আধখাওয়া চাঁদ (শেষ পর্ব)

বাবার কাজ ছিল এক রং মিস্ত্রির জোগাড়ের। একটু আলসে টাইপের লোক ছিল বলেই বোধহয় সারাজীবন ওই হেল্পার-ই রয়ে গেল, মিস্ত্রি আর হতে পারল না! সঙ্গে ছিল বাংলুর নেশা। কতদিন রাতে বাবার মদ গিলে ফেরা নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া লেগে যেত। মদখেকো বাবাকে তখন খুব ভয় করত টুম্পার। লাল চোখ আর টলন্ত দেহ দেখলেই চৌকির তলায় লুকোত টুম্পা।

আর এখন? হাসি পেল টুম্পার। তারকেশ্বর নৌশাদের মতো লোকেদের মৌজের প্রথম শর্তই আকণ্ঠ পান। আর তারপর? গা-টা কেমন পাক দিয়ে উঠল, সশব্দে ওয়াক তুলল সে। জগন্নাথ তাড়াতাড়ি জলের বোতল এগিয়ে দিল….

—কী হল মাইজি?

টুম্পা এক ঢোক জল খেয়েই তাড়া লাগায়, ‘চলো চলো জগন্নাথ! আরও কিছু দেখব যে!”

জিরাফ, গণ্ডার, হাতি খোলা জমিতে পর পর নানান পশুর মেলা দেখতে দেখতে বিভোর হয়ে যায় টুম্পা! সবচেয়ে মজা লাগে জলের মস্ত চৌবাচ্চায় গলা অবধি ডোবা জলহস্তি দেখে। আরও কতক্ষণ কেটে যেত এভাবেই কে জানে, ঠিক তখনই মোবাইলটা ঝনঝন করে বেজে ওঠে।

—অউর কিতনা ঘুমোগি টুম্পা? জলদি আও! তারকেশ্বর শর্মার ধাতানিতে সম্বিত ফেরার পর টুম্পা হনহন করে ফিরতে থাকে নির্দিষ্ট আইসক্রিম কর্নারের দিকে। টুম্পাকে দেখতে পেয়েই হই হই করে ওঠে নৌশাদ, ‘আরে জগন্নাথ তুম কেয়া জঙ্গল মে মঙ্গল করনে লাগে থে?’

বিশ্রী একটা ইঙ্গিতে জগন্নাথ নামক প্রৌঢ় গাইডটির চোখ—মুখ লাল হয়ে ওঠে। লজ্জায় তাকাতে পারে না টুম্পা। নৌশাদের অবাধ্য হাত টুম্পার অফ শোল্ডার টপের ভিতর অবাধে ঘুরতে থাকে। জগন্নাথ টাকাটা নিয়ে দ্রুত হেঁটে চলে যায়। একবারের জন্যেও টুম্পার দিকে ফিরে তাকায় না। সমবেত হাসির দমকে টুম্পার চোখ অকারণে ঝাপসা হয়ে আসে। এতক্ষণ লোকটা যে তাকে মাইজি ডাকছিল সেটা মনে পড়তেই টুম্পা অন্যমনস্ক হয়ে যায়, ভাবে আজ নিশ্চয়ই লোকটা বাড়ি গিয়ে বউকে বলবে আজ একটা বাজারু অউরতের সঙ্গে দেখা হয়েছিল।

স্করপিও-তে উঠে এককোণে চুপ করে বসে টুম্পা। সারাটা রাস্তা নৌশাদের অসভ্যতা মুখ বুজে সহ্য করতে হয়। স্টেশনে ঢুকতে বেশ দেরি হয়ে যায়। কোনওক্রমে খাবারের প্যাকেট আর প্রাপ্য টাকার খামটা হাতব্যাগে ঢুকিয়ে ট্রলিটা ঠেলে সাত নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়ায় টুম্পা পুনম আর দীপ্তি। দীপ্তি, প্রথম মুখ খোলে,

শালা! চুতিয়া লোগ একদম দম নিকাল লিয়া। পুনম হেসে ওঠে!

—এ কি তোর নিজের মরদ পেয়েছিস নাকি যে হাত বুলিয়ে ছেড়ে দেবে?

—কী রে টুম্পা? ক্যায়সা লাগা তুঝে? পহলিবার চার চার মর্দকে সাথ!

টুম্পা বিরক্তি চেপে পুনমের কথা ঘুরিয়ে দেয়। ‘জলের বোতল নিবি না? ট্রেনে জল তেষ্টা পেলে।”

—আরে! জল উল সব ট্রেনে দিবে, খানাও।

—তাহলে ওরা যে প্যাকেট দিল খাবারের?

—ওটা তো কনট্রাক্ট মে ছিল! দিবে না?

ভুবনেশ্বর থেকে ‘দুরন্ত’ মেল-এ উঠল টুম্পারা। ফেরার পথটা তিনটে ভাড়া করা মেয়েমানুষকে পার্টি শুধু ট্রেনে তুলে দেবে এমনই কথা ছিল এজেন্টের সঙ্গে। নিজেরা ফিরবে সড়কপথে। ফার্স্ট ক্লাস এসির টিকিটগুলো বড়ো এলোমেলো পড়েছে। ছিটকে গেছে টুম্পা, দীপ্তি আর পুনমের কাছ থেকে। কাঁধের ব্যাগটা সামলে ছোট্ট ট্রলিটা ঠেলে টুম্পা এই প্রথমবার এসির কাঁচঘেরা কম্পার্টমেন্টে উঠল। পুনমরা থাকলে বোধহয় এতটা ভয় ভয় করত না। আসলে, আগে যে ক’বার বাইরে এসেছে ক্লায়েন্টের সঙ্গে— সবই ওই মন্দারমণি, তারাপীঠ কিংবা গাদিয়াড়া।

একটা টাটাসুমোয় বা লোকাল ট্রেনে চিড়েচ্যাপটা হতে হতে যাওয়া এবং ফেরা। পথে বাদাম চিপস আর লদকালদকী! বহু কষ্টে টিকিট মিলিয়ে নিজের সিট খুঁজে পেল টুম্পা। সাইড লোয়ার বার্থ। লং স্কার্টের উপর স্লিভলেস কুর্তি, পায়ে ফুটের দোকানের কারুকাজ করা নাগরা, ঠোঁটে চড়া মেকআপ আর বোকা বোকা চাউনি দেখেই কি উলটো দিকের সিটের লোকটা মুখ ঘুরিয়ে নিল?

হাতে ধরা তন্দুরি রুটি আর চিকেন চাপের ফয়েল প্যাকটা সিটের উপর রেখে, বাবু হয়ে বসে টুম্পা। কিন্তু এই ট্রেনের হাল হকিকৎ কিছুই তো জানা নেই, কী করবে ও?

সামনের পরিবারটির খাওয়াদাওয়া শেষ। সালোয়ার কামিজ পরা মহিলা বাচ্চাটাকে নিয়ে বাথরুম যাচ্ছে বোধহয়। টুম্পা ব্যাগ ট্যাগ ফেলে পিছু নেয়। কাচের দরজা ঠেলে বেসিনে মুখ ধুচ্ছে মহিলা। বাচ্চা মেয়েটি তিতলির বয়সি হবে, কী সুন্দর ব্রাশ করছে নিজে নিজে। টুম্পা ফিসফিস করে মহিলাটিকে জিজ্ঞাসা করে, বাথরুমটা কি ওই দিকে?

বাথরুম সেরে সিটে ফিরেই টুম্পা টের পায় খিদেয় বত্রিশ নাড়ি পাক দিচ্ছে। ফয়েল প্যাক খুলে রুটির গোছা হাতে নেয়। না! লোকগুলো দিলদরিয়া আছে! পাঁচটা রুটি, একপ্লেট কষা মাংস একটা বেশ বড়ো পান্তুয়া— গপগপ করে চিবোতে থাকে টুম্পা। খেয়ে দেয়ে প্যাকেটটা ছুঁড়ে দেয় সিটের তলায়, সামনের লোকটা ভুরু কুঁচকে তাকায় একবার। বউটা আর বাচ্চাটা উপরের সিটে উঠে ঘুমিয়ে পড়েছে। একটু আগে লোকটা পরিপাটি করে বিছানা পেতে দিল।

টুম্পা খেতে খেতে বুঝে নিল ওকেও ওই ভাবেই বিছানা বালিশ প্যাকেট থেকে বের করে নিতে হবে। ব্যাগ থেকে তুলো আর ক্লিনজার বার করে মুখটা ঘসে ঘসে পরিষ্কার করে টুম্পা, তারপর ব্যাগ হাতড়ে খামটা টেনে বার করে। পঁচিশ হাজার টাকা! তিন রাতের রোজগার! চোখ বুজে হিসেব করতে থাকে টুম্পা— তিনমাসের বাড়ি ভাড়া নয় হাজার, মাসের সওদা বাবদ গোপালদা পাবে ছয় হাজার। বাকি দশ হাজার এখন হাতের পাঁচ! গোটা মাসটা এতেই চালাতে হবে, কবে আবার ডাক আসবে জানে না টুম্পা!

মা বলে, সময় থাকতে গুছিয়ে নে! গতর আর ক’দিন? পলাশের সঙ্গে সম্পর্কটা তাই মায়ের চোখে অপরাধ ঠেকে! ভাবতে বসলে কূল পায় না টুম্পা। মা তো এককালে ছাপোষা গৃহবধূ ছিল, দুই মেয়ে আর সবেধন নীলমণি ছেলেকে নিয়ে টেনেটুনে সংসার চালাত। মনে আছে, মোড়ের মাথার মস্ত মাঠটায় শিবরাত্তিরের সময় টানা পাঁচদিন ধরে সিনেমা দেখানো চলত। শম্পা আর টুম্পা বাবাকে জপিয়ে কায়দা করে ঠিক বিকেল হলেই সেজেগুজে রেডি হয়ে যেত। বাধ সাধত শুধু মা। চিল চিৎকার করে বাড়ি মাথায় তুলত, কিছুতেই যেতে দেবে না মেয়েদের!

শম্পার সঙ্গে পাড়ার মাস্তান বরুণদার রিলেশন তো ওই সিনেমা দেখতে গিয়েই… মনে মনে দাঁতে দাঁত ঘষে টুম্পা। শালা বরুণ! কুত্তার বাচ্চা! শম্পার পেটে বাচ্চা আসতেই পালিয়েছিল! শম্পাটাও বোকার ধাড়ি ছিল, না হলে কেউ গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়ে? ভাই তখন বেশ ছোটো। কতদিন বাড়ির পিছনের সেই ছোটো আমগাছটা দেখলে ডুকরে কেঁদে উঠত।

শম্পার চলে যাওয়াটা বাবা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি। হাজার হোক প্রথম সন্তান তো! বছর ঘুরতে না ঘুরতেই মানুষটা কেমন যেন অসুস্থ হয়ে পড়ল। চলাফেরা করতে পারে না। হাত পা কাঁপে। খালি মাথা ঘোরায়। প্রাইভেট কোম্পানি কতদিন এমন অথর্ব লোককে বসে বসে পুষবে? তাই চাকরিটাও একদিন নট হয়ে গেল। তারপর তো একদিন গোটা মানুষটাই ছাই হয়ে গেল। মাকে তখন প্রচুর লড়াই করতে হয়েছিল। লোকের বাড়ি বাড়ি কাজ করে ছেলে আর মেয়েকে বড়ো করেছিল।

টুম্পার বিয়ের পরপরই ভাইটা লোকাল বাসের কনডাক্টরি ধরল, সেই সঙ্গে বোতল। বিয়েও করল একটা। নিম্নি মেয়েটা বিহারী হতে পারে, তবে খুব একটা খারাপ নয়। মা যদি ওই হেগো কাপড় ছাড়া, এঁটো-সকড়ি— এসব নিয়ে বাওয়াল না করত!

ছেলের বাড়ি থেকে লাথি খেয়ে মা এখন মেয়ের ঘাড়ে এসে জুটেছে। যাক বাবা! টুম্পার তাতে অবশ্য সুবিধে-ই হয়েছে। মেয়েটাকে মা-বুড়ির জিম্মায় রাখতে না পারলে এ ধান্দা চালানো মুশকিল হতো টুম্পার। পলাশকে বিয়ে করলে হয়তো সব সমস্যার সমাধান হতে পারত, কিন্তু টুম্পা তা চায় না। একবার যখন বর মরেছে, ফের বিয়ে করলে আবার যে ছাড়ানকাটান হবে না, তার গ্যারান্টি কী? তার চেয়ে এই ভালো। টুম্পা কারওর বোঝা নয়! গতর খাটিয়ে খায়! মাঝে মাঝে নিজেকে নোংরা মেয়েলোক বলে মনে হয় বটে, তবে সে আর কতক্ষণ? হাতে নোট থাকলে দুনিয়াটা পায়ের তলায় থাকে, একথা জেনে গেছে টুম্পা।

হঠাৎ চটক ভাঙল টুম্পার, সামনের সিটের লোকটা কী যেন একটা বলছে। কৌতূহলী চোখে তাকায় টুম্পা। তো বউ-বাচ্চা ঘুমোতেই লাইনের মেয়েছেলেকে হিড়িক দিচ্ছে নাকি মালটা?

—দিদি, বলছি কী আলোটা একটু নেভাবেন? আমার বাচ্চা চোখে আলো লাগলে একদম ঘুমোতে পারে না। ওর মায়েরও সেই একই সমস্যা।

টুম্পার মনটা কেমন যেন হঠাৎ ভালো হয়ে যায়। পরম ভরসার গলায় বলে, ‘দাদা, আমি না আলোর সুইচটা ঠিক বুঝতে পারছি না, আপনি একটু বন্ধ করে দেবেন?” লোকটা এগিয়ে এসে সুইচ অফ করে দিতেই টুক করে নিভে যায় রাতবাতি।

রাতের ট্রেন ঝমঝম করে চলতে থাকে। কাচের জানলার বাইরে চোখ রাখে টুম্পা। আধো অন্ধকার, আধো আলোর খেলা দেখতে দেখতে ক্লান্ত দু’চোখের পাতা জড়িয়ে আসে। গায়ের চাদরটা ভালো করে টেনে নিতে নিতে একটা গোটা স্বপ্নের মধ্যে ঢুকে পড়ে টুম্পা।

সন্তানকে শৈশবেই শেখান সামাজিকতা

বেশিরভাগ পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই এখন কর্মরত। সুতরাং, তাদের সন্তানের শৈশব চার দেয়ালের মধ্যেই আবদ্ধ। খোলা জায়গায় তারা খেলাধুলোর বদলে বাড়িতে বসেই অভ্যস্ত ভিডিও গেম-এ। বন্ধু বলতে এখন আর সমবয়সি বাচ্চারা নয়, বরং টিভি, কম্পিউটার, মোবাইল প্রভৃতি গ্যাজেটস। ভার্চুয়াল দুনিয়াকেই সে আঁকড়ে ধরেছে। এর ফলে বাচ্চার ব্যবহার এবং মানসিকতায় খারাপ প্রভাবই বেশি পড়ছে। বাচ্চা সামাজিকতা শিখে বড়ো হয়ে ওঠার গুরুত্ব বুঝতে পারছে না। ফলে, তার ব্যক্তিত্বের স্বাভাবিক বিকাশ ঘটছে না। তাই তাকে সামাজিক সম্পর্কগুলোর গুরুত্ব বোঝান শৈশবেই।

সামাজিকতার প্রয়োজনীয়তা

মানুষ হল সামাজিক প্রাণী। সমাজ থেকে আলাদা হয়ে থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয়। সফল এবং ভালো ভাবে জীবন কাটাবার জন্য অন্যদের সঙ্গে মানিয়ে গুছিয়ে চলাটাও একান্ত জরুরি। সুতরাং সোশ্যাল স্কিল যদি বাচ্চার মধ্যে ডেভেলপ না হয়, তাহলে বড়ো হয়ে সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে বাচ্চার সমস্যা হতে পারে। সোশ্যাল স্কিল বাচ্চাদের মধ্যে মিলেমিশে থাকার ভাবনা বিকশিত করে এবং বাচ্চাকে আত্মকেন্দ্রিক হতে দেয় না। ফলে, ভবিষ্যতে একাকী হয়ে পড়ার ভয় তার মনে স্থায়ী হতে পারে না।

বাচ্চাদের ব্যবহার দিনে দিনে ভায়োলেন্ট হয়ে উঠছে। কীভাবে লাগাম লাগানো যায় এই ধরনের ব্যবহারে? এই বিষয়ে মনোবিদদের বক্তব্য – বাচ্চাদের মধ্যে এই ধরনের ব্যবহার এখন খুব কমন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাকিত্ববোধ, টিভি, ইন্টারনেটে হিংসাত্মক ঘটনাভিত্তিক অনুষ্ঠান দেখা, পড়াশোনার চাপ অথবা দূরে পরিবার থেকে আলাদা ভাবে হোস্টেলে মানুষ হলে, বাচ্চার মধ্যে আক্রমণাত্মক ব্যবহার বেশি চোখে পড়ে। সমাজের মূল ধারার থেকে এরা আলাদা হয়ে পড়ে। অন্য বাচ্চারাও এদের এড়িয়ে চলে। ফলে, চেঁচামেচি করে এরা অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে। অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ করা এমনকী মারামারি করতেও পিছপা হয় না। বেশি রেগে গেলে হিংস্র হয়ে উঠতেও দেখা যায় অনেক সময়।

সুতরাং ছোটো থেকেই যদি বাচ্চাকে সামাজিক হয়ে ওঠার শিক্ষা দেওয়া হয়, তাহলে এই ধরনের প্রবৃত্তি বাচ্চার মধ্যে জন্ম নিতে পারে না। কিন্তু এক দিনে এই পাঠ দেওয়া সম্ভব নয়। ছোটো থেকেই তাই বাচ্চার সামাজিক শিক্ষার উপর জোর দেওয়া একান্ত জরুরি। চাইল্ড সাইকোলজি বোঝা উচিত অভিভাবকদের।

বাচ্চা যখন ছোটো থাকে

নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির বাচ্চারা পাঁচ বছর পর্যন্ত সাধারণত মা-বাবার সঙ্গে অথবা ঠাকুমা-ঠাকুর্দার সঙ্গে খুব ক্লোজ থাকে। সবকিছুতেই তাদের প্রয়োজন পড়ে একজন অভিভাবকের। অথচ উচিত হচ্ছে, ওই বয়স থেকেই তাদের অপরের উপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে এনে, সামাজিক ভাবে অ্যাক্টিভ করে তোলা।

বাচ্চার সঙ্গে কথা বলুন

চাইল্ড সাইকোলজিস্টদের মতে— একদম ছোটো থেকেই বাচ্চার নাম ধরে তাকে সবসময় সম্বোধন করা উচিত এবং অনবরত তার সঙ্গে কথা বলে যাওয়া খুব জরুরি। ওর আশেপাশে যা কিছু রয়েছে, সেই বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলুন। কোনও খেলনা নিয়ে খেলা করলে, খেলনার নাম জিজ্ঞেস করুন। খেলনার কী রং, কেন ওই খেলনাটা আপনার বাচ্চার পছন্দ এই ধরনের প্রশ্ন সমানে করতে থাকুন। বাচ্চার একা একা খেলার অভ্যাস যাতে গড়ে না ওঠে, তার জন্য প্রতিবেশী বাচ্চার সঙ্গেও তাকে খেলার সুযোগ করে দিন। কারণ, বাচ্চারা খেলতে খেলতে একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে থাকে। এতে সম্পর্ক মজবুত হয়, আত্মীয়তা বাড়ে। বাচ্চার দৃষ্টিকোণ বিকশিত হয়, অপরের সমস্যা বুঝতে শেখে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই গুণগুলি একজন মানুষের মধ্যে থেকে যায়।

সকলের সঙ্গে বাচ্চার পরিচয় করান

নতুন বন্ধু, আত্মীয় অথবা প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাচ্চাকে পরিচয় করান ছুটির দিনে। পার্টি বা কোনও অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অনেক মানুষের ভিড়ে বাচ্চা মাঝেমধ্যে ঘাবড়ে যায়। কিন্তু যদি আগে থেকেই বাচ্চাকে সকলের সঙ্গে পরিচয় করাতে থাকেন এবং মাঝেমধ্যেই বাচ্চার সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হতে থাকে, তাহলে বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সকলের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে বাচ্চা নিজেই শিখে যাবে।

লালন-পালনে পরিবর্তন

বাচ্চার লালন-পালনে মাঝেমধ্যে পরিবর্তন আনাটা জরুরি। প্রয়োজনে যেমন বাচ্চাকে মানসিক এবং শারীরিক সাপোর্ট দেওয়া দরকার, তেমনই তাদের স্পেস দেওয়াটাও খুব জরুরি। চব্বিশ ঘণ্টা তাদের সঙ্গে ছায়ার মতো লেগে থাকবেন না। বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চার ব্যবহারে নানা পরিবর্তন আসে। ৩ বছরের বাচ্চা এবং ১৩ বছর বয়সি বাচ্চার সঙ্গে একইরকম ব্যবহার করা উচিত নয়। বাচ্চার ব্যবহারে পরিবর্তন অনুযায়ী, তার সঙ্গে আপনার আচরণেও পরিবর্তন আনাটা জরুরি।

সারাক্ষণ গ্যাজেটস নয়

গ্যাজেটস-এর অত্যধিক ব্যবহার বাচ্চাকে বাহ্যিক পরিবেশ থেকে অনেক দূরে সরিয়ে রাখে। মস্তিষ্কে অবসাদের স্তর বাড়তে থাকে। এর ফলে বাচ্চার ব্যবহার আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। বাচ্চার সামাজিক স্থিতি বিঘ্নিত হয় এবং বাচ্চা কিছুতে মনঃসংযোগ করতে পারে না। এছাড়াও সারাক্ষণ গ্যাজেটস নিয়ে পড়ে থাকলে বাচ্চা নিজের সঙ্গে যেমন যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে না, তেমনই অপরের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেও তার অসুবিধা হয়। দিনে ২ ঘণ্টার বেশি টিভি কখনওই দেখতে দেওয়া উচিত নয়।

খেলার মাধ্যমে সামাজিক করে তুলুন

অভিভাবকরা যদি বাচ্চাদের সময় না দেন, মজার মজার খেলায় তাদের সঙ্গে মেতে না ওঠেন, তাহলে বাচ্চা বোর ফিল করতে থাকবে। নতুন কিছু করার উৎসাহ যদি বাচ্চা হারিয়ে ফেলতে থাকে, তাহলে মোটিভেট করার জন্য নানারকমের খেলায় তাকে শামিল করুন। এতে সে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে পারবে এবং সামাজিকও হবে।

সন্তানকে বন্ধু করে তুলুন

সন্তানের সঙ্গে আপনি যদি বন্ধুর মতো আচরণ করেন, তাহলে আপনার সন্তান যেমন আপনার সঙ্গে সবকিছু শেয়ার করবে, কোনও কিছু লুকাবে না, ঠিক তেমনই তার জড়তা কাটবে। সেইসঙ্গে সে সামাজিক হয়ে উঠবে। তাই সন্তানকে খোলামেলা আবহে বড়ো করে তুলুন বন্ধুর মতো। আপনার জীবনের সাধারণ মজার ঘটনা শেয়ার করুন তার সঙ্গে। তাকে বলুন, সেই প্রথম ব্যক্তি যার সঙ্গে আপনি এই কথা শেয়ার করছেন। এর ফলে সন্তানের চোখে আপনিই হয়ে উঠবেন সবথেকে ভালো বন্ধু এবং এই সম্পর্কে বিশ্বাস যদি ছোটো থেকে সন্তানের মনের মধ্যে জায়গা তৈরি করে নিতে পারে, তাহলে সে সামাজিক হয়ে উঠবে সহজেই।

আধখাওয়া চাঁদ (পর্ব-০১)

শাওয়ারের নবটা কী অদ্ভুত রে বাবা! টুম্পা বারকয়েক কসরত করে তবে খুলতে পারল। ঝপ করে ঢলঢলে ম্যাক্সিটা খুলে ফেলতেই সামনের দেয়াল জোড়া আয়নায় নিজের শরীরের ছবি ফুটে উঠল। ঘাড়ে আর বাঁদিকের বুকের উপর স্পষ্ট দাঁতের দাগ লাল টসটসে হয়ে আছে… শাওয়ার জলের ছোঁয়া লাগতেই কী ভীষণ জ্বালা করে উঠল! মনে মনে একটা বাছা খিস্তি দিল টুম্পা ওরফে লহরী…. ওই তারকেশ্বর গুপ্তা লোকটা বড্ড হারামি। মাত্র দশহাজারে রাজি হওয়াই ভুল হয়েছিল!

চুলে শ্যাম্পু ডলতে ডলতে কাল রাতের চিলি চিকেনের বিশ্রী একটা টক ঢেঁকুড় উঠল। দুর্গন্ধে ভরে গেল মুখটা। গলায় আঙুল দিয়ে বেশ খানিকটা টক জল তুলতে গিয়ে উঠে এল বদহজম হওয়া বাটার নানের টুকরো, শশা কুচি, পেঁয়াজ…। দরজায় কেউ ঘন ঘন বেল বাজাচ্ছে। কে হতে পারে? অবিনাশ বলে লোকটা বড্ড ছুঁকছুঁক করছিল, ওই বোধহয়। ভেজা শরীরে নাইটিটা গলিয়ে টুম্পা বেরিয়ে এল।

—কি ম্যাডাম রেডি তো? চ্যাটচ্যাটে দৃষ্টি নিয়ে অবিনাশ গুপ্তা কথা ক’টা ছুঁড়ে দিল।

—রেডি? বলেন কী, সবে তো ন’টা বাজে!

—তারক বলেনি? পুনম? আজ দশটায় বেরোতে হবে।

—দশটায়? আমার রেডি হতে একটু তো টাইম লাগবে।

—হা হা! টাইম লাগান কিন্তু একটু জলদি।

দ্রুতগতিতে মেকআপ করেছিল টুম্পা, এর মধ্যে অবশ্য পুনম একবার ফোন করেছিল। কাল রাতে নাকি দীপ্তি আর ওকে কুলবিন্দর এবং নৌশাদ বহুত মাল খাইয়েছিল, তাই আর বলে রাখতে পারেনি টুম্পাকে সকাল দশটার কথা। সাদা একটা লং স্কার্ট আর লাল অফ শোল্ডার টপ পরে তৈরি হয়ে নিয়েছে টুম্পা। চুলে হেয়ার জেল ঘসে সানস্কিন ঘষতে ঘষতেই তারকেশ্বর ঢুকল। লোকটার বড্ড খাই খাই… মিনিট দশেক পরে ধামসে যখন বিদেয় হল, টুম্পার ততক্ষণে অনেকটা লেট হয়ে গেছে। নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে বেরোতে বেরোতে দেখল, মোটামুটি সব্বাই হোটেলের লাউঞ্জে দাঁড়িয়ে আছে— পুনম, দীপ্তি, কুলবিন্দর, নৌসাদ, তারকেশ্বর, অবিনাশ সবাই। আজ চিলকা যাবার কথা। নৌকায় মদ আর ভাড়াটে মহিলা! দিব্যি জমে উঠবে মস্তি!

ভুবনেশ্বরের আশপাশটা ঘুরে দেখছিল দলটা। দল আর কই? চারটে আধবুড়ো রইসের সঙ্গে তিনটে ছুকরি। নন্দনকানন দেখার উৎসাহ সবচেয়ে বেশি টুম্পার, সেই কবে বাবা মায়ের সঙ্গে বাসে করে এসেছিল পুরী। বাসটা নন্দনকানন, চন্দ্রভাগা, খণ্ডগিরি, উদয়গিরি পাক মেরে পুরী ঢুকেছিল মনে আছে। টুম্পা তখন বোধহয় ক্লাস ফাইভে—টাইভে পড়ে, খুব ইচ্ছে করেছিল নন্দনকাননটা ভালো করে দেখার… হয়নি। ওই বুড়ি ছুঁয়েই ফিরতে হয়েছিল।

কাল রাতে যখন তারকেশ্বর ওর শরীরের দখল নিয়েছে, চেটে দেখছে ওকে, তখন লোকটাকে আব্দার করে বলেছিল নন্দনকানন দেখতে চায়। লোকটা যখন আনন্দে মশগুল, চাইলে গোটা তাজমহলটা টুম্পার পায়ে ভেট দিতে পারে! —নন্দনকানন? বাঘ দেখবি তু? সাদা বাঘ? দেখ না মুঝে! অ্যায়সা বাঘ থোরেই মিলেগী তুঝে?

পানবাহার মাখানো খরখরে জিভের স্পর্শ নিতে নিতে টুম্পা অপেক্ষায় ছিল।

ঘেন্নায় থুতু ফেলতে ইচ্ছে করেছিল টুম্পার! শালা তুই বাঘ? কুত্তার অধম। বউ বাচ্চা থাকতে পয়সা দিয়ে মেয়ে ভাড়া করিস! শরীরটা রগড়ে রগড়ে ধুতে ধুতে পলাশের কথা একঝলক মনে পড়ে গেছিল।

আহা! শরীরের সুখ কানায় কানায় উপচে পড়ে পলাশের চওড়া বুকে মুখ গুঁজে দিলে। কামড়ে আঁচড়ে টুম্পা তখন যেন এক কুক্কুরী।… শরীরে হ্যান্ড শাওয়ারের জল ছেটাতে ছেটাতে টুম্পার পলাশকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করে, পিষে ফেলতে ইচ্ছে করে দুই জঙ্ঘার মদীর উপত্যকায়।

যাইহোক, লোকটা কথা রেখেছে। নন্দনকানন সত্যিই এসে পড়েছে টুম্পা। ঢোকার আগে একটা নামী রেস্টুরেন্টে ভরপেট গিলেছে ওরা। ঠিক তখনই ওদের দেখতে পেয়েছে টুম্পা। লম্বা পেটানো চেহারার একটা লোক, সঙ্গে ফর্সা টুকটুকে গোলগাল একটা বউ আর একটা বছর বারোর ছেলে। কোণের দিকের টেবিলে বসে খাচ্ছে। টুম্পার অম্বলের ধাত আছে। বাইরের খাবার কোনওকালেই সহ্য হয় না। কিন্তু উপায় কী? ক্লায়েন্টদের পয়সায় ভালোমন্দ ফুঁসে নেওয়াই নিয়ম এখানে। এই এখন যেমন পুনম দীপ্তিরা হাঙরের মতো গিলছে মটন রেজালা, চিকেন রেশমি কাবাব আর ফুল প্লেট বিরিয়ানি। টুম্পা একটা মিক্সড ফ্রায়েড রাইস নিয়ে নাড়াচাড়া করছে দেখে কুলদীপ ইচ্ছে করে বাঁদিকের বুক ছুঁয়ে মুচকি হাসল।

—কী হল জানেমন? খানা আচ্ছা নেহি কেয়া?

—না! না! ঠিক আছে।

টুম্পার আনমনা ভাব দেখে পুনম বলল,

—কী রে! এত কী ভাবছিস শালি? বাঘের সঙ্গে শুবি নাকি?

—হামি টাইগারের থেকে কিছু কোম আছে নাকি। নৌশাদের গলায় নোংরা কথার তুফান উঠে হাসির হররা ছিটিয়ে যায় চারপাশে।

ঠিক তখনই বউ-বাচ্চাওলা লোকটা ঘুরে তাকায় এই টেবিলের দিকে। চোখে রাজ্যের ঘেন্না ফিসফিস করে কিছু একটা বলে বউটা। লোকটা চোখ সরিয়ে নেয়। টুম্পার মনটা অকারণেই নিভে আসে। একটা ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের ছেঁড়া কয়েকটা পাতা বাতাসে ভাসতে থাকে।

সুরজিৎ যদি সেদিন বাস অ্যাকসিডেন্ট-এ মারা না যেত, তবে তিতলি আর টুম্পাও কি এমন করে বেড়াতে আসতে পারত? একচিলতে হাসি খেলে যায় টুম্পার ঠোঁটে। সুরজিৎ বাড়ি বাড়ি ঘুরে সাবানগুঁড়ো বেচত, গালভরা নাম ছিল সেলস পার্সন! মাস মাইনের তিন হাজার টাকায় সে কী টানাটানি! ভাবলে এখনও গায়ে জ্বর আসে। সেই লোক ওদের মা-মেয়েকে বেঁচে থাকলেও কি বেড়াতে আনতে পারত? যত্তসব!

চিলি চিকেনের টুকরোগুলো কাঁটা চামচে গেঁথে মুখে চালান করতে থাকে টুম্পা। পলাশের সঙ্গে অবশ্য ঘর বাঁধার কথা ভুলেও ভাবে না টুম্পা! অনেক ঘাটের জল খেতে খেতে টুম্পা বুঝে গেছে তেষ্টার জল ঘরের কোণে ঘড়ায় তুলে রাখতে হয়, দোরগোড়ায় পুকুর কাটলে চলবে না। পলাশের সঙ্গে সম্পর্কটা তাই আজ পাঁচবছর টিকে গেছে একরকম, মা যতই গজগজ করুক টুম্পা পলাশকে ছাড়বে না! হোক না ছেলেটা বেকার! টুম্পার নিজের তো শখ আহ্লাদ আছে!

নন্দনকাননের ভিতরে ঢুকতেই গাইডরা ছেঁকে ধরে। দরদস্তুর করে একজন গাইড নেয় দলটা। টুম্পা গাইডের সঙ্গে সঙ্গে চলতে থাকে, মেয়েটার জন্যে খুব মন খারাপ করে যদিও। খানিকটা হেঁটেই পুরো দলটা ছিটকে যায়। ছোটো ছোটো কয়েকটা বসার জায়গা আছে এ—ধার ও—ধার। তারই একটায় জমিয়ে আইসক্রিম বিক্রি হচ্ছে। পুনম, পিঙ্কি আর চারটে মর্দা ওখানেই সেঁটে যায়৷ টুম্পা গাইড জগন্নাথের সঙ্গে কুটুস কুটুস করে কথা চালাতে চালাতে একে একে দেখে নেয় সাদা বাঘ, হাতির বাচ্চা, কুমিরের পাল, কতরকম পাখি… জগন্নাথ ওর উৎসাহ দেখে বলে—মাইজি, চলো চলো আরও দিখাব।

অসীম উৎসাহ নিয়ে এগোতে থাকে টুম্পা। মনে মনে ভাবে আর কয়েকটা এমন পার্টি পেলেই মেয়েকে নিয়ে পুরী আসবে একবার। এবার তো জগন্নাথ দর্শন হল না, পরের বার মাকে সঙ্গে আনবে। বাড়ি বাড়ি বাসন মেজে বহুকষ্টে মা তাকে আর তার ভাইকে বড়ো করেছিল।

(ক্রমশ…)

মুঠোফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে জীবন হয়ে উঠতে পারে বিষময়

কাজের থেকে অকাজেই এখন বেশি ব্যবহৃৎ হচ্ছে মুঠোফোন। কারণ, মুঠোফোনকে মাধ্যম করে বেশিরভাগ সময় এখন ব্যয় হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর এই সোশ্যাল মিডিয়ায় দৌলতে আজকাল আমজনতা, বিশেষকরে কিছু সংখ্যক মহিলার ধ্যান-ধারণা বদলে গেছে। এরা সকলেই এখন মনে করেন যে, সোশ্যাল মিডিয়ার স্ক্রিন-এ যা দেখা যাচ্ছে, তা-ই ধ্রুবসত্যি, তা-ই দৈববাণী, তা-ই ধর্মাদেশ। আর যারা এই বিশ্বাসে অটল, তাদের বোঝানোর ক্ষমতা কারওর হয়নি। কে এদের বোঝাবে যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় যা তুলে ধরা হচ্ছে, তার বেশিরভাগটাই ক্রিয়েটেড এবং মানুষকে বোকা বানিয়ে মুনাফালাভের চেষ্টা চলছে। অর্থাৎ, পরিকল্পনা মাফিক চিত্রনাট্য তৈরি করে ভিডিয়ো বানিয়ে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা হচ্ছে কিংবা সাজানো বক্তব্য তুলে ধরা হচ্ছে।

আসলে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও কন্ট্রোল নেই। বলা যায়, পুরো বিষয়টা একেবারে লাগামছাড়া। কমেন্ট বক্স-এ তো গালিগালাজও চলছে। কেউ কেউ তো ব্যক্তিগত আক্রমণও করে থাকেন নির্দ্বিধায়। এমন অনেকে আছেন, একবারও ভেবে দেখেন না যে, লাগামছাড়া যে তথ্য পরিবেশিত হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, সেই তথ্য কতটা সত্যি, কতটা বিশ্বাসযোগ্য কিংবা সেই তথ্যের উৎস কী? কিন্তু যারা সুক্ষ্ম বিচারবুদ্ধি নিয়ে চলেন, তারা বেশ বুঝতে পারেন যে, এই সমাজমাধ্যম দিশাহীন এবং যে যার মতো ব্যক্তিগত অর্ধসত্য কিংবা একেবারে ভুল বিষয়কে তুলে ধরছেন লাগামহীন ভাবে।

এমনও দেখা যায় যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে কোনও ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করা হচ্ছে কিংবা মিথ্যে বদনাম ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর এইসব খারাপ খবর কিংবা ভুল তথ্য একসময় এমন রসালো রূপ পায়, যা বিস্ময়কর লাগে।

মেয়েরা তো আরও নানারকম সমস্যায় ভোগেন। সোশ্যাল মিডিয়া-তেও আজকাল অনেকে ‘গুড টাচ এবং ব্যাড টাচ’ শিক্ষা দিয়ে কিশোর-কিশোরীদের মনে অহেতুক ভয় ধরিয়ে দিচ্ছেন। যিনি শেখাচ্ছেন, হয়তো এই বিষয়ে তার ন্যূনতম জ্ঞানটুকুও নেই কিংবা পুরোপুরি বিপথে চালিত করার জন্যও করছেন অনেকে। কিছু ক্ষেত্রে তো বিষয়টিকে এমনই অতি- নাটকীয় করে তোলা হচ্ছে যে, যা আদতে অর্ধসত্য কিংবা একেবারেই অবাস্তব। আর এসব বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে বেশিরভাগই ফেক প্রোফাইল থেকে।

সবচেয়ে দুশ্চিতার বিষয় হল এই যে, যে মেয়েটি বাবা-মা ছাড়া একা কখনও বাড়ি থেকে বেরোয়নি, সেই মেয়েটি যদি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভায়োল্যান্স-এর অতি-নাটকীয় ভিডিয়ো দেখতে থাকে ক্রমাগত, তাহলে বহির্বিশ্ব সম্পর্কে তার এমন ভয় ধরে যাবে যে, সে আর বাইরে বেরিয়ে কোনও কাজ করতে পারবে না কনফিডেন্টলি। শুধু তাই নয়, এই ফিয়ার ফোবিয়া ছেলে-মেয়ে কিংবা নারী-পুরুষের মধ্যে সুস্থ-স্বাভাবিক মধুর সম্পর্কগুলোও নষ্ট করে দিতে পারে। এর ফলে অনেকের জীবনও একেবারে খাদের কিনারায় এসে দাঁড়াচ্ছে।

মানুষ যত সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর হচ্ছে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কিংবা আপনজনদের মধ্যে দূরত্বও তত-ই বাড়ছে। এখন আর কেউ কারওর তেমন বিশেষ খোঁজ রাখেন না। সবাই যেন এক-একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো হয়ে যাচ্ছেন। সবটাই যেন আজ ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড নির্ভর।

মুঠোফোনকে মাধ্যম করে একান্ত ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখও তুলে ধরছেন ফেসবুক-এ। এ রোগ বড়ো ভয়ংকর। মুঠোফোন-নির্ভর এই ভয়ংকরতা ধীরে ধীরে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাদের জীবনের সমস্ত সংবেদনশীলতা, মানবিকতা এবং ফিজিক্যাল ওয়ার্ল্ড-কে। এর থেকে কবে মুক্তি ঘটবে কিংবা আদৌ মুক্তি ঘটবে কিনা জানা নেই।

‘সুপারমম’ হওয়া কতটা জরুরি?

সামাজিক, পারিবারিক এবং এমন এক মানবিক ভূমিকা রয়েছে মাতৃত্বে, যা সন্তান লালন-পালন এবং যত্নের পাশাপাশি, সংবেদনশীলতার বিষয়টিও জড়িত। তাই আমাদের সমাজ আদর্শ মাতৃত্বকে বৈধতা এবং সম্মান দেয়। কারণ মায়েরা কর্মক্ষেত্র ছেড়ে কিংবা কর্মক্ষেত্র সামলেও সন্তান লালন-পালন এবং পরিবারের সবার যত্ন নেন। কিন্তু কথায় আছে, অতিরিক্ত কোনও কিছুই ভালো নয়। দায়িত্ব, কর্তব্য পালন করতে গিয়ে যদি ইমোশনাল অত্যাচার করে ফেলেন সন্তানের উপর, তাহলে তার ফল তো খারাপ হবেই। আর এই সুপার অ্যাক্টিভ বিষয়টি থেকেই হয়তো জন্ম নিয়েছে ‘সুপারমম’ শব্দটি। কিন্তু ‘সুপারমম’ হওয়ার বিষয়টিকে ততক্ষণই মান্যতা দেওয়া যায়, যতক্ষণ তা ক্ষতিকারক পর্যায়ে না যায়। এই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন মনোশিজ হাসপাতাল-এর কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট প্রজ্ঞা প্রিয়া মণ্ডল।

সুপারমম মানেই ‘সুপারম্যান’ ধরনের একটা চরিত্র হবে এমন ধারণা ভুল। তবে আজকাল বেশিরভাগ মায়েদের মুখে একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়, ‘আমার ছেলের (অথবা মেয়ের) সব থেকে ভালো বন্ধু হচ্ছি আমি। আমার সঙ্গে ও সবকিছু শেয়ার করে।’ স্কুলের টিচার অথবা পেডিয়াট্রিশিয়ানরা অভিভাবকদের বলেন বাচ্চাদের সবরকম অ্যাকটিভিটি-তে সঙ্গ দেওয়ার জন্যে। কিন্তু সন্তানের সমস্ত কাজে ইন্টারেস্ট নিতে নিতে একসময় দেখা যায় শিশুর ইচ্ছেকে ছাপিয়ে মায়ের ইচ্ছেই প্রাধান্য পাচ্ছে বেশি। অভিভাবকদের মধ্যে মায়ের ক্ষেত্রেই এটা বেশি হয়ে থাকে।

মেট্রো শহরের শিক্ষিত মায়েদের মধ্যে এই ধরনের প্রবণতা চোখে পড়ে। অনেকে তো ভালো চাকরি ছেড়ে বাড়িতে থাকাটা উচিত মনে করেন, সন্তানকে আরও ভালো ভাবে মানুষ করার জন্যে। কেউ কেউ অফিসের কাজ করার ডিসিপ্লিন বাড়িতেও বাচ্চার ঘাড়ে চাপাতে চান। এই ধরনের অভিভাবকরা সর্বক্ষণ বাচ্চার প্রত্যেকটা কাজ নিজের নখদর্পণে রাখতে চান।

মায়ের প্রেজেন্স-এ কুণ্ঠিত হয়ে ওঠে কলকাতার নামি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সায়ন। ওর মনে হয়, মায়ের এই আচরণে তার ভালো কিছু হচ্ছে না। এটা শুধু টর্চার-এর নামান্তর মাত্র। সকাল থেকে উঠে ক্যালোরি মেপে খাওয়া এবং সারাদিনে তার আর কতটা ক্যালোরি গ্রহণ করা উচিত, তার উপরেও মায়ের ডেইলি লেকচার। স্কুলে আসার সময়ও সঙ্গে মা। ফেরার পথে হোমওয়ার্কগুলো ঝালিয়ে নেওয়া। তবে এইটুকু যা বাঁচোয়া, অন্যান্য অনেক বন্ধুদের মায়েদের মতো মা সারাদিন স্কুলের গেটের বাইরে বসে থাকে না। বাড়ি ফিরে যায়। ঠিক সাড়ে তিনটেয় মা আবার হাজির স্কুলের গেটে। ফেরার পথে সারাদিনের স্কুলের ডিটেলড রিপোর্ট ছেলের মুখ থেকে কীভাবে বার করতে হয়, তা সায়নের মা ভালোই জানেন।

স্কুলের খাতায় প্রত্যেকটা ভুলের চুলচেরা বিশ্লেষণ মায়েদের এই সমস্যার মুখোমুখি অনেক বাচ্চাকেই পড়তে হয় বাড়িতে। অনেক মায়েদের নিজেদের মতামত এতটাই প্রধান হয়ে ওঠে যে, সামান্যতম কোয়ারি নিয়ে প্রিন্সিপালের অফিসে পৌঁছে যেতেও কোনও দ্বিধা হয় না। অনেক মায়েরা টিচারদের সঙ্গে মিটিং-এ লম্বা অভিযোগের লিস্ট নিয়ে উপস্থিত হন, যতই সেটা স্কুল পলিসির বিরুদ্ধেই হোক না কেন।

মায়েদের এই ধরনের আচরণ শিশুর মানসিক বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শিশুর যে-কোনও অ্যাকটিভিটি-তে মায়ের অংশগ্রহণ, বাড়িতে পড়াশোনা, হোমওয়ার্ক সবকিছুতে অংশ নেওয়ার ইচ্ছে এবং সাহায্যের হাত বাড়ানো ভুল পদক্ষেপ নয়। কিন্তু সবকিছু অতিরিক্ত মাত্রায় হলে, তা খারাপ প্রভাব ফেলতে বাধ্য।

আচরণে পরিবর্তন

সন্তানের সব ব্যাপারে অতিরিক্ত নাক গলানো হয়ে যাচ্ছে, এটা বোঝা যাবে কী করে?

সন্তানের ছোটোখাটো ভুলেও অতিমাত্রায় চিন্তা নিষ্প্রয়োজন। রাত জেগে অথবা ভোরে উঠে ভালো অভিভাবক হয়ে ওঠার উপায়ের উপর বই পড়া, নেট সার্ফ করা ইত্যাদি ইত্যাদি। এছাড়াও বাচ্চার প্রত্যেকটা ব্যাপারের মধ্যে থাকা, সারাদিন নিজেকে এবং বাচ্চাকে ব্যস্ত রাখা, ডান্স, স্পোর্টস, অভিনয়, আঁকা, গান ইত্যাদি শেখাতে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া— কোনওরকম চেষ্টাই তারা ছাড়তে চান না। কারণ সবকিছুতেই বাচ্চাকে করে তুলতে হবে পারদর্শী। তাদের মতে, সবকিছু শেখাতে পারলে তবেই তো বাচ্চা বুঝতে পারবে কোনটাতে সে সবথেকে ভালো। বই পড়ে আর নেট সার্চ করে এই শিক্ষাগুলিই অভিভাবকেরা পেয়ে থাকেন। এভাবেই হয়ে উঠতে চান আইডিয়াল পেরেন্ট।

এইসব মায়েরা নিজের সন্তানের ক্ষেত্রে একটু বেশি প্রোটেক্টিভ হয়ে ওঠেন। ছোট্ট থেকেই বাচ্চাকে হাঁটতে চলতে, যেখানে সেখানে যেতে বাধা দেন, যাতে শিশু কোনও ভাবে আহত না হয়। একটু বড়ো হলে স্কুলের পড়াশোনা, হোমওয়ার্ক নিয়ে চলে কন্সট্যান্ট রিমাইন্ডার। তারপর বিভিন্ন হবি জোরজবরদস্তি বাচ্চার উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। এর বেশিরভাগ ইচ্ছেটাই মায়ের। বাচ্চার তাতে মত আছে কিনা জানার চেষ্টা করা হয় না। নিজেদের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা যা অপূর্ণ থেকে গেছে, সেগুলো বাচ্চার মধ্যে দিয়ে পূর্ণ করার আপ্রাণ চেষ্টা চলতে থাকে।

বাসে ট্রামে যাতায়াতে অনেক সময়ই কানে আসে, ‘আমার ছেলের পরীক্ষা না-তো, আমারই পরীক্ষা। পড়াতে পড়াতে ওর প্রশ্ন-উত্তর আমারই মুখস্থ হয়ে গেছে।’ সুতরাং ক্ষতিটা হচ্ছে কার? সন্তান যে তার কনফিডেন্স হারিয়ে ফেলছে সে ব্যাপারটা কি মায়েদের কাছে অজানা থেকে যাচ্ছে? তাই প্রথম থেকেই সাবধান হয়ে যান, কখন অতিরিক্ত অভিভাবকের বোঝা ঘাড়ে তুলে দায়িত্বের অপব্যবহার করে ফেলছেন।

সজাগ থাকুন

১) আপনি কি আপনার সন্তানের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার অ্যাক্টিভিটির মধ্যে অতিরিক্ত ইনভল্ভ হয়ে পড়ছেন?

২) সন্তানের হয়ে যুদ্ধজয় করার আকাঙ্ক্ষা রাখেন এবং বাচ্চার স্কুলের প্রোজেক্ট নিজেই করে দেন?

৩) আপনি কি বাচ্চার অ্যাক্টিভিটি, পড়াশোনা, বন্ধু, খাবার অভ্যাস, সবকিছুই কনট্রোল করছেন?

৪) প্রত্যেকটা ছোটো ছোটো বিষয়ে (দোষ অথবা অন্যায়) আপনি কি সন্তানকে ব্ল্যাকমেল করেন?

৫) আপনি কি আপনার সন্তানের যে-কোনও ফেলিওর-এ লজ্জিত হন?

৬) কোনও সময়ই সন্তানকে একা ছেড়ে না দিয়ে, খেলা অথবা পড়ার জন্যে সর্বক্ষণ জোর করতে থাকেন কি? উপরের প্রশ্নগুলির উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে জানবেন, বাচ্চার প্রতি অন্যায় করছেন আপনি এবং আপনি ‘সুপারমম সিনড্রোম’-এ ভুগছেন।

অতএব, মা হয়ে সন্তানের মঙ্গল চাইলে, দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করুন বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে। এমন কিছু করবেন না, যা আপনার সন্তানের চরম ক্ষতি করবে এবং আপনাকে মানসিক অসুস্থতার দিকে নিয়ে যাবে। তাই নিজেও মানসিক এবং শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য কিছু জিনিস মেনে চলুন। গৃহস্থালির কাজের মধ্যেও নিয়মিত বিরতি নিন, যোগব্যায়াম করুন, বই পড়ুন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান। সেইসঙ্গে জীবনকে খুব সহজ ভাবে নিন। সন্তানের কেয়ার নেবেন অবশ্যই, কিন্তু বাড়াবাড়ি পর্যায়ে নয়। মনে রাখবেন, আপনার সন্তানেরও একটা নিজস্বতা আছে। ওদেরকেও কিছুটা স্বাধীনতা দিয়ে নিজের মতো করে হেসে খেলে বড়ো হতে দিন।

গলস্টোন-এর কারণ এবং নিরাময়

আমরা বেশির ভাগ লোকেরা প্রায়ই কথাবার্তায় হার্ট, পেট, ফুসফুস এবং মস্তিস্কের গুরুত্ব দিই। কিন্তু মানুষের শরীরের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল গল ব্লাডার যার বিষয়ে কোনও কথাবার্তা হয় না। মাত্র ৩ ইঞ্চি লম্বা এই অর্গান আপনার লিভারের ঠিক নীচে থাকে আর লিভারে তৈরি হওয়া পিত্তকে স্টোর করে। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন কলকাতা-র অ্যাপোলো গ্লেনইগল্স হসপিটালস-এর গ্যাস্ট্রো এন্ট্রোলজিস্ট ডা. মহেশ গোয়েঙ্কা।

ডা. গোয়েঙ্কা প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, বাইল-কে গলও বলা হয়, যার থেকে এই অর্গানের এই নাম হয়েছে। পিত্তের কাজ হল চর্বিকে হজম করা (ইমপ্লিফিকেশন)। তাই আপনি যখনই কোনও খুশি বা উৎসব উপলক্ষ্যে ভালো ভালো খাবার খান বা পাঁচতারা বুফের মজা নেন, তখন তৈলাক্ত পদার্থ (ফ্যাট) হজম করে উপযোগী জ্বালানির রূপ দেওয়ার কাজ গল ব্লাডার করে থাকে।

আপনার পেটে আর অস্ত্রে যখনই হজম প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখন গল ব্লাডার বাইল ডাক্ট নামের একটি নল থেকে আপনার ছোটো অস্ত্রে বাইল পাঠায় যাতে ফ্যাটের ইমপ্লিফিকেশন হতে পারে। কিন্তু গল ব্লাডার বা বাইল ডক্টে পাথর থাকলে বাইল ডক্টে বাইলের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় বা এতে বাধার সৃষ্টি করে। বাইল ডক্টের পাথরকে কোলেডোকোলাইথিয়াসিস বলা হয়। গলস্টোন (পাথর) হওয়ার কারণে বাইলের কিছু পদার্থ শক্ত হয়ে যায়।

কিছু সমীক্ষায় বলা হয় যে, গল ব্লাডারে পাথরের ১৫ শতাংশ রোগীর বাইল ডক্টেও পাথর হয়। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কেবল একটি পাথর হয়, আবার অনেক রোগীর ক্ষেত্রে একাধিক পাথর হতে পারে। পাথর বালুর দানার মতো খুব ছোটো বা লেবু বা গল্ফ বলের মতো বড়ো হতে পারে ।

কারণ এবং নিবারণ

বেশির ভাগ গল স্টোন কোলেস্টেরল থেকে হয়ে থাকে। সেই কারণে চিকিৎসকরা মনে করেন, স্থূলতা, মধুমেহ, খাবারে বেশি ফ্যাট আর ফাইবার কম থাকা আর শরীর কম সক্রিয় থাকলে তা গল ব্লাডারের সমস্যাকে নিমন্ত্রণ জানানোর সমান। অন্য এক ধরনের গলস্টোন বিলুরুবিন থেকে তৈরি হয়, যা লিভার দ্বারা ব্লাড সেল নষ্ট হওয়ার সময় তৈরি হওয়া পিগমেন্ট। লিভার সিরোসিসের রোগীর যদি রক্তের কোনও অসুখ বা বিলিয়রি ট্র্যাকে সংক্রমণ হয়, তবে লিভারে বিলুরুবিন অনেক বেশি তৈরি হওয়ার কারণে পাথর তৈরি হওয়া শুরু হয়।

পাথর হওয়ার বিপদ মহিলাদের মধ্যে বেশি থাকে। যদি আগে থেকেই কারও পাথর থাকে, তার ওজন দ্রুত কমতে থাকে, অ্যাস্ট্রোজেন-যুক্ত (কেবল মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) ওষুধ বা ট্যাবলেট নেন আর তার বয়স ৪০-এর বেশি হয়, তবে পাথর হওয়ার বিপদ বেড়ে যায়।

পাথর হওয়ার কিছু সাধারণ লক্ষণ

  • পেটের ওপরে ডানদিকে হঠাৎ ব্যথা
  • স্তনের হাড়-এর (ব্রেস্টবোন) নীচে পেটের মাঝখানে হঠাৎ ব্যথা
  • কোমরের ব্যথা, ঘাড়ের (শোল্ডার ব্লেড) মাঝের অংশে ব্যথা
  • ডান কাঁধে ব্যথা

এই ব্যথা কয়েক মিনিটের জন্য হতে পারে বা কয়েক ঘন্টা ধরে সমস্যায় ফেলতে পারে। অন্য লক্ষণগুলি হল—

  • বমি
  • মাথা ঘোরানো
  • ধুসর রঙের মল

সমস্যা

পাথরের সমস্ত ঘটনায় স্পষ্ট লক্ষণ দেখা দেয় না। কিন্তু এই সব সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে যেমন—

কোলেসিস্টাইটিস: এটি গল ব্লাডার ফুলে যাওয়ার সমস্যা যা গল ব্লাডারের গলায় পাথর আটকে গেলে হয়। এর ফলে রোগীর খুব ব্যথা বা জ্বর হতে পারে।

বাইল ডাক্ট ব্লকেজ: যদি পাথরের ফলে বাইলকে লিভার হয়ে অস্ত্রে নিয়ে যাওয়ার ডাক্ট ব্লক হয়ে যায়, তবে সংক্রমণ এবং জন্ডিস (চোখ এবং ত্বক হলদে হয়ে যাওয়া কারণ বিলুরুবিন জমা হতে থাকে) হতে পারে।

প্যানক্রিয়েটাইটিস: যদি পাথর প্যানক্রিয়েটিক ডাক্ট-কে (প্যানক্রিয়াস-কে কমন বাইল ডাক্ট-এর সঙ্গে যুক্ত করার নল) ব্লক করে দেয়, তবে এর থেকে পাথরের সবচেয়ে বিপদজনক অসুখের মধ্যে অন্যতম প্যানক্রিয়েটাইটিস হতে পারে। এর ফলে প্যানক্রিয়াজ ফুলে যায় এবং খুব ব্যথা হয় আর প্রায়ই রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার দরকার হয়। প্যানক্রিয়েটাইটিস কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রাণঘাতকও হতে পারে।

গল ব্লাডারের ক্যান্সার: যদিও এই ক্যন্সারের বেশি প্রকোপ নেই কিন্তু যদি কারও পাথরের সমস্যা থেকে থাকে তবে তার গল ব্লাডারের ক্যান্সার হওয়ার বিপদ থাকে।

নিরাময়

ল্যাব টেস্ট আর ইমেজিং টেস্ট থেকে পাথর সম্পর্কে জানা হয়। ইমেজিং টেস্ট থেকে চিকিৎসকদের পক্ষে গল ব্লাডার, বাইল ডাক্ট আর এসবের সঙ্গে যুক্ত অন্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের পরীক্ষা প্রক্রিয়া সহজ হয় যাতে পাথর সম্পর্কে জানা যায়। এখন চিকিৎসকদের কাছে ইমেজিং-এর অনেক বিকল্প আছে যেমন—

আল্ট্রা সাউন্ড: এটি পাথর সম্পর্কে জানার অন্যতম ভালো পদ্ধতি। আল্ট্রা সাউন্ড মেশিন সাউন্ড ওয়েভ-এর সহায়তার অঙ্গের ইমেজ তৈরি করে আর এটাও দেখায় যে, সেই অঙ্গে পাথর আছে কি নেই। এতে রোগীর কোনও কষ্ট হয় না। এটি গর্ভবতী মহিলা- সহ সকলের জন্য সুরক্ষিত।

কম্পুটেড টোমোগ্রাফি (সিটি) স্ক্যান: এতে এক্সরে আর কম্পিউটার টেকনলজির সামঞ্জস্যের সাহায্যের মাধ্যমে গল ব্লাডার, বাইল ডাক্ট আর প্যানক্রিয়াস-এর ইমেজ তৈরি করা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই প্রযুক্তি খুব কার্যকর নয় আর কিছু পাথর এতে ধরা পড়ে না।

ম্যাগ্নেটিক রেসোনেন্স ইমেজিং (এমআরআই): এই মেশিন এক্সরে-র পরিবর্তে রেডিও ওয়েভস আর শক্তিশালী চুম্বকের সহায়তায় অঙ্গের সূক্ষ্ম ছবি তৈরি করে আর নানা স্থানে পাথরের অস্তিত্বের বিষয়ে জানতে সাহায্য করে।

এইচআইডিএ স্ক্যান: একে কোলেসাইনটিগ্রাফিও বলা হয়। এই পদ্ধতিতে রোগীর শরীরের ভেতরে খুব মাত্রায় সুরক্ষিত রেডিও অ্যাক্টিভ মেটিরিয়াল ইঞ্জেক্ট করা হয়, আর একটি বিশেষ ক্যামেরার সহায়তায় এর ওপর দৃষ্টি রাখা হয় যাতে গল ব্লাডারে যদি কিছু অস্বাভাবিক থাকে বা বাইল ডাক্ট ব্লক হয়— তার ছবি সামনে দেখা যায়।

অ্যান্ডোস্কোইক রেট্রোগ্রেড কোলেজিয়ো প্যাস্ক্রিয়েটোগ্রাফি (এআরসিপি) : এই পরীক্ষা অন্য পরীক্ষার চেয়ে বেশি ইনভেসিভ হয়ে থাকে। এতে চিকিৎসক রোগীর মুখে একটি লম্বা নমনীয় টিউব প্রবেশ করান, যা গলা হয়ে পেট এবং অস্ত্র পর্যন্ত যায়। এই প্রক্রিয়ায় পাথর দেখা এবং বের করাও যায়।

নতুন পদ্ধতিতে পাথরের সহজ এবং কার্যকর চিকিৎসা

পাথরের সবচেয়ে প্রচলিত চিকিৎসা কোলেসস্টেক্টোমি। কিন্তু গল ব্লাডার (বাইলের স্টোর) বের হয়ে গেলে বাইল লিভার থেকে সোজা অস্ত্রে পৌঁছে যায় আর রোগী যদি না খায় তবুও অন্ত্রে বাইলের নিঃসরণ চলতেই থাকে। তাই এই সার্জারির পর কিছু রোগীর হজমের সমস্যা আর কিছু রোগীর ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দেয়। আবার বার-বার মল ত্যাগের সমস্যা হতে থাকে। তবে বেশির ভাগ রোগী কিছু দিনের মধ্যেই নিয়মিত আহারের সঙ্গে স্বাভাবিক হয়ে যায়। পাথর ভাঙার কিছু ওষুধও সহায়ক হয়।

কোলেজিয়োস্কোপি-র জন্য উপলব্ধ নতুন প্রযুক্তিতে একটি ইসিআরপি থেকে ডাক্ট-এর ভেতর পাথর দেখা এবং নষ্ট করা সম্ভব হয়েছে। আগে চিকিৎসক বাইল দেখার জন্য এন্ডোস্কোপি টুলস ব্যবহার করত যা তাদের রোগীর মুখের ভেতরে প্রবেশ করাতে হতো, সেইসঙ্গে এক্স-রের ব্যবহার করতে হতো যাতে পাথর কোথায় আছে তা সঠিক ভাবে জানা যায়। আজকের আধুনিক টুলসের ফলে এক্স-রের প্রয়োজন নেই আর চিকিৎসকরা আধুনিক ইন্সট্রুমেন্ট এবং ছোটো ক্যামেরার সহায়তায় গল ব্লাডারের পাথর সোজা দেখতে পান। এতে চিকিৎসকরা পাথরের সঠিক অবস্থান জানতে পারেন আর সঠিক চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এটি পাথরের সেই সব সমস্যায় কার্যকরী, যেখানে চিকিৎসা কঠিন।

পাথর অন্য অঙ্গ যেমন কিডনি-তে হলে চিকিৎসকরা শরীরের বাইরে থেকে শক ওয়েভ দিয়ে পাথর ভেঙে ফেলতে পারেন কিন্তু এই পদ্ধতি গল ব্লাডারের মতো কঠিন জায়গায় হওয়ার দরুন, খুব কার্যকর নয়। কিন্তু এই সার্জারির বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে এটি ন্যুনতম সার্জারির প্রক্রিয়া। রোগীর কষ্ট কম হয়, কয়েকদিন হাসপাতালে থাকতে হয়, তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনের আনন্দ নিতে পারে।

কতটুকু মর্যাদা পান মহিলারা?

দেশে মহিলাদের কতটা সম্মানের চোখে দেখা হয়, তা একটি ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে গেছে। এক রাজনৈতিক দলের সাংসদের বিরুদ্ধে মহিলা কুস্তিগিরদের একটা বড়ো অংশ রুখে দাঁড়িয়েছিল।তাঁরা জনসমক্ষে নিয়ে আসেন নারী নির্যাতনের অভিযোগ। মাসের পর মাস তারা ধর্ণায় বসেন প্রতিবাদস্বরূপ। কিন্তু কোনও ফল হয়নি, কারণ দলীয় কর্মীকে ভালো রকমই সুরক্ষা দিয়েছে দল এবং তাঁকে গ্রেফতার করা কিংবা দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি। অপরাধ প্রমাণিতই হয়নি, এই অজুহাতে অপরাধী দিব্যি পার পেয়ে গেছেন।

কাটা ঘায়ে নুনের ছিটের মতো সংঘের নির্বাচনে ৪৭টির মধ্যে ৪০টি ভোট পেয়েছেন ওই অভিযুক্তের সহযোগী। ফলে ১৫টি সিটের মধ্যে ১৩টিই তাঁর দলের দখলে।

তবে শেষপর্যন্ত আলোচনায় নিন্দা হওয়ার ফলে, এই নির্বাচনের ফলাফল খারিজ করে দেওয়া হয়। এর অন্যতম কারণ হল, ওই ব্যক্তি ক্ষমতায় এসেই তাঁর এতদিনের ঊর্ধ্বতনের প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে তারই গ্রামে মহিলাদের কুস্তি প্রতিযোগিতার কথা ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। এ যেন মহিলাদের চোখে আঙুল দিয়ে ক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা।

এ এক দৃষ্টান্ত মাত্র। যাতে বোঝা যায়, দেশে নারীদের মর্যাদা তলানিতে এসে ঠেকেছে। দুঃখের বিষয়, যারা এই আন্দেলনে শামিল হয়ে ধর্নায় বসেছিলেন, বাস্তবিক সেই মহিলারা শারীরিক ভাবে অত্যন্ত সক্ষম। চাইলেই ৮০-৮৫ শতাংশ পুরুষকে, কুস্তির প্যাঁচে ধরাশায়ী করার ক্ষমতা ধরেন। পুলিশের লাঠির মুখে, ঝড়ে-বৃষ্টিতে, রোদে যারা পিছপা হননি, রাষ্ট্র তাদের এই প্রতিবাদকেও গুরুত্বহীন করে দিল।

এই লড়াই শুধু মহিলা কুস্তিগিরদের সম্মান আদায়ের লড়াই ছিল না। এটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া সেই সমস্ত নারীর লড়াই  ছিল, যাদের ঘরে বাইরে, সংসারে, দফতরে সর্বক্ষণ সংগ্রাম করতে হচ্ছে। নিজের অধিকারের জন্য পুরুষশাসিত সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হচ্ছে। তাদের কণ্ঠরোধ করার জন্য বস্তুত তাদের একঘরে করে দেওয়া হচ্ছে।

বিদ্রোহিনীরা বরাবরই তাদের পরিবারেও অবাঞ্ছিত। আত্মীয়রা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়, কর্মক্ষেত্রে কাজের সুযোগ কমতে থাকে, পারিবারিক অনুষ্ঠানে গেলেও নানা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় তাদের।

ধর্ম বরাবরই মহিলাদের, পুরুষের দাসত্ব করার শিক্ষাই দিয়ে এসেছে। মহিলাদের গুরুত্ব শুধু সংসারের কাজে এবং ইন্দ্রীয় সুখের প্রয়োজনে। অহল্যা, সীতা, দ্রৌপদী— তাই সবসময়ই বঞ্চনার শিকার। তাঁরা নির্যাতনের দৃষ্টান্ত হিসাবেই থেকে গেছেন। তাই, আসাধু ব্যক্তিরা আজও ক্ষমতার শীর্ষে বিরাজ করেন।

ক্লান্তি দূর করুন নিমেষে

সামাজিকতা রক্ষার দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া চলে না। এই পরিস্থিতিতে ভীষণ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায় নিজেকে প্রেজেন্টেবল রাখা এবং একই সঙ্গে ত্বক-কে কুলিং অ্যান্ড রিফ্রেশিং এফেক্ট দেওয়া। এছাড়া, স্কিন ড্রাইনেস-এর সমস্যারও মোকাবিলা করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে স্কিন রিফ্রেশ করার জন্য উপযোগী উপকরণ হতে পারে ফেস মিস্ট। এই বিষয়ে রইল বিস্তারিত আলোচনা।

ফেস মিস্ট আসলে কী?

ইদানীং সৌন্দর্য সচেতন মহিলাদের অত্যন্ত প্রিয় প্রসাধনী হয়ে উঠেছে ফেস মিস্ট। এটায় মজুদ উপকরণগুলি নিমেষে ক্লান্তি দূর করে ত্বকে রিফ্লেশড লুক দিতে সক্ষম। ফেস মিস্ট ইজি টু ইউজ এবং সহজে ক্যারি করা যায়— তাই কর্মরতাদের কাছেও এর চাহিদা অত্যন্ত বেশি। কিন্তু ফেস মিস্ট আসলে কী?

বস্তুত ফেস মিস্ট এক ধরনের স্প্রে, যা অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস, ভিটামিন্‌স, এক্সট্র্যাক্টস এবং এসেন্সিয়াল অয়েলের গুণে সমৃদ্ধ। ফলে ফেস মিস্ট-এর ব্যবহারে স্কিন সহজেই তার প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করতে পারে। ত্বক হাইড্রেটেড থাকে এবং এটাই ক্লান্তির ছাপ মুছে দিতে সাহায্য করে। কিন্তু সঠিক ফলাফল পেতে হলে ফেস মিস্ট ব্যবহার করতে হবে ক্লিনিং ও ময়েশ্চারাইজিং-২-এর মধ্যবর্তী পর্বে। সাবান বা ফেসওয়াশ অ্যালকালাইন হওয়ার ফলে, স্কিনে একটা শুষ্ক ভাব তৈরি হয় এগুলি ব্যবহারের পরে। এই সময় ফেস মিস্ট ব্যবহার করলে ত্বকের পিএইচ লেভেল পুনরায় ভারসাম্য ফিরে পায়।

ত্বকের শুষ্কতা যাদের সারা বছর থাকে, মেক-আপ ঠিকমতো বসতে চায় না, তাদের জন্য অব্যর্থ এই ফেস মিস্ট। কারণ এটা মেক-আপ করার জন্যই নির্মিত। এর হাইড্রেটিং প্রপার্টিজ, মেক-আপের আগে স্কিনের আর্দ্রভাব ফিরিয়ে আনে। ফলে এফেক্ট হয় দুর্দান্ত।

সৌন্দর্য সচেতন নারীমাত্রেই এখন ব্যাগে ফেস মিস্ট ক্যারি করেন। তবে ব্যবহারের আগে জানতে হবে কোন ফেস মিস্ট আপনার ত্বকের জন্য সঠিক। সেই বুঝে এই প্রোডাক্ট নির্বাচন করুন।

শুষ্কতার সমস্যা রোধ করে

আপনার ত্বক যদি প্রকৃতিগত ভাবে শুষ্ক হয়, তাহলে আপনি যে-কোনও ফেস মিস্ট নির্বাচন করবেন না। আপনার এমন ফেস মিস্ট কেনা উচিত, যাতে আছে হ্যালুরোনিক অ্যাসিড, স্কোয়ালেন প্রভৃতি উপকরণ সমৃদ্ধ ফেস মিস্ট, যা স্কিন সেলসগুলি প্লাম্প করার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের শুষ্কতার সঙ্গেও লড়বে। ত্বককে হাইড্রেট করবে এবং স্কিন ড্যামেজও দূর করবে।

ত্বক যদি দীর্ঘক্ষণ সূর্যের তাপে এক্সপোজড হয়, তাহলে তা চূড়ান্ত ভাবে ড্যামেজ হতে পারে। রোদের তাপ, দূষণ এবং ঘামের কারণে ত্বকে প্রদাহ হতে পারে। স্প্রে মিস্ট-এ মজুদ অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস, ভিটামিন ও এক্সট্র্যাক্টস এবং এসেন্সিয়াল অয়েল ত্বকের ড্যামেজ রোধ করতে সক্ষম। এটি ত্বককে দিনভর সুরক্ষিত রাখে, হাইড্রেটেড রাখে। স্কিন সেন্সিটিভিটি ও এজিং-এর সমস্যায় অব্যর্থ।

স্ট্রেসস্কিনের সমস্যা দূর করে

স্ট্রেসড-স্কিনের জন্য এমন ফেস মিস্ট চয়ন করুন যাতে, ক্যামোমাইন, জোজোবা, অয়েল, এসেন্সিয়াল অয়েল, ল্যাভেন্ডার অয়েল এবং রোজওয়াটার মজুদ রয়েছে। এটি স্কিন ডিস্ট্রেস করে এবং স্কিন সেল্সগুলিকে হেলদি করতে সাহায্য করে।

অ্যান্টি এজিং উপকরণ

সব মহিলারই সুপ্ত ইচ্ছে হল, তার ত্বকের যৌবন যেন দীর্ঘায়িত হয়। ফলে স্কিনকে ইয়ং লুক দিতে হলে ব্যবহার করতে হবে সঠিক স্প্রে মিস্ট। অনেকে ভুল প্রসাধনী ও ক্ষতিকারক রাসায়নিক যুক্ত কসমেটিক্স ব্যবহার করে স্কিন ড্যামেজ করে ফেলেন। ফলে সময়ের আগেই ত্বকে এজিংয়ের ছাপ পড়ে। প্রমাণিত হয়েছে স্প্রে মিস্ট অ্যান্টি এজিংয়ের গুণে সমৃদ্ধ।

তাই যাদের ত্বকে আর্লি এজিংয়ের সমস্যা রয়েছে তারা চয়ন করুন টি এক্সট্র্যাক্টস, ভিটামিন সি, ই, পমেগ্রানেট এক্সট্র্যাক্ট, আলফা অ্যান্ড বিটা হাইড্রক্সি অ্যাসিড, গ্রেপফ্রুট এক্সট্র্যাক্ট প্রভৃতি উপকরণে সমৃদ্ধ মিস্ট। এটি অক্সিডেশন স্ট্রেস কমিয়ে, ত্বকের এজিং সমস্যা নির্মূল করে।

ব্লুলাইট থেকে প্রোটেকশন

আপনি যদি কর্মরতা হন তাহলে দীর্ঘসময় কম্পিউটারের সামনে কাজ করার সম্ভাবনা থাকে। ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, টিভি প্রভৃতি সমস্ত গ্যাজেটেই এখন ব্লু-লাইট থেকে স্কিন প্রবলেম তৈরি হওয়ার আশঙ্কা। এই ব্লু-লাইট থেকে নির্গত ফ্রি র‍্যাডিকল, স্কিন ড্যামেজ করতে ক্রিয়াশীল থাকে। এই ব্লু-লাইট থেকে স্কিন-কে প্রোটেক্ট করতে হলে আপনাকে বিশেষ ফেস মিস্ট ব্যবহার করতে হবে।

পোরস মিনিমাইজ করতে হলে

একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, অতিরিক্ত সিবাম (তৈলাক্ত পদার্থ) ক্ষরণের জন্য মুখে পোরস হতে পারে। কোনও মহিলার যদি সোয়েট গ্ল্যান্ড থেকে বেশি পরিমাণে তেল উৎপাদন হয়, তাহলে অয়েলি স্কিনজনিত সমস্যা শুরু হয়। এই অবস্থায় স্কিন পোরস মিনিমাইজ করার প্রয়োজন হয়, এর জন্য পাওয়ারফুল অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস-যুক্ত ফেস মিস্ট-ই আপনার প্রয়োজন।

বেস্ট ফেস মিস্ট

O ভ্যানিলা কো-ডিয়োর হাইড্রেশন ফেশিয়াল মিস্ট, যাতে রয়েছে ব্যাম্বু, লোটাস বাটার এবং নিমপাতার এক্সট্র্যাক্ট। এটি স্কিনের হাইড্রেশন লেভেল বুস্ট করতে সক্ষম।

O পাই সেঞ্চুরি ফ্লাওয়ার, লোটাস অ্যান্ড অরেঞ্জ ব্লসম সুদিং টনিক নিউট্রিয়েন্ট রিড ফেস মিস্ট। এটি ওয়াটার বেসড হওয়ার ফলে স্কিন টোন ইমপ্রুভ করতে সহায়ক। স্কিন রিফ্রেশ করে এবং সফট করে।

O ইনিসফ্রি গ্রিন টি মিস্ট, লাইটওয়েট হওয়ার কারণে ব্যবহার করতে সুবিধাজনক। এছাড়া এতে রয়েছে গ্রিন টি-এর গুণাগুণ। এটি হাইড্রেট করার পাশাপাশি স্কিন গ্লোয়িং-এর কাজেও সহায়তা করে। ত্বকের বাড়তি তেল নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম এই ফেস মিস্ট।

O ইনিসফ্রি অ্যালো রিভাইটাল স্কিন মিস্ট। ড্রাই ও পিলিং স্কিনের জন্য বেস্ট বিউটি ট্রিটমেন্ট বলে পরিচিত।

O দ্য বিউটি কোম্পানি অ্যালোভেরা মিস্ট অ্যালকোহল ফ্রি হওয়ার দরুন স্কিনকে করে সুপার হাইড্রেটেড।

O ব্যবহার করুন এসবিবোটানিকা নিউট্রিটিভা পমেগ্রানেট ফেস মিস্ট, যা অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস-এর পাওয়ার হাউস হিসাবে পরিচিত। এটি এজিং রোধ করতে সহায়ক।

O ভিটামিন সি ফেসিয়াল মিস্ট আপনার ত্বক-এর গ্লো বাড়ানোর পাশাপাশি, এজিংয়ের সমস্যাও রোধ করবে। এর অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট প্রপার্টিজ স্কিন সেল্স-এ কোলোজেন উৎপাদন করে এবং এজিংয়ের প্রক্রিয়াকে স্লো করে দেয়।

O আইএলআইএ ব্লু-লাইট প্রোটেকশন মিস্ট— স্কিন হাইড্রেট করতে অব্যর্থ। মেক-আপ সেট করতে হলে এবং ত্বক ব্লু- লাইট তথা দূষণের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে হলে, এই ফেস মিস্ট ব্যবহার করুন।

O রেডিয়ান্স মিস্ট, পোরস মিনিমাইজ করতে সক্ষম। এটি স্কিনকে সমস্তরকম ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়। ডেড স্কিন এক্সফোলিয়েশন-এও খুবই সহায়ক।

শ্বেতপাথরের স্বর্গ (শেষ পর্ব)

ধুঁয়াধার জলপ্রপাত দেখার জন্য যেখানে গাড়ি থেকে নামলাম, ভিউ পয়েন্ট সেখান থেকে অনেকটা নীচে নেমে যেতে হয়। এখানেও সেই বোটিংঘাটের রাস্তার মতো দু’ধারে মার্বেলের কারুকার্য করা নানা জিনিসের মেলা। আমরা প্রায় চোখ বন্ধ করেই এগোতে লাগলাম আমাদের মূল দ্রষ্টব্যের দিকে। ভিউ পয়েন্টে পৌঁছোবার বেশ কিছুটা আগে থেকেই চোখে ধরা দিল সেই নৈসর্গিক দৃশ্য। ভর দুপুরে মাথার উপর সূর্য। গনগনে তার রোদের তেজ। তবু মাঘ মাসের এই ভেড়াঘাটে কড়া রোদেও হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা। তার মধ্যেই ভারী শীতবস্ত্র জলসিক্ত হয়ে উঠছে জলপ্রপাতের মিহি বাষ্পে। একদম সামনে যেতেই একটা অদ্ভুত সোনার কাঠির পরশ। যেন ছুইয়ে দিল মনের কোণে স্বপ্নে দেখা স্বর্গ।

প্রায় দেড়শো ফুট উপর থেকে নর্মদার বিপুল জলরাশি ঝাঁপিয়ে পড়ছে নীচের গিরিখাতে। তার সফেদ ফেনায় বুদবুদ কাটছে এক সমুদ্র স্বপ্নিল আকর্ষণ। যার দিকে চিরকাল তাকিয়ে থাকলেও যেন সময় ফুরোয় না। চারিদিকে সেই মায়াময় জলকণার গুঁড়ো বাষ্প সকলকে ভিজিয়ে দিচ্ছে আপন করে। অপলক দৃষ্টিতে এক অপরূপ মুগ্ধতা নিয়ে জলপ্রপাতের দিকে তাকিয়ে আছে অগুনতি পর্যটক। এখানে দাঁড়িয়ে একটা কথাই শুধু মনে হচ্ছে, কোন আদি অনন্তকাল ধরে নর্মদা যেন নিজেকে সমর্পণ করে দিচ্ছে শ্বেতপাথরের পাহাড়ের কোলে। সেই নান্দনিক আনন্দের উচ্ছ্বাস যেন এই ছিটকে ওঠা শান্তিজলের বাষ্পকণা। আসলে অতিরিক্ত উচ্চতা থেকে জল পড়ার জন্যই এই জলকণার উৎপত্তি।

এই মনোরম দৃশ্য আরও বেশি উপভোগ করার লোভ ছাড়তে পারলাম না। তাই উঠে পড়লাম রোপওয়েতে। এই রোপওয়ে এক পাহাড়ের মাথা থেকে আর এক পাহাড়ের মাথায় যায় জলপ্রপাতের উপর দিয়ে। আকাশ থেকে পাখির চোখে দেখলাম সেই স্বর্গীয় চলমান মুগ্ধকর চলচ্চিত্র। বেশি উৎসাহীরা আবার জলপ্রপাতের জলে বুকে লাইফ জ্যাকেট বেঁধে উদ্দাম উপভোগে মত্ত। আমার বয়স আমাকে এই জায়গায় পিছুটান দিল। আমি চোখের সুখেই সন্তুষ্ট থাকলাম। মন তো সরতে চাইছে না এখান থেকে। তবু সময় বড়ো বালাই। যেতে হবে আরও দুই দ্রষ্টব্য স্থানে। এই মার্বেল-রক বোটিং ঘাট আর ধুঁয়াধার জলপ্রপাতের মাঝামাঝি হল চৌষট্টি যোগিনী মন্দির। আমাদের পরবর্তী গন্তব্য।

মাটি থেকে অত্যন্ত খাড়াই পাথুরে প্রায় শ’পাঁচেক সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয় এই চৌষট্টি যোগিনী মন্দিরে। প্রায় হাজার বছর আগে এই মন্দির নির্মিত হয়েছিল কালাচুরি বংশের রাজত্বকালে খাজুরাহো মন্দিরের আদলে। তবে মন্দিরের শিল্পকর্ম অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত মোঘল রাজাদের বারবার আক্রমণে। রানি দুর্গাবতী মন্দিরের এই অবশিষ্ট অংশ তার সর্বশক্তি দিয়ে রক্ষা করতে পেরেছিলেন শেষ অবধি। সেই অসম যুদ্ধে রানির মরণপণ লড়াই সত্যিই প্রশংসনীয়। ঠিক যে কারণে আমরা আজকে এই প্রাচীন গঠন-শৈলীতে নির্মিত, পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত অপরূপ এই মন্দিরটি দর্শন করতে পারছি।

এই মন্দির থেকে পার্শ্ববর্তী নর্মদা ও তার অববাহিকার সৌন্দর্য নয়নাভিরাম। রোদ এবার পাহাড়ের কোলে পড়ে আসছে। কোনাকুনি ঠিকরাচ্ছে মন্দিরের প্রস্তরগাত্রে। আমাদের আর একটি জায়গা দেখা বাকি। সেটা হল মদনমহল ফোর্ট।

বেশি সময় নিল না মদনমহলের কাছে আসতে। বড়োজোর মিনিট কুড়ি। পাহাড়ি রাস্তায় সামান্য কয়েকটা চক্কর কাটতেই আমরা হাজির সেই পাহাড়ের নীচে, যার মাথায় গোন্দবংশের রানি দুর্গাবতীর এই দুর্গ। গাড়ি থেকে নামতেই নজরে পড়ল বিশ্বের এক আশ্চর্য জিনিস। ব্যালেন্সিং রক। একটি ছোটো পাথরের উপর কোনও অবলম্বন ছাড়াই একটি বিশাল পাথরের প্রাকৃতিক অবস্থান। বিজ্ঞানের ভরকেন্দ্র, মাধ্যাকর্ষণ, সব সূত্রই এর ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ। আমরা অবাক চোখে শুধু দেখলাম। তারপরেই পাহাড়ের পাকদণ্ডী হাঁটাপথ পেরিয়ে উঠতে লাগলাম আমাদের শেষ লক্ষ্য, দুর্গের দিকে।

পথে পড়ল একটি ভারি সুন্দর ছোট্ট সরস্বতী মন্দির ও খুব জাগ্রত এক শিব মন্দির। পাহাড়ের নীচের রাস্তা থেকেই এই মন্দিরের চূড়া দেখা যায়। অবশেষে পৌঁছোলাম রানি দুর্গাবতীর মদনমহল ফোর্টে। মোগলদের আক্রমণে দুর্গের বেশিরভাগটাই ধ্বংসপ্রাপ্ত। তবে তা সত্ত্বেও রানি দুর্গাবতী যুদ্ধে পরাস্ত হলেও শেষ পর্যন্ত ধরা দেননি মোগল সম্রাটদের হাতে। যুদ্ধ চলাকালীন তিনি এবং তার পুত্র মদন সিং বীরের মতো প্রাণ বিসর্জন দেন। এই দুর্গ তৈরি হয়েছিল একাদশ শতাব্দীতে। এক ব্যতিক্রমী গঠন-শৈলী! পাহাড়ের মাথায় একটি বিশালাকার পাথরকে কেন্দ্র করে এই দুর্গ অবস্থিত। উপর থেকে সমগ্র জব্বলপুর শহরটিকে ভারি সুন্দর দেখায়।

এরপর আমরা জব্বলপুর ফেরার রাস্তা ধরলাম। সন্ধের অনেক আগেই আমরা হোটেলে। এক কাপ চা খেয়ে শরীর একদম চনমনে। বিনা কাজে হোটেলে বসে থাকলে তো একঘেয়ে লাগবে। তাই সন্ধে নাগাদ একটি অটো ধরে দশ মিনিটেই পৌঁছে গেলাম নর্মদা নদীর তীরে গৌরিঘাটে। উদ্দেশ্য নর্মদা-আরতি দেখা। হরিদ্বার বা বেনারসে যদিও গঙ্গারতি দেখেছি, তবে এই আরতি-ও কোনও অংশে কম নয়। এছাড়াও উপরি দর্শন হল নদীবক্ষে নর্মদা মায়ের মূর্তি ও মন্দির। শেষে একটা কথা না বললেই নয়। সেদিন রাতে খেলাম ট্রেনের কামরার আদলে তৈরি একটি হোটেলে। এই হোটেলে একবার অন্তত না খেলে, জব্বলপুর ভ্রমণ অনেকটাই অধরা থেকে যাবে।

পরদিন আমাদের বাড়ি ফেরার পালা। তবে এবার আকাশপথে। জব্বলপুর শহর থেকে পঁচিশ কিলোমিটার দূরে বিমানবন্দর। পরেরদিন খুব সকালের বিমান ধরলাম আমরা। যাতে বাড়ি ফিরে দিনটা কাজে লাগানো যায়। তবে তিনদিনের ছুটিতে বেশ জব্বর কাটল জব্বলপুরে। মনে এক অভূতপূর্ব স্বর্গসুখ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম আবার দৈনন্দিন জীবনে।

(সমাপ্ত)

সন্তানের শৈশব ছিনিয়ে নেবেন না

এক আমেরিকান সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী জানানো হয়েছে যে, দুই সন্তানের যত্ন নেওয়ার জন্য এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্না করতে যে সময় এবং শ্রম দান করেন মা, আউটসোর্স করলে এর জন্য ব্যায় করতে হবে ৪,৫০০ থেকে ৫,২০০ ডলার। যে-সব পরিবারে মাসে ৩,০০০ ডলার আয়, সেই পরিবারগুলোকে মধ্যবিত্ত পরিবার ধরা হয় আমেরিকায়। এর থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, পরিবারের মহিলা সদস্যটি যদি অন্যের বাড়িতে একই শ্রম দান করেন, তাহলে তিনি তার পারিবারিক উপার্জনের থেকে বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

ভারতেও মহিলাদের পরিস্থিতি খুব আলাদা কিছু নয়। এখানে হয়তো বাড়িতে শ্রমদানকারী আয়াদের পারিশ্রমিক আমেরিকার মতো অত বেশি নয় কিন্তু আয়াদের দুর্ব্যবহার সহ্য করতে হয় গৃহিণীদেরই। তাই, শিক্ষিত, বুদ্ধিমতী মায়েরা যদি কোনও চাকরি করে থাকেন, তাহলে কোনও অবস্থাতেই সেই চাকরি ছাড়া উচিত নয় তাদের। কারণ, বাইরের কাজে যে সন্তুষ্টি কিংবা অর্থলাভ হয়, তা বাড়ির কাজে কখনও-ই সম্ভব নয়। কিন্তু অনেক পরিবারে দেখা যায় যে, পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে কিংবা চাপে পড়ে অনেক মহিলা মা হওয়ার পর চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

অবশ্য বিষয়টা এমন নয় যে, সন্তানকে অবহেলা করে কিংবা তার শৈশব ছিনিয়ে নিয়ে মা যাবেন চাকরি করতে! আসলে নিজের স্বপ্নপূরণ করেও কীভাবে সন্তান লালনপালন করা যায়, সেই বিষয়ে দেখানো হচ্ছে সুন্দর সমাধানের পথ। কিন্তু কী সেই পথ?

নারী-পুরুষ উভয়কেই সন্তানের যত্ন নিতে হবে। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই যদি উপার্জন করেন, তাহলে সন্তানকে বড়ো করে তুলতে কর্মী নিয়োগ করলে, সেই খরচের অর্থ মা-বাবা দু’জনে মিলে বহন করতে পারেন। মোটকথা সন্তান যখন দু’জনেরই ভালোবাসার ফসল, তখন সন্তানের দায়-দায়িত্ব বহনও করতে হবে দু’জনকেই।

সন্তানের যত্ন নিতে গিয়ে শুধু মা যদি অমানুষিক পরিশ্রম করেন, তাহলে এক সময় তিনি বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারেন। আর এর ফলে যদি বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে সন্তানের। তাই, মায়ের উপর সমস্ত বোঝা চাপিয়ে দিয়ে বাবা যদি নাকে সরষের তেল দিয়ে ঘুমোন, তাহলে পরোক্ষে তিনি সন্তানের শৈশব ছিনিয়ে নিচ্ছেন, সন্তানের চরম ক্ষতি করছেন।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব