ত্বক এবং চুলের স্বাস্থ্যরক্ষা (পর্ব -১)

অনেক মহিলা আছেন যারা ত্বক এবং চুলের সমস্যার জন্য শুধু জীবনশৈলী কিংবা জেনেটিক ফ্যাক্টর-কে দায়ী করেন। আবার অনেকে আছেন যারা ত্বক এবং চুলের সমস্যাকে অবহেলা করেন কিন্তু বলতে থাকেন ‘যত্ন নেওয়ার জন্য সময় দিতে পারছি না’। আসলে বহু মানুষই এটা জানেন না যে, শরীরে নিউট্রিশন লেভেল-এর উপর নির্ভর করে ত্বক এবং চুলের স্বাস্থ্য। আসলে নিউট্রিশন ও সঠিক ভিটামিন ত্বককে কোমল, মোলায়েম করে তোলে এবং চুল ঘন, কালো এবং মজবুত রাখতে সাহায্য করে।

ত্বকের স্বাস্থ্যরক্ষা করবেন কীভাবে?

ভিটামিন-এ, বি-৩ এবং বি-১২-এর কার্যকারিতা: মানব শরীরে, বিশেষ করে ত্বকের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য ভিটামিন ‘এ’-র ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন এ ত্বক-ফার্মিং, কোলাজেন এবং ইলাস্টিনের উৎপাদন বাড়ায়— যা সূক্ষ্মরেখা এবং বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে। ইউভি রশ্মির সংস্পর্শে হাইপারপিগমেন্টেশন এবং দাগ হতে পারে। ভিটামিন এ-এর অনেক সুবিধার মধ্যে একটি হল এটি এই ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়। ভিটামিন এ কোলাজেন উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে সূক্ষ্মরেখা এবং বলিরেখার উপস্থিতি কমাতে কাজ করে। রেটিনলের মতো রেটিনয়েডগুলি ক্ষতিগ্রস্থ ইলাস্টিন ফাইবার অপসারণ করতে এবং অ্যাঞ্জিওজেনেসিস বা নতুন রক্তনালি গঠনে সহায়তা করে— ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা এবং ঝুলে পড়া রোধ করে।

ক্যারোটিনয়েড সমৃদ্ধ একটি খাদ্য, যেমন বিটা ক্যারোটিন, কোশের ক্ষতি, ত্বকের বার্ধক্য এবং চর্মরোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে। ক্যারোটিনয়েডগুলি ত্বককে দূষণ এবং ইউভি বিকিরণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে, যা ত্বকের স্বাস্থ্য এবং চেহারাকেও প্রভাবিত করতে পারে। হাইপার পিগমেন্টেশন, বয়সের দাগ এবং সানস্পটগুলিকে উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে এবং সামগ্রিক ভাবে ত্বকের টোন আরও সমান করতে পারে। রেটিনোয়েডগুলি ত্বককে এক্সফোলিয়েট করতে সাহায্য করতে পারে, ছিদ্র থেকে ময়লা, তেল এবং মৃত ত্বকের কোশগুলিকে পিম্পল প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে। এগুলি কোলাজেন এবং ইলাস্টিন উৎপাদনকে উদ্দীপিত করতে ত্বকে প্রবেশ করে, যা ছিল এবং ব্রণের দাগ কমাতে সাহায্য করে।

ভিটামিন বি-থ্রি আপনার ত্বকের জন্য কী করে?

এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে কাজ করে। এটি কেরাটিন বাড়াতেও সাহায্য করে। যখন এটি বার্ধক্যযুক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে আসে, তখন ত্বকের গঠনকে মসৃণ করতে এবং বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে। তাই, স্ক্রাবিং করে ত্বকের মৃত কোশ থেকে মুক্তি পান। এছাড়া ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ভিটামিন সি সিরাম ব্যবহার করুন।

সারাদিন আপনার ত্বককে সুস্থ রাখতে ময়েশ্চারাইজার প্রয়োগ করে ত্বককে হাইড্রেট করুন। দিনেরবেলা হালকা সিরাম ক্রিম এবং রাতে নাইট ক্রিম প্রয়োগ করুন। আপনার ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে বাঁচান। এর জন্য ব্রড স্পেকট্রাম ক্রিম ব্যবহার করে ত্বকের ট্যানিং, কালো দাগ এবং রোদে পোড়ার হাত থেকে রক্ষা করুন।

আপনার ত্বকের কোশের স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য বি-১২ প্রয়োজন। এটি ত্বকের কোশের প্রদাহ এবং শুষ্কতা কমায় এবং ব্রণ, সোরিয়াসিস, একজিমা প্রভৃতি প্রতিরোধ করে।

ত্বকের জন্য ভিটামিন ‘সি’

কয়েকটি ক্লিনিকাল গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ভিটামিন সি বলিরেখার সমস্যা দূর করে। অন্তত তিনমাস ধরে ভিটামিন সি ফর্মুলেশন ব্যবহার করলে মুখ এবং ঘাড়ের সূক্ষ্ম এবং মোটা বলিরেখা দূর হয়। সেইসঙ্গে, সামগ্রিক ত্বকের গঠনও উন্নত করে।

ভিটামিন সি একটি ব্রড স্পেকট্রাম সানস্ক্রিনের সংমিশ্রণে ব্যবহার করা হলে ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করতেও সাহায্য করতে পারে। ক্লিনিকাল গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভিটামিন সি অন্যান্য সাময়িক উপাদানগুলির সঙ্গে মিশ্রিত করা, যেমন ফেরুলিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন ই, লালভাব হ্রাস করতে পারে এবং ক্ষতিকারক সূর্যের রশ্মির কারণে ত্বককে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। এছাড়া, ভিটামিন সি আমাদের ত্বকে রঙ্গক উৎপাদনে বাধা দিয়ে কালো দাগ কমাতে পারে। ভিটামিন সি-র অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যগুলি ব্রণ কমাতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি সিরাম অল্প সময়ের মধ্যে নিস্তেজ ত্বক, পিগমেন্টেশন এবং কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে।

প্রসাধনীর অঙ্গ করুন ফেস সিরাম (শেষ পর্ব)

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের বিশেষ করে গাল এবং চোখের নীচের অংশের ময়েশ্চার এবং ভলিউম কমতে থাকে। সুতরাং ফেস সিরাম ব্যবহার করলে ময়েশ্চার এবং ভলিউম দুই-ই ফিরে পাওয়া যায়। আসুন, জেনে নিই কী ধরনের সিরাম আমাদের ব্যবহার করা উচিত।

কী ধরনের সিরাম ব্যবহার করবেন

বাজারে অনেক ধরনের সিরাম পাওয়া যায় যেগুলি দাগছোপ, ফাইনলাইনস, বলিরেখা, নিষ্প্রাণ শুষ্ক ত্বকের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। কিন্তু কোন সিরাম কী ধরনের ত্বকে ব্যবহার করা যাবে সেটা বেছে নেওয়াটাই মুশকিল হয়। সুতরাং নিম্নোক্ত কয়েকটি জিনিস খেয়াল রাখা দরকার—

ত্বকের ধরন

নিজের ত্বকের ধরন আগে থেকে জেনে রাখা দরকার। সাধারণত ৫ ধরনের ত্বক হয় — নর্মাল স্কিন, অয়েলি স্কিন, ড্রাই স্কিন, সেনসিটিভ স্কিন এবং মিক্স স্কিন। যদি আপনার ত্বক অয়েলি হয় এবং আপনি এমন Face Serum ব্যবহার করছেন যা ত্বককে আরও অয়েলি করে দিচ্ছে, তাহলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ত্বক অনুযায়ী সিরাম বাছুন।

ত্বকের নানা সমস্যায়

ফেস সিরাম কেনার আগে চিন্তা করে দেখুন ত্বকের কোন সমস্যার জন্য সিরাম কিনতে চাইছেন। বলিরেখা, দাগছোপ নাকি রোদের তাপে পিগমেনটেশনের সমস্যায় ভুগছেন অথবা ব্রণর সমস্যায় আপনি জর্জরিত? সমস্যা অনুযায়ী সিরাম বাছলে উপকার বেশি পাবেন।

আলাদা আলাদা ফেস সিরামে নানা ধরনের উপাদান থাকে। ডার্মাটোলজিস্ট এবং কসমেটোলজিস্ট ডা. চাঁদনি জৈন-এর মতে, সিরামে সেরামাইড্স গ্লিসারিন, জিংক, আর্ণিকার মতো অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারি উপাদান এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান থাকে। এগুলি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ত্বককে সারিয়ে তোলে। সিরামে অন্যান্য ত্বকের উপাদানের থেকে অ্যাক্টিভ ইনগ্রিডিয়েন্টস-এর কনসেনট্রেশন অনেক উচ্চমাত্রায় থাকে।

এর মধ্যে উপস্থিত সেরামাইড ত্বকের ভিতর ময়েশ্চার ধরে রেখে, ত্বকের রুক্ষতা সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। গ্লিসারিন ত্বকের হাইড্রেশন প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং শরীরের ন্যাচারাল প্রোটেক্টিভ বেরিয়ার রিস্টোর করে। ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব দূর করতে অ্যালোভেরা সাহায্য করে।

ভিটামিন সি, কে, ই প্রভৃতি অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস ত্বককে দূষণমুক্ত এবং দূষণের কারণে হওয়া সমস্যাগুলি থেকে ত্বকের সুরক্ষা দেয়। লিকোরিস ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এতে লিকুইরিটিন নামে সক্রিয় যৌগিক পদার্থ থাকে। এছাড়াও জিংক-এ অ্যান্টি এজিং গুণ রয়েছে। একই ভাবে আর্নিকা ত্বকে আঘাত লেগে থাকলে প্রভাবিত অংশ সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

সঠিক উপায়

Face Serum ব্যবহারের সঠিক উপায় কী?

  • সর্বপ্রথম মুখে লেগে থাকা ধুলোময়লা, নোংরা, অতিরিক্ত তেল মুছে ফেলতে ক্লিনজারের সাহায্যে ত্বক পরিষ্কার করুন
  • এবার পছন্দের সিরামের ২ ফোঁটা আঙুলে নিয়ে পরিষ্কার ত্বকে মালিশ করে লাগান। এতে ত্বকে সিরাম ভালো ভাবে অ্যাবজর্ব হয়ে যাবে। হালকা হাতে মুখে আপওয়ার্ড মোশনে মাসাজ করুন। খুব জোর দিয়ে বা রগড়ে লাগাবেন না
  • যাদের ড্রাই স্কিন তাদের ভেজা ত্বকে সিরাম লাগানো উচিত। কারণ আর্দ্র ত্বকেই সিরাম ভালো ভাবে পেনিট্রেট করতে পারে। যাদের ত্বক সংবেদনশীল তাদের উচিত ত্বকে লেগে থাকা জল সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে তবেই সিরাম ব্যবহার করা অন্যথায় সিরামে পেনিট্রেশন প্রসেস স্লো হয়ে যাবে— যার ফলে ত্বকে ইরিটেশন হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে
  • প্রতিবার সিরাম লাগাবার পর ত্বক অবশ্যই ময়েশ্চারাইজ করবেন। দিনের বেলায় ৩০ অথবা এর অধিক এসপিএফ-যুক্ত সানস্ক্রিন লাগানো জরুরি যাতে রোদ থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখা যায়
  • সিরামকে আমরা মেক-আপ বেস অথবা প্রাইমার হিসেবে ব্যবহার করতে পারি। এরপর খুব সহজেই মেক- আপ ত্বকে চারিয়ে যায়। এতে মেক-আপের ব্যবহারও খুব কমই করতে হয়। এছাড়াও ত্বকে আগে থেকেই সিরাম লাগিয়ে নিলে প্রাইমারের এফেক্ট খুব ভালো আসে
  • বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠোঁটের আশেপাশে ফাইন লাইনস দেখা দেয়। সামান্য সিরাম ঠোঁটের আশেপাশে লাগিয়ে নিন। এর ফলে লিপস্টিক লাগালে লুক আকষর্ণীয় হয়ে উঠবে।
  • কনসিলার লাগানোর আগে চোখের চারপাশে সিরাম লাগিয়ে নিলে আই মেক-আপ স্মাজ করবে না। সিরাম, মেক-আপকে স্মুদ ফিনিশ দেয়। ভিটামিন সি ও কোলোজেন থাকার ফলে মুখের ফাইন লাইনস ঢাকতে সিরাম সাহায্য করে।

ছায়ামূর্তি (শেষ পর্ব)

থাক আর আমার মাথা টিপতে হবে না। আমার পাশে বসে থাকো। অন্ধকারেও আমি তোমাকে বেশ দেখতে পাচ্ছি। তুমি আজ দারুণ সেজেছ। কী মিষ্টি গন্ধ তোমার শরীর থেকে ভেসে এসে আমার নাকে লাগছে। তোমার নরম সুগন্ধী চুলের অরণ্যে আমার অনেকক্ষণ মুখ ডুবিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। পৃথিবীর কোথাও যদি আমার শান্তি বলে কিছু থাকে, তা তোমার ওই সুগন্ধী রেশমি চুলের অরণ্যে। ওখানে আমার মরেও সুখ। কী হল, রাগ করলে। ঠিক আছে আর আমি মরার কথা বলব না। জানো, তোমাকে বিয়ে করার আগে আমার অনেকবার মরে যেতে ইচ্ছে হয়েছিল। আর এখন তোমার পদ্মপলাশ ডাগর চোখের দিকে তাকালে, আমার হাজার বছর বাঁচতে ইচ্ছে করে। বিশ্বাস করো, একবর্ণও মিথ্যে বলছি না। আমার অনেক সময় মনে হয়, তোমাকে আমি সুখে রাখতে পারিনি। তোমাকে সুখে রাখার মতো আমার অর্থবল নেই।

জানো, শুভদৃষ্টির সময় আমার দারুণ মজা লাগছিল। চন্দনের ফোঁটায় তোমাকে বেশ ভালো লাগছিল। ঠিক যেন রাজকন্যার মতো৷ তোমার পরনে ছিল টকটকে লাল বেনারসী। তুমি উপোস করেছিলে, তবু তোমাকে সেদিন দারুণ দেখাচ্ছিল। আসলে বিয়ের সময় সব মেয়েকেই সুন্দর দেখায়। আমার বন্ধুরাও তোমার রূপের প্রশংসা করেছিল। শুভদৃষ্টির সময় আমি লজ্জার মাথা খেয়ে সরাসরি তোমার দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিলাম। আর তুমি বহুক্ষণ পর নিঃশব্দে ফোটা পদ্মের পাপড়ির মতো শুধু একবার চোখ মেলে একপলকে আমাকে দেখেছিলে। আর ঠিক তখনই নারীকন্ঠের উচ্চকিত উলুধ্বনিতে এবং শঙ্খের শব্দে আমার পৃথিবী মুখর হয়ে উঠেছিল। সে দিনের সেই মুহূর্তটার কথা ভাবলে আনন্দে আজও আমার চোখ ফেটে জল আসে। বিবাহের স্মৃতি বড়ো মধুর।

আচ্ছা তোমার মনে আছে সম্প্রদানের সময় তোমার হাত যখন আমার হাতে ছিল, তখন আমি তোমার ফুলের মতো নরম আঙুলে চিমটি কেটেছিলাম। তুমি হাসছ? আসলে সে দিন তোমার চন্দনচর্চিত করুণ গম্ভীর মুখটা আমাকে ভীষণ ভাবিয়ে তুলেছিল। ভাবছিলাম এ বিয়েতে তুমি হয়তো খুশি নও। তোমার মা-বাবা হয়তো তোমাকে জোর করেই আমার সঙ্গে বিয়ে দিচ্ছেন। আমি তোমাকে হাসাবার জন্যই তখন চিমটি কেটেছিলাম। তুমি হাসোনি। বরং আরও গম্ভীর হয়ে উঠেছিলে। সে সময় মনে হয়েছিল আমি হয়তো তোমার জীবনটা নষ্ট করে দিলাম।

একটা ব্যাপারে আমি ভীষণ দুঃখ পেয়েছি। লোকে বাসরে কত মজা করে। আমার বেলায় সেটা হয়নি। অবশ্য আমার বিয়ের অনুষ্ঠান তো শেষ হয়েছিল রাত আড়াইটের সময়। যারা বাসর জাগবে বলে স্থির করেছিল, তাদের চোখ তো তখন ঘুমে ঢুলু ঢুলু। তার মধ্যে আবার একটা গণ্ডগোল সৃষ্টি হয়ে সব আনন্দটাই মাটি হয়ে গেল। বরযাত্রীদের রিজার্ভ বাসের ভাড়া নিয়ে আমার ভগ্নীপতি শম্ভুর সঙ্গে তোমার মামা চিত্তবাবুর ঝগড়া বেধে গেল। আমার বন্ধুর মুখে শুনলাম, তোমার মা কাঁদছেন। তখন আমার খুব খারাপ লাগছিল। সামান্য ক’টা টাকার জন্য দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হওয়ায় নিজেকেও ভীষণ ছোটো মনে হচ্ছিল।

পর দিন বিকেলে চলে আসার সময় তুমি যখন গুমরে গুমরে কাঁদছিলে তখন আমারও বুকে একটা কান্নার ঢেউ গুমরে গুমরে উঠেছিল। তোমার বাবাও তোমাকে জড়িয়ে ধরে শিশুর মতো কাঁদছিলেন। সন্তানস্নেহে আকুল পিতার কান্না দেখে আমিও স্থির থাকতে পারিনি। চোখে রুমাল চেপে উদগত অশ্রুকে রোধ করেছিলাম।

এই, ওষুধটা খেয়েছিলে? খাওনি, তাই না? আচ্ছা আমি তোমাকে কতবার বলেছি তোমার এখন ভিটামিন খাওয়া খুবই প্রয়োজন। আমার কোনও কথাই তুমি শুনতে চাও না। আমি জানি তুমি আমার ভালোবাসাকে ঠুনকো বলেই মনে করো। আমাদের যে-সন্তান আসছে তার মঙ্গলের জন্যই তোমার এখন শরীরের প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন। তাছাড়া তুমি সুস্থ থাকলেই আমি ভালো থাকব। তোমাকে নিয়েই তো আমার সুখের সংসার।

আচ্ছা তুমি বলো তো, আমাদের ছেলে না মেয়ে হবে। আমি জানি তোমার ইচ্ছে মেয়ে হোক। মেয়ে হলে তুমি তাকে মনের মতো সাজাতে পারবে। মেয়ে হলে আমি তার নাম দেব পূজা। আর যদি ছেলে হয় তার নামটা তুমিই দিও। তোমার তো আবার দীপ নামটা খুব পছন্দ। দীপারুণের ছেলের নাম হবে দীপ। ছেলে কিংবা মেয়ে যাই হোক, আমাদের ভালোবাসার সন্তানকে আমরা দু’জনে সমস্ত স্নেহ মমতা উজাড় করে মানুষ করে তুলব। আমি রোজ সন্ধেবেলা অফিস থেকে ফিরে দেখব, তুমি আমার সন্তানকে কোলে নিয়ে সযত্নে ঝিনুকে করে দুধ খাওয়াচ্ছ। ওই দৃশ্যটা দেখলেই সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে।

যাক, আলো এসে গেছে। কিন্তু তুমি কোথায়? তোমাকে আমি দেখতে পাচ্ছি না কেন? ও লুকিয়ে পড়েছ? আচ্ছা আমাকে কষ্ট দিয়ে তোমার কী লাভ ! প্লিজ মরমি, পিওর সিল্ক শাড়িটা পরো। দেখি কেমন মানায়।

কই গো, কোথায় গেলে? কিন্তু এ আমি কী দেখছি। দেয়ালে ফ্রেমে বাঁধানো তোমার ছবিটাকে চন্দন দিয়ে সাজিয়েছে কে? রজনীগন্ধা ফুলের মালা কে দিয়েছে তোমার ছবিতে? ওখানে ধূপ জ্বলছে কেন?

এতক্ষণ তাহলে তোমার ছায়ামূর্তির সঙ্গে কথা বলছিলাম? আজ আমাদের বিবাহবার্ষিকী বলেই কি তুমি এসেছ আমার কাছে? একি তোমার ফ্রেমে বাঁধানো ফটো থেকে রজনীগন্ধার মালাটা আমার গলায় পড়ল কেন? তোমার ছায়ামূর্তিটা দেখে আমি ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপছি কেন? কেন তোমার হাসিটা আমার কাছে ভয়ংকর বলে মনে হচ্ছে? বলো কেন? একি আমার চোখের সামনে থেকে তোমার ছায়ামূর্তিটা সরে গেল কেন? কেন আমার দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে?

সঙ্গীর ব্যক্তিগত স্পেসে দখলদারি

আপনি কি পার্টনারের ব্যক্তিগত স্পেসে খুব বেশি ঢুকে পড়ছেন? তাতে অসন্তোষ বাড়ছে সম্পর্কে? ভেবে দেখুন আপনার সঙ্গীকে নিয়ে আপনি বেশি পজেসিভ নন তো? নিজের কাজের থেকে কি স্বামী বা স্ত্রীকে নিয়েই বেশি চিন্তাভাবনা করছেন আপনি? মনে রাখবেন ভালোবাসার প্রকাশ পাওয়ার বদলে, এই পজেসিভনেস কিন্তু হতে পারে মানসিক অসুস্থতারও কারণ৷

প্রেম কিংবা দাম্পত্য, যে-কোনও সম্পর্কই দাঁড়িয়ে থাকে ভালোবাসা ও পারস্পারিক শ্রদ্ধার উপর৷ পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস থাকাও খুবই জরুরি। এসব অনুভূতির উপর ভর করেই এগিয়ে যাওয়া যায় জীবনের অনেকটা পথ।কিন্তু সমস্যা হল, অনেকেই ভালোবাসার অর্থ হিসেবে দখলদারি বোঝেন। তারা একে অপরের একান্ত ব্যক্তিগত স্পেস ও সময়টুকুরও ভাগ নিতে চান। তখনই বাড়ে দ্বন্দ্ব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কে থাকতে গেলে একে অপরকে জেনে নিতেই হবে। তবে জানার অজুহাতে সব ব্যাপারে নাক গলানো একেবারেই ঠিক হবে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত বা পার্সোনাল স্পেসের বিষয়টাই অনেকে বুঝতে পারেন না। অনেকেই বুঝতে পারেন না ঠিক কখন থামতে হবে।

এই করতে গিয়ে কেউ কেউ নজরদারি পযর্ন্ত শুরু করে দেন পার্টনারের ব্যক্তিগত জীবনের উপর৷ সেটা হতে পারে তার সোশাল হ্যন্ডেলস-এ বা চেনা পরিচিতের পরিসরে৷ এটা অত্যন্ত ক্ষতিকারক একটি প্রবণতা৷ প্রথম দিকে সঙ্গী বা সঙ্গিনী এটিকে পজেসিভনেস বলে ধরে নিলেও, এই প্রবৃত্তি দীর্ঘদিন চললে তা ভাঙনের সামনে এনে দাঁড় করায় সম্পর্ককে৷

কিন্তু প্রশ্ন হল, কীভাবে বুঝবেন যে ভালোবাসা আর পজেসিভনেস-এর সীমারেখা কোনটি?  লক্ষ্য রাখুন–

  • প্রেমিক বা প্রেমিকা আপনার ফেসবুক ও হোয়াটস অ্যাপ অ্যাকাউন্টের প্রতি বেশি নজরদারি চালাচ্ছে কী না৷ কোনও মহিলার সঙ্গে কথা বললে কি ক্ষুব্ধ হচ্ছেন আপনার স্ত্রী বা প্রেমিকা? এ নিয়েই কি তিক্ত হচ্ছে দুজনের সম্পর্ক?
  • যে-মহিলা বা যে-পুরুষকে নিয়ে সমস্যা, তার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ না হলে কি প্রেমিক বা প্রেমিকা আপনাকে হুমকি দিচ্ছেন?
  • না জানিয়ে কি বন্ধু বা সহকর্মীদের কাছে ফোন করে গতিবিধি জানার চেষ্টা করছেন আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনী?
  • অন্য কোনও বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের কারও সঙ্গে  বেড়াতে বা খেতে যাওয়ার পরিকল্পনা  ভালো চোখে দেখেন না আপনার পার্টনার?

উপরের এই প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবে মনে রাখবেন ভালোবাসা বা পজেসিভনেস নয়- আপনার কাছের মানুষটি ভুগছেন মানসিক রোগে৷ দেরি না করে তাড়াতাড়ি কোনও মানসিক চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন৷ মিলতে পারে, সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়ার উপায়৷

সমীক্ষা বলছে, সাধারণত যে-মহিলা বা পুরুষরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাদের মধ্যেই পজেসিভনেস সবচেয়ে বেশি মাত্রায় থাকে৷ বিপরীতের মানুষটির প্রতি অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়ার মূল কারণও কিন্তু এই নিরাপত্তাহীনতাই৷  বিশেষজ্ঞদের দাবি, নিজের থেকে অতিরিক্ত যদি কেউ বিপরীতের মানুষটিকে ভালোবাসেন, সেটাও কিন্তু পজেসিভনেসের কারণ হতে পারে৷এই পজেসিভনেস হেলদি নয়৷  এটি উভয়ের জন্য মোটেই ভালো নয়৷

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুজনের মধ্যে কথা হওয়া উচিত। পরস্পরের সম্বন্ধে ভালো করে জানা দরকার। তবে সম্পর্কে থাকেলই যে একে অপরের ব্যক্তিগত জায়গায় ঢুকে পড়তে হবে, এমনটা ঠিক নয়। এভাবে একে অপরের জীবনে দখলদারি করতে শুরু করলে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। একে অপরের সঙ্গে মন কষাকষি হতে পারে। এমনকী সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াও সম্ভব।

বিচ্ছেদের মতো মর্মান্তিক পরিণতি হোক সম্পর্কের সেটা কেউই চান না৷ বরং তার চেয়ে ভালো নিজেকে সময় থাকতে সংযত করুন৷ প্রয়োজনে  মনোবিদের সাহায্য নিন৷

‘সিলেক্ট ফিল্মস, সিলেক্ট কনভার্সেশনস’

কলকাতা-র এক অভিজাত ক্লাব-এ সম্প্রতি রয়্যাল স্ট্যাগ ব্যারেল সিলেক্ট লার্জ শর্ট ফিল্ম পেশ করেছিল ‘সিলেক্ট ফিল্মস, সিলেক্ট কনভার্সেশনস’ শীর্ষক এক টক শো। আর এই ইন্টারেক্টিভ অনুষ্ঠানটিতে অংশ নিয়ে শর্ট ফিলম-এর সাফল্যের বিষয়ে নিজেদের মত বিনিময় করেন বলিউড অভিনেত্রী কল্কি কোয়েচলিন, অভিনেতা জিম সার্ভ, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং কৌতুক অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার অনুভব পাল। কথোপকথন পর্বটির পরিচালনায় ছিলেন অভিনেত্রী মন্দিরা বেদী।

এই খ্যাতনামা শর্ট ফিল্ম প্ল্যাটফর্ম শুরু থেকেই এমন এক সৃজনশীল পরিবেশ গড়ে তুলেছে, স্বীকৃতিও দিয়েছে, যা শর্ট-ফরম্যাট ফিল্মমেকিংয়ে অসাধারণ স্মার্টনেস নিয়ে এসেছে।

অন-গ্রাউন্ড ফরম্যাট: এই লাইভ ফরম্যাটটির আয়োজন করা হয়েছিল ভারতের তিনটি হাব – গুরুগ্রাম, কলকাতা এবং পুনেতে। আর এই মনোগ্রাহী আলোচনায় অংশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রকাশ করেন  ভারতীয় চলচ্চিত্রের তারকারা।

অন-এয়ার ফর্ম্যাট: এই অনন্য চ্যাট শো কনসেপ্টটিকে তিনটি এপিসোড-এ ভাগ করা হয়েছিল। যেখানে জিম সার্ভ, বিজয় ভার্মা, কল্কি কোয়েচলিন, হুমা কুরেশি এবং সুজয় ঘোষ সিনেমার সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন হোস্ট মন্দিরা বেদীর সঙ্গে ।

২৫ নভেম্বর গুরুগ্রামে অন-গ্রাউন্ড পর্বের সফল সূচনার পর, ‘সিলেক্ট ফিল্মস, সিলেক্ট কনভার্সশনস’ ৯ ডিসেম্বর শনিবার কলকাতার দ্য স্যাটারডে ক্লাব-এ আয়োজিত হয়েছিল। সন্ধ্যায়, হোস্ট মন্দিরা বেদী জিম সার্ভ, কল্কি কোয়েচলিন, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং অনুভব পালের সঙ্গে এক মনোগ্রাহী কথোপকথনে অংশ নিয়েছিলেন। ‘কাল্পনিক নাকি মজাদর- কোনটি সবচেয়ে কঠিন ধারা?’ এই বিষয়টি ছাড়াও, ভারতীয় সিনেমার বিবর্তন, ঘরানার বৈচিত্র্য এবং শর্ট ফিল্ম ফর্ম্যাটকে ঘিরে জমে উঠেছিল আলোচনা। কথোপকথন অনুষ্ঠানটি উপস্থিত শ্রোতাদের কাছ থেকেও ভালো রেসপন্স পেয়েছিল।

পার্নড রিকার্ড ইন্ডিয়া-র সিএমও কার্তিক মহিন্দ্র অ্যাক্টিভেশন প্ল্যাটফর্মের মতাদর্শ সম্পর্কে জানিয়েছেন, ‘পরপর বেশ কয়েক বছর ধরেই এমন শর্ট ফিল্ম তৈরী করছি আমরা, যার মাধ্যমে সিনেমা-প্রেমীদের  কাছে পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্ব-মানের বিনোদন। আর এই ভাবেই ভারতীয় শর্ট ফিল্মগুলির জন্য এটি হয়ে উঠেছে অন্যতম এক ‘গন্তব্য’। সিলেক্ট ফিল্ম, সিলেক্ট কনভার্সেশনস ব্র্যান্ডের এই ইন্টারেক্টিভ প্ল্যাটফর্ম, এই মতাদর্শের একটি মূর্ত প্রতীক, যেখানে আমরা শর্ট ফিল্ম ফর্ম্যাটের মৌলিকতা এবং সৃজনশীলতার অন্বেষণ করতে চা

হোস্ট হিসাবে প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে তাঁর সংযোগ সম্পর্কে বলতে গিয়ে, অভিনেত্রী মন্দিরা বেদী জানিয়েছেন, ‘রয়্যাল স্ট্যাগ ব্যারেল সিলেক্ট লার্জ শর্ট ফিল্মের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত বোধ করছি। বিভিন্ন গল্পকার এবং শিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং সিনেমা সম্পর্কে তাদের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উপলব্ধি করাটা এক দুর্দান্ত সুযোগ।’

অভিনেতা জিম সার্ভ জানিয়েছেন, ‘রয়্যাল স্ট্যাগ ব্যারেল সিলেক্ট লার্জ শর্ট ফিল্ম অয়োজিত সিলেক্ট ফিল্মস,সিলেক্ট কনভার্সেশনস পর্বে যোগ দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই অনন্য অভিজ্ঞতার অংশ হতে পেরে এবং ইন্ডাস্ট্রি থেকে আমার সমসাময়িকদের সঙ্গে সিনেমা সংক্রান্ত কথোপকথনে অংশ নিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’

অভিনেতা ও পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘রয়্যাল স্ট্যাগ ব্যারেল সিলেক্ট লার্জ শর্ট ফিল্মস ভারতে শর্ট ফিল্ম ফর্ম্যাট প্রচারের ক্ষেত্রে একটি ট্রেলব্লেজার হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। ‘সিলেক্ট ফিল্ম, সিলেক্ট কনভার্সেশনস’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন শিল্পী এবং স্টোরিটেলারদের সঙ্গে একটা সিনেমাটিক আলোচনায় অংশ নেওয়ার একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা হয়েছে আর এই ধরনের আরও সুযোগের জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

কৌতুক অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার অনুভব পাল জানিয়েছেন,  ‘রয়্যাল স্ট্যাগ ব্যারেল সিলেক্ট লার্জ শর্ট ফিল্মের জন্য ‘ব্যাডমিন্টন’ লেখার পর, ‘সিলেক্ট ফিল্ম’, সিলেক্ট কনভার্সেশনস-এর জন্য আবারও এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে হাত মেলাতে পেরে আমি আনন্দিত।  এটি একটি প্রশংসনীয় প্রয়াস এবং আমি শর্ট ফরম্যাট ফিল্মের সমস্ত আকর্ষণীয় দিক নিয়ে আলোচনা করার জন্য এই ধরনের আরও টক শো-এর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

অভিনেত্রী কল্কি কোয়েচলিন জানিয়েছেন, ‘আজকের বিশ্বে কনটেন্ট ব্যবহারের ধরণে পরিবর্তনের সঙ্গে ভারতীয় সিনেমার জন্য এটি একটি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ সময়। আমি মনে করি, আমাদের শিল্পের জন্য এটা একটা রূপান্তরমূলক সময় এবং এটা সেই ধরনের প্ল্যাটফর্ম যা ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসে। রয়্যাল স্ট্যাগ ব্যারেল সিলেক্ট লার্জ শর্ট ফিল্মসের সুবাদে, সিনেমার জগতের আরও গভীরে প্রবেশ করতে পারার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত।’

গুরুগ্রাম এবং কলকাতায় সাফল্যের পর, রয়্যাল স্ট্যাগ ব্যারেল সিলেক্ট লার্জ শর্ট ফিল্মসের ‘সিলেক্ট ফিল্ম, সিলেক্ট কনভার্সেশন’-এর পরবর্তী গন্তব্য ছিল পুনে এবং ওখানেও দর্শক-শ্রোতাদের থেকে দারুণ সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।

প্রসাধনীর অঙ্গ করুন ফেস সিরাম (১পর্ব)

বর্তমান সময়ে পরিবেশ দূষণের কারণে, স্ট্রেসফুল জীবনযাপন এবং অতিরিক্ত অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ফলে আমাদের ত্বক প্রাণহীন, রুক্ষ হয়ে ওঠে এবং বয়সের ছাপ খুব কম বয়সেই পড়তে শুরু করে। খুব অল্প বয়স থেকে মুখে দাগছোপ, ব্রণ হওয়া আরম্ভ হয়। এর জন্য প্রয়োজন প্রথম থেকেই ত্বকের যত্ন করা। এছাড়াও মেক-আপ দিয়ে মুখের সমস্যা লুকোবার চেষ্টা করা থেকে বিরত থেকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক উপায়ে মুখের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলা বাঞ্ছনীয়।

ত্বকের যত্নের একটি প্রয়োজনীয় অংশ হল ত্বক পরিষ্কার করার পর ভালো কোয়ালিটির ফেস সিরাম ব্যবহার করা। এটি লাইট ওয়েট ময়েশ্চারাইজারের মতন। ওয়াটার বেসড হওয়ার জন্য Face Serum খুব শীঘ্রই ত্বকের গভীরে অ্যাবজর্ব হয়ে যায় এবং ত্বককে ভিতর থেকে আর্দ্রতা প্রদান করে। নিয়মিত ফেস সিরাম ব্যবহার করলে ত্বক সুস্থ থাকে এবং গ্লো এবং যৌবন বজায় থাকে। ত্বকের আর্দ্রতাও হ্রাস পায় না।

ফেস সিরাম আমরা ব্যবহার করে থাকি ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন এবং মেক-আপের নীচে বেস হিসেবে। যুবা বয়সে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে অবশ্য ফেস সিরামের খুব একটা দরকার পড়ে না তবুও এর ব্যবহারে সুস্থ, দাগহীন ত্বক পাওয়া সম্ভব হয়। চট্‌ করে ত্বক বুড়িয়ে যায় না এবং বলিরেখাও আটকানো যায়। ত্বক পরিষ্কার এবং টোনিং করার পর সারাদিনে ১-২বার ফেস সিরাম ব্যবহার করতে পারেন।

ফেস-এর জন্য সিরাম কেন জরুরি

যাদের মুখে বয়সের ছাপ, বলিরেখা, দাগছোপ, হাইপারপিগমেনটেশন, অ্যাকনে, ক্লগড পোরস, ডিহাইড্রেশনের মতন সমস্যা রয়েছে তাদের অবশ্যই ফেস সিরাম ব্যবহার করা উচিত। এর ফলে এতগুলো সমস্যার মোকাবিলা করা আপনার পক্ষে সহজ হবে।

মুখের দাগছোপ কম করবে

প্রায় রোজই আমাদের বাড়ির বাইরে বেরোতেই হয় এবং সূর্যের ক্ষতিকারক আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মির সংস্পর্শে আসে ত্বক। এতে ত্বক প্রাণহীন ও ট্যানিং ইত্যাদি সমস্যার সম্মুখীন হয়। কিন্তু Face Serum ব্যবহার করলে সিরামে মজুত গ্লাইকোলিক অ্যাসিড ত্বকের স্বাভাবিক রং বজায় রেখে ত্বক উজ্জ্বল রাখতেও সাহায্য করে। রোজ ব্যবহার করলে নিজেই বুঝতে পারবেন, মুখের দাগছোপ কতটা কম হয়েছে। ১ মাসের মধ্যে মুখে ফাইন লাইনস এবং বলিরেখা কমতে শুরু করবে।

নিষ্প্রাণ ত্বকে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে ফেলে। এই অবস্থায় ফেস সিরাম ব্যবহার করা জরুরি যা-কিনা ত্বকের গভীরে গিয়ে ত্বককে হাইড্রেট করে ত্বকের গ্লো ফিরিয়ে আনে।

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে

‘দ্য জার্নাল অফ ক্লিনিকাল অ্যান্ড ডার্মাটোলিজ’-এর একটি রিপোর্টে পরিষ্কার বলা হয়েছে, ফেস সিরাম মুখের ফাইন লাইনস এবং বলিরেখা কম করতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। মাত্র ২-৩ সপ্তাহ ব্যবহারের পরেই তফাত পরিষ্কার বোঝা যায়। অ্যান্টি এজিং-এর জন্য হ্যালুরনিক অ্যাসিড-যুক্ত হাইড্রেটিং সিরাম বাছা উচিত। এই ফেস সিরাম ত্বকের যৌবন বজায় রেখে বলিরেখাও দূর করবে। কিছু কিছু ফেস সিরামে ভিটামিন সি থাকে, যেগুলিও অ্যান্টি এজিং রোধ করতে খুবই কার্যকরী।

ব্রণ দূর করতে

মুখের ব্রণ দূর করতে Face Serum ব্যবহার করা জরুরি। এতে বেঞ্জায়েল প্যারাক্সাইড এবং স্যালিসিলিক অ্যাসিড থাকে যা অ্যাকনে কমাতে সহায়তা করে এবং ত্বক আগের স্বাভাবিক চেহারায় ফিরে আসে।

ময়েশ্চার এবং ভলিউম পেতে

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের বিশেষ করে গাল এবং চোখের নীচের অংশের ময়েশ্চার এবং ভলিউম কমতে থাকে। সুতরাং ওই অংশে ফেস সিরাম ব্যবহার করলে ময়েশ্চার এবং ভলিউম দুই-ই ফিরে পাওয়া যায়। ২-৩ ফোঁটা সিরাম আঙুলে নিয়ে সারা মুখে লাগালে সহজেই পার্থক্য চোখে পড়বে।

ত্বককে এক্সফলিয়েট করতে

ফেস সিরামে ল্যাক্টিক এবং ফলিক অ্যাসিড থাকে যা ত্বককে ইভন টোন এবং স্মুদ টেক্সচার দেয়।

ত্বককে হাইড্রেট করতে

ত্বক যদি রুক্ষ এবং নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে তাহলে বুঝতে হবে ময়েশ্চারাইজার ছাড়াও ত্বকের আরও কিছু প্রয়োজন আছে। ফেস ক্রিম ছাড়াও হাইড্রেটিং ফেস সিরাম প্রয়োগ করলে রুক্ষ ত্বকে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

আকর্ষণীয় মুখশ্রী পেতে

ফেস সিরামে কোলোজেন উপাদান থাকে, যার ফলে ত্বকের টেক্সচার উন্নত হয়। ত্বক আগের থেকে সুন্দর, আকর্ষণীয় দেখতে লাগে৷ ওপেন পোরস-এর সংখ্যাও হ্রাস পায়, সঙ্গে ব্ল্যাকহেডস এবং হোয়াইট হেডসও কম হতে থাকে।

রাজধানীতে বোমাতঙ্ক– আসছে ‘ইন্ডিয়ান পুলিশ ফোর্স’

এর আগেও ওটিটির জন্য কাজ করেছেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, কিন্তু এবার বড়ো ধরনের চমক নিয়ে হাজির তিনি৷ বড়ো পর্দার পর ওয়েব সিরিজেও দর্শকদের সমান ভালোবাসা পাবেন বলে আশা করছেন সিদ্ধার্থ। হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন৷ সিদ্ধার্থকে দেখা যাবে রোহিত শেট্টির ইন্ডিয়ান পুলিশ ফোর্স সিরিজে। ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে এই সিরিজের টিজার। ইন্ডিয়ান পুলিশ ফোর্সের টিজার প্রকাশ্যে আসার পরই এটি দর্শকদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে।

এই সিরিজে সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ছাড়াও আছেন, বিবেক ওবেরয়, শিল্পা শেট্টি কুন্দ্রা, শ্বেতা তিওয়ারি, ইশা তলওয়ার, প্রমুখ। রোহিত শেট্টি পরিচালিত এই ওয়েব সিরিজ বস্তুত একটি সাত পর্বের ওয়েব সিরিজ। এখানে পুলিশদের শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে যারা নিঃস্বার্থ ভাবে দেশের জন্য কাজ করে চলেছে। যাদের জন্য নাগরিকরা নিরাপদে থাকতে পারেন।

টিজারে দেখা যাচ্ছে শহরে ছড়িয়েছে বোমাতঙ্ক, রক্তারক্তি অবস্থা। প্রাণসংশয়ে দৌড়াদৌড়ি পড়ে গেছে। এরই মধ্যে ত্রাতা হিসাবে অবতীর্ণ হচ্ছে সিদ্ধার্থ, বিবেক ও শিল্পা। ধুন্ধুমার অ্যাকশান সিকোয়েন্স গোটা টিজার জুড়ে। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে কতটা রোমহর্ষক হতে চলেছে এই সিরিজ। ইন্ডিয়ান পুলিশ ফোর্স সিরিজটি দিল্লির বিভিন্ন অংশে শুট হয়েছে৷শহরের নানা প্রান্তে আতঙ্ক দেখাতে গিয়ে  নেপথ্যে ব্যবহার করা হয়েছে টাইম বোমার টিকটিক শব্দ। পরিশেষে ফাটতে দেখা যায় সেই বোমা। সেই সঙ্গে টিজারে দেখা যায় সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, বিবেক ওবেরয় এবং শিল্পা শেট্টি কুন্দ্রা কীভাবে শহরকে এই বিপদের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

ইন্ডিয়ান পুলিশ ফোর্স ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি মুক্তি পাবে। এটি দেখা যাবে আমাজন প্রাইম ভিডিয়োতে।এর আগে, এই ‘ইন্ডিয়ান পুলিশ ফোর্স’-এর মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ২০২৩ অর্থাৎ চলতি বছরের দীপাবলিতে। কিন্তু তা পিছিয়ে মুক্তির আনুমানিক তারিখ স্থির করা হয় ৮ ডিসেম্বরে। যদিও প্রথমে মনে করা হয় যে সলমন খান ও ক্যাটরিনা কাইফের ‘টাইগার ৩’-এর জন্য তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়, পরবর্তীকালে জানা যায় যে ভিএফএক্সের প্রচুর কাজ ও পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ বাকি থাকায় রোহিত শেট্টির সিরিজ পরে মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অক্টোবরে যখন মুক্তি পেয়েছিল এই সিরিজের পোস্টার, তখন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা জানিয়েছিলেন তিনি গর্বিত আবারও খাকি উর্দি পরতে পেরে। নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে সেই পোস্টার শেয়ার করে পরিচালক রোহিত শেট্টি লিখেছিলেন, ‘আপনারা আমাদের ভালোবাসা দিয়েছেন এবং আজ আমরা যেখানে সেখানে আপনারাই পৌঁছে দিয়েছেন৷ আমার নতুন অফিসারদের সঙ্গে আলাপ করুন… ১৯ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে… অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওয়।’এই পোস্টার শেয়ার করেছিলেন অভিনেতা সিদ্ধার্থ মলহোত্রও। তিনি লিখেছিলেন, ‘লোকেশন পরিষ্কার। টার্গেট লকড। ফোর্স আসছে। রোহিত শেট্টির কপ ইউনিভার্সের জন্য রিপোর্ট করছি, সশস্ত্র এবং স্ট্রাইকের জন্য তৈরি।’

এই ওয়েব সিরিজে ক্যামিও করতে দেখা যাবে অজয় দেবগণ, রণবীর সিং, অক্ষয় কুমার এবং দীপিকা পাড়ুকোন ও টাইগার শ্রফকে। উল্লেখ্য, রোহিতের কপ ইউনিভার্সে এবার নতুন দু’টি চরিত্রে দেখা যাবে দীপিকা ও টাইগারকে। আর সিদ্ধার্থকে এই নতুন অবতারে দর্শকদের কতটা ভালো লাগে সেটাই এখন দেখার।

সবক্ষেত্রে বিশুদ্ধতা যাচাই করে নেওয়া উচিত

শুধু শিক্ষাক্ষেত্র, কর্মক্ষেত্র কিংবা রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, সমাজ, সংসার এমনকি বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েও সচেতন থাকা জরুরি। কারণ, আপনি সচেতন না থাকলে অসাধু লোকেরা আপনাকে ঠকাতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করবে না। এই যেমন রান্নায় স্বাদের বিষয়টি নিয়ে যদি চিন্তা করেন, তাহলে দেখবেন, বিশুদ্ধ তেল-মশলা দিয়ে কোনও কিছু যদি রান্না করেন, তাহলে সেই রান্না স্বাদে-গন্ধে হবে অতুলনীয়। কিন্তু যদি রান্নার উপকরণে ভেজাল থাকে, তাহলে সেই রান্না যেমন বিস্বাদ হবে, ঠিক তেমনই তা স্বাস্থ্যের পক্ষেও হবে ক্ষতিকারক।

চলতি বছরে ভারতের উত্তর ও পূর্বের প্রধান সর্ষের তেলের বাজার জুড়ে ‘ঝাঁঝ কি জানচ’ শীর্ষক সর্ষের তেলের তীব্রতা সচেতনতা বিষয়ক সমীক্ষা করেছে এনএফএক্স ডিজিটাল নামে একটি সংস্থা। ওই স্বাধীন সমীক্ষা`য় গ্রাহকদের মধ্যে তাদের ব্যবহার করা সর্ষের তেল সম্পর্কে অজ্ঞতা বিস্ময়কর ভাবে উঠে এসেছে। প্রায় ৮৫ শতাংশ উত্তরদাতারা তাদের রান্নায় ব্যবহৃৎ সর্ষের তেলের গুণাগুণ সম্পর্কে একদমই  অবগত নন।

এই সমীক্ষার লক্ষ্য ছিল, সর্ষের তেলের তীব্রতা বা ঝাঁঝের স্তর সম্পর্কিত বিষয়ে কনজিউমারদের মধ্যে সচেতনতা, উপলব্ধি এবং নিজেদের পছন্দ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, কনজিউমাররা নির্দিষ্ট স্বাদ এবং সুগন্ধের জন্য সর্ষের তেল ব্যবহার করার ক্ষেত্রে প্রাথমিক কারণ হিসেবে তেলের ‘তীব্রতা’ বা ঝাঁঝ এবং স্বাদ-এর খোঁজ করেন। উত্তরদাতারা স্বীকার করেছেন যে, সর্ষের তেলের তীব্রতা তেলের মধ্যে একটি জোরালো ঘ্রান ও সুবাস প্রদান করে, যা তাদের রান্নার একটি অপরিহার্য উপাদান।

৭৫ শতাংশ ব্যবহারকারী সর্ষের তেলের ঝাঁঝের মাত্রা সম্পর্কে জানার জন্য গভীরভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও, সমীক্ষায় দেখানো হয়েছে যে, ৯১ শতাংশ ব্যবহারকারী সর্ষের তেলের ব্র্যান্ড ব্যবহার করার ক্ষেত্রে প্যাকেজিংয়ে তেলের ঝাঁঝের মাত্রা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দেখে নিতে চান। তারা চাইছেন, সর্ষের তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে তাদের অবগত করার জন্য তেলের ব্র্যান্ডগুলি যেন স্বচ্ছতার সঙ্গে এই বিষয়গুলি উল্লেখ করে।

সমীক্ষার ফলাফল এবং একটি অভিনব প্রোডাক্ট প্রয়াস চালু করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে, ইমামি এগ্রোটেক লিমিটেডের মার্কেটিংএর প্রেসিডেন্ট দেবাশিস ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘আমরা  গ্রাহকদের কেবলমাত্র প্রোডাক্ট নয়, প্রোডাক্টের বিষয়ে স্বচ্ছতা এবং সততা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই, সর্ষের তেল-এর বিষয়ে কনজিউমারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ‘ঝাঁঝ কি জানচ সমীক্ষা’ আমাদের কনজিউমারদের সম্মান করার এবং তাদের ‘জানার অধিকার’ দিয়ে ক্ষমতায়নের সঠিক সুযোগ দিয়েছে। এর ফলে  তারা সর্ষের তেলের বিষয়ে নিজেদের পছন্দ সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন। কারণ, সর্ষের তেল হল রান্নাঘরের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় এক উপাদান।’

সমীক্ষা এবং কনজিউমারদের জানার অধিকার সম্পর্কে তাঁর নিজের চিন্তাভাবনা প্রকাশ করে, ভারতের প্রথম মাস্টারশেফ পঙ্কজ ভাদৌরিয়া জানিয়েছেন, ‘ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের সমৃদ্ধ রান্নার ঐতিহ্যে সর্ষের তেল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুর্ভাগ্যবশত ভারতে, সর্ষের তেলের ব্র্যান্ডগুলির তীব্রতার মাত্রা যাচাই করার জন্য কোনও মাপকাঠি নেই এবং প্রায়শই এটি একই ব্র্যান্ডে এবং প্যাক থেকে প্যাকে পরিবর্তিত হয়। কনজিউমাররা প্রায়শই এই বিষয়ে অসচেতন থাকেন। শেষ পর্যন্ত তারা এমন একটি প্রোডাক্ট ক্রয় করেন, যা তাদের সন্তুষ্টি পূরণ করতে পারে না।’

ছায়ামূর্তি (পর্ব ২)

জানো, যখন সাদা টেরিকটের পাঞ্জাবি পরে গলায় ফুলের মালা দিয়ে ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন নিজেকে দেখে মনে হয়েছিল আমি মানুষটা দেখতে খারাপ নই। যদিও আজন্ম রোগা বলে আমার একটা দুঃখ আছে। কিন্তু যাই বলো বাপু আমার চোখ নাক মুখ মোটেই খারাপ নয়। এই, তুমি হাসছ নিজেকে সুন্দর বলছি বলে? নিজেকে সুন্দর সবাই ভাবে। যে, কুৎসিত কদাকার চেহারা নিয়ে পৃথিবীতে জন্মেছে সেও নিজেকে সুন্দর ভাবে।

জানো, রোগা চেহারা নিয়েও আমি দুটো মেয়ের সঙ্গে প্রেম করেছিলাম। যদিও ওরা কেউ আমায় ভালোবাসেনি। শুধুই দুঃখ দিয়েছে। আমার সঙ্গে ওরা ভালোবাসার খেলা খেলেছে। দশ বছর আগে আমি ভীষণ বোকা ছিলাম। তখন পাড়ার কোনও মেয়ে কাছে এসে একটু হেসে কথা বললেই ভাবতাম, বুঝি সে আমায় ভীষণ ভালোবাসে। আমি পাগলের মতো একটু ভালোবাসা পাবার জন্য ছুটে গেছি। পরক্ষণেই সহস্র দুঃখ নিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে আমাকে। ভালোবাসার পেছনে ছুটে যখন আমি পরিশ্রান্ত হয়েছি তখনই বুঝতে পেরেছি ওটা ভালোবাসা নয়, মরীচিকা।

যাক, যা বলছিলাম। আমাদের নিয়ম, বিয়ে করতে যাবার আগে মা-বাবা ও গুরুজনদের প্রণাম করে আশীর্বাদ নিতে হয়। মা আমার মাথায় দুর্বা দিয়ে যখন আশীর্বাদ করছিলেন, তখন আমি তাঁর চোখে জল দেখেছিলাম। মার চোখে জল দেখে সেদিন মনটা ভীষণ খারাপ হয়েছিল। আচ্ছা, ছেলেরা বিয়ে করতে গেলে সব মায়েরাই কি কাঁদে? মনে হয়, মা ভাবছিলেন আমি পর হয়ে গেলাম।

তোমার মামা গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন আমাকে নিয়ে যেতে। আমি যখন বরের সাজে গাড়িতে গিয়ে বসলাম তখন শঙ্খ আর উলুধ্বনিতে পৃথিবী তোলপাড়। তিন বন্ধু আর ছোটো বোন অপুর বর আমার সঙ্গে ছিল। ঠিক সাড়ে ছটায় আমাদের গাড়ি ছাড়ল। উঃ সে কী আনন্দ। বালি ব্রিজ পার হয়ে বিটি রোডে আসতেই গাড়িটা হঠাৎ খারাপ হয়ে গেল। আমরা সবাই মনমরা হয়ে গেছিলাম। অবশ্য সেদিন রাত একটা পর্যন্ত বিয়ের লগ্ন ছিল।

আমার বন্ধুরা গাড়ি থেকে নেমে চায়ের সন্ধানে গেল। বাইরে তখন বেশ ঠান্ডা পড়েছে। চিত্তবাবু আর ড্রাইভার বনেট তুলে গাড়ি ঠিক করতে লেগে গেছেন। একটু পর শম্ভু আমার জন্য এক কাপ চা নিয়ে এল। আমার হাতে চায়ের কাপটা ঠকঠক করে কাঁপছিল। বিয়ের সময় যত এগিয়ে আসছিল আমার টেনশন তত বাড়ছিল। চিত্তবাবু ড্রাইভারের সিটে বসলেন। ওঁর হাতে যেন জাদু ছিল। গাড়িটাকে তিনি পক্ষীরাজ ঘোড়ার মতোই ছুটিয়ে নিয়ে চললেন। তোমাদের বাড়ির সামনে যখন আমাদের গাড়ি পৌঁছোল, তখন অসংখ্য লোক ছুটে এল আমাকে দেখার জন্য। বিশ্বাস করো, আমার সে সময় ভয় করছিল। আবার ভালোও লাগছিল। আমার মনে হয়েছিল সেদিন আমি পৃথিবীর সম্রাট। তোমাদের আত্মীয়-স্বজন এসে যখন আমাকে সদর ঘরে নিয়ে বসালেন তখন আনন্দে আমার চোখে জল এসেছিল। এত যত্ন এত আদর আমি আগে কখনও পাইনি।

বরযাত্রীরা রিজার্ভ বাসে আমার আগেই এসেছিল। রাত এগারোটায় ওরা খেতে চলে গেল। কথা ছিল বিয়ে সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বরযাত্রীরা কেউ যাবে না। ওরা কথা রেখেছিল।

আমি যখন লাল সাটিনের চাদর বিছানো বিছানায় বসে ভেলভেটের তাকিয়ায় হেলান দিয়ে নিজেকে পৃথিবীর সম্রাট ভাবছি, ঠিক তখনই একটি সুন্দর মেয়ে এসে আমাকে একটা গোলাপফুল দিয়ে বলল, “জামাইবাবু এটা আমার উপহার।’

আমি ফুলটা নিয়ে বলেছিলাম, ‘ধন্যবাদ।’

লাল গোলাপের সুগন্ধে আমার বুকের ভেতর জমে থাকা নীল দুঃখগুলো নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছিল। তখন ভুলেই গেছিলাম আমি দীপারুণ মিত্র বেসরকারি অফিসের বেতনভুক কর্মচারী।

মরমি, আমার কথাগুলো শুনতে তোমার ভালো লাগছে? তুমি বিরক্তবোধ করছ না তো? বলতে ভুলেই গেছি তোমার জন্য আজ আমি একটা পিওর সিল্ক শাড়ি কিনে এনেছি। শাড়ির প্যাকেটটা ড্রেসিং টেবিলের ওপর রেখেছি। রং-টা সবুজ। তোমার তো সবুজ রং ভীষণ ভালো লাগে। এই শাড়িটা পরে এসো না। দেখি তোমাকে কেমন মানায়। ওহো, এখন তো লোডশেডিং। আলো এলে শাড়িটা পরবে কিন্তু। আচ্ছা কত দাম নিয়েছে বলো তো? কি, একহাজার টাকা? তোমার তাহলে কোনও আইডিয়া নেই। ওই শাড়িটার দাম তিনহাজার আটশো টাকা। আলো জ্বললে তোমাকে আমি ক্যাশমেমো দেখাব। তাহালে বিশ্বাস হবে তো?

এই জানো, আজ আমাদের বিবাহ বার্ষিকীর দিন বলে অফিসের বন্ধুদের মাংসের চপ খাইয়েছি। ওরা ভীষণ খুশি হয়েছে। তোমার জন্যও এনেছি। তোমার জন্য রজনীগন্ধা ফুল এনেছি। রজনীগন্ধা তো তোমার প্রিয় ফুল। আর একটু রাত হোক ফুলদানিতে ফুলগুলো রেখে দিও কেমন?

দূরত্ব বাড়ার জন্য দায়ি যখন মা (শেষ পর্ব)

সম্পর্ক ভাঙার অনেক কারণ আছে, তার মধ্যে বিশেষ করে মেয়ের বাপের বাড়ির হস্তক্ষেপ মেয়ের সংসারের প্রতিটি ব্যাপারে। আজ এটা নিয়ে চিন্তা করার সময় এসে গেছে। মেয়ে জামাইয়ের সংসারে মেয়ের বাড়ির অতিরিক্ত নাক গলানো ভেঙে দিচ্ছে মেয়ের বৈবাহিক সম্পর্ক।

বুঝতে কেউ যদি অপারক হয়  

দুর্গাপুরের মেয়ে শ্রমণার ৬ মাস আগে খুব ধুমধাম করে কলকাতার ছেলে পলাশের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু এই ক’মাসেই তাদের ঝগড়া কোর্টরুম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। কারণ বিশেষ কিছু নয়। কাউন্সিলিং-এর সময় জানা গেল শ্রমণার কাকার ছেলের বিয়ে ছিল। বিয়ের জন্য শ্রমণার বউদি এক জোড়া সোনার বালা কিনেছিল পরবে বলে। সেই দেখে শ্রমণা জেদ ধরে, ওর নতুন একটা গয়না চাই। যা পলাশ শুনতেই নাকচ করে দেয়। বলে, শ্রমণার নিজেরই তো বিয়ের এত গয়না রয়েছে, চাইলে তার মধ্যে থেকেই কিছু পরতে পারে। এই থেকেই দ্বন্দ্ব শুরু। শেষপর্যন্ত শ্রমণা রাগ করে বাপের বাড়ি চলে যায় এবং উকিলের পরামর্শমতো পলাশের উপর একটার পর একটা মিথ্যা দোষ আরোপ করা শুরু করে।

নিজের দোষ ঢাকতে আইনের ব্যবহার

সোমা আর রঞ্জন দু’জনেই উচ্চশিক্ষিত, ওদের লভ ম্যারেজ। ১ বছর সুখে সংসার করার পর হঠাৎ-ই অন্যের হস্তক্ষেপে সংসারে অশান্তি শুরু হয়। সামান্য একদিন কথা কাটাকাটি হওয়ার সময় স্ত্রীকে থামাতে রঞ্জন সোমার হাতটা একটু জোরের সঙ্গে ধরে ফেলে। ব্যস, এতেই সোমার বাপের বাড়ি থেকে গার্হস্থ্য হিংসার কেস চাপিয়ে দেওয়া হয় রঞ্জনের উপর। অথচ সোমা কাউন্সিলর-কে বলে রঞ্জন ওকে খুবই ভালোবাসে এবং কোনওদিন তার গায়ে হাত তোলেনি রঞ্জন। বরং সারাদিন সোমাকে বাড়িতে কাজ করতে হয় দেখে, রঞ্জন জোর করেই সবসময়ের পরিচারিকা রেখে দেয়, যাতে সোমা আরামে থাকতে পারে।

ফলে ধীরে ধীরে সব কাজ করাই সোমা বন্ধ করে দেয়। যার থেকে বাড়িতে অব্যবস্থা, ঝগড়া, অবসাদ শুরু হয়। অথচ রঞ্জনকে কেউ একজন বলেছিল— বাড়িতে সবসময়ের কাজের লোক থাকলে সোমা অনেক ভালো থাকবে এবং দুজনের ভালোবাসা আরও সুদৃঢ় হবে। উলটে রঞ্জনের সংসার ভাঙার উপক্রম হল!

রাহুলের ব্যপারটা একটু অন্যরকম। সকালে অফিস যাওয়ার সময় শার্টের বোতাম না থাকায় স্ত্রী রূপার খোঁজ করতে গিয়ে দেখে, স্ত্রী ফোনে ব্যস্ত রয়েছে। কিছু না ভেবেই রাহুল বলে ওঠে, ‘সকাল সকাল ফোনে এত কী কথা? আমার শার্টের বোতামটাও লাগাওনি। আমি এখন কী পরে অফিস যাব?’

রূপা নিজের অফিসের এক কলিগের সঙ্গে কথা বলছিল। রাগে ফোন ছেড়ে দিয়ে রূপাও চেঁচিয়ে ওঠে, “কতবার তোমাকে বলেছি, ফোনে যখন থাকব চেঁচিয়ে কথা বলবে না। নিজের শার্টের ব্যবস্থা নিজেই করো।”

এদিকে রাহুল যখন অফিস বেরোল তখনও খুব রেগে ছিল ওদিকে রূপাও সকাল সকাল মেজাজ খারাপ করার জন্য অফিসের কাজে মন বসাতে পারল না। দু’জনের কেউ একজন দোষ স্বীকার করে নিলেই ঝামেলা মিটে যেত কিন্তু এর পর থেকে রাহুল কিছু করতে বললেই রূপা ওকে নিজেকে করে নিতে বলা শুরু করল। ধীরে ধীরে সম্পর্কে তিক্ততা বাড়তে লাগল। রাহুলেরও বোঝা উচিত ছিল স্ত্রী ফোনে ব্যস্ত মানে নিশ্চই জরুরি কোনও ফোন হবে।

মেয়ের কষ্টে অপরের দুঃখ পাওয়াটা স্বাভাবিক কিন্তু শ্বশুরবাড়ির ছোটো ছোটো জিনিসে নিজের মেয়ের পক্ষ টেনে সবসময় আগ বাড়িয়ে কথা বললে সম্পর্ক তিক্ত হতে বেশি সময় লাগবে না।

নতুন সমস্যা

মেয়ে মানেই বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি চলে যাবে তাই মেয়ের মায়েরা চান, মেয়েকে যেখানে অপরের বাড়ি গিয়ে সারা জীবন কাজ করতেই হবে, সেখানে যতদিন না বিয়ে হচ্ছে বাপের বাড়িতে একটু আরাম করুক।

আজকালকার মেয়েরা কিন্তু এর থেকে দায়িত্ববোধের শিক্ষা নিচ্ছে না বরং বিয়েকে নিজের নিজের স্বপ্নপূরণ করার একটা পথ মনে করছে। কিন্তু বাস্তবে যখন স্বপ্ন, সংসারের দায়িত্বের নীচে ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে তখনই দাম্পত্যে ফাটল ধরছে এবং শ্বশুরবাড়ির প্রত্যেক সদস্যই চক্ষুশূল হয়ে উঠছে। তিক্ত মানসিকতার প্রধান শিকার হতে হচ্ছে শাশুড়িকে আর নয়তো স্বামীকে। কারণ এই দুজনের সঙ্গে মেয়ের সময় বেশি কাটে।

মেয়েরা বিয়ে হয়ে এসেই স্বামী এবং সংসারের উপর নিজের অধিকার ফলাতে চায়। যদি সংসারে স্বামী নিজের মা-বোন বা ভাই কাউকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করে বা আর্থিক সাহায্য করে, তাহলে মেয়েদের সমস্যা আরও বাড়ে। ছোটো ছোটো জিনিস নিয়ে অশান্তি করা শুরু করে। বিয়ে মানেই দায়িত্ব সকলের সঙ্গে মানিয়ে চলা। সুতরাং স্বামী যদি তার নিজের পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে চলে সমস্ত দায়িত্ব পালন করতে পারে তাহলে সেটাতে নতুন বউ-এর খুশিই হওয়া উচিত, সেটাকে সমস্যা ভেবে নেওয়া বাঞ্ছনীয় নয়।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব