পড়াশোনায় শিশুদের আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলতে

এখন লেখাপড়া শেখা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে গেছে। হয় পরীক্ষা পদ্ধতি পালটে যাচ্ছে, নয় তো পাঠ্যক্রম পরিবর্তিত হচ্ছে। এর ফলে পড়াশোনায় বেশি করে মনসংযোগ দরকার। তাই আলাদা পড়ার ঘর বা নির্দিষ্ট একটি কোণ প্রয়োজন, যেখানে বিনা ব্যাঘাতে মন দিয়ে পড়াশোনা করা যায়। এখনকার দিনে কম্পিউটারও পড়াশোনায় অতি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। তাই সবার আগে দরকারি ফার্নিচারের তালিকা বানান। যেমন, কম্পিউটার ও প্রিন্টার টেবিল, বুক র‍্যাক, ক্যাবিনেট, স্টাডি টেবিল ইত্যাদি। এক্ষেত্রে মাল্টিপারপাস ফার্নিচার সবথেকে কাজে আসবে। অর্থাৎ এমন এক ফার্নিচার যাতে থাকবে কম্পিউটার ক্যাবিনেট, বইখাতা রেখে পড়ার লেখার জায়গা, বুক র‍্যাক ইত্যাদি। বুক র‍্যাকে একটি ক্যাবিনেট থাকলে আরও ভালো। ছোটোখাটো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন, জিওমেট্রি বক্স, পেনসিল বক্স, ইত্যাদির জন্য একটি ড্রয়ারও অপরিহার্য হবে।

মাল্টিপারপাস ফার্নিচার

এধরনের ফার্নিচার আজকে অতি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠছে। এখনকার ফ্ল্যাটবাসী পরিবারের কাছে জায়গার সমস্যা একটা বড়ো সমস্যা। এইক্ষেত্রে মাল্টিপারপাস ফার্নিচার খুব কাজে দেয়। যেমন শিশুদের পড়াশোনার জন্য বইখাতা, পেন পেনসিল, কম্পিউটার, স্কুলব্যাগ ইত্যাদি আলাদা আলাদা জায়গায় না রেখে একটি ফার্নিচারের সাহায্যেই স্টোর ও ব্যবহার দুইই করা যেতে পারে। এধরনের ফার্নিচার আপনার ফ্ল্যাটের জায়গা অনুযায়ী বা মনের মতো নাও হতে পারে। তাই সেক্ষেত্রে মাপমতো বানিয়ে নেওয়াই উচিত। কেবল বইখাতা রাখার জায়গার দরকার হলে, জানলার উপরেও ক্যাবিনেট বানিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি

পড়াশোনার সঙ্গে শিশুদের স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখা দরকার। পড়ার চাপ এত বেড়ে গেছে যে, তাদের দীর্ঘক্ষণ পড়ার টেবিলে বসে থাকতে হয়। টেবিল চেয়ারে বসে পড়া ও ভারী স্কুল ব্যাগ বওয়া ক্রমশ অভ্যাস হয়ে গেছে তাদের। তাই শিশুর সুবিধাজনক মাপ ও উচ্চতার টেবিল চেয়ার থাকা উচিত। প্রায়ই দেখা যায়, বাড়িতে শিশুরা বিছানায় বসে বা ডাইনিং টেবিলে বসে পড়ছে। এতে তাদের শিরদাঁড়ার হাড় ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বিশেষজ্ঞরা ডাইনিং চেয়ারকে কম্পিউটার চেয়ার করে তুলতে বারণ করেন। ডাইনিং চেয়ারে একটানা বসে কাজ করলে পিঠ, ঘাড়, ও কোমরে যন্ত্রণা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই পড়ার জন্য ডাইনিং টেবিল পড়াশোনার উপযুক্ত নয়। পড়া শুরুর আগে বা পড়া শেষে শিশুদের টেবিল ক্যাবিনেট বা কম্পিউটার টেবিল গুছিয়ে তোলার অভ্যাস তৈরি করান। এছাড়া টেবিলের উপর বা দেয়ালে সহজে চোখে পড়ে এমন জায়গায়, নোটিসবোর্ড লাগান। এতে স্কুলের হোমওয়ার্ক ইত্যাদি প্রয়োজনীয় কাজগুলি করার নোট দেওয়া থাকবে। পড়া শুরু করার সময়ে শিশুরা এগুলো দেখে নিলে তাদের খুব সুবিধা হয়। এতে শিশুর willingness to study বৃদ্ধি পায়।

সঠিক ব্যবস্থা

টেবিলের একদিকে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি সাজিয়ে রাখা দরকার। যেমন ঘড়ি, এছাড়া অন্যান্য টুকিটাকি জিনিসগুলির জন্য একটি স্ট্যান্ড থাকা ভালো। এতে লাগানো থাকবে ক্যালেন্ডার, পেন, পেপার নাইফ, ম্যাগনিফাইনিং গ্ল্যাস, কাঁচি, স্কেলের মতো জিনিসগুলি। এভাবে এগুলি সাজিয়ে রাখলে, দরকারের সময় সেগুলি সবই চট করে পেয়ে যাবেন। আজকাল বিভিন্ন কোম্পানি তাদের নিজের প্রচারের জন্য নানান জিনিস একসঙ্গে সাজানোর জন্য স্ট্যান্ড বানায়। তাতে একটি টেবিল ক্লক থাকে। অনেকসময় আবার সেই ক্লকটি অ্যালার্মযুক্ত হয়। শিশুদের মধ্যে এ অভ্যেসটা থাকা দরকার যে, নির্দিষ্ট পাঠ্য বিষয় তারা নির্দিষ্ট দিনে বা সময়ে পড়বে। এতে সকল পাঠ্যবিষয়েই সমভাবে পঠিত হবে। ঘুম থেকে ওঠা বা পড়তে বসার সময় জানান দেওয়ার জন্য অ্যালার্ম ঘড়ি কাজে দেয়। টেবিলে দুধের কাপ বা জলের গ্লাস রাখার জন্য একটি টেবিলম্যাট থাকলে ভালো। এতে টেবিলে দাগ লাগার সম্ভাবনা কমে যায়। এসব পরিকাঠামো থাকলে, শিশুদের পড়াশোনা করায় মন বসার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

 

বেডশিট কেনার সময়

সারাদিন নানা কাজে আমাদের ব্যস্ত থাকতে হয়। রাত্রিবেলা বাড়ি ফিরে শরীর ও মন উভয়ই চায় বিশ্রাম। তখন বিছানা যদি হয় পরিপাটি করে সাজানো, আর তাতে পাতা থাকে চোখের পক্ষে আরামপ্রদ বেডশিট, মন হয় স্নিগ্ধ, আসে গাঢ় শান্তির ঘুম।

একটা সময়ে বেডশিট বলতেই লোকে বুঝত ধবধবে সাদা কিংবা অফ-হোয়াইট বিছানার চাদর। যুগ পালটেছে। রুচিও পালটেছে। এখন বাজারে অজস্র রং এবং ডিজাইনের Bedsheet পাওয়া যায়। তার কোনওটির উপর ব্লক প্রিন্ট, কোনওটিতে এমব্রয়ডারি। কোনওটি নিখাদ সুতির আবার কোনওটি হালকা সিল্কের।

সঠিক মাপের বেডশিট

এমনিতে যে-কোনও বেডিং কিংবা পিলোর-ই নির্দিষ্ট সাইজ থাকে। বেডশিট কেনার সময় খাটের মাপটি অবশ্যই মাথায় রাখবেন। তবে সাধারণভাবে দোকানে তিনটি মাপে বেডশিট পাওয়া যায়– সিংগল, মিডিয়াম এবং লার্জ।

থ্রেড-কাউন্ট

বেডশিট কেনার সময় তার থ্রেড-কাউন্ট জানাটা অত্যন্ত জরুরি। থ্রেড-কাউন্ট মানে, বেডশিটের প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে যে-কটি থ্রেড থাকে, সেটি। থ্রেড-কাউন্ট যত বেশি হবে ফ্যাব্রিকও হবে ততই নরম এবং ফাইন। বেডশিটের দাম থ্রেড-কাউন্টের উপরেই নির্ভর করে। ২৫০-এর বেশি থ্রেড-কাউন্টের বেডশিট অত্যন্ত সফট হয়।

ফ্যাব্রিক

ঘরের মধ্যেকার এবং বাইরের আবহাওয়া ও আরামের কথাটা মাথায় রেখে বেডশিট পছন্দ করুন। কটন Bedsheet গ্রীষ্মকালের পক্ষে উপযুক্ত। আবার শীতকালে ব্যবহার করতে পারেন, সিল্ক, ফ্লানেল, লিনেন এবং নেটের বেডশিট।

কটন বেডশিট পেতে পারেন হরেক রকম কোয়ালিটি ও ভ্যারাইটির। যেমন, একশো শতাংশ কটন, কটন মিক্স, নন-রিংকলিং কটন, হ্যান্ডলুম কটন ইত্যাদি। সব ধরনের রং ও ডিজাইনের কটন বেডশিট বাজারে সুলভ। রোজকার ব্যবহারের জন্যও এ ধরনের বেডশিটের কোনও জুড়ি নেই।

নির্দেশ মেনে চলুন

আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন, আপনার পছন্দের বেডশিটটিকে অনেকদিন পর্যন্ত যেন নতুন মনে হয়। তাহলে, নতুন কেনা বেডশিটের সঙ্গে দেওয়া মেইনটেন্যান্স এবং ওয়াশিং ইনস্ট্রাকশন অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলুন। সাধারণ ব্যবহারের জন্য রিংকল ফ্রি Bedsheet কেনাই ভালো। সিল্কের বেডশিট দেখতে সুন্দর, কিন্তু এগুলিকে বাড়িতে কাচলে, ডিটারজেন্ট ও ওয়াশিং মেশিন ফ্যাব্রিকের ক্ষতি করে। ফলে, ড্রাই ক্লিন করান।

 

ওয়ালপেপারে অন্দরসাজ

কিছু বছর আগে একটি নামি পেইন্ট কোম্পানি ‘রয়েল প্লে’ নামে একটি নতুন প্রোডাক্ট বাজারে নিয়ে আসে। এদের উদ্দেশ্য ছিল, বসতবাড়ির প্রত্যেকটি ঘরের অন্তত একটি দেয়ালকে সম্পূর্ণ আলাদা বৈশিষ্ট্যে সবার কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা। ‘রয়েল প্লে’ এক বিশেষ ধরনের ওয়ালপেন্ট, যা ব্যবহার করতে দরকার হয় কিছু বিশেষ ধরনের সরঞ্জাম যেমন, স্পঞ্জ, র‍্যাগিং রোলারস, কোম্বস, বিশেষ ধরনের ব্রাশ, স্প্যাটুলা ইত্যাদি, যেগুলি এখন খুবই পরিচিত নাম। বেশিরভাগ গৃহকর্তা-গৃহকর্ত্রী-ই পছন্দ করেন, যে দেয়ালের গায়ে ডবল-বেড রয়েছে সেই দেয়ালটি শুধুমাত্র এই স্পেশাল পেইন্ট দিয়ে রং করাতে।

এই পেন্টগুলি মার্কেটে এখন খুবই জনপ্রিয়। একটি দেয়াল ডার্ক কালার করিয়ে অন্য তিনটি দেয়ালে হালকা কালার করানোই এখন লেটেস্ট ফ্যাশন। কিন্তু পেইন্টের রং হওয়া উচিত একটাই, যার শেড বিভিন্ন হতে পারে। এই রংগুলি লাগাবার পদ্ধতি, দেয়াল-কে থ্রি-ডাইমেনশনাল লুক এনে দেয়। বিশেষ কালার করা দেয়ালটি, পর্দা অথবা ক্যানভাস কিম্বা খোলা আকাশ অথবা একটা কুল ব্যাকড্রপের অনুভূতি এনে দেয়। এখন ধীরে ধীরে রঙের ব্যবহার কমে গিয়ে বাজারে জায়গা করে নিচ্ছে ওয়ালপেপার। ভারতের বহু শহরেই এখন ওয়ালপেপার একটি সমাদৃত সামগ্রী।

মনস্তত্ত্ব : যারা বাড়ি তৈরি করাচ্ছেন, তারা প্রায় সকলেই ইচ্ছা প্রকাশ করেন নিজের বাড়িটা হোক সকলের থেকে আলাদা। ভূসম্পত্তি বিনিয়োগের বাজারে মন্দা চললেও, জমি বেচা-কেনা অথবা নতুন বাড়ি তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে যায়নি। বাড়ি সাজাবার নতুন নতুন সামগ্রী রোজই বাজারের দরজায় কড়া নাড়ছে। আর্কিটেক্টরাও তাদের ক্লায়েন্টদের জন্য পুরোনো মাপ-জোপ ঝেড়ে ফেলে বোল্ড ডিজাইন এবং নতুন ধরনের সামগ্রী বেছে দিচ্ছেন। ফলস্বরূপ বাড়ির ভিতর এবং বাইরের সাজের পরিবর্তনশীল ট্রেন্ড নজরে রেখে, বাজারে আসছে চক্ষু জুড়ানো বিভিন্ন ডেকরেটিভ সামগ্রী। ওয়ালপেপার এরকমই একটি সংযোজন।

ওয়ালপেপার : ওয়ালপেপার আপনার ঘরের শোভা বাড়াতে যতটা সাহায্য করবে, কোনও পেইন্ট সেটা করতে পারবে না। ওয়ালপেপারের মধ্যে আপনি সব রকমের রং, শেড, ডিজাইন, প্যাটার্ন পাবেন যেটা সত্যিই অভাবনীয়। Wallpaper আপনার বাড়িকে দেবে সুরুচিপূর্ণ পরিবেশের ছোঁওয়া। এর সৌন্দর্য আপনি মুখে ব্যক্ত করতে পারবেন না শুধু মনে উপলব্ধি করতে পারবেন। ওয়ালপেপার দক্ষ কারিগর দিয়ে লাগিয়ে নিলে বুঝতেই পারা যায় না কী দিয়ে দেয়ালে কভার করা হয়েছে, কাপড়, কাঠ, ইট নাকি পাথর!

ষাটের দশকে বিশ্বের বহু জায়গায় ওয়ালপেপার একটি সুপরিচিত সামগ্রী হিসাবে খ্যাত ছিল। তারপর ধীরে ধীরে এটি স্মৃতির অতলে বিলুপ্ত হয়ে যায়। একবিংশ শতকে এসে দেখা যাচ্ছে ঘরের অন্দরসজ্জাকে নান্দনিক করে তুলতে ওয়ালপেপার নতুন ডিজাইনে, রঙে শোভিত হয়ে ভারতের ইন্টিরিয়ার ডেকরেশন-এর ক্ষেত্রটিতে তোলপাড় তুলছে।

রকমফের : টেকসই, ভালো কোয়ালিটির অধিকাংশ ওয়ালপেপারই বিদেশ থেকে রপ্তানি হয়। জার্মানি ওয়ালপেপারের প্রধান প্রস্তুতকারক। বিদেশি মার্কেট ওয়ালপেপারের সঙ্গে প্রোডাক্ট তালিকাও ক্লায়েন্টের কাছে পাঠিয়ে দেয় যাতে কেনার সময় খরিদ্দারের রং কিংবা স্টাইল বাছতে কোনওরকম অসুবিধা না হয়। ভেলভেট এবং সিল্ক ফিনিশেও ওয়ালপেপার বাজারে প্রচুর রয়েছে। ওয়ালপেপারের এই বিশাল রকমফেরে যদি খরিদ্দার মনস্থির করতে না পারেন, কোনটা কিনলে তিনি বেশি লাভবান থাকবেন, তাহলে কয়েকটা বিষয়ে অবশ্যই তাঁকে খেয়াল রাখতে হবে।

কোথায় লাগাবেন : চার দেয়ালের পরিবর্তে ঘরের একটা দেয়ালেই Wallpaper লাগানো ভালো। তেল-যুক্ত ডিসটেম্পার অথবা অ্যাক্রিলিক ইমালশন দিয়ে বাকি তিনটে দেয়াল রং করিয়ে নিন। ওয়ালপেপার ডার্ক কালারের পছন্দ করুন এবং তিনটে দেয়ালে হালকা রং করুন। কালার কম্বিনেশন হওয়া উচিত লাল এবং গোলাপি, সবুজ এবং প্যাস্টেল সবুজ, নীল এবং আকাশি নীল, এইভাবে।

ফাইনাল টাচ : আপনাকে ভেবে নিতে হবে, আপনি চকচকে কিংবা ম্যাট ফিনিশ কোনটা চান? তারপর ভাবুন কাপড়ের অনুভূতি, কাঠের মতন টেক্সচার অথবা মেটালিক ফিনিশ, কোনটা বেশি পছন্দের? এছাড়াও ফুলের ডিজাইন অথবা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরা হয়েছে এমন ওয়ালপেপারও আপনার পছন্দের তালিকাভুক্ত হতে পারে। বাচ্চাদের ঘরের জন্য পছন্দ করুন ওদের পছন্দ অনুযায়ী ওয়াইল্ড সাফারি, ড্রাগন ক্যাসেল, লিটল প্রিন্সেস, স্পেস মিশন ইত্যাদি। ঘরের আসবাবপত্র এবং কার্পেটের রং মাথায় রেখে ওয়ালপেপার কেনা উচিত। পছন্দের ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আপনার নিজের রুচির উপর নির্ভর করবে।

গুণাগুণ বিচার ও ব্যবহার : ওয়ালপেপার কেনার আগে সেটার কোয়ালিটি অর্থাৎ সেটি টেকসই কিনা, রং উঠে যাবে কিনা এবং পরিষ্কার করা চলবে কিনা, ভালো করে জেনে নিতে হবে। দরকার হলে কার্যত পরীক্ষা করে নিতে হবে। Wallpaper বেশিরভাগই ভিনায়েল কোটেড এবং খুব শক্ত হয় এবং সহজেই সবরকম পরীক্ষাতেও পাস করে যায়। স্ক্র্যাচ প্রুফ এবং প্রিন্টিং-এর কোনও ভুল আছে কিনা তাও ভালো করে দেখে নিয়ে ওয়ালপেপার কেনা উচিত।

ওয়ালপেপার লাগাবার আগে, দেয়াল তৈরি আছে কিনা দেখে নিতে হবে। কোনওরকম লিকেজ, সিপেজ অথবা ময়েশ্চারের ড্যাম্প ওয়ালপেপার-কে নষ্ট করে দিতে পারে। তাই দেয়াল ড্রাই এবং সমান্তরাল হওয়া খুবই জরুরি।

কীভাবে লাগাবেন : দক্ষ কারিগর দিয়েই ওয়ালপেপার লাগাবেন। যারা ওয়ালপেপার সাপ্লাই করে, তাদের সঙ্গেই পেপার লাগাবার কারিগরের-ও চুক্তি করে নেবেন। দক্ষ কারিগর একদিনে ঘরের চারটে দেয়ালের কাজ শেষ করতে পারে। আর যদি একটা দেয়ালের কাজ হয়, তাহলে পুরো বাড়ির কাজ করতে মোটামুটি ২-৩ দিন সময় লাগার কথা।

দাম : ওয়ালপেপারের দাম ১০ টাকা প্রতি স্কোয়ার ফিট থেকে শুরু করে ৯০০ টাকা প্রতি স্কোয়ার ফিট হতে পারে। রোল হিসেবে এটা বাজারে পাওয়া যায় এবং সাধারণত ৫৩ সেমি চওড়ায় সহজলভ্য। লম্বায় ওয়ালপেপারের রোল ১০ মিটারের বেশি হয়। লাগাতে গিয়ে পেপারের যা ওয়েসটেজ তার মূল্য পুরোটাই বহন করতে হয় পেপারের সাপ্লায়ারকে। গ্রেটেক্স, মারশান, ডিজনি এবং এসপ্রিট, Wallpaper-এর কিছু বিখ্যাত ব্র্যান্ড।

 

পারফিউমে পারফেকশন

প্রকৃতির এক নিজস্ব গন্ধ আছে। বৃষ্টি ভেজা সোঁদা মাটির গন্ধ, ফুল, ফল, গাছ- প্রতিটি প্রাণীরই নিজস্ব গন্ধ, তার পরিচয় বহন করে। যে-গন্ধ মানুষের শরীরে মনে আরাম-আনন্দ আনে তাই-ই পারফিউম। প্রত্যেক মানুষের রুচি আলাদা, তাই পছন্দও আলাদা, কেউ ভালোবাসে চন্দনের গন্ধ কেউ বা তুলসী, কেউ-বা মিন্ট। সেই প্রাচীন যুগ থেকে পারফিউম বা সুগন্ধীর ব্যবহারের প্রচলন। খ্রিস্ট জন্মের হাজার বছর আগে থেকেই Perfume-এর ব্যবহার রমরমিয়ে চলছে। প্রাকৃতিকভাবেই ব্যবহার করা হতো সুগন্ধীর। গাছের পাতা, ফল, আঠা, তেল, ফুল, গাছের ছাল থেকেই মূলত সুগন্ধ বের হয়। এইগুলোকে বিভিন্নভাবে জারিত করে তৈরি হয় পারফিউম।

ভারতীয় প্রাচীন গ্রন্থেও সুগন্ধীর উল্লেখ আছে। অগ্নিপুরাণে প্রায় ১৫০-এর বেশি ধরনের সুগন্ধীর দৈনন্দিন ব্যবহারের উল্লেখ আছে। পুজো, স্নান, রকমারি পদ তৈরি, রূপচর্চা, ঔষধি তৈরি ইত্যাদি। রামায়ণ-মহাভারত মহাকাব্যেও সুগন্ধীর কথা বহুবার এসে পড়েছে। সন ৮৪০-তে বৈজ্ঞানিক উপায়ে আতর ব্যবহারের কথা জানা যায়। ভারতীয় আতর সুদূর মিশর, আরব, ইরান, পারস্য, আফগানিস্তান প্রমুখ দেশেও ব্যাবসা সূত্রে যেত। যদিও বৈদিক যুগ থেকে আতরের ব্যবহার মিশর দেশে প্রচলিত ছিল। মুঘল বাদশাহরাও ছিলেন সুগন্ধের পূজারি। নূরজাহান নিজেই নিজের পছন্দের আতর তৈরি করে নিতেন। সুগন্ধীর ব্যাপারে তিনি ছিলেন খুবই শৌখিন। প্রায় তিরিশ রকমের গোলাপের আরকের মধ্যে চন্দন তেল মিশিয়ে পাঁচ সের আতর তৈরি হতো। এত আতর কিন্তু বেশিদিন লাগত না ফুরিয়ে যেতে।

শুধুমাত্র নিজের ব্যবহারের জন্যই নয়, আত্মীয়স্বজনকে উপহারও পাঠানো হতো। এইভাবে রাজস্থানের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছিল নূরজাহানের বিশেষ Perfume। ক্রমশ রাজস্থানে আতরের রমরমা ব্যাবসা শুরু হয়। এখনও রাজস্থানের কোনও কোনও স্থানে গোলাপের চাষ হয় শুধুমাত্র আতর তৈরির জন্য। এই মরুভূমির মাটিতে চাষ করা বেশ কষ্টসাধ্য, তবু খসের চাষ এখানে যথেষ্ট ভালো হয়। এর সুগন্ধই তাকে ঠাঁই দিয়েছে আতরদানিতে। রাজস্থান থেকেই আতরের ব্যাবসা ছড়িয়ে পড়েছিল আফগানিস্তান, ইরাক, ইরানে তথা বৌদ্ধ ভিক্ষুকদের সহায়তায় সুদূর চিন দেশে। যখন এই আতর পারস্যে পৌঁছায় সেখানে চন্দন তেলের পরিবর্তে অ্যালকোহল দিয়ে দ্রাবক অর্থাৎ গোলাপ-পাপড়ি কিংবা খসকে জারিত করে, যে-তরলটি পাওয়া গেল, তা হল আজকের ‘সেন্ট’ বা সুগন্ধী।

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ আতরের জন্য পৃথিবীবিখ্যাত। সেই মুঘল যুগ থেকে মুর্শিদাবাদের হুসেনের গোলাপ-আতর আজও সমানতালে জনপ্রিয়। মুসলমান সম্প্রদায় এই বিশেষ আতরটিকে শুভ কাজে ব্যবহার করে। শুধু গোলাপের সুগন্ধীই নয়, এর সঙ্গে কস্তুরীর গন্ধ মিশিয়েও এক তীব্র আকর্ষণীয় আতর প্রস্তুত করা হয়। সুগন্ধী ফুল বেল, চাঁপা, জুঁই, গোলাপ তো আছেই, খস, লেবু, চন্দনের আতর আজও সমাদৃত।

একবিংশ শতাব্দীতে Perfume-এর ব্যবহার কেবলমাত্র আতর রূপেই হয় না, বাজার ছেয়ে গেছে সেন্ট, ডিওডোরেন্টে। অ্যালকোহলের মিশ্রণে তৈরি হয় সেন্ট কখনও বা ডিওডোরেন্ট। আজ ভারতীয় বাজার ভরে গেছে বিদেশি পারফিউমে। ইয়ার্ডলে, জোভান, টস্কর, ল্যাভেন্ডার, শ্যানেল ফাইভ আরো অনেক নামে বিভিন্ন সুগন্ধীর পশরা সাজানো দোকানে।

আতর, সেন্ট, যাই হোক না কেন, যেটির গন্ধ দীর্ঘস্থায়ী সেটিই গুণগত মানে উন্নত। এধরনের সুগন্ধী শুধু দীর্ঘস্থায়ীই নয়, চারপাশে এক রেশ ছড়িয়ে দিয়ে যায়। এসব পারফিউমের জন্য এসেনশিয়াল অয়েল দরকার। ৮৮০ পাউন্ড কমলালেবু থেকে মাত্র এক পাউন্ড এসেনশিয়াল অয়েল পাওয়া যায়। ৪ হাজার পাউন্ড গোলাপের পাপড়ি থেকে মাত্র এক পাউন্ড গোলাপ তেল পাওয়া যায়।

বিভিন্ন ধরনের পারফিউমে আজ বাজার ছেয়ে আছে, লিক্যুইড পারফিউম, স্প্রে পারফিউম, ক্রিম পারফিউম, কোলন পারফিউম, অয়েলি পারফিউম আরও কত কী! তবে স্প্রে পারফিউমের ‘কোলন’ রূপান্তরই বেশি পছন্দ আজকের প্রজন্মের। স্প্রে করার জন্যই গন্ধের বিস্তার ঘটে অনেক দূর। ক্রিম পারফিউম ডিওডোরেন্ট স্টিক রূপে ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের স্টিকগুলো অ্যান্টিসেপটিকও বটে। এমন ডিওডারেন্ট একবার ব্যবহার করলে রাতেও সুন্দর গন্ধ থাকে। শরীর থেকে ঘামের গন্ধ বের হয় না। নিজেকে মনে হয় ফ্রেশ, সারাদিন। এছাড়াও স্নানের পর ১ মগ জলে ৮-১০ ফোঁটা অ-দি-কোলন মিশিয়ে সারা শরীরে ঢেলে নিলেও সারাদিন চাঙ্গা-চনমনে থাকা যায়।

নানাধরনের সুগন্ধীর ব্যবহার আজকের যুগে আরও এক নতুন পদক্ষেপে এগিয়ে গেছে ‘অ্যারোমা থেরাপি’ নামে। যদিও এই থেরাপি বা চিকিৎসা ৩,০০০ বছরের পুরোনো। রোগ উপশমের ক্ষেত্রেও এই থেরাপি প্রয়োগ করা যায়। যারা কম-বেশি পারফিউম ব্যবহার করেন তারাও জানেন কিছু গন্ধ উত্তেজক, কিছু বা স্নিগ্ধ, কিছু বা ক্লান্তি দূর করে। আজকাল মাসাজের সময় অ্যারোমা অয়েল ব্যবহার করা হয়। নামিদামি বিউটি পার্লারগুলো, মাসাজ স্পা- সবই সুগন্ধীর উপর নির্ভর করে হয়ে থাকে। কালের চাকা ঘোরার সঙ্গে আবার ফিরে আসছে পুরাতনী পদ্ধতিতে রূপচর্চা। কোন যুগের মিশরের মমি আজও অখন্ড রয়েছে এই এসেনশিয়াল অয়েল তথা সুগন্ধীর গুণে। প্রকৃতির বুকে অপার রহস্য ছড়িয়ে। সেখান থেকেই মানুষ খুঁজে নিয়েছে এই সুগন্ধী গুণ, নিজের প্রয়োজনে। শুধু শখ-শৌখিনতা নয়, সুগন্ধী রোগ নিরাময়েও ব্যবহূত হয়।

কেবল পারফিউম লাগালেই হয় না, লাগাবার বিশেষ পদ্ধতিও জানা প্রয়োজন। অনেকেই সাজগোজের পর শরীরের উপরাংশে সেন্ট লাগিয়ে নেয়, আর উপর থেকে নীচে স্প্রেও করে। পুরোপুরি ভুল। ডিওডোরেন্ট লাগালে স্নানের পর ত্বকের উপর সোজাসুজি লাগান আর পারফিউম লাগালে শেষ মেক-আপ টাচ দিন কানের পিছনে, হাতের ভাঁজ, কবজিতে। শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এর সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে সারা শরীরে। মনে রাখবেন ডিওডোরেন্ট ঘামের নির্গমন অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। দুর্গন্ধও দূর করে। তবে ডিও না সেন্ট কোনটা লাগাবেন, তা নির্ভর করে কোথায় যাচ্ছেন এবং গন্ধের স্থায়িত্বের উপর। চুলেও পারফিউম লাগানো যায়। তবে স্প্রেয়ার চুল থেকে কিছুটা দূরে রাখবেন। খুব বেশি পরিমাণ সুগন্ধী একসঙ্গে লাগাবেন না। শুকনো ত্বকে পারফিউম লাগানোর আগে অল্প ময়েশ্চারাইজার বা ক্রিম লাগান। এটি যেন গন্ধহীন হয়। নইলে দুটো সুগন্ধী মিশে গেলে ভালো গন্ধ বের হয় না। তৈলাক্ত ত্বকে গন্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়। সুগন্ধী লাগানোর সময় চোখে বা মুখের কোনও অংশে যেন না লাগে।

মহিলা ও পুরুষদের হর্মোন নিঃসরণ পৃথক হওয়ায়, স্বেদ-গ্রন্থি অর্থাৎ ঘামের গন্ধ আলাদা হয়। তাই সুগন্ধীর ব্যবহার হওয়া উচিত আলাদা।

বাজারে পারফিউম পাওয়া যায় এই বিভাজন মেনেই। যেমন জোভান (ফর উইমেন, ফর মেন) নিনা রিকি (ফর উইমেন), পোর হোম (ফর মেন)। তবে আজকালকার টিনএজাররা পছন্দ করছে উগ্রগন্ধ। তাই ইউনিসেক্স পারফিউম ও ডিওডোরেন্ট পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। বুলগারি অ্যাকোয়া, ক্যালভিন ক্লেইন ওয়ান, ইত্যাদি পারফিউম এবং স্পাইকার ইউনিসেক্স ডিও, বব অ্যান্ড ডেন ইউনিসেক্স-এর মতো বডি স্প্রে-র দারুণ কাটতি।

নিজের চাহিদা মতন, সাধ আর সাধ্যকে এক করে সাথি করুন সুগন্ধীকে, আর আপনার উপস্থিতিকে আরও জোরালো করে তুলুন।

 

আধুনিক নারী, সমাজ ও সেক্স

সুখী বিবাহিত জীবনে সেক্স অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান ভারতে শুধুমাত্র পুরুষের যৌন চাহিদাই নয়, প্রাধান্য পাচ্ছে নারীর দৈহিক চাহিদাও। যৌন আকর্ষণে পুরুষকে বিমোহিত করার ঘটনা এখন আর নতুন নয়। স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে যৌন সম্পর্ক, পরিবার পরিকল্পনা ইত্যাদি নিয়ে মত বিনিময়ে এখন শুধু স্বামীর নয়, স্ত্রীরও গুরুত্বপূর্ণ যোগদান রয়েছে।

এ যুগের মেয়েরা মুক্ত কণ্ঠে নিজেদের মতামত জানাতেও দ্বিধা বোধ করছেন না। যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই শারীরিক ও মানসিক সন্তুষ্টি পাওয়ার চেষ্টা করেন, যেটা তাদের জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত জীবনের আনন্দ এনে দিতে পারে। পরবর্তীকালে ভালোবাসার মানদণ্ড এটাই হয়ে দাঁড়ায় এবং সুখী ও হেলদি ফ্যামিলির চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে পরস্পরের যৌনসম্পর্কেরই উপর। এখন গর্ভবতী মহিলাদের যত্রতত্র এখানে-ওখানে ঘুরে বেড়ানো এবং কর্মক্ষেত্রে রোজ হাজিরা দেওয়াটা এতটাই পরিচিত একটা চিত্র হয়ে গেছে যে, নতুন করে ভুরু তুলে সেদিকে এখন কেউ আর দৃষ্টিপাত করে না।

অনেক সময় দেখা যায় স্বামী কর্মসূত্রে অন্যত্র থাকে। সেই পরিস্থিতিতে স্ত্রী-কেই বাড়ির পুরো দায়িত্ব পালন করতে হয়। বাড়ির বাইরের কাজ যেমন, বাচ্চাদের পড়াশোনা, স্কুলের নানা ঝামেলা, বিভিন্ন বিলের পেমেন্ট, দোকানবাজার এসব কিছুও স্বামীর অবর্তমানে স্ত্রীকেই ভরে নিতে হয়। এছাড়াও তার নিজস্ব সোশ্যাল লাইফ, বন্ধুবান্ধব, নানারকম পলিটিকাল কাজে যোগদান করা ইত্যাদিও তার জীবনের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য ভাবেই জড়িয়ে থাকে।

আধুনিক গৃহবধূরা সবসময় চাকরি করতে বাড়ির বাইরেই যেতে হবে এমন কনসেপ্ট-এ বিশ্বাস করেন না। নিজেদের সোশ্যাল লাইফ, স্ট্যাটাস, মডেল রোল বজায় রাখার জন্য বাড়িতে বসেই অর্থ উপার্জনের বিভিন্ন পন্থা বেছে নেন। অনেকে সফট টয়, চিত্রকলা, ফুলের বোকে বানিয়ে প্রদর্শন করেন এবং বিক্রিও করেন। আবার ছাত্র-ছাত্রী জোগাড় করে বাড়িতে ব্যাচ বানিয়ে নানা ধরনের বিষয়ের উপর ক্লাসও কনডাক্ট করেন। এর থেকেও অর্থ উপার্জনের এবং স্বাধীন থাকার একটা সহজ রাস্তা অনায়াসে বেরিয়ে আসে আধুনিক নারীদের।

এখন বাড়ির বউরা এতটাই আত্মসচেতন হয়ে গেছেন যে বাড়িতে তাদের স্বামীরাও স্ত্রী-কে খুশি ও আরামে রাখার জন্য, বাড়ির প্রতিটি কাজে শ্রমদান করতে এতটুকু ইতস্তত করেন না। পরিবর্তন এসেছে women’s lifestyle-এ। শিক্ষার দৌলতে এবং সোশ্যাল এক্সপোজারের কারণে এখন মেয়েরা অনেক বেশি ম্যাচিওর হয়ে গেছেন সুতরাং শক্ত হাতে ‘ঘর ও বাহির’ সামলাতে তাদের জুড়ি মেলা ভার।

আধুনিকতা আজ প্রায় প্রতিটি ঘরবসতের পুরোনো চিত্রটা বদলে দিয়েছে ঠিকই কিন্তু গ্রামের চেহারার পরিবর্তন শহরের তুলনায় কম। এখনও সেখানে পুরুষের সমান অধিকার মেয়েদের দেওয়া হয় না। নারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার উপরেই নির্ভর করে ফ্যামিলিতে তাকে কোথায় জায়গা দেওয়া হবে।

যে-যত বেশি শিক্ষিত হবে, পরিবারে সেই মেয়ের স্থান তত উপরে। কিন্তু এখনও এমন বহু পরিবার আছে যেখানে পুরুষদের প্রাধান্যই বেশি। এটা খুব পরিষ্কার ভাবেই বুঝিয়ে দেওয়া হয় যে স্বামীর উপস্থিতিই সেখানে প্রধান, তা সেখানে বাড়ির বউরা যতই শিক্ষিত হোক। সেসব পরিবারে মেয়েরা স্বাধীনতা দাবি করতে গেলেই লাগে পরিবারে দ্বন্দ্ব।

ভারতবর্ষের সমাজব্যবস্থা আজও নারীর সঠিক মান স্থাপন করতে পেরেছে কিনা মাঝে মাঝে সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ থাকে। রাস্তায় যেতে-আসতে অনেক সময়েই শুনতে হয়, ‘কীসের জন্য চাকরি করছ যখন তোমার স্বামী এত ভালো উপার্জন করছেন?’ এইসব লোকেদের এটাই মনে হয়, মেয়েরা শুধু চাকরি করে অর্থ উপার্জনের জন্য। অথচ আধুনিক মেয়েরা চাকরি করব বলেই যে মনস্থির করে সেটা ঠিক নয় সবসময়। পড়াশোনা শেষ করার পর নর্মাল ভাবেই মেয়েরা পুরুষদের মতোই চাকরি করতে শুরু করে। এটাই স্বাভাবিক আজ তাদের কাছে।

চাকুরিরতা মহিলা এবং গৃহবধূর মধ্যে আজ আর কোনও তফাত নেই। দিনের শেষে দুজনেই নিজেদের কাজে পারফেক্ট। মনে রাখতে হবে এই নারীই মুখ বন্ধ করে পরিবারের প্রত্যেকের জীবনের ওঠা-নামার সঙ্গে নিজেকে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রাখে। সোনার কাঠি ও রুপোর কাঠির ছোঁয়ায় পরিবারের প্রত্যেককে রূপকথার কাহিনির পাত্র-পাত্রী করে তোলে।

 

হালফিল জীবনশৈলী

বিয়ের পর সমাজে, স্বামীর পরিবারে মেয়েরা নতুন একটা অধ্যায়ের সূচনা করে। পরিবর্তন আসে women’s lifestyle-এ। একটা পরিবারে বউ হয়ে আসতেই, সেখানে তৈরি হয় নানাজনের নানা চাহিদা। প্রথমেই মানিয়ে নিতে হয় স্বামীর বাহ্যিক চরিত্র এবং মানসিকতার সঙ্গে। স্বামীর পরিবারের আদবকায়দা, রীতি রেওয়াজ সবকিছুই শিখে নেওয়ার কর্তব্য কিন্তু নতুন বউ-এর। তবেই সে পতিগৃহে হতে পারবে পুরোদস্তুর সদস্য। বিয়ের পর একজন অপরিচিত হিসেবেই সংসারে ঢুকে পড়তে হয়, যেখানে অন্যান্য সদস্যরা কিন্তু ততদিনে ওই পরিবারে একাত্ম হয়ে গিয়েছেন।

একটি সংস্কৃত শ্লোকে গৃহিণীদের চরিত্র কেমন হওয়া বাঞ্ছনীয়, সেটা বিশ্লেষণ করে সুন্দর একটি বিবরণ রয়েছে। ‘বাড়ির কর্ত্রী স্বামীর প্রতি হূদয়বান হবেন, স্বামীর ভাই-বোনেদের প্রতি সম্ভ্রমযুক্ত শ্রদ্ধা থাকবে, শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি বিনম্র সম্মান এবং অন্যান্য আত্মীয়স্বজনদের প্রতি আবেগপূর্ণ অনুভূতি থাকবে, বাড়ির কর্মচারীদের প্রতি দয়ার প্রতিমূর্তি হবেন, স্বামীর অন্যান্য স্ত্রীদের প্রতি সদা হাস্যমধুর ব্যবহার করবেন , এছাড়াও স্বামীর বন্ধুদের প্রতি সৌজন্যবিশিষ্ট নম্রতা আর সবশেষে শত্রুর প্রতি ঘৃণাই গৃহস্থ নারীর ভূষণ।’

ভারতীয় নারীর কাছে তার বাড়িই সবথেকে আদরের। স্বামীর আনন্দে সে খুশি, স্বামীর দুঃখে দুঃখী। স্বামীর অসুখবিসুখে সে সেবার প্রতিমূর্তি আবার বিপদের মুহূর্তে সবথেকে ভালো সমাধানকারী। স্বামীর ঘর-সংসারকে সুন্দরভাবে চালিত করার শক্তির আধার নারী। স্ত্রী-এর নিকটত্ব স্বামীকে স্থির রাখে, মনে সাহস ও শক্তি জোগায়। স্ত্রী’র কাছ থেকে স্বামী পায় পরিবার, সন্তান এক পূর্ণ তৃপ্তি যা তাকে করে এক সম্পূর্ণ পুরুষ।

সময় বদলেছে। আজকের নারী স্বাধীনচেতা এবং স্বনির্ভর। এখনকার নারীরা আর আগের নারীদের মতো পরনির্ভর নয়। Women’s lifestyle-এ এসেছে এক পরিবর্তন। এই পরিবর্তন উপহার হিসেবে, নারীর প্রাপ্য আনন্দের অধিকার তাকে দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্টিরিওটাইপ জীবনধারা অনেক বদলে গেছে। এর কিছুটা কৃতিত্ব দেওয়া যেতে পারে আমাদের সমাজ এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে। শুধুমাত্র শহরেই নয়, গ্রাম-গঞ্জের মেয়েরাও ঘরের মায়া ত্যাগ করে বাইরে বেরিয়ে আসছে কাজের জন্য।

পরিবর্তনের ঢল

বাড়ির বউদের প্রতি যে-ধারণা এতদিন প্রচলিত ছিল, আধুনিক সময়ে তা অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। এই প্রজন্মের গৃহবধূদের উপর আজ নতুন ধরনের দায়িত্ব এসে পড়েছে। আজ বেশিরভাগ মেয়েই শিক্ষিত অথবা উচ্চশিক্ষিত। তাই বিয়ের পর নতুন পরিবারে এসেও তার থাকে ন্যায্য অধিকার। বাড়ির যে-কোনও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাতেও তার মতামতের একটা প্রাধান্য থাকে। কর্মক্ষেত্রে এবং সোশ্যাল লাইফেও মেয়েদের গুরুত্ব বেড়েছে। পরিবারের ঐতিহ্য বজায় রাখার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের বাইরের দায়িত্বও সামঞ্জস্য রেখে পালন করা খুব একটা সোজা নয়। আধুনিক প্রযুক্তিবিদ্যার দৌলতে সময় এবং এনার্জি বাঁচাবার ঘরোয়া জিনিস আজ প্রত্যেকের গৃহজীবনে প্রভাব বিস্তার করছে। বাড়িতে সারাদিন ব্যস্ত থাকার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। মেশিনের সাহায্যে কাজ তাড়াতাড়ি হচ্ছে। এছাড়াও বাড়ির কাজের জন্য পরিচারক, পরিচারিকা নিয়োগ করে, বাড়ির বাইরে সামাজিক ও পারিবারিক দায়িত্ব গ্রহণ করাটাই বাড়ির বউরা বেশি পছন্দ করছে।

যে-কোনও আধুনিক পরিবারে দৈনন্দিন গৃহকর্মের ভার শুধুমাত্র স্বামী অথবা স্ত্রীর উপরে ন্যস্ত থাকে না। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও দায়িত্বভার সমানভাবে ভাগ করে নেন। কোনও সদস্যকে নিয়মমাফিক কোনও কাজ করতেই হবে এমন বাঁধাধরা আইডিয়া এখন কেউ বিশ্বাস করেন না। যার যেটা সুবিধা হচ্ছে মিলেমিশে কাজটা করে নিতে পারলেই হল। এখন অনেক পরিবারেই বিশেষ বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানে বাড়ির বউকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে, যেগুলিতে আগে বাড়িতে পুরুষরাই প্রাধান্য পেয়ে থাকতেন। আবার বাড়ির অনেক কাজেই পুরুষদের সাহায্যের হাত এগিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে যেখানে একসময় একচ্ছত্র রাজত্ব চালিয়ে এসেছেন মেয়েরা।

প্রযুক্তিবিদ্যা এবং তার সরাসরি প্রভাব আজ নারীর ব্যক্তিত্বকে বলিষ্ঠ করে এক নতুন পরিচিতি দিতে সাহায্য করছে এবং women’s lifestyle-এ বড়সড় প্রভাব ফেলেছে। মেয়েদের মনে মানসিক সন্তুষ্টি এসেছে। এই হাই-টেক যুগে কম্পিউটার রিলেটেড অনেক কাজ রয়েছে যেগুলি বাড়ির বউরা বাড়িতে বসেই করছেন এবং অর্থ উপার্জন করতে পারছেন। বাড়ির বউদের জন্যই বিশেষভাবে এই কাজগুলি তৈরি হয়েছে। বাচ্চার সারাদিনের দেখাশোনা করার দায়িত্ব আগে পুরোপুরি মায়েদের হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, বিশেষত নিউক্লিয়ার ফ্যামিলিতে বাড়ির বউকে নানা ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হয়। সুতরাং এখন পরিবারে সকলেই, সুবিধামতো বাচ্চার দায়িত্ব নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিচ্ছেন। স্ত্রী-এর সঙ্গে পরিবারের কোনও সদস্যের যদি কোথাও মনোমালিন্যও ঘটতে দেখেন স্বামী, তাহলে সুনিপুণ দক্ষতায় বিবেচকের মতো তা মিটিয়ে ফেলতেও তিনি সফল হন। এক্ষেত্রে কোনও পক্ষেরই হয়ে, তিনি পক্ষপাতিত্ব করেন না।

 

 

বর্ষায় কেশ চর্চা

ইংরেজিতে একটা ছড়া আছে, ‘রেন রেন গো অ্যাওয়ে, কাম এগেন অ্যানাদার ডে’। প্রতিবার বর্ষা এলে আমাদের চুলও হয়তো এই একই কথা বলে। বৃষ্টিতে ভেজার ব্যাপারটা বেশ রোমান্টিক। শরীর এতে সজীবতা অনুভব করলেও, চুলে কোনওভাবেই রোমান্সের ছোঁয়া লাগে না। বৃষ্টির ধারা অনেক ক্ষতিকারক পদার্থও পৃথিবীর বুকে নামিয়ে নিয়ে আসে যার দ্বারা চুলের ক্ষতি হয়। এগুলি চুলের গোড়া আলগা করে, ফলে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে।

প্রথমেই প্রয়োজন Hair Care, বর্ষায় নিয়মিত চুলে শ্যাম্পু করা। নিয়মিত চুল পরিষ্কার না রাখলেই তৈলাক্ত স্ক্যাল্প, অত্যধিক চুলপড়া, খুসকি এবং রুক্ষতার সমস্যায় জর্জরিত হতে হয়। বর্ষাকালের আবহাওয়ায় আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায়, চুল ড্যামেজ হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। সূর্যের প্রখর তাপ যেমন চুলের পক্ষে ক্ষতিকারক তেমনি হাওয়াতে চুল খোলা রাখলেও চুলের ক্ষতি হয়।

চুলের সমস্যা

বর্ষায় চুলের অনেকরকম প্রবলেমের মধ্যে সব থেকে কমন হল চুলের আঠাভাব, খুসকি এবং তৈলাক্ত চুল। আবহাওয়ায় আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় চুল হয়ে পড়ে প্রাণহীন এবং রুক্ষ। বর্ষায় তাপমাত্রা কমে যায় ঠিকই কিন্তু অসম্ভব হিউমিডিটি বেড়ে যাওয়াতে চুলের অবস্থাও খুব খারাপ হয়ে পড়ে। বর্ষার জলে ক্লোরিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়াতে চুল ব্লিচ হয়ে যায় এবং এটা চুলের ক্ষতিও করে।

বর্ষার জলে চুল ভিজলে এই প্রবলেমগুলো আরও বেড়ে যায়। তাই বৃষ্টিতে ভিজে গেলে অবশ্যই বাড়িতে এসে প্রথমেই শ্যাম্পু করে নেওয়া দরকার। Hair Care–এর বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত যাতে বৃষ্টিতে চুল সবসময় শুকনো থাকে এবং চুল ভিজে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছে নেওয়া উচিত। বর্ষায় লিভ-অন কন্ডিশনার চুলের জন্য ব্যবহার করতে পরামর্শ দেন ডার্মাটোলজিস্টরা।

বর্ষায় আর-একটি সমস্যা হল প্রাণহীন, তৈলাক্ত, নেতিয়ে পরা চুলের গুচ্ছ। চুল তৈলাক্ত হলে স্বভাবতই তা দেখতে খারাপ লাগে এবং এটি স্ক্যাল্পকেও রুক্ষ করে তোলে। এইরকম প্রাণবিহীন চুলে দরকার প্রতিনিয়ত শ্যাম্পু করা, যা চুলকে দেবে ভলিউম। প্রাকৃতিক তত্ত্বে ভরপুর ‘রোজমেরি’ চুলকে দেয় এক্সট্রা বাউন্স এবং ভাইটালিটি। বর্ষায় সবথেকে জরুরি হল চুল নিয়মিত পরিষ্কার রাখা।

চুল ম্যানেজেবল এবং উজ্জ্বল করে তোলার জন্য প্রত্যেকবার চুল ধোওয়ার পর সিরাম লাগানো প্রয়োজন। রোজ ব্যবহারের জন্য কী শ্যাম্পু বেছে নেবেন বিচার করা খুবই প্রয়োজন। যে-কোনও মাইল্ড পিএইচ ব্যালেন্সড শ্যাম্পু বর্ষাকালের জন্য সব থেকে ভালো। বর্ষায় চুল কীরকম থাকবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে সঠিক শ্যাম্পু নির্বাচনের উপরে।

সপ্তাহে একদিন অন্তত হট অয়েল মাসাজ চুলের জন্য উপকারী। এতে, স্ক্যাল্পে তেল ঢুকে চুলে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। রুক্ষ এবং ভঙ্গুর চুলকে তেল নতুন করে প্রাণোজ্জ্বল করে তোলে। চুল পড়ে যাওয়া অথবা ভেঙে যাওয়া আটকাতে তেলের অবদান অনেকটা। মন এবং নার্ভাস সিসটেম-কে রিল্যাক্স রাখতে এবং Hair Care-এর জন্য তেল লাগানো খুবই প্রয়োজন।

এইক্ষেত্রে বাড়ির রূপচর্চাও কার্যকরী। যাদের চুল সাধারণ, তারা চুলে আম এবং মিন্ট একসঙ্গে পেস্ট বানিয়ে লাগালে উপকার পাবেন। এটা চুলে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে এবং চুলকেও মসৃণ করে।

যাদের চুল খুব শুকনো, তাদের ৩টি পাকাকলা এবং মধু মিশিয়ে চুলে লাগালে এবং ৫০ মিনিট মতো চুলে লাগিয়ে রাখলে চুলের রুক্ষ ভাব চলে যাবে এবং চুল নরম হবে। যাদের চুল খুব তৈলাক্ত, তারা যদি স্ক্যাল্পে পুদিনার পেস্ট লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রাখতে পারেন এবং তারপর শ্যাম্পু করে নেন তাহলে তৎক্ষণাৎ উপকার পাওয়া যাবে।

নিজেই পছন্দ করুন স্টাইল

নিজেই বেছে নিন কী ধরনের হেয়ার স্টাইল আপনাকে মানাবে এবং সঙ্গে আরামও দেবে। যদিও ছোটো চুলই বর্ষাকালের জন্য উপযুক্ত, তাও বেছে নেওয়া উচিত এমন স্টাইল, যেখানে চুল শুকিয়ে যাওয়ার পর যেন নিজের জায়গায় সহজেই সেট করে যেতে পারে। বর্ষায় চুল স্ট্রেট করা, অতিরিক্ত গরম তাপ দিয়ে চুল কোঁচকানো অথবা কার্ল করানো উচিত নয় কারণ আবহাওয়ায় অতিরিক্ত আর্দ্রতা চুলকে প্রাণহীন করে তোলে। শহরের একজন নামি হেয়ার-স্পেশালিস্ট জানালেন, ‘বর্ষাকাল, চুলের জন্য খুব খারাপ সময়। যতরকম চুলের সমস্যা সব এই সময় বেশি হয়ে থাকে। উচিত হচ্ছে চুল ছোটো রাখা, যাতে চুল শুকোতে এবং চুলের যত্ন নেওয়া সহজ হয়। কাঁধ অবধি লম্বা চুল পর্যন্ত যত্ন করা সম্ভব হয়।’

প্রয়োজনীয় টিপস

মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে নিয়মিত শ্যাম্পু করুন যখনই চুল বৃষ্টিতে ভিজে যাবে। ভেজা অবস্থায় চুল বাঁধবেন না। ভেজা চুলে ব্রাশ ব্যবহার করবেন না।

সীমিত সংখ্যায়, চুলে লাগাবার উপকরণ ব্যবহার করুন বিশেষত শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনিং করার সময়। একটাই কোম্পানির প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন। হেয়ার-স্প্রে-র ব্যবহার না করলেই ভালো।

চুল শ্যাম্পু করার অন্তত দু-তিন ঘণ্টা আগে চুলে তেল লাগিয়ে রাখতে পারলে উপকার পাওয়া যাবে। চুল ড্রাই করার জন্য ব্লো-ড্রায়ার ব্যবহার করবেন না।

সপ্তাহে একবার করে অবশ্যই হট-অয়েল মাসাজ করুন। এতে চুল শক্ত এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হবে। ভিটামিন ‘ই’-যুক্ত খাবার খান এবং প্রচুর পরিমাণে জল খান। চুলে জেল লাগানো অথবা আর্টিফিশিয়াল পার্মিং কিংবা চুল স্ট্রেট করাবেন না। চুল একেবারেই নষ্ট হয়ে যাবে।

 

লাইফস্টাইলের অঙ্গ হোম এক্সারসাইজ

অনেকেরই একটা ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে, ব্যায়াম করতে গেলেই হয়তো কোনও একটা জিম বা ফিটনেস ক্লাব-এর সদস্য হতে হবে। কিন্তু প্রতিদিনের ব্যস্ত শেডিউল থেকে সময় বের করে, ক’জনই বা পারেন জিম-এ গিয়ে একটা ‘ফিটনেস রেজিম’ মেনটেইন করতে! এটা বুঝতে হবে যে, ঠিক যে-ধরনের জীবনশৈলীতে আমরা ক্রমশ অভ্যস্ত হয়ে গেছি, তাতে শরীরকেও খানিকটা মজবুত করে তোলার প্রয়োজন, কারণ প্রতিদিনকার রুটিনে নিজেকে চনমনে রাখতে, সময়ের দাবি মেনে সুস্থভাবে বাঁচার একটাই মন্ত্র – সেটা হল এক্সারসাইজ।

ব্যায়াম আপনাকে শুধু শারীরিক ভাবেই নয় – মানসিক ভাবেও ফিট রাখে। কোনও প্রপস ছাড়াই, ঘরোয়া ব্যায়ামে আপনি চনমনে আর চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারবেন, যদি সঠিক প্রক্রিয়াটি আপনার জানা থাকে। কোনও যন্ত্রপাতির সাহায্য ছাড়াই, স্রেফ ওয়ার্কআউট করে ক্যালোরি ঝরিয়ে ফেলা সম্ভব। আসলে উদ্দেশ্য যা-ই হোক, Physical Exercise জিনিসটা একধরনের কমিটমেন্ট যার মূল উদ্দেশ্য হল নিষ্ঠাসহকারে একটি বিধিবদ্ধ এক্সারসাইজ রুটিন ফলো করা, যার ফলে আপনার দেহের আকারে, আপনার খাদ্য-তালিকায় এবং অবশ্যই লাইফস্টাইল-এ একটা বড়ো ধরনের পরিবর্তন ঘটতে বাধ্য।

আপনি কি জানেন, আপনার হূদযন্ত্রটিকে সুস্থ সবল রাখতে এবং ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে, প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ১০,০০০ পদক্ষেপ ফেলা উচিত। এটাকে সম্ভব করতে হলে কাছাকাছি জায়গার কাজগুলো পায়ে হেঁটেই সারতে চেষ্টা করুন। আর সেই সঙ্গে থাকুক কিছু সহজ ব্যায়াম।

যে-কোনও ওয়ার্কআউট রুটিন বাড়িতে শুরু করার আগে ফুল বডি চেক-আপ করিয়ে নেওয়া ভালো। এর ফলে কী ধরনের ব্যায়াম করা আপনার উচিত হবে না তার একটা পরিষ্কার ধারণা পাবেন। ওয়ার্কআউট রেজিম-এর শুরুতে ওয়ার্ম আপ এবং শেষে কুল ডাউন এক্সারসাইজ করতে ভুলবেন না। এক্সারসাইজ এনজয় করার সবচেয়ে ভালো উপায় হল একজন সঙ্গীকে সাথে নিয়ে ব্যায়াম করা। এর ফলে Physical Exercise করার একটা তাগিদ থাকবে এবং পরস্পর-কে মোটিভেট করতে পারবেন।

স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ : দেয়ালের দিকে মুখ করে দাঁড়ান। দুহাতে দেয়ালে ভর দিয়ে প্রথমে বাঁ-পা পেছন দিকে যতটা প্রসারিত করা যায় করুন। কয়েক সেকেন্ড এইভাবে দাঁড়িয়ে একই প্রক্রিয়া রিপিট করুন ডান পায়ের ক্ষেত্রে।

আর-একটি সহজ স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ করা যায়। মাটিতে ফ্ল্যাট হয়ে শুয়ে পড়ুন। দুহাত দিয়ে প্রথমে ডান হাঁটুটা চেপে বুকের কাছে নিয়ে আসুন, রিল্যাক্স করুন। পুনরায় একই প্রক্রিয়া করুন বাঁ-হাঁটুর ক্ষেত্রে।

কার্ল : মাটিতে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। মাথার উপর দিকে দু’হাত ছড়িয়ে দিন। এবার হাত ও শরীরের উপরের অংশ মাটি থেকে উপরে তোলার চেষ্টা করুন। এটি পনেরো থেকে কুড়ি বার পুনরাবৃত্তি করুন।

লেগ লিফ্টস : একটি চেয়ারের ধারের দিকে বসুন। হাতের পাতা দুটি, শরীরের পিছন দিকে চেয়ারের উপর পেতে রাখুন। পা দুটি ৯০ ডিগ্রি অবস্থানে মাটিতে থাকবে। এবার দুটি পা-কে একসঙ্গে যতদূর সম্ভব সামনে প্রসারিত করুন। কোমর ও তার নীচের অংশের মাসল-এ যতটা সম্ভব চাপ দিয়ে এই ব্যায়াম করুন। এবার আস্তে আস্তে পা-দুটি আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনুন। পা’দুটি উপরে তোলার সময় নিশ্বাস নিন ও পা মাটিতে নামানোর সময় প্রশ্বাস ছাড়ুন। এই ব্যায়াম দশবার রিপিট করুন।

লাঞ্জেস : সোজা দাঁড়িয়ে পা-দুটি ছড়িয়ে দিন। একটা পা সামনে থাকবে অন্যটি পিছনে। দু’পায়ের মধ্যেকার দূরত্ব যেন দু’ ফিটের বেশি না হয়। এবার তলপেটের মাসল-এ চাপ দিয়ে শরীরের উপরি অংশ সামনের পা পর্যন্ত ঝোঁকান। দেখবেন হাঁটু যেন কোনও অবস্থায় পায়ের পাতার দৈর্ঘ্যের থেকে বেশি না ঝোঁকে। একই ভাবে এই ব্যায়াম দুটি পায়ের ক্ষেত্রেই করুন।

জগিং : টি-ভি চালিয়ে বা মিউজিক শুনতে শুনতে জগিং করা খুব ভালো ব্যায়াম। জগিং এক জায়াগায় দাঁড়িয়ে থেকেই করা যায়। তবে ব্যায়ামের জন্য নির্দিষ্ট জুতোই ব্যবহার করুন, এতে পা স্ট্রেসমুক্ত থাকবে।

পুশ-আপস : হাতের পাতা ভিতর দিকে ঘুরিয়ে মাটিতে ভর দিন। হাঁটু টান টান রেখে মুখ সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে গোটা শরীরের পেশি টানটান রেখে পুশ-আপ করুন। শরীরকে আরও টান করে রাখতে পা দুটিকে উঁচু বেঞ্চ-এর উপর তুলে রাখুন আর হাতে ভর রাখুন মাটিতে। শরীর মেঝে বরাবর ঝোঁকানোর সময় অর্থাৎ ডন দেওয়ার সময় খেয়াল রাখুন, আপনার বুক যাতে মেঝে স্পর্শ করে।

ডিপস : দুটি চেয়ারকে সমান্তরাল অবস্থায় রাখুন। দুটি হাত চেয়ারে ভর দিয়ে বৈঠক দিন। এই ব্যায়াম করার সময় মাথা সোজা রাখবেন এবং শরীরের মাসল যথাসম্ভব টানটান রাখবেন।

বাড়িতে বসে কম্পিউটারে টানা কাজ করলেও ব্যায়ামের কথা ভুলবেন না। পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে পায়ের পাতা উপর-নীচ করুন। এতে পায়ের রক্ত সঞ্চালন ভালো ভাবে হবে। নাচ খুব ভালো ব্যায়াম, নাচ জানলে তাও চর্চা করতে পারেন। তবে যে-কোনও ব্যায়ামের শুরুতে স্ট্রেচিং ওয়ার্ম-আপগুলি অবশ্যই করবেন। ব্যায়াম করতে বোরিং লাগবে না যদি হালকা মিউজিক বা টিভি চালিয়ে ব্যায়াম করেন। লিফট-এর পরিবর্তে যতটা সম্ভব সিঁড়ি ব্যবহার করুন। খাওয়ার পর হাঁটার অভ্যাস বজায় রাখুন।

 

Easy কিচেন টিপস

মেয়েদের একচ্ছত্র আধিপত্যের জায়গা হল বাড়ির রান্নাঘর। সব গৃহিণীই রসনায় পরিতৃপ্ত রাখতে চান পুরো পরিবারকে। সময়ের সীমিত পরিসরে আজ পুরুষরাও এগিয়ে এসেছেন সাহায্যের হাত বাড়াতে। দৈনন্দিন জীবনে রান্নাঘরের টুকিটাকি বিষয়ের Kitchen Management খেয়াল রাখতে পারলেই সহজ হয়ে যায় রন্ধন সংক্রান্ত অনেক কাজই। অল্প সময়ে পরিপাটি করে টাটকা খাবার পরিবেশন এবং তার সঙ্গে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা রান্নাঘরে নতুন স্বাদের ছোঁয়া আনা নিঃসন্দেহে একজন সু-গৃহিণীর কাজ। এরই কিছু টিপস রইল আপনাদের সাহায্যার্থে।

খাবার জিনিস সবসময় টাটকা রাখুন

–    সবজি কাটার জন্য কাঠের চপার বোর্ড ব্যবহার করা উচিত। প্লাস্টিকের ব্যবহার কখনও করবেন না। প্লাস্টিকের উপর সবজি কাটলে প্লাস্টিকের টুকরো সবজির সঙ্গে খাবারে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

–    বেশ কয়েকদিন পনির টাটকা রাখার জন্য ওটি ব্লটিং পেপারে মুড়ে ফ্রিজারে রেখে দিন।

–    সবজি কিছুদিন টাটকা রাখার জন্য খবরের কাগজে মুড়িয়ে ফ্রিজে রেখে দিন।

–    কাঁচা সবজি যদি মনে হয় শুকিয়ে গেছে তাহলে ঠাণ্ডা জলে অল্প লেবুর রস চিপে, কাঁচা সবজিগুলি ২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। তুলে নিলেই দেখবেন অনেকটা ফ্রেশ হয়ে গেছে।

–    বাড়িতে ফ্রিজ না থাকলে দুধ রাখা মুশকিল। কিন্তু আপনি যদি সোডিয়াম বাইকার্বনেট দিয়ে দুধটা ফুটিয়ে রাখেন তাহলে দুধ বাইরে রাখলেও কাটবে না।

–    বিস্কুট ফ্রেশ রাখার জন্য, যে-কৌটোতে বিস্কুট রাখবেন তার ভিতরে নীচের অংশে ব্লটিং পেপার লাগিয়ে রাখুন। বিস্কুট ফ্রেশ ও মুচমুচে থাকবে।

–    কড়াইশুঁটি টাটকা রাখার জন্য, খোসা ছাড়িয়ে দানাগুলি প্লাস্টিকের ব্যাগে করে মুখটা বেঁধে ফ্রিজারে রাখুন। বহুদিন পর্যন্ত টাটকা থাকবে।

–    কাঁচা ফল, পাকাবার জন্য খবরের কাগজে মুড়ে ২-৩ দিনের জন্য কোনও গরম জায়গায় রেখে দিন। ফলটি পেকেও যাবে অথচ টাটকাও থাকবে।

স্মার্ট Kitchen Management ( রান্নার পদ্ধতি )-এ সময় বাঁচান

–    রায়তায় নতুন স্বাদ আনার জন্য এতে ক্রিম মেশাতে পারেন।

–    রুটি নরম করার জন্য, আটা মাখার সময় ভাতের মাড় মেশান।

–    ভাত ঝরঝরে করার জন্যে, রান্নার সময় কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ফুটন্ত চালে মিশিয়ে দিন।

–    পনির না ভেজে, আপনি প্রথমে গরমজলে কয়েক মিনিট ভিজিয়ে রেখে তারপর তুলে নিন। তারপর টুকরো করে কেটে সবজিতে দিন। ভাজার মতোই সুস্বাদু লাগবে। এছাড়া সবজিতেও তেল অল্প লাগবে।

–    অল্প সময়ে সুস্বাদু ভাত রান্না করার জন্য, ফুটন্ত ভাতের জলে অল্প শুকনো পুদিনাপাতা দিন। এতে ভাত দেখতেও ভালো লাগবে এবং সুস্বাদুও হবে।

–    বাসি সিঙাড়া টাটকা পরিবেশন করতে হলে, ফ্রিজারে রেখে দিন। পরিবেশনের ২ ঘণ্টা আগে বার করে রাখুন ফ্রিজার থেকে। তারপর কম টেম্পারেচারে মাইক্রোওয়েভে বেক করে নিন। সিঙাড়া দেখতে এবং স্বাদেও টাটকা মনে হবে।

–    গরমজলে ৫-১০ মিনিট লেবু ভিজিয়ে রাখলে, চিপে রস বার করতে অসুবিধা হবে না।

–    আলু তাড়াতাড়ি সেদ্ধ করার জন্য, রান্না করার ১০ মিনিট আগে থেকে জলে ভিজিয়ে রাখুন।

–    বেশি পেকে যাওয়া টম্যাটো ফ্রেশ করবার জন্য রাতভর ঠান্ডা জলে নুন মিশিয়ে রেখে দিন। সকালে দেখবেন টম্যাটো ফ্রেশ লাগবে দেখতে।

–    ডালে জল বেশি হয়ে গেলে ওটা ফেলে দেবেন না। অন্যান্য সবজির গ্রেভি বানাবার জন্য ডালের জল ব্যবহার করে নিন।

–    মশলাদার সবজি তৈরি করবার জন্য, সবজিতে আচারের তেল দিতে পারেন। আচারের তেল দিয়ে ফোড়ন দিন।

–    ড্রাইফ্রুটস সহজে কাটবার জন্যে আধঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন। গরমজলে ছুরিটা কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। তারপর গরম ছুরি দিয়ে ড্রাইফ্রুটসগুলি কাটুন।

–    রসুনের খোসা ছাড়াবার সবথেকে সোজা উপায় হল, রসুনকে ১০ মিনিট জলে ভিজিয়ে রেখে দিন। সহজেই খোসা ছেড়ে যাবে।

–    ডিম সেদ্ধ করার আগে ঠান্ডা জলে নুন মিশিয়ে আধঘণ্টা ডিমটা ভিজিয়ে রাখুন। এর ফলে ডিম সেদ্ধ হওয়ার পর সহজেই ডিমের খোসা ছাড়ানো যাবে।

–    অল্প জাফরান, পরিমাণে অনেকটা দুধে ব্যবহার করতে হলে প্রথমে জাফরানটা অল্প আঁচে গরম করে নিন। এরপর ওটা পুরো দুধে মিশিয়ে নিলে, পুরো দুধটাতেই জাফরানের গন্ধ হবে। মাইক্রোওয়েভে বসিয়েও জাফরান গরম করে নিতে পারেন।

কিচেন ইন্টিরিয়র টিপস

–    রান্নাঘরে সবসময় জলের প্রয়োজন বেশি হয়। এইজন্য রান্নাঘরের ফ্লোরিং, রাফ টাইলস দিয়ে করালে পা পিছলানোর ভয় থাকবে না।

–    কিচেনে, ডিজাইনার আলোর বদলে অপেক্ষাকৃত বেশি আলো দেয় এমন লাইট ব্যবহার করুন। কাজ করতে সুবিধা হবে।

–    বৈদ্যুতিক আলোর বিল কম করার জন্য সিএফএল আলো ব্যবহার করুন। এটি জোরদার আলো দেয় উপরন্তু ইলেকট্রিকের বিলের অঙ্কও কম হবে।

–    কিচেনে খালি জায়গার প্রয়োজন সবথেকে বেশি। যদি কিচেন ছোটো হয় তাহলে অনাবশ্যক জিনিসে জায়গা না ভরিয়ে শুধু প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়েই রান্নাঘর সাজিয়ে তুলুন।

–    বাড়িতে বাচ্চারা যদি ছোটো হয়, তাহলে রান্নাঘরে কাচের বাসনের বদলে স্টিলের বাসন ব্যবহার করলেই ভালো হয়।

–    কিচেনে জায়গা কম হলে, স্টোর করবার জন্যে এমন কন্টেনার ব্যবহার করুন যাতে ১টার বেশি জিনিস রাখতে পারবেন। আলাদা আলাদা জিনিসের জন্য আলাদা আলাদা কন্টেনার ব্যবহার না করতে হলে রান্নাঘরে জায়গারও অনেকখানি সাশ্রয় হবে।

কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স ও বাসনপত্র রাখুন ঝকঝকে

–    তামার বাসন অথবা অন্যান্য কিচেন অ্যাক্সেসরিজ ঝকঝকে করে তোলার জন্য শুকনো হলুদ পাউডার এবং নুন একসঙ্গে মিশিয়ে বাসনের উপর রগড়ে নিন। এবার হলুদ মেশানো জল দিয়ে ওগুলি ধুয়ে ফেলুন। বাসন ঝকঝক করবে।

–    মিক্সার অথবা গ্রাইন্ডারে কিছু গুঁড়ো করতে হলে ওর ভিতর প্লাস্টিক-এর চামচই ব্যবহার করা উচিত।

–    রান্নাঘরের কোণগুলি পরিষ্কার করতে হলে, হালকা গরমজলে বোরিক পাউডার মিশিয়ে ওই জায়গায় ছড়িয়ে রাখুন। খানিকক্ষণ রেখে তারপর পরিষ্কার করে নিন।

–    মিক্সার অথবা গ্রাইন্ডারের ব্লেডের ধার কম হয়ে গেলে ওর মধ্যে খাবার নুন দিয়ে একবার চালিয়ে নিন। ব্লেডে আবার ধার বেড়ে যাবে।

–    মিক্সার ও গ্রাইন্ডার পরিষ্কার করার জন্য নাইলনের ব্রাশ ব্যবহার করুন।

–    বাসন পরিষ্কার এবং ঝকঝকে রাখার জন্য ঈষদুষ্ণ জলে সামান্য ভিনিগার ঢেলে বাসনগুলি ভিজিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ বাদে জল থেকে বার করে ভালো করে ধুয়ে নিলেই দেখবেন বাসন ঝকঝক করছে এবং কোনও গন্ধও থাকবে না।

–    কাচের বাসন পরিষ্কার রাখার জন্য হালকা গরমজলে নুন মিশিয়ে, কাচের বাসন ওর মধ্যে ডুবিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ ডোবাবার পর তুলে নিয়ে পরিষ্কার জলে ধুয়ে ফেলুন। বাসন পরিষ্কার হয়ে যাবে।

–    মাইক্রোআভেন-এর ভিতর হালকা ভিজে কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন। জল দিয়ে ভিতরটা ধোবেন না।

–    পরিষ্কার পানীয় জলের জন্য মাঝেমধ্যেই ফিলটার পরিষ্কার করান।

–    রুম ফ্লেশনার ফ্রিজের ভিতর স্প্রে করবেন না তাতে খাবারে গন্ধ চলে আসবে। ফ্রিজ পরিষ্কার রাখার জন্য হালকা গরম জলে খাবার সোডা মিশিয়ে নরম কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করে মুছে নিন। ভিতরটা ঝকঝক করবে এবং দুর্গন্ধও দূর হবে।

 

কেনাকাটা-ই যখন উপলক্ষ্য

অতিমারিতে দুটো বছর পার হয়ে গেছে। করোনার কারণে  কেনাকাটায় বাঙালি এই দুই বছর বাড়ি বসে কাটিয়েছে। দোকানিরাও খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন। মানুষ চাকরি হারিয়েছে, মাইনে কমেছে। কেনাকাটা বিলাসিতারই নামান্তর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। করোনার তৃতীয় লহর কাটতেই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। অনলাইন, শপিংমল, হকার সর্বত্রই মানুষের ঠাসাঠাসি ভিড় দেখেই পরিস্থিতি আন্দাজ করা যাচ্ছে। চারিদিকে শুরু হয়ে গিয়েছে কেনাকাটার হিড়িক। কলকাতা ছাড়াও গরম হয়ে উঠেছে শহরতলিরও কেনাকাটার বাজার।

এতদিন করোনার কারণে ব্যবসা মন্দা থাকায় নতুন জামাকাপড় বা শাড়ির বিশেষ স্টক দোকানে ছিল না। এবারের চৈত্র সেলে নতুন ডিজাইনের পোশাক, চপ্পল, মণিহারি সামগ্রী সমেত বাজার গমগমে হয়ে উঠেছে। বাড়তি পাওনা হিসেবে রয়েছে ডিসকাউন্ট। কোথাও কেনাকাটায় ছাড় তো কোথাও একটি বা দুটির সঙ্গে রয়েছে ‘ফ্রি’-এর অফার। যারা ভিড় পছন্দ করেন না তারা অনলাইনেই কেনাকাটা সারছেন কারণ সেখানেও ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী বিশেষ ছাড়ের অফার থাকছে।

হকারদের থেকে কেনাকাটা করতে হলে রয়েছে গড়িয়াহাট, এসপ্ল্যানেড, নিউমার্কেট, হাতিবাগান।

দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাটে পাবেন নানা ধরনের সুতির পোশাক যা গরমে পরার জন্য আইডিয়াল। টপ, স্কার্ট, পালাজো, নানা স্টাইলের বটমওয্যার, ড্রেস, চুড়িদার সেট, কুর্তি সবকিছুই পেয়ে যাবেন। শাড়ি এবং ছেলেদের পাঞ্জাবি, ডিজাইনার ধুতি, পায়জামার দোকানেও ভিড় চোখে পড়ার মতো। ফুটপাথে ঢেলে বিক্রি হচ্ছে বাটিক, কাঁথা কাজের কুর্তি এবং ব্লাউজ পিস। শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং বা কনট্রাস্ট ম্যাচিং করে কিনে নিতে পারেন পছন্দ অনুযায়ী। রয়েছে রেডিমেড ব্লাউজ-এরও অঢেল সম্ভার। বিছানার চাদর, ঘর সাজানোর জিনিস, জাংক জুয়েলারি সবই রয়েছে ক্রেতাদের কেনার অপেক্ষায়।

হাতিবাগান-শ্যামবাজার, উত্তর কলকাতার জমজমাট শপিং ডেস্টিনেশন। সস্তায় ভালো জিনিস কেনার লোভে ক্রেতারা এখানে আসেন। হাল ফ্যাশনের জাংক জুয়েলারি থেকে শুরু করে অন্দরসজ্জার উপকরণ, ড্রেস মেটেরিয়াল, ওড়না, রেডিমেড ব্লাউজ, চটি-জুতো, সবসময় পরার পোশাক, কুর্তা, পাঞ্জাবি, ফতুয়া সবকিছুই পাবেন ডিসকাউন্টেড প্রাইসে।

এসপ্ল্যানেড থেকে নিউ মার্কেট জমজমাট থাকে বছরের সবসময়ে। সেলের বাজারে ছেলেদের শার্ট, ট্রাউজার, টি-শার্ট থেকে নানা ধরনের মেয়েদের পোশাক, ওয়েস্টার্ন ড্রেস, জাংক জুযেলারি, চুড়িদার-কুর্তা, স্কার্ফ, ওড়না, ব্যাগ সবকিছুই পাবেন। এছাড়াও নিউ মার্কেটে রয়েছে ড্রেস মেটেরিয়ালের অসাধারণ কালেকশন।

কেনাকাটায় দক্ষিণ কলকাতার দক্ষিণাপন-কে দূরে সরিয়ে রাখা কিছুতেই যায় না। এথনিক পোশাক, ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাক, হ্যান্ডলুম (বিভিন্ন রাজ্যের) শাড়ি থেকে পোশাক, ড্রেস মেটেরিয়াল, রেগুলার পরার জামাকাপড়, অ্যাকসেসরি, সিল্কের শাড়ি, শার্ট, পাঞ্জাবি সবকিছুই পাবেন পছন্দমতো। লেদার ব্যাগ, বিভিন্ন রাজ্যের হ্যান্ডলুম বেডকভারও এই সময় চৈত্রের সেল চলাকালীন ন্যায্যমূল্যে পেয়ে যাবেন। তবে এখানেই শেষ নয়,  বিভিন্ন ব্যান্ড-এর গয়না এবং ফুড প্রোডাক্টও লঞ্চ করা হচ্ছে আনুষ্ঠানিক ভাবে। এই যেমন ‘তানিশক’ লঞ্চ করেছে বিশেষ সম্ভার ‘উত্তমা’। সাবেকি বাঙালি ডিজাইনে তৈরি কিন্তু সামান্য আধুনিকতাও মিশে আছে এই সম্ভারে। আবার ক্রেতাদের মন জয় করার জন্য ‘মাদার ডেয়ারি’ আনুষ্ঠানিক ভাবে লঞ্চ করেছে তাদের মিষ্টি দই-এর টিভিসি ক্যাম্পেন। সাইকেল পিওর আগরবাতি বাজারে আনল ‘পুষ্করিণী’ আগরবাতি এবং ‘ওম শান্তি’ ধুনো। ললিত গ্রেট ইষ্টার্ন হোটেলে ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব সৌরভ গাঙ্গুলি এবং সাইকেল পিওর আগরবাতি সংস্থার এমডি অর্জুন রঙ্গা আনুষ্ঠানিক ভাবে  লঞ্চ করলেন এই আগরবাতি। আবার হোসিয়ারি ব্র্যান্ড ‘ডলার ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড’ তাদের সংস্থার ৫০বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে স্পেশাল লোগো লঞ্চ করল কলকাতা-র পার্ক হোটেলে। সেইসঙ্গে, ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাদের উৎপাদন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনার কথা জানালেন ডলার ইন্ডাষ্ট্রিজ সংস্থার ফাউন্ডার ও চেয়ারম্যান ইমেরিটাস দিনদয়াল গুপ্তা এবং এমডি বিনোদ কুমার গুপ্তা। আসলে কেনাকাটাকে উপলক্ষ্য করে গড়ে ওঠে ক্রেতা-বিক্রেতার এক অলিখিত মধুর সম্পর্ক।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব