পুলিশ ভেরিফিকেশন আতঙ্কের বিষয়

সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা৷  দিল্লির নয়ডায় একজন ১০ বছর বয়সি নাবালিকা যে-বাড়িতে কাজ করত, সেই গৃহকর্ত্রী ছিলেন এয়ারলাইন পাইলট। তিনি ওই নাবালিকা কাজের মেয়েটিকে মারধর করার জন্য কয়েক রাত জেলবন্দি ছিলেন। আর এখন তাই দিল্লিতে যে-সব সংস্থা ডোমেস্টিক হেল্পস-এর জন্য কর্মী সরবরাহ করে, সেইসব সংস্থার রেজিস্ট্রেশন এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন কম্পালসারি হয়ে গেছে। দিল্লি প্রাইভেট প্লেসমেন্ট এজেন্সি রেগুলেশন অ্যাক্ট ২০১৪ এখন বেশ ভালো ভাবে কার্যকর করা হয়েছে। তাই যদি কর্মী সরবরাহকারী কোনও এজেন্সি এই আইন লঙ্ঘন করে, তাহলে তাকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে।এমন ব্যবস্থা কলকাতায় নেই৷

দিল্লির মতো শহরে ব্যস্ততার কারণে এখন প্রায় প্রতিটি পরিবারে কাজের লোক ছাড়া জীবন চলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আর এই প্রয়োজনীয় বিষয়টির অপব্যবহার করছেন কিছু অসাধু লোক। তারা গরিব পরিবারের ছেলেমেয়েগুলোকে নানারকম প্রলোভন দেখিয়ে কিংবা ধরে নিয়ে এসে বাড়ির কাজে সাপ্লাই করছেন। কাজের লোকজন সরবরাহকারী এজেন্সিগুলি মোটা টাকা কমিশনের লোভে এই সব অবৈধ কাজকর্ম করছে এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সবাইকে কন্ট্রোল করছে।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পুলিশ ভেরিফিকেশন। সারা দেশের সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই পুলিশ ভেরিফিকেশনের বিষয়টি এখন আতঙ্কের হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলা হচ্ছে, এই বিষয়টি আমজনতার সুরক্ষার জন্য করা হয়েছে কিন্তু বাস্তবে এ শুধু ভদ্র লোকেদের ডেটা কালেকশন হচ্ছে। আদতে যারা কুকীর্তির সঙ্গে যুক্ত, সেই সব অপরাধীদের সমস্ত ডকুমেন্টস জাল। পুলিশ চাইলেও ওই জাল ডকুমেন্টস ভেরিফাই করার সুযোগ পাচ্ছে না। দিল্লি, মুম্বই কিংবা বেঙ্গালুরুর পুলিশ শুধু সার্ভেন্ট-এর দেওয়া ঠিকানায় একটা চিঠি পাঠিয়ে জানাতে পারে যে, এই লোকটি এখানে কাজ করছে। এর বেশি কিছু নয়।

আসলে, যারা পাক্কা অপরাধী, যেখানে পুলিশ ভেরিফিকেশন-এর বিষয় থাকবে, ওইসব জায়গায় ঝুঁকি নিয়ে তারা কাজই করবে না– এটাই বাস্তব। কিন্তু যদি সঠিক ভাবে পুলিশ ভেরিফিকেশন হতো, তাহলে সার্ভেন্ট এবং মালিকপক্ষ উভয়েরই ভালো হতো। তা তো আর হয় না! উলটে পুলিশ নিজেদের স্বার্থে পোশাকের ক্ষমতার অপব্যবহার করে যখন কাউকে ধমকানো, চমকানোর প্রয়োজন মনে করে তখন তাই করে। তাই দরজার সামনে পুলিশকে দাঁড়াতে দেখলে সাধারণ মানুষ সুরক্ষা অনুভব করেন না। বরং বলা যায়, মানুষ আতঙ্কে থাকেন। কারণ পুলিশ ভেরিফিকেশন-এর অজুহাতে অর্থ উপার্জনের রাস্তা খোঁজে। দিল্লির ডোমেস্টিক হেল্পস সংগঠনের আধিকারিকরাও মনে করেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন-এর বিষয়টি ভালো হলেও, এর মধ্যে কোরাপশন চলে।

তাই মনে হয়, যদি কোনও ডোমেস্টিক সার্ভেন্ট সাপ্লায়ার্স ফেডারেশন থাকত, যারা সমস্ত সমস্যার সমাধান করে দিত, তাহলে কী যে ভালো হতো!

‘ম্যায় অটল হুন’-ছবিতে পঙ্কজ ত্রিপাঠী কতটা সফল?

সারাং দর্শনের বই ‘অটলজি: কবিহৃদয়দাচে রাষ্ট্রনেত্যাচি চ্ররিতকাহানি’ থেকে অনুপ্রাণিত এই সিনেমায় বাজপেয়ীর স্বাধীনতা সংগ্রামী থেকে শ্রদ্ধেয় নেতা হয়ে ওঠার যাত্রা সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটি অটল বিহারী বাজপেয়ীর রাজনীতিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। নামভূমিকায় অভিনয় করেছেন পঙ্কজ ত্রিপাঠী। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর জীবনের গভীরে ডুব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পালন করেছেন পরিচালক। গল্পটি প্রয়াত নেতার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে কভার করেছে। ‘Main Atal Hoon’ চলচ্চিত্রের পরিচালনা করেছেন জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী পরিচালক রবি যাদব, যিনি এর আগে মারাঠি ভাষায় তাঁর কাজের জন্য জাতীয় পুরস্কার জিতেছিলেন। ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘ম্যায় অটল হুন’।

গোটা ছবি জুড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাজপেয়ীর আরএসএসে যোগদান, আইন নিয়ে পড়াশোনা, ভারতীয় জনতা পার্টি গঠন, সংবাদপত্রের সম্পাদনা থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার দীর্ঘ যাত্রাপথ। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনার টুকরো ছবি চলচ্চিত্রে রয়েছে যা আমাদের দেশকে আকার দিয়েছে। এটি ভারতে জরুরি অবস্থা, রামজন্মভূমি, পোখরান, লাহোর বাস যাত্রা, কার্গিল এবং ভারতীয় জনতা পার্টি গঠনের মধ্য দিয়ে অটল বিহারী বাজপেয়ীর রাজনৈতিক যাত্রাকে কভার করেছে।

ছবিতে প্রচুর ভারী ভারী সংলাপ রয়েছে। গল্প শুরু হয় ত্রিশের দশকের শেষের দিকে। তারপর ৭০, ৮০ এবং ৯০-এর দশকে ঘুরে বেড়িয়েছে ক্যামেরা। কিন্তু চিত্রনাট্য নিয়ে আরও কাজ করার অবসর ছিল। আর একটা বিষয় হল ছবির গতি। ১৪২ মিনিটের সিনেমার গতি অত্যন্ত ধীর। সিনেমা দেখতে দেখতে আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে না। প্রভাব ফেলে না কোনও কিছুতেই। অনেক জায়গায় গানগুলির কোনও প্রয়োজন ছিল বলে মনে হয় না। মূল চরিত্রে পঙ্কজ ত্রিপাঠীর অভিনয় দেখলে বোঝা যায়, তিনি চরিত্রটিকে প্রত্যাশা মতন ফুটিয়ে তুলতে অসফল হয়েছেন। প্রসথেটিকস মেক-আপ না থাকলে মনে হতো যেন তিনি তাঁর কোনও সিনেমার অন্য একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন। ছবিটা দেখতে দেখতে মনে হয় পঙ্কজ ত্রিপাঠী মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা একজন গোষ্ঠীপতির চরিত্রে অভিনয় করছেন। অভিনয়ের বিস্তৃত পরিসরের ক্ষমতাবান এই অভিনেতা দুঃখজনকভাবে এই ছবিতে তাঁর পূর্ববর্তী ছবির চরিত্রগুলিরই ব্যারিটোন এবং উচ্চারণ বহন করেছেন। ফলতঃ বার বার মনে হয়েছে এটি তাঁকে এবং তিনি যে চরিত্রে অভিনয় করছেন, তা ব্যর্থ করেছে। পরিচালক রবি যাদব দেশপ্রেমের জোয়ার বইয়ে দেননি। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে বাজপেয়ীর ইমেজ পালটাবার বা দর্শকদের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টাও করেননি তিনি। বাজপেয়ী যেমন, তাঁকে ঠিক সেভাবেই পর্দায় উপস্থাপন করেছেন পরিচালক। সিনেমা করার জন্য যতটা স্বাধীনতা নেওয়া যেতে পারে তার পুরোটারই সদ্ব্যবহার পরিচালক করেছেন। চলচ্চিত্রের মূল আমেজ তাতে নষ্ট হয়নি এতটুকু। চিত্রনাট্য ও পরিচালনার পাশাপাশি লরেন্স অ্যালেক্স-এর দুর্দান্ত সিনেমাটোগ্রাফি রয়েছে এই বায়োপিকটিতে।

ছবিতে সুষমা স্বরাজ, অরুণ জেটলি এবং প্রমোদ মহাজনের সঙ্গেও পরিচয় করানো হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সূক্ষতার সঙ্গে চরিত্রগুলি চিত্রিত করা হয়নি। চলচ্চিত্রটিতে ভারতীয় জনতা পার্টি সম্পর্কে কথা বলা হয়েছে তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কোনও উল্লেখ নেই। বাজপেয়ীর রাজনীতিকে তুলে ধরার জন্য, গল্পটি নেহরু এবং ইন্দিরা গান্ধির সেই একই পুরনো গল্পের উপর ভিত্তি করে তৈরি বলে মনে হয় যা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয়। ছবিতে এমন কিছু শট রয়েছে যা আমাদের দেশে ঘটে যাওয়া অতীতের ঘটনাগুলির কথা মনে করিয়ে দেয়।

 শুভ অনুষ্ঠানের মিষ্টি

শুভ অনুষ্ঠানে সাজসজ্জার পাশাপাশি মিষ্টির কথা হবে না— এমন হতেই পারে না। ভারতের সংস্কৃতির  সঙ্গে মিষ্টির অতি মধুর সম্পর্ক। উৎসব-অনুষ্ঠান  উপলক্ষ্যে পোশাক-আশাকের মতোই মিষ্টিরও হরেকরকম সম্ভার হাজির করেন মিষ্টান্ন বিক্রেতারা। যেগুলি দৃষ্টিনন্দন তো বটেই, স্বাদেও লা-জবাব।উত্তর ভারতীয় প্রচলিত কিছু মিষ্টিকেই নতুন রূপে, নতুন রঙে, নতুন আকারে, নতুন ফ্লেভারের সঙ্গেই গ্রাহকদের সামনে হাজির করছেন তারা। মিষ্টির জগতে হলদিরাম, ভিখারাম চন্দমল, পরশুরাম, গাঙ্গুরাম-এর নাম তো শীর্ষে রয়েইছে, পাশাপাশি স্থানীয় মিষ্টান্ন বিক্রেতাদের মিষ্টির স্বাদও কোনও অংশে কম নয়। আসুন জনপ্রিয় সেইসব মিষ্টিগুলির মধ্যে কী কী রয়েছে, তার উপর একবার ঝটতি চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।

কাজু বাদামের মিষ্টি

কাজুর মিষ্টি মানে আগে আমরা শুধু কাজু-বরফিই জানতাম। কিন্তু এখন এই ধারণা বদলে দিয়েছেন অভিজাত মিষ্টান্ন বিক্রেতারা। কাজুকে উপকরণ করে এখন নানারকম মিষ্টি তৈরি করতে দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—

কাজু কলস : ঘটের মতো দেখতে হয় এই মিষ্টি।

কাজু গুজিয়া : এই মিষ্টি দেখতে হোলি উৎসবের গুজিয়ার মতো।

কাজু সিঙারা : কাজুর তৈরি মিষ্টি সিঙাড়াকেই বলা হয় কাজু সিঙারা।

কাজু রোলস : পাতলা এবং লম্বা করে বেলে গোল করে মুড়ে তৈরি হয় কাজু রোলস।

কাজু পান : এটি দেখতে পানের মতো দেখতে হয় এই মিষ্টি এবং মিষ্টি পানে ব্যবহৃত হয়। এমন কয়েকটি মশলা দিয়ে তৈরি হয় এই মিষ্টি।

উপরোক্ত সবকটি মিষ্টিই ৫০০ গ্রাম এবং এক কিলোগ্রামের প্যাকেটে বিক্রি হয়।

Special Sweets

চিনাবাদামের মিষ্টি

কাজুবাদামের তৈরি মিষ্টি সকলের কাছেই পরিচিত কিন্তু চিনাবাদামের মিষ্টির সঙ্গে তেমন পরিচিতি নেই সবার। আসলে দেশি ঘি, চিনি এবং চিনাবাদামের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি হয় এই মিষ্টি। গুজিয়া, রোলস, জিলিপি, তিরঙ্গী প্রভৃতি মিষ্টি পাওয়া যায় এই উপকরণে। এসব মিষ্টিতে সামান্য কৃত্রিম রঙেরও ব্যবহার করা হয় আকর্ষণীয় রূপ দেওয়ার জন্য।

মেসু পাক

জনপ্রিয় মিষ্টিগুলির মধ্যে মেসু পাক অন্যতম। ডাল, গমের আটা, চিনি, দেশি ঘি প্রভৃতির মিশ্রণে তৈরি হয় এই মিষ্টি।

টিকিয়া সফ্ট

আলুর টিক্কির মতো দেখতে হয় এই মিষ্টি। দুধ, সুজি, চিনি, খোয়া, দেশি ঘি, গরমমশলা, মেওয়া প্রভৃতি উপকরণে তৈরি হয় এই মিষ্টি। খুব নরম এবং সুস্বাদু হয় খেতে।

পতিসা

রাজস্থানের পরম্পরাগত মিষ্টিগুলির মধ্যে, তালিকার শীর্ষে রয়েছে পতিসা। গমের আটা, চিনি, শুকনো মেওয়া, দেশি ঘি-র মিশ্রণে তৈরি হয় এই মিষ্টি।

সোহন হালুয়া

তিন রকম সোহন হালুয়া পাওয়া যায় মিষ্টির দোকানে। সোহন হালুয়া কাজু, সোহন হালুয়া বাদাম এবং সোহন হালুয়া পেস্তা। এই মিষ্টি তৈরিতে লাগে গমের আটা, দেশি ঘি, চিনি, শুকনো মেওয়া, ডাল, কেশরবাদাম, চিনাবাদাম, পেস্তা প্রভৃতি। মুখরোচক এই মিষ্টির স্বাদ নিতে ভুলবেন না।

Sohanpapri sweet

সোনপাপড়ি

শুকনো ঝুরঝুরে হওয়ার কারণে খুব সহজে নষ্ট হয় না সোনপাপড়ি। তাই একবার বানালে বহুদিন এই মিষ্টির স্বাদ নেওয়া যায়৷ এই জন্য দীপাবলি উৎসবে সোনপাপড়ির চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে এক নয়, অনেকরকম সোনপাপড়ি পাওয়া যায় বাজারে। প্রত্যেকটির রং, আকার এবং স্বাদ ভিন্ন। অরেঞ্জ সোন ট্রিট, চকোলেট সোনপাপড়ি, কোকোনাট সোনপাপড়ি, স্পেশাল সোনপাপড়ি এবং সোন কেক পাওয়া যায় বাজারে এবং প্রতিটিই দুর্দান্ত স্বাদযুক্ত।

এক প্রসিদ্ধ মিষ্টান্ন বিপণির কর্ণধারের মতে, প্যাকেটের মিষ্টির থেকে টিনে ভরা মিষ্টির চাহিদা বেশি। কারণ, টিনে ভরা মিষ্টি বেশি সুরক্ষিত, দীর্ঘদিন রাখা যায় এবং দূরদূরান্তে নিয়ে যাওয়াও সুবিধাজনক। এছাড়া, ম্যানুফ্যাকচারিং ডেট, এক্সপায়ারি ডেট, কী কী উপাদানে তৈরি প্রভৃতিও বিশদে উল্লেখ করা থাকে টিনের কৌটোতে। কয়েকটি মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠান গিফ্‌ট প্যাকও বের করেছে ক্রেতাদের জন্য। তাহলে আর অপেক্ষা কেন? আলোর উৎসবকে মিষ্টিমুখর করে জমিয়ে দিন আড্ডা এবং অতিথিদের মন জয় করে নিন।

একটা ঘরে ফেরার গল্প (৬ পর্ব)

৬ পর্ব

তেইশ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে, অর্জুনের ‘প্ল্যাটফর্ম-সাইড-রেসিডেন্স’-এর কোনও হদিশ করতে পারল’ না নিখিল। প্ল্যাটফর্মের দোকানদার থেকে শুরু করে, রেলের বিভিন্ন কর্মচারীদের কাছে অর্জুনের খোঁজ করার পরে, সবার কাছ থেকে একই কথা জানতে পারল নিখিল, ‘অর্জুন সরকারি চাকরি করে। কলকাতায় ওর অফিস। সারাদিন সেখানকার কাজকর্ম সেরে, সন্ধ্যার পরে তেইশ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসে অর্জুন। ওখানেই রাতে ওর পোষ্যরা আসবে, ওদের অর্জুন স্যারের কাছে পড়াশোনা করতে। তারপরে পড়াশোনা শেষ হলে, পোষ্যদের খাইয়ে দাইয়ে, ঘুম পাড়িয়ে, ওই স্টেশন চত্বরেই যেদিন যেখানে মর্জি, সেখানে বিছানা পেতে রাত কাটিয়ে দেয় অর্জুন।”

পরদিন সকালে নিখিল অফিসে পৌঁছে, বড়োকর্তার ঘরে গিয়ে ঢুকল। গতকাল সন্ধ্যায় সংগ্রহ করা, অর্জুন স্যার সংক্রান্ত সবিশেষ তথ্য বড়োকর্তাকে জানাতে জানাতে চোখের কোণে আঙুল ছোঁয়াল নিখিল। ‘প্ল্যাটফর্ম-সাইড-রেসিডেন্স বলে কোথাও কোনও ঘরবাড়ির অস্তিত্ব নেই স্যার। তবে আপনার ফাইলে যা তথ্য রয়েছে, তার কোনওটাই অসত্য নয়। কোনও অনাথ ছেলে হাওড়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে জীবন কাটিয়ে, মাস্টার্স ডিগ্রি করে, সরকারি অফিসের অফিসার হতে পারেন, তা আমাদের অর্জুন-স্যারকে না দেখলে কোনওদিন বিশ্বাসই করতে পারতাম না। শুধু তাই নয়; সারাদিন এই অফিসে এইভাবে নিজেকে উজাড় করে পরিশ্রম করার পরে, রাতে আবার ওই হাওড়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ফিরে গিয়ে, বহু অনাথ বাচ্চাদের নিয়ে পড়াতে বসান। তারপরে তাদের রাতের খাবার খাইয়ে, ওদের সাথেই প্ল্যাটফর্মে রাত কাটিয়ে, পরদিন আবার যে-কেউ এইভাবে অফিসারের দায়িত্ব পালন করতে পারে; তা অর্জুন স্যারকে না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারতাম না। অর্জুন স্যার আমাদের ভগবান!” দু’-হাত কপালে ঠেকাতে ঠেকাতে অম্বরীশ চ্যাটার্জীর ঘর থেকে বেরিয়ে এল নিখিল।

ওদিকে পরপর পাঁচদিন অফিস কামাই হওয়ার পরে, নিখিল যেদিন অর্জুনের খোঁজে হাওড়া স্টেশনে এসেছিল, সেদিনই সকালে শ্রাবণীকে সঙ্গে নিয়ে, এস আই জয়ন্ত ঘোষের সাথে অর্জুন গিয়েছিল হাসপাতালেই। সাঞ্ঝাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি করিয়ে, সন্ধ্যার পরে যথারীতি হাওড়া স্টেশনের তেইশ নম্বর প্ল্যাটফর্মে, সাঞ্ঝাকে নিয়ে ফিরে এল অর্জুন। হাওড়া স্টেশন চত্বরে পা রাখতেই, রেল পুলিশের লোকজন, প্ল্যাটফর্মের স্টলমালিকরা থেকে শুরু করে, তেইশ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ওর পোষ্যরা সকলেই এসে অর্জুনকে জানাল, ‘আজ তোমার অফিস থেকে তোমার খোঁজে একজন লোক এসেছিলেন। তোমার বাড়ি, ঘরদোর সম্বন্ধে খোঁজ করছিলেন তিনি।’

একথা শোনার পরে অর্জুনের কাছে সাঞ্ঝা জানতে চাইল, ‘আপনার ঘর এখান থেকে কতদূর?”

সাঞ্ঝার কথায় মুচকি হেসে অর্জুন জানাল, ‘এই তেইশ নম্বর প্ল্যাটফর্ম লাগোয়া গোডাউনের পাঁচিল ঘেঁষেই আমাদের সবার ঘরবাড়ি। আমাদের সবার মানে, আমাদের এই ক’জন অনাথের।’

—কিন্তু সবাই যে বলছে, আপনি অফিসে চাকরি করেন! তাহলে কাছাকাছি কোথাও আপনার বাড়িঘর আছে নিশ্চয়ই।

—সে ছিল একসময়। রাঁচি স্টেশনের দক্ষিণদিকের রেল কোয়ার্টারে থাকতাম আমরা। আমরা মানে মা-বাবা, দাদু ও ঠাকুমা। আমার বাবা ছিলেন একজন ডাক্তার। দিল্লির একটা নামকরা হাসপাতালের ডাক্তার ছিলেন তিনি। মাঝে মাঝে রাঁচি আসতেন। হঠাৎ করে কী একটা গবেষণার কাজে আমেরিকায় চলে গেলেন তিনি।

—তারপর… অর্জুন কথা বলতে বলতে একটু থামতেই, ফিরে জানতে চাইল সাঞ্ঝা।

—তারপর আর কী! আমার মা ছিলেন রাঁচির একটা ইংরাজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষিকা। মা যে স্কুলে পড়াতেন, আমিও সেই স্কুলেই পড়তাম। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম, মা নেই। বাড়ি ছেড়ে কোথায় চলে গিয়েছেন। যাওয়ার আগে দাদুকে একটা চিঠি লিখে গিয়েছিলেন। এর পরে আমার সমস্ত দায়িত্ব গিয়ে পড়ল দাদুর উপরে। দাদু আমাকে রোজ স্কুলে পৌঁছে দিয়ে আসতেন।

অর্জুন বলতে লাগল, ‘স্কুলে গেলেই সহপাঠী থেকে শুরু করে শিক্ষক শিক্ষিকারা সবাই আমার কাছে আমার মা-বাবা’র সম্বন্ধে জানতে চাইত। দিনের পর দিন সেটা আমার কাছে ভীষণ অসহনীয় লাগতে লাগল। একদিন স্কুল থেকে আমিও পালালাম!’

ক্রমশ…

একটা ঘরে ফেরার গল্প (৫ পর্ব)

জঙ্গল থেকে ঘাস-পাতা সংগ্রহ করে, ওই ঘরের মেঝেতে পেতে তার উপরে শোয়ার ব্যবস্থা করে নিতে হয়। গ্রামের প্রান্তের ওই স্থান চারিদিক থেকে জঙ্গল দিয়ে ঘেরা। সারারাত ভয়ে-যন্ত্রণায় কুঁকড়ে থাকতে হয়, একেকটা দশ-এগারো বছরের শিশুকন্যাকে। ওই পাঁচ-ছ’টা দিন ওদেরকে এতই অস্পৃশ্য মনে করে সবাই যে, পরিবারের কোনও লোক, কোনও খোঁজ নিতেও আসে না তাদের। ওই জঙ্গলঘেঁষা প্রত্যন্ত অঞ্চলের সেই ঘরের ধারেকাছে কোথাও কোনও জলের সংস্থানও নেই। নিজেকে ধুয়ে মুছে সাফসুতরো করার কোনও উপায় পর্যন্ত নেই। ওদের গ্রামের মেয়েরা অনেকে ওই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবাণু সংক্রমণেই মারা যায় সেখানে।

ওর মা-ঠাকুমাকেও ছোটো থেকে দেখেছে সাঞ্ঝা— প্রতিমাসে ওই পাঁচ-ছ’টা দিন বাড়ি ছেড়ে, ছোটো বাচ্চাদের ঘরে ফেলে রেখে, গ্রামের প্রান্তের ওই ঘরে দিন কাটাতে চলে যেতে। বছর তিনেক আগে সাঞ্ঝা’র মাকে এইরকমই একরাতে ভাল্লুকে তুলে নিয়ে যায়। তারপর থেকে মায়ের সাথে আর কোনওদিন দেখা হয়নি সাঞ্ঝার।

সাঞ্ঝার বাবা ঝরিয়া কয়লাখনিতে কাজ করে। মা মারা যাওয়ার পরে বাবা আর কোনওদিন বাড়িতে ফেরেনি। দাদু-ঠাকুমার কাছে মানুষ হচ্ছিল সাঞ্ঝা। পড়াশোনা করার জন্য ওদের তুটকি গ্রাম থেকে বিশ কিলোমিটার দূরের মাঞ্চুগঞ্জের স্কুলে বছরের পর বছর আসা যাওয়া করে, দশ ক্লাস পাশ করে, এগারো ক্লাস পেরিয়ে বারো ক্লাসে উঠেছে সাঞ্ঝা। তাই সাঞ্ঝা ভাবে, অন্যায় অবিচারে ভরা এই সামাজিক কু-প্রথাকে যদি মেনে নিতে হয়, তাহলে আর পড়াশোনা করে আমার লাভটা কী! এই গ্রাম ছেড়ে, জেলা ছেড়ে, রাজ্য ছেড়ে পালাতে না পারলে, আমার অবস্থাও একদিন আমার মায়ের মতনই হবে।

পাঁচদিনের প্রথম দিনটা এইসব ভাবতে ভাবতে অতিবাহিত হয়ে যায়। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই গাউকোর ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে সাঞ্ঝা। বন-জঙ্গলের ভিতর দিয়ে দশ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে, সাঞ্ঝা এসে পৌঁছোয় গোধিয়ার সতেরো মাইল বাসরাস্তার উপরে। একটা কয়লা বোঝাই লরিকে হাত দেখিয়ে দাঁড় করায় সাঞ্ঝা। লরি থেকে একটা লোক নেমে এসে, ও কোথায় যেতে চায়, জানতে চাইলে তাকে ওই অঞ্চল ছেড়ে ওর পালানোর ইচ্ছার কথা, কারণ সহ সবিশেষে জানানোর পরেই ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত সাঞ্জা জ্ঞান হারায়। মাঝরাতে সাঞ্ঝা নিজেকে আবিষ্কার করে, একটা চলন্ত ট্রেনের টয়লেটের মেঝেতে পড়ে আছে। তারপর সাঞ্ঝা আর কিছু জানাতে পারে না অর্জুনকে!

পরপর ক’দিন এই ভাবে হাওড়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম আর হাসপাতালে যাতায়াতের ফলে, অফিসমুখো আর হতে পারেনি অর্জুন। আজ প্রায় বছর চারেক হল, ডালহৌসি পাড়ার কাউন্সিল হাউস স্ট্রিটের কেন্দ্রীয় সরকারি অফিসের এক দায়িত্বপূর্ণ পদে চাকরি করে অর্জুন। ঝড় হোক, জল হোক, হাজার দুর্যোগেও অর্জুনের গরহাজিরা কারও চোখে পড়েনি কোনওদিন। এহেন অর্জুন বিনা কোনও সংবাদে, এইভাবে যে কোথাও উধাও হয়ে যেতে পারে, তা বুঝে উঠতে পারেন না তার অফিস কর্তা অম্বরীশ চ্যাটার্জী।

গত চার-পাঁচদিন ধরে অর্জুনকে যতবারই মোবাইল ফোনে ধরার চেষ্টা করেছেন উনি, ততবারই হয় ‘নো আনসার’, নয় তো জানতে পেরেছেন অর্জুনের ফোনটা রয়েছে ‘পরিষেবা সীমার বাইরে’। অর্জুনের চাকরির নিয়োগপত্র ও জয়েনিং লেটার সম্বলিত ফাইলটা বের করে বারকয়েক চোখ বোলালেন অম্বরীশ। সব জায়গাতেই ওর স্থায়ী ঠিকানা লেখা রয়েছে, ‘প্ল্যাটফর্ম-সাইড রেসিডেন্স, প্ল্যাটফর্ম নম্বর তেইশ, হাওড়া স্টেশন’। নামের জায়গায় লেখা শুধু ‘অর্জুন’; পদবির কোনও উল্লেখ নেই কোথাও। মা- বাবার নামের পাশে লেখা, ‘নট-অ্যাপ্লিকেবল’; বন্ধনীর মধ্যে লেখা ‘অরফ্যান’। শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে লেখা রয়েছে, “ইতিহাসে এমএ’।

অম্বরীশবাবু ফাইল থেকে অর্জুনের নাম ঠিকানা একটা কাগজে লিখে, তা অফিস পিওন নিখিলের হাতে দিয়ে, ওকে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে, একবার অর্জুনের খোঁজে যেতে বললেন। নিখিল যথারীতি বিকেল বিকেল অফিস থেকে বেরিয়ে পড়ল। লঞ্চে নদী পেরিয়ে সোজা হাওড়া স্টেশনে এসে পৌঁছোল সে।

ক্রমশ…

 

ইন্দো-চিন সীমানায় ছোট্ট গ্রাম গামশালি (শেষ পর্ব)

দুপুরে পৌঁছে গামশালির স্বর্গীয় মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম। অমৃত গঙ্গা এখানে ঝাঁপিয়ে পড়েছে ধৌলিগঙ্গার বুকে। বুক পর্যন্ত সবুজ, মাথায় ধূসর পাহাড়গুলি নিঃশ্বাস ফেলছে ঘাড়ের উপর। ঠান্ডা হাওয়া দুপুরবেলার উষ্ণতা নিয়ে বয়ে চলেছে উপত্যকা জুড়ে। দূরে পাহাড়ের নীচে অযত্নে লালিত সবুজ-লাল ঘাসের গালিচা। তার মধ্যে ছোট্ট শিব মন্দির, নীচে মাথা দোলানো সূর্যমুখী। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা জলধারা পথঘাটের মলিনতা ধুইয়ে নেমে যাচ্ছে অমৃত গঙ্গার বুকে।

এখানে এসে কেন জানি না আমার মনে হল— সরকারি সহায়তায় এই অঞ্চলের ইকো টুরিজম গড়ে তুলতে পারলে খুব ভালো হতো। যাদের সুইজারল্যান্ড বেড়াতে যাওয়ার সামর্থ্য নেই, তাদের সেই অভাব পূরণ হতো! সেই সঙ্গে উন্নয়ন হবে স্থানীয় মানুষদেরও।

কখন যাবেন: বর্ষায় ফুলে ফুলে রঙিন হয়ে ওঠে, পরিপুষ্ট হয় ঝরনা কিন্তু উত্তরাখণ্ডের ধ্বসপ্রবণ পথ বর্ষায় বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এপ্রিল মাস থেকে অক্টোবর এই পথ খোলা থাকে। মে, জুন মাসে গেলে বরফের দেখা মিলবে। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর মাসে এই উপত্যকা অপরূপ হয়ে ওঠে।

কীভাবে যাবেন: হাওড়া থেকে কুম্ভ বা দুন এক্সপ্রেসে হরিদ্বার। এছাড়া কলকাতা বা হাওড়া থেকে নিউ দিল্লি ট্রেনে। দিল্লি থেকে ট্রেনে বা বাসে সহজেই হরিদ্বার বা দেরাদুন। দেরাদুন বা হরিদ্বার থেকে বাসে, শেয়ার গাড়িতে যোশিমঠ ১০ ঘণ্টায় পৌঁছে যাওয়া যায়। ব্যক্তিগত গাড়িতেও দ্রুত যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে পথের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলি উপভোগ করতে পারবেন। যোশিমঠ থেকে বদ্রিনাথ মাত্র ৪১ কিমি৷ অসংখ্য বাস ও শেয়ার গাড়ি চলে।

কোথায় থাকবেন: হরিদ্বার, হৃষিকেশ, দেরাদুন ও যোশিমঠে নানা বাজেটের অসংখ্য হোটেল, আশ্রম, ধর্মশালা এবং গেস্ট হাউস রয়েছে। পকেট পারমিট করলে গাড়োয়াল মণ্ডল বিকাশ নিগমের সরকারি গেস্ট হাউসও ট্রাই করতে পারেন।

গাড়ি : দেরাদুন বা হরিদ্বার থেকে যোশিমঠ প্রাইভেট গাড়ি টাটা সুমো, স্করপিও ভাড়া সিজন অনুসারে আট থেকে দশ হাজার টাকা। বাস ভাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। ভোর ৩:১৫ মিনিট থেকে সকাল ৭:৪৫ মিনিট পর্যন্ত বাস ছাড়ে। এছাড়া হৃষিকেশ থেকেও প্রচুর বাস ছাড়ে। নটরাজ চক থেকে শেয়ার গাড়ি পাওয়া যায়। যোশিমঠ থেকে মালারি পর্যন্ত নিয়মিত সারাদিন শেয়ার গাড়ি চলে। মালারির আগে যেতে গাড়ি ভাড়া করতে হবে। সারাদিনের জন্য বড়ো গাড়ি পাঁচ-সাড়ে ৫ হাজার টাকা নেবে। রাত্রে থাকলে দুদিনের জন্য খরচ তুলনামুলক একটু কম হয়।

পারমিট: দিনে দিনে ঘুরে এলে মালারিতে পরিচয় জমা দিয়ে পারমিশন দেয়। রাতে থাকলে যোশিমঠের ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট অফিস, আইটিবিপি ও ফরেস্ট অফিস থেকে পারমিশন নিতে হবে।

টেন্ট ও পারমিশন করাতে : নন্দাদেবী ট্রেক অ্যান্ড টুর – ০৯৮৩৭৯৩৭৯৪৮ নিজেরাই পারমিশন করতে পারবেন। টেন্ট ও অন্যান্য সাহায্যের জন্য এদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

খরচ:  নির্ভর করবে আপনার উপর, কেমন হোটেল ও পরিবহণ ব্যবহার করবেন। গ্রুপে এলে খরচ কম। তবে সবমিলিয়ে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা মাথাপিছু ব্যয় ধরে চলতে হবে।

(সমাপ্ত)

শীতকালে স্বাস্থ্যের সুরক্ষা

শীতকাল সেরা ঋতুগুলোর একটি হলেও এর কিছু নেতিবাচক দিকও আছে। জেনে রাখুন, শীতকালে তাপমাত্রা যত কমে, তত বাড়ে আপনার রক্তচাপ। তাই শীতের জায়গায় বেড়াতে গেলেও এই ধরনের রোগীদের বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। আসলে যত বেশি ঠান্ডা পড়ে, তত সংকুচিত হয় আপনার রক্তবাহী নালীগুলি। তার মধ্যেও রক্ত চলাচল যথাযথ রাখতে গেলে শরীরকে রক্তচাপ বাড়াতেই হয়। ফলে যাঁরা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের এই ঋতুতে একটু বেশিই সাবধানে থাকা উচিত, তা না হলে কিন্তু হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে।

শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকার কারণে আপনার দেহকে অতিরিক্ত তাপ উৎপাদন করার জন্য বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে আসে। আপনার দেহকে যেহেতু অতিরিক্ত তাপ উৎপাদন করতে হয়, তাই বলা হয় শীতকালে স্যুপ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। স্যুপ আপনাকে শুধু ঠান্ডা থেকে রক্ষা করে না, এটি আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।

আপনি গাজর, পালংশাক, মাশরুম, মুরগি এবং অন্যান্য সবজির স্যুপ তৈরি করে খেতে পারেন। এটি একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প। এই ঋতুতে আপনি নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। শীতকালে সচরাচর যে রোগগুলো হয়, তার অন্যতম হল ঠান্ডা লাগা বা সর্দি-কাশি, ভাইরাল ফ্লু, শ্বাসকষ্ট, কফ এবং অন্যান্য ইনফেকশন।

নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক রোগও এসময় মানুষকে আক্রান্ত করে। বিশেষ করে যেখানে তাপমাত্রা অতিরিক্ত কমে যায়। শীতকালে অ্যাজমার মতো রোগও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এছাড়া জয়েন্ট পেইন এবং আথ্রাইটিস-এর মতো রোগও আরও জোরালো হতে পারে। কেন-না শীতকালে ঠান্ডার কারণে জয়েন্টে রক্তপ্রবাহের গতি ধীর হয়ে আসে এবং ব্যথা বাড়ে।

Winter health

কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো শীতকালে খেলে শরীর চাঙ্গা থাকে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আসুন জেনে নেওয়া যাক তেমনই ১০টি খাবারের নাম।

) ঘি

যদিও অনেকেই মনে করেন ঘি খেলে মোটা হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে, কিন্তু জেনে রাখুন সীমিত পরিমাণে ঘি খেলে স্বাস্থ্যের জন্য তা উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে শীতকালে ঘি দেহের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কারণ ঘি-তে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড।

) মাখন

সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবারগুলোর একটি হল মাখন। এতে আছে উচ্চমাত্রার ক্যালোরি এবং চর্বি। শীতকালে সামান্য পরিমাণে মাখন খেলে দেহের তাপমাত্রা ঠিক থাকে। বাচ্চাদের ঠান্ডা কম লাগে।

) টম্যাটো

একবাটি ধোঁয়া ওঠা টম্যাটো স্যুপ খেলে শীতকালে আপনি দারুণ উপকার পাবেন। টম্যাটোতে আছে ভিটামিন সি এবং লাইকোপেন উপাদান, যা আপনার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে তুলবে এবং শীতকালীন রোগ-বালাই থেকে শরীরকে মুক্ত রাখবে।

) সবুজ শাকসবজি

বছরের যে-কোনও সময়ই সবুজ শাক-সবজি খাওয়া ভালো। তবে শীতকালে দেহের তাপমাত্রা বাড়াতে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে, সবুজ শাক-সবজি বেশ কার্যকর।

) বাদাম

বাদাম খুবই স্বাস্থ্যকর। খাবারের স্বাদ বাড়াতে সাধারণত বাদাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন জলে ভেজানো এক মুঠো কাঁচা বাদাম খেলে, হৃদরোগ এবং মানসিক অবসাদের মতো সমস্যা প্রতিরোধ হয়। তবে বাদাম আপনার দেহের তাপমাত্রা বাড়াতে এবং শীতকালে আপনাকে সুস্থ রাখতেও বেশ কার্যকর।

() গোলমরিচ

শীতকালে খাবারের সঙ্গে গোলমরিচ দিলে, তা রোগ-বালাই দূরে রাখে। কালো গোলমরিচে আছে এমন উপাদান, যা নানা ধরনের শীতকালীন রোগের চিকিৎসায় বেশ কার্যকর। যেমন শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা লাগা বা সর্দি, কফ এবং জয়েন্ট পেইন।

) আপেল

শীতকালে আপেলের উৎপাদন হয় বেশি। এই সুস্বাদু ফলটিতে আছে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট, নানা ধরনের ভিটামিন এবং খনিজ পুষ্টি। এসব উপাদান হজম ক্ষমতা বাড়ানোর পাশপাশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকেও বাড়িয়ে দেয়।

) ডার্ক চকোলেট

ডার্ক কোকো পাউডার থেকে তৈরি এক গেলাস গরম চকোলেট খেতে পারলে, শীতকালে আপনার বিপাকীয় প্রক্রিয়া ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এতে দেহের তাপমাত্রাও বাড়বে। শীতে প্রতিদিন আপনি এক টুকরো খাঁটি ডার্ক চকোলেটও খেতে পারেন।

9) খেজুর

শীতকালে আপনাকে ভেতর থেকে গরম রাখতে খেজুরের জুড়ি মেলা ভার। এই সুস্বাদু এবং উচ্চ পুষ্টিকর খাবারটি বছরের যে-কোনও সময়ই খেলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

১০) দারচিনি

শীতকালে দারচিনি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি দৈনিক মেটাবলিজম বাড়ায়, যা শরীরে তাপ তৈরি করে। এই কারণে, আপনি ঠান্ডা আবহাওয়ায় শুকনো কাশির মতো স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারবেন। আপনি চায়ে দারচিনি যোগ করে প্রতিদিন এটি খেতে পারেন বা গরম জলের সাথেও পান করতে পারেন।

একটা ঘরে ফেরার গল্প (৪ পর্ব)

৪ পর্ব

আরও ঘণ্টা-দুয়েক মাথার কাছে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার পরে, অর্জুনরা দেখল, মেয়েটা চোখ খুলে এদিক ওদিক তাকিয়ে কী যেন খুঁজছে। কপালে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে, ঘাড় ঝুঁকিয়ে, খোট্টা ভাষায় অর্জুন মেয়েটার কাছে জানতে চাইল, “তোমার নাম কী?” —সাঞ্ঝা, সাঞ্ঝা ওঁরাও!

—ঘর কোথায় তোমার?

—ভুটকি গ্রাম; তহসিল মাণ্ডু; জিলা রামগড়।

—এখানে এসেছ কেন? ট্রেনেই বা চড়েছিলে কেন?

অর্জুনের প্রশ্নের আর কোনও উত্তর দিতে পারল না সাঞ্ঝা। আবার চোখ বুজল সে। এস আই জয়ন্ত ঘোষ এবার রোগীর বেডের পাশের বসার টুল ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে অর্জুনকে বলল, “এবার আমাকে ফিরতে হবে অর্জুন। আমার ডিউটি আওয়ার শেষ হয়ে গিয়েছে অনেকক্ষণ। ফিরে রিপোর্ট করতে হবে অফিসে। তবে এ তো মনে হচ্ছে, তোমার ঝাড়খণ্ডেরই লোক। যেসব জায়গার নাম বলছে ও, তার কিছু কি চিনতে পারলে তুমি?”

এস আই সাহেবের প্রশ্নের জবাবে অর্জুন জানাল, ‘হ্যাঁ, ভুটকি হচ্ছে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের রামগড় জেলার উত্তর প্রান্তের একটা প্রত্যন্ত গ্রাম। রাঁচি থেকে পঁচাশি কিলোমিটার, আর রামগড় সদর শহর থেকে প্রায় পঁয়তাল্লিশ কিলোমিটার দূরের এই গ্রাম ‘ভুটকি’। এর সবচেয়ে নিকটবর্তী শহর হচ্ছে মাণ্ডু। তাও প্রায় বিশ-পঁচিশ কিলোমিটার দূরে। সবচেয়ে নিকটবর্তী বাস রাস্তা হচ্ছে একশো নম্বর জাতীয় সড়কের উপরে অবস্থিত গোধিয়া সতেরো মাইল; ভুটকি থেকে যার দূরত্ব প্রায় দশ কিলোমিটার। ভুটকির উত্তর এবং পশ্চিম দিক হাজারিবাগের জঙ্গল দিয়ে ঘেরা। কিন্তু আমি ভাবছি অন্য কথা— সেই প্রত্যন্ত ভুটকি থেকে মেয়েটা রাঁচি এল কী করে! আর সেই সুদূর রাঁচি থেকে এই হাওড়া স্টেশনেই বা ও এল কী উদ্দেশ্যে!

কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পরে অর্জুন আবার জানাল, আপনি এখন ফিরে যান ঘোষদা। আমি আরও একটু থেকে দেখি; যদি কিছু জানতে পারি ওর সম্বন্ধে। তবে ফিরে গিয়ে আপনি যদি একটা কাজ করে দেন, তাহলে খুব ভালো হয়। হাওড়া স্টেশনে ফিরে, আপনার কাজকর্ম সেরে, একটু তেইশ নম্বর প্ল্যাটফর্মে গিয়ে আমার পোষ্যগুলোকে বলবেন, হ্যাজাকটা জ্বেলে নিয়ে ওরা যেন পড়তে বসে যায়। সামনেই ওদের পরীক্ষা। কাল ঝড়-বৃষ্টির দরুন পড়াশোনাটা হয়নি ঠিকমতো। আজকে যেন ওরা পড়াশোনাটা শুরু করে দেয়। আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, ফিরে গিয়ে জানতে চাইব—কে কী পড়ল! আর বিল্টুকে একটু আলাদা করে ডেকে বলে দেবেন, কোনও কারণে আমার ফিরতে যদি একটু দেরি হয়, তাহলে ও যেন সবাইকে ভাতের হোটেলে নিয়ে গিয়ে রাতের খাবারটা খেয়ে নেয়।”

সন্ধ্যার পরে সাঞ্ঝা চোখ মেললে, ওর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে অর্জুন আবার জানতে চাইল, ‘তুমি এখানে এসেছ কেন? তোমাকে এখানে এই হাওড়া স্টেশনে কে নিয়ে এসেছে?”

—কেউ না, আমি একাই এসেছি! কিন্তু আমি এখন কোথায়? অর্জুনের কাছে চোখ বুজেই জানতে চায় সাঞ্ঝা।

—তুমি রাঁচি-হাতিয়া এক্সপ্রেস ট্রেনে করে হাওড়া স্টেশনে এসে পৌঁছেছিলে। সেখান থেকে তোমাকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তুমি ভুটকি থেকে রাঁচিতেই বা এসেছিলে কেন? আবার ট্রেনে করে হাওড়াতেই বা এলে কেন?

অর্জুনের প্রশ্নে নিজেকে আর সামাল দিতে পারে না সাঞ্ঝা। চোখের জলে ভাসতে ভাসতে দু’-হাতের মধ্যে মুখ লুকিয়ে, নিজের বুকফাটা যন্ত্রণার কথা সব উজাড় করে দেয় সে। ওর ভুটকি গ্রামের কথা, পরিবারের কথা, মা-বাবার কথা, মনের দরজা খুলে, সব বাইরে বের করে আনে সাঞ্ঝা।

সাঞ্ঝার বাড়ি ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলার তুটকি গ্রামে। তার পুরো নাম সাঞ্ঝা ওঁরাও। ছোটোবেলা থেকেই সে পড়াশোনায় খুব ভালো। স্কুলের এগারো ক্লাস পাশ করে এখন সে বারো ক্লাসে পড়ে। ওদের গ্রামের ছাউপদি প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই ওর ঘর ছাড়া। এটা শুধু ওর গ্রামের প্রথা নয়; এটা গোটা গ্রামীণ ঝাড়খণ্ডের দুঃসহ এক প্রথা। এই প্রথার শিকার হয়ে, সেই দশ-এগারো বছর বয়স থেকে প্রতিমাসে ঋতুস্রাবকালীন পাঁচ-ছয়দিন ওর গ্রামের বাড়ি-ঘর ছেড়ে, গ্রামের বাইরে একটা চালা ঘরের মধ্যে গিয়ে থাকতে হয় ওকে। এ যন্ত্রণা শুধু সাঞ্ঝার নয়। ওখানকার আপামর সব মহিলাদের এই প্রথা মেনে চলতে হয়। সেই ঘরের না আছে কোনও দরজা, না আছে কোনও জানলা।

ক্রমশ…

 

গ্রিন ভেজি স্পেশাল (শেষ পর্ব)

আজকাল বাচ্চারা সবজি মোটেই খেতে চায় না৷ এখন হাত বাড়ালেই হাজির রোল-চাউমিন আর ইনস্ট্যান্ট নুডুলসের মতো ফাস্টফুড৷ তাই শাক-সবজি আর ফল দেখলে নাক সিঁটকোয় ছোটোরা৷ বাবা-মা তখন সহজ পন্থা হিসেবে কখনও লুকিয়ে খাওয়ানো শুরু করেন, কখনও নানা ভাবে মাথা খাটিয়ে নতুন ধরনের খাবার বানানোর চেষ্টা করেন৷আজ আমরা তেমনই কয়েকটি সবজির রেসিপি দিচ্ছি, যা বাচ্চারা খেয়ে নেবে সহজেই৷

ড্রাই ভেজিটেবল মাঞ্চুরিয়ান

উপকরণ : ১ কাপ গ্রেট করা বাঁধাকপি, ১টা গাজর গ্রেট করা, ১/৪ কাপ সবুজ পেঁয়াজ কুচি করা, ১/৪ কাপ ক্যাপসিকাম কুচি করা, ১/৪ কাপ ফ্রেঞ্চ বিন্স কুচি করা, ১টা কাঁচালংকা কুচোনো, ২ ছোটো চামচ আদা গ্রেট করা, ৩ বড়ো চামচ কর্নফ্লাওয়ার, ২ বড়ো চামচ ময়দা, ১ বড়ো চামচ সোয়া সস, ২ ছোটো চামচ রেড চিলি সস, ১/৪ ছোটো চামচ গোলমরিচের গুঁড়ো, ২ বড়ো চামচ টম্যাটো সস, ২ ছোটো চামচ আদা-রসুন পেস্ট, ২ ছোটো চামচ ভিনিগার, ১ বড়ো চামচ পেঁয়াজ মিহি করে কাটা, অল্প সবুজ পেঁয়াজ কুচোনো, ভেজিটেবল বল ভাজার জন্য সাদা তেল, নুন স্বাদমতো৷

প্রণালী: বাঁধাকপির সঙ্গে বাকি সব সবজি, কাঁচালংকা, আদা, ২ বড়ো চামচ কর্নফ্লাওয়ার, ২ বড়ো চামচ ময়দা ও অল্প নুন দিয়ে চটকে, অল্প সোয়া সস ও গোলমরিচ ছড়িয়ে, ছোটো ছোটো বল তৈরি করে নিন। এগুলি গরম তেলে ডিপ ফ্রাই করে, আলাদা পাত্রে রাখুন।

কড়ায় প্যানে ১ বড়ো চামচ তেল গরম হতে দিন। এতে পেঁয়াজ, আদা, রসুন পেস্ট, সঁতে করুন। টম্যাটো সস, চিলি সস, সোয়া সস ও ভিনিগার দিন। ১ কাপ জলে ময়দা ও কর্নফ্লাওয়ার গুলে এটা ঢেলে দিন। ফুটে উঠলে ভেজিটেবল বলগুলো এই গ্রেভিতে দিয়ে দিন। গা-মাখা মাখা হলে ঢিমে আঁচে একটু রেখে নামিয়ে নিন। সবুজ পেঁয়াজ দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

ডালকরলা

Dal Karela recipe

উপকরণ: ২৫০ গ্রাম ছোটো করলা, ১/২ কাপ ছোলার ডাল, ১/২ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, ২ ছোটো চামচ ধনেগুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ মউরিগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ গরমমশলা, ১টা তেজপাতা, ২টো বড়ো এলাচ, ২টো লবঙ্গ, ৪টে গোলমরিচ, ১ বড়ো চামচ টম্যাটো পিউরি, ১ ছোটো চামচ জিরে, ১/৪ কাপ পেঁয়াজ কুচি করা, ১ ছোটো চামচ আদা-রসুন পেস্ট, রিফাইন্ড তেল প্রয়োজনমতো, অল্প ধনেপাতাকুচি, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: করলার গা একটু ঘষে ছড়িয়ে নিয়ে গোল গোল করে কেটে নিন। এবার নুন-হলুদ মাখিয়ে আধ ঘন্টা রেখে দিন। ডালটা জলে ভিজিয়ে আধ ঘন্টা রেখে দিন। এবার করলা জলে দিয়ে ধুয়ে নিন। তোয়ালে দিয়ে মুছে একদম শুকিয়ে নিন। গরম তেলে ডিপ ফ্রাই করুন। একটা পাত্রে তুলে রাখুন।

এবার প্রেশার প্যানে ১ বড়ো চামচ তেল গরম করুন। সমস্ত গোটা মশলা দিয়ে ফোড়ন দিন। এর মধ্যে ডালটা দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। নুন, হলুদ দিন। তারপর পরিমাণমতো জল ঢেলে ২টো সিটি দিন। প্রেশার বেরিয়ে গেলে প্যান থেকে ডাল বের করে নিন। কড়ায় ঢেলে, টম্যাটো পিউরি দিয়ে নাড়তে থাকুন। মাখা মাখা হলে এতে ভাজা করলা দিয়ে দিন। গা-মাখা হলে নামিয়ে ধনেপাতা ছড়িয়ে সার্ভ করুন।

মুগডাল দিয়ে বিন্‌স ফ্রাই

Moong Dal Beans Fry recipe

উপকরণ: ১৫০ গ্রাম ফ্রেঞ্চ বিন্‌স, ১টা গাজর, ১/৪ কাপ মুগডাল (ধুয়ে রাখা), ২ ছোটো চামচ আদা ও কাঁচালংকা মিহি করে কুচোনো, ১ ছোটো চামচ সরষে, ১ ছোটো চামচ জিরে, ১ ছোটো চামচ মিহি করে কুচোনো রসুন, ১টা শুকনো লংকা, ১ বড়ো চামচ নারকেলকোরা, ১ বড়ো চামচ রিফাইন্ড অয়েল, নুন স্বদমতো।

প্রণালী: ডালটা অন্তত ১/২ ঘন্টা জলে ভিজিয়ে রাখবেন। ফ্রেঞ্চ বিন্স ধুয়ে ছোটো টুকরোয় কেটে নিন। গাজর কিউব আকারে কার্টুন। এবার কড়াইতে তেল গরম করে সরষে, জিরে আর রসুন ফোড়ন দিন। এতে হলুদগুঁড়ো দিয়ে একটু নেড়েচেড়ে, সমস্ত সবজি দিয়ে দিন। ডাল জল থেকে তুলে এতে দিয়ে দিন। আদা-কাঁচালংকা ও নুন দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। ১ বড়ো চামচ জল দিয়ে সবজিটা ঢেকে দিন। ডাল সেদ্ধ হলে ফ্রেঞ্চ বিন্স আর গাজরও নরম হয়ে যাবে। একটু শুকনো হয়ে এলে নামিয়ে নিন। উপর থেকে নারকেলকোরা ছড়িয়ে সার্ভ করুন।

লাউয়ের কিউবস

Lauki Cubes recipe

উপকরণ: ৩/৪ কাপ বেসন, ১/৪ কাপ মুগডাল গুঁড়ো করা, ১ কাপ লাউ গ্রেট করা, ১ ছোটো চামচ আদা-কাঁচালংকা মিহি করে কাটা, ১ ছোটো চামচ রসুন পেস্ট, ১/৪ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, ১ বড়ো চামচ ধনেপাতা কুচি করা, ১ ছোটো চামচ জিরে, এক চিমটে হিং, ২ বড়ো চামচ রিফাইন্ড অয়েল, নুন ও লংকা স্বাদমতো।

প্রণালী: বেসন ও মুগডালগুঁড়ো একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এতে জিরে, হিং, আর তেল বাদ দিয়ে, বাকি উপকরণ মিশিয়ে নিন। ২ কাপ জল দিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি করুন। ১০ মিনিট ওভাবেই রেখে দিন।

একটা ননস্টিক কড়ায় ১ চামচ তেল গরম করুন। হিং আর জিরে ফোড়ন দিন। এবার এতে লাউ-বেসনের মিশ্রণ ঢেলে দিন। ঢিমে আঁচে রান্না করুন। মিশ্রণ যখন শুকনো হয়ে আসবে তখন একটা প্লেটে ঘি বুলিয়ে, তার উপর এই মিশ্রণ ঢেলে চারিয়ে দিন। ১/২ ইঞ্চি মোটা পরতে চারিয়ে দেবেন মিশ্রণ যাতে কিউব আকারে কাটা যায়। এবার আবার ননস্টিক প্যানে তেল বুলিয়ে গরম হতে দিন। লাউয়ের কিউব এতে এপিঠ ওপিঠি করে সেঁকে নিন। গরম গরম সার্ভ করুন।

গ্রিন ভেজি স্পেশাল (পর্ব ১)

শাক সবজি দৈনন্দিন খাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের  শক্তিতে ভরপুর হওয়ায়, প্রতিটি সবজি কোনও না কোনও কারণে স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসাবে পরিচিত হয়েছে৷ ছোটোরা এমনিতে সবজি খেতে চায় না৷ কিন্তু যদি এগুলি Tasty dish হিসাবে তৈরি করে দেওয়া যায় –ওরাও মুখ ফিরিয়ে নেয় না৷এমনই কয়েকটি মজাদার রেসিপি এবার হাজির করছি আমরা৷

ক্যাপসিকাম কোফতা

উপকরণ (কোফতার জন্য): ৩/৪ কাপ লাল-সবুজ ও হলুদ ক্যাপকিসাম কুচি করে একসঙ্গে মিশিয়ে রাখা, ১/২ কাপ বেসন, ৫০ গ্রাম পনির, ২ ছোটো চামচ আদা-কাঁচালংকা মিহি করে কাটা, ১/২ ছোটো চামচ গরমমশলা, কোফতা ভাজার জন্য সরষের তেল, নুন স্বাদমতো।

উপকরণ (গ্রেভির জন্য): ১/২ কাপ পেঁয়াজ পেস্ট, ১ কাপ লম্বা করে কাটা পেঁয়াজ, ১ ছোটো চামচ আদা-রসুন পেস্ট, ১/২ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, ২ ছোটো চামচ ধনেগুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো, ১/৪ ছোটো চামচ বড়ো এলাচের দানা গুঁড়ো করা, ১ বড়ো চামচ ধনেপাতাকুচি, ১ বড়ো চামচ সরষের তেল, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: কোফতা তৈরির সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার ছোটো ছোটো বল তৈরি করে গরম তেলে ডিপ ফ্রাই করুন। আলাদা রাখুন। এরপর ননস্টিক প্যানে ১ বড়ো চামচ তেল গরম করে, এতে পেঁয়াজ ভাজতে দিন। পেঁয়াজের পেস্ট ও আদা- রসুন পেস্ট দিয়ে কষতে থাকুন। এলাচগুঁড়োটা বাদ দিয়ে বাকি সমস্ত শুকনো মশলা এই তেলে দিয়ে নাড়তে থাকুন। যখন মশলা কষা হয়ে যাবে এতে কোফতাগুলো দিয়ে দিন। ২ বড়ো চামচ জল দিয়ে ফুটতে দিন। ঢিমে আঁচে একটু চাপা দিয়ে রাখুন। গা -মাখা হলে নামিয়ে নিন। ধনেপাতা ও এলাচগুঁড়ো ছড়িয়ে সার্ভিং প্লেটে পরিবেশন করুন।

স্টাফড ঢ্যাঁড়শ

Stuffed Ladies finger recipe

উপকরণ: ২৫০ গ্রাম কচি ঢ্যাঁড়শ, ২ বড়ো চামচ পেঁয়াজের পেস্ট, ১ ছোটো চামচ আদা-রসুন পেস্ট, ২ বড়ো চামচ শুকনো খোলায় ভাজা ছোলার ডালের বেসন, লংকাগুঁড়ো প্রয়োজনমতো, ২ ছোটো চামচ ধনেগুঁড়ো, ১/২ চামচ হলুদগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ আমচুর পাউডার, ২ বড়ো চামচ সরষের তেল, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: ঢ্যাঁড়শের মাথার দিক ও নীচের দিকের অংশ কেটে বাদ দিন। প্রত্যেকটা ঢ্যাঁড়শ লম্বা করে চিরে নিন। ভেতর থেকে বীজ বের করে নিন। কড়ায় ১ চামচ তেল গরম করে পেঁয়াজ, রসুন ও আদা পেস্ট নাড়াচাড়া করতে থাকুন। বেসনটা এতে দিয়ে অল্প পরিমাণে নুন দিয়ে পুরের মশলাটা তৈরি করুন। এবার এই পুর ঠান্ডা হলে, ঢ্যাঁড়শের ভেতরে ভরে দিন। ননস্টিক তাওয়ায় তেল গরম করে পুরভরা ট্যাড়শগুলি ছেড়ে দিন ও নরম না হওয়া অবধি রান্না হতে দিন। ভাত বা পরোটার সঙ্গে সার্ভ করুন।

মিক্স ভেজ দমপোক্ত

Mix Veg Dampakht recipe

উপকরণ: ৩টি পটল, ১০টা ফ্রেঞ্চ বিন্স, ১টা গাজর, ৫০ গ্রাম ফুলকপি, ১টা আলু, ৩টি টম্যাটো, ১/৪ পরিমাণ পেঁয়াজের অংশ লম্বা করে কাটা, ২ ছোটো চামচ আদা-রসুন পেস্ট, ৪টে লবঙ্গ, ১০টা গোলমরিচ, ১টা বড়ো এলাচ, ১/২ ইঞ্চি টুকরো দারচিনি, ২টো তেজপাতা, ২টো শুকনো লংকা, ১ বড়ো চামচ ধনে শুকনো খোলায় ভেজে গুঁড়ো করা, ১ ছোটো চামচ জিরে, ২ বড়ো চামচ রিফাইন্ড তেল, সাজানোর জন্য ধনেপাতা, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: পটলের খোসা ছাড়িয়ে চার টুকরো করুন। মাঝখান থেকে বীজ বের করে নিন। গাজর ও ফ্রেঞ্চ বিন্‌স ১ ইঞ্চি লম্বা টুকরোয় কার্টুন। আলুও লম্বা করে কেটে নিন। এবার ননস্টিক প্যানে তেল গরম করুন। সমস্ত শুকনো মশলা ঢেলে দিন। এবার এতে পেঁয়াজ দিয়ে ভালো করে ভাজতে থাকুন। আদা-রসুন পেস্ট দিয়ে নাড়াচাড়া করুন।

এবার বাকি সবজি দিয়ে দিন। টম্যাটো লম্বা করে চার টুকরোয় কেটে দিয়ে দিন। নুন দিন ও নাড়াচাড়া করে ঢিমে আঁচে রান্না হতে দিন। জল শুকিয়ে বেশ গা মাখা হয়ে এলে, আঁচ থেকে নামিয়ে সার্ভ করুন রুটি বা পরোটার সঙ্গে।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব