অভিশপ্ত বাড়ি (পর্ব-০২)

পরের দিন রবিবার ছিল তাই সকালবেলা পৌঁছে গেল ওই ঠিকানায়। দিল্লিতে এসে অনিমেষ একটা কথা শুনেছে, এখানে কারও বাড়িতে গেলে সকাল এগারোটার আগে যাওয়া নাকি সবাই পছন্দ করেন না। তাই অনিমেষও বাড়ির খোঁজে গিয়ে পৌঁছোল এগারোটার পর। কলিংবেল টিপতেই এক বয়স্ক ভদ্রলোক বেরিয়ে এলেন। অনিমেষ বাড়ি ভাড়ার কথা বলতেই ভদ্রলোক এমন ভাবে তাকালেন যেন অভাবনীয় কিছু শুনছেন। ভদ্রলোক অবাঙালি। হিন্দিতেই বললেন, ‘ভেতরে আসুন।’

—আজ্ঞে, আমাকে প্রপার্টি ডিলার পাঠিয়েছেন। ঘর দেখার জন্য।

ভদ্রলোক তাকে ঘর দেখাতে নিয়ে গেলেন ভেতরে। ঘরের ভেতরে ঢুকেই দেখল কতগুলো সুন্দর অয়েল পেন্টিং ঘরের দেয়ালে লাগানো। অনিমেষের মনটা খুশিতে ভরে গেল। ছবিগুলো যেন জীবন্ত। মনে হচ্ছে যেন কথা বলছে। অনিমেষ জানে দিল্লিতে ভাড়া অ্যাডভান্স দিতে হয়। অনেকে তো আবার ‘পাগড়ি’ চায়। অর্থাৎ একসাথে কয়েক মাসের টাকা দিয়ে দিতে হয়। তাই বলল,

—আমাকে কত অ্যাডভান্স দিতে হবে? আমি কালই শিফট করতে চাই। আমার কাছে খুব একটা জিনিসপত্র নেই তাই কালই শিফট করতে অসুবিধে হবে না। আপনাকে ভাড়াটা কি এখন দেব?

—এখন দিতে হবে না। দু’একদিন পরে দিলেও হবে। আপনি আগামীকাল আসুন তারপর দেখা যাবে।

অনিমেষ বেশ একটু অবাকই হল। কারণ শুনেছে এখানে কেউ অগ্রিম ছাড়া বাড়ি ভাড়া দেয় না। যাক, ভদ্রলোক হয় খুব ভালো, নয়তো একটু বোকা। ছোটোবেলা থেকেই অনিমেষ একটু সাসপেন্স পছন্দ করে। ভদ্রলোকের কথায় স্পষ্ট একটা রহস্যের গন্ধ যেন পাচ্ছিল। সে এক কথায় রাজি হয়ে গেল।

অনিমেষ যখন ভদ্রলোকের সাথে কথা বলায় ব্যস্ত, তখন এক ফাঁকে তার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে একটি মেয়ে। বয়স খুব বেশি হলে চব্বিশ-পঁচিশ হবে। মেয়েটির মধ্যে একটা অদ্ভুত আকর্ষণী ক্ষমতা আছে। প্রথম দেখাতেই অনিমেষের খুব ভালো লেগে গেল। মেয়েটি দেখতেও খুবই সুন্দরী।

পরের দিন জিনিসপত্র নিয়ে অনিমেষ পৌঁছে গেল নতুন বাড়িতে। ঘরটা গুছিয়ে নিতে একটু সময় লাগল। তাই ক্লান্তও লাগছিল। বিছানায় শুয়ে ঘরের মধ্যে টাঙানো অয়েল পেন্টিংগুলোর দিকে তাকিয়ে খুবই আশ্চর্য হচ্ছিল। অনিমেষ একটু আধটু স্কেচ করতে পারে। তাই ওর খুব জানতে ইচ্ছে করছিল সেই শিল্পীর নাম যিনি এগুলি এঁকেছেন। সেদিন রাতে খাওয়া দাওয়া করে শুতে যাওয়ার আগে তার অদ্ভুত এক অনুভূতি হল। মনে হল, কে যেন জানলার বাইরে থেকে তার ওপর নজর রাখছে। দীর্ঘশ্বাসের মতো লম্বা শ্বাস ছাড়ল কেউ। একবার নয়, বেশ কয়েকবার। ভাবল হতে পারে তার মনের ভুল। বাইরে হয়তো খুব জোরে বাতাস বইছে এটা তার আওয়াজ হবে। নিজেই নিজের মনকে সাহস জুগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল সে।

পরের দিন সকাল হতেই দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেল। দেখল তার সামনে গতকালের সেই মেয়েটি, অর্থাৎ বাড়িওয়ালার সেই সুন্দরী মেয়েটি এসে উপস্থিত। মেয়েটিকে দেখে কী বলে কথা শুরু করবে, অনিমেষ ভেবে পাচ্ছিল না। তাই হঠাৎ-ই জিজ্ঞাসা করে বসল, ‘ঘরের ভেতরে এই ছবিগুলো কার আঁকা? খুব সুন্দর লাগছে ছবিগুলো।’

—এ ঘরেই থাকত একজন। এখন নেই। তারই আঁকা। হেঁয়ালির সুরে বলল মেয়েটি।

—আপনার নামটা জিজ্ঞাসা করা হয়নি। আপনার নামটা যদি বলেন।

—প্রিয়া।

—বাহ্, খুব সুন্দর নাম তো!

প্রিয়া-র কণ্ঠে ও চেহারায় অস্বাভাবিক কিছু আছে। চোখে চোখ রাখা বেশ কঠিন। কেমন যেন ঘোর লাগে। সম্মোহন নাকি। অনিমেষ লেখক বা কবি নয়, নয়তো প্রিয়া-র কণ্ঠস্বর, ভ্রু-ভঙ্গির নিখুঁত বর্ণনা দিতে পারত। অনিমেষ আন্দাজে বুঝে নিল, প্রিয়ার সাথে এই শিল্পীর কোনও না কোনও যোগসূত্র আছে। অনিমেষের মন হঠাৎই একটু জেদি হয়ে উঠল। পুরো সত্যিটা জানতে হবে।

( ক্রমশ… )

অতিথি আপ্যায়নের জন্য বানিয়ে রাখুন নতুন কিছু মিষ্টি(পর্ব-০২)

রোজ হালুয়া

উপকরণ: ৩ কাপ রোজ সিরাপ, ১/৪ কাপ ঘি, ১ কাপ কর্ন স্টার্চ, দেড় কাপ জল, ৩/৪ কাপ মিক্সড ড্রাই ফ্রুটস ব্লাঞ্চড এবং কুচোনো, অল্প ঘি, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: একটা বড়ো পাত্রে রোজ সিরাপ আর ১ চিমটে নুন দিন, এবার ঘি, কন স্টার্চ আর জল দিয়ে ভালো ভাবে ফেটান। এরপর এই মিশ্রণ কড়াইতে দিয়ে লাগাতার নাড়তে থাকুন। ঢিমে আঁচে রান্নাটা করুন যাতে পুড়ে না যায়। ঘি দিয়ে ততক্ষণ নাড়তে থাকুন, যতক্ষণ না শুকিয়ে যায়। এবার এতে ড্রাইফ্রুটস ছড়িয়ে দিন। একটা প্লেটে ঘি বুলিয়ে নিন, এতে হালুয়া চারিয়ে দিন। ৩০ মিনিট রেখে দিন যাতে জমে সেট হয়ে যায়। রোজ হালুয়া টুকরোয় কার্টুন। পেস্তা, গোলাপের পাপড়ি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

বুন্দি লাড্ডু

উপকরণ (বুন্দি ব্যাটারের জন্য): ২ কাপ বেসন, ১/২ ছোটো চামচ ইয়েলো ফুড কালার, ডিপ ফ্রাই করার জন্য ঘি। উপকরণ (সুগার সিরাপের জন্য): ৫০০ গ্রাম চিনি, ৫০০ মিলি জল, অল্প এলাচগুঁড়ো, অল্প গোলমরিচের দানা, ১ চিমটে কেসর, ১/২ ছোটো চামচ লেমন জুস।

অন্যান্য উপকরণ: ১/২ কাপ ক্যাস্টর সুগার, সাজানোর জন্য তবক।

প্রণালী (বুন্দি তৈরির জন্য): একটা পাত্রে বেসন, ফুড কালার, দিয়ে ভালো ভাবে মেশান। এতে অল্প জল দিন। গাঢ় ব্যাটার তৈরি করুন। এবার কড়ায় ঘি গরম করে, ছোটো ঝাঁঝরির সাহায্যে ছোটো ছোটো বুন্দি তৈরি করুন। ভালো ভাবে ভাজা হলে তুলে নিয়ে সুগার সিরাপে ঢেলে দিন।

প্রণালী (সুগার সিরাপ তৈরির জন্য): একটা গভীর তল-যুক্ত পাত্র গ্যাসে বসিয়ে সমপরিমাণ চিনি আর জল দিয়ে ফুটতে দিন। রস ঘন হতে দিন। এতে এলাচগুঁড়ো মিশিয়ে দিন। গোলমরিচের দানা ও দুধে ভেজানো কেসর ঢেলে দিন। এবার ততক্ষণ ফুটতে দিন, যততক্ষণ না পাতলা সিরাপ তৈরি হচ্ছে। এবার আঁচ থেকে নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন।

প্রণালী (লাড্ডু তৈরির জন্য): বুন্দি সুগার সিরাপ থেকে তুলে নিন। একটা থালায় ছড়িয়ে একটু চটকে নিন। এতে ক্যাস্টর সুগার মেশান। হাত দিয়ে বল গড়ে নিন। উপরে তবক দিয়ে সাজিয়ে লাড্ডু পরিবেশন করুন।

(ক্রমশ…)

অভিশপ্ত বাড়ি (পর্ব-০১)

অনিমেষ একটা ভালো চাকরি পেয়ে দিল্লি চলে এসেছে। এসে শ্রীনিবাসপুরীর ভারত সেবাশ্রম সংঘের গেস্ট হাউসে ছিল। একটা ঘর ভাড়ার জন্য অনেককে বলে রেখেছে, কারণ এখানে তো বেশিদিন থাকা যাবে না। অফিসেও অনেককে বলেছে যদি কোনও ঘর ভাড়া পাওয়া যায় জানাতে।

একদিন অফিসের এক কলিগ এসে খবর দিল লাজপত নগরের একজন প্রপার্টি ডিলার-কে সে চেনে। যদি অনিমেষ রাজি থাকে তবে তাকে ফোন নম্বর দিতে পারে। অনিমেষ যেন হাতে চাঁদ পেল। বলল—‘এখুনি দিন।’

অনিমেষ ওই প্রপার্টি ডিলারকে ফোন করে জানিয়ে দিল যে, সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফেরার পথে সে তার সঙ্গে দেখা করবে।

অফিসের ছুটির পর অনিমেষ সোজা গিয়ে পৌঁছোল সেই প্রপার্টি ডিলারের অফিসে। ইতিমধ্যেই অনিমেষ এতদিনে নিশ্চিত হয়েছে যে, দিল্লতে ঘর ভাড়া পেতে হলে এরাই একমাত্র ভরসা। বেশিরভাগ লোকই তাই করে। অনিমেষ লক্ষ্য করল— এখানে প্রায় সব মানুষই বাঙালিদের ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করে। এমনকী বড়োরাও দাদা বলেই সম্বোধন করেন বাঙালিদের।

প্রপার্টি ডিলারের অফিসে পৌঁছোতেই ভদ্রলোক অনিমেষকে খুব খাতির করে বসালেন। চা, জল অফার করলেন। তারপর বললেন— ‘দাদা, আপনাকে এই মুহূর্তে ঘর দিতে পারব না। তবে আগামী মাসে একটা ঘর খালি হবে সেটা দিতে পারি।’

—না, আমার এখনই লাগবে। যদি কিছু থাকে তো বলুন।

একটু ভেবে ভদ্রলোক উত্তর দিলেন— ‘একটা বাড়ি আছে কিন্তু আপনি সেখানে বেশিদিন থাকতে পারবেন না।”

—কেন বলুন তো?

—এর আগে ওখানে দু’জন ছিল কিন্তু থাকতে পারেনি। শুনেছি কোনও একটা সমস্যা আছে। ওই বাড়িটার দু’টো ভাগ। সামনের দিকে বাড়ির মালিক, ওনার স্ত্রী এবং এক মেয়ে থাকে। আর পেছন দিকের ভাগটা ভাড়া দেন। তাই ওই জায়গায় আপনাকে পাঠাতে চাই না।

—কী সমস্যা আছে? ভূত-টুতের কথা বলছেন কি? আমি ওসবে বিশ্বাস করি না। আমি গ্রামে থাকাকালীন রাতবিরেতে বহুবার শবদাহ করতে শ্মশানে গেছি। ওসব ভয় আমি পাই না। এ প্রসঙ্গে আপনাকে একটা ঘটনা বলি—

আমাদের পাড়াতে ‘মেটে পুকুর’-এর পাশে একটা বাড়ি পরিত্যক্ত হিসেবে অনেকদিন পড়েছিল। বাড়ির মালিক বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। পরে ঠিক করেন বাড়ি বিক্রি করে দেবেন। কিন্তু এর মধ্যেই শুরু হল এক ব্যাপার। চারিদিকে রটে গেল— ওই বাড়িতে ভূতেরা থাকে। প্রতিদিন রাতে বাড়ির ছাদে প্রদীপ জ্বলতে দেখা যায়। বাড়ি তো তালা দেওয়া। তাহলে কে এই প্রদীপ জ্বালায়? এসব ভূতের কাণ্ড! অনেকেই রাতে ওই প্রদীপের আলোও দেখেছে। আমিও দেখেছি। তখন আমরা বন্ধুরা মিলে ঠিক করলাম এই ভূতকে দেখতেই হবে। তাই রাতের অন্ধকারে কয়েকজন মিলে ওৎ পেতে রইলাম এবং শেষ পর্যন্ত রহস্য উদ্ঘাটিত হল।

এটা ছিল পাশের বাড়ির লোকের কাজ। তারা চাইত না যে ওই বাড়িটা অন্য কেউ কিনুক। ভূতের ভয়ে অন্য কেউ না কিনলে তারা সস্তায় ওই বাড়িটা মালিকের থেকে কিনতে পারবে। তাই রাতের বেলা ছাদ টপকে পাশের ছাদে গিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে আসত ভূতের ভয় দেখাতে। আর লোকের মধ্যে প্রচার করে দিয়েছিল, ওই বাড়িতে ভূত আছে। তাই আমি ওসব নিয়ে ভাবি না।

হাসতে হাসতে অনিমেষ বলল, ‘সবচেয়ে মজার কি জানেন, সবাই ভূতের ভয় দেখায় কিন্তু কেউ দেখেছে বলে এখনও ‘শুনিনি।’

—ঠিক আছে, আপনি যখন রাজি তখন ওখানেই চলে যান। পরে আমাকে দোষ দেবেন না। বাড়ির মালিককে আমার কথা বললেই উনি আপনাকে ঘর দেখিয়ে দেবেন। বাড়ির ঠিকানা ও মালিকের নাম এই কাগজে লিখে দিলাম। বলে একটা কাগজে ঠিকানা লিখে অনিমেষের হাতে দিয়ে দিলেন।

অতিথি আপ্যায়নের জন্য বানিয়ে রাখুন নতুন কিছু মিষ্টি (পর্ব-০১)

স্ট্রবেরি লাড্ডু

উপকরণ  (ব্যাটারএর জন্য): দেড় কাপ বেসন, ১ কাপ জল, ২ ছোটো চামচ রোজ পিংক কালার, ভাজার জন্য ঘি, নুন স্বাদমতো।

উপকরণ  (সুগার সিরাপ উইথ স্ট্রবেরি ক্রাশ): দেড় কাপ চিনি, ২/৩ কাপ জল, ২ কাপ স্ট্রবেরি ক্রাশ।

উপকরণ  (সুগার সিরাপ উইথআউট স্ট্রবেরি ক্রাশ): দেড় কাপ চিনি, ১ কাপ জল, ১/২ কাপ স্ট্রবেরি এসেন্স, ১০ ড্রপ স্ট্রবেরি রং।

উপকরণ  সাজানোর জন্য: ব্লাঞ্চন্ড এবং কুচোনো পেস্তা, তবক।

প্রণালী (ব্যাটার তৈরির): একটা পাত্রে বেসন, জল, নুন দিয়ে ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন। এতে রোজ পিংক কালার দিয়ে মসৃণ ভাবে ব্যাটার গুলে নিন। ১০ মিনিটের জন্য আলাদা করে রেখে দিন।

প্রণালী (ভাজার জন্য): একটা কড়া ঢিমে আঁচে বসিয়ে ঘি গরম করুন। ঝাঁঝরির সাহায্যে ব্যাটার থেকে অল্প অল্প নিয়ে ঘিয়ে ছেড়ে দিন। বোঁদে ভেজে তুলুন। এই ভাজা বোঁদে প্রথমে সাধারণ সুগার সিরাপের মধ্যে ঢেলে দিন। রস ঢুকলে দ্বিতীয় সিরাপের মধ্যে ঢেলে মাখিয়ে নিতে হবে।

প্রণালী (সুগার সিরাপ স্ট্রবেরি ক্রাশএর জন্য): একটা সসপ্যানে চিনি আর জল দিয়ে রস ঘন করতে থাকুন। এতে স্ট্রবেরি ক্রাশ ঢেলে ভালো ভাবে মেশান। এবার ততক্ষণ নাড়াচাড়া করুন, যতক্ষণ না রস ঘন হয়ে যায়। এবার সুগার সিরাপে ঢেলে রাখা বোঁদে, এই স্ট্রবেরি ক্রাশ দেওয়া রসের সঙ্গে ভালো ভাবে মাখিয়ে নিন।

লাড্ডু তৈরির জন্য: রসে ভেজানো বোঁদে একটা থালায় ছড়িয়ে নিন। হালকা গরম থাকা অবস্থায় হাতের তালুতে চেপে লাড্ডু গড়ে নিন। পেস্তা ও তবক দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

চকোলেট পনিয়ারাম

উপকরণ: ১/২ কাপ ময়দা, ১/২ ছোটো চামচ বেকিং পাউডার, ১ কাপ কোকো পাউডার, ১ ছোটো চামচ ফ্লাক্স সিডস, ১/২ ছোটো চামচ ভ্যানিলা এসেন্স, ১০-১২টা ডার্ক চকোলেট কিউবস, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: একটা মিক্সিং বোল-এ চকোলেট কিউবস বাদ দিয়ে বাকি সমস্ত উপকরণ ভালো ভাবে পিষে নিন। এবার এতে জল বা দুধ দিয়ে গাঢ় ব্যাটার তৈরি করে নিন। পনিয়ারাম মোল্ডগুলি একটু গরম করে নিন। এতে ব্যাটার ঢেলে দিন, তারপর চকোলেট কিউব দিয়ে পুনরায় ব্যাটার এর উপর ঢেলে কভার করে দিন। ঢিমে আঁচে রেখে ৩-৪ মিনিট সেঁকে নিন। আঁচ থেকে নামিয়ে, গলানো চকোলেট ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

(ক্রমশ…)

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে নতুনত্ব এবং সতেজতা আনতে হবে জীবনে (পর্ব-০১)

তিন মাস হতে চলল আরুশির বিয়ের। বিয়ে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল ওর মনে। আরুশি আর সিদ্ধার্থর বিয়েটা সম্বন্ধ করেই। আরুশি বরাবরই বিয়েটা নিয়ে খুব ফ্যানটাসাইজ করত। কিন্তু বিয়ের পর কার্যক্ষেত্রে স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গঠনের সময় একটা বড়োসড়ো ধাক্কা খেল সে। কল্পনায় সিদ্ধার্থকে যতটা রোমান্টিক ভেবেছিল সে বাস্তবে ততটা আদৌ নয়। এটা যখন বুঝল আরুশি, মানসিক ভাবে বড়ো ধাক্কা খেল সে। বিবাহিত সম্পর্কের ভিতটাই টলমল হয়ে উঠল। সুতরাং এটাই মনে রাখতে হবে যে, একটা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে সেক্স ফ্যান্টাসির সঙ্গে বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে সম্পর্কটির মূল্যায়ন করা দরকার।

একঘেয়েমি যখন যৌন প্রক্রিয়াতেও আসে, তখন একজন সঙ্গী সেখান থেকেও বেরিয়ে আসার বিকল্প রাস্তা খোঁজে। এই কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও দূরত্ব বাড়তে শুরু করে কিছুদিন পর থেকেই। দূরত্বের কারণ যাই হোক না কেন, এর মৌলিক ভিত্তি সম্ভবত সেই একঘেয়েমি। এই দূরত্ব বৃদ্ধি পায় এবং শেষ পর্যন্ত পরিণতি বিবাহবিচ্ছেদে গিয়ে দাঁড়ায়। এটা সত্য যে বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা দিন দিন অবিশ্বাস্য ভাবে বাড়ছে। কেন বেডরুমে এই একঘেয়েমি আসে এবং এই একঘেয়েমি এড়ানোর বিকল্প কী ?

একঘেয়েমি এড়ানোর উপায়

লুইস এ ওয়ার্ডসওয়ার্থের জনপ্রিয় বই ‘এ টেস্ট বুক অন সেক্সোলজি’তে বলা হয়েছে, ‘বেডরুমের একঘেয়েমি এড়ানোর জন্য দম্পতিদের ক্রমাগত নতুন ভাবে যৌন প্রক্রিয়া গ্রহণ করা উচিত। নতুন নতুন পোজের পরীক্ষানিরীক্ষার মানসিকতা থাকা উচিত। কখনও কখনও জায়গা পরিবর্তন করে কিছুদিন হিল স্টেশনে কাটিয়ে আসাটাও একটি ভালো বিকল্প।’

লুইস আরও লিখেছেন, ‘কিছুদিন পর তাদের মধ্যেও পৌনঃপুনিকতা বা একঘেয়েমি দেখা দেয়। ফলত দম্পতি আবার যৌন প্রক্রিয়ার থেকে বেরিয়ে আসার একটি বিকল্প উপায় খুঁজে বার করার চেষ্টা করে। বর্তমানে নতুন একটি নাম বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং তা হল সেক্স ফ্যান্টাসি, যা পশ্চিমি দেশগুলোর তরুণদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেকেই আছে যারা বিশ্বাস করে যে এটি সঠিক। তবে এমন লোকও রয়েছে যারা এটি ভুল প্রমাণ করতেই উদ্যত।’

মুম্বইয়ের বিখ্যাত সেক্স কাউন্সেলর ডা. রুস্তম-এর মত হল, ‘এই বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো খুব দরকার। তিনি বলেন যে, তাঁর কাছে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আজকের প্রজন্মের কাছে খুব তাড়াতাড়ি সব কিছু পেয়ে যাওয়ার চাহিদা অনেক বেশি। ফাস্ট ফুডের মতো তাদেরও ফাস্ট আনন্দ দরকার। এর জন্য ধৈর্য ধরতে তারা প্রস্তুত নয়। যদিও মনে রাখতে হবে যে,যৌনতা আবেগের খেলা।’

তিনি আরও বলেন— যৌন প্রক্রিয়ায় শুধু শরীরেরই অংশ থাকে না, মনও সমান ভাবে যুক্ত থাকে। তাই সেক্স প্রসেসের আগে ফোরপ্লে অর্থাৎ শারীরিক স্পর্শ, আলিঙ্গন, চুম্বন, জড়িয়ে ধরা প্রভৃতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা আজকের তরুণ প্রজন্মকে উপেক্ষা করতে দেখা যায়। অবশ্য এটা হয়তো পুরোপুরি তাদের দোষ নয়। কাজের চাপ, অন্যান্য স্ট্রেস এতটাই বেশি যে, তাদের মানসিক অবসাদ খুব দ্রুত গ্রাস করে। এই কারণে, ফোরপ্লে-তে যতটা সময় দেওয়া উচিত তা হয় না। ফলস্বরূপ, আজকের প্রজন্ম, যৌন প্রক্রিয়ায় এক্সটেসি, চরম আনন্দ বা অর্গাজম (সেক্সুয়াল ক্লাইম্যাক্স) অর্জন করতে সক্ষম হন না। এখানেই যৌন প্রক্রিয়ার প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হওয়া শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে একঘেয়েমিতে পরিণত হয়। এই একঘেয়েমি, দূরত্ব তৈরি করতে শুরু করে এবং দূরত্ব ধীরে ধীরে বিবাহবিচ্ছেদের পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

শরীর এবং মন উভয়ই কার্যকর

ডা. রুস্তমের কাছে যৌনসমস্যা নিয়ে আসেন গৌরব গ্রোভার এবং তার স্ত্রী নেহা গ্রোভার। তাদের কাছেই জানা গেল যে, তারাও নিজেদের যৌনজীবন নিয়ে একঘেয়েমিতে ভুগছেন। সেই জন্যই তারা ডা. রুস্তমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেক্সের প্রতি তারা আর কোনও রকম আকর্ষণ বোধ করেন না।

তারা জানান, ‘আমরা মাত্র দুই বছরের বিবাহিত। কিন্তু যৌন প্রক্রিয়ার প্রতি আমাদের আগ্রহ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এটির প্রতি আর কোনও আকর্ষণ নেই। অন্যান্য সমস্ত জিনিসের মতো, যৌনতাও আমাদের কাছে প্রতিদিনের মতো বিরক্তিকর মনে হতে শুরু করেছে।’ গৌরব আরও বলেন, ‘আমাদের যৌন জীবনে রোমাঞ্চ আনতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। সেক্সের উপর বিভিন্ন ভিডিও দেখার পর কিছুটা উত্তেজনা বোধ করি। অনেক ওষুধও ব্যবহার করে দেখেছি। সাপ্তাহিক ছুটিতেও আমরা হোটেলে থাকতে শুরু করি। এটি অবশ্যই কয়েক দিনের জন্য আমাদের একঘেয়েমির অবসান ঘটিয়েছে। আমরা এই পরিবর্তনটি উপভোগ করতে শুরুও করেছিলাম। কিন্তু কয়েক দিন পরে, আমরা এটিতেও বোর হতে শুরু করি। অবশেষে আমরা ডা. রুস্তমের কাছে এসেছি। তিনি আমাদের খুব ভালো কিছু টিপ্স দিয়েছেন। এগুলো থেকে আমরা অনেক লাভবান হচ্ছি।’

সেক্স ফ্যান্টাসি

গৌরব জানালেন, ‘ফ্যান্টাসি মানেই কল্পনার জগৎ। চিকিৎসক আমাদের পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, আমরা বেডরুমে যাওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে আমাদের দুজনকেই কল্পনার জগতে যেতে হবে। মানে, বেডরুমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি আমার স্ত্রীকে রুপোলি পর্দার প্রিয় নায়িকা ভাবতে শুরু করি এবং স্ত্রীও আমাকে তার প্রিয় হিরো ভাবতে শুরু করে। এতে প্রথমে মনের মধ্যে হাসি পেলেও, দুজনেই একে অপরের প্রতি আকর্ষিত হই৷’

(ক্রমশ…)

মহিলাদের আরও বেশি ক্যান্সার সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিলেন চিকিৎসকরা

এখনও পুরোপুরি ক্যান্সার সচেতন নন অনেক মহিলা। অথচ, ক্যান্সার এক মারণ রোগ! এই রোগের নামে  আতঙ্ক এখনও পিছু ছাড়েনি মানুষের। লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করেও অনেক ক্ষেত্রেই ক্যান্সার আক্রান্তদের জীবন বাঁচিয়ে রাখা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। দরিদ্র অসহায় মানুষদের জন্য এই রোগের চিকিৎসা আরও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে অনেক সময়ে।

মহিলাদের ক্ষেত্রে ব্রেস্ট এবং ওভারিয়ান ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশেই বেশি। তবুও মানুষ শেষ চেষ্টা করে দেখতে চায় সব সময়ই। কিন্তু শেষে গিয়ে চেষ্টার বদলে যদি শুরু থেকেই একটু চেষ্টা করা যায় তাহলে ক্ষতি কী? সেই কারণেই ‘লিভফ্লাই হেলথকেয়ার’ ও ‘চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যানসার ইন্সটিটিউট’-এর যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি হাওড়া চেঙ্গাইলের লাডলো জুটমিলে সেখানকার মহিলা শ্রমিক ও মহিলা কর্মচারীদের জন্য বিনামূল্যে ক্যান্সার স্ক্রিনিং, টেস্ট ও ক্যান্সার সচেতনতা বিষয়ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এই কাজে শামিল হয়েছিলেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। এছাড়া ছিলেন লাডলো জুটমিলের এমডি ফিজিশিয়ন ডা. এস জাকারিয়া, চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হসপিটালের খ্যাতনামা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. কঙ্কনা উমার‍্যে ও ডা. চন্দ্রাণী মল্লিক।

‘লিভফ্লাই’-এর কর্ণধার সৌমাল্য চক্রবর্তী প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, ‘মহিলাদের মধ্যে এই রোগের প্রবণতা বেশি থাকে কিন্তু তারা সচেতন হন না। তাই সচেতনতা বাড়ানোর জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। যেহেতু তারা পরিষেবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাই মানুষের কাছে এই ধরণের পরিষেবা দিতে বদ্ধপরিকর। তারা আরও এই ধরণের সচেতনতামূলক কাজ চালিয়ে যেতে চান বলেও জানিয়েছেন। ‘লিভফ্লাই’-এর অন্যতম কর্ণধার প্রিয়াঞ্জলী ঘোষ এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘উইমেন্স ডে-র পরে এই ধরণের অনুষ্ঠান প্রাসঙ্গিক। তবে এখানে মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার ও সারভাইক্যাল ক্যান্সারের পাশাপাশি, ওরাল ক্যান্সারেরও স্ক্রিনিং এর ব্যবস্থা আছে। আর কেউ যদি সেরকম বিপদসীমায় আছেন মনে হয়, তাহলে ম্যামোগ্রাফির ব্যবস্থাও রয়েছে। এছাড়াও জেনারেল হেলথকেয়ারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।’

ক্যান্সার সচেতনতামূলক এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী প্রিয়াংকা সরকার। তিনিও সাধারণ মানুষের উদ্দশ্যে জানিয়েছেন, ‘নারী দিবসের ঠিক পরেই মহিলাদের ক্যান্সারের এইরকম সচেতনতা প্রকল্পে থাকতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। ক্যান্সার নিয়ে মনে অনেক ভয় থাকে কিন্তু দুঃখের বিষয় হল এই যে, এখনও কিছুসংখ্যক মহিলা বোঝেন না যে, ক্যান্সার-স্ক্রিনিং করানো কতটা প্রয়োজনীয়। কিন্তু মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে টেস্ট না করানোর ফলে ক্যান্সার যদি বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যায়, তাহলে তখন শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক সবরকম ক্ষতি হয়। আর এই ধরণের টেস্ট করা থাকলে একটু আগে যদি ধরা পড়ে, তাহলে প্রথম ধাপেই চিকিৎসা ও সুস্থতা দুইই সম্ভব, তাও কম খরচাতে। অতএব, ‘লিভফ্লাই’-এর এইরকম উদ্যোগকে মাথায় রেখে আরও বহু সংস্থার এগিয়ে আসা উচিৎ বলে আমি মনে করি।’

শিশুদের বাক প্রতিবন্ধকতা রুখতে পথ দেখাচ্ছে অল্টারনেটিভ স্টিমুলেশন

অটিজম, সেরিব্রাল পালসি বা অন্যান্য প্রতিবন্ধকতাযুক্ত শিশুরা অনেক সময় কথা বলতে বা নিজেদের ভাবের আদান-প্রদান করতে পারে না।

কী বলতে চাইছে তা বুঝতে পারলেও, বোঝাতে পারে না অনেক শিশু। যারা হয়তো কথা বলতে পারছে না বা পারবে না, এই ধরনের শিশু বা যুবক-যুবতিদের কীভাবে অল্টারনেটিভ বা অগমেনটেটিভ কমিউনিকেশনের মাধ্যমে তারা তাদের ভাব প্রকাশ করতে পারে, তা নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হল কলকাতার লেকটাউনে। যেখানে কথা বলতে না পারা এবং স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ ডিসওর্ডারে আক্রান্ত শিশু এবং তাদের বাবা-মায়েরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় বিশিষ্ট বাক ও শ্রবণ বিশেষজ্ঞ ও কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজিস্ট মঃ শাহিদুল আরেফিন জানিয়েছেন, ‘অল্টারনেটিভ বা অগমেনটেটিভ কমিউনিকেশনের মাধ্যমে যদি একটি শিশুর স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ স্টিমুলেশন সঠিক ভাবে করা যায়, তাহলে কথা বলা বা কমিউনিকেশনের  সমস্যা খুব দ্রুত মিটে যাবে।’ এই প্রসঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘আমাদের দেশে অনেক অটিস্টিক শিশু রয়েছেন যারা এই ধরনের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকদের কাছে আসেন। তাদের মধ্যে এখনও অনেক সচেতনতার অভাব রয়েছে।’  এ বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে এরকম কর্মশালা আরও করা দরকার বলেও তিনি মনে করেন।

যদি কোনও শিশুর স্পিচ বা ল্যাঙ্গুয়েজ এর সমস্যা থাকে, তাহলে প্রথমেই তার বাবা-মায়ের উচিত কোনও  স্পিচ ও ল্যাংগুয়েজ প্যাথলজিস্টের কাছে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া যে, তার সমস্যা কতটা এবং সেইসঙ্গে অল্টারনেটিভ  বা  অগমেনটেটিভ কমিউনিকেশন কখন কীভাবে করতে হবে সেই ব্যাপারে ধারণা তৈরি করা।

অনেকের ভুল ধারণা আছে যে, এই কমিউনিকেশনের মাধ্যমে শিশু হয়তো কথাই বলতে পারবে না। কিন্তু এই ধারণা ঠিক নয়। উল্টে শিশুকে দ্রুত কথা বলানো এবং তার মনের ভাব প্রকাশ করতে সাহায্য করে এই অল্টারনেটিভ কমিউনিকেশন। এটিই একমাত্র বিকল্প ব্যবস্থা বলে মনে করেন মঃ  শাহিদুল আরেফিন।

তাঁর মতে, সমস্যা কতটা তা বুঝে লো-টেক, হাই-টেক বা মিড-টেক পদ্ধতিতে কমিউনিকেশন বোর্ড, অ্যাপ বা অন্যান্য যান্ত্রিক ব্যাবস্থাপনায় ওই শিশু তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে পারবে আধুনিক টেকনোলজির মাধ্যমে। বিশিষ্ট বিজ্ঞানী স্টিফেন্স হকিং যে ভাবে যান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে নিজের ক্লাস নেওয়া থেকে শুরু করে গবেষণার কাজ চালিয়ে গেছেন, সেই পদ্ধতি আজকে সর্বত্র অনুধাবন করা উচিত বলেও জানিয়েছে মঃ  শাহিদুল আরেফিন।

রহস্য-রোমাঞ্চে মোড়া বাংলা ছবি ‘বেলাইন’-এর ট্রেলার লঞ্চ করা হল সম্প্রতি

সম্প্রতি পার্ক স্ট্রিট অঞ্চলের এক অভিজাত রেস্তোরাঁয় সাড়ম্বরে লঞ্চ করা হল ‘বেলাইন’ ছবির ট্রেলার। আর এই ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে পরিচালক এবং প্রযোজক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ছবির কয়েকজন অভিনেতা-অভিনেত্রী।

‘বেলাইন’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন সমিক রায় চৌধুরি। ছবিটি রহস্য-রোমাঞ্চে মোড়া বলে জানা গেছে। এক বৃদ্ধ সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। খাওয়া-বসা, ঘুমোনো, ইনডোর গেম আর আশপাশে ঘুরে বেড়ানো ছাড়া তাঁর বাকি সময়টা কাটতো টিভি সিরিয়াল দেখে। আর তিনি যখন ফুরফুরে মেজাজে থাকতেন, তখন তাঁর নজর থাকতো বাড়ির পরিচারিকার দিকে। একটু খুনসুটি, দুষ্টুমি এসব নিয়েই বয়ে চলেছিল বৃদ্ধের গতানুগতিক জীবন। কিন্তু এই সাধারণ বহমান জীবনে সবকিছু বদলে দিল একটা ফোন কল। এক অপরিচিত তরুণী ভুল করে কল করেন বৃদ্ধের ল্যান্ডফোনে। বৃদ্ধ প্রথমে অপ্রস্তুতে পড়লেও, কথায়-কথায় বৃদ্ধ বেশ ঢুকে পড়েন ওই  তরুণীর ব্যাক্তিগত জীবনে। চলতে থাকে টেলিফোনিক ভাব-বিনিময়। ওই তরুণী এবং তার লিভ-ইন পার্টনার-এর জট পাকানো, রহস্যে মোড়া জীবন-কাহিনিতে ওই বৃদ্ধও এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে ওঠেন একসময়। আর এখান থেকেই শুরু হয় চমক!

সমিকের এই ‘বেলাইন’ ছবিতে ওই বৃদ্ধের চরিত্রে অভিনয় করেছেন পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এমন চরিত্রে তাঁকে আগে কখনও অভিনয় করতে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন এই ছবির পরিচালক। তরুণী-র চরিত্রে রূপদান করেছেন শ্রেয়া ভট্টাচার্য। এর আগে শ্রেয়াকে অভিনয় করতে দেখা গেছে ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’, সাঁঝবাতি’ ছবিতে এবং ‘কেমিস্ট্রি মাসি’ ওয়েব সিরিজ-এ। আর পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্রেয়া ভট্টাচার্য ছাড়াও , ‘বেলাইন’ ছবির অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরজে সায়ন, তথাগত মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।

এক ঘন্টা চল্লিশ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই ছবিটি তৈরি হয়েছে ‘দৃষ্টিশ্রী আর্টস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর ব্যানারে। প্রযোজনা করেছেন হরিৎ রত্ন এবং মনীষা রত্ন। ‘বেলাইন’ ছবির সাফল্যের বিষয়ে প্রযোজক, পরিচালক এবং ছবির কলাকুশলী সবাই ভীষণ আশাবাদী।

এই ছবির কাহিনি, চিত্রনাট্য এবং সংলাপ লিখেছেন পরিচালক সমিক রায় চৌধুরি স্বয়ং। চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন সুপ্রিয় দত্ত। শিল্প নির্দেশক তপন শেঠ। কালারিস্ট প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্পাদনা করেছেন সংলাপ ভৌমিক। সংগীত পরিচালনা করেছেন তমাল কান্তি হালদার। আগামী ২৯ মার্চ ‘বেলাইন’ মুক্তি পাবে বলে জানানো হয়েছে ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে।

অপাত্র (শেষ পর্ব)

ঘুঘুর ডিমের মতো দুটো রসগোল্লা দিয়ে অতিথি সেবার পর মেয়ে দেখে ইন্দ্র বুঝল স্নাতক ও প্রকৃত সুন্দরীর অর্থ। অন্তত বিজ্ঞাপনে যা লিখেছিল ইন্দ্র। ইন্দ্র মেয়ের দাদাকে বলল ‘আমরা পরে জানাব।’ দাদা চলে যেতে মা ইন্দ্রকে বলল, ‘তোর ভাগ্যটাই খারাপ!’

ইন্দ্র মন খারাপের সঙ্গে বলল, ‘আরও তো আছে, দেখা যাক।’ খানিকক্ষণ পরে মা বলল, ‘এখানে অন্ন পিসিমার বাড়ি। এতটা এসেছি যখন, একবার ঘুরে যাই।’

একটা ভ্যানরিকশা পাওয়া যেতে বড়া গ্রামের উলটোদিকে বেড় গ্রামে অন্নপিসির বাড়ি গেল। পৌঁছোনোর সঙ্গে সঙ্গেই, ‘ও মা৷ বউদি এসেছে, আয় ইন্দ্ৰ আয়। তোমরা কোথায় এসেছিলে? খাওয়া দাওয়া করে যাবে কিন্তু।’

ইন্দ্ৰ ভাবল ভালোই হল সেই সকালে চা জলখাবার খেয়ে বেরনো তার ওপর বেলা একটা। আর ও বাড়িতে ঘুঘুর ডিমের মতো রসগোল্লা খিদের সময় কিছুই নয়।

ইন্দ্রর মা বলল, “এই দেখ না ইন্দ্রর বিয়ের ব্যাপারে একটা মেয়ে দেখতে এসেছিলাম।”

—ও… তোমরা মেয়ে দেখতে এসেছিলে। তা পছন্দ হল?

—না না কী অখাদ্য মেয়ে! শুধু শুধু আসা হল।

—তা যাকগে তোমরা বসো আমি রান্না চাপিয়ে দিচ্ছি, খেয়েদেয়ে যাবে কিন্তু।

ইন্দ্রর মা বলল, “ওসব আর ঝামেলা করছ কেন। আমরা এখুনিই চলে যাব।”

—সে বললে হবে। আর আসই না তো। শ্রীরামপুরে সেই শেষ দেখা।

ইন্দ্রর মনে পড়ল অন্নপিসিমার সঙ্গে গতবছর পুজোর সময় দেখা হয়েছিল। ইন্দ্রদের শ্রীরামপুরের ফ্যামিলি, বটগাছের মতো। অন্নপিসিমা দূর সম্পর্কের পিসিমা হয়। এত বড়ো ফ্যামিলি এদিকে ইন্দ্রের মনে হচ্ছে কেউ একটা বিয়ের সম্বন্ধ করে না। আগে দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ের চল ছিল।

—বউদি, ইন্দ্র কী করে এখন? চাকরি পায়নি শুনেছিলাম।

—ও একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করছে। একটু থেমে, ‘দেখ না একটা ভালো মেয়ে খুঁজছি।’

—ভালো মেয়েই পাওয়া কঠিন। এইতো আমার ভাসুরের একটা ভালো মেয়ে ছিল, ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে বিয়ে হয়ে গেল।

মা জিজ্ঞেস করল, “ভাব নাকি?”

—না, ঠিক ভাব নয়!

কথাটা ইন্দ্রের গলায় ফুটল দুপুরে মাছ ভাতের সঙ্গে। মেয়ে দেখার আন্তরিকতা এখানে শেষ হবে, এমনটা ইন্দ্রের মনে আছে। বাকি দুটি সপ্তাহ গেল হুগলি জেলার গুড়াপ আর তারকেশ্বরের খানাকুলে গিয়ে। আন্তরিকতা থাকলেও মেয়ে শেষমেশ বড়ো কালো। প্রায় পছন্দই নয়। গুড়াপের মেয়েটার বাবা ট্রেনে তুলে দিয়ে বলেই ফেলল, “দিদি দেখবেন যাতে মেয়েটাকে বাড়িতে গ্রহণ করা হয়।’ বাড়ি পাত্রের বাড়ির চেয়ে বড়ো তবু ইন্দ্র জানে নিজের নিজেরই। বাবার সম্পত্তি থাকলে ছেলের হয় কিন্তু ভাইয়েদের প্রভাব প্রতিপত্তি থাকলেও পাত্র অপাত্রই রয়ে যায়।

ইদানীং অফিসের কাজের চাপ বেড়েছে। ইন্দ্র ডিউটির মধ্যে ডুবে থাকাটাই সঠিক কাজ বলে মনে করল এইসময়। তাছাড়া উপায়ও তো নেই। এখান থেকেই উন্নতি করতে হবে। দরকার হলে মামার মতো টেকনিক্যাল কাজ শিখতে হবে। এমনকী আহামরি! নিজের তো ফিজিক্সের মতো শক্ত সাবজেক্ট রয়েছেই। বিভিন্ন দোষে বাজারে না হয় এখন দাম নেই। তবে স্থির বিশ্বাস, বুড়ো বয়সের পরিশ্রমে সে একদিন না একদিন ফল পাবেই।

সেদিন রবিবার থাকায় অফিসে নির্দিষ্ট ডিউটি ছিল না তবু যোধপুর পার্কে একবার গেছিল। ওখান থেকে যাদবপুর হয়ে খিদিরপুরের একটা বাসে। লাস্ট স্টপ মেটিয়াবুরুজ খিদিরপুর ফ্যান্সি পেরিয়ে। বাসটি ওখান পর্যন্ত যাবে। ইন্দ্র বড়ো জোর ফ্যান্সি মার্কেটে যাবে। তারপর হেঁটে একটুখানি গেলেই তাদের বাড়ি। রবিবার বিকেল চারটের সময় বাসে যে এত ভিড় থাকে তা তার জানা ছিল না। যাদবপুরে লেডিস সিটের সামনে একটু দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েই সে খুশি।

অন্যদিন রাতে ফেরে বলে বুঝতে পারে না। ভিড়ের চাপে হ্যান্ডেলটা ঠিকঠাক ধরতে না পারায়, হাতটা হড়কে হড়কে যাচ্ছিল। হঠাৎ বাসের সামনে একজন আরোহী এসে পড়ায় ড্রাইভার জোরে ব্রেক মারল আর তাতেই বিপত্তি। ইন্দ্রর হাত ফসকে সামনে বসে থাকা এক মহিলার গায়ে লাগল। আর যায় কোথায়। সঙ্গে সঙ্গে সেই মহিলা ইন্দ্রের হাতটা ধরে চেঁচিয়ে উঠল, “তু কিসে হাত লাগায়া? ঔরতকো তু সমঝতা ক্যায়া।”

সবাইয়ের দৃষ্টি তখন ইন্দ্রের দিকে। হাতাহাতি হবার উপক্রম। ইন্দ্র কিছুতেই মহিলাকে বোঝাতে পারছে না যে, সে ইচ্ছে করে এই কাজটা করেনি। বাসের ঝাঁকুনিতে হাত ফসকে তার শরীরে লেগেছে এবং এর জন্য সে ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু মহিলা সে কথা বুঝতে বা শুনতেই চাইছে না। বেগতিক দেখে এরপর বাসে যাতে ঝামেলা না বাড়ে তাই কন্ডাক্টর এসে ইন্দ্রকে বাস থেকে নামিয়ে দিল।

বাস থেকে নেমে ইন্দ্ৰ দেখল এটা ফ্যান্সির আগের স্টপেজ খিদিরপুর ব্যায়াম সমিতি। এখান থেকেও তাদের বাড়ি যাওয়া যায়। জীবনে এরকম পরিস্থিতিতে সে কোনওদিন পড়েনি। তবে বড়োসড়ো ঝামেলার হাত থেকে যে সে বেঁচে গেছে এ ব্যাপার একশো ভাগ নিশ্চিত। তার জন্য কন্ডাক্টর ও উপরওয়ালাকে বারবার ধন্যবাদ দিতেও ভুল করল না!

(পাঁচ)

—হ্যালো, কোথা থেকে বলছেন। মায়ের গলায় আড়ষ্টের মধ্যে ঘুম ভাঙলেও পরের কথাগুলো কাঁটার মতো বিধল!

—ও হ্যাঁ হ্যাঁ, চাঁপাডাঙ্গায় দেখে এসেছিলাম, মনে পড়েছে। ভালোই লেগেছিল। আপনারা রাজি আছেন, হ্যাঁ হ্যাঁ, সে তো বটেই। ফোনে আর কোনও শব্দ নেই।

নিস্তব্ধতা ভেঙে ইন্দ্রের ঘরে মা, ‘ওই এখনও ঘুমোচ্ছিস। চাঁপাডাঙ্গার সেই সুন্দর মেয়েটার বাড়ি থেকে ফোন করেছিল। ওরা বিয়ে দিতে রাজি। মেয়েটা প্রাইমারিতে মাস্টারিও করে। তবে গ্রামের লোক তো তোর সম্বন্ধে ভালো ভাবে খোঁজখবর নেবে!”

কিছুক্ষণ পরে ইন্দ্র চা খেতে খেতে গম্ভীর গলায় বলল, ‘মা ছেড়ে দাও, আমার আর বিয়ে হবে না!”

(সমাপ্ত)

প্রি-মেনস্ট্রুয়াল ডিসফোরিক ডিসঅর্ডার (শেষ পর্ব)

যন্ত্রণার থেকে মুক্তি পেতে, পিএমডিডি রোগটি সম্পর্কে বিশদে জেনে নিয়ে, সঠিক চিকিৎসাকে মাধ্যম করা উচিত।

সাম্প্রতিক গবেষণাগুলিতে প্রকাশিত যে, অন্যান্য নিউরোট্রান্সমিটার যেমন GABA, monoamine oxidase A (MAOA) এবং ব্রেন ডিরাইভড নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর (বিডিএনএফ)-এর কার্যকারিতাও PMDD-তে ইস্ট্রোজেনের দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। যদিও পিএমডিডি খুব-ই কমন একটি বিষয় কিন্তু স্ট্রেসকে বা মানসিক চাপ-কে উপেক্ষা করা যায় না। ৪০০০ জন মহিলার উপর করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, কোনও আঘাতজনিত কারণেও পিএমডিডি-র সমস্যা হতে পারে।

ঋতুস্রাবের সময় যে-অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, বিশেষ করে পিএমডিডি আক্রান্ত মহিলাদের ক্ষেত্রে, তা সত্যিই অসহনীয়। কিন্তু আজকের বিশ্বে উপযুক্ত চিকিৎসা ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তার মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। চিকিৎসকরা পিএমডিডি-র উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন। অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্টস, বিশেষ করে এসএসআরআই (সিলেক্টিভ সেরোটোনিন রিউপটেক ইনহিবিটরস) সেরোটোনিনের মাত্রা মাঝারি করতে সাহায্য করে। কখনও-কখনও হরমোনের চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ফার্মাকোলজিকাল ইনপুটগুলির সঙ্গে সাইকোথেরাপির ভূমিকাও পিএমডিডি প্রতিরোধে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। যখন একজন মহিলা মুড সুইং, হতাশা এবং অসন্তোষ অনুভব করেন, তখন তাদের সাইকোথেরাপি-রও প্রয়োজন হতে পারে। একজন থেরাপিস্টের সঙ্গে কথা বলে আপনি ঋতুকালীন পরিস্থিতিতে আপনার আচরণ পর্যবেক্ষণ করে সমস্যার সমাধান করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন রোগী উদ্বিগ্ন এবং মানসিক চাপে থাকেন, তাহলে সেই রোগীকে সাহায্য করা কার্যকর হতে পারে। যদি উপসর্গগুলি একজন রোগীকে খুব যন্ত্রণা দেয়, তাহলে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়া জরুরি।

পিএমডিডি-র লক্ষণসমূহ

  • গুরুতর ক্লান্তি
  • মেজাজ পরিবর্তন
  • খিটখিটে ভাব
  • নার্ভাসনেস
  • বিষণ্ণতা
  • উদ্বেগ-সহ কান্নাকাটি এবং মানসিক সংবেদনশীলতা
  • মনোনিবেশ করতে অসুবিধা
  • হৃদস্পন্দনে দ্রুতি
  • প্যারানইয়া
  • সমন্বয়ে অসুবিধা ও বিস্মৃতি
  • পেট ফোলা ক্ষুধা বৃদ্ধি
  • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল বিপর্যয়
  • মাথাব্যথা
  • পিঠব্যথা
  • পেশির খিঁচুনি, অসাড়তা বা হাত-পায়ের ঝাঁকুনি
  • গরম ভাব (হট ফ্লাশ) অনুভব করা
  • মাথা ঘোরা
  • অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
  • নিদ্রাহীনতা
  • দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন
  • শ্বাসকষ্ট
  • অ্যালার্জি এবং সংক্রমণ
  • বেদনাদায়ক ঋতুস্রাব।

পিএমডিডি এবং পিএমএস-এর কারণ

পিএমডিডি মাসিক চক্রের সময় মহিলাদের স্বাভাবিক হরমোনের ওঠা-নামার ফলে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। এর ফলে, নিউরোট্রান্সমিটার সেরোটোনিনের ঘাটতি হতে পারে।

কিছু মহিলার পিএমডিডি-এর অভিজ্ঞতা অন্যদের তুলনায় বেশি। কারণ যাদের প্রসবোত্তর বিষণ্নতা, মুড সুইং বা বিষণ্ণতার পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে।

রোগ নির্ণয়

পিএমডিডি-র উপসর্গগুলি অন্যান্য অবস্থার মতোই হতে পারে। তাই স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা শারীরিক পরীক্ষা করবেন।

উপসর্গ এবং ঋতুচক্রের মধ্যে কোনও সম্পর্ক নির্ণয় করতে ডায়াগনস্টিক প্রক্রিয়ায় একটি উপসর্গ চার্টও তৈরি করা হয়।

চিকিৎসা

দুই ধরনের ওষুধ পিএমডিডি-তে সাহায্য করতে পারে— যেগুলি ডিম্বস্ফোটনকে প্রভাবিত করে এবং যেগুলি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে (সিএমএস) প্রভাবিত করে।

অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্টস যেমন ফ্লুওক্সেটাইন (প্রোজ্যাক, সারাফেন), সার্টালাইন (জোলফট), প্যারোক্সেটিন (প্যাক্সিল) এবং সিটালোগ্রাম (সেলেক্সা) প্রয়োগ করা হতে পারে।

যাদের পিএমএস আছে, তাদের কগনিটিভ থেরাপি (সিটি) করা হতে পারে।

ডায়েট এবং ব্যায়াম

চিনি, লবণ, ক্যাফিন এবং অ্যালকোহল গ্রহণের পরিমাণ হ্রাস করতে হবে। প্রোটিন বৃদ্ধি করতে হবে এবং ব্যায়াম করা দরকার। সেইসঙ্গে, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট কৌশল রপ্ত করলে সমস্যার সমাধান হবে।

অন্যান্য টিপস

  • ঋতুস্রাব-এর দিনগুলিকে সহজ ভাবে নেওয়া
  • এই বিষয়ে একজন বিশ্বস্ত বন্ধুর সঙ্গে কথা বলা
  • উত্তেজনা উপশম করে এমন শিথিল ক্রিয়াকলাপগুলি জেনে নেওয়া— যেমন পড়া, সিনেমা দেখা, হাঁটতে যাওয়া কিংবা স্নান করা।
পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব