বয়ফ্রেন্ড-এর যৌনতা নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট ভালো লাগে

 আমার বয়স ১৯আর বয়ফ্রেন্ড ২১ছেলেটি খুবই হ্যান্ডসামএতটাই যে, যে-কোনও মেয়ে অনায়াসে ওর প্রেমে পড়ে যেতে পারেছেলেটি খুব এক্সট্রোভার্ট এবং আমাদের সম্পর্ক খুব তাড়াতাড়িই শারীরিক সম্পর্কের দিকে মোড় নিয়েছেকিন্তু আমার বয়ফ্রেন্ড শুরুতেই বলে রেখেছে হি ডাজ নট লাইক ‘ভ্যানিলা সেক্সওর যৗোনতা নিয়ে নানারকম এক্সপেরিমেন্ট ভালো লাগেকিছু কিছু ওয়াইল্ডনেস-ওর মধ্যে আছেআমি সেক্স-কিছুটা অনভিজ্ঞ এবং অপটুআমি তাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিআমার অদক্ষতার কারণে আমার বয়ফ্রেন্ড আমায় ছেড়ে চলে যাবে না তো? আমার বান্ধবীদেরও মনের কথা খুলে বলতে পারছি নাআসলে ওদের কাউকে বিশ্বাসও করতে পারছি না এই ভয়ে, যে-কেউ ওকে পাওয়ার জন্য সব কিছু করতে প্রস্তুত হয়ে যাবে

আপনি আপনার বয়ফ্রেন্ডকে যতটা না ভালোবাসেন তার চেয়ে যেন ওকে তুষ্ট করার চেষ্টাটাই আপনার মধ্যে বেশি। শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠাটা দোষের নয়, কিন্তু এটা বুঝতে হবে যে, সেক্স-এর মধ্যেও মিউচুয়াল রেসপেক্ট থাকাটা একান্ত জরুরি। যৗোনসম্ভোগে লিপ্ত হবার সময় আপনার পক্ষে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে যতটা যা করা সম্ভব সেটাই করুন। তাকে তুষ্ট করার জন্য নিজেকে পরিবর্তন করতে গেলে, শুধু চেষ্টাটাই থেকে যাবে, আনন্দটা থাকবে না।

ওর সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলুন। আপনার অসুবিধার কথাও বলুন। সে যদি আপনাকে সত্যি ভালোবাসে, তাহলে আপনাকে বুঝতে পারবে। আর সে যদি স্বার্থপর ও জটিল মনস্তত্ত্বের মানুষ হয়, তাহলে এই সম্পর্ক সুখের হবে না।

 

ফান্ড রেইজিং

বুদ্ধিটা প্রথমে দিগন্তর মাথায় এসেছিল। রাহুলকে নিয়ে যদি একটা তিন চার মিনিটের ভিডিও বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া যায় তাহলে হয়তো কিছু একটা করা যেতে পারে। তিন্নি শুরুতে মোটেই রাজি হচ্ছিল না। কিন্তু ওর বাকি বন্ধুরাও ব্যাপারটাতে সায় দিল। বলল রাহুলের জন্য ফান্ড রেইজিং… এরচেয়ে ভালো উপায়ে আর করা যাবে না। ওদের জোরাজুরিতে নিমরাজি হলেও তিন্নি বলল রাহুলের সঙ্গে কথা বলে ও দু তিন দিনের মধ্যে ওদেরকে জানাবে।

দীপা, অরুণাভ আর সুপর্ণা নিজেদের মধ্যে চোখাচোখি করে তিন্নিকে আবার বোঝাবার চেষ্টা করতে যাচ্ছিল কিন্তু তার আগেই দিগন্ত বলে উঠল, ‘দেখ তিন্নি, রাহুল যেমন আমাদের বন্ধু তেমনই তুইও। গত চার পাঁচ মাস থেকে তোর ওপর দিয়ে কেমন ঝড় ঝাপটা যাচ্ছে আমরা সবাই সেটা দেখতে পাচ্ছি। সত্যি বলতো আর কত দিন তুই এভাবে টানতে পারবি? তোর ফিজিক্যাল স্ট্রেন, মেন্টাল স্ট্রেস তো আমরা শেয়ার করতে পারব না কিন্তু বন্ধু হিসেবে যদি ফিন্যানশিয়াল প্রবলেম কিছুটা লাঘব করতে পারি তো তাহলে আমাদেরও ভালো লাগবে। তুই চিন্তা করে রাহুলের সঙ্গে কথা বলে আমাদের তাড়াতাড়ি জানাস।’

দিগন্তর গলার আওয়াজটা বোধহয় সামান্য উঁচুর দিকে ছিল, তিন্নি ওকে ইশারাতে আস্তে কথা বলতে বলল তারপর চট করে উঠে গিয়ে ওদের এই বাড়ির একমাত্র বেডরুমের দরজাটা আলতো করে খুলে দেখে নিল রাহুল জেগে আছে কিনা। রাহুলকে চোখ বন্ধ করে ঘুমোতে দেখে দরজাটা সাবধানে টেনে দিয়ে বসার ঘরে এসে দেখল ওর বন্ধুরা ভিডিও বানাবার আলোচনায় মগ্ন।

তিন্নির মনে পড়ে যায় মাত্র সাত বছর আগে ওদের জীবনটা কত অন্যরকম ছিল। এমএসসি-র রেজাল্ট বেরোবার পরে ওরা সবাই যখন সেলিব্রেট করতে গিয়েছিল সেখানেই রাহুল হাটে হাঁড়িটা ভাঙল যে ও আর অপরাজিতা মানে তিন্নি ডেটিং করছে আর খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে চলেছে। সবাই ভীষণ ভাবেই চমকে উঠেছিল। চোখে মোটা পাওয়ারের চশমা পরা গুড বয় রাহুল আর দুই বেনি ঝুলিয়ে শাড়ি পরে শহরতলি থেকে কলকাতার কলেজে পড়তে আসা সাধাসিধে মেয়ে তিন্নির মধ্যে তলে তলে প্রেম চলছে।

তিন্নির বাড়ি থেকে এই বিয়েতে মত থাকলেও রাহুলের বাড়ি থেকে ছিল না। রাহুলের মা বাবা না থাকাতে দিদি জামাইবাবু-ই ছিলেন ওর অভিভাবক। তারা প্রথমে রাজি না হলেও পরে মেনে নেন আর পাঁচ বছর আগে তিন্নি, অপরাজিতা চৗধুরী থেকে মিসেস সেন হয়ে এই ওয়ান বিএইচকে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। রাহুলকে নিয়ে নিজের সংসার সাজাতে তিন্নি এতই ব্যস্ত ছিল যে ওর মনেই হয়নি বাকি বন্ধুদের মতো ওরও একটা চাকরি করা দরকার। এমনকী রাহুল বার বার বলা সত্ত্বেও পিএইচডি করার কথাও ভাবেনি। তিন্নি জানত রাহুল সবসময় ওর সাথে আছে বড়ো একটা গাছ হয়ে, যার ছায়ায় তিন্নি নিরাপদে থাকবে। বছরে একবার দুবার দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়া ছাড়াও টুকটাক উইক এন্ডে কাছাকাছি কোথাও যাওয়া বা বন্ধুদের বাড়িতে গিয়ে গল্পগুজব করা, মাসে একবার বা দুবার উত্তরপাড়ায় গিয়ে মাকে দেখে আসা এসব নিয়ে তিন্নির পাঁচটা বছর যে কীভাবে কেটে গেল বুঝতেই পারল না।

রাহুলের অসুখের ব্যাপারটা প্রথম প্রকাশ পেল গত বছর উটিতে বেড়াতে গিয়ে। একদিন একটু চড়াই রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে হঠাৎ হোঁচট খেয়ে রাহুল পড়ে গেল। তারপর কোনওমতে দাঁড়িয়ে হাঁটতে গিয়ে দেখল ওর ডান পা-টায় তেমন জোর পাচ্ছে না। কোনওমতে হোটেলে ফিরে এসে ডাক্তার দেখাবার কথা বলাতে রাহুল প্রস্তাবটা হেসে উড়িয়ে দিল। পরেরদিন আবার সব ঠিকঠাক।

কলকাতায় ফিরে তিন্নি আর রাহুল ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভুলেই গিয়েছিল। কিন্তু সপ্তাহ দুয়েক পরে রাহুল একদিন অফিসের সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পড়ে গেল। অফিসের লোকজন ওকে নিয়ে কাছাকাছি একটা হাসপাতালে দেখিয়ে কিছু ওষুধপত্র দিয়ে বাড়ি পৌঁছে দিল। পরদিন তিন্নি রাহুলকে অফিস যেতে দিল না। বন্ধুবান্ধবরা বাড়ি এসে একচোট হইচই করে গেল। বলল রাহুলের পদস্খলন হয়েছে– সব সময় বউ-এর কথা চিন্তা করে তাই  আশে পাশে চোখ রেখে চলতে পারে না, এর একমাত্র চিকিৎসা সংসারে তৃতীয় জনের আগমন।

তিন্নির মা আর বড়ো ননদ একই কথা অন্য ভাবে তিন্নিকে বলেছে বেশ কয়েকবার। কিন্তু ও যখনই রাহুলকে এ ব্যাপারে কিছু বলতে গেছে রাহুল বলেছে, ‘আরে আগে লাইফটাকে এনজয় করো। ছেলে-মেয়ে মানুষ করার জন্য তো সারা জীবন পড়ে আছে, কথা দিচ্ছি পঁয়ত্রিশ হবার আগেই বাবা হয়ে যাব।’

তিন্নি আঁতকে উঠে বলেছিল, ‘তোমার পঁয়ত্রিশ মানে তো আমারও পঁয়ত্রিশ। বাচ্চা বড়ো হবার আগেই তো আমি বুড়ি হয়ে যাব।’

‘ভেব না তুমি বুড়ি হলেও আমি অত সহজে বুড়ো হব না। আমি তোমাদের সবার খেয়াল রাখব’, তিন্নিকে স্ত্বান্না দিয়ে রাহুল বলেছিল। কিন্তু সেই রাহুল আজ গত দু-মাস থেকে সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী। অফিস যাওয়া বন্ধ করেছিল পাঁচমাস আগে। বার কয়েক যেখানে সেখানে পড়ে যাবার পর তিন্নি ওকে বেশ কিছু ডাক্তার দেখিয়ে নানা রকম পরীক্ষা করিয়ে যেদিন জানল, রাহুলের মোটর নিউরন ডিজিজ হয়েছে– ওর জীবনের সব আলোগুলো হঠাৎ করে নিভে গিয়েছিল।

শহরের বিখ্যাত নিউরোলজিস্ট যখন ওদের ওই অসুখ সম্বন্ধে বিভিন্ন রকম তথ্য দিচ্ছিলেন তখন তিন্নির মাথায় কিছু না ঢুকলেও, রাহুল কিন্তু আগ্রহ নিয়ে ডাক্তারের সব কথা শুনেছে, প্রশ্ন করেছে, চিকিৎসা সম্বন্ধে জানতে চেয়েছে। তারপর বাড়িতে এসে তিন্নিকে বলেছে, ‘এবার তোমাকে একটা চাকরি জোগাড় করতে হবে তিন্নি। আমি হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই গৃহবন্দি হব। হাঁটতে চলতে এমনকী হয়তো কথা বলতেও পারব না। তোমার জন্য কিছুই করতে পারব না। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তোমার একটা চাকরি মানে সোর্স অফ ইনকাম জোগাড় করা খুবই দরকার।’

তিন্নি বোঝাবার চেষ্টা করেছিল, ‘ডাক্তারবাবু তো বললেন কত রকমের চিকিৎসা আছে এই অসুখের। তুমি এখনই ভেঙে পড়ছ কেন?’

একটা বিষাদভরা হাসি হেসে রাহুল বলেছিল, ‘তিন্নি এটা সাধারণ অসুখ নয় যে ওষুধ খেলাম আর অসুখ সেরে গেল। এটা মোটর নিউরন ডিজিজ, যেখানে আমাদের ব্রেনের আর স্পাইনাল কর্ডের নার্ভগুলো ড্যামেজ হয়ে যায়, যার ফলে আমাদের শরীরের পেশিগুলো কাজ করতে পারে না, কমজোর আর ক্ষয় হয়ে যায়। মজার কথা কি জানো– আমি দেখতে পারব, শুনতে পারব, কে কি করছে বা বলছে, বুঝতে পারব কিন্তু রিঅ্যাক্ট করতে পারব না।’

তিন্নি রাহুলের মুখে হাত চাপা দিয়ে বলেছিল, ‘চুপ করো, একদম বলবে না ওসব কথা। আমরা কাল থেকেই ডাক্তারবাবুর কথা মতো চিকিৎসা শুরু করব।’

তিন্নিকে জড়িয়ে ধরে রাহুল বলেছিল, ‘আই লভ ইউ তিন্নি। কিন্তু একটা সময় আসবে যখন আমি এই কথাগুলো বলতে পারব না। ট্রিটমেন্ট আমি করাব কিন্তু জানি এই অসুখ সারানো যায় না, শুধু অসুখের লক্ষণগুলোকে বিলম্বিত করা যায়।’

পরেরদিন রাহুল তার অফিসে অসুস্থতার কথা জানিয়ে ছুটির দরখাস্ত করে। তার সঙ্গে আরও জিজ্ঞেস করে যদি সে কর্মক্ষম না থাকে তাহলে ওর স্ত্রী তিন্নির ওখানে কোনও চাকরি পাবার সম্ভাবনা আছে কিনা। ওদের কোয়ালিফিকেশন তো একই। অফিস থেকে রাহুলের ছুটি মঞ্জুর হলেও তিন্নির ব্যাপারে ম্যানেজমেন্ট পরিষ্কার জানিয়ে দেয় তিন্নির কোনও জব এক্সপিরিয়েন্স না থাকাতে দুর্ভাগ্যবশত ওরা ওকে কোনও চাকরি দিতে পারবে না। এই প্রাইভেট কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী ওদের ব্যাপারটা ‘কম্প্যাশনেট জব অফারের’ এক্তিয়ারে পড়ে না, তাই ম্যানেজমেন্ট চাইলেও কিছু করতে পারছে না, –যদিও ওরা সব সময়ে রাহুলের পাশে আছে আর ওর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে।

এদিকে রাহুলের চিকিৎসা আর ওদিকে তিন্নির জন্য নানা জায়গায় চাকরির দরখাস্ত করা, দুটোই একসাথে চলতে থাকল কিন্তু কোনওটাতেই কিছু করা গেল না। যথাসম্ভব চিকিৎসা চললেও রাহুলের শরীরের দ্রুত অবনতি হতে থাকল। প্রথমে ডান-পা তারপর বাঁ-পা তারপর কোমরের নীচে থেকে পুরোটাই প্যারালিসিস হয়ে যায়। তিন্নি খোঁজখবর নিয়ে একটা মোটর অপারেটেড হুইল চেয়ার নিয়ে আসে যাতে রাহুল অন্তত ঘরের মধ্যে চলা ফেরা করতে পারে।

কিন্তু মাস খানেকের মধ্যে রাহুলের শরীরের উপর অংশ-ও কমজোর হতে হতে সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায়। তখন থেকে তিন্নি

সকাল-দুপুর-সন্ধে-রাত্রি শুধু রাহুলের সেবা-শুশ্রুষায় নিজেক ব্যস্ত রাখল। শুরুতে অনেকে নার্স রাখতে বলেছিল, কিন্তু আর্থিক অবস্থার কথা ভেবে তিন্নি নার্স বা রাতে একজন আয়া রাখার পরিকল্পনাও ত্যাগ করল। প্রতিদিনের ঠিকে কাজের মাসিকেও ছাড়িয়ে দিল। ধীরে ধীরে তিন্নির সাধের বাড়ি, সাধের সংসারে দৈন্যতা গ্রাস করল।

তিন্নি আজ সকাল সকাল উঠে পড়েছে। অবশ্য রাতে তাকে তিন চার বার এমনিতেই উঠতে হয় রাহুলের জন্য। কিন্তু আজকে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে না উঠলে চলত না। বাড়ি-ঘরদোর পরিষ্কার করে ওদের জন্য কিছু খাবার-দাবারও তো বানাতে হবে। রাহুলকেও তৈরি করতে হবে। দিগন্তর কথামতো তিন্নি গতকাল রাহুলের দাড়ি কামিয়ে দিয়েছিল। দিগন্ত বলেছিল একদম ক্লিনশেভ হলে অসুস্থ মনে হবে না আবার চার পাঁচ দিনের বেড়ে যাওয়া দাড়িতে ভীষণ অপরিচ্ছন্ন লাগবে তাই ভিডিও তোলার সময় যেন রাহুলের গালে একদিনের দাড়ি থাকে।

এই ভিডিও তোলার ব্যাপারে রাহুলের সেরকম সায় ছিল না। কিন্তু রাহুল আজকাল ভালো করে কথা বলতেও পারে না। দুটো তিনটে শব্দ বললেই হাঁপিয়ে যায়। তাই তিন্নির কাছে ফান্ড রেইজিং-এর ব্যাপারটা শুনেও নিজের অপরাগতার কথাটাও বলতে পারেনি। তিন্নি রাহুলের মনের কথাটা বুঝতে পেরেও না বুঝতে চাইছিল। সত্যিই তো তিন্নির থেকে কে আর ভালো জানে যে ওদের আর্থিক অবস্থা কতটা খারাপ। আর বন্ধুরা তার জন্য এতটা ভাবছে তারও তো একটা মুল্য আছে।

সুপর্ণার পিসতুতো বোন কৃপা এসেছে আমেরিকা থেকে। সুপর্ণার কথায় সেও রাজি হয়েছে ভিডিওতে থাকতে, যাতে ও ওর আমেরিকার বন্ধুদের কাছেও ভিডিওটা শেয়ার করে ফান্ড রেইজিং এ অ্যাপিল করতে পারে এবং আশা করা যায় সেক্ষেত্রে রেসপন্স ভালো পাওয়া যাবে।

ঠিক দশটার সময় ওরা মানে দিগন্ত, দীপা, অরুণাভ, সুপর্ণা আর কৃপা চলে এল। বেশ গল্প করার মতো করে একটা তিন চার মিনিটের ভিডিও তুলল দিগন্ত। রাহুলের চার পাশে বসে তিন্নি আর বাকি বন্ধুরা কিছুটা বাংলায় কিছুটা ইংরেজিতে রাহুলের ব্রাইট পাস্ট ও স্ট্রাগলিং প্রেজেন্ট সম্বন্ধে বলল। তারপর সবার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিল, ‘আমরা কি কিছুই করতে পারি না রাহুলের জন্য।’

ওরা চলে যাবার পর তিন্নি বেশ হাসি মুখে রাহুলের কাছে এসে বলল, ‘কি কেমন লাগছে? এখন কত লোক তোমার ভিডিও দেখবে, তোমার কথা জানবে। কৃপা তো বলছিল অনেক দেশে নাকি এমএনডি সোসাইটি বলে সংস্থান আছে, যারা এমএনডি পেশেন্ট নিয়ে রিসার্চ করে, ওদের নানা ভাবে সাহায্য করে এমনকী ওদের বাড়ির লোকেদেরও নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে বলে, মানে শেয়ারিং দ্য এক্সপিরিয়েন্স আর কি।’ তিন্নিকে খুশি দেখে রাহুলেরও খুব ভালো লাগছিল। ও তিন্নির চোখে চোখ রেখে হাসবার চেষ্টা করল কিন্তু পারল না।

তিন্নি এগিয়ে এসে রাহুলের মাথাটা নিজের বুকের মধ্যে চেপে ধরে বলল, ‘আর চিন্তা কোরো না। আজকে রাতের মধ্যে ভিডিওটা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড হয়ে যাবে। দিগন্ত ওর ব্যাংকে আমার নামে তোমার জন্য একটা অ্যাকাউন্ট খুলে দিচ্ছে। ও তো বলছিল প্রচুর ডোনেশন আসবে। এমন কি বাইরের দেশ থেকেও কেউ হয়তো তোমার চিকিৎসার জন্য স্পনসরও করতে পারে। আমি তো বলেছি ওদের যে আমাদের পাসপোর্ট তৈরি করা আছে।’

তিন্নি হয়তো আবেগের বশে আরও কিছু বলত কিন্তু তার আগেই রাহুলের চোখের জলে ওর কামিজের বুকের কাছটা ভিজে যাওয়ায় ও চুপ করে যায়। তারপর নিজের চোখের জল চেপে রেখে রাহুলের চোখ দুটো পরম আদরে মুছিয়ে দেয়।

তিন

আজ পুরো এক মাস হয়ে গেল রাহুলের ভিডিওটা সোশ্যাল মিডিয়ায় আসার পর। আগে থেকে করা প্ল্যানমতো ওরা বন্ধুরা একে অন্যকে ট্যাগ করে শেয়ার করছিল যাতে ওটা বেশ কিছুদিন মিডিয়াতে থাকে। এই এক মাসে প্রচুর লোকে প্রচুর কমেন্ট করেছে , চোখের জল ফেলেছে, এমএনডি-র চিকিৎসা নিয়ে কথা বলেছে, তিন্নির প্রশংসা করেছে, পুরোনো বন্ধু-বান্ধবরা ফোন করেছে। ফুলের তোড়া, ফলের ঝুড়ি নিয়ে দেখা করে উঁহু-আহা করে গেছে কিন্তু তার নতুন খোলা অ্যাকাউন্টে মাত্র সাড়ে চোদ্দো হাজার টাকা জমা পড়েছে। আর তার মধ্যে আত্মীয়স্বজনরা এই নিয়ে খোঁটা দিতেও ছাড়ছে না।

ওর নিজের বউদি তো সেদিন বাড়ি বয়ে এসে শুনিয়ে গেল, ‘তোর তো অনেক বুদ্ধিরে তিন্নি, কি মর্মস্পর্শী ভিডিও বানিয়েছিস নিজের স্বামীকে নিয়ে। তা এখন অবধি কত পেলি ওটা থেকে?’ তারপর তিন্নি কোনও উত্তর দিচ্ছে না দেখে নিজে থেকেই আবার বলে উঠল, ‘আর আমাদের দ্যাখ, তোর দাদার একার রোজগারে আমাকে পাঁচজনের

সংসার চালাতে হয়। মায়ের ওষুধের জন্যই তো কত টাকা খরচা হয়ে যায়, কিন্তু তা বলে তো লোকের কাছে হাত পাততে পারব না। তোর দাদার সন্মানটারও তো খেয়াল রাখতে হবে।’

তিন্নি জানে মায়ের টুকটাক অসুখবিসুখ প্রায়ই হয়। আগে তিন্নি গিয়ে মাকে ডাক্তার দেখানো বা ওষুধ কেনা এগুলো করত। কিন্তু এখন সেটা করতে পারছে না। এমনকী আগে মাকে যে হাত খরচের টাকা দিত সেটাও গত দুমাস দেয়নি, দাদাই মানা করেছিল। কিন্তু বউদি যে পাঁচজনের সংসার বলল তার মধ্যে চারজন তো ওরাই , তাহলে সব অসুবিধা মা-কে নিয়েই। তিন্নি যে মা-কে নিয়ে এসে এখানে রাখবে তাও তো সম্ভব নয়, তাই সেদিন বউদির কথাগুলো চুপচাপ শুনে যাওয়া ছাড়া তিন্নির আর কিছু করার ছিল না।

তিন্নির চিন্তার জালটা ভেঙে হঠাৎ মোবাইলটা বেজে উঠল। ফোনটা চালু করে বলল, ‘হ্যালো।’ ও-প্রান্ত থেকে এক মহিলা কণ্ঠস্বর, ‘হ্যালো অ্যাই অ্যাম সারা কলিং ফ্রম মুম্বই। অ্যাম অ্যাই স্পিকিং টু মিসেস অপরাজিতা সেন?’

অপরিচিত আওয়াজে অন্যরকম উচ্চারণে নিজের নামটা শুনে তিন্নি বেশ ঘাবড়ে গিয়ে কোনওমতে বলল, ‘ইয়েস আমি তিন্নি মানে, অ্যাই অ্যাম অপরাজিতা সেন।’

‘দ্যটস্ গুড! ইয়োর ফ্রেন্ড কৃপা গেভ মি ইয়োর ডিটেলস্ অ্যাজ উই আর ডুইং রিসার্চ অন এমএনডি। ওয়ান অফ আওয়ার ক্লায়েন্ট হ্যাজ পাসড্ অ্যাওয়ে ডে বিফোর ইয়েস্টারডে সো উই আর লুকিং ফর আনাদার পার্শন হু ক্যান হেল্প আস টু ফিনিশ আওয়ার রিসার্চ। ডু ইউ থিংক ইয়োর হ্যাজবেন্ড উইল লাইক টু গেট ইনভলভড ইন দিস রিসার্চ?’

হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো করে তিন্নি বলল, ‘ইয়েস ইয়েস উই আর রেডি।’

‘নো ইট ইজ নট ফর ইউ বাট ফর ইয়োর হাজবেন্ড। উই নিড হিজ কনসেন্ট আনলেস ইউ হ্যাভ দ্য মেডিকেল পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি ফর হিম। ইউ নো উই হ্যাভ টু কাম ফ্রম মুম্বই সো উই ডোন্ট ওয়ান্ট এনি লিগ্যাল হ্যাসেল।’

‘ইয়েস হি ইজ উইলিং টু পার্টিসিপেট, ইউ ক্যান টক টু হিম’ বলে দৗড়ে গিয়ে রাহুলের কাছে গিয়ে বলল, ‘ওরা ফোন করেছে ফরেন থেকে– মানে এখন মুম্বই থেকে, তোমার সঙ্গে কথা বলবে, মানে কনসেন্ট না কি যেন নেবে, তুমি কিন্তু হ্যাঁ বলবে।’

রাহুল ফোনে এক দুবার ‘ইয়েস’ আর ‘ওকে’ বলার পর ফোনটা তিন্নিকে দিল। সারা জানাল ও আর শ্যাম, ওর রিসার্চ পার্টনার কাল বা পরশু রাহুলকে দেখতে আসবে, হয়তো দু তিন দিন লাগবে ওদের কাজ শেষ করতে। তিন্নির মুষড়ে পড়া মনটা আবার একটা আশার আলো দেখতে পেল। শোবার ঘরে গিয়ে রাহুলের পাশে শুয়ে পড়ে দেখল রাহুল টিভি-টার দিকে তাকিয়ে থাকলেও যেন অন্য কিছু ভাবছে। জিগ্যেস করল, ‘কী হল তুমি কি ভাবছ?’

বড়ো একটা শ্বাস টেনে রাহুল বলল, ‘কত দেবে?’

‘কি কত দেবে?’

‘টাকা কত দেবে?’

তিন্নি অবাক হয়ে উঠে বসে বলল, ‘টাকা কেন দেবে? ওরা তো রিসার্চ করবে, আমরা কত লাকি বলো যে ওরা আসছে আমাদের এখানে।’

‘গিনিপিগ-রা লাকি হয় না’ রাহুল হাঁপাতে হাঁপাতে বলল ‘রেমিউনিরেশন দেওয়া নিয়ম, টাকাটা অবশ্য নিও।’

তিন্নি আর কথা না বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি রাহুলকে অক্সিজেন মাস্কটা দিল।

রাহুলের মাস্কটা লাগিয়ে তিন্নি ভাবল, দিগন্তকে ফোন করে খবরটা দেবে। কিন্তু এরই মধ্যে কলিংবেল বেজে উঠল, কেউ এসেছে। দরজার আইহোল দিয়ে দেখল এক মধ্য তিরিশের ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে আছেন দরজার সামনে, দেখে মোটেই সেলসম্যান মনে হচ্ছে না। দরজাটা সামান্য খুলে তিন্নি জানতে চাইল, ‘কাকে চাইছেন?’ হাতজোড় করে নমস্কার করে ভদ্রলোক বললেন, ‘নমষ্কার বউদি আমি মৃদুল, বাবলুদা-র কাছ থেকে আসছি।’ তারপর তিন্নিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে আবার বলল, ‘বাবলুদা মানে অনুপম সিকদার যাকে আপনারা ভোট দিয়ে জেতালেন এবার। আমাকে বাবলুদা পাঠালেন আপনাদের মানে রাহুলবাবুর খোঁজখবর নেবার জন্য। উনি নিজেই আসতেন কিন্তু একটা বিশেষ কাজে ওনাকে দিল্লি যেতে হল হঠাৎ তাই–’

নিজের অজান্তেই থতোমতো খেতে খেতে তিন্নি কখন যে দরজাটা খুলে দিয়েছিল তা সে নিজেই বুঝতে পারেনি। তারপর খেয়াল হতেই হাত জোড় করে নমস্কার করে বলল, ‘দেখুন আপনাকে তো আমি ঠিক চিনি না, তাছাড়া আমি তো অনুপমবাবুকে কিছু বলিনি রাহুলের সম্বন্ধে। এখন একটু ব্যস্ত আছি, তাই–’

‘না না বউদি আমি আপনার সময় নষ্ট করব না, আমি জানি আপনি রাহুলদাকে নিয়ে কতটা ব্যস্ত, বাবলুদা কিছু ফল টল পাঠিয়ে ছিল সেটা যদি আপনি নিতেন তাহলে বাবলুদার ভালো লাগত। তারপর তিন্নিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ঘাড় ঘুড়িয়ে হাঁক দিল, ‘অ্যাই বিশু ওটা বউদির ঘরে রেখে দে।’

এতক্ষণে তিন্নির নজরে পড়ল আরেকটি বেঁটে, গাঁট্টা-গোট্টা ছেলে সিঁড়ির একধাপ নীচে দাঁড়িয়ে ছিল। সে পায়ের কাছে রাখা পেল্লাই একটা ঝুড়ি তুলে নিয়ে তিন্নিকে প্রায় ধাক্বা দিয়ে সরিয়ে ঘরে ঢুকে টেবিলে ঝুড়িটা রেখে ঘর থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে যেতে যেতে বলল– ‘চললাম মৃদুলদা,আমার ব্যাপারটা ভুলো না কিন্তু। কাল ক্লাবে আসব।’

হতবাক তিন্নিকে কথা বলা থেকে রেহাই দিয়ে মৃদুল নিজেই বলে চলল, ‘কি আশ্চর্য দেখুন আমরা প্রায় একই পাড়ায় থাকি অথচ রাহুলদার ব্যাপারটা জানতেই পারিনি। ক্লাবের একটা ছেলে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ওনার অসুস্থতার কথাটা জানতে পেরে আমাদের বলল! আসলে বুঝলেন তো সারাদিন এত ব্যস্ত থাকি। বাবার বয়স হয়েছে তাই পারিবারিক ব্যাবসাটাও দেখতে হয় তার ওপর অনুপমদার-ও টুকটাক বেশ কিছু কাজ থাকে। সেগুলো করতে হয়, উনি আমাকে ছোটোভাই-এর মতো দেখেন। মা-তো বলেন আমি ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াই। কিন্তু বলুন বউদি বনের মোষ তাড়াবার জন্যও তো উপযুক্ত লোক দরকার।’ মৃদুল হয়তো আরও কিছু বলে যেত কিন্তু ঘরের ভিতর থেকে রাহুলের আওয়াজ পেয়ে তিন্নি তাড়াতাড়ি বলল, ‘রাহুল বোধহয় কিছু চাইছে। আপনি যদি কিছু মনে না করেন তাহলে পরে কথা বলব– বুঝতেই পারছেন তো।’

মৃদুল অমায়িক হাসি হেসে পকেট থেকে একটা কার্ড বের করে তিন্নির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ‘না না মনে করব কেন। আমি তো জানি আপনি কত ব্যস্ত। মনে রাখবেন আজ থেকে আপনি একা নন আপনার সঙ্গে আমরা আছি। আমার কার্ডটা রাখুন, প্রয়োজন হলে জাস্ট একটা ফোন করে নেবেন, আমি চলে আসব।’

তিন্নির হাতে কার্ড ধরিয়ে হাত জোড় করে নমস্কার করে মৃদুল যখন সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেল তিন্নি বুঝতে পারল না মৃদুলের আঙুলগুলো কি ইচ্ছাকৃত ভাবেই তিন্নির আঙুলগুলোকে একটু অন্যরকম ভাবে ছুঁয়ে গেল নাকি ওর বুঝতে ভুল হল।

ওরা মানে শ্যাম আর সারা প্রায় আধ ঘন্টা আগে চলে গেছে। ছিল প্রায় ঘন্টাখানেক। তিন্নি ভাবেইনি এতো তাড়াতাড়ি ওদের কাজ হয়ে যাবে। শুরুতে ওদের সাথে রাহুলের কাছে মিনিট দশেক ছিল তারপর ওরা যখন রক্ত আর স্যালাইভা স্যাম্পল নেওয়া শুরু করল তখন তিন্নি আর ওখানে বসে থাকতে পারেনি। ওদেরকে বলেই শোবার ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বসার ঘরটায় বসেছিল। কাল রাতে এমনিতেই ঘুম হয়নি।

মৃদুলবাবু চলে যাবার পর তিন্নি যখন দিগন্তকে ফোন করে আজকে রাহুলের অ্যাপয়েন্টমেন্টের কথাটা বলে ছোট্ট করে মৃদুলের কথাটাও বলেছিল, তখন মনে হল দিগন্ত যেন ওর কথাগুলো শুনেও শুনছে না। তিন্নি তো সময়টা দেখেই ফোন করেছিল যাতে দিগন্ত বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে নিতে পারে। তিন্নি ভেবেছিল দিগন্তকে আজকে আসতে বলবে কারণ ও যদি সারাদের সঙ্গে ঠিকঠাক কথা বলতে না পারে। কিন্তু দিগন্তর কেমন গা ছাড়া ভাব দেখে তিন্নি আর কিছু বলে উঠতে পারেনি। পরে বেশ রাতে সুপর্ণার ফোন পেয়ে তিন্নির কান্না পেয়ে গিয়েছিল। অত রাতে সুপর্ণার ফোন পেয়ে তিন্নি বেশ অবাক হয়ে গিয়েছিল।

রাহুলের পাশ থেকে উঠে গিয়ে বসার ঘরে ঢুকে সুপর্ণার সঙ্গে কথা বলে তিন্নি যা বুঝল সেটা হল সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুলের

ভিডিওটা-তে কেউ একজন গত মাসে তিন্নির প্রেগন্যান্সি টারমিনেশনের কথাটা পোস্ট করেছে আর সেই নিয়ে বেশ কিছু খারাপ মন্তব্য আসছে। কোনওমতে কথাটা শেষ করে সুপর্ণা বলেছিল, ‘দ্যাখ তিন্নি কাউকে প্লিজ বলিস না যে আমি তোর সঙ্গে গিয়েছিলাম তোর টারমিনেশন করাতে। জানিস তো আমাদের জয়েন্ট ফ্যামিলি। যাতে কেউ জানতে না পারে তাই সবাই ঘুমোবার পর তোকে ফোন করছি। আমার শ্বশুরবাড়ি ভীষণ রক্ষণশীল, আমি এর মধ্যে আছি জানলে আর রক্ষা নেই!’

সুপর্ণার সঙ্গে কথা বলার পর তিন্নি বাকি রাতটা আর ঘুমোতে পারেনি, এমনকী ভিডিওটায় পোস্ট করা কমেন্টগুলো পড়বার সাহসও পায়নি। তিন্নি যখন তার প্রেগন্যান্সির কথা জানতে পেরেছিল ততক্ষণে রাহুলের অসুখ অনেক অ্যাডভানস্ড স্টেজে পৗঁছে গিয়েছিল, তাই রাহুলকে ব্যাপারটা বলে ওর কষ্ট আর বাড়াতে চায়নি। দোনামনা করে একটু সময় নিয়েই টারমিনেশন করাবার সিদ্ধান্তটা নিয়েছিল কারণ ওদের পক্ষে সত্যি করে বাচ্চা রাখা সম্ভব ছিল না। তিন্নি আর কী করতে পারত? ওর নিজের মনে যে কত কষ্ট জমে আছে তা কি লোকে বুঝতে পারছে না?

পড়ন্ত বিকেলের দিকে তাকিয়ে তিন্নি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়াল, রাহুলের বিকেলের খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। রাহুল তো ভালো করে চিবিয়ে খেতে পারে না, আর আজকে অনেকটা ধকল গেছে ওর ওপর দিয়ে। তাই ভাবল আজকে একটু নরম করে নোনতা সুজি বানিয়ে দেবে। রাহুলের বেশ পছন্দের খাবার এটা। রাতের জন্য চিকেন স্যুপটা পরে না হয় চটপট বানিয়ে নেবে।

রান্নাঘরে ঢোকা মাত্র ওর ফোনটা বেজে উঠল, দেখল দিগন্তর ফোন।

‘কি রে কেমন আছিস? রাহুলের কি খবর? ওরা এসেছিল?’ দিগন্ত জানতে চাইল।

‘হ্যাঁ একটু আগে কাজ শেষ করে ওরা গেল।’ তিন্নির ছোট্ট উত্তর।

ওপাশ থেকে দিগন্ত কিছু বলছে না দেখে তিন্নি জিজ্ঞেস করল, ‘তোর কী খবর? কোনও কারণে আপসেট আছিস মনে হচ্ছে?’

‘একটু আপসেট আছি রে। বাড়িতে প্রবলেম হচ্ছে।’

‘কেন রে? কী হল হঠাৎ? সংগীতা ঠিক আছে তো?’ তিন্নি উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করল।

‘জানিস তো সংগীতা প্রেগন্যান্ট– সিক্স মান্থ চলছে। তোর ব্যাপারে কিছু লোক উলটো-পালটা কথা লিখছে আর এদিকে আমার বউ আমাকে সন্দেহ করছে। কাল তোর সঙ্গে কথাও বলতে পারলাম না সেইজন্য। ভাবলাম অফিসে এসে তোকে বুঝিয়ে বলব।’

তিন্নি বুঝতে পারছিল না এর থেকে আর কী খারাপ হতে পারে। কোনওমতে বলল, ‘তুই কি চাইছিস আমি সংগীতার সঙ্গে কথা বলি? ওকে আমার অবস্থাটা বুঝিয়ে বলব।’

‘না না প্লিজ ওকে ফোন করিস না। তোর সঙ্গে আমি কথা বলেছি জানলে আরও ঝামেলা হবে। আমার এত খারাপ লাগছে যে কী বলব। তোর এই বিপদে তোর পাশে থাকব বন্ধুর মতো তা নয়, আমি এখন আমার ঘর সামলাতে ব্যস্ত। শোন প্লিজ আমাকে ভুল বুঝিস না। আমার মোবাইলে বা বাড়িতে ফোন না করে প্রয়োজন হলে তুই আমার অফিসের নাম্বারে ফোন করিস। তা ছাড়া আমি তোকে রেগুলার ফোন করব অফিস থেকে।’

‘আচ্ছা, ভালো থাকিস।’ দিগন্তকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তিন্নি ফোন অফ করে দিল।

নিজেকে যতটা পারে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলেও রাহুলের কাছে তিন্নি বোধহয় ধরা পড়ে গেল। যখন ওকে সুজিটা খাওয়াতে গেল রাহুল প্রথমে চোখের ইশারায় বার কয়েক জানতে চাইল কী হয়েছে? তারপর তিন্নি এড়িয়ে যাচ্ছে দেখে মুখ ফুটে জিগ্যেসই করে ফেলল, ‘কী হয়েছে?’

তিন্নি একটু শুকনো হাসি হেসে বলল, ‘কী আবার হবে? কিছু হয়নি। একটু টায়ার্ড লাগছে। আজ একটু তাড়াতাড়ি খেয়ে শুয়ে পড়ব। কাল রাতে ভালো ঘুম হয়নি।’

তিন্নি যখন রাহুলের চোখকে ফাঁকি দেবার আপ্রাণ চেষ্টা করছে তখন ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি তার জন্য আরও কী অপেক্ষা করছে।

সন্ধ্যাবেলায় রাহুলের সঙ্গে বসে ঘন্টাখানেক টিভি দেখার পর সবে চিকেন স্যুপটা বানাতে গেছে, দরজায় ঘন্টির আওয়াজ পেল।

দরজার সামনে রাহুলের দিদি আর জামাইবাবুকে দেখে বেশ ঘাবড়ে গিয়ে দরজা খোলামাত্র দিদি ঝড়ের বেগে ঘরে ঢুকে সোজা রাহুলের কাছে গিয়ে কেঁদে বলল, ‘তুই আমাদের কি নিজের বলে ভাবিস না ভাই? কেন এটা করলি?’

রাহুলের থতোমতো ভাব দেখে দিদি আবার বলে উঠল, ‘তোরা একবার তো আমাদের জিগ্যেস করতে পারতিস, তোরা না পারলেও তোদের বাচ্চার দায়িত্ব না হয় আমরা নিতাম। কেন ওকে পৃথিবীতে আসতে দিলি না?’

রাহুল লম্বা শ্বাস নিয়ে বলল, ‘কার বাচ্চা? কী বলছ?’

‘তোদের বাচ্চা। আজকেই তো জানলাম যে তিন্নি গতমাসে টারমিনেশন করিয়েছে। কেন করলি তিন্নি? রাহুল বললেই কি তোকে মানতে হবে?তোর তো বাচ্চা, তুই তো আটকাতে পারতিস।’

‘রাহুল এ ব্যাপারে কিছু জানে না দিদিভাই। ওকে আমি জানাইনি। যা করার আমিই করেছি।’ তিন্নি শান্ত স্বরে প্রতিটা কথা কেটে কেটে বলল।

দিদি তার কান্না ভুলে রাহুলের পাশ থেকে সরে এসে তিন্নির সামনে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে উঠল, ‘কি বললি ভাই জানতই না তোর প্রেগন্যান্সির কথা। তার মানে তুই টারমিনেশন করিয়েছিস সেটাও জানে না। তুই কী করে এত নিষ্ঠুর হতে পারলি তিন্নি?’

রাহুলের দিকে না তাকিয়েও তিন্নি বুঝতে পারছিল যে ওর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। ও খুব জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। তাড়াতাড়ি ওকে অক্সিজেন মাস্কটা দিতে গেল কিন্তু রাহুল বার বার মাথা সরিয়ে নিল। কিছুতেই মাস্ক পরাতে দিল না।

তিন্নি সামান্য হেসে বলল, ‘দিদিভাই আমি একটা বাচ্চা নিয়েই খুব ভালো আছি– আরেকটা নিয়ে কি করতাম? রাহুলই আমার সবকিছু দিদিভাই। আমার যে আর কিছুর দরকার নেই।’

তিন্নির গলার আওয়াজে হয়তো এমন কিছু ছিল যে, দিদি একটু থমকে গেল কিন্তু তার পরেই আবার বলল, ‘তুই এসব কথা বলে রাহুলকে চুপ করাতে পারবি তিন্নি কিন্তু আমাকে নয়। তোর একবারও মনে হল না যে, রাহুল না থাকলেও ওর একটা অংশ তোর সঙ্গে থাকতে পারত। তোর একবারও মনে হল না বাচ্চাটা থাকলে আমাদের বংশটা এখানেই শেষ হতো না? তুই নিজে হাতে আমাদের বংশটাকে শেষ করে দিলি তিন্নি।’

তিন্নি চোখের জল চেপে ছুটে রান্নাঘরে যাবার চেষ্টা করতেই দিদি পিছন থেকে ওর হাতটা টেনে ধরে বলল, ‘কোথায় যাচ্ছিস? তোকে বলতে হবে কার পারমিশন নিয়ে তুই এটা করালি?’

দিদি হয়তো আরও কিছু বলত কিন্তু জামাইবাবু বসার ঘর থেকে উঠে এসে দিদিকে ধমক দিয়ে বলল, ‘কী আরম্ভ করেছ রেখা? চ্যাঁচামিচি কোরো না। রাহুল অসুস্থ এটা ভুলে যেও না।’

দিদিও ফোঁস করে উঠল, আমার ভাই যে ভীষণ অসুস্থ সেটা আমি ভালো করেই জানি। আর তাই তো বলছি ভাইয়ের শেষ চিহ্নটাও তিন্নি মুছে ফেলল। মানুষ কী করে এত নিষ্ঠুর হতে পারে? নাকি লোকে যা বলছে সেটাই সত্যি! –ওটা আদৗ ভাই এর ছিল না।’

তিন্নি ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে গিয়েও ঘুরে দাঁড়াল, তারপর দিদির চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘একটু আগেই তুমি বললে না বাচ্চাটা আমারও ছিল। হ্যাঁ, এটা আমার বাচ্চাই ছিল তাই যেটা উচিত মনে হয়েছে আমি করেছি। বাচ্চার বাবার বা বাড়ির লোকের পারমিশন নেবার দরকার মনে করিনি।’

‘তা করবি কেন? এটা তো তোর পাপ তিন্নি। রাহুল তো কবে থেকেই–’

‘চুউপ, চুউ’ দিদির কথা শেষ হবার আগেই রাহুল বীভৎস চিৎকার করে উঠল।

রাহুলকে নিয়ে ওরা যখন চলে গেল তখনও তিন্নি কাঁদতে পারল না। রাহুলের শান্ত মুখের দিকে তাকিয়ে ওর মনে অজস্র প্রশ্ন একের পর এক জমা হচ্ছিল। তাহলে সবার মতো রাহুলও ওকে ভুল বুঝল। রাহুলের জন্য ওর ভালোবাসা, ওকে ভালো করে তোলার এত প্রচেষ্টা, এত কষ্ট সহ্য করা সব বিফলে গেল, শুধুমাত্র একটা সিদ্ধান্ত নিজে নেবার জন্য! রাহুল যদি জানত তাহলে কি তিন্নিকে টারমিনেশন করাতে দিত? যদি বাচ্চাটা আসত। পৃথিবীতে তাহলে তিন্নি কী ওকে একা মানুষ করতে পারত? রাহুল ছাড়া তিন্নি নিজেকে কী করে সামলাবে তাই জানে না সেখানে একটা বাচ্চা না নিয়ে ও কি খুব ভুল করেছে? সারা জীবন প্ল্যান করে চলা রাহুল কেন তাদের আনপ্ল্যান্ড প্রেগন্যান্সি নিয়ে তিন্নিকে ভুল বুঝল? না কি কারওর অনুমতি না নিয়ে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই তার অপরাধ?

রাহুলের এভাবে চলে যাবার জন্য কি তিন্নি দায়ী?

তিন্নির এইসব আকাশ-পাতাল চিন্তার মাঝে বাড়ি ধীরে ধীরে খালি হয়ে গেল। কাল রাতে বাড়ি চলে যাবার পর দিদি খবর শুনে আজ সকালেই আবার চলে এসেছিল, অনেক কান্নাকাটি করেছে কিন্তু তিন্নির দিকে ঘুরেও তাকায়নি কথা বলা তো দুরের ব্যাপার। জামাইবাবু যতটা সম্ভব সব কিছু সামলেছেন। দিদি কাঁদতে কাঁদতে কয়েকবার অজ্ঞান হয়ে যাবার পর তাকে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি পৗঁছে দিয়ে আবার ফেরত এসেছেন। বন্ধুদের কয়েকজন রাহুলের সঙ্গে গেছে। দিগন্ত কোনও কাজে আটকা পড়ে এখানে আসতে পারেনি বলেছে সোজা ওখানে চলে যাবে রাহুলকে শেষবারের মতো দেখতে।

দাদা গেছে বউদিকে উত্তরপাড়ায় রেখে আসতে। ছেলে দুটোর পরীক্ষা তাই বউদি ওদের পাশের বাড়িতে রেখে এসেছিল। দাদা বলেছে যত রাতই হোক বউদিকে বাড়ি পৌঁছিয়ে ও এখানে ফেরত আসবে। থাকবে ক’দিন তিন্নির কাছে। এখন বাড়িতে শুধু তিন্নি আর মা রয়েছে। এমন সময় হঠাৎ করে শ্যাম হাজির। ও গতকালই বলেছিল যে আজ বিকেলে আসবে রাহুলের আরও কয়েকটা টেস্ট করার জন্য। এত কিছুর মধ্যে তিন্নি ওকে ফোন করতে ভুলেই গিয়েছিল। শ্যাম চটপট ব্যাপারটা বুঝে যথা সম্ভব দুঃখ প্রকাশ করে যখন বেরিয়ে যাচ্ছে, সে সময়ে দরজায় মৃদুলবাবু আর তার সেদিনের সাকরেদের আবির্ভাব। তিন্নি চটপট শ্যামকে বলল,  শ্যাম কুড ইউ প্লিজ স্টে হিয়ার ফর সাম টাইম। আই নিড টু ডিসকাস সামথিং উইথ ইউ।’

তারপর মৃদুলবাবুর মুখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে বলল, ‘আমি দুঃখিত মৃদুলবাবু। শুনেছেন বোধহয় যে আজ ভোরে রাহুল চলে গেছে। বাড়ি-তে এখন কেউ নেই তাই যদি পরে আসতেন তো ভালো হতো।’

মুখে কোনওমতে একটা সহানুভূতির ভাব এনে মৃদুল বলল, ‘হ্যাঁ খবরটা একটু আগেই পেলাম আর শুনেই তাই ছুটে এসেছি। জানেন তো সারাদিন এতো কাজে ব্যস্ত থাকি তাই হয়তো খবরটা পেতে দেরি হল। ভাবলাম বাড়িতে হয়তো একা আছেন একটা কথা বলার লোক পেলে হয়তো ভালো লাগবে। তাই খবরটা শোনা মাত্রই কাজ ফেলে ছুটে এলাম, বলেই ঘাড় ঘুড়িয়ে হাঁক দিল, অ্যাই বিশু ফুলগুলো রাহুলবাবুর ঘরে রেখে আয়।

বিশু একপা এগোবার আগেই তিন্নি দরজা আগলে দাঁড়িয়ে বলল, ‘অতগুলো ফুল রাখার জায়গা তো নেই আমার বাড়িতে। কিন্তু আপনারা কষ্ট করে এনেছেন বলে একটা মালা খালি আমি নিচ্ছি আর শুনুন আমি এখন ব্যস্ত আছি আপনার সঙ্গে এখন কথা বলার সময় পাব না। কিছু মনে করবেন না যেন।’

‘না না ঠিক আছে। দেখতেই পারছি আপনি ব্যস্ত আছেন। পরে কখনও না হয় আবার আসব।’ শ্যামের দিকে একঝলক তাকিয়ে মুখটা স্বাভাবিক রেখে মৃদুল কথাগুলো বললেও তার আওয়াজে মনের রাগটা সহজেই বোঝা গেল।

মৃদুলবাবু সিঁড়ি দিয়ে নামার আগেই তিন্নি শুনতে পেল ফিচেল স্বরে বিশু বলছে– ‘শ্যাম এসেছে রাধার কাছে, গুরু তুমি কি আর নাগাল পাবে?’

সকাল চারটে– ঠিক চব্বিশ ঘন্টা আগে রাহুল চলে গেছে। হয়তো অভিমান নিয়ে, তিন্নির ওপর রাগ করেই রাহুল চলে গেছে। এই চব্বিশ ঘন্টায় তিন্নি অনেক ভেবেছে, নিজের জীবনটাকে ফালা ফালা করে চিরে দেখেছে, নিজেকে আসামির কাঠগোড়ায় দাঁড় করিয়ে নিজেই সওয়াল জবাব করেছে। এখন তার মন অনেকটা শান্ত হয়েছে। ধীরে ধীরে মায়ের পাশ থেকে উঠে রান্নাঘরে ঢুকে দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ে ল্যাপটপটা খুলল। ভিডিওতে যত সব মন্তব্য এসেছে সব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ল তারপর টাইপ করতে লাগল–

‘কাল ভোর রাতে রাহুল চলে গেল। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আপনারা নানাভাবে আমার মনোবল বাড়িয়েছেন। আপনাদের সহানুভূতি, বক্রোক্তি, কটূক্তি সব কিছুই আমাকে নিজেকে খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে। আমি নিজের নারীসত্ত্বাকে চিনতে পেরেছি, আর তাই আমি মাথা উঁচু করে কোনওরকম দ্বিধা না রেখেই বলছি, আমি আমাদের পরিস্থিতি চিন্তা করেই আমার বাচ্চাকে সরিয়ে নিয়েছি পৃথিবী থেকে। এব্যাপারে আমি মনে করি না যে আমার কারওর থেকে অনুমতি নেবার দরকার ছিল বা আমাকে কারওর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। আর কয়েক ঘন্টা পরে ভিডিয়োটা তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু আপনাদের কাছে অনুরোধ আমাকে বা আমার মতো অন্য হতভাগ্যাদের-কে নিজের মতো করে বাঁচতে দিন।’

তার কমেন্টটা পোষ্ট করে দিয়ে তিন্নি কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে নিজেকে সামলে নিল। তারপর যখন চোখ খুলল দেখল রান্নাঘরের পুব দিকের একমাত্র জানলা দিয়ে ভোরের সূর্য উঁকি মারছে।

কোল্লিমালাই শৈলশহরে

মাদুরাই নেমে অপেক্ষা করছি গাড়ির। এবারের জার্নি একটা বেশ অচেনা ডেস্টিনেশনে। নাম কোল্লিমালাই। তামিলনাড়ুর এই স্বল্প পরিচিত শৈলশহর মন কেড়েছিল ইন্টারনেট-এ খোঁজ তল্লাশ করার সময়ই। এবার প্রতিক্ষা, দুচোখ ভরে দেখার। জানুয়ারিতে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা নেমে যায় এখানকার। ফলে ওই মাসটা বাদ দিয়ে ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের যে-কোনও সময়ই যাওয়া যায় কোল্লিমালাই।

নামাক্বাল জেলার অন্তর্গত কোল্লিমালাই ঘাট রোড ধরে চলেছে গাড়ি। পথে ৭০টি হেয়ার পিন বাঁক। আমাদের বুকিং ছিল সিলভারলাইন নামের একটি হোটেল-এ। অপূর্ব লোকেশন। গোলমরিচের বাগান আর ধানজমির বর্গক্ষেত্রে সবুজের সমারোহ। প্রচুর ওষধি গাছপালা ভরা জঙ্গল, পাহাড়ের গায়ে লেপটে আছে। কোথাও ঘন কুয়াশার জাল, কোথাও মেঘের ফাঁক দিয়ে সূর্যের উঁকিঝুঁকি।

Weekend getaway Kolli hills

পরদিন সকাল সকাল তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়ি আগায়া গঙ্গাই জলপ্রপাত দেখতে। আরাপালিশ্বর মন্দিরের অদূরে এই জলপ্রপাত, পর্যটকদের অচিরেই মন কেড়ে নেবে। মন্দিরের গা ঘেঁষে প্রায় ১০০০টি সিঁড়ি বেয়ে নীচে নেমে এলে, পৌঁছোনো যায় প্রপাতের পাদদেশে। কেউ কেউ পাহাড় বেয়ে ট্রেক করে কয়েকটি প্রাচীন গুহা দেখতে যান বটে, কিন্তু আঞ্চলিক মানুষরা জানালেন এই সব গুহা বস্তুত সাপের ডেরা। সেই শুনে আমরা ট্রেক-এর ভাবনা ত্যাগ করে উঠে এলাম মন্দির প্রাঙ্গণে।

আরাপালিশ্বর মহাদেব এ অঞ্চলের পূজিত দেবতা। দ্রাবিড় শৈলীতে নির্মিত এই মন্দির, রাজা ভালভিল ওরির জীবনকালে সৃষ্ট। দক্ষিণী-স্টাইলের চূড়া ও গোপুরম বিশিষ্ট মন্দির দেখে, আমরা এগিয়ে যাই কোল্লি হিল্স-এর বোটানিক্যাল গার্ডেনের উদ্দেশে।

কোল্লি হিল্স-এর বোটানিক্যাল গার্ডেন এই জায়গাটির অন্যতম দ্রষ্টব্য। গোলাপ বাগান, অপূর্ব একটি ভিউ পয়েন্ট, ইকো কটেজ ও চিলড্রেন পার্ক-যুক্ত এই উদ্যান, খনিক বিশ্রামের জন্য আদর্শ। এর অদূরে তামিলনাড়ু সরকারের তৈরি ওষধি উদ্যান। আয়ুর্বেদিক ওষুধ-এ ব্যবহৃত নানা গাছ গাছড়ার সমাহার এই উদ্যানে।

বিকেলে আমাদের গন্তব্য ছিল ভাসালুয়াপাট্টি বোট হাউস। এখানে প্রমোদ ভ্রমণের ব্যবস্থা থাকায় উইকএন্ড বেশ জমজমাট। বিরাট হ্রদ ও চারপাশে জঙ্গলময় পাহাড়ের বিস্তার, জায়গাটিকে সমৃদ্ধ করেছে।

Kolli hills

হোটেলে ফেরার আগে ড্রাইভার বলল, একটা সুন্দর ফলস আছে এ অঞ্চলে, নাম মাসিলা, দেখতে যাবেন? আমরা যেতে আগ্রহ প্রকাশ করি। মাসিলা বস্তুত তিনধাপে ভূমি স্পর্শ করে। আমরাই যেহেতু সেদিনের শেষতম টুরিস্ট, তাই ফাঁকাই ছিল জায়গাটি। অপূর্ব এই ঝরনাধারা! শান্ত পরিবেশে আরও কিছুক্ষণ থাকা যেত, কিন্তু সন্ধ্যা নেমে আসছে দেখে ফিরে আসতে হল।

পরদিন ভোরে চলে গেলাম সেকুপেরিয়া ভিউপয়েন্ট দেখতে। পাখির চোখে পাহাড়ের উপর থেকে চারপাশের দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হতে হয়। বহু বন্য ফুলে চারপাশের পাহাড় ঢেকে আছে। বুনো ফুলের গন্ধে জায়গাটা ম’ম’করছে। সঙ্গে নানা রঙের প্রজাপতি।  দুপুরে লাঞ্চ সেরে আমাদের ফিরে যাওয়ার কথা। বেঙ্গালুরু থেকে অনেকেই সপ্তাহান্তের ছুটি কাটাতে এসেছেন এখানে। সকলের মুখেই পরিতৃপ্তির ভাব। কোল্লি হিল্স পর্যটককে হতাশ করে না, পরম ভালো লাগায় ভরিয়ে তোলে।

সিরিঙ্গোমিলিয়া

নিশ্চিত ভাবে বলা যায়, syringomyelia অসুখটির নাম-ই শোনেননি সিংহভাগ সাধারণ মানুষ। কারণ, এই অসুখে সচরাচর কাউকে আক্রান্ত হতে দেখা যায় না। কিন্তু, এক পরিচিত মানুষ এই অসুখে আক্রান্ত হওয়ার পর, অস্ত্রোপচার করে সুস্থ হয়েছেন জেনে, অসুখটির সম্পর্কে বিশদে জানার খুব কৌতূহল হল। আর সেই কৌতূহল মেটালেন নিউরো সার্জন ডা. লক্ষ্মী নারায়ণ ত্রিপাঠি।

সিরিঙ্গোমিলিয়া রোগটি আসলে কী?

সিরিঙ্গোমিলিয়া একটি বিশেষ ব্যাধি, যার ফলে Spinal chord-এ অতিরিক্ত তরল (সিরিঙ্গস) তৈরি হয়। এই সিরিঙ্গস আরও বেড়ে গেলে, স্পাইনাল কর্ডের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুয়িড (সিএসএফ) সাধারণত ব্রেন এবং স্পাইনাল কর্ডের আশপাশে থাকে এবং রক্ষাও করে। এই প্রবাহ স্পাইনাল কর্ড বরাবর একটি সরু ক্যানাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে থাকে। কোনও মানুষের যদি সিরিঙ্গোমিলিয়া থাকে, সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুয়িড স্পাইনাল কর্ডের টিস্যুর কাছে জড়ো হয় এবং সিরিঙ্গস তৈরি করে। সিরিঙ্গোমিলিয়া সাধারণত কিয়ারি ম্যালফরমেশনের সাথে যুক্ত একটি অস্বাভাবিক অবস্থা, যেখানে ব্রেনটিস্যু ফোরামেন ম্যাগনাম অবধি পৌঁছে থাকে এবং সিএসএফ-এর প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটায়।

কী কী কারণে হয় এই অসুখ?

সিরিঙ্গোমিলিয়া স্পাইনাল কর্ডে চোট, স্পাইনাল কর্ডে টিউমার, আঘাতের ফলে হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে কারণ নাও জানা যেতে পারে।

Syringomyelia Symptoms কী?

উপসর্গগুলো শরীরের একদিকে বা দুই দিকেই দেখা যেতে পারে। হাতে, পায়ে, ঘাড়ে যন্ত্রণা, ঠান্ডা-গরম বোধ না হওয়া, বিশেষ করে হাতে সেন্স না থাকা, খিদে না পাওয়া বা ব্লাডারের সমস্যা, যৌনক্রিয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা, স্পাইনের আকৃতির ক্ষেত্রে সমস্যা (স্কোলিওসিস) প্রভৃতি। এই উপসর্গগুলো না থাকলে, সিরিঙ্গোমিলিয়া হয়েছে বলা যাবে না।

কীভাবে করা হয় সিরিঙ্গোমিলিয়ার চিকিৎসা?

সিরিঙ্গোমিলিয়ার ক্ষেত্রে পুরোদস্তুর নিশ্চিন্ত হওয়ার জন্যে নিউরোলজিকাল পরীক্ষানিরীক্ষা এবং তারপর ম্যাগনেটিক রেসোনেন্স ইমেজিং (এমআরআই) করা জরুরি। রোগীকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। ভারী কাজ যেমন ভারী জিনিস তোলা, লাফালাফির মতো শারীরিক কাজ করা চলবে না। যাদের কিয়ারি ম্যালফরমেশনের সমস্যা থাকে, তাদের ক্ষেত্রে ক্লান্তির সঙ্গে মাথাব্যথা হতে পারে। তবে সিরিঙ্গস বেড়ে না থাকলে, ব্যথার উপশমের জন্য নিয়মানুগ চিকিৎসা কার্যকরী হতে পারে। তাই, শুরুর দিকে ফিজিওথেরাপিকে রোগ নিরাময়ের মাধ্যম করা যেতে পারে। কিন্তু প্রয়োজন হলে, অর্থাৎ ওষুধ এবং ফিজিওথেরাপি-তে কাজ না হলে, অস্ত্রোপচার করে রোগ নিরাময় করতে হবে। কিয়ারি ম্যালফরমেশনের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের লক্ষ্যই হল, মাথা ও গলার উপরের দিকে ক্ষেত্রবিশেষে আরও একটু জায়গা তৈরি করা। এর ফলে ব্রেন ও স্পাইনাল কর্ডের উপর চাপ কমবে এবং সিএসএফ-এর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকবে। অস্ত্রোপচারের ফলে সিরিঙ্গস বেরিয়ে যেতে পারে। অনেক সময় ছোটো হয় বা কিছু ক্ষেত্রে একদম কমে যাওয়ার নিদর্শনও পাওয়া গিয়েছে। তবে, সিরিঙ্গস যদি একই রকম থাকে বা আগের চেয়ে কমে যায়, তাহলে ভালো। কিন্তু চিকিৎসায় দেরি করলে স্পাইনাল কর্ডের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। সিরিঙ্গস কমিয়ে দেওয়ার দিকটি সেখানেই দেখা হয়, যেখানে সিরিঙ্গস সমস্যা তৈরি করে। সম্প্রতি দেখা গিয়েছে, স্পাইনের কোনও সমস্যা, অর্থাৎ যদি অ্যাটলাস এবং অ্যাকসিস (সারভিকাল স্পাইনের উপরের দুটি ভারটিব্রা) হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে, সিরিঙ্গস এবং কিয়ারি ম্যালফরমেশনই কারণ। এই ক্ষেত্রে স্পাইন ঠিক করার চিকিৎসা সফল হয়েছে অনেক ক্ষেত্রে।

স্প্যানিশ রেসিপি-তে বাজিমাত

রান্না একটা শিল্প৷ রাঁধুনির সৃষ্টিশীলতা মিশলে, একই ডিশের আলাদা স্বাদ তৈরি হয়৷আবার ভিন্ন ভিন্ন মশলা বা সস সহযোগে রাঁধলে এক একদিন এক একরকম স্বাদের খাবার তৈরি হবে৷শুধু মশলা আর উপকরণের রকম ফেরে তৈরি হয় নানা দেশের রান্না৷আপনাদের জন্য আজ রইল স্প্যানিশ ডিশ৷ স্বাদে আর গন্ধে অতুলনীয়৷ রান্নাঘরে একটু টেস্ট-এর পরিবর্তন আনতে জুড়ি নেই এই রান্নার৷

স্প্যানিশ ভ্যালেনসিয়া প্রন্স

উপকরণ – ১২টা মাঝারি চিংড়ি, ২০ মিলি রিফাইন্ড তেল, ১০ গ্রাম শ্রিম্প পাউডার, এক চিমটে কেসর, ২০ গ্রাম লাল ক্যাপসিকাম, অল্প লেবুর রস, অল্প পেঁয়াজকুচি বাদামি করে ভাজা, অল্প রসুন ভেজে নেওয়া, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী – চিংড়ি পরিষ্কার করে নিন। সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে, এতে চিংড়িগুলি ৪৫ মিনিট ম্যারিনেট করুন। এবার চারকোল গ্রিল করুন ও গরম গরম সার্ভ করুন।

Spanish recipe

সিম্পল স্প্যানিশ রাইস

উপকরণ – ১ বড়ো চামচ অলিভ অয়েল, ২ কাপ ভাত, এক চিমটে কেসর, ১/২ কাপ পেঁয়াজকুচি, ১/৪ কাপ সেলারিকুচি, ৩-৪টে তুলসীপাতা, ১/৪ কাপ সবুজ ক্যাপসিকামকুচি, ১/৪ কাপ লাল ক্যাপসিকামকুচি, অল্প রসুনবাটা, ২ বড়ো চামচ টম্যাটো সস, ১ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো,১/২ ছোটো চামচ চিনি, ১/২ কাপ টম্যাটো পিউরি, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী – ভাতটা রান্না করার সময়ই কেসর ও তুলসীপাতা দিয়ে ফুটতে দিন। এবার প্যানে অলিভ অয়েল গরম করুন। ভাতটা ফ্যান ঝেড়ে আলাদা রাখুন, প্যানের তেলে পেঁয়াজ, সেলারি, ক্যাপসিকাম দিয়ে ২ মিনিট ফ্রাই করুন। এবার টম্যাটো সস, পিউরি, মশলা ও চিনি দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। তারপর এতে সেদ্ধ ভাতটা দিয়ে ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন। গরম গরম সার্ভ করুন।

সঠিক কিচেন সিংক বাছুন

গৃহিণীরা রান্নাঘরের ক্যাবিনেট বা কাউন্টার টপ নির্বাচন করার ব্যাপারে যতটা খুঁতখুঁত করেন, বা মনোযোগ দেন– ততটা গুরুত্ব দেন না কিচেন সিংক-এর নির্বাচনকে। কিন্তু এটা এমনই একটি জরুরি জিনিস, যা রান্নাঘরের পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন করে তুলতে পারে। তাই নিজের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে, সিংক-এর লুকস-কেও রুচিসম্মত করে তুলতে সঠিক কিচেন সিংক নির্বাচন করুন।

কেমন হবে কিচেন সিংক – সাধারণত বেশির ভাগ কিচেনেই স্টেইনলেস স্টিলের সিংক ব্যবহার হয়। সৗন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা দুই-ই মাথায় রেখে এই ধরনের সিংক তৈরি হয়েছে। কম গেজের শিট দিয়ে তৈরি সিংক মজবুত হয়। আপনার প্রয়োজন অনুসারে সঠিক গেজ-এর স্টিল সিংক লাগান।

একসময় লোহার সিংক পাওয়া যেত। কিন্তু এগুলি খুব ইউজার ফ্রেন্ডলি নয়। ফলে উপরে চিনামাটির কোটিং-যুক্ত সিংক জনপ্রিয় হয়েছিল। বর্তমানে গ্রানাইট বা কোয়ার্টজ-এর সিংক-ও বাজারে পাওয়া যায়। সেরামিক-এর সিংক-ও রয়েছে। কিন্তু এগুলি ভাঙার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।

সিংক-এর ডিজাইন – সিংক-এর ধাতু হিসাবে স্টিল বেছে নিলে, টেকসই হবার সম্ভাবনা বেশি। এবার গুরুত্ব দিন এর ডিজাইনের উপর। এটা নির্ভর করবে আপনার কিচেনের সাইজের উপর। প্রয়োজন অনুসারে একটি বা দুটি বেসিন লাগাতে পারেন কিচেনে।

সিংগল বেসিন সিংক – বাসন ধোয়ার সুবিধার্থে সিংক-এর সাইজ বড়ো হওয়া বাঞ্ছনীয়। সিংক-এর মুখ পরিষ্কার রাখবেন যাতে রান্নাঘরের হাইজিন বজায় থাকে। বাসন রাখার জন্য ড্রেন বোর্ড আছে কিনা দেখে নেবেন।

ডাবল বেসিন সিংক – এতে দুটো বেসিন থাকে। তাই একটু বেশি জায়গা লাগে। এটার সুবিধা হল পরিচ্ছন্নতা রাখতে এটা খুব সাহায্য করে। অর্থাৎ একটিতে নোংরা বাসন রাখা থাকলে, অন্য বেসিনটি ব্যবহার করতে পারবেন ভিন্ন কাজে।

ট্রিপল বেসিন সিংক – ৩টি বেসিন-যুক্ত সিংকও বাজারে পাওয়া যায়। কিন্তু এগুলি গেস্ট হাউস বা হোটেলের জন্যই উপযুক্ত।

ফার্মহাউস বা অ্যাপ্রন ফ্রন্ট সিংক – এই ধরনের সিংক-এ সামনের অংশ বেরিয়ে থাকে। বাকিটা দেয়াল কেটে ঢোকানো হয়। ফলে রান্নাঘরের স্পেস বাড়ে। পরিষ্কার করার ক্ষেত্রেও অনেকটা সুবিধাজনক হয়। বাসন ধোওয়ার সময় জল ছিটকে বাইরে পড়ে না এর গভীরতার কারণে।

টপ মাউন্ট সিংক – এগুলো কাউন্টারের উপর লাগানো হয়। ফলে এটি ফিটিং করা খুব সহজ।

আন্ডার মাউন্ট সিংক – এটা আপনার কাউন্টার লেভেল-এর নীচে লাগানো হয়়। কিন্তু দেখতে সুন্দর লাগে। বেশির ভাগ ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট-এ এই সিংক-ই থাকে। তবে যে-সিংক-ই ব্যবহার করুন, প্রতিদিন তা পরিষ্কার করে ন্যাপথালিন দিন।

নবজাতকের ত্বকের কোমলতা বজায় রাখুন

সদ্যজাত শিশুর ত্বক কোমল এবং অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়। সাবান, শ্যাম্পু, ডিটারজেন্ট, তেল, পাউডার, জামাকাপড়ে থাকা রাসায়নিক পদার্থ শিশুর ত্বকের ক্ষতি করে। এর ফলে শিশুর ত্বকে জ্বালা ভাব, ড্রাইনেস, ফুসকুড়ি ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও সুগন্ধিযুক্ত অন্যান্য বেবি-প্রোডাক্টসও ব্যবহার করা উচিত নয়। বাচ্চার ত্বক কোমল রাখতে নীচে দেওয়া টিপসগুলি মেনে চলুন।

স্নান – জন্মের প্রথম মাসে শিশুকে সপ্তাহে তিন থেকে চারবার স্পঞ্জ বাথ দেওয়া উচিত। প্রতিবার দুধ খাওয়ার পর বাচ্চার মুখ নরম পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ভালো করে মুছিয়ে দিন। ডায়াপার বদলাবার পরেও স্পঞ্জ বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ভালো করে ত্বক পরিষ্কার করে দিন। দ্বিতীয় মাস থেকে বাচ্চাকে স্নান করাবার সময় ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে স্নান করান। মাইল্ড অথবা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান একেবারেই ব্যবহার করবেন না যা, বাচ্চার সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। স্নানের পর সুতির নরম তোয়ালে দিয়ে শিশুর ত্বক মুছে নিন ধীরে ধীরে, যাতে ত্বক কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

পাউডারের ব্যবহার – বাচ্চাদের জন্য তৈরি ট্যালকম পাউডারই খালি ব্যবহার করুন, যেটা কিনা শিশুর ত্বকের জন্য উপযুক্ত। ডায়াপার পরাবার সময় শিশুর ওই অংশে পাউডার লাগাবেন না এবং বড়োদের পাউডারও বাচ্চার ত্বকে ব্যবহার করবেন না।

মাসাজ – নবজাত শিশুর শরীর খুব স্পর্শকাতর সুতরাং বাচ্চার মালিশ করার আগে মালিশের নিয়ম, কোন তেল লাগানো উচিত, কতক্ষণ মালিশ করা উচিত অথবা কখন মালিশ করা উচিত নয়– এই সব তথ্য ভালোমতো জেনে নেওয়া প্রয়োজন। বাচ্চার বিশেষ বিশেষ প্রয়োজনীয়তা অনুসারে মাসাজের আলাদা আলাদা টেকনিক ব্যবহার করাটা বাঞ্ছনীয়। মাসাজ বাচ্চার জন্য খুবই উপকারী এবং বাড়িতেই শিশুর মা বা অন্য কোনও সদস্যও এই কাজটা সহজে করতে পারবেন।

রসায়ন-মিশ্রিত তেল শিশুর ত্বকের ক্ষতি করতে পারে তাই সরষে তেল বা অলিভ অয়েল শিশুর মালিশের জন্য সবথেকে ভালো। মোটা তোয়ালের উপর শুইয়ে বাচ্চার মালিশ করুন।

ডায়াপার ও ন্যাপির প্রয়োগ – ভেবেচিন্তে বাচ্চার জন্য ন্যাপি কেনা উচিত। ন্যাপি কেনার সময় দেখতে হবে সেটি বাচ্চার সঠিক মাপের কিনা, জলীয় পদার্থ শুষে নেওয়ার ক্ষমতা কতটা উন্নত এবং ওতে ব্যবহূত ফ্যাব্রিক বাচ্চার সংবেদনশীল ত্বকের উপযুক্ত কিনা।

যে-কোনও মরশুমেই সুতি বা লিনেন-এর ন্যাপি ব্যবহার করা সবথেকে ভালো। এই ধরনের ফ্যাব্রিক আর্দ্রতা শুষে নিতে সক্ষম। এখন ভালো কোয়ালিটির ডিসপোজেবল ন্যাপি বাজারে এসে গেছে। ৩-৪ ঘন্টা অন্তর অন্তর ন্যাপি বদলানো দরকার হয়। যত তাড়াতাড়ি ন্যাপি বদলানো হবে, সংক্রমণ হওয়ার ভয় ততই কমে যাবে। কাপড়ের ন্যাপি বাচ্চাকে শুকনো এবং আরামে রাখে। এগুলো মসৃণ এবং মোলায়েম মাইক্রোফাইবার দিয়ে তৈরি হয়। যার শোষণক্ষমতা অনেক উন্নত।

বাচ্চার ঘর সাজাবার টিপস

অনেকেরই মনে হতে পারে বাচ্চার ঘর আলাদা করে সাজাবার কী আছে? কিন্তু বড়োদের মতো বাচ্চারাও নিজস্ব একটা ব্রিদিং স্পেস খোঁজে যেখানে সে আরাম করবে, নিজের জিনিসপত্র নিজের মতো করে রাখবে। বাড়িতে বন্ধুরা এলে সেখানে আলাদা করে তাদের সঙ্গে খেলা করতে পারবে।

এখন সব পরিবারেই বাচ্চাদের একটা আলাদা ঘর থাকেই। সুতরাং পুরো বাড়ির সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চার ঘরটিকেও মনের মতো সাজিয়ে তোলার এটাই ভালো সুযোগ।

প্ল্যানিং করার আগে ভেবে নিন বাচ্চার জন্য বেডরুম আর স্টাডিরুম একসঙ্গে হবে, না আলাদা? একটির বেশি সন্তান হলে আলাদা আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করার পরিস্থিতি আপনার আছে কিনা, ইত্যাদি ইত্যাদি। বাচ্চার জন্য ঘর সাজাতে গিয়ে কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখুন।

বাজেট : বাজেট অনুযাযী প্ল্যানিং করুন।

বেড : দুটি সন্তান হলে বেড একটাই রাখবেন, না ঘরের আকার অনুযাযী দুটো রাখবেন সেটা চিন্তা করতে হবে। দুটো বেডের মধ্যে ছোটো র‌্যাক বা সাইড টেবিল রাখতে পারেন। মধ্যে পর্দারও ব্যবস্থা করে দিতে পারেন, তাতে দুটো আলাদা ঘর বলে মনে হবে।

খোলা স্পেস : দেয়ালের গা ঘেঁষে বেড রাখলে ঘরের ভিতর কিছুটা ওপেন স্পেস থাকবে বাচ্চার খেলার জন্য।

বাঙ্ক বেড : দুটো বেড অথবা একটি বড়ো বেড রাখা না গেলে বাঙ্ক বেডের ব্যবস্থা করতে পারেন। অনেক ডিজাইনের পাওয়া যাবে।

দেয়ালের রং : বাচ্চার ঘরের দেয়ালের রং সাদা না করে নীল, গোলাপ, হলুদ কিছুও করতে পারেন।

পছন্দের স্টিকার : দেয়ালে বাচ্চার পছন্দের স্টিকার লাগিয়ে দিন। দেয়াল খারাপ হয়ে যাবে মনে হলে বড়ো একটা বোর্ড লাগিয়ে দিন। বাচ্চা বোর্ড পিন দিয়ে নিজের পছন্দের ছবি বা স্টিকার লাগাতে পারবে।

ওয়ার্ডরোবস : দুটো বাচ্চা থাকলে আলাদা আলাদা ওয়ার্ডরোড রাখুন। এছাড়াও স্টোরেজ বিন্স বা বাস্কেট রাখুন, যাতে বাচ্চা পছন্দের খেলনাগুলো রাখতে পারবে।

টেবিল : একই ঘরে স্টাডি টেবিল রাখতে হলে, যেখানে সবথেকে বেশি আলো সেখানটায় ব্যবস্থা করুন।

খেলনা : বাচ্চার পছন্দ অনুযাযী আলাদা আলাদা খেলনা কিনে দিন। এক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ে পছন্দ সম্পূর্ণ আলাদাই হয়।

মৃত্যু রহস্য

ঘরে ঢুকতেই দেব আশ্চর্য হয়ে গেল। নয়না আর রাজেন কিছু একটা আলোচনায় এতটাই মশগুল যে দেবের উপস্থিতি টেরই পেল না। দেব-ও এই দৃশ্য চোখের সামনে দেখবে একেবারেই ভাবেনি। দুজনের মুখোমুখি বসে কথা বলা সত্যি করেই এক অভাবনীয় দৃশ্য।

‘বাবাঃ কী এত আলোচনা চলছে? সারা বাড়িতে একটা পিন পড়লেও শোনা যাবে মনে হচ্ছে। এত কী গোপন কথোপকথন?’ দেব খানিক অপেক্ষা করে জিজ্ঞেস করল। দুইজনেই চমকে মাথা তুলল। দুজনকেই খুব চিন্তিত মনে হচ্ছিল।

‘সব ঠিকঠাক তো?’ দেব আবার প্রশ্ন করল।

‘হ্যাঁ রে ভাই, বাড়িতে তো সবকিছু

ঠিক-ঠাকই আছে…’

‘তাহলে তোদের এত চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন?’ রাজেনকে থামিয়ে দেব জিজ্ঞেস করল।

‘সেটা ঝুমার জন্য ভাই।’ নয়না উত্তর দেয়, ‘তাও বলতে পারিস প্রায় বিনা কারণে… বুঝতেই পারছি না কী করে ওকে সাহায্য করব।’

ঝুমা নয়নার সব থেকে কাছের বান্ধবী এবং রাজেনেরও যে ঝুমার প্রতি একটা বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে এটাও দেবের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির সামনে অনেকবারই ধরা পড়ে গেছে।

‘খুলেই বল পুরোটা, আরাম করে সোফায় গা এলিয়ে বসল দেব, ‘এমনও হতে পারে যে আমি তোদের কিছুটা সাহায্য করতে পারব।’

রাজেনই মুখ খোলে, ‘আরে আগে তো সবই ঠিকঠাক ছিল, অলোকের দাদু খুন হওয়ার পর থেকেই যে দিদির কি হল, বিয়ে করতে কিছুতেই রাজি হচ্ছে না… দিদি… মানে ঝুমার দিদি সীমাদি।’

রাজেনের কথা শেষ হওয়ার আগেই নয়না বিরক্তি ভরা কণ্ঠে বলে ওঠে, ‘খুনের সঙ্গে ঝুমা বেচারির কি লেনদেন? যাক গে, ঝুমার জন্য ভাই কিছু তো করতেই পারে, তারপর দেবের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘তুই তো জানিস, ঝুমাও রাজেনের সঙ্গেই এমবিএ-র জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়েছে আর ও শিওর যে ভালো কোথাও ও চান্স পেয়েই যাবে। কিন্তু ওর বাড়ির লোকেরা চাইছে পরীক্ষার রেজাল্ট বেরোবার আগেই ওর বিয়ে দিয়ে দিতে। শ্বশুরবাড়ি যদি রাজি হয় তাহলে ওখান থেকেই ও পড়াশোনা চালাতে পারে। টাকাটা কোনও ব্যাপার নয়… ঝুমার বাবা-ই মেয়ের পড়ার সব খরচ দেবেন বলেছেন।’

‘বিয়ে কার সঙ্গে ঠিক হয়েছে?’ দেব জানতে চায়।

‘ঝুমা কাউকে বিয়ে করতে চায় কিনা ওরা জানতে চেয়েছে। এমনকী ছেলেটি যদি ছাত্র হয় তাহলেও ওদের আপত্তি নেই। পাত্রেরও পড়াশোনার সব খরচ দিতে রাজি ঝুমার বাবা। আর যদি ঝুমার নিজের পছন্দ কিছু না থাকে তাহলে ওরাই উপযুক্ত পাত্রের সন্ধান করবে ঝুমার জন্য।’

‘তার মানে কোনও ভাবে ঝুমার তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিতে চান ওনারা, কিন্তু কেন?’ দেব আশ্চর্য হয়।

দীর্ঘনিঃশ্বাস ছাড়ে নয়না, ‘কারণ হল ঝুমার দিদি সীমাদি এবং ওর অদ্ভুত আচরণ। ঝুমাদের বাড়ির কাছেই অলোকের বাড়ি। ছোটো থেকেই সীমাদি আর অলোকের বন্ধুত্ব এবং পরে সেটা ভালোবাসায় পরিণত হয়। কারও বাড়িতেই বিয়ে নিয়ে আপত্তি ওঠেনি সুতরাং বিয়ের দিনও স্থির হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ-ই সীমাদি জানিয়ে দেয় ও অলোককে বিয়ে করবে না এমনকী অন্য কোনও ছেলেকেও বিয়ে করতে রাজি নয়। কারণ জিজ্ঞেস করলে জানায় ওর নাকি একটু সময় দরকার। মনস্থির করতে বাড়ির লোকেরা ওকে দুবছর সময় দিয়েছে, কিন্তু এখন সীমাদি আরও সময় চাইছে। বাড়ির লোকেরা পড়েছে মুশকিলে। ওদের ধারণা সীমাকে চাকরি করতে দিয়ে ওরা ভুল করেছে। এই একই ভুল ওরা ঝুমার বেলায় করতে চায় না।’

‘সীমার বিয়ে না করার কারণটা কী?’ জানতে চায় দেব।

‘এটাই তো কিছুতেই বলছে না ও। কারণ জানতে পারলে তো ঝুমাও সবাইকে নিজের দিকটা বোঝাতে পারত। পড়াশোনা শেষ করে ও বিয়ে করতে প্রস্তুত কিন্তু এখন এমবিএ-র জন্য পড়াশোনা আর বিয়ে দুটো একসঙ্গে করাটা একেবারেই অসম্ভব ওর পক্ষে।’

‘হ্যাঁ, এটা তো হল… কিন্তু খুনের ব্যাপারটা কী বলছিলি রাজেন?’

দেব, পুলিশকে নানা তথ্য দিয়ে সাহায্য করে এমনকী অনেক বড়ো মার্ডারের ঘটনায় পুলিশকে আসামী ধরিয়ে দিতেও যে দেবের অনেক অবদান আছে, ভাইয়ের এই গোপন পরিচয়টা রাজেনের অজানা ছিল না। তাই চিত্রটা পরিষ্কার করে তুলে ধরার জন্য দেবকে বলল রাজেন, ‘সীমা আর অলোকের বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়ার প্রায় আড়াই মাস পরে হঠাৎ-ই অলোকের দাদু খুন হন। খুনের কারণ এবং খুনির পরিচয় আজ পর্যন্ত অজানা।’

‘কিন্তু খুনের সঙ্গে সীমার বিয়েতে রাজি না হওয়ার কী সম্পর্ক, বিরক্ত হয়ে নয়না জানতে চায়।

‘হতেও পারে, সীমা আর অলোক নামটা খুব পরিচিত লাগছে, খানিকটা ভেবে দেব আবার বলে, ‘আচ্ছা এরা কি শকুন্তলা পার্কের কাছে একই পাড়ায় থাকে?’

‘হ্যাঁ, তো, নয়না বলে, ‘তুই জানলি কী করে?’

‘তুই আর রাজেন আমার থেকে এতটা ছোটো তবুও আমাকে তুই তোকারি করিস, গুরুত্ব দিতে চাস না আমাকে। সবাই কি আর তোদের মতো? সীমা আর অলোক কলেজে আমার দু’বছরের জুনিয়র ছিল। কলেজে থাকতে আমার নির্দেশনায় ওরা নাটকে অভিনয় করেছে। অখিল ভারতীয় নাটক প্রতিযোগিতা-তে আমার একটা নাটক একবার চান্স পেয়েছিল। সেটা মঞ্চস্থ করতে আমাকে অন্য শহরে যেতে হয়েছিল। সেই গ্রুপে ওরাও ছিল এবং তখন ওদের সঙ্গে আমার ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায়। মনে আছে অলোককে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম সীমাকে ও বিয়ে করবে কিনা এবং তাতে ও সিরিয়াসলি জানিয়েছিল যে ও সীমাকে বিয়ে করবে।’

‘হ্যাঁ, অলোক নয়, সীমাদি বিয়ে করবে না বলেছে। মধ্যে অলোক-ও কাজ নিয়ে খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল, তাই বিয়ের কথা চাপা পড়ে গিয়েছিল কিন্তু এখন অলোক সীমার বাড়িতে জানিয়েছে যে ও বিয়ের জন্য প্রস্তুত। ভাই তুই যখন ওদের দুজনকেই চিনিস তাহলে অলোকের সঙ্গে একটা কথা বল না, আশার আলো দেখে নয়না।

‘সীমা যেখানে বিয়ে করবে না বলছে সেখানে অলোকের সঙ্গে কথা বলে কী হবে? বরং সীমার সঙ্গে দেখা করার একটা ব্যবস্থা করে দে।’

‘ঠিক আছে তুই যবে বলবি। বিয়ে ছাড়া আর কিছুতে ওর না নেই, নয়না বলে, ‘মানে কারও সঙ্গে দেখা করতে ওর কোনও অসুবিধা নেই। কাল বরং সন্ধেবেলায় আমি ঝুমাদের বাড়ি চলে যাব আর পরে তুই আমাকে ওখানে নিতে আসিস।’

‘তাহলে কাল অফিস থেকে বেরোবার আগে তোকে ফোন করে দেব যাতে তুই সীমার সঙ্গে কথা বলার একটা সুযোগ করে দিতে পারিস।’

পরের দিন দেব যখন নয়নাকে নিতে ওখানে পৌঁছোল তখন ড্রইংরুমে বসে সীমা, ঝুমার সঙ্গে নয়নার জোর আড্ডা চলছে।

দরজা খুলে দেব-কে দেখে সীমা আশ্চর্য হয়ে গেল, ‘স্যার আপনি?’

‘আরে সীমা যে, তুমি এখানে?’ দেবও আশ্চর্য হওয়ার ভান করে। তারপর নয়না আর ঝুমার দিকে তাকিয়ে বলে, ‘আরে সীমা আমার নাটকের পাত্রী। আমি যেহেতু নাটকের ডিরেক্টর এবং সিনিয়র, স্বাভাবিক ভাবে তাই ও-ও আমাকে ‘স্যার-ই সম্বোধন করে। ঝুমা তুই তো কখনও আমাকে বলিসনি যে তোর দিদি অখিল ভারতীয় নাটক প্রতিযোগিতার বিজেতা?’

‘নয়নাও কখনও আপনার সম্পর্কে কিছু বলেনি। এখনকার মেয়েগুলোর অন্যদের সম্বন্ধে কিছু বলার সময় কোথায়?’ সীমা কপট রাগ দেখায়, ‘স্যার ভালোই হয়েছে আপনার সঙ্গে দেখা হওয়াতে। আপনার মতামতের একটু দরকার ছিল। একটা দিন আমাকে একটু সময় দিতে পারবেন?’

‘একটা দিন কেন? আজ-ই এক্ষুনি কথা হতে পারে তবে এক কাপ চায়ের বদলে, বলে দেব মুচকি হাসে।

‘চা না খাইয়ে এমনিতেও আপনাকে ছাড়তাম না, বলে ঝুমা উঠে দাঁড়ায়, ‘দিদি তুই দেবদাকে নিয়ে ও-ঘরে বসে নিশ্চিন্তে কথা বল, আমি চা করে নিয়ে আসছি। মা-বাবার ফিরতে এখনও অনেক দেরি।’

সীমার ঘরে এসে বসতেই দেব জিজ্ঞেস করল, ‘অলোকের কী খবর? অনেকদিন ওর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই।’

লম্বা নিঃশ্বাস টেনে সীমা উত্তর দিল, ‘হ্যাঁ পাড়াতেই রয়েছে তবে দেখাসাক্ষাৎ হয় না বললেই চলে।’

‘কেন? ব্যস্ততার কারণে নাকি ঝগড়া হয়েছে?’

‘কোনওটাই নয় স্যার। আমারই হয়তো ভুল বোঝার কারণে এমনটা হয়েছে, একটু চুপ থাকে সীমা, তারপর আবার বলে, ‘ওই ব্যাপারেই আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাই। আপনার সম্পর্কে কাগজে প্রায়শই লেখা দেখতে পাই। অনেকবার দেখা করার কথাও ভেবেছি কিন্তু কী করে সেটা বুঝতে পারিনি। আমার মনে হয় অলোক নিজের দাদুকে খুন করেছে।’

দেব মনে মনে চমকে ওঠে, তবে কি এটাই কারণ অলোককে বিয়ে না করার? কিন্তু মুখে গাম্ভীর্য বজায় রেখেই জিজ্ঞেস করে, ‘সন্দেহ করার কারণ?’

‘যে রাতে অলোকের দাদু খুন হন আমি একটা নেমন্তন্ন বাড়ি থেকে রাত করে বাড়ি ফিরেছিলাম। আমি অলোককে ওদের বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে গাছ ধরে পালাতে দেখেছি। কিন্তু অলোক বলছে ও তখন ওদের উলটো দিকের রাস্তার ওপারে বন্ধুর বিয়ের প্যান্ডেল-এ ব্যস্ত ছিল। ওখানেই ও দাদুর মৃত্যুর খবরটা পায়।’

‘কিন্তু তোমার মনে হয় যাকে তুমি পালাতে দেখেছ সে অলোক?’

‘হ্যাঁ স্যার। খুনের কারণ এখনও বোঝা যাচ্ছে না। বাড়ি থেকেও কিছু চুরি হয়নি আবার অলোকের দাদুর সঙ্গে কারও শত্রুতাও ছিল না।’

‘ওনার মৃত্যুতে কারও ব্যক্তিগত লাভের সম্ভাবনা আছে কি?’

‘একমাত্র অলোকেরই লাভ হতে পারে যতদূর আমি জানি। এমনিতে সকলেই জানে যে অলোককেই ওর দাদু নিজের সমস্ত সম্পত্তি লিখে দিয়ে গেছেন।’

‘সীমা তুমি যা কিছু জানো বা যা সন্দেহ করছ সব আমাকে পরিষ্কার করে খুলে বলো। কথা দিচ্ছি আমি যতটা পারব তোমাকে সাহায্য করব।’

‘মায়ের একদম ইচ্ছে ছিল না যে আমি কলেজে লেকচারারের কাজ করি। কারণ মায়ের মনে হয়েছিল লেকচারার হলে যেহেতু অলোক ওর দাদুর টিভি, ফ্রিজের শোরুমে বসে আর দাদুর ব্যাবসাটার দেখাশোনা করে সেহেতু আমি অলোককে বিয়ে করতে রাজি হব না। অলোক নিজেও টিভি ফ্রিজের ব্যাবসাটা চালাতে চাইছিল না। ওর ইচ্ছে ছিল বিদেশি কম্পিউটারের এজেন্সি নেওয়ার। বাবার সঙ্গেও আলোচনা হয়েছিল যে এজেন্সি নেওয়ার জন্য কোনওরকম আইনি বাধ্যবাধকতা পেরোতে হবে কিনা। পরে খবরাখবর নিয়ে জানা যায় এজেন্সি নেওয়ার জন্য আইনি কোনও জটিলতা নেই। আমার মা-ও নিশ্চিত হন যে লেকচারার মেয়ে কম্পিউটার বিক্রেতা-কে বিয়ে করতে রাজি হবে।

কিন্তু বেঁকে বসেন অলোকের দাদু। যদিও শোরুম অলোকের নামেই লিখে দিয়েছিলেন উনি কিন্তু ব্যাবসার চাবিকাঠি ওনার হাতেই ছিল। ওনার বক্তব্য ছিল টিভি, ফ্রিজের মতো কম্পিউটার, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয়তার মধ্যে পড়ে না সুতরাং তার চাহিদাও সীমিত। তাই উনি জীবিত থাকতে অলোককে টিভি, ফ্রিজ বিক্রি করেই খুশি থাকতে হবে, ওনার মৃত্যুর পরই নতুন চিন্তাভাবনা করার স্বাধীনতা পেতে পারে অলোক।

দাদুর জন্যই অলোকের আইবিএম-এর এজেন্সি নেওয়ার স্বপ্ন ভেঙে গুঁড়িয়ে যায়। এই লোভেই ও ওর বাবা, দাদার মতো চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট হতে চায়নি। ও কিছু না কিছু করে নিজের হাতখরচা ঠিকই চালিয়ে নিত, শোরুমের একটা টাকাও নিত না। দাদু মারা যাওয়ার আগেই ও আমাকে বলেছিল, কেরিয়ার তৈরি না করে ও কিছুতেই বিয়ে করবে না।’

‘অলোকের সঙ্গে কথা বলার পর তুমি কী ডিসাইড করলে?’ দেব প্রশ্ন করে।

‘আমারও স্যার, অলোকের সিদ্ধান্তই সঠিক মনে হয়েছিল। মনে মনে ভেবেই রেখেছিলাম, বিয়েটা যেমন করেই হোক পিছোতে হবে। কিন্তু বাড়িতে কিছু জানাবার আগেই অলোক আমাদের বাড়ি এল। ওকে খুব চিন্তামুক্ত দেখাচ্ছিল সেদিন। বাড়িতে আমাকে কিছু বলতে মানা করল, বলল কয়েকদিনেই সব ঠিক হয়ে যাবে। কয়েকদিন পরেই আমাদের বন্ধু রঞ্জনের বিয়ে ছিল। আমরা বিয়েতে খুব মজা করেছিলাম। রাত্রে বন্ধুদের পীড়াপীড়িতে অলোক ওখানেই থেকে যায় আর আমি বাড়ির সকলের সঙ্গে নিজের বাড়ি ফিরে আসি।

অলোকের বাড়িটা আমাদের বাড়ির ঠিক পিছন দিকটায়। ওদের বাড়িতে একটা জাম গাছ আছে যেটা আমাদের ছাদের কিছুটা নিয়েও ডালপালা বিস্তার করেছে। আমি তখন ছাদের ঘরটায় থাকতাম। ওদের ছাদটাও অলোক আর ওর দাদুর ঘরের লাগোয়া ছিল। অনেকদিনই এমন হয়েছে যে ওর দাদু ঘুমিয়ে পড়ার পর অলোক জাম গাছের ডাল ধরে আমাদের ছাদে চলে এসেছে।’

দেব কথার মাঝেই সীমাকে থামিয়ে দেয়, ‘চলে এসেছে… মানে এখন আর আসে না?’

‘দাদুর খুন হওয়ার পর বাবা আমাকে একলা আর উপরের ঘরে শুতে দেয় না। হ্যাঁ স্যার যা বলছিলাম, সেদিন রাত্রে গাছের পাতার আওয়াজ হওয়াতে আমি ভেবেছিলাম বুঝি অলোক এসেছে। আমি বাইরে বেরিয়ে আসি। গাছের ডাল তখনও নড়ছিল কিন্তু ছাদে কেউ ছিল না। আমি কার্নিশ থেকে নীচে তাকিয়ে দেখি গাছ থেকে নেমে কেউ পালিয়ে যাচ্ছে। আর ঠিক তক্ষুনি দাদুর ঘর থেকে ওদের বাড়ির পুরোনো চাকর রমাদার আওয়াজ পাই যে দাদামশাইয়ের কিছু একটা হয়ে গেছে। আমি দৗড়ে নীচে এসে সবাইকে জাগিয়ে রমাদার চ্যাঁচাবার কথাটা বলি। সবাই যখন অলোকদের বাড়ি পৌঁছোই, দাদুর ঘরে গিয়ে দেখি ওনার মুখের উপর বালিশ চাপা দিয়ে কেউ ওনাকে খুন করেছে।

আমি কাউকেই বলতে পারিনি যে আমি স্বচক্ষে খুনিকে গাছ ধরে নীচে নেমে যেতে দেখেছি। মুখ দেখতে পাইনি ঠিকই কিন্তু খুনির পোশাক স্পষ্ট দেখেছিলাম রাস্তার আলোয়। অলোক বিয়েবাড়িতে সিল্কের যে কুর্তা-পাজামা পরেছিল একদম সেরকমই। বাবা আমার ছোটো ভাইকে পাঠায় অলোককে বিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে আনার জন্য। কিন্তু আমি নিশ্চিত ছিলাম বিয়েবাড়িতে ভাই অলোককে পাবে না অথচ কিছুক্ষণ পরেই ভাই অলোককে নিয়ে আসে। আমি ভালো করে লক্ষ্য করি কিন্তু গাছে চড়া বা নামার কোনও দাগ অলোকের জামাকাপড়ে ছিল না। ও-ও সবার মতো হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল দাদুর ঘরে ঢুকে।’

‘তাহলে তোমার কেন সন্দেহ হচ্ছে যে অলোকই খুনটা করেছে?’

‘কারণ পরের দিনই পুলিশ এসে গাছের নীচে জুতোর দাগ দেখতে পায়। জুতোর দাগ দেখেই সনাক্ত করে যোধপুরী জুতোর ছাপ ওগুলি। ওই একই জুতো অলোকের পায়েতেও ছিল। অপরাধীর পালাবার তাড়া থাকাতে জুতোর পুরো ছাপ যেহেতু মাটিতে পড়েনি তাই জুতোর সঠিক সাইজ পুলিশ ধরতে পারেনি। অলোককে ওরা সন্দেহ করছিল কিন্তু ওই সময় ও যে বিয়েবাড়িতেই ছিল, বন্ধুদের সঙ্গে তোলা ছবি দিয়ে ও প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়েছে। পুলিশ ওকে ছেড়ে দিয়েছে ঠিকই কিন্তু আমার মন বলছে ওটা অলোকই ছিল কারণ গাছ বেয়ে উপরে চড়া বা নীচে নামার রাস্তাটা ওই জানত আর দ্বিতীয়ত দাদুর মৃত্যুতে ওই সবথেকে লাভবান হল।’

‘দাদুর শ্রাদ্ধশান্তির কাজ মিটে যাওয়ার পরপরই অলোক এজেন্সি নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছিল। যেন বাড়িতে কিছুই হয়নি। আর যদি বিয়েবাড়ির ছবির কথাই বলেন, তাহলে সেই ছবি যখন খুশি তোলা হয়ে থাকতে পারে। খাবার খাওয়ার সময় থেকে বিয়েতে বসা পর্যন্ত কে আর সমানে ছবি তুলতে থাকে? ফোটোগ্রাফার-রাও তো খাবে। আর বিয়ের হল লাগোয়া খাবার জায়গা করা হয়েছিল বিয়েবাড়ির ঠিক উলটো রাস্তাতেই অলোকদের বাড়ি। লুকিয়ে একবার বেরিয়ে গিয়ে একটা বৃদ্ধ মানুষকে মুখে বালিশ দিয়ে মারতে কত আর সময় লেগে থাকবে?’

‘অলোকের সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলেছ?’

‘না স্যার, এই প্রথম আপনাকে সব খুলে বললাম।’

‘বিয়েটা কী বলে আটকালে?’

‘দাদুর মৃত্যুর পর সঙ্গে সঙ্গে বিয়ে সম্ভবও ছিল না। অলোকও খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। বাড়িতে বাবার পরামর্শ নিতে প্রায়শই আসত কিন্তু আমি একা দেখা করাটা এড়িয়ে চলতাম। এরপর মা যখন বিয়ের জন্য তাড়া দেওয়া আরম্ভ করল, আমি পরিষ্কার বলে দিলাম যে বিয়ের জন্য আমার একটু সময় দরকার। তাছাড়া অলোকের ব্যস্ততা দেখে ওর বাড়ির সকলেও বিয়েটা পিছিয়ে দেওয়া যখন মনস্থ করল, তখন আমার বাড়ি থেকেও সকলে এটা মেনে নিল।’

‘অলোকের সঙ্গে দেখা করো না, এটা নিয়ে ও কিছু বলে না তোমাকে? দেব জানতে চায়। সীমা হেসে ফেলে বলে, ‘স্যার ওকে এটা বুঝিয়েছি যে মা আমাদের বেশি মেলামেশা করতে দেখলেই বিয়ের জন্য তাড়া দেবে। আপনিই বলুন স্যার যাকে আমি অপরাধী মনে করে সন্দেহ করি, তাকে আমি কী করে বিয়ে করব?’

‘না, না, সেটা কখনওই সম্ভব নয়। তুমি বরং দাদুর নাম আর মৃত্যুর তারিখটা বলো। আমি এই কেসটার ফাইলটা দেখি। আর সীমা, তুমি বিয়ের জন্য রাজি হয়ে যাও। বিয়ের গোছগাছ কমপ্লিট হতে হতে আশা করা যায় খুনি ধরা পড়বে। অলোক যদি অপরাধী হয় তাহলে বিয়ে এমনিই ভেঙে যাবে। আর অপরাধী যদি অন্য কেউ হয়ে থাকে তাহলে তোমার রাজি না হওয়ার বা বাড়ির লোকেদের মিথ্যা চিন্তা করাবার কি কোনও দরকার আছে?’

‘সেটা ঠিকই বলেছেন স্যার।’

রাস্তায় আসতে আসতে দেব নয়না-কে জানাল যে ও সীমাকে বিয়ে করতে রাজি করিয়েছে। সুতরাং ঝুমার আর কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

পরের দিন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে দেব কেসটার ফাইল বার করিয়ে নিল। যা তথ্য পাওয়া গেছে তাতে প্রায় কিছুই প্রমাণ হওয়া সম্ভব না। স্পেশাল পারমিশন নিয়ে পুলিশকে সাহায্য করার অছিলায় কেসটার দায়িত্বভার ও নিজের উপর নিয়ে নিল।

কেসটা নিয়ে আবার নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে শুনে অলোকের বাড়ির লোকেরা যেমন আশ্চর্য হল, তেমনি খুশিও হল। সবথেকে খুশি মনে হল অলোককে।

‘আমি ইচ্ছে করেই নিজেকে ব্যস্ত রাখি কারণ স্যার, সময় থাকলেই খালি মনে হয় দাদুকে কে খুন করে থাকতে পারে?’

‘এবং কেন খুন করেছে?’ দেব বাকিটা জুড়ে দেয়।

‘স্যার, দাদুর গলায় মোটা সোনার চেন, হাতের আঙুলে চারটে মোটা মোটা সোনার আংটি দামি পাথর বসানো, হাতে সোনার ঘড়ি, পাঞ্জাবিতে সোনার বোতাম লাগানো ছিল এছাড়াও আমার ল্যাপটপ, আইপ্যাড সবই টেবিলের উপর রাখা ছিল। আমার মনে হয় ওই সময় রমাদা দাদুর জন্য দুধ নিয়ে উপরে উঠছিল, ওরই পায়ের আওয়াজ পেয়ে চোর আর চুরি করার সময় পায়নি, পালিয়েছে। মধ্যিখান থেকে দাদুর প্রাণটা চলে গেল, অলোক বলে।

‘গাছে চড়া-নামার রাস্তাটা তো আর নতুন লোকের পক্ষে জানাটা সম্ভব নয়?’ সন্দেহ উঁকি মারে দেবের কথায়।

‘সেটাই তো সবথেকে আশ্চর্যের ব্যাপার। চেনাশোনার মধ্যেই কেউ খুনটা করেছে। গাছের নীচে মাটিতে জুতোর ছাপ দেখে পুলিশ প্রথমে আমাকেই সন্দেহ করেছিল। কিন্তু সেদিন আমার একটা বন্ধুর বিয়ে ছিল। ওখানে যত ছবি তোলা হয়েছে এবং প্রত্যেকটা ভিডিও ফ্রেমে আমার ছবি থাকাতে বা আমার উপস্থিতির কারণে আমি বেঁচে যাই।’

‘আমি ওই অ্যালবাম এবং ভিডিও দেখতে পারি?’

‘নিশ্চয়ই স্যার। আমি বন্ধুর বাড়ি থেকে অ্যালবাম আর ভিডিও ক্যাসেট-টা নিয়ে এসে আপনাকে ফোন করে দেব।’

প্রায় ঘন্টা দেড়েক বাদে অলোক দেব-কে ফোন করল, ‘স্যার অ্যালবামটা নিয়ে এসেছি কিন্তু ভিডিও ক্যাসেট-টা বারবার চালাবার জন্য জায়গায় জায়গায় ঘষে গেছে। তাই ওরা ওটা কোথাও রেখে দিয়েছে, এখন আর খুঁজে পাচ্ছে না। আমি অবশ্য ওদের খুঁজতে বলে দিয়েছি।’

‘ভালো করেছ। তুমি অ্যালবামটা আমার অফিসে পাঠিয়ে দাও।’

‘ঠিক আছে স্যার। আর কোনও দরকার হলে আমাকে ফোন করে দেবেন, আমি পৌঁছে যাব।’

অ্যালবাম দেখা শেষ করে দেব সীমাকে ফোন করল, ‘সীমা, সেদিন রাতে তুমি যাকে পালাতে দেখেছিলে তার কুর্তা-পাজামার রং কী ছিল বলতে পারবে?’

‘না স্যার… আলো খুবই কম ছিল। মেটেরিয়ালের শাইন আর কুর্তার লম্বাটা শুধু চোখে পড়েছিল।’

‘আচ্ছা ওই বিয়েতে অলোক ছাড়াও তো অনেকেই নিশ্চই কুর্তা-পাজামা পরেছিল। তাহলে যাকে পালাতে দেখেছিলে সেটা অলোক না হয়ে অন্য কেউ-ও তো হতে পারে।’

‘কুর্তা-পাজামা তো অনেকেই পরেছিল কারণ এখন এটাই ফ্যাশন কিন্তু ওটা অলোক-ই ছিল এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। কারণ পালাবার রাস্তাটা একমাত্র ওরই জানা এবং দাদু মারা যাওয়ায় ওরই লাভ হয়েছে সবথেকে বেশি।’

দেব তর্ক বাড়াল না কারণ সীমার কথাতে একটা জোর ছিল। কিন্তু দেবের মন সেটা মেনে নিতে পারছিল না। ছবিগুলো আবার ভালো করে দেখল। কী মনে হতে অলোককে ফোন করে ওর অফিসে আসতে বলল।

‘সব ছবিগুলোতে যে বর আর তোমরা যারা একসঙ্গে রয়েছ, সবাই তো কলেজ ফ্রেন্ড্‌স, তাই না অলোক?’ দেব জিজ্ঞেস করে।

‘হ্যাঁ স্যার, শুধু একজন ছাড়া। যে ছেলেটি আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে সে শুধু কলেজের বন্ধু নয়।’

‘ও-ও হ্যাঁ। ও তো প্রায় প্রতিটা ছবিতেই তোমার গায়ের সঙ্গে ঘেঁসে দাঁড়িয়ে আছে দেখছি।’

‘ও আমার বিজনেস পার্টনার স্যার, ওর নাম সৌম্য। আমেরিকা থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে এসেছে। আপনি নিশ্চই জানেন, আইবিএম-এর ডিলারশিপ নিতে গেলে কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ হওয়াটা মাস্ট। এছাড়াও ইলেক্ট্রনিক প্রোডাক্ট বিক্রি করার অভিজ্ঞতা এবং একই সঙ্গে এয়ারকন্ডিশনড্ শোরুম থাকাটাও জরুরি। আমরা দুজনে মিলে এই সব শর্তসাপেক্ষে জোনাল ডিস্ট্রিবিউটরশিপটা নিয়েছি।’

‘সৌম্যর সঙ্গে কতদিনের পরিচয়?’

‘ছোটো থেকে স্যার। আমাদের বাড়িতে একটা বড়ো জাম গাছ আছে। আমরা ছোটোবেলায় ওই গাছে চড়ে বসে থাকতাম। ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতাম। ওই গাছের মতোই বড়ো বড়ো স্বপ্ন। সৌম্য তো আমেরিকা চলে গেল। আমি দাদু আর সীমার জন্য যেতে পারলাম না কারণ ওদের না দেখে থাকতে পারতাম না। কিন্তু সৌম্য ছোটোবেলার বন্ধুত্ব আর স্বপ্ন কোনওটাই ভোলেনি। ফেরত এসে আমাকে দিয়ে এই বড়ো কাজটা করিয়েই নিল।’

‘অলোক এই কেসটা সল্ভ করতে হয়তো ছবিতে থাকা তোমার সব বন্ধুদেরকেই ডেকে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করতে হতে পারে, দেব বলে।

‘আপনি বললেই আমি সবাইকে ডেকে আনব। কিন্ত আমার মনে হয় সবথেকে আগে আপনি সীমার সঙ্গে কথা বলুন। হয়তো ও এই কেস সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করতে পারে।’

‘কেমন করে?’

‘ঠিক বলতে পারব না স্যার, তবে কেন জানি না আমার মনে হচ্ছে ও কিছু একটা জানে। দাদুর মৃত্যুর পর থেকেই ও কেমন জানি চুপচাপ হয়ে গেছে। আগের সীমাকে আর খুঁজে পাই না।’

‘দাদুকে খুব ভালোবাসত নাকি সীমা?’

‘সে তো সকলেই দাদুকে ভালোবাসত কারণ মানুষটাই তো ভালোবাসার যোগ্য ছিলেন।’

‘দাদুর মৃত্যুর খবর পেয়ে তোমার সঙ্গে কতজন বন্ধু এসেছিল?’

‘কেউ আসেনি কারণ সীমার ভাইয়ের মুখে খবরটা শুনতেই আমি কাউকে কিছু না বলেই ওর স্কুটারে চেপে বাড়ি চলে আসি।’

‘তোমাকে খুঁজতে তোমার পিছনে পিছনে কেউ আসেনি?’

‘না স্যার, অলোক মাথা নাড়ায়। ‘আমার খুব ভালো করে মনে আছে সেদিন রাতে ডাক্তার আর পুলিশ ছাড়া আমাদের সঙ্গে সীমার বাড়ির সকলে ছিলেন। সকালবেলায় ওরাই সকলকে খবর দেন।’

পরের দিন দুপুরবেলা সীমা আর দেবকে একসঙ্গে শোরুমে আসতে দেখে অলোক অবাক হয়ে গেল, ‘সব ঠিক আছে?’

‘আপাতত তো সব ঠিক আছে, গা ঝাড়া দেয় দেব, ‘তুমি বলেছিলে সীমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে, তাই ওকে এখানে নিয়ে এসেছি। তোমার বিজনেস পার্টনার আসেনি?’

‘হ্যাঁ এসেছে, ওর নিজের কেবিনে রয়েছে।’

‘বেশ, তাহলে চলো ওর কেবিনে গিয়েই বসা যাক।’

অলোক ওদের দুজনকে নিয়ে সৌম্যর কেবিনে পৌঁছোল। দেবের সঙ্গে সৌম্যর পরিচয় করিয়ে দিল।

‘কী খাবেন, ঠান্ডা না গরম?’ আন্তরিকতার সঙ্গে সৌম্য জিজ্ঞেস করল।

‘সে-সব পরে হবে। এখন শুধু অলোকের দাদুর খুনের ব্যাপারে কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দিন, ঠান্ডা গলায় দেব বলে। মুহূর্তে রক্তশূন্য হয়ে যায় সৌম্যর মুখ। তোতলাতে তোতলাতে কোনওরকমে বলে, ‘আমি… আমি এই সম্পর্কে কী বলব? আমি তো সীমার মুখ থেকে পরের দিন খুনের খবরটা জানতে পারি।’

‘সেটাই তো আমার প্রশ্ন সৌম্য। সারা বিয়েবাড়িতে আপনি সমানে অলোকের সঙ্গে সঙ্গে ছিলেন অথচ অলোক সীমার ভাইয়ের সঙ্গে বাইকে উঠে চলে এল আর আপনি জানতেই পারলেন না?’

সৌম্য হকচকিয়ে গেল। অলোকই উত্তর দিল, ‘আসলে স্যার ওই সময় বিয়ের নিয়ম হিসেবে আংটি খেলা চলছিল। বন্ধুরা সকলে মিলে বরপক্ষকে সাপোর্ট করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল।’

‘হ্যাঁ ঠিক তাই, আমিই সবাইকে ওখানে আটকে রেখেছিলাম যাতে আমরা আমাদের বন্ধুকে জেতাতে পারি’, সৌম্য নিঃশ্বাস ছেড়ে উত্তর দেয়।

‘কিন্তু আপনি নিজে তো ওই সময় ওখানে ছিলেন না…’

‘কী বলছেন আপনি?’ সৌম্য উত্তেজিত হয়ে দেবের কথার মধ্যেই বলে ওঠে, ‘আমি তন্ময়ের পাশে বসে ওর পিঠ চাপড়ে ওকে উৎসাহিত করছিলাম।’

‘তাহলে আপনাকে এই ছবিতে কেন দেখা যাচ্ছে না?’ দেব সৌম্যর দিকে অ্যালবামটা এগিয়ে দেয়। ‘এই ছবিটাতে আপনি নেই এবং এর পরের কোনও ছবিতেই আপনাকে দেখা যাচ্ছে না। না… না… আপনাকে শুধু শুধু কষ্ট করতে হবে না, আমিই বলে দিচ্ছি আপনি কোথায় ছিলেন?’

‘আমি বাথরুমে গিয়েছিলাম। খাওয়া-দাওয়াটা একটু বেশিই হয়ে গিয়েছিল, সৌম্যর স্বরে বিরক্তি ঝরে পড়ে।

‘না, ওই সময় আপনি অলোকের দাদুর ঘরে ছিলেন, দেব শান্ত কণ্ঠে বলে, ‘আপনি হয়তো ভেবেছিলেন দাদুকে খুন করে আপনি আবার বিয়েবাড়িতে ফিরে আসবেন কিন্তু তাড়াহুড়োতে গাছ থেকে নামতে গিয়ে নিশ্চয়ই আপনার জামাকাপড় খারাপ হয়ে গিয়ে থাকবে তাই বিয়েবাড়িতে ফিরে যাওয়াটা আপনি উচিত মনে করেননি।’

‘আপনি যা বলছেন তার কোনও প্রমাণ দেখাতে পারবেন?’ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় সৗমেন।

‘দয়া করে আপনি একটু উঠে দাঁড়িয়ে দেয়ালের দিকে মুখ করে দাঁড়ান। আর অলোক তুমিও সৌম্যর পাশে ওই একই ভাবে দাঁড়াও, এই বলে দেব সীমার দিকে তাকায়, ‘আচ্ছা এবার তুমি এই দুজনকে ভালো করে দ্যাখো। দুজনেরই শরীরের গঠন কাঁধের ব্যাপ্তি প্রায় একইরকম। অন্ধকারে ঢিলেঢালা জামাকাপড়ে কে অলোক আর কে সৌম্য বোঝাটা সত্যি মুশকিল।’

‘আপনি ঠিক বলেছেন স্যার, উত্তেজনায় সীমার স্বর কেঁপে যায়, ‘আমার আগে কেন এটা মনে হল না যে সৌম্যও অলোকের মতন একই রঙের পোশাক পরেছিল এবং অলোকের থেকেও ওর কাছে দাদুকে খুন করার আরও বড়ো কারণ রয়েছে। ও-তো আইবিএম-এর এজেন্সি নেওয়ার জন্য নিজের সবকিছু ইনভেস্ট করে ফেলেছিল। এমনকী আমেরিকার চাকরি ছেড়ে, গ্রিন কার্ডও ফেরত দিয়ে ও ইন্ডিয়ায় চলে আসে। দাদু বেঁচে থাকলে ডিস্ট্রিবিউটারশিপ-টা কিছুতেই নেওয়া হতো না কারণ অলোককে তো পাওয়া যেত না…’

অলোক হঠাৎ-ই জিজ্ঞেস করে, ‘এসব তুমি কী বলছ সীমা? আগে তো কখনও বলোনি যে, তুমি দাদুর খুনিকে পালাতে দেখেছ?’

‘কী করে বলত, ওর তো পুরো সন্দেহটাই তোমার উপর গিয়ে পড়েছিল আর বেচারি বিয়ে পিছোতে বাধ্য হয়েছিল। ওর সঙ্গে হঠাৎ-ই আমার দেখা হয়ে যায় আর আসল সত্যটা বেরিয়ে আসে… উঁহু, পালাবার চেষ্টা কোরো না সৌম্য কারণ পুলিশ শোরুমের বাইরে অপেক্ষা করছে। আমি চাই না তোমার কর্মচারীদের সামনে তোমাকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক, সুতরাং চুপচাপ আমার সঙ্গে বাইরে চলো। আর প্রমাণ, সে তো পুলিশ দাদুর ঘরের দরজা, খাট ইত্যাদি থেকে যে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করেছে তার সঙ্গে তোমার আঙুলের ছাপ যে ম্যাচ করবে সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। এমনিতে সীমা খুনের কারণ কিছুটা বললেও বাকিটা পরিষ্কার করে বন্ধুকে বলো যে কেন এমনটা করলে,’ দেব বলে।

‘হ্যাঁ সৌম্য, তুই আমাকে ভরসা দিয়েছিলি যে লাভের পুরো টাকাটা তুই দাদুর হাতে তুলে দিয়ে দাদুকে রাজি করিয়ে নিবি আর নয়তো আর একটা শোরুম নেওয়ার ব্যবস্থা করবি, তাহলে তুই কেন এমনটা করলি?’ ব্যথিত কণ্ঠে বলে অলোক।

‘এছাড়া আমার আর কী বা করার ছিল? দাদু কিছু শুনতে বা শোরুমের জিনিস ছোটো শোরুমে শিফ্ট করত কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না। আর বড়ো শোরুম নেওয়ার মতো আমার আর্থিক অবস্থা ছিল না। তুই যখন আমায় জানালি যে দাদু তোর নামে শোরুম-টা লিখে দিয়েছেন, আমি আমার চাকরি আর গ্রিন কার্ড ছেড়ে দিয়ে নিজের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করেই এখানে চলে এসেছিলাম। দাদু খুব ভালো করেই জানতেন কম্পিউটার বিক্রি করলে অনেক বেশি লাভ তবুও নিজের এই পুরোনো ব্যাবসা ছাড়তে রাজি ছিলেন না। ওনার এই জেদের জন্য আমি কেন সাফারার হতে যাব?’ তিক্ততা ঝরে পড়ে সৌম্যর কথায়।

‘ভালোই হল, সবকিছু ছবির মতো পরিষ্কার হয়ে গেল। তোমার জন্য একটা কাজ করতে পারি। জেলে বসে যাতে আরও কয়করকমের ব্যবসার ব্লু প্রিন্ট তৈরি করতে পারো, তার ব্যবস্থা করে দিতে পারি।’ দেবের পরিহাসে ওই মানসিক টানাপোড়েনের মধ্যেও অলোক আর সীমা না হেসে পারে না।

‘গুঞ্জন সাক্সেনা’-কে টেক্কা দিতেই কি এই নয়া চমক কঙ্গনার ?

এবার সম্পূর্ণ নতুন রূপে পর্দায় আসছেন কঙ্গনা রানাওয়াত৷ পাইলটের ভূমিকায় শীঘ্রই দেখা যাবে অভিনেত্রীকে৷ তাঁর নয়া চরিত্রের ফার্স্ট লুক শেয়ার করে এ কথাই নিশ্চিত করেছেন কঙ্গনা৷ টিনসেল টাউনে জোর গুঞ্জন, ‘গুঞ্জন সাক্সেনা’-কে টেক্কা দিতেই নাকি এই নয়া চমক কঙ্গনার৷ কয়েকদিন আগেই জাহ্নবী কাপুর অভিনীত ‘গুঞ্জন সস্কেনা’ নিয়ে সমালোচনার ঝড় তোলেন কঙ্গনা রানাওয়াত। এমনিতেই ছবিটি ঘিরে একের পর  বিতর্ক দানা বেঁধেছিল । তার ওপর স্টার কিড জাহ্নবীর অভিনয় ও করণ জোহরের হাত ধরে জাহ্নবীর প্রোজেকশন নিয়ে কঙ্গনা সরব হন। বায়ুসেনার আরও এক কাহিনী ফিল্মের পর্দায় তুলে ধরতে চলেছে বলিইড। আসছে ‘তেজস’৷  যুদ্ধবিমান ‘তেজস’ কে নিয়ে পরিচালক সরবেশ মেওয়ারা ছবি করতে চলেছেন।  মুখ্য চরিত্রে বলিউড কুইন কঙ্গনা রানাওয়াত৷এবার পাইলটের চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে একপ্রকার চ্যালেঞ্জের মুখেই দাঁড় করালেন এই নায়িকা৷

এই ছবির ফার্স্ট লুক-ই যথেস্ট চমকে দিয়েছে নেটিজেনদের৷ পরনে ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্সের উর্দি, হাতে হেলমেট৷ একটি ফাইটার প্লেনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন কঙ্গনা ৷ছবিটি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে কঙ্গনা লিখেছেন, ‘সেনাবাহিনীতে উর্দি পরা মহিলাদের আত্মত্যাগ বেশির ভাগ সময়েই মানুষের নজরে আসে না৷ তেজস এমন এক ছবি, যা কিনা এরকমই এক সাহসিনীর গল্প তুলে ধরবে ৷ আমি গর্বিত এমন একটা চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে৷’ ছবি শেয়ার করে প্রযোজক ও পরিচালকের বক্তব্য, “ইউনিফর্ম গায়ে নারীবাহিনির স্বার্থত্যাগ ক’জন জানেন! এঁরা দিনরাত এক করে দেশের সেবায় নিয়োজিত। তাঁদের প্রতিনিধ কঙ্গনা রানাওয়াত। আগামী ছবিতে তিনি মহিলা এয়ারফোর্স পাইলট।” ছবির প্রযোজনায় রনি স্ক্রুওয়ালা। পরিচালনায় সর্বেশ মেওয়ারা। আগামী বছরের এপ্রিলে ছবিটি মুক্তি পাবে।

বরাবরই নানা ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে এই অভিনেত্রীকে৷কুইন-এ জয়ললিতা, কখনও আবার রানি লক্ষ্মীবাঈ, পাঙ্গা-তে মহিলা কাবাডি প্লেয়ার, আর এই দফায় পাইলট হয়ে তিনি প্রস্তুত আকাশে পাখা মেলতে।  ফার্স্ট লুক বলছে, হাতে হেলমেট, বিমান চালকের পোশাকেও যথেষ্ট কনফিডেন্ট কঙ্গনা।

এর আগে কঙ্গনাকে দেখা গেছে “পঙ্গা” ছবিতে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রিচা চাড্ডা, নীনা গুপ্তা এবং জেসি গিল। কবাডি প্লেয়ারের চরিত্রটিও বেশ পরিশ্রমলব্ধ ছিল বলে স্বীকার করেছিলেন কঙ্গনা৷জননেত্রী জয়ললিতার বায়োপিক “থালাইভি”-ও বেশ চ্যালেঞ্জের ৷ কঙ্গনার আশা, এই ছবি নিয়ে যুব সমাজে তিনি দেশপ্রেম ও গর্বের অনুভূতি জাগিয়ে তুলবেন। এখন শুধু উড়ানের অপেক্ষায় রয়েছেন এই অভিনেত্রী৷ ওদিকে ছবিতে আরও এক বলিউড অভিনেত্রী ফাইটার পাইলটকে পেয়ে, আশা জেগেছে বলিউড প্রযোজকদের মনে৷ ‘গুঞ্জন সক্সেনা’ র ব্যর্থতার পর এবার বায়ুসেনার কাহিনি ঘিরে গড়ে ওঠা এই নয়া ছবি, হিট করবে বলেই আশা করছেন তাঁরা৷

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব