ত্বক ও চুলের সমস্যা এবং সমাধান

অনেক সময় পার্লারে সঠিক পদ্ধতিতে স্টেপস ফলো না করার ফলে ফেসিয়ালের উপকারিতা মুখে বোঝা যায় না। আপনি পার্লার বদল করে দেখতে পারেন। মুখে গ্লো ফিরিয়ে আনতে কোনও ভালো কসমেটিক ক্লিনিক থেকে এএইচএ ফেসিয়াল করান। আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড অর্থাৎ এএইচএ, ফল থেকে বার করা হয়। এটি ত্বককে রিজেনারেট করে ত্বক উজ্জ্বল করে। এছাড়াও ত্বক হাইড্রেট করে ত্বকের ড্রাইনেস দূর করে। বাড়িতেও আপনি অলিভ অয়েল এবং আমন্ড অয়েলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা অরেঞ্জ অয়েল মিশিয়ে মুখে মাসাজ করুন। রোজ এটা করতে পারলে ত্বকের রুক্ষতা কমে যাবে এবং রং-ও উজ্জ্বল দেখাবে।

মুখে রোমের সমস্যা এবং সমাধান

সাধারণত মুখে রোম হওয়ার কারণ হল হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। সেজন্য সর্বপ্রথম আপনি হরমোন পরীক্ষা করান। ভালো কোনও এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট-এর পরামর্শ নিন। মুখে কখনও লেডিজ রেজার ব্যবহার করবেন না। এর ফলে চুলের গ্রোথ হার্ড হয়ে যায় এবং ত্বকও কালো হয়ে যায়। সেজন্য ভালো উপায় হল পারমানেন্ট রোম তুলে ফেলার জন্য পল্স লাইট ট্রিটমেন্ট-এর সিটিং নিন। এটি সব থেকে সহজ এবং সুরক্ষিত উপায়। এতে দাগ থেকে যাওয়ারও ভয় থাকে না এবং কোনওরকম কষ্টও হয় না।

হেয়ারফল এবং খুশকির সমস্যা কীভাবে দূর করা সম্ভব?

হেয়ারফল বা চুল পড়ার অনেক কারণ হতে পারে। চুলের খুশকি দূর করতে এবং স্ক্যাল্পের ত্বক সুস্থ রাখতে সারা রাত মেথিদানা জলে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে সেটি ভালো করে পিষে গাঢ় দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে সারা চুলে এবং স্ক্যাল্পে ভালো করে লাগান। ২ ঘন্টা পর চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। মেথিতে নিকোটিনিক অ্যাসিড এবং প্রোটিন থাকে। এগুলি চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায়। এছাড়া খুশকি দূর করে চুলের গ্রোথও বাড়ায়।

মুখের ত্বক রুক্ষ হয়ে গেলে কী করা উচিত?

শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় মুখের ত্বক বেশি স্পর্শকাতর হয়। সুতরাং ত্বকের ধরন দেখে উপযুক্ত ফেস ওয়াশ ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। আপনি ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করে চেষ্টা করে দেখতে পারেন। ৪ বড়ো চামচ বেসনের সঙ্গে ১ ছোটো চামচ টাটকা দুধের সর মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এটি সারা মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। তারপর হালকা গরমজলে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

পিগমেনটেশন মার্কস দূর করার উপায়ঃ

সাধারণত পিগমেনটেশন দাগ দূর করার জন্য যে ওষুধগুলি ব্যবহার করা হয় তাতে স্টেরয়েডস থাকে। যে-কারণে এগুলো ব্যবহার করলেই দাগ তৎক্ষণাৎ দূর হয়ে যায়। কিন্তু যেই এর ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া হয়, দাগ আবার ত্বকে ফুটে ওঠে। এখন এই দাগ দূর করার জন্য ওষুধ বা ক্রিম ব্যবহার করার বদলে ভালো কসমেটিক ক্লিনিক থেকে লেজার অথবা মাইক্রোডার্মা অ্যাব্রেজার-এর সিটিং নিতে পারেন। লেজারের সাহায্যে ত্বকে নতুন কোশ রিজেনারেট করা হয়। এর ফলে আপনার সমস্যাও দূর হওয়ার আশা রয়েছে।

ব্রণর দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায় কী?

মুখে ব্রণ হলে চেষ্টা করবেন সেটা কোনওভাবে না খোঁটার। সেই সময় কোনও প্রসাধনীও ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ প্রসাধনী তোলবার সময়ও ব্রণর উপরের ত্বকে র‍্যাপচার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ব্রণর দাগ দূর করার জন্য রোজ সকাল-সন্ধে মুখ ধুয়ে এএইচএ সিরাম দিয়ে ফেস মাসাজ করতে পারেন। এছাড়াও দাগের উপর নিম এবং তুলসীর প্যাক লাগান। টাটকা পাতা পিষে নিয়ে নিজেই এই প্যাক বাড়িতে বানিয়ে নিতে পারেন। অ্যালোভেরার জুস বার করেও মুখে লাগাতে পারেন। এতেও আপনি প্রচুর উপকার পাবেন। ব্রণ, দাগছোপ দূর হবে।

ত্বকে ইনস্ট্যান্ট গ্লো আনার জন্য পিল অফ মাস্ক কতটা কার্যকরী?

আপনি হনিমুনে গিয়েও পিল অফ মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। বহু ভালো কোম্পানির পিল অফ মাস্ক বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। সাধারণত এগুলি ফলের খোসা, গাছ-গাছড়া দিয়ে তৈরি হয়। সেই কারণে এতে থাকা প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস প্রাকৃতিক উপায়ে ফ্রি র‍্যাডিকল্স – -এর সঙ্গে লড়তে সাহায্য করে। এর ফলে ত্বকে বলিরেখা সহজে পড়ে না এবং অনেক বয়স পর্যন্ত যৌবন ধরে রাখা যায়। পিল অফ মাস্ক মুখের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে মুখের রং-ও উজ্জ্বল করতে সহায়তা করে। সূর্যের রশ্মির কারণে হওয়া ত্বকের ট্যানিং-ও দূর করে পিল অফ মাস্ক। রাফ এবং ড্রাই স্কিনকে স্মুদ বানাতেও পিল অফ মাস্ক সাহায্য করে।

কোন আইনি সাম্যের কথা ভাবছি আমরা ?

জাত ধর্ম নির্বিশেষে আইন সবার ক্ষেত্রে সমান হওয়া উচিত। হিন্দু বা মুসলিম যে-ধর্মেরই হোক, মহিলাদের একটা বড়ো অংশ এখনও স্বাবলম্বী নয়। ফলে পুরুষশাসিত সমাজ ব্যবস্থার নিজস্ব সামাজিক নিয়মকানুনেরর প্রতিবন্ধকতা নিয়েই আমাদের সমাজ চলে। ভারতীয় সমাজে পরিবর্তন আনতে চলেছে ইউনিফর্ম সিভিল কোড। এই বিষয়ে তার্কিক মত বিনিময় হতেই পারে কিন্তু বাস্তব চিত্রটা একেবারেই আলাদা। হিন্দু পারিবারিক নিয়মশৃঙ্খলা এখনও পৌরাণিক ভাবধারায় বিশ্বাসী। এখানে নিয়ম ঠিক করেন ধর্মগুরু আর পাণ্ডা পুরোহিতরা।

এখনও হিন্দু পরিবারে বিয়ে হয় ঠিকুজিকুষ্ঠি মিলিয়ে। জাতপাত নিয়ে বৈবাহিক সমস্যা লেগেই থাকে। ১৯৫৬ এবং ২০০৫-এ প্রধান আইন বলবত হওয়া সত্ত্বেও ক’জন কন্যা, পিতার সম্পত্তির ভাগ পান? কতগুলো পরিবার বৈষম্যের উর্ধ্বে উঠে পুত্র এবং কন্যার মধ্যে বিভেদের মানসিকতা মুছে ফেলতে পেরেছেন? বিবাহের পর স্বামীর গৃহে চলে যাওয়ার পৌরাণিক রীতি কি আজও ভাঙতে পেরেছে মেয়েরা? মুসলমান পরিবারে একাধিক বিবাহের জেরে জনসংখ্যা বাড়ছে এও যেমন সত্যি, তেমন কেউ কি নিশ্চিত ভাবে প্রমাণ করতে পারবেন যে হিন্দু পরিবারে ২-এর বেশি সন্তান গ্রামেগঞ্জে এখনও জন্মায় না!

আইনের পরিবর্তন যে-কোনও সমাজের মানসিকতার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে হওয়া উচিত। মানসিকতায় আমরা এখনও বহু শতাব্দী পিছিয়ে। সেই জন্য ইসরোর চেয়ারম্যান সফল ভাবে চন্দ্রযান-৩ উৎক্ষেপণের কৃতিত্ব দেন একটি মন্দিরকে, সেখানে পূজাপাঠের দ্বারা তাঁর প্রার্থনা সফল হওয়াকে।

তিন তালাক রোধ করা গেছে বলে কি মহিলারা বিবাহবিচ্ছেদ আশঙ্কা থেকে মুক্ত হতে পেরেছে? হিন্দু মহিলারা বছরের পর বছর ধরে বিবাহবিচ্ছেদ চেয়ে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতের দারস্থ হওয়া থেকে কি মুক্তি পেয়েছে? বিধবা হওয়া বা বৈবাহিক সূত্রে বিচ্ছিন্না মহিলাদের যদি আজও বেশি বয়সে মথুরা বৃন্দবনে আশ্রয় নিতে হয়, তাহলে কোন সমাজের কোন আইনি সাম্যের কথা আমরা ভাবছি?

আইনি পরিবর্তন এনে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে মহিলাদের পঠনপাঠনের সুযোগ প্রসারিত করা হোক। যারা ধর্মীয় রীতিনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান তাদের আজও দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে মুখ বন্ধ করা হয়। ইউনিফর্ম সিভিল কোড-এর প্রাসঙ্গিকতা তখনই থাকবে যখন এর দ্বারা ইউনিফর্ম ম্যানেজেবিলিটি এবং ইউনিফর্ম অ্যাকসেসেবিলিটি কোড তৈরি করা সম্ভব হবে।

বৈচিত্র্যময় দেউলঘাটা

দেউলঘাটায় একদা প্রচুর মন্দির বা দেউল ছিল। তাই জায়গাটি আজও দেউলঘাটা নামে পরিচিত। ইতিহাস বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে এই অবহেলিত পর্যটন স্থান।

দেয়ালের চারিপাশে ঢেউ তোলা কলকার অনিন্দ্যসুন্দর বিন্যাস উপরের জাঙ্ঘকে বৈচিত্র্যময় করেছে। আপাদমস্তক কারুকার্যখচিত এই রকম মন্দিরের খুব কম দেখা পাওয়া যায়। মন্দির বিশেষজ্ঞ ড. দীপক রঞ্জন দাসের মতে, বর্তমান করুণ অবস্থা সত্ত্বেও মন্দিরটি যে আদিরূপে দক্ষিণ এশিয়ার অনুরূপ স্থাপত্যশৈলীর সর্বোৎকৃষ্ট নিদর্শনের অন্যতম ছিল, তা এর সংরক্ষিতাংশ দ্বারা প্রমাণিত।

দেউলঘাটা মন্দির নির্মাণে কমবেশি ২×৫ ইঞ্চি মাপের ছাড়াও আরও বিভিন্ন মাপের ইট ব্যবহার করা হয়েছিল। সর্ববৃহৎ ইটটির মাপ ছিল ১৯×৯ ইঞ্চি। গাঁথনির মশলা হিসাবে অতীব মিহি জৈব চুন ব্যবহার করা হয়েছিল। মন্দিরের অন্দর এবং বাহির দুই দিকেই ছিল অবিচ্ছিন্ন চুনের প্রলেপ। কাঁচা অবস্থায় চুনের প্রলেপের ওপরে বিভিন্ন রকমের জ্যামিতিক নকশা এঁকে মন্দিরের বহিরঙ্গ সজ্জায় যে নৈপুণ্য এবং অভিনব শিল্প-সুষমার প্রকাশ হয়েছে তা প্রাক-ইসলাম পর্বের, ইটের দ্বারা নির্মিত এই দেউলগুলিকে স্বতন্ত্র মহিমা প্রদান করেছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত সর্ববৃহৎ মন্দিরটির উচ্চতা ছিল ৬০ ফুট। বর্তমান মন্দির দুটির উচ্চতা ৪৫ ফুট। মন্দিরের অভ্যন্তরে পূজায় ব্যবহৃত জল বেরিয়ে যাওয়ার জন্য রয়েছে উত্তরমুখী মকর মুখ।

নীল আকাশ আর আদিগন্ত প্রান্তর লগ্ন দেউলঘাটার মন্দির বা দেউলগুলির সময়কাল নিয়ে গবেষকদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। কিছু গবেষকদের হিসেব অনুযায়ী— মন্দিরগুলির নির্মাণকাল দশম শতাব্দীর। আমরা জানি পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে বাঙালির সুপ্রাচীন কবিতা ‘চর্যাপদ’-এর সময়কাল ওই দশম শতাব্দীতেই। আবার কিছু কিছু গবেষকদের মতে- মন্দিরগুলির নির্মাণকাল একাদশ শতাব্দীর পূর্বে নয়।

দেউলঘাটা মন্দির ক্ষেত্রের মূল বৈশিষ্ট্য, অনন্য সাধারণ সুষমামণ্ডিত ভাস্কর্যর সুবিন্যাস। গবেষকদের মতে, স্বতন্ত্র এবং আপন বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল সুঅলংকৃত ভাষ্কর্যগুলি ব্রাহ্মণ্যধর্ম প্রভাবিত দেব-দেবীর বিগ্রহ। সিদ্ধেশ্বর মহাদেব মন্দির রূপেই অধুনা দেউলঘাটার পরিচয় হলেও শুধুমাত্র সিদ্ধেশ্বর মহাদেব নয়, অষ্টভূজা রণচণ্ডী, চতুর্ভূজা জগদ্ধাত্রী, দশভূজা সিংহবাহিনী, চতুর্ভূজা ভৈরবী, দণ্ডায়মান গণেশ মূর্তিরও দর্শন পাওয়া যাবে দেউলঘাটায়।

দেউলের সাথে দেউলঘাটার অন্যতম আকর্ষণ কংসাবতী নদী। শীত-গ্রীষ্মে এই নদীতে তেমন জল না থাকলেও মন্দির থেকে সামান্য দূরে নদী যেখানে বাঁক নিয়েছে সেখানে কাচস্বচ্ছ জলে প্রবলস্রোত দৃশ্যমান। মন্দিরের অনতিদূরে সজ্জিত আশ্রম। আশ্রম থেকে নদীর ঘাটে যাওয়ার জন্য রয়েছে পাথরের সিঁড়ি। ছোটোনাগপুর মালভূমির জাবর পাহাড় থেকে উৎপত্তি দক্ষিণ পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান নদী কংসাবতীর। কালিদাসের মেঘদূতে যা কাপিশা নামে প্রাধান্য পেয়েছে।

পৌষ সংক্রান্তিতে বিশাল মকরমেলা হয় দেউলঘাটায়। এছাড়া চৈত্র মাসে দোলের পরে মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে হয় বারুণী মেলা। দেউলঘাটা আজও কালস্রোতে ভেসে যাওয়া প্রায় অবহেলিত, অনাদরে উপেক্ষিত এক প্রাচীন জনপদ। এখানে রাত্রিযাপনের কোনও সুব্যবস্থা নেই। ভ্রমণ পিপাসুরা অযোধ্যা পাহাড় ভ্রমণের সঙ্গে দেউলঘাটা বেড়িয়ে নিতে পারেন।

বিভিন্ন রাজা ও সাধু-সন্ন্যাসীদের জনশ্রুতি ও উন্নত জীবনচর্চার কৌলিন্যে বহুযুগ পূর্বেই পুরুলিয়া পূর্ব ভারতে হয়ে উঠেছিল আকর্ষণীয় জনপদ। তৎকালীন পুরুলিয়ার মানুষদের দ্বারা নির্মিত সৃজনশীল ভাষ্কর্য যে কতটা নয়নমুগ্ধকর এবং বিস্ময়কর ছিল— তা অনুধাবন করা সম্ভব হবে একবার দেউলঘাটা দর্শন করলেই।

কীভাবে যাবেন : হাওড়া স্টেশন থেকে পুরুলিয়া যাওয়ার প্রচুর লোকাল ও মেল-এক্সপ্রেস ট্রেন রয়েছে। আগের থেকে রিজার্ভেশন করে নেওয়াই সুবিধে।

পুরলিয়া স্টেশন থেকে প্রাইভেট গাড়িতে দেউলঘাটা দেখে সেই দিনই পুরুলিয়া ফিরে আসা যায়। ভাড়া মোটামুটি ১৮০০ টাকা। এছাড়া পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে জয়পুর হয়ে বাস যায় দেউলঘাটা। মনে রাখবেন, দেউলঘাটায় রাত্রিযাপনের সুবন্দোবস্ত নেই। এসবিএসটিসি বা প্রাইভেট বাসেও পুরুলিয়া যাওয়া যায়। বাস ছাড়ে ধর্মতলা থেকে।

কোথায় থাকবেন : প্রচুর হোটেল ও ধর্মশালা রয়েছে পুরুলিয়ায়। তবে হোটেলে থাকাই ভালো। ১০০০ টাকার মধ্যে ডাবল বেডেড রুম পাওয়া সম্ভব। এছাড়া, হোটেলের মর্যাদার ওপরে আরও বিলাসবহুল, দামি হোটেলও পাওয়া যায়।

জীবন দিয়ে যখন ঋণ শুধতে হয়

ব্যাংকগুলি ইদানীং ঋণ দেওয়ার জন্য সদা তৎপর হয়ে থাকে। মানুষের উচ্চাশা এখন আকাশচুম্বী। কেউ-ই তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট নন। ‘আরও চাই’-এর নেশায় তারা ঋণ নিতেও পিছপা নয়। আর এটারই সুযোগ নিয়ে ব্যাংকগুলি তাদের বড়ো অঙ্কের ঋণের জালে জড়িয়ে ফেলতে পারে আপনাকে।

এই প্রসঙ্গে মনে করানো যাক মুম্বইয়ের নামি আর্ট ডিরেক্টর নিতিন দেসাইয়ের কথা। ১৯৪২ আ লভ স্টোরি, হম দিল দে চুকে সনম, লগান, দেবদাস, যোধা আকবর প্রভৃতি বহু জনপ্রিয় ছবির তিনি ছিলেন আর্ট ডিরেক্টর। কাঠ, ফাইবার, প্লাস্টার অফ প্যারিস দিয়ে স্বপ্নের প্রাসাদ গড়ে তুলতে তাঁর জুড়ি ছিল না। কিন্তু নিতিন এমনই এক কাল্পনিক প্রাসাদ গড়ে তুললেন নিজের সাফল্যকে বাজি রেখে, যার জন্য তাকে নিজের জীবনটাই বলিদান দিতে হল।

২০০৫ সালে মুম্বইয়ের কর্জত রোড-এ প্রায় ৫২ একর জমি কিনে একটি বিরাট স্টুডিয়ো তৈরি করেছিলেন নিতিন। তাঁর পরিকল্পনা ছিল এর দৌলতে তিনি আরও ধনী হয়ে উঠতে পারবেন। তাঁর কেরিয়ারের সেটা শীর্ষ সময় ছিল, ফলে এই সাফল্যের পাখায় ভর করে তিনি আরও উঁচুতে উঠতে চাইলেন। গোড়াতে বেশ কিছু ছবি ও ধারাবাহিকের শুটিংও হয়েছিল ওই স্টুডিয়োয়। কিন্তু নিতিনের শিল্পীমন যতটা সক্রিয় ছিল, ব্যাবসায়িক বুদ্ধি ততটা ছিল না। তাই অচিরেই তাঁর এই পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়ে এবং ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে পড়েন নিতিন।

৫৮ বর্ষীয় নিতিনের উপর ২৫২ কোটি টাকা ঋণের বোঝা চেপেছিল যা তাঁর সর্বস্ব বিক্রি করে দিলেও পরিশোধ হওয়া সম্ভব ছিল না। মেধাবী ইনোভেটিভ আর্ট ডিরেক্টরকে তাই বেছে নিতে হল গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যুর বিকল্প। তাই ঋণ নেওয়ার আগে নিজের ব্যবহারিক ও ব্যাবসায়িক বুদ্ধিকে কাজে লাগান। ব্যাংক আপনাকে সহজে ঋণ দেবে ঠিকই কিন্তু উশুল করার সময় আপনি যতক্ষণ না কাঙাল ও কঙ্কালসার হয়ে যাচ্ছেন— ততক্ষণ তারা আপনাকে এই নাগপাশ থেকে মুক্ত হতে দেবে না।

বসন্ত-সন্ধ্যায় কলকাতা-য় বসতে চলেছে ‘নাদ’-এর আসর

আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। তারপরই শাস্ত্রীয় সংগীতে মুখরিত হবে কলকাতা। অবশ্য শাস্ত্রীয় সংগীতের আসর কলকাতায় নতুন নয়। কিন্তু ‘নাদ’ এমন এক অভিনব উচ্চমানের মনোজ্ঞ শাস্ত্রীয় সংগীতের আসর, যেখানে শ্রোতারা বিরল যুগলবন্দির সুর-তাল-ছন্দে নিজেদের জারিয়ে নিতে পারেন। এবারেও তার অন্যথা হচ্ছে না। ‘ভারতীয় বিদ্যা ভবন’ এবং ‘পন্ডিত শঙ্কর ঘোষ তবলা ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে বসন্ত-সন্ধ্যায় বসতে চলেছে ‘নাদ’-এর আসর। গোটা অনুষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পন্ডিত বিক্রম ঘোষ।

‘নাদ’-এর বয়স মোটে তিন। শাস্ত্রীয় সংগীত জগতের ঐতিহ্যে নতুন পালক। কিন্তু এই তিন বছরেই কলকাতা-র সংগীত-প্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে এই অনুষ্ঠান। এবারে চলতি বছরের ২৯ থেকে ৩১ মার্চ– এই তিনদিন ধরে জিডি বিড়লা সভাঘরে বসবে ‘নাদ’-এর আসর। শাস্ত্রীয় সংগীতের তাবড় তাবড় শিল্পীরা এবারে অংশ নেবেন অনুষ্ঠানে।

ধ্রুপদী শাস্ত্রীয় সংগীতের সঙ্গে এবারে থাকছে গজল, কাওয়ালি এবং ফিউশন।  উস্তাদ তফিক কুরেশি এবং পন্ডিত বিক্রম ঘোষের ফিউশন-যুগলবন্দি এবারের অন্যতম আকর্ষণ। শেষদিন এই ফিউশন-ম্যাজিকে আপ্লুত হবে কলকাতা। ‘নাদ’-এর দ্বিতীয় দিনে থাকছে পূর্বায়ন চট্টোপাধ্যায় এবং পন্ডিত কুমার বোসের যুগলবন্দি। এই দিনেই থাকছে বিদুষী গায়ত্রী অশোকান এবং পন্ডিত পৃথবী গন্ধর্ব-র গজল-কাওয়ালি সন্ধ্যা। এই গজল-কাওয়ালি এবারের ‘নাদ’ সন্ধ্যায় নতুন সংযোজন। এছাড়া থাকছে পন্ডিত রাজেন্দ্র গঙ্গাইয়ের কত্থক, পদ্মশ্রী গীতা চন্দ্রনের ভরতনাট্যম, বিদুষী অরুণা সাইরাম এবং বিক্রম ঘোষের যুগলবন্দি।

ভারতীয় বিদ্যা ভবন-এর পরিচালক ড. জি ভি সুব্রহ্মনিয়ন এবং পন্ডিত বিক্রম ঘোষ দুজনেই চেয়েছিলেন কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ঐতিহ্যে অন্য মাত্রা আনতে। বলা বাহুল্য, কলকাতায় শাস্ত্রীয় সংগীতের ঐতিহ্যে ‘নাদ’ সেই নতুন পালক।

পন্ডিত বিক্রম ঘোষের কথায়, ‘প্রথম বছর থেকেই অভূতপূর্ব সাড়া  পাচ্ছি আমরা। আশা করছি এবারেও সেই একইরকম সাড়া আমরা পাব। এবারেও এই অনুষ্ঠানের কোনও প্রবেশ মূল্য নেই, একেবারে বিনামূল্যে আপনারা প্রবেশ-পত্র সংগ্ৰহ করতে পারবেন। ধ্রুপদী শাস্ত্রীয় সংগীতের সঙ্গে গজল,কাওয়ালি এবং ফিউশনের এক অভাবনীয় মিশ্রনের সাক্ষী থাকতে চলেছে কলকাতা।’

কংসাবতীর তীরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

আরবি ভাষায় একটি প্রবাদ আছে— ‘ইয়েম্ উস্ সফর, নিসফ্ উস্ সফর’ –অর্থাৎ কিনা যাত্রার দিনই অর্ধেক ভ্রমণ। পূর্ব বাংলায়ও একই প্রবাদ প্রচলিত আছে। সেখানে বলা হয় ‘উঠোন সমুদ্র পেরোলেই অর্ধেক মুশকিল আসান।’

‘আহমদ গাজীর উঠোন পেরোতে গিয়ে আমার পাক্কা সাতদিন লেগেছিল।’ —গল্প শুনিয়েছিলেন সৈয়দ মুজতবা আলি তাঁর বহুচর্চিত ‘দেশে বিদেশে’ গ্রন্থে। বস্তুত মধ্যবিত্ত বাঙালির ভ্রমণের সিংহভাগ আটকে থাকে ওই উঠোন না-পেরোতে পারার বেদনায়। সামান্য ঠাঁইনাড়ার অভিলাষে জড়িয়ে থাকে প্রভূত পরিমাণ ঝক্কি এবং শেষ পর্যন্ত যা এসে দাঁড়ায় পরিমিত পকেটের কেন্দ্র বিন্দুতে।

অথচ আমরা সামান্য খরচে চাক্ষুষ করতে সক্ষম, আমাদেরই আশপাশ সংলগ্ন, সুপ্রাচীন পরম্পরা অন্বিত ঐতিহাসিক স্থান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনাবিল মাধূর্য। অতীতের সিঁড়ি ধরে উপস্থিত হতে পারি— অশোকের সাম্রাজ্য, জৈন তীর্থঙ্করদের ধর্মীয় আঙিনায়, গুপ্তযুগের সম্রাটদের সাম্রাজ্যে বা বৌদ্ধদের সংহত পদযাত্রায়।

কলকাতা থেকে ২৪৩ কিলোমিটার দূরে পুরুলিয়া। পুরুলিয়ার সন্নিকটে দেউলঘাটা। মৃদুমন্দ বাতাস ছোঁয়া কংসাবতী নদীর ধারে সুপ্রাচীন, বিস্ময়কর জনপদের শেষ চিহ্ন। ইটের তৈরি সুউচ্চ দেউল বা মন্দির আর অনাবিল প্রকৃতির শ্যামল মুগ্ধতা একদিনেই অনুভব করা সম্ভব শুধু ‘উঠোন পেরোনো’র ঝামেলা বিসর্জন দিতে পারলেই।

বাংলার ইতিহাস অতি প্রাচীন। যে-অঞ্চলে দেউলঘাটা, প্রকৃত প্রস্তাবে সেই অঞ্চল একদা ‘বোড়াম’ নামে সুপরিচিত ছিল। দেউলঘাটা বা বোড়াম পুরুলিয়া শহর থেকে ৩৪ কিলোমিটার দূরে। জয়পুর ব্লক ও আড়ষা থানার অন্তর্গত দেউলঘাটায় প্রচুর দেউল অথবা মন্দির ছিল— তাই ওই অঞ্চল দেউলঘাটা নামে পরিচিতি পায়। মনে করা হয় খ্রিস্টজন্মের সাড়ে তিনহাজার বৎসরেরও পূর্বে অরণ্য ও পাহাড় অধ্যুষিত এই বিস্তৃত অঞ্চলে বৈদিক আশ্ৰমমূলক সভ্যতা এবং তা অবলম্বন করে আর্য জনপদ গড়ে উঠেছিল। এই অঞ্চলেও হয়তো সিন্ধু সভ্যতা অথবা হরপ্পা-মহেঞ্জোদাড়োর সভ্যতার সমসাময়িক সভ্যতা বহমান ছিল।

দেউলঘাটার নিকটবর্তী গারো নদীর তীরে ইতিহাস অন্বিত সুপ্রাচীন সভ্যতার বহুনিদর্শন প্রত্নতাত্ত্বিকদের দ্বারা আবিষ্কৃত হয়েছে। পরিব্যপ্ত সবুজ প্রান্তর, অরণ্য অধ্যুষিত, অবিচ্ছিন্ন বাতাসের কম্পনে প্রায় রিক্ত দেউলঘাটায় এখন কেবল ইতস্তত ধ্বংসাবশেষ আর স্মৃতি আঁকড়ে টিকে থাকা দুটি অনুপম মন্দির বর্তমান।

ব্রিটিশ আমলে ‘ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বক্ষণ’-এর গবেষক, জি ডি বেগলার তাঁর Report on a tour through the Bengal Provinces in 1872-73 বইতে পুরুলিয়া জেলার বোড়াম গ্রামের ইটের তৈরি মন্দিরের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি তিনটি মন্দিরের একত্রে অবস্থানের কথা লিপিবদ্ধ করেছিলেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত সর্ববৃহৎ দেউলটির বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন— মন্দিরের বাইরের দিকের ভাষ্কর্য বিভিন্নস্তরে সারিবদ্ধ ভাবে খাঁজ কেটে করা হয়েছে। বৌদ্ধগয়ার মতন এখানের মন্দিরে কোনও প্লাস্টারের আস্তরণ নেই। মন্দিরের প্রবেশ দরজার মাথার দিক ত্রিভূজাকৃতি। বোগলার এই বড়ো মন্দিরটিতে একটি চতুর্ভূজ দেবী মূর্তি দর্শন করেছিলেন যাকে তিনি পার্বতী বলে মনে করেছিলেন।

প্রত্নগবেষক দিলীপ কুমার গোস্বামীর বই থেকে জানা যায় ২০০২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর, রবিবার গভীর রাতে নদী সংলগ্ন বৃহৎ মন্দিরটি ধ্বসে যায়। সেই ধ্বংসাবশেষ অবশ্য এখনও বর্তমান। দেউলঘাটার জীবিত মন্দির দুটিই— পূর্বদুয়ারি এবং শিখর দেউল পর্যায়ের। সুব্যবস্থিত দরজার আকৃতি পঞ্চভূজ ও পিরামিডাকৃতি। গর্ভগৃহ অতিকায়। বিস্তৃত গর্ভগৃহের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের থেকেও দেয়ালের চওড়া অনেক বেশি। এর পেছনে দুটি কারণ রয়েছে।

প্রথম কারণ, মন্দির নির্মাণ হয়েছিল ইটের দ্বারা। ইটের স্থায়িত্ব কম। তাই দেয়ালকে যথাসম্ভব পুরু করা হয়েছিল। দ্বিতীয় কারণ, পুরুলিয়ার আবহাওয়ায় উষ্ণতার মাত্রা অত্যধিক হওয়ায়, দেউলের অভ্যন্তর শীতল ও আরামদায়ক রাখবার অভিপ্রায়ে।

মন্দিরের উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম দেয়ালে তিনটি কুলুঙ্গি। মনে করা হয় কুলুঙ্গিগুলিতে দেববিগ্রহ রাখা থাকত। বর্তমানে মন্দিরে মূলত কোনও বিগ্রহ নেই। উঁচু ভিত্তিভূমির ওপরে স্থাপিত মন্দিরগুলি পঞ্চরথ আসনের। মন্দির দুটির বাহির অংশের তালজাঙ্ঘ ও উপরজাঘ দুটি স্পষ্ট ভাবে বিভাজিত। সমস্ত মন্দিরকে বেষ্টন করে উপর জাঙ্ঘের সমস্ত দেয়ালে সংকীর্ণ লহরা, এই লহরার বিস্তার কার্নিশের তলদেশ পর্যন্ত।

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে নতুনত্ব এবং সতেজতা আনতে হবে জীবনে (শেষ পর্ব)

মানুষ স্বাভাবিক ভাবেই পরিবর্তন চায়। জীবনে যখন একই জিনিসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে বা একঘেয়েমি থাকে, তখন তা জীবনে ছন্দপতন ঘটায়। এই একঘেয়েমি প্রতিটি মানুষই কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। এজন্য নতুন নতুন সমাধান খোঁজে। সেটা খাদ্য বা জীবিকা যে-কোনও বিষয়ই হোক না কেন। মানুষ সবসময় পরিবর্তন চায়।

এটি একটি গুরুতর বিষয় এবং এর একটি মনস্তাত্ত্বিক দিক রয়েছে। পুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক কল্পেশ দেশাই-এর মনস্তাত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মানুষের মস্তিষ্কে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে দুটি গ্রন্থি রয়েছে। এই উভয় গ্রন্থি ২৪ ঘন্টা সক্রিয় থাকে। এমনকী আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি তখনও পরোক্ষ মস্তিষ্ক সজাগ থাকে এবং দিবাস্বপ্ন রূপে মনের অসম্পূর্ণ আকাঙ্ক্ষাগুলি পূরণ করতে থাকে। এই লুকানো আকাঙ্ক্ষাগুলির মধ্যে একটি হল যৌন কল্পনা বা সেক্স ফ্যান্টাসি।

অধ্যাপক দেশাই এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত দম্পতিরা তাদের মনের মধ্যে যে কাউকে কল্পনা করতে পারেন। সেটা তাদের ক্রাশ বা কলেজের পছন্দ কেউ হতে পারে, আবার লোকালয় বা বাড়ির আশেপাশের যে কোনও ছেলে বা মেয়েও হতে পারে। এটা অবশ্যই আপনি যাকে পছন্দ করেন। তারা এটিকে তাদের কল্পনার সাথে খাপ খাইয়ে নেয়। হয়তো এটি তাদের যৌন জীবনে একটি নতুন রোমাঞ্চ নিয়ে আসে ঠিকই কিন্তু এটা মানসিক ভাবে ভুল। আপনি যার কথা ভাবছেন তার ব্যক্তিত্বকে আপনি অন্য রূপে কল্পনা করছেন। এর ফলে কল্পনার মানুষটির আসল ব্যক্তিত্বকে আপনি জেনেশুনে হত্যা করছেন। এটা তার আত্মসম্মানে আঘাত করা হল। অজান্তেই তাকে অপমান করা হচ্ছে। সেক্সোলজিস্টরা এটিকে ওষুধ হিসাবে বিবেচনা করতে পারেন তবে মনোবিজ্ঞানীরা কখনওই এটির পরামর্শ দেন না।’

অধ্যাপক কল্পেশ দেশাই-র এই বিশ্লেষণ গৌরবকে দ্বিধায় ফেলে দিলে, তিনি বিষয়টি সমাধানের জন্য মুম্বাইয়ের শহরতলি মালাডের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অঞ্জলি মালভাঙ্করের সাথে দেখা করেন। তিনি গৌরবকে বলেন, ‘যৌন প্রক্রিয়ায় শরীর এবং মন দুই-ই সমান ভাবে ইনভলভড। এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ২০০ ক্যালোরি বার্ন হয়। সহজ কথায় বলতে গেলে, এই পুরো প্রক্রিয়াটি মস্তিষ্ক এবং প্রজনন অঙ্গগুলির মধ্যে একটি সম্পর্ক গড়ে তোলে। মস্তিষ্ক অনেকগুলি হরমোনকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধানত ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন এবং টেস্টোস্টেরন। এই লুব্রিকেন্টগুলি কেবল তখনই উৎসারিত হয় যখন আমরা স্বাস্থ্যকর ফোরপ্লে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাই। এর মানে হল যে ফোরপ্লে, মেডিকেল দৃষ্টিকোণ থেকেও যৌন প্রক্রিয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর যদি ফোরপ্লে-র জন্য সেক্স ফ্যান্টাসি অবলম্বন করতে হয় তবে তাতে কিছু ভুল নেই।”

খোলাখুলি কথা বলুন

ডা. অঞ্জলি আরও বলেন, “আমাদের ৯০ শতাংশ মহিলা যৌনতা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী কিন্তু তারা এটি সম্পর্কে কথা বলতে লজ্জা পান। তবে এই মহিলারা গুগলে যৌনতা সম্পর্কে সর্বাধিক অনুসন্ধান করেন। তারা যৌনতা জড়িত নানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন। একটি সমীক্ষা অনুসারে, ৮০ শতাংশ মেয়েরা যৌনতা এবং অর্গ্যাজম সম্পর্কে অনুসন্ধান করেন, যেখানে মাত্র ৫৫ শতাংশ পুরুষ এই বিষয়গুলিতে অনুসন্ধান করেন। পুরুষরা সেক্স ফ্যান্টাসি সম্পর্কে জানতে অনেক বেশি উৎসুক মহিলাদের থেকে। এটি সম্পর্কে জানার আগ্রহ মহিলাদের মধ্যে প্রায় নেই বললেই চলে। যদিও মহিলাদের এই বিষয়ে খোলাখুলি আলোচনা করা উচিত এবং ডাক্তারদের পরামর্শ নেওয়া উচিত কারণ ভুল চিকিৎসা বা ভুল ওষুধও ক্ষতির কারণ হতে পারে।’

যৌন কল্পনার সংবেদনশীল দিকটি বিবেচনা করলে, এটি সত্য যে, আশা এবং আকাঙ্ক্ষার কোনও শেষ নেই। এটি এমন একটি আকাঙ্ক্ষা যা একজন ব্যক্তি সর্বদা কামনা করে এবং শেষ পর্যন্ত তার মরীচিকায় পথভ্রষ্ট হয় সে। অতএব, এই মরীচিকার পিছনে দৌড়ানোর পরিবর্তে, এর বিকল্প খুঁজে বের করাই ভালো। আমাদের প্রাকৃতিক যৌনপ্রবৃত্তি এবং সঠিক বিকল্প অর্থাৎ ফোরপ্লে-তেই ফিরে যাওয়াই সঠিক পন্থা।

সেক্স ফ্যান্টাসির কথা বলতে গেলে বলতে হয়, এটি যদি সেক্স প্রসেসে একঘেয়েমি দূর করে, তাহলে এর আশ্রয় নেওয়ায় কোনও ক্ষতি নেই। তবে মনে রাখতে হবে যে— সেক্স ফ্যান্টাসি, সমস্ত বিকল্পগুলির মধ্যে একেবারে শেষে থাকাই বাঞ্ছনীয়। যৌনক্রীড়ার একটি চূড়ান্ত সমাপ্তি হওয়া উচিত শারীরিক পরিতৃপ্তির কারণেই। আমরা সুখী যৌন জীবনের জন্য আকাঙ্ক্ষা যদি রাখি তাহলে মনে রাখতে হবে, এই সুখের ভল্টটি কেবল সন্তুষ্টির চাবিকাঠি দিয়েই খোলে, অন্য আর কিছু দিয়ে নয়।

অভিশপ্ত বাড়ি (শেষ পর্ব)

দু’চোখের পাতা এক হল না। চোখ বুঝলেই সন্দীপের কথা মনে আসছিল। একজন শিল্পীকে ওরা মেরে ফেলল। শিল্পীর অপরাধ, প্রিয়াকে সে ভালোবেসেছিল। ওরা কি জানে না, ভালোবাসার বাস হৃদয়ে, মগজে বা টাকা-পয়সায় নয়!

পরের দিন অফিস থেকে ফেরার পথে সন্দীপ দেখা করতে গেল সেই প্রপার্টি ডিলারের দোকানে, যে তাকে এই বাড়িটার খোঁজ দিয়েছিল। সেখানে পৌঁছে ভদ্রলোককে জিজ্ঞাসা করল— আচ্ছা, আপনি ওই বাড়িটার সম্পর্কে ঠিক কী জানেন আমাকে বলুন তো। আমি এত তাড়াতাড়ি হেরে যাওয়ার পাত্র নই।

—দেখুন, শিল্পী সন্দীপবাবুর মৃত্যুর পর ওই বাড়িতে একজন ভাড়াটে দিয়েছিলাম। কিন্তু কি আশ্চর্য, সে একদিন রাস্তায় গাড়ির তলায় চাপা পড়ে মারা গেল! মৃত্যুর আগে সে বলেছিল, ভূত নাকি তাড়া করেছিল তাকে। এর পরে একজন শিক্ষিত ইঞ্জিনিয়ার-কেও পাঠিয়েছিলাম৷ কিন্তু সেও নাকি মারা গেছে। তাঁর মৃত্যুটা আজও রহস্যাবৃত। ওই ইঞ্জিনিয়ার ভদ্রলোক একদিন আমাকে এসে বলেছিলেন, প্রিয়া নামে বাড়িওয়ালার মেয়েটি তাকে ওই বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেছিল। কিন্তু উনি ছাড়েননি। উনিও ভূতপ্রেতে বিশ্বাস করতেন না। ওই ভদ্রলোকের দেহটা পাওয়া গিয়েছিল লাজপত নগর সেন্ট্রাল মার্কেটের কাছে। ওর শরীরে কোথাও কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে বলা হয়েছিল হার্ট ফেলিয়োর। এর আসল কারণ আজও অনেকের কাছেই অজ্ঞাত। অনেকের অনুমান, সন্দীপের প্রেতাত্মা এমন ভয় দেখিয়েছে যে, মাঝরাতে পালাতে গিয়ে পড়ে গিয়ে তাঁর হৃদযন্ত্র হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায়।

—তাই বলছি আপনি বাড়িটা ছেড়ে দিন। আমারও ইচ্ছে ছিল না আপনাকে ওখানে পাঠানোর। জেদ ধরলেন তাই পাঠিয়েছি।

একথা শুনে অনিমেষ ঠিক করল খুব শীঘ্রই সে বাড়িটা পালটে ফেলবে। প্রপার্টি ডিলারকেও বলল অন্য একটি বাড়ি খুঁজে দিতে। তারপর বেরিয়ে পড়ল সেখান থেকে।

কিন্তু অনিমেষ মনে হয় সিদ্ধান্ত নিতে একটু দেরিই করে ফেলেছিল। ফলে যা হওয়ার তাই হল। সে রাতেই অনিমেষ রহস্যজনক ভাবে কীসের ছায়া দেখে আর্ত চিৎকার করে উঠেছিল। এরপর দেয়ালের ছায়ামূর্তি নেমে আসে তার ঘাড়ে। এক জান্তব চিৎকারে নার্ভাস ব্রেকডাউন হল ওর।

অনিমেষ এখন শুধু বিড়বিড় করে বলতে থাকে প্রিয়ার নাম। আর বলে, ‘সন্দীপ মরেনি, তাকে খুন করা হয়েছে।’ মগজের নাটবল্টু ঢিলে হয়ে গেছে ভেবে, অফিসের লোকেরা মিলে তাকে ভর্তি করে দিল শাহদরা-র মেন্টাল হসপিটালে। প্রপার্টি ডিলারের আপশোশ, অনিমেষ যদি তার কথা শুনে ওখানে না যেত তাহলে এই অবস্থা হতো না তার। নিজেকেও কেমন অপরাধী লাগছে ওই দালালটির। তাই ঠিক করল নিজে আর কাউকে ওই বাড়িতে কখনও ভাড়া নেওয়ার জন্য পাঠাবে না।

অনিমেষ এখন শাহদরা মেন্টাল হসপিটালের স্থায়ী বাসিন্দা। প্রিয়ার আক্ষেপ, সে রুখতে পারল না। লোকটা শেষপর্যন্ত পাগলই হয়ে গেল? ওই অভিশপ্ত ঘরে ওর অর্থলালুপ বাবা আর কতজনকে ডেকে এনে আরও বিপদের মধ্যে ফেলবে!

(সমাপ্ত)

অতিথি আপ্যায়নের জন্য বানিয়ে রাখুন নতুন কিছু মিষ্টি (শেষ পর্ব)

আপনি নিজেও বানিয়ে নিতে পারেন স্পেশাল কিছু মিষ্টি। আজ রইল লাউয়ের হালুয়া এবং জর্দা মিষ্টি বানানোর উপকরণ এবং প্রণালী।

লাউয়ের হালুয়া

উপকরণ: ৩-৪ বড়ো চামচ ঘি, ১টা লাউয়ের খোসা ছাড়িয়ে গ্রেট করা, ২ কাপ দুধ, ১ চিমটে বেকিং সোডা, ১/২ কাপ চিনি, অল্প এলাচগুঁড়ো।

উপকরণ (নাটস ফ্রাই): ১ বড়ো চামচ ঘি, ১ ছোটো চামচ চিরঞ্জি, ৪-৫টা বাদাম কুচি করা, ৪-৫টা কাজু কুচি করা।

উপকরণ (সাজানোর জন্য): অল্প গোলাপের পাপড়ি, তবক, অল্প পুদিনাপাতা, অল্প কাজু ভেজে নেওয়া।

প্রণালী: একটা সসপ্যানে দুধ ফুটতে দিন। এতে বেকিং সোডা দিয়ে ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন। এবার একটি অন্য পাত্র আঁচে বসিয়ে, এতে ঘি দিন। গ্রেট করা লাউ দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। কাঁচা গন্ধ চলে না যাওয়া অবধি নাড়তে থাকুন। লাউয়ের সমস্ত জল শুকনো হতে দিন। এবার এতে দুধটা ঢেলে দিন। ঢিমে আঁচে দুধের মধ্যে লাউটা রান্না হতে দিন। ভাজা কাজু ছড়িয়ে দিন। দুধটা পুরো শুকিয়ে লাউয়ের সঙ্গে মাখামাখা হলে, এর উপর এলাচগুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। আর দু’মিনিট নাড়াচাড়া করুন। ভেজে রাখা কাজু, গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে দিন, পুদিনাপাতা ও তবক দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

জর্দা মিষ্টি

উপকরণ: ১ কাপ বাসমতী চাল ভিজতে দিন, ১ চিমটে কেসর, ১ কাপ ঘি, ২টো এলাচের দানা, ২টো লবঙ্গ, ১/২ কাপ চিনি, ২ বড়ো চামচ কাজু কুচি করা, ১/২ কাপ মিক্সড ড্রাই ফ্রুটস কুচি করা, ১/৪ কাপ মেওয়া।

প্রণালী: একটা প্যানে জল দিয়ে কেসর ঢেলে ফুটতে দিন। চাল ধুয়ে এই জলে দিয়ে দিন। কেসর মেশানো জলে ফোটানো আধসেদ্ধ ভাত তুলে আলাদা রাখুন। এবার একটা প্যানে অল্প ঘি দিন। এতে এলাচ, লবঙ্গ দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। এতে ২-৩ মুঠো আধসেদ্ধ ভাত দিয়ে দিন। এবার ১ মুঠো চিনি এই ভাতের উপর ছড়িয়ে একটা লেয়ার তৈরি করুন। এর উপর আবার ভাতের লেয়ার তৈরি করে দিন। এরকম দু’-তিনটে লেয়ার করুন চিনি আর ভাতের। এবার প্যান বন্ধ করে

৭-৮ মিনিট ফুটতে দিন। ঢাকনা সরিয়ে অল্প ঝাঁকিয়ে, ভাপে রান্না হতে দিন আরও কিছুক্ষণ। অন্য একটি পাত্রে ঘি গরম করে এতে কাজু, বাদাম, কিশমিশ ভেজে নিন। এগুলি ঢাকনা বন্ধ ভাত খুলে, তার উপর ছড়িয়ে দিন। ঢাকনা খুলে এই ভাত ৫-৬ মিনিট আঁচে রাখুন। চিনি গলে যাবে। আঁচ থেকে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

রেসিপি: শেফ রণবীর ব্রার

(সমাপ্ত)

অভিশপ্ত বাড়ি (পর্ব-০৩)

এখন নেই মানে! ভদ্রলোক এখন কোথায় থাকেন? ভদ্রলোকের সাথে দেখা করতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে। কারণ একটা কথা মানতেই হবে, উনি খুবই ভালো শিল্পী। নয়তো এমন সব ছবি আঁকা সম্ভব নয়।

—বললাম তো এখন আর তার সঙ্গে দেখা করা সম্ভব নয়। উনি আর ইহজগতে নেই।

—উনি কী করে মারা গেলেন? জানেন কি?

—জানি। মৃদু গলাটা একটু ঠিক করে নিয়ে বলল প্রিয়া, খুব ভালো ছবি আঁকত সে।

অনিমেষের মনে হল নিশ্চয়ই এই প্রিয়ার সাথে ওই শিল্পী ভদ্রলোকের কোনও নিবিড় সম্পর্ক ছিল। পরিবার হয়তো তাতে সায় দেয়নি। শুধু তাই নয়, হয়তো ওর মা-বাবা কিছু খারাপ ব্যবহার করে থাকবে। কারণ প্রিয়ার গলায় বেশ একটা বেদনার সুর শোনা যাচ্ছিল। চোখদুটো ছল ছল করছিল।

সহানুভূতির সুরে অনিমেষ বলল, ‘কিছু মনে করবেন না। ঘটনাটা আমাকে শেয়ার করতে পারেন, তাতে আপনার মনের ভার কিছুটা কমতে পারে। ভদ্রলোকের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি, তাই তো!”

—আপনি ঠিক ধরেছেন। ওরা বলল, সন্দীপ নাকি সুইসাইড করেছে! কিন্তু আমি জানি, ও এ কাজ করতে পারে না। আমাকে ঘিরে ওর কত স্বপ্ন ছিল। বলেছিল, আমাকে নিয়ে শিগগিরই এখান থেকে চলে যাবে। অন্য কোথাও চলে যাবে। দু’জন মিলে একই ছাদের নীচে থাকব। কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না। তার প্রস্তুতিও চলছিল। হঠাৎ একদিন সকালে চা দিতে গিয়ে দেখি সন্দীপ খাটে উপুড় হয়ে পড়ে আছে। মুখে ফিনাইলের গন্ধ। আপনিই বলুন, ছেলেরা কখনও এত ভীতু হয় যে, ফিনাইল খেয়ে আত্মহত্যা করবে? এতটা কাপুরুষ সন্দীপ ছিল না। ওর মনের জোর ছিল অপরিসীম। আমি ওকে চিনতাম। ওরা সব ভুল বলেছে আমাকে। সন্দীপকে খুন করা হয়েছে। তারপর ফিনাইল ঢেলে দেওয়া হয়েছে ওর মুখে।

—কে মেরেছে বলে আপনার মনে হয়?

প্রিয়া ক্লান্ত স্বরে বলল, ‘থাক না ওসব। শুনে কী লাভ? সব শেষ হয়ে গেছে। সন্দীপের চলে যাওয়াতে আমি শেষ হয়ে গেছি। জোরে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল প্রিয়া।’

অমনি অনিমেষের বুকের ভেতরটা কেমন ধক করে উঠল। এ-ই তাহলে মাঝরাতে জানলার ধারে দীর্ঘশ্বাসের আসল রহস্য।

এরপর কিছুক্ষণ নীরবতা চলল। প্রিয়ার চোখ ছলছল করছে। অনিমেষ ভাবছে, এবার কি তাহলে প্রিয়া আবেগে,দুঃখে কেঁদে ফেলবে! পরক্ষণেই বুঝতে পারল যে তা নয়। এতদিনে প্রিয়া চোখের জলকে আটকাতে শিখে গেছে।

প্রিয়া নরম সুরে বলল, “এই ঘরটা আপনি ছেড়ে দিন। এই ঘর অভিশপ্ত। প্লিজ চলে যান। আপনার কোনও ক্ষতি হোক আমি চাই না।”

—অভিশপ্ত ঘর! আপনি এসব বিশ্বাস করেন, প্রিয়া!

—না, মানে, আমি এই ঘরে সন্দীপ ছাড়া আর কাউকে ভাবতে পারি না— বলেই প্রিয়া ঘর ছেড়ে চলে গেল ধীর পায়ে।

অনিমেষও প্রাত্যহিক কাজ সেরে অফিসে বেরিয়ে গেল। বাইরেই ব্রেকফাস্ট ও লাঞ্চ করে নেবে। কিন্তু মাথার মধ্যে প্রিয়ার কথাগুলো ঘুরপাক খেতে লাগল। কী করবে ভেবে উঠতে পারছিল না।

অনিমেষ সন্ধ্যার পর বাইরে থেকে ডিনার করে বাড়ি ফিরল। কিন্তু রাতে ভালো করে ঘুমোতে পারল না। শুধু দীর্ঘশ্বাস নয়, সন্দীপ এখন ফিনাইলের গন্ধটাও পেতে শুরু করেছে। ফিনাইলের ঝাঁঝালো গন্ধে গুমোট চারপাশটা।

(ক্রমশ…)

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব