড়ো কোনও ক্ষতি হবে না।

স্মার্টফোনের ব্যাটারি সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা

স্মার্টফোন এখন আমাদের জীবনশৈলীতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হয়ে উঠেছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এর এতটাই প্রভাব যে নিজেদের থেকেও ফোনের যত্ন আমরা বেশি নিই। ফোনের যত্ন করা মানে ফোন পরিষ্কার করা, বেশি ব্যবহারে যাতে ফোন গরম না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখা, সঠিক উপায় মেনে ব্যাটারি চার্জ করা ইত্যাদি।

ফোনের যত্ন করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় লোকের মুখে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভুল তথ্যও সত্যি বলে মেনে বসি। স্মাটফোনের ব্যাটারি নিয়ে মানুষের মনে সবথেকে বেশি ভুল ধারণা রয়েছে। সেই ভুল ধারণাগুলি কী কী আসুন জেনে নেওয়া যাক।

সারারাত স্মার্টফোন চার্জে বসিয়ে রাখা

অনেকেই আমরা কারও না কারও মুখে শুনেছি, সারারাত ব্যাটারি চার্জে বসিয়ে রাখলে ব্যাটারি খারাপ হয়ে যেতে পারে। ফোন এতে ব্লাস্ট হওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। ব্যাটারি ফুলে যায় একথাও শুনে থাকবেন। এগুলির কোনওটাই সত্য নয়। এটা শুধুমাত্র একটা ভ্রান্ত ধারণা।

আসলে এই ধারণা বাজারে ছড়িয়েছিল যখন আমাদের ফোন এতটা স্মার্ট হয়ে ওঠেনি। এবং এর ব্যাটারিও তখন লিথিয়াম সোয়ন-এর ছিল না। আজকাল আমাদের ফোনের প্রসেসরে যে অত্যাধুনিক আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করা হয়, তার সাহায্যে যদি আমাদের ফোন একবার পুরো চার্জ হয়ে যায়, তাহলে অটোমেটিকালি চার্জিং হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ফোনের ব্যাটারির কোনও ক্ষতি হয় না। কিন্তু সব ব্যাপারেই সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত যেমন ফোন বিছানার পাশে চার্জে দিয়ে কখনওই ঘুমিয়ে পড়বেন না। চার্জার-এ যদি কোনও ফল্ট থেকে থাকে তাহলে সমস্যা যে-কোনও সময়েই হতে পারে।

ফোন-এর ব্যাটারি ডেড হয়ে গেলে তবেই ফোন চার্জ করুন।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনেকেই এমন ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়ে থাকেন যে, ফোনের ব্যাটারি যখন একেবারে শেষ হয়ে এসেছে বা ফোন বন্ধ হয়ে গেছে তখনই ফোন চার্জে দেওয়া উচিত। এর পিছনে লজিক হল, এই নিয়ম মেনে চললে ব্যাটারির লাইফ দীর্ঘ হবে।

তাহলে ফোন কখন চার্জে দেওয়া উচিত এই প্রশ্ন উঠতেই পারে। ফোন যে-কোনও সময় চার্জে দেওয়া যেতে পারে। যখনই মনে হবে ফোন চার্জ দেওয়া দরকার তখনই ফোন চার্জে বসাতে পারবেন।

হাই ওয়াটের চার্জার দিয়ে স্মার্টফোন চার্জ করতে হবে

অনেকে মনে করেন হাই ওয়াট-এর চার্জার দিয়ে স্মার্টফোন চার্জ করা উচিত নয়, কারণ তাতে ব্যাটারি ড্যামেজ হতে পারে। এই ধারণা ভ্রান্ত। এখন স্মার্টফোনগুলো এমন ভাবেই তৈরি করা হয় যাতে হাই ওয়ার্ট-এর ব্যাটারি দিয়ে চার্জ করলেও ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না। যেমন আমার ফোনের জন্য ১৮ ওয়ার্ট-এর চার্জার দরকার। যদি কোনও কারণে ৩৫ ওয়াট-এর চার্জার দিয়ে আমার ফোন চার্জ করতে হয় তাহলে আমার ফোন ততটাই পাওয়ার সাপ্লাই চার্জার থেকে টানবে যতটা দরকার। তবে ফোনের জন্য একই কোম্পানিরই অরিজিনাল চার্জার ব্যবহার করতে পারলেই ভালো হয়।

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব