এখানে ব্রেনওয়াশ করা সহজ

আজকাল ভোটে জিতে আসা নেতারাই শুধু শাসন চালান না, নেতাদের হয়ে কাজ করা অফিসারদের হাতেও এখন শাসন ক্ষমতা অনেকটাই চলে গেছে। আর এইসব অফিসাররা এখন এমন প্রাচীন পুরোহিতদের মতো কথা বলতে শুরু করেছেন, যে পুরোহিতরা এই একুশ শতকেও মহিলাদের শৃঙ্খল পরিয়ে রাখতে চান। শুধু তাই নয়, এইসব পুরোহিতরা আজও বলে চলেছেন, নারীপুরুষের মিলন ঈশ্বর কর্তৃক নির্ধারিত এবং ঈশ্বর যদি চান নারীপুরুষের মধ্যে বিচ্ছেদও ঘটাতে পারেন।

প্রাচীন পুরোহিতরা আগের মতো আজও ব্রেনওয়াশ করে চলেছেন এই কথা বলে যে, আমজনতা তাদের উৎপাদন এবং উপার্জন পুরোহিতের পায়ে নিবেদন করলেই সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হবে এবং পুণ্যলাভ হবে।

আধুনিক সমাজে হয়তো যুক্তিবাদী এবং বিজ্ঞান-মনস্করা কিছু ক্ষেত্রে প্রাচীন পুরোহিতদের মুখোশ খুলে দিতে পেরেছেন। কিন্তু এইসব ভণ্ড পুরোহিতদের হাত থেকে সম্পূর্ণ রক্ষা পাননি সাধারণ মহিলারা। আজও ধর্মভীরু মহিলারা পুরোহিতদের ঈশ্বরের দূত ভাবেন এবং অর্থ ও শরীর সর্বস্ব নিবেদন করেন।

ধর্মের কিছু দোকানদার বলতে শুরু করেছেন যে, সামান্য লেখাপড়া করেই সরকারী চাকরির আশা করা উচিত নয় তরুণ-তরুণীদের। তাই তারা সরকারী চাকরির আশায় সময় ব্যয় না করে যেন ব্যাবসা করে এবং মুকেশ আম্বানির মতো বিশ্বখ্যাত হওয়ার চেষ্টা করে।

আসলে এইসব ভণ্ডরা বোঝাতে চায় যে, পরিশ্রম করবেন আপনি, অর্থ উপার্জন করবেন আপনি কিন্তু আপনার সর্বস্ব দিয়ে পুরোহিতদের জন্য আনন্দ-আশ্রম গড়ে দেবেন ভক্তিভরে। কিছু ভণ্ড তো এমনও বোঝাতে চায় যে, শুধু নিজের পেট ভরালে মনুষ্য জীবন বৃথা, পূণ্যার্জন করতে হলে পাবলিক কিচেন তৈরি করে জনসেবা করুন। তাদের বক্তব্য, ভোগে নয়, ত্যাগের মাধ্যমেই জীবন সার্থক হয় প্রকৃতপক্ষে। আজ প্রায় প্রতিটি ঘরেই প্রত্যক্ষে কিংবা পরোক্ষে আধিপত্য কায়েম করে চলেছে সরকার কিংবা হাইটেক ধর্মগুরুরা। শিশুমনেও ধর্মের ভূতকে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর প্রাপ্তবয়স্করা কেউ যদি ধর্মের বেড়াজাল ভেদ করে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চায়, তাহলে তাকে কোণঠাসা করে রাখার চেষ্টা চলছে। আসলে আমাদের ভারতীয় সমাজে সঠিক ভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানুষের বড়ো অভাব আজও।

সবকিছুর সরলিকরণ করতে গিয়ে আসলে যে বুদ্ধির বিকাশ রুখে দেওয়া হচ্ছে সুকৌশলে, তা বুঝেও বুঝছেন না সাধারণ মানুষ। শিক্ষাক্ষেত্রে দেখুন— একটা প্রশ্নের সঙ্গে তিনটে উত্তর দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যেই রয়েছে সঠিক উত্তরটি। এর থেকে দুটি বিষয় উঠে আসছে— এক, স্মরণশক্তি কিংবা মেধার বিলুপ্তি এবং দুই, অপশন দিয়ে আসলে আপনার স্বাধীনতাকে খর্ব করা হচ্ছে।

প্রকৃতপক্ষে ধান্দাবাজরা চান আপনি তাদের কথা শুনুন। আপনি যদি যুক্তিবাদী হয়ে প্রশ্ন করেন কিংবা তাদের মুখোশ খুলে দেন, তাহলে ভণ্ডরা যাবে কোথায়, তাদের চলবে কী করে? অতএব সাধারণ মানুষ ওদের হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মেলালেই ভণ্ডরা খুশি।

সমাজ আজ কোন পথে চলছে তা বোঝা খুবই মুশকিল। কারণ, যে নারী জাগরণে সমাজ এগিয়ে চলে সাফল্যের পথে, সেই সমাজে আজ মেয়েরা বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের সৌন্দর্য প্রদর্শনে এবং রাতারাতি জনপ্রিয়তার জন্য অর্থহীন ‘রিলস’ বানিয়ে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করতেই ব্যস্ত।

সবচেয়ে চিন্তার বিষয় এই যে, বেশিরভাগ মানুষই এখন কোনও কিছু নিয়ে তেমন মাথা ঘামান না। ‘চলছে চলুক’ এমনই ধারা চলছে এখন সর্বত্র। আর এই সুযোগে ধর্ম এবং রাজনীতির কিছু দোকানদার আরও বোকা বানিয়ে চলেছেন আমজনতাকে। শুধু রাজনৈতিক মঞ্চেই নয়, সোশ্যাল মিডিয়াকে মাধ্যম করেও চলছে ব্রেনওয়াশ। তাই এখনই সতর্ক না হলে, বিপদ আরও বাড়তে পারে অদূর ভবিষ্যতে!

আবেগী মন (পর্ব-০১)

কসবা অঞ্চলে মানবদের যেখানে বাড়ি, সেই পাড়াটা বেশ পুরোনো। কোনও বহুতল নেই, সকলেরই প্রায় নিজের বাড়ি। বেশ একটা পাড়া পাড়া কালচার। সবাই সবাইকে চেনে, উৎসব অনুষ্ঠানে হইহুল্লোড়ও করে একসঙ্গে। মানবের স্ত্রী সুমিতাও শ্বশুরবাড়ির পাড়ায় নিজেকে বেশ মিলিয়ে, মিশিয়ে নিয়েছে। শিবরাত্রি থেকে শুরু করে দুর্গোৎসব— সমস্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও পাড়ার বউ-মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে উদযাপন করতে বেশি পছন্দ করে।

এবারও সুমিতা ঠিক করেছে, শিবরাত্রির দিন উপোস করে, পাড়ার মেয়েদের সঙ্গে গিয়ে একসঙ্গে শিবের মাথায় জল ঢালবে। তাই সে খুব ভোরবেলা উঠে স্নান করে নেওয়ার পরিকল্পনা করে রেখেছে মনে মনে।

মানবদের দোতলা বাড়িটার নীচতলায় থাকেন ওর মা-বাবা। মানব-সুমিতার পাঁচ বছরের ছেলে টুবাইও রাতে দাদু-ঠাকুমার সঙ্গে শোয়। আর তাই দোতলার শোওয়ার ঘরে মানব এবং সুমিতা পরস্পরকে অনেকটা সময় পায় একান্তে। কিন্তু শিবরাত্রির দিন ভোরবেলা মানব শারীরিক ভাবে সুমিতাতে চাইলেও, তার সে ইচ্ছে আর পূরণ হল না। কারণ নিজেকে মানবের বাহুমুক্ত করে, বিছানা থেকে নেমে গেল সুমিতা। মানব তা বুঝতে পেরে ঘুম জড়ানো গলায় বলল— এ্যাই কী হল? কোথায় যাচ্ছ? শোনো, একটু এসো এদিকে।

—উহুঁ, তোমার মতলব আমি বুঝে গেছি। আজ ওসব হবে না। আজ আমার উপোস।

সুমিতার প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর ‘ধ্যাত’ বলে পাশবালিশটা জড়িয়ে উলটো দিকে ঘুরে শুলো মানব। আর তা দেখে মুচকি হেসে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল সুমিতা।

বছর সাতেক আগে মানবের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল সুমিতার। অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ হলেও, বিয়ের আগে বার তিনেক দেখা করে, পরস্পরকে যাচাই করে নিয়েছিল তারা।

সুমিতার সঙ্গে মানবের বিয়ের সম্বন্ধটা এনেছিলেন মানবের বাবার বন্ধু আশুতোষ। গড়িয়াতে আশুতোষের যেখানে বাড়ি, তার ঠিক দুটো বাড়ি পরেই সুমিতাদের বাড়ি। মানবদের মতো ওদের বাড়িও দোতলা। সুমিতার বাবা ছিলেন কেন্দ্র সরকারি কর্মচারি, মা স্কুল শিক্ষিকা। কিন্তু মানবের মা লেখাপড়া জানলেও, তিনি সাধারণ গৃহবধূ। অবশ্য মানবের বাবা ছিলেন আর্মি অফিসার।

মানব এবং সুমিতাও উচ্চ শিক্ষিত। দু’জনেরই স্নাতকোত্তর ডিগ্রি আছে। তবে সুমিতার বিষয় ছিল ইংরেজি আর মানবের হিসাবশাস্ত্র।

বিয়ের আগে সুমিতাও ওর মায়ের মতো স্কুল শিক্ষিকা ছিল এক ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের। কিন্তু বিয়ের পরে শ্বশুর বাড়ি থেকে যাতায়াতের অসুবিধের জন্য চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাড়িতেই কোচিং সেন্টার খোলে। স্নাতক পর্যায়ের দশজন মেয়ে পড়ে ওর কাছে। আর মানব চাকরি করে এক বহুজাতিক সংস্থায়। মোটকথা সুমিতার বাপেরবাড়ি আর শ্বশুরবাড়ি, দুই পরিবার-ই শিক্ষিত এবং স্বচ্ছল। কিন্তু এ সত্বেও সুমিতার এক অদ্ভূত শখ আছে। সে সবরকম উৎসব অনুষ্ঠানে সবাইকে নিয়ে হইহুল্লোড়ে মেতে থাকতে চায়। আর এই শখপূরণের জন্য সে যে-কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে উপলক্ষ্য করে নেয় এবং নিয়মনিষ্ঠা পালন করে হইহই করে।

সুমিতার এই চারিত্রিক বৈপরিত্য মানব বেশ এনজয় করত বিয়ের পর প্রথম দিকে কিন্তু এখন যেন হাঁফিয়ে ওঠে। খুব বাড়াবাড়ি মনে হয় ওর কাছে। এখন মনে মনে খুব রাগ হয় মানবের। সে চায় আরও বেশি সময় সুমিতাকে একান্তে কাছে পেতে। তার মনে হয়, যৌবনের মেয়াদ বড়ো কম, তাই সময়মতো পরিপূর্ণ আনন্দ উপভোগ করে নিতে চায় সে। কিন্তু সুমিতাকে সেকথা বোঝালেও বুঝতে চায় না। পরিবারের পাশাপাশি প্রতিবেশী মেয়েবউদের নিয়েও বেশ সময় ব্যয় করে সুমিতা। আজ তাই ভোরবেলা সুমিতাকে শারীরিক ভাবে না পেয়ে, মেজাজটা বিগড়ে যায় মানবের। সে রেগেমেগে অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়।

গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বেরতে যাবে মানব, এমন সময় সুমিতা ছুটে এসে বলল, ‘শোনো আজ ননভেজ লাঞ্চ করবে না আর সন্ধেবেলা একটু তাড়াতাড়ি ফেরার চেষ্টা করবে।’ সুমিতার কথা শোনার পর, কোনও উত্তর না দিয়ে গাড়ি চালিয়ে অফিসে চলে গেল মানব। অফিসে গিয়ে কাজের চাপে মানব সব ভুলে গেল। সকালের বিগড়ানো মেজাজটাও কোথায় যেন উড়ে গেল ডানা মেলে। কারণ মানব খুব কাজ পাগল। অফিসে এ ব্যাপারে যথেষ্ট সুনামও আছে তার।

—আসব মানব? বলে অনুমতির অপেক্ষায় দরজার কাছে ফাইল হাতে দাঁড়িয়ে শুভ্রা। সে মানবেরই পদমর্যাদার এক সহকর্মী। শুভ্রার গলা শুনে হাতের ফাইল থেকে মুখ সরিয়ে তাকাল মানব এবং শুভ্রার সাজগোজ দেখে কিছুটা অবাক হয়ে বলল, ‘কী ব্যাপার আজ এত সেজেছো? ম্যারেজ অ্যানিভার্সারি নাকি?

হাসতে হাসতে মানব শুভ্রাকে সামনের চেয়ারে বসতে ইশারা করল। শুভ্রা বসতে বসতে বলল, ‘তুমি বোধহয় ভুলে গেছ মানব যে, আজ শিবরাত্রি। বরের মঙ্গল কামনায় আজ মেয়েদের উপোস থাকতে হয়, সেজেগুজে শিবের মাথায় জল ঢালতে হয়। শুভ্রার কথা শুনে হো হো করে হাসল মানব তারপর বলল, ‘তুমি তো আজ অবাক করলে আমাকে। তোমাকে যতদিন দেখছি, তুমি তো ধর্মেকর্মে তেমন আস্থা রাখতে না! আজ হঠাৎ কী হল?’

—কেন তোমার বউ উপোস নেই?

—থাকবে না আবার, সকাল থেকে জল স্পর্শ করে না। সে যাইহোক কিন্তু তুমি…?

আমিও মানছি সবকিছু, ঝামেলা এড়াতে। প্রতি বছর এই দিনে শাশুড়ির গোমড়া মুখ দেখতে আর ভালো লাগে না। তাই…

—তোমার পতিদেব কোন পক্ষে?

—কোন পক্ষে আবার, ওর মায়ের পক্ষে।

—যাকগে উপোস থেকো না, শরীর খারাপ করবে। আজ আমার সঙ্গে লাঞ্চ করে নিও।

—আমাকে কেস খাওয়াতে চাইছ? আমার শাশুড়ি যদি জানতে পারে যে, আমি উপোস ভেঙেছি, তাহলে আর রক্ষে থাকবে না। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ বেধে যাবে!

—আরে আমরা অফিসের বাইরের রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাব। কেউ জানতে পারবে না। ভয় নেই আমি তোমার শাশুড়িকে গিয়ে বলে আসব না।

মানবের কথা শুনে শুভ্রাও হো হো করে হাসতে শুরু করল। তারপর মানবের রুম থেকে বেরোনোর আগে বলল, ‘আমার ফাইলটা চেক করে আজ একটু ছেড়ে দিও, আর্জেন্ট আছে। আর হ্যাঁ, লাঞ্চ-এর ইনভিটেশনটা অ্যাকসেপ্ট করলাম।’

(ক্রমশ……)

সকাল সন্ধের জমাটি খাবার

মুখরোচক অথচ স্বাস্থ্যকর খাবার কীভাবে বানাবেন বাড়িতে, তা শিখে নিন সহজে। আজ আমরা শেখাবো ফ্রায়েড আলু কোপ্তা, ডাল-মশালা কচুরি, চাল-নারকেলের মিষ্টি বড়া, ফ্রায়েড প্যান পরোটা এবং চিজি ভেজিটেবল ব্রেড বানানোর পদ্ধতি।

ফ্রায়েড আলু কোপ্তা

উপকরণ: ১ কাপ বেসন, ৩টে সেদ্ধ আলু, আধা কাপ পনির, লাল-হলুদ-সবুজ ক্যাপসিকাম কুচো ২ কাপ, কুচোনো পেঁয়াজ আধা কাপ, কাঁচা লংকার কুচো ২ চামচ, ধনেপাতা কুচো আধা কাপ, ভাজার জন্য পরিমাণ মতো তেল, ১ চামচ গোটা সরষে, সামান্য কারিপাতা, কাঁচা লংকা গোটা ৪-৫টা সাজানোর জন্য, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: সেদ্ধ করা আলুগুলোর খোসা ছাড়িয়ে ভালো ভাবে চটকে মসৃণ করে নিন প্রথমে। পনিরগুলো ভেজে কুচিয়ে নিন। আর ওই পনির কুচো, ক্যাপসিকাম কুচো, কাঁচা লংকার কুচো, ধনেপাতা কুচো এবং নুন মিশিয়ে নিন সেদ্ধ করে চটকে রাখা আলুর সঙ্গে। এরপর ছোটো ছোটো বল তৈরি করে রাখুন। পরিমাণ মতো জল দিয়ে বেসন ভালো ভাবে ফেটিয়ে নিন। এবার কড়াইতে তেল গরম করুন এবং আলুর বল বেসনে চুবিয়ে নিয়ে, কড়াইতে ছাড়ুন। ভালো ভাবে ভাজা হয়ে গেলে নামিয়ে রাখুন। আর ওই অবশিষ্ট গরম তেলে গোটা সরষে, গোটা কাঁচা লংকা এবং কারিপাতা ভেজে নিয়ে আলুর কোপ্তার উপর ছড়িয়ে দিন। গরম গরম পরিবেশন করুন।

ডাল-মশালা কচুরি

উপকরণ: আধা কৌটো মুগের ডাল, আধা কাপ সুজি, ৪ চামচ আটা, ১ টুকরো আদা, আধা চামচ হলুদ, আধা চামচ ধনেগুঁড়ো, আধা চামচ কাশ্মীরি লংকার গুঁড়ো, সামান্য হিংয়ের গুঁড়ো, ভাজার জন্য তেল এবং নুন স্বাদ মতো।

প্রণালী: মুগের ডাল ভিজিয়ে রাখুন ২-৩ ঘণ্টা। ভেজানো ডাল আদা-সহ মিক্সিতে পিষে নিন। এরপর ডালের মণ্ড রাখুন একটা পাত্রে। এবার ওই ডালের মণ্ডের সঙ্গে আটা, সুজি, ধনেগুঁড়ো, হলুদগুঁড়ো, লংকাগুঁড়ো, হিং এবং নুন মিশিয়ে নিন ভালো ভাবে। ওই মিশ্রণ থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে ছোটো ছোটো লেচি তৈরি করুন। সবশেষে লেচি বেলনচাকিতে বেলে নিয়ে তেল গরম করে ভাজুন। ভাজা হয়ে গেলে আলুর তরকারি কিংবা ঘুগনির সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন ডাল মশালা কচুরি।

চাল-নারকেলের মিষ্টি বড়া

উপকরণ: ১ কাপ চাল, ১ কাপ ঝোলাগুড়, আধা কাপ নারকেল কোরা, ২ চামচ চিনাবাদাম এবং ২ চামচ কাজুবাদাম, ১ বড়ো চামচ খোসা ছাড়ানো সাদা তিল, ভাজার জন্য তেল।

প্রণালী: চাল ধুয়ে শুকিয়ে রাখুন। শুকনো চাল কড়াইতে সামান্য ভেজে নিন। এরপর ওই ভাজা চাল মিক্সিতে পাউডার বানিয়ে নিন। চিনাবাদাম এবং কাজুবাদাম গুঁড়ো করে রাখুন। এবার চালের ওই পাউডারের সঙ্গে বাদামের গুঁড়ো, খোসা ছাড়ানো সাদা তিল, নারকোলকোরা এবং ঝোলাগুড় মিশিয়ে লেচি তৈরি করুন। লেচিকে চ্যাপ্টা রূপ দিন। এরপর কড়াইতে সামান্য তেল গরম করে চাল- নারকেলের লেচি ভেজে নিন। পরিবেশন করুন গরম গরম।

ফ্রায়েড প্যান পরোটা

উপকরণ: ১ কাপ ডালিয়া, ১ টা কুচোনো পেঁয়াজ, ১টা কুচোনো টম্যাটো, লাল-হলুদ এবং সবুজ ক্যাপসিকাম কুচো আধা কাপ, লাউ কুচোনো আধা কাপ, আধা কাপ পনির, ১ চামচ কাঁচা লংকাকুচো, সামান্য ধনেপাতাকুচো, ভাজার জন্য তেল, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: ডালিয়া ভিজিয়ে রাখুন ১ ঘণ্টা। ভেজা ডালিয়া মিক্সিতে পিষে নিন। পনির ভেজে কুচিয়ে রাখুন। এরপর পিষে রাখা ডালিয়ার সঙ্গে পেঁয়াজকুচো, কাঁচা লংকার কুচো, টম্যাটোকুচো, ক্যাপসিকাম কুচো, লাউকুচো, পনিরকুচো, ধনেপাতাকুচো এবং স্বাদমতো নুন মিশিয়ে নিন। কড়াইতে সামান্য তেল দিয়ে গরম করুন। তেল গরম হলে ডালিয়ার মিশ্রণ পাতলা করে কড়াইতে ঢালুন। এবার দুই পিঠ ভালো ভাবে ভাজুন। ভাজা হয়ে গেলে নামিয়ে পিস পিস করে কেটে, চাটনি কিংবা আলুর তরকারির সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন।

চিজি ভেজিটেবল ব্রেড

উপকরণ: ৩-৪টে বড়ো সাইজ-এর স্লাইস ব্রেড, ২টো পেঁয়াজ কাটা, ২টো টম্যাটো গোল করে কাটা, ১০০ গ্রাম কুমড়ো লম্বা ভাবে কাটা, ৫০ গ্রাম পনির, হাফ চামচ গোলমরিচগুঁড়ো, ১টা গাজর কাটা, ১০টা বিনসের টুকরো, শশা-র টুকরো পরিমাণ মতো, লাল-হলুদ-সবুজ ক্যাপসিকাম টুকরো, ১ বড়ো চামচ টম্যাটো সস, ২ বড়ো চামচ মাখন, ৫০ গ্রাম চিজ লম্বা করে কাটা, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: সবরকম সবজি ভালো ভাবে ধুয়ে কেটে রাখুন। কড়াইতে বাটার গরম করুন। তার মধ্যে পেঁয়াজ কাটা দিয়ে ভাজুন। এরপর লাল-হলুদ-সবুজ ক্যাপসিকাম, কুমড়ো, বিনস, গাজরের টুকরো এবং স্বাদমতো নুন দিয়ে ভেজে রাখুন। শেষে টম্যাটো এবং পনিরের টুকরো দিয়ে ২ মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখুন। এবার দুটো স্লাইস ব্রেড-এর মাঝখানে ভাজা সবজি, টম্যাটো এবং পনিরের মিশ্রণ দিন। লম্বা করে কাটা চিজ ছড়িয়ে দিন ব্রেড-এর উপর এবং মাইক্রো আভেনে এক মিনিট বেক করে নিন। রেডি হয়ে গেল চিজি ভেজিটেবল ব্রেড। এবার টম্যাটো সস, গোলমরিচের গুঁড়ো এবং শশার টুকরো সহযোগে গরম গরম পরিবেশন করুন।

ফ্রান্সের মহিলা পরিচালকদের পাঁচটি ছবি এবার 30th KIFF-এ

৪ ডিসেম্বর শুরু হয়েছে ৩০-তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। চলবে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ইতিমধ্যে সিনেমাপ্রেমীরা জেনে গিয়েছেন যে, এবারের KIFF-এর ফোকাস কান্ট্রি—ফ্রান্স। তাই, উৎসব শুরুর আগে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের পরিচালক নিকোলা ফ্যাসিনো। আর ফ্রান্স-কে ফোকাস কান্ট্রি করার কারণে, এবারের KIFF-এ রাখা হয়েছে ফ্রান্সের মোট ২১টি পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি। এরমধ্যে রয়েছে মহিলা পরিচালকদের পাঁচটি ছবি। তাঁদের ছবিগুলি নিয়ে রইল বিস্তারিত তথ্য।

ফিলমঃ কল অফ ওয়াটার (Film: Call Of Water, French name : Par A Mour) ১ ঘন্টা ৩০ মিনিটের এই ছবিটি তৈরি হয়েছে ২০২৪ সালে। পরিচালকঃ Elise Otzenberger; চিত্রনাট্যকারঃ এলিস ওটজেনবার্গার, মাউড অ্যামেলাইন এবং মরিসিয়ো কারাসকো। ডিওপিঃ লুদোভিক জুইলি। মিউজিকঃ রোব। সম্পাদকঃ জোসেফ কোমার। অভিনয়েঃ  সেসিল-ডে ফ্রান্স, আর্থার ইগুয়াল, দারিয়াস জারাবিয়ান, অ্যান্তোনি জারাবিয়ান।

কাহিনির সারাংশঃ সমুদ্র সৈকতে নয় বছর বয়সি সাইমন হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর, তার মা সারা অবশেষে তাকে খুঁজে পান। বাড়িতে ফিরে সাইমন অদ্ভুত আচরণ করতে থাকে। উদ্বিগ্ন, সারা তাকে এই আচরণের কারণ প্রকাশ করার জন্য চাপ দেয় এবং সাইমন অবশেষে সত্যিটা জানায়।

Show Date & Time: 7th December, Nandan I, 04:30PM  And 8th December, Nazrul Tirtha I, 04:00PM


ফিলমঃ ডগ অন ট্রায়াল (Film: Dog On Trial, French name: LE PROCES DU CHIN), ১ ঘন্টা ২৩ মিনিটের এই ছবিটি তৈরি হয়েছে ২০২৪ সালে।  পরিচালকঃ Laititia Dosch;  অভিনয়েঃ ল্যাটিটিয়া ডশ, ফ্রান্সোস ড্যামিয়েন্স, জিয়ান-পার্সাল জাদি অয়ানি দোর্ভাল, কোডি পাম, ম্যাথু ডেমি প্রমুখ। কাহিনি এবং চিত্রনাট্য রচনা করেছেন পরিচালক স্বয়ং। চিত্রনাট্যকারঃ অ্যালেক্সিজ ক্যাভিরসিনে। সম্পাদকঃ সুজানা পেড্রো। সংগীত পরিচালনা করেছেন ডেভিড সিজট্যাংক।

কাহিনির সারাংশঃ এটি ফ্রান্সের বিচার ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। যা একটি কুকুরকে কেন্দ্র করে এবং এই কুকুরটি বারবার অপরিচিতদের কামড়েছিল।‘ডগ অন ট্রায়াল’ (ফরাসি: Le Procès du chien) ছবিটি আগে ‘হু লেট দ্য ডগ বাইট’ নামে পরিচিত ছিল। আর এই ছবিতে ডশ একজন আইনজীবী হিসেবে অভিনয় করেছেন।  ১৯ মে ২০২৪-এ ৭৭তম কান ফিলম ফেস্টিভ্যাল-এ ‘আনসার্টেন রিগার্ড’ বিভাগে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়েছিল। অভিনেতা কোডি পাম অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন ওই ফেস্টিভ্যাল-এ।

Show Date & Time: 11th December, New Empire 01:30PM


ফিলমঃ দ্য কোয়াইট সন (Film: The Quiet Son, French name: Jouer avec le feu, lit. ’Playing with fire’) ১ ঘন্টা ৫৯ মিনিটের এই ছবিটি তৈরি হয়েছে ২০২৪ সালে। পরিচালকঃ Delphine Coulin & Muriel Coulin;  চিত্রনাট্যকারঃ ডেলফাইন কউলিন এবং মুরিয়েল কউলিন। ডিওপিঃ ফ্রেডেরিক নয়রোমি।অভিনয়েঃ ভিনসেন্ট লিন্ডন, বেঞ্জামিন ভয়সিন, স্টেফান ক্রেপন, সোফি গুইলেমিন হুগো ব্যারিলের, ডেনিস সাইমোনেট প্রমুখ।

কাহিনির সারাংশঃ ভিনসেন্ট লিন্ডন এবং বেঞ্জামিন ভয়সিন রাজনৈতিক মতাদর্শ দ্বারা বিচ্ছিন্ন পিতা ও পুত্র। দুই ছেলের ৫০ বছর বয়সি বাবা পিয়েরে। যখন সরবোনে যোগদানের জন্য বাড়ি ছেড়ে চলে যায় ছোটো ছেলে লুই, তখন বড়ো ছেলে ফুস আরও একা হয়ে যায় এবং পারিবারিক বন্ধন উপেক্ষা করে চরম ডানপন্থী ধারণাগুলিতে আগ্রহী হয়।চলচ্চিত্রটি লরেন্ট পেটিটমঙ্গিনের ‘হোয়াট ইউ নিড ফ্রম দ্য নাইট’ উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। ৮১-তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার হয়েছিল ছবিটির।

Show Date & Time: 7th December, Inox (South City) 09:00AM


ফিলমঃ ইটস রেইনিং মেন (Film: It’s Raining Men) ১ ঘন্টা ৩৮ মিনিটের এই ছবিটি তৈরি হয়েছে  ২০২৩  সালে। পরিচালকঃ Caroline Vingal;  চিত্রনাট্যকারঃ কারোলাইন ভিনগল এবং নোমি-ডে লাপার‍্যান্ট। ডিওপিঃ মার্টিন রক্স। মিউজিকঃ বেঞ্জামিন এসড্রাফো। অভিনয়েঃ লরে ক্যালামি, ভিন্সেন্ট এলবাজ, সুজান ডে ব্যাকি, সিল্ভেন কাতান, লৌরেন্ট পোট্রেনক্স প্রমুখ।

কাহিনির সারাংশঃ স্বামী, স্ত্রী এবং দুই কন্যাকে নিয়ে এই ছবির গল্প দানা বেঁধেছে। মূলত পরিবার এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে গড়ে উঠেছে এই ছবির কাহিনি।

Show Date & Time: 10th December, New Empire 01:30PM

—–

ফিলমঃ ফর নাইট উইল কাম (Film: For Night Will Come; French name: En Attendent La Nuit) ১ ঘন্টা ৫৪ মিনিটের এই ছবিটি তৈরি হয়েছে ২০২৩  সালে। পরিচালকঃ Celine Rouzet; চিত্রনাট্যকারঃ উইলিয়াম মার্টিন এবং সেলিন রোজেট। ডিওপিঃ ম্যাক্সেস লেমোনিয়ার। মিউজিকঃ জিয়ান বেনোয়েট ডাঙ্কেল। অভিনয়েঃ ম্যাথিয়াশ লেগট হামন্ড, এলোডি বোচেজ, জিন চার্লস ক্লিচেট প্রমুখ।

কাহিনির সারাংশঃ ফর নাইট উইল কাম হল একটি ফরাসি-বেলজিয়ান ফ্যান্টাসি-হরর ড্রামা ফিল্ম। এটি ৮০-তম  ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের প্রিমিয়ার হয়েছিল।

Show Date & Time: 09th December, Nazrul Tirtha I, 04:00PM

কলকাতা-য় এসে ভক্তদের মন জয় করে নিলেন বলিউড অভিনেত্রী রবিনা ট্যান্ডন

বলিউডের নায়িকাদের মধ্যে একসময় প্রথমসারির তালিকায় ছিল তাঁর নাম। বলা যায়, সিনেমাপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের অভিনেত্রী রবিনা ট্যান্ডন। অভিনয়ের কেরিয়ার শুরু করার আগে মডেল হিসাবেও যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে ‘পাত্থর কে ফুল’ ছবিতে অসাধারণ অভিনয় করে তিনি জিতে নিয়েছিলেন ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড। এছাড়া, নব্বইয়ের দশকে ‘দিলওয়ালে’, ‘লাডলা’, ‘মোহরা’, ‘খিলাড়িওঁ কা খিলাড়ি’, ‘জিদ্দি’, ‘গোলাম-এ-মুস্তাফা’ প্রভৃতি ছবিতে অভিনয় করেও সাফল্য পেয়েছিলেন রবিনা। ২০০১ সালে কল্পনা লাজমি পরিচালিত ‘দমন’ ছবিতে অভিনয় করে পান জাতীয় পুরস্কার। তবে শুধু হিন্দি ছবিতেই নয়, তিনি অভিনয় সাফল্য পেয়েছেন তামিল, তেলুগু, কন্নড এবং বাংলা ছবিতে। অবশ্য সিনেমার পর্দায় এখন আর তাঁকে দেখা না গেলেও, তাঁর জনপ্রিয়তা কমে যায়নি। ভারত সরকারের কাছ থেকে ২০২৩ সালে ‘পদ্মশ্রী’ খেতাবও জিতে নিয়েছেন তিনি। আর দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিক এই সাফল্যের সুবাদে এখনও তিনি সমৃদ্ধ হয়ে চলেছেন ভক্তদের ভালোবাসায়। সম্প্রতি কলকাতা-য় এসেও তিনি ভক্তদের মন জয় করে নিলেন অনায়াসে।

রাজারহাট অঞ্চলে অবস্থিত এক অভিজাত হোটেলে আয়োজিত পুরস্কার প্রদান মঞ্চে সম্প্রতি প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেছিলেন রবিনা ট্যান্ডন। মঞ্চে হাজির হওয়া মাত্রই দর্শক আসন থেকে ওঠে কলতালির ঝড়। বয়স বাড়লেও, তাঁর গ্ল্যামারের আলো ছড়িয়ে পড়ে অনুষ্ঠান কক্ষে। তাঁর প্রতি এখনও দর্শকদের এত ভালোবাসা দেখে কিছুটা আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন রবিনা। বাংলায় কথা বলারও চেষ্টা করেন কিছুটা। জানান, ‘আমি বাংলায় সম্পূর্ণ কথা বলতে না পারলেও, বুঝতে পারি। এই কলকাতা শহর এবং কলকাতার মানুষদেরও আমার ভীষণ ভালো লাগে। আজ, পশ্চিমবঙ্গের বাণিজ্যিক সংস্থার সফল কর্ণধারদের স্বীকৃতি প্রদান অনুষ্ঠানের শরিক হতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এরজন্য ধন্যবাদ জানাই ‘টাইমস ব্র্যান্ড’-কে।’

‘টাইমস ব্র্যান্ড আইকন ওয়েস্ট বেঙ্গল ২০২৪’ শীর্ষক এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে রবিনার মাধ্যমে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় সফল উদ্যোক্তাদের হাতে। রবিনার হাত থেকে মেমেন্টো এবং মানপত্র নিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন ৪২জন পুরস্কার প্রাপক। সেইসঙ্গে, বাংলা ছবির পরিচালক রাজ চক্রবর্তী এবং অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী তাঁদের ‘সন্তান’ ছবির প্রচার করেন বলিউড অভিনেত্রী রবিনাকে পাশে রেখে। রবিনা আবারও সময়-সুযোগ পেলে কলকাতা-য় আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান ভক্তদের। তাই সামগ্রিক ভাবে বলা যায়, এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটি জমজমাট এবং বর্ণময় হয়ে উঠেছিল  রবিনা ট্যান্ডন-এর উপস্থিতিতে।

অনৃত খেলাঘর (শেষ পর্ব)

সমর্পণ ও দীপেন চুপচাপ সব মন দিয়ে শোনে। অনেকক্ষণ কোনও কথা বলে না।

উত্তম বলে, ‘মারের বদলা পালটা মার দিতে না পারলে হবে না। তাই এভাবে একটা স্ট্রোক দিয়ে দেখতে পারো। তবে সব কিছুর জন্য তোমাকে কিন্তু প্রস্তুত থাকতে হবে। ভেঙে পড়লে চলবে না।’

—কিন্তু লেডি অ্যাডভোকেটের কথা বললে কেন? জানতে চায় সমৰ্পণ।

—দীপেনের সঙ্গে একজন মহিলা থাকলে রঞ্জিতের স্ত্রী ওর বিরুদ্ধে অন্য কোনও চার্জ সহজে আনতে পারবে না। বুঝতে পারছ নিশ্চয়ই আমি কীসের আশঙ্কা করছি?

—আচ্ছা, আমি কি প্রাণে মারা যেতে পারি। মানে আমাকে কি খুন করে ফেলতে পারে ওরা। দীপেন থেমে থেমে প্রশ্ন করে।

—ত্রিকোণ প্রেমে যে-কোনও একজনের মৃত্যু তো প্রায় রোজই খবরে আসে। এতে আশ্চর্যের বিশেষ কিছু নেই।

দীপেনের চোখ-মুখ কালো হয়ে যায়। আরও খানিক সময় কথাবার্তা বলে অবশেষে ওরা কফিশপ ছেড়ে যে-যার বাড়ির দিকে রওনা হয়।

চার মাস পরের ঘটনা। মিটিং-এর দিনই দীপেন ওর স্ত্রী এবং রঞ্জিতের মোবাইল নাম্বার উত্তমকে হোয়াটসঅ্যাপ করে জানিয়েছিল। কিন্তু তারপর হঠাৎই আশ্চর্যরকম চুপ করে যায় ও। সমর্পণের মর্নিং উইশ রেগুলার এলেও দীপেন সম্পর্কে কোনও খবরাখবর আসে না। ফলে উত্তমও ব্যাপারটি নিয়ে আর উৎসাহ দেখায় না।

চার মাস পর এক রবিবার উত্তম সমর্পণকে ফোন করে। প্রাথমিক কিছু কথাবার্তার পর উত্তম প্রশ্ন করে, ‘দীপেনের ব্যাপারটা শেষ পর্যন্ত কী হল?’

—ভারী অদ্ভুত ব্যাপার জানো, জবাব দেয় সমর্পণ। দীপেন ব্যাপারটা নিয়ে আচমকাই একদম কুল হয়ে গেছে। আমি বার দুয়েক ওকে ফোন করেছিলাম, ফোন ধরেনি। পরে দেখলাম ওর নাম্বারে ফোন করলে নাম্বারটা ইনভ্যালিড জানাচ্ছে। বাধ্য হয়ে একদিন রাত ন’টা নাগাদ দেখা করতে গেলাম ওর বাড়ি। ওর স্ত্রী দরজা খুলে দিলে বাইরের ঘরে বসলাম। খানিক পর শুনতে পেলাম ও বেশ জোরে জোরে আমাকে শুনিয়ে স্ত্রীকে বলছে, বলে দাও আমার শরীর খারাপ, আজ দেখা করতে পারব না। আমি হতভম্ব হয়ে পড়লাম, সেইসঙ্গে কিছুটা অপমানিতও। ওর স্ত্রী ঘরে এলে উঠে দাঁড়িয়ে বললাম, ‘আজ তবে আসি, পরে আসবখন।’

—আশ্চর্য! বলে উত্তম।

—সত্যি সেদিন আমিও খুব অবাক হয়েছিলাম ওর ব্যবহারে। দীপেন আমার সঙ্গে এমন ব্যবহার কেন করল,  আকাশ-পাতাল ভেবেও কিছু বুঝতে পারলাম না! পরদিন ওর স্ত্রী ফোন করে সন্ধ্যাবেলা যেতে বলল।

—তুমি গেলে?

—গেলাম। দীপেন বাড়ি ছিল না। ওর স্ত্রী দরজা খুলে দিলে দেখলাম বসার ঘরে ওর মেয়েও রয়েছে।

তমালিকা বলল, ‘দাদা বসুন। আমি চা করে আনছি।’

বললাম, ‘না না, চা খাওয়ার সময় নেই আমার। তুমি বরং বলো কেন ডেকেছ৷’

তমালিকা বলল, ‘আপনি দীপেনের অনেকদিনের বন্ধু। যতদূর জানি ও আপনার সঙ্গে সব কথাই শেয়ার করে। আমার সম্পর্কে আপনি কী শুনেছেন জানি না। তবে একটা কথা আমি সন্তানের মাথায় হাত রেখে বলছি, আমি নিষ্পাপ। রঞ্জিতের সঙ্গে আমি কথাবার্তা বলি ঠিকই কিন্তু আমাদের মধ্যে কোনও শারীরিক সম্পর্ক নেই। এ কথা আমি দীপেনকে বারবার বলেও বিশ্বাস করাতে পারিনি। ইদানীং ও আমার বাপারে খুব উদাসীন হয়ে পড়েছিল, বড্ড অবহেলা করত আমাদের। তাই রঞ্জিতের সঙ্গে একটু আন্তরিকতা দেখাতে হয়েছিল আমাকে। পঞ্চাশ বছর বয়সে সংসার নষ্ট করে আমি যাব পরপুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক করতে, এত অবিবেচক বলে আমাকে মনে হয় আপনার?’

—তুমি কী জবাব দিলে। জানতে চায় উত্তম।

—কী আর বলব, কিছুক্ষণ নানা কথা বলে চা খেয়ে বাড়ি ফিরলাম। সবকিছু আমার যেন কেমন গোলমাল হয়ে গেল। এর ঠিক তিনদিন পর হঠাৎ দীপেন ফোন করে বলল, ‘আমার বাড়িতে আমার স্ত্রীর সঙ্গে গোপনে আড্ডা দিতে আসছ শুনলাম?’

—গোপনে হলে তুমি কি জানতে পারতে? যা কিছু কথাবার্তা তোমার মেয়ের সামনেই হয়েছে, সেটা জানো নিশ্চয়ই? আবাক লাগে, দীপেনটা কি শেষ পর্যন্ত মেন্টাল পেশেন্ট হয়ে গেল!

পরক্ষণেই হেসে বলল, ‘আরে ধুস, তোমার সঙ্গে একটু ইয়ারকি করলাম। শোনো বন্ধু, তোমার কাছে বেশ কয়েকবার আবদার করেছিলাম আমাকে নিয়ে একটা গল্প লিখতে। তুমি হেসে এড়িয়ে গেছ। বলেছ, উপযুক্ত মালমশলা পেলে সময় মতোন লিখব। আশা করি তোমার হাতে এতদিনে আমার বিষয়ে যথেষ্ট উপকরণ এসে গেছে। নাও এবার কিছু একটা লিখে ফেলো দেখি। আমাকে অমরত্ব দিয়ে দাও।’

—তারপর?

তারপর সামান্য হেসে বলল, ‘কেমন মজা করলাম একবার বলো।’

—আসলে দীপেনের ব্যাপারটা আমি এত সিরিয়াসলি নিয়েছিলাম যে, তোমাকে একরকম জোর করেই এ ব্যাপারে টেনে এনেছিলাম। আমি খুবই লজ্জিত উত্তম। তুমি ব্যস্ত মানুষ। বন্ধুর বিপদ শুনে তুমি ছুটে এসেছিলে, আমার অনুরোধ ফেলতে পারোনি। আই অ্যাম এক্সট্রিমলি সরি।

—আরে, ঠিক আছে। বন্ধুদের মধ্যে একটু আধটু মজা চলতেই পারে। ও নিয়ে তুমি ভেবো না। আই ডোন্ট মাইন্ড। পরে কথা হবে, বাই।

—বাই, বলে সমর্পণ।

—ও ভালো কথা, দীপেনের উপর গল্পটা কি লিখলে?

সমর্পণ হেসে বলে, ‘হ্যাঁ তা বলতে পারো। ভেবে দেখলাম, স্বপ্নপূরণের জন্য কম তো করল না ছেলেটা। গল্পটা লেখা হয়ে গেছে। একটা পপুলার লাইফস্টাইল ম্যাগাজিনে পাঠাব ভাবছি। দেখা যাক, প্রকাশিত হলে জানাব তোমাকে।’

—আচ্ছা জানিও, বাই, বলে ফোন কাটে উত্তম। তারপর জানলা দিয়ে দূরের আকাশের দিকে তাকায়। পুনরায় ভাবতে বসে, গোটা বিষয়টা মজা? দীপেন মজা করল? এ পৃথিবীতে কে যে কার সঙ্গে কীভাবে মজা করে চলেছে নিরন্তর, কেই-বা তা জানতে পারে। কারণ, তিনজনের অডিও রেকর্ডেড সংলাপ এখনও ওর হাতের মুঠোফোনে।

(সমাপ্ত)

ফুসফুসের ক্যান্সার প্রতিরোধে ‘লাং-লাইফ স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম’

ফুসফুসের ক্যান্সারের স্ক্রিনিং-এর বিষয়ে যোগাযোগ ও সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষকরে, জনসংখ্যার যে অংশ বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের জন্য। কারণ, ভারতে ৮.১%  মৃত্যু ঘটে ফুসফুসের ক্যান্সার থেকে এবং সব ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে ৫.৯% হল ফুসফুসের ক্যান্সার। তাই, ভারতের প্রথম ‘লাং-লাইফ স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম’-এর সূচনা করেছে অ্যাপোলো ক্যান্সার সেন্টার। এই আর্লি স্ক্রিনিং আরও সুফল দেবে এবং বেঁচে যাওয়ার হারও বাড়াবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ চিকিতসকেরা।

ক্যান্সারের গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক এজেন্সি-র (আইএআরসি) তৈরী করা ‘গ্লোবক্যান ২০২০’–র আনুমানিক হিসাব দেখায় যে, ক্যন্সারজনিত মৃত্যুর কারণগুলির মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে ফুফুসের ক্যান্সার, যেখানে ২০২০ সালে এই রোগের ফলে বিশ্বে প্রায় ১.৮ মিলিয়ন (১৮%) মৃত্যু ঘটেছে।

‘লাং-লাইফ স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম’ সেইসব ব্যক্তিদের উপর লক্ষ্য স্থাপন করে, যাদের ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।  যেমন: (i) ৫০ থেকে ৮০ বছর বয়সের মধ্যে থাকা লোকেরা, (ii) অ্যাসিম্পটোম্যাটিক (ফুসফুসের ক্যান্সারের কোনও চিহ্ন বা উপসর্গ না থাকা), (iii) ধূমপান করার উল্লেখযোগ্য ইতিহাস থাকা লোকেরা এবং (iv) পরিবারের ফুসফুসের ক্যান্সারের ইতিহাস আছে এমন লোকেরা।

টোমোগ্রাফি-র (এলডিসিটি) মাধ্যমে আর্লি স্ক্রিনিং সহায়তা করতে পারে এবং বেঁচে যাওয়ার হার উল্লেখযোগ্য ভাবে উন্নত করতে পারে। তবুও বেশি ঝুঁকিতে থাকা প্রায় ৮০% ব্যক্তিরা কখনও তাদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে স্ক্রিনিংয়ের কথা আলোচনা করেন না।

অ্যাপোলো ক্যান্সার সেন্টার, কলকাতার সিনিয়ার কনসালটেন্ট পালমোনোলজি, ডা. অশোক সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, ‘বিশ্বব্যাপী মারাত্মক ক্যান্সারগুলির মধ্যে অন্যতম হল ফুসফুসের ক্যান্সার, কিন্তু আর্লি স্ক্রিনিং করলে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। ‘লাং-লাইফ স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে, আমাদের লক্ষ্য হল– গোড়াতেই বেশি ঝুঁকিতে থাকা লোকেদের সনাক্ত করা।’

এই লাং-লাইফ স্ক্রিনিং করা হবে কম-ডোজের উন্নত সিটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে। কারণ, এটা নিখুঁতভাবে রোগনির্ণয়ের সম্ভাবনা সর্বাধিক করার পাশাপাশি, রেডিয়েশনের মাত্রা ন্যূনতম করে। এই প্রোগ্রামটি বিশেষ ভাবে সেইসব ব্যক্তিদের জন্য প্রভাব ফেলে, যারা অতীতে ধূমপান করেছেন বা এখনও করছেন, প্যাসিভ স্মোকিংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা যাদের পরিবারের ফুসফুসের ক্যান্সারের ইতিহাস রয়েছে।

অ্যাপোলো ক্যান্সার সেন্টার, কলকাতার রেডিওলজির কনসালটেন্ট  ডা. রেশমি চাঁদ জানিয়েছেন, ‘অ্যাপোলো ক্যান্সার সেন্টারের ‘লাং-লাইফ স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম’-এর সূচনাকে ভারতে ফুসফুসের ক্যান্সারের আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়ে ওঠা নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। এই সুদূরপ্রসারী স্ক্রিনিং প্রোগ্রামের সঙ্গে, আর্লি স্ক্রিনিং-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারণ এই পর্যায়েই কার্যকর চিকিৎসা ও আরোগ্যলাভের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। এই প্রোগ্রাম-এ কম-ডোজের অত্যাধুনিক সিটি স্ক্যানকে উদ্দেশ্যসাধনের উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে এই সিটি স্ক্যান প্রযুক্তি সত্ত্বেও রোগীর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি, সঠিকভাবে যাতে রোগনির্ণয় করা হয়, সেটাও নিশ্চিত করা।’

অ্যাপোলো ক্যান্সার সেন্টার, কলকাতার মেডিকেল অঙ্কোলজির ডিরেক্টর ডা. পি.এন. মহাপাত্র জানিয়েছেন, ‘ফুসফুসের ক্যান্সার হল নিরব ঘাতক।এই রোগ প্রায়ই এমন সময় ধরা পড়ে, যখন তা অনেকটা বেড়ে গেছে।  তাই, আর্লি স্ক্রিনিং একটি  গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ‘লাং-লাইফ স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম’-এর সঙ্গে, অ্যাপোলো ক্যান্সার সেন্টার ফুসফুসের ক্যান্সারের পরিচর্যায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। এই প্রোগ্রাম প্রাথমিক পর্যায়েই নিখুঁতভাবে রোগনির্ণয় ও রোগী-কেন্দ্রিক পরিচর্যাকে একসঙ্গে নিয়ে এসেছে, যা বেঁচে যাওয়ার হার উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করবে।’

অ্যাপোলো ক্যান্সার সেন্টার, কলকাতার মেডিকেল সার্ভিসেসের ডিরেক্টর, ডা. সুরিন্দর সিং ভাটিয়া জানিয়েছেন, ‘আমরা ভারতের মধ্যে সর্বপ্রথম লাং-লাইফ স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম চালু করতে পেরে গর্বিত। এটা একটা যুগান্তকারী উদ্যোগ, যা অঙ্কোলজি বিভাগকে উন্নত করবে। আমাদের লক্ষ্য শুধু জীবন বাঁচানোই নয়, বরং জনগনকে স্বাস্থ্য সম্বন্ধে জ্ঞান প্রদান করা।’

অনৃত খেলাঘর (পর্ব-০৩)

পরবর্তী রবিবার উত্তমের নির্ধারিত সময়ে এক কফিশপে বসে দীপেন এ কাহিনির একদম শুরু থেকে তাকে খুলে বলে। সঙ্গে সমর্পণও ছিল। সব শুনে উত্তম খানিক চুপ করে থাকে। তারপর বলে, ‘তোমার সমস্যাটা খুবই ব্যক্তিগত। এ সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে আমার কিছু প্রশ্নের উত্তর তোমাকে দিতে হবে। আশা করব তুমি সব সত্যি বলবে।’

—হ্যাঁ অবশ্যই, জবাব দেয় দীপেন।

—তোমার স্ত্রীর কোনও ছবি থাকলে একবার দেখাও।

দীপেন মোবাইলের গ্যালারি খুলে বেশ কয়েকটি ছবি দেখাল। উত্তম দেখল— শ্যামবর্ণা, নাক একটু ভারী, চশমার নীচে চোখ দুটি বেশ বড়ো দেখাচ্ছে, ঠোঁট যথেষ্ট পুরু, একদম সাদামাঠা গৃহবধূর ছবি।

—উনি কি নিমফোম্যানিয়াক?

দীপেন সামান্য ভ্রু কুঞ্চিত করল, তারপর জবাব দিল, ‘সেরকম মনে হয় না।’

—এ বিষয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হবার পর থেকে বেড শেয়ার করো তোমরা?

—মাঝে মধ্যে।

—কত বয়স ওনার?

—পঞ্চাশ, আমার তো জানোই সাতান্ন। বিয়ে হয়েছে তেইশ বছর।

—বিয়ের পর থেকে এ ধরনের ঘটনা আর কখনও ঘটেছিল? আচমকা এমন সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশান তো সাধারণত ঘটে না, তাই বলছিলাম।

—ঘটে থাকতেও পারে। এ ধরনের ভাবনা মনে কখনও আসেইনি। তবে ইদানীং জানতে পেরেছি ওর দিদিরাও নানা সময় অন্য পুরুষের সঙ্গে মেলামেশা করেছে। এখনও হয়তো করে। তবে এ ব্যাপারে পাড়া-প্রতিবেশীরা বেশি একটা মুখ খোলে না।

—আর ইউ শিওর যে, তোমার স্ত্রী রঞ্জিতের সঙ্গে অ্যাফেয়ার করছে। বিষয়টা কত দূর গেছে, মানে শারীরিক পর্যায় অবধি এগিয়েছে কি?

—তা না হলে আমি এত ওরিড হই? ওদের আলোচনার সারাংশ হল, লাস্ট মিটিংটা  কেমন ছিল, এবার আগামী মিটিংটা কীভাবে আরও ইন্টিমেট করে তোলা যায়।

—কীভাবে এসব জানলে?

বারান্দায় যে বেতের চেয়ারে ও বসে, তার পিছনে, কখনওবা ঘরে শোবার ঘাটে বিভিন্ন সময় মোবাইল রেকর্ডিং মোডে লুকিয়ে রেখে জানতে পেরেছি। বহু কথাবার্তা তো আমার নিজের কানে শোনা।

—আমার সঙ্গে শেয়ার করতে পারবে?

—অবশ্যই, চাইলে এখনই তোমাকে পাঠাতে পারি, সমর্পণকে সব শুনিয়েছি।

সমর্পণ বলে, ‘সেসব শুনলে কান লাল হয়ে যাবে তোমার। ওদের দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতোন।’

—বলো কী! চোখ কপালে ওঠে উত্তমের। তারপর প্রশ্ন করে, আচ্ছা রঞ্জিত কী করে? মানে ওর পেশার কথা বলছি।

—প্রোমোটিং।

—পরিবার আছে?

—হ্যাঁ। স্ত্রী একটা কিন্ডারগার্টেন স্কুলে পড়ায়। এক মেয়ে, ক্লাস সিক্সে পড়ে।

রঞ্জিত যদি তোমার স্ত্রীর ছেলেবেলার বন্ধু হয় তাহলে লেট ম্যারেজ করেছে সম্ভবত?

একটু থেকে দীপেন বলে, ‘ঠিক তাই।’

—বড়ো কঠিন প্রতিপক্ষ তোমার, নিচু স্বরে বিড়বিড় করে উত্তম। আচ্ছা, তুমি আমার থেকে ঠিক কী ধরনের সাহায্য আশা করছ?

দীপেন, সমর্পণের দিকে তাকায় অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে।

সমর্পণ বলে, ‘দেখো তুমি স্বরাষ্ট্র দপ্তরে আছো। ভবানীভবনের উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিক। যদি তুমি চাও, অনেক কিছু করতে পারো।’

উত্তম হাসে।

—ভুল বন্ধু, ভুল। তোমাদের যা সমস্যা তা সিভিল ইন নেচার। ক্রিমিনাল কেস-টেস নয়, অন্তত এখনও পর্যন্ত। সেক্ষেত্রে দীপেনকে স্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর করতে হবে অ্যাডাল্টারির চার্জে।

—আচ্ছা, তুমি যদি রঞ্জিতকে ফোন করে একটু ধমক-ধামক দাও, তাতে কাজ হবে না? আশান্বিত কণ্ঠে প্রস্তাব দেয় দীপেন। —ভুলে যেও না, রঞ্জিত প্রোমোটিং করে। ওর পলিটিক্যাল এবং পুলিশ কানেকশন দুটোই ভালো, এটা স্পষ্ট।

—তাহলে উপায়? কোনও পথই কি নেই?

একটু চুপ করে থাকে উত্তম, তারপর বলে, ‘তোমাকে একটা ডিসিশনে আসতে হবে দীপেন। হয় ডিভোর্স করে আলাদা হবে, নয়তো স্ত্রীর যাবতীয় কাজকর্ম মেনে নিয়ে মুখ বন্ধ করে থাকতে হবে।’

—এই বয়সে ডিভোর্সে গেলে লোকে কী বলবে?

-সেকেন্ড অপশনে গেলেও লোকে কথা বলবে। কারণ পরকীয়া কখনও চাপা থাকে না। আজ না হোক কাল জানবেই লোকে।

সমৰ্পণ বলে, ‘এনি থার্ড অপশন।’

উত্তম ওর দিকে তাকায়, বলে, ‘তার জন্য যথেষ্ট সাহস দরকার। অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে, টাকাপয়সা খরচ হবে। ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে হবে। আচ্ছা দীপেন, স্ত্রী যদি এসব নষ্ট সম্পর্ক ছেড়ে তোমার সঙ্গে আগের মতোন সংসার করতে চায়, তুমি মেনে নেবে?’

দীপেন চুপ করে থাকে। তারপর ধীরে ধীরে ইতিবাচক মাথা নেড়ে বলে, ‘মেনে তো নিতেই হবে আমাকে, অন্তত মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে।’

খুব অসহায় লাগে ওকে। উত্তম বুঝতে পারে ওর যন্ত্রণার গভীরতা।

—শোনো তাহলে আমার প্ল্যান। তার আগে থার্ড রাউন্ডের কফিটা অর্ডার দাও। হাসে। বলে, তোমাকে খুব ঠান্ডা মাথায় এগোতে হবে। কাল থেকে একদম স্বাভাবিক আচরণ করবে স্ত্রী সঙ্গে। মুখে না বললেও ভাব দেখাবে যেন ওর অ্যাফেয়ারটা তুমি একরকম মেনেই নিয়েছ। আর দু’জন ইনফর্মারকে গোপনে নিয়োগ করবে তোমার স্ত্রীর যাবতীয় গতিবিধি নজর রাখতে। সে লোক তোমাকে আমি অ্যারেঞ্জ করে দেব। ওরা তোমার স্ত্রী এবং রঞ্জিতের যাবতীয় অন্তরঙ্গতার ছবি তুলে রাখবে। কোন হোটেলে যাচ্ছে, কোন রেস্টুরেন্টে খাচ্ছে, কোন মলে শপিং করছে, সিনেমা দেখছে, এভরিথিং শ্যাডো করবে, রেকর্ড করবে এবং সব তথ্য তোমাকে জোগান দেবে। ওদের ফোনের অডিও রেকর্ডিং আমি জোগাড় করে দেব। আর তোমার কাছে যে রেকর্ডিংগুলো আছে, ওগুলো সাবধানে রেখো। যথেষ্ট প্রমাণ হাতে এলে একজন লেডি অ্যাডভোকেট নিয়ে তুমি রঞ্জিতের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে যাবতীয় ঘটনা জানাবে। বলবে, আমরা সংঘাত চাই না, আপোশ চাই। হয় আপনার স্বামীকে আটকান, না হলে তার প্রতিফল ভোগার জন্য প্রস্তুত হন। আমার সংসার-মান-সম্মান তো গেছেই, আপনাদেরটাও শেষ করে দেব। সব ক্লিপিংস, ফটো ইত্যাদি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবে আপলোড করে ভাইরাল করার ব্যবস্থা করব। তাতে একজন শিক্ষিকা হিসাবে আপনার ইমেজ কি ঠিক থাকবে? আপনার মেয়েও স্কুলে পড়ে। স্কুলের গার্জিয়ানরা জানতে পারলে কী হতে পারে একবার ভেবে দেখবেন। তারপর দ্যাখো জল কোন দিকে গড়ায়। যদি এ প্রস্তাবে রাজি থাকো, জানিও।

(ক্রমশ……)

মন ভালো রাখার সহজ কিছু উপায়

সর্বদা একই ছন্দে চলে না জীবন। আনন্দ, দুঃখ, বেদনা সব মিলিয়েই আমাদের জীবন। তাই মন খারাপ হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু মন কেন খারাপ হয় জানেন? ভেবে দেখবেন, প্রতিটি ঘটনার পিছনে কোনও না কোনও অন্তর্নিহিত কারণ থাকে। কারণটা যদি একবার চিহ্নিত করতে পারেন, সমাধান খোঁজাটা আপনার পক্ষে সহজ হবে। তবে বেশিক্ষণ মন খারাপকে টিকিয়ে রাখা ঠিক নয়। কারণ এতে হতাশা তৈরি হয়। নিজের উপর রাগ হয়, কোনও কিছুই করতে ইচ্ছা করে না। এমনকী সেই সময় অন্যের সঙ্গে কথা বলা তো দূরের, সামনে আসতেও ইচ্ছে করে না। এর পাশাপাশি, মন খারাপ শরীরের উপরেও কুপ্রভাব ফেলে। অতএব, জেনে নিন মন ভালো করার সহজ কিছু উপায়।

মেলামেশার পরিধি বাড়াতে চেষ্টা করুন

সব সময় মন ভালো না লাগার সমস্যা তাদের মধ্যে বেশি দেখা যেতে পারে, যারা বেশিরভাগ সময় একা থাকেন। তাই, যতটুকু সম্ভব সমাজে সবার সঙ্গে মিশতে এবং বন্ধুত্ব করতে শিখুন। এতে আপনি তাদের মাধ্যমে নতুন নতুন বিষয় ও ভালো ভাবে জীবনযাপনের কৌশল জানতে এবং শিখতে পারবেন। এছাড়া, নিজের মনের কথা কোনও বিশেষ বন্ধু বা প্রিয়জনের সঙ্গে শেয়ার করে মন হালকা করুন।

যদি লাগাতার আপনার এই মনখারাপের পর্যায়টা চলতে থাকে, তাহলে জোর করে হলেও কারও সঙ্গে কথা বলে দেখুন, অনেকটা হালকা লাগবে। সে আপনার পরিবারের কিংবা পাড়ার কেউ হলেও অসুবিধা নেই। দেখবেন, কিছুক্ষণ কথা বলার পর আপনার মন অনেকটাই ভালো লাগতে শুরু করবে। মনে রাখবেন, ‘Talk therapy’-র মাধ্যমে অনেক জটিল মানসিক সমস্যাগুলোর সমাধান সহজেই করা যায়। তাই, সাধারণ মন ভালো না লাগার সমস্যা এর মাধ্যমে সহজেই দূর করতে পারবেন।

বই পড়ে মন ভালো রাখুন

বর্তমান সময়ে বই পড়ার ট্রেন্ড অনেক কমে গিয়েছে এবং এই জেনারেশন মোবাইল, কম্পিউটার ছাড়া কিছুই জানে না। কিন্তু বই পড়ে মন ভালো রাখার এই প্রক্রিয়া এক সময়ে খুব জনপ্রিয় ছিল। যখন আপনি কোনও ভালো বই পড়েন, তখন আপনার মন সম্পূর্ণ ভাবে সেই বই-এর তথ্যের উপরে ফোকাস করে থাকে। যার ফলে, বই এর মধ্যে থাকা তথ্য, রহস্য, গল্প, কাহিনি, চরিত্র ইত্যাদি আপনাকে আপনার চিন্তা, দুঃখ এবং ভয় থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে।

নিয়মিত ভাবে নিজের ফাঁকা সময়ে বই পড়ার অভ্যেস করতে পারলে দেখবেন, আপনার মন আগের থেকে অনেক ফুরফুরে এবং খুশি থাকবে। অনেকেই বই পড়ার অভ্যেসের মাধ্যমে নিজের মন মেজাজ ভালো করতে সফল হয়েছেন। ভালো ভালো বই পড়ে আপনি নিজের মুড সম্পূর্ণ চেঞ্জ করে ফেলতে পারবেন।

জীবনের উদ্দেশ্যের প্রতি ফোকাস করুন

যদি আপনার জীবনে কোনও উদ্দেশ্য না থাকে, তাহলে এখনই নিজের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করুন। কারণ উদ্দেশ্য ছাড়া আপনার জীবনে কোনও মানে থাকবে না, আর তাই মন ভালো রাখতে সমস্যা হবে। যদি আপনি নিজেই না জানেন যে, জীবনে আপনি কোথায় যাচ্ছেন, তাহলে খুশি থাকবেন কীভাবে! যখন আপনার জীবনের একটি উদ্দেশ্য নির্ধারণ করবেন, তখন দেখবেন আপনার মন সেই উদ্দেশ্যের প্রতি ফোকাসড হয়ে থাকবে। যখনই আপনার মন খারাপ লাগবে, আপনি নিজের উদ্দেশ্য, জীবনে কী করতে চান, জীবনে কী পেতে চান— সেগুলোর বিষয়ে ভাবতে থাকুন। যখনই আপনি এটা করবেন, তখন মনের ফোকাস আবার উদ্দেশ্যের প্রতি চলে আসবে এবং মনে উৎসাহ ভাব তৈরি করবে।

আরও উদার করুন মনকে

সবাই কিন্তু অন্যকে সাহায্য করার মতো মানসিকতা রাখতে পারেন না এবং এটা স্বাভাবিক। তবে, জীবনে একদিন হলেও আর্তের পাশে দাঁড়িয়ে দেখবেন, মনটা শান্তিতে ভরে গেছে। মানুষ কেন শুধু, রাস্তায় কত রকমের নিরীহ প্রাণী রয়েছে যারা কষ্ট পাচ্ছে, একদিন তাদের জন্যও কিছু করে দেখুন, সুফল পাবেনই।

যখন আমরা মন থেকে অন্যকে সাহায্য করি, তখন আমাদের মধ্যে একটি পজিটিভ ফিলিং এবং এনার্জি তৈরি হয়ে থাকে। আর এই ইতিবাচক শক্তি আমাদের মনে প্রচুর শান্তি এবং সন্তুষ্টির ভাব এনে দেয়। তাই, যদি আপনার মন ভালো না লাগে, তাহলে কোনও অসহায় ব্যক্তির জন্য কিছু করুন।

মন ভালো করা গান শুনুন

যদি আপনার মন খারাপ থাকে তাহলে দ্রুত মন ভালো করতে হলে আপনার ভালো লাগা গানগুলো শুনুন। গান শুনলে আমাদের মনে হঠাৎ খুশির অনুভব সৃষ্টি হবে এবং মনের দুশ্চিন্তাগুলোর থেকে আপনার মনযোগ সরে যাবে। গবেষণা বলছে যে, যখন আমরা আমাদের পছন্দের গান শুনি, তখন আমাদের ব্রেন-এর মধ্যে ডোপামাইন (dopamine) নামের একটি কেমিক্যাল নিঃসৃত হয়। আর এই ডোপামাইন কেমিক্যাল মূলত আমাদের মন মেজাজ ভালো রাখার কিংবা খুশিতে ভরে রাখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই, যদিও বা আপনার গান শোনার প্রতি তেমন আগ্রহ না-ও থাকে, আপনি হেডফোনস কানে লাগিয়ে একবার একটি গান শুনে দেখুন। দেখবেন, আপনার খারাপ হয়ে থাকা মন ভালোলাগায় ভরে যাবে।

পজিটিভ ভাবুন

আমাদের মন খারাপ তখন লাগে, যখন আমাদের মনে বিভিন্ন ধরনের নেগেটিভ ভাব বা কথার পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে। কেউ খারাপ ব্যবহার করল, কেন কাজ সঠিক ভাবে হল না কিংবা জীবনে যেটা চাইছি সেটা পাচ্ছি না— এরকম অনেক কারণ থাকতে পারে মন ভালো না লাগার। কিন্তু যদি আপনি এই সমস্যাগুলো নিয়ে ভাবতেই থাকেন, তাহলে মন ভালো হবে না এবং জীবনে এগিয়ে যেতে অসমর্থ থাকবেন। তাই, যে-কোনও সমস্যা হোক না কেন, নিজের মনকে একটাই প্রশ্ন করুন, এই সমস্যার উচিত সমাধান কী হতে পারে? যখন আপনি নিজেকে এই প্রশ্ন করবেন, তখন আপনার মন কেবল সমাধানের উপরে ফোকাস করতে শুরু করবে, যার ফলে আপনি একটি উদ্দেশ্য পাবেন এবং মন হালকা হবে। মনে রাখবেন, সমস্যা প্রত্যেকের জীবনেই রয়েছে কিন্তু সফল এবং খুশি সেই ব্যক্তি হতে পেরেছেন, যিনি সমস্যার সমাধান পাওয়া নিয়ে উদ্যোগী হন।

কিছুক্ষণ হেঁটে আসুন

মন খারাপ লাগলে তাড়াতাড়ি মন ভালো করার উপায় হল, বাইরের থেকে একটু হেঁটে আসা। অন্ততপক্ষে ১৫ মিনিট বাইরে হেঁটে আসতে পারলে আপনার এনার্জি লেভেল এবং মুড বুস্ট হবে। এছাড়া, কিছুক্ষণ হেঁটে আসার ফলে মন পরিষ্কার হবে এবং মন ফুরফুরে হয়ে যাবে। হাঁটা এবং দৌড়ানোয় প্রচুর হেল্থ বেনিফিট রয়েছে যার জন্যে প্রত্যেকদিন ১৫ মিনিট করে হলেও হাঁটুন।

নিজেকে ব্যস্ত রাখুন কাজে

সকাল থেকে বিকেল কোনও কাজ ছাড়া বসে-শুয়ে থাকলে, বেশি মন খারাপ করে। মনে রাগ রাগ ভাব, চিন্তা, অলস বা কুঁড়ে ভাব, কথা বলতে ইচ্ছে না করা— এই সমস্ত সমস্যা দেখা দেবে। প্রচুর দুশ্চিন্তা এবং নেগেটিভ থটস উঁকি দিয়ে যাবে। তাই, প্রত্যেকদিন নিজেকে কাজ দিন, নতুন কিছু শিখুন বা নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চেষ্টা করুন। যখন আপনি ব্যস্ত হয়ে থাকবেন, তখন মাথায় নেগেটিভ থটস আসার সুযোগ পাবে না, যার ফলে আপনার মন ভালো থাকবে। এছাড়া, যখন আপনি ছোটো-বড়ো কাজগুলোকে সঠিক ভাবে সম্পূর্ণ করে ফেলবেন, তখন মনে একটি সন্তুষ্টির ভাব তৈরি হবে। আর এই সন্তুষ্টির ভাব কিছু ফিল গুড কেমিক্যাল রিলিজ করবে, যার ফলে দিনের শেষে মন ভালো হয়ে উঠবে।

মেডিটেশন করুন 

দ্রুত মন ভালো রাখার দারুণ উপায় হল— নিয়মিত ভাবে ধ্যান বা মেডিটেশন করা। এতে নিজের মধ্যে প্রচুর ভালো পরবর্তন নিয়ে আসতে পারবেন। সকালে তাড়াতাড়ি উঠে কিছু সময় মেডিটেশন করে দেখবেন, প্রথম দিন থেকেই নিজের মধ্যে এক ধরনের পজিটিভ পরিবর্তন অনুভব করতে পারবেন। তবে ধ্যান-এর সঙ্গে ব্যায়াম অভ্যেস করতে পারলে, আরও ভালো ফল পাবেন। ধ্যান এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে আপনি আপনার মন সতেজ এবং চিন্তামুক্ত করে রাখতে পারবেন।

জোরে জোরে হাসুন

বিভিন্ন গবেষণা থেকে পাওয়া গেছে যে, জোরে জোরে হাসির অভিনয় (act of smiling) করলেও আমাদের মুড ভালো হয়ে যায় এবং আমরা খুশি অনুভব করতে শুরু করি। এর মধ্যে কারণ অবশ্যই রয়েছে। হাসির ফলে জরুরি কিছু ব্রেইন কেমিক্যাল নিসৃত হয়ে থাকে, যেগুলো আমাদের মন মেজাজ ভালো করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আপনার হাসার মুড না থাকলেও, জোর করে হাসুন, ভালো কাজ হবে এবং আপনার মন ভালো লাগবে। এছাড়া, মন ভালো করার জন্য আপনি কোনও হাসির সিনেমা দেখতে পারেন বা এমন কোনও বন্ধুর সঙ্গে কথা বলুন, যে আপনাকে হাসাতে পারবে বলে আপনি জানেন। আসল কথা হল, যদি আপনি সব সময় খুশি থাকতে চান, তাহলে নিজের মানসিকতা পজিটিভ রাখতে চেষ্টা করুন। কারণ, সব সময় নেগেটিভ কথা ভাবলে, আপনার জীবন থেকে আনন্দ উধাও হয়ে যেতে পারে।

উত্তর থাইল্যান্ডের গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল সীমান্ত (পর্ব-০১)

সেই প্রাচীনকাল থেকে আজও, যখন কোনও বিশেষ নারীগোষ্ঠীর সৌন্দর্য চেতনাবোধ, নিজেকে তার প্রিয় পুরুষের কাছে সর্বদা সুন্দর রাখার প্রচেষ্টা কোনও ঐতিহ্যগত শিল্প-সংস্কৃতি কিংবা একান্ত আবেগের সঙ্গে জুড়ে যায়, তখন একটু আকর্ষণ করতে হয় বৈকি। এমনই এক সম্প্রদায়, কায়ান জাতিগোষ্ঠী অর্থাৎ পাদাউং জনগোষ্ঠীর নারীদের খোঁজে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে হাজির হয়েছিলাম উত্তর থাইল্যান্ডের গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল সীমান্ত এলাকার চিয়াং রাই প্রদেশের একটা দুর্গম পার্বত্য গ্রামে।

থাই এয়ারওয়েজের বিমান যখন উত্তর থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই জাতীয় বিমানবন্দরে ল্যান্ড করল, ঘড়িতে তখন স্থানীয় সময় দুপুর ১টা বেজে দশ মিনিট। জীবনের বহু প্রতীক্ষিত সোলো ট্রাভেল অর্থাৎ একক বিদেশ ভ্রমণ শুরু হওয়ার আনন্দ অনুভব করে এক অনাবিল প্রশান্তিতে ভরে উঠল আমার মন।

ক্যারোসেল থেকে লাগেজ নিয়েই ওখানকার বহুল প্রচলিত গ্র্যাব অ্যাপ চেক করে দেখলাম, এয়ারপোর্ট থেকে মাত্র পাঁচ কিমির দূরত্বের হোটেলে পৌঁছোনোর জন্য ক্যাব চাইছে ২০০ ভাট অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫০০ টাকা। বুকিং করতে যাব হঠাৎ কানে এল সুরেলা কণ্ঠে কেউ যেন বলে উঠল— ‘সওয়াদিকাপ’ শব্দটি। নিমেষে মোবাইল অ্যাপ থেকে চোখ সরাতেই দেখলাম এক সুন্দরী থাইকন্যা মিষ্টি হেসে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ঝকঝকে ফর্মাল পোশাক, বেশ কয়েকটা ব্যাচ লাগানো, সঙ্গে গলায় এয়ারপোর্ট স্টাফের পরিচয়পত্র ঝোলানো।

আগেই জানতাম থাই সংস্কৃতিতে, কাউকে সম্মানের সঙ্গে অভিবাদন জানাতে মহিলাদের জন্য ‘সওয়াদিকা’ (Sawadika) এবং পুরুষদের জন্য ‘সওয়াদিকাপ’ (Sawadikap) শব্দটির ব্যবহার হয়। যাইহোক, ওই কন্যা হোটেলের নাম শুনেই মাত্র ১৫০ ভাটে পালকির মতো একটি বিদেশি আরামদায়ক গাড়ির ব্যবস্থা করে দিল। বুকিং স্লিপ হাতে নিয়ে এয়ারপোর্টের বাইরে বেরোতেই তীব্র গরমের আঁচ পেলাম। আমার সারথি মিঃ টনি একগাল হেসে এগিয়ে এসে সযত্নে আমার লাগেজ রেখে, গাড়ির দরজা খুলে আমাকে অভ্যর্থনা জানাল।

বিলাসবহুল গাড়িতে চেপে, আরামদায়ক সোফায় বসে বাতানুকূল আবহাওয়ায় শরীরে মনে স্বস্তি ফিরে এল। সুদৃশ্যমান রাস্তা ধরে গাড়ি এগিয়ে চলেছে। সারথি, এই ছোট্ট শহরকে কেন্দ্র করে, নানা অজানা ইতিহাস সমৃদ্ধ কাহিনি অনর্গল শুনিয়ে যাচ্ছে আর আমিও মুগ্ধ হয়ে শুনছি। কথায় কথায় রাস্তা শেষে আমার ক্যাব একটা হেরিটেজ বিল্ডিংয়ের সামনে এসে দাঁড়াল।

গাড়ির ভিতর থেকে দেখলাম, এই বুটিক হোটেলটি ইউরোপীয় এবং উত্তর থাই লানা বা লান্নাশৈলীর কারুকার্যে নির্মিত। হোটেলে চেক ইন করে নির্ধারিত রুমে প্রবেশ করলাম। অন্দরমহলের সাজসজ্জা, অত্যাধুনিক বাথরুম, একটা ছোট্ট ব্যালকনি— সবমিলিয়ে মন কেড়ে নিল। ওয়েলকাম ড্রিংক হিসাবে এক গেলাস টাটকা আনারসের জুস পান করে, নিজেকে আরামকেদারায় এলিয়ে দিলাম।

পরের দিন সকালেই প্রাতঃরাশ ও স্নান সেরে আমি প্রস্তুত। গতকালের কথামতো কিছুক্ষণ পরেই টনি গাড়ি নিয়ে হাজির। আজকের গন্তব্যস্থল চিয়াং রাই অঞ্চলের বিখ্যাত লং নেক ওম্যান ভিলেজ। আমরা লম্বা গলার জিরাফ দেখেছি কিন্তু অন্য কোনও প্রাণীর মধ্যে এত লম্বা গলা আর কোনওদিন দেখিনি। এবার জিরাফের মতো লম্বা গলার মানুষ দেখার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।

গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী জানা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা গলা হিসাবে (প্রায় ১৬ ইঞ্চি) এই পার্বত্য গ্রামের এক কায়ান মহিলা বিশ্বজুড়ে চর্চিত হয়েছেন। আমি চিয়াং মাই শহরের সিকুম (Si Phum) অঞ্চলে ছিলাম। গাড়িতে যাওয়ার সময় ড্রাইভার কাম গাইড টনির কাছে কায়ান মহিলাদের সম্পর্কিত বেশ কিছু অজানা বিস্ময়কর তথ্য শোনার সুযোগ হল। ১৩০ কিমির এই আনন্দযাত্রা মাত্র ৩ ঘণ্টায় শেষ হয়ে, অবশেষে পৌঁছোলাম কায়ান সম্প্রদায়ের অস্থায়ী গ্রামে।

থাইল্যান্ড সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী কায়ান গ্রামে প্রবেশ পথে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় ৩০০ ভাট প্রবেশমূল্য দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করলাম। চারপাশে কয়েকটি এসি ভ্যান ইতিউতি দাঁড়িয়ে, বোধহয় পর্যটক নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকটা বাচ্চা মেয়ে হস্তশিল্পের পসরা সাজিয়ে বসে ওদের ভাষায় সকলকে আহ্বান জানাচ্ছে। একটা চলমান ভ্যান গাড়িতে চা-কফি সহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যও বিক্রি হচ্ছে।

আমি আর টনি কাঁকড়-মাটি বিছানো এবড়ো-খেবড়ো পথ ধরে, দুর্গম পার্বত্য গ্রামের বাঁকে বাঁকে নতুন দৃশ্যের শোভা অবলোকন করতে করতে গ্রামের অন্দরমহলে প্রবেশ করলাম। গ্রামের ভিতরে দু-পাশের বাসস্থানের আড়ালে মাঝখান জুড়ে বেশ কয়েকটা অস্থায়ী দোকান দেখতে পেলাম। সেখানে জিরাফের মতো লম্বা গলার অসামান্য সুন্দরী মহিলারা নিজস্ব সংস্কৃতির স্বতন্ত্র রঙিন পোশাকে, ধাতব পিতল আর সোনার খাদমিশ্রিত বলয় গলায় পেঁচিয়ে একমনে তাঁত বুনে চলেছে। কেউ আবার নিজেদের বানানো হস্তশিল্পের পসরা সাজিয়ে প্রদর্শন এবং বিক্রিও করছে। অনেকের কোলে ফুটফুটে মেয়ে ঘুমোচ্ছে, কেউ আবার তাদের শিশু কন্যাকে হাতে কলমে তাঁত বোনা শেখাচ্ছে।

(ক্রমশ…)

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব