মন ভরানো দুটি কন্টিনেন্টাল কুইজিন

সহজে রান্না হয়, অথচ দারুণ সুস্বাদু সব পদ। তাই  বাঙালি, স্বাদবদলের জন্য বারবার মেনুতে ফিরিয়ে এনেছেন কন্টিনেন্টাল কুইজিন। এখানে রইল একটি সুপ এবং একটি চিকেনের পদ, যা  সকালে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতে পারবেন।

ক্রিম ওট্‌অ্যান্ড মিন্ট সুপ

উপকরণ – ৫০ গ্রাম ওট্‌স, ২ গ্রাম দারচিনি,১০ গ্রাম রসুন, ২০ গ্রাম পুদিনাকুচি, ৫ এমএল অলিভ অয়েল, ১৫০ এমএল ফোটানো দুধ, নুন ও গোলমরিচ স্বাদমতো।

প্রণালী -একটি প্যানে অলিভ অয়েল গরম করে দারচিনি ও রসুন সঁতে করুন। এবার ওট্‌স দুধে দিয়ে প্যানের তেলের উপর ঢেলে রান্না হতে দিন। মিশ্রণ গাঢ় হয়ে এলে নুন, পুদিনা ও গোলমরিচ ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।CContinental chicken recipee

ফ্রেঞ্চ চিকেন ইন রেড সস

উপকরণ – ২টো চিকেন ব্রেস্ট, ৫০ গ্রাম সেলারি,২০ গ্রাম পেঁয়াজ শাক, ১০ গ্রাম পার্সলে, ২৫০ গ্রাম চিকেন কিমা, ২৫০ গ্রাম টম্যাটো, নুন ও গোলমরিচ স্বাদমতো।

সসের উপকরণ – ৫ গ্রাম তুলসীপাতা, ৩ গ্রাম থাইম হার্বস, ৫০ গ্রাম চেরি টম্যাটো।

প্রণালী – চিকেনের টুকরো চিরে এতে নুন গোলমরিচ ছড়িয়ে ,৪৫ মিনিট আলাদা রাখুন। পেঁয়াজ শাক, সেলারি, পার্সলে ও টম্যাটো কুচি করে নিন। চিকেন কিমায় ভালোভাবে নুন মাখিয়ে চটকে নিন। একটি বোল-এ চিকেন ব্রেস্ট-এর একটি টুকরো রেখে ,উপর থেকে কিমার মিশ্রণ মাখিয়ে নিন। অন্য মাংসের টুকরোয় একই ভাবে অন্য টুকরোটিও কিমা মাখিয়ে রাখুন। একটি বেকিং ডিশের মধ্যে অলিভ অয়েল মাখিয়ে বেক করুন।

 

সস তৈরির জন্য চেরি টম্যাটোগুলি ২০ মিনিট ভাপিয়ে নিন। এবার খোসা ছাড়িয়ে, বীজ বের করে, চটকে নিন। তুলসীপাতা, থাইম হার্ব কুচিয়ে ১৫০ এমএল জলে ফুটিয়ে নিন। এই জলে চেরি টম্যাটোর পেস্ট দিয়ে ঘন হতে দিন। এবার এই সস বেক করা চিকেনের উপর ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

 

বাগানের যত্নআত্তি

ঘরের সামনে একফালি সবুজ নিমেষে আপনার মন ভালো করে দিতে পারে। সারাদিনের ক্লান্ত অবসন্ন শরীর-মন নিয়ে যখন আপনি ঘরে ফেরেন, তখন এই সাধের সবুজ গেরস্থালিই, আপনার  মনে বুলিয়ে দিতে পারে শান্তির পরশ।ভালোবাসাটা কিন্তু পারস্পরিক। অর্থাৎ আপনি গাছকে ভালোবাসলে, গাছও আপনাকে ভালোবাসবে।তাই অবসর পেলেই গাছেদের একটু যত্নআত্তি করুন, সোহাগ করুন। বিনিময়ে পান ফ্রেশ অক্সিজেনের আবিরাম যোগান। শখের বাগান হোক বা ইন্ডোর প্ল্যান্টস, জেনে নিন কী ভাবে সজীব ও সুন্দর রাখবেন।

  • গাছে ঘনঘন জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আতিরিক্ত জল দিলে পচে যেতে পারে। তাই সকালে গাছে জল দিন।গাছের পাতাগুলে ভালো ভাবে ধুয়ে দিন। জমে থাকা ধুলো ও শিশির গাছের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে
  • শুকনো পাতা গাছের গোড়ায় জড়ো করে রাখুন, শিশির জমবে না।পাতার বদলে খবরের কাগজও দিতে পারেন গাছের গোড়ায়
  • গাছ রাখুন ঢাকা জায়গায়। অতিরিক্ত ঠান্ডায় গাছের পাতা হলুদ হয়ে যেতে পারে। টবে গাছ করলে প্রয়োজনে সরাতে সুবিধা হবে
  • চারা গাছ ভালো রাখার জন্য বাঁশের ফ্রেম তৈরি করুন। প্লাস্টিক শিট দিয়ে উপরের খোলা জায়গাটা ঢাকা দিয়ে দিন। বাতাস চলাচলের জন্য যেন জায়গা থাকে
  • পচা পাতা, হলুদ হয়ে যাওয়া কাণ্ড.গাছের গোড়ায় জমিয়ে রাখবেন না। গাছের টব বদলানোর সময় খেয়াল রাখবেন যাতে শিকড় না ড্যামেজ গয়ে যায়
  • নিয়ম করে হলুদ হয়ে যাওয়া পাতা বা নষ্ট হয়ে যাওয়া পাতা পরিষ্কার করে ফেলুন
  • টবের মাটি সময়ে সময়ে ওলটপালট করে দিন। এর ফলে গাছের শিকড় ভালোভাবে স্প্রেড করতে পারবে
  • মাসে এক দু বার ওয়াটার সলিউবল ফার্টিলাইজার ব্যবগার করুন, গাছের গোড়া ভালো থাকবে
  • বছরে একবার ইন্ডোর প্ল্যান্টস –এর পেস্ট কন্ট্রোল করিয়ে নিন। পোকামাকড়ের হাত থেকে গাছ রেহাই পাবে
  • সপ্তাহে অন্তত একবার সব গাছ বার করে রোদে দিন। গাছ বেড়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত সূর্যকিরণ অত্যন্ত আবশ্যক। তবে দুপুরের কড়া রোদে রাখবেন না।

করোনা ও সম্পর্কের রসায়ন

কোভিড ১৯, বাস্তবিকই বদলে দিয়েছে আমাদের সামাজিক চিত্র৷ দীর্ঘমেয়াদি দূরত্ব, কর্মহীন হয়ে পড়া, আর্থিক আনিশ্চয়তা, মানুষকে একা করেছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে মানুষ৷নিজেই যেখানে অসুরক্ষিত, আনিশ্চিত পথের পথিক—সেখানে সঙ্গীর দায়িত্ব বহন করা আরওই কঠিন৷

এ যেন হঠাৎ গতিশীলতায় ছেদ। জীবনের গ্রাফটা যখন ঊর্ধ্বমুখী, আমরা সবাই পা রাখছি এক সাফল্য থেকে অন্য সাফল্যে, দ্রুতি, শুধুই এগিয়ে যাওয়া। দম ফেলার ফুরসত নেই, শুধুই একটা লক্ষ্য, একটা অ্যাচিভমেন্ট। কিছু প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে অনবরত ছুটে চলা। এই যখন আমাদের জীবনশৈলী, তখন কে যেন এক অদ্ভুত ঝাঁকুনি দিয়ে থামিয়ে দিল। সব মসৃণতার সেখানেই ছেদ, সেখানেই ছন্দপতন। করোনা, বদলে দিল জীবন, বদলে দিল মানুষ-মানুষে সম্পর্ক।

ধরা যাক আপনি একজন আট বছরের ছেলের পিতা। একদিকে দেশের অর্থনৈতিক ধসে ক্রমশ বিপর্যস্ত হয়ে উঠছেন পকেটের চাপ সামলাতে, অন্যদিকে দেখছেন কীভাবে আপনার শিশুপুত্রটি, কম্পিউটার-এ নিত্যদিন স্ট্রাগল করছে অনলাইন ক্লাসের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে। সে-ও নিঃসঙ্গ হচ্ছে প্রতিদিন একটু একটু করে। কারণ স্কুল মানে তো শুধু বই-খাতা-পড়াশোনা নয়। একটা সামগ্রিক বিকাশ যেখানে আপনার শিশুপুত্র হাসে, খেলে, মন খুলে বাঁচে। বাড়িতে থেকে সে-ও শাসনে-শৃঙ্খলে বিরক্ত। ক্রমশ তিরিক্ষে, জেদি, একরোখা হয়ে উঠছে তার স্বভাব। আপনিও মানসিক চাপ সামলাতে না পেরে কখনও কখনও তার গায়ে হাত তুলে ফেলছেন। নিমেষে বদলে যাচ্ছে পরিবেশ, সম্পর্কগুলো বদ্ধভূমির মধ্যে পাক খেতে থাকছে।

ধরা যাক আপনি কারও প্রেমিকা। না একসঙ্গে থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই হঠাৎই বদলে গেছে পৃথিবী। দীর্ঘ লকডাউন-এ শুরুর দিকে দুজনে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন। দুটো বাড়ির দূরত্ব মুছতে পারেনি মনের দূরত্ব। ফোনের দুপ্রান্তে উপচে উঠেছে ইমোশন। পরস্পরকে সামলেছেন যথাসম্ভব কিন্তু সম্পর্কও নৈকট্য চায়। পারস্পরিক চাওয়া-পাওয়ার নিরিখে দাবি তৈরি হয়। শারীরিক উপস্থিতি এক ধরনের অভ্যাস। স্পর্শ এক ধরনের আবেগ আদানপ্রদানের মাধ্যম। করোনা দূরত্ব এনেছে শরীরের এবং মনের। সব স্বাভাবিক ছন্দে ফেরা শুরু করলেও, আপনারা দুজন আর পারছেন না আগের মতো শারীরিক নৈকট্যে সামিল হতে।

ধরা যাক আপনি এক প্রৌঢ়া। ছেলে বিদেশে, মেয়ে অন্য রাজ্যে সংসার। ফোন বা ভিডিয়ো কল কতটা পারে আপনার নিঃসঙ্গতা দূর করতে? আগে দুবেলা হাঁটতে যেতেন পাড়ার পার্ক-এ। সেসবই এখন বিপদের ঝুঁকি কারণ আপনার শরীরে বাসা বেঁধে রয়েছে অনেক অসুখ।

কো-মর্বিডিটির শিকার হলে কাল আপনি হয়তো মৃত্যু মিছিলে একটা সংখ্যা মাত্র। এখন আপনার সঙ্গী ফ্ল্যাটের জানলা থেকে দেখা এক-ফালি ক্যালাইডোস্কোপ আকাশ। ক্রমশ আরও একাকী ও নিঃসঙ্গ হতে শুরু করেছেন আপনি, সৌজন্যে করোনা।

ধরা যাক আপনি একজন স্ত্রী, না, করোনায় আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ আক্রান্ত হয়নি। কিন্তু করোনার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আপনাকেও ছাড়েনি। এই ইকনমিক টার্ময়েল-এ আপনার স্বামী কর্মহীন হয়েছেন। গোটা সংসারের বোঝা এখন আপনার উপর। আপনার সাধারণ এই প্রাইভেট স্কুলের চাকরিতে বেতন কমে হয়েছে অর্ধেক। আপনার স্বামী দ্বিতীয় চাকরি পাওয়ার আশায়, এখনও এখানে-ওখানে খবর নিচ্ছেন। বদলে যাচ্ছে বাড়ির পরিবেশ, অর্থনীতি। অশান্তি বাড়ছে, অস্থিরতাও। আর বাড়ছে প্রতিদিনের বেঁচে থাকার অনিশ্চয়তাও। করোনা শুধুমাত্র একটি ভাইরাস হলেও এর প্রভাব শরীর ছাপিয়ে মনে এবং এখন গোটা সমাজে। ভালো থাকার সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে নিরন্তর। বদলাতে বদলাতে রসায়নটা এখন বেঁচে থাকা আর না থাকার মাঝখানে এসে ঠেকেছে।

নেতিবাচক দিক

গবেষণা বলছে সাম্প্রতিক সময়ের ওই দীর্ঘ লকডাউন-এ মানসিক সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। প্রচুর ডিভোর্স ও ব্রেক-আপও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে শারীরিক নির্যাতন বেড়েছে। ভেঙেছে দাম্পত্যের বনেদ। এটা শুধু ব্রেক আপ-এর যন্ত্রণা নয়। নিদ্রাহীন রাত কেটেছে বহু মানুষের এই সংকটপূর্ণ সময়ে শুধু জীবনযাপন কীভাবে হবে, এই অনিশ্চয়তার কথা ভেবে। প্রতি চারজনের একজন স্বীকার করেছেন, তিনি নিদারুণ ভাবে একা এই লড়াইয়ে ক্রমশ আরও একক হচ্ছেন। এই গভীর ক্ষতি বা ক্ষত আরও কত সুদূরে প্রসারিত হবে কেউ জানে না। ক্লিনিকালি ভালনারেবল যারা, পেনসন-এর উপর জীবন কাটান যারা, সিভিয়ার লাং প্রবলেম-এর সমস্যায় এমনিতেই যারা জর্জরিত, কীভাবে চলবে তাদের, যদি ভাইরাস এভাবে দীর্ঘ, দীর্ঘ সময় ধরে তাদের বেঁচে থাকার অনিশ্চয়তা তৈরি করে চলে?

প্রতিবার যখন আমরা অন্য ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করি বা কথা বলি, সংক্রমণের সম্ভাবনার দিকে নিজেদের আরও একবার ঠেলে দিই। আর করমর্দন করি না বা বন্ধুকে জড়িয়ে ধরে ইমোশনাল এক্সচেঞ্জ করি না। শঙ্কা এবং সংকোচ দুই-ই দূরত্ব বাড়ায়। এক্ষেত্রে প্রথমটাই প্রধান। চুম্বন ও ভালোবাসার দিন শেষ। আলিঙ্গন তো আরও দূরস্থান। বিদেশে মুঠি তে মুঠি না ঠেকিয়ে শুধু অভিব্যক্তি দিয়ে পরস্পরকে ভালো থাকার বার্তা দিচ্ছেন মানুষ। নিজেকে বাঁচানোই হয়ে উঠেছে মূল উদ্দেশ্য।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, স্পর্শ এড়ান কিন্তু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন না। নিজেকে মেলামেশা থেকে দূরে রাখা যাবে না। ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডকে মাধ্যম করুন প্রয়োজনে। এই করোনা আউটব্রেক এমনকী এক নতুন অ্যাপ-এরও জন্ম দিয়েছিল যার নাম কোয়ারেনটাইন টুগেদার। এটার রিমাইন্ডার আসে হাত ধোয়ার। আপনি হাত ধুয়েছেন কনফার্ম করলে প্রতিদিন এরা আপনার সঙ্গে আলাপ করায় নতুন সঙ্গীর। ভার্চুয়ালি ডেটিং-এর সুযোগ করে দেয় যাতে আপনি একা না ফিল করেন। এ সত্যিই এক নতুন পৃথিবী, যেখানে রিলেশনশিপ-এর প্রাথমিক শর্ত সেন্স অফ বিলঙিং নেই, পজেসিভনেস নেই, এমনকী রোজকার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়াও নেই। এক অন্তঃসার শূন্যতায় প্রতিদিন এগিয়ে যাওয়া আছে।

ইতিবাচক দিক

যে-লকডাউন পেরিয়ে এলাম আমরা, সেটাকে অবশ্য অনেকে পজিটিভ ভাবেও নিয়েছেন। আত্মবিশ্লেষণের মধ্যে দিয়ে গেছেন।যে-জীবনশৈলীতে তারা অভ্যস্ত ছিলেন, সেখান থেকে ছাঁটকাট করে শুধুমাত্র যে-টুকু প্রয়োজন বেঁচে থাকার জন্য, সেই টুকু রসদে নামিয়ে এনেছেন চাহিদা। নিত্যনৈমিত্তিক জীবন থেকে লাক্সারি একেবারেই বাদ দিয়ে অল্পে সন্তুষ্ট হওয়ার শিক্ষায় হয়তো তারা খুঁজে নিয়েছেন ভালো থাকার মন্ত্র।

কেউ হয়ে উঠেছেন কেয়ার গিভার। নিঃসঙ্গ কোনও বৃদ্ধ-বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছেন। সপ্তাহের বেশ কয়েটি দিন এখন কাটান সেই একলা মানুষকে সঙ্গ দিতে। পার্টি-হইহুল্লোড় থেকে নিজেকে সরিয়ে আনার সংযম মানুষকে নিজের অন্তরের দিকে তাকানোর, নিজের গুণাগুণকে খুঁজে নেওয়া সুযোগ করে দিয়েছে। তাই সবটাই নেতিবাচক নয়। জীবনযাপনের, সম্পর্কের রসায়ন বদলে আমরা এক নতুন সত্ত্বায় আত্মপ্রকাশ করছি। মাস্ক ও স্যানিটাইজারে মোড়া আমাদের এই নতুন জীবন মানসিক ভাবে আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার। নিউ নর্মাল পৃথিবী এখন বাস্তবিকই তাকিয়ে আছে কবে  আবার স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফেরা যাবে, সেই দিকেই৷ প্রতিষেধকের আপেক্ষায় আমরাও৷

শীতে পান উজ্জ্বল ত্বক

এসেছে শীতকাল৷ এ সময় ত্বকের চাই বাড়তি যত্ন৷ তাই, জেনে নিন সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়ে কী ভাবে ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষা করতে পারবেন।

ত্বক রক্ষা এবং সৌন্দর্য‌ ধরে রাখার প্রধান শর্ত হল, ত্বককে জীবাণুমুক্ত এবং ময়শ্চারাইজড রাখা। এর জন্য বেছে নিন স্নান করার সময়টাকে। যদি নিমপাতা জোগাড় করতে পারেন, তাহলে গরম জলে ফুটিয়ে ওই জল ছেঁকে নিয়ে স্নানের জলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। অথবা নিম-যুক্ত সাবান দিয়ে প্রাথমিক স্নান করুন। এরপর এক বালতি জলে, শসার চারটে টুকরো মিশিয়ে এবং সম্ভব হলে কমলালেবুর খোসা ছিঁড়ে দিয়ে সামান্য নারকেলতেল ফেলে স্নান সারুন। এতে ত্বক উজ্জ্বল এবং নীরোগ থাকবে। ত্বক অনুযায়ী কোন প্যাক কতটা কার্যকরী,দেখে নেওয়া যাক৷

স্বাভাবিক ত্বক: শসা কুরিয়ে তার সঙ্গে অল্প চিনি মিশিয়ে নিন। ফ্রিজে রেখে দিন কিছুক্ষণ। তারপর মুখে-ঘাড়ে-গলায় লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক ত্বকে আর্দ্রতা জোগায়।

তৈলাক্ত ত্বক: দুই টেবলচামচ বেসনের সঙ্গে এক টেবলচামচ দই মিশিয়ে নিলে তৈলাক্ত ত্বকের দারুণ প্যাক তৈরি হয়ে যাবে। বেসন ত্বকের বাড়তি তেল শুষে নেয়। দই ত্বককে পরিষ্কার করে ভিতর থেকে।

শুষ্ক ত্বক: এই প্যাক বানাতে লাগবে একটা কলা আর এক টেবলচামচ অলিভ অয়েল। কলার পেস্ট বানিয়ে, অলিভ অয়েল মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। মিনিট কুড়ি রেখে, ধুয়ে ফেলুন। কলা স্কিন রিজুভিনেট করে, নতুন স্কিন সেল তৈরিতে সাহায্য করে। অলিভ অয়েল খুব ভালো ময়েশ্চারাইজার।

মিশ্র ত্বক: তিন টেবলচামচ পেঁপে ম্যাশ করে নিন। তাতে মেশান এক টেবলচামচ ঠান্ডা দুধ আর দু’ফোঁটা আমন্ড অয়েল। এই প্যাক মুখে লাগিয়ে আধঘণ্টাখানেক রেখে দিতে হবে। দুধ আর আমন্ড অয়েল ত্বকের শুষ্ক অংশে আর্দ্রতা জোগাবে। পেঁপে শুষে নেবে বাড়তি তেল।

মুখ ছাড়াও, হাত-পা এবং শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বককেও দ্রুত উজ্জ্বল এবং আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন বাড়িতে থেকেই। এর জন্য চাই কাঁচা দুধ, কাঁচা হলুদ এবং কমলালেবুর খোসা।

প্রথমে কাঁচা হলুদ বেটে কিংবা মিক্সিতে পেস্ট বানিয়ে নিয়ে কাঁচা দুধে মেশান। এরপর স্নানের এক ঘন্টা আগে হাতে, পায়ে এবং সারা শরীরে (মুখ ছাড়া) মেখে নিন ওই দুধ-হলুদের মিশ্রণ। তিরিশ মিনিট পর কমলালেবুর খোসাবাটা মুখে মেখে তিরিশ মিনিট পর ভালো সাবান দিয়ে স্নান করে নিন। ত্বক উজ্জ্বল হবেই।

আর মুখের বাড়তি সৌন্দর্যের জন্য উপকরণ হিসাবে লাগবে দই আর শসা। প্রথমে শসা কুরে নিন অথবা হামানদিস্তায় থেঁতো করে নিয়ে দইয়ের সঙ্গে মেশান। এরপর শুয়ে থাকা অবস্থায় আয়নার সাহায্য নিয়ে ওই দই-শশার পেস্ট মুখে (চোখ ছাড়া) মাখুন। চোখের উপর রাখুন শসার পাতলা টুকরো। পনেরো মিনিট বাদে মুখ ধুয়ে নিন ঠান্ডা জল দিয়ে।

এই প্রথম বাংলা গানে সুর দিলেন ডাবু মালিক

এই প্রথম বাংলা গানে সুর দিলেন ডাবু মালিক। অনেকেই জানেন যে,বলিউডের বিখ্যাত সুরকার অনু মালিকের ভাই ডাবু -ও হিন্দি গানের জগতের জনপ্রিয় গায়ক এবং সুরকার। তাঁর সুরে সমৃদ্ধ হয়েছে ‘ ইয়ে জিন্দেগি কা সফর’,’তুমকো না ভুল পায়েঙ্গে’,’ম্যায়নে দিল তুঝকো দিয়া’,’হম তুমহারে হ্যায় সনম’,’নেহলে পে দেহলা’ প্রভৃতি ছবির গান।

বাংলা গানের ক্ষেত্রে এই প্রথমবার পা রাখলেন এই সুরকার। ‘না বলা কথা’ শীর্ষক এই গানটি ডাবু তাঁর নিজের ইউটিউব চ্যানেল এম ডাবলু এম এন্টারটেইনমেন্ট-এ মুক্তি দিয়েছেন সম্প্রতি।ডাবুর সুর দেওয়া গানটি লিখেছেন লিপি।গেয়েছেন সৃজিত।

গায়ক হিসাবে সৃজিত নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ইতিমধ্যেই। একসময় ডাবুর সুরেই সৃজিত গেয়েছেন ‘ম্যায়নে দিল তুঝকো দিয়া’ ছবির গান।গানটি গাওয়া নিয়ে কথায়-কথায় সৃজিত জানিয়েছেন,’গানটি খুব ভালো লিখেছে লিপি। অসাধারণ সুরারোপ করেছেন ডাবু মালিক। আর মালিক ঘরানা মানেই তো মেলোডি। তাই,গানটি গেয়ে খুব শান্তি পেয়েছি।‘

‘না বলা কথা’ গানটির প্রসঙ্গে সুরকার ডাবু জানিয়েছেন,’সৃজিতের সঙ্গে আড্ডা দিতে-দিতেই এই গানটি তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। তাছাড়া, সুর-রসিক বাঙালি শ্রোতাদের মন জয় করার জন্যও, এই প্রথম বাংলা গানে সুর দেওয়ার চ্যালেঞ্জ অ্যাকসেপ্ট করি। আর মেলোডি গান পছন্দ করার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।‘

‘না বলা কথা’  ইতিমধ্যেই সবার মন জয় করে নিয়েছে বলে আনন্দপ্রকাশ করেছেন গীতিকার,গায়ক এবং সুরকার। করোনার এই পরিবেশে সুরই হয়তো মন ভালো রাখার পথ। তাই মেলোডি নিয়ে ডাবুর বাংলা গানে পদার্পণ, নিশ্চিত ভাবে বেশ আশাপ্রদ।

প্রেগন্যান্সিতেও ফিট অনুষ্কা শর্মা

বলিউডের সেলেব মায়েরা বারবারই প্রমাণ করে দিচ্ছেন, প্রেগন্যান্সি মানেই চুপচাপ ঘরে বসে থাকা নয় । বরং যতটা সম্ভব নিজেকে খুশি রাখা, কাজের মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখা । শারীরিক কোনও সমস্যা না হলে এই অবস্থাতেও চুটিয়ে কাজ করা সম্ভব । তবে হ্যাঁ, অবশ্যই সাবধনতা অবলম্বন করে ।গর্ভাবস্থায় মাথা নিচে, পা উপরে, অনুষ্কা শর্মার সদ্য পোস্ট করা এই ছবি তাক লাগিয়ে দিয়েছে অনুরাগীদের। অভিনেত্রী,গর্ভাবস্থাতেও যোগাভ্যাস চালু রেখেছেন।মাতৃত্বকালীন অবস্থায় ফিটনেসে একটি বড়ো ভূমিকা নেয় যোগ, এও জানিয়েছেন অভিনেত্রী৷

অনুষ্কা একজন বিশিষ্ট যোগা শিক্ষকের পরামর্শ নিয়েছিলেন ভার্চুয়ালি।ইন্সট্রাকশন অনুযায়ী নিয়ম করে রোজ যোগব্যায়াম করছেন। আর তাঁর সেই যোগ সেশনের একটি ছবি অনুষ্কা ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন, যেখানে অভিনেত্রীকে বেবি বাম্প নিয়ে শীর্ষাসন করতে দেখা গিয়েছে।মাথা নীচে পা ওপরে, মাথায় হাত রেখে ভর নিয়েছেন শরীরের। দেয়ালে শরীরের ভর রেখেছেন। তাঁর পাশে রয়েছেন স্বামী বিরাট কোহলি। বিরাটকে দেখা গেছে অনুষ্কাকে যোগাসনে সাহায্য করতে ৷ সেই ছবিই এখন সোশ্যাল দুনিয়ায় ভাইরাল।

বিরুষ্কার ঘরে জানুয়ারিতে আসবে নতুন অতিথি। তারই মধ্যে একের পর এক চমক দিচ্ছেন অভিনেত্রী। কখনও মাতৃত্বকালীন অবস্থায় ফ্যাশনের আইকন হয়ে উঠছেন– তো  কখনও আবার ফিটনেসের মাধ্যমে তাক লাগাচ্ছেন। পরনে কালো টি শার্ট, হালকা আকাশি ট্র্যাক প্যান্ট পরা এই ছবিতে আসন্ন প্রনবা অনুষ্কাকে বেশ ফিট দেখাচ্ছে ৷ মাতৃত্ব হল জীবনের এক সেরা অভিজ্ঞতা, যার  ভিতর দিয়ে এই মুহূর্তে যাচ্ছেন তিনি। চুটিয়ে উপভোগ করছেন মাতৃত্ব। বিরাটও পিতৃত্বকালীন ছুটিতে। অতঃপর হাসিতে, খুশিতে সময় কাটছে দু’জনের।

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় দুবাই থেকে মু্ম্বই ফিরে শ্যুটিং শুরু করে দেন অভিনেত্রী । নিউ নর্মালে সমস্ত কোভিড বিধি মেনে ,ফ্লোরে শ্যুটিং করতে দেখা যাচ্ছে অভিনেত্রীকে।  শ্যুটিং সেটে প্রতিদিনই প্রায় নিত্যনতুন লুকস-এ ধরা দিয়েছেন তিনি। আপাতত অনুষ্কা কমার্শিয়াল অ্যাডের শ্যুটিং সারছেন , একের পর এক। বলিউডে মম টু-বি ফ্যাশন আইকন হিসেবে রঙিন এবং ফ্যাশনেবল ড্রেসে প্রতিদিনই লেন্সবন্দি হতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। মাতৃত্বকালীন অবস্থাতেও তিনি দারুণ আকর্ষক। কিছুদিন আগেও তাঁর একটি ছবি বেশ আলোড়ন তুলেছিল। অনুষ্কা নিজে শেয়ার করেছিলেন সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায়।  ছবিটি দেখে মনে হয়েছিল কোনও এক হাসপাতালের ছবি ৷ সবাই দেখে চমকে উঠেছিলেন৷। আসলে এই ছবি ছিল কোনও এক হাসপাতালের শ্যুটিং সেটের ৷ ছবিতে অনুষ্কার সঙ্গে তাঁর দল পিপিই কিট পরে ছবিটি তুলে ছিলেন ৷

প্রেগন্যান্সি  নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই, বরং স্বাভাবিক কাজকর্মে যুক্ত থাকুন৷। বলিউডের শিল্পিরা এ ক্ষেত্রে রোল মডেল হতেই পারেন। এর আগেও  কল্কি কোয়েচলিন, শিল্পা শেঠি থেকে শুরু করে আরও অনেক বলিউড অভিনেত্রীরাই প্রেগন্যান্সি নিয়ে প্রচলিত নানা ট্যাবু ভেঙে দিয়েছেন। বলিউডের অন্যতম সুপারহিট নায়িকা তথা ভারতীয় ক্রিকেটের ফার্স্ট লেডি অনুষ্কা শর্মাও, হয়ে উঠতে পারেন হবু মায়েদের কাছে এক দৃষ্টান্ত।

রূপচর্চায় চারকোল

নানা রকম প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে প্রসাধন সামগ্রী তৈরি হয়। তার মধ্যে অনেকগুলোই আমরা সরাসরি ত্বকের যত্নে ব্যবহার করে থাকি। যেমন হলুদ, বেসন, মধু ইত্যাদি।এবার সৌন্দর্যের দুনিয়ায় হল এক নয়া সংযোজন৷

এতদিন আমরা বিশেষ বিশেষ খাবারে স্মোকি ফ্লেভার নিয়ে আসার জন্যে চারকোলের ব্যবহার করে এসেছি। এখন রূপচর্চায় এর ব্যবহার বাড়ছে। দোকানের শেল্ফ-এ এসে গেছে অ্যাক্টিভেটেড চারকোল দিয়ে তৈরি বিভিন্ন কোম্পানির ফেসওয়াশ, মাস্ক, সাবান, শ্যাম্পু, ক্লিনজার, অয়েল-বাম আরও অনেক প্রোডাক্ট। অ্যাক্টিভেটেড চারকোল পাউডার প্যাকেট বন্দি করে ঢালাও বিক্রি হচ্ছে।

কী ভাবে তৈরি হয় এই অ্যাক্টিভেটেড চারকোল

কাঠকে ৮০০ থেকে ১২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় আগুনে জ্বালানো হয় ও সেই সময় অক্সিজেনের মাত্রা খুব কম রাখা হয়। এর ফলে মিথেন, হাইড্রোজেন, টার সব বেরিয়ে গিয়ে হালকা যে পদার্থটি পড়ে থাকে সেটাই চারকোল। এটাকেই যখন অনেক বেশি তাপমাত্রায় স্টিম করা হয়। তখন সেটা অ্যাক্টিভেটেড চারকোলে পরিণত হয়। চারকোলের গায়ে ছোটো ছোটো ছিদ্র উৎপন্ন হয়। ত্বক, চুল ও দাঁতের যত্নে এটাকে ব্যবহার করা হয়। ঘরে বসে অ্যাক্টিভেটেড চারকোল দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন এই প্রোডাক্টগুলি—

) ফেস স্ক্রাব একটি প্লাস্টিকের পাত্রে ২ চা চামচ জোজোবা অয়েল-এর সঙ্গে সামান্য অ্যাক্টিভেটেড চারকোল পাউডার মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। তারপর হালকা গরম জলে মুখ পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন।

) ফেস প্যাক একটা প্লাস্টিকের বোলে ১ চা চামচ অ্যাক্টিভেটেড চারকোল পাউডারের সঙ্গে ৩ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল এবং ২-৩ ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

) পিল অফ মাস্ক প্লাস্টিকের পাত্রে ২ চা চামচ অ্যাক্টিভেটেড চারকোল পাউডারের সঙ্গে বেশ খানিকটা ফেভিকল ও সামান্য জল মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করে নিন। পরিষ্কার ও শুকনো মুখে পেস্টটি ভালো করে চারিয়ে দিন চোখ, মুখ, ভুরু বাঁচিয়ে। সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে পিল করে নিন। যেখানে থেকে ভিজে তোয়ালে দিয়ে আস্তে করে মুছে মুখ পরিষ্কার করে নিন।

) দাঁতের জন্যে টুথপেস্টের সঙ্গে মিশিয়ে সপ্তাহে ২ বার ব্রাশ করুন। নিজেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন।

সাবধানতা চারকোল ফুসফুসের জন্যে ক্ষতিকারক। চোখ, নাক, মুখ বাঁচিয়ে। শ্বাসনালিতে যাতে প্রবেশ না করে।

প্রিয় সেই দার্জিলিং-টা

চা-বাগানের ঢাল বেয়ে উপচানো সবুজ আর কাঞ্চনজংঘার ব্যাকড্রপ, টয়ট্রেন আর ম্যালের কোলোনিয়াল ফ্লেভার, ধূমায়িত চায়ের কাপের সুগন্ধী আমেজ– ইকোয়েশন একটাই, দার্জিলিং। আক্ষরিক অর্থেই কুইন অফ দ্য হিল্স আমায় টানছিল তার সমস্ত রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে। তাই বাগডোগরা থেকে সটান গাড়িতে চড়া। পুরোটাই আপহিল জার্নি। পাহাড়ের গায়ে আটকানো মেঘ আর বনান্ত জুড়ে সবুজ, নেশা ধরিয়ে দেয়। কার্সিয়াং, টুং, সোনাদা, ঘুম পেরোতেই টয়ট্রেনের সঙ্গে দেখা। শহরে ঢোকার মুখে পর্যটক আর স্থানীয় দোকানপাটের ভিড় ঠেলে অবশেষে চেনা ম্যালের চৌহদ্দিতে। ম্যালে সেই চেনা পর্যটকের ভিড়, ঘোড়া তার সওয়ারি খুঁজছে, শীত পোশাকের পশরা ঠাসা দোকানপাট।

বিকেল থেকে ইলশেগুঁড়ি আরও রোমান্টিক করে তুলল দার্জিলিং-কে। একটু উষ্ণতার জন্য তাই সেঁধিয়ে গেলাম প্রিয় কাফে গ্লেনারিজ্-এ। ভিতরে সেই চেনা অ্যাপায়নের আঁচ, সেই কেক-প্যাস্ট্রির আহ্বানে ভরা অনুষঙ্গ। দ্বিতল এই কাফে বস্তুত দার্জিলিংয়ের সাহেবি কেতাদুরস্ত চেহারাটা আজও ধরে রেখেছে।

ঠান্ডা বাড়ছে। সঙ্গে শনশনে হাওয়া। গরম ধোঁয়া ওঠা ক্যাপুচিনো আর কাচের শার্সির বাইরে একটা, দুটো করে আলো জ্বলে ওঠা দার্জিলিং। গ্লেনারিজ-এ বরাবরই কিছু সৌম্য মেধাবী বিচ্ছুরণ টের পাই। দেয়ালের দিকে চোখ পড়ে, নানা দেশি-বিদেশি মানুষের সাক্ষর ও মন্তব্য লেখা চিরকুট। বছর খানেক আগে আমার লিখে যাওয়া চিরকুটটাও খুঁজে ফেলি ওই কাগজের ভিড়ে। বরাবরই এ আমার প্রেমের পার্বত্য শহর।

এসব ভাবতে ভাবতেই খাবার এসে গেল। রোস্ট চিকেন সাব সান্ডউইচ, চিকেন হট ডগ ও ফ্রায়েড এগ এন সসেজ। কুয়াশা, পাহাড়, ঝিরঝিরে বৃষ্টি সব মিলিয়ে বাইরের দার্জিলিং তখন সত্যি রানির মতোই সেজে উঠেছে। গায়ে তার অজস্র আলোর সলমাচুমকির উড়ান।

পরদিন ভোরে গাড়ি করে টাইগার হিলের পথে চললাম। কাঞ্চনজংঘায় রঙের খেলা দেখার নেশা মনকে আবিষ্ট করে রাখল। ওই সৗন্দর্য এমনই যে, বহুক্ষণ কথা বলতে পারিনি চাক্ষুস করার পর। ঝকঝকে দিন। কাঞ্চন হাসিমুখে স্বাগত জানাচ্ছে দার্জিলিংঙের পর্যটকদের। ব্রিটিশরা বুঝেছিলেন এর উচ্চতার কারণে চা চাষের জন্য দার্জিলিং হল আদর্শ। ফলে ব্রিটিশ টি প্ল্যানটার্সদের বাসস্থান হয়ে উঠল দার্জিলিং। এটি ধীরে ধীরে ব্রিটিশ রাজাবাহাদুরের গ্রীষ্মকালীন আবাস হয়ে উঠল। দার্জিলিং এলে, হেরিটেজ টয়ট্রেনে ঘুম হয়ে বাতাসিয়া লুপ ঘোরার মজাটাই আলাদা। এই জয় রাইড মাস্ট-ডু’র মধ্যে পড়ে।

পরদিন ব্রেকফাস্টের আদর্শ জায়গা হিসাবে বেছে নিলাম কেভেন্টরস্-এর রুফটপ। অর্ডার দেওয়ার পর এসে পড়ল এখানকার ট্র্যাডিশনাল প্ল্যাটার– রোস্টেড বেকন, চিকেন সসেজ সালামি ও পোচ্ড এগ্স। সঙ্গে হট চকোলেট। রোদে গা এলিয়ে স্রেফ আলসেমি করেই কাটিয়ে দেওয়া যায় দার্জিলিং। আর তা না চাইলে বিকল্প তো আছেই, হ্যাপি ভ্যালি টি এস্টেট ঘুরে দেখা, হিলকার্ট রোডে লম্বা ওয়াক বা জু কিংবা তেনজিং নোরগে হিমালয়ান ইন্সটিটিউট-এ সময় কাটানো। আর আপনি যদি একটু সৌখিন হন তাহলে আপনার অপেক্ষায় আছে জোয়ি’স পাব। কোলোনিয়াল চার্ম-এর সবটুকু রূপসুধা মেলে ধরবে এই সুন্দরী পাহাড়ের রানি– বছরের যে-কোনও সময়ে,যখনই যান।

যখন ফুটল বিয়ের ফুল

করোনায় যতই কাবু হোক না এ দেশ, ভারতীয়দের মনের জোরের কোনও তুলনা নেই। তাই পরিস্থিতি একটু ঢিলে হওয়ামাত্রই বিয়ের ঢল নেমেছে সিলেব্রিটি মহলে। নভেম্বরের গোড়াতেই সাতপাকে বাঁধা পড়েছেন অভিনেত্রী কাজল অগ্রবাল। আবার দিনকয়েক আগেই, নতুন জীবন শুরু করলেন অভিনেতা প্রিয়াংশু পেনিউলি।নৃত্যশিল্পী বন্দনা যোশির সঙ্গে গাঁট ছড়া বাঁধলেন অভিনেতা নভেস্বরের শেষে।

‘মির্জাপুর ২’ খ্যাত অভিনেতা তাঁর হোমটাউন দেরাদুনে, তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। সম্প্রতি বিয়ের পোশাকে এই যুগলকে দেখা গিয়েছে তাঁদের ইনস্টাগ্রাম ছবিতে। করোনার মহামারীর জন্য শুধুমাত্র পরিবার, নিকট আত্মীয় এবং কাছের বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান করেন তাঁরা। ঘরোয়া বিয়ে করায় যাঁদের আমন্ত্রণ করতে পারেননি নব-দম্পতি, সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে ক্ষমা চেয়ে নেন তাঁরা। সত্যি কথা বলতে কী, এই নিউ নর্মাল পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে সামাজিক রকমসকম।

এদিকে টলিগঞ্জে গতবছর ডিসেম্বরের শুরুতেই টলিউড সাক্ষী থেকেছিল জুন আর সৃজিতের বিয়ের। করোনার পরিস্থতিতে টলিগঞ্জও বেশ কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ চনমনিয়ে উঠেছে টলিপাড়া, তারকাদের বিয়ের খবরে। দিন কয়েক আগেই সাত পাকে বাঁধা পড়েছেন অণির্বাণ ভট্টাচার্য। দীর্ঘদিনের বান্ধবী মধুরিমা গোস্বামীর সঙ্গে এই করোনা কালেই বিয়েটা সেরে, টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা বেশ চমকে দিয়েছেন।

এবার খুব তাড়াতাড়ি বান্ধবী অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা সেনের সঙ্গে বিয়েটা সেরে ফেলতে চলেছেন অঙ্কুশ, তা নিয়ে জোর গুঞ্জন চলছে টলিপাড়ায় ৷ তবে সেই গুঞ্জন নিজেই ছড়িয়েছেন অভিনেতা ৷ প্রথমটায় টুইটারে মজাচ্ছলে অনির্বাণ-মধুরিমাকে বিয়ের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েই কথাটা সোশ্যাল মিডিয়ায় বললেও, পরে ঘনিষ্ঠমহলের কাছে স্বীকার করেন যে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের গোড়ার দিকেই দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ঐন্দ্রিলার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছেন তিনি। আরেকটু খোলসা করে বললে, মার্চের মধ্যেই বিয়েটা সারছেন অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলা। দিনক্ষণ এখনও স্থির না হলেও, অভিনেতা জনিয়েছেন, দুই পরিবার কথা বলেই বিয়ের দিন ঠিক করা হবে।

আসলে, অঙ্কুশ এবং ঐন্দ্রিলাকে অফ স্ক্রিনে সর্বত্রই দেখা যাচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরেই। দীর্ঘ দশ বছরের প্রেম ছোটোপর্দার আদরের  ‘ফাগুন বউ’-এর সঙ্গে অঙ্কুশের।এক সঙ্গে জিমে যান, অভিনয়ের ওয়ার্কশপও থাকে দুজনের একসঙ্গে। পরের বছর চার চারটি ছবিও আসছে এই জুটির। তাই সবটা চিন্তাভাবনা করে তারকাজুটি ঠিক করে ফেলেছেন যে, খুব শিগগিরই তাঁরাও এবার বিয়েটা সেরেই ফেনবেন।  সম্প্রতি বন্ধু অনির্বানকে টুইট-এ বিয়ের শুভেচ্ছা দিয়ে টুইট করেন অঙ্কুশ ,”তোমাকে দেখে ঠিক করলাম আমিও সেরেই ফেলি। শিগগিরিই যোগ দিচ্ছি তোমার দলে। তোমার রিয়েল লাইফ মালতিকে নিয়ে সারাজীবন সুখে থেকো।” বোঝাই যাচ্ছে টুইটের মাধ্যমে তাঁর ভাবনাটিকেও প্রকাশ্যে আনতে চেয়েছেন অঙ্কুশ ।

ওদিকে বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ঘোষণা করে ফেলেছেন গৌরব চট্টোপাধ্যায় ও দেবলীনা কুমার। টেলিভিশনের তারকা জুটিরাও পিছিয়ে নেই। ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে সারছেন নীল-তৃণা। শোনা যাচ্ছে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরেই ডাচ সুন্দরী ইকার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছেন পরমের, লিভ ইন করলেও এতদিন বিয়ের ব্যাপারে উদ্যোগী হননি। তবে সূত্রের খবর সামনের বছরই চারহাত এক হচ্ছে। তবে বিয়ের দিনক্ষণ এখনও পাকা হয়নি।

শোনা যাচ্ছে নতুন বছর বিয়ের সানাই বাজবে রুদ্রনীলেরও। রুদ্রনীলের বিবাহ অভিযানের খবরটা শোনা যাচ্ছে বেশকিছুদিন ধরেই। যদিও রুদ্রনীল নিজে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। সূত্রের খবর পাত্রী কোনও নায়িকা বা ইন্ডাস্ট্রির কেউ নন। অনেকদিন ধরেই দুজনের আলাপ, তবে বিয়ের সিদ্ধান্তটা সম্প্রতিই নিয়েছেন। রুদ্রনীল নাকি হবু স্ত্রীর জন্যই ঢেলে সাজিয়েছেন নিজের নতুন ফ্ল্যাটটি।

রুদ্রর এক সময়ের প্রেমিকা তনুশ্রী চক্রবর্তীও বিয়েটা সেরে ফেলতে চলেছেন শিগ্গিরি। দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসায়ী রাজকুমার গুপ্তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে রয়েছেন তনুশ্রী। সম্পর্কের কথা কোনওদিন অস্বীকারও করেননি নায়িকা । তবে বিয়ে নিয়ে ফোবিয়ার জেরেই এতদিন পাকা সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নতুন বছরে বিয়েটা সেরে ফেলবেন তনুশ্রী।

২০২১-এ টলিউডের বিয়ের তালিকায় সবচেয়ে হাইপ্রোফাইল নাম-দেব ও রুক্মিনীর। নতুন বছরে বিয়েটা নাকি সেরেই ফেলছেন দেব-রুক্মিনী, এমনই জল্পনা। নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে কোনওদিন লুকোছাপা করেননি এই প্রেমিকযুগল। বারবার প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন একে অপরের জীবনে কতটা ইনকমপ্যাটিবল তাঁরা। দুজনে একে অপরের নামের ট্যাটুও আঁকিয়েছেন হাতে । সময় পেলেই একসঙ্গে বেড়াতেও বেরিয়ে পড়েন দুজনে। কখনও পাহাড়, কখনও জঙ্গল আবার কখনও সমুদ্র। একান্তে সময় কাটাতে ঠিক সময় বার করে নেন নিজেদের ব্যস্ত শেডিউল থেকে। দেব বরবারই মজা করে বলে থাকেন একদিন আচমকাই বিয়েটা সেরে ফেলব,কেউ জানতেও পারবে না।এখন অপেক্ষা, কবে এই ঘোষণা- কে সত্যে রূপান্তরিত করেন দেব !

 

শীতের সাইড ডিশ

শীতের টাটকা ফুলকপির  স্বাদকে উপভোগ করতে, বানিয়ে ফেলুন এই দুটি অসাধারণ রেসিপি৷

ফুলকপির নার্গিসি কোফতা

উপকরণ – ১ কাপ ফুলকপি গ্রেট করা, ১/২ কাপ পনির, ১ বড়ো চামচ কাজুগুঁড়ো, ১ বড়ো চামচ ধনেপাতাকুচি, ১/২ ছোটো চামচ চানা মশলা, ৪ বড়ো চামচ মোটা বেসন, কাবাব বানানোর মতো তেল, ১ বড়ো চামচ আদা-রসুন পেস্ট, নুন স্বাদমতো।

পুরের জন্য – ১ বড়ো চামচ আদা ও কাঁচালংকাকুচি, ১/২ ছোটো চামচ বড়ো এলাচগুঁড়ো, ১ বড়ো চামচ কাজুকুচি, ১/২ কাপ পেঁয়াজ লম্বা করে কাটা, ১/৪ কাপ পেঁয়াজবাটা, ১/২ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ গরমমশলাগুঁড়ো, ১ বড়ো চামচ ধনেপাতাকুচি, ২ বড়ো চামচ সরষের তেল, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী – ফুলকপির সঙ্গে পনির, কাজুগুঁড়ো, বেসন প্রভৃতি মিশিয়ে নিন। আদা ও কাঁচালংকা দিয়ে পুর তৈরি করুন। কপির মিশ্রণ থেকে গোল গোল কাবাব তৈরি করে, মাঝখানে আদা-লংকার পুর ভরুন। প্রত্যেকটি কোফতা তেলে বাদামি করে ভেজে নিন। এবার একটা ননস্টিক প্যানে তেল দিয়ে পেঁয়াজ ভাজুন। মশলা দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। অল্প জল দিন। ফুটে উঠলে কোফতাগুলো দিয়ে একটু উলটে-পালটে কোফতার উপর মশলা মাখিয়ে নিন। ধনেপাতা ছড়িয়ে আঁচ বন্ধ করুন।Spicy cauliflower dish

 

স্পাইসি গোবি ইন গ্রিন কারি

উপকরণ – ২টো ফুলকপির টুকরো, ১/৪ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, ১ কাপ ধনেপাতা, ১০-১২টা পালংপাতা, ২টো কাঁচালংকা, ১ ইঞ্চি আদার টুকরো, ১/২ ছোটো চামচ কালোজিরে, ৪ কোয়া রসুন, ৩ বড়ো চামচ রিফাইন্ড অয়েল, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী – ফুলকপির টুকরো ফুটন্ত জলে ৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এবার জল থেকে তুলে নিন। ননস্টিক প্যানে তেল গরম করুন। হলুদগুঁড়ো দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। ধনেপাতা, পালংশাক,কাঁচালংকা, রসুন একসঙ্গে মিক্সিতে পেস্ট করুন। তেলে এই পেস্ট কষতে থাকুন। ফুলকপির টুকরো দিয়ে নাড়াচাড়া করুন যতক্ষণ না মশলা কপির গায়ে ভালো ভাবে লেপটে যায়। গা মাখা হলে নামিয়ে নিন।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব