আমার দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসছে। কী কী কারণে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা অনুভূত হয়?

প্রশ্নঃ আমার বয়স ৩৪ বছর। দীর্ঘক্ষণ আমাকে অফিসে কম্পিউটারে কাজ করতে হয়। সম্প্রতি লক্ষ্য করছি, কাজ করতে বসে আমার দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসছে। কাজ করতে বেশ অসুবিধে বোধ হচ্ছে। কী কী কারণে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা অনুভূত হয়?

উত্তরঃ স্বাস্থ্যের প্রতি অসাবধানতার কারণে ছোটো থেকে বড়ো অনেকেরই চোখের দৃষ্টি ঝাপসা অনুভূত হয়। চিকিৎসকদের মতে, দৃষ্টিশক্তি যদি ধীরে ধীরে কমতে থাকে, তাহলে অবিলম্বে সতর্ক হওয়া উচিত।

চোখে ব্যথা বা লালভাব দেখা দিলে ডাক্তার দেখান— অনেক সময় কম্পিউটার, মোবাইলে একটানা কাজ করা বা টিভি দেখার কারণে চোখের ড্রেনেজ সিস্টেম বন্ধ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে গ্লুকোমার সমস্যা দেখা দেয়। এই অবস্থায় স্পষ্ট দেখতে না পাওয়ায় চোখের উপর চাপ বেড়ে যায়। যার কারণে চোখে প্রচণ্ড ব্যথা, লালচে ভাব বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা হয়। এমতাবস্থায় দেরি না করে অবিলম্বে নিকটস্থ ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা করিয়ে নেওয়া প্রয়োজন ।

ল্যাপটপে বেশিক্ষণ বসে থাকা থেকে বিরত থাকুন— যখন আমরা বিরতি না নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কোনও কিছুর দিকে তাকিয়ে থাকি, তখন তা আমাদের স্নায়ুতে চাপ সৃষ্টি করে। এই অবস্থাকে চোখের স্ট্রেন বলা হয়। যারা ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেন, তারা প্রায়ই এই ধরনের সমস্যায় পড়েন। একই সঙ্গে যারা মোবাইল ফোনে দীর্ঘক্ষণ চ্যাট করেন তারাও এই সমস্যায় আক্রান্ত হন। দুর্বল আলোতে অধ্যয়ন করলেও এই ধরনের সমস্যা হতে পারে।

বিচ্ছিন্ন রেটিনা অশ্রু তৈরির কাজ করে— চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে আমাদের চোখের রেটিনা, অশ্রু তৈরিতে কাজ করে। এই অশ্রু চোখের আর্দ্রতা বজায় রাখে, যাতে তারা শুকিয়ে না যায়। হঠাৎ মাথায় আঘাত বা বার্ধক্যজনিত কারণে রেটিনা অশ্রু তৈরি করা বন্ধ করে দিলে, শিরায় রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এই কারণে সবকিছু ঝাপসা দেখায়।

এছাড়াও চিকিৎসকরা বলছেন, চোখ ঝাপসা হওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। রেটিনা, অপটিক নার্ভ বা কর্নিয়াতে সমস্যা হতে পারে। চোখের রেটিনাতে কোনও সমস্যা থাকলেও চোখে ঝাপসা দেখতে পারেন। স্ট্রোক, মাইগ্রেন, ব্রেন টিউমার বা ডায়াবেটিসের মতো রোগের কারণে ঝাপসা দৃষ্টি বা দৃষ্টি সমস্যা দেখা দিতে পারে। চোখে ব্যথা বা আলোতে সমস্যা হলে একেবারেই ফেলে না রেখে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

সুবর্ণরেখার তীরে (পর্ব-০২)

অতনুকে সে নিজের গরজে ডেকে কাছে বসতে অনুরোধ জানায়। ভেজা জামা কাপড়ের দোহাই দিয়ে অতনু একটু দূরে বসে। শিবনাথ মেনে নেয় কথাটা। কোনও আপত্তি করে না। তারপর কৌতূহলাদ্দীপক স্বরে প্রশ্ন করে— কতদিন বাদে দেখা তাই না? তুই কেমন আছিস? বাড়ির সবাই ভালো তো? একই ভাবে বলতে থাকে এই একটু আগেই তোর কথা ভাবছিলাম মনে মনে। এত ভোরে তুই এখানে কী করে? উত্তরের অপেক্ষায় না থেকে শিবনাথ নিজেই সেই প্রশ্নের জবাবদিহি করে! ও বুঝেছি, হয়তো এখানে কোথাও চাকরি করিস সেই সূত্রে এখানে থাকা হয়। কাল রবিবার ছুটির দিন তাই বাড়ি যাওয়ার তাড়া। তাই না?

অতনু শিবনাথের কথায় বিশেষ আমল না দিয়ে বলে— পৃথিবীর সর্বত্রই রহস্যে ঘেরা। ও-কথা এখন থাক। দেখা যে হল সেটা যথেষ্ট নয় কী?

শিবনাথ স্বীকার করে কথাটা। সন্মতিসূচক ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ছড়িয়ে বলে— – জানিস, আজকের সকালটা দারুণ লাগছে আমার কাছে। এমন সুন্দর সকাল আগে কখনও দেখিনি। কোনও দিন উপভোগ করেছি বলে মনে পড়ে না। মানুষ হয়ে জন্মেও জীবনের অনেক কিছুই শেষ পর্যন্ত অদেখা রয়ে যায়। উত্তেজনাবশত গতরাতে আমি দু’চোখের পাতা এক করতে পারিনি। বাড়ি ফেরার আনন্দে মন কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছিল।

—রাঁচির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে রাতজাগা কনে বউয়ের সঙ্গে তুলনা করলেও বোধহয় অনেক কিছুই তার ‘না বলা বাণীর ঘন যামিনীর আড়ালে চাপা পড়ে থাকে।

—–বাঃ! উপমাটা তো খুব সুন্দর। একেবারে কালিদাসস্য। তোর গল্প লেখার অভ্যেসটা এখনও কী বজায় আছে? নাকি ছেড়ে দিয়েছিস? শিবনাথ আরও জানায়, আমি সাহিত্যরসিক নই মোটেই, কোনও দিন ছিলামও না, তবে এটুকু নিশ্চয়ই হলফ করে বলব যে, গল্পগুলো যখন পড়ে শোনাতিস তখন মনে একটা সাড়া জাগত, আলোড়ন সৃষ্টি হতো, তাতেই মনে হতো তোর গল্প লেখার হাত ভালো ছিল। তবে হাত তো সবারই থাকে কিন্তু গল্প লিখতে পারে ক’জনে? গল্পের ভালোমন্দ বলতে আমি শুধুমাত্র এইটুকুই বুঝি

—হ্যাঁ, লিখতাম এককালে। তবে নিয়ম করে এ জীবনে কিছুই করা হয়নি। খেয়াল খুশি মতো যখন ইচ্ছে হতো তখন লিখতাম। একটু থেমে অতনু নিজের অভিমত প্রকাশ করে বলে, দেখি পরজন্মে যদি ভগবান সহায় হন তাহলে আবার চেষ্টা করব। আমার ইহজন্মের খেলা শেষ।

—এত হতাশা কেন? তুই ডিপ্রেশনে ভুগছিস নাকি?

শিবনাথের কথাটা এড়িয়ে গিয়ে অতনু তাকে অন্যমনস্ক করার অভিপ্রায় হঠাৎ বলে ওঠে— ওই পাখিটাকে দেখতে পাচ্ছিস? ওটা শ্যামা পাখি নামে খ্যাত। নিতান্তই ভীতু স্বভাবের। লোকচক্ষুর অন্তরালে পার্বত্য জঙ্গলের গভীরতম প্রদেশে ওদের গৃহস্থালী। এই সুযোগে একটু রসিকতা করার লোভ সম্বরণ করতে না পেরে বললে, অনেকটা তোর মতো অবস্থা। তোরও জঙ্গলে বাস ওদের মতো। তবে রাঁচিতে কেউ ওদের বড়ো একটা দেখতে পায় না, একমাত্র জোনহার পার্বত্য জঙ্গল ছাড়া।

—আবার শুরু কর লিখতে। মুচকি হেসে শিবনাথ এবার কাব্য করে বলল, ‘শেষ হইয়াও হয় নাই শেষ’। যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ নিঃশেষে করো হে তাহা দান । তোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণ রসবোধ আছে, আর্ট জ্ঞান আছে। এগুলোকে কাজে লাগা। নিজের খেয়াল খুশি মতো অবহেলা করিস না। জানবি তোর উপর ঈশ্বরের আশীর্বাদ বর্ষিত হয়েছিল। একটু রসিকতার সুরে বললে, হায়! —যে ধনে হইয়া ধনী মনিরে মান না মনি তাহারই ক্ষণিক মাগি আমি নত শিরে ।

এবারও শিবনাথের কথায় কর্ণপাত না করে পালটা প্রশ্ন করে অতনু— মালভূমি রাঁচি সাগরাম্বু রেখা থেকে কত হাজার ফুট উঁচু জানিস? উত্তরের অপেক্ষায় কিছুক্ষণ মৌন থেকে তারপর নিজেই জবাবদিহি করে ন্যূনাধিক দু’হাজার ফুট। জায়গায় জায়গায় তিন সাড়ে তিন হাজার ফুট উঁচু পাহাড় মাথা তুলে সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে। দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে এই মালভূমি প্রায় সমান। অন্তত পঞ্চাশ ষাট মাইলের কম নয়। স্রোতস্বিনী পার্বত্য নদীগুলো তিলক কামোদ রাগিনীতে গান গেয়ে পাহাড়ের পাদদেশ ধুইয়ে দিতে থাকে। বড়ো নদীর মধ্যে দামোদর এঁকে বেঁকে এর এক প্রান্তসীমা বেয়ে সাপের মতো ছুটে চলেছে। হুডরু জলপ্রপাতের শুভ্র ফেনপুঞ্জময়ী সুবর্ণরেখার লাস্যলীলা সমস্ত মালভূমির উপর শাখা-প্রশাখায় ছড়িয়ে আছে। মানুষের স্থাপত্য কৌশলে জায়গায় জায়গায় বাঁধ তৈরি করে কৃত্রিম হ্রদের জন্ম হয়েছে। পাথরসংকুল হওয়া সত্ত্বেও এখানকার জমি এতটাই সরস যে গিরিগাত্রে কৃষক ভাইরা এখনও হাল চালায়। ক্ষুধার্ত শিকড়গুলো সেই পাথর থেকে রসদ সংগ্রহ করে দিনের পর দিন বেঁচে থাকার অদম্য তাড়নায়… বলতে বলতে মাঝপথে থেমে গিয়ে অতনু হঠাৎ একসময় প্রশ্ন করে জানতে চায়, আমার কথায় তুই বিরক্ত হচ্ছিস না তো? শিবনাথ উত্তরে জানায়— না, একেবারেই নয়। তুই বল, আমার ভালো লাগছে শুনতে কথাগুলো।

অতনু বলতে শুরু করে আবার— সেইজন্যেই আমার লেখা দিনলিপির এক জায়গায় আমি লিখে রেখেছি, মৃত্যুর পরে আমার পার্থিব শরীর যেন এই সুবর্ণরেখার তীরেই সৎকার করা হয়।

অতনু বোধহয় আরও কিছু বলতে চাইছিল। এবার বাধা পেল শিবনাথের কথায়। শিবনাথ নিজের মন্তব্য প্রকাশ করল— – রাঁচি সম্বন্ধে তোর যে এত জ্ঞান তা আগে জানা ছিল না আমার। সত্যি প্রশংসনীয়।

অতনু বলে চলে— চৈত্রের সরহুল পরবে তেঁতুলগাছের তলায় মশাল জ্বালিয়ে কালো পাথরে তৈরি জীবন্ত মানুষগুলো যখন আকণ্ঠ হাঁড়িয়া পান করে মাদল আর ঢাক বাজিয়ে মেয়ে-পুরুষে হাত ধরাধরি করে নৃত্যের তালে গান গায় তখন পৃথিবীতে এত যে দুঃখ-কষ্ট আছে তা বিশ্বাস হয় না। এই ছোটোনাগপুর অঞ্চল আর এর সহজ সরল আদিবাসীদের দেখে সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে মায় রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত নীরব থাকতে পারেননি। এই অঞ্চলের এতটাই মোহিনী রূপ।

শিবনাথ বিস্ময় প্রকাশ করে বলে— তুই তো দেখছি রীতিমতো গবেষণা পত্র লিখে ফেলার জোগাড় করেছিস। এত খবর সংগ্রহ করিস কী করে?

চটজলদি জবাব অতনুর— মাতালদের যেমন শুঁড়িবাড়ির খোঁজ রাখতে হয়, ঠিক তেমনি যারা গল্প-উপন্যাস লেখেন তাদের বেলাতেও সেই একই যুক্তি। বাড়ি থেকে ডাকবাক্সটা কত পা দূরত্বে সেই খবরটাও রাখতে হয়। রাখাটাই তাদের জীবনের একমাত্র ব্রত, তাদের একমাত্র বৈশিষ্ট্য, পরম অনুসন্ধিৎসার পরিচয়। সত্যি কথা বলতে কি, যা কিছুই করি না কেন সমস্ত অন্তরটা সঁপে দিতে না পারলে জীবনের কোনও কাজেই উৎকর্ষতা লাভ করা যায় না। সেই কাজের সার্থকতাও থাকে না।

(ক্রমশ…)

কাশ্মীর ভ্রমণ পথে (পর্ব ০২)

কাশ্মীর ভ্রমণের বহুল চর্চিত বিষয়াবলির সবিশেষ বিবরণ দিতে গেলে, প্রয়োজন সুদীর্ঘ এক পরিসরের। কাশ্মীর ভ্রমণকালে দর্শন প্রাপ্তি হয়েছে, এমন এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বেশ কয়েকটা জায়গার কথা আজ বলব যা প্রথাগত সফরসূচির মধ্যে অনেকে রাখেন না।

হরি পর্বত

‘হজরতবাল’ মসজিদ দর্শন সেরে আমাদের গাড়ি এসে পৌঁছোল ‘হরি পর্বত’-এর প্রান্তে। হরি পর্বতের উপরে রয়েছে সুবিশাল এক দুর্গ। এই দুর্গের বাহিরের প্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন মোঘল সম্রাট আকবর, ১৫৯০ খ্রিস্টাব্দে। ১৮০৮ সালে দুরানি সম্রাট আটা মহম্মদ খান এই দুর্গটি নির্মাণ করেছিলেন। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট এই পাহাড়ের মাথায় সুউচ্চ এক দণ্ডের উপরে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এই হরি পর্বতের একদিকে অবস্থিত ডাল লেক এবং তার অপর দিকে হরি পর্বতের পশ্চিম-গাত্রে অবস্থিত ‘সারিকা দেবীর’ মন্দির।

জলভব-সারিকা দেবী

কাশ্মীরি হিন্দুরা মনে করেন, পুরাকালে ‘জলভব’ নামক এক অসুর এই হরি পর্বত সংলগ্ন অঞ্চল দখল করে নিয়েছিল। তার হাত থেকে এই পবিত্র হরি পর্বতকে রক্ষা করতে, হিন্দুরা সমবেতভাবে দেবী পার্বতীর কাছে প্রার্থনা করেন। তখন দেবী পার্বতী এক পক্ষীর রূপ ধারণ করে, এক সুবিশাল প্রস্তরখণ্ড ঠোঁটে ধারণ করে ‘জলভব’ অসুরের মস্তকে নিক্ষেপ করেন। অসুর নিধন হয়। এরপর থেকে পার্বতীকে ‘সারিকা দেবী’ রূপে বন্দনা করা শুরু হয়।

দেবী এখানে শক্তিস্বরূপা জগদম্বা ভগবতী সারিকারূপে পূজিতা হন। ‘শ্রী-চক্র’ নামক প্রস্তর খণ্ডের উপরে বিরাজিতা, সিঁদুরবর্ণা অষ্টাদশ হস্ত বিশিষ্টা দেবী গোটা কাশ্মীরের হিন্দু ভক্তদের ঘরে ঘরে পূজিতা হন।

শঙ্করাচার্য পাহাড়

হরি পর্বত থেকে ফিরে, ডাল লেক সংলগ্ন বুলেভার্ড রোড ধরে আমাদের গাড়ি এগিয়ে চলল এক হাজার একশো ফিট উচ্চতাবিশিষ্ট ‘জাবারওয়ান’ পর্বত শৃঙ্গের উদ্দেশ্যে। বর্তমানে এই পর্বত শঙ্করাচার্য পাহাড় নামেই খ্যাত। পাহাড়ে ওঠার পথের মুখেই সেনাবাহিনীর জওয়ানরা প্রত্যেক গাড়ি থেকে পর্যটকদের নামিয়ে দিয়ে, গাড়িটিকে এগিয়ে যেতে আদেশ করল। তারপরে সকল পর্যটককে সেনাক্যাম্প-এ নিয়ে এল। সেখানে প্রত্যেক পর্যটকের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, আধারকার্ডের কপি সংগ্রহ করে এবং তাদের রেজিস্টারে সবকিছু নথিবদ্ধ করার পরে, পুনরায় গাড়িতে চড়ার অনুমতি দিল।

অতঃপর গাড়ি এগিয়ে চলল চড়াই পাকদণ্ডি পথ বেয়ে শঙ্করাচার্য মন্দির অভিমুখে। একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করার পরে গাড়ি চলার পথ শেষ হয়ে গেল। সেখান থেকে শুরু হল পায়ে পায়ে এগিয়ে চলা। ২৪০ ধাপ সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠার পরে মিলল শঙ্করাচার্য মন্দির। এখানেই রয়েছে কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন জ্যেষ্ঠেশ্বর শিব মন্দির।

ঐতিহাসিক কলহানের ‘রাজতরঙ্গিণী’ গ্রন্থে কথিত আছে, সম্রাট অশোকের পুত্র ‘জালুক’ দুই শত খ্রিস্ট পূর্বে পর্বত শীর্ষের এই শিব মন্দির স্থাপন করেছিলেন। অনেকের মতে, রাজাগোপাদিত্য ৩৭১ খ্রিস্টপূর্বে পর্বতচূড়ার এই জ্যেষ্ঠেশ্বর শিব মন্দির স্থাপন করেছিলেন। এই কারণে এখনও অনেকে এই পাহাড়কে ‘গোপাদ্রি’ পর্বত বলে অভিহিত করেন। কলহানের গ্রন্থেও এই গোপাদ্রি পর্বতের উল্লেখ আছে।

হিন্দু ভক্তরা বিশ্বাস করেন, আদি শঙ্করাচার্য পদব্রজে এই পর্বত শৃঙ্গে ‘জ্যেষ্ঠেশ্বর শিব মন্দিরে আরোহণ করেছিলেন। এবং এখানে এই পর্বত শৃঙ্গে অবস্থানকালেই আদি শঙ্করাচার্য তাঁর জগদ্বিখ্যাত ‘সৌন্দর্য লহরি’ গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। এই কথার উল্লেখ কলহানের ‘রাজতরঙ্গিণী’ গ্রন্থেও পাওয়া যায়।

কথিত আছে, ডোগরা রাজা গুলাব সিং (১৭৯২-১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দ) তার রাজত্বকালে পর্বত শৃঙ্গের ২৪০ ধাপ সিঁড়ি নির্মাণ করেছিলেন। এরপরে মহীশূরের মহারাজা ১৯২৫ সালে এই পর্বত শৃঙ্গ দর্শনঅন্তে এই পর্বতচূড়া আলোকিত করার বন্দোবস্ত করেন। ১৯৬১ সালে দ্বারকার শঙ্করাচার্য এই পর্বত শৃঙ্গের শিবমন্দির দর্শন করার পরে, এখানে আদি শঙ্করাচার্যের মূর্তি স্থাপন করেছিলেন।

বর্তমানে এই মসৃণ চড়াই পথ নির্মাণের অবদান বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন-এর ১৯৬৯ সালে। তবে তথ্য এবং ইতিহাস যাই বলুক না কেন, এই পর্বত শৃঙ্গের উপর থেকে বর্তমানের মাটিতে দাঁড়িয়ে, ডাল লেকের দিকে তাকালে, চোখের সামনে যে অপরূপ সৌন্দর্যময় দৃশ্যাবলি ফুটে ওঠে— দীর্ঘকাল ধরে তা রয়ে যাবে সকল পর্যটকের স্মৃতির মণিকোঠায়।

কাশ্মীর ভ্রমণ-পথে একদিনে শ্রীনগর সংলগ্ন যে-কটি স্থান দর্শন করা সম্ভব, তা সমাপণ করে, হোটেলে ফিরলাম পরের দিনের প্রস্তুতি নেওয়ার উদ্দেশ্যে।

(ক্রমশ……)

মুখে ব্ল্যাকহেডস রয়েছে, যেটি খুব সহজে নিরাময় হয় না। কী করব এই পরিস্থিতিতে?

ফেসপ্যাক-এর সাহায্যে ব্ল্যাকহেড্স তোলা সম্ভব নয় কারণ এগুলি পোরস-এর ভিতরে হয়। পোরস ওপেন করে ক্লিন করার জন্য ত্বক স্ক্রাব করা জরুরি। ব্ল্যাকহেডস রিমুভ করার জন্য ভালো কসমেটিক ক্লিনিকে ভেজ অথবা ফ্রুট পিল করাতে পারেন। ১৫ দিনে একবার পিল করালে ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস রিমুভ হয়ে যাবে এবং ত্বকের গ্লো ফিরে পাবেন।

এছাড়াও রোজ মুখ পরিষ্কার করার জন্য স্ক্র্যাব তৈরি করে নিন। বাড়িতে বাদাম এবং দালিয়া পিষে নিন, খুব মিহি হবে না। এর সঙ্গে এক চিমটে হলুদ এবং গোলাপজল মিশিয়ে একটা পেস্ট তৈরি করে নিন। এই পেস্ট সারা মুখে, নাক ও নাকের পাশে লাগিয়ে হালকা করে স্ক্রাব করুন এবং কিছুক্ষণ রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

আমার বয়স ২২ বছর। আমার ত্বক খুবই স্পর্শকাতর। আমি যখনই মুখে কোনও ক্রিম বা মেকআপ লাগাই ত্বকে ফুসকুড়ি বেরোয়। ত্বক নিয়ে সবসময় সমস্যায় থাকি। এই পরিস্থিতি থেকে বেরোতে কী করব?

সুগন্ধীযুক্ত কোনও ক্রিম ত্বকে না লাগাবারই চেষ্টা করুন। গন্ধ থেকেও অনেক সময় অ্যালার্জি হয়। স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি ক্রিমই সবসময় ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। ত্বকে ক্রিম অ্যাপ্লাই করার আগে স্কিন টোনার লাগিয়ে সেটা শুকোতে দিন, তারপরেই ক্রিম লাগান।

আমার এখন ৩০ বছর বয়স। আমার চোখের পাতার ঘনত্ব খুব কম। কী করে চোখের পাতার গ্রোথ বাড়াব?

চোখের পাতা ঘন করার সব থেকে কার্যকরী উপাদান হল ক্যাস্টর অয়েল। এতে রয়েছে রিসিনোলিক অ্যাসিড। এটি চুলের গোড়ার রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে চোখের পাতার ঘনত্ব বিকাশে সহায়তা করে।

ক্যাস্টর অয়েল শুধুমাত্র আইল্যাশ ঘন করবে এমন নয় বরং চোখের পাতা যাতে অকালে না ঝরে পড়ে সে বিষয়েও যথেষ্ট সহায়তা করে। ক্যাস্টর অয়েল লাগাবার আগে মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। চোখে যেন কোনওরকম মেক-আপ না থাকে। একটি পরিষ্কার মাসকারা ব্রাশ ক্যাস্টর অয়েলে ডুবিয়ে চোখের পাতায় লাগান এবং সারারাত চোখের পাতায় লাগিয়ে রেখে দিন। সকালে উঠে গোলাপ জল দিয়ে অথবা মেক-আপ ওয়াইপস দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।

কাশ্মীর ভ্রমণ পথে (পর্ব ০১)

কাশ্মীর ভ্রমণ বলতেই সকলের মুখে মুখে যে শব্দগুলো ঘুরপাক খায় তা হল—  বরফে ঢাকা গুলমার্গ, সোনমার্গ, পহেলগাঁও-এর মতো পাহাড়; আপেলখেত, আখরোট, পেস্তা, স্ট্রবেরি, চেরি, টিউলিপ-এ ভরা একের পর এক বাগান। আর এই সবকিছুর মধ্যমণি ডাল লেক। কাশ্মীর ভ্রমণের এইসব বহুল চর্চিত বিষয়াবলির সবিশেষ বিবরণ দিতে গেলে, প্রয়োজন সুদীর্ঘ এক পরিসরের। কাশ্মীর ভ্রমণকালে দর্শন প্রাপ্তি হয়েছে, এমন এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বেশ কয়েকটা জায়গার কথা আজ বলব যা প্রথাগত সফরসূচির মধ্যে অনেকে রাখেন না।

ডাল লেক

শ্রীনগরের প্রাণভোমরা ডাল লেকের বুকে শিকারা ভ্রমণ করতে করতে যেদিকেই চোখ যাক না কেন,, সকলেরই নজরে পড়বে বরফাচ্ছাদিত পীর পাঞ্জাল পর্বতমালার সারি। সেই ডাল লেকের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে সুবিশাল এক দুর্গ মাথায় নিয়ে, মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে ‘হরি-পর্বত’। আর তার ঠিক বিপরীত প্রান্তে রয়েছে “জাবারওয়ান’ পর্বত। যার মাথায় দাঁড়িয়ে থাকা ‘শঙ্করাচার্য মন্দির’ বহু দূর থেকে দেখলেও কারও নজর এড়ায় না। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম, ডাল লেকের ধারে কাছে যে-কটা এমন দর্শনীয় স্থান আছে, সর্বাগ্রে তা দেখে নেওয়ার।

নির্ধারিত দিনে হোটেল থেকে প্রাতঃরাশ সেরে একটা এসইউভি গাড়িতে চড়ে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়লাম শ্রীনগর সংলগ্ন অঞ্চলের কয়েকটা ধর্মীয় স্থান দর্শনের উদ্দেশ্যে। আমাদের প্রথম গন্তব্য স্থল নির্ধারিত হল ‘হজরতবাল’ মসজিদ। শ্রীনগরের ডাউনটাউন অঞ্চল ছেড়ে দু-কদম এগোতেই পুরাতন শ্রীনগরের ‘নওহাট্টা’ অঞ্চলে নজরে পড়ল “জামা মসজিদ’। বসির জামা মসজিদের সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিয়ে, মসজিদের সবিশেষ তথ্যাবলি পেশ করতে শুরু করল।

নওহাট্টা-জামা মসজিদ

সুবিশাল এক অঞ্চল জুড়ে ‘ইন্দো-ইসলামিক’ স্থাপত্যের এক অপরূপ নিদর্শন হিসাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই জামা মসজিদ। তিনশো চুরাশি ফিট দৈর্ঘ্য এবং তিনশো একাশি ফিট প্রস্থ সম্বলিত এই মসজিদের চারদিকে রয়েছে চারটে পিরামিড-সদৃশ গম্বুজ-সহ তোরণ। যার ভিতরে রয়েছে ৩৭১ টি দেওদার কাঠের স্তম্ভের উপরে নির্মিত সুবিশাল এক নামাজ পড়ার কক্ষ। যেখানে একসঙ্গে প্রায় তেত্রিশ হাজার ভক্ত নামাজ পড়ে প্রতি শুক্রবার।

১৩৯৪ সালে এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন সুলতান সিকান্দর। তবে ১৮১৯ সাল থেকে ১৮৪৬ সাল পর্যন্ত একুশ বছরব্যাপী শিখ রাজত্বের সময় মহারাজা রণজিৎ সিং-এর দেওয়ান মতি রামের নির্দেশে এই জামা মসজিদে প্রার্থনা সভা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছিল। এছাড়া, এই জামা মসজিদ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে পবিত্র চিরপ্রসিদ্ধ এক প্রার্থনাক্ষেত্র হিসাবে পরিগণিত হয়ে এসেছে বরাবর। আমাদের পরিভ্রমণ কালে, মসজিদে প্রবেশাধিকার না থাকায়, বাইরে থেকেই মসজিদ সংক্রান্ত তথ্যাদি আহরণে তৃপ্ত হয়ে, আমাদের এগিয়ে যেতে হল ‘হজরতবাল মসজিদ’ দর্শনের উদ্দেশ্যে।

হজরতবাল

ডাল লেকের উত্তর পশ্চিম প্রান্তে ঘিঞ্জি এক জনবহুল অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘হজরতবাল মসজিদ। মসজিদের প্রবেশ পথে বসানো মেটাল ডিটেক্টটর ফ্রেম একটা রয়েছে বটে কিন্তু অধিকাংশ দর্শনার্থী বা পর্যটকই তার ভিতর দিয়ে প্রবেশের আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

শ্বেতশুভ্র মার্বেল পাথরে ঢাকা সুবিশাল মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢোকামাত্র, যে-কোনও মানুষের মন এক প্রশান্তিতে ভরে যাবে, এমনই সুন্দর এক পরিবেশ। প্রথানুসারে, সকল পুরুষরা পকেট থেকে রুমাল বের করে, মাথায় বেঁধে নিচ্ছে; আবার মহিলারা হয় তাদের আঁচল বা ওড়না জড়িয়ে নিচ্ছে মাথার উপর দিয়ে।

মুসলিমদের বিশ্বাস এই হজরতবাল মসজিদের ভিতরে হজরত মহম্মদের চুল (মৈ-এ-মুকদ্দস) সংরক্ষিত আছে। ডাল লেকের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত এই মসজিদ কাশ্মীরি মুসলমানদের কাছে পবিত্রতম এক মসজিদ বলে পরিগণিত। মোঘল সম্রাট শাহাজাহানের রাজত্বকালে, সপ্তদশ শতাব্দীতে সুবেদার সাদিক খান এই মসজিদের নির্মাণকার্য শুরু করেছিলেন।

যে স্মারকপাত্রের মধ্যে হজরত মহম্মদের ‘চুল’ সংরক্ষিত আছে, তা এদেশে নিয়ে আসেন ‘সৈয়দ আবদুল্লা মাদানি’ নামক হজরত মহম্মদের এক বংশধর। সৈয়দ আবদুল্লা মাদানি ১৬৩৫ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ ভারতের বীজাপুরে বসবাস শুরু করেন। তাঁর মৃত্যুর পরে, তাঁর অযোগ্য পুত্র সৈয়দ হামিদ, হজরত মহম্মদের ওই কেশ-পাত্র তাদের অন্যান্য সম্পত্তির সাথে প্রচুর অর্থের বিনিময়ে তুলে দেন খাজা নুরউদ্দিন ইশাহি নামক কাশ্মীরের এক ধনী ব্যবসায়ীর হাতে।

মোঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব এই সংবাদ জানতে পেরে প্রথমে নুরউদ্দিন ইশাহিকে গ্রেফতার করেন এবং তার থেকে হজরত মহম্মদের স্মারক কেশ-পাত্র উদ্ধার করে আজমীরের মৈনউদ্দিন চিস্তির কাছে প্রেরণ করেন। পরে সম্রাট ঔরঙ্গজেব ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে, স্বপ্নে স্বয়ং হজরত মহম্মদের নিকট থেকে এক নির্দেশ পাওয়ার পরে— ওই কেশ-পাত্র-সহ নুরউদ্দিন ইশাহির মৃতদেহ এই ‘হজরতবাল মসজিদ’-এ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন।

তবে বিদ্বজনেরা মনে করেন, ‘হজরত-বাল’ শব্দটা এসেছে ‘হজরত’ এবং ‘বাল’ নামক দুটি আরবি শব্দ থেকে। যার অর্থ যথাক্রমে ‘শ্রদ্ধেয়’ এবং ‘স্থান’; অর্থাৎ শ্রদ্ধার স্থান।

(ক্রমশ……)

পঠন-পাঠনের নীতিতেই যখন গলদ

কোটায় ১৫ থেকে ২২ বছর বয়সি প্রায় ২ লক্ষ তরুণ-তরুণী প্রতি বছর পড়তে যায় বাবা-মায়ের প্রচুর অর্থব্যয়ের বিনিময়ে। জেইই, নিট, আইএএস-এর মতো বহু পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্যই কোটার প্রসিদ্ধি, যাতে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা তথাকথিত নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে।

মা-বাবারা তাদের উচ্চাশার সোপান করে সন্তানের পঠন-পাঠনের জন্য এই ব্যয়ভার বহন করেন— কখনও আধপেটা খেয়ে, ব্যাংক ঋণ নিয়ে বা কখনও জমি বাড়ি বিক্রি করে। উদ্দেশ্য একটাই— সন্তান যাতে জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং বাবা-মা তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারেন। কোটায় প্রস্তুতিমূলক পঠন-পাঠনের সময় কেউ কেউ আবার মা-কেও সঙ্গে নিয়ে যায় যাতে পড়াশোনা চলাকালীন বাড়ির খাবার খাওয়ার সুবিধাও মেলে।

আমাদের দেশের যা জনসংখ্যা সেই অনুপাতে যত তরুণ তরুণী দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হয়, তাদের পরবর্তী পড়াশোনা চালানোর মতো প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এদেশে নেই। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার মান নেমে আসায়, সাধারণ মানুষ এগুলি থেকে মুখ ঘুরিয়ে, বেসরকারি দামি স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

প্রতি বছর দ্বাদশ উত্তীর্ণর সংখ্যাটা ১ কোটিরও বেশি। ২০২২-এ সংখ্যাটা ছিল ১ কোটি ৪৩ লক্ষ যার মধ্যে ১ কোটি ২৪ লক্ষ ছেলেমেয়ে পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়।

এই বিপুলসংখ্যক ছেলেমেয়েকে পঠন-পাঠনে সুযোগ দেওয়ার মতো ইনফ্রাস্ট্রাকচার সরকারের নেই। সরকারি মেডিকেল কলেজে তাই সিটের সংখ্যা মাত্র ৮,৫০০ এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কিন্তু ৪৭,৪১৫টি সিট থাকে এবং খরচও সেখানে আকাশছোঁয়া। সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ১৫,৫৩,৮০৯টি সিট কিন্তু আইআইটি-র মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানে মাত্র ১০,০০০-১২,০০০ সিট।

সরকারি আর্টস কলেজে তো আরওই খারাপ অবস্থা। সেখানে অর্ধেক দিন ছুটি, বাকি অর্ধেক দিন শিক্ষক অনুপস্থিত। এই যেখানে অবস্থা সেখানে কোচিং ইন্সটিটিউট তো রমরমিয়ে উঠবেই। মা-বাবারা সরকারি ব্যর্থতার শিকার। যেখানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যদি সঠিক পরিকাঠামো প্রদান করে তাহলে তার জন্য মোটা ফিজ-ও দিতে হবে পড়ুয়াদের। জেইই, নিট, ইউপিএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট বেরোলেই, সফল ছাত্রদের ছবিতে ভরে যায় সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপনী পাতা। মা-বাবারাও সেসব দেখে প্রভাবিত হয়ে তাদের সন্তানের জন্য এই সব প্রতিষ্ঠানে কোচিং করাতে উদ্যোগী হন।

দেশের ধনীদের জন্য রাজপথ তৈরি হবে, যেখানে ২০ লক্ষ টাকার গাড়ি চলবে কিন্তু গরিব মা-বাবার মেধাবী সন্তান সুযোগের অভাবে দিনমজুর হয়ে দিন কাটাবে— এটাই এদেশের রীতি।

মা-বাবাদের দোষ দেওয়া যায় না। তারা নিজেদের এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে যদি সৰ্বস্ব দিয়ে তাদের শিক্ষায় ব্যয় করেন এবং কৃতকার্য হতে না পারার শ্লাঘায় সন্তান যদি আত্মহত্যা করে— তাহলে আখেরে দোষ কার?

হাতে ময়েশ্চারাইজার লাগানো সত্ত্বেও ভীষণ রুক্ষ থাকে, কী করে হাত মোলায়েম রাখব?

হাতের ত্বকে অয়েল গ্ল্যান্ডস থাকে না, সুতরাং হাতে ক্রিম বা তেল সবসময় লাগানো উচিত। হাতের ত্বকের ময়েশ্চার ধরে রাখতে হাত ধোওয়ার পর সবসময় ভালো মানের থিক ক্রিম সারা হাতে ভালো করে লাগান। এটি ত্বকের ময়েশ্চার ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

কী সাবান দিয়ে হাত ধুচ্ছেন সেটাও অবশ্যই খেয়াল করবেন। বেশিরভাগ সাবানই হাত রুক্ষ করে তোলে। হাত ধোবার জন্য লিকুইড সোপ ভালো বিকল্প। রাত্রে শোবার সময় হাতে ভালো করে ভেসলিন মাসাজ করে শুলে ওভারনাইট ট্রিটমেন্ট হিসেবে এই প্রক্রিয়া উপকারে আসবে। শোবার সময় হাতে সুতির গ্লাস পরে শুতে পারেন।

আমার বয়স ১৬ বছর। আমার মুখে ছোটো ছোটো ফুসকুড়ি বেরিয়েছিল যেগুলো আমি খুঁটে দিয়েছিলাম। সেগুলিতে এখন দাগ হয়ে গেছে এবং দেখতে খুবই বিশ্রী লাগছে। ঘরোয়া কী উপায় অবলম্বন করে এই দাগ কমানো যেতে পারে এবং একই সঙ্গে মুখের গ্লো ফিরিয়ে আনা যাবে?

মুখের ফুসকুড়ি খুঁটে দিলেই সাধারণত সেখানে বিশ্রী দাগ হয়ে যায়। বাড়িতে সকাল-সন্ধে ভালো করে মুখ পরিষ্কার করে এএইচএ সিরাম মুখে ভালো করে মাসাজ করতে পারেন। এতে দাগ অনেকটাই কমে যাবে। কিন্তু এতে যদি কোনও উপকার না পান তাহলে মাইক্রোডার্মা অ্যাব্রেজর বা লেজার থেরাপি করাতে পারেন। এই থেরাপিতে লেজারের রশ্মি দিয়ে ত্বককে রিজেনারেট করে নতুন রূপ ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর ইয়ং স্কিন মাস্ক-এর সাহায্যে ত্বকের গ্লো ফিরিয়ে আনা হয়।

ওয়্যাক্সিংএর পর লাল লাল দাগে আমার ত্বক ভরে যায়। ত্বকের অবাঞ্ছিত রোম দূর করতে কী উপায় অবলম্বন করতে পারি ?

ওয়্যাক্সিং-এর আগে অ্যান্টি অ্যালার্জিক ট্যাবলেট খেয়ে নিতে পারেন। সাধারণত এই সমস্যা থেকে বরাবরের জন্য রেহাই পেতে পাল্স লাইট ট্রিটমেন্ট করানো যেতে পারে। এটি ইটালিয়ান টেকনোলজি যেটি কিনা অবাঞ্ছিত রোম দূর করার সবথেকে সুরক্ষিত, দ্রুত এবং ব্যথারহিত একটি বিকল্প সমাধান। আন্ডারআর্ম রোম রিমুভ করতে লেজার বেশি কার্যকরী।

এই ট্রিটমেন্ট-এ কয়েকটি সিটিং-এর পরেই রোম দৃশ্যত গায়েব হয়ে যায়। ৮০ শতাংশ রোম উঠে যায় এবং বাকি রোম এতটাই পাতলা এবং হালকা রঙের হয়ে যায় যে সহজে দৃষ্টিগোচর হয় না।

তারকাদের বিয়ের সাজ-পোশাক: আলিয়া ভট্ট এবং রণবীর কপুর

বিয়ের দিনে সবার নজর কাড়তে এবং দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আপনার পোশাক এবং মেক-আপ হোক চিত্রতারকাদের মতো। আপনাকে সাহায্য করতে তুলে ধরা হচ্ছে বলিউড সেলেবদের ওয়েডিং লুকস-এর খুঁটিনাটি।

ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই অন্যতম পোশাক হিসাবে বিবেচিত হয় শাড়ি এবং লেহেঙ্গা চোলি। বিশেষ কোনও অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে এই পোশাক পরলে আপনি যেমন ঐতিহ্য বজায় রাখতে পারবেন, ঠিক তেমনই ভিন রাজ্যের সংস্কৃতির প্রতি আপনার সংবেদনশীল মানসিকতার পরিচয়ও বহন করবে। তবে ভারতীয় নারীরা কোনও বিশেষ অনুষ্ঠানে পরার জন্য শাড়িকেই রাখেন প্রথম পছন্দের তালিকায়। আর উপলক্ষ্য যদি বিয়ে হয়, তাহলে তো কথা-ই নেই— শাড়ি মাস্ট। অবশ্য যে-সব যুবতিদের বিবাহ আসন্ন তারা তাদের পোশাক নিয়ে কিংবা ব্রাইডাল লুকস নিয়ে কিছুটা চিন্তিত থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। আপনাদের গাইড করতে এখানে তুলে ধরা হচ্ছে চলচ্চিত্র তারকা আলিয়া ভট্ট এবং রণবীর কপুরের বিয়ের সাজ-পোশাক বা ওয়েডিং লুকস।

আলিয়া ভট্ট

আলিয়া ভট্ট এবং রণবীর কপুর তাদের বিয়ের জন্য বেছে নিয়েছিলেন হালকা রং-এর পোশাক। অধিকাংশ কনেরা যেখানে লাল কিংবা মেরুণ রং-এর শাড়ি বেছে নেন বিয়ের জন্য, সেখানে আলিয়া বেছে নিয়েছিলেন আইভরি এবং গোল্ড কালার। সব্যসাচী-র ওয়েডিং-স্পেশাল ফ্লোরাল ডিজাইন শাড়িতে তাঁকে মানিয়েছিলও দারুণ। পরে তিনি ওই বিয়ের শাড়ি পরেই যোগ দিয়েছিলেন এক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে। আসলে তাঁদের বিয়ের থিম-ই ছিল আইভরি অ্যান্ড গোল্ড। আলিয়া এবং রণবীর— এই দুই রং-এর পোশাকে সবার নজর কেড়ে নিয়েছিলেন।

বিয়ের দিন শাড়ির সঙ্গে কানের দুল, চুড়ি, টিকলি, ঢোকার প্রভৃতি গয়নায় শোভিত হয়েছিলেন আলিয়া। আর বিয়ের দিনে সব থেকে বেশি যা নজর কেড়েছিল, তা হল তাঁর খোলা চুল। বিয়ের দিনে সাধারণত খোলা চুলে প্রায় কাউকে দেখা যায় না, তাই বলা যায় আলিয়া ব্যতিক্রমীরূপে দেখা দিয়েছিলেন। মাথায় চেলির সঙ্গে ওই সিম্পল হেয়ার-স্টাইল আরও সুন্দরী করে তুলেছিল আলিয়াকে।

জীবনের মূল্যবান অধ্যায় অর্থাৎ বিয়ের দিনে নিখুঁত মেক-আপ এবং প্যাস্টেল পোশাকে আলিয়া হয়ে উঠেছিলেন একেবারে অনন্যা। তাঁর দুই গালে হালকা গোলাপি আভা তাঁকে করে তুলেছিল আরও মোহময়ী। আর আলিয়াকে এই নজড়কাড়া রূপ দিয়েছিলেন সেলেব্রিটি মেক-আপ আর্টিস্ট পুনীত বি সাইনি।

সুবর্ণরেখার তীরে (পর্ব-০১)

দ্রোণের ডেরা— দেরাদুন থেকে ট্রেনিং শেষ করার পরে বাড়ির সাথে শিবনাথের দূরত্বটা ক্রমশই যেন বেড়ে চলেছে। আত্মীয়স্বজনবিহীন মধ্যপ্রদেশের নাম না-জানা জঙ্গলের মধ্যে পড়ে থাকতে আর ভালো লাগছে না তার। অনেক চিঠিপত্র লেখালেখি করা সত্ত্বেও কিছুতেই কিছু হল না। শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশের বনানীই তাকে ছাড়তে চাইল না।

আশা ছিল বাড়ির কাছাকাছি লোহারডাগা বা গুমলায় না হোক, ছোটোনাগপুর অঞ্চলের কোথাও হয়তো তাকে পাঠাতে পারে৷ কিন্তু বৃথা অরণ্যে রোদন। এখন তো মনে হচ্ছে চাকরিটাই তার গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। জঙ্গলের প্রতি একটা নিদারুণ ঘেন্না ধরে গিয়েছে! এই লোভনীয় চাকরিটাকে সে আর কোনও মতেই চাকরি বলে আখ্যা দিতে পারছে না। মনে হচ্ছে যেন নির্বাসন। কেন যে লোকে সাধ করে বনে-জঙ্গলে বেড়াতে আসে শিবনাথের সেকথা মাথাতেই ঢোকে না।

সময়-অসময়ে প্রায়ই বাড়ির জন্যে মনটা এমন ছটফট আর আনচান করতে থাকে যে, তখন কোনও কিছুর লোভ দেখিয়েও তাকে পোষ মানানো যায় না। তখন দৃষ্টির সীমারেখার মধ্যে যাবতীয় সবকিছুই যেন চকিতে ঝাপসা হয়ে যায়। নিজেকে তখন বড়ো একাকী আর অসহায় বোধ হয়।

আজ বহু বছর পরে পুজো উপলক্ষে ছুটি নিয়ে সে বাড়ি যাচ্ছে রাঁচিতে। কথাটা ভাবলেই যেন মনটা আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠছে। এরই নাম বোধহয় গৃহগত প্রাণ। মা-বাপের স্নেহচ্ছায়ায় যাদের দিন কাটে এই আনন্দ তাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। ব্যাপারটা তাদের কাছে যেমন অহেতুক তেমনই অকল্পনীয়ও বটে।

তখনও অন্ধকার। সমস্ত চরাচর নিঃস্তব্ধ নিঝুম। কেবলমাত্র গাড়ির ইঞ্জিনের অবিশ্রাম শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যাচ্ছিল না। রাতের ঘুম কে যে কেড়ে নিয়েছিল, তা হলফ করে বলা যাবে না। শিবনাথ গাড়ির জানলার ধারে বসে বাইরের দিকে অন্যমনস্ক ভাবে এক দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল কেবল। অন্ধকারে মাঝেমধ্যে জোনাকির আলোয় তার একাগ্রতায় বাধা পড়ছিল।

তারপর অন্ধকার একটু পাতলা হয়ে গেলে পরে চারিদিক নিপুণ শিল্পীর হাতে সদ্য আঁকা ছবির মতো প্রকৃতির নয়নাভিরাম রূপ চোখের সামনে ফুটে উঠেছিল। যদিও রাঁচি শহরের বহুদূর পর্যন্ত বনানী এক প্রকার অদৃশ্য হয়ে গেলেও এখনও যা অবশিষ্ট আছে তা অতিশয় নয়নমুগ্ধকর। শুধু তাই নয়, অন্য কোথাও যার সন্ধান মেলে না তা আছে ছোটোনাগপুর অঞ্চলের রাঁচি শহরে। পাদপ শ্রেণির কি নেই এখানে?

রাঁচি এবং তার আশেপাশে যে-সমস্ত বৃক্ষ দেখতে পাওয়া যায় তাদের মধ্যে আছে- – শাল, মহুয়া, কুসুম, পলাশ, কেঁদ, করঞ্জ, আমলকি, চালতা, হরিতকি, বট, অশ্বত্থ, শিমুল, কাঞ্চন, আম, জাম, বেল, কাঁঠাল, কুল, ডুমুর, তেঁতুল, বাঁশ, বকেন, কুর্চি, শিশু ইত্যাদি। আর আছে লম্বা ঘাস ও নানান জলজ উদ্ভিদ। মালভূমি রাঁচির পটভূমিকায় পাখির ছবি যেমন ফুটে ওঠে, তেমনটি বোধহয় আর অন্য কোথাও সম্ভব কিনা বলা কঠিন।

রেল লাইনের দুই ধারে ঘন শালবন। নীচে খরস্রোতা নদী। পাহাড়গুলো ঘন সবুজে ঢাকা। মধ্যে মধ্যে ধানখেত আর মানুষের তৈরি কয়েকটা ‘ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড়’। শিবনাথ অবাক বিস্ময় ভরা শিশুর দৃষ্টি মেলে চারিদিকের সৌন্দর্য দু’চোখ ভরে কেবল পান করে নিচ্ছিল। লোকজনের কর্মব্যস্ততায় আর গাড়ির স্টেশনে থামার সংকেতে শিবনাথ সম্বিত ফিরে পায়। তাকিয়ে দেখে স্টেশনের মাথায় বড়ো বড়ো করে লেখা— মুরি। অর্থাৎ রাঁচি শহর এবার তার হাতের মুঠোয়। আর মাত্র কিছুক্ষণের পথ। আকাশটা মেঘাচ্ছন্ন। রাতেরবেলায় মুষল ধারায় বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে তাই চারিদিকে কেবল থই থই জল। তার রেশটুকু এখনও বজায় আছে। টিপ টিপ করে তখনও বৃষ্টি পড়ছিল।

হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে অজানা অচেনা একটি অপরিচিত ছেলেকে দেখে কেন যেন অতনুর কথা মনে পড়ে যায় শিবনাথের। হঠাৎ এইভাবে এত ভোরে অতনুর কথা মনে পড়ে যাওয়ার যে কী কারণ তা ভেবে পায় না সে। কিছুক্ষণের বিরতি। তারপর আবার গাড়ি ছাড়ার যান্ত্রিক সংকেত। গাড়ি পুনর্বার ধীর গতিতে এক পা, এক পা করে চলতে শুরু করে। ঠিক সেই মুহূর্তে একটু আগেই যার কথা ভাবছিল শিবনাথ, সেই অতনুই ধূমকেতুর মতো বৃষ্টির মধ্যে ছুটে এসে তারই কামরার হাতল ধরে ভেতরে প্রবেশ করে।

অক্টোবর মাস। পুজো আসন্ন। বৃষ্টির ফোঁটাগুলো জানলায় আছড়ে পড়ে শিবনাথের চোখে-মুখে এসে লাগছে তাতে অবশ্য শিবনাথের কোনও ক্ষতি হচ্ছিল না বরং ভালো লাগছিল তার। মনপ্রাণ দিয়ে সে উপভোগ করছিল ব্যাপারটা। অনেকদিন পরে সে চেনা মাটির ভেজা গন্ধ পাচ্ছিল। সেই অবসরে বুক ভরে সে শ্বাস নিচ্ছিল জোরে জোরে। স্টেশন চত্বর ছাড়িয়ে গাড়ি অনেকটা এগিয়ে এসেছিল। দৃষ্টির সীমারেখার মধ্যে চারিদিক কেবল জনমানবশূন্য সবুজে ঢাকা প্রান্তর আর মাঝেমধ্যে যুগ-যুগান্তরব্যাপী সৃষ্টির সনাতন সাক্ষীস্বরূপ বয়ঃবৃদ্ধ বিশাল বিপুল আকারের পর্বতরাশি। কামরাটা আগের তুলনায় অনেক ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল।

অন্য স্বাদে উদযাপন করুন পয়লা বৈশাখ

পয়লা বৈশাখকে ঘিরে বাঙালি তথা আপামর বাংলার মানুষ মেতে ওঠেন এক অন্যরকম আনন্দে। নতুন পোশাক আর সাজগোজের পরে যে বিষয়টি প্রাধান্য পায়, তা হল—খাওয়া-দাওয়া। বাংলা বছরের নতুন এই দিনটিকে কেন্দ্র করে বন্ধু কিংবা আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত কাটে হইহুল্লোড়ে। আর এই হইহুল্লোড়ের মধ্যে গল্প এবং আড্ডার পরে অবশ্যই প্রাধান্য পায় সুস্বাদু কিছু খাওয়ার বিষয়টি।

এখন বেশিরভাগ মানুষই প্রতিদিন কর্মব্যস্ত থাকেন। তাই প্রত্যেকে মুখিয়ে থাকেন কোনও ছুটি কিংবা উৎসব-অনুষ্ঠানের দিনের জন্য। আসল কথা হল, নানান বাহানায় কর্মব্যস্ত জীবনকে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও উপভোগ্য করে তোলা।

প্রকৃতিগত ভাবেই মানুষ খেতে ভালোবাসে। আসলে সুস্বাদু কিছু খাওয়ার মধ্যেই এক অন্যরকম তৃপ্তি পাওয়া যায়। বিশেষকরে বাংলার মানুষ একটু বেশি খাদ্যরসিক। বাড়ির মেয়েরা তো উৎসব-অনুষ্ঠানে ভালো এবং নতুন কোনও খাবার বানিয়ে যেমন আনন্দ পান, ঠিক তেমনই নতুন কোনও খাবার প্রিয়জনদের খাইয়ে নিজেদের ধন্য মনে করেন।

এমন অনেক খাবার আছে, যেগুলো আমাদের ঠাকুমা, দিদিমারা বানাতেন এবং আমরা সেসব খাবার খেয়ে চরম তৃপ্তি পেতাম। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন আর বাড়িতে সময় নিয়ে খাবার বানানোর রীতি রেওয়াজ প্রায় নেই বললেই চলে। তাই রেস্তোরাঁর থেকে খাবার খেয়েই আমরা রসনা তৃপ্তি করি। কিন্তু সবার তো আর আর্থিক সামর্থ সমান নয়, তাই ইচ্ছে থাকলেও রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাবার খাওয়ার উপায় থাকে না। আর এই আর্থিক বিষয়টি মাথায় রেখে অনেকে সারাবছর কিছু টাকা জমিয়ে রাখেন রেস্তোরাঁয় বসে ভালো কিছু খাবারের স্বাদ উপভোগ করার জন্য। অবশ্য খাবার ঘরোয়াই হোক কিংবা রেস্তোরাঁর, প্রয়োজন নতুন স্বাদের ভালো খাবার। আর এসব কথা মাথায় রেখেই এবারের বাংলা নববর্ষের আগে জেনে নিন নতুন কিছু পদের খাবারের বিষয়ে।

পয়লা বৈশাখের স্পেশাল মেনু লঞ্চ উপলক্ষ্যে কলকাতা-র পোলো ফ্লোটেল-এর জেনারেল ম্যানেজার সৌমেন হালদার জানিয়েছেন, ‘প্রতিটি বাঙালি পরিবারের হৃদয়ে রয়েছে খাঁটি ঘরোয়া স্বাদের স্মৃতি, যা ঐতিহ্য এবং ভালোবাসাকে ফিরিয়ে দেয়। যা এই দ্রুত গতির বিশ্বে খুব কমই পাওয়া যায়। এই পয়লা বৈশাখে, শুধুমাত্র হারিয়ে যাওয়া রেসিপিগুলির স্বাদই নয়, বরং ঠাকুমা-দিদিমাদের উত্তরাধিকারকে লালন করার সুযোগও করে নেওয়া উচিত। কারণ, তারাই আমাদের রন্ধনসম্পর্কীয় ঐতিহ্যকে যুগে যুগে সংরক্ষণ করেছেন। এই ভুলে যাওয়া খাবারগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে, আমরা সেই মহিলাদের ভালোবাসা, মহত্ব এবং সরলতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারি এই সুযোগে।’

ঐতিহ্যবাহী খাঁটি বাঙালি খাবারের পুরনো স্বাদ এবং স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারবেন আপনিও। অবশ্য এরজন্য আপনাকে পাতে রাখতে হবে নতুন কিছু পদের খাবার। এর মধ্যে রয়েছে মাংস-কিমার দই বড়া, পাতা মোড়া চিকেন,  চিকেনের রসোল্লা, মাংসের গড়গড়া, সাজা মাছ কিংবা সাত্ত্বিক সুক্তনি প্রভৃতি।

আসলে উল্লেখিত এই পদগুলির মধ্যেই লুকিয়ে আছে উপকরণ এবং প্রণালী। যেমন, মাংসের কিমার সঙ্গে দই-এর মিশ্রণ ঘটিয়ে তৈরি করা যায় মাংস-কিমার দই বড়া। তবে এই বিষয়ে আপনাকে একটা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনি যদি নতুন এই পদটি তৈরি করতে না পারেন, তাহলে আপনাকে রেস্তোরাঁয় যেতেই হবে। আসল বিষয় হল খেয়ে তৃপ্তি পাওয়া, সে ঘরে কিংবা বাইরে যেখানেই হোক।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব