আপনার সন্তান কি যৌনহেনস্থার শিকার?

মন-কে বিশ্বাস করানো খুব কঠিন যে, আমাদের সন্তান যে-কোনও সময়েই যৌনহেনস্থার শিকার হতে পারে। আমাদের জানতে হবে সমাজের সব স্তরেই এমন বহু মানুষ রয়েছে যারা বাচ্চাদের উপর যৌনশোষণ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না, এমনকী তারা আপনার বিশেষ পরিচিত, বিশ্বস্ত পাত্রও হতে পারে। এ ব্যাপারে মায়েদের সতর্ক থাকা একান্ত দরকার। বাচ্চার উপর করা যে-কোনও ধরনের হেনস্থাই  বাচ্চার মানসিক দ্বন্দ্বের কারণ হয়ে উঠতে পারে যার ফলে বাচ্চার সার্বিক উন্নয়ন বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং সে মনের শান্তি, আনন্দ শৈশবেই হারিয়ে ফেলে।

অনেক সময় বাচ্চাকে সামাজিক স্তরেও হেনস্থা করা হয় যেমন মানসিক ভাবে তাকে নিগ্রহ করা, বাচ্চার কোনও দুর্বলতা নিয়ে সর্বক্ষণ তার প্রতি আঙুল তোলা হলে, বাচ্চা ইমোশনালি ভেঙে পড়তে থাকে। রাস্তাঘাটে, স্কুলে, বিভিন্ন সামাজিক স্থানে কেউ আপনার বাচ্চার দুর্বলতা নিয়ে তাকে নিগ্রহ করছে কিনা সেটা অভিভাবককেই খেয়াল রাখতে হবে। কন্যাসন্তান অথবা পুত্রসন্তান নির্বিশেষে দুজনের উপরেই যৌনশোষণ যে-কেউই চালাতে পারে। এরফলে বাচ্চার মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। অভিভাবকদের সতর্ক হতে হবে যাতে তাদের সন্তানদের উপর এই সুযোগ কেউ না নেয়। বাচ্চার সঙ্গে খোলাখুলি বন্ধুর মতো মিশতে হবে যাতে বড়োদের কাছে বলতে তারা ভয় না পায়।

অপরাধ কতটা গুরুতর, সেটা খেয়াল রাখাটা একান্ত জরুরি। মনে রাখতে হবে সবসময় অচেনা ব্যক্তিরাই নয়, শিশুর সঙ্গে পরিচিত কোনও ব্যক্তিও শিশুকে যৌননিগ্রহ করতে পারে। এই তালিকায় বন্ধু, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক, বাড়ির প্রাইভেট টিউটর, পরিচারক সকলেই থাকতে পারে। এমনকী বাবার হাতে কন্যাসন্তানের যৗন হেনস্তার খবরও বারবার চোখের সামনে উঠে আসে। সুতরাং সতর্ক থাকুন, আপনার সন্তান সম্পূর্ণ নিরাপদ কিনা লক্ষ্য রাখুন।

বেশিরভাগ যৌনশোষণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতে পারে না। অত্যাচারিত শিশু অত্যাচারীর ভয়ে কিছু বলতে পারে না, হয়তো শারীরিক পীড়নের সঙ্গে সঙ্গে মৗখিক ভয়ও দ্যাখানো হয় তাকে। আবার লজ্জা, ভয়, অভিভাবকেরা তার কথা বুঝতে পেরে প্রপ্রার প্রোটেকশন তাকে দিতে পারবে কিনা, মনের এই দ্বিধার ফলে বড়োদের কাছেও তারা এই ধরনের ঘটনার কথা খুলে বলতে পারে না। সুতরাং সন্তান যৌনশোষণের শিকার কিনা, সেটা বেশির ভাগ মা-বাবাই বুঝে উঠতে পারেন না। এর একটাই উপায়, যৌনহেনস্থার সবরকম লক্ষণ আপনার সন্তানের মধ্যে ফুটে উঠছে কিনা সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখতে হবে মা-কে। লক্ষণ অনেককিছুই, অনেক রকমেরই হতে পারে। বাচ্চার ব্যবহারে বিশেষ কোনও পরিবর্তন হয়েছে কিনা সেটা খেয়াল করতে হবে। যৌনশোষণের শিকার হওয়া বাচ্চাদের, এক-একজনের, এক-এক রকম প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

তাই বলে অভিভাবকদের সন্তানের জন্য অতিরিক্ত চিন্তা বা সন্দেহ করার প্রয়োজন একেবারেই নেই। বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবেই বাচ্চার ব্যবহারে একটা পরিবর্তন আসে এবং মানসিক টানা-পোড়েনও লক্ষিত হয় যার ফলে বাচ্চার মেজাজ আগে থেকে নির্ণয় করা মুশকিল হয়। এর মানে এই নয় যে তারা নির্যাতনের শিকার। অভিভাবকদের উচিত, সন্তানের ব্যবহারে সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করা এবং তার অন্তর্নিহিত কারণ খুঁজে বার করা।

লক্ষণ

যদি সম্পূর্ণ সুস্থ, বহির্মুখী একটি বাচ্চা হঠাৎ করে নিজেকে সবার থেকে গুটিয়ে নেয় এবং হঠাৎই ভীত, সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে –তাহলে বুঝতে হবে বাচ্চাটি নির্যাতনের শিকার। ভীত শিশুদের মধ্যে, সবকিছুতেই অবাক হওয়ার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বাচ্চা অত্যধিক সংবেদনশীল এবং নার্ভাস হয়ে পড়ে। কখনও কখনও বাচ্চারা অতিমাত্রায় সতর্ক এবং সজাগ হয়ে ওঠে।

উদ্বেগ এবং অবসাদেরও শিকার হয়ে পড়ে অনেক সময় বাচ্চারা। নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং কোনও গঠনমূলক কাজ করার উদ্যম হারিয়ে ফেলে। আবার কখনও এতটাই বাধ্য হয়ে পড়ে যে খারাপ-ভালো বিবেচনা না করেই অন্ধের মতো অন্যের আদেশ পালন করে বসে।

সকলের অলক্ষ্যে যৌনশোষণের শিকার হয়ে পড়লে অনেক সময় বাচ্চা সকলের সান্নিধ্য থেকে নিজেকে গুটিয়ে এনে নিজের চারপাশে একটা প্রাচীর তুলে দেয়। কারও সঙ্গে মেলামেশা করতে চায় না, সম্পর্কগুলো থেকে দূরে চলে আসে। নিজের ভিতরেই নিজে গুমরে মরে এবং এর ফলাফল ভয়ংকরও হয়ে ওঠে মাঝেমধ্যে, অসামাজিক কাজকর্মে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। সকলের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।

কিছু কিছু বাচ্চা এইক্ষেত্রে মা অথবা বড়ো দাদা বা দিদির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে থাকে। চাহিদা অসম্ভব রকম বেড়ে যায় এবং আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বাচ্চা। এর ফলে ঘুম এবং কথা বলতেও সমস্যা হওয়া আরম্ভ হয়। পড়াশোনা এবং অন্যান্য এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি-তেও মনোযোগ দিতে পারে না।

যৌনহেনস্থার কারণে মাঝে মাঝে নিজের ক্ষতি করে ফেলে বাচ্চারা। অনেক বাচ্চা আত্মহত্যা করারও চেষ্টা করে। তরুণ, তরুণীরা যারা নিজেদের এই ট্রমা শেয়ার করতে পারে না, তারা ড্রাগ, অ্যালকোহল ইত্যাদির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে এই জ্বালা-যন্ত্রণার হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে।

সন্তানের মধ্যে এই ধরনের লক্ষণ দেখতে পেলে, সঙ্গে সঙ্গে সাবধান হওয়া দরকার। ধীরে ধীরে সন্তানকে বুঝিয়ে তার মুখ থেকে, চেপে রাখা কথা বার করিয়ে নিতে হবে। ধৈর্য ধরে সন্তানের সব কথা শুনতে হবে এবং সমালোচনা না করে প্রতিটা কথা বিশ্বাস করতে হবে। এই বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে পেরেন্টের সাপোর্টের উপর বাচ্চার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করে।

কোনও ভাবেই বাচ্চাকে একা রাখা চলবে না এবং বাচ্চা যদি কারও সঙ্গে দেখা না করতে চায় তাহলে জোর করে অনিচ্ছাকৃত তাকে এই কাজ করানো বাঞ্ছনীয় নয়। সকলের সামনে বাচ্চাকে বকাবকি করাও অনুচিত। তাতে বাচ্চার সম্মান যেমন ক্ষুণ্ণ হয় তেমনি তার আত্মমর্যাদাও ধুলোয় মিশিয়ে যায়।

সাধারণত সেক্সুয়ালি অ্যাবিউজড বাচ্চাদের মনে একটা অপরাধবোধ গড়ে ওঠে এবং নিজেকেই তারা দোষী মনে করতে শুরু করে। সুতরাং এই সব ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সাবধান হতে হবে। বাচ্চাকে দোষী সাব্যস্ত করবেন না। ভালোবাসা দিয়ে মনের ক্ষত দূর করে তাদের মধ্যে এই বিশ্বাস ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে যে তাদের পাশে মা-বাবা সবসময় রয়েছেন এবং তাদের সব কথা বড়োরা শুনবে এবং বুঝবেও।

সন্তানকে কেউ যৗনহেনস্থা করছে জানতে পারলে খুব সাবধানে এগোতে হবে। বাচ্চার মনে ভয় থাকবেই, অপরাধী যদি জানতে পারে, তার শিকার বাড়ির বড়োদের কাছে সব খুলে বলে দিয়েছে তাহলে আরও বেশি তার প্রতিশোধস্পৃহা বেড়়ে যাবে। এটা মনে রাখতে হবে যে এই পুরো ঘটনার প্রতিক্রিয়া যেন বাচ্চার উপর বুমেরাং হয়ে না ফিরে আসে। বাচ্চাকে আশ্বাস দিতে হবে যে ওই অপরাধীকে কোনওদিন তার ধারেকাছেও ঘেঁষতে দেওয়া হবে না।

‘কী করণীয় ‘ বাচ্চাকে শেখান

বাচ্চা যখন বাড়িতে একা রয়েছে, তখন তাকে শিখিয়ে রাখুন অচেনা ব্যক্তিকে বাড়ির সদর দরজা খুলে না দিতে বিশেষ করে লোকটি যদি আগে কোনও ভাবে বাচ্চাটিকে যৗনহেনস্তা করে থাকে। আত্মীয়স্বজন হলেও ‘না’ বলতে দ্বিধা যেন না করে কারণ এটা কোনও দোষের নয় এটাই বাচ্চাকে বোঝাতে হবে। বাচ্চা যদি কারও কাছ থেকে বিপদের আভাস পায় তাহলে সেখান থেকে দৗড়ে পালিয়ে যাওয়া তার প্রথম কর্তব্য। এর জন্য কেউ তাকে ভীতু বলবে না।

সন্তানকে শিখিয়ে রাখা দরকার, কেউ যদি তাকে যৗন বা মানসিক হেনস্তা করে তাহলে সেই সিচুয়েশনে তার কী করা উচিত। এছাড়াও বাচ্চা কীভাবে নিজের ভয়, রাগ, ঘৃণা ইত্যাদির মতো নেগেটিভ ইমোশনকে নিজের বশে রাখতে পারবে সেটার শিক্ষাও শৈশব থেকে দেওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। বাচ্চার মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলাটা যেমন খুব দরকার তেমনি বাবা-মায়ের উপর শিশুর বিশ্বাস গড়ে তোলাটাও একান্ত কাম্য। শিশুর গোপন জবানবন্দি যে মা-বাবা ছাড়া আর কারও কাছে প্রকাশিত হবে না, এমন বিশ্বাস মা-বাবাকেই শিশুর মনে ঢোকাতে হবে। শিশুকে আস্বস্ত করতে হবে যে যৗনহেনস্তার মতো ঘৃণ্য ঘটনা আর কখনও তার সঙ্গে ঘটবে না।

এই রকম ঘটনা স্কুল অথবা কোনও ইনস্টিটিউশনে যদি ঘটে থাকে তাহলে তৎক্ষণাৎ টিচার এবং প্রিন্সিপালের সঙ্গে দেখা করে ঘটনাটা জানানো দরকার এবং উভয়পক্ষ বসে একটা নির্ণয় নেওয়া একান্ত কাম্য। যদি অপরাধ খুব সিরিয়াস হয়ে থাকে এবং শিশুমনে ভয় বসে গিয়ে থাকে যে অপরাধীর অপরাধ সকলের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়লে সে প্রতিশোধ নিতে উলটো আক্রমণ চালাতে উদ্যত হবে, সেইসব ক্ষেত্রে শিশুকে ওর স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসা উচিত।

গভীর ক্ষত

যৗনশোষণ বাচ্চার মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে। সারা জীবন এই ক্ষত তাকে বয়ে বেড়াতে হয়। ফলে জীবনে নানা জটিলতাও সৃষ্টি হয়। এই ক্ষত দূর করতে হলে, বাচ্চার নিজের প্রতি যে বিদ্বেষ রয়েছে সেটা মুছে দিয়ে তার মনে নিজের প্রতি ভালোবাসার মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। মা-বাবা যে তাকে ভালোবাসে, তার জন্য চিন্তা করে এই বিশ্বাস তার মনের মধ্যে গেঁথে দিতে হবে। নিজেকে পরিবারের অংশ মনে করলে স্বাভাবিক ভাবেই সে নিজেকে বিপদমুক্ত এবং নিরাপদ মনে করবে। কথোপকথনের মাধ্যমে তাদের মনে বসে থাকা অপরাধবোধ মুছে ফেলতে হবে।

সন্তানের প্রতি অভিভাবকদের অগাধ বিশ্বাস রয়েছে এটা তাদের বোঝাতে পারলে বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়বে। ভালোবাসা, যত্ন এবং বিশ্বাস-ই পারে বাচ্চার মন থেকে ক্ষত মুছে দিয়ে অভিভাবকদের কাছে সব কিছু খুলে বলার সাহস জোগাতে। এই ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা সবথেকে গুরত্বপূর্ণ কারণ শিশুর কাছে তার মা-ই হচ্ছে সবচেয়ে বড়ো বন্ধু।

তন্দুরি মাশরুম

খাদ্যগুণে সমৃদ্ধ মাশরুম অত্যন্ত স্বাস্থ্যপ্রদ একটি খাবার। মাশরুমে প্রোটিন অতি উত্তম মাত্রায় থাকে, যা শরীরের জন্য দারুণ উপকারী।  মাশরুমে রয়েছে প্রয়োজনীয়  ৯টি অ্যামাইনো অ্যাসিড। অন্যান্য প্রাণিজ আমিষ যেমন -মাছ, মাংস, ডিম  কিংবা অতি নামি-দামি খাবারে এই উপাদানের সঙ্গে সম্পৃক্ত অবস্থায় থাকে চর্বি। ফলে তা অতি মাত্রায় গ্রহণ করলে শরীরে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে। মেদ-ভুঁড়ির সৃষ্টি হয়, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ প্রভৃতি জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুনে বৃদ্ধি পায়। কিন্তু মাশরুমের প্রোটিনে-ফ্যাট এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ অতি স্বল্প এবং কোলেস্টেরল ভাঙার উপাদান-লোভস্ট্রাটিন, অ্যান্টাডেনিন, ইরিটাডেনিন ও নায়াসিন থাকায় ,শরীরের কোলেস্টেরলস জমতে পারে না । বরং মাশরুম খেলে শরীরে বহু দিনের জমানো কোলেস্টেরল  ধীরে ধীরে বিনষ্ট হয়ে যায়।

১০০ গ্রাম শুকনো মাশরুমে ২৫-৩৫ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে। মাশরুম যারা ভালোবাসেন তাদের জন্য রইল এই তন্দুর আইটেম। চট করে বানিয়ে ফেলা যায়, খাদ্যগুণে ভরপুর, অথচ দারুন টেস্টি এই ডিশ।

উপকরণ – ২৫০ গ্রাম বাটন মাশরুম, ৩০ গ্রাম রসুনপেস্ট, ১৫ গ্রাম কাঁচালংকাবাটা, ২০ গ্রাম কাজু, অল্প ছোটো এলাচগুঁড়ো, ১৫০ এমএল লো ফ্যাট ক্রিম, ৩০ গ্রাম অলিভ অয়েল, ৫ গ্রাম চাটমশলা, ১০ এমএল লেবুর রস, নুন স্বাদমতো ।

প্রণালী – একটা পাত্রে রসুন পেস্ট, কাঁচালংকাবাটা, কাজু আর এলাচগুঁড়ো ছড়িয়ে ক্রিমটা ফেটিয়ে নিন। এতে মাশরুমগুলো দিয়ে ভালো ভাবে মাখুন। কিছুক্ষণ পর ২৫০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে প্রি-হিটেড আভেনে, মাশরুমগুলি শিকে গেঁথে বেক করুন। মাঝে মাঝে উলটে দিন। এবার মাশরুমের উপর অলিভ অয়েল ছড়িয়ে আরও ৩ মিনিট তন্দুর করুন। এবার লেবুর রস ও চাট মশলা , চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করুন তন্দুরি মাশরুম।

 

চিকেন Fruit কাবাবের মজা

কাবাব হল মধ্যপ্রাচ্যের রান্না থেকে আসা বিভিন্ন রকম রান্না করা মাংসের অসাধারণ পদ৷কাবাব পদগুলিতে কাটা বা পেষাই করা মাংস বা সি-ফুড ব্যবহার করা হয়৷ কখনও কখনও নির্দিষ্ট রন্ধন প্রণালী অনুসারে এর সঙ্গে ফল, শাকসবজি এবং অন্যান্য বিভিন্ন অনুষঙ্গও ব্যবহার হয়।মূলত পারস্য এবং তুরস্কের মধ্যযুগীয় রান্নাঘরে তৈরি মাংসের বিভিন্ন খাবারগুলির সাথে সম্পর্কিত কাবাব৷কালে কালে তুর্কিরাই একে জনপ্রিয় করে তুলেছিল৷

এখন কাবাব খেতে আনেকেই ভালোবাসেন৷ তাই কাবাব নিয়েও বিশ্বজুড়ে চলছে নানা এক্সপেরিমেন্ট। এমনই একটি উদ্ভাবনী রেসিপি হল ফল ও চিকেন দিয়ে বানানো অপূর্ব এই কাবাব। এবার  এই চিকেন ফ্রুট কাবাবেরই  রেসিপি রইল আপনার জন্যও। নিজেই বানিয়ে দেখুন কেমন সুস্বাদু খেতে হয় এই কাবাব।

চিকেন ফ্রুট কাবাব

উপকরণ–  ২৫০ গ্রাম হাড়ছাড়া চিকেনের টুকরো, ১৫০ গ্রাম আপেলের টুকরো, ১৫০ গ্রাম আনারসের টুকরো, ১৫০ গ্রাম নাসপাতির টুকরো, অল্প অলিভ অয়েল ও চাটমশলা।

ম্যারিনেশনের জন্য –  চিকেনের টুকরোগুলি ম্যারিনেট করতে ১টি লেবুর রস, ২ টেবিল চামচ আদা-রসুন পেস্ট, ৫ গ্রাম লংকাগুঁড়ো, অল্প অলিভ অয়েল, ৫০ গ্রাম টম্যাটো পিউরি,।

ফলের ম্যারিনেশনের জন্য – ১০ গ্রাম জিরেগুঁড়ো, ১৫ গ্রাম টম্যাটো কেচআপ, ৫ গ্রাম নুন,

৫ গ্রাম মৌরিগুঁড়ো, ৩ গ্রাম কসুরি মেথি পাউডার।

প্রণালী – সমস্ত ফল একটি বোল-এ রেখে নির্দিষ্ট ম্যারিনেশনের জিনিসগুলি মাখিয়ে আধঘণ্টা রেখে দিন। একই ভাবে মাংসের টুকরোগুলিও ম্যারিনেট করে রাখুন। একটি শিকে ফল ও মাংসের টুকরো গেঁথে ১৮০ ডিগ্রি প্রিহিটেড আভেনে, ৪৫ মিনিট রোস্ট করুন। অল্প অলিভ অয়েল মাখিয়ে আরও ২ মিনিট রোস্ট করুন। এবার শিক বের করে চাটমশলা ছড়িয়ে দিন। স্যালাড সহযোগে সার্ভ করুন।

Spinal Cord বা মেরুদণ্ডের অসুখ

মেরুদণ্ড সোজা রাখা জরুরি –এই বাক্যটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃৎ হলেও, শরীরকে সুস্থ রাখার ক্ষেত্রেও শব্দগুলি সমান ভাবে প্রযোজ্য। কারণ একটি বাড়িকে মজবুত রাখার জন্য যেমন পিলার বা স্তম্ভগুলিকে শক্তপোক্ত করে তুলতে হয়, ঠিক তেমনই, শরীরের পিলার, অর্থাৎ মেরুদণ্ডকেও সুস্থ স্বাভাবিক রাখতে হবে। একটা সময় ছিল যখন শুধু বয়স বাড়লেই মেরুদণ্ডের সমস্যা হতো মানুষের, কিন্তু এখন তরুণরাও মেরুদণ্ডের অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন। এর কারণ এবং প্রতিকার কী, সেই বিষয়ে জানিয়েছেন ডা. অমিত হালদার।

এখন তরুণ-তরুণীরাও মেরুদণ্ডের  বা Spinal Cord-এর সমস্যায় ভুগছেন। এর কারণ কী?

মাত্র এক দশক আগেও মেরুদণ্ডের সমস্যা শুধু বয়স্ক মানুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সমীক্ষায় জানা গেছে, কুড়ি থেকে তিরিশ বছর বয়সি তরুণ-তরুণীরাও অনেকে স্পাইনাল রোগের শিকার হচ্ছেন। বেশিরভাগই ভুগছেন লো ব্যাক পেইন-এর সমস্যায়। আর এই সমস্যার শিকার হওয়ার অন্যতম বড়ো কারণ, একটানা অনেকটা সময় কম্পিউটার, ল্যাপটপ কিংবা মোবাইল ফোন ব্যবহার করা এবং মডার্ন লাইফস্টাইল।

এই Spinal Cord সমস্যা থেকে পরিত্রাণের উপায় কী?

লাইফস্টাইল-এর কিছু পরিবর্তন এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে মেরুদণ্ডের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে চিকিৎসা শুরুর আগে কিছু পরামর্শ মেনে চললে রোগভোগের সম্ভাবনা কমবে।

ভঙ্গিমার সংশোধন ও সক্রিয় উপবেশনঃ ভুল ভাবে দীর্ঘসময় বসা বা চলাফেরা করায় পিঠ ও ঘাড়ে চাপ পড়ে, যা একসময় ক্রনিক পেইন-এ পরিণত হয়। পড়ার টেবিলে অনকক্ষণ কাজ করা বা বসে থাকার সময় লক্ষ্য রাখা উচিৎ, পিঠ যেন সোজা থাকে ও চেয়ার বা সিটের ব্যাকরেস্টে বিশ্রাম পায়।

কম্পিউটারের লেভেল ঠিক রাখাঃ দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কাজের সময়ে তার উচ্চতা ঠিক রাখা প্রয়োজন। কম্পিউটারের উচ্চতা খুব বেশি বা খুব কম হলে তা ব্যথার একটি প্রধান কারণ হতে পারে। আদর্শ উচ্চতা হল– কনুই যেন টেবিলে থাকে ও চেয়ার যেন টেবিলের খুব কাছে থাকে, যাতে কি-বোর্ডের জন্য ঝুঁকতে না হয়। ল্যাপটপ ব্যবহারের সেরা উপায় হল টেবিল ব্যবহার করা। বিছানায় শুয়ে ল্যাপটপ ব্যবহার পিঠে ও ঘাড়ে নানারকম ‘মাস্কুলোস্কেলেটাল স্ট্রেন’ ডেকে আনতে পারে। বসা অবস্থায় কাজের মাঝে ব্রেক নিতে হবে ছ একই ভঙ্গিমায় অনেকক্ষণ বসে থাকলেও পিঠ ও ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে। এজন্য প্রতি ১৫ মিনিট পর ৩০ সেকেন্ডের ‘ব্রেক’ নেওয়া উচিত। আর ব্রেকের সময় সটান দাঁড়ানো, একটু হাঁটাহাঁটি করা বা হালকা ভাবে হাত-পা ছোড়া দরকার।

‘এরগনোমিক্স ম্যানুয়াল’ মানা উচিতঃ ভারী জিনিস তোলা বা নীচু হয়ে ঝোঁকার সময় সঠিক শারীরিক ভঙ্গিমা বজায় রাখা প্রয়োজন। প্রতিদিনের জীবনে উপযুক্ত শারীরিক কর্মতৎপরতার প্রশিক্ষণ দরকার, যাতে ‘লাম্বার ডিস্ক প্রোল্যাপ্স’-এর মতো অসুস্থতা এড়ানো যায়। এছাড়া, সঠিক খাদ্য গ্রহণে অনীহা, মানসিক চাপ, আর্থরাইটিস-এর মতো ‘ডিজেনারেটিভ বোন ডিজিজ’ এবং অন্য কিছু বিষয়কেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে, তরুণ প্রজন্মের ব্যাক পেইন-এর মোকাবিলা করা সম্ভব স্বাস্থ্যকর খাদ্যগ্রহণ, পিঠ ও ঘাড়ের জন্য ঠিকঠাক ব্যায়াম ও সূর্যের পর্যা৫ আলোতে থেকে ভিটামিন ডি লেভেল বৃদ্ধির মাধ্যমে। লোয়ার ব্যাক পেইন দীর্ঘকাল চিকিৎসা না করে ফেলে রাখা উচিত নয়। কারণ, তা সারাজীবনের জন্য সার্ভিক্যাল স্পাইন ও স্পাইনাল মাসল-এর স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।                                                                                                    

‘আমার ছবি দর্শকদের ভাবায়’- ভূমি পেডনেকর

 

আর-পাঁচজন বলিউডের অভিনেত্রীর থেকে তিনি সবসময়ই আলাদা। তা সে চরিত্র নির্বাচনেই হোক, বা ছবির বিষয়। বড়ো পর্দার পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও ভূমি পেডনেকর এখন একটি চর্চিত নাম।তাঁর ছবিতে তাই দর্শক সবসময়ই আলাদা কিছু খুঁজে পান।আর এটাই ভূমির ইউএসপি। তাঁর ছবি দেখার পর দর্শকরা বিষয়টি নিয়ে ভাবেল, আলোচনা করেন কিংবা তর্ক করেন। এখানেই ভুমির কাজের সার্থকতা। ছবির বিষয়বস্তুতেই এমন কিছু থাকে যা মানুষকে ভাবায়।এমন একটা সোস্যাল মেসেজ অবশ্যই থাকে যা সমাজের উপর গভীর ভাবে রেখাপাত করে। তাঁর কেরিয়ারের মাত্র পাঁচ বছরের এই সফরে ভূমি, তাই বলিউডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন অভিনেত্রী হয়ে উঠেছেন।

‘দম লগা কে হেঁইশা’-র স্মল টাউন গার্লই হোক কিংবা টয়লেট এক প্রেম কথা-র দৃঢ়চেতা গৃহবধূ – ভূমি সবেতেই সাবলীল। আর সেই জন্যই ‘শুভ মঙ্গল সাবধান’, ‘ষাঁণ্ড কি আঁখ’, ‘পতি পত্নী অউর উয়ো’ কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য নির্মিত ‘সোনচিড়িয়া’ বা ‘ডলি কিটি অউর উয়ো চমকতে সিতারে’ —সবেতেই ছবির বিষয়বস্তু ছাড়াও, অলাদা করে তাঁর পারফর্মেন্স আলোচনায় উঠে এসেছে।

এ প্রসঙ্গে ভূমির বক্তব্য, ‘আমি মনে করি সিনেমা শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যমই নয়- এতে দেখানো বিষয়গুলির একটা সুদূরপ্রসারী প্রভাবও আছে। আমার ছবি নির্বাচনও এটা মাথায় রেখেই করি আমি, যা একটা বড়ো ধরনের সামাজিক পরিবর্তনের অংশ হয়েছে বা ভবিষ্যতে হবে।একটা সোশ্যাল মেসেজ সবসময় দেওয়ার চেষ্টা করি ঠবির মাধ্যমে।‘পতি পত্নী অউর উয়ো’-র মতো ছবি আপাতভাবে বিনোদনমূলক হলেও, এর গভীরে সামাজিক চাপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার একটা বার্তা আছে।খুব বলিষ্ঠ একটা বক্তব্য আছে যে, বৈবাহিক সম্পর্কে থাকা বা না থাকার সিদ্ধান্তটা একক ভাবে একটি মেয়েরই। সমাজ কখনওই তা তার হয়ে ঠিক করে দিতে পারে না।‘

যশরাজ ফিল্মস –এর ব্যানারে ভূমি অভিনীত ‘দুর্গাবতী’ , আগামী মাসেই মুক্তি পাওয়ার কথা। তার আগে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তিনি খুশি যে তাঁর ছবির জন্য একটি নির্দষ্ট শ্রেণির দর্শক তৈরি করতে পেরেছেন ভূমি।তাঁর কাজ ভালো লেগেছে দর্শকদের।যতই গম্ভীর প্রসঙ্গ উঠে আসুক না কেন, বস্তুত বিনোদনই ছবির উপজীব্য। তাই আগামীতেও, সহজ কথার মধ্যে দিয়ে জীবন, সমাজ, নারী স্বশক্তিকরনের বিষয়গুলিই উঠে আসবে তাঁর ছবিতে।

 

 

সহমরণ

শিলিগুড়ি শহরের জাঁকজমক গাঢ়-শহুরে বাতাবরণ থেকে একটু আধা-শহুরে পরিবেশে বেরিয়ে এলে, পথে পড়বে চামটা নদীর ব্রিজ, সেই ব্রিজ থেকে একটু এগিয়ে বাঁদিকে টার্ন নিলে ছোটো গাড়ি বা অন্য কোনও যানবাহন অনায়াসে মেলে। সেই পথ ধরে এগিয়ে গেলে ঘন জনবসতিপূর্ণ স্থান মাটিগাড়া। বাস, অটো, মিনিডোরে যাতায়াতের মাধ্যমে এখানকার মানুষ অতি সহজেই শিলিগুড়ির সাথে সবসময় যোগাযোগ রাখে।

এই মাটিগাড়ার প্রতিরাম নামক স্থানের এক গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা প্রমোদ মৈত্র। প্রমোদবাবু তার স্ত্রী ও এক পুত্রকে নিয়ে কালু সমাদ্দারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। মাস গেলে এক-দু তারিখের মধ্যেই ভাড়ার দু’হাজার টাকাটা চকচকে লাল নোটে মিটিয়ে দিতে হয় কালুবাবুকে। না হলে মদ খেয়ে বাড়িতে ঢুকে দাঁড়কাকের মতো উচ্চকণ্ঠে তার মুখ-খিস্তি ও ভাষণ শুরু হয়ে যায়। সেইসঙ্গে ভাড়াটিয়ার ঘরের জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলতেও দ্বিধাবোধ করে না। এই কান্ড-কারখানায় পাড়ার লোক তখন বড়োই অস্বস্তিতে পড়ে। এ নিয়ে পাড়ার লোকজন প্রায়শই বলাবলি করে এই লোকটি যে কি! ওই আবার শুরু হল বোধ হয় পাগল-ছাগলের প্রলাপ!

ভোর থাকতে থাকতেই ঘুম থেকে উঠে পড়েন প্রমোদবাবু। তিনি তার রুটিন মতো ঘুম থেকে উঠে, ব্রাশ করে, প্রাতঃক্রিয়া সেরে এক ঘণ্টা সময় হাতে নিয়ে বসে পড়েন প্রাণায়াম ও আসনে। এরপর বসেন সিংহাসনে, তখন ওনার গলার আওয়াজে ঘর লাগোয়া প্রতিবেশীরা মাঝেমধ্যেই ভয়ে চমকে ওঠেন। খাটে শোয়া থাকা অবস্থায় আশপাশের অনেককেই মাঝেমধ্যেই বলতে শোনা যায়, ‘ভাড়া বাড়ির দিকের জানালাটা বন্ধ করো! সাত সকালে সিংহের গর্জনে গভীর ঘুমটা আমার ভাঙল।’ কেউ আবার কখনও বলে ‘কাল রাতে দেরি করে শুয়েছি এত তাড়াতাড়ি এখন উঠতে পারব না, জানলাটা বন্ধ করে দাও।‘ এ যেন রোজকার ব্যাপার হয়ে উঠেছে, এরকম নানা অভিযোগ সপ্তাহে তিন চারদিন বলতে গেলে কানে এসেই যায়। কিন্তু তাতে কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই প্রমোদবাবুর। উনি ওনার পরিশ্রমকে ঠিক যথারীতিই সার্থক করে তোলেন।

এ পাড়াতেই থাকেন জলধর দত্ত, যিনি খুব ধুরন্ধর ও পাক্বা বিজনেস মাইন্ডেড লোক, যার কাছে এক পয়সাও ফাদার-মাদার। এই জলধর দত্তের দু’নম্বরি, এক-নম্বরি সব বিজনেসই রয়েছে, তবে তাঁর কাছে মূল বিষয়বস্তু কিন্তু টাকাই। তিনি বহু যুবক যুবতিদের চ্যানেল করে লাইন হোটেলের হিসাব রক্ষক, বিউটি পার্লারের কর্মী, মোবাইলের স্টলের স্টাফ, পিৎজা ডেলিভারি বয়, বেসরকারি অফিসের সিকিউরিটি গার্ড, কুরিয়ার অফিসের ডেলিভারি ম্যান –এসব কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। তবে বহু লোকের এই কাজের লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভাগ্য খুব একটা খোলেনি। যারা বেশি টাকা দিয়ে তাকে ফিটিং করতে পেরেছে, শুধুমাত্র তাদেরই এই কাজগুলি হয়েছে। এই তো সেবার এক-দু লাখ করে টাকা নিয়ে আরব কান্ট্রি ও নেপালে কুড়িজনকে কারখানায় মিস্ত্রির কাজ, বেকারির কাজ, গাড়ির ড্রাইভারের কাজ, ফ্যাক্টরির কাজ তিনি পাইয়ে দিয়েছেন। তার জন্য সেখানে যেতে পাসপোর্ট থেকে ভিসা যাই দরকার হয়েছে, সবই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তিনিই। কিন্তু টাকাটা লেগেছে অনেকই। প্রমোদের কাছ থেকেও চল্লিশ হাজার টাকা খেয়ে তিনি ওনাকে আরব কান্ট্রির এক বড়ো আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে কাজে যুক্ত করিয়েছেন। উনি স্ত্রী ও পুত্রকে এখানে রেখে খুব শীঘ্র রওনা হবেন বলে প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছেন।

সেদিন প্রমোদবাবু জগাই কুণ্ডুর মিষ্টির দোকানে হেমকান্তি দত্তকে বলছিলেন– ভালো আছেন দাদা? জয় গুরু! শুনেছেন তো, আমি এই দু-দিন পরই রওনা হয়ে যাচ্ছি আরবের দিকে।

–হ্যাঁ শুনেছি, আমাকে বলল আমাদের বন্ধু-স্বজন সুজন ভৌমিক।

সেই দিনও দেখতে দেখতে এসে উপস্থিত হয়। সব লাগেজ, বেডিংপত্র গুছিয়ে নিয়ে উনি ওনার স্ত্রী সোমা-কে আলিঙ্গন করে, ছেলে সৌমিত্রকে জড়িয়ে ধরে বলেন– বাবা ভালো মতো পড়াশোনা করিস, তোর মাকে দেখিস। বেরোবার সময় চোখের জল নিয়ে স্ত্রী ও ছেলেকে বলেন– আমি তাহলে আসি! তোমরা ভালো ভাবে থেকো, আমি ফোন করব মাঝেমধ্যে, প্রতিমাসে টাকাও পাঠাব। রামকৃষ্ণ দেব ও স্বামিজির প্রতিকৃতিতে প্রণাম করে জয় ঠাকুর-জয় স্বামিজি বলে কাঁধে বেডিং, হাতে লাগেজ নিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েন।

প্রমোদবাবুর স্ত্রী খুব কান্নাকাটি করতে থাকেন, সৌমিত্র মাকে জড়িয়ে ধরে বলে– মা শান্ত হও! এখানে তো বাবা কত কাজ খুঁজল, কিন্তু সেরকম তো কোনও ভালো কাজই জুটল না! ঈশ্বরের ওপর ভরসা রাখো, মা.. একটু শান্ত হও।

এরপর ছ-মাস টাকাপয়সা পাঠানোর পাশাপাশি স্ত্রী ও ছেলের সঙ্গে রাতে মাঝেমাঝে ফোনে বেশ কিছুক্ষণ ধরে কথাও বলতেন প্রমোদবাবু। কিন্তু বেশ কিছুদিন হল ওনার ফোন ও মানি অর্ডার কিছুই আসছে না! খুবই ভেঙে পড়েছেন প্রমোদবাবুর স্ত্রী। তিনি ভরা দুপুরবেলা কর্কশ কাকের ডাক শুনলেই চমকে উঠছেন এবং ছেলেকে বলছেন, ‘না না আজ বাইরে যাস না বাবা! কোনও অমঙ্গল খবরই এসে পৌঁছোয় নাকি।’

–মা…তুমি অত বাজে চিন্তা কোরো না তো, হয়তো বাবা কিছুদিনের মধ্যেই টাকা পাঠিয়ে দেবে, কোনও অসুবিধের জন্য হয়তো বাবা টাকা পাঠাতে পারছে না বলে সৌমিত্র সান্ত্বনা দেয় মাকে।

সৌমিত্র পড়াশোনাতে খুব ব্রিলিয়েন্ট, গতবার মাধ্যমিকে স্টার মার্কস পেয়েছে, এবার ওর চিন্তা উচ্চ মাধ্যমিকে কীভাবে খুব ভালো ফল করা যায়। তাই রাত জেগে পড়াশোনা করে। অধিক রাত পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যায়। যে করেই হোক তাকে ভালো রেজাল্ট করতেই হবে। চোখের নীচে রাতজাগা কালো দাগ দেখলেই বোঝা যায় ওর পড়াশোনার খুব চাপ বেড়েছে।

ছেলের পড়াশোনার খরচা আর সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সোমাকে। বাজারের জিনিসপত্রের যা দাম! জমানো টাকায় আর কতদিন চলে! তাই অগত্যাই তাকে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে হয় এখন। মাস খানেক হল এই কাজটা হাতে নিয়েছে। পাশাপাশি নিজের পড়ার খরচা চালাতে সৗমিত্রও আজকাল টিউশনি করতে শুরু করেছে।

ছুটির দুপুরে মা-ছেলে খেতে বসে তাদের সুখ-দুঃখের কথা বলছে। সোমা তার ছেলেকে বলছে,

–দ্যাখ বাবা, কত বড়ো বাড়ির বউ ছিলাম! কিন্তু আজ ভাগ্যের পরিহাসে ওই মৈত্রবাড়ির বউকে পরের বাড়িতে কাজ করে খেতে হচ্ছে!

সোমা মাস গেলে হাতে গোনা হাজার তিনেক টাকা পায়। তার সঙ্গে ছেলে সৌমিত্রর টিউশন পড়িয়ে হাজার দেড়েকের মতো ইনকাম। সব মিলিয়ে মেরেকেটে ওই চার সাড়ে চার হাজার টাকা হবে। আজকালকার এই চড়া বাজার দরে কি সেভাবে চলে? বলতে গেলে বড়ো কষ্টেই দিন কাটে দুজনের!

চার সপ্তাহ পর সেদিন সকালে ছোটো অল্প মাছ কিনে এনেছিল সৌমিত্র, বুল্টিদের বাড়ি থেকে পড়িয়ে ফেরবার সময়। তার খুব ইচ্ছে হয়েছিল মায়ের হাতে মৌরলা মাছের অম্বল খাবে। মা-ও ছেলের মনের মতো করে তা রেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু রাতের খাবারের পাতে সে মাছ সৌমিত্রর মুখে কিছুটা উঠলেও মা-র মুখে সে মাছ ওঠেনি। উঠবে কি করে! ওই অল্প মাছে কি আর দুজনের দুবেলা হয়? সৌমিত্র রাতে ঘুমোবার সময় বিছানায় শুয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে বলে মা, ‘আমাকে একটা পাঞ্জাবি কিনে দেবে? আমার স্কুলে এর মধ্যে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আছে। বন্ধুরা বলেছে সেদিন নাকি সবাই ওরা পাঞ্জাবি পরবে, আমার তো পাঞ্জাবি নেই তাই বলছিলাম আর কি।’

আচ্ছা দেখব বাবা, মাইনের টাকাটা আগে হাতে পেয়ে নিই তারপর না হয় ভাবা যাবে। এবারের কাজ করে আয় করা মাসের টাকাটা পেয়ে সোমা ছেলেকে পাঞ্জাবি বানিয়ে দেবে বলে একটা কাপড়ের পিস কিনে নিয়ে আসে বাজার থেকে। পাশের বাড়ির সৃজার মায়ের থেকে হাত সেলাইয়ের মেশিনটা চেয়ে নিয়ে এসে ওইদিন রাত থেকেই শুরু করে দেন ছেলের পাঞ্জাবি তৈরির কাজ। কাজ থেকে বাড়ি ফিরে, রান্নাবান্না সেরে নিয়ে সেদিন রাতেই বসে যান পাঞ্জাবি তৈরি করতে।

সৌমিত্র পড়তে পড়তে মাকে বলে– মা শুয়ে পড়ো এবার, অনেক রাত হল তো! তোমার আবার শরীর খারাপ করবে! তাছাড়া তোমাকে তো আবার ভোর থাকতেই উঠতে হবে। পড়তে পড়তে টেবিলের বইয়ের ওপর মাথা রেখে সৌমিত্র ঘুমিয়ে পড়ে।

সোমা ছেলের চোখ থেকে চশমাটা খুলে রেখে তুলে রাখে বইয়ের তাকে। তিন দিন পরেই ছেলের স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠান। তাই রাত-দিন এক করে তৈরি করে ফেলেন আকাশি রঙের সুন্দর একখানা পাঞ্জাবি।

সৌমিত্র স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানের বিতর্ক সভায় প্রথম স্থান অধিকার করে। বিতর্ক সভার বিষয়বস্তু ছিল –জনসংযোগ ও বইয়ের প্রয়োজনীয়তা। পুরস্কার পেয়ে আনন্দে লাফাতে লাফাতে বাড়িতে এসে বলে– মা আমি প্রথম হয়েছি বিতর্ক সভায়। উঃ কি আনন্দ! এই দ্যাখো পুরস্কার।

মা আদর করে বলে, –আমার সোনা বাবা, তুই এবার ভালো করে পরীক্ষাটাও দে। আমি জানি, চেষ্টা করলে তুই তাতেও ভালো ফল করবি।

মা তুমি মুখটা একটু খোলো তো। স্কুল থেকে অনুষ্ঠানে

অংশগ্রহণকারীদের একটা বড়ো মিষ্টির প্যাকেট দিয়েছে।

–তুই খেলেই তো হতো, আবার আমাকে…।

মাকে জড়িয়ে ধরে–মা আমার দ্বিতীয় জন্ম যদি হয় তোমার গর্ভেই যেন হয়, তোমার কোলেই মাথা রেখে যেন আমি শান্তিতে ঘুমোতে পারি। আচ্ছা মা, বাবা না জানি এখন একা একা সেখানে কী করছে তাই না?

দেয়ালে টাঙানো নিজে, স্বামী এবং ছেলের একসাথে তোলা একটা পারিবারিক ফটোর দিকে তাকিয়ে বলেন– এই ভরা সন্ধেবেলায় কী আবার করছে? সেখানে দ্যাখগে সঙ্গীসাথিদের সাথে দাবা নয়তো তাস খেলায় মত্ত।

হ্যাঁরে সমু, তোর বাবার জন্য মনটা আনচান করে না! সেখানে একা একা দুবেলা যে কী রেঁধে খাচ্ছে! শরীরটাই বা কেমন আছে! সুগারটা আয়ত্তে আছে কিনা! খুব চিন্তা হয়রে…। আচ্ছা সমু এত দিন হয়ে গেল তোর বাবার ফোন কেন আসছে না রে? এতগুলো সপ্তাহ পার হয়ে গেল। দেখিস তো তোর ছোটো ফোনটা দিয়ে ফোন করা যায় কিনা।

মা… ওই ফোনের সিম কার্ডটা রিচার্জ করতে হবে, তারপর সেখানে কল করা যাবে। ঠিক আছে মা, আমি এ মাসে টিউশনের টাকাটা পেলে সিমটা রিচার্জ করিয়ে নেব। তুমি মন খারাপ কোরো না, কেঁদো না।

এক একটি দিন চলে যেতে থাকে দুচোখের নীরব অশ্রুবন্যায়। বিবাহিত জীবনের কষ্টকর এতগুলি বছর, সেই বর্ষণমুখর রাতের কাহিনি, সন্তানের জন্মলগ্ন এবং অর্ধাহারে থাকা দুর্বিষহ ঝোড়ো হাওয়ার রাতগুলি সোমাকে দুমড়ে মুচড়ে শেষ করতে থাকে। এক স্বামী, এক পিতার দূর হয়ে যাওয়া সেই ভালোবাসা যেন এক স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিমেষে ভালোবাসা শূন্যতার শামিয়ানায় আস্তরিত করতে থাকে।

সৌমিত্র সেদিন ওর মাকে বলছিল– মা বহুদিন থেকে তুমি কিছু খেতে পারছ না। যা খাচ্ছ সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস ফর্ম করছে তোমার, চলো কাল তোমাকে শিলিগুড়িতে একজন ডাক্তার দেখিয়ে আনি।

–নারে বাবা, আমি ঠিকই আছি, ওটা হয়েই থাকে। বরং আমাকে দু-পাতা ভালো অ্যান্টাসিড এনে দিস, তাতেই আমি ভালো থাকি।

এর ঠিক পরের দিন সোমা কাপড় গোছাচ্ছে, এমন সময় সৌমিত্রর স্কুলের দুজন বন্ধু দৗড়োতে দৗড়োতে এসে বলল– কাকিমা সৌমিত্র মাথা ঘুরে স্কুলের ক্লাসরুমে পড়ে গেছে। গোপাল স্যার আর তমাল স্যার ওকে নিয়ে গিয়েছে শিলিগুড়ি হসপিটালে।

–একি অলক্ষুনে কথা বলছিস তোরা! হায় ঈশ্বর! আবার কোন নতুন বিপদ হল আমার! জয় ঠাকুর, জয় ঠাকুর… কোনও রকমে শাড়িটা পরে, ব্যাগে সম্বল টাকাটুকু নিয়ে বেরিয়ে পড়ে সোমা। পথে জ্যাম! হসপিটালে এক ঘন্টা দেরিতে পৌঁছোন। গিয়ে দেখেন ছেলে জেনারেল বেডে শুয়ে আছে, মাথায় ব্যান্ডেজ।

ডাক্তার কৃষ্ণেন্দু সেনগু৫ রাউন্ড থেকে এসে ওনাকে বলেন–জখম খুবই সামান্য, কিন্তু একটি কথা বলুন তো এই ঘটনা কি ওর প্রথম বার? নাকি এর আগেও এরকম ঘটেছে?

সোমা বলে– ডাক্তারবাবু আমার যতদূর মনে পড়ছে, যখন ও ক্লাস এইটে পড়ে তখন একবার পিকনিকে গিয়ে বাসের দরজা থেকে মাথা ঘুরে বাইরে পড়ে গিয়েছিল।

ব্যাপারটা কিন্তু আমার ভালো ঠেকছে না, এই ব্লাড টেস্টগুলো আজকেই কোনও প্যাথোলজি থেকে তাড়াতাড়ি করিয়ে নিন, সন্ধেবেলায় আমি রিপোর্ট দেখব, বলে ডাক্তারবাবু বেরিয়ে গেলেন।

ডাক্তারের পরামর্শ মতো সোমা এক প্যাথোলজি সেন্টার থেকে তাড়িতাড়ি ব্লাড টেস্ট করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে সন্ধেবেলায় হাসপাতালে হাজির হল।

রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বললেন– ইয়েস আই অ্যাম কারেক্ট। যেটা সন্দেহ করেছিলাম সেটাই। ওর লিউকোমিয়া পজিটিভ, ভালো হবার সম্ভাবনা খুবই কম!

ডাক্তারের মুখে এই কথা শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ে সোমা। ডাক্তারবাবুকে বলেন, ‘ডাক্তারবাবু ওকে কি আমি আজ বাড়ি নিয়ে যেতে পারি?’

ডাক্তারবাবু বলেন– নিয়ে যান তবে প্রত্যেক মাসে ওর

চেক-আপটা খুবই জরুরী। এটা মাথায় রাখবেন!

এই মায়ের কাছে জীবনের সব উত্তর-প্রত্যুত্তর যেন এক নিমেষে বিলীন হয়ে যায়। অভাব তাড়া করে তাকে মানুষের ভিড়ে, দুচোখের জল নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে এই অভাগিনী মায়ের। খুদে ইচ্ছেগুলো পিশে মরে যায় ব্যথার তাড়নায়। সেই মাকেই নিজের সম্মান বজায় রাখার সামাজিকতা ছারখার করে দেয় এক নিমেষে। সোমা জীবনযুদ্ধে পরাস্ত হতে থাকে ছেলের জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে। ছেলের প্রাণ রক্ষার্থে নিজের সম্মান বিক্রি করার কথা চিন্তা করলেও কোথায় যেন আটকে যায় সোমা।

একদিকে তার একমাত্র ছেলের জীবন আর অন্যদিকে সমাজ-সংসার লোকলজ্জার ভয়, তাকে কুরে কুরে খায়। এই কঠিন পরীক্ষায় দগ্ধ হতে থাকে সোমা। না, অন্যের কাছে নিজের সতীত্ব সেদিন নষ্ট করতে পারেনি, এক একটি জ্বালাময় রাত্রি খুন করেছে তার জীবনের মায়া। সোমা দাঁড়িয়েছে ছেলের জীবন-ভিক্ষুক হয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে। কিন্তু কই! কেউ তো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি। দেখা মেলেনি মানবরূপী কোনও মহাপুরুষের! বরং তার মধ্যে পেয়েছে বাড়ির মালিকের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা কিছু যন্ত্রণাদায়ক বাক্যশূল।

মদ খেয়ে এক রাতে বাড়িভাড়া চাইতে এসে কালু সমাদ্দার অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলে, এতদিন তো বাড়িতে মা-ব্যাটা মিলে দুজন থেকেছেন! দু-মাসের ভাড়া বাকি পড়ে গেছে। অনেক হয়েছে, আমি আর কোনও কথা শুনব না। কিছু বুঝতেও চাইছি না। ভাড়া মিটিয়ে দিলে থাকবেন, নয়তো আমার অন্য ভাড়া রেডি।

–কোথায় যাব? কী করে যাব এই অবস্থায়? ছেলের মারণ রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে হসপিটালে অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে। একটু দয়া করুন, আর একটু সময় দিন, আপনার পায়ে পড়ি!

কালু বলে, কী! ক্যানসার হইছে? বলেন নাই তো, এই কর্কট রুগিকে এখানে রাখা যাবে না। আমার বাড়ির অন্য মানুষজন ইনফেক্টেড হয়ে যাবে।

সোমা বলে, দাঁড়ান, ঠাকুরের লক্ষীঘটে কিছু খুচরো পয়সা রেখেছিলাম নিয়ে আসছি।

হু…উ খুচরো পয়সা? সমাদ্দারকে আপনি খুচরো পয়সা দেখাচ্ছেন! আমার সঙ্গে মসকরা করছেন। টাকা না দিতে পারলে তিন দিনের মধ্যে ঘর ছেড়ে দেবেন, বলে গেলুম। একদম চালাকি করার চেষ্টা করবেন না। লোক ডাকাডাকি করবেন না, তাহলে পুলিশ কেস দিয়ে দেব।

এদিকে সৌমিত্র-র শারীরিক অবস্থা দিন কে দিন খারাপ হতে থাকে। অহরহ জ্বর, মাথা ঘোরা, বমি, দুর্বলতা কিছুই বাকি থাকে না।

ডাক্তার বলেছে, ওর শরীরের অস্থি-মজ্জা পরিবর্তন করতে হবে। সে তো অনেক টাকার ব্যাপার। অত টাকা পাবে কোথায় সোমা? দুঃশ্চিন্তা গ্রাস করতে থাকে তাকে।

কালু সমাদ্দারের দেওয়া সময় পার হয়ে যায়। বাড়ি ভাড়া দিতে না পারায় দুদিন পর এক বর্ষণ মুখর সন্ধ্যায় অসুস্থ ছেলেকে সঙ্গে করে সোমা ব্যাগ-পত্তর নিয়ে বেরিয়ে পড়ে এক অজানা ঠিকানায়। পায়ে হেঁটেই চলতে থাকে তারা। আকাশে বিদ্যুত চমকাচ্ছে ঘনঘন সেইসঙ্গে মেঘের গর্জন। হঠাৎ এক গর্জনের ভীষণ শব্দে সৗমিত্র রাস্তায় পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারায়। সঙ্গে সঙ্গেই আশপাশের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ছেলেকে টানতে টানতে একটু মাথা গোঁজার মতো এক আস্তানায় পৌঁছোয় তারা। মিনিট দশেক পরে সেখানকার দুটি ফিলামেন্ট লাইট টিমটিম আলোয় জ্বলে ওঠে। সেই আলোয় সোমা দেখে, এটা তো একটা শ্মশান! যেখানে মানুষকে শেষ বিদায় দেওয়া হয়। মৃত মানুষের শেষ ঠিকানা।

ঠিক এমন সময় বলো হরি হরি বোল, বলো হরি হরি বোল ধবনি ভেসে আসতে থাকে পেছন থেকে। মনে হচ্ছে কারা যেন তার সন্তানকে তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যেতেই এগিয়ে আসছে। মা তার সন্তানকে বুকের মধ্যে চেপে ধরে আগলাবার চেষ্টা করে। পাথরের মতো চোয়াল শক্ত হয়ে যায় সোমার। অজানা আশঙ্কায় তার চোখ-মুখ অন্ধকারে ঢেকে যায়।

কিছুক্ষণ পর চোখ খুলে দেখেন, না তারা দুটি মৃতদেহ নিয়ে এই নির্জন শ্মশানে এসেছে। মৃতদেহের সাথে লোকজন খুবই কম। হাতে গোনা মাত্র এসেছে আটজন। বোধ হয় বৃষ্টির জন্যই এই অবস্থা!

রাতভর ছেলেকে বুকে আগলে ধরে সোমা শ্মশানে বসেই ঘুমিয়ে পড়ে। ভোরবেলা ঘুম ভেঙে দেখে, মৃতদেহ দুটির সৎকার হয়ে গেছে। সৎকার করতে আসা লোকজনও চলে গিয়েছে। শ্মশান নিস্তব্ধ, চারিদিকে ঝিঁঝি পোকার ডাক, সেখানে শুধু এক মা। আর তার সদ্যমৃত ছেলে।

সব খেলা শেষ! সোমা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি, কখন তার আদরের ছেলে সব মায়া-বন্ধন কাটিয়ে চির বিদায় নিয়েছে। তাকিয়ে দেখে চিতায় দেবার মতো কিছু কাঠ তখনও অবশিষ্ট আছে। আগের জ্বালানো চিতার কাঠ তখনও নদীর ধারে জ্বলছে।

সোমা নিজেই চিতা সাজায়। চিতার জ্বলন্ত কাঠ নিয়ে এসে সেই আগুন নিজ সন্তানের চিতায় দেয়। বহুক্ষণ চেষ্টার পর দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে চিতা। সৌমিত্র-র দেহ জ্বলতে থাকে, দেহ পুড়ে যেতে থাকে সেই আগুনে আর সেই সঙ্গে পুড়ে ছারখার হয়ে যায় সেই মায়ের জীবনের সব কিছু। সেই মুহূর্তে একাকী শ্মশানে দাঁড়িয়ে তার মনে হয় তাদের দেহ, মন, ইচ্ছাগুলোকে এক শ্রেণির মানুষ যেন পিষে মেরে ছাইয়ের গাদার মতো শ্মশানে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।

অভাগি মা আকাশের দিকে তাকিয়ে হাত জোড় করে কেঁদে ওঠে– হায় ঈশ্বর! এই জীবন রেখে আমি আর কী করব? একমাত্র সহায়-সম্বল ছেলে আজ আমায় ছেড়ে চিরতরে চলে গেল, স্বামীও আমার কাছে নেই, জানি না উনি কেমন আছেন? আদৗ আছেন কিনা! সব হারালাম, আমার সব আশা-আকাঙক্ষাগুলো আমার এই সন্তানের জন্যই গুছিয়ে রেখেছিলাম তিলে তিলে। আজ আমিও নিজেকে শেষ করে দেব। এই সমাজকে শিক্ষা দিয়ে যাব ছেলের চিতায় আমার এই রক্তমাংসের শরীর বিসর্জন দিয়ে।

—–                           

স্বামীর সঙ্গে শারীরিক মিলনে আমি কোনও সুখ পাই না

আমি ২৩ বছর বয়সি যুবতি। ১ বছর আগে আমার বিয়ে হয়েছে। আমার স্বামী খুবই ভালো কিন্তু বিয়ের পর থেকেই আমি একটাই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। স্বামীর সঙ্গে শারীরিক মিলনে আমি কোনও সুখ, আনন্দ অনুভব করতে পারি না। সংসার করছি, এক ছাদের তলায় আছি, দায়িত্ব, কর্তব্য, পরিশ্রম সবই হচ্ছে কিন্তু কারও মনে কোনও আনন্দ নেই৷  অথচ সহবাসের সময় আমি পুরোপুরি ভাবে স্বামীকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। বিয়ের আগে যদিও আমার কোনও অ্যাফেয়ার ছিল না তবুও এই বিয়ে করতে একেবারেই রাজি ছিলাম না। আমার এখন কী করা উচিত?

 

বিয়েতে বা সেক্স-এর প্রতি আপনার উদাসীনতার কারণ ঠিক বুঝতে পারলাম না। শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ আপনার পছন্দ হয়নি নাকি স্বামী আপনাকে ভালোবাসেন না? সেক্স-এ রুচি কমবেশি সকলেরই থাকে। সেক্স-এর প্রতি অনিচ্ছা সত্ত্বেও কি স্বামীর সঙ্গে সহবাস করতে বাধ্য হন?

পারস্পরিক সমঝোতার উপর সেক্স-এর কোয়ালিটি ডিপেন্ড করে৷ আপনাদের মধ্যে সেক্সুয়াল কম্পাটিবিলিটি ঠিক কতটা এটা আপনাদের নিজেদের কাছে পরিষ্কার হওয়াটা খুবই জরুরী৷ অনেক সময় দেখা যায়, মহিলাদের মেনোপজের সময় এই ধরনের চাহিদা অত্যন্ত বেড়ে যায় বা কমেও যায়৷ এটি হরমোনাল ইমব্যালেন্সের কারণে ঘটে থাকে৷কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে তো তা নয়৷

আমার মনে হয় আপনাদের কাপল কাউন্সেলিং করানো উচিত৷ জোর দেওয়া উচিত পারস্পরিক সহমর্মিতাকে ফিরিয়ে আনার উপর৷মনে রাখবেন তথাকথিত সেক্স বলতে আমরা যা বুঝি তার বাইরেও অনেকভাবেই দাম্পত্য জীবনে সেক্সুয়াল প্লেজার নেওয়া যায়৷ সঠিক কাউন্সেলিংয়ে দু’জনেই এগুলো শিখে নিজেদের জীবনের আনন্দ ফিরিয়ে আনতে পারবেন৷

জীবনকে পজিটিভ অ্যাঙ্গেলে দেখার চেষ্টা করুন। কোনওরকম সমস্যা থাকলে স্বামীর সঙ্গে বসে, কথা বলে নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন। বৈবাহিক জীবনে সেক্স-এর একটা বড়ো ভূমিকা রয়েছে সুতরাং এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে স্বামীকেও সুখী করতে পারবেন না এবং বিয়ে ভেঙে যাওয়ারও একটা সম্ভাবনা তৈরি হবে। তার চেয়ে মনে আনন্দ রাখুন। পরিবেশ রোমান্স এবং ভালোবাসায় ভরিয়ে তুলুন। নিজে ভালো এবং আনন্দে থাকলে স্বামীকেও সুখী করতে অসুবিধা হবে না।

চার বছরের শারীরিক সম্পর্ক ভেঙে ছেড়ে চলে গেছে প্রেমিক

আমি ২৮ বছর বয়সি টিভি সিরিয়ালের প্রোডিউসারচার বছর আগে আমার থেকে দুই বছরের ছোটো একটি ছেলেকে ভালোবেসে ফেলি এবং শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়িকিন্তু সেই সময় আমার প্রেমিকের উপর অনেকরকম দায়িত্ব ছিল ফলে আমরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারিনিআমাকে বলেছিল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দায়িত্বগুলো মিটিয়ে আমাকে বিয়ে করবেআমি ওর কথা বিশ্বাস করেছিলাম এবং আমরা স্বামী-স্ত্রীর মতো একসাথে লিভ ইন শুরু করি এই শহরে যেখানে আমরা কাজের সূত্রে থাকি, এখানে আমাদের দুজনেরই পরিবারের কেউ থাকে নাসুতরাং আমাদের এই সম্পর্কের কথা বাড়িতে কেউই জানত নাআমরা বন্ধুবান্ধব এমনকী সহকর্মীদেরও ব্যাপারে কিছু জানাইনি কারণ আমরা ধুমধাম করে যখন বিয়ে করব তখনই সকলকে জানাব ঠিক করেছিলাম

আমরা চার বছর এই সম্পর্ক মেনটেন করেছিলামওকে বিয়ের জন্য আমি কোনও দিনই জোর দিইনি কারণ অমি জানতাম কেরিয়ার নিয়ে খুব টেনশনে আছেযতটা প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আশা করেছিল ততটা সফল হতে পারেনিএদিকে আমার পেশায় আমি এতটাই সাফল্য পেয়েছিলাম যে আর্থিক সমস্যা আমাদের একেবারেই ছিল না

এই চার বছরে আমি তিনবার প্রেগন্যান্ট হই এবং আমাকে অ্যাবর্শান করাতে হয়আমার ডাক্তার আমাকে সাবধান করেন যে আবার এই ভুল করলে আমি আর কোনও দিন আমার শিশুকে পৃথিবীর আলো দেখাতে পারব না

দুসপ্তাহ আগে আমার বয়ফ্রেন্ড হঠাৎ-জানায় আমাকে ছেড়ে, এই ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে যাচ্ছে বাড়িতে, কারণ ওর বাবা তাঁর কোনও বন্ধুর মেয়ের সঙ্গে ওর বিয়ে ঠিক করেছেওর পক্ষে মা-বাবার অবাধ্য হওয়া নাকি সম্ভব নয়আমি ওর কথায় এতটাই অবাক এবং শক্ড হয়েছি যে জিনিসপত্র গুছিয়ে চলে যাওয়ার সময় আমি একটা শব্দও মুখ থেকে বার করতে পারিনিবাড়ির ভাড়া, পেনডিং সমস্ত বিল আমার ঘাড়ে চাপিয়ে পালিয়ে গেছে

সেইদিন আমার বাবাও হঠাৎই আমার ফ্ল্যাটে এসে উপস্থিত হন এবং সত্যিটা জেনে ফেলেনআমিও দু-তিনজন ভালো বন্ধুর কাছে ভেঙে পড়ি এবং চার বছরে কী কী ঘটেছে সব খুলে বলিওরা শুনে আশ্চর্য হয়ে গেছে যে এতদিন ধরে এই ব্যাপারাটা কীভাবে আমি কারও কাছে প্রকাশ হতে দিইনিওরা পরামর্শ দিচ্ছে যে কোর্টে গিয়ে ছেলেটির বিরুদ্ধে কেস ফাইল করতে তাহলে ছেলেটি বাধ্য হবে আমাকে বিয়ে করতেআমার কি এটাই করা উচিত?

আপনি অবশ্যই আদালতের সাহায্য নিতে পারেন। একজন ভালো আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করুন যিনি আগেও এই ধরনের কেস হ্যান্ডল করেছেন। উনিই আপনাকে বলে দেবেন কেস করার ভালো এবং খারাপ দিকগুলো।

লিগাল দিক ছাড়াও আরও কয়েকটা বিষয়ে আপনার ভাবা উচিত যে আইনের সাহায্য নিলে কতটা এফেক্ট আপনার উপর পড়তে পারে। আপনার বাবা পুরো ব্যাপারটা জেনে ফেলেছেন এবং সম্ভবত আপনার মা-কেও জানিয়ে থাকবেন। আপনার পুরো পরিবারে ব্যাপারটা রাষ্ট্র হয়ে গেলে আপনার সম্মান তো ক্ষুণ্ণ হবেই এরপর কেসটা আদালত অবধি পৌঁছোলে আপনার দিকে আঙুল উঠতে দেরি লাগবে না।

কেস আদালতে পৌঁছোলে আপনার ‘এক্স’-এর প্রতিক্রিয়া কী হবে সেটাও ভাবার বিষয়। এমনিতে আপনাকে ছেড়ে যেতে ছেলেটি এক মুহূর্তও ভাবেনি। কিন্তু কেস শুরু হলে ওর ফ্যামিলি এবং বন্ধুদের সামনে ওর মুখোশ খসে পড়বে এবং বিয়ের সম্বন্ধটাও ভেঙে যাওয়ারও চান্স রয়েছে। এতে ছেলেটি রেগে গিয়ে আপনার আরও ক্ষতি করার চেষ্টা করবে এমনকী আপনার কর্মক্ষেত্রের সুনাম কলঙ্কিত করতেও পিছু হটবে না। আপনার সব কথার বিরোধিতা করবে, কোর্টে দাঁড়িয়ে আপনার বলা সত্যগুলো, মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা করবে। আপনাকে চরিত্রহীন প্রমাণ করে দিতে পারে। সম্পূর্ণ অস্বীকার করতে পারে যে ও আপনার কাছে কোনও প্রমিস করেছিল বলে অথবা এমনও বলতে পারে যে সম্পর্ক তৈরি হওয়ার আগেই ও আপনাকে সাবধান করে দিয়েছিল যে এইটা একটা ক্যাজুয়াল রিলেশনশিপ। এই ক্ষেত্রে কোর্ট এবং ফ্যামিলির সামনে আপনাকে হিউমিলিয়েট্ হতে হবে। ফেলে আসা চারটে বছর আপনি কিছুতেই ফিরে পেতে পারবেন না। ম্যাক্সিমাম কোর্ট ছেলেটিকে আদেশ দিতে পারে, কমপেনসেশন হিসেবে কিছু টাকা আপনাকে দিয়ে দিতে। সত্যি করে কি এইরকম একটা মেরুদণ্ডহীন ছেলেকে আপনি বিয়ে করতে আগ্রহী? বিয়ে হলেও সারজীবন আপনি ওকে কীভাবে বিশ্বাস করবেন! অপরদিকে কেস করলে প্রতারক ছেলেটিকে একটা শিক্ষা দেওয়া হবে, এটাই একমাত্র আপনার সান্ত্বনা।

সুতরাং কোনও কিছু করার আগে সব দিকগুলো ভালো করে ভেবে দেখবেন এবং তারপরই ডিসিশন নেবেন।

কার্পণ্য

দোকান বন্ধ করে ফিরতে ফিরতে রোজই প্রায় দশটা বেজে যায় বিমলের। ফিরে স্নান সেরে একেবারে খাবার টেবিলে। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা এই রুটিনের বড়ো একটা হেরফের হয় না। এই সময়ে বাড়ির সকলকে তিনি একসঙ্গে দেখতে চান। এটা ওনার কড়া অনুশাসন-ই হোক বা হুকুম, ওনার মতে দিনের একটা সময়ে অন্তত একত্রিত হয়ে কিছুক্ষণ সময় কাটানো, নিজেদের সুখ-দুঃখ শেয়ার করে নেওয়াটা ভীষণ জরুরি। এতে পরিবারের সঙ্গে জুড়ে থাকা যায়।

আজ খাবারের মেনু দেখেই মনটা বেশ ভালো হয়ে যায় বিমলের। তার পছন্দের নতুন গুড়ের পায়েস, তাও আবার ঠিক সেই ভাবেই বানানো, যেভাবে সে ছোটোবেলায় পছন্দ করত। ধিকি ধিকি আঁচে মরে আসা দুধে তৈরি পরমান্ন কোথাও যেন একটা মায়ের ছোঁয়া। মুখে প্রকাশ না করলেও মনে মনে বেশ অবাকই হয় বিমল। শ্রদ্ধা এতবছর ধরে চেষ্টা করেও এই ফ্লেভার আনতে পারেনি। উসখুশ শুরু করে বিমল। বাবার অবস্থা দেখে ছেলেমেয়েরা মুখে হাতচাপা দিয়ে মুচকি মুচকি হাসতে শুরু করে। চোখ এড়ায়নি বিমলেরও। শ্রদ্ধাও নেই খাবার টেবিলে। ঘিয়ের গন্ধে ঘর ম-ম করছে। বিমল ধরেই ফেলেছিল শ্রদ্ধা পরোটা ভাজছে। আর তর সইতে না পেরে টেবিলে রাখা আলুর দম চামচে করে মুখে পুরে নেয় বিমল। মুখের গ্রাস শেষ হতে না হতেই সামনে বসে থাকা ছেলেমেয়েদের প্রশ্ন করে,  ‘অদিতি এসেছে নারে?’ কথাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই রান্নাঘর থেকে পরোটার প্লেট হাতে করে স্ত্রী শ্রদ্ধা ডাইনিং টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ায়। সঙ্গে আসে বোন অদিতি, বোনের মেয়ে তানিয়া। সকলে নড়েচড়ে বসে। অদিতি দাদার সামনে এসে দাঁড়াতেই বিমল বলে ওঠে, ‘আমি ঠিক বুঝেছি। এ জিনিস তুই না হয়ে যায় না। কখন এলি? অন্তত একটা খবর তো দিতিস। আর শ্রদ্ধা তোমার-ই বা কী বুদ্ধি বলো তো, একটু জানাতে তো পারতে। ওদের জন্য কিছু নিয়ে আসতাম।’

‘আরে দাঁড়াও দাঁড়াও এত ব্যস্ত হোয়ো না। বউদিকে আমি-ই বলতে মানা করেছিলাম। ভাবলাম তোমাকে একটা সারপ্রাইজ দিলে কেমন হয়?’

‘ওহ্ তুইও এই বিচ্ছুগুলোর চক্বরে পড়ে ওদের ষড়যন্ত্রে…’ কথা শেষ হওয়ার আগেই অদিতি দাদার উদ্দেশ্যে বলে, ‘ক্ষতি কী দাদা, কোনও কিছু করে যদি কাউকে আনন্দ দেওয়া যায়!’

‘কী মামা সারপ্রাইজ-টা কেমন লাগল?’

‘সত্যি বলতে কী মাঝে মাঝে এরকম সারপ্রাইজ পেলে ভালোই লাগে। তবে আগে জানলে পরশুরাম থেকে তোদের পছন্দের বালুশাই আনতাম, এই আর কী। এত রাতে তো আর অত দূর যাওয়াও যাবে না।’ সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ভাগ্নির মাথায় স্নেহের হাত রেখে জবাব দেয় বিমল।

বরাবরই বোনকে একটু বেশিই ভালোবাসে বিমল। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর থেকে সেটাই অপত্যস্নেহে পরিণত হয়েছে। সেই কারণেই নিয়ম করে বোনের খবর নেওয়া। বোন এলে তার পছন্দমতো জিনিস আনা। রান্নাবান্না। বাড়ির পরিবেশে বেশ একটা আলাদা মাত্রা যোগ হয়। নয় নয় করে তেইশটা বছর বিমলের সঙ্গে ঘর করছে শ্রদ্ধা। পরিবারের সকলের পছন্দ-অপছন্দ সবই তার নখদর্পনে। আর ননদের বালুশাই প্রীতির খবরও তার অজানা নয়।

‘আরে বাবা অদিতি তোমার আদরের বোন হতে পারে, আমারও তো ননদিনি নাকি? তাও আবার একমাত্র। তার অনাদর কী করে করি বলো তো?’ বলে মুচকি হেসে ননদের গালটা টিপে দেয় শ্রদ্ধা। তারপর স্বামীর দিকে ফিরে, ‘অত ভাবতে হবে না তোমাকে। ও আসবে শুনেই ঋজুকে দিয়ে দু-কেজি বালুশাই আনিয়ে রেখেছিলাম। অদিতি এতক্ষণে সেখান থেকে খানিকটা সাফও করে দিয়েছে।’ শ্রদ্ধা আর অদিতি প্রায় পিঠোপিঠি। দু-এক বছরের ছোটো-বড়ো। বিয়ের পর থেকেই ননদ-ভাজের বেশ ভালো সম্পর্ক।

শ্রদ্ধার কথা শুনে খুশি হয় বিমল। কিন্তু প্রকাশ করে না। শ্রদ্ধার কথাতে ছেলেমেয়েদের সামনে অপ্রস্তুতে পড়ে যায় বিমল। তাই একটু গম্ভীর থাকার চেষ্টা করে সে।

খাবার পরে দেদার আড্ডা। হাসি, মজা। শুতে শুতে অনেক রাত। ছেলেমেয়েরাও পিসিকে নিয়ে মশগুল হয়ে পড়ে। ঠান্ডায় গল্প আরও জমে ওঠে। মেতে ওঠে বিমল শ্রদ্ধাও। অদিতি গল্প শোনাতে থাকে। ছোটোবেলার গ্রামের বাড়ির হরদয়াল কাকার গল্প। কোনও এক সন্ধ্যায় জলে পড়ে গিয়ে কাকার কী অবস্থা হয়েছিল… ইত্যাদি ইত্যাদি। বাচ্চারা হাসতে হাসতে লুটোপুটি খেতে থাকে। বিমলের চোখে পড়ে গল্প, ইয়ার্কির মাঝে মাঝে বাচ্চারা তাদের পিসিকে গা-টিপে কিছু ইশারা করছে। অদিতিও তৎপর হয়ে চোখের ইশারাতেই কিছু বলার চেষ্টা করছে তাদের। সে কিছু বুঝে ওঠার আগেই অদিতি দাদার দিকে তাকিয়ে, ‘ওহ্ দাদা, ভাবছি কাল বাচ্চাদের বেড়াতে নিয়ে যাব। ভাবলাম এমনিতে তো আর সময় হয় না। এখন বাচ্চাদের ছুটি। পড়াশোনারও তেমন চাপ নেই। পঁচিশে ডিসেম্বর সবাই আনন্দ করবে, ওরাই বা কেন ঘরে বসে থাকবে। তাই ঠিক করেছি কাল সারাদিন আমরা বাইরে কাটাব। খাবদাব, ঘুরব, শপিং করব, মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা দেখব। ব্যাপারটা বেশ জমে যাবে। এখন তোমার পারমিশন পেলেই হল।’

বিমল লক্ষ্য করছিল তার দুই ছেলে আর মেয়ে মাথা নীচু করে বসে আছে। তারা হয়তো ভাবছে পিসির এই প্রস্তাব তাদের বাবা সরাসরি নাকচ করে দেবে।

‘ঠিক আছে তোরা ঘুরবি ফিরবি এতে আপত্তির কী আছে। আমি বরং পুরো দিনের জন্য একটা গাড়ি বুক করে দেব এখন।’

‘তোরা ঘুরবি ফিরবি মানে? তুমি?’ দাদাকে থামিয়ে প্রশ্ন করে অদিতি।

‘কী করে যাব বল, দোকান খুলতে হবে না? এখন একেবারে পিক সিজন।’

তিন ছেলেমেয়েই আশ্চর্য হয়ে তাকিয়েছিল বাবার দিকে। বাবার থেকে এতটা আশা করেনি তারা। ছোটোবেলা থেকে তারা যেভাবে বাবাকে চিনে এসেছে, দেখে এসেছে, তাতে সবার মনে ওনার একটা আলাদা ইমেজ তৈরি হয়েছে। তাদের বাবা ভীষণ হাতভারী গোছের মানুষ। অন্যান্য বন্ধুরা নিত্যদিন যেভাবে পোশাক বদলায়, ফোনের মডেল বদলায়, শপিং করতে যায়, সপ্তাহে অন্তত দু-দিন রেস্তোরাঁতে খেতে যায়– বাবার কার্পণ্যের কারণে তাদের কাছে সে-সব ভাবনার অতীত।

তার সম্পর্কে বাচ্চাদের মনোভাবের কথাও অজানা নয় বিমলের। বয়সটা তো আর কম হল না। জীবনের তিপান্নটা বছর পার করে এসেছে সে। চুলে তো আর এমনি এমনি পাক ধরেনি। কত ওঠাপড়ার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে। জীবনের বোধ থেকেই হয়তো তার মনে হয়েছে বাস্তব কতটা কঠিন সেটা ওদেরও জানা দরকার। প্রয়োজনের অতিরিক্ত পেয়ে গেলেই সন্তান বিগড়ে যাবে। তাদের সংযমী মানসিকতা গড়ে উঠবে না। সুতরাং তারাও জানুক-বুঝুক। আস্তে আস্তে তো তারাও বড়ো হচ্ছে। এরপর তাদেরও সমাজে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সাতপাঁচ ভাবছিল বিমল। কী মনে হওয়াতে হঠাৎই বোনকে প্রশ্ন করে বসল, ‘হ্যাঁ রে বুড়ি, বেড়ানোর আইডিয়াটা বাচ্চাদের ছিল, না রে?’

বাচ্চাদের সাথে খুনশুটি করতে ব্যস্ত ছিল অদিতি। হঠাৎই দাদার এই অপ্রত্যাশিত প্রশ্নে ঘাবড়ে যায় অদিতি। কোনওমতে নিজেকে সামলে নিয়ে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়। তারপর বলে, ‘বাচ্চারা ভেবেছিল তুমি একেবারেই রাজি হবে না। তাই আমিও মনে মনে জেদ ধরবার জন্য প্রস্তুত হয়েই ছিলাম। কিন্তু তুমি তো সেই সুযোগই দিলে না। শোনামাত্রই হ্যাঁ করে দিলে।’

বোনের কথা শোনা মাত্রই ঈষৎ হাসার চেষ্টা করে বিমল। তারপর এক-এক করে সকলের মুখের দিকে দেখে খুব সহজভাবে বলে, ‘আসলে তুই হয়তো জানিস না বাচ্চাদের এরকম বলার কারণটা কী? জানতে চাস? ওরা ভাবে ওদের বাবা কঞ্জুস। বাবার হাত দিয়ে এক পয়সাও গলে না।’

এতবড়ো কঠিন সত্যটা বাবার মুখে শোনামাত্রই মাথা নত করে নেয় বাচ্চারা। লজ্জায় রাঙা হয়ে ওঠে তাদের মুখ। তাদের মনের কথা তাদের বাবা কীভাবে যেন বুঝে ফেলেছে। আর সবার সামনে এমনভাবে বলাতে চোখ পর্যন্ত তুলতে পারে না তারা। বিমলও হয়তো কোনও কারণে এরকম একটা সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিল। তাই সুযোগটা কাজেও লাগিয়ে নেয় সে।

‘তবে এটাও ঠিক, এর জন্য বাচ্চাদেরও পুরোপুরি দোষ দেওয়া যায় না। আমি-ই আজকালকার এই লাইফস্টাইলের সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করতে পারি না। অকারণে বাইরে খেতে যাওয়া, ঘোরাফেরা করা, প্রয়োজন ছাড়াই শপিং করা, রোজ রোজ মোবাইল ফোন বদলানো এগুলোতে আমি একেবারেই অভ্যস্ত নই। তার মানে এই নয় যে, আজকালকার প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা যা করছে, সেগুলো সবই ভুল বা আমি এগুলোর বিরুদ্ধে, তা কিন্তু নয়। আসলে আমার এটাই অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। আমি এমনি এমনি এরকম হইনি। এর পিছনে অনেক কারণ রয়েছে। আজ তোমাদের সব কিছু খুলে বলব।’

বিস্মিত হয়ে সকলে বিমলের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। বিমল তার নিজের মতো করে বলতে থাকে। মনের মধ্যে জমে থাকা কষ্টগুলো বেরিয়ে আসতে চায় তীব্র গতিতে।

‘বুড়ি তোর ছোটোবেলার কথা মনে আছে?’

‘হ্যাঁ, অল্পবিস্তর।’

‘এমন অনেক কিছুই আছে যা তুই জানিস না বা বলতে পারিস তোকে জানানো হয়নি। সেই সময় আমরা কীভাবে যে কাটিয়েছি, আমাদের উপর দিয়ে কী ঝড় বয়ে গেছে, মনে পড়লে আজও গায়ে কাঁটা দেয়। তখন তুই বছর পাঁচেকের। তোর মনে থাকার কথাও নয়।’ দাদার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়েছিল অদিতি। আবেগরুদ্ধ বিমল তার ছোটোবেলার কাহিনি বলতে শুরু করে।

বিমলের বাবা প্রশান্ত মৈত্রর ব্যবসায়ী সমাজে বেশ একটা প্রতিপত্তি ছিল। পাইকারি বাজারে এককথায় সবাই চিনত তাকে। বিমলও ছোটোবেলাটা বেশ বৈভবের মধ্যে কাটিয়েছে। বাড়িতে সেই সময়কার আমোদ-প্রমোদের সমস্ত জিনিস মজুদ ছিল তাদের। পাড়ায় প্রথম টেলিভিশন আসে তাদের বাড়িতেই। রবিবার আর বুধবার হলেই ছায়াছবি আর চিত্রহার দেখার জন্য আশপাশের লোকের ভিড়। আশপাশে থাকা মানুষজনদের প্রয়োজনীয় ফোনও আসত তাদের বাড়িতে। তার উপর বাড়ির দুর্গাদালানে ধুমধাম করে বছরের চারটে দিন পুজো। খাওয়াদাওয়া থেকে শুরু করে হইহুল্লোড় এগুলো থেকেই তার বেশ একটা আলাদা অনুভূতি হতো। সবার থেকে সে আলাদা, এমনকী স্কুলেও ফার্স্ট বেঞ্চ-এর আসনটাও সবসময় তার জন্য বরাদ্দ থাকত। বংশপরম্পরায় দান-দক্ষিণা বা চাঁদা দেওয়ার ব্যাপারেও তারা যে মুক্তহস্ত এটা সকলেই জানত। কোনও অনুষ্ঠানে গেলেও তাদের পরিবারের প্রতি আলাদা খাতির যত্ন নজরে পড়ত তার।

সমাজের উঁচু স্তরের লোকেরা নিজেদের শো-অফ করতে ভালোবাসে। চিরকাল এটাই হয়ে এসেছে। স্ট্যাটাস মেনটেন করতে নয়তো প্রভাবপ্রতিপত্তি জাহির করতে কিছু একটা করার নেশা পেয়ে বসে তাদের। বন্ধুর হাত ধরে কেউ যায় রেসের মাঠে, কেউ যায় মদের ঠেকে, কেউ আবার জুয়ার নেশায় বুঁদ হয়ে সর্বস্ব খুইয়ে বসে। কারও কারও মাথায় আবার জাঁকিয়ে বসে নারীসঙ্গ করার নেশা। কোনও অসৎ মহিলার চক্বরে না পড়লেও প্রশান্ত মৈত্র-র মদ-রেস কোনওকিছুই বাদ ছিল না।

বিমল তখন বেশ ছোটো তাই কিছু বোঝেনি। বুঝল সেদিন যেদিন প্রথম তার মাকে বাবার সঙ্গে উঁচু গলায় কথা বলতে দেখেছিল। প্রত্যুত্তরে তার বাবাও মার গায়ে হাত তুলতে দ্বিধা করেনি। তখন বিমলের ক্লাস নাইন। ততদিনে যা হওয়ার হয়ে গেছে। জুয়াতে একের পর এক দান হেরে সর্বস্ব খুইয়ে বসেছে। এমনকী প্রশান্তবাবু তার স্ত্রী-র গয়না পর্যন্ত ছাড়েনি। বাজারে দেনার পাহাড়। দিনরাত বাড়িতে পাওনাদারদের আনাগোনা। দেনার দায়ে বাড়িটা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে যায় তার চোখের সামনে। দেখাশোনার অভাবে ততদিনে ব্যাবসারও পড়তি অবস্থা। থাকার মধ্যে রয়েছে শুধু রাস্তার ধারের দশ ফুট বাই আট ফুটের ওই দোকানঘরটা। বাধ্য হয়েই পাশের কলোনিতে একটা ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে হয়েছিল তাদের। সমস্ত দেনা মেটানোর পর হাতে যেটুকু অর্থ ছিল তাই দিয়েই পুনরায় ব্যাবসাটাকে দাঁড় করাবে ভেবেছিল বিমলের বাবা। কিন্তু তার আগেই হার্ট অ্যাটাকে সব শেষ। হয়তো এতটা ধাক্বা সামলাতে পারেনি প্রশান্তবাবু।

সমস্ত শুনে অদিতির দু-চোখ জলে ভরে যায়। গলাটাও যেন রুদ্ধ হয়ে আসে তার। কোনও মতে নিজেকে সামলে নেয় অদিতি। তারপর ধীর কন্ঠে বলে, ‘আমার আজও একটু একটু মনে আছে দাদা কত রাত করে বাড়ি ফিরত। মা ঠায় মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকত দাদার অপেক্ষায়। আর কাঁদতে কাঁদতে বলত ‘ওইটুকু ছেলে কোথায়

ঘুরবে-ফিরবে, পড়াশোনা করবে তা নয় দায়িত্বের ভারে ছেলেটার ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাচ্ছে।’ তখন বুঝিনি, আজ বুঝতে পারছি মা ওই সমস্ত কথা কেন বলত। বড়ো হবার পরেও বোঝার উপায় ছিল না। তখন তো আমাদের বেশ স্বচ্ছল অবস্থা।’ বোনের মাথায় স্নেহের হাত রেখে দুঃখ ভাগ করে নেয় বিমল।

‘আমার পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়াটা মা মানতে পারেনি। ওটাই মায়ের বড়ো কষ্টের জায়গা ছিল। কিন্তু তোকে একা রেখে মা-র পক্ষে কোনও কিছু করাটাও সম্ভব ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে আমি ব্যাবসাটা শুরু করেছিলাম। সেটাও পেরেছি শুধুমাত্র সুরজিত কাকুর জন্য। আজ আমি যা কিছু সবই ওনার দয়ায়। উনি না থাকলে এই চারটে জেনারেল স্টোরের…’ বলতে বলতে কেমন যেন থমকে যায় বিমল। বোধকরি চারটে জেনারেল স্টোরের মালিক কথাটা বলতে আজও সাবলীল নয় সে। তাই এখনও দোকানই বলে থাকে।

খানিক সময়ের মধ্যেই নিজেকে ধাতস্থ করে তোলে বিমল। তারপর আবার বলতে শুরু করে, ‘সেই সময় ওই সুরজিত কাকুই, হয়তো টাকা দিয়ে সাহায্য করতে পারেননি, ভরসা করে আমাকে বেশ কিছু মালপত্র দিয়েছিলেন ব্যাবসা শুরু করার জন্য। ওটাই ছিল শুরুয়াত। তারপর একটু একটু করে লোকের ভরসা অর্জন করার পর তাদের থেকে ধার নিয়ে জিনিস বিক্রি করে ধার মিটিয়েছি। টাকার জন্য লোকের হাতে-পায়ে পর্যন্ত ধরেছি। এখন ভাবলে অবাক হয়ে যাই কী করে এইসব সামলেছিলাম। ব্যাবসা থেকে উপার্জিত যৎসামান্য

লভ্যাংশ থেকেই একটু একটু করে জমিয়ে আগে কলোনি থেকে শিফ্ট করলাম অন্য একটা ভাড়া বাড়িতে।’

সকলের চোখে মুখে বিস্ময়ের সঙ্গে সঙ্গে কষ্টের স্পষ্ট ছাপ ফুটে ওঠে। বিশেষত বিমলের ছেলেমেয়ে আর স্ত্রী শ্রদ্ধার। শ্রদ্ধা তো প্রশ্ন করেই বসে, ‘এতবছর তোমার সাথে সংসার করছি। কই ভুল করেও তো এসব কোনওদিন বলোনি?’

‘কী হবে বলে। কষ্টের কথা যত কম বলা যায় ততই ভালো। আমি এসব জানিয়ে তোমাকে বিব্রত করতে চাইনি। সবসময় মনে হয়েছে তোমাদের কীভাবে ভালো রাখা যায়। কোনও কিছুতে অভাব রাখিনি। তবে হ্যাঁ…,’ থেমে যায় বিমল। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে।

দাদাকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে চোখ মোছে অদিতি। খুব ধীর কণ্ঠে প্রশ্ন করে, ‘তারপর, তারপর কী হল দাদা?’

‘বাবার জুয়া খেলা, বাড়ি নিলাম হয়ে যাওয়ার খবরটা আগুনের ফুলকির মতো দ্রুত গতিতে লোকের মুখে মুখে ছড়াতে শুরু করেছিল। এতে কী হয় জানিস, আর্থিক লোকসান তো হয়ই, তার থেকেও বড়ো হয়ে দাঁড়ায় পারিবারিক মানসম্মান খুইয়ে ফেলাটা। হাজারো লোকের হাজারো রকম প্রশ্ন। চতুর্দিকে কৗতূহলী নজর। সেই নজর এড়িয়ে এগিয়ে চলাটা ভীষণ কষ্টকর। টাকাপয়সার কী আছে, আজ গেলে কাল চলে আসবে। কিন্তু সেই সম্মান কী আর ফিরে পাওয়া যায়? কয়েকটা বছর বাদ দিলে অন্যান্য বন্ধুদের মতো নিয়মানুযায়ী ছোটোবেলাটা যেভাবে কাটা উচিত, সেটা তো আমি পাইনি। এই ক্ষতটা সারাজীবনেও কভার করা সম্ভব নয়।’ বিমলের প্রতিটি কথায় ঝরে পড়ে তীব্র আর্তনাদ। ঘরের পরিবেশ আরও গম্ভীর হয়ে ওঠে। এতদিনের বুকে চেপে থাকা পাথরগুলো আস্তে আস্তে সরাতে থাকে বিমল।

‘কিন্তু কখনওই এটা ভেবো না যে শুধুমাত্র আর্থিক অভাবের কারণেই এমনটা হয়, মান সম্মান একবার খুইয়ে ফেললে মাথা উঁচু করে বাঁচাটা খুবই কঠিন। আমার এখনও মনে আছে কোনও বন্ধুর মুখোমুখি হতেও ভয় পেতাম আমি। নিজেকে ভীষণ ছোটো মনে হতো। লজ্জায় মা-ও ঘরের বাইরে বেরোনো বন্ধ করে দিয়েছিল। ডিপ্রেশনের কারণে কথা বলা পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছিল মা। সবসময় নিজেকে ঘরের মধ্যে বন্দি করে রাখত। এই আঘাত আমার মনে আজও দগদগে ঘা হয়ে রয়ে গিয়েছে। আজ আমি প্রতিটি পদে পদে অনুভব করতে পারি যে, একটা মানুষের বেপরোয়া, দায়িত্বজ্ঞানহীন মনোভাবের মাশুল তার পরিবারের প্রতিটি মানুষকে বছরের পর বছর গুনতে হয়। এখনও পর্যন্ত পূর্বপরিচিত কারওর সাথে দেখা হলেই লজ্জায় একেবারে গুটিয়ে যেতে হয়।’ বলতে বলতে গলাটা শুকিয়ে গিয়েছিল বিমলের। সামনের টেবিলে রাখা জল খানিকটা ঢকঢক করে খেয়ে নেয় সে। তারপর আবার বলা শুরু করে।

‘উদয়াস্ত কঠিন পরিশ্রম করেছি, তবে গিয়ে দুটো পয়সার মুখ দেখতে পেয়েছি। ধীরে ধীরে একটু একটু করে টাকাপয়সা জমিয়ে ডেয়ারি প্রোডাক্ট, নানাবিধ প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে দোকানটা সাজাতে শুরু করেছি। কঠিন পরিশ্রম আর ন্যায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে সাফল্য আসতে বাধ্য– কথাটা ভীষণরকম সত্যি। তাই বোধহয় একটার পর একটা স্টোর কিনতে পেরেছি। আর এর থেকেই আমার বাড়িঘর সব কিছু। শ্রদ্ধা তো তবুও আমার মুখে কিছুটা হলেও কষ্টের কথা শুনেছে কিন্তু বাচ্চারা শুরু থেকেই দেখছে তার বাবার চার-চারটে জেনারেল স্টোর। ওরা হয়তো ভাবে ওদের বাবা আগাগোড়াই ধনী লোক, পূর্বপুরুষদের থেকে পাওয়া বিজনেস-ই সামলাচ্ছে। ওরা কী করে জানবে যে কত সংঘর্ষ করে তবে আমি এই জায়গায় পৗঁছেছি।

বিস্ময়ের জাল ছিঁড়ে বেরোতে পারে না কেউ-ই। বিশেষত বাচ্চারা। এতদিন ধরে তারা তাদের বাবার সম্পর্কে কী কী না ভেবে এসেছে। মানুষটা কতই না কষ্ট করেছে জীবনে। পড়াশোনা তো দূর অস্ত, ওই খেলাধূলার সময়ে সমস্ত দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে নিরন্তর একা লড়ে গেছে। তবে গিয়ে আজ এই জায়গায় পৗঁছেছে। জীবনে এমন সংঘর্ষের কথা তো তারা কখনও কল্পনাও করতে পারে না।

ঝড়ের পরে যেমন ডালপালা, শুকনো পাতা, ধুলোবালি, এদিক-ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে, চতুর্দিকে ছেয়ে থাকে নীরবতা, ঘরের মধ্যে নিস্তব্ধতা ঠিক তেমনই যেন জমাট বেঁধে গিয়েছিল। কেউ কোনও সাড়া করছে না দেখে পরিস্থিতি বদলানোর দায়ভার কাঁধে তুলে নেয় শ্রদ্ধা-ই। স্বামীকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে আসে।

‘আচ্ছা ছাড়ো। কষ্টের দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন তো আমরা ভালো আছি। কোনও অভাব নেই আমাদের। তোমার কঠোর পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। তুমি থাকতে আমাদের চিন্তা কী?’

‘শ্রদ্ধা, সেই কারণেই তো আমি আজও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে আমাদের বাচ্চাদের কোনওরকম অভাব, অনটনের মধ্যে না কাটাতে হয়। আর-পাঁচটা বাচ্চার মতো তারাও যেন জীবনটা সুখে, নির্দ্বিধায় কাটাতে পারে। কোনওদিন যেন লোকের কাছে ছোটো না হতে হয়। সেই কারণেই তো আমার দিনরাত খাটা।’ বলতে বলতে ছেলেমেয়েদের দিকে সস্নেহে তাকায় বিমল। তারপর তাদের উদ্দেশ্যে বলে, ‘তোরা একটুও ভাববি না, শুধু মন দিয়ে পড়াশোনাটা কর। তোদের কোনওদিনও কোনও অভাব হতে দেব না। তোদের স্বপ্নপূরণের জন্য আমি সবকিছু করতে পারি।’

‘ব্যস আর কী চাই? কালকের প্রোগ্রাম তাহলে পাক্বা। বাচ্চারা এবার শুতে যাও। কাল সকাল সকাল বেরোতে হবে।’ পিসির কথা শুনে সকলেই খুশি হয়ে যে-যার মতো শোওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। কিন্তু বিমলের বড়ো ছেলে বছর পনেরোর ঋজু গম্ভীর হয়ে সেখানেই বসে থাকে।

‘কী হল রে ঋজু? কী চিন্তা করছিস? শুতে যাবি না? অমন করে বসে আছিস যে বড়ো!’

‘না ভাবছি এককালে হয়তো বাবাকে ভীষণ কষ্ট করতে হয়েছে কিন্তু এখন তো আমাদের কোনও অভাব নেই। তাহলে বাবা এখনও কেন এভাবে চলবে? এখন তো নিজের ইচ্ছেগুলো পূরণ করতে পারে, যেগুলো থেকে ছোটোবেলায় বাবা বঞ্চিত হয়েছে।’

নিজেদের ঘরে শুতে যাওয়ার জন্য সবেমাত্র পা বাড়িয়েছিল বিমল। আকস্মিক ছেলের এই প্রশ্নে থমকে দাঁড়িয়ে যায় সে। তারপর বলে, ‘বাবু, তুই যে এতটা ভেবেছিস, এতেই আমি খুশি। আসলে কী জানিস তো একটা সময় বুঝেছি টাকার মর্মটা কী! এটা না থাকলে কেউ তোকে তোর প্রাপ্য সম্মানটুকুও দেবে না। ওই বয়সে এমন কষ্ট সয়েছি, যে আজ অহেতুক এক টাকাও খরচ করতে মন চায় না। অতীতের কথা মনে পড়ে যায়। বাবার ভুলের জন্য যে মাশুল আমি গুনেছি, আমি চাই না তোরাও সেই কষ্ট পাস। আর্থিক অসুরক্ষার ভয়, অপমানজনক সেই পরিস্থিতি চাইলেও মন থেকে মুছে ফেলা যায় না। কিন্তু হ্যাঁ তার মানে এই নয় যে তোমাদের প্রয়োজনীয় জিনিস  আমি তোমাদের দিইনি। হয়তো রোজ রোজ চাহিদামাফিক নতুন নতুন হালফ্যাশনের মোবাইল তোমাদের দিইনি, হয়তো বাইরের খাবার খেতে মানা করি। কেন বলি জানো এগুলো একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয় তাই। এগুলো কিন্তু কোনও কৃপণতা নয়, ভালোর জন্যই করা। বাজারের সবথেকে দামি ল্যাপটপটাও কিনে দিয়েছি তোমাকে। তোমাদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে সবসময় সেরাটা নেওয়া হয়েছে তোমাদের জন্য। সে জামাকাপড়-ই বলো বা খাওয়াদাওয়া। আজ তোমাকে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে একটা কথা বলছি এটা মেনে চলো, জীবনে এগোতে সাহায্য করবে। যে ব্যক্তি নিজের আয় অনুসারে ব্যয় আর সঞ্চয় করে, ভবিষ্যতে তাকে কখনও আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না। কাজেই পারলে বাবার কথা মনে রেখো। অনেক জ্ঞানের কথা বলে ফেললাম। অনেক রাত হয়ে গেছে শুয়ে পড়ো,’ বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় বিমল আর তার অর্ধাঙ্গিনি শ্রদ্ধা।

 

মীরা নায়ারের ওয়েব সিরিজ, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ

বিক্রম শেঠের লেখা একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হয়েছে মীরা নায়ারের টিভি সিরিজ ‘আ স্যুটেবল বয়’। বিবিসি-তে সম্প্রচারিত হওয়ার পর গত ২৩ অক্টোবর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় এই সিরিজ। ছয় এপিসোডের এই সিরিজ একটা ফেনে আসা সময়ের গল্পকে ঘিরে তৈরি৷ সদ্য স্বাধীন ভারতে, ১৯৫১ সালের পটভূমিকায় তৈরি। তেরোশো পৃষ্ঠার এই উপন্যাসে দেশভাগ পরবর্তী সময়ের ভারতবর্ষকে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাস্কৃতিক নানা দিক দিয়ে বিশ্লেষণের চেষ্টা রয়েছে। কয়েকটি পরিবারের কাহিনি উঠে এসেছে এই সিরিজে, যাঁরা নিজেদের বিবাহযোগ্য কন্যার জন্য একজন উপযুক্ত পাত্র খুঁজছেন। গল্পে এক সাহিত্যের ছাত্রী লতার জীবনের গল্প উঠে এসেছে। যেখানে লতা তাঁর পরিবারের প্রতি কর্তব্য ও রোম্যান্সের প্রতিশ্রুতি পালন, দুইয়ের মধ্যে দোলাচলে পড়ে যায় দেখা যায়, তিন যুবক লতার মন জিতে নেওয়ার চেষ্টা করে। যদিও লতার মা চায়, সে তাঁর স্বামীকেই বেছে নিক।

এবার সেই ওয়েব সিরিজকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্কের ঝড়৷ওয়েব সিরিজের একটি দৃশ্যে দেখা গিয়েছে মন্দির চত্ত্বরে এক হিন্দু যুবতীকে চুম্বন করছে এক মুসলিম যুবক। এই দৃশ্যটি শ্রীরামের আরতির সময় দেখানো হয়েছে। আর এতেই চটেছেন নেটিজেনদের একাংশ। নেটফ্লিক্সের দুই এগজিকিউটিভের বিরুদ্ধে সোমবার মধ্যপ্রদেশ এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

এই বিষয় নিয়ে পুলিশকে যথাযথ তদন্তের নির্দেষ দিয়েছিলেন মধ্যপ্রদশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নরোত্তম মিশ্রা। রেওয়া পুলিশ সুপার রাকেশ কুমার সিং জানিয়েছেন, এফআইআর-এর ভিত্তিতে তদন্তপ্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। তাঁর একটি ভিডিয়ো বার্তায় মন্ত্রী নরোত্তম মিশ্রা জানান, ‘আমি অভিযোগের ভিত্তিতে আধিকারিকদের নেটফ্লিক্সের আ সুইটেবল সিরিজের নির্দিষ্ট এপিসোডের দৃশ্যগুলি খতিয়ে দেখতে বলেছিলাম। জানতে চেয়েছিলাম সেগুলি মন্দিরে শ্যুট হয়েছে কিনা। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে সেগুলি একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত দিচ্ছে’। ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৫ (এ) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে মনিকা শেরগিল এবং অম্বিকা খুরানার বিরুদ্ধে। ইচ্ছাকৃত ভাবে একটি ধর্মের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত হানা এবং ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এদিকে দীর্ঘদিন না হলেও, কিছুদিন যাবৎ‌ই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তাবু, ইশান খট্টর অভিনীত এই সিরিজ৷

নেটফ্লিক্সের কনটেন্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মনিকা শেরগিল ও সংস্থার পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর অম্বিকা খুরানার নামে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে মধ্যপ্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্রের তরফে। ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার জাতীয় সম্পাদক গৌরব তিওয়ারির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৫ এ ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এমনকী ওই আপত্তিকর দৃশ্য সরিয়ে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে নেটফ্লিক্স ও সিরিজটির নির্মাতাদের। ওই সিরিজের এই আপত্তিকর দৃশ্যের কারণে, লাভ জিহাদকে ইন্ধন জোগানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন গৌরব।এক টুইট বার্তায় এফআইআর দায়ের করার খবর জানিয়ে তিনি লেখেন- নেটফ্লিক্স ইন্ডিয়া নিজেদের অনুষ্ঠান (সিরিজ) আ স্যুটেবল বয়ের একটি এপিসোডে তিন তিনবার মন্দির প্রাঙ্গনে চুম্বনের দৃশ্য প্রদর্শন করেছে। প্রেক্ষাপট অনুসারে মুসলিম যুবক, এক হিন্দু মহিলাকে ভালোবাসে…তবে সব চুম্বনের দৃশ্য মন্দিরেই কেন শ্যুট করা হয়েছে? প্রশ্ন তাঁর!

নেটদুনিয়ায় #BoycottNetflix ট্রেন্ড যেভাবে সাড়া ফেলেছে, তাতে জল এবার কোথায় গড়ায়, সেটাই এখন দেখার৷

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব