ত্বকের জেল্লা বাড়াতে মেনে চলুন স্কিন-কেয়ার রুটিন

আধুনিক জীবনে দূষণের প্রভাব কোনও ভাবেই এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। বয়স এবং দূষণ— এই দুটি বিষয় আমাদের ত্বকের উপর কুপ্রভাব ফেলে সবচেয়ে বেশি। তাই, স্কিন কেয়ার রুটিন মেনে চলা শুরু করুন যাতে আপনার সৌন্দর্যে যোগ হয় এক আলাদা লাবণ্য এবং ঔজ্জ্বল্য।

এক্সফলিয়েট করুন: যদি আপনার ত্বকে ব্ল্যাক বা হোয়াইট হেডস বেশি চোখে পড়ে অথবা ত্বকের মৃত কোশের কারণে মুখশ্রী নিস্তেজ হয়ে আসছে মনে হয়, তাহলে এই পরিস্থিতি এড়াতে নিয়মিত ত্বক এক্সফলিয়েট করা একান্ত জরুরি। এর জন্য স্ক্রাব ব্যবহার করা যেতে পারে অথবা বাড়িতে নিজেই এক্সফলিয়েটর বানিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

এটি তৈরি করতে আপনাদের কিছু হাইড্রেটিং এবং ময়েশ্চারাইজিং উপাদান ও কিছু স্ক্রাব করার ইনগ্রিডিয়েন্টস-এর প্রয়োজন হবে। সপ্তাহে অন্তত দুবার স্ক্রাব করলেই যথেষ্ট। এর থেকে বেশিবার স্ক্রাব করলে ত্বকের ন্যাচারাল অয়েল কমে যাওয়ার ভয় থাকবে— যার ফলে ত্বক রুক্ষ এবং ড্রাই হয়ে যেতে পারে।

দাগছোপ থেকে ত্বককে মুক্ত রাখুন: যদি ত্বকে খুব বেশি ডার্ক স্পটস নজরে আসে এবং এটি আপনার মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার মনোভাব সৃষ্টি করে তাহলে সেটা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করবেন না। স্কিন কেয়ার রুটিন ফলো করে হ্যালুরনিক অ্যাসিড অথবা রেটিনল অ্যাসিড-এর মতো উপাদান প্রয়োগ করে দাগছোপ থেকে মুক্ত রাখতে পারেন ত্বককে।

যদি মনে করেন ত্বকের ধরন অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন এসেন্সিয়াল অয়েল। অ্যান্টিস্পট ময়েশ্চারাইজার বাছুন যা দেবে আপনাকে লাইটনিং ট্রিটমেন্ট। যদি সারাদিনে ২বার এই ধরনের সিরাম ব্যবহার করেন তাহলে খুব শিগগির হাতেনাতে ভালো ফল পাবেন।

স্কিন সাইক্লিং: সারা সপ্তাহ বাড়ি অফিসের কাজ করতে করতে ত্বক প্রচণ্ড ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুতরাং ত্বক রিজুভিনেট করতে স্কিন সাইক্লিং মেনে চলা উচিত। সপ্তাহে ৪দিন এই রুটিন আপনি মেনে চলতে পারেন যার পরে ত্বক সম্পূর্ণ সেরে উঠবে। এই রুটিনে প্রথম রাতে ত্বক এক্সফলিয়েট করতে হবে। এর জন্য কেমিক্যাল এক্সফলিয়েট ব্যবহার করা যেতে পারে। দ্বিতীয় দিনে রেটিনল-যুক্ত প্রোডাক্ট ত্বকে প্রয়োগ করতে হবে।

তৃতীয় এবং চতুর্থ রাত ত্বকে কিছু করার দরকার নেই। কারণ এই সময়ে ত্বক নিজেই নিজের সুরক্ষা বলয় রচনা করে। শুধুমাত্র এই সময় ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। যারা খুব সহজ এবং কার্যকরী স্টেপ ফলো করতে চায় ত্বকের যত্ন নিতে, তারা এই স্টেপগুলি মেনে চলতে পারেন।

আমার ৫ বছরের বিবাহিত জীবনে ৩ বার গর্ভপাত হয়ে গেছে। আমার পক্ষে কি আর মাতৃত্বলাভ সম্ভব ?

গর্ভধারণ যখন করতে পারছেন, তার মানে আপনি বন্ধ্যাত্বর শিকার নন। অবশ্যই আপনি মাতৃত্ব অর্জন করতে পারবেন। অনেক কারণে গর্ভপাত হতে পারে যেমন— বংশগত সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, সংক্রমণ, ভ্রুণ নির্মাণে বিকৃতি এবং ইমিউনোলজিকাল এবং পরিবশের কারণে। সুতরাং সঠিক কারণ পরীক্ষা করিয়ে এবং জীবনশৈলী শোধরানোর সঙ্গে অবশ্যই সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে আপনি মাতৃত্বের স্বাদ পেতে পারেন।

  • আমার ফ্যামিলিতে সময়ের আগে মেনোপজ হওয়ার সমস্যা রয়েছে। আমার দিদা, মা সকলেরই ৪০ বছর বয়সের আগেই মেনোপজ হয়ে গিয়েছিল। এই মুহূর্তে আমি কেরিয়ার গঠনে ব্যস্ত সুতরাং এখনই ফ্যামিলি প্ল্যানিং করতে চাইছি না। আমার কী করা উচিত?

আর্লি মেনোপজের ক্ষেত্রে বংশানুক্রমে চলে আসা এই সমস্যা যথেষ্ট গরুত্বপূর্ণ। মেনোপজ হওয়ার পর স্বাভাবিক গর্ভধারণ সম্ভব নয়। এই ক্ষেত্রে আপনি অ্যাসিসটেড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনিক (এআরটি)-এর সাহায্য নিতে পারেন অথবা নিজের ডিম্বাণু আগে থেকে ফ্রিজ করিয়ে রেখে দিতে পারেন, যা আইভিএফ চলাকালীন ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও ডোনার এগ ব্যবহার করেও আইভিএফ করাতে পারেন।

  • আমি ৩ মাসের গর্ভবতী। সি সেকশন ডেলিভারিতে আমার খুব ভয়। অন্য কোনও উপায় আছে কি, যেটা প্রয়োগ করে সি সেকশন ডেলিভারির আশঙ্কা কম করা যেতে পারে?

মাতৃত্ব সব মায়ের কাছেই একটা সুখের অনুভূতি। কিন্তু প্রসবের সময় যত এগিয়ে আসতে থাকে, স্বাভাবিক ভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে নর্মাল ডেলিভারি হবে, নাকি সিজারিয়ান? এমনিতে প্রথম থেকে কিছুই বলা যায় না কিন্তু কতকগুলো ব্যাপার আছে যেগুলোর খেয়াল রাখলে নর্মাল ডেলিভারি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। বিশেষ ভাবে খাওয়া-দাওয়ার খেয়াল রাখুন, পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খান, অবসাদ দূরে রাখুন, মেডিটেশন করুন এবং সঠিক ডাক্তার নির্বাচন করুন। নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন। উপযুক্ত ব্যায়াম করলে আপনার শরীর নর্মাল ডেলিভারির কষ্ট সহ্য করার জন্য তৈরি থাকবে। তবে ডাক্তারের পরামর্শ মতোই এক্সারসাইজ করা বাঞ্ছনীয়।

রিউম্যাটিক এবং অটোইমিউন সংক্রান্ত রোগের সঠিক চিকিৎসা

রিউম্যাটিক এবং অটো ইমিউন রোগীদের উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য পূর্ব ভারতে প্রথম শুরু হতে চলেছে বিশেষ স্বাস্থ্য পরিষেবা। ‘এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইমিউনোলজি অ্যান্ড রিউমাটোলজি’ (এআইআইআর) সেন্টারটি কলকাতা-য়  চালু করার কথা আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা হল রাসেল স্ট্রিট অঞ্চলে অবস্থিত বেঙ্গল ক্লাব-এ। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ‘এআইআইআর’-এর (AIIR) লোগো লঞ্চ করেন কলকাতা-র মেডিক্যাল কলজের প্রাক্তন এইচওডি (মেডিসিন) প্রফেসর ডা. সুকুমার মুখোপাধ্যায়, ‘সুরক্ষা ডায়াগনস্টিকস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর ডিরেক্টর ডা. সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, ‘এআইআইআর’-এর ডিরেক্টর ডা. পার্থজিৎ দাস এবং ‘এআইআইআর’-এর আকাদেমিক ডিরেক্টর ডা. অর্ঘ্য চট্টোপাধ্যায়। এই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের জানানো হয়, চলতি বছরের মে মাসে এই ইনস্টিটিউটটি উদ্বোধন করা হবে।

এই বিশেষ উদ্যোগের সহায়ক স্বাস্থ্যসেবা ব্র্যান্ড ‘সুরক্ষা ডায়াগনস্টিকস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর ডিরেক্টর ডা.  সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, ‘এই উদ্যোগের লক্ষ্য,  রিউম্যাটিক এবং অটোইমিউন সংক্রান্ত রোগের উন্নত এবং আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ করে দেওয়া।’

ডা. সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন, ‘অটোইমিউন রোগগুলি বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে প্রভাবিত করে চলেছে। বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৪ শতাংশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮ শতাংশ মানুষ এই রোগের শিকার। যাইহোক, ভারত সহ বিশ্বের অনেক জায়গায় সচেতনতা এবং বিশেষ যত্নের অভাব রয়েছে। এই সমস্যা সত্ত্বেও,  AIIR ইমিউনোলজি এবং রিউমাটোলজিতে অতুলনীয় দক্ষতা এবং যত্ন প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সারা দেশে রোগীদের জন্য AIIR একটি ওয়ান-স্টপ সলিউশন অফার করছে।’

এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইমিউনোলজি অ্যান্ড রিউমাটোলজি (এআইআইআর) কলকাতা-র রাজারহাটে শুরু করতে চলেছে এই বিশেষ স্বাস্থ্য পরিষেবা। এই উদ্যোগটির অংশীদার ‘সুরক্ষা ডায়াগনস্টিকস প্রাইভেট লিমিটেড’। রিউম্যাটিক এবং অটো ইমিউন রোগীদের চিকিৎসার জন্য এটি পূর্ব ভারতের প্রথম  ইনস্টিটিউট বলে দাবী করেন ‘এআইআইআর’-এর চিকিৎসকরা। এই কেন্দ্র থেকে রোগীদের চিকিৎসার জন্য ৪০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিযুক্ত থাকবেন।

‘এআইআইআর’-এর ডিরেক্টর ডা. পার্থজিৎ দাস প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, ‘রিউম্যাটিক এবং অটো ইমিউন রোগীদের বিশেষ যত্ন নেওয়া হবে এখানে। মাসল ইমেজিং থেকে পালমোনোলজি এবং নিউরোলজিতে বিশেষ পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। ডে-কেয়ার সেন্টার এবং তত্ত্বাবধানে থাকা ইমিউনোথেরাপির পাশাপাশি, বহির্বিভাগের রোগী এবং  ক্লিনিকগুলির মাধ্যমে,  প্রত্যেক রোগীকে ব্যক্তিগত এবং সামগ্রিক যত্ন প্রদান করার চেষ্টা করা হবে। AIIR সকলের জন্য অ্যাক্সেসযোগ্য এবং উচ্চ-মানের পরিষেবা নিশ্চিত করবে।’

‘এআইআইআর’-এর আকাদেমিক ডিরেক্টর ডা. অর্ঘ্য চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘AIIR-এ বহুমুখী পদ্ধতির মাধ্যমে বাতজনিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রোগ-নির্দিষ্ট করা, চিকিৎসা  কর্মশালা এবং অনলাইন-এও অ্যাডভাইস দেওয়া হবে।’

AIIR কলকাতার রাজারহাটে অবস্থিত, অটোইমিউন রিউম্যাটিক রোগের সঙ্গে লড়াই করা তরুণ এবং প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন মেটাবে বলে জানিয়েছেন এই ইনস্টিটিউট-এর সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকরা। ক্লিনিকাল পরিষেবার বাইরে, AIIR শিক্ষা, গবেষণা প্রভৃতি উদ্যোগ নেবে বলেও জানানো হয়েছে। নেফ্রোলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, হেপাটোলজি, নিউরোলজি এবং আরও অনেক কিছু সহ প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশু উভয়ের জন্য চিকিৎসার সুব্যবস্থা করবে বলেও জানিয়েছেন ‘এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইমিউনোলজি অ্যান্ড রিউমাটোলজি’-র(এআইআইআর) চিকিৎসকরা।

ওভারিতে সিস্ট আছে, কী করা উচিত?

অনেক কারণেই ওভারিতে সিস্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এর সবথেকে প্রধান কারণ হল মেনোপজ। এছাড়াও পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম, এন্ডো মেট্রিয়োসিস, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, ক্রনিক পেলভিক ইনফ্ল্যামেশন, টিউমারও এটির কারণ হতে পারে। সাধারণত আকারে ৪ সেন্টিমিটারের কম সিস্ট হয়ে থাকলে সেটা নিজে থেকেই সেরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আকারে বড়ো এবং জটিলতা থাকলে সিস্ট সারাবার জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। সাধারণত ওভারিয়ান সিস্ট থেকে ক্যানসার হয় না। কিন্তু মাঝেমধ্যে এর থেকে ক্যানসার হতে দেখা যায়। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেনোপজের পর যে মহিলাদের ওভারিয়ান সিস্ট হয়ে থাকে তাদের ওভারিয়ান ক্যানসার হওয়ার ভয়ও বেড়ে যায়।

বাবার লিভার ক্যানসার এবং মায়ের ব্রেস্ট ক্যানসার ছিল। আমি শুনেছি ভবিষ্যতে পরিবারের অন্য কোনও সদস্যেরও এই রোগ হতে পারে। আমার বয়স এখন ৩২। ক্যানসার থেকে বাঁচতে কী কী সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে?

বংশগত ভাবে এই রোগ পরিবারে হওয়ার রিস্ক সত্যিই আছে। মায়ের ব্রেস্ট ক্যানসার হয়ে থাকলে আপনার ক্ষেত্রে হওয়ার সম্ভাবনা ১২ থকে ১৪ শতাংশ বেশি। লিভার ক্যানসারের ক্ষেত্রেও বংশানুক্রমিক রোগটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এর থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে শারীরিক ভাবে সক্রিয় থাকাটা খুব দরকার। ওজন কোনও ভাবেই বাড়াবেন না, অ্যালকোহল সেবন করবেন না, বাচ্চাকে স্তন্যপান অবশ্যই করাবেন। এছাড়াও গর্ভনিরোধক ট্যাবলেট খাবেন না, বিশেষ করে ৩৫ বছর বয়সের পর। মেনোপজের পর হরমোন থেরাপি কখনও করাবেন না।

ফাইব্রয়েডস-এর সার্জারি করাবার পরও কি দ্বিতীয়বার আবার এই সমস্যা দেখা দিতে পারে?

গর্ভাশয়ের দেয়ালের মাংসপেশি এবং সংযোগকারী টিস্যু দ্বারা গঠিত এই মাংসপিণ্ড ফাইব্রয়েডস নামে পরিচিত এবং এটি থেকে ক্যানসার হওয়ার কোনও সম্ভাবনা থাকে না। সার্জারির মাধ্যমে এটি বার করে দেওয়া হয়। এই সার্জারিটিকে মায়োমেক্টমি বলা হয়। সার্জারির পরেও আবার কারও ফাইব্রয়েডস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। এটি রোধ করার জন্য লবণ কম খেতে হবে, ব্লাডপ্রেশার নিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে, এক্সারসাইজ জরুরি, কোমরের আশেপাশে ফ্যাট জমতে দেওয়া চলবে না এবং পটাশিয়াম খাওয়া বাড়াতে হবে।

লিভ-ইন রিলেশনশিপ-এর ভবিষ্যৎ

লিভ-ইন রিলেশনশিপ-এর পক্ষে আমরা যা-ই লিখি কিংবা বক্তব্য রাখি না কেন, আজও এই ধরনের সম্পর্ক সঠিক ভাবে বৈধতা পায়নি। তাই, এই ধরনের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ ভয়ংকর-ই বলা যায়। এমনকী যে-দু’জনের মধ্যে এই সম্পর্ক গড়ে উঠছে, তারা নিজেরাও আপসে কোনও আইনি চুক্তি করতে পারে না।

অবশ্য লিভ-ইন রিলেশনশিপ-এ আরও একটি গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে, যদি তাদের কোনও সন্তান হয়। কারণ, এমন রিলেশনশিপ-এ বাচ্চার বায়োলজিক্যাল ফাদার-এর নাম নথিভুক্ত করতে চায় না মিউনিসিপালিটি, কর্পোরেশন কিংবা আদালত। অথচ সাধারণ বিবাহিত দম্পতির সন্তান যদি অন্য কারও স্পার্ম থেকেও হয়, তাহলে তা বৈধ ধরে নিয়ে সমস্ত আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়! এক্ষেত্রে স্পার্ম ডোনার-এর কোনও অধিকার বাচ্চার উপর না থাকলেও, আইনি মতে বিবাহিত দম্পতির অধিকার থাকে পুরোমাত্রায়।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এই যে, লিভ-ইন রিলেশনশিপ-এ থাকা মেয়েটির উপর পুরুষ যদি কোনও অন্যায় অত্যাচার করেও, তাহলে তার জন্য ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স-এর ধারা প্রয়োগ হয় না। এক্ষেত্রে শুধু আইপিসি-র সাধারণ ধারায় মারামারির কেস হতে পারে। এতে জামিন অযোগ্য ধারা যেমন প্রয়োগ করা যায় না, ঠিক তেমনই গ্রেফতারের কোনও নিশ্চয়তা থাকে না। আইনি পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের মধ্যে অনেকে লিভ-ইন রিলেশনশিপকে পছন্দ করেন না আবার অনেকে বিষয়টিকে তেমন কোনও গুরুত্বও দিতে নারাজ।

তাহলে কি লিভ-ইন রিলেশনশিপ-এর বিষয়ে কোনও আইন তৈরি হওয়া দরকার? ‘না’। কারণ, আইনি বৈধতা দিলেই তা সাধারণ বিয়ের মতোই হয়ে যাবে, যা লিভ-ইন রিলেশনশিপ-এ থাকা মানুষগুলো চান না। তবে এক্ষেত্রে কিছু চুক্তির বৈধতা দিলে হয়তো ভালো হবে বলে মনে করেন অনেকে। তাদের মতে, চুক্তি করা থাকলে কোনও কুমতলবি মহিলা, অন্তত পুরুষ সঙ্গীটির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যে অভিযোগ করতে পারবে না। সেইসঙ্গে, এই চুক্তির আরও একটা ভালো দিক আছে বলে মনে করেন অনেকে। যেমন— যৌথ ভাবে কেনা কোনও জিনিস দু’ভাগে ভাগ করে নিতে পারবেন যদি সম্পর্ক না টেকে। এছাড়া, চুক্তি থাকলে বিচ্ছেদের পর বাচ্চার দায়িত্ব উভয়কেই নিতে হবে এবং বাচ্চার সঙ্গে ভিজিটিং রাইটস-ও থাকবে পুরুষ সঙ্গীটির।

পুরাণে এমন লিভ-ইন রিলেশনশিপ-এর প্রচুর নিদর্শন আছে। এই যেমন মেনকা এবং বিশ্বামিত্র- র লিভ-ইন সম্পর্কের জেরে হওয়া সন্তান শকুন্তলা। এই শকুন্তলা আবার দুষ্মন্ত-র সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির পর পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। তবে ওই মিলনের পর দুষ্মন্ত-র সঙ্গে শকুন্তলা-র সাময়িক বিচ্ছেদ ঘটলেও, তিন বছর পর দুষ্মন্ত তাদের সন্তান ভরতকে আপন করে নিয়েছিলেন। তাই এই লিভ-ইন রিলেশনশিপ-কে পাপ বলা ঠিক হবে না। এই সম্পর্ক যেমন সামাজিক নয়, ঠিক তেমনই অনৈতিকও নয়। শাহ রুখ খান অভিনীত ‘জওয়ান’ ছবিতেও এমনই এক সম্পর্ককে তুলে ধরা হয়েছে। অমিতাভ বচ্চন এবং অভিষেক বচ্চন অভিনীত ছবি ‘পা’-তেও বিদ্যা বালনের সন্তান জন্ম নিয়েছিল লিভ-ইন সম্পর্কের জেরেই এবং দর্শকরা এই ছবি দেখে প্রশংসাও করেছেন। সভ্য এবং উদার সমাজে এমনটাই হওয়া উচিত। কিন্তু কিছু কট্টরপন্থি মানুষজন লিভ-ইন রিলেশনশিপ-কে মানতে চান না। কারণ তারা চায় মেয়েরা সীতার মতো লক্ষণগণ্ডির মধ্যে থাকুক।

সুবর্ণরেখার তীরে (পর্ব-০৩)

শিবনাথ প্রতিবাদ করে না। চুপ করে বসে অতনুর কথাগুলো মনে মনে আওড়াতে থাকে৷ সেই অবসরে অতনুর দৃষ্টি চলে যায় সুদূরের একটি পাহাড়ের চূড়ায়। একভাবে সেইদিকে তাকিয়ে বলতে থাকে— ওদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। ওরা বড়োই নিরীহ আর কঠোর পরিশ্রমী মানুষ। ওদের দেখলে আমার শুধু পিঁপড়েদের কথা মনে পড়ে যায়। পিঁপড়েদের মতো দু’দণ্ডের তবে এরাও কখনও স্থির থাকতে পারে না। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে শীত-গ্রীষ্ম বারোমাস এরা মাঠে ফসল ফলায়। ঘরের আশেপাশে বাহারি ফুলের গাছ লাগায়। ওদের ফুল খুব প্রিয়। ফুল পাতা দিয়ে মেয়েরা গয়না তৈরি করে। পাল পার্বণে ওরা ফুলের গয়না পরে নৃত্যগীতে মাতোয়ারা হয়। ভাবাই যায় না স্বাধীনতার প্রাক্কালে ওরা এক সময় অস্ত্র ধারণ করেছিল শয়তান ইংরেজদের বিরুদ্ধে। ওদের উপর কত অত্যাচার হয়েছিল! আমাদের বিদ্যাসাগর মহাশয় ওদের বড্ড ভালোবাসতেন। ওদের কাছ থেকে বেশি দামে ভুট্টা কিনে ওদেরই ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের বিলিয়ে দিতেন।

অনেকক্ষণ পরে শিবনাথ মুখ খোলে— এতেই বোঝা যায় মানুষে মানুষে কত তফাৎ। রাঁচির সাথে আমাদের দু’জনরেই সমান আত্মীয়তা অথচ তুই যেভাবে রাঁচিকে পর্যবেক্ষণ করিস আমি সেইদিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে। আমি শুধু দেখি বন, জঙ্গল, পাহাড় আর নদী। এর বাইরে আমার দৃষ্টিতে আর অন্য কিছু ধরা পড়ে না। আমার অভিজ্ঞতায় রাঁচি শহরটিকে একেবারে আর দশটা শহরের মতোই মনে হতো এতদিন। তোর কথায় আমার ভুল ভাঙল। আসলে আমি জগতের বিষয়বস্তুগুলি বিচার করি ইন্দ্রিয়ের দ্বারা। কিন্তু তুই বিচার করিস হৃদয় দিয়ে।

উত্তরে অতনু জানায়— শুধু বাইরের রূপ দেখেই ভুলে যাস না যেন। আগের তুলনায় রাঁচি এখন অনেকটাই পালটে গিয়েছে। খুবই নোংরা হয়ে গিয়েছে এর চরিত্র। এত নোংরা শহর পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি আছে কিনা বলা কঠিন। কথায় কথায় দিনে দুপুরে খুন, রাহাজানি আর বোম ছোড়াছুড়ি। এই শহর একেবারেই অশান্ত। রাঁচির গুন্ডাশাহি যে এখন কোন নিরঙ্কুশস্তরে গিয়ে পৌঁছেছে তা কল্পনাতীত। এই তো সেদিনের ঘটনা— দুটো গরু বাজারের মধ্যে ঢুকে শিং দিয়ে নিজেদের মধ্যে লড়াই করছিল। অতি সামান্য একটি তুচ্ছ ঘটনা। অথচ শহরব্যাপী রটে গিয়েছিল। হিন্দু-মুসলমানের রায়ট শুরু হয়ে গিয়েছে। এখনও সুবর্ণরেখার সোনালি জলে মরা মানুষের কঙ্কাল ভেসে যেতে দেখা যায়। সত্যি রাঁচি এক বিচিত্র শহর! মানুষে মানুষে এত হানাহানি আর সহ্য হয় না।

পরবর্তী স্টেশনের নাম নামকুম। গাড়ি যতই স্টেশনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে গতি ততই মন্থর হয়ে আসে। বোধহয় এতটা পথ দৌড়ে এসে গাড়ি যেন হাঁপিয়ে ওঠে। গাড়ির জানলার ধারে বসে দূরে বয়ে চলা সুবর্ণরেখা নদীকে তখন হৃষিকেশের গঙ্গার চেয়েও সুন্দর দেখায়। নদীর পারে বসে এত প্রত্যুষেও লোকদের কাপড় কাচতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে কেউ হয়তো দীর্ঘশ্বাস নেওয়ার অবসরে গাড়ির দিকে বিহঙ্গ দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। কেউ বা হয়তো ছিপের আগায় চারা ফেলে মাছ ধরার অপেক্ষায় ধ্যানস্থ। শিবনাথ নির্নিমেষ দৃষ্টিতে দু’চোখ মেলে প্রকৃতির টুকরো ছবিগুলি নিরীক্ষণ করছিল একমনে।

অতনু হঠাৎ একসময় চঞ্চল হয়ে ওঠে। এমন একটা ভাব যেন একটু দেরি হয়ে গেলেই তার সর্বনাশ হয়ে যাবে। নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে সে এক সময় দু’পায়ে উঠে দাঁড়ায়। তারপর একান্ত বিনীতস্বরে শিবনাথের কাছ থেকে বিদায় নিতে গিয়ে বলে ওঠে— এবার ওঠা যাক। আবার কখনও কোথাও কোনও একদিন দেখা হবে। হয়তো যমুনার কিনারে, কুতুবের মিনারে।

শিবনাথ অপ্রস্তুতের মতো চমকে উঠে জিজ্ঞাসা করে— সেকি! তুই রাঁচি যাবি না?

—না রে, কয়েক দিন হল আমি এখানেই আছি। অতনু জানায়।

—সরকারের গোলামি করছিস বুঝি এখানে থেকে? একটু থেমে শিবনাথ আবার বলে, যাই বল জায়গাটা কিন্তু অপরূপ। একেবার স্বর্গ!

অতনু হেসে জবাব দেয়— হ্যাঁ, ঠিক বলেছিস। It is better to serve in heaven than reign in hell.

—ঘরের ছেলে ঘরের কাছেই থাকিস। তোর মতো সৌভাগ্য ক’জনার? শিবনাথ মন্তব্য করে।

কথাটা শেষ হতেই অতনু দরজার দিকে ত্রস্ত পায়ে এগিয়ে যায়। ট্রেন লাইনের অনতি দূরেই ঘর বাড়িগুলো সব কাছাকাছি। সেই কারণে চেন টেনে গাড়ির গতিরোধ করার লোকের অভাব হয় না। হোঁচট খেতে খেতে গাড়ি একটু একটু করে এগোতে থাকে। অতনু কখন গাড়ি থেকে নামে তা দেখার আশায় শিবনাথ অপলক দৃষ্টিতে জানালা দিয়ে সেই দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু অতনুকে সে দেখতে পায় না। শিবনাথ মনে মনে আন্দাজ করে হয়তো উলটো দিকের দরজা দিয়ে সে নেমে গিয়েছে। এরপর গাড়ি সোজা রাঁচি জংশনে এসে দাঁড়ায়।

বাড়ির কাছাকাছি এসে রিকশাটা গলির দিকে বাঁক নিয়েই থমকে যায়। তার পক্ষে আর এগোনো সম্ভব হয় না। একটি প্রকাণ্ড বড়ো আকারের শামিয়ানা দিয়ে গলির যাতায়াতের রাস্তাটা অবরোধ করা। শিবনাথ অসন্তুষ্ট হয় মনে মনে। রিকশাভাড়া মিটিয়ে দিয়ে সে হাঁটতে শুরু করে হাতে স্যুটকেশ নিয়ে।

ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে দুই-একটা প্রাথমিক কুশলবার্তা বিনিময়ের অব্যবহিত পরেই একরাশ কৌতূহলের সঙ্গে জানতে চায়— ওদের বাড়ির সামনে শামিয়ানা কেন?

(ক্রমশ…)

মুক্তি পেতে চলেছে মানসী সিনহা পরিচালিত ছবি ‘এটা আমাদের গল্প’

মঞ্চ, ছোটোপর্দা এবং বড়োপর্দায় তিনি দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে এসেছেন নানারকম চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে। অসংখ্য মানুষ তাই তাঁর অভিনয়ের ভক্ত। প্রতিষ্ঠিত এই অভিনেত্রী মানসী সিনহা অভিনয় থেকে পরিচালনায় এসেছেন সম্প্রতি। তাঁর পরিচালনায় ‘এটা আমাদের গল্প’ শীর্ষক ছবির শুটিং শেষ হওয়ার পর পোস্টার এবং মিউজিক লঞ্চ হয়েছে ইতিমধ্যেই। আগামী ১৯ এপ্রিল (২০২৪) হার্ডরক ক্যাফে-তে ছবিটির ট্রেলার লঞ্চ হতে চলেছে আনুষ্ঠানিক ভাবে।

ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় এবং অপরাজিতা আঢ্য। তবে এই ছবির গল্প শুধু দুটি মানুষকে কেন্দ্র করে নয়। আরও  অনেক চরিত্রের গল্প বলে জানানো হয়েছে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। যারা এখনও সম্পর্কে বিশ্বাস রাখেন, তেমন অনেক মানুষের গল্পে আধারিত এই ছবি। এই কাহিনিতে দুটি সম্পূর্ন ভিন্ন সম্প্রদায়, পরিস্থিতি ও পরিবেশ প্রাধান্য পেয়েছে। আসলে সম্পর্ক গড়ে ওঠে শুধু দুটি মানুষের মধ্যে নয়, দুটি পরিবারের মধ্যে। পরিবার যদি আপন করে না নিতে পারে, ভালোবাসাও কি তা পারে শেষ পর্যন্ত? কাহিনির প্রেক্ষাপটে এমনই এক প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন শ্রীতমা দেবী ও মিস্টার শর্মা। যখন চায়ের দোকানে বসে দু’জনে হাতে হাত রেখে ভেবেছিলেন হাজার বাধা, হাজার ঝড়ের মধ্যেও মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে এবার, তখনই আচমকা পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল এক ঝাঁক তরুণ তুর্কী। এই জীর্ণ অবিশ্বাসী বিষে বিষে নীল হয়ে যাওয়া সময়ে দাঁড়িয়েও, যারা এখনও বিশ্বাস রাখেন যৌথ পরিবারে, তারা এখনও ভরসা রাখেন বিশ্বাসে। অবশ্য এরপর কী ঘটবে, তা জানতে হলে ছবিটা দেখতে হবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক মানসী সিনহা।

মানসী-র ছবিটির শুটিং শেষ হয়ে সম্পাদনার কাজও শেষ হয়েছে। শ্বাশত চট্টোপাধ্যায় এবং অপরাজিতা আঢ্য ছাড়াও এই ছবির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রূপ দিয়েছেন খরাজ মুখোপাধ্যায়, সোহাগ সেন, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, তারিন জাহান, আর্য্য দাশগুপ্ত , পূজা কর্মকার, তপতী মুন্সি, জুঁই সরকার, যুধাজিত বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরও অনেকে।  শ্যুটিং হয়েছে কলকাতা শহরের বিভিন্ন লোকেশন-এ। ‘ধাগা প্রোডাকশন’-এর ব্যানারে নির্মিত এই ছবিটি প্রযোজনা করেছেন শুভঙ্কর মিত্র ও সুভাষ বেরা। সিনেম্যাটোগ্রাফার অম্লান সাহা। সম্পাদনায় অনির্বাণ মাইতি।

রবীন্দ্রসংগীত ছাড়াও ছবিতে বেশ কয়েকটি গান আছে।  সুমিত সমাদ্দার ও নিজের লেখা গানগুলিতে সুরারোপ করেছেন  প্রাঞ্জল দাস। কন্ঠদান করেছেন শ্রীকান্ত আচার্য, লগ্নজিতা চক্রবর্তী, খরাজ মুখোপাধ্যায়, জয়তী চক্রবর্তী, আলাপ বোস, মেঘা বিশ্বাস, কাজল চট্টোপাধ্যায়, মানস্বিতা ঠাকুর, শৌনক সরকার এবং একটি বিশেষ গানের কথায় ও সুরে অনিন্দ্য  (শহর) বোস।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পরিচালক মানসী সিনহা প্রসঙ্গত আরও জানিয়েছেন, ‘এ গল্প শুধু আমাদের নয়, আপনাদেরও গল্প। তাই  দেখাশোনা হোক থিয়েটারে।’

নিজের মিউজিক ভিডিয়ো ‘ক্যালানে যে হতে নেই’-র প্রচারে উজান মুখোপাধ্যায়

‘ক্যালানে’ শব্দের ব্যবহার নতুন নয়। তবে আজকাল এই শব্দের ব্যবহার হয়তো বেড়েছে কিছুটা। মূলত ‘বোকা’, ‘নিরীহ’ বা ‘গোবেচারা’ টাইপ মানুষদের এই শব্দে ভূষিত করা হয় মাঝেমধ্যে।

যাইহোক, চলচ্চিত্র পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়-এর কন্যা উজান জানিয়েছেন, তিনি তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি করেছেন যে, বুদ্ধি, বিচক্ষণতা এবং কৌশলে চলতে না পারলে সর্বত্র পিছিয়ে পড়তে হবে এবং লোকেরা ‘ক্যালানে’ শব্দেই অলংকৃত করবে। তাই তাঁর মতে, ‘ক্যালানে’ হওয়া চলবে না। আর এই উপলব্ধির পরই তিনি লিখে ফেললেন ‘ক্যালানে যে হতে নেই’ শীর্ষক একটি গান। শুধু তাই নয়, সেই গানে সুরারোপ করে গাইবার পর, মিউজিক ভিডিয়ো-য় অভিনয়ও করলেন তিনি মুখ্য চরিত্রে। আর কন্যা উজানের এই মিউজিক ভিডিয়ো-র শেষ অংশে, পিতা কমলেশ্বরের কন্ঠ নিসৃত কিছু অর্থবহ শব্দ অন্য মাত্রা যোগ করেছে অ্যালবামটিতে।

বাংলা পপ্ গানের এই মিউজিক ভিডিয়োটি ইতিমধ্যেই মুক্তি পেয়েছে ‘সারেগামা ওরিজিনালস’ থেকে। আর ইউটিউব-এ মুক্তির পর, কলকাতা-র ইষ্টার্ণ মেট্রোপলিটন ক্লাব-এ এই মিউজিক ভিডিয়ো-টির আনুষ্ঠানিক প্রচার করলেন উজান মুখোপাধ্যায় স্বয়ং। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মিউজিক ভিডিয়ো-র সঙ্গে যুক্ত কলাকুশলীরা।

‘ক্যালানে যে হতে নেই’ এই মিউজিক অ্যালবামটির প্রযোজনায়, গিটারে এবং মিউজিক অ্যারেঞ্জ-এ ছিলেন অশোক রায়। ম্যান্ডোলিন-এ ছিলেন রোহিত রায়। মিক্স অ্যান্ড মাস্টার ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ছিলেন মুম্বইয়ের সাজিদ মাসুদ। রেকর্ডিং হয়েছে মুম্বইয়ের ‘নিয়োগি-জ প্লেস বাসরয়-জ স্টুডিয়ো’-তে। বিশেষ সহযোগিতায় ছিলেন শঙ্খ বনিক চৌধুরি এবং সাত্যকি চট্টোপাধ্যায়।

মিউজিক ভিডিয়ো-টি পরিচালনা করেছেন অয়ণ হালদার এবং পলাশ মাইতি। চিত্রগ্রহণে ছিলেন তিলক দাস।  সম্পাদনায় ছিলেন পলাশ মাইতি। লাইট ডিজাইন-এ পলাশ মাইতি এবং তিলক দাস। রূপচর্চা এবং কেশবিন্যাসে ছিলেন সঞ্জু হালদার এবং তনয় সরকার। পোশাক সরবরাহ করেছে ‘চারুতা বুটিক’। সেট ডিজাইন করেছেন অয়ণ এবং উজান। আলোকিত করেছেন বিশ্বজিৎ মণ্ডল এবং সন্দীপ নস্কর। লিরিক্যাল পোস্টার ডিজাইন করেছেন সায়নি চন্দ। কালার কারেকশন-এ কৌশিক রায়। কার্যনির্বাহী প্রযোজক ছিলেন অনুপ সরকার।

উজান মুখোপাধ্যায় ছাড়াও, ‘ক্যালানে যে হতে নেই’ মিউজিক ভিডিয়ো-তে অভিনয় করেছেন তীর্থঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, প্রেরণা দাস, রোহিনী হাজরা, সম্রাট দাস, প্রেরণা মজুমদার, সৌভিক বিশ্বাস, সঞ্জু হালদার, রাজন্যা চৌধুরি, শঙ্খ বনিক চৌধুরি এবং অরুপ সরকার।

কাশ্মীর ভ্রমণ পথে (শেষ পর্ব)

নির্ধারিত দিনে হোটেল থেকে প্রাতঃরাশ সেরে একটা এসইউভি গাড়িতে চড়ে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়লাম দর্শনের উদ্দেশ্যে। আমাদের প্রথম গন্তব্য স্থল নির্ধারিত হল গুলমার্গ, সোনমার্গ এবং তুলমুল-ক্ষীর ভবানি।

গুলমার্গ

আজকের গন্তব্য ‘গুলমার্গ”। যথারীতি, প্রাতঃরাশ সেরে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়লাম শ্রীনগরের হোটেল থেকে গুলমার্গ দর্শনের উদ্দেশ্যে। শ্রীনগর থেকে গুলমার্গের দূরত্ব ৫২ কিলোমিটারের মতো। সময় লাগে ঘণ্টা দেড়েক। শ্রীনগর থেকে গুলমার্গ পর্যন্ত যাত্রাপথের অধিকাংশটাই সমতল।

শ্রীনগর ছাড়িয়ে বাইরে বেরোতেই চলে এল ‘বদগাম’ জেলা। বদগাম জেলার নরবাল, মারগাম, দ্রুর, রেরে, ফিরোজপুর- ব-এর মতো একের পর এক গঞ্জের দু-ধারে বরফাচ্ছাদিত পীর পাঞ্জাল পর্বতমালা। সেই সৌন্দর্য অবলোকন করতে করতে এসে পড়লাম ‘ট্যাঙ্গমার্গ’-এ। এখান থেকে শুরু পাহাড়ে চড়ার সর্পিল পাকদণ্ডি পথ। ট্যাঙ্গমার্গ থেকে গুলমার্গ পর্যন্ত শেষ দশ কিলোমিটার সর্পিল পাকদণ্ডি অতীব সুন্দর অথচ ভয়ংকর পথ-যাত্রা! রীতিমতো শরীরে শিহরণ জাগায়।

দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে গুলমার্গে প্রবেশ করতেই, নজরে পড়বে চারিদিকে বরফ আর বরফ। আর তার মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে লাল রং-এর এক শিব মন্দির। এই মন্দিরের নাম ‘মহারানি মন্দির’ বা ‘মোহিনেশ্বর শিব মন্দির’। ১৯১৫ সালে এই শিব মন্দির নির্মাণ করেছিলেন মহারানি মোহিনী সিং সিসোদিয়া। তিনি ছিলেন মহারাজা হরি সিং-এর স্ত্রী।

রাজা-রানি যখন গুলমার্গের শৈলাবাসে গ্রীষ্মযাপনে আসতেন, তখন মহারানি প্রত্যহ সকালে এই শিব মন্দিরে শিব-অর্চনায় যেতেন। মহারানি শিবমন্দিরের দেবতাকে সকলে ‘মোহিনেশ্বর শিব’ নামে সম্বোধন করে থাকেন। এই মন্দির আমাদের অনেকের কাছেই দীর্ঘ পরিচিত। হিন্দি ছবি ‘আপ কি কসম’-এ রাজেশ খন্না ও মুমতাজের কণ্ঠে “জয় জয় শিব শঙ্কর’ গানটির চিত্রায়ণ হয়েছিল এই ‘মহারানি শিব মন্দির’ প্রাঙ্গণেই।

শরীরে শিহরণ জাগানো দীর্ঘ এক পাকদণ্ডি পথ পেরিয়ে, গুলমার্গের এই মহারানি শিব মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছনোর পরে, তার বরফাচ্ছাদিত সিঁড়িতে পা রাখার পূর্বে সেনাবাহিনীর জওয়ানরা যেভাবে সমরাস্ত্র উঁচিয়ে তা প্রহরা দিচ্ছে, তা দর্শনের পরে কম শিহরণ জাগে না পর্যটকদের শরীর-মনে!

সোনমার্গ

এরপরে, নির্ধারিত দিনে যথারীতি প্রাতঃরাশ সেরে হোটেল থেকে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়লাম ‘সোনমার্গ’ যাত্রার উদ্দেশ্যে। শ্রীনগর শহর ছাড়িয়ে হাইওয়ের উপরে পড়তেই, চোখের সামনে ভেসে উঠল বরফে ঢাকা পাহাড়ের সারি। আর শীঘ্রই পথ-উপরি তোরণ ফলক জানিয়ে দিল, আমরা এসে পড়েছি শ্রীনগর জেলা অতিক্রম করে ‘গণ্ডেরবাল’ জেলায়।

পথের দু-পাশে বরফে ঢাকা পাহাড়ের কোল ঘেঁসে নয়ন-ভোলানো, মন মাতানো একের পর এক হলুদ বর্ণের সরষের খেত। গণ্ডেরবাল জেলার ভীমচক মিনার মোড় পার হতেই, রাস্তা দ্বিখণ্ডিত হয়ে গিয়েছে। আমাদের গাড়ি বাঁ- হাতি উত্তর-পশ্চিমের সরু রাস্তায় প্রবেশ করল। আমাদের তাৎক্ষনিক গন্তব্যস্থল ‘ক্ষীর ভবানি’ মন্দির। ক্ষীর ভবানি মন্দির অবস্থিত ‘তুলমুল’ গ্রামে।

তুলমুল-ক্ষীর ভবানি

শ্রীনগর থেকে ‘তুলমুল’-এর দূরত্ব আনুমানিক ২২ কিলোমিটারের মতো। পৌঁছোতে সময় লাগে চল্লিশ মিনিট। তুলমুল-এর পথে গাড়ি ঢুকতেই নজরে পড়ল, রাস্তার দু-ধারে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি সেনাবাহিনীর বুলেটপ্রুফ সাঁজোয়া গাড়ি। গাড়ির মাথা থেকে মাথা বেরিয়ে রয়েছে, হাতে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত জওয়ানের মস্তক। প্রতি তিরিশ চল্লিশ মিটার অন্তর রয়েছে পাহারারত পাঁচ-ছয় জন করে জওয়ান। এভাবে চার-পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার পরেই, নজরে এল ক্ষীর ভবানি মন্দিরের তোরণ। কয়েক-শো’ জওয়ান বন্দুক উঁচিয়ে মন্দির চত্বর ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

গাড়ি থেকে নেমে প্রত্যেক পর্যটকের আধারকার্ডের কপি জমা দেওয়ার পরে, সেনাবাহিনীর খাতায় নাম, , বাড়ির ঠিকানা, হোটেলের নাম ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ড্রাইভারের নাম, তার লাইসেন্সের কপি-সহ সবকিছু লিপিবদ্ধ করার পরে, জুতা ছেড়ে মন্দির চত্বরে প্রবেশাধিকার মিলল। শরীর-মন জুড়ে তখন একটা চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে! কিন্তু সামনে তাকাতেই মন-প্রাণ যেন শান্ত হয়ে গেল, ক্ষীর ভবানি মাতার মন্দির দর্শনে।

ক্ষীর-জলে ভর্তি এক প্রস্রবণের মাঝে মাতার মন্দির। মাতার ভোগ নিবেদন হয় ক্ষীর-দানের মাধ্যমে। ছোটোখাটো একটা বাঁধানো ফুটবল মাঠের মতো আয়তন গোটা মন্দির চত্বরের। ক্ষীর ভবানী মাতার এই সুবিশাল মন্দির চত্বরে রয়েছে হনুমানজির মন্দির, শিবমন্দির, কৃষ্ণমন্দির। আর মন্দির চত্বরের চারিদিক ঘিরে রয়েছে দোতলা একের পর এক হলুদ রঙের বাড়ির সারি; যেখানে অবস্থান করছে সেনাবাহিনীর শত শত জওয়ান।

মন্দির ছাউনির ভিতরে প্রবেশ করা মাত্র চোখে পড়বে মাতা ক্ষীর ভবানীর ইতিহাস সম্বলিত এক বোর্ড। এখানে কথিত আছে, লঙ্কারাজ রাবণ ছিলেন ভবানী মাতার একনিষ্ঠ একজন ভক্ত। তিনি মাতার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে নিয়মিত পূজা-অর্চনা করতেন। কিন্তু রাবণের ঔদ্ধত্য, নির্দয়, উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অসন্তুষ্ট, উদ্বিগ্ন মাতা হনুমানকে পেয়ে তাকে অনুরোধ করেন, সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে উত্তরের হিমালয়ের কোলে ‘তুলমুল’ গ্রামের এক প্রস্রবণের মাঝে স্থাপন করতে। হনুমান মাতার আদেশানুসারে, মাতাকে রাজ্ঞা রাত্রিতে এখানে এনে প্রতিষ্ঠা করেন। মাতা এখানে রাজ্ঞা দেবী হিসাবে পূজিতা হন।

রাজ্ঞা হচ্ছেন দেবী দুর্গার সাত্ত্বিক সৌম্য রূপ। রাজ্ঞার অপর নাম ত্রিপুরা সুন্দরী। শ্রীলঙ্কায় মাতা পূজিতা হতেন শ্যামা-রূপে। এই তুলমুলের ক্ষীর ভবানী মন্দিরে মাতা পূজিতা হন দেবী রাজ্ঞা রূপে। ভৃগু সংহিতায় তুলমুল গ্রামের দেবী দুর্গার সাত্ত্বিক রূপ হিসাবে যে-দেবী রাজ্ঞার পূজার্চনা করা হতো, তার উল্লেখ রয়েছে। আবুল ফজলের আইন–এ আকবরি গ্রন্থেও তুলমুল গ্রামের দেবী রাজ্ঞার কথা উল্লিখিত হয়েছে।

ক্ষীর ভবানী মন্দির দর্শন সেরে, আবার আমরা গাড়িতে চড়ে বসলাম, সোনমার্গ যাত্রার উদ্দেশ্যে। শত শত জওয়ান আর তাদের সাঁজোয়া গাড়ির মধ্যে তখনও একি ভাবে প্রহরারত।

(সমাপ্ত)

আমার দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসছে। কী কী কারণে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা অনুভূত হয়?

প্রশ্নঃ আমার বয়স ৩৪ বছর। দীর্ঘক্ষণ আমাকে অফিসে কম্পিউটারে কাজ করতে হয়। সম্প্রতি লক্ষ্য করছি, কাজ করতে বসে আমার দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসছে। কাজ করতে বেশ অসুবিধে বোধ হচ্ছে। কী কী কারণে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা অনুভূত হয়?

উত্তরঃ স্বাস্থ্যের প্রতি অসাবধানতার কারণে ছোটো থেকে বড়ো অনেকেরই চোখের দৃষ্টি ঝাপসা অনুভূত হয়। চিকিৎসকদের মতে, দৃষ্টিশক্তি যদি ধীরে ধীরে কমতে থাকে, তাহলে অবিলম্বে সতর্ক হওয়া উচিত।

চোখে ব্যথা বা লালভাব দেখা দিলে ডাক্তার দেখান— অনেক সময় কম্পিউটার, মোবাইলে একটানা কাজ করা বা টিভি দেখার কারণে চোখের ড্রেনেজ সিস্টেম বন্ধ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে গ্লুকোমার সমস্যা দেখা দেয়। এই অবস্থায় স্পষ্ট দেখতে না পাওয়ায় চোখের উপর চাপ বেড়ে যায়। যার কারণে চোখে প্রচণ্ড ব্যথা, লালচে ভাব বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা হয়। এমতাবস্থায় দেরি না করে অবিলম্বে নিকটস্থ ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা করিয়ে নেওয়া প্রয়োজন ।

ল্যাপটপে বেশিক্ষণ বসে থাকা থেকে বিরত থাকুন— যখন আমরা বিরতি না নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কোনও কিছুর দিকে তাকিয়ে থাকি, তখন তা আমাদের স্নায়ুতে চাপ সৃষ্টি করে। এই অবস্থাকে চোখের স্ট্রেন বলা হয়। যারা ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেন, তারা প্রায়ই এই ধরনের সমস্যায় পড়েন। একই সঙ্গে যারা মোবাইল ফোনে দীর্ঘক্ষণ চ্যাট করেন তারাও এই সমস্যায় আক্রান্ত হন। দুর্বল আলোতে অধ্যয়ন করলেও এই ধরনের সমস্যা হতে পারে।

বিচ্ছিন্ন রেটিনা অশ্রু তৈরির কাজ করে— চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে আমাদের চোখের রেটিনা, অশ্রু তৈরিতে কাজ করে। এই অশ্রু চোখের আর্দ্রতা বজায় রাখে, যাতে তারা শুকিয়ে না যায়। হঠাৎ মাথায় আঘাত বা বার্ধক্যজনিত কারণে রেটিনা অশ্রু তৈরি করা বন্ধ করে দিলে, শিরায় রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এই কারণে সবকিছু ঝাপসা দেখায়।

এছাড়াও চিকিৎসকরা বলছেন, চোখ ঝাপসা হওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। রেটিনা, অপটিক নার্ভ বা কর্নিয়াতে সমস্যা হতে পারে। চোখের রেটিনাতে কোনও সমস্যা থাকলেও চোখে ঝাপসা দেখতে পারেন। স্ট্রোক, মাইগ্রেন, ব্রেন টিউমার বা ডায়াবেটিসের মতো রোগের কারণে ঝাপসা দৃষ্টি বা দৃষ্টি সমস্যা দেখা দিতে পারে। চোখে ব্যথা বা আলোতে সমস্যা হলে একেবারেই ফেলে না রেখে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব