অনৃত খেলাঘর (পর্ব-০২)

দিনতিনেক পর শাশুড়িমায়ের ফোন পেয়ে সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ দীপেন পৌঁছায় শ্বশুরবাড়ি। দেখে, সেখানে স্বর্গীয় শ্বশুরমশাইয়ের ফটোর নীচে সোফায় বসে সুরজিৎ আর অজিত দুই ভায়রাভাই জমিয়ে গল্প করছে। ওকে দেখামাত্র ওরা সোৎসাহে বলে উঠল, ‘আরে এসো এসো, আমরা সকলে তোমার জন্যই অপেক্ষা করছি।’

তমালিকা খাটের উপর বসে দুই দিদির সঙ্গে কথা বলছিল। বাচ্চাদের কাউকে দেখা গেল না।

দীপেন গম্ভীর মুখে পাশের সোফায় বসল। বুঝতে পারে, এরা সকলে আজ একটা প্ল্যান নিয়েই এসেছে। সে-ও মোবাইলে মনোযোগী হল। দীপেন ওই ভায়রাদের সঙ্গে খুব একটা ফ্রি নয়। সুরজিৎ রাজনীতি করে, এককালে এমএলএ ছিল। অজিত পেশায় উকিল। আলিপুর কোর্টে প্র্যাকটিস করে। দীপেনের বরাবরই এদের দু’জনকে বড়ো ঘোড়েল মানুষ বলে বোধ হয়েছে। তাই সে সব সময় ওদের সঙ্গে মেপে কথা বলে।

একটু পর চা-সিঙাড়া-চানাচুর ইত্যাদি সহ কাজের মেয়েটি প্রবেশ করল। পিছু পিছু শাশুড়িমা। একে একে সকলে চায়ের কাপ হাতে নেয়। দীপেন ব্যতীত বাকি সকলে স্বাভাবিক স্বরে কথাবার্তা বলছিল। হঠাৎ শাশুড়িমা দীপেনকে বলে, ‘বাবা দীপেন, তুমি একজন ভদ্র-সভ্য মানুষ। তোমার কাছ থেকে আমরা এ ধরনের ব্যবহার আশা করিনি।’

প্রশ্নের আঘাতে দীপেন চায়ে চুমুক দিতে গিয়ে থেমে যায়। চশমার উপর দিয়ে তাকায় শাশুড়িমায়ের দিকে। খেয়াল করে, সকলে চুপ করে গেছে। ওর দিকে তাকিয়ে আছে উত্তরের অপেক্ষায়।

একটু সামলে দীপেন বলে, ‘ব্যাপারটা ঠিক বুঝলাম না।’

—-বিয়ের এতদিন পর তুমি হঠাৎ বধূ নির্যাতন শুরু করলে?

—বধূ নির্যাতন! আমি! বিস্ময় বুঝি বাঁধ মানে না দীপেনের।

—হ্যাঁ তুমিই। তমালিকা তো আমার কাছে এসে কী কান্না। বলে মা, তোমার জামাই আমাকে সন্দেহ করে। দিনরাত ঝগড়া করে করে আমার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

—দিন-রাতে আমি বাড়িতে থাকি কতক্ষণ। সকাল সাড়ে ন’টায় বেরিয়ে পড়ি। রাতে ফিরি সাড়ে আটটা-ন’টা নাগাদ। আর আপনি জানেন, আপনার মেয়ে কার সঙ্গে কী ধরনের গল্প করে? ও যা করছে তাকে বলে পরকীয়া, এক্সট্রা ম্যারিটাল অ্যাফেয়ার্স।

সঙ্গে সঙ্গে তমালিকা চেঁচিয়ে ওঠে, ‘মোটেও না, তুমি মিথ্যে কথা বলছ। রঞ্জিত আমার ছেলেবেলার বন্ধু। এ পাড়ারই ছেলে। আমরা সবাই এক সঙ্গে বড়ো হয়েছি। কারও সঙ্গে গল্প করলেই পরকীয়া হয়ে যায় না।’

–- তুই থাম, গর্জে ওঠেন শাশুড়িমা। বলেন, বাবা, তুমি বোধহয় ভুল করছ কোথাও। ওসব কিছু নয়, পাড়ার ছেলে তাই হয়তে একটু গল্পগাছা করে। তাই বলে তুমি ও নিয়ে আমার মেয়ের উপর মানসিক অত্যাচার করবে, এটা ঠিক নয়।

—একজন পুরুষের সঙ্গে আমার স্ত্রী রাত জেগে গল্প করবে, সাংসারিক কাজে অবহেলা করবে— তা নিয়ে কথা বললে সেটা মানসিক অত্যাচার হয়ে গেল? ওদের গল্পের বিষয়বস্তু জানেন আপনারা কিছু? মানে, কী ধরনের কথাবার্তা ওদের হয়? উত্তেজিত হলেও যতটা সম্ভব কন্ঠস্বর নিচু করে নিজের বক্তব্য পেশ করে দীপেন৷

তমালিকার মেজো বোন রূপা বলে, ‘আমরাও তো অনেক বন্ধুর সঙ্গে গল্প করি। কই তা নিয়ে আমাদের হাজব্যান্ড-রা কখনও কোনও অভিযোগ করে না। কীরে তপু?’

বড়ো বোন তপু ওরফে তপতী বলে, ‘না কখনও কোনওদিনই কিছু বলে না।’

তমালিকা চেঁচিয়ে বলে, ‘আরে ও ভয়ানক সন্দেহবাতিক লোক, মেন্টাল পেশেন্ট একটা। সব কিছুতে নোংরামো খোঁজে।’

শাশুড়িমা বলেন, ‘সত্যি, আমার বাকি দুই মেয়ে তো কোনওদিন তাদের স্বামীদের নামে এরকম অভিযোগ তোলেনি।’

অজিত হেসে বলে, ‘আরে ভাই, এসব সামান্য ব্যাপারে ছেলেদের মাথা ঘামাতে নেই। ওদেরকে ওদের মতো চলতে দাও। স্বামী- স্ত্রীর বন্ধন হল সাত জন্মের, ছেড়ে যাবে কোথায়?’ সুরজিতও হাসে।

সুপ্রিম কোর্টের লেটেস্ট অর্ডারটা পড়েছ তো? ওয়াইফ ইজ অলওয়েজ রাইট, তার মন জুগিয়ে স্বামীদের চলতে হবে। কী অজিত, তুমি তো আইনের লোক, ঠিক বলছি কিনা?

—ঠিক একদম ঠিক, জবাব দেয় অজিত। মুখে হাসি।

দীপেন হাসে না। বলে, ‘বিষয়টা আমার একদম ভালো লাগছে না। এটা নিয়ে আমাকে হয়তো শিগগির কোনও স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছোতে হবে।’ ওর উত্তরে ঘরের সকলে একদম চুপ করে গেল।

হঠাৎ তপু বলে উঠল, ‘তুমি যে সারাদিন বাড়ির বাইরে থাকছ, রাত সাড়ে আটটা-ন’টা নাগাদ ঘরে ফিরছ,  বাড়ির বাইরে যে তুমি কিছু করে বেড়াচ্ছ না, তার কী প্রমাণ আছে?’

মনে হল সকলে বেশ উৎফুল্ল হয়ে উঠল ওর প্রশ্নে। উৎসুক চোখে তারা দীপেনর দিকে তাকাল। —আমি? বাইরে কিছু করে বেড়াচ্ছি! মানে পরকীয়া, তাই বলতে চাইছেন তো?

তমালিকা বলে উঠল, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ তাই বলতে চাইছি।’

উত্তরে গম্ভীর কণ্ঠে দীপেন বলল, ‘আমার কোনও মেয়েবন্ধু নেই। খোঁজ করে দেখতে পারো তোমরা।’

—আহা মেয়ে বন্ধু থাকতে হবে কে বলল? এখন তো ছেলেদের সঙ্গেও ছেলেদের রিলেশন গড়ে উঠছে, মৃদু কণ্ঠে বলে ওঠে অজিত।

দীপেন, অজিতের দিকে সরাসরি তাকায়। ষড়যন্ত্রের শিকড় কত গভীরে উপলব্ধির চেষ্টা করে। তারপর আচকমাই উঠে দাঁড়ায়। একটি কথাও না বলে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায়।

পিছন থেকে বেশ কিছু কণ্ঠস্বর জেগে ওঠে, ‘দীপেন, আরে আরে চলে যাচ্ছ কেন? শোনো শোনো, কথা আছে, শোনো দীপেন৷’

দীপেন ফেরে না, রাস্তায় নেমে হাঁটতে থাকে।

(ক্রমশ……)

অনৃত খেলাঘর (পর্ব-০১)

‘একজন নারীর পুরুষবন্ধু থাকবে, এতে অপছন্দের কী আছে তোমার, তা তো বুঝতে পারছি না।’ অত্যন্ত বিরক্তির স্বরে অনুযোগ করে তমালিকা।

—কিন্তু তুমি একজন বিবাহিত মহিলা। তোমার স্বামী-সন্তান-সংসার আছে, সেটা মনে রাখা উচিত।

—তাই আমার কোনও পুরুষবন্ধু থাকতে পারবে না?  ক্লাস টুয়েলভে পড়া তোমার মেয়েরও কোনও ছেলেবন্ধু থাকতে পারবে না বলছ?

—আহা, সে কথা আবার কখন বললাম আমি! অবাক কণ্ঠে বলে দীপেন, কী কথার কী অর্থ করছ।

—ঠিকই অর্থ করছি, জোর দিয়ে বলে তমালিকা, বন্ধু বন্ধুই। তার আবার নারী-পুরুষ পার্থক্য থাকবে কেন? একজন মানুষের সঙ্গে প্রাণ খুলে কথা বলে আমি যদি একটু আনন্দ পাই, তাতে তোমার এত জ্বলে কেন ঠিক বুঝলাম না। আমি আনন্দে থাকি, খুশিতে থাকি, তা তুমি চাও না? তোমার আর কী, সারাদিন বাড়ির বাইরে কাটাও। ঘরে থাকা মানুষটা সমস্ত দিন সংসার ঠেলে একা একা কীভাবে থাকছে সে ধারণা তোমার আছে? তুমি চলে যাও কাজে, মেয়ে স্কুলে— আমার দিন কীভাবে কাটে কখনও ভেবে দেখেছ তুমি? একটা বদমাশ, স্বার্থপর মানুষ!

একসঙ্গে এত কথার জবাব দীপেনের মতো ভোলেভালা মানুষের মুখে জোগাল না। সে কোনও মতে বলল, ‘সারাদিনের ব্যাপারটা না হয় বোঝা গেল কিন্তু রাত্রে? অত রাত অবধি তুমি তোমার বন্ধুর সঙ্গে কথা বলো বারান্দায় বসে। তার অনেক কথাই তো আমার কানে আসে।’

—লজ্জা করে না তোমার অন্যের কথা আড়ি পেতে শুনতে? তুমি একজন শিক্ষক! ছিঃ, আমার ঘেন্না করে এসব ভাবতে।

দীপেন আর কথা বাড়ায় না। কোনওদিনই তমালিকার সঙ্গে তর্কে ও জিততে পারেনি। কোন কথা কোন প্রসঙ্গে টেনে শেষে কী উপসংহারে পৌঁছে দেবে, তা বহুবার চেষ্টা করেও কল্পনা করতে পারেনি সে। কথার লড়াইতে সব সময় ওর অদ্ভুত যুক্তির কাছে ওকে হার মানতেই হয়।

দীপেন উঠে পড়ে খাবার টেবিল ছেড়ে। বেরোতে হবে, দেরি হয়ে যাচ্ছে।

প্রাতঃভ্রমণ সেরে বাড়ি ফিরে স্নান করে ব্রেকফাস্ট করা উত্তমের রুটিন ওয়ার্ক। ওর জীবন চলে একদম ঘড়ির কাঁটা ধরে। চা পান করতে করতে খবরের কাগজে দ্রুত চোখ বোলানো এবং তারপর কিছু হোয়াটস অ্যাপ ফ্রেন্ডদের উইশ কিংবা রিটার্ন উইশ করা তার স্বভাব।

সমর্পণের মর্নিং উইশ ব্রোজই পায়। সমর্পণ রায়, ছেলেবেলার বন্ধু। সরকারি চাকরির পাশাপাশি অবসরে লেখালেখি করা ওর নেশা। বেশকিছু পত্র-পত্রিকায় সমর্পণের লেখা গল্প পড়েছে উত্তম। আজ মর্নিং উইশের নীচে ছোটো করে টেক্সট মেসেজ দেখতে পেল, ‘হোয়েন ক্যান আই কল ইউ? প্লিজ ইনফর্ম।’

একটু ভেবে উত্তম জবাব দিল, ‘আফটার নাইন পিএম।’ তারপর অন্য মেসেজগুলি পড়তে লাগল। খানিক পর কিছু সময়ের জন্য যোগা-প্রাণায়াম সেরে খাবার খেয়ে বেরোবার জন্য তৈরি হয়। পাক্কা দশটায় অফিসের গাড়ি আসে। কাজের ব্যস্ততায় সারাদিন কীভাবে কেটে যায় খেয়াল থাকে না।

রাত ন’টা নাগাদ সমর্পণের ফোন বাজে, ‘গুড ইভনিং বন্ধু।’

—গুড ইভনিং। বলো কী খবর, কেমন আছো?

—চলে যাচ্ছে একরকম। তুমি, বাড়ির সকলে কেমন আছে?

—ওই আমারও একরকম চলে যাচ্ছে। বাড়ির খবর মোটামুটি, সব তো আর পারফেক্ট চলে না।

—তোমার ছেলের সেকেন্ড ইয়ার না?

—হ্যাঁ, ওর পড়াশোনার কিছুই বুঝি না আমি। তুমি তো জানো, আমি ছিলাম আর্টসের ছাত্র আর ছেলে পড়ছে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। ওর মা যতটা পারে গাইড করে। আমি খরচখরচা দিয়েই খালাস। তোমার মেয়ের কী খবর?

—মাস্টার্স করছে। ডিসট্যান্স স্টাডির জন্য সময়টা একটু বেশি লেগে গেল। সেপ্টেম্বর নাগাদ শেষ হবে সম্ভবত।

—গুড। বলছি, তোমার ফোন নাম্বারটা একজনকে দিতে পারি?

—কাকে?

—তুমি চেনো তাকে। দীপেনকে মনে আছে তোমার?

—কোন দীপেন?

—আরে আমাদের ছেলেবেলার বন্ধু। বাংলাদেশ থেকে এসেছিল, কাকার বাড়িতে থাকত। এক বুড়ি ঠাকুমা ছিল ওর। গোলগাল মুখ। তুমি সব ভুলে গেছ মনে হচ্ছে। চাকরি পাওয়ার পর আর তো পাড়ায় ফিরলে না। অবশ্য বছর বত্রিশ আগেকার কথা, সমর্পণ যথাসম্ভব চেষ্টা করে মনে করাবার।

Online serial story
Story – Anrito Khelaghar (Part :01)   Writer : Biplab Majumdar

—ইয়েস দীপেন, মনে পড়েছে। খুব স্টুডিয়াস ছিল। প্রায় সারাদিনই পড়াশোনা করত। তেমন কারও সঙ্গে মিশত না। ওর বন্ধু ছিল হাতে গোনা কয়েকজন। ভালো ছেলে বলে সুনাম ছিল। ও এখন কী করে?

—ওই আগে যা করত।

—মানে!

—ছেলে পড়ায়। একটি সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করে, আর সন্ধ্যায় কোচিং ক্লাস। গতানুগতিক জীবন।

—ওর আবার কী হল? প্রশ্ন করে উত্তম, কারণ নেহাত প্রয়োজন না পড়লে আমাকে তো কেউ ফোন করে না।

কয়েক সেকেন্ডের নীরবতা। তারপর সমর্পণ বলে, ‘বুঝলাম। হ্যাঁ, দীপেনরও একটা সমস্যা হয়েছে ও তোমার সঙ্গে কিছু আলোচনা করতে চায়। মানে, আমিই ওকে তোমার কথা বলি আর কী।’

একটু ভেবে উত্তম জবাব দেয়, ‘ওকে, ইউ ক্যান গিভ হিম মাই নাম্বার।’ এরপর আর কিছু সময় নানা বিষয়ে কথাবার্তার পর পরস্পরকে শুভরাত্রি জানিয়ে ফোন রাখে ওরা।

ডিনার করতে করতে উত্তম ছেলেবেলায় ফিরে যায়। মনে পড়ে দীপেনের কিশোর বয়সের মুখখানি। ফরসা, দোহারা চেহারা ছিল, ভালো জিমন্যাস্টিকস করতে পারত। দারুণ ফ্লেক্সিবল ছিল ওর বডি। স্বভাবে লাজুক, নম্র, ভদ্র আচরণ, মুখে স্মিত হাসি, একটু ইনট্রোভার্ট প্রকৃতির। স্কুল যাবার আগে রায়বাবুদের বিশাল পুকুরে দল বেঁধে ঝাঁপিয়ে স্নান করা হতো। এরকমই শ্রাবণে ভরা থাকত পুকুর। বৃষ্টিশেষে রোদ ঝলমল আকাশের নীচে পুকুর পাড়ে ডালকলমি গাছের পাতা-ফুলে তখন জলের ফোঁটা। লাল-হলুদ কলাবতী ফুলগাছেরা বাতাসে নড়ছে নিজস্ব ছন্দে। বেলা গড়িয়ে অপরাহ্ন হলে নির্মলদের বাড়িতে সুর চড়িয়ে মনসামঙ্গল পাঠ করত পাড়ার একদল মহিলা। তারপর ঝুলন উপলক্ষ্যে পুতুল সাজাবার উন্মাদনা … এক অদ্ভুত নস্ট্যালজিয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে উত্তমের মন। আশ্চর্য! এত কিছু মনের কোণায় লুকিয়ে ছিল এতদিন! ডিনার সেরে উঠে পড়ে উত্তম।

(ক্রমশ……)

মহিলাদের ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেও আইনি হস্তক্ষেপ

সাম্প্রতিক আইন মোতাবেক, চাইলে অবিবাহিত কোনও তরুণী কারওর সঙ্গে শারীরিক সুখভোগ এবং মা হতে পারেন। শুধু তাই নয়, মা হওয়ার পর কেউ চাইলে ধীরে ধীরে বাবা-র নাম বাদও দিতে পারেন সমস্ত ডকুমেন্টস থেকে। কিন্তু সারোগেসি-র অধিকার শুধু বিবাহিত এবং বিধবা মহিলারা পাবেন আর অবিবাহিতরা পাবেন না— এ এক ঘোরতর অন্যায়।

প্রাচীন রীতি অনুযায়ী আজও বিবাহিত মহিলারা পিতার পদবি ব্যবহার না করে স্বামীর পদবি ব্যবহার করেন। অথচ দেখুন দেবদেবীদের কোনও পদবি ব্যবহৃত হয় না। অবশ্য বিষয়টা এমন নয় যে, পৌরাণিক যুগে মহিলারা বেশি স্বাধীনতা পেতেন! আসলে যুগ বদলালেও মহিলাদের নির্ভরশীলতার বিষয়টি আজও বদলায়নি। এখনও মহিলারা পুরুষদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। তাই সম্ভোগের পর সঙ্গীকে অনায়াসে ভুলে যেতে পারেন পুরুষরা।

ভেবে দেখুন, আজও মেয়েদের জীবনযাপন জটিলতা আর অস্বচ্ছতায় ভরা। তাইতো আজও কোনও অবিবাহিত মহিলা চাইলে কারওর সঙ্গে শারীরিক সুখ ভোগ করতে পারলেও, ‘সারোগেট মাদার’ হতে পারেন না! আজও কেন মহিলাদের ইচ্ছাবিরোধী আইন বলবৎ আছে, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু এটাই তো হওয়া উচিত যে, অবিবাহিত মহিলারা চাইলে কাউকে ডিম্বাণু দিতে পারেন, কারওর স্পার্ম নিয়ে মা হতে পারেন।

পুরুষ কিংবা মহিলা, কারওর শরীরের উপর আইনি শাসন চালানো উচিত নয় আদালত কিংবা সরকারের। কারণ শরীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি। সমাজে কারও কোনও ক্ষতি না করে কিংবা ক্ষমতার অপপ্রয়োগ না করে কেউ যদি কারওর সঙ্গে শরীরি সুখ নেন তাতে কার কী এসে যায়!

কিছু কিছু বিষয় খুবই অদ্ভূত লাগে ভাবলে! পৌরাণিক কাহিনি থেকে আমরা যেমন জেনেছি যে, স্বর্গে দেবতাদের খুশি করতে অপ্সরারা নৃত্য করতেন। ঠিক তেমনই দেবদাসী প্রথা কিংবা পরবর্তী সময়ে পানশালায় মহিলাদের নৃত্য পরিবেশন সবই প্রচলিত। বেশ্যাদেরও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে অথচ কোনও অবিবাহিত সভ্য মহিলা যদি ‘সারোগেট মাদার’ হতে চান, তাহলে তিনি এখনও আইনি জটিলতার শিকার হন!

মহিলাদের দুর্বল করে তোলার রাজনীতি চলছে

গণতান্ত্রিক সরকার মানে এমন একটি সরকার, যা জনগণের স্বার্থে শাসন চালাবে কিন্তু ঘটছে উলটোটা। গণতন্ত্রকে উপলক্ষ্য করে অর্জিত ক্ষমতা দিয়ে নেতাদের স্বার্থে শাসনকার্য চালানো হচ্ছে। আর এই শাসন এখন  চলছে মন্দিরে এবং মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের স্বার্থে। এর ফলে ধর্মস্থানে বসবাসকারী লোকজন বেশি সুবিধে পাচ্ছেন। কিন্তু বাকি শহরগুলিতে লোকজন তেমন সুবিধে পাচ্ছেন না।

কিছুদিন আগে ওয়াটার ক্রাইসিস নিয়ে একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল এক ইংরেজি দৈনিকে। আপাত ভাবে এই খবরে তেমন কোনও নতুনত্ব নেই। দিল্লি-র মতো অনেক শহরেই নলবাহিত জল না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে সারাবছর। কিন্তু জল-সংকট বাড়ছে ক্রমশ। অথচ সেই রোমান যুগেও জলের সমোচ্চশীলতার ধর্মকে কাজে লাগিয়ে জল সরবরাহ করা হতো দূর-দূরান্তে। ২০০ ফিট উঁচুতে জলাধার তৈরি করে সেই জল সরবরাহ করা হতো। ধনী-গরিব সবাই একই ভাবে জলের সুবিধে পেতেন। সবচেয়ে মজার বিষয় হল এই যে, কোনও পাম্প, বিদ্যুৎ কিংবা মেশিন ব্যবহার না করেই জলের সুবিধে দেওয়া হতো জনগণকে। এ ছিল তখনকার রোমান শাসকের কর্তব্য। এর জন্য ওই শাসকগোষ্ঠী কোনওরকম বাহবা আশা করত না কিংবা কোনও ধর্মীয় যোগ ছিল না।

ওয়াটার ক্রাইসিস নিয়ে প্রকাশিত ওই খবরটির নতুনত্ব থাক বা না-থাক, এটাই বাস্তব যে, জল- সংকট থেকে মুক্তি পেতে দিল্লিতে মহিলারা প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন বহুবার। কারণ পরিবারের সবার মুখে জল তুলে দিতে বাড়ির মহিলারাই ঘন্টার পর ঘন্টা কলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন সব কাজ ফেলে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল— বাড়ির মহিলা সদস্যরা তো শুধু জল সংগ্রহ করেন না, রান্না করা থেকে শুরু করে সংসারের প্রায় সমস্ত কাজই করতে হয় তাদের। খুব কম ক্ষেত্রেই জল সংগ্রহের কাজ করতে দেখা যায় পুরুষদের। জলের কলের সামনে বেশিরভাগ লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায় মহিলাদেরই। অসীম ধৈর্য এবং পরিশ্রম করে মহিলারা এই কাজ করলেও, ঘরের মালিক তারা নন।

মোঘলরা অনেক জলাশয় তৈরি করেছিল। দিল্লি এবং আগ্রায় যত জলাশয় আছে, তার বেশিরভাগই মোঘল আমলে তৈরি। এছাড়া জনগণ নদীর জলও ২৪ ঘন্টা পেতেন সেই আমলে। অথচ এখন বিদ্যুৎ, কম্পিউটার, উন্নত প্রযুক্তির সুবিধে থাকা সত্ত্বেও, রাস্তার জলের কলের সামনে লম্বা লাইন দেখা যায়। এর ফলে মহিলাদের আজও শুধু জল সংগ্রহের জন্য দিনের অনেকটা সময় নষ্ট করতে হয়। এ যেন সেই সনাতনকাল ফিরে এসেছে!

বর্তমান সরকার শৌচালয় তৈরিতে খুব হইচই করেছে শুরুর দিকে। কিন্তু যদি জলের প্রয়োজন না মেটে, তাহলে জনগণ শৌচালয় পরিচ্ছন্ন রাখবে কী করে! সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, মহিলারা যদি শুধু জল সংগ্রহে বেশিরভাগ সময় নষ্ট করেন, তাহলে তাদের দক্ষতা, প্রতিভা সবকিছু প্রকাশের সুযোগ কমে যাবে। যা আসলে মহিলাদের দুর্বল করে তোলার রাজনীতি ছাড়া আর কিছু নয়।

জল সংগ্রহের জন্য এই যে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছেন মহিলারা, তাহলে এটা কি মন্দিরের ঢোকার জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর ট্রেনিং ধরে নেওয়া হবে?

নিজের হাতে বানিয়ে নিয়ে পরিবেশন করুন তিনটি লোভনীয় পদ

দইপনির রোল, মুগ ডাল ধামাকা কিংবা চাইনিজ ভেল-এ জমে উঠুক বিকেল-সন্ধে। বাড়িতে নিজের হাতেই বানিয়ে নিন এইসব মুখরোচক স্ন্যাকস।

দইপনির রোল

উপকরণ: ৬ পিস স্লাইস ব্রেড, ৩ বড়ো চামচ গাঢ় দই, ২ বড়ো চামচ পনির ভাজা, ১ চামচ কাঁচালংকার কুচো, ১ বড়োচামচ ধনেপাতা কুচো, ২ বড়ো চামচ মাখন, ১ চামচ ময়দা এবং নুন স্বাদমতো৷

প্রণালী: বেলনচাকির সাহায্য নিয়ে স্লাইস ব্রেডগুলোকে চাপ দিয়ে বড়ো এবং পাতলা রূপ দিন। পনির এবং দই মিক্সিতে দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে রাখুন। ওর সঙ্গে কাঁচালংকার কুচো, ধনেপাতার কুচো এবং নুন মিশিয়ে নিন। এবার পাতলা করে রাখা ব্রেড-এর মধ্যে দই-পনিরের পুর ভরে রোল করে ১০ মিনিট ফ্রিজে রেখে দিন। এরপর বাড়িতে অতিথি এলে কিংবা নিজেদের খাওয়ার ইচ্ছে হলে, ফ্রিজ থেকে বের করে ফ্রাইং প্যান-এ মাখন লাগিয়ে হালকা আঁচে ভাজুন এবং সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশন করুন।

মুগ ডাল ধামাকা

উপকরণ: খোসা ছাড়ানো এক কাপ মুগ ডাল ভেজানো, সুইট কর্ন, লাল-হলুদ-সবুজ ক্যাপসিকাম, ১টা বড়ো পেঁয়াজ, ১ বড়ো চামচ মাখন, ১ বড়ো চামচ ময়দা, ১ বড়ো চামচ টম্যাটো সস, ১ বড়ো চামচ চিজ কুচি, নুন স্বাদমতো এবং পরিমাণ মতো তেল।

প্রণালী: খোসা ছাড়ানো ভেজা মুগ ডাল মিক্সিতে পেস্ট তৈরি করে রাখুন। ওর সঙ্গে ময়দা এবং সামান্য নুন মিশিয়ে লেচির আকার দিয়ে বেলে নিন রুটির আকারে। এবার ফ্রাইং প্যান-এ সামান্য মাখন দিয়ে হালকা আঁচে ভাজুন কিছুক্ষণ। এরপর লাল, হলুদ এবং সবুজ ক্যাপসিকাম, পেঁয়াজ কুচো, সুইট কর্ন এবং চিজ কুচি যোগ করুন। চিজ হালকা গলতে শুরু করলে আঁচ থেকে নামিয়ে টম্যাটো সস ছড়িয়ে দিন। এবার কয়েক টুকরো করে পরিবেশন করুন গরম গরম।

চাইনিজ ভেল

উপকরণ: ১ প্যাকেট শুকনো নুডলস, ২ বড়ো চামচ গাজর কুচো, ২ চামচ বাঁধাকপির কুচো, ২ বড়ো চামচ ক্যাপসিকাম কুচো, ২ বড়ো চামচ পেঁয়াজ কুচো, টম্যাটো সস, চিলি সস, কাঁচালংকার কুচো ১ চামচ, নুন স্বাদমতো, হাফ চামচ চিনি এবং পরিমাণ মতো সাদা তেল। প্রণালী: প্রথমে হালকা গরম জলে নুডলস ১ মিনিট ভিজিয়ে নিয়ে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন। একটা ফ্রাইং প্যান-এ তেল গরম করুন। এবার জল ঝরিয়ে রাখা নুডলস গরম তেল-এ দিয়ে হালকা আঁচে ভাজুন ২ মিনিট। এবার ওর মধ্যে ক্যাপসিকাম কুচো, কাঁচালংকার কুচো, গাজর কুচো, বাঁধাকপির কুচো এবং স্বাদমতো নুন ও চিনি দিয়ে ভাজতে থাকুন আরও ১ মিনিট। এরপর টম্যাটো সস দিয়ে নামিয়ে ধনেপাতা কুচো ছড়িয়ে দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

সিঁড়িতে পায়ের শব্দ (শেষ পর্ব)

অনন্যার ঠোঁটে মায়ের করা কেকের স্বাদ তখনও লেগে। চেটেপুটে নেয় প্রীতম, ঘামতে থাকে। অনন্যার গলায়, ঘাড়ে কি সুন্দর মাদকতাময় মেয়েলি গন্ধ। এই অনন্যা ওর, শুধু ওর নিজের, ওর সবচেয়ে ভালোবাসার জন। তার সঙ্গে শরীরী প্রেমে অন্যায় কি আছে? কোনও বাঁধন নেই, পাগলের মতো শুধু চুমোয় চুমোয় দুজনে দুজনকে অস্থির করে দেয়। প্রীতম ওর মুখটা প্রাণপণে নামিয়ে আনতে চাইল নীচে, আরও নীচে। সেখানে মুক্তোঝিনুক আছে, তার রহস্য ওকে আজ ভেদ করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে নয়, প্রীতম শুধু দামাল ভালোবাসায় অনন্যার আগলগুলো সরিয়ে দিতে চাইছিল। অনন্যা চেপে ধরল প্রীতমের মুখ, ওর সম্বিৎ ফিরল। অনন্যা ওকে বাধা দিচ্ছে আরও নীচে নামতে!

না, অনন্যাকে কোনও জোর সে করতে পারবে না। পৌরুষের আত্মাভিমান ওকে বাধা দিল। অনন্যা ওর প্রেমিকা, ওর কাছে সম্পূর্ণ সমর্পণ করেছে নিজেকে, তার ওপর কি জোর খাটানো যায়? প্রেমিকা তো আর কোনও ভোগ-লালসার পসরা নয়। যা হবে দুজনের পারস্পরিক সহমতেই হবে। আর একটু এদিক ওদিক হলেই একটা বড়ো ভুল করে ফেলছিল, যার কোনও ক্ষমা হতো না জীবনে। কত ছোটো হয়ে যেত ও। প্রীতম পরিষ্কার বুঝতে পারল, অনন্যা এখন প্রস্তুত নয়, অনন্যা থামতে চাইছে। প্রীতম সেই ইচ্ছাকে সম্মান দেয়। আর তাই তখনই এক পারস্পরিক ভরসা, বিশ্বাস আর মরমি ভালোবাসার বন্ধনে জড়িয়ে যায় দুজনে, একে অপরের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে।

সময় চলে গেছে অনেকটা, অবশেষে ওদের সম্বিৎ ফিরল। এবার ফিরতে হবে, প্রীতম অনন্যাকে দরজা অবধি এগিয়ে দিল। অনন্যার যেন তখনই যাবার ইচ্ছে ছিল না, কিছুটা বাধ্য হয়েই দুজনে দুজনকে বিদায় দিল। দরজা খুলে নিমেষেই সিঁড়ি দিয়ে হারিয়ে গেল অনন্যা। কেউ দেখেনি, নিশ্চিন্ত হয়ে দরজা বন্ধ করল প্রীতম।

এই ঘটনার পনেরো বছর পরের কথা। প্রীতম আজ বড়ো একটা সফ্টওয়্যার কোম্পানিতে উঁচু পোস্টে চাকরি করে। বিবাহিত কিন্তু ঠিক সুখী নয়। একটা মেয়েও আছে কিন্তু প্রেম নেই ওর জীবনে। অনন্যার সঙ্গে প্রেমটা ভেঙে গেছিল অনেকদিন আগেই। অনন্যা বাধ্য হয়েই খুঁজে নিয়েছিল অন্য সঙ্গী, নিশ্চিন্ত বিবাহিত জীবন। কিছু করার ছিল না প্রীতমেরও। তখনও ও বেকার। বাবা হঠাৎ ক্যান্সারে মারা গেলেন, সংসারে অনটন। তারপর জীবনযুদ্ধে লড়াই করতে করতে, জীবন গড়িয়েছে নিজের নিয়মে। দুজনে দুজনকে হয়তো ভুলেও গিয়েছিল সেই ফাঁকে। কিন্তু ক’দিন আগে, হঠাৎই ফেসবুকে দুজনের আবার যোগাযোগ হয়ে গেল। খুঁজে খুঁজে প্রীতমই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিল অনন্যাকে।

অনন্যার চেহারা ভারী হয়েছে কিছুটা কিন্তু এখনও আকর্ষণীয়। প্রীতমেরও চুল একটু হালকা হয়েছে, মধ্যপ্রদেশ বেড়েছে, কিন্তু মনটা রয়ে গেছে আগের মতোই সতেজ, প্রেমিক, যৌবনময়। ফেসবুকে চ্যাটিং বা ভিডিওকলে বেশ ক’বার দুজনের কথা হয়েছে। অনন্যার একটি ছেলে, স্বামী চাকরি করে কী একটা কারখানায়। অনন্যাকে দেখেই পুরোনো স্মৃতি আবার জেগে উঠল প্রীতমের। রোমান্স নয়, এখন ওর অন্য একটা শারীরিক খিদে জেগে উঠল অনন্যার প্রতি, যৌনলালসা। সেদিনের মতো নিষ্কাম প্রেম আজ আর নেই, শুধু জৈবিক চাহিদাই এখন বড়ো হয়ে উঠেছে। সময় পালটে গেছে, বদলে গেছে দুজনেই।

আজ পনেরো বছর পরে, যখন আবার অনন্যাকে প্রস্তাবটা দিল প্রীতম, অনন্যা কিন্তু প্রথমেই না বলে দিয়েছিল। প্রীতমের সঙ্গে আর সে দেখা করতে চায় না, ফ্ল্যাটে আসা তো দূরের কথা। কিন্তু কী করবে প্রীতম? ও আজ নিঃসঙ্গ। মানসীর সঙ্গে ওর বনেনি, তাই মেয়েকে নিয়ে মানসী প্রায়ই বাপের বাড়িতে আলাদা থাকে, মিউচুয়াল সেপারেশনেরও কথাবার্তা চলছে।

মা-ও মারা গিয়েছেন বছর দুই হল। ফ্ল্যাটটাতে প্রীতম এখন একাই থাকে। শুধু অনন্যা যদি আর একবার আসত! কিন্তু আজ প্রীতমের মনে বিন্দুমাত্র প্রেম নেই, আছে শুধু ভোগবাসনা। বিবাহিত জীবনে ও সুখ পায়নি, অনন্যাকে পেলে এবারে বিছানায় নিয়ে গিয়ে তুলবে, শয্যাসঙ্গিনী বানাবে। পনেরো বছর আগের সেই দিনটায়, বোকার মতো ও যা পারেনি, আজ সুদে-আসলে তা উশুল করে শোধ তুলবে।

—কবে দেখা হবে আমাদের?

—কেন, দেখা করে কী হবে? এই তো ফোনে বেশ কথা হচ্ছে।

—না গো, তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।

—সে কী গো! ভিডিও কলে তো রোজই দেখতে পাচ্ছ।

—না না সেরকম নয়, সামনাসামনি।

—কী দরকার? তার চেয়ে এই ভালো।

—কী বলছ! এত বছর পর দু’জনের যোগাযোগ হল, আর দেখা করব না! বিশেষ করে দু’জনেই যখন এত কাছে থাকি।

—ঠিক আছে, চলে এসো না বাসস্টপে। ওখানেই দেখা হয়ে যাবে।

—না, না, কী বলছ। সবাই দেখে ফেলবে যে। শেষে কে কী ভাববে!

—কী আবার ভাববে? কেউ কারও সঙ্গে কথা বলতে পারে না নাকি?

—কেউ যদি সন্দেহ করে! তোমার হাজব্যান্ড বা আমার বউ জেনে গেলে সমস্যা হবে, বুঝলে?

—তাহলে?

—তাহলে আবার কী? আমার ফ্ল্যাটে চলে এসো। তুমি তো চেনো।

—না, না বাবা, ফ্ল্যাটে যেতে ভয় করছে।

—ভয়! আমি কি বাঘ না ভাল্লুক, যে তোমাকে খেয়ে ফেলব?

—না তা নয়…

—তবে আবার কী? চলে এসো। প্রাণ খুলে গল্প করব কতদিন পর।

—কিন্তু…

—কোনও কিন্তু নয়। তুমি কি আমাকে বিশ্বাস করো না?

—তা কেন হবে? আসলে আমার না ঠিক যেতে ইচ্ছে করছে না। তার চেয়ে চলো না, কফি হাউসে বসে আড্ডা মারি।

—কফি হাউস? অতদূর? কেউ দেখে ফেললে?

—তাহলে ছাড়ো। দেখা করার দরকার নেই।

—কেন? প্লিজ, একবার এসোই না। ফ্ল্যাটটা দারুণ সাজিয়েছি, তুমি দেখবে না?

—তাই নাকি? দেখি, তাহলে যাব একদিন।

—ঠিক তো? কবে আসবে বলো।

—বলে দেব। কিন্তু আমার দিকটাও দেখো।

আসলে প্রীতমকে দেখতে ইচ্ছে করছিল অনন্যারও। কিন্তু ওর ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলছিল, প্রীতম পালটে গেছে। মেয়েরা অনেক কিছু দূর থেকেও বুঝতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হার মানতেই হল অনন্যাকে, প্রীতমের প্রতি অন্ধ বিশ্বাসের কাছে। প্রীতমকে ও ভালো করেই চেনে, আপনার জন মনে করে, এখনও সেদিনের মতোই ভালোবাসে। প্রীতম যে বড়ো ভরসার জন ছিল, ভালোবাসার জন ছিল। এখন অবশ্য অনন্যা আর্থিক ভাবে একটু দুর্বল, ওর স্বামী তপন সেরকম বড়ো চাকরি করে না। কষ্টেসৃষ্টেই চলে ওদের। বেশিরভাগ সময় ও ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়িতেই থাকে।

প্রীতম কিন্তু অনন্যার শেষ কথাটার মানেটা এখনও বুঝতে পারেনি। কী বলতে চাইছে অনন্যা ওকে? টাকা পয়সার কথা। আর্থিক সাহায্য চায়? ও কি প্রীতমের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছে? তাই শরীরের বিনিময়ে কিছু আদায় করে নিতে চায়? প্রীতমের একটু খটকা লাগে।

অবশেষে একদিন অনন্যা প্রীতমের ফ্ল্যাটে আসতে রাজি হয়ে গেল। মোবাইলে কথা হয়ে গেল দুজনের এইমাত্র। অনন্যা এখনই আসছে। ফ্ল্যাটের ভিতর একা প্রীতম। ওর বুকে আজও সেই প্রথম দিনটার মতোই হাতুড়ির ঘা পড়তে লাগল। একটা জিন্স আর টি শার্টে এখন ওকে দারুণ স্মার্ট দেখাচ্ছে। সেদিনকার মতো নার্ভাস আর ও নয়। ফ্ল্যাটটাও ঝাঁ চকচকে করে সাজিয়েছে। দামি গ্যাজেট, ফার্নিচার, ইমপোর্টেড শোপিস, দেয়াল জোড়া অয়েলপেন্টিং, লেটেস্ট ইন্টিরিয়র ওর আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ দেয়।

প্রীতম ফ্রিজ থেকে একটা হুইস্কির বোতল বের করে ডাইনিং টেবিলে সাজায়, সঙ্গে দুটো গেলাস। উত্তেজনায় ও দু’পেগ মেরেও দেয়। তারপর অপেক্ষা করতে থাকে অনন্যার জন্য। সেই পাঁচ মিনিটের রাস্তা, সেই ফ্ল্যাট, সেই দুজন। মাঝে শুধু কেটে গেছে পনেরোটা বছর। সেদিনের ভুল আর ও করবে না, দরকার হলে জোর করবে! আজ ওর নেশা চেপে গেছে, ক্লাবড্রাগ ড্রিংকস-এ মেশাতে কতক্ষণ?

ওর সাজানো ফ্ল্যাটে আজ সবকিছুই আছে, শুধু আর সেখানে কোনও কবিতার বই নেই, সেসব কোথায় চলে গেছে। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবার প্রতিযোগিতা, দাম্পত্য কলহ আর স্বার্থান্ধতায় সেসব কোথায় মুখ লুকিয়েছে বা হয়তো খবরের কাগজের সঙ্গে বিক্রি হয়ে গেছে। সেসব যাক, আজ তাদের প্রয়োজন ফুরিয়েছে। অনন্যা কি আসছে? প্রীতম উত্তেজনায় ফুটতে থাকে।

সিঁড়িতে পায়ের শব্দগুলো ওকে ঝাঁকিয়ে দিয়ে যায়। কলিংবেল বাজে। ছক সাজাতে সাজাতেই, সপ্রতিভ প্রীতম তড়িঘড়ি দরজা খুলে দেয়। দরজা খুলতেই চমক। দেখতে পায় একটি শিশুর হাস্যময়, আলোকিত মুখ। তার আভা ছড়িয়ে পড়ে গোটা ঘরে। তার পেছনে ঝাপসা মুখ, কপালে টিপ, মুখে হাসি— না কোনও মেয়ে নয়, কোন পরস্ত্রী বা প্রেমিকা নয়, দাঁড়িয়ে রয়েছে এক মা। প্রীতমের মনে পড়ল ড্রয়িংরুমের দেয়ালে টাঙানো যামিনী রায়ের আঁকা ছবিটার কথা— ক্যাপশন– ‘মা ও শিশু’।

(সমাপ্ত)

পরিচালক দেবজিৎ হাজরা উপহার দিতে চলেছেন বাংলা ছবি ‘তুরুপের তাস’

শুধু মানুষ কিংবা জন্তু-জানোয়ারই নয়, কখনও আবার দরজা-জানলা কিংবা যানবাহনও সিনেমার কাহিনির কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে ওঠে। এই যেমন দেবজিৎ হাজরা পরিচালিত ছবি ‘তুরুপের তাস’-এ প্রাধান্য পেয়েছে একটি গাড়ি চুরির ঘটনা। তরুণ-তরুণীদের হইহুল্লোড় দিয়ে ছবির কাহিনির সূত্রপাত হলেও, একটি গাড়ি চুরি যাওয়ার পর ঘনীভূত হবে আসল রহস্য।

দেবজিৎ হাজরা পরিচালিত ‘তুরুপের তাস’ ছবির কাহিনি শুরু হয় কয়েকজন ছেলে-মেয়ের বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে। যারা সবে H.S. exam দিয়েছে। অয়ন( রিক দে ), অনন্যা ( শ্রেয়া ভট্ট্যাচার্য),  মৈনাক ( রেমো ) এবং ত্যানা (দ্বীপান্বিতা নাথ) পরীক্ষার পর  প্ল্যান করে, ওরা কোথাও বেড়াতে যাবে। যাকে বলে একেবারে ঝটিতি সফর। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওরা অয়নের বাবার কেনা  নতুন একটা চারচাকার গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে।

মৈনাক এবং ত্যানা পরস্পরকে খুব পছন্দ করে কিন্তু ওরা একে অপরকে এখনও প্রোপোজ করেনি। কিন্তু সেই সুযোগ আসে বেড়াতে বেরিয়ে। ওরা হাইওয়েতে একটা ক্যাফের সামনে এসে গাড়ি থেকে নামে। তখন মৈনাক অয়নকে বলে, ‘ভাই তোর গাড়ির চাবিটা দে, আজ আমি ত্যানাকে প্রোপোজ করবো।’ অয়ন রাজি হয়ে যায়। মৈনাক খুব আবেগপ্রবণ হয়ে ত্যানাকে গাড়িতে বসিয়ে একটি ফ্লাইওভারের মাঝামাঝি গিয়ে গাড়ি  থামায়। মৈনাক ত্যানাকে গাড়ি থেকে বাইরে নিয়ে এসে প্রোপোজ করে। গাড়িটা ফ্লাইওভারের মাঝখানে রেখে ওরা দুজনে চারিদিকে ঘুরে বেড়াতে থাকে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ওরা দুজন ফিরে এসে দেখে যে, যেখানে ওরা গাড়িটা রেখেছিল, সেখানে গাড়িটা নেই। ওরা বুঝতে পারে যে, গাড়িটা চুরি হয়ে গেছে। এরপর ওরা চারিদিকে পাগলের মতো খুঁজতে থাকে গাড়িটাকে কিন্তু পায় না। একসময় ওরা খুব ভয় পেয়ে যায়। ত্যানা অয়নকে ফোন করে সেখানে আসতে বলে।

গাড়ি চুরির ঘটনার কয়েকদিন পর দেখা যায়, চুরি যাওয়া গাড়িটা একটা সেকেন্ডহ্যান্ড গাড়ির শোরুমের সামনে রাখা আছে। আর মেহবুব খান (সৌরভ দাস) নামে এক ব্যক্তি, যে গ্রামের অতি সাধারণ এক ব্যবসায়ী, সে ওই গাড়িটা কিনতে এসেছে। শোরুমের লোকেরা ফেক কাগজ বানিয়ে গাড়িটা মেহবুব খানকে বিক্রি করে দেয়। মেহবুব খান গাড়িটা নিয়ে যখন রাস্তায় যায়, তখন নাকা চেকিংয়ে গাড়িটা ধরা পড়ে। গাড়িটা সার্চ করে তাতে একটা ডেড বডি আর দুটো ইন-অ্যাক্টিভ বোমা পাওয়া যায়। মেহবুবকে টেররিস্ট সাসপেক্ট করে আইপিএস রাজদীপ দত্ত (যুধাজিৎ সরকার) আরেস্ট করেন। মেহবুব খানের পাঁচ বছরের জেল হয়। জেল থেকে বের হয়ে মেহবুব খান তার আইনজীবি  নীলাশা চৌধুরী মিলে একটা গ্যাং বানায়। পরে তদন্ত করে জানতে পারে যে, পাঁচ বছর আগে পলিটিসিয়ান ভানু প্রতাপ ( রজতাভ দত্ত)  ভোটে জেতার জন্য একটা পলিটিক্যাল কন্সপিরেসি করে ১২ কোটি টাকা ঘোটালা করেছিল আইপিএস রাজদীপ দত্তের সঙ্গে হাত মিলিয়ে। কিন্তু এরপর কী ঘটবে, তা-ই ছবির আসল ক্লাইম্যাক্স বলে জানানো হয়েছে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।

সাউথ সিটি মল-এর এক অভিজাত রেস্তোরাঁয় মহা সমারোহে সদ্য লঞ্চ করা হয়েছে ‘তুরুপের তাস’ ছবির টিজার এবং মিউজিক। ছবিটির পরিচালক দেবজিৎ হাজরা ছাড়াও, এই লঞ্চিং ইভেন্ট-এ উপস্থিত ছিলেন ছবির অভিনেতা রিক, রেমো, যুধাজিৎ, রজতাভ, অভিনেত্রী শ্রেয়া, জুঁই এবং দ্বীপান্বিতা। উপস্থিত ছিলেন এই ছবির গায়ক আলাপ, গায়িকা লগ্নজিতা, কাজল এবং মাধুরী। সংগীত পরিচালক প্রাঞ্জল দাসও উপস্থিত ছিলেন টিজার ও মিউজিক লঞ্চ-এ।

পরিচালক দেবজিৎ হাজরা নিজেই লিখেছেন এই ছবির কাহিনি। ছবিটি তৈরি হয়েছে ‘ড্রিম হকার এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড আদিভূত থ্রিসিক্সটি প্রোডাকশন’-এর ব্যানারে। আগামী ১৩ ডিসেম্বর ছবিটি বাণিজ্যিক ভাবে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বলে জানানো হয়েছে।

কুণাল ভাণ্ডারি পরিচালিত বাংলা ছবি ‘আনন্দি’ আসছে বড়োপর্দায়

তরুণ পরিচালক কুণাল ভাণ্ডারি তৈরি করছেন একটি বাংলা ছবি। ‘আনন্দি’ শীর্ষক এই বাংলা ছবির শুটিং হয়েছে কলকাতা এবং কলকাতা-র আশপাশ অঞ্চলে।

‘আনন্দি’ ছবির কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে আনন্দি নামের একটি মেয়ে। যার জীবনকাহিনি খুবই দুঃখজনক। আনন্দি আসলে এক কলেজ পড়ুয়া মেয়ে। তার বাবা তাকে তার প্রেমিকের সঙ্গে দেখে ফেলার পর, আনন্দি খুব অস্বস্তিতে পড়ে যায়। কিন্তু মনের জোর বাড়িয়ে আনন্দি তার প্রেমিককে মুখোমুখি করায় তার বাবার সঙ্গে। সাহসের সঙ্গে সে তার বাবাকে জানায় যে, সে ছেলেটিকে ভালোবাসে এবং বিয়ে করতে চায়। কিন্তু আনন্দি-র প্রেমিকের তখন চাকরি স্থায়ী ছিল না। তাই আনন্দির বাবা আনন্দির প্রেমিককে জানান, ছয় মাসের মধ্যে চাকরি পাকা করে সে যেন তার সঙ্গে দেখা করে, তাহলে তিনি এই বিয়ে দিতে রাজি হবেন। এই প্রস্তাবে সম্মতি জানায় আনন্দি-র প্রেমিক।  এরপর সময় বয়ে চলে। মাতৃহীনা আনন্দি তার বাবাকে আবার কাউকে  বিয়ে করতে অনুরোধ করে। কারণ, আনন্দি জানায়, তার বিয়ের পর বাবার যত্ন নেওয়ার লোক থাকবে না। মেয়ের অনুরোধে মধু নামের এক মহিলাকে বিয়ে করেন বাবা।

আনন্দি-র বিপত্নীক বাবার দ্বিতীয় বিয়ের পর, আনন্দির দ্বিতীয় মা মাঝেমধ্যে আনন্দির সঙ্গে বাজে ব্যবহার করতে থাকেন। আনন্দি এতে খুব কষ্ট পায় কিন্তু সে তার বাবা-র কথা ভেবে, তার নতুন মায়ের সব দুর্ব্যবহার মেনে নেয়। কিন্তু ধীরে-ধীরে আনন্দির নতুন মা মধু তার আসল রূপ দেখায় এবং মা তার প্রেমিক হরেকৃষ্ণের সাহায্যে সম্পত্তির জন্য আনন্দি-র বাবাকে খুন করে। শুধু তাই নয়, আনন্দি-র বাবাকে খুন করার পর আনন্দিকেও বিক্রি করে দেয়। আনন্দি-র স্থান হয় নিষিদ্ধ পল্লিতে। সেখানে আনন্দি তার শরীর বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায়, তাকে চরম অত্যাচার করা হয়।  যাইহোক, সময় বয়ে যায়। নিষিদ্ধপল্লিতে আনন্দি-র সঙ্গে পরিচয় হয় আরও দুজন মেয়ের। তাদের কাহিনিও নিদারুণ! এদের মধ্যে একজন গৃহিনী মেয়েকে তার মাতাল স্বামী টাকার লোভে বিক্রি করে দিয়েছিল ওই নিষিদ্ধপল্লিতে। সোনিয়া নামের অন্য মেয়েটিও ছিল উচ্চাকাঙ্ক্ষী অভিনেত্রী। সিনেমায় নায়িকা হতে চাওয়া মেয়েটিকে তার প্রেমিক প্রতারিত করে বিক্রি করে দেয় নিষিদ্ধপল্লিতে।

একসময় আনন্দি-র প্রেমিক খুঁজে পায় আনন্দি-কে এবং পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে। শেষ পর্যন্ত আনন্দি মুক্তি পায় তার দুর্বিসহ জীবন থেকে। কিন্তু আনন্দি নিষিদ্ধপল্লি থেকে মুক্তি পাওয়ার পর, ‘আনন্দি’ ছবির কাহিনি মোড় নেবে অন্যদিকে। কী ঘটবে এরপর, তা জানতে হলে ছবিটি দেখতে হবে বলে জানিয়েছেন   পরিচালক। ইতিমধ্যেই ছবিটির শুটিং শেষ হয়েছে এবং এখন পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে।

‘আনন্দি’ ছবিতে অভিনয় করছেন প্রিয়ঙ্কা রায়, রজতাভ দত্ত, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, জিতেন্দ্র নাহার, দিলরাজ, অমিত কর্মকার, রভজিৎ ভৌমিক, রিয়া দাস, পায়েল দত্ত এবং মৌমিতা অধিকারী। ছবিটি তৈরি হচ্ছে ‘জেজে প্রোডাকশন’-এর ব্যানারে। এই ছবিতে খলনায়কের চরিত্রে প্রথমবার অভিনয় করেছেন জিতেন্দ্র নাহার। ছবিতে কয়েকটি গানও আছে। গানগুলি লিখেছেন বাংলাদেশের রঞ্জু রেজা এবং সুদীপ ভট্টাচার্য। গানগুলিতে কণ্ঠদান করেছেন বলিউডের অদিতি সিং শর্মা, বাংলাদেশের রুবেল খন্দকার এবং চয়ন দে। ছবির মিউজিক এবং ট্রেলার মুক্তি পাবে খুব শিগগির।

‘আনন্দি’ ছবির কাহিনি লিখেছেন জিতেন্দ্র নাহার এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন ইব্রাহিম শেখ। ছবিটির চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন জোজো ব্যাগ। আর কিছুদিনের মধ্যে ছবিটি মুক্তি পাবে বলে জানানো হয়েছে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।

মল্লিকা সারাভাই নৃত্যের ছন্দে বার্তা দিলেন–‘মেয়েদের জাগতে হবে’

কলকাতা মানেই কল্লোলিনী। বহমান আবেগে মেতে থাকা আর মাতিয়ে রাখার শহর। সংষ্কৃতির পীঠস্থান। আর এই সংষ্কৃতির নতুন সংযোজন ‘নৃত্যগাথা’। তিন বছরে পা রাখল ভারতীয় ধ্রুপদী নৃত্যের এই ফেস্টিভ্যাল। ‘ভারতীয় বিদ্যাভবন’ এবং ‘জে এল মেহতা ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে, এবারের ‘নৃত্যগাথা’-য় একেবারে চাঁদের হাট। মল্লিকা সারাভাই, শোভনা, অরুণা মহান্তিদের মতো দিকপাল  নৃত্যশিল্পীরা মাতিয়ে দিলেন ত্যাগরাজ প্রেক্ষাগৃহ এবং জিডি বিড়লা সভাঘরের মঞ্চ। তিন দিনের (৮, ৯ এবং ১০ নভেম্বর) এই অনুষ্ঠানে ছিল না কোনও প্রবেশমূল্য। শুধুমাত্র ভারতীয় ধ্রুপদী নৃত্যকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার জন্যই ‘ভারতীয় বিদ্যাভবন’ এবং ‘জে এল ফাউন্ডেশন’-এর এই উদ্যোগ। তাঁদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দর্শকরা।

প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে ছিল বিশিষ্ট ওড়িশি নৃত্যশিল্পী অরুণা মহান্তির গ্রুপ-এর অনুষ্ঠান। ‘দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ’, ‘ভীমের দুর্যোধন বধ’– এইরকম টুকরো টুকরো মহাভারতের কাহিনি উঠে এসেছিল ওড়িশি নৃত্যের ছন্দে। দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে এই পরিবেশনা। তবে প্রথম দিনে আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিলেন নৃত্যশিল্পী মল্লিকা সারাভাই। তিনি মঞ্চে এলেন, নাচলেন, মানুষের মন জয় করে নিয়ে চলে গেলেন। এক অনন্য নৃত্যকলার সাক্ষী থাকল কলকাতা।

মল্লিকা তাঁর পরিবেশনার নাম দিয়েছেন ‘পাস্ট ফরওয়ার্ড’। চিন্তা-ভাবনার এক অভিনব মিশেল এই পরিবেশনা। ভরতনাট্যমের  ফর্ম, স্টাইল যেমন ধীরে ধীরে যুগ যুগ ধরে  পাল্টেছে, তেমনই ভারতীয় সমাজে নারীদের অবস্থানও বদলেছে। পুরুষের চোখে,সমাজের চোখে নারীদের ভূমিকা কীভাবে বদলেছে, তা তিনি ভরতনাট্যমের ধারার বদলের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়ে এক অভূতপূর্ব আধুনিক থিম তুলে ধরলেন। এই পরিবেশনায় যেমন ছিল পৌরাণিক কাহিনি, তেমনই ছিল ‘গাল্লি বয়’-এর র‍্যাপ গানের ধ্রুপদী সংস্করণ। ওঁর প্রতিটা মুদ্রায় ফুটে উঠেছিল নারীর যন্ত্রণা, লাঞ্ছনা। মল্লিকা তাই সোচ্চার, তিনি মঞ্চ থেকে মুক্ত কন্ঠে আহ্বান জানিয়েছেন, ‘আমাদের জাগতে হবে। এখনও এই সমাজে মেয়েদের বড়ো হয়ে ওঠা, ছেলেদের থেকে অনেক আলাদা। আমাদের মায়েরা, নিজেরা মেয়ে হয়েও তাদের ছেলে  সন্তানদের যে স্বাধীনতা দিয়ে বড়ো করেন, মেয়ে সন্তানদের বেলায় তারা খুবই রক্ষনশীল। এটা ভাঙতে হবে। তাই আমাদের উঠে দাঁড়াতে হবে।’

কলকাতা বরাবরই মল্লিকার কাছে স্পেশ্যাল। জীবনের প্রথম অনুষ্ঠান এই কলকাতায়, মায়ের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ‘চন্ডালিকা’ করতে এসেছিলেন ছোট্ট মল্লিকা। মা ছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের শিষ্যা, বাবা দিকপাল বিজ্ঞানী। মায়ের মতো মল্লিকার অনুপ্রেরণাও রবীন্দ্রনাথ। প্রথম গান শেখা, সেটাও রবি ঠাকুরের গান—‘মধু গন্ধে ভরা’। তাই কলকাতার কাছে বার বার ফিরে আসেন ‘পদ্মভূষণ’ মল্লিকা।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে ছিল শোভনার ভরতনাট্যম। শোভনা নিজে একজন অভিনেত্রীও বটে। ওঁর অনুষ্ঠান মন ভরিয়ে দিয়েছে দর্শকদের। শেষদিন শুভজিৎ দাসের ‘মনসা’ এবং জলসা চন্দ্র পারফর্মিং ট্রুপ-এর ‘অগ্নি–দ্য বার্ড অফ ফায়ার’ ছিল ‘নৃত্যগাথা’-র অন্যতম সেরা পরিবেশনা। এই তিন বছরেই মানুষের মনে ছাপ ফেলেছে ভারতীয় বিদ্যাভবন আয়োজিত এই ‘নৃত্যগাথা’। অপেক্ষা আবার আরেকটা বছরের।

সন্তানের বেহিসেবি খরচের অভ্যাস এখনই আটকান

শৈশবে আমরা প্রায় সকলেই তৃষ্ণার্ত কাক এবং জলের পাত্রের কাহিনি শুনেছি। সেই জলের পাত্রের নীচে কিছুটা জল দেখে কীভাবে তেষ্টায় কাতর কাকটি ছোটো ছোটো পাথর জলের পাত্রের মধ্যে ফেলে, জল পাত্রের উপর দিকে নিয়ে এসে তৃষ্ণা নিবারণ করেছিল। সঞ্চয় করার ব্যাপারটাও অনেকটা এরকমই। এটা খুব সহজ কাজ নয়। কিন্তু একবার সঞ্চয়ের গুরুত্ব বুঝে গেলে, সঠিক দিশায় পা রেখে কাজটি অনেক সহজে করে তোলা সম্ভব হয়। ছোটো ছোটো পদক্ষেপ নিয়েই ভবিষ্যতে বড়ো কিছু প্রাপ্তির সম্ভাবনা বাড়ে।

শৈশবেই যদি সন্তানকে সঞ্চয়ের গুরুত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয় তাহলে ভবিষ্যৎ জীবনে যে-কোনও কঠিন সমস্যার সহজেই সে মোকাবিলা করতে পারবে। যে-অভিভাবকেরা ছোটো থেকেই সন্তানকে সঞ্চয়ের অভ্যাস করান, তারা সন্তানের অজান্তেই তাদের ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত করে তোলেন। সঞ্চয়ের গুরুত্ব বুঝলে টাকার মূল্যও সে বুঝতে পারে এবং খরচ করার অভ্যাসেও তার আমূল পরিবর্তন আসে।

সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া অতিমারি এটাই স্পষ্ট করে দিয়ে গেছে যে— — মোটা অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন যে-কোনও সময়েই পড়তে পারে। সুতরাং সঞ্চয়ের গুরুত্ব বাচ্চাকে শৈশব থকেই শেখানো জরুরি হয়ে পড়েছে। বিপদের মুখোমুখি পড়লে মানুষ সাহায্য চাইবারও সময় অনেক ক্ষেত্রে পায় না অথবা চাইবার কথা মনে পড়ে না। তাই নিজের কাছে সবসময় নগদ বেশ কিছু অর্থ থাকাটা আজকের সময়ে প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

সন্তানকে টাকার মূল্য বোঝান

মুদ্রাস্ফীতি যেখানে আজ সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে বাচ্চাকে টাকার মূল্য বোঝানো খুব দরকার। বাচ্চার জানা উচিত অর্থের জন্য তার অভিভাবকেরা কতটা পরিশ্রম করছেন। বাচ্চার একটা চাহিদা পূরণ করতে তার মা-বাবাকে কতটা সময় কাজ করতে হচ্ছে। শৈশবেই বোঝানো দরকার বেহিসেবি খরচ করার অভ্যাস যে-কাউকেও ঋণগ্রস্ত করে তুলতে পারে।

সব চাহিদা পূরণ করার নয়

সন্তান মা-বাবার একান্ত আদরের এবং সন্তানের সব ইচ্ছেই মা-বাবা পূরণ করতে চান। কিন্তু বাচ্চাকে ডিসিপ্লিন শেখাতে হলে, পরিশ্রম করে অর্থ রোজগারের বিষয়টি এবং সেই সঙ্গে টাকার মূল্য শেখাতে হলে, বাচ্চার সব চাহিদাই সঙ্গে সঙ্গে পূরণ করবেন না। কারণ তাতে ভবিষ্যতে এই অভ্যাস বাচ্চাকে সমস্যার মুখে দাঁড় করাতে পারে।

বাচ্চা জেদি হয়ে ওঠে, শাসন মানতে চায় না, নিজের প্রয়োজনকে বশে রাখতে না পারার কারণে অপরাধমূলক কাজেও ফেঁসে যেতে পারে। তাই শৈশব থেকেই বাচ্চাকে প্রয়োজনীয় এবং বিলাসিতার মধ্যে পার্থক্য করা শেখানো দরকার। কী খাওয়া উচিত, কোনটা কেনাকাটা করা অর্থহীন, কোন খরচটা এড়িয়ে যাওয়া সমীচীন হবে ইত্যাদি বোঝানো দরকার শৈশবেই। এই শিক্ষা একদিনে নয় বরং ধীরে ধীরে দেওয়াটাই শ্রেয় হবে।

টাকা জমাবার জন্য পিগি ব্যাংক দিন

বাড়িতে জন্মদিনে উৎসব অনুষ্ঠানে অতিথিরা নিমন্ত্রণ রক্ষা করার পর অনেক সময়েই বাড়ির বাচ্চাদের হাতে কিছু টাকা দিয়ে যান। এছাড়ও দাদু, দিদা বা নিকট আত্মীয়স্বজনরা প্রায়শই বাড়ির বাচ্চাদের হাতে টাকা দিয়ে থাকেন। বাড়িতেও মা- বাবা হাতখরচা হিসেবে সামান্য অর্থ দিয়ে থাকেন। এই পুঁজি বাচ্চা তৎক্ষণাৎ খরচ করে ফেলে নাকি সঞ্চয় করে? সঞ্চয় করার অভ্যাস হলে জানবেন বাচ্চার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত। কিন্তু যদি সব টাকা সে খরচ করে ফেলে তাহলে ভবিষ্যতে এই অভ্যাস তাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

যদি বাচ্চাকে সঞ্চয় করাবার অভ্যাস করাতে চান তাহলে শৈশব থেকেই বাচ্চাকে টাকার সঠিক ব্যবহার শেখান। শেখান, কিছু টাকা খরচ করলেও বাকিটা যেন সে জমায়। সঞ্চয়ের প্রতি বাচ্চাকে আকর্ষিত করার জন্য তাকে সুন্দর আকষর্ণীয় পিগি ব্যাংক কিনে দিন। পিগি ব্যাংকে টাকা ফেললে সঞ্চয়ের অভ্যাস সহজেই বিকশিত হতে পারবে।

সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলে দিন

সঞ্চয় করার অভ্যাস কী কী সুবিধা দিতে পারে বাচ্চাকে, তা পরিষ্কার করে বুঝিয়ে বলুন। এক মাসের জমানো অর্থে বাচ্চা কীভাবে বিনিয়োগ করতে পারবে সেটাও তাকে বোঝাতে হবে। বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে ব্যাংকে একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলে দিন। আজকাল ব্যাংকে বাচ্চার নামেই ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা রয়েছে। অ্যাকাউন্টে কীভাবে টাকা জমা করতে হবে শিখিয়ে দিন। এই ভাবেই ছোটো ছোটো সঞ্চয়ের অভ্যাস থেকেই ভবিষ্যতে কোনও বড়ো প্রয়োজন সহজেই মেটাবার তার সামর্থ্য হবে।

জিনিসপত্র নষ্ট করার অভ্যাস বন্ধ করান

অনেক বাচ্চাই পেনসিল, কাগজ, রাবার বা অন্য কোনও জিনিস নষ্ট করে। পেনসিল একটু ছোটো হলেই ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। কাগজে ২-৩ লাইন লিখে বাকি ফাঁকা রেখে পরের পৃষ্ঠায় আবার লেখা শুরু করে। বাচ্চাকে বোঝাবার চেষ্টা করুন গাছ কেটে পাতা বা কাগজ তৈরি হয়। সুতরাং খাতার পাতা নষ্ট করা মানে নতুন একটি গাছ কাটার প্রস্তুতি নেওয়া। আমরা বাঁচার জন্য গাছ থেকে অক্সিজেন পাই তাই গাছের বেঁচে থাকাটা খুব দরকার। এই ভাবে গল্প করার মাধ্যমে বাচ্চার নষ্ট করার অভ্যাস বন্ধ করুন।

বেহিসেবি ফালতু খরচায় ক্ষতি

বাচ্চাদের বিস্কুট, চকোলেট, কোল্ড ড্রিংক, পিৎজা-বার্গার, মোমো ইত্যাদি ফাস্ট ফুড খাওয়ার জেদ পূরণ করতেই পরিবারে খরচের বাজেট ক্রস করে যায়। ফাস্ট ফুড স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করে। বাচ্চার শরীরে মেদ জমতে আরম্ভ করে ফলে বাচ্চা অলস হয়ে পড়ে। বাচ্চা ভাবতে আরম্ভ করে তার যে-কোনও চাহিদাই মা-বাবা অনায়াসে মেটাতে সক্ষম। বাচ্চাকে বোঝানো দরকার সামান্যতম অর্থ সংগ্রহ করতে কতটা পরিশ্রম করার প্রয়োজন হয়।

বাচ্চাকে বোঝাতে হবে টাকা-পয়সা না থাকলে কত কাজ আটকে যেতে পারে। বাচ্চার স্কুলের মাইনে, বাড়িতে বয়স্ক ব্যক্তির ওষুধপত্র, পোষ্যের খাওয়াদাওয়া, জল, ইলেক্ট্রিসিটি, প্রসারি ইত্যাদি সবকিছুই তার মধ্যে পড়ে।

বাজেট নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাচ্চাদেরও শামিল করুন

সংসারে মাসিক বাজেট তৈরি করার সময় বাড়ির বাচ্চাদেরও শামিল করুন। আপনার চিন্তা, টাকা-পয়সার অসুবিধা, দেওয়া-নেওয়ার সঠিক পরিস্থিতি বুঝতে পারলে, দেখবেন বাচ্চা নিজে থেকেই বাজে খরচ করার অভ্যাস ছেড়ে দেবে। বাচ্চা নিজের পকেটমানি জমিয়ে বাড়ির খরচায় সাহায্য করতে আরম্ভ করাটা একটা ভালো লক্ষণ মনে রাখবেন।

বাচ্চার সঞ্চয় থেকেই ওকে উপহার দিন

বাচ্চার সঞ্চিত অর্থ থেকেই ওকে ওর প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে দিন। হতে পারে অনেক দিন ধরেই পড়ার নতুন চেয়ার টেবিল, গল্পের বই, টেবিল ল্যাম্প বা ভিডিও গেম কিনে দেওয়ার বায়না করছে আপনার সন্তান। সুতরাং বাচ্চাকে জমানো অর্থ থেকেই তার চাহিদামতো জিনিস কিনে দিন। এতে বাচ্চা গর্বিত বোধ করবে এবং সঞ্চয় করার উৎসাহ বাড়বে। নিজের টাকায় কেনা জিনিসের যত্নও সে মন দিয়ে করবে।

বাচ্চাকে ক্রিয়েটিভ হতে শেখান

বাড়িতে পড়ে থাকা পুরোনো জিনিস থেকে কিছু না কিছু তৈরি করে বাচ্চাকে দেখান এবং তাকেও কিছু ইনোভেটিভ তৈরি করতে প্রেরণা দিন। কোল্ড ড্রিংকস-এর খালি শিশি দিয়ে পেন-পেনসিল স্ট্যান্ড, আইসক্রিম স্টিক দিয়ে ল্যাম্প বানানো বা ভাঙা খেলনা দিয়ে ক্রাফ্ট বানানোর মতো জিনিস তৈরি করতে বাচ্চা আনন্দ পাবে। বাচ্চাদের নিজেদের পুরোনো জিনিসই আবার করে ব্যবহার করতে শেখান।

পেনসিল, ইরেজার ইত্যাদি পুরো শেষ হয়ে গেলে, তবেই নতুন নিয়ে ব্যবহার করতে বলুন। বাচ্চাকে বোঝান কীভাবে অকেজো জিনিস দিয়েই নতুন এবং আকর্ষর্ণীয় জিনিস বানানো সম্ভব। এতে বাচ্চা সৃজনশীল তৈরি হবে এবং সেই সঙ্গে শৈশব থেকেই যে-কোনও জিনিসের কদর করতেও শিখবে।

পকেটমানি কমানো

প্রতি মাসে বাচ্চার হাত খরচের জন্য যে-টুকু অর্থ বরাদ্দ হয় তার থেকেও অর্থের পরিমাণ কমানো উচিত— যাতে বাচ্চা বেহিসেবি খরচা করতে অভ্যস্ত হয়ে না ওঠে। বাচ্চার খরচের হাত কমানোর চেষ্টা করুন। বাড়ির কোনও কাজ করে দিলে পুরস্কার হিসেবে কিছু অর্থ বাচ্চার হাতে তুলে দিতে পারেন। বাচ্চাকে নিজের ঘর পরিষ্কার করতে বলুন, তার বদলে অথবা ভাই-বোন কারও হোমওয়ার্ক করতে যদি সে সাহায্য করে— তাহলেও গিফ্‌ট হিসেবে বাচ্চাকে কিছু টাকা দিতে পারেন। এই প্রাপ্ত অর্থ বাচ্চা নিজের পিগি ব্যাংকে জমাতে পারে। কোনও কাজে কতটা অর্থ দেওয়া উচিত সেটা কাজটা কতটা কঠিন, তার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কাজের বিনিময়ে টাকা পেলে বাচ্চা কাজ করতে উৎসাহিত হবে এবং শ্রমের গুরুত্ব এবং টাকার মূল্য বুঝতে শিখবে।

অর্থ সাশ্রয় করলে পুরস্কারের ব্যবস্থা

বাচ্চাকে দেওয়া অর্থ থেকে সে যদি কিছু সাশ্রয় করে, তাহলে বাচ্চার মনোবল বাড়াতে অবশ্যই তাকে পুরষ্কৃত করুন। নতুন পোশাক কিনে দিতে পারেন বা বাচ্চার পছন্দমতন তাকে বাইরে নিয়ে গিয়ে কিছু খাওয়াতে পারেন। খেলার জন্য একটু বেশি সময় বরাদ্দ করতে পারেন। এছাড়াও পিগি ব্যাংকে জমানো টাকা বাচ্চার নামে ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট-এও জমা করে দিতে পারেন।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব