Studio Blackbox নিয়ে এল ওয়েব সিরিজ দ্য বিচ

Studio Blackbox একটি অত্যাধুনিক স্টুডিও হিসাবে আত্মপ্রকাশ করল। আসন্ন হিন্দি ওয়েব সিরিজ ‘দ্য বিচ’-এর ফার্স্ট লুক দিয়েই তাদের যাত্রা শুরু হল।

দ্য বিচ – গল্পটি মূলত একটি থ্রিলার ধর্মী গল্প। এটি এমনই এক হত্যা-রহস্য, যা সমাজের অভিজাত সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনধারাকে ফুটিয়ে তোলে। এই ওয়েব সিরিজের প্রধান তারকা হলেন অভিনেতা ইমরান খান। সঙ্গে আছেন রবি ভাটিয়া, শ্বেতা খান্দুরি, পায়েল চ্যাটার্জী, শতাক্ষী নন্দী, নিলয় ব্যানার্জী। ওয়েব সিরিজটির পরিচালক সৌম্যজিৎ গাঙ্গুলী। গল্প ও সংলাপ লিখেছেন – অ্যাডগুরু ডা: অতুল ডালমিয়া (আনারিস কাওসা)।

মহামারীর কারণে মানুষের প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার প্রবণতা কমেছে। দীর্ঘকাল যাবৎ সমস্ত প্রেক্ষাগৃহ ও সিনেমা হল বন্ধও ছিল। মহামারীর ন’মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর দেখা গেছে মানুষ বিনোদনের জন্য অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন ওটিটি প্ল্যাটফর্মের উপর। ফলে বহু সিনেমা ও ওয়েব সিরিজ ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সাফল্য অর্জন করেছে। বলাবাহুল্য বাংলায় খুব কম প্রযোজক আছেন যারা ওয়েব সিরিজের জন্য হিন্দি সামগ্রী তৈরি করেন। Studio Blackbox বিনোদনপ্রেমী দর্শকদের জন্য এই উদ্যোগই গ্রহণ করেছে।

প্রযোজক ডঃ অতুল ডালমিয়া (আনারিস কাওসা) জানিয়েছেন, ওয়েব সিরিজটির শুটিং সমাপ্ত। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি নাগাদ এটি রিলিজ হবে। অদূর ভবিষ্যতে অন্যান্য বিষয়বস্তু নিয়ে কন্টেন্ট তৈরিতেও তারা আগ্রহী।

বাচ্চাকে কুকিং শেখান

সময় খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। মাল্টিটাস্কিং এখন চরিত্রের গুণ শুধু নয়, আজকের সময়ে বিশেষ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। বাচ্চার স্কুল যাওয়ার বয়স হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিভাবকদের উচিত লেখাপড়া, স্পোর্টস, ব্রেন অ্যাক্টিভিটি ট্রেনিং এবং অন্যান্য ক্রিয়েটিভ অ্যাক্টিভিটি-র সঙ্গে বাচ্চাকে ধীরে ধীরে কিছু রান্না শেখানো। এটা শুধুমাত্র বাচ্চাকে কিছুক্ষণ এনগেজ রাখার জন্যই নয় বরং এটার অনেক লাভের দিকও আছে।

শিখতে সাহায্য করে – রান্না করার সময় যদি বাচ্চা আশেপাশে থাকে তাহলে তাকেও বলুন আপনাকে রান্নায় সাহায্য করতে। ফ্রিজ থেকে সবজি বার করে আনা, কোনটা কী সবজি ইত্যাদি তাকে চেনানো। বাচ্চাদের মনে সবসময় নতুন নতুন জিনিস সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকে। যখন সে খুব কাছ থেকে এইসব জিনিস দেখবে, স্বাভাবিক ভাবেই সেগুলো দিয়ে কী হয় সেটা জানারও আগ্রহ তাদের বাড়বে।

শেখান সবকিছু খেতে – বেশিরভাগ অভিভাবকেরই সমস্যা হয়, তাদের বাচ্চারা অনেক সবজি বা ফল খায় না। তার একটা কারণ হল এরমধ্যে বেশিরভাগ ফল বা সবজি বাচ্চা হয়তো একবার দেখেছে অথবা কখনও-সখনও দেখে। যখন রান্নার সময় রোজ বাচ্চার সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করবেন তখন বাচ্চার মনেও সেই খাবারটা খাওয়ার ইচ্ছে জাগবে।

বাচ্চার গুরুত্ব বাড়বে – বাচ্চারা সবসময় চায় বড়োদের মধ্যে থেকেও নিজের গুরুত্ব বাড়াতে। কিন্তু কীভাবে সেটা সফল হবে সেটা সবসময় তারা ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। ফলে বাচ্চা জেদ, বায়না ইত্যাদির আশ্রয় নেয়। এছাড়াও তারা চায় বড়োরা তাদের অ্যাটেনশন দিক। সুতরাং বড়োদের কাছে কিছুটা রান্না শিখতে পারলে তারা বড়োদের সাহায্য ছাড়াই রান্নায় নিজস্ব স্কিল প্রমাণ করার একটা সুযোগ পাবে। ফলে পুরো পরিবারে তার গুরুত্বটাও প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

নতুন আবিষ্কারের আনন্দ – রান্নায় বড়োদের শেখানো পদ্ধতি মেনে চলতে হবে এরকম বাঁধাধরা নিয়মে বাচ্চাকে বন্দি না রেখে, মাঝেমধ্যে তাকে তার নিজেরমতো করে রান্না করার সুযোগ দিন। এতে তার মনে স্বাধীন ভাবটাও যেমন জেগে উঠবে, তেমনি নতুন কিছু ইনোভেশনের ইচ্ছাও জাগবে। বড়োদের ছায়া থেকে সরে এসে নতুন কিছু করার নেশা তার মধ্যে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকবে। বাড়বে ক্রিয়েটিভ স্কিল।

হেলদি ইটিং হ্যাবিট তৈরি করুন – রান্না করতে করতে রান্নাটাতে ব্যবহূত সামগ্রীর হেল্থ বেনিফিট্‌স সম্পর্কে বাচ্চার কাছে বলুন। ধীরে ধীরে বাচ্চা নিজেই ফল, সবজি এবং অন্যান্য খাওয়া-দাওয়ার জিনিস সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করা শুরু করবে।

বন্ডিং এবং বন্ধুত্ব বাড়বে – বাচ্চাদের সঙ্গে বন্ডিং এবং বন্ধুত্ব তৈরি করতে এবং তাদের শখ সম্পর্কে জানতে বাড়ির মধ্যে সবথেকে ভালো জায়গা হল রান্নাঘর। বাচ্চারা চঞ্চল প্রকৃতির হয়, ফলে তাদের এক জায়গায় বসিয়ে তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চালানো মুশকিল হয়ে পড়ে। কিন্তু রান্নাঘরে আলাদা আলাদা জিনিসের ব্যবহার এবং নানা ধরনের অ্যাক্টিভিটি সহজেই বাচ্চাকে আকর্ষণ করে। এর ফলে বাচ্চা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রান্নাঘরে কিছুটা সময় নিজেই কাটাতে আগ্রহী হয়। ব্যস ওই সময়টুকু বাচ্চার সঙ্গে বন্ডিং এবং বন্ধুত্ব বাড়াতে ব্যবহার করুন।

বাচ্চাকে আত্মনির্ভর করে তোলে – কেরিয়ার গড়ে তুলতে অনেক বাচ্চাকেই টিন এজে বাড়ি ছেড়ে দূরে হোস্টেলে বা পিজিতে থাকতে হয়। বাচ্চা যদি ছোটো থেকেই বাড়িতে রান্নার সঙ্গে পরিচিত হয়ে যায় তাহলে বাইরে থাকাকালীন সেটাই তার সবথেকে বেশি কাজ দেবে। মনের মতন এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বানিয়ে নিতে তাকে কারও উপর নির্ভর করতে হবে না। নিজেই স্বনির্ভর হয়ে উঠবে।

বাচ্চাদের রিডিং স্কিল বাড়বে – রেসিপি দেখে রান্না করার সময় বাচ্চাকে রেসিপিটি আপনার হয়ে জোরে জোরে পড়তে বলতে পারেন। বাচ্চা খুব ছোটো হলে ২ কাপ ময়দা অথবা ৪-টে আলু বা ৮ চা-চামচ মাখন বা ঘি, ১২-টি ডিম ইত্যাদি নাম্বারগুলি চোখে দেখে শিখবে এবং সেই অনুযায়ী জিনিসগুলি একজায়গায় রাখলে তার নাম্বারের জ্ঞান বাড়বে। বাচ্চা বড়ো হলে পদ্ধতির প্রতিটা স্টেপ পড়ে সেইমতো তাকে প্রতিটা স্টেপ মানতে বলুন। এর ফলে পড়ার অভ্যাসও যেমন তৈরি হবে তেমনি পদ্ধতিটি শিখতেও সুবিধা হবে।

বিজ্ঞান বিষয়ে জ্ঞান বাড়বে – রন্ধন প্রক্রিয়া অনেকটাই বিজ্ঞান নির্ভর। রান্নার কিছু জিনিস একসঙ্গে মেশালে কী হয় অথবা মাপ যখন ভুল হয় তখন কী হতে পারে, বাচ্চা সেটা চট্ করে শিখে যেতে পারে।

ফোকাস এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে – রান্নার সময় বাচ্চাকে কাজটার প্রতি ফোকাস রাখতে হয়। মনোযোগ না দিতে পারলে রেসিপির সামান্য ভুলভ্রান্তি রান্নাটাকে খারাপ করে দিতে পারে। অথচ বাচ্চারা চায় তারা কিছু তৈরি করলে সকলে প্রশংসা করুক। সুতরাং তারা খুব তাড়াতাড়ি শিখে যায় অ্যাটেনশন দিলে তবেই রেসিপি অনুযায়ী পারফেক্ট খাবারটা তারা তৈরি করতে পারবে। ধৈর্য বাড়ানো, এক জায়গায় বেশ কিছুটা এনগেজ থাকার বিষয়গুলির জন্য কুকিং খুব ভালো অ্যাক্টিভিটি।

অঙ্কের মাথা পরিষ্কার হবে – রান্নায় নানা ধরনের মাপের প্রয়োজন হয়। বাচ্চারাও রান্না করতে গেলে সেই মেজারমেন্টগুলো শিখতে পারবে। যেমন এক কাপ চাল বা দুই চা-চামচ জিরেগুঁড়ো অথবা চার টেবিল চামচ রান্নার তেল ইত্যাদি। এমনকী ভগ্নাংশ, যোগ-বিয়োগ ইত্যাদিও তারা তাড়াতাড়ি শিখতে পারে। এর ফলে অঙ্কের বেসিক জিনিসগুলো তারা ছোটো থাকতে খুব সহজেই শিখে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়।

সুতরাং বাচ্চার বয়স অনুযায়ী তাকে সহজ কিছু রান্না শিখিয়ে রাখুন যাতে সে-ও ‘হেলদি ইটিং হ্যাপি লিভিং’-এর সঠিক মানে বুঝতে পারে।

 

কীভাবে বাড়াবেন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা?

অনেকটা সময পার করে ফেলেছি, তবুও করোনার সংক্রমণ আজও অব্যাহত। বরং বলা চলে এতদিনে আরও শক্তি সঞ্চয় করে এই ভাইরাস মানুষের দেহ-মনে ভীতির সঞ্চার করছে। ইউ কে-তে নতুন করে শুরু হয়েছে লকডাউন।আমাদের দেশে সরকারের একটাই লক্ষ্য, জনজীবনে স্বাভাবিকতা, গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। অতএব এখন করোনার সংক্রমণ-এর সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়ে,জীবনধারণ করছি আমরা।

বাড়ির বাইরে যারা বেরোচ্ছেন, তাদের মধ্যেও একটাই ভয় হয়তো কাজ করছে, কোউ বা আবার অন্ন সংস্থা্নের দায়ে মরীয়া। বিশেষ করে করোনার এই নতুন স্ট্রেন কী ভাবে বিপর্যস্ত করতে পারে তা নিয়ে এখনও আমরা সংশয়ে।

এতদিন দেখা গেছে, করোনা রোগী যদি আগে থেকে ডায়াবেটিস কিংবা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন, তাহলে সেই রোগীর বিপদের ঝুঁকি আরও ৮ গুন বেড়ে যায়। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এবং পঞ্চাশের উপর বযস, এক্ষেত্রে তাদের জীবনের ঝুঁকি আরও বেশি। বিশেষ করে যারা ৭০ বছর বযসের ঊর্ধ্বে, তাদের জীবনহানির আশঙ্কা প্রায় ৯ গুন বেশি এবং যারা ৮০ বছর বযসের ঊর্ধ্বে, তাদের জীবনহানির আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে প্রায় ১৫ গুন। তাই করোনার ভ্যকসিন যতদিন না গ্রহণ করছি, আমাদের একমাত্র বাঁচার উপায় হল শরীরের ইমিউনিটি পাওয়ার বাড়িযে নেওয়া এবং নিজেকে শক্তিশালী করে তোলা।

একদিকে এই সংক্রমণ রোধ করার জন্য যেমন সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং, স্যানিটাইজেশন, হাত ধোওয়া, করমর্দন না করা, মাস্ক পরা, ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি মেনে চলা জরুরি, তেমনি অপরদিকে ইমিউনিটি মজবুত করাও খুব দরকার। যাদের ইমিউনিটি শক্তি বেশি, তাদের অসুস্থ হওযার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে। বড়ো কোনও অসুখে পড়লেও তাদের সুস্থ হযে উঠতে বেশি সময লাগে না।

অবসাদ দূরে রেখে যোগ-ব্যায়াম এবং মেডিটেশনের মাধ্যমে ইমিউনিটি বাড়ানো সম্ভব। এছাড়াও ইমিউনিটি শক্তি বাড়াতে সুষম এবং পুষ্টিকর আহার অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

Daily exercising habit

ইমিউনিটি বাড়াবার জন্য কী খাবেন?

  • সবুজ শাকসবজি, পালংশাক, মেথিশাক, সরষেশাক ইত্যাদি সবুজ পাতা-যুক্ত সবজি রাখুন খাদ্য-তালিকায়। এগুলি আয়রন, অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস, ফলিক অ্যাসিড ম্যাগনেশিয়াম, কপার, ফসফেট ইত্যাদি তত্ত্বে ভরপুর। এই উপাদান ইমিউনিটি বাড়িযে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
  • কমলালেবু, আমলকী, পাতিলেবু, কিউযি, পেযারা, ব্রোকোলি, পালংশাক ইত্যাদি ফল ও সবজি ভিটামিন সি-তে ভরপুর। শরীর সুস্থ রাখতে ভিটামিন সি খাওযা খুবই জরুরি। এগুলো ইমিউনিটি শক্তি বাড়িযে শরীরকে নানা অসুখের সঙ্গে লড়ার ক্ষমতা দেয।
  • কমলা বা লাল রঙের ফল আর সবজি যেমন পেঁপে, গাজর, রাঙাআলু, তরমুজ, লাল আঙুর, আম ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে। এটা আমাদের ইমিউনিটি পাওযার বাড়াতে সাহায্য করে।
  • হাড় শক্ত করতেই যে শুধু দরকার ক্যালসিয়ামের এমন নয়, শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে। দুধ, দই, ঘি, ছানা, চিজ, ছাছ, ভিন্ডি, পালং, ব্রোকোলি, বিন্স এবং ফলের মধ্যে কমলালেবু, কিউয়ি, ব্ল্যাকবেরি, পেঁপে ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে।
  • ফাইবার-যুক্ত আহার আমাদের হজম প্রক্রিয়া মজবুত করতে সাহায্য করে। ফাইবার-যুক্ত সবজি, ফল, ব্রাউন ব্রেড, ডাল, গমের আটা, ড্রাইফ্রুটস, ওটস, কড়াইশুঁটি, ভুট্টা ইত্যাদি ইমিউনিটি শক্তি বাড়াতে খুবই কার্যকরী। এগুলি নানা ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ আটকাতে সাহায্য করে মানুষের শরীরে।
  • তুলসী অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। রোগপ্রতিরোধক হিসেবেও কাজ করে, সঙ্গে শরীরের ইমিউনিটি শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে। রোজ সকালে খালি পেটে ৪-৫টি তুলসীর পাতা চিবিয়ে খেতে পারেন। এছাড়াও মধুর সঙ্গে তুলসীপাতা সেবন করলে সর্দি, কাশির হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
  • মশলার মধ্যে সবথেকে উপকারী বলা হয় হলুদকে। ইমিউনিটি বাড়াবার সঙ্গে সঙ্গে, হলুদ অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবেও কাজ করে। এছাড়াও এতে রয়েছে অ্যান্টি ফাংগাল এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারি গুণ, যা শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে সহাযতা করে। খাবার তৈরির সময হলুদের ব্যবহার করা এবং দুধের মধ্যে হলুদ দিয়ে খাওয়া এই সময় খুবই প্রয়োজন।
  • যদি উপরে দেওয়া খাবারগুলি কোনও কারণে খাওয়ার অসুবিধা থাকে, তাহলে মাল্টি ভিটামিন ট্যাবলেট খাওযা যেতে পারে। ইমিউনিটি বাড়াবার জন্য ক্যালসিয়াম, মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টস যেমন জিংক, কপার, ম্যাঙ্গানিজ এবং ভিটামিন ডি থ্রি বেশি মাত্রায খাওযা বাঞ্ছনীয়।
  • জল শুধু তেষ্টা মেটায় না, শরীরে ওষুধের মতো কাজ করে। শরীরের বর্জনীয় বিষাক্ত তত্ত্ব বাইরে বার করে দিতেও সাহায্য করে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। সারাদিনে অন্ততপক্ষে তিন লিটার জল খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
  • ইমিউনিটি বাড়াতে ব্যায়ামের প্রয়োজন । নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের ইমিউনিটি বাড়িয়ে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। শরীর ফিট রাখতে আমরা ব্যায়াম করি কিন্তু শুধুমাত্র বাইরে থেকে নয়, ভিতর থেকেও শরীরকে মজবুত করতে ব্যায়াম করা প্রযোজন। এর আরও একটা সুফল হল মানসিক সুস্থতা। সুতরাং শুধুমাত্র করোনার কারণেই নয়, শারীরিক ভাবে সুস্থ ও সক্রিয় থাকতে পারলে অনেক রকম রোগ থেকেই নিজেকে বাঁচানো সম্ভব। সেজন্য যোগব্যায়াম, এক্সারসাইজের সঙ্গে সিঁড়ি ওঠানামা, ডান্স, হাঁটাচলা করা, খেলাধুলা সবকিছুই জীবনশৈলীর অন্তর্ভক্ত করা বাঞ্ছনীয়।
  • সূর্যের রশ্মিতে এমন অনেক গুণ রয়েছে যা নানারকম সংক্রমণ দূরে রাখতে শরীরকে সাহায্য করে। এটি ভিটামিন ডি-এর পরিপূরক যা শরীরের ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে। হাড় শক্ত করে। রোজ সকালে অন্তত আধ ঘন্টা সূর্যের আলো শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সুতরাং ওই সময়টায় গাযে সূর্যের রোদ লাগালে ইমিউনিটি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে।

বেশি ঘুমোচ্ছেন? এখনই সাবধান হন

রোজ যদি প্রযোজনের বেশি ঘুম হয় তাহলে নানা রকম শারীরিক সমস্যার শিকার হতে পারেন আপনি। যেমন ডায়াবেটিজ, হার্টের সমস্যা, স্ট্রোক ইত্যাদি। প্রয়োজনের বেশি বলতে সমীক্ষা বলছে ৯ ঘন্টার বেশি ঘুমোনো শরীরের জন্য ক্ষতিকারক প্রমাণিত হতে পারে। সাধারণত আগের দিন যদি ভালো ঘুম না হয় অথবা বেশ কয়েদিন ধরে ঠিকমতো ঘুমোনো সম্ভব না হয়, তাহলেই স্বাভাবিক ভাবে মানুষ বেশি ঘুমিয়ে পড়ে।

শরীর-স্বাস্থ্যের উপর প্রয়োজনের বেশি ঘুমোনোর প্রভাব

  • কগনিটিভ ইমপেয়ারমেন্ট (কোনও কিছু মনে রাখতে সমস্যা হওয়া, নতুন কিছু শিখতে অসুবিধার সম্মুখীন হওয়া, মনোযোগ দিতে না পারা, রোজের জীবনে সিদ্ধান্ত নিতে না পারা ইত্যাদি)
  • অবসাদের শিকার হওয়া
  • শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকা
  • সারা শরীরে ব্যথা
  • ফার্টিলিটি রেট কমে যাওয়া
  • ওবেসিটির সমস্যা
  • ডাযাবেটিজ হওযার রিস্ক বেড়ে যাওয়া
  • হার্টের সমস্যার সূত্রপাত
  • স্ট্রোক হওযার রিস্ক বেড়ে যায়
  • যে-সব সমস্যার কারণে মৃত্যুর ভয় থাকে সেইসব শারীরিক সমস্যা আরও বেড়ে যায়।

 

কীভাবে আটকাবেন প্রয়োজনের বেশি ঘুম

  • অ্যালার্ম দিয়ে শুতে যান
  • রাত ১২টার আগে শুতে যাওযা বাঞ্ছনীয়। মধ্যরাতের অন্তত ৩ ঘন্টা আগে শোযার অভ্যাস পরের দিন শরীর ঝরঝরে রাখে এবং সকালে ক্লান্তি আসতে দেয় না
  • সকালে ঘুম থেকে ওঠার আধঘন্টার মধ্যে জলখাবার খেয়ে নিন। যারা রেগুলার ব্রেকফাস্ট খায় তাদের শরীর এনার্জিতে ভরপুর থাকে এবং বডি মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায়, ফলে রাতে ভালো ঘুম হয়
  • পরের দিন কী কী কাজ করবেন সেটা রাতে শুয়ে চিন্তা করুন
  • সচেতন ভাবে সবরকম টেকনোলজি থেকে নিজেকে সরিয়ে আনুন ঘুমের আগে। এতে ঘুম গভীর হবে এবং সকালে উঠে নিজেকে রিফ্রেশড লাগবে
  • ক্লান্তির সত্যিকারের কারণটা খুঁজে দেখুন। অফিসের অত্যধিক চাপ? বেশি এক্সারসাইজ করা দরকার? স্বাস্থ্যকর খাবার বেশি খাওয়া উচিত? নতুন চাকরি খুঁজছেন? দুঃসহ সম্পর্ক ছেড়ে বাইরে বেরোবার পথ খুঁজছেন?
  • জীবনে লক্ষ্য রাখুন, জীবনকে অর্থবহ করে তুলুন যা করতে ভালো লাগে সেটাই করুন। যাদের জীবনে লক্ষ্য আছে তাদের সকাল শুরু হয় এনার্জির সঙ্গে।

লাইফ স্কিল্স শেখাও জরুরি

স্বাতি ভীষণ বিরক্ত বোধ করছিল। সারাদিন আঝোরে বৃষ্টি, তার উপর এক ঘন্টার বেশি হয়ে গেল বাড়িতে ইলেক্ট্রিসিটি নেই। আশেপাশে সব বাড়িতে আলো রয়েছে, শুধু ওদের

ফ্ল্যাট-টাই অন্ধকার। ৮ বছরের ছেলে এসে বলল, পরের দিন ক্লাসে নাকি ওকে স্পোর্টস-এর ড্রেস পরে যেতে হবে। কিন্তু বৃষ্টিতে ড্রেস-টা শুকোবে কী করে? স্বাতি চিন্তায় পড়ল। ঘরের ভিতর দড়ি টাঙাবারও কোনও ব্যবস্থা নেই। পেরেক দেয়ালে গাঁথবে কী করে? ড্রিল করতেও ও জানে না। ইলেক্ট্রিশিয়ান-কে ফোনে চেষ্টা করল স্বাতি কিন্তু ফোনটা বারবার বেজে যাচ্ছে। ইলেক্ট্রিসিটি থাকলে, ছেলের ড্রেস-টা অন্তত ইস্তিরি করে কিছুটা শুকিয়ে নিতে পারত।

এইসময় স্বাতিদের ঠিক উপরের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশী মণীষা কোনও প্রয়োজনে স্বাতির সঙ্গে দেখা করতে এসে দেখল ওর ফ্ল্যাটে ইলেক্ট্রিসিটি নেই। সঙ্গে সঙ্গে মণীষা ফিউজ-টা চেক করল। ঠিকই সন্দেহ করেছিল। ফিউজ-টা উড়ে গিয়েছে। মণীষা চট্ করে নিজের ফ্ল্যাট থেকে তার নিয়ে এসে ফিউজ ঠিক করে দিল। ড্রিলিং মেশিনের সাহায্যে বারান্দায় পেরেক গেঁথে দড়ি লাগিয়ে জামাকাপড় টাঙাবার ব্যবস্থা করে দিল। দশ-পনেরো মিনিটের মধ্যেই স্বাতি-র সব সমস্যার সামাধান করে দিল মণীষা।

স্বাতিকে আশ্চর্য হতে দেখে মণীষা ওকে পরামর্শ দিল, ‘তুমি কর্মরতাই হও বা গৃহিণী হও– এই সব কাজ আজকালকার দিনে অবশ্যই শিখে রাখা উচিত। অপরের উপর নির্ভর না করে বাড়ির টুকিটাকি কাজগুলো নিজে নিজে করে নিতে পারলে জীবনকে অনেকটাই সমস্যামুক্ত রাখা যাবে।’

স্বাতিও আজ ভালো মতন বুঝতে পেরেছে, এই স্কিল্স হয়তো দৈনন্দিন জীবনে দরকার না-ও পড়তে পারে কিন্তু প্রয়োজন পড়লে এগুলো জানা না থাকলে প্রচণ্ড মুশকিলের মধ্যেও হঠাৎ করে পড়তে হয়।

এই কাজগুলো সবারই শিখে রাখা উচিত

ছোটোখাটো রিপেয়ারিংঃ বাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু স্কিল্স বিদেশের কলেজে প্র্যাক্টিকাল ট্রেনিং দিয়ে পড়ানো হয়। কিন্তু আমাদের দেশে যারা এই ধরনের কাজ করে, তাদের দেখে অথবা আলাদা আলাদা ফিল্ডের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে আলাদা ট্রেনিং নিয়েও এই ধরনের স্কিল্স শেখা যেতে পারে।

এই ধরনের কাজের মধ্যে ঘর পেইন্ট করা, প্লাম্বিং (কলের কাজ জানা), কাঠের কাজ, ইলেক্ট্রিকাল কাজ, বাড়ি মেইনটেন করা এবং রিপেয়ারিং-এর জন্য অনেক ছোটোখাটো কাজ রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে কিছু জরুরি ও প্রয়োজনীয় কাজ অবশ্যই শিখে রাখা উচিত যেমন ফিউজ উড়ে গেলে তার চেঞ্জ করা, কলের ওয়াশার বদলানো, ড্রিল মেশিন ব্যবহার করা, ছোটোখাটো কাঠের কাজ জানা ইত্যাদি। এগুলোতে দক্ষতা থাকতে হবে এমন নয়, মোটামুটি কাজগুলো জানলেই আপনার লাইফ অনেকটা স্মুদ হয়ে যাবে।

মাঝরাস্তায় গাড়ি খারাপ হলে ছ এখন প্রায় সব বাড়িতেই চার চাকার গাড়ি বা স্কুটার, মোটরবাইক রয়েছে। এটা এখন স্ট্যাটাস সিম্বল নয় বরং কাজের জন্য প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। মুশকিল তখনই হয় যখন হঠাৎই মাঝ রাস্তায় গাড়ি বা স্কুটার খারাপ হয়ে যায় এবং আশেপাশে মেকানিক পাওয়া যায় না।

অনেকেই নিজের বাহনটি রোজ ব্যবহার করেন অথচ সেটা পরিষ্কার রাখেন না। সার্ভিস স্টেশনে রোজ পরিষ্কার করতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং গাড়ি পরিষ্কার রাখা এবং তার ছোটোখাটো রিপেয়ারিং ওয়ার্ক, যারা সেটি চালাচ্ছেন তাদের জেনে রাখা বাঞ্ছনীয়।

বাহনকে নিয়মিত পরিষ্কার করা, মোবিল চেঞ্জ করা, টায়ারের প্রেশার চেক করা, টায়ার বদলানো, ছোটোখাটো টেকনিকাল ফল্ট ঠিক করা ইত্যাদি অবশ্যই শিখে রাখা উচিত। টায়ার বদলানো শিখতে না পারলে রাস্তার মধ্যে গাড়ি খারাপ হলে স্টেপনি কোনও কাজেই লাগবে না।

আঘাত লাগার সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক চিকিৎসাঃ জ্বর, অসুস্থতা, দুর্ঘটনা যখন তখন হতে পারে, তাই বলে ঘাবড়ে গিয়ে কান্নাকাটি করা বা চিৎকার-চ্যাঁচামেচি করার বদলে ধৈর্য রেখে কাজ করাটা অনেক বেশি দরকার। এই ধরনের জরুরি অবস্থায় সব থেকে আগে প্রয়োজন ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্জলদি হাসপাতালে পৌঁছোনো। এর জন্য বাড়িতে সবসময় অ্যান্টিসেপ্টিক, মলম, ব্যান্ডেজ, পেনকিলার, তুলো ইত্যাদি রাখা উচিত। একই সঙ্গে ফার্স্ট এড-এর একটা ট্রেনিং করে নেওয়াটাও খুব জরুরি। এটা ছাড়াও স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক বা হিট স্ট্রোক হলে কী ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে ও অসুস্থ ব্যক্তিকে কী ফার্স্ট এড দিতে হবে সেটা জেনে রাখাটাও খুব জরুরি।

দ্বিধা যেন আপনার এগোনোর পথে বাধা না হয়ঃ শুনতে আশ্চর্য লাগলেও, এখনও অনেক মহিলাই, অজানা ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে দ্বিধা বোধ করেন। ভয় পান যদি তারা ঠিকমতো কথা বলতে না পারেন তাহলে পুরো কাজটাই অসফল হবে।

বাচ্চার স্কুল অ্যাডমিশনের সময়, সরকারি দফতরে কাজ নিয়ে যেতে, বড়ো নামি ডাক্তারের কাছে যেতে বহু মহিলাই দ্বিধা বোধ করেন। সেই সব জায়গায় তারা কোনও পুরুষ সঙ্গীকে যেমন স্বামী, ছেলে বা পরিবারের কোনও সদস্যকে নিয়ে যেতেই বেশি কমফর্ট বোধ করেন। সুতরাং কমিউনিকেশন স্কিল্স বাড়ানো, নেগোশিয়েশন করার ক্ষমতা এবং অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথন চালানোর আর্ট প্রথম থেকেই রপ্ত করা খুব দরকার।

নিজের সব তথ্য সকলকে জানাবার প্রয়োজন নেইঃ সাইবার ক্রাইমের বাড়বাড়ন্ত হওয়ার কারণে অনলাইন-এ নিজের সমস্ত তথ্য তুলে দেওয়া একেবারে বাঞ্ছনীয় নয়। অনলাইন-এ শপিং করতে গেলে ওয়েব অ্যাড্রেস-এর প্রথমটা দেখুন। যদি

এইচ-টিটিপি-এর পর ৫ না থাকে তাহলে আপনার ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ওখান থেকে চুরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই ভাবে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সিকিওর করাও শিখতে হবে। ফেসবুকে নিজের ছবি বা ফোন নম্বর দেওয়া উচিত হবে না। অ্যাকাউন্ট সবসময় প্রাইভেট সেটিং-এ রাখা উচিত। সেটিং-এর মাধ্যমে শুধুমাত্র যেন বন্ধুদের কাছেই আপনার পোস্ট পৌঁছোয় এটা নিশ্চিত করুন। নয়তো ইন্টারনেটে পুরো তথ্য শেয়ার হয়ে যেতে পারে।

একলা নিজের শহর ছেড়ে অচেনা গন্তব্যে যেতেঃ একলা সম্পূর্ণ অচেনা শহরে যেতে আজও অনেক মহিলাই সাহস পান না। এটি একটি চারিত্রিক দুর্বলতা। অথচ জীবনে একবার অন্তত সোলো ট্র্যাভেলিং ট্রাই করা খুব দরকার যেখানে অপরের সাহায্য ছাড়াই যাতায়াত ও থাকার পুরো প্ল্যান আপনাকে নিজেকেই করতে হবে।

এতে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়বে সঙ্গে প্ল্যানিং করারও একটা অভ্যাস তৈরি হবে। লোকজনের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে দ্বিধা বোধ হবে না। বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করার সুযোগ ঘটবে সঙ্গে নতুন জায়গা দেখা এবং নতুন নতুন লোকের সঙ্গে আলাপ-পরিচয়ও বাড়বে। কাছাকাছি কোনও জায়গা থেকে প্রথম শুরুটা করা যেতে পারে।

নিজের ফিন্যান্স কন্ট্রোল করাঃ  কথায় বলে যার টাকা আছে তার সবকিছু আছে। সুতরাং নিজের ফিন্যান্স-এর উপর নিজে কন্ট্রোল রাখতে পারলে আপনার গুরুত্ব বাড়বে। এছাড়াও নিজের আয়, সেভিংস, মাসের খরচা কোন খাতে কতটা খরচ হচ্ছে সব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকাটা খুব দরকার। হেল্থ ইনশিয়োরেন্স, লাইফ ইনশিয়োরেন্স কত আছে আর তার থেকে কতটা লাভ পাবেন সে-সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল থাকাটা প্রয়োজন। কোন মিউচুয়াল ফান্ড-টা ভালো, কোন এরিয়ায় প্রপার্টি কিনলে লাভবান হওয়া যাবে সেটারও খোঁজখবর রাখতে পারলে ভালো হয়। এই ক্ষেত্রে উচিত হচ্ছে একটি ডায়ারি মেইনটেন করা যেখানে আয় এবং ব্যয়ের পুরো হিসেব পাওয়া যাবে।

Blue লাইট-এ ক্ষতি

ডিজিটাল উপকরণ থেকে নির্গত নীল আলোর ক্ষতিকারক দিকগুলি নিয়ে ভেবেছেন কখনও? এই আলো আসলে আমাদের ত্বক, চোখ এবং মস্তিষ্কে কুপ্রভাব ফেলে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল এই যে, সূর্যের ইউভি রশ্মি থেকে আমরা নিজেদের যতটা বাঁচিয়ে রাখি, এই নীল আলোর কুপ্রভাব নিয়ে আমরা কিন্তু ততটা ভাবি না।

সমীক্ষা অনুযায়ী দেখা গেছে যে, এই নীল আলো আমাদের ত্বককেই রুক্ষ্ম, শুষ্ক, শিথিল করে তোলে না, সঙ্গে হাইপারপিগমেনটেশন সহ অকাল বার্ধক্য নিয়ে আসে। মোট জনসংখ্যার প্রায় ষাট

শতাংশ লোক দিনরাত মিলে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘন্টা থাকেন ডিজিটাল সি্্ক্রন-এর সামনে। তাই দেখা যাচ্ছে, সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির থেকে বেশি ক্ষতি হচ্ছে এই নীল আলো থেকে।

হাই এনার্জি ভিসিবল লাইটও বলা হয় এই ব্লু-লাইটকে। ইউভি লাইট-এর থেকেও এই নীল লাইট ত্বকের গভীরে ঢুকে বেশি ক্ষতি করে। তাই, ত্বকের সুরক্ষার জন্য ঘরে এবং বাইরে সর্বত্র সতর্কতা জরুরি।

ত্বককে দুর্বল করে ব্লু লাইট

সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সূর্যের আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মির তুলনায়, ব্লু লাইট রেডিয়েশন-এর সঙ্গে যদি দীর্ঘসময় সম্পর্ক থাকে– তাহলে বেশি পিগ্মেনটেশন, ত্বক পাতলা হয়ে লাল হয়ে যাওয়া প্রভৃতি সমস্যা হয়। এর ফলে ত্বক দুর্বল হয়ে নানারকম রোগের কবলে পড়ে।

সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে যে, নীল আলো পড়ার কারণে, রক্তকোষে ফ্রি র্যাডিকেল্স দ্রুত বেড়ে গিয়ে ত্বকের প্রচুর ক্ষতি করে। এরমধ্যে সবচেয়ে বড়ো ক্ষতি হল, ত্বকের প্রোটিন কমে যাওয়া।

সময়ের আগে বার্ধক্য রোধ করার ইচ্ছে যদি থাকে, তাহলে শুধু সূর্যের আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে বাঁচানোর সানসি্্ক্রন লোশন ব্যবহার করলে চলবে না, এমন লোশন ব্যবহার করতে হবে, যা ব্লু লাইট-এর ক্ষতিকারক প্রভাব থেকেও বাঁচাবে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

নানারকম সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, বেশিরভাগ নারী-পুরুষ দিনরাতের মধ্যে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘন্টা সরাসরি টিভি, কম্পিউটার অথবা মোবাইল ফোনের ব্লু লাইট-এর সঙ্গে থাকেন। ওই সময়ের মধ্যে অনেকবার মোবাইল ফোন অফ অন করতে দেখা যায়, যা অত্যন্ত ক্ষতিকারক। বলা যায়, অনেকটা সময় সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি ত্বকে পড়লেও এতটা ক্ষতি হয় না।

কম্পিউটার-এ যদি ৮ থেকে ১০ ঘন্টা কাজ করা হয়, তাহলে যে-পরিমাণ ব্লু লাইট আমাদের চোখ এবং ত্বকের উপর পড়ে, তা দুপুরে ২০ মিনিট সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি গায়ে মাখার থেকেও ক্ষতিকারক

ত্বক বাঁচানোর উপায়

  •   মোবাইল-এ ব্লু লাইট গার্ড লাগান
  •   কেমিক্যাল যুক্ত স্কিন-লোশন ব্যবহার না করে, অ্যালোভেরাজাতীয় অর্গানিক
  •  স্কিন-লোশন ব্যবহার করুন
  • শুধু বাইরে বেরনোর সময়ই নয়, কম্পিউটার, মোবাইল প্রভৃতি ব্যবহার করার আগেও স্কিন প্রোটেকশন লোশন ব্যবহার করুন
  • কিছু স্মার্টফোন-এর সেটিংস-এ গিয়ে হলুদ আলো সিলেক্ট করলেই, ওই আলো নীল আলোকে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় করে দেবে এবং ত্বক ও চোখ ক্ষতির হাত থেকে বাঁচবেন
  • বেদানা, আঙুর, তরমুজ প্রভৃতি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত ফল খান বেশি পরিমাণে। এইসব ফল খেলে নীল আলোর ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া যাবে
  • কম্পিউটার, টিভি এবং মোবাইল ফোন-এর স্ক্রিণ থেকে যতটা সম্ভব চোখকে দূরে রাখুন

–রাহুল আগরওয়াল  @সিইও, অর্গানিক হারভেস্ট

সৌমিত্র-স্মরণে দেবজ্যোতি-র সুরেলা প্রয়াস

প্রয়াত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়-কে প্রথমে কথায়-কথায় স্মরণ করলেন দেবজ্যোতি মিশ্র। জ্ঞান মঞ্চ-এ আয়োজিত এক সান্ধ্য স্মরণ অনুষ্ঠানে তিনি তুলে ধরলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়-এর সঙ্গে তাঁর আলাপপর্ব এবং হৃদ্যতার দিনগুলির কথা।

musical evening
Music for Soumitro Chattopadhyay by Debojyoti Mishra.

সৌমিত্র-পুত্র কবি সৌগতের সূত্রে, লেক টেম্পল রোডের বাড়িতে আসা-যাওয়া শুরু করেছিলেন দেবজ্যোতি। সেই বাড়িতেই প্রথম বার বাখ্ শুনেছিলেন তিনি। পরে, ‘রাজা লিয়র’-এর মিউজিক শুনে দেবজ্যোতির ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। আরও অনেক পরে ময়ূরাক্ষী ছবিতে সৌমিত্রের নিজের কন্ঠে একটা গান রেকর্ড করার প্রয়োজনের কথা জানান ছবির পরিচালক অতনু ঘোষ। তাঁর মনে হয়েছিল, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়-এর স্বকন্ঠে গানটা না থাকলে ব্যাপারটা ঠিক মানাবে না। সেই কথামতো কাজ শুরু করতে গিয়ে শুরুর দিকে সৌমিত্রের সম্মতি মেলেনি। উঁনি রাজি ছিলেন না গান গাইতে। পরে অবশ্য গানটা করেন এবং খুব কম সময়ের মধ্যেই গানটা রেকর্ড করে ফেলেন।

musical evening
Music for Soumitro.
By Debojyoti, Rupankar, Imon and others.

দেবজ্যোতির মতে, সৌমিত্রের সাংগীতিক পরিমণ্ডল অনেকটা ব্যাপ্ত ছিল। সে বাখ্, বিথোভেন, রবীন্দ্রনাথ, সত্যজিৎ রায়-এর পাশাপাশি, আধুনিক গানও তাঁর সুরের স্মরণীকে আলোকিত করেছে। সম্প্রতি জ্ঞান মঞ্চে এসব কথা তুলে ধরার পর, সুরের কোলাজ উপহার দিলেন দেবজ্যোতি। সঙ্গী হলেন রূপঙ্কর, ইমন, দুর্নিবার সহ আরও অনেক শিল্পী। অপুর সংসার, ফেলুদা থিম ছাড়াও,রবীন্দ্রসংগীতে  বিধির বাঁধন, এমনকি সলিল চৌধুরী-র আলোর পথযাত্রী, জীবনে কি পাব না, ও আকাশ সোনা সোনা হয়ে পাতালঘর এবং ময়ূরাক্ষীতে সেই সুরের সফর এসে মেশে। সুরের স্মরণিকায় প্রয়াত সৌমিত্র তখন শ্রোতাদের মনে জীবন্ত।

সবশেষে দেবজ্যোতি আবার জানালেন, ‘সৌমিত্রবাবুর জার্নি, সুরের পথ ধরে এক-সন্ধ্যায় পরিবেশন করা খুব একটা সহজ কাজ ছিল না। আমরা চেষ্টা করেছি ওঁর সাংগীতিক সফরকে গানে, সুরে তুলে ধরতে। সেখানে অপুর থিম থেকে পাতালঘর, ময়ূরাক্ষীর থিমে গলা মিলিয়েছেন সব শিল্পীরা। ছোট্ট চেম্বার অর্কেস্ট্রা সহযোগে এক অন্যরকম সাউন্ডস্কেপ পরিবেশন করলাম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়-এর স্মরণে।’

musical evening
Music for Soumitro Chattopadhyay.
By Debojyoti Mishra.

——–

 

নতুন বছরের ফ্যাশন ট্রেন্ডস

দেখতে দেখতে চলে এল একটা নতুন বছর। স্রোতের মতো বয়ে চলে সময়।এই করোনা অতিমারির দিনকালে বদলে গেছে জীবনযাপন, বদলে গেছে আমাদের জীবনশৈলী। এই বদলে যাওয়া সময়ে একবার দেখে নেওয়া যাক এই বছরে ফ্যাশনের দুনিয়ায় নতুন কী এসেছে, বা আসতে চলেছে।

করোনা থেকে সুরক্ষাই এখন ফ্যাশনের মূল মন্ত্র। সেই কারণেই এই শীতের মরশুমে হৈ হৈ করে বিকোচ্ছে হুডি এবং স্কার্ফ। মাথা এবং মুখ ঢাকার ফ্যাশনেবল হাতিয়ার।শীতের সোয়েট শার্ট-এ ফ্লোরাল প্যাটার্ন আর চেকস দারুন ভাবে ইন।ডেনিম জ্যাকেটসও আগের মতোই চাহিদার শীর্ষে থাকছে।

নানারকমের পঞ্চো এবং স্টোলস চলছে ফ্যাশনে। এগুলির সুবিধা হল অনায়সেই এই শীত পোশাক জিনস বা পেনসিল প্যান্টস –এর সঙ্গে পেয়ারিং করা যায়।ব্লেজারে, লং ড্রেসে, শার্ট এবং প্যান্ট- এ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে স্ট্রাইপস। সলিড কালার দিয়ে কালার ব্লকিং করার ট্রেন্ড, এ বছরও থাকছে।

হিপ্পি লুক আগেও জনপ্রিয় ছিল। এখনও তরুণ সম্প্রদায়ের মধ্যে এই লুকের জনপ্রিয়তায় ভাঁটা পড়েনি। তবে এবারের হিপ্পি লুক একটু অন্য ধারার। বেশি রঙের আধিক্য থাকবে না। বেশিরভাগই থাকবে নিউট্রাল কালার। ঢিলেঢালা কাপড়ে হিজিবিজি জ্যামিতিক নক্সা আর স্কার্ফ ড্রেস আসর জমাবে।

ঘন একরঙা যে কোনও পোশাক হবে এবছরের শো স্টপার। ডিপ রঙের স্কার্ট, ট্রাউজার এবং শর্টস এর সঙ্গে হাল্কা রঙের ডেনিম টপ হবে জনপ্রিয়। কার্গো প্যান্ট হবে ওয়ার্কপ্লেসের কমফর্টেবল পোশাক।

ফ্লার্টিং-এ এগিয়ে মেয়েরা

কথায় বলে, বুদ্ধিমান লোকেদের জন্য সামান্য ইশারা-ই যথেষ্ট। তবে এরজন্য চাই একটা অনুভবি মন। কারণ, যে যত বেশি অনুভবি, সে তত বেশি বিচক্ষণ।

ভালোলাগা, মন দেওয়া-নেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে ওই ইঙ্গিত। তবে সমাজটা পুরুষশাসিত হলেও, ছেলেরাই যে সবসময় প্রথম নিজের ভালোলাগা ব্যক্ত করে মেয়েদের, এমনটা নয়। সাহিত্য এবং সিনেমায় এ ব্যাপারে ছেলেদের ‘ওভার স্মার্ট করে তুলে ধরা হলেও, বাস্তব কিন্তু অন্য বার্তা দিচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, মেয়েরাই প্রথম কোনও পুরুষকে ভালোলাগার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মজার বিষয়, যে সব পুরুষ মেয়েদের ওই বিশেষ ইশারা-ইঙ্গিত বুঝে এগিয়ে গেছে, তারাই লাভবান হয়েছে।

এখন বেশিরভাগ বিজ্ঞানী-ই স্বীকার করে নিয়েছেন যে, ফ্লার্টিং-এ পুরুষদের তুলনায় মহিলারা-ই এগিয়ে। এক বায়ওলজিস্টও তাঁর রিসার্চ-এ প্রমাণ পেয়েছেন যে, মহিলারাই বেশি ফ্লার্টিং করেন।

হেলেন ফিশার নামের এক সায়েন্টিস্ট তাঁর নতুন বই ‘অ্যানাটমি লভ’ -এ তুলে ধরেছেন যে, কোনও পুরুষের প্রতি আগ্রহী কিনা, তা ইশারাতেই বুঝিয়ে দেন মহিলারা। আর এই ইশারার বিষয়টি বোঝা যাবে মহিলার হাসি এবং চোখ দেখে। এই বিষয়ে রহস্য উন্মোচনের জন্য ওয়াশিংটন-এর এক অ্যানথ্রোপলজিস্ট ডেভিড গিভেন্স এবং সেক্সোলজিস্ট টিমোথি পর্পর, বিভিন্ন পানশালা এবং ক্লাব-এ ঘুরে বহুদিন নজর-সন্ধান রেখেছিলেন। তাঁরাও দেখেছেন, ফ্লার্টিং-এ এগিয়ে মহিলারাই।

এই পুরো সমীক্ষার যে ফল পাওয়া গেছে, তা খুবই চমকপ্রদ। দেখা গেছে, প্রায় সব ক্ষেত্রে মহিলারাই এগিয়ে ফ্লার্টিং-এ। হেলেন ফিশার পঁচিশ হাজার সিঙ্গল ছেলেমেয়ের উপর স্টাডি করে জানিয়েছেন, সব বয়সের মহিলারাই এই ব্যাপারে এগিয়ে রয়েছেন, শুধু ছেলেরা হাত বাড়ানোর অপেক্ষায়।

একট সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় পঞ্চাশ হাজার পুরুষ জানিয়েছেন, ৯৫ শতাংশ মহিলাই প্রথমে বাইরে দেখা করার প্রস্তাব দেন। তবে একথা ঠিক যে, সম্পর্ক গড়তে গেলে যে-ই আগে আসুক, নারী-পুরুষ উভয়কেই সক্রিয় থাকতে হবে।

ফ্লার্টিং-এর সংকেত

যে-সমস্ত ইশারা-ইঙ্গিত মহিলারা ব্যবহার করেন ফ্লার্টিং-এর ক্ষেত্রে, তা পুরুষদের জেনে রাখা জরুরি। কারণ, ওই নীরব মনের কথা-ই সূচনা করতে পারে একটি সম্পর্কের।

কোনও মহিলা যখন কথাবার্তার অজুহাতে পুরুষের কাছে আসার চেষ্টা করেন, তখন বুঝতে হবে, ওই পুরুষকে পছন্দ করেন ওই মহিলা

কোনও পুরুষকে পছন্দ হলেই, তার স্পর্শ চান মহিলারা। যদি দেখা যায় কারণে অকারণে মহিলাটি স্পর্শ করছেন পুরুষটিকে, তাহলে বুঝতে হবে মহিলাটি সম্পর্ক গড়তে চাইছেন পুরুষটির সঙ্গে

কোনও পুরুষের সামনে কোনও মহিলা যদি হাতের আঙুল দিয়ে বারবার মাথার চুল কানের পিছনে নিয়ে যান, তাহলে বুঝতে হবে, ওই মহিলা আকর্ষণ করতে চাইছেন পুরুষটিকে

যদি এক হাতের আঙুল অন্য হাতের তালুর মধ্যে রেখে ঘষতে থাকেন কোনও মহিলা, তাহলে বুঝে নিতে হবে, তিনি আহ্বান করছেন পুরষটিকে

নানা কাজের মধ্যে থেকেও যদি কোনও মহিলা বারবার আড় চোখে দেখতে থাকেন পুরুষটিকে,তাহলে বুঝতে হবে, পুরুষটির প্রতি অনুরক্ত ওই নারী

যদি চোখের চাহনির মধ্যে নরম, চিকচিকে ভাব রেখে মহিলাটি একদৃষ্টে পুরুষটির দিকে তাকিয়ে থাকেন, তাহলে পুরুষটি নির্দ্বিধায় বন্ধুত্বের হাত বাড়াতেই পারেন

প্রথম দর্শনে যদি নির্ভেজাল হাসি থাকে ঠোঁটে এবং চোখেও সেই হাসির প্রতিফলন ঘটে মহিলাটির, তাহলে বুঝতে হবে তিনি ফ্লার্ট করছেন

পুরুষটির মুখোমুখি হওয়ার পর যদি মহিলাটি কিছুটা চঞ্চল হয়ে পড়েন, কী করবেন ভেবে না পান, অর্থাৎ কিছুটা আনইজি ফিল করেন, তাহলে বুঝতে হবে, তিনি পুরুষটির প্রেমে পড়েছেন

সাধারণ কথাবার্তার মধ্যেও যদি পুরুষটির সম্পর্কে আরও বেশি কিছু জানতে আগ্রহী হন মহিলাটি, তাহলে পুরুষটি সম্পর্ক স্থাপনে এগোতে পারেন

মহিলার শরীরী ভাষায় যদি কামভাব থাকে, তাহলে তা বুঝে নিয়েও বন্ধুত্বের হাত বাড়াতে পারেন পুরুষবন্ধুটি

মহিলাদের ভাবনা

সমাজের বিভিন্ন স্তরের মহিলাদের সঙ্গে কথা বলে, তাদের ভাবনা এবং ইচ্ছে-অনিচ্ছের ব্যাপারে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এই তথ্য ফ্লার্টিং-এর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তবে, মনে রাখবেন, ফ্লার্টিং করা মানেই কিন্তু কোনও দীর্ঘ মেয়াদি সম্পর্ক গড়া নয়।

অনেক মহিলার মতে, ফ্লার্টিং একটা আর্ট। শুধু খুশি নয়, মহানন্দে বাঁচতে সাহায্য করে ফ্লার্টিং। তবে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ফ্লার্টিং-এর ধরন আলাদা

ফ্লার্টিং মানেই মনটাকে রোমান্টিক করে রাখা যায় এবং সবসময় শরীরকে সতেজ রাখা যায় বলে মনে করেন মহিলারা

পুরুষেরা যদি সরাসরি মেয়েদের মুখের দিকে তাকায়, রূপ-গুণের প্রশংসা করে, তাহলে মেয়েরা খুশি হয় এবং ফ্লার্টিং শুরু করে

ফ্লার্টিং-এর ক্ষেত্রে মেয়েরা চায়, উলটো দিকের পুরুষটির মধ্যেও যেন ফিলগুড ফ্যাক্টর কাজ করে

সেই পুরুষের সঙ্গে ফ্লার্টিং করতে চান মেয়েরা, যাকে দেখে বোঝেন যে, এর সঙ্গে সম্পর্ক গড়লে তিনি নিরাপদ

কোনও পুরুষকে ‘কেয়ারিং’ দেখলে তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে বেশি আগ্রহী হন মেয়েরা

ওপেন মাইন্ডেড পুরুষদেরই বেশি পছন্দ করেন মহিলারা

যে-সব পুরুষ মহিলাদের আহ্বানের ইশারা বুঝে সাড়া দেন বিচক্ষণতার সঙ্গে, তার সঙ্গেই সম্পর্ক মজবুত করতে চান মহিলারা

সরল এবং স্বচ্ছ মনের মানুষই বেশি পছন্দ করেন মহিলারা

ফ্লার্টিং-এর নেতিবাচক দিক

সবকিছুরই ভালোমন্দ দুটি দিক-ই আছে। ফ্লার্টিং-এর ক্ষেত্রেও তাই। ভেবেচিন্তে না এগোলে কুফল পেতে পারেন। অতএব, সতর্কতা জরুরি।

প্রাইভেসি বজায় রেখে ফ্লার্টিং করা উচিত মহিলাদের। কারণ, মেয়েরা ফ্লার্টিং-এ এগিয়ে আসছে, এই বিষয়টা আমাদের সমাজ আজও সহজ ভাবে নিতে পারে না। তাই, পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে তবেই এগোনো উচিত

কতটা এগোবেন, কীভাবে এগোবেন, প্রত্যাখ্যাত হলে নিজেকে সামলাবেন কীভাবে, এসব ভেবে উপায় বের করে তবেই ফ্লার্টিং করা উচিত

কিছু পুরুষ আছেন, যারা মেয়েদের শুধু ‘ভোগ্যপণ্য’  ভাবেন, তাদের থেকে সাবধান থাকা উচিত মহিলাদের। যদি এই কুরুচির প্রতিফলন ঘটে প্রথমে, তাহলে আর এগোবেন না

 

হৃত্বিক ও প্রীতির নতুন জুটি এবার ওয়েবে

ওয়েব সিরিজ ‘দ্য নাইট ম্যানেজার’ –এ প্রীতি জিন্টার সঙ্গে দেখা যাবে হৃত্বিককে। বস্তুত এই ওয়েব সিরিজ দিয়েই হৃত্বিক পা রাখছেন ডিজিটাল প্লাটফর্মে।সেই সঙ্গে প্রীতিও৷এই ছবির মাধ্যমে ১৮ বছর পর হৃত্বিকের সঙ্গে জুটি বাঁধছেন প্রীতি জিন্টা। তবে এই সিরিজে প্রীতি অভিনেত্রী হিসেবে নয়, বরং থাকবেন প্রযোজক হিসেবে ।

জন লে ক্যারের বিখ্যাত উপন্যাস ‘ দ্য নাইট ম্যানেজার ‘ নিয়েই তৈরি হতে চলা ওয়েব সিরিজে মুখ্যভূমিকায় থাকবেন হৃত্বিক। বিদেশী গল্প হলেও সমগ্র উপন্যাসটিকে পটভূমি বদলে, ভারতীয় ছাঁচে ফেলা হয়েছে।ছবিতে হৃত্বিকের চরিত্রটি একধারে যেমন জটিল তেমনই বৈচিত্রময়। ডিজনি+হটস্টার-এ স্ট্রিমিং হবে হৃত্বিক অভিনীত এই ওয়েব সিরিজটির।

প্রীতির সঙ্গে হৃত্বিকের ইকোয়েশনটা বরাবরই খুব ভালো৷ ‘কোই মিল গায়া’  সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয়ের পর থেকে হৃত্বিক এবং প্রীতির সম্পর্ক বন্ধুত্বের রূপ নেয়। ঘনিষ্ঠমহলে  প্রীতি বলেছেন, ‘ দ্য নাইট ম্যানেজার ‘ নিয়ে ছবি তৈরির পরিকল্পনা যেদিন থেকে নেওয়া হয়েছিল সেদিন থেকেই তাঁর মাথায় হৃত্বিকের নামটাই ঘুরপাক খাচ্ছিল৷ ছবির গল্প, চিত্রনাট্য এবং তার ওপর পুরোনো বান্ধবী- এই ত্রয়ীর গুণেই সম্ভবত প্রীতির অনুরোধ ঠেলতে পারেননি ডুগ্গু৷  প্রস্তাবে হৃত্বিক রাজি হয়ে যাওয়ায় প্রীতিও খুবই আনন্দিত৷

শেষবার বলিউড তারকা হৃত্বিক রোশনকে দেখা যায় ২০১৯ সালের সুপার ৩০ এবং ওয়ার সিনেমায়। বেশ কয়েকদিন আগে এই তারকা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান দেন যে মহামারির কারণে তার কাজ আটকে রয়েছে।এবার তিনি জানালেন সেটে ফেরার কথা  তাঁর ইনস্টাগ্রামে।সেখানেই হৃত্বিক আপলোড করেছেন একটি সেলফি৷ যেখানে দেখা গিয়েছে, সাদা-কালো চুলে হৃতিকের একেবারে নতুন লুক। জানা গেছে বিজ্ঞাপনের জন্যই নব কলেবরে তাঁর এই আবির্ভাব।

প্রীতি বর্তমানে তাঁর স্বামীর সঙ্গে রয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলেসে। ডিজনি প্লাস হট স্টার এর সঙ্গে পাকা কথা হওয়ার পর ঠিক হয়েছে ওয়েব সিরিজটি পরিচালনা করবেন সন্দীপ মোদি। প্রীতি এবং হৃত্বিক জুটির নিশ্চিত ভাবেই একটি স্থায়ী এবং আশাপ্রদ
সংখ্যার ফলোয়ার রয়েছে৷ কিন্তু উভয়ের ক্ষেত্রেই ওয়েব কতটা লাকি হয়, এখন সেটাই দেখার৷

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব