মডার্ন লাইফস্টাইল ডিজিজেস

বেশিরভাগ মানুষই এখন লাইফস্টাইল ডিজিজে ভুগছেন অর্থাৎ জীবনশৈলীর কারণে যে-অসুখগুলো সাধারণত হয়ে থাকে। অথচ স্ট্যান্ডার্ড অফ লিভিং এখন অনেক হাই।বেশিরভাগ মানুষই বিলাসবহুল বাড়ি বা ফ্ল্যাটে থাকছেন, যেখানে হাই-টেক ফেসিলিটি রয়েছে, মডার্ন গাড়ি চড়ছেন, সুস্বাদু খাবারের কোনও অভাব নেই। আর্থিক সচ্ছলতা রয়েছে, ফলে অসুস্থ হলে হাসপাতালগুলোতে ফাইভ স্টার ফেসিলিটিও উপভোগ করছেন। অথচ এতকিছু সত্ত্বেও মানুষের অসুস্থতা বাড়ছে। রক্তচাপ, মধুমেহ, অবসাদ, হাইপার টেনশন, দুশ্চিন্তা, ওবেসিটি, স্ট্রেস, হার্ট অ্যাটাক, কিডনি ফেলিওর, ব্রেন হেমারেজ, স্লিপ্ড ডিস্ক, বাত, জয়েন্টের ব্যথা, কিডনি ও গল ব্লাডারে পাথর, নানা রকমের ক্যানসার এবং টিউমার –দিনে দিনে বেড়েই চলেছে এবং ডাক্তার-রাও এখন ব্যর্থ হচ্ছেন পেশেন্ট-কে সম্পূর্ণ নীরোগ করে তুলতে।

সত্যিই কি এর থেকে বেরোবার কোনও উপায় আছে? আছে তো অবশ্যই। প্রথমত আমাদের জানার চেষ্টা করা উচিত যে, এর পিছনে কী কারণ রয়েছে এবং তারপর সমাধানের উপায় বার করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। লাইফস্টাইল ডিজিজের প্রধান কারণ হল আজ আমরা প্রকৃতির সান্নিধ্য থেকে নিজেদের অনেক দূরে সরিয়ে এনে কৃত্রিম জীবনযাপন করছি। অলস হয়ে পড়ছি। দৈহিক শ্রম করতে চাই না। অথচ আমরা খুব ভালো করেই জানি সুস্থ এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে গেলে কায়িক শ্রম, ব্যায়াম, মেডিটেশন এবং সুষম খাদ্যের প্রয়োজনীয়তার কথা। কিন্তু যতক্ষণ না আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ছি, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পুরো বিষয়টাকে আমরা অবহেলা করি। ডাক্তারের কাছে দৗড়োদৗড়ি এবং ওষুধ খাওয়া শুরু হলে তবেই সচেতনা বাড়ে।

ইলেকট্রনিক ইকুইপমেন্ট যেমন রেফ্রিজারেটর, এয়ারকন্ডিশনার, বাসনপত্র, রান্নার জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন রকমের ইলেকট্রিক্যাল মেশিনের অত্যধিক ব্যবহার এবং হাই-টেক গ্যাজেট্‌স যেমন মোবাইল, ইন্টারনেট-এর রেডিয়েশন আমাদের শরীর, মন এবং পরিবেশকে প্রতিনিয়ত প্রভাবিত করছে।

এমনকী আমরা যে-সমস্ত ফল, শাকসবজি, ডাল, খাদ্যশস্য ইত্যাদি খাই, সেগুলিও এখন কীটনাশক, সার ইতাদি দ্বারা আংশিক ভাবে বিষাক্ত। আধুনিক জীবনশৈলীর নামে আজ আমরা নিজেরাই এই মৃত্যুফাঁদ বেছে নিয়েছি। খাবার, জল, বাতাস, মাটি সর্বত্র দূষণের কারণে আমাদের পরিবেশও দূষিত বিষাক্ত হয়ে পড়ছে। এছাড়াও মডার্ন লাইফস্টাইল মেনটেন করতে গিয়ে, আমাদের ঘুমের সঠিক সময় মেনটেন করা হয় না।

অথচ এই অবস্থার কোনও উন্নতি করা সম্ভব নয়, ব্যাপারটা কিন্তু এমন জায়গাতে এখনও পৌঁছোয়নি। বিকল্প সমাধান অনেক রয়েছে।কিছু সমাধানের কথা এখানে বলা হল আপনাদের সুবিধার্থে।

যারা রক্তচাপে ভুগছেন

  • মাটির পাত্র অথবা তামার পাত্রে জল রেখে সেই জল পানীয় হিসেবে ব্যবহার করা উচিত
  • খালি পায়ে সবুজ ঘাসের উপর অন্তত একঘন্টা সকালে হাঁটা উচিত
  • প্রতিদিন সকালে ব্রেকফাস্টের আগে এবং ঘুমোতে যাওয়ার আগে মেডিটেশন এবং সঠিক ব্রিদিং প্র্যাক্টিস করা বাঞ্ছনীয়
  • তিনটি শিফ্ট-এ খাবার ভাগ করে খাওয়া উচিত– ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার। ব্রেকফাস্টে রান্না করা খাবার খাওয়া উচিত নয়
  • লাঞ্চ এবং ডিনারের জন্য ৫০ শতাংশ রান্না করা খাবার যেমন হাতে গড়া রুটি, ভাত, ডাল, সবজি এবং ৫০ শতাংশ কাঁচা সবজি স্যালাড হিসেবে খাওয়া উচিত
  • সন্ধেবেলায় সবুজ ঘাসের উপর খালি পায়ে হাঁটা দরকার
  • সকালে খবরের কাগজ পড়ার থেকে গান গাওয়া বা গান শোনা অনেক ভালো, যেটা কিনা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে
  • চা, কফি, তৈলাক্ত খাবার বর্জন করা উচিত
  • প্রয়োজনের বেশি খাওয়া উচিত নয়
  • খিদে না পেলে খাবেন না
  • আপনার বা আপনার ফ্যামিলির সঙ্গে কী ঘটেছে অথবা কী ঘটতে পারত, এই অযথা চিন্তা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করুন
  • রাগ সংযত করে মাথা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করুন। বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়লে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং এর ফলে হার্টে ব্লকেজ দেখা দিতে পারে

  শরীরে মেদ জমা ঠেকাতে

পেট অথবা শরীরের যে-কোনও অংশে মেদ জমাটা ডাক্তাররা ভালো চোখে দেখেন না কারণ মেদ জমা মানেই শরীরে সমস্যার সূত্রপাত। এর প্রতিকার হল–

  • ৫ থেকে ৬ গ্লাস জল সারাদিনে খাওয়া
  • রোজ টয়লেট যাওয়ার পর ১ থেকে ২ ঘন্টা হাঁটা অত্যন্ত জরুরি
  • ব্রেকফাস্টে স্প্রাউট, ফাইবার যুক্ত ফল এবং ভিটামিন ‘সি সমৃদ্ধ ফল, শসা ইত্যাদি থাকা বাঞ্ছনীয়
  • প্রসেসড বা ফাস্টফুড যেমন পিৎজা, বার্গার, স্যান্ডউইচ, পকোড়া, সিঙ্গাড়া, কচুরী, পরোটা ইত্যাদি বর্জন করা শ্রেয়
  • লাঞ্চ-এ আস্ত শস্যদানা (হোল গ্রেন) বা মাল্টি গ্রেন-এর রুটি সঙ্গে সবরকমের সবজি এবং সব রকমের সবজি দেওয়া রায়তা খাওয়া উচিত। ৫০ শতাংশ রান্না করা খাবার খাওয়াটা এই ক্ষেত্রে বাঞ্ছনীয়
  • লাঞ্চ বা ডিনারের আগে বা পরে জল একেবারেই খাবেন না
  • লাঞ্চ ও ডিনারে ফল খাবেন না
  • ডিনারে ৪০ শতাংশ রান্না করা খাবার খেতে পারেন যেমন হোল গ্রেন রুটি সঙ্গে সবরকমের শাকসবজি। বাকি ৬০ শতাংশ খাবার স্যালাড হওয়াই বাঞ্ছনীয়।

যাদের মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের সমস্যা আছে 

  • ব্যালেন্সড ডায়েট খাওয়া বাঞ্ছনীয়
  • রোজ নিয়ম করে হাঁটা উচিত। বাগানে গিয়ে গভীর নিঃশ্বাস নিন
  • সকালবেলায়, পারলে সূর্যোদয়ের আগে অন্ততপক্ষে ৩০ মিনিট মেডিটেশন করুন
  • ক্লাসিক্যাল মিউজিক অথবা ইনস্ট্রুমেন্ট (বাদ্যযন্ত্র) শেখা দরকার

 যারা উদ্বেগ, অস্থিরতা এবং অবসাদের শিকার 

  • সকালে খোলা মাঠে বা বাগানে অনেকক্ষণ হাঁটুন
  • জোরে জোরে হাসা অভ্যাস করুন
  • ব্যালেন্সড ডায়েট মেনে চলুন এবং সি ও ই ভিটামিন-যুক্ত ফল বেশি করে খান
  • প্রসেসড এবং ফাস্টফুড একেবারেই খাবেন না
  • গান শুনুন। সকালে ও সন্ধেবেলায় অন্তত ৩০ মিনিট মেডিটেট করুন
  • বিভিন্ন রঙের ফল খান এবং শাক-পাতা-যুক্ত সবজি বেশি করে খান
  • যেসব ফল এবং সবজিতে ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে সেগুলি বেশি করে খান
  • চা, কফি, অ্যালকোহল, কোল্ড ড্রিংক, প্যাকেট করা ফলের রস খাবেন না
  • গ্রিন টি, ফ্রেশ ফলের রস, নুন, চিনি বাদ দিয়ে খান।

যাদের আলসার অ্যাসিডিটি গ্যাসট্রিক সমস্যা আছে

  • সকালে উঠেই ৫-৬ গেলাস জল খাওয়া উচিত
  • খালি পায়ে ঘাসের উপর হাঁটা দরকার
  • সকালে ৩০ মিনিট মেডিটেট করুন
  • নানা ধরনের ফল অথবা স্প্রাউট খান (সেদ্ধ অথবা ভাপানো কোনওটাই চলবে না)
  • ব্যালেন্সড ডায়েট নিন
  • সবরকমের সবজি দিয়ে বানানো রায়েতা এবং নারকেলের শাঁস খান
  • সবুজ অথবা লাল লংকা, গোলমরিচ, আচার, ক্যান্ডি, কোল্ড ড্রিংক, প্যাকেটবন্দি ফলের রস, ময়দার তৈরি খাবার ইত্যাদি খাওয়া একেবারেই উচিত নয়
  • তৈলাক্ত এবং মশলাদার খাবার যেমন লুচি, পরোটা, পকোড়া, মিষ্টি, দুধ ইত্যাদি খাওয়া বর্জন করুন

ক্যানসার, টিউমারের মতো সমস্যা যাদের রয়েছে

সব ধরনের ক্যানসার, টিউমার অথবা অন্যান্য অসুখ যেমন সোয়াইন ফ্লু, ডেঙ্গু, হার্ট বা লিভারের সমস্যা সবকিছুই অনেকটা কমিয়ে ফেলা যায় বা চিকিৎসাযোগ্য করে তোলা যায়। এর জন্য ডায়েট, মেনটাল অ্যাটিটিউড-এ বিশাল একটা পরিবর্তন করতে হবে এবং সেটা সম্ভব হবে হাই পাওয়ার নিউট্রিশন, ডিটক্সিফিকেশন, মেডিটেশন এবং এক্সারসাইজের মাধ্যমে। কেমোথেরাপি অথবা রেডিয়েশনের দরকারই পড়বে না। স্বাভাবিক নিয়মেই শরীরে প্রতিরোধশক্তি গড়ে উঠবে এবং এটা কোনও বিকল্প সমাধানের রাস্তা নয় বরং বলা যেতে পারে এটাই বেসিক থেরাপি।

বব বিশ্বাস-এর শ্যুটিংয়ে কলকাতায় অভিষেক বচ্চন 

বছরের গোড়ায় সেই জানুয়ারি মাস নাগাদ বব বিশ্বাস-এর শ্যুটিংয়ের জন্য কলকাতায় এসেছিলেন বচ্চনপুত্র। সেই সময় টানা ৪০ দিন কলকাতায় শুটিং-ও করেছিলেন অভিষেক। চলেছিল সুজয় ঘোষের কন্যা দিব্যা অন্নপূর্না ঘোষ পরিচালিত এই ছবির শ্যুটিং।মাঝে করোনার জেরে সব ওলোটপালট। আনলক পর্বের পর এবং নিজেও করোনামুক্ত হয়ে, এই প্রথম পুরোদমে ফিল্মের শ্যুটিং শুরু করছেন অভিষেক বচ্চন। শুক্রবার থেকেই শুরু হল ছবির শ্যুটিং। প্রথমদিন ছবির শ্যুটিং হল দক্ষিণ কলকাতায়।এই দফায় বব বিশ্বাসের শ্যুটিং-এ ৪২ দিন কলকাতায় থাকবেন অমিতাভপুত্র।

নভেম্বরের শেষ দিক থেকে শুরু করে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে ছবির শ্যুটিং। সূত্রের খবর, ময়দান, পঞ্চসায়র, পাটুলি ও বেনিয়াপুকুর-মূলত কলকাতার এই চারটি লোকেশনে চলবে শ্যুটিংয়ের কাজ। ছবিটিতে বব বিশ্বাসের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করছেন বলিউড তারকা চিত্রাঙ্গদা সিং। এদিন শুটিংয়ে অভিনেত্রী চিত্রাঙ্গদা সিং পরেছিলেন লাল রঙের লং ফ্রক। আর অভিষেক বচ্চন পরেছিলেন ফুলহাতা নীল শার্ট ও ছাইরঙা ফরমাল প্যান্ট। পায়ে কালো পাম শু। অভিষেক বচ্চনকে দেখতে ভিড় জমেছিল শুটিংস্পটে। সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে থাকছেন অনুপম রায়। ছবিতে বিদ্যা বাগচি হিসেবে স্পেশাল অ্যাপিয়ারেন্স থাকবে বিদ্যা বালনের।

গত বছর নভেম্বরে শাহরুখ খানের প্রযোজনা সংস্থা রেড চিলিস এন্টারটেনমেন্টের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা সারা হয় বব বিশ্বাসের। এরপর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের ঝড় বয়ে গেছে। কেন বব বিশ্বাসের ভূমিকায় অভিষেক? কেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় নয়, প্রশ্ন তুলেছিলেন অনুরাগীরা। সুজয় ঘোষের সুপারহিট ছবি ‘কাহানি’র অংশ ছিল বব বিশ্বাস। হিন্দি ছবির ইতিহাসে এরকম ঠান্ডা মাথার ও হাসিমাখা মুখের কন্ট্রাক্ট কিলার দর্শক কমই দেখেছেন। স্ক্রিন টাইম খুব বেশি না হলেও শাশ্বত দর্শকদের মন জিতে নিয়েছিলেন। ‘নমস্কার, এক মিনিট’- বব বিশ্বাসের এই ডায়লগ ফিরত দর্শকদের মুখে মুখে। সেই আইকনিক বব বিশ্বাসকে নিয়ে একটা পুরোদস্তুর ফিল্ম তৈরি করছেন সুজয় কন্যা।

যদিও শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের জায়গায় বব বিশ্বাস কতখানি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারবেন অভিষেক, তা নিয়ে কিছুটা সন্দিহান বাঙালি সিনেপ্রেমীরা।গল্পের কোনও অংশে শাশ্বত থাকছেন কিনা কিংবা গন্পে অন্য কোনও টুইস্ট অপেক্ষা করছে কি না, তা এখনই স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

সদ্যই নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে অভিষেক অভিনীত ‘লুডো’। অনুরাগ বসুর এই ছবিতে অভিষেকের কাজ যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছে।অভিষেকের বং-কানেকশন বাংলার দর্শকদের কাছে আলাদা গুরুত্ব পায় এ কথা সকলেই জানেন। এবার বাঙালি বাবুর এই নয়া অবতারে, অভিষেককে দেখতে এক্সাইটেড সকলেই।

এগিয়ে আজ মেয়েরা

পরীক্ষার ফলাফলই আজ বলে দিচ্ছে মেয়েদের স্থান। রেজাল্টে মেয়েদের পাশের সংখ্যা যেমন ছেলেদের তুলনায় বেশি, তেমনি তাদের সাফল্যও চমকে দেওয়ার মতো। আজও অনেক বাধা থাকা সত্ত্বেও মেয়েরা যেমন এডুকেশন-এ টপ করছে তেমনি পেশার জগতেও বহু ক্ষেত্রে পুরুষদের পিছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে। আর শুধু এইটুকুতেই তারা থেমে থাকেনি, পুরুষদের মতোই বাড়ি এবং সমাজের দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছে।

কিন্তু পিছন ফিরে তাকালে দেখা যাবে একসময় ধরেই নেওয়া হতো যে, কন্যাটি স্কুলের শিক্ষা শেষ করেই সংসারের কাজে হাত লাগাবে। উচ্চ শিক্ষার বদলে সংসারে খুঁটিনাটি শিখতে পারলেই বিয়ের বাজারে তার মূল্য বাড়বে। পাত্রর সন্ধান পেতেই নাবালিকা মেয়েদের বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দেওয়া হতো। তাদের নিজেদের ইচ্ছার কোনও মূল্যই থাকত না।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজ বদলাচ্ছে। বদলাচ্ছে মানুষের মানসিকতাও। সংসারের সীমিত গন্ডির মধ্যে আজ তারা থাকতে বাধ্য নয়। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আজ মেয়েরা, বাড়ির পুরুষ সদস্যদের থেকে এগিয়ে রয়েছে। তাই বলে কি পুরুষরা নিজেদের দায়িত্ব পালনে কোথাও পিছিয়ে যাচ্ছে? এটা ঠিক মেয়েরা মা-বাবা, পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব সামলে বাইরের সমাজেও যেভাবে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলছে ঠিক তেমনটা পুরুষদের ক্ষেত্রে বিশেষ চোখে পড়ে না। বাইরের কাজেই তারা নিজেদের সীমাবদ্ধ করে ফেলে। বাড়ির দায়-দায়িত্ব স্বাভাবিক ভাবেই মেয়েদের উপর এসে বর্তায়।

মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি

মেয়েরা যদি বাড়ির কাজ সামলে বাইরের কাজও সমান দক্ষতার সঙ্গে করতে পারে, তাহলে ছেলেরা পিছিয়ে রয়েছে কেন? বাড়ির কাজের প্রতি ছেলেদের একটা অবজ্ঞার ভাব লক্ষ্য করা যায়। মেয়েরা যেখানে রান্নাঘরের পুরো দায়িত্ব সামলাচ্ছে সেখানে পুরুষেরা বাড়ির আরও অন্য কাজে হাত না লাগিয়ে বাইরেই নিজেদের ব্যস্ত রাখছে। রান্না ছাড়াও বাড়ির অনেক কাজ থাকে যেমন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ানের প্রয়োজন হলে তাদের ডেকে আনা জামাকাপড় প্রেস করা ইত্যাদি – যেগুলো পুরুষদের জন্য একেবারেই কঠিন কাজ নয়। সপ্তাহের সাতদিন যদি মেয়েরা ঘরে-বাইরে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তাহলে পুরুষদের করতে বাধা কোথায়?

আসলে অনেক আগে থেকে নারী এবং পুরুষের মধ্যে ভেদাভেদ করা শুরু হয়েছে। কোন কাজটা মেয়েরা করবে আর কোনটা পুরুষদের করার, সেটাও ধার্য করা রয়েছে বহু আগে থেকেই। সেইজন্যই ছেলেদের মনের মধ্যে বসে গেছে বাড়ির যাবতীয় কাজই মেয়েদেরই শুধু করার। কিন্তু এখন এই মানসিকতা সব পরিবারে আর নেই। আমাদের সমাজও বদলাচ্ছে। এর সঙ্গে তাল রেখেই সেইসব পরিবারের ছেলে ও মেয়েরা বাড়ির সব কাজেই সমান ভাবে হাত লাগাচ্ছে।

লিঙ্গ ভেদাভেদ করার আগে প্রত্যেকটা মানুষের কর্তব্য, মনুষত্ব বজায় রেখে একজন ভালো মনের মানুষ হয়ে ওঠার দায়িত্ব পালন করা। আজও যদি আমরা এই স্বাধীন দেশের মাটিতে বসে নারী ও পুরুষের মধ্যে ভেদাভেদ করার চেষ্ট করি, তাহলে আমাদের মানসিকতা, আমাদের বিচার, ভাবনা সবই সংকুচিত হয়েই থেকে যাবে।

ভেদাভেদ না করার চেষ্টা

বহুদিন হল দেশ-স্বাধীন হয়েছে। সময়ও বদলেছে, রোজই আরও বদলাচ্ছে। কিন্তু কিছু কিছু জিনিস আজও পরাধীন রয়ে গেছে।  যুগান্তব্যাপী মানসিকতা বদলানো কঠিন কাজ। কোনও কোনও পরিবারে মেয়ে না হলে বাড়ির সকলে দুঃখ পায় যে, পরিবারে একটাও মেয়ে নেই। আবার এমনও পরিবার আছে যেখানে মেয়ে নেই বলে সকলে আনন্দ প্রকাশ করে। এইসব মানুষই সমাজকে পুরোনো ধ্যান-ধারণার বশবর্তী করে রেখে দিতে চায়।

সমাজের যারা মাথা তারা মনে করেন সমাজ তথা প্রতিটা পরিবারের উচিত সন্তানকে ছোটো থাকতে শেখানো, ছেলে-মেয়ের মধ্যে পার্থক্য না করতে। ছোটো বেলায় ছেলেরা কান্নাকাটি করলে বোঝানো হয় কাঁদাটা মেয়েদের কাজ, ছেলেদের কাঁদা শোভা পায় না। সুতরাং এই ধরনের শিক্ষা পেয়েই ছেলেরা বড়ো হয়ে ওঠে। ওই ভাবেই তাদের মানসিকতাও গড়ে ওঠে। তারা শিখেই আসে বাড়ির কাজ মেয়েদের জন্য তাই বাড়ির কোনও কাজে তাদের যোগদান কম থাকে। সুতরাং বাড়িতে যদি এই ধরনের শিক্ষা দেওয়া বন্ধ হয় তবেই আমাদের সমাজে নারী-পুরুষের মধ্যে ভেদাভেদ করা বন্ধ হতে পারবে।

শিশুর কী প্রয়োজন, বুঝুন

মায়ের সঙ্গে সন্তানের নাড়ির বন্ধন। শিশুর জন্মের পর প্রথম যখন তাকে মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তখনই মাতৃমনে সন্তানের সঙ্গে অটুট বন্ধনেরও সূচনা হয়। সন্তানের প্রতি দায়িত্ব পালনের মানসিকতা তৎক্ষণাৎ জন্ম নেয় মায়ের মনে। এরজন্য একজন মা-কে আগে থেকে পড়াশোনা বা ট্রেনিং নিয়ে আসার দরকার পড়ে না। মায়ের মন সন্তানের সব প্রয়োজন নিজেই বুঝে যায়। শুধু নিজের উপর কনফিডেন্স রাখাটা দরকার। নতুন যারা মা হয়েছেন তারা হয়তো ছোটোখাটো ভুলচুকের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। প্রকৃতিই মায়ের মনে এনে দেয় মাতৃত্বের কোমল অনুভূতি। আসুন জানি কীভাবে কনফিডেন্টলি বাচ্চাকে বড়ো করে তুলবেন।

বাচ্চার স্নানের সময়

অনেক মায়েরাই নবজাতককে প্রথমবার স্নান করাতে গিয়ে ভয় পান অথচ নবজাত শিশুকে স্নান করানোর সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে কাজটা সাবধানের সঙ্গে খুব সহজেই সেরে ফেলা যায়। স্নানের নিয়ম

১)       বাথটাব-এ বাচ্চাকে স্নান করানো উচিত এবং খেয়াল রাখা উচিত টাব যেন খুব গভীর না হয়

২)       ঈষদুষ্ণ জলে বাচ্চাকে স্নান করান। জলের উষ্ণতা মাপার জন্য নিজের কুনই দিয়ে আগে জলটা চেক করে তারপর বাচ্চাকে ওই জলে স্নান করানো বাঞ্ছনীয়

৩)      প্রথমে হুড়হুড় করে বাচ্চার মাথায় জল না ঢেলে বাচ্চার গায়ে জলের ছিটে দিন। তারপর ধীরে ধীরে একটু একটু করে জল ঢালুন

৪)       বাচ্চাদের জন্য তৈরি প্রোডাক্ট-ই ওদের জন্য ব্যবহার করুন। খেয়াল রাখতে হবে ওতে যেন প্যারাবেন্স, এসএলএস অথবা এসএলইএস-এর মতো তত্ত্ব না থাকে

৫)       বাচ্চার কানে বা নাকে যাতে জল না ঢোকে খেয়াল রাখতে হবে

৬)      সরাসরি বাচ্চার মাথায় জল ঢালবেন না। শিশুর ঘাড়ের নীচে হাত রেখে হাত দিয়ে জল তুলে ধীরে ধীরে মাথা ধুইয়ে দিন। জোরে জল ঢাললে মাথায় আঘাত লাগতে পারে

৭)       স্নান করানো হয়ে গেলে তোয়ালে দিয়ে শিশুর শরীর পুরো জড়িয়ে নিন এবং ত্বক ভালো করে মোছানো হয়ে গেলে লোশন লাগিয়ে দিন

বাচ্চা অতিরিক্ত কাঁদলে

অনেক সময় বাচ্চা কাঁদতে আরম্ভ করলে বাচ্চাকে চুপ করানো মুশকিল হয়ে যায়। তিনমাস বয়স পর্যন্ত বাচ্চা কোনও কারণ ছাড়াও কাঁদতে পারে। ওই সময় কোলে তুলে বাচ্চাকে একটু ঘোরালেই বাচ্চা চুপ করে যায়। যদি তাতেও তার কান্না বন্ধ না হয় তাহলে খিদে পাওয়া, ডায়াপার নোংরা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও হয়ে থাকতে পারে। সুতরাং সেই খেয়ালও মা-কে রাখতে হবে।

অনেক সময় খিদে পেলে বাচ্চা কাঁদতে থাকে। খাওয়া শেষ হলে কাঁধের উপর ফেলে বাচ্চাকে ঢেঁকুর তোলানো উচিত, যাতে বাচ্চার পেটে গ্যাস জমতে না পারে। গ্যাস জমলেও বাচ্চার পেট ব্যথা করে। অনেক সময় ঢেঁকুর তোলানো সত্ত্বেও বাচ্চা তারপরেও কাঁদতে থাকে কারণ অল্প সময়ের ব্যবধানে বাচ্চার খিদে পেতে থাকে। বাচ্চার খাওয়ার সঠিক সময় কী, খেয়াল রাখাটা খুব জরুরি।

এছাড়াও আরও কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে

১)       বাচ্চার ডায়াপার সম্পূর্ণ ভিজে গেলে বাচ্চা অস্বস্তি বোধ করতে থাকে এবং বাচ্চা ঘুমোতে পারে না, কাঁদতে থাকে। তাই কিছু সময় বাদে বাদে ডায়াপার চেক করাটা খুব জরুরি। ভিজে ডায়াপার বদলে দিলেই বাচ্চা শান্ত হয়ে যাবে

২)            কখনও কখনও ভিজে ডায়াপারে বাচ্চাকে অনেকক্ষণ রাখলে বাচ্চার ত্বকে র‍্যাশ বেরোয়। জায়গাটা ব্যথা করে এবং চুলকায়। সুতরাং র‍্যাশ বেরিয়েছে কিনা চেক করাটা খুব দরকার। ন্যাপি বদলাবার সময় জিংকঅক্সাইড যুক্ত ন্যাপি ক্রিম, লাগানো উচিত

৩)      ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে বাচ্চার নতুন দাঁত গজায়। সেই সময়ও বাচ্চার শারীরিক কিছু সমস্যা হয়, যার ফলে বাচ্চা কান্নাকাটি করে

৪)       অনেক সময় বাচ্চা এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়ে যে, কীসে সে আরাম পাবে কেউই সেটা বুঝে উঠতে পারে না। এই সময় মায়ের কোলই তার বিশ্রামের সঠিক জায়গা। মায়ের কোলে গেলেই সে একমাত্র নিশ্চিত হয়ে ঘুমোতে পারে

বাচ্চার সারারাত জেগে থাকা

নবজাত শিশু সাধারণত সারারাত জেগে থেকে দিনে ঘুমোয়। অনেক বাচ্চা আবার দিনেও ঠিক করে ঘুমোয় না, আবার রাতেও জেগে থাকে। ফলত বাচ্চার মা-বাবাকেও বাচ্চার সঙ্গে জেগে থাকতে হয়। কোনওরকম অসুবিধাবোধ করলেও বাচ্চা জেগে থাকে। কী অসুবিধা হচ্ছে বাচ্চার সেটা মা-কেই বুঝে নিতে হয়।

কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখুন

১)           রাত্রে বাচ্চা বহুবার ঘুম থেকে উঠে পড়ে খিদের জন্য। তখন বারবার বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে হয়। একবারে অনেকটা দুধ বাচ্চা খেতে পারে না। ব্রেস্টপাম্পের সাহায্যে মায়ের দুধ স্টোর করে সারারাত ধরে সেটা বাচ্চাকে খাওয়ানো যেতে পারে। এতে মায়েরও খানিকটা বিশ্রাম হয় আর বাচ্চাকেও খিদের জ্বালা সহ্য করতে হয় না

২)       বিশেষ কোনও খেলনা বা চাদর বা অন্য কিছু নিয়ে যদি বাচ্চার শোয়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে মা-কে খেয়াল করে সেটা বাচ্চার কাছে রেখে দিতে হবে যাতে শিশুর ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটে

৩)      একটি নির্দিষ্ট সময় ধরেই বাচ্চাকে ঘুম পাড়ানো উচিত যাতে সেটা তার অভ্যাস হয়ে যায়। বড়োদের মর্জিমাফিক বাচ্চার শোবার সময় এধার-ওধার হলে বাচ্চার ঘুমের অসুবিধা হবে

৪)       জ্বর, সর্দি, পেট বা কানে ব্যথার মতো সমস্যার কারণেও বাচ্চার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে সুতরাং সেটাও লক্ষ্য রাখা দরকার

খেলনার প্রয়োজনীয়তা

শিশুর জন্মের পরেই তার মা-বাবা বিভিন্ন ধরনের খেলনা কিনে বাচ্চার ঘর সাজিয়ে তোলে, যাতে প্রতিমুহূর্ত খেলনার সঙ্গে তার সময় কাটে। কখনও শুধু চোখে দেখে বা কানে শুনে অথবা হাতে নিয়েও খেলনার সঙ্গে বাচ্চা সময় কাটায়। প্রথমেই খেলনার কোয়ালিটি যাতে ভালো হয় সেটা খেয়াল রাখতে হবে কারণ বাচ্চার অভ্যাস হয় খেলনা হাতে নিয়েই মুখে পুরে দেওয়া।

টাঙানো যায় এমন খেলনা, যাতে নানা রঙের পশুপাখি ঝোলানো থাকে যেমন ভল্লুক, হাতি, ঘোড়া, টিয়াপাখি ইত্যাদি শিশুর জন্য ভালো। এটা দেখে বাচ্চা খুশিও হয় এবং চোখের মাধ্যমে মনযোগ কেন্দ্রিভূত করাও শেখে।

কোনও কোনও খেলনায় ঘন্টা লাগানো থাকে। বাতাসে দুললে টুংটাং আওয়াজ হয় এবং আওয়াজে বাচ্চা চুপ করে যায়। এছাড়াও কাপড়ের তৈরি নরম খেলনাও বাচ্চাকে দেওয়া যেতে পারে।

মুখ দিয়ে খাবার তোলার অভ্যাস

বাচ্চার তিনমাস বয়স হওয়া পর্যন্ত বাচ্চা কিছু খেলেই সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা খাবার মুখ দিয়ে তুলে দেয়। মায়েরা এতে চিন্তায় পড়ে যান যে এই অভ্যাস কীভাবে বদলাবেন।

এই ক্ষেত্রে বাচ্চার অভ্যাস নয়, বড়োদের নিজেদের অভ্যাস কিছুটা বদলাবার দরকার। বাচ্চাকে দুধ খাইয়ে সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চার সঙ্গে খেলা করা উচিত নয় বা কোলে তুলে নাচাবার দরকার নেই। বরং কাঁধে ফেলে ধীরে ধীরে বাচ্চার পিঠ চাপড়ানো উচিত যাতে দুধ হজম হয়ে বাচ্চার ঢেঁকুর উঠে যায়। অনেক সময় ঠান্ডা দুধ খাওয়ালেও বাচ্চা মুখ দিয়ে দুধ বার করে দেয় কারণ ঠান্ডা দুধ শিশু পছন্দ করে না।

ঘামাচি হলে

গরমের সময় বাচ্চাদের ঘামাচি হতে প্রায়শই দেখা যায়। কিছু সাবধানতা মেনে চললে এই সমস্যা এড়ানো যায়।

১)       গরমের সময় বাচ্চাকে হালকা, ঢিলে এবং নরম সুতির পোশাক পরানো উচিত। ত্বকে ফুটবে, অস্বস্তি হবে এমন পোশাক এড়িয়ে চলুন

২)       বাচ্চার জন্য সব ধরনের ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করবেন না। রাইস স্টার্চযুক্ত বেবি পাউডারই খালি ব্যবহার করবেন। এতে র‍্যাশ হবে না

৩)      বাচ্চার যেখানে ঘামাচি হয়েছে সেই জায়গাটা দিনে ২-৩ বার পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে দিন বা স্পঞ্জ করে দিন

৪)       সুগন্ধ-যুক্ত সাবান দিয়ে বাচ্চাকে স্নান করাবেন না বা তেল লাগাবেন না। এতে কেমিক্যাল মেশানো থাকে যা বাচ্চার স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক

কনফিডেন্ট হয়ে বাচ্চার মালিশ করুন

১)       বাচ্চার পা থেকে মালিশ শুরু করুন। হাতে তেল নিয়ে থাই থেকে ক্রমশ হাঁটু হয়ে নীচের দিকে টেনে টেনে মালিশ করুন। গোড়ালি, পায়ের নীচেও ভালো করে মালিশ করুন এবং পায়ের আঙুল চক্রাকারে ঘুরিয়ে মালিশ করুন

২)       বাচ্চার বুক, পিঠ, হাত, হাতের আঙুল সব জায়গায় মালিশ করুন

৩)      দুধ খাওয়ার পর বা শোবার সময় বাচ্চাকে মালিশ করবেন না

৪)       মালিশের সময় বাচ্চা কাঁদলে কোলে নিয়ে চুপ করান

অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস

আমাদের দেশে শুষ্কতার মিশেলে তৈরি হয় অসহ্যকর পরিস্থিতি। আর এই পরিস্থিতিতে চোখ আক্রান্ত হয় অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস-এ। কিন্তু কীভাবে বুঝবেন আপনি এই অসুখে আক্রান্ত হয়েছেন? কিংবা, সঠিক সময়ে চিকিৎসা করালে আপনি কী উপকার পাবেন, সেই বিষয়ে সম্প্রতি আলোকপাত করেছেন ডা. জয়িতা দাস।

Allergic Conjunctivitis কী?

অ্যালার্জির কারণে যখন চোখের সাদা অংশে একপ্রকার পাতলা আস্তরণ পড়ে চোখ চুলকোতে থাকে এবং লাল হয়ে ওঠে, সেই অবস্থাটিকে বলা হয় চোখের অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস।

চোখের Allergic Conjunctivitis কখন এবং কেন হয়?

চোখের এই অসুখ, অর্থাৎ, অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস সারাবছর ধরে অনেকেরই হতে থাকে। তবে, গ্রীষ্মকালে এই রোগের প্রকোপ বাড়ে। আর এই অসুখে বেশি আক্রান্ত হয় শিশুরা। কারণ, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। আসলে, গ্রীষ্মকালে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, ধুলো-ধোঁয়াযুক্ত দূষিত বায়ু, কিছু ফুলের ক্ষতিকারক রেণু, পশুর লোম, পশু-পাখির মলমূত্র প্রভৃতি যখন চোখের সংস্পর্শে আসে, তখন অনেকের চোখ আক্রান্ত হয় অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস-এ। এই সময় আইবল এবং সাদা অংশের উপর একপ্রকার আস্তরণ পড়ে যায় এবং চোখ তা সহ্য করতে পারে না, তাই লাল হয়ে যায় এবং চুলকোতে থাকে।

অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস-এর কোনও ধরন আছে কি?

মূলত দু’রকম অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস হয়। একটি হল অ্যাকিউট অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস এবং অন্যটি হল ক্রনিক অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস। অ্যাকিউট-এ ভোগায় কম অর্থাৎ খুব কম সময়ের মধ্যে এটি সেরে যায়। এই ক্ষেত্রে চোখের পাতা (আইলিড্‌স) হঠাৎ ঘেমে ওঠে, চুলকোয় এবং জ্বালা করে। আর ক্রনিক-এর ধরন হল, সারা বছর ধরে মাঝেমধ্যে এই সমস্যা হতে থাকে। এই অ্যালার্জি সাধারণত কোনও খাবার থেকে হতে পারে, ধোঁয়া, ধুলো কিংবা দূষণযুক্ত বায়ু থেকে হতে পারে এবং পশুর লোম, লালা (স্যালাইভা) প্রভৃতি থেকেও হতে পারে। আর এই ক্ষেত্রে চোখে জ্বালা-যন্ত্রণা হওয়া ছাড়াও, আলো সহ্য করতে অসুবিধে হবে।

অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস কখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে?

অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস-এ আক্রান্ত হওয়ার পরও যদি সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হয় এবং সেই অবস্থায় যদি ধুলো-ধোঁয়াযুক্ত দূষিত পরিবেশে বসবাস করেন, তাহলে চোখের বড়োরকম ক্ষতি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।

অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস-এর চিকিৎসা কীভাবে হয়?

আমরা প্রথমে আই চেক-আপ করি এবং জেনে নিই অ্যালার্জিক হিস্ট্রি। এরপর যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে অ্যালার্জি স্কিন টেস্ট এবং ব্লাড টেস্ট করে সমস্যার আসল কারণ বুঝে নিয়ে সেইমতো চিকিৎসা শুরু করি। সমস্যা কম থাকলে অনেকসময় শুধু আই-ড্রপ দিয়েই চিকিৎসা করা হয়। এরমধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-ইন্ফ্লামেটরি এবং অ্যান্টি-ইন্ফ্লামেশন আই-ড্রপ। অনেকসময় ভাইরাল অথবা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন-এর কারণেও অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস হয়, সেক্ষেত্রে চিকিৎসাও করতে হবে সেই মতো। আই-ড্রপ ছাড়াও, ওরাল মেডিসিন এবং ইঞ্জেকশন দিয়েও চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। আর কোনও রোগীর ক্ষেত্রে অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস যদি জটিল রূপ নেয়, তাহলে রোগিকে হাসপাতালে অবজারভেশন-এ রেখেও চিকিৎসা করতে হতে পারে।

অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস-এ যাতে আক্রান্ত না হতে হয়, অথবা রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত বলে মনে করেন আপনি?

যে-কোনও অসুখ এড়াতে কিংবা বাড়াবাড়ি আটকানোর জন্য কিছু বিষয় মেনে চলা উচিত।

সতর্কতা

> চোখ লাল হলে কিংবা চুলকোলে আঙুল দিয়ে রগড়াবেন না। কারণ, আঙুল দিয়ে রগড়ালে, আঙুলে যদি জীবাণু থাকে তাহলে তা চোখে সংক্রামিত হয়ে আরও বেশি ক্ষতি করতে পারে চোখের। তাই, চোখ চুলকোলে শুধু ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন বারবার

> নিজে থেকে কোনও ওষুধ খাবেন না কিংবা না জেনে চোখে কোনও ড্রপ ব্যবহার করবেন না। বড়ো ক্ষতি এড়াতে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চিকিৎসা করুন চোখের

কী কারণে চোখে অ্যালার্জি হচ্ছে, তা খুঁজে বের করে সমস্যামুক্ত থাকার চেষ্টা করুন

ধুলো-ধোঁয়া এবং দূষণ এড়ানোর জন্য গাড়ি চালানোর সময় জানলা বন্ধ রেখে এসি ব্যবহার করুন

> কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করলে যদি চোখে অ্যালার্জি হতে থাকে, তাহলে কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার বন্ধ করুন। আর যদি কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে ভালোমানের লেন্স ব্যবহার করুন

> বাজার, মেলা প্রাঙ্গণে অথবা যে-কোনও ওভার ক্রাউডেড পলিউটেড এলাকায় বাচ্চাদের নিয়ে গেলে চোখে সানগ্লাস পরিয়ে নিয়ে যান এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওই দূষণযুক্ত জায়গা ছাড়ুন

> ভালোমানের প্রসাধন সামগ্রী ছাড়া ব্যবহার করবেন না, কারণ, বাজে কেমিক্যাল-যুক্ত কসমেটিক্স চোখের ক্ষতি করতে পারে

>  ধুলো, ধোঁয়া থেকে দূরে থাকুন এবং ধূমপান ছাড়ুন

>   বাড়িঘর নোংরা আবর্জনায় ভরিয়ে রাখবেন না। ভালো ভাবে ঝেড়ে-মুছে বাড়িঘর পরিচ্ছন্ন রাখুন। ঘরে পর্যা৫ আলো-হাওয়া ঢুকতে দিন

>   রোদে বেরোলে ব্যবহার করুন ভালোমানের ইউভি প্রোটেকটেড সানগ্লাস

কম্পিউটার ও মোবাইল-এর কুপ্রভাব

কথায় বলে বড়োদের দেখে শেখে শিশুরা। সুতরাং, বড়োরা যা করবে শিশুদের সামনে, শিশুরা তা-ই অনুসরণ কিংবা অনুকরণ করবে অনায়াসে। মা, বাবা কিংবা পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রয়োজনের তাগিদে কিংবা অভ্যাসবশত এখন দিনের অনেকটা সময়-ই কম্পিউটার, ল্যাপটপ কিংবা মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। আর এসব দেখতে-দেখতেই বেড়ে উঠছে শিশুরা। এমনও দেখা যায়, শিশুকে কোলে রেখেই মা-বাবা মোবাইল, কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করছেন। ফলে, ছোটো থেকে শিশুরাও এসবের ব্যবহার রপ্ত করে ফেলছে।

এরই পাশাপাশি, স্কুল-এর Computer ক্লাস, বাড়িতে প্রোজেক্ট ওয়ার্ক প্রভৃতির জন্যও আবশ্যক হয়ে পড়ছে কম্পিউটার। এছাড়া, ভিডিয়ো গেমস তো আছেই। আর ছোটো থেকেই এসবের অতি-ব্যবহারের কুপ্রভাব পড়ছে ওদের চোখে, ঘাড়ে, পিঠে, কাঁধে এবং মাথায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সঠিক সময়ে সতর্ক না হলে, এই কুপ্রভাব সুদূরপ্রসারী হবে এবং নানারকম রোগের শিকার হতে হবে। অতএব, এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।

মোবাইল, ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটারের কতটা কুপ্রভাব শিশুদের চোখের উপর পড়ছে বলে মনে হয় আপনার?

কম্পিউটারের কুপ্রভাব শিশুদের চোখের উপর কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে কতক্ষণ শিশুটি তার অমূল্য চোখদুটিকে ব্যবহার করছে তার উপর। কারণ, সাধারণত এই সময় তাদের ভিস্যুয়াল স্কিল সুগঠিত হয় না। তাই, খুব কাছ থেকে (Near Point) কাজ করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।

আর এই ভিশ্যুয়াল স্কিল যেসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, তা হল–

> দৃষ্টির সুক্ষতা (Sharpness)

> দৃষ্টির লক্ষ্যবিন্দু (Fixation Point)

> অভিযোজন (Accommodation)

> দৃষ্টি ক্ষেত্র (Field of vision)

> নিকটবর্তী বিন্দুতে ফোকাস্ করা (Convergence)

> দুটি চোখ দ্বারা প্রাপ্ত মিলিত দৃষ্টি (Binocular Fusion)

কম্পিউটারে দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে বাচ্চাদের কী কী অসুবিধা হয়? 

চোখ ব্যথা ছ আত্মসচেতনতা কম হওয়ার জন্য কম্পিউটারে একনাগাড়ে অনেকক্ষণ গেমস্ খেললে বা কাজ করলে চোখের পেশি বিরতি না পাওয়ায় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এতে, বস্তুকে ফোকাস করার ক্ষমতা হ্রাস পায় (Accommodative Spasm) এবং চোখে পাওয়ার আসে (Refractive Error)।

চোখে জ্বালা ও শুষ্কতা ছ দীর্ঘক্ষণ একদৃষ্টিতে কম্পিউটারে তাকিয়ে থাকলে চোখের পলক পড়ে না। এতে চোখের অশ্রু বাষ্পীভূত হয়ে চোখের শুষ্কতা বৃদ্ধি পায় আর অতিরিক্ত আলো ও উজ্জ্বলতা যা মেশিন থেকে চোখের উপর পড়ে, তাতে চোখ জ্বালা করতে থাকে। এর ফলে শিশুরা হাত দিয়ে চোখ রগড়াতে শুরু করে, ফলত, অন্যান্য সমস্যার সূত্রপাত হয়।

চোখের ঝাপসা ভাব ছ শিশুর চোখে আগে থেকেই পাওয়ার থাকলে অথবা কম্পিউটারের সি্্ক্রনের আলোর উজ্জ্বলতা সঠিক না থাকলে বা সি্্ক্রনে ময়লা জমে থাকলে দৃষ্টি পরিষ্কার হয় না, অক্ষরগুলি ঝাপসা দেখায়।

মাথা-ঘাড়-পিঠে-কাঁধে যন্ত্রণা ছ বড়োরা চেয়ারে বসে যে উচ্চতা থেকে কম্পিউটার দেখে, শিশুরা একই চেয়ারে বসে সেই উচ্চতা পায় না, উপরন্তু তারা কাজ করার সময় চূড়ান্ত মনোযোগের কারণে কম্পিউটারের দিকে এগিয়ে যায় এতে তাদের অবস্থান সঠিক হয় না। এর ফলে ঘাড়, পিঠ, কাঁধ এবং মাথায় যন্ত্রণা দেখা দেয়।

এই বিষয়ে অভিভাবকদের কী পরামর্শ দেবেন আপনি?

> স্কুল লাইফ শুরু করার আগে একবার শিশুর চক্ষু-পরীক্ষা করাতে হবে

> একজন কম্পিউটার দৃষ্টি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী মনিটরের উচ্চতা, দূরত্ব কৗণিক অবস্থান, চোখ এবং মনিটরের দূরত্ব (১৮ থেকে ২৮ ইঞ্চি) ঠিক আছে কিনা দেখে নেওয়া দরকার

> মনিটরের অ্যান্টিগ্লেয়ার সি্্ক্রন লাগিয়ে দিতে হবে এবং সি্্ক্রনে অক্ষরের আকার, রং এবং উজ্জ্বলতার মাত্রা নির্দিষ্ট করে দেওয়া প্রয়োজন

> ক্লাসের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে নিন যে, কম্পিউটারে কাজ করার সময় শিশুর চোখে কোনও সমস্যা হচ্ছে কিনা, চোখ রগড়াচ্ছে কিনা, চোখ লাল হচ্ছে কিনা, মাথা বেঁকিয়ে দেখছে কিনা। কোনওরকম অসুবিধা দেখা দিলে চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে

> সর্বোপরি অনেকক্ষণ একনাগাড়ে বাচ্চাকে কম্পিউটারে বসতে দেবেন না। প্রয়োজনে, বিরতি নিয়ে চোখে দু-তিনবার জলের ঝাপটা দিয়ে আবার বসুক। এছাড়া, পুষ্টিকর খাদ্যবস্তু যেন গ্রহণ করে এবং রাতের ঘুম যেন ভালো হয় সেদিকে নজর রাখুন

> মোবাইল ফোনে যদি দিনে ৪ ঘন্টার বা তার বেশি সময় কোনও বাচ্চা চোখ রাখে, তাহলে তার ‘ডাবল ভিশন’ মানে একটা জিনিসকে দুটো দেখার প্রবণতা হয়

> এছাড়া দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকলে বাচ্চাদের মাইনাস পাওয়ার আসতে পারে

আপেল দিয়ে তৈরি দুটি পদ

আপেল ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের  ভালো উৎস। একটি বড়ো আপেলের ভিটামিন সি উল্লেখযোগ্য, এটি একটি পুরুষের দৈনিক প্রয়োজনের 11 শতাংশ এবং মহিলার 13 শতাংশ পূরণ করে। একটি বড়ো আপেলের ফাইবার আপনাকে প্রচুর  গুণাগুণ সরবরাহ করে।  এক গবেষণায় জানা গেছে, আপেল ওজন এবং শরীরের মেদ হ্রাস করতে সহায়তা করে। গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, অ্যাপল পেকটিনের দ্নারা শরীরে স্ফূর্তি জোগাতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

এদিকে ব্রোকোলি-তে আছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা হজমে সহায়তা করে। এর কেমফেরল সামগ্রীর সাথে এটি পেটের আস্তরণকে স্বাস্থ্যকর রাখে এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়িয়ে তোলে।

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করে ব্রোকলি, যেমন স্তনের ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার, পাশাপাশি বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলির ক্যান্সার যেমন, ফুসফুস, যকৃত, অন্ত্র, কোলন এবং কিডনি প্রভৃতিতেও সুরক্ষা দেয়।

আজ আমরা তৈরি করছি এই দুটি উপকরণ দিয়ে পুষ্টিকর স্যালাড৷ এই Salad for breakfast,খুবই   Healthy and tasty।

এছাড়াও থাকছে আপেল দিয়ে তৈরি একটি স্পেশাল  Dessert, অতিথিদের পাতে দেওয়ার জন্য । 

 

ব্রোকোলি অ্যান্ড অ্যাপল স্যালাড

উপকরণ – ৫০ গ্রাম রোমান লেটুস, ৫০ গ্রাম আইসবার্গ লেটুস, ৫০ গ্রাম লাল লেটুস, ১৫০ গ্রাম আপেল, ৫০ গ্রাম ব্রোকোলি, ৫০ গ্রাম লাল ক্যাপসিকাম, ৫০ গ্রাম হলুদ ক্যাপসিকাম, ৫০ গ্রাম সবুজ ক্যাপসিকাম, ৫০ গ্রাম টম্যাটো, ১৫ এমএল অলিভ অয়েল, ৫ গ্রাম নুন, ৫ গ্রাম কাসুন্দি, ১০ গ্রাম গোলমরিচ।

প্রণালী – সমস্ত সবজি ছোটো টুকরোয় কাটুন। এবার অলিভ অয়েল, কাসুন্দি, গোলমরিচগুঁড়ো, নুন মিশিয়ে একটি সস বানিয়ে নিন। এবার সমস্ত সবজি এই সসে ডুবিয়ে ভালো করে টস করুন। টোস্ট-এর সঙ্গে পরিবেশন করুন।

 

জাফরানি অ্যাপল ফিরনি

Apple sweet recipe

 

উপকরণ – ২ লিটার দুধ, ১৫০ গ্রাম চাল, ৫ গ্রাম কেসর, ১৫ গ্রাম সুগার ফ্রি, ৫ গ্রাম ছোটো এলাচ, ১কিলো আপেল, ১ ছোটো চামচ দারচিনি।

প্রণালী – চালটা ঘণ্টা দুয়েক ভিজিয়ে রেখে শুকিয়ে নিন। এবার মিক্সিতে বেটে নিন। একটি গভীর পাত্রে দুধ গরম করুন। ফুটে উঠলে দুধে চালটা ছেড়ে দিন। অল্প একটু আটা মিশিয়ে, ঢিমে আঁচে ঘণ্টা দুয়েক রেখে দিন। কেসর ও এলাচগুঁড়ো মিশিয়ে আরও আধঘণ্টা আঁচে রেখে ঘন হতে দিন। এবার আঁচ থেকে নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। আপেলের খোসা ছাড়িয়ে পাতলা টুকরোয় কেটে নিন। আধ লিটার জলে সেদ্ধ করে আপেল পেস্ট করে নিন। ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করুন আপেলের পেস্ট। তারপর সেদ্ধ করা চালের সঙ্গে ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন। সুন্দর একটি বোল-এ রেখে আপেলের টুকরো ও বাদামকুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

যৌথ উদ্যোগেই আর্থিক সাফল্য

এখন আর সেই যুগ নেই যে, টাকার জন্য সন্তান মা-বাবার অধীনে থাকবে। একটা সময় ছিল যখন অনেক বয়স পর্যন্ত টাকাপয়সা খরচ করার অধিকার পেত না সন্তান। কর্মহীন থাকাকালীন টাকার জন্য মা-বাবার কাছে হাত-পাততে হতো এবং উপার্জন করতে শুরু করলেও, সেই টাকা মা-বাবার হাতে তুলে দিতে হতো সংসার চালানোর জন্য। এর কারণ, বেশিরভাগই তখন যৌথ পরিবার ছিল এবং সাংসারিক রীতিনীতিও ওইরকমই ছিল। অবশ্য এই রীতিনীতিতে বিয়ের পর যেমন টাকাপয়সা খরচ করার স্বাধীনতা পুরোপুরি থাকত না ছেলের, ঠিক তেমনই এর একটি ভালো দিকও ছিল। বিয়ের পরও ছেলে যদি কর্মহীন হয়ে পড়ত কিংবা আয় কমে যেত, তখন মা-বাবা দায়িত্ব নিয়ে সন্তানের সেই আর্থিক দুরাবস্থা কাটিয়ে তোলার দায়িত্ব নিতেন।

কিন্তু এখন সময় বদলেছে। যৌথ পরিবার ভেঙে ছোটো হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী এবং সন্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ এইসব সংসারেও কিন্তু খরচ কম হয় না। বরং যৗথ পরিবারে রান্না, বৈদ্যুতিক প্রভৃতি খরচ পরিবারের সমস্ত উপার্জনশীল সদস্যদের মধ্যে ভাগ হয়ে যেত । এখন আর তা সম্ভব নয় ছোটো পরিবারে। এক্ষেত্রে স্বামী অথবা স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে সংসার চালান। আর এই সংসার চালানোর দায়িত্ব একজন না নিয়ে দু’জনে নিলে কী সুফল পাবেন এবং কীভাবে নেবেন এই দায়িত্ব, তা জেনে রাখা জরুরি।

বিয়ের আগের উদ্যোগ

কথায় বলে, বিয়ের আগে উপার্জনের সময়টুকু এবং বিয়ের পরে সন্তানের জন্মের আগের সময়টুকু জীবনের সেরা সময়। কারণ, এই সময় দায়িত্ব কম কিন্তু বেশি আনন্দ উপভোগ করা যায়। এই আনন্দ যেমন আর্থিক স্বাধীনতার (বিয়ের আগে), ঠিক তেমনই শারীরিক ও মানসিক সুখলাভেরও (বিয়ের পরে সন্তান হওয়ার আগে)। কিন্তু এরজন্য সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা নিতে হবে এবং তা সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত করতে হবে। যেমন, বিয়ের আগের উপার্জন থেকে কিছু টাকা সঞ্চয় করতে হবে। এই টাকার পরিমাণ এতটাই হবে যে, তা দিয়ে বিয়ে এবং

হনিমুন-এর খরচ, সন্তানকে সঠিক ভাবে পৃথিবীর আলো দেখানোর খরচ প্রভৃতি সামলানো যায় ঠিক ভাবে।

যদি আগাম পরিকল্পনা না নিয়ে বিয়ে এবং খরচ করেন, তাহলে কী পরিস্থিতি সঙ্গীন হতে পারে।

লভ্-ম্যারেজ-এর কাপলরাও এই একই ভুল করে থাকেন অনেক সময়। মহা ধূমধামে বিয়ে সেরে তারপর হনিমুন  পর্ব কাটিয়ে, অনেকেই পড়েন বিপুল আর্থিক সংকটে ।  এই পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য বিয়ের আগে থেকেই প্ল্যান করা উচিত হবু দম্পতিদের।টাকা বাঁচানোর জন্য বিয়ের রিসেপশন পার্টি একসঙ্গে করা, হনিমুন-এর বাজেট কমানো ইত্যাদি বিষয়গুলো দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্পন্ন করুন। শুধু তাই নয়, অনেক দম্পতি হনিমুন-এর খরচ দু’জনেই বহন করেন এবং এক্ষেত্রে বিষয়টি স্বামীর কাছে লজ্জারও নয়। কারণ, প্রথম থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এই আর্থিক অংশীদারিত্ব খুবই স্বাস্থ্যকর।

বিয়ের পরের আর্থিক উদ্যোগ

বিয়ের পরের খরচের জন্য বিয়ের আগেই হবু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আলোচনা এবং বোঝাপড়া করে নেওয়া উচিত। এতে ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা কমবে, সাংসারিক জীবনে আর্থিক সংকটে পড়তে হবে না এবং দাম্পত্যসুখ বজায় থাকবে। এরজন্য প্রথমে দু’জনের উপার্জনের পরিমাণ যোগ করুন। এরপর তার থেকে অন্তত ৩০ শতাংশ টাকা সঞ্চয়ের জন্য রাখুন। এটাই সঠিক পদ্ধতি। খরচের পর সঞ্চয়ের কথা ভাবা ভুল। কারণ, খরচের কোনও শেষ নেই। অতএব, সঞ্চয়ের পর উপার্জনের বাকি ৭০ শতাংশ টাকা বিভিন্ন খাতে খরচের জন্য বরাদ্দ করুন। যেমন– খাওয়ার খরচ, পোশাকের খরচ, বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাট-এর মেন্টেনেন্স-এর খরচ, বিদ্যুতের বিল, টিভি কেবল-এর খরচ, মোবাইলের খরচ, অফিসে যাতায়াতের খরচ, অতিথি আপ্যায়নের খরচ, স্বাস্থ্যবিমার খরচ, ইনকাম ট্যাক্স, প্রপার্টি ট্যাক্স, গৃহ-পরিচারকের বেতন প্রভৃতি। এরসঙ্গে অবশ্যই আনুষাঙ্গিক খাতে কিছু টাকা ধরুন এবং সেই খাতের যে-টাকা বেঁচে যাবে তা ভ্রমণের জন্য এবং অন্যান্য বিনোদনের জন্য সঞ্চয় করুন। আর এভাবে যদি দু’জনে মিলেমিশে যাবতীয় খরচের এবং সঞ্চয়ের দায়িত্ব নেন, তাহলে দেখবেন আপনাদের দাম্পত্যজীবন সুখময় হয়ে উঠবেই। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখবেন, বিয়ের পর কিছুদিন দাম্পত্যসুখ ভোগের পর সন্তানের জন্ম এবং শিক্ষাখাতের জন্য, ব্যয়-বরাদ্দ করতেই হবে এবং তা স্বামী-স্ত্রীর মোট আয়ের অন্তত ৪০ শতাংশ হওয়া উচিত।

ডে-কেয়ার সার্জারি

বর্তমান জীবনযাত্রায় সবারই ব্যস্ততা বাড়ছে। সুযোগ থাকলে সবকিছুই দ্রুত সেরে নিতে চান সবাই। চিকিৎসার ক্ষেত্রেও তাই। কোনও অসুখের ক্ষেত্রে যদি অপারেশন করতেই হয়, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে চান রোগী। কারণ, হাসপাতালে অপারেশন করাতে গিয়ে দিনের পর দিন ভর্তি থাকতে হলে যেমন কষ্ট হয় রোগী এবং তাঁর পরিজনদের, ঠিক তেমনই হাসপাতালে মেটাতে হয় মোটা টাকা। কিন্তু সময় বদলেছে। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির সুবাদে যেমন বিভিন্ন রোগের দ্রুত উপশমের উপায় আবিষ্কৃত হয়েছে, ঠিক তেমনই এসেছে এমন চিকিৎসা পদ্ধতি, যার ফলে জটিল অস্ত্রোপচারের পর একদিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছুটিও পেয়ে যেতে পারেন রোগী। আর এই দ্রুত রোগমুক্তির Day-care Surgery বিষয়ে বিস্তারিত জানালেন ডা. সঞ্জয় মণ্ডল।

Day-care Surgery কী?

অ্যানাস্থেশিয়া ও অস্ত্রোপচারের গুণগত উন্নতির জন্য আজকাল রোগী সকালে অপারেশন করিয়ে বিকেলেই বাড়ি চলে যেতে পারেন, রাতভর হাসপাতালে থাকার দরকার পড়ে না। ডাক্তারি পরিভাষায় এটিই ডে-কেয়ার সার্জারি নামে পরিচিত।

কোন কোন অপারেশনের ক্ষেত্রে Day-care Surgery করা সম্ভব?

সাধারণত চক্ষু চিকিৎসার জন্য এই পদ্ধতি সর্বাধিক জনপ্রিয় হলেও, ইদানীং বিভিন্ন ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি অর্থাৎ গলব্লাডার, অ্যাপেনডিক্স ও হার্নিয়া অপারেশনের ক্ষেত্রে       ডে-কেয়ার সার্জারি করা হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, পাইলস, ফিশার, ফিসচুলা ইত্যাদির চিকিৎসাতেও আজকাল একদিনে রোগীকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।

ডে-কেয়ার সার্জারির জন্য কোনও আলাদা পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় কি?

অত্যাধুনিক কিছু অ্যানাস্থেটিক পদ্ধতি রয়েছে, যা প্রয়োগ করলে অসুস্থ মানুষটি স্বাভাবিক ভাবে অপারেশন সামলে উঠে ওই একইদিনে বাড়ি চলে যেতে পারেন। পাইলস বা সমজাতীয় সার্জারির ক্ষেত্রে ব্যবহূত হয় মডার্ন স্টেইপলিং টেকনিক। যার সুবিধা হল, এতে রোগীর ব্যথা যেমন কম হয়, তেমনই অপারেশন-পরবর্তী দেখভালের প্রয়োজনও কমে।

যে-কোনও রোগীই ডে-কেয়ার সার্জারি করাতে পারেন?

অবশ্যই না। যাদের হাসপাতাল থেকে বাড়ি বেশ কিছুটা দূরে, তাদের অপারেশনের দিনই ধকল নিয়ে এতটা পথ যাতায়াত না করাটাই শ্রেয়। আবার, যে সমস্ত রোগীর হার্টের অসুখ, ডায়াবেটিস, বুকব্যথা সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও পরামর্শ দেওয়া হয় অপারেশনের পর বেশ কিছু ঘন্টা, প্রয়োজনে কিছু দিন পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য। বিশেষ কোনও জটিল অস্ত্রোপচারের পরেও রোগীকে হাসপাতালেই রাখা উচিত।

ডে-কেয়ার সার্জারির বিশেষ সুবিধা কী?

ডে-কেয়ার সার্জারির অন্যতম সুবিধা হল, এই ক্ষেত্রে যেহেতু রোগী মাত্র কয়েকঘণ্টার মধ্যে অস্ত্রোপচারের অস্বস্তিজনক পরিবেশ থেকে নিজের চেনা পরিবেশে ফিরে আসতে পারেন, তাই তার তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও একইদিনে অপারেশন করে রোগীকে ছেড়ে দেওয়া হলে হাসপাতালের বেডভাড়া ও নার্সিং সংক্রান্ত খরচাপাতিও অনেক কমে যায়। তাই, চিকিৎসার নিত্যনতুন পদ্ধতির পাশাপাশি, ডে-কেয়ার সার্জারির চাহিদাও দিনে দিনে বাড়ছে।

মা ও মেয়ের দ্বন্দ্ব

সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের দায় কার? মা না যৌবনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা তার মেয়েটির? এভাবে ভাবলে হয়তো পারিপার্শ্বিক সমাজ-কেও কিছুটা দায়ভার গ্রহণ করতে হবে বই-কি। মেট্রো শহরগুলিতে মেয়েদের সেফ্টি-টাও অবহেলা করার নয়। রোজই নানা ঘটনা ঘটছে।  এখন কিন্তু উঠতি বয়সি মেয়েদের নিয়ে মায়েরা অনেক বেশি সচেতন। তার কারণও আছে। সব বাড়িতেই প্রায় বয়ঃসন্ধির ছেলে-মেয়েরা একটু যেন বেশি উগ্র স্বভাবের। অদ্ভুত একটা চাপানউতোর তাদের চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশেপাশে তাকালেই বোঝা যায়, ব্যবহারে নম্রতা হারিয়ে ফেলছে আজকের নতুন এই প্রজন্ম। কাঠিন্যের বর্মে সহূদয় কোমল প্রাণ আজ শৃঙ্খলবদ্ধ।

বয়সের তুলনায় শারীরিক এবং মানসিক ভাবে একটি মেয়ে যেন খুব তাড়াতাড়ি বড়ো হয়ে উঠছে এবং এর জন্য বর্তমান সামাজিক পরিবেশ কিছুটা হলেও দায়ী। তাদের ম্যাচিওরিটি লেভেল খুব তাড়াতাড়ি বাড়ছে, ফলে অভিভাবকেরা চিন্তিত হতে বাধ্য।

সাধারণত বয়ঃসন্ধির সময়টাতে একটি মেয়ের সৌন্দর্য সবচাইতে বেশি আকষর্ণীয় হয়ে ওঠে। জীবনীশক্তিতে ভরপুর মেয়েটির তখন একটাই লক্ষ্য, সঠিক সুযোগ এলেই ডানা মেলে উড়ে যাওয়ার। অথচ মানসিক ভাবে তখনও কিন্তু সে প্রায় সদ্যোজাত শিশু, সবেমাত্র পা ফেলে দাঁড়াতে শিখছে। সুতরাং চলার পথে হোঁচট খাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। গন্তব্য কী সেটাও সঠিক জানা নেই। আপামর জনসাধারণের চোখে নিজের পরিচিতিকে সুষ্ঠু করতে গিয়ে ভুল পথে পা বাড়িয়ে বসে, যার ফলাফল মাঝেমধ্যে ভয়াবহ হয়ে দাঁড়ায়। যার জন্য নিজেও দুঃখ পায় এবং মা-বাবাও পরিবারেরও অসম্মানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

যৌবনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মেয়ের মানসিকতাকে বোঝাটা খুব দরকার তার অভিভাবকদের। কারণ এই সময়টা তাদের জীবনের একটা কঠিন অধ্যায় এবং বেশিরভাগ টিনএজাররা প্রায় একই রকম মানসিকতার মধ্য দিয়ে এই পুরো সময়টা অতিবাহিত করে।

বয়ঃসন্ধির মেয়েরা নিজেদের প্রাপ্তবয়স্ক প্রমাণ করে দেখাতে সাধারণত নিজেদের শরীরকে ব্যবহার করে বসে। প্রাণপণ চেষ্টা করে বড়োদের কপি করতে এবং এর শুরুটা হয় সাজগোজ দিয়ে এমনকী ‘যৌনতা-কেও কাজে লাগাতে তারা দ্বিধা করে না। কাজটা ভালো না লাগলেও তারা ভেবে বসে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠার এটাই বুঝি একমাত্র পাসপোর্ট। এই বয়সটাতে না তারা তাদের থেকে বয়সে ছোটোদের সঙ্গে মিশতে পারে কারণ ম্যাচিওরিটির তারতাম্য, আবার প্রাপ্তবয়স্করাও তাদের নিজেদের দলে ঢোকাতে নারাজ। ফলে একাকিত্ব, ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয় তারাই সব থেকে বেশি। জীবনের গাড়িকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জ্বালানি মজুত থাকলেও অভিজ্ঞতার অভাবে সঠিক দিশা তারা নিশ্চিত করতে পারে না।

এই পরিস্থিতিতে বাড়ির বড়োদের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়া শুরু হয় মেয়েটির। অভিভাবকেরা ভালো কিছু বললেও সেটা ডিফাই করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। যদি তর্ক করার কোনও কারণ না থাকে তাহলেও তারা একটা কারণ তৈরি করে নেয় নিজেরাই।

সমস্যা সমাধানের উপায়

হাত বাড়ালেই বন্ধু। ঠিক এই বন্ধুর স্থানটাই মা-কে নিতে হবে। সাহায্য এবং পরামর্শ-র জন্য সন্তান যদি অভিভাবককে পাশে না পায়, তাহলে অন্য কারও কাছে সে সাহায্যের প্রত্যাশা করতেই পারে। এই অন্য কারও বলতে, কোনও সুযোগসন্ধানী টিনএজার ছেলে অথবা প্রাপ্তবয়স্ক কোনও লোক হতে পারে যে-কিনা সুযোগ পেয়েই মেয়েটির ক্ষতি করতে পারে। অভিভাবককে নিজের ব্যবহার সংযত রাখতে হবে। মেয়ের কোন ব্যবহার সঠিক এবং কোনটি ভুল সেটা বুঝিয়ে বলতে হবে এবং নিজের ডিসিশনে ফার্ম থাকাটা একান্ত প্রয়োজন। এর জন্য পরিবারে শৃঙ্খলা রাখাটাও খুব দরকার। সাধারণত মায়ের থেকেই মেয়ে সামাজিক ও ব্যবহারিক শিক্ষা লাভ করে। বয়ঃসন্ধিক্ষণে ভুল হওয়াটা অসম্ভব নয় এটা অভিভাবককে বুঝতে হবে এবং সেই ভুল-টা মেনে নেওয়ারও সৎ সাহস নিজেদের মধ্যে তৈরি করতে হবে। পরিস্থিতি এমন ভাবে সামলে নিতে হবে যাতে মেয়ের না মনে হয়, মায়ের আদর্শ লঙঘন করার জন্য তাকে কোনওভাবে শাস্তি দেওয়ার চক্রান্ত করা হয়েছে।

কখনও কখনও পরিস্থিতির সঙ্গে আপস করার দরকার পড়ে বড়োদেরও। ছোটো ছোটো জিনিসে সময় ও শক্তির অপচয় করা অনুচিত। আবার কিছু জিনিসের সঙ্গে আপস করা চলে না যেমন বন্ধু নির্বাচন, যৗনতা, পার্টিতে কী ধরনের আচরণ করছে এবং মদ ও ড্রাগের প্রতি আসক্তি। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার অবস্থা হলে মেয়ের বাবাকে পরিস্থিতি সামলাবার দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ মেয়ের সবথেকে কাছের প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষটি হল তার ‘বাবা’।

কিছুটা প্রাইভেসি টিনএজার মেয়েকে দিতে হবে কারণ এটা খুবই সংবেদনশীল জায়গা। মেয়ে নিজেকে বড়ো ভাবতে শুরু করলেও তার মনের মধ্যে সব সময় একটা ভয় থেকেই যায় যে, কেউ ওর উপর লক্ষ্য রেখেছে।

ভাবার চেষ্টা করতে হবে মেয়ে যেটা করছে সেটা কেন করছে। নিজেকে প্রশ্ন করুন, ‘আমি কি প্রয়োজনের চেয়েও বেশি সতর্ক? আমি কি যথেষ্ট সময় দিচ্ছি মেয়েকে? ডিসিপ্লিনের ক্ষেত্রে আমি কি বেশি সহজ? মেয়ের প্রতি আমার প্রত্যাশা কি অনেক বেশি? মেয়ের সঙ্গে যত বেশি সময় কাটাবেন তত বেশি ভালো করে মেয়েকে বুঝতে পারবেন।

মেয়ে যদি কোনও ভুল করেও ফেলে, তাহলে সেটাই তার পতনের সূচনা এই বোধ, এই অনিশ্চয়তা মেয়ের মনে যাতে না আসে, মা-কে তার খেয়াল রাখতে হবে। কোনটা ভুল সেটা বুঝিয়ে দেওয়াটা মায়ের দায়িত্ব যাতে মেয়ে দ্বিতীয়বার সেই ভুল না করে। প্রয়োজনে সব সময় তার পাশে থাকুন, যদি সে ভুলও করে থাকে। এমনিতেই ভুল করলে তার মনে হতে থাকে সবাই বুঝি তার বিরোধী হয়ে উঠেছে ভুল করার জন্য। এই দলে তার মা-বাবাও আছে এই বোধ যেন তার মনে না আসে এটা দেখার দায়িত্ব কিন্তু মায়ের। মেয়ের মনে যদি ঢুকে যায় একটা ভুল করে সে সকলের কাছে নীচ প্রতিপন্ন হয়েছে এবং এই অসম্মান থেকে বেরোনো আর তার পক্ষে সম্ভবপর নয়, তাহলে মনে রাখবেন এই হার শুধু আপনার মেয়ের নয় আপনাদের উভয় স্বামী-স্ত্রী-রও। এটা প্রমাণ করবে যে আপনারা এই পরিস্থিতি সামলাতে অসমর্থ।

মেয়ের প্রশংসা করুন, তাকে উৎসাহ দিন কিন্তু কিছু করার জন্য তাকে বাধ্য করবেন না। পরিবারের একজন হিসেবে তাকেও মতামত প্রকাশ করার অধিকার দিন। বাড়ির পরিবেশ এমন রাখুন যেখানে মেয়ে তার বন্ধুদের নিয়ে আসতে গর্ববোধ করবে। যদি মেয়ের কাছে তার বাড়ি মনের মতো জায়গা হয়ে ওঠে তাহলে তাকে এখানে-ওখানে সময় কাটাবার জন্য ভাবতে হবে না। মা-বাবার তার প্রতি বিশ্বাস, ভালোবাসা, সম্মান আছে বুঝতে পারলেই, বাড়ি তার কাছে আকষর্ণীয় হয়ে উঠবে।

স্বভাবে নম্র, ভদ্র ভালো একটি সন্তান যার অভিভাবকেরাও অত্যন্ত ভালো, হঠাৎ করে সে ‘খারাপ-এ পরিণত হতে পারে না। সন্তানের সঙ্গে সুস্থ, স্বাভাবিক ভালো সম্পর্ক যদি ধরে রাখা যায় তাহলে তার সামান্য ভুল বা অশোভন আচরণ বড়োদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করবে না। সুতরাং প্রপার গাইডেন্স-এর মাধ্যমে ভুল পথে চলে যাওয়া টিনএজার মেয়েকে সঠিক রাস্তা চিনিয়ে নিয়ে আসতে পারে তার মা বা তার অভিভাবকেরা।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব