ফ্যাশনে ফ্লোরাল প্রিন্ট

ফ্লোরাল প্রিন্টের জনপ্রিয়তা বহুদিন ধরেই চলে আসছে। কিন্তু সেভাবে ফ্যাশন নিয়ে আগে কেউ মাথা ঘামাত না। উচ্চবিত্তদের মধ্যেই পুরো ব্যাপারটা সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু যুগ বদলেছে। সাধারণ মানুষও এখন কনশাস। সুতরাং ট্রেন্ড যতই বদলাক, সকলেই এখন বেশ আপডেটেড রাখেন নিজেকে।

ফ্যাশনের কথা বলতে গেলেই আমাদের প্রথমেই ভাবতে হবে গরমের দেশ হিসেবে কী ধরনের পোশাক-আশাক আমাদের বেছে নেওয়া উচিত। চোখ ঝলসানো গ্রীষ্মের সকাল বা দুপুরে দেখতে স্নিগ্ধ লাগবে এবং কুল ফিলিংস-এর জন্য ফ্লোরাল প্রিন্টের তুলনা হয় না। গরমের জন্য একেবারে আদর্শ। তাই হয়তো ফ্লোরাল প্রিন্টের ফ্যাশন বারবার ফিরে আসে।

গরমের পোশাক বাছতে গেলে ফ্লোরাল প্রিন্টের পরিধান ওয়াড্রোবে অবশ্যই স্থান পাবে। গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ্দুরে বিভিন্ন স্নিগ্ধ রঙে ঠাসা নানা ফুলের বাহারে সেজে ওঠার জন্য এই প্রিন্ট আদর্শ। নিমেষে যেন মনকে তরতাজা করে তোলে।

তবে ফ্লোরাল প্রিন্টস বাছার জন্য গাইডেন্স-এর প্রয়োজন হয়। এই প্রিন্টস-এর সঙ্গে মানানসই পোশাক না পরলে দেখতে বিসদৃশ লাগে। ফলে লুক-টাও আশানুরূপ হয় না। সুতরাং এই প্রসঙ্গে কিছু টিপস দেওয়া হল।

বাছুন বোল্ড এবং বিউটিফুল

সকলের ওয়ার্ডরোবেই একটি কিংবা একাধিক ফ্লোরাল প্রিন্টের পোশাক থাকতেই পারে। পরতে পরতে সেগুলি একঘেয়ে হয়ে উঠলে চিন্তা নেই, নিয়ে আসুন আকর্ষণীয় রঙের বড়ো প্রিন্টের পোশাক, সঙ্গে মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করুন। ছোটো ছোটো প্রিন্ট এখন আউটডেটেড হয়ে উঠছে। বোল্ড প্রিন্টের পোশাকে নিজের আকর্ষণকে বাড়িয়ে নিন।

ফ্লোরাল জুতো ব্যবহার করুন

ফ্লোরাল জুতোর ফ্যাশন এখন, সুতরাং স্মার্ট মহিলাদের শু-ক্যাবিনেটে এই জুতো অবশ্যই রাখা উচিত। এই প্যাটার্ন যদি আপনার পছন্দের হয় তাহলে আপনি থ্রিডি ফ্লোরাল প্যাটার্ন-ও বাছতে পারেন। ফ্লোরাল জুতোর সঙ্গে ফ্লোরাল প্রিন্টেরই পোশাক পরুন– তাতে ভালো লাগবে দেখতে। এই ধরনের বোল্ড ফ্যাশনের যুগ চলছে এখন।

ফ্লোরাল ফর্মাল টি-শার্ট

স্টাইলিশ-লুকের জন্য ফ্লোরাল প্রিন্টেড টি-শার্ট-ও ভালো বিকল্প। ফ্লোরাল টি-শার্টের সঙ্গে সলিড কালারের ট্রাউজার দারুণ ম্যাচ করবে অথবা বাছতে পারেন পছন্দের ডেনিম।

সাধারণত ফ্লোরাল টি-শার্ট-কে আমরা ফর্মাল পোশাক বলে ভাবি না। কিন্তু যদি এর সঙ্গে সলিড কালারের সামার ব্লেজার, ফর্মাল ট্রাউজার এবং বোল্ড শুজ পরা যায় তাহলে আকর্ষণীয় ফর্মাল লুক পাওয়া যাবে।

বিকল্প হিসেবে বাছুন ফ্লোরাল ম্যাক্সি ড্রেস

স্টাইল স্টেটমেন্ট হিসেবে ম্যাক্সি ড্রেসের তুলনা হয় না। শারীরিক গঠন যাই হোক না কেন এই ড্রেস সকলকেই মানায়। যেখানে পুরোপুরি ফর্মাল হওয়ার দরকার পড়ে না সেখানে এই ড্রেস খুব ভালোই মানিয়ে যায়, তাছাড়া ক্যাজুয়াল হিসেবে যে-কোনও সময়ই ম্যাক্সি ড্রেস পরা চলে। রবিবারের ব্রাঞ্চ পার্টি অথবা ক্যাজুয়াল দিনে মুভি দেখতে যাওয়া – পরার জন্য বাছুন ম্যাক্সি ড্রেস। সকলের দৃষ্টি আপনার উপরেই থাকবে।

ম্যাচিং এবং মিক্সিং-এর উপর নজর রাখুন

যদি ফ্লোরাল প্রিন্টস-এর উপর খুব বেশি আস্থা রাখতে না পারেন তাহলে আলাদা আলাদা ফ্লোরাল প্রিন্ট-কে একে অপরের সঙ্গে মিশিয়ে প্রয়োগ করুন। আকর্ষণ বাড়াবার জন্য মার্কেটে যেটা চলছে না সেরকম কিছু প্রিন্ট বেছে ‘ফ্যাশনে ইন’ প্রিন্টের সঙ্গে মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে নিন। এই ফ্যাশন আপনাকে সম্পূর্ণ আলাদা স্টাইল দেবে। ছোটো প্রিন্ট-এর টপ পরলে সলিড কালারের প্যান্ট পরা উচিত।

ফ্লোরাল পালাজো প্যান্টস আকর্ষণ বাড়াবে

ফ্লোরাল পালাজো প্যান্টস-এর ফ্যাশন এখন খুব চলছে। গরমের মরশুমের জন্য এই প্যান্ট যেমন আরামদায়ক তেমনি কুল। আগে এগুলি সলিড কালারের চললেও, নতুন ফ্লোরাল প্রিন্টের ফ্যাশন এগুলিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এই ধরনের প্যান্টের সঙ্গে সলিড কালারের টপ আপনাকে দেবে সেক্সি লুক।

পছন্দমতো ফ্লোরাল প্যান্ট বাছুন

কমপ্লিট লুকের জন্য ঠিকমতো রং এবং প্যাটার্ন যদি বেছে নেওয়া হয় সেক্ষেত্রে ফ্লোরাল প্যান্ট খুবই অ্যাট্রাক্টিভ লাগবে সন্দেহ নেই। হালকা রঙের ম্যাট ফিনিশ ফ্লোরাল প্যান্টের সঙ্গে লম্বা টপ খুব ভালো মানাবে। এর সঙ্গে পিপ-টো হিলস্ অথবা সফট মেটালিক কালারের জুতো খুব মানানসই হবে। প্যান্টের সৌন্দর্য এতে বাড়বে। লুক কমপ্লিট করার জন্য ড্রেসের সঙ্গে ম্যাচ করে ফ্লোরাল প্রিন্টের হেয়ার ব্যান্ড লাগাতে পারেন কারণ হেয়ার অ্যাক্সেসরিজ-এর চল বা ফ্যাশন কোনও সময়ই আউটডেটেড হয় না। অনেকে এর সঙ্গে স্কার্ফও ব্যবহার করতে পারেন যা সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করবে।

 

এ বছরের সামার ফ্যাশন ট্রেন্ডস

শাড়ি ভারতীয় পরিধানের অনবদ্য অংশ এতে কোনও সন্দেহ নেই কিন্তু আজকের নতুন প্রজন্ম পোশাকের জন্য ওয়েস্টার্ন ট্রেন্ডস এর উপর নির্ভরশীল বেশী। তাদের মতে এই ধরনের পোশাক অনেক বেশী আরামদায়ক এবং যুগোপযোগীও বটে।

ওয়েস্টার্ন ট্রেন্ডস

শাড়ির পাশাপাশি বাজারে ঢল নেমেছে পাশ্চাত্য ফ্যাশনেরও। ওয়ানপিস ড্রেস-এর ইদানীং বেশ চল হয়েছে। আর এই সব ড্রেস-এ গলার বা কাঁধের ডিজাইনে আনা হয়েছে নানা বৈচিত্র্য। ভীষণ ভাবে ট্রেন্ডি এখন কোল্ড শোল্ডার ড্রেস। অফ শোল্ডারও পরছেন সাহসীরা। পোশাকের ঝুল অনুযায়ী তৈরী হচ্ছে শর্ট ড্রেস (নি-লেংথ) বা ম্যাক্সি ড্রেস। কোল্ড শোল্ডার শিফ্ট ড্রেস বা ছিমছাম কাট-এর স্কেটার ড্রেস-এ স্মার্ট লুক পেতে চাইছেন টিন এজাররা। মিডি এবং ম্যাক্সি ড্রেস-এও খুব এলিগ্যান্ট লাগে দেখতে। ফ্লোরাল প্রিন্টস-এর ম্যাক্সি ড্রেস বা লেসের কাজ করা ম্যাক্সি ড্রেস এখন চাহিদার শীর্ষে।

পোশাকের স্লিভস্-এও এসেছে নানা রকম কাট্। কোনওটা ব্যাট স্লিভস্ (কাফতানে যেমন হতো), কোনওটা আবার বেল স্লিভস। কুঁচি দেওয়া অর্থাৎ রাফল্ড স্লিভসও খুব চলছে, বিশেষ করে লেয়ার্ড ড্রেসের সঙ্গে। টি-শার্টের ক্ষেত্রে, ফ্লোরাল এর পাশাপাশি চেকস ভীষণভাবে ইন। টর্ন জিনস্ এবং জেগিংস এখনও খুব জনপ্রিয়, সিমেট্রিক বা অ্যাসিমেট্রিক টপের সঙ্গে। সঙ্গে চলছে ক্রপ টপের ফ্যাশন। ট্রেন্ড-এ এখন আপকামিং ফ্যাশন হয়ে আসছে শার্ট ড্রেস। ড্রপ ওয়েস্ট ও ম্যান্ডারিন কলার দেওয়া লং ও শর্ট শার্ট ড্রেস এখন ভীষণ ইন।

যারা স্টাইলকে প্রাধ্যন্য দেন তাদের জন্য রয়েছে কিমোনো স্টাইল ট্রেঞ্চ কোট। সঙ্গে কুলোটস্। অ্যাংকল লেংথ জিন্স-এর পাশাপাশি, পায়ের আরও খানিক উপরে হাঁটুর নীচে পর্যন্ত লেংথ-এর প্যান্টস খুব চলছে।  স্লিম জিনস বা খাকির সাথে টি-শার্ট দিয়ে টিম আপ করে, উপরে বোতাম খোলা অবস্থায় গলিয়ে রাখুন এই ট্রাকার জ্যাকেট।

গ্রাফিক টি আর ফ্রন্ট স্লিটেড লংটপ বা লং কুর্তিও খুব চলছে ইদানীং পালাজোর সাথে।

ক্লাসি পাম্প শু আর নো-মেকআপ লুক এটাই এবছরের স্টাইলিং-এর শেষ কথা।

এথনিক ওয়্যার

ইন্ডো ওয়েস্টার্ন সুট-ই হল যে-কোনও উৎসবে, ফ্যাশনের তুঙ্গে। অর্থাৎ ইন্ডিয়ান আর ওয়েস্টার্ন-এর ফিউশনই হল এর মূল কথা। অ্যাসিমেট্রিকাল কুর্তি ও পালাজো দিচ্ছে দারুণ ট্রেন্ডি লুক।

ফুল স্লিভ আনারকলি এমব্রয়ডারি ও হাই কলারের সঙ্গে বা ফ্লোর লেংথ কুর্তি হেভি জরদৌসি কাজ করা, পার্টি ওয়্যার হিসাবে খুব ইন। এছাড়াও লেয়ার্ড সুট-ও খুব ট্রেন্ডি। সঙ্গে অ্যাসিমেট্রিকাল হেমলাইন। ফ্রন্ট স্লিট ফ্লোর সুটস্, সব বয়সি মহিলারাই পরতে পছন্দ করছেন। পালাজো, চুড়িদার বা লেগিংস বটমস্-এর সঙ্গে। ক্লোজড্ নেক লাইন, হাই কলার এবারের ট্রেন্ড। আর খুব সমাদৃত বোট নেক। এমব্রয়ডারি এখনও সবার পছন্দের শীর্ষে। তা সে যে-পোশাকেই হোক, সুন্দর নকশা তোলা পোশাকের আকর্ষণের কোনও জুড়ি নেই।

 

নববর্ষের বিশেষ সাজ

বাঙালির নতুন বছরের শুরুর দিনটি আসন্ন প্রায়। পয়লা বৈশাখ। জমজমাটি আড্ডা, খাওয়া, ফ্যাশন আর সাজগোজ। নতুন বছরের শুরুতে বাঙালির সবচেয়ে পছন্দের পোশাকটি কিন্তু এককথায় বলা চলে শাড়ি। শুধুমাত্র এই দিনটির জন্য শাড়ির বিকল্প বোধহয় আর কিছু হয় না। আসুন শাড়ি নিয়েই আজ আমাদের এই চর্চা।

নীলাঞ্জনা ভিতরে ভিতরে অস্থির হয়ে উঠছে। দোকানের সমস্ত পসারই প্রায় নামিয়ে ফেলেছে। প্রত্যেকটি পছন্দসই শাড়ি। তাই কনফিউশনটা আরও বেশি। সেলসম্যানটিও ধৈর্য ধরে একটার পর একটা শাড়ি দেখিয়ে চলেছে। প্রায় নটা-দশটা শাড়ি কিনবে মায়ের ফরমায়েশ মতো সকলকে দেবার। অস্থিরতা চেপে রেখেই, নীলাঞ্জনা সেলসের ছেলেটিকে জিজ্ঞাসা করে নিল, এই বছরে নতুন কী শাড়ি উঠেছে? ‘দিদি ফ্যান্সি শাড়ির মধো এবারে ইয়ং মেয়েদের হট্ ফেভারিট হল বাহুবলী শাড়ি।’  বাহুবলী শাড়িতে ছাপা রয়েছে এই ছবির চরিত্র। সিল্ক, জরজেট-এ পাওয়া যাচ্ছে এই শাড়ি। এছাড়াও শিফন, নেট, বাঁধনির উপর গোটা ওয়ার্ক, লহরিয়া, ঘটচোলা, মটকা, লিনেন, কটন শাড়ি তো রয়েইছে। পয়লা বৈশাখ বলতে বিশেষ করে মনে হয় নতুন পাঠ ভাঙা সুতির শাড়িতে সেজে ওঠা। মাথায় বেল বা জুঁই ফুলের মালাতে গ্রীষ্মের সন্ধ্যাতে স্নিগ্ধ রূপ।

অনবদ্য শাড়ি

 বাংলার টাঙ্গাইল এবং বালুচরী শাড়িতে এখন নতুন চাহিদা অনুযায়ী ডিজাইন তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশী ঢাকাইয়ের প্রচণ্ড ক্রেজ বরাবরই, এখন ওই ধরনের কাজ টাঙাইলের উপরেও প্রাধান্য পাচ্ছে।

চান্দেরি শাড়ি সবসময়ই সকলের হট্ ফেভারিট কারণ এটি খুব হালকা শাড়ি এবং পরেও আরাম। এছাড়া সিল্কের চাহিদা সারা বছর ধরেই রয়েছে। বাটিকে সিল্ক, আসাম সিল্ক, কাঁথা স্টিচের সিল্ক, ভাগলপুরী সিল্ক, মটকা, কোসা, ঢাকাই জামদানী, নওভারি সিল্ক, পচমপল্লী, বোমকাই, পৈঠানী ইত্যাদি সব শাড়িরই চাহিদা বাড়ে বিশেষ করে এই সময়ে এবং পুজার সময়। এবার কলমকারি এবং পটোলা শাড়ি ক্রেতাদের কাছে খুব প্রিয়, কারণ অনেক নতুন ডিজাইন নিয়ে আসা হয়েছে এই শাড়িগুলিতে।

মাহেশ্বরী, জুট সিল্ক, খেশ, ভেঙ্কটগিরি, ওয়াল কলাম, জারদৌসী, প্রিন্টেড সিল্ক তো রয়েইছে, ওপারা ও দোপিয়ন সিল্কেরও ভালোই চাহিদা।। জরজেটের উপর বেনারসীর কাজও এখন ফ্যাশনে ইন। এই শাড়িগুলি বেনারসী সিল্ক এর থেকে অনেকটাই হালকা, সুতরাং গরজিয়াস লুকটা বহাল থাকছে অথচ পরেও আরাম।

যারা গরমের জন্য খুব ভারী বা হেভি কাজ করা শাড়ি অ্যাভয়েড করতে চান, তারা অনায়াসে বেছে নিতে পারেন লিনেন শাড়ি, কোটা শাড়ি অথবা সাউথ কটন, স্বর্ণ কাতান, সিল্ক-কটন ইত্যাদি।

‘উত্তরা ক্রিয়েশন্স’ বুটিকের কর্ণধার তিথি মজুমদার সারা বছরই শাড়ির সঙ্গেই ওঠাবসা করেন। ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উনি শাড়ি কালেক্ট করেন এবং কাস্টমারদের চাহিদা পূরণ করেন। তবে ফ্যান্সি নয় তাঁর লেনদেন সবই পিওর জিনিসের উপর নির্ভর করে। ফ্যাশান ট্রেন্ড নিয়ে জানালেন বিস্তারিত ভাবে। তসর, বিষ্ণুপুর সিল্ক বিশেষভাবে উল্লেখ করলেন। তাছাড়াও হ্যান্ডলুম লিনেন শাড়ি সকলেরই পছন্দ এবং এর চাহিদাও তুঙ্গে। তসর বা সিল্কের উপর হ্যান্ডপেইন্ট অনেকে লাইক করেন। সারা শাড়িতে পেইন্ট অথবা পাড় এবং আঁচল। কাঁথা কাজের ডিমান্ড অসম্ভব বেড়েছে এখন। আগের থেকে ডিজাইনেও অনেক রদবদল এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের তাঁতিরা যেভাবে এখন লিনেন শাড়ি তৈরি করছেন এবং তাতে তাঁতের এবং জামদানী ঢাকাইয়ের ডিজাইন দিচ্ছেন, তাতে এই শাড়িটি এখন খুবই পপুলার হয়ে উঠেছে। কাঁথার কাজে একুশ অথবা বাইশ সুতোর কাজের টপ ডিমান্ড রয়েছে। বাইশ রকম রঙের সুতোয় সারা শাড়িতে কাজ, নকশা করা হয়। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডিমান্ড বেড়েছে বিষ্ণুপুরী কিংবা সোনামুখী কাতান সিল্কের। এগুলোর উপর হ্যান্ডপেইন্ট, তেলেঙ্গানার কলমকারি, ব্লক প্রিন্ট, মধুবনী প্রিন্ট ইত্যাদির অসম্ভব চাহিদা সারা ভারতবর্ষ জুড়ে। বিষ্ণুপুরী সিল্কের চাহিদা বৃদ্ধির পিছনে রয়েছে এর হালকা মেটেরিয়াল এবং উজ্জ্বল রং।

তিথি জানালেন এগুলো ছাড়াও ব্যাঙ্গালোর সিল্কের উপর বা বিষ্ণুপুরী কাতানের উপর আড়ি কাজ খুব পপুলারিটি গেন করছে কয়েক বছর ধরেই। ওনার কাছেও এই শাড়ির প্রচণ্ড ডিমান্ড রয়েছে। সম্পূর্ণ হাতে করা হয় এই কাজ। এছাড়াও আছে গাছি তসর যেগুলি সাধারণ তসরের তুলনায় অনেকটাই দামি। বুটিক থেকে শাড়ি কেনাকাটা মূলত অনলাইন-এ এবং এগজিবিশন-এর মাধ্যমে,  যেটা আজকাল বহু শাড়ি অনুরাগীরাই খুব প্রেফার করছেন। এতে দোকানের ভিড় ঠেলার প্রয়োজন নেই। বাড়িতে বসেই পাওয়া যাবে পছন্দের শাড়ি।

 

 

 

ঘর হোক খোলামেলা

আকার-আয়তনে ঘরের চেহারা বড়ো দেখাবে, খোলামেলা হবে কিংবা ঘরের সৌন্দর্য সকলকে আকর্ষণ করবে, এমনটাই তো চান সকলে। কিন্তু মহানগরে এমন স্বপ্নপূরণ সবার হয় না। তাই বাধ্য হয়ে অনেকে ছোট্ট আশ্রয়ে কষ্ট করে থাকেন। কিন্তু নতুন বছরের আগমনে একটু অন্যরকম আসবাবপত্রের সাহায্যে কিংবা গৃহসজ্জায় সামান্য রদবদল ঘটিয়েই ছোট্ট ঘরে থেকে বড়োমাপের ঘরে থাকার অনুভূতি নেওয়া যায়। প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছা আর সামান্য অর্থের।

ঘর গুছিয়ে রাখুন

ঘর যত গুছিয়ে রাখবেন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন, ততই বড়ো মনে হবে ঘরের আয়তন। জিনিসপত্র জায়গামতো গুছিয়ে রাখার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় জিনিস ফেলে দিলে, ঘরের সৌন্দর্য বাড়বে এবং বেশ খোলামেলা রূপ পাবে।

ব্যবহার করুন হালকা রং

উৎসবের আগে একবার ঘর রং করানো যেতেই পারে। এতে বছরের-পর বছর একই রং দেখার একঘেয়েমি ভেঙে ফেলা যাবে। গাঢ় রং ব্যবহার করলে ঘরের আয়তন ছোটো লাগে। তাই ঘরের দেয়ালে সাদা কিংবা হালকা রং করা উচিত। কারণ, হালকা রং ঘরের আয়তনকে দৃশ্যত বাড়িয়ে দেয় এবং চোখের আরাম হয়। তবে শুধু ঘরের রং-ই নয়, ঘরের দেয়ালের রং-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফার্নিচার-এর রং-ও হালকা রাখা উচিত। দেওয়ালের রং-এর জন্য বেছে নিতে পারেন গোলাপি, হলুদ কিংবা নীল রং।

চাই উপযুক্ত আলো

ঘরে যেন যথেষ্ট আলো ঢোকে। কারণ, উপযুক্ত আলো ঘরের ঔজ্জ্বল্য বাড়িয়ে তোলে এবং ঘর বড়ো দেখায়। প্রাকৃতিক আলোর পাশাপাশি, সাদা ল্যাম্প ব্যবহার করুন রাতেও, যাতে ঘরের আয়তন বড়ো দেখায়।

মাল্টিপারপাস ফার্নিচার-এর ব্যবহার

ঘরের আয়তন ছোটো হলে, মাল্টিপারপাস ফার্নিচার ব্যবহার করা উচিত। কিচেন থেকে বেডরুম সর্বত্র এই ফার্নিচার ব্যবহার করে সুফল স্পেস সেভিং-এর আনন্দ নিতে পারেন। যেমন, মাল্টিপারপাস কিচেন ক্যাবিনেট, সোফা কাম বেড, প্রভৃতি। আজকাল ড্রেসিং টেবিল, কম্পিউটর টেবিল প্রভৃতির মধ্যে বসার জন্য ছোট্ট টুলও থাকে ভেতরে। ডাইনিং টেবিল-এর তলায় সুন্দর ভাবে ঢুকিয়ে রাখা যায় চেয়ার। বক্সখাট কিংবা ডিভানও নানারকম সুবিধে দেয়। শীতের লেপ-তোষক, বালিশ কিংবা মাঝেমধ্যে ব্যবহূত হয় এমন জিনিস ঢুকিয়ে রাখা যায় বক্সখাট কিংবা ডিভান-এ।

আয়নার প্রয়োগ

আয়নার প্রয়োগে ঘর বড়ো দেখানোর কৌশল নেওয়া যায়। দরজার উলটো দিকের দেয়ালকে ফোকাল-পয়েন্ট ধরে নিয়ে পুরো দেয়াল জুড়ে আয়না বসিয়ে নিন। এতে আয়নায় আলো প্রতিফলিত হয়ে ঘরের ঔজ্জ্বল্য বাড়িয়ে তুলবে এবং ঘর স্বাভাবিক ভাবে বড়ো দেখাবে।

অদলবদল ফরমুলা

ইন্টিরিয়র ডেকোরেশন বা অভ্যন্তরীণ সজ্জার পরিবর্তনের মাধ্যমেও ঘরের পরিবেশকে বদলে দেওয়া যায়। যেমন, দরজা-জানালার পর্দা, কার্পেট, ওয়াল ক্লক প্রভৃতি যদি এক ঘর থেকে অন্য ঘরে অদলবদল করে নেওয়া যায় কিংবা ফার্নিচার-এর অবস্থান পরিবর্তন করা যায়– তাহলে ঘরের পরিবেশও বদলে যাবে, অন্যরকম অনুভূতিও হবে।

প্রবেশদ্বার প্রসঙ্গে

ঘরের প্রবেশদ্বারের সামনের অংশ যেন ফাঁকা থাকে। কারণ, ঢোকার মুখে প্রতিবন্ধকতা থাকলে অস্বস্তিও হবে, ঘরের আয়তনও ছোটো লাগবে। তাই, দরজার সোজাসুজি অংশে কোনও কিছু রেখে ব্লক করবেন না। শান্তি এবং স্বস্তির আবহের জন্য এটুকু তো ভেবে কাজ করতে হবে।

 

ঘরের দেখভাল

ভালো বাড়ি বানানোটা যেমন খুব সহজ কাজ নয়, ঠিক তেমনই ঘরদোরের মেইন্টেনেন্সও সহজ কাজ নয়। ভারতীয় সংস্কৃতিতে দেখা যায়, বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যেই শুধু ঘরদোর পরিষ্কার করা এবং সাজানোর রীতি আছে। কিন্তু নিয়মিত মেইন্টেন না করে মাঝেমধ্যে করলে, খরচও যেমন বেশি হয়, তেমনই পরিশ্রম করতে হয় অনেক বেশি।

মেইন্টেনেন্সের প্রয়োজনীয়তা

প্রশ্ন হল, মেইন্টেনেন্স জরুরি কেন? এটা জানার জন্য আমরা কথা বলেছিলাম এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নীতা সিন্হার সঙ্গে। গত চার বছর ধরে মেইন্টেনেন্সের বিষয়ে সুপরামর্শ দিয়ে চলেছেন নীতা। বলিউডের অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, অক্ষয়কুমার, জন আব্রাহাম প্রমুখের গৃহসজ্জার সময় নীতা কাজ করেছেন উপদেষ্টা হিসাবে। নীতা জানালেন, প্রত্যেকেরই একটা ম্যাগনেটিক ফিল্ড থাকে, যা পরিবেশের সঙ্গে ম্যাচ না করলে ব্যক্তি স্বচ্ছন্দ বোধ ফিল করে না। অতএব মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য মেইন্টেনেন্স জরুরি।

সঠিক মেইন্টেনেন্স

সঠিক মেইন্টেনেন্সের ফলে ঘরের জমে থাকা ধুলোময়লা দূর হয় এবং ঘরে ওপেন স্পেসে পজিটিভ এনার্জির পরিমাণ বাড়ে। আসলে আমাদের পরিবেশে ভাসমান ধূলিকণার সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে এমন অসংখ্য জীবাণু, যা খালি চোখে দেখা যায় না। তাই জমে থাকা জল, ধুলোময়লা প্রভৃতি ঘর থেকে না সরালে, ঘরে বসবাসকারীদের শরীরে রোগজীবাণু বাসা বাঁধবেই। আর রোগজীবাণু বাসা বাঁধা মানেই, শারীরিক এবং মানসিক কষ্টের শিকার হতে হবে। তাই প্রতিদিন ঘর ঝাড়তে হবে এবং ভালোমানের ফিনাইল দিয়ে ঘরদোর মুছতে হবে। সেইসঙ্গে  ঘরের দমবন্ধভাব ও জমে থাকা দুর্গন্ধ সরানোর জন্য, ঘরে সুগন্ধি ধুপ জ্বালাতে হবে। তবে শুধু এটুকুতেই মেইন্টেনেন্স পুরো হয় না। আসলে মেইন্টেনেন্সের দুটো ক্ষেত্র আছে। একটা ভিতরের ক্ষেত্র, অন্যটা বাইরের ক্ষেত্র। ভেতরের ক্ষেত্রের মধ্যে পড়ে ঘরের মেঝে, দেয়াল, ফার্নিচার, কিচেন, বাথরুম প্রভৃতি। আর বাইরের ক্ষেত্রের মধ্যে পড়ে মেন গেট, বারান্দা, আউটসাইড ওয়াল, বাউন্ডারি ওয়াল প্রভৃতি।

ঘর পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য দরকার নরম কাপড়, ক্লিনিং লিকুইড, মই, টুল, ঝাড়ু, ব্রাশ প্রভৃতি। যেমন, মেঝে পরিষ্কারের জন্য ফুলঝাড়ু, জল এবং ফিনাইল ব্যবহার করতে হয়। স্টিলের বা কাচের আসবাবপত্র পরিষ্কার করার জন্য লাগে ক্লিনিং লিকুইড (কলিন)। কিচেনের তৈলাক্তভাব দূর করার জন্য হালকা ওয়াশেব্ল লিকুইড সোপ এবং স্কচব্রাইট লাগে। আবার কোথাও জল জমে শ্যাওলা পড়লে, ব্রাশ দিয়ে তা তুলতে হবে। মেঝেতে পাতা কার্পেট ধুলোমুক্ত রাখতে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করতে হবে। তবে ওয়াল টু ওয়াল কার্পেটের পরিবর্তে ছোটো কার্পেট ব্যবহার করলে তা পরিষ্কার করা সহজ হবে।

জীবাণুমুক্ত রাখুন

ঘরের ভিতর-বাহির যতই সাজিয়ে গুছিয়ে রাখুন না কেন, ঘর যদি জীবাণুমুক্ত না থাকে, তাহলে সবই অর্থহীন হয়ে পড়ে। তাই মনে রাখতে হবে, ঘরে যদি পর্যাপ্ত আলো না থাকে, স্যাঁতসেঁতে কিংবা চ্যাটচেটে থাকে, তাহলে জীবাণু বাসা বাঁধবেই। তাই ঘরকে জীবাণুমুক্ত রাখতে হলে যাতে পর্যাপ্ত আলো-হাওয়া খেলে, তার ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং ঘরের ধুলোময়লা ঝেড়ে, ধুয়েমুছে শুকনো রাখতে হবে। নয়তো ঘরের জীবাণু বাসা বাঁধবে আপনার শরীরেও। তবে শুধু জীবাণুই নয়, ঘরে যদি আরশোলা কিংবা ইঁদুর থাকে, তাহলেও বিপত্তি ঘটতে পারে। কারণ আপনার অজান্তে কোনও খাবারে আরশোলা মুখ দিতে পারে এবং ওই খাবার যদি পেটে যায় তাহলে পেটখারাপ হতে পারে। ইঁদুরের ক্ষেত্রেও তাই। ইঁদুরের মুখ দেওয়া খাবারে তো পেটখারাপ হতেই পারে, সেইসঙ্গে ঘরে দামি জিনিসপত্র কেটে আেপনার বড়ো ক্ষতি করতে পারে। তাই এই সব সমস্যা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য, সিংক-কে দীর্ঘক্ষণ এটো বাসন যেমন ফেলে রাখা উচিত নয়, তেমনই সবজির খোসা বা ময়লা বেশিদিন জমিয়ে রাখা উচিত নয়। আর যদি ঘরে পোকামাকড় দেখতে পান, তাহলে অবশ্যই মাঝেমধ্যে পেস্ট কন্ট্রোল করান ভালো কোনও এজেন্সিকে দিয়ে।

ইলেকট্রিক ওয়্যারিং

বাড়িতে বসবাসের জন্য বিদ্যুৎ অপরিহার্য। আর এই বিদ্যুৎবাহী তার খুব সুন্দরভাবে ব্যবহার করা উচিত। কারণ, ঘরের ভিতর বিদ্যুতের তার এলোমেলো থাকলে যেমন বিশ্রী দেখায়, তেমনই বিপদ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বাড়ি তৈরির সময় বিদ্যুতের তার দেয়ালের ভিতর দিয়ে এমনভাবে নেওয়া উচিত, যাতে তার বাইরে থেকে দেখা না যায় এবং কোনওরকম বিপদ ঘটার সম্ভাবনা না থাকে। এরজন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত এক্সপার্ট ইলেকট্রিশিয়ানকে দিয়ে ইলেকট্রিক ওয়্যারিং করানো উচিত।

রঙের ব্যবহার

সঠিক মেইন্টেনেন্সের জন্য রঙের ব্যবহারও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু সৌন্দর্যের কথা ভেবে রঙের ব্যবহার করলে চলবে না। জানতে হবে, ঘরে-বাইরে কোথায় কোন রং ব্যবহার করলে, সৌন্দর্যের পাশাপাশি ঠিকঠাক আলো ছড়াবে এবং চোখকে আরাম দেবে। যেমন, যে ঘরে বাইরের পর্যাপ্ত আলো এসে পড়ে, সেই ঘরে সামান্য ডিপ কালার ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু যে ঘরে আলো কম পড়ে, সেই ঘরে অবশ্যই হালকা রং ব্যবহার করা উচিত। সেইসঙ্গে ঘরের উপরিভাগ অর্থাৎ সিলিংয়ে সবসময়ই সাদা রং ব্যবহার করা উচিত। এতে বেশি আলো ছড়াবে এবং সৌন্দর্যও বাড়বে। আর রান্নাঘরের দেয়ালে যেহেতু তেলকালি জমে, তাই রান্নাঘরের দেয়ালগুলিতে ডিপ কালার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে রান্নাঘরে এক্সজস্ট ফ্যান বা চিমনির ব্যবহার অপরিহার্য। এ প্রসঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, জল বা লিকুইড সোপ দিয়ে মাঝেমধ্যে যাতে দেওয়াল পরিষ্কার করা যায়, তারজন্য অবশ্যই ওয়াশেবল কালার ব্যবহার করা উচিত। এখন বাজারে কয়েকটি ব্র্যান্ডের প্লাস্টিক পেইন্ট পাওয়া যায়, যা ম্যাট ফিনিশ এবং ওয়াশেবল।

দরজা-জানালার রং

দেয়ালের রঙের তুলনায় দরজা-জানালার রং অবশ্যই আলাদা এবং গাঢ় হওয়া উচিত। এতে যেমন সৌন্দর্য বাড়ে, ঠিক তেমনই দেয়াল ভেবে দরজায় ধাক্বা খাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে না। তাই অল্প আলোতেও যাতে দরজা-জানালা সহজে আইডেন্টিফাই করা যায়, তেমন রং-ই ব্যবহার করা উচিত। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য দরজায় উডেন কালার কিংবা ব্রাউন কালার করলে, দেয়ালের যাই রং থাক, তা অবশ্যই নজর কাড়বে। আর জানালার গ্রিলে কালো রং ব্যবহার করলে, তা দরজার মতোই চোখে পড়বে। তবে দরজা-জানালা পরিষ্কার করার সুবিধার জন্য অবশ্যই। অয়েল পেইন্ট ব্যবহার করা উচিত।

দরজা-জানালার পর্দা

দরজা-জানালায় অবশ্যই ভালোমানের পর্দা ব্যবহার করা উচিত। কারণ, পর্দা যেমন সৌন্দর্য বাড়ায়, তেমনই আব্রুও রক্ষা করে। দেয়ালের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, কী রঙের পর্দা ব্যবহার করবেন তা ঠিক করা উচিত। একটু মোটা এবং সিন্থেটিক পর্দা ব্যবহার করলে, পর্দা যেমন হাওয়ায় উড়ে ঘরের আব্রু নষ্ট করবে না, তেমনই সহজেই কাচাধোয়া করে পরিষ্কার রাখা সম্ভব হবে।

 

বাড়ির জিনিস সারান নিজের হাতেই

বাড়ির জিনিসপত্রের প্রতি যত্নশীল হলে ও মাঝেমাঝেই সেগুলি পরিষ্কার বা ঝাড়পোঁছ ইত্যাদি করলে, মেকানিক ডাকার প্রয়োজন অনেক কমে যায়। তাই নিজের ঘরের মেনটেনেন্স নিজেই করুন। এই প্রাত্যহিক রক্ষণাবেক্ষণের ফলে অনেক মোটা খরচের হাত থেকে বাঁচতে পারবেন।

নিজেই শিখে নিন

বাড়িতে ব্যবহৃৎ অনেক মেশিনের নাটবোল্ট লুজ হয়ে যাওয়াটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। তাই নাটবোল্ট টাইট করাটা শিখে নিন। এজাতীয় রিপেয়ারিং নিজেই করে নিতে পারবেন। সব বাড়ির দেওয়ালেই পেরেকের গর্ত থাকে। এগুলো সব অ্যাডহেসিভ দিয়ে ভরাট করে দিন। জানলার ফাটল ভরাট করতে পুডিং ব্যবহার করুন।

বৈদ্যুতিক জিনিসপত্র

বাড়ির নানা জায়গাতেই আলোর বাল্ব লাগানো থাকে। হঠাৎই কোনও বাল্ব কেটে যেতে পারে। সেটাও নিজেই পালটে নিন। মাঝেমাঝে বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং চেক করুন। কোথাও যেন খোলা তার না থাকে। এতে শক লাগতে পারে ও স্পার্কিং হতে পারে। আগুন লাগাও অসম্ভব নয়। তাই এইরকম দেখলে, সঙ্গে সঙ্গে টেপ মেরে দিন। ওয়্যারিং ক্লিপ লুজ হয়ে গেছে দেখলে, তা টাইট করে দিন। এতে, তার ঝুলে থাকবে না ও ঘরের শোভা বর্ধনে অন্তরায় হবে না। লক্ষ্য রাখুন, ঘরে ইঁদুরের উৎপাত না হয়। ইঁদুর বৈদ্যুতিক তার কেটে দিতে পারে। ঘরের দামি জিনিসপত্রও নষ্ট করে।

নর্দমা পরিষ্কার করা

আমাদের নিজেদের দোষেই বাড়ির নর্দমায় ময়লা জমে। তারপর নর্দমা বুজে গেলে, নিকাশিকর্মীর ডাক পড়ে। এরকম হওয়ার আগে, স্বাস্থ্যকর পরিবেশরক্ষার জন্য মাঝেমাঝে নিজেই নর্দমা পরিষ্কার করুন।

ভাঙাচোরা সারানো

ঘরের কোনও জিনিস, ফার্নিচার বা দরজাজানলার কোনা ভেঙে গেলে, সিমেন্টিং-ক্লে জাতীয় কিছু কিনে নিজেই সেই অংশটুকু সারিয়ে ফেলুন। পরে বাড়িতে কখনও মিস্ত্রি লাগলে, স্থায়ীভাবে সেটা মেরামত করিয়ে নিতে পারবেন। তাৎক্ষণিকভাবে আপনাকে আর মিস্ত্রি ডাকতে হবে না।

লিকেজ থামানো

জল চুঁইয়ে বের হওয়ার সমস্যা খুবই সাধারণ। এটিকে গুরুত্ব না দিলে, একসময় এটি বৃহৎ আকার ধারণ করতে পারে। তাই কোনও পাইপ বা কলে যদি সামান্য লিকেজ দেখা দেয়, তবে নিজেই পুডিং দিয়ে তা বন্ধ করে দিন। বেশি পরিমাণে জল বের হলে অবশ্য কলের মিস্ত্রি ডাকতেই হবে।

বাথরুমের রক্ষণাবেক্ষণ

বাথরুম বা টয়লেটের টাইলসের প্রতি কেউ বেশি গুরুত্ব দেয় না। টাইলস্ যখন খুব নোংরা হয়ে যায়, তখন তা পরিষ্কার করতে গেলে বহু সময় লেগে যায়। এরচেয়ে সপ্তাহে একবার করে টাইলস, কাপড় দিয়ে ঘষে দেওয়াটা সহজ। বাথরুমের বাথটাব চকচকে করে তুলতে কেরোসিনের জবাব নেই। কেরোসিন তেলে, বাথটাবের জীবাণুও দূর হয়।

ফাটলে নজর দিন

বাড়ির দরজাজানলায় নানান ফাটল সৃষ্টি হয়। এদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিন। কোনও অ্যাডহেসিভ দিয়ে চটপট এগুলো বন্ধ করে দিন। না হলে যে-কোনও ফাটলই কীটপতঙ্গের লুকোনোর জায়গা হয়ে ওঠে। এখানে তারা ডিম পাড়ে ও বংশবৃদ্ধিও করে। ফাটল, বাড়ির হিটিং ও কুলিং সিস্টেমকেও সঠিকভাবে কাজ করতে দেয় না। কারণ যে-কোনও ফাটল দিয়ে উত্তাপ লিক করে।

আসবাবের রক্ষণাবেক্ষণ

কাঠের ফার্নিচারে অল্প দাগ লাগলে কিংবা দীর্ঘদিন ফার্নিচারের শ্রী অক্ষুণ্ণ রাখতে তাতে পালিশ করতে থাকুন। দাগ তুলতে জুতোর পালিশ সবচেয়ে কার্যকরী। একটা খালি পাত্রে চ্-্ব ধরনের আলাদা রঙের পালিশ মিশিয়ে নিন। শুকনো কাপড় দিয়ে এই পালিশ আস্তে আস্তে ফার্নিচারে লাগান। দেখবেন আপনার আসবাব নতুনের রূপ ফিরে পাবে।

ধাতব বস্তুর যত্ন

দরজাজানলার তামা বা পেতলের হাতল বা রিং, বাসনকোশন বা ঘর সাজাবার জিনিস চকচকে করে তুলতে, লেবুর রস ও নুন অপরিহার্য।

কার্পেটের যত্ন

মেঝেতে কার্পেট পাতার আগে খবরের কাগজ পেতে দিন। এতে মেঝেতে ড্যাম্পভাব থাকলে, তা কার্পেটে লাগবে না। তাছাড়া কার্পেটের তলায় যে ধূলোময়লা জমে, সেগুলো সরাসরি মেঝেতে জমবে না। এর ফলে মেঝেতে দাগ হওয়া আটকানো যাবে। কার্পেটে সরাসরি কোনও দাগ ধরলে, তা কার্বন টেট্রাক্লোরাইড দিয়ে তোলা যাবে। কার্পেটকে প্রতিদিন ভ্যাকুয়াম ক্লিন করা উচিত।

বাড়ির বাইরের অংশের যত্ন

বাড়ির বাইরের লাইট বা উঁচু কার্নিশ, বছরে অন্তত একবার পরিষ্কার করুন। এতে পাখিরা সেখানে জঞ্জাল জমিয়ে নোংরা করতে পারবে না।

দরজাজানলা

কাঠের পাল্লার দরজা, বিশেষকরে বাথরুমের দরজা, নীচের দিক থেকে খারাপ হতে থাকে। তাই ছ’মাস অন্তর এই দরজায় রং করাতে থাকুন। অনেকসময় দরজাজানলার ছিটকিনি খারাপ হয়ে যায়। এদিকেও লক্ষ্য রাখুন। না হলে যখন কোথাও বেড়াতে যাচ্ছেন, তখন খেয়াল হবে দরজাজানলা নিরাপদভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না।

বাড়ির গাছপালার যত্ন

বাড়ির বাইরে ও ভিতরে টবের গাছ ও বাগানের পরিচ্ছন্নতা ও মেরামতির দিকে নজর রাখুন। বাড়ির ভিতরে রাখা কোনও টব পুরোনো হলে, তা পালটে দিন, নইলে তা হঠাৎ একদিন ভেঙে গেলে মাটি বা জল পড়ে, মেঝে নোংরা হবে। বাগানের গাছপালার ডালপালাও মাঝেমাঝে কেটে ছোটো করে দিন।

প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি

বাড়ির টুলবক্সে স্ক্রু- ড্রাইভার, হাতুড়ি, প্লাস ইত্যাদি সাধারণ যন্ত্রপাতি জোগাড় করে রাখুন। নানান প্রয়োজনে এগুলো কাজে লাগবে। ছোটেখাটো দরকারে এগুলো না পেলে, আপনাকে মিস্ত্রি ডাকতে হবে।

অন্যান্য জিনিসপত্রের যত্ন

ওয়াটার ফিল্টার, এসি, শাওয়ার সিস্টেম ইত্যাদি সপ্তাহে একবার খুলে পরিষ্কার করুন। কোনও অংশ পালটানোর দরকার হলেও তা করুন।

শিশুদের আচরণজনিত সমস্যা

বাচ্চাদের মধ্যে বিহেভিয়ার প্রবলেম্স খুবই কমন একটি সমস্যা। আপনি কীভাবে সেটা ডিল করছেন, তার উপর ভবিষ্যতে বাচ্চার ব্যবহার অনেকটাই নির্ভর করবে। বাচ্চাদের মধ্যে যে সমস্যাগুলো খুবই কমন, সেগুলি হল –

১) মিথ্যা কথা বলা : তিনটি কারণে বাচ্চা মিথ্যা বলে। অপরের মনোযোগ নিজের প্রতি আকৃষ্ট করতে, সমস্যা থেকে দূরে থাকতে এবং আত্মসন্তুষ্টির জন্য।

সমাধান : বাচ্চা মিথ্যে বলছে বুঝতে পারলে মারধর না করে তাকে জিজ্ঞেস করুন, সত্যি এটা ঘটেছে কিনা অথবা তোমার মতে কী ঘটা উচিত ছিল? সততার গুরুত্ব বাচ্চাদের বোঝান, বাড়িতে নিয়ম করুন সত্যি কথা বলা। সত্যি কথা বলতে সবসময় উৎসাহ দিন।

২) কথা অমান্য করা : অনেক সময় বাচ্চা নিজের জেদ বজায় রাখার জন্য বড়োদের কথা অমান্য করে। এই জেদকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রথম থেকেই ব্যবস্থা নিন।

সমাধান : একবারই স্পষ্ট করে বাচ্চাকে বলুন, আমার কথা যদি না শোনো তাহলে তোমার টিভি দেখা বা খেলতে যাওয়া বন্ধ।

৩) অত্যধিক টিভি, কম্পিউটার বা ফোনে সময় কাটানো : স্ক্রিন টাইম বেঁধে দিলেও যদি বাচ্চা শুনতে না চায়, চ্ঁযাচামেচি করে, তাহলে বুঝতে হবে এটা তার একটা সমস্যা।

সমাধান : বাচ্চা যদি কথা না শোনে তাহলে ইলেক্ট্রনিক জিনিস তার কাছ থেকে সরিয় নিন। বাড়ির সবাই কিছুদিন ইলেক্ট্রনিক জিনিস ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন, যাতে বাচ্চার কাছে নিজে রোল মডেল হয়ে উঠতে পারেন।

৪) খাওয়ার সমস্যা : বেশি খিদে পাওয়া বা কিছু খেতেই অস্বীকার করা অথবা পেট ভরা থাকলেও লুকিয়ে খাবার খাওয়া।

সমাধান : খাবার সম্পর্কে হেলদি অ্যাটিটিউড তৈরি করুন। সবজি খালি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এটা বোঝাবার চেষ্টা করবেন না। আলাদা করে সকলকে খুশি করার চেষ্টা করবেন না বরং সকলের ব্যালেন্সড ডায়েট তৈরি করুন।

৫) অসম্মান করার অভ্যাস :  কোনও নাম, যেমন মোটা লোক হলে, এই মুটকু ইত্যাদি বলে ডাকা, জিনিসপত্র ছোড়া, অন্যকে ভ্যাঙানো এগুলো বিহেভিয়ার প্রবলেমের মধ্যে পড়ে।

সমাধান : যদি মনে হয় অ্যাটেনশন ড্র করার জন্য করছে, তাহলে সম্পূর্ণ ইগনোর করুন। নয়তো পানিশমেন্ট হিসেবে কোনও একটা সুবিধে দেওয়া বন্ধ করে দিন।

৬) মেজাজ দ্যাখানো : চ্যাঁচানো, মাটিতে শুয়ে পড়া, এগুলো করে বাচ্চা তার ইচ্ছে কায়েম করার চেষ্টা করে। এই আচরণ বাড়তে দেবেন না।

সমাধান : জেদ করলেই পাওয়া যাবে না, সেটা বাচ্চাকে বোঝান। বরং কোনও জিনিস তাকে অর্জন করতে শেখান। অর্থাৎ যেটা সে দীর্ঘদিন ধরে বায়না করছিল এনে দেওয়ার জন্য সেটা কোনও কৃতিত্বের জন্য তাকে প্রাইজ হিসেবে দিন।

৭) আক্রমণাত্মক মনোভাব : হোমওয়ার্ক নিয়ে প্রবলেম মনে করলে অঙ্ক বই ছুড়ে ফেলে দেওয়া বা কোনও কারণে রাগ হয়ে থাকলে ভাই-বোন সামনে থাকলে, তাদের গায়ে হাত তোলা অনেক সময় বাচ্চারা এমন ব্যবহার করে ফেলে।

সমাধান : সুযোগ দিন নিজের ব্যবহার বদলাবার নয়তো প্রফেশনাল হেল্প নেওয়া খুব দরকার।

৮) ঘ্যানঘ্যান করা : একটা জিনিস বারবার করে বলতে থাকা। এই ধরনের ন্যাগিং অনেক বড়ো বয়স অবধি থেকে যেতে পারে। তাই ছোটো থাকা অবস্থাতেই সংশোধন করা প্রযোজন।

সমাধান : প্রথমে ইগনোর করুন। ঘ্যানঘ্যান বন্ধ করলে তবেই তার কথা শুনবেন, এমন প্রমিস করুন। সত্যিই যদি ঘ্যানঘ্যান বন্ধ করে, তাহলে ইতিবাচক রিয্যাকশন দেবার চেষ্টা করুন।

 

সন্তান সামলাতে জীবনশৈলীতে পরিবর্তন আনুন

 

সঠিক পেরেন্টিং

সন্তানকে অবজ্ঞা নয় : সোশ্যাল সার্কল বাড়ান কিন্তু একটা লিমিট অবশ্যই রাখুন। বাচ্চাকে বাড়িতে একা, অভুক্ত রেখে সামাজিক মেলামেশায় ব্যস্ত হয়ে পড়াটা বাঞ্ছনীয় নয়। বাচ্চার পড়াশোনা থেকে শুরু করে তাকে আরামে রাখা, তার প্রযোজন মেটানো, আপনার দাযিত্ব। সুতরাং বাড়ি সামলে তবে অন্যকিছুতে সময় দিন।

সমস্যায় সঙ্গে থাকুন : সময় কাটাবার জন্য শুধুমাত্র কোনও অ্যাক্টিভিটির সঙ্গে জুড়ে থাকাটা সঠিক পন্থা নয়। সকলের সুখ-দুঃখও শেয়ার করার চেষ্টা করুন। কেউ সমস্যায় পড়লে তাকে সাহায্য করতে পিছপা হবেন না। একই ভাবে নিজের সন্তানের কোনও সমস্যা হলে অন্যের সাহায্য নিন।

অপরকে অনুসরণ নয় : আপনার আশেপাশের অন্যান্য মহিলাদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করে কিছু করার প্রচেষ্টা করবেন না। তাদের মতো ব্র‌্যান্ডেড পোশাক কেন আপনার কাছে নেই বা আপনার স্ট্যাটাস কেন তাদের মতো নয়, এরকম অযথা চিন্তায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলবেন না। নিজের সীমার মধ্যে থাকবার চেষ্টা করবেন। নিজের সন্তানকেও সেই শিক্ষাই দেবেন।

কু-অভ্যাস ত্যাগ করুন : হাই স্ট্যাটাস মহিলাদের অনুকরণ করতে গিয়ে ধূমপান, মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়বেন না। আপনি যতই এসবের থেকে নিজেকে বাঁচাবার চেষ্টা করুন না কেন, জানতেও পারবেন না, এই ধরনের নেশা কখন আপনাকে গ্রাস করতে উদ্যত হচ্ছে। সুতরাং এই ধরনের সঙ্গ পরিত্যাগ করাই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। মনে রাখবেন আপনার দেখানো পথই, আপনার সন্তান অনুসরণ করবে।

 

 

 

 

 

 

নিজেই করুন ঘরের পেইন্ট

স্বপ্নের ঘর তৈরি করতে কে না চায়! আর সেই স্বপ্নকে সাকার করে তুলতে ঘরের রং যদি মনের মতো হয়, তাহলে তো কথাই নেই। তবে ঘরের রং এবং রং করাতে যেসব জিনিসপত্রের প্রয়োজন হয়, সেগুলির দামের থেকে রং করার মজুরি অনেক বেশি পড়ে যায়। আবার মজুরি দিয়েও অনেকসময় পছন্দমতো কাজ পাওয়া যায় না। তাই নিজেই পেইন্টার হয়ে যান। নিজের হাতে রং করুন আর আপনার ঘরের দৃশ্যপট বদলে দিন।

পেইন্টের নির্বাচন

পেইন্ট বা রং নানা ধরনের হয়ে থাকে। যেমন, চুন। ঘরের দেয়াল চুনে ভিজিয়ে সাধারণত সাদা রং করা হয়। এই রং করা খুবই সুবিধাজনক, সস্তা এবং সহজেই পাওয়া যায়। ঘরের ভিতর ও বাইরে, ছাদের সিলিং-এ রঙের প্রলেপের জন্য এটি উপযুক্ত। তবে কাঠ ও যে-কোনও ধাতুতে এই রং ধরে না।

ড্রাই ডিসটেম্পার

ব্রাইট এবং বিভিন্ন রঙের শেডে এই পেইন্ট ডিসটেম্পার পাওয়া যায়। চুনের থেকে অনেক ভালো কিন্তু সামান্য দামি।

অয়েল বাউন্ড ডিসটেম্পার

এই পেইন্ট ওয়াশ করা যায় এবং অনায়াসেই ২-৩ বছর একইরম উজ্জ্বল ব্রাইট থাকে। তবে ঘরের ভিতরের দেয়ালের জন্যই এটি উপযুক্ত।

প্লাস্টিক ইমালশন

খুব তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায় প্লাস্টিক ইমালশন। এগুলি ওয়াশেবল ও রং করার পর দাগ ছোপ তেমন পড়ে না। এয়ার বাউন্ড ডিসটেম্পারের চেয়ে অনেক বেশি টেকসই। তবে রং লাগানোর সময় অবশ্যই দক্ষতার সঙ্গে লাগাতে হবে।

অ্যাক্রেলিক ইমালশন

অন্যান্য পেইন্টের থেকে এটি অনেকবেশি জনপ্রিয়, টেকসই-ই শুধু নয়, খুব গ্লসিও। এটির ম্যাট ফিনিশও হাজার রকম রঙের শেডে পাওয়া যায়।

সিমেন্ট বেস্ড পেইন্টস্

শুধুমাত্র বাড়ির বাইরের দেয়ালগুলি নানারঙে রাঙিয়ে তুলতে এটি ব্যবহার করা হয়।

টেক্সচার্ড পেইন্টস্

বাড়ির ভিতর এবং বাইরে, দু’ধরনের দেয়ালেই এই শৌখিন পেইন্ট লাগানো যায়। দারুণ সুন্দর সব শেড ও টেক্সচারে পাওয়াও যায় রংগুলি। টেকসই ও সহজে ধোয়া যায়। তবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দেয়ালে এই পেইন্ট লাগাতে হবে।

সিন্থেটিক এনামেল্স

এই পেইন্ট দুধরনের হয়ে থাকে। যেমন – জেনারেল পারপাসে ব্যবহূত ও সুপার সিন্থেটিক এনামেল্স। সাধারণ এনামেল্স কাঠ, স্টিলের বিভিন্ন ফার্নিচার এমনকী দেয়ালেও লাগানো যায়। কিন্তু সুপার সিন্থেটিক এনামেল শুধুমাত্র কাঠ ও স্টিলেই লাগানো যায়। বিভিন্ন পেইন্ট কোম্পানিগুলির মধ্যে এশিয়ান, নেরোল্যাক, শালিমার, বার্জার, জেনসন অ্যান্ড নিকলসন এবং বম্বে পেইন্টস্ বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

রং নির্বাচন

রং করার সময় মুখ্য বিচার্য বিষয় হল রং নির্বাচন। এই নির্বাচন দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যেমন – ঘরগুলি কেমন ও তাতে আলোর প্রাচুর্যতা কেমন। যদি ঘরে পর্যাপ্ত আলো খেলে, তাহলে সেই ঘরের জন্য গাঢ় রং বাছাই করতে পারেন। আর যদি ঘরে আলোর প্রাচুর্য না থাকে অর্থাৎ অন্ধকার ধরনের হয়, সেক্ষেত্রে ঘরের রং বেশি গ্লসি হওয়া উচিত। তাই এইসব ঘরে হলুদ, লাইট ব্লু, এইধরনের রং লাগাতে পারেন। তবে প্রত্যেকটি রঙেরই পৃথক বৈশিষ্ট আছে। যেমন –

সাদা – যে-কোনও ঘরেই সাদা রং মানানসই। রং করলে ঘরের আয়তন আরও বড়ো বলে মনে হয়। তবে বেশিরভাগ মানুষ কিচেন ও বাথরুমেই সাদা রং লাগিয়ে থাকেন।

লাল – লাল রং অ্যাগ্রেসিভনেসের প্রতীক বলে বিবেচিত। কখনওই বেডরুমে লাল রং লাগানো ঠিক নয়। তার চেয়ে লালের অন্যান্য শেড যেমন মেরুন, অরেঞ্জ এগুলো বেশ ভালো।

হলুদ – হলুদ রং উৎসাহ ও মনে আনন্দ বয়ে আনে। ব্রাইট হলুদ, একটু কম আলো প্রবেশ করে এমন ঘরে লাগালে, ঘর বেশি আলোকিত বলে মনে হয়।

নীল – শান্তি, বিশ্বস্ততা ও ঐক্যের প্রতীক। নীল রং বেডরুমের জন্য পারফেক্ট।

প্রয়োজনীয় সামগ্রী

বাড়ির দেয়াল, সে ঘরের ভিতরে বা বাইরে যেখানেই হোক, রং করার জন্য প্রয়োজনীয় এই জিনিসগুলি আপনার লাগবেই। যেমন পছন্দের পেইন্ট, ৩-৪ ইঞ্চির চওড়া ব্রাশ, ছোটো অ্যাংগেল ব্রাশ, একটা তোয়ালে বা মাথায় বাঁধার জন্য কাপড়, পরিমাণ অনুযায়ী তারপিন তেল (যদি পেইন্ট অয়েল বেসড হয়) বালতি, শিরীষ কাগজ, পরিমাণ অনুযায়ী প্রাইমার (রং করার আগে প্রলেপের জন্য), পুরোনো কাপড়, মই, রোলার, রোলার ট্রে, ডিসপোসেবল রবার গ্লাভ্স।

প্রস্তুতি

১)   প্রথমেই মোটামুটি বাতিল হওয়া জামাকাপড় পরে নিন, যাতে রং লাগলে ভালো জামাকাপড় নষ্ট হবে না। হাতে গ্লাভ্স পরে নিন। একটু মোটা ধরনের অ্যাপ্রনও পরে নিতে পারেন।

২)   রং করার আগে ঘরের সমস্ত ফার্নিচার সরিয়ে দিন। যদি একান্ত সেটা সম্ভব না হয়, তাহলে দেয়ালের দিক থেকে সেগুলি সরিয়ে ঘরের মাঝখানে রাখুন। এগুলি কোনও প্লাস্টিক পেপার বা মোটা কাপড় দিয়ে সম্পূর্ণ ঢেকে দিন, যাতে রং পড়ে নষ্ট না হয়।

৩)   রং করার সময় ব্রাশ থেকে রঙের ফোঁটা মেঝেতে পড়ে। আর এগুলি তুলতে সময় নষ্ট যাতে না হয়, তার জন্য রং করার আগে মেঝেতে কাগজ পেতে দিন।

৪)   দেয়ালে লাগানো ছবি, আয়না, ঘর সাজানোর অন্যান্য জিনিস থাকলে নামিয়ে নিন।

৫)   সিলিং ফ্যান, বাল্ব, টিউবলাইট, দেয়াল থেকে নামিয়ে কাপড় বা কাগজে ঢেকে রাখুন।

৬)   যদি ঘর আগে রং হয়ে থাকে, তাহলে সেই রং ভালোভাবে ঘষে তুলে দিন।

৭)   আগের রং ভালোভাবে তুলতে, ক্লিনজার ব্যবহার করতে পারেন।

৮)   যদি দেয়ালে ফাটল বা গর্ত থাকে, সেগুলো আগে সারিয়ে নিন।

৯)   পেইন্ট করার আগে প্রাইমার লাগিয়ে দেয়াল শুকিয়ে নিন।

কী করে রং করবেন

সবসময়ই ঘরের যে-কোনও কোণ থেকে শুরু করে মাঝখানের দিকে আসা উচিত। রঙে ডোবানো তুলি দেয়ালে বোলানোর আগে ভালো করে ঝেড়ে নিন এবং তুলি সবসময় উপর থেকে নীচের দিকে টানুন।

সিলিংয়ের রং

১)   সবচেয়ে আগে রং করতে হবে ছাদের সিলিং। তবে তার আগে দেখে নিন, ছাদের কোনও জায়গা থেকে জল পড়ে কিনা। যদি পড়ে, আগে তা সারিয়ে নিন।

২)   ছাদ আর দেয়াল যেখানে মিশেছে সেখান থেকে ব্রাশ দিয়ে দু-তিন ইঞ্চি পটির মতো দিয়ে শুরু করুন। একে ‘কাট ইন’ বলে।

৩)   এবার রোলার ট্রেতে রং ঢালুন। যদি ব্রাশ দিয়ে রং করেন সেক্ষেত্রে ছোটো একটি বালতিতে রং রাখুন।

৪)   মিড স্ট্রোকে রোলার থামিয়ে দেবেন না। যদি থামাতেই হয় তখন পুরো লাইন টানুন।

৫)   পুরো ছাদ রং করার সময় একবারও ব্রেক না নিয়ে করুন।

৬)   প্রথম কোটিং শুকিয়ে যাওয়ার পর ঠিক ওইভাবেই দ্বিতীয় কোটিং দেওয়া শুরু করুন।

দেয়াল

১)   ছাদ পুরো শুকিয়ে গেলে তবেই দেয়াল রং করতে শুরু করুন।

২)   প্রথমে ছোটো ব্রাশ দিয়ে ‘কাট ইন’ এরিয়া তৈরি করে, ব্রাশ বা রোলারের সাহায্যে কালারিং শুরু করুন।

৩)   একটি দেয়াল একবারে রং করে ফেলুন।

৪)   প্রথমে উপর থেকে নীচে, তারপর আশেপাশে লাগান।

৫)   প্রথম কোটিং শুকিয়ে গেলে দ্বিতীয় কোটিং শুরু করুন।

দরজা

১)   নব, লক ও অন্যান্য হার্ডওয়ার ঢেকে দিয়ে শুরু করুন দরজায় রং করা।

২)   যদি দরজা একেবারে মসৃণ হয়, তাহলে দেয়ালের দিক থেকে রং শুরু করুন। দরজার মাথা ও নীচের কিনারা রং করতে ভুলবেন না।

৩)   যদি দরজায় প্যানেল দেওয়া থাকে, তাহলে আগেই প্যানেল রং করে নিন। তারপর পুরো দরজা রং করে নিন।

জানলা

১)   জানলা রং করার সময় আগে জানলা খুলে দিন, এরপর বাইরের কিনারা থেকে রং করা শুরু করুন।

২)   বাইরের রং শুকিয়ে গেলে ভিতরের অংশ রং করুন।

৩)   তবে দরজা রং করার আগে চারপাশের চৌকো ফ্রেম রং করে নিন।

৪)   রং না শুকোনো পর্যন্ত জানলা বন্ধ করবেন না।

যদি রঙের কাজ হওয়ার মাঝখানে কোনওদিন কাজ বন্ধ রাখেন, সেদিন ব্রাশ কেরোসিনে ভিজিয়ে অথবা প্লাস্টিকে বা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে জড়িয়ে রেফ্রিজারেটরে রেখে দিন। এতে ব্রাশ নরম থাকবে। কাজ হয়ে গেলে ব্রাশ ও রোলার পরিষ্কার করে রাখুন। এতে এগুলি দ্বিতীয়বার ব্যবহার করতে সুবিধা হবে।

 

আসবাবের যত্ন

অনেকেই শখ করে পারম্পরিক কিংবা হাল ফ্যাশনের আসবাবে ঘর সাজান। কিন্তু শুধু আসবাব দিয়ে ঘর ভরে ফেললেই সৌন্দর্য বাড়ে না। আসবাবেরও চাই নিয়মিত যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ। দীর্ঘদিন সাফসুতরো না করার ফলে ফার্নিচারে ধুলো জমে, দাগ পড়ে, এমনকী এতে পোকামাকড়ও জন্মায়। তাই সময় থাকতে সজাগ হোন। আসবাব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই মেনে চলুন কয়েকটি সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণের নিয়ম।

১)          আসবাব খুব রোদের মধ্যে রাখবেন না। এর ফলে আসবাবের রং নষ্ট হতে পারে, কাঠের চলটা উঠতে পারে। তাই আগুনের তাত ও রোদের ঝাঁঝ, দুইয়ের প্রকোপ থেকেই আসবাবগুলি বাঁচান।

২)          পরিষ্কার করার জন্য সপ্তাহে একদিন ভ্যাকুম ক্লিনার ব্যবহার করুন, বাকি দিনগুলিতে কাপড়ের সাহায্যে ডাস্টিং করুন।

৩)         সোফায় বা অন্য কোনও ফার্নিচারে দাগ-ছোপ লাগলে, তা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে দিন।

৪)          চামড়ার ফার্নিচার পরিষ্কার করার জন্য নির্দিষ্ট লেদার ফার্নিচার কেয়ার লিকুইডই ব্যবহার করুন।

৫)          কাঠের আসবাবের বেশি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সব ঋতুতেই কাঠের ফার্নিচারের বিশেষ কেয়ার নেবেন। কাঠের ফার্নিচারে ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট মেলামাইন পালিশ করানো ভালো। এর ফলে বর্ষাকালের স্যাঁতসেতে আবহাওয়াতেও আসবাবগুলি ভালো থাকবে।

৬)         কাঠ ও চামড়ার তৈরি আসবাবের উপরেই পোকামাকড়ের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়। তাই এই ধরনের আসবাবের বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন।

৭)          স্টেনলেস স্টিলের দেখভালের জন্য চিন্তা না করলেও চলবে, কারণ এই ধরনের আসবাবে তেমন মেন্টেনেন্সের প্রয়োজন হয় না। শুধু কেনার সময় খেয়াল রাখবেন, স্টিলের গুণগত মান যেন ভালো হয়।

৮)         ফার্নিচারগুলিকে সবসময় শুকনো কাপড়ের সাহায্যেই পরিষ্কার করুন। ভেজা কাপড় একেবারেই ব্যবহার করবেন না। এর ফলে ফার্নিচারের পালিশ নষ্ট হয়ে যায়। সেইসঙ্গে কাঠও কমজোরি হয়ে যায়।

৯)         আসবাবের খুব খারাপ অবস্থা হয়ে গিয়ে থাকলে, জোড়াতালি দিয়ে সারানোর চেষ্টা না করে, বদলে ফেলাই ভালো।

১০)     যদি আসবাবের উপর মোমের দাগ পড়ে যায়, গরম ছুরি দিয়ে বা স্পিরিট দিয়ে তা সরিয়ে ফেলুন।

১১)       ফার্নিচার অনেকদিনের পুরোনো হয়ে গিয়ে থাকলে, একবার পালিশ করিয়ে নিন।

১২)       যদি কাঠের আসবাবই আপনার বেশি পছন্দের হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই ভালো কাঠের, সলিড উড-ফার্নিচারই ব্যবহার করুন।

১৩)      বোর্ড বা প্লাইয়ের ল্যামিনেশন করা ফার্নিচারে বেশি গরম কোনও জিনিস না রাখাই ভালো। শুকনো তুলো দিয়ে এই ধরনের আসবাব মুছে রাখুন।

১৪)       সেগুন কাঠের আসবাবে ঘুণ ধরে না, তাই দীর্ঘদিন ধরে ফার্নিচার না বদলানোর কথা ভাবলে, সেগুন কাঠের ফার্নিচারই আদর্শ।

১৫)       রট আয়রনের তৈরি ফার্নিচার বা পিতলের ফার্নিচার, সরংক্ষণ করতে রেড অক্সাইড ব্যবহার করুন।

১৬)      আসবাবের জয়েন্টের জায়গাগুলি যাতে জং পড়ে নষ্ট না হয়ে যায়, তাই এর উপর রেড অক্সাইড লেপে দিন।

১৭)       বর্ষার মরশুম শুরু হওয়ার আগেই আসবাবে পেইন্ট বা ভার্নিশ ব্যবহার করুন। এরফলে আসবাবে ঘুণ ধরবে না।

১৮)      লিভিং-রুম বা বাগানে ব্যবহূত বেতের আসবাবগুলি যাতে বৃষ্টির জলে না ভেজে, সেদিকে নজর দিন। কারণ এই ধরনের আসবাব ভিজে গেলেই এতে কালচে ছোপ ধরে ও ফাংগাস পড়ে যায়।

১৯)       দীর্ঘদিন যদি ঘর বন্ধ করে কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, অতি অবশ্যই আসবাবগুলি কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে যাবেন। এর ফলে আসবাব ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

২০)       যদি আসবাবে ফ্রেঞ্চ পালিশ থাকে, তাহলে এই ফার্নিচারের এক্সট্রা কেয়ার প্রয়োজন। খেয়াল রাখবেন এগুলি যেন কোনওভাবেই জলের সংস্পর্শে  না আসে।

 

বাচ্চাকে সুঅভ্যাস রপ্ত করান

সাইকোলজিস্টদের মতে বাচ্চার জন্মের পর প্রথম ছবছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ই বাচ্চা যা-যা শেখে, তার ছাপ পড়ে তার সারা জীবনের উপর। সুতরাং শৈশব থেকেই তার মধ্যে সুঅভ্যাস গড়ে তুলুন। বাচ্চাদের হেলদি লাইফস্টাইল মেইনটেন করা এবং তাদের ডিসিপ্লিন শেখানোটা মা-বাবার দায়িত্ব। ইন্টারনেটের যুগে ফোন বা কম্পিউটার খুললেই অনেক রকম তথ্য আদান-প্রদান হয় যেটা থেকে সাময়িক ভাবে বাচ্চার উপকার হলেও, কিছু কিছু দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিও হয়ে যায় বাচ্চাদের। মা-বাবাকে দেখেই বাচ্চার অভ্যাস গড়ে ওঠে সুতরাং আগে নিজেদের ডিসিপ্লিনড এবং হেলদি লাইফস্টাইলে অভ্যস্ত করে নিয়ে তারপরে বাচ্চার মধ্যেও সেই অভ্যাসগুলো গড়ে তুলতে হবে।

যা করা জরুরী

  • জলখাবার স্কিপ করা কোনও ভাবেই চলবে না। সারাদিনে এর গুরুত্ব অপরিসীম। দিনের শুরুতেই এনার্জি লেভেল সঠিক থাকবে এবং খাওয়ার একটা নির্ধারিত সময় ঠিক হয়ে যাওয়ার ফলে দৈনন্দিন রুটিনে এটা পরিবর্তিত হবে। বাযোলজিক্যাল ক্লক সঠিক হয়ে যাওয়ার ফলে ক্রনিক অসুস্থতার হাত থেকেও বাচ্চা রেহাই পাবে
  • বাচ্চারা অনেক সময় খাওয়া নিয়ে নানা রকম বায়না করে। তাকে যা খেতে দেওয়া হচ্ছে, তা সে খেতে চাইছে না আবার তার প্রযোজনও ঠিক ভাবে বলতে পারছে না। যেন ভেবে নেওয়া না হয় যে, তার খিদে নেই। তখন তার টেস্ট-এর পরিবর্তন করে দেখতে হবে। তাই কিছু মুখরোচক খাবার, যেগুলো একইসঙ্গে সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর এরকম খাবার তৈরি খেতে দিন। যেমন আটার মোমো, ম্যাকারনি, ভেজ প্যানকেক, মাল্টিগ্রেন ব্রেড কাটলেট, টেস্টি পনির কিউবস
  • বাচ্চাদের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশের জন্য বাড়ির বাইরে বেরিয়ে যে-কোনও এক্সারসাইজ করাটা বাচ্চাদের উচিত। প্যান্ডেমিকের কারণে হওয়া লকডাউন এখন ধীরে ধীরে শিথিল করা হয়েছে। ফলে বাড়ির বাইরে গিয়ে অন্তত এক ঘন্টা বাচ্চাদের খেলাধুলো বা এক্সারসাইজ করা উচিত। এতে বাচ্চার সোশ্যাল স্কিল্স-ও যেমন বাড়বে, তেমনই বাচ্চা অনেক বেশি অ্যাকটিভ হবে এবং পড়াশোনাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে
  • বাচ্চাকে পড়ার অভ্যাস করান। ঘুমোবার আগে বাচ্চার পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। যে-বিষয়টি বাচ্চা ভালোবাসে তাকে সেই বিষয়ের উপর বই দিন। এতে শব্দ পরিচিতি যেমন বাড়বে, তেমনি নানা বিষয়ে জ্ঞানও বাড়বে। ফলে ভবিষ্যতে এর থেকে অনেক সুফল পাবে সে এবং মানসিক বিকাশেও সুবিধা হবে
  • পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাবার সুযোগ করে দিন। নিজেরা বাচ্চাকে সময় দিন এবং যাতে নিজের সমস্যা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করে সে, তার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করুন। বাচ্চার সঙ্গে বন্ডিং তৈরি করুন। দিনের কোনও একটা সময়ে একসঙ্গে বসে খাবার খান। সারাদিনের এক্সপিরিযে্ন্স শেয়ার করুন। নিজেদের পছন্দের এবং সন্তানের পছন্দের কোনও টপিক নিয়ে আলোচনা করুন। মনে রাখবেন বাচ্চার সাহায্যের প্রযোজন হলে, আপনাদের যেন সে পাশে পায়
  • স্বাস্থ্যই শরীরের সম্পদ, এই কথাটা বাচ্চাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিন। ছোটো থেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে শেখান। দাঁত ব্রাশ করা, সময়ে সময়ে হাত সাবান দিয়ে ধোয়া, বাইরে থেকে এসে হাত-পা-মুখ সব ধোয়া ইত্যাদি ছোটো থেকেই শেখানো দরকার
  • বাচ্চাকে ইমোশনালি স্ট্রং করে গড়ে তুলুন যাতে কমফর্ট পেতে অন্য কোনও জিনিসের উপর নির্ভরশীল না হয়ে পড়ে। বড়ো হয়ে সেটাই অ্যালকোহল বা ড্রাগের উপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে পারে। সব রকমের ইমোশন এক্সপ্রেস করতে দিন ওদের। রাগ, দুঃখ এক্সপ্রেস করার স্বাধীনতা থাকা একান্ত দরকার। শুধু খেয়াল রাখতে হবে, জেদ, ট্যানট্রাম ইত্যাদি মেনে নেবেন না
  • বাচ্চার জন্য দরকার পর্যাপ্ত ঘুম। আট ঘন্টা টানা ঘুমোনো খুব দরকার। ঘুমের ব্যাঘাত যেমন বাচ্চার ইমিউনিটি নষ্ট করে, তেমনি শরীরে হাড়, টিসু কোশের বিকাশেও বাধা দেয়। বাচ্চা অমনোযোগী হয়ে পড়ে, কনসেনট্রেশন লেভেল কমে যেতে থাকে। সুতরাং বাচ্চাদের তাড়াতাড়ি ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া উচিত এবং যাতে কম্পিউটার বা মোবাইল না ঘাঁটে শোওয়ার সময়, সে বিষয়ে অভিভাবকদের স্ট্রিক্ট হতে হবে
  • বাচ্চার চরিত্রগঠনে বাড়ির অভিভাবকদেরও সংযত থাকতে হবে। বাচ্চার সামনে বড়োরা যেন ঝগড়া না করে। কারণ, বড়োদের ঝগড়া করতে দেখলে, ভয় পেয়ে বিরক্ত হয়ে সে-ও জেদ দেখাতে পারে। তাই, বাচ্চার প্রতি নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ করুন। যেন কোনও ভাবেই বাচ্চা অসহায়তা অনুভব না করে। বাচ্চা যখন জেদ করবে, তখন তাকে মারধর কিংবা অন্য কোনও ভাবে শাস্তি দেবেন না। ওকে আদর দিয়ে অন্য কোনও ভাবে ব্যস্ত রাখুন, হাসাবার চেষ্টা করুন
  • বাড়ির অন্যদের সম্পর্কে বাচ্চার সামনে কোনও কথা বলবেন না। বাড়ির আর্থিক পরিস্থিতি তার সামনে আলোচনা করবেন না। জোরে বা ঝাঁঝিয়ে কথা বলবেন না বাচ্চার সঙ্গে। আবার তার সব বায়না বা জেদকেও প্রশ্রয় দেবেন না। বাচ্চার সামনে খারাপ শব্দের ব্যবহার কখনও-ই করবেন না। তাকে সঠিক বন্ধু নির্বাচন করতে সাহায্য করুন।
পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব