দূরত্ব বাড়ার জন্য দায়ি যখন মা (পর্ব-১)

মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। সব মা-ই সন্তানকে সুখী দেখতে চান। ছেলের বিয়ে দিয়ে ছেলেকে সংসারী করেন, আবার মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে তাকে সুখ-শান্তিতে সংসার করতে দেখতে চান। মেয়ে যাতে অচেনা বাড়িতে গিয়ে বউমার দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করতে পারে, তার জন্য ছোটো থাকতেই সঠিক শিক্ষা দিয়ে সন্তানদের মানুষ করেন মা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংস্কারেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। আধুনিক পরিবেশে বিয়ে শব্দটার সংজ্ঞাও বদলেছে।

অতীতে মেয়ের বিয়ের পর, অপরিচিত শ্বশুরবাড়ি গিয়ে সেখানে সকলের সঙ্গে মানিয়ে চলাটাকে একটা সমস্যা পার করে আসা মনে করা হতো। আর এখন স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মধ্যে বনিবনা ঠিকমতো হয়ে গেলেই বিয়ে সফল হয়েছে বলে মনে করা হয়। নতুন প্রজন্মের কাছে আজ পুঁথিগত বিদ্যার নানা ডিগ্রি রয়েছে কিন্তু বাস্তবে ব্যবহারিক বুদ্ধির অভাব রয়েছে।

বিয়ের পর Husband-Wife উভয়েকেই অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয় যে কারণে একে অপরের সহযোগিতা পাওয়াও একান্ত কাম্য। কিন্তু প্রায়শই আমাদের চোখে পড়ে মেয়েদের মধ্যে ধৈর্যের অভাব, যার ফলে স্বামী-স্ত্রী কথায় কথায় একে অপরকে নীচ প্রতিপন্ন করার চেষ্টায় সময় অতিবাহিত করছে।

বিবাহিত জীবন সফল করতে যেমন Husband-Wife এর মধ্যে বোঝাপড়া দরকার ঠিক তেমনই দুটো পরিবারের সদস্যদেরও ইতিবাচক ভাবনাচিন্তা ও ব্যবহারও এক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ— একথা অস্বীকার করার উপায় নেই।

মতবিবাদ বাড়ায় মোবাইল

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অনেক সময় বিবাদের কারণ হয় মোবাইল। মোবাইলের মাধ্যমে মেয়ের বাপের বাড়ি, আত্মীয়স্বজন এবং তার বন্ধুবান্ধবদের সবসময় মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছে। ফলে মেয়ের ফোন সবসময় বেজেই চলেছে।

আজকাল মেয়েরা শ্বশুরবাড়ির তুচ্ছ ঘটনাও নিজের বন্ধুবান্ধব বা বাপের বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে। আর তারাও নিজেদের মতামত মেয়ের উপরে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তারা মেয়েকে পরামর্শ দেয়, শ্বশুরবাড়ির সবকিছু মেনে না নিতে। নিজের স্বাধীনতা বজায় রাখতে।

‘সমস্ত দায়িত্ব কি শুধু আমার…’ এই ধরনের উত্তেজক কথা বলে মেয়েটির মনের ভিতর শ্বশুরবাড়ি সম্পর্কে বিদ্বেষ ঢোকাতে থাকে৷ এই ধরনের কথাবার্তা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি করে সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ায়।

সব পরিবারের নিয়ম আলাদা, তাদের গুরুত্ব দেওয়ার মতো বিষয়গুলিও আলাদা, বাজেট আলাদা। সম্পন্ন পরিবারের মেয়ে স্নেহা বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি এসেই কখনও সোফা, কখনওবা বাড়ির পর্দা বদলাবার জন্য জোরাজুরি করত স্বামীকে। সময় সুযোগে গাড়ি কেনার ডিমান্ডও করেছে। ওর স্বামী ভালো ভাবে ওকে বোঝাবার চেষ্টা করত। কিন্তু স্নেহার বন্ধুরা, ওর বাপের বাড়ির আত্মীয়স্বজনেরা ফোন করে করে ক্রমাগত বলতে থাকে, তোর বাড়ির পর্দাগুলো খুব পুরোনো হয়ে গেছে, সোফাটা তোর শ্বশুর-শাশুড়ির বিয়ের সময়কার হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। ধীরে ধীরে এই কথাগুলোই স্নেহার বিবাহিত জীবনে ভাঙন ধরিয়েছিল।

ঝগড়ার ছোটো ছোটো কারণ

স্নেহার স্বামী ধার করে আয়েশে জীবন কাটানোতে বিশ্বাসী নয়। ভবিষ্যৎ নিয়ে সে-ও যথেষ্ট চিন্তা করত। নিজের একটা বাড়ি করার চেষ্টায় সে অর্থ সঞ্চয় করে যাচ্ছিল। কিন্তু স্নেহার রোজ রোজ চাহিদার মাত্রা বাড়তে থাকায় সম্পর্কে ভাঙন দেখা দেয়। স্নেহা এখন বাপের বাড়িতে রয়েছে। কিন্তু অন্যের কথা শুনে সুখের সংসার ভাঙার জন্য ও আজ অনুতপ্ত!

সম্পর্ক ভাঙার জন্য মোবাইলকে অনেকেই দায়ী করেন। ফোনের কারণেই অপরের অনাবশ্যক হস্তক্ষেপ মেয়ের সংসারকে বিষাক্ত করে তোলে। এটা এখন শুধু শহরেই সীমাবদ্ধ নয়, গ্রামেও এর রেশ পড়তে শুরু করেছে। গার্হস্থ্য হিংসার মোকদ্দমায় মীমাংসা করানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ছোটো ছোটো ঝগড়ার কারণ সম্পর্কে জানা যায়। তৃতীয় ব্যক্তির হস্তক্ষেপ-ই Husband-Wife এর মধ্যে বিরোধের প্রধান কারণ দেখা যায়।

বর্তমানে ভিডিওকল-এর মাধ্যমে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির প্রতিটা কোণা বাপের বাড়ির সদস্যদের নখদর্পণে। মেয়েকে যদি রান্নাঘরে মা দেখতে পান তাহলে হিতৈষী হয়ে ওঠার প্রবল চেষ্টায় মেয়ের কানে বিষ ঢেলে দেন— ‘কী ব্যাপার, হাত পুড়িয়ে ঘেমে নেয়ে তুই রান্না করছিস আর শাশুড়ি বুঝি এসি-তে বসে গল্পে মত্ত।’

আবার কখনও জামাইয়ের প্রসঙ্গ টেনে এনে মেয়েকে প্রবোধ দেওয়ারও চেষ্টা চালান মায়েরা। যেমন— অলোককে সবসময় দেখি মা আর দাদা-বউদির মতে চলতে, দেখিস তোকে আদৌ ভালোবাসে তো অলোক? বাঁধন আলগা করিস না কিন্তু, পরে পস্তাবি। কখনও বিয়েবাড়িতে একসঙ্গে শ্বশুরবাড়ি, বাপেরবাড়ির নিমন্ত্রণ থাকলে, বাড়ি ফিরেই মেয়েকে অনেক সময় নিজের মায়ের প্রশ্নের সামনে পড়তে হয় যেমন, ‘হ্যাঁরে দেখলাম তোর শাশুড়ি তোর বালা আর চুড়িগুলো পরেছিল। সোনার গয়না বিশ্বাস করে কেন পরতে দিয়েছিস?’ এই ধরনের ছোটো ছোটো কথাগুলোই দাম্পত্যে বড়োসড়ো ফাটল ধরায়।

বুঝতে না চাইলে বোঝানো অসম্ভব

ভালোবাসা, মোহ-মমতার মুখোশধারী শুভানুধ্যায়িদের কে বোঝাবে — শ্বশুরবাড়িতে যে-মেয়েকে পাঠানো হয়েছে সে নিজেই যথেষ্ট বুদ্ধিমতী। নিজের দেখাশোনা করার ক্ষমতা তার রয়েছে। সব বাড়ির আলাদা আলাদা নিয়মনীতি। মেয়ে যদি আনন্দে থাকে, শ্বশুরবাড়িতে তাকে বেশি কাজ করতে হলেও মনে রাখতে হবে এই ভাবেই শ্বশুরবাড়িতে সকলের কাছে সে প্রিয় হয়ে উঠবে। বুঝতে হবে এই কাজের জন্য মেয়েও কিন্তু শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বাহবা কুড়োচ্ছে এবং এটাই ধরে নেওয়া হবে মেয়ে বাপের বাড়িতে ভালো শিক্ষা পেয়ে মানুষ হয়েছে।

 

ছায়ামূর্তি (পর্ব ১)

মরমি, আমার মাথাটা একটু টিপে দেবে? আজ অফিসে কাজের চাপ ছিল, একগাদা ফাইল দেখতে হয়েছে। এ বছরেই প্রমোশন হওয়ার কথা। একটু বেতাল হলেই সেটা বন্ধ হয়ে যাবে। আর প্রমোশন বন্ধ হওয়া মানেই আমার সুখের ঘরে আগুন। কারণ টাকাই তো সমস্ত সুখের কারণ। টাকা না থাকলে জীবন বৃথা! এ পৃথিবী বিষময়।

জানো, প্রমোশন হলে আমার প্রায় পাঁচ হাজার টাকা মাইনে বেড়ে যাবে। প্রমোশনটা হলেই তোমাকে আমি একটা স্মার্ট ফোন কিনে দেব, যা তোমার বহুদিনের শখ। বিয়ের পর তোমাকে আমি কোনও উপহার দিইনি। এমনকী ফুলশয্যার রাতে তোমাকে একটা সোনার আংটি উপহার দিতে পারিনি। সে জন্য তুমি আমাকে অনেক দিন খোঁটা দিয়েছ। নিজের এই অর্থনৈতিক অক্ষমতার জন্য মনে মনে ভীষণ কষ্ট পেয়েছি। ভেবেছি যার একটা সোনার আংটি কিনে দেবার ক্ষমতা নেই তার বিয়ে করাটাই উচিত হয়নি।

এবার প্রমোশনটা হলেই তোমার মনের অনেকগুলো সাধ আমি মিটিয়ে দেব। আজ লোডশেডিং-এর জন্য ঘরের লাইটটাও গেছে। মোমবাতির আলোয় তোমার মুখটা যেন রাতের এক গোছা রজনীগন্ধা।

এখন ভীষণ ভালো লাগছে, তুমি মাথা টিপে দিলে আমার কোনও মানসিক বা দৈহিক যন্ত্রণা বলতে কিছু থাকে না। এই জানো, এখন মনে হচ্ছে তুমি আমার মা। আমার অসুখ করলে মা ঠিক তোমার মতোই সেবা করতেন। মা মারা যাওয়ার পর তুমিই তার বিকল্প হয়েছ। আচ্ছা তোমার হাত এত ঠান্ডা কেন? শরীর খারাপ নয়তো?

তোমার বিয়ের দিনের কথা মনে আছে? আমার কিন্তু সব মনে আছে। আসলে ওই দিনটা আমার জীবনের এক স্মরণীয় দিন। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন মনে থাকবে। তোমাকে কিন্তু আমার মা প্রথম থেকেই ভীষণ পছন্দ করেছিলেন। কথায় বলে কুপুত্র যদিও হয় কুমাতা কখনও নয়। আমি মাকে সুখী করতে পারিনি কিন্তু মা আমাকে সুখী করেছেন। মা বুঝতে পেরেছিলেন তোমাকে পেলে আমার জীবন সুখের হবে। আমার মতো সুখী বোধহয় পৃথিবীতে কেউ নেই। কিংবা হয়তো আছে, আমার জানা নেই।

বিয়ের দিনে আমি হয়েছিলাম একদিন কা বাদশা। আমাকে নিয়েই তো উৎসব। দধিমঙ্গলের সময় আমি বুঝেছিলাম আমার নতুন জীবন শুরু হয়ে গেল। শুনলে অবাক হবে, আমি কিন্তু সেদিন উপোস করে থাকতে পারিনি। দুপুরবেলা লুকিয়ে দোকানে গিয়ে কষা আলুর দম আর পাঁউরুটি খেয়েছিলাম। অবশ্য সে জন্য আমি মা কালীর কাছে ক্ষমা চেয়েছিলাম। জানি না তিনি আমায় ক্ষমা করেছেন কিনা। যখন বউদি আমাকে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে সাজাচ্ছিল তখন তোমার কথাই শুধু বার বার ভাবছিলাম। আচ্ছা, তুমি যখন কপালে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে লাল বেনারসী পরে বসেছিলে তখন তোমার কী মনে হয়েছিল? আহা লজ্জা কীসের, বলো না। কী বললে ? তখন তোমার ভয় করছিল? খুবই স্বাভাবিক। বিয়ের দিনে সব মেয়েরই ভয় করে। তারপর বিয়ের অনুষ্ঠান মিটে গেলেই তোমরা হয়ে যাও রণচণ্ডী। এই রণচণ্ডী বললাম বলে তুমি রাগ করলে ? মাইরি তোমাকে একটু রাগাবার জন্যই কথাটা বললাম। আসলে রাগলে তোমাকে খুবই সুন্দর দেখায়।

এখন যদিও লোডশেডিং, তবু অন্ধকারে তোমার রাগ রাগ মুখটা আমি মনের আলো জ্বেলে ঠিক দেখতে পাচ্ছি। আচ্ছা আর তোমাকে রণচণ্ডী বলব না। এই তোমার পা ধরছি, হল তো? কে বলছে, আমি তোমার পায়ে হাত দিলে তোমার পাপ হয়? ভক্ত প্রতিমার পায়ে হাত দিলে কি প্রতিমার পাপ হয়? তুমিই তো আমার প্রাণ-প্রতিমা। আমার প্রাণেশ্বরী। লোকের বিশ্বাস গঙ্গায় স্নান করলে যেমন সমস্ত পাপ ধুয়ে যায়, ঠিক সেইরকম আমার বিশ্বাস তোমার পায়ে হাত দিলে আমার সব পাপ নিঃশেষ হয়ে যায়। আমার মনে হয়, গত জন্মে হয়তো এককণা পুণ্য সঞ্চয় করেছিলাম, আর সেই পুণ্যের ফলেই তোমাকে এ জীবনে স্ত্রী রূপে কাছে পেয়েছি। এ তো আমার পরম সৌভাগ্য। এই সবুজ জর্জেট শাড়িটা আজও পরেছ দেখছি। তোমাকে যেদিন প্রথম দেখতে গেছিলাম তখন এই শাড়িটা পরেই তো তুমি আমার সামনে এসে বসেছিলে। হাঁটু মুড়ে বসলেও তোমার আলতা পরা ফরসা পা দু’খানি কিন্তু আমার নজর এড়ায়নি। জলপাথর বসানো নাক ছাবিটায় তোমাকে বেশ মানিয়েছিল। এখনও মনে আছে তুমি উঠে চলে যাবার পরও আমি হ্যাংলার মতো বারবার পাশের ঘরটার দিকে তাকিয়েছিলাম। আর কারও জীবনে ঘটেছে কিনা জানি না, মেয়ে দেখতে গিয়ে মন দিয়ে ফেলা আমার ক্ষেত্রে হয়েছে।

(চলবে)

আমি পড়া মনে রাখতে পারছি না

প্রঃ আমি দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী৷ আমার সমস্যা হল আমি পড়া মনে রাখতে পারছি না৷ সামনেই আমার বোর্ড পরীক্ষা৷ আমি রাত জেগে পড়াশোনা করছি৷ তবু যখনই খাতায় অভ্যাসের জন্য  প্রশ্ন দিচ্ছেন গৃহশিক্ষক, তখনই আর কিছু মনে পড়ছে না৷ অথবা ভুল উত্তর লিখছি৷ একটি অংশ অন্য অংশে উত্তর করে ফেলছি৷ কী করব আমায় উপায় বলে দিন৷ অকৃতকার্য হলে আমায় কোনও চরম সিদ্ধান্ত নিতে হবে৷

 

উঃ এটি বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, কেউ পড়ার এক সপ্তাহের মধ্যে তিন চতুর্থাংশ ভুলে যায়। মেমরি গ্রাফ অন্তত তাই-ই বলে। এটা কাটিয়ে ওঠার জন্য কী করা উচিত? অধ্যয়নগুলি বারবার অভ্যাস করার চেষ্টা করুন৷ আপনি যদি পড়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যে একটি ভুল সংশোধন করেন, তবে মনে রাখার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে উন্নত হবে। আদর্শ হল  সপ্তাহান্তে পুরোনো পড়া একবার করে এবং আবার এক মাসের মধ্যে পুনরায় লিখে দেখা উচিত, একই ভুল করছেন কিনা৷।

এবার প্ৰশ্ন হল, এত রিভিশনের জন্য সময় বের করবেন কী ভাবে? মূল বাক্যাংশগুলিকে আন্ডারলাইন করে একটি বিষয় দুবার সাবধানে পড়ুন।  একবার রিভিশন দিলে, দ্বিতীয় পড়া কম সময় লাগবে এবং আরও ফলপ্রসূ হবে। পৃষ্ঠার মার্জিনে একটি সারাংশ লিখুন, বা ছোটো নোটবই মেনটেইন করুন। এটা হবে দ্বিতীয় রিভিশন। বিষয় ভিত্তিক প্রশ্ন সমাধান করুন। এটা হবে তৃতীয় রিভিশন। সপ্তাহান্তে শুধুমাত্র সারাংশ বা মূল পয়েন্টগুলি সংশোধন করুন। এটি চতুর্থ দ্রুত সংশোধন হবে। অবশেষে একটি মাসিক অধ্যয়ন করুন। পরীক্ষার সময় হলে আতঙ্কিত হবেন না।  কিছু কঠিন বিষয়/প্রশ্ন/সূত্র/সমীকরণের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিয়ে, দ্রুত পুরো সিলেবাসটি রিভিশন করুন৷

মন টেক্সট এবং সংখ্যার চেয়ে ডায়াগ্রাম এবং রং আরও সহজে মনে রাখে। রঙিন কলমে মূল পয়েন্টগুলি লিখুন। গোলাপি, নীল, লাল, সবুজ, হলুদ ইত্যাদি মূল শব্দগুলিকে ঘিরে দাগিয়ে রাখুন। আপনার স্মৃতিতে আলাদা ছাপ তৈরি করতে বিভিন্ন কালির কলম ব্যবহার করুন। একসাথে একটি বিষয়ের মূল শব্দগুলির একটি গ্রুপ তৈরি করুন। আপনি যখন বারবার সেগুলি পড়বেন, তখন শব্দগুলির রঙিন চিত্রগুলি আপনার স্মৃতিতে ইমপ্রিন্ট তৈরি করবে। প্রশ্নে কোনও ডায়াগ্রাম না থাকলেও শব্দের ডায়াগ্রাম তৈরি করুন। উত্তর লেখার সময় আপনার প্রয়োজন হলে আপনার মন সহজেই সেগুলিকে সামনে নিয়ে আসবে।

আপনি যদি কোনও নির্দিষ্ট বিষয় বা বিষয়কে কঠিন মনে করেন তবে প্রথমে তার সহজ অংশটি শিখুন। শুরুতে কঠিন অংশটি ছেড়ে দিন। যদি একটি কঠিন প্রশ্ন থাকে, একটি সমাধান করা উদাহরণ পড়ুন।  ধারণা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত  আপনি বাড়িতে একটি প্রশ্ন বারবার সমাধান করুন। এমন একটি পর্যায় আসতে পারে যখন আপনি অবাক হবেন যে কেন আপনি এটি শুরুতে এত কঠিন মনে করেছিলেন।

আর পড়ার ফাঁকে রিল্যাক্স করাও জরুরি৷  20টি গভীর শ্বাস নিন ৷এটি বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস মনকে শিথিল করে, দ্রুত হৃদস্পন্দন স্থির করে, একাগ্রতা উন্নত করে এবং দক্ষতা উন্নত করে। পরীক্ষা ঘনিয়ে এলে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই প্রচণ্ড মানসিক চাপে থাকে। তাই প্রতিটি চ্যাপ্টার পড়া হলে রিল্যাক্স করুন। এগুলি মেনে চললে আপনি ইতিবাচক ফল পাবেন৷

বিদেশি ছবির পাশাপাশি একাধিক বাংলা ছবিও পুরস্কৃত 29th kiff-এ

চলচ্চিত্র উৎসবে বিদেশি ছবি দেখতেই মূলত বেশি আগ্রহী থাকেন সিনেমাপ্রেমীরা। কারণ, বড়োপর্দার সামনে বসে উৎসবের আবহে একগুচ্ছ বিদেশি ছবি দেখার সুযোগ পাওয়া যায় একমাত্র এই চলচ্চিত্র উৎসবেই। কিন্তু যে-কোনও কারণেই হোক, ২৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের শুরু থেকেই বিদেশি ছবির পাশাপাশি বাংলা ছবি দেখার জন্যও ছিল বাড়তি উন্মাদনা। বিশেষকরে বাঙালি দর্শকরা প্রেক্ষাগৃহ ভরিয়ে দিয়েছিলেন বলা যায়। অবশ্য শুধু বাংলা ছবির দর্শকরাই নন, বলিউডের পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপও অঞ্জন দত্ত-র ছবি ‘চালচিত্র এখন’ দেখার আগ্রহে, তাঁরজন্য নির্ধারিত প্রেস কনফারেন্সও অনুরোধ করে পিছিয়ে দিয়েছিলেন। এমনই ছিল এবার বাংলা ছবি দেখার আগ্রহ।

২০২৩-এর কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত মোট ২১৯টি ছবির মধ্যে প্রতিযোগিতা বিভাগে ছিল ৭২টি বড়ো ছবি। এরমধ্যে ‘বেঙ্গলি প্যানোরমা বিভাগ’-এ ছিল মোট ৭টি ছবি। যাইহোক, নন্দন সহ মোট ২৩টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়েছে এই ছবিগুলি। অধিকাংশ শো-এ দর্শক আসন ছিল কানায়-কানায় পূর্ণ। উৎসবের অষ্টম দিনে অর্থাৎ ১২ ডিসেম্বর সন্ধেবেলা বিজয়ী ছবিগুলিকে পুরস্কার প্রদান করা হয় রবীন্দ্র সদন প্রেক্ষাগৃহে। এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বলিউড অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দরি। সেইসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ইন্দ্রনীল সেন, পরিচালক সুধীর মিশ্র, গৌতম ঘোষ এবং কয়েকজন বিদেশি পরিচালক।

‘ইনোভেশন ইন মুভিং ইমেজ’ বিভাগে সেরা ছবির শিরোপা পায় ইজরায়েলের ছবি ‘চিলড্রেন অফ নোবডি’। মানবিক মুল্যবোধের বিষয় নির্ভর এই ছবিটির পরিচালক ইরেজ ট্যাডমোর। পরিচালক পুরস্কার নিতে মঞ্চে উপস্থিত থাকতে না পারলেও, তাঁর ছবির জন্য ৫১ লক্ষ টাকা পুরস্কার মূল্য ছাড়াও বরাদ্দ ছিল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার গোল্ডেন ট্রফি। বিজয়ী ছবি ‘চিলড্রেন অফ নোবডি’-ই ছিল ২৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ক্লোজিং ফিল্ম। এই ছবিটি প্রদর্শিত হয়েছে নন্দন এক প্রেক্ষাগৃহে ১২ ডিসেম্বর সন্ধে সাড়ে সাতটায়।

অঞ্জন দত্ত-র ছবি ‘চালচিত্র এখন’ ছিল ওই একই বিভাগে, অর্থাৎ ‘ইনোভেশন ইন মুভিং ইমেজ’-এ। মৃণাল সেন-এর সঙ্গে অঞ্জন দত্ত তাঁর কাজের অভিজ্ঞতাই মূলত কাহিনি আকারে তুলে ধরেছেন ‘চালচিত্র এখন’ ছবিটির মাধ্যমে। এরই পাশাপাশি অবশ্য ছবির নায়কের কলকাতার প্রতি অনীহা এবং শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার দিকটিও অনেকটা প্রাধান্য পেয়েছে এই ছবিতে। মৃণাল সেন-এর শতবর্ষ উপলক্ষ্যে এই ছবিটিও প্রদর্শিত হয়েছে নন্দন এক প্রেক্ষাগৃহে। ছবি শুরুর আগে প্রেক্ষাগৃহ ভর্তি দর্শক দেখে বিষ্ময়ে আবেগল্পুত হয়ে অঞ্জন বলেছেন, ‘মৃণালদা’ বেঁচে থাকলে হয়তো খুব খুশি হতেন। শুধু তাই নয়, হয়তো তাঁর ছবি দেখার জন্যও এত ভিড় হতো না।’ যাইহোক, এবার অঞ্জনের ‘চালচিত্র এখন’ পেল স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড। পুরস্কার মূল্য ছিল ২১ লক্ষ টাকা। ওই একই বিভাগে ভেনেজুয়েলার পরিচালক কার্লোস ড্যানিয়েল মালাভে-র ছবি ‘ওয়ান ওয়ে’ও পেয়েছে পুরস্কার।

এবার ‘বেঙ্গলি প্যানোরমা’ বিভাগে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল মোট সাতটি ছবি। সেই ছবিগুলির মধ্যে সেরা ছবি হিসাবে পুরস্কৃত হয়েছে রাজদীপ পাল ও শর্মিষ্ঠা মাইতি-র ছবি ‘মনপতঙ্গ’। কিছুদিন আগে এই পরিচালক জুটি-ই তাঁদের ‘কালকক্ষ’ ছবির জন্য জিতেছেন জাতীয় পুরস্কার। এবার ২৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘মনপতঙ্গ’ জিতে নিল সাড়ে সাত লক্ষ টাকা-র পুরস্কার এবং ট্রফি। ভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রান্তিক যুবক-যুবতির ভালোবাসার জন্য লড়াইয়ের বিষয়টি এক মর্মস্পর্শী রূপ পেয়েছে এই ছবিটিতে।

‘বেঙ্গলি প্যানোরমা’ বিভাগে এবার স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে সাইকোলজিক্যাল ড্রামা ফিল্ম ‘অসম্পূর্ণ’। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে এক পাঁচ বছর বয়সি সন্তানের বেড়ে ওঠার মর্মস্পর্শী দিকটিও প্রাধান্য পেয়েছে এই ছবির কাহিনিতে। এই ছবিটির পরিচালক অমর্ত্য সিনহা। তাঁর ঝুলিতেও পুরস্কার মূল্য হিসাবে পড়েছে সাড়ে সাত লক্ষ টাকা। অবশ্য এই ছবিগুলি ছাড়াও আরও অনেকগুলি ছবি বিভিন্ন বিভাগে জিতে নিয়েছে পুরস্কার। যেমন এশিয়ান সিলেক্ট বিভাগে নেটপ্যাক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে মায়ানমার-এর ছবি ‘ব্রোকেন ড্রিমস স্টোরিজ ফ্রম দ্য মায়ানমার কুপ’। ছবিটির পরিচালক নিনোফোল্ড মোজায়েক।

‘ইন্ডিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ ফিল্ম’ বিভাগে স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে হাওবাম পবন কুমার পরিচালিত ছবি ‘জোসেফ-স সন’। হীরালাল সেন মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড বিভাগে রজনী বসুমাত্রে পরিচালিত ছবি ‘গোরাই ফাখরি’ পেয়েছে ১০ লক্ষ টাকার সেরা ছবি-র পুরস্কার। ওই একই বিভাগে ৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার জিতেছে সনেট অ্যান্থোনি ব্যারেটো-র ছবি ‘অবনী কী কিসমত’।

সেরা শর্ট ফিলম ‘লাস্ট রিহার্সাল’-এর জন্য ৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার ও ট্রফি জিতেছেন পরিচালক কামিল সঈফ। এছাড়া, সেরা তথ্যচিত্র হিসাবে ৩ লক্ষ টাকার পুরস্কার ও ট্রফি জিতেছে রমেন বোরা ও শিবানু বোরা পরিচালিত ‘চ্যালেঞ্জ’।

ছোটোরাই তৈরি করুক পার্টি ডিশ

ছোটোরা হঠাৎই বাড়িতে বন্ধুবান্ধবদের ডেকে পার্টি অ্যারেঞ্জ করে ফেলে। চটজলদি ওদের মনপসন্দ কিছু পার্টি ডিশের প্রয়োজন হয়৷ ছোটোরা নিজেরাই বানাতে পারবে এই ডিশগুলি৷ ওদের নিজে হাতে যদি পার্টি ডিশগুলি তৈরি করতে দেন, তাহলে ওদের মজা হবে দ্বিগুন৷ আগুনের উপর রান্না নয়৷ বাড়িতে থাকা উপকরণ দিয়ে আঁচে না বসিয়েও তৈরি করা যাবে এই সহজ রেসিপিগুলো৷ খেতেও হবে দুর্দান্ত৷ এই সব অস্কক্লুসিভ আর সহজ রেসিপি দিচ্ছে গৃহশোভা।

ফ্রুট পাঞ্চ

উপকরণ: ১/২ টিন প্যাক্ড ফ্রুট, ১/২ কাপ মরশুমি ফল (আপেল, কলা, আঙুর, কিউয়ি), ২০০ মিলি ক্রিম, ২ বড়ো চামচ স্ট্রবেরি ক্রাশ।

প্রণালী: ১ গ্লাস স্ট্রবেরি ক্রাশ দিয়ে উপর থেকে ক্রিম ফেটিয়ে ঢেলে দিন। ফলের কুচি দিয়ে, পুনরায় ক্রিম ঢালুন। এবার ফল দিয়ে সাজিয়ে সার্ভ করুন।

কুল পিংক

Cool Pink recipe

উপকরণ ১/২ কাপ মিক্স ফ্রুট জ্যাম, ২ বড়ো চামচ ক্রিম, ১/২ কাপ জল, ১/২ কাপ স্ট্রবেরি আইসক্রিম, সাজানোর জন্য স্ট্রবেরি চিপ্‌স।

প্রণালী : জ্যাম, জল, আর ক্রিম একসঙ্গে ফুটতে দিন। সস তৈরি হলে ঠান্ডা করুন। এবার একটা পুডিং গ্লাসে অল্প সস দিন। আইসক্রিম- এর স্কুপ দিন। উপর থেকে আবার সসের লেয়ার করুন। স্ট্রবেরি চিপ্‌স দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

ব্যানানা সানডে

Banana Sunday recipe

উপকরণ: ১টা কলা, ১ স্কুপ ভ্যানিলা আইসক্রিম, ১ স্কুপ চকোলেট আইসক্রিম, ১ স্কুপ স্ট্রবেরি বা পেস্তা আইসক্রিম, ১ বড়ো চামচ ক্যারামেল সস, ১ বড়ো চামচ ফ্রুটি ক্রিম সস, ১ বড়ো চামচ চকোলেট সস, ভাজা কাজু সাজানোর জন্য।

প্রণালী: একটা বোট ডিশ-এ কলা ফালি করে কেটে সাজিয়ে দিন। এক স্কুপ ভ্যানিলা আইসক্রিম দিন। এরপর চকোলেট আইসক্রিম দিন। শেষে দিন স্ট্রবেরি কিংবা পেস্তা আইসক্রিমের স্তুপ। উপর থেকে চকোলেট সস দিন। ফ্রুট সস স্ট্রবেরি আইসক্রিমের উপর, আর ক্যারামেল সস দিন ভ্যানিলা আইসক্রিমের উপর। এভাবে লেয়ার করে উপর থেকে ভাজা কাজু ছড়িয়ে সার্ভ করুন।

 

ড্রাইফ্রুট শ্রীখন্ড

Dry Fruit SriKhand recipe

উপকরণ : ১ কেজি দই, ৭০০ গ্রাম চিনি, ১০-১৫ টি বাদামকুচি, ১০-১৫টি কাজুকুচি, অল্প পেস্তা, ৫টি ছোটো এলাচ, অল্প কেসর সাজানোর জন্য।

প্রণালী : দই মলমল কাপড়ে বেঁধে রাতভর ঝুলিয়ে রাখুন। জল ঝরে গেলে চিনি মিশিয়ে একঘন্টা রেখে দিন। এবার দইটা হাত দিয়ে ফেটিয়ে মসৃণ করতে থাকুন। এতে ছোটো এলাচ গুঁড়িয়ে দিন। সমস্ত ড্রাইফ্রুট্স কুচি করে মেশান। সার্ভিং বোল-এ রেখে, উপর থেকে পেস্তা ছড়িয়ে দিন। ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা পরিবেশন করুন।

টিকিয়া সুপার হিট

ভারতীয় খাবারের বৈচিত্র্য অনেক৷  ভারতের নানা প্রান্তের খাবারের  স্বাদ এবং রন্ধন পদ্ধতি একেকরকম৷ আপনাকে শুধু মন ব্যপ্ত করতে হবে সব ধরনের সুস্বাদু ভারতীয় খাবার উপভোগ করার জন্যে।টিক্কা বা টিকিয়া আজকের বিষয়৷ টিক্কা বলতে ভাজা বা ভাজা মাংসের টুকরোকে বোঝায় যা হয় দই বা মশলাদার জলে ম্যারিনেট করা হয় স্কিভারে রান্না করার আগে। মশলা বলতে ক্রিম, দই বা টম্যাটো দিয়ে তৈরি ম্যারিনেশন বোঝায়৷ আজ অবশ্য সহজ পদ্ধতিতে তৈরি করা যায় এমন কিছু নিরামিষ টিক্কি পরিবেশন করছি আমরা৷

আলু সাবুর টিকা

উপকরণ : ২৫০ গ্রাম সেদ্ধ ও চটকানো আলু, ৫০ গ্রাম সাবুদানা, ১ ছোটো চামচ আদা কুচি করা, ৩-৪টি কাঁচালংকা কুচি করা, ১/৪ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ জিরে ভেজে গুঁড়ো করা, ২ বড়ো চামচ ধনেপাতা মিহি করে কুচোনো, ১/৪ ছোটো চামচ গরমমশলাগুঁড়ো, ভাজার জন্য তেল, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী : সাবুদানা ১ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখার পর জল থেকে তুলে অন্য উপকরণের সঙ্গে চটকে ছোটো ছোটো বল তৈরি করে নিন। এবার হালকা হাতে ছোটো ছোটো টিক্কি তৈরি করে ভেজে নিন। গরম গরম পরিবেশন করুন সস ও চাটনির সঙ্গে।

সোয়া টিকিয়া

Soya Tikia recipe

উপকরণ : ১/২ কাপ মটরডালের পেস্ট, ১ কাপ সোয়াবিনের ডাস্ট, ১/২ কাপ নারকেলকোরা, ৪টে সেদ্ধ আলু খোসা ছাড়ানো, ১ বড়ো চামচ সুজি, ৪-৫টি কাঁচালংকা কুচি, ১ বড়ো চামচ ধনেপাতা কুচি, ১ ছোটো চামচ গরমমশলা, ১ ছোটো চামচ চাটমশলা, ভাজার জন্য তেল, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী : সোয়াবিনের ডাস্ট ১ ঘন্টা জলে ভিজিয়ে রেখে দিন। এবার একটি পাত্রে এর সঙ্গে সেদ্ধ আলু চটকে লংকাগুঁড়ো, ধনেপাতা, গরমমশলা, নারকেলকোরা ও নুন মিশিয়ে ৯-১০ ভাগে ভাগ করে নিন। এবার এক-একটি ভাগ থেকে টিকিয়া গড়ে নিন। ডালের পেস্ট-এ একটু জল দিয়ে, নুন ও চাটমশলা দিয়ে ফেটিয়ে নিন। টিকিয়াগুলি এই মিশ্রণে ডুবিয়ে সুজি মাখিয়ে শ্যালো ফ্রাই করুন। টম্যাটো পেঁয়াজ সহযোগে পরিবেশন করুন, ছোটোরা মজা করে খাবে।

ছানার টিক্কি

Chhana Tikki recipe

 

উপকরণ : ২৫০ গ্রাম ছানা, ২ বড়ো চামচ ময়দা, ১ বড়ো চামচ সুজি, ১৫০ গ্রাম চিনিগুঁড়ো, ভাজার জন্য ঘি।

প্রণালী : ছানা চটকে নিয়ে, এতে সুজি ও ময়দা মেশান। চিনি মিশিয়ে ১০ মিনিট চটকে মসৃণ করে নিন। এবার আলাদা পাত্রে আটা মেখে লেচি তৈরি করুন। হাতের পাতায় হালকা ঘি মাখিয়ে লেচি চ্যাপটা করে তার মধ্যে ছানার পুর ভরে টিকিয়া তৈরি করুন। এবার কড়ায় ঘি গরম করে, টিক্কি ভেজে নিন।

স্বপ্নের শেষ দৃশ্য (শেষ পর্ব)

সন্তোষবাবু ক্ষুণ্ন মনে বললেন— তোমার যখন বলতে আপত্তি আছে তাহলে থাক। তোমাকে জোর করব না। তবে মনে রেখো এক মাঘে শীত যায় না। তোমাকে আমি মাঝেমধ্যেই শেষটুকু জানার জন্যে বিরক্ত করব।

খাওয়া-দাওয়ার পাট চুকে যাওয়ার পর আর কিছুই করণীয় থাকে না, একমাত্র স্বস্থানে ফিরে যাওয়া ছাড়া। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে অর্পণ একসময় অনুমতি চায়, আমি তাহলে রওনা দিই কেমন?

সন্তোষবাবু জানতে চান— তুমি ফিরবে কীভাবে?

—কেন? যেমন এসেছিলাম ঠিক তেমনি ভাবে। অর্পণের সংক্ষিপ্ত জবাব।

—রাতেরবেলায় এত দূরে তুমি একা একা যাবে? সন্তোষবাবু পরামর্শ দেন তার চেয়ে একসঙ্গে বাসে গেলেই পারতে। ওরা সকলেই তো তোমার চেনা। এতে তোমার লজ্জা কীসের?

—যখন ওরা ডেকেছিল তখন আসিনি। তাই এখন ওদের সাহায্য নেওয়াটা কোনও মতেই যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয় না। তারপর একটু নীরবতা পালনের পর অর্পণ বলে, আপনি আমার জন্যে একটুও চিন্তা করবেন না। কাল ভোরবেলায় আপনি ঘুম থেকে ওঠার পরেই আপনাকে আমার দেখা স্বপ্নের শেষ দৃশ্যের বিষয়টা জানাব। দেখবেন কী রোমাঞ্চকর ঘটনা! আমি জানি আপনি ভীষণ উতলা হয়ে আছেন। শুধুমাত্র রাতটুকু আপনি অপেক্ষা করুন। নমস্কার কাকাবাবু। এবার আমি তাহলে চলি কেমন?

শীতের দিনের সকাল। তখনও ভালো করে সূর্য ওঠেনি। কুয়াশাভরা মেঘলা আকাশ। ফোনটা হঠাৎ কর্কশ শব্দে সকলকে সচকিত করে তোলে। রিসিভারটা হাতে না তোলা পর্যন্ত রেহাই নেই। ক্রমাগত বেজেই যাবে। একেবারেই সহবত শূন্য, কাণ্ডজ্ঞান হীন। তাই একান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও আদর করে হাতে নিতে হয় সে যতই অবাধ্য হোক না কেন।

সন্তোষবাবুর হঠাৎ অর্পণের কথা মনে পড়ে গিয়েছিল। ভোরবেলায় তার স্বপ্নের শেষ দৃশ্যের বিষয়ে জানানোর কথা ছিল। সে নয় তো? যদিও এত ভোরে সেই খবর পরিবেশন করার কী প্রয়োজন ছিল? কাল রাত্রেই সে জানাতে পারত। অৰ্পণ কী এমন রোমাঞ্চকর খবর জানাতে ইচ্ছুক?

—হ্যালো। সন্তোষবাবুর কণ্ঠস্বর ভেসে ওঠে ওপারে।

—কাকাবাবু আমি নাসিরপুর থেকে সুদীপ বলছি।

—হ্যাঁ বলো। এত ভোরে হঠাৎ ফোন করলে যে? সুদীপ ওপার থেকে বলে ওঠে

—আমার সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী সুমিতার প্রতিবেশী, আরে যার সঙ্গে গতকাল রাত্রে আপনি সারাক্ষণ গল্প করছিলেন— সেই ছেলেটি মারা গেছে বাড়ি ফেরার সময়।

—অর্পণ মারা গেছে? কী বলছ তুমি? সন্তোষবাবু বিশ্বাস করতে পাচ্ছিলেন না কথাটা। বেহালায় ছড় টানার মতো এক করুণ ব্যথা সমস্ত অন্তরজুড়ে হাহাকার তুলছিল। ভাষাহীন বেদনায় শরীরটা থেকে থেকে কেঁপে উঠছিল। নিজেকে কিছুক্ষণের জন্যে সামলে নিয়ে, তিনি জিজ্ঞাসা করেন কী ভাবে?

—পথ দুর্ঘটনায়। গাড়ির ধাক্কায়। ভেবেছিলাম রাত্রেই জানাব খবরটা কিন্তু জানাইনি এই কারণে, আপনি অসুস্থ। রাতে আপনার ঠিক মতো ঘুম হয় না। তাই ঘুমের ব্যাঘাত করতে চাইনি। আমি রাখলাম এই মুহূর্তে একটু ব্যস্ত আছি। পরে কথা হবে।

আরও কিছু তথ্য সংগ্রহের উৎকণ্ঠায় মনটা ছটফট করছিল সন্তোষবাবুর। কিন্তু সেই সুযোগ না দিয়ে সুদীপ তার আগেই ফোনটা রেখে দেয়।

সন্তোষবাবু রিসিভার ধরে রাখার শক্তিটুকু পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছিলেন। রিসিভারটা হাত থেকে মাটিতে পড়ে যায়। তিনি চেয়ারে বসে পড়েন। নিজের অজান্তে আপন মনে বলে ওঠেন— স্বপ্নের শেষ দৃশ্যটা হয়তো ওর আগে থেকেই জানা ছিল! সেই কারণেই হয়তো ও আমাকে ক্রমশ প্রকাশ্য বলে বারংবার সাময়িক সান্ত্বনা দিচ্ছিল। কিন্তু খবরটা যে এতটা ভয়াবহ হবে তা ভাবা যায়নি।

(সমাপ্ত)

ছোটোদের জন্য টিট বিটস

সামনেই আসছে ক্রিসমাস-এর ছুটি৷ এই Winter Vacation ছোটোদের যাতে একঘেয়ে না কাটে তাই মায়েদের অনেক রকম এক্সপেরিমেন্ট করতে হয় খাবারদাবার নিয়ে৷ কিছু মজাদার রেসিপি আপনাকে এই সময় সাহায্যই করবে৷  বাচ্চাদের আজকাল পিৎজা, পাস্তা , স্যান্ডউইচ ধরনের খাবারই বেশি পছন্দ৷ তাই বাড়িতেই সেগুলি কী করে বানাবেন, শিখে নিন৷

পিৎজা ডিলা

উপকরণ : ৪টে পরোটা, ৫ বড়ো চামচ পিৎজা সস, ৩ বড়ো চামচ টম্যাটো সস, ২০০ গ্রাম মোজারেলা চিজ, ১টি পেঁয়াজ, ১টি ক্যাপসিকাম, ১ ছোটো চামচ পিৎজা সিজনিং।

প্রণালী : পিৎজা সস ও টম্যাটো সস মিশিয়ে নিন। মোজারেলা চিজ গ্রেট করে নিন। প্রতিটা পরোটার উপর সসের পরত দিন। উপর থেকে চিজ ছড়ান। পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম কুচি করে ছড়িয়ে দিন। এবার ১৮০ ডিগ্রি প্রি-হিটেড আভেনে ৪-৫ মিনিট বেক করে নিন। স্যালাডের সঙ্গে পরিবেশন করুন। ছোটোরা এর চটপটা স্বাদ খুব পছন্দ করে।

চিজ পাফ

Cheese Puff recipe

উপকরণ : ১০০ গ্রাম চিজ গ্রেট করা, ৫০ গ্রাম ময়দা (ছেঁকে নেওয়া), ২টি ডিম, নুন ও গোলমরিচ স্বাদমতো, ভাজার জন্য তেল।

প্রণালী : ময়দায় নুন, গোলমরিচ, চিজ ও ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে নিন। এবার ডিমের কুসুমটা আলাদা করে ফেটিয়ে ময়দা-চিজের মিশ্রণের সঙ্গে মাখতে থাকুন। এরপর এই মিশ্রণ থেকে অল্প করে গোলা নিয়ে ছোটো ছোটো বলগুলি ডিপ ফ্রাই করুন। সসের সঙ্গে গরম গরম খেতে খুব ভালোবাসবে ছোটোরা ।

চিকেন কাটলেট

Chicken Cutlet recipe

উপকরণ : ২৫০ গ্রাম চিকেন কিমা, ১/২ কাপ ব্রেড ক্রাম্বস্‌, ১টি পেঁয়াজ কুচি করা, ২ কোয়া রসুন কুচি, ২টি কাঁচালংকা কুচি করা, ১ বড়ো চামচ পোস্ত (১০ মিনিট জলে ভিজিয়ে শুকিয়ে নেওয়া), ১টা ডিম, গ্রিল করার জন্য পর্যাপ্ত তেল, নুন ও গোলমরিচ স্বাদমতো।

প্রণালী : সমস্ত উপকরণ মিক্সারে দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন, তারপর কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে দিন। এবার এই মিশ্রণ দিয়ে বল তৈরি করে কাটলেটের আকার দিন। এবার কাটলেটগুলি গ্রিল করে নিন। ধনেপাতার চাটনি দিয়ে পরিবেশন করুন।

চিকেনবিট স্যান্ডউইচ

Chicken-Bit Sandwich recipe

উপকরণ : ১টা বড়ো বিট স্লাইস করে সেদ্ধ করা, ২-৩টি চিকেনের টুকরো সেদ্ধ, ৩ বড়ো চামচ চিজ গ্রেট করা, ১ ছোটো চামচ মাখন, ১/২ বড়ো চামচ মাস্টার্ড সস, ১-১ স্লাইস ব্রাউন আর হোয়াইট ব্রেড, নুন ও গোলমরিচ স্বাদমতো।

প্রণালী : ব্রেড স্লাইস-এর উপর মাখনের পরত লাগান। এবার বিটের স্লাইস রাখুন। নুন দিয়ে সেদ্ধ করে রাখা চিকেনটা গ্রেট করে নিয়ে বিটের টুকরোর উপর ছড়িয়ে দিন। স্বাদমতো নুন মরিচ ছড়িয়ে দিন ও চিজ দিন। এবার অন্য ব্রেড স্লাইস-এ মাস্টার্ড সস লাগিয়ে ঢেকে দিন। সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন। এই ডিশটি একাধারে টেস্টি ও পুষ্টিকরও।

বছর শুরুতে বাড়িকে নতুন রঙে রাঙিয়ে নিন

শীতকাল মানেই শীতের হিমেল পরশ, বছর শুরুর হরেক মজা, বাতাসে কেক-এর মিষ্টি গন্ধ, রোদে বসে কমলালেবুর খোসা ছাড়ানো আর বাড়ি ঘরদোরের সাজবদল।

নতুন বছরে নিজের জীবনটাকে আবার নতুন করে সাজিয়ে তুলতে সকলেই চায়। নতুন করে পথচলার শুরু। মানুষের জীবনের মতোই তার সাধের বাড়িটিও নতুন কলেবরে সেজে ওঠার অপেক্ষায় থাকে। তাহলে নতুন বছরই হোক আদর্শ সময় বাড়ির সাজে পরিবর্তন আনার। বাড়ির অন্দরে বিভিন্ন রঙের সমারোহ যেমন অন্দরসজ্জায় নতুনত্ব নিয়ে আসে, তেমনি মানসিক শান্তি এবং মনে আনন্দেরও উদ্রেক করে। কীভাবে সম্ভব আসুন জেনে নেওয়া যাক:

দেয়ালে ব্রাইট কালার্স

বাড়ির অন্দরে কী Colours হবে তাই নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে থাকেন। ঘরের রং ব্রাইট হবে সকলেই চান কারণ তাতে মনে পজিটিভিটি বজায় থাকে। সুতরাং রং বাছাই করাটা নির্ভর করছে আপনার মানসিকতার উপর।

সাদা: শীতের মরশুমে ঘরের অন্দরে সাদা রঙের আধিপত্য অনেকেরই পছন্দ। সাদার সঙ্গে আলাদা আলাদা রঙের মেলবন্ধন ঘটিয়েও ঘর সাজিয়ে তোলা যায়।

ক্রিমসন: বসার ঘরে কী রং করা হবে সেটা অনেকের কাছেই চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে। কিন্তু বসার ঘরে প্রবেশ করে দেয়ালে ক্রিমসন রং, অতিথির মনে নিঃসন্দেহে আলাদা অনুভূতি জাগিয়ে তুলবে।

নীল: নীল রং সব মরশুমেই মানানসই। গাঢ় নীল হোক অথবা হালকা নীল, এটি দেয়ালের সৌন্দর্য শতগুনে বাড়িয়ে তোলে এবং অনেকেই এই Colour পছন্দ করেন।

বাদামি: এই রং-টি মহিলাদের পছন্দের রং হতে পারে কারণ দেয়ালে ময়লা লাগলে সেটা বোঝা যায় না এবং এটি পরিষ্কার করাও খুব সহজ।

কমলা: এই রং অন্দরসজ্জায় দেয় ফ্রেশ লুক। নানা শেড-এ এই রং মার্কেটে সহজলভ্য এবং রং-টি এককথায় লোভনীয়।

আইভরি: শীতকালের জন্য বেস্ট Colour হল আইভরি। এটি ঘরকে উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করে। বসার ঘরে এবং শোবার ঘরে এই রং ব্যবহার করতে পারেন।

সবুজ: সবুজ এমন একটা রং যেটি চোখকে আরাম দেয়। এই রঙের হালকা শেড ব্যবহার করে দেখুন, আপনার ঘর দেখতে অনেক বেশি বড়ো মনে হবে।

গোলাপি: ঘর এবং বারান্দা বড়ো এবং ব্রাইট দেখাতে গোলাপি Colour ব্যবহার করতে পারেন।

লাল: ঘরকে উজ্জ্বল দেখাতে লাল রং ব্যবহার করতে পারেন। লালের সঙ্গে অন্য রং ম্যাচ করিয়েও দেয়াল রাঙিয়ে তুলতে পারেন। লালকে রোমান্টিক রং ধরা হয় তাই শোয়ার ঘরে লালের ব্যবহার বিবাহিত জীবন রোমাঞ্চকর করে তুলতে পারে।

দেয়ালের রঙের সঙ্গে ম্যাচিং পর্দা

বাজারে নানা ধরনের, নানা মেটেরিয়ালের পর্দা পাওয়া যায়। মরশুম অনুযায়ী পর্দার রং, ফ্যাব্রিক কী হবে তা পুরোটাই নির্ভর করে ব্যক্তির মানসিকতার উপর।

বাদামি রং: ঘর যদি খুব বড়ো হয় তাহলে ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলতে এই রঙের কোনও তুলনা হয় না। আর যদি ঘর খুব ছোটো হয়, তাহলে ঘরকে বড়ো দেখাতেও এই রং সাহায্য করে। সবরকম দামেই ভালো মানের পর্দা বাজারে রয়েছে। দেয়ালের ডিজাইনের সঙ্গে ম্যাচ করেও পর্দা নির্বাচন করতে পারেন। শীতকালে টেক্সচারড পর্দা দেখতেও খুব সুন্দর লাগে।

লাল রং: শীতের মরশুমের জন্য লাল রঙের নিজস্ব হটনেস, ঘরের অন্দরসজ্জায় আনে পারফেক্ট লুক। লালের সঙ্গে হলুদের কনট্রাস্ট ঘরের লুক-কে ভাইব্র্যান্ট করে তোলে। গাঢ় রং পছন্দ না হলে হালকা হলুদ রং বাছুন যাতে পর্দা থাকা সত্ত্বেও বাইরের সূর্যের আলো পর্যাপ্ত পরিমাণে ঢুকে ঘর আলোকিত করে তুলতে পারে।

কমলা: এই Colour শীতকালের জন্য আদর্শ। ঘরের ফাঙ্কি এবং ট্রেন্ডি লুক থেকে দৃষ্টি সরাতে কমলা রং ব্যবহার করে দেখুন। এটি ঘরে ফ্রেশ লুক আনতেও সক্ষম।

বোল্ড কালারের পর্দা: ঘরের রং যদি হালকা হয় এবং দেয়ালে কোনওরকম টেক্সচার যদি না থাকে, তাহলে বোল্ড কালারের পর্দা লাগান।

মেরুন এবং উইন্টার ব্লু: শীতে মেরুন রঙের পর্দা ভালো অপশন। সূর্যের রশ্মি শোষণ করে এই রং ঘর গরম রাখতে সহায়তা করে। বাচ্চাদের ঘরে উইন্টার ব্লু পর্দা লাগাতে পারেন অথবা বসার ঘরেও এই রঙের পর্দা খুবই মানানসই। এছাড়াও নিজের পছন্দমতন যে-কোনও কম্বিনেশন বেছে নিয়েও অন্দরসজ্জায় পর্দার মাধ্যমে আনুন পরিবর্তন।

গাছও লাগান রংবেরঙের

সাধারণত শীতকালে রোদের তেজ কম হয় এবং তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে আবহাওয়া কিছুটা হার্শ হয়ে ওঠে। অনেক ফুল গাছ শীতকালে বাঁচে না, শুকিয়ে যায়। কিন্তু শীতকালীন কিছু গাছ আছে যেগুলি ঠান্ডার মরশুমেই বাড়বাড়ন্ত হয়ে ওঠে। মরশুমি ফুলের গাছও নানা রঙের এবং নানা আকারে পাওয়া যায়।

ক্যালেন্ডুলা: এটি বিভিন্ন রঙের হয়। বিশেষ করে, হলুদ এবং গাঢ় কমলা রঙের পাওয়া যায়।

শীতকালীন জুঁইফুল: উজ্জ্বল হলুদ রঙের শীতকালীন জুঁইফুল আপনার ঘরের শোভা বৃদ্ধি করবে।

পিটুনিয়া: শীতের বাগানে লাগাতে পারেন সাদা, হলুদ, গোলাপি, গাঢ় রঙের ক্রিমসন এবং কালচে বেগুনি রঙের পিটুনিয়া।

ইংলিশ প্রিমরোজ: সাদা, হলুদ, কমলা, নীল, গোলাপি, বেগুনি – প্রায় সব রঙেই পাওয়া যায় এই ফুলের গাছ। বাড়ি সাজাবার জন্য এটি খুবই ভালো বিকল্প।

 

 

বিমানযাত্রা সাধারণের জন্য নয়

ইন্ডিগো আর এয়ার ইন্ডিয়া ৫০০টি করে বিমান ক্রয় করেছে এই খবর প্রায় সরকরি উদ্যোগেই সংবাদ মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ যেন সরকারের নিজস্ব কৃতিত্ব! কিন্তু বাস্তব ঘটনা ঠিক এর উলটো। এয়ার ট্রাফিক বাড়ছে মানে বুঝতে হবে যে, দেশে পথ পরিবহণ এবং ট্রেনযাত্রা এখনও হয় সময় সাপেক্ষ আর নয়তো ব্যয়বহুল। সেই কারণেই যার কাছে পয়সা আছে, তিনি চেষ্টা করছেন বিমানেই যাত্রা করতে।

এয়ারপোর্ট গমন ও বিমানযাত্রার বিষয়টি এখন আর বিলাসিতার পর্যায়ে নেই— বরং প্রয়োজনের তালিকায় যোগ হয়েছে। যে-সফরে গন্তব্যে পৌঁছোতে কয়েকটা দিন লেগে যায়, মানুষ তো চেষ্টা করবেই সেই সফরকে কয়েক ঘন্টায় কমিয়ে আনার। আর তাতে যদি কিছু টাকা বেশি দিতে হয়, সেটা মানুষের আর ততটা গায়ে লাগে না। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনে বা ব্যাবসা কিংবা পড়াশোনার সুবাদে বড়ো শহরের মানুষজনকে অন্য শহরে যাতায়াত করতেই হয়। বিমানযাত্রা তাদের ক্ষেত্রে এখন কম সময়ের একটি জরুরি পরিবহণ মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে সমস্ত বিমান কোম্পানি বেসরকারি হাতে হস্তান্তরিত হয়েছে। বিমানগুলিও তাদের নিজস্ব। এয়ারপোর্টগুলি তত্ত্বাবধান করে কোনও না কোনও ঠিকাদার সংস্থা। এত বিমান কোম্পানি তৈরি হয়েছে বলে আবার ভাববেন না যে, এই প্রতিযোগিতার বাজারে বুঝি যাত্রীদের বিশেষ ফায়দা হচ্ছে। পরিবর্তে এয়ারলাইন্স এখন বুঝে গেছে যাত্রীরা ঠেকায় পড়ে তাদেরই দ্বারস্থ হবে। আর এর ফলে তারাও চড়া দামে অত্যন্ত নিম্নমানের পরিষেবা দিতে শুরু করেছে।

সরকার নানা ক্ষেত্রে নীতিগত ভাবে প্রতিটি জিনিসের একটি নির্দিষ্ট মূল্যমান বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু এয়ার টিকিটের কোনও নির্দিষ্ট এমআরপি নেই। ডায়নামিক ফেয়ার-এর নামে এরা যেমন খুশি লুঠ করছে যাত্রীদের। অনেক সময় দু-তিনটি বিমান পরিবহণ সংস্থা একত্রে কোনও একটি সেক্টারের টিকিট মূল্য ২০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। যে-সমস্ত সেক্টারে যাত্রী কম হয়, সেখানে ইচ্ছেমতো বিমান বাতিল করে দেওয়া হয়। আজকাল এয়ারলাইন্সগুলির কোনও নির্দিষ্ট টাইমটেবল পর্যন্ত নেই। কোনও সেক্টারে একদিনে ৫টি বিমান যায় তো পরদিন একই সেক্টারে যায় মাত্র ২টি। আজকাল যেহেতু বুকিংটা পুরোপুরি অনলাইন-এ হয়, ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জানার উপায় থাকে না কোন বিমান বাতিল হল।

চড়া দামের টিকিটের পাশপাশি রয়েছে দুর্মূল্য খাবার, যা আপনাকে এয়ারপোর্ট বা বিমানেই কিনতে হবে। আপনাকে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর ফায়দা করে দিতেই হবে। সরকারও জানে এই ব্যয়বহুলতার কারণেই বিমান যাত্রা সাধারণ মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরের বিষয়।

একসময় শ্রেণিবিভাজন হয়েছিল জাতি ও পেশার নিরিখে। এখন তা সম্পূর্ণ ভাবে অর্থনৈতিক বিভাজনে স্পষ্ট। সাধারণ মানুষ দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হচ্ছে আর ধনলোভীদের অর্থ ফুলে ফেঁপে উঠছে।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব