তিন দিনের নৃত্য উৎসব

ষষ্ঠ বর্ষে পড়ল হালিসহরের ছন্দে ছন্দে নৃত্য গোষ্ঠীর বার্ষিক উৎসব টুইঙ্কল টো। আগামী ২ থেকে ৪ জানুয়ারি নৈহাটীর ঐকতান মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে এই নৃত্য উৎসব। তিন দিনের অনুষ্ঠানে থাকছে ভারতনাট্যম, ওডিসি, কুচিপুরি,ক্যান্দ্যান নৃত্য (শ্রীলঙ্কা)। দেখা যাবে আয়োজক দলের তরফে সুমিতা ভট্টাচার্য্যের নৃত্য নির্দেশনায় নতুন প্রযোজনা  নাট্যনৃত্য ” বিপদ ভঞ্জন শ্রী মধুসূধন”যার নাট্য নির্দেশনায় সৃজক চ্যাটার্জি,  মঞ্চে সৌমেন্দ্র নাথ দত্ত। থাকছে নৃত্য নাট্য “বাল্মিকী প্রতিভা “।উৎসবের অঙ্গ হিসেবেই থাকছে নাচের ওয়ার্কশপ, আলোচনাচক্র, সেমিনার ইত্যাদি।
Dance
প্রোথিতযশা নৃত্য শিল্পী তথা ছন্দে ছন্দে-র কর্ণধার সুমিতা ভট্টাচার্য নির্দেশিত এই উৎসবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন এর ফাষ্ট সেক্রেটারি রঞ্জন সেন,বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ও লেখক গুলাম কুদ্দুস, নৃত্য শিল্পী সুদর্শন চক্রবর্তী, কোহিনুর সেন বরাট, নাট্যকার তীর্থঙ্কর চন্দ , রাজ্যের মন্ত্রী ও অভিনেতা পার্থ ভৌমিক এবং আরও অনেকে। উৎসবে কুচিপুড়ি নৃত্য পারফর্ম করবেন ত্রিপুরার ববি চক্রবর্ত্তী। শ্রীলঙ্কার কান্দ্যান নৃত্য উপস্থাপন করবেন বুদ্ধি ইদিরিসিংহে। থাকছেন টরেন্টো, কানাডার আবৃত্তিকার দেবাশিস গাঙ্গুলি। বাংলাদেশের নৃত্য পরিবেশনায় থাকছেন ঢাকার বহ্নিশিখা। সুমিতা আশাপ্রকাশ করেন, অন্য বছরের মতো এবারও জমজমাট উৎসব হবে সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের বিপুল উৎসাহে।

তরুণদের স্বাধীনতায় সমাজের বিধিনিষেধ কেন

যৌবন এবং একাকীত্ব, শুনতে অদ্ভুত লাগতে পারে কিন্তু এটাই আজকের বাস্তব সত্য। এই নির্বিকার  Young Generation ভেতর থেকে কতটা নিঃসঙ্গ তা জানার জন্য আজকের কিছু তরুণদের সংস্পর্শে আসাটা একান্ত প্রয়োজন :

উদয়ের জন্ম একটি ছোটো শহরে, বেড়েও উঠেছেন সেখানেই, বয়ঃসন্ধির দ্বারপ্রান্তে পা রাখার সাথে সাথেই তিনি একটি বড়ো শহরে বসতি স্থাপনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। নিজের জন্য ভালো জীবনের স্বপ্ন দেখা কি ভুল? এই স্বপ্ন পূরণের জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করা শুরু করলেন। চাকরি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মনে হল যেন একটা নতুন জীবনে তিনি প্রবেশ করেছেন। বড়ো শহরে চলে আসেন তিনি। নতুন চাকরি, নতুন শহর, প্রচুর মানুষের ভালোবাসা। নতুন বন্ধু তৈরি হয়, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তিনি উপলব্ধি করেন যে নতুন শহরের জাদু আর তাঁকে মুগ্ধ করছে না।

প্রিয়জনদের প্রতি ভালোবাসা আর অসচ্ছলতা তাঁর এই নতুন সুখকে হ্রাস করতে শুরু করে। অফিস থেকে বাড়ি ফিরে তিনি একাকীত্ব কাটাতে বন্ধুদের কাছে ছুটে যেতেন। বন্ধুদের কাছে গিয়েও মানসিক শান্তি পেতেন না। মনে হওয়া শুরু হয় যে বন্ধুরাও তাকে এড়াতে চাইছে। এমনকি বন্ধুদের জমায়েতেও একটি অলিখিত প্ল্যাকার্ড ছিল যেখানে লেখা ছিল ‘যারা মদ্যপানে অনিচ্ছুক তাদের জন্য এটি কোনও পার্টি করার জায়গা নয়’। বাবা-মায়ের দেওয়া সংস্কার মদের মতো জিনিসকে স্পর্শ করতে দিত না। এই একাকীত্বে উদয় ধীরে ধীরে হতাশ হতে আরম্ভ করেন। কিছুদিনেই উদয় অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

বিষণ্ণতা একাকীত্ব সৃষ্টির কারণ

আমাদের আরেক বন্ধু মৈনাক। সে তার বাবা-মায়ের সাথে থাকে। একই শহরে চাকরি পেয়েছে। বাবা-মা খুব খুশি, কিন্তু মৈনাক সুখী হয়েও বিষণ্ণ যে, কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জিত হয়নি। কোন স্বাধীনতা, কিসের স্বাধীনতা? উত্তরটি হ’ল আপনি যা চান তা করার স্বাধীনতা।

হ্যাঁ, অনেকেই বলবেন আজকাল কোন বাবা-মা সন্তানদের জীবনে হস্তক্ষেপ করেন! সব সংসারেই কিছু না কিছু সংস্কার থাকে যা বাড়ির ছোটোদের শৈশব থেকেই শেখানো হয়ে থাকে। বাবা-মা কিছু বলুক বা না বলুক, কিন্তু আমরা জানি তারা কী চান। সুতরাং, বন্ধুদের নিজের বাড়িতে ডাকলে খোলাখুলি কথা বলতে পারবেন না। বন্ধুরা যে-ধরনের খাবার বা পানীয় চাইবে সেটা বেশিরভাগ সময়ে বাড়িতে বয়স্ক মানুষ থাকায় খাওয়ানো সম্ভব হয়ে ওঠে না।

আবার আপনি যদি নিজে বন্ধুদের বাড়িতে যান, তবে পার্টির মাঝখানেই আপনাকে উঠতে হবে যে বাবা-মা অপেক্ষা করছেন বলে। বন্ধুদের মজা করাটা অভিভাবকদের থেকে একেবারেই ভিন্ন। মৈনাকের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই, প্রিয়জনদের মধ্যে থেকেও সে একা বোধ করে। এই একাকীত্বই এখন তার বিষণ্ণতার কারণ।

বাবা-মায়ের প্রিয় অবনী, যিনি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসতেন। পড়াশোনা শেষ করার আগেই একজন আইপিএস অফিসারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়ে যায়। তিনি নিজেও একজন আইপিএস অফিসারের মেয়ে ছিলেন। কিন্তু স্বামীর অত্যধিক রাগ এবং স্বামীর মর্যাদাবোধের কারণে আবনী স্বামীকে প্রথম থেকেই ভয় পেয়ে এসেছেন যার ফলে তাঁদের বিবাহিত জীবনে দূরত্ব তৈরি হয়েছে যেটা অবনীর স্বামীও দূর করার চেষ্টা করেননি।

অবনীর বাবা-মা এখন আপশোশ করছেন মেয়ের এত তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দেওয়ার জন্য এবং অবনীও তার একাকীত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তার পড়াশোনা জারি রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সমস্ত দোষ এখন অবনীকেই দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বিয়ের আগে অবনীর ইচ্ছা জানার প্রয়োজনীয়তা তার বাবা-মা কেন বুঝতে পারেননি?

দোষ কার ?

পিঙ্কি একজন প্রফেসরের মেয়ে, যে মডেলিং করতে ভালোবাসত। কিন্তু পড়াশোনার এই পরিবেশে তার ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা বোঝার জন্য পরিবারে কেউই ছিল না। কিন্তু পিঙ্কি আকাশ স্পর্শ করার স্বপ্ন দেখত। কিন্তু সাহসের অভাব কোথায় ছিল, যে তার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল! সে সিদ্ধান্ত নিয়ে মুম্বাই চলে গেল। কিন্তু পরিবেশ তাকে এতটাই আঘাত করেছিল যে তাকে শেষমেশ কল গার্ল উপাধিতে ভূষিত হতে হয়েছিল।

তার বাবা-মা যদি তার স্বপ্নকে বোঝার চেষ্টা করতেন এবং তাকে সমর্থন করতেন, আজ হয়তো সে তার লক্ষ্যে পৌঁছোবার চেষ্টা করত এবং একদিন না একদিন ঠিক লক্ষ্যে পৌঁছেও যেত।

পিঙ্কির বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তই কি পিঙ্কির দুর্দশার একমাত্র কারণ? হ্যাঁ, কিছুটা হলেও হয়তো তাই, কিন্তু কেন সে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল? আমাদের সমাজের উচিত এর উত্তর দেওয়া। আমাদের সমাজ কতদিন আর যুবতি মেয়েদের তার পছন্দের কাজ করা থেকে বিরত রাখবে এবং যদি তা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে অনেক সময় ফলাফল এরকম বা আরও খারাপ হবে।

এমন পরিস্থিতিতে সব কিছুতে Young Generation-কে দোষারোপ করা বন্ধ করা দরকার। সমাজেরও উচিত তরুণদের মনের দিকে নজর দেওয়া এবং দেখা যে, তাদেরও স্বপ্ন আছে, তারাও ইচ্ছা অনুযায়ী কিছু করতে চায় এবং সেগুলি অর্জন করতে তারা যে-কোনও কিছু করতে পিছপা নয়।

স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার স্বাধীনতা

আজকের যুবসমাজের প্রশ্ন, সমাজ আর কতদিন সম্মানের নামে তরুণদের মনের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেবে? বাবা-মা কখন তাদের বাচ্চাদের সাথে বড়োদের মতো কথা বলতে এবং আচরণ করতে শিখবেন? ছোটো বাচ্চাদেরও অভিভাবকদের জন্য প্রাপ্তবয়স্ক পিতামাতার মতো আচরণ করতে শেখাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ।

একাকীত্বে ভোগা হতাশাগ্রস্ত তরুণদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা বারবার আধুনিক সমাজ কে সতর্ক করছে তাদের যৌবন বাঁচাতে, তাদের একাকীত্ব থেকে বের করে আনতে, আর এর জন্য পিতামাতাকে অবশ্যই তাদের নিজস্ব বন্ধু হতে হবে এবং তারা যা চায় তা বলার এবং করার স্বাধীনতা দিতে হবে। যুবসমাজের সুখের জন্য সমাজের একবার চেষ্টা করা উচিত। যুবসমাজ আজ একটাই কথা বলতে চায়, ‘আমাদের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার স্বাধীনতা দিন এবং আমাদের সমর্থন করুন যাতে আমরা আমাদের হতাশা থেকে বেরিয়ে আসতে পারি।’

 

 

 

 

নতুন ছন্দে বাঁচুন আনন্দে (শেষ পর্ব)

একটু বিচক্ষণতার সঙ্গে চলতে পারলেই দেখবেন সুস্থ-সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকার আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। এই যেমন আমাদের এখন অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া উচিত, ঠিক তেমনই অনেকটা সাশ্রয়ীও হওয়া উচিত। এই বিষয়ে রইল বিশদ পরামর্শ।

সন্তানের জন্য সঞ্চয়

যে যত বিচক্ষণ, সে ততই আগাম পরিকল্পনার পথ বেছে নেয়। এই যেমন সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। প্রথমেই প্রতি মাসে কিছু টাকা রেখে দিন সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য। এখন অনেক ব্যাংক এমন বিশেষ কিছু যোজনা যুক্ত করেছে, যা খুবই লাভদায়ক। এক্ষেত্রে কন্যাসন্তানের জন্যও রয়েছে ‘সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা’। এই যোজনায় সুদের পরিমাণ বেশ ভালো। প্রতি মাসে যদি ৫০০ টাকা করেও জমাতে পারেন সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য, তাহলে আপনিও যেমন ভবিষ্যতে চিন্তামুক্ত থাকতে পারবেন, ঠিক তেমনই আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎও অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে। অবশ্য শুধু ব্যাংক-ই নয়, পোস্ট অফিসেও এমন অনেক যোজনা রয়েছে, যা আর্থিক ভাবে সমৃদ্ধ করবে আপনাকে।

সুরক্ষা বিমা

এই জীবন সুরক্ষা বিমার দুটি ভাগ আছে। প্রথমটি স্বাস্থ্যবিমা এবং অন্যটি জীবনবিমা। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট টাকা জমা দিতে হবে বিমা কোম্পানিকে। জমা দেওয়া টাকার পরিমাণ নির্ভর করবে বয়স এবং বিমারাশির পরিমাণের উপর। স্বাস্থ্য ভালো থাকলে যেমন আপনার জীবন বাঁচবে, ঠিক তেমনই হঠাৎ যদি পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু ঘটে তাহলে জীবিত সদস্যরা মোটা অঙ্কের টাকা পেয়ে যাবেন বিমা কোম্পানির থেকে। তাই পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীর জীবনবিমা করিয়ে রাখা উচিত। এতে তার উপর নির্ভরশীল পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিপদে পড়বেন না উপার্জনকারীর মৃত্যু ঘটলেও।

আর মনে রাখবেন, প্রতিদিন যেভাবে চিকিৎসার খরচ বেড়ে চলছে, তাতে মেডিকেল ইনশিয়োরেন্স করিয়ে রাখা জরুরি। অনেক দেশ আছে যেখানে চিকিৎসা বিমা বাধ্যতামূলক। এই বিমা না থাকলে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যায় না। তাই মেডিকেল ইমারজেন্সির সময় যাতে বিপদে না পড়েন, তার জন্য স্বাস্থ্যবিমা করিয়ে রাখা-ই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

এছাড়া, আপনার গাড়ি-বাড়ির বিমাও করিয়ে রাখুন। এই সুরক্ষা বিমার মধ্যে এখন ট্রাভেলিং ইনশিয়োরেন্স এবং ওয়েডিং ইনশিয়োরেন্সও যুক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিলে আরও বিশদে জানতে পারবেন।

সাশ্রয়

মনে রাখবেন, সঞ্চয় বাড়াতে হলে সাশ্রয়ী হতে হবে। সচেতন থেকে যত বেশি খরচ কমাতে পারবেন, তত বেশি সঞ্চয় করতে পারবেন। এর জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। অপ্রয়োজনে আলো, পাখা, গিজার, এগজস্ট ফ্যান কিংবা এয়ারকন্ডিশনার বন্ধ রাখতে হবে। কম্পিউটার কিংবা মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট-এর খরচ ইত্যাদিও কমাতে হবে। এছাড়া ঘনঘন রেস্তোরাঁয় খাওয়া বন্ধ করতে হবে এবং বন্ধ করতে হবে অপ্রয়োজনীয় শপিং। প্রতিদিন পাঁচরকম রান্নার আয়োজন না করে মাঝেমধ্যে ভালো কিছু খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করলেও রান্নার গ্যাস এবং রান্নার সামগ্রীর খরচ বাঁচানো যাবে। সেইসঙ্গে, খুব প্রয়োজন না হলে যাতাযাতের জন্য ক্যাব ভাড়া না করে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করলেও প্রতি মাসে অনেক টাকা বাঁচাতে পারবেন। আর কাছাকাছি কোথাও যাওয়ার জন্য সাইকেল ব্যবহার করলে তাও সাশ্রয়ী হয়ে উঠবে।

স্বাস্থ্য

সবাই জানেন যে, স্বাস্থ্য-ই অন্যতম সম্পদ। শারীরিক স্বাস্থ্য এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে জীবনের অনেক সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায় সহজে। তাই, নিয়মিত শরীরচর্চা করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো পুষ্টিকর খাবার খান। শাকসবজি এবং অন্যান্য ফলমূল ইত্যাদি ফাইবারজাতীয় খাবার খেয়ে স্বাস্থ্যরক্ষা করুন। প্রতিদিন পরিমাণ মতো (তিন থেকে চার লিটার) জল পান করুন এবং রাতে অন্তত ছয় থেকে আট ঘন্টা ঘুমোন।

একটানা মোবাইল ফোন-এ চোখ রাখবেন না কিংবা একটানা ল্যাপটপ-এ বসে কাজ করবেন না, মাঝেমধ্যে হাঁটাচলা করুন। রাতে মশারি টাঙিয়ে শোবেন। ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখুন। বাড়ির আশেপাশে কোথাও জল জমতে দেবেন না কিংবা ময়লা জমিয়ে রাখবেন না।

মানসিক স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটান এবং মাঝেমধ্যে বাইরে কোথাও সুন্দর জায়গায় বেড়িয়ে আসুন। কোনও কাজ জমিয়ে রাখবেন না। কারণ, কাজ জমিয়ে রাখলে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। সর্বদা পজিটিভ ভাবনাচিন্তা রাখুন। কোনও সমস্যায় পড়লে শুভাকাঙ্ক্ষীর সাহায্য এবং পরামর্শ নিন।

(সমাপ্ত)

নতুন ছন্দে বাঁচুন আনন্দে (পর্ব-০১)

জীবন হয়তো কবিতার মতো নয়, বরং অনেকটাই গদ্যময়। তবুও জীবনকে ছন্দে বেঁধে রাখতে পারলেই অনেকটা হাসিখুশিতে থাকা যায়। কারণ জীবন কোন খাতে কখন বয়ে চলে, তা আমরা কেউই জানি না। এই যেমন ‘করোনা’ আমাদের জীবন অনেকটাই বদলে দিয়েছে। কত মানুষ তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, কত মানুষ কর্মহীন হয়ে অসহায় জীবনযাপন করছেন, কত মানুষের আয় কমে গেছে। কিন্তু জীবন তো আর থেমে থাকে না, সে এগিয়ে চলে তার নিজস্ব ছন্দে। অতএব সময় এবং নদীর মতো জীবনও বহমান। তাই প্রতিকূলতা কাটিয়ে এগিয়ে যেতে পারলেই আসবে সাফল্য। কিন্তু কীভাবে, কোন পথে, কোন কৌশলে এগোলে সাফল্যলাভ সম্ভব, তা হয়তো সবার জানা নেই।

সম্পর্ক অটুট রাখুন

জীবনকে সুন্দর করে তুলতে, বড়ো ভূমিকায় থাকে সম্পর্ক। যার সম্পর্কের বাঁধন যত মজবুত, সে জীবনে ততই সফল। মনে রাখবেন, যার যতই অর্থবল থাকুক না কেন, বিপদে পড়লে বোঝা যায় অর্থের পাশাপাশি লোকবলও কতটা প্রয়োজন। আসলে একা মানেই বেশিরভাগ সময় আমরা বোকা হয়ে যাই, বিশেষত বিপদের সময়। তখন সবকিছু জেনেও যেন কেমন অসহায় ভাবে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাই। অর্থাৎ, একা থাকলে ঘাবড়ে গিয়ে সঠিক সময়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় না অনেকসময়। শুধু তাই নয়, অসুখ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে আন্তরিক সেবাদান নিজের পরিবারের লোকজন ছাড়া প্রায় সম্ভব নয় বললেই চলে। টাকা দিয়ে লোক রেখে চব্বিশ ঘণ্টা সঠিক ভাবে সেবা নেওয়া সম্ভব হয় না বেশিরভাগ ক্ষেত্রে।

অবশ্য শুধু এই বিষয়টি-ই নয়, আর্থিক কষ্টের দিনে কিংবা কোনও জটিল পরিস্থিতির সময় মাথা ঠান্ডা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য শুভাকাঙ্ক্ষী মানুষের সাহায্য লাগে। তবে মনে রাখবেন, একতরফা ভালোবাসা পাওয়া যায় না। অন্যের থেকে ভালোবাসা পেতে হলে আপনাকেও আন্তরিক ভাবে ভালোবাসতে হবে অন্যকে। অন্যের বিপদের দিনে অর্থ এবং শ্রম দিয়ে নির্দ্বিধায় সাহায্য করতে হবে আপনাকেও। মনে রাখবেন, সম্পর্ক-ই সবচেয়ে বড়ো সম্পদ জীবনে। সম্পর্কের ভিত যত মজবুত হবে, জীবনের সমস্ত প্রতিকূলতাও তত সহজেই দূর হয়ে যাবে।

কোনও অসাধু লোক আপনার ক্ষতি করার আগে দু’বার ভাববে এবং ভয় করবে কারণ সে জানে আপনার লোকবল আছে। শুধু তাই নয়, ভালোবাসার লোকজন থাকলে আপনার মনের জোরও অনেক বেড়ে যাবে, কোনও অসহায়তাই দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তাছাড়া, সবাই মিলে কাজ করলে সবকাজই অনেক সহজ হয়ে যাবে। আর এই সম্পর্কের ভিত শক্ত করার জন্য নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন সবার সঙ্গে এবং মাঝেমধ্যে দেখা করে উপহার সামগ্রীও দিন।

পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন কোনওরকম দূরত্ব না রেখে। সাধ্যমতো পরস্পরকে সময় দিন, ভালোমন্দ ভাগ করে নিন, মেতে থাকুন হইহুল্লোড়ে।

সঞ্চয় করুন

জীবনে সুসম্পর্কের পর সবচেয়ে বড়ো ভূমিকায় থাকে সঞ্চয়ের বিষয়টি। সম্পূর্ণ না হলেও, অনেক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে অর্থ। তাই টাকা জমান সাধ্যমতো। কর্মজীবনের পর থেকে মাথায় রাখুন অর্থ সঞ্চয়ের বিষয়টি। প্রথমে দেখে নিন আপনার মাসিক আয় কত, তারপর সেইমতো ব্যয় করুন। কোন খাতে কত খরচ করতেই হবে তা প্রথমে লিখুন। এরপর মোট খরচের সঙ্গে মিসলেনিয়াস খাতে আরও কিছু টাকা ধরে নিয়ে আয়ের পরিমাণ থেকে সেই টাকা বাদ দিয়ে দেখুন কত টাকা বাঁচাতে পারছেন। যতটুকু টাকা বাঁচাতে পারবেন, সেই টাকা বাড়িতে না রেখে ব্যাংক-এ রাখুন। কারণ, ব্যাংক-এ টাকা রাখলে তা যেমন সুরক্ষিত থাকবে অনেকটাই, ঠিক তেমনই মাসে মাসে সুদের টাকাও হবে বাড়তি পাওনা।

অবশ্য শুধু ব্যাংক-এ টাকা জমানোই নয়, সোনার গয়নাও কিনে রাখতে পারেন। বিপদের দিনে এই স্বর্ণালঙ্কার খুব কাজে লাগবে। এ প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয় উল্লেখ্য, কিছুদিন টাকা জমিয়ে জমি কিংবা বাড়িও কিনে রাখতে পারেন। কারণ, জমি-বাড়িও একরকম সঞ্চয়। শুধু তাই নয়, পিএফ বা পিপিএফ-ও বড়ো সঞ্চয়ের মাধ্যম। যারা চাকরি করেন, তারা এই সুবিধা নিতে পারেন। তবে শেয়ারবাজার কিংবা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করার আগে ভালো ভাবে খোঁজখবর নেওয়া উচিত।

(ক্রমশ…)

কেরলের পুভার দ্বীপে (পর্ব ১)

কন্যাকুমারী বেড়াতে এলে এই অফবিট জায়গাটা মিস করা ঠিক হবে না। এই ভেবে আমরাও কন্যাকুমারী থেকে সকাল সকাল বেরিয়ে প্রথমেই সূচিন্দ্রম মন্দির দর্শন করলাম। এবার পদ্মনাভপুরম প্যালেস ঘুরে চলেছি পুভারের পথে। দুর্দান্ত সড়ক পথ। রাস্তার দু’দিকে জংলি গাছপালার সাথে নারকেল সুপারির হাত ধরাধরি উপস্থিতি! যেন সবুজে সাজানো ছবির সমান্তরাল এগিয়ে চলা। বাড়তি পাওনা লাল টালির ছাদওয়ালা কেরলিয়ান বাড়ি ঘর। ঘন্টা তিনেক পর ছোটো একটা গঞ্জ এলাকায় এসে পড়লাম। এবার হাইওয়ে ছেড়ে গাড়ি বাঁ-দিকে ঘুরে গেল। ঘড়িতে দুপুর সাড়ে বারোটার কাছাকাছি। পৌঁছে গেলাম আমাদের কাঙ্খিত পুভার বোটিং পয়েন্টে।

খালের ধারে নিবিড় নারকেল গাছের রৌদ্রছায়ার মধ্যে কয়েকটি টিনের শেডের অফিসঘর। সংলগ্ন প্রত্যেকটি জেটিঘাটে ছোটো বড়ো সব মোটর বোট নোঙর করা। বেসরকারি এই সব বোটিং কাউন্টারের দেয়ালে পুভারের বোট রাইডের কিছু ছবিসহ রয়েছে রাইডের রেট চার্ট। এই চার্টের বাইরেও রীতিমতো দরদাম চলে। আমাদের ড্রাইভারের চেনাজানা এক কাউন্টারে উপস্থিত হলাম। ম্যানেজার ভদ্রলোক রেট চার্ট দেখিয়ে, রীতিমতো একটা ডেমো দিয়ে দিলেন। আমাদের ছয়জনের জন্য শেষ পর্যন্ত মাথাপিছু ৬০০টাকায় রাজি হলেন। তাতে বোঝা গেল এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও মূল্য নির্ধারিত নেই। পেমেন্ট মেটাতেই পেয়ে গেলাম একটা কালারফুল মোটর বোট। বোটে উঠেই সকলে লাইফ জ্যাকেট পরে নিলাম। আওয়াজ করে চলতে শুরু করল বোট। শুরু হল এক অজানা জল দুনিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা।

neiyar beach

নেইয়ার নদীর সঙ্গমস্থল বেলাভূমির নামই পুভার। যা গোল্ডেন স্যান্ড বিচ নামেও পরিচিত। নেইয়ার নদীর বিভিন্ন শাখা প্রশাখা সৃষ্টি করেছে এই ব্যাকওয়াটারের। বেশ মনমাতানো পরিবেশ। দুদিকের ঘন জঙ্গলের মাঝে পরপর বোট চলেছে পুভারের পথে। এ এক মনোমুগ্ধকর জার্নি। পাশাপাশি বোটের অল্প বয়সি ছেলেমেয়েরা দারুণ মজা করছে। আলাপুজা কোল্লামের জল-দুনিয়ার কথা কম বেশি সকলেরই জানা। কিন্তু আরব সাগর পাড়ে এই খাঁড়ি রাজ্যের কথা অনেকের কাছেই হয়তো অজানা। শোনা যায় ভাগ্য বিপর্যয়ে সিংহাসন চ্যুত হয়ে ত্রিবাঙ্কুরের রাজা মার্তণ্ড ভর্মা এই নেইয়ার নদী পাড়ের কোনও এক গ্রামে আশ্রয় নিয়ে ছিলেন।

জল কেটে এগিয়ে চলেছে বোট। মাইলের পর মাইল এই ব্যাকওয়াটারের ব্যাপ্তি। চলার পথে চোখে ধরা পড়ছে ছোটো ছোটো গ্রাম-জীবনের যাপনচিত্র। বোঝাই যাচ্ছে তাদের রুটি রুজি বাঁধা আছে এই জল-দুনিয়ায়। দুপাশে নারকেল, সুপারি, নলখাগড়া, ইউক্যালিপটাস, আর নাম না জানা বিচিত্র সব ওষধি গাছ। আছে ম্যানগ্রোভের সঙ্গে কেয়ার জঙ্গল। মাটির উপর উন্নত শ্বাসমূল – । সব মিলিয়ে একটা গা ছমছমে অনুভূতি।

(চলবে)

ত্বক এবং চুলের স্বাস্থ্যরক্ষা (পর্ব-০২)

উপযুক্ত আহার এবং সঠিক ভাবে হজম না হলে, তার কুপ্রভাব পড়ে ত্বক এবং চুলে। তাই কী খাচ্ছেন এবং তা সঠিক ভাবে হজম হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষ করে যাদের ফুড সেন্সিটিভিটি বা অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তাদের এই বিষয়ে বিশেষ ভাবে যত্ন নেওয়া দরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টস-এর ফোটো প্রোটেক্টিভ ক্ষমতা ত্বককে সুরক্ষা দেয়। এবার জেনে নিন আর কী কী কারণে ত্বক এবং চুলের স্বাস্থ্য নির্ভর করে।

ত্বকের স্বাস্থ্যরক্ষায় জিংক-এর কার্যকারিতা

জিংক পরোক্ষ ভাবে আমাদের ত্বককে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণাবলীর কারণে, জিংক ব্রণ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

জিংক ত্বকের স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং ক্ষত নিরাময়ের জন্য প্রয়োজন এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। এটি লিভার থেকে ভিটামিন এ পরিবহণ করে এবং ওমেগা থ্রি-এর বিপাক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। এমনকী জিংক-এর হালকা ঘাটতি কোলাজেন উৎপাদন, ফ্যাটি অ্যাসিড বিপাক এবং ক্ষত নিরাময়কে ব্যাহত করতে পারে। ত্বকে তুলনামূলক ভাবে উচ্চ জিংক কন্টেন্ট (৫ শতাংশ), প্রাথমিক ভাবে এপিডার্মিসের মধ্যে পাওয়া যায়।

ত্বকের জন্য আয়রন-এর স্বাস্থ্য উপকারিতা

সাম্প্রতিক গবেষণা অনুসারে, আয়রন একাধিক উপায়ে ত্বকের উপকার করে। কালো দাগ এবং চোখের নীচের ভাঁজ দূর করতেও সাহায্য করে আয়রন। তাই, প্রতিদিন আয়রন-যুক্ত খাবার খান। কারও কারও ত্বকে যে উজ্জ্বল গোলাপি আভা থাকে, তা স্বাস্থ্যকর লোহিত রক্তকণিকা-র (RBCs) কারণে হয়। যদি আপনার ত্বকের টোন অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে হয়, তাহলে সম্ভবত আপনার রক্তে আরবিসি-এর সংখ্যা কম। এই ক্ষেত্রে, আপনার খাদ্যতালিকায় ভালো পরিমাণে মাংস এবং সবুজ শাকসবজি যোগ করা উচিত। এটি আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করবে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, আয়রন ত্বকের ক্ষত নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকরী একটি পুষ্টি উপাদান। যেহেতু আয়রন লোহিত রক্তকণিকা (RBCs) তৈরি করে, তাই এটি ক্ষত নিরাময়ের জন্য অতিরিক্ত উপকারী। তাছাড়া, আয়রন সাপ্লিমেন্টের কিছু উল্লেখযোগ্য সুবিধা রয়েছে।

চুলের স্বাস্থ্যরক্ষা করবেন কীভাবে?

ভিটামিন বি-১২ চুল মজবুত করে। ভিটামিন বি-১২ কোবালামিন নামেও পরিচিত। বি কমপ্লেক্স গ্রুপের অংশ, প্রাথমিক ভাবে দুগ্ধজাত পণ্য এবং ডিম ও মাংসে পাওয়া যায়। বি-১২ শিশুর বিকাশ, কোশ বিভাজনের সময় স্নায়ুতন্ত্র এবং ডিএনএ-র জন্য প্রয়োজন। ভিটামিন বি ১২-এর ঘাটতির ফলে রক্তাল্পতা হতে পারে।

চুলের স্বাস্থ্যে আয়রন এর ভূমিকা

আয়রন আপনার শরীরকে হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে। এটি আপনার লোহিত রক্তকণিকার প্রোটিন। শরীরের কোশগুলিতে অক্সিজেনও বহন করে আয়রন। যদি আপনার যথেষ্ট আয়রন না থাকে, তাহলে আপনার রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি হতে পারবে না। হিমোগ্লোবিন আপনার শরীরের কোশগুলির বৃদ্ধি এবং মেরামতের জন্য অক্সিজেন বহন করে, যা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা নেয়।

আপনি যদি মনে করেন যে, আপনার চুল পড়া আয়রনের ঘাটতির সঙ্গে সম্পর্কিত, তাহলে আপনার আয়রনের মাত্রা পরিমাপ করার জন্য একজন চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। আপনার চিকিৎসক সম্ভবত একটি ফেরিটিন স্তরের রক্ত পরীক্ষার আদেশ দেবেন, যা ফেরিটিন নামক প্রোটিনের মাত্রা পরিমাপ করবে এবং সমস্যা নির্ণয় করবে। যদি আপনার আয়রনের মাত্রা কম দেখায়, তাহলে আপনি আয়রন সাপ্লিমেন্ট দিয়ে এর চিকিৎসা করতে পারেন।

চুলের স্বাস্থ্যের জন্য জিংক

চুলের স্বাস্থ্যের জন্য জিংক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গবেষণায় ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। জিংক চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, চুলের ফলিকলকে শক্তিশালী করে এবং ঘনত্ব বাড়ায়। জিংক-এর ঘাটতি যেমন চুল পড়ার কারণ হতে পারে, তেমনই জিংক-এর অতিরিক্ত মাত্রায়ও চুল পড়ে যেতে পারে। তাই জিংক থাকা চাই সঠিক মাত্রায়।

জিংক চুলের টিস্যু বৃদ্ধি, মেরামত এবং রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, জিংক- এর ঘাটতির কারণে চুল ভঙ্গুর হতে পারে এবং চুল পাতলা হতে পারে। জিংক-এর ঘাটতির কারণে চুলের বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটলে চুল ভেঙে যেতে পারে এবং চুলের বৃদ্ধি ও বিকাশ ধীর হয়ে যেতে পারে। আসলে, দুর্বল চুলের স্বাস্থ্য জিংক-এর অভাবের একটি সাধারণ লক্ষণ।

চুলের স্বাস্থ্যে ভিটামিন ‘সি’-র ভূমিকা

ভিটামিন সি, যা প্রোটিন তৈরি করে। ভিটামিন সি চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে, চুল পড়া কমায় এবং চুলের বৃদ্ধি ঘটায়। ভিটামিন সি-র অভাবে চুল শুষ্ক ও ফেটে যেতে পারে। একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং প্রাকৃতিক কোলাজেন বুস্টার হল ভিটামিন সি। এটি চুল এবং মাথার ত্বকের পাশাপাশি মুখের জন্যও উপকারী।

Cake-এ হোক মিষ্টিমুখ

বছর প্রায় শেষ হতে চলল। বড়োদিনের উৎসবে মেতেছে গোটা দেশ এখন। শীতও এবার স্বমহিমায় ফিরে এসেছে। বড়োদিন মানেই বিভিন্ন রকমারি কেক নিয়ে মাতামাতি। এবছরও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে, বড়োদিনের কেক প্রথম তৈরি হয়েছিল দক্ষিণের রাজ্য কেরালায়। উনিশ শতকের শেষ দিকে মুরডক ব্রাউন নামে এক স্কটিশ সাহেবের উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল বড়োদিনের কেক। তৈরি হয়েছিল কেরালার একটি বিস্কুট কারখানায় স্থানীয় সেই কারখানার মালিকের তদারকিতে। এই সুস্বাদু কেক খেয়ে সাহেব অভিভূত হয়ে পড়েন এবং ভারতেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে বিদেশের বড়োদিনের কেক তৈরির ঐতিহ্য। বিশেষত নানা রকম ফল মিশ্রিত কেক-ই বড়োদিনের বৈশিষ্ট্য ঠিকই কিন্তু এবারে রইল আলাদা কিছু কেকের রেসিপি যা সহজেই সামান্য কিছু উপাদান দিয়ে বাড়িতেই চটজলদি তৈরি করে ফেলতে পারবেন।

পাইনঅ্যাপল কাপ Cake

উপকরণ : ১ ছোটো চামচ পাইনঅ্যাপল এসেন্স, প্রয়োজনমতো ক্রিম, ২-৩ ফোঁটা হলুদ রং, কালার্ড চকোলেট স্প্রিংকল্স, আনারসের টুকরো অল্প।

প্রণালী : ভ্যানিলা স্পঞ্জ কেকের মতো করেই মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার এতে ১ ছোটো চামচ পাইনঅ্যাপল এসেন্স ভালো ভাবে মেশান। এবার মাখন মাখানো মোল্ড-এর অর্ধেক পূর্ণ করে মিশ্রণ ঢালুন ও আভেনে ঢুকিয়ে ১৬০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ১০ মিনিট বেক করুন। ঠান্ডা হলে হলুদ রং, পাইনঅ্যাপল এসেন্স ও ক্রিম ভালো ভাবে মেশান। প্রত্যেকটি কাপ মোল্ড-এ কেকের উপর এই মিশ্রণ দিয়ে সাজিয়ে, পাইনঅ্যাপলকুচি ও কালার্ড চকোলেট স্প্রিংকল্স ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

ভ্যানিলা স্পঞ্জ Cake

উপকরণ : ১০০ গ্রাম ময়দা, ৩০ গ্রাম মাখন, ৩টি ডিম, ৯০ গ্রাম ক্যাস্টর সুগার, ১ ছোটো চামচ বেকিং পাউডার, ১-২ ফোঁটা ভ্যানিলা এসেন্স।

প্রণালী : ময়দা আর বেকিং পাউডার মেশান, ডিম ফাটিয়ে মাখন ও ক্যাস্টর সুগারের সঙ্গে ফেটাতে থাকুন। এবার অল্প অল্প করে ময়দা মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। ভ্যানিলা এসেন্স দিন। ভালো ভাবে মিশিয়ে মাখন মাখানো বেকিং ডিশ-এ মিশ্রণ ঢেলে আভেনে ২০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ১৫ মিনিট বেক করুন। কেক তৈরি।

 

চকোলেট মাফিনস

উপকরণ : ১ কাপ ময়দা, ১ কাপ ক্যাস্টর সুগার, ১ ছোটো চামচ বেকিং পাউডার, ১০০ গ্রাম মাখন, ১০০ গ্রাম ডার্ক চকোলেট, ১ কাপ দুধ, ১ ছোটো চামচ ভ্যানিলা এসেন্স, ২ বড়ো চামচ ভিনিগার, ২ বড়ো চামচ কোকো পাউডার।

প্রণালী : একটি বোল-এ ময়দা, বেকিং পাউডার ও চিনি মিশিয়ে নিন। এবার কোকো পাউডার ও মাখন একসঙ্গে মেশান। ময়দা মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। দুধ ও ভিনিগার দিয়ে মিশ্রণটি মোলায়েম করুন। এবার ডার্ক চকোলেট মাইক্রোওয়েভ আভেনে ১ মিনিট রেখে গলিয়ে নিন ও ময়দার সঙ্গে মিশিয়ে দিন। ভ্যানিলা এসেন্স দিয়ে মাখন লাগানো মোল্ড কাপ-এর ৩/৪ অংশ ভরে দিন। ১৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড-এ ১০ মিনিট বেক করুন।

 

New Year–এ প্রেম হোক, প্রত্যাখ্যান নয়

প্রোপোজ করে বারবার প্রত্যাখ্যান কপালে জুটেছে— এমন প্রেমিকের সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। এমন নয় তো, প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার সময় আপনি এই ভুলগুলি করছেন? মেয়েরা কিছু কিছু ব্যাপারে কিন্তু একটু বেশি স্পর্শকাতর হয়।প্রেমিকের থেকে তারা বিশেষ কিছু প্রত্যাশা করে। সেই প্রত্যাশা না পূরণ হলে, প্রেমের প্রস্তাব মেয়েরা ফিরিয়ে দিতে মোটেই দ্বিধা বোধ করে না।

নতুন বছরে তাহলে আপনার ভুল শুধরে নিন। নতুন করে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার আগে, একটু প্রস্তুত হয়ে নিতে ক্ষতি কী! কী কী ভুল করা চলবে না, সে বিষয়ে আমরা আলোকপাত করছি।

অ্যাটিটিউড ভরা প্রস্তাব

বহুদিনের ক্রাশ৷ অনেক কিছু ভেবে সাহস জুটিয়ে হয়তো প্রস্তাব দিয়ে বসলেন, কিন্তু তাও যেন বেসুরো বাজল। এমন কিন্তু আকছার হয়। বিশেষ করে তখন, যখন আপনার প্রস্তাব দেওয়ার ভঙ্গিতে অকারণ অ্যাটিটিউড মিশে থাকে। যাদের মেল ইগো একটু বেশি জোরালো, এই সমস্যা তাদের হয়। তারা অসচেতন ভাবে মনে পুষে রাখে একটি ভাবনা যে, প্রস্তাব তার দিক থেকে যাচ্ছে মানেই, গার্লফ্রেন্ডের সামনে কিছুটা নতিস্বীকার করা হচ্ছে। এটাই তাদের মধ্যে একধরনের অ্যাটিটিউড-এর সঞ্চার করে এবং প্রেমের প্রস্তাব রিজেক্টেড হয়।

মনে রাখবেন মেয়েরা মোটেই অ্যাটিটিউড-এ পরিপূর্ণ প্রেমিক পছন্দ করে না। তারা ভাবতে পারে প্রস্তাব দেওয়ার সময়ই যার এত আত্মাভিমান— না জানি পরে প্রতি পদক্ষেপেই যদি প্রেমিক এমন অ্যাটিটিউড দেখায় !

পরামর্শ: তাই ক্রাশকে প্রোপোজ করতে হলে, নো অ্যাটিটিউড অ্যাপ্রোচ। যখনই বান্ধবীর কাছে প্রেমের প্রস্তাব নিয়ে যাবেন, খেয়াল রাখবেন আপনার কথা বলার ধরন যেন খুব সফ্‌ট হয়। এটাই কিন্তু তাকে আপনার প্রতি আকর্ষিত করবে এবং আপনি প্রেমে ব্যর্থ হবেন না।

লুকসএর ব্যাপারে সচেতনতা

এমন নয়তো, আপনি বারবার রিজেক্টেড হচ্ছেন আপনার লুক্স-এর ব্যাপারে উদাসীন হওয়ার কারণে? মনে রাখবেন মেয়েরা কিন্তু টিপটপ এবং ফ্যাশনেবল প্রেমিক পছন্দ করে। তার মানে এই নয় যে, আপনাকে দারুণ দামি ব্র্যান্ডেড জামাকাপড়ই পরতে হবে। কিন্তু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, আর ড্রেসিং সেন্স থাকা আবশ্যক। প্রত্যেক মেয়েই চায় তার পার্টনারকে দেখতে সুন্দর লাগুক। পোশাকে এবং আচরণে গুডলুকিং ম্যান হওয়া বাঞ্ছনীয়৷ কথাতেই বলে, ‘পহেলে দর্শনধারী পিছলে গুণবিচারি’। তাই চটপটে কথা হলেই হবে না, চেহারাতেও থাকতে হবে চাকচিক্য।

পরামর্শ: ক্রাশ-কে প্রোপোজ করতে হলে নিজেকে খানিকটা ধোপদুরস্ত করে তুলুন। ক্লিন শেভ হলে পরিষ্কার করে দাড়ি কামান। দাড়ি রাখলে সেটাকে যত্ন করে ট্রিম করুন। পোশাক পরিচ্ছন্ন পরুন, জুতো যেন পরিষ্কার হয়।

সিগন্যাল পেলে তবেই প্রোপোজ

অনেকে ইশারা বোঝেন না। সেই সমস্ত পুরুষরাই বেশি রিজেক্টেড হয়, যারা মেয়েটির মন পড়তে ব্যর্থ। অর্থাৎ আদৌ মেয়েটি তাকে পছন্দ করে কিনা সেটা প্রেমিকের আগে বুঝে নেওয়া জরুরি। মেয়েরা সেই সমস্ত প্রেমিক অপছন্দ করে, যারা অতিরিক্ত হ্যাংলামো করে, কিংবা বেশি মাত্রায় গায়ে পড়া স্বভাবের। আপনার উপর মেয়েটি নির্ভর করবে, এটা তার জীবনের একটা বড়ো সিদ্ধান্ত— তাই আগে নিজেকে তার যোগ্য করে তুলুন।

পরামর্শ: মেয়েটি আপনাকে পছন্দ করে, এমন ইঙ্গিত পেলে তবেই প্রেমের প্রস্তাব দিন। এর জন্য বন্ধুদের সাহায্য নিন। তাদের থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন। তবেই আপনি প্রস্তাব দিলে তা খারিজ হবে না।

শোঅফ এড়িয়ে চলুন

আপনি যা নন, নিজেকে সেভাবে গার্লফ্রেন্ড-এর সামনে প্রজেক্ট করবেন না। এতে হিতে বিপরীত হবে। অর্থাৎ আপনার বাস্তব প্রকৃতি যখন সে জানতে পারবে, আপনাকে অচিরেই রিজেক্ট করে দেবে। আপনার অর্থ-সম্পত্তি নিয়ে অতিরিক্ত শো-অফ করবেন না। দেখনদারি মেয়েরা পছন্দ করে না।

পরামর্শ: যতটা সম্ভব ডাউন টু আর্থ থাকুন প্রোপোজ করার সময়। নিজেকে নিয়ে অতিরিক্ত হামবড়াই করবেন না, বা আত্মপ্রচার করবেন না। বলুন কম, শুনুন বেশি। এতেই মুগ্ধ হবে প্রেমিকা।

চরিত্রে দৃঢ়তা আনুন

প্রোপোজ করার সময় দুর্বল চিত্ত হয়ে যাবেন না। কনফিডেন্টলি মনের কথা বলুন। একসঙ্গে অনেক কথা বলতে গিয়ে সবটা ঘেঁটে না ফেলাই ভালো। আগে থেকে ভেবে ঠিক করে রাখুন কী বলবেন প্রস্তাব দেওয়ার সময়।

পরামর্শ: আপনি বান্ধবীকে কখন এবং কোথায় প্রস্তাব দিচ্ছেন সেটা কিন্তু খুব জরুরি। সঠিক পরিবেশে প্রোপোজ করুন। প্রস্তাব দেওয়ার আগে অবশ্যই বান্ধবীর মুড-টা পরখ করে নেবেন। এবার দ্বিধাহীন ভাবে, কথার আড়ষ্টতা কাটিয়ে স্পষ্ট করে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করে ফেলুন, নিরাশ হবেন না!

পছন্দের পুডিং

ডিনারের পরে পুডিং সকলেরই খুবই পছন্দের একটি ডেসার্ট৷ পুডিং নানা ভাবে বানানো যায়৷ একেক রকমের পুডিং একেক রকমের স্বাদ৷উপকরণ অনুযায়ী এর স্বাদ আলাদা আলাদা হয়৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, পুডিংগুলি প্রায় সবসময়ই দুধ বা ফলের রসের  তৈরি, মিষ্টি মিষ্টি হয় যা বিভিন্ন স্বাদ এনে দেয়৷ এই পুডিং সাধারণত কর্নস্টার্চ, অ্যারোরুট, ময়দা, ট্যাপিওকা, ভাত বা ডিম দিয়ে ঘন করা হয়।

বাচ্চা থেকে বড়ো, সবারই পছন্দের তালিকায় থাকে পুডিং৷ এই শীতের মরশুমে, বাড়িতেই বনিয়ে নিন উপাদেয় পুডিং৷ রইল রেসিপি৷

লেয়ার্ড পুডিং

উপকরণ:  ১ কাপ চকোলেট কেক ক্রাম্বস, ২ বড়ো চামচ টুটি ফ্রুটি, ১৫০ মিলি দুধ, ৩-৪ ছোটো চামচ চিনি, ২ বড়ো চামচ ভ্যানিলা কাস্টার্ড পাউডার, ২ বড়ো চামচ ক্রিম, ২ বড়ো চামচ ম্যাঙ্গো জ্যাম, ১/২ প্যাকেট স্ট্রবেরি জেলি, ১ কাপ কুচোনো চেরি, ১/২ কাপ চকো চিপ্‌স।

প্রণালী: একটা বোল-এ কেক ক্রাম্বস নিন। টুটি ফ্রুটি ছড়িয়ে চিনি গুলে নিন। ভ্যানিলা কাস্টার্ড পাউডার অল্প জলে মিশিয়ে দুধে ঢেলে দিন। দুধ ঘন হওয়া অবধি ফুটতে দিন। এবার জ্যামটা ভালো করে ফেটিয়ে এই দুধের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। জ্যাম দুধের সঙ্গে ভালো ভাবে মিশে গেলে দুধ আঁচ থেকে নামান। ক্রিম মেশাতে থাকুন।

এই দুধটা এবার ঠান্ডা হতে দিন। ১/২ প্যাকেট জেলিকে জলে গুলে একটু ফুটতে দিন। এবার নামিয়ে ঠান্ডা করুন। কেক ক্রাম্বস ফ্রিজ থেকে বের করে এর উপর দুধ ও ক্রিমের মিশ্রণ ঢেলে দিন। ২০-২৫ মিনিটের জন্য ফ্রিজে রেখে দিন। এবার বের করে জেলির লেয়ার দিন। আবার ফ্রিজে সেট হতে দিন। পরিবেশনের আগে বের করে চেরি আর চকো চিপ্‌স ছড়িয়ে দিন।

ম্যাঙ্গো পুডিং

Mango Pudding recipe

উপকরণ:  ১৫০ মিলি ক্রিম-যুক্ত দুধ, ২ ছোটো চামচ চিনি, ২ বড়ো চামচ ম্যাঙ্গো জ্যাম, ২ বড়ো চামচ কর্নফ্লাওয়ার, ২ বড়ো চামচ ক্রিম, ১/২ কাপ ম্যাঙ্গো পিউরি, ১ প্যাকেট ম্যাঙ্গো জেলি, ১ কাপ ক্যানবন্দি আম কুচি করা অথবা আমসত্ত্ব।

প্রণালী: দুধ ফুটিয়ে ঘন করে নিন। এতে চিনি আর জ্যাম মিশিয়ে নিন। অল্প জলে কর্নফ্লাওয়ার গুলে, দুধের মধ্যে ঢেলে দিন। ক্রিম ফেটিয়ে এই দুধে দিয়ে নাড়তে থাকুন। এবার এই মিশ্রণ অল্প পরিমাণে নিয়ে সার্ভিং বোলগুলির মধ্যে ঢেলে ফ্রিজে সেট হতে দিন।

আলাদা করে কিছুটা জেলি পাত্রে নিন। আমের কুচি আর জেলি পুডিংয়ের উপর লেয়ার করে দিন। পুনরায় ফ্রিজে রেখে দিন। ঠান্ডা অবস্থায় সার্ভ করুন।

ক্রিসমাসে কেক-এর মজা

শীতের রমরমায় ব্যস্ত শহরের অলি-গলিতে এখন কেকের গন্ধ ম-ম করছে। কলকাতা শহরের সাহেব পাড়ায় কেকের দোকানের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। লাইন দিয়ে বহু মানুষ কেক কিনছেন এ দৃশ্য এখন সর্বত্র। পাড়ার ছোটোখাটো দোকানগুলোতেও ঢালাও সাজানো নানা ধরনের কেকের সম্ভার। হাতে এখন দিন গুনছেন সকলে ক্রিসমাসের প্রিয় পরবটি আসার অপেক্ষায়। ক্রিসমাস আর কেক, দুই যেন হরিহর আত্মা, একে অপরের বিনা আধুরা। এখন বাড়িতেও বিভিন্ন রকমের আর স্বাদের সকলে Cake বানাচ্ছেন এবং পরিবারের সদস্য-প্রতিবেশী সকলের সঙ্গে এই উৎসবের ভরপুর আনন্দ গ্রহণ করছেন। আনন্দের এই পরিবেশে গৃহশোভার পক্ষ থেকে আমরাও হাজির এমনই কিছু সুস্বাদু কেকের রেসিপি নিয়ে।

চকোলেট মুস Cake

উপকরণ : ১৫টি মেরি বিস্কুট, ১ ছোটো চামচ মাখন, ৫০০ গ্রাম চকোলেট, ৫০০ গ্রাম তাজা ক্রিম, চকোলেট ফ্লেক্‌স সাজানোর জন্য।

প্রণালী : বিস্কুট গুঁড়ো করে মাখনের সঙ্গে মেশান। পাই মোল্ড-এ মাখন লাগিয়ে এই মিশ্রণ ঢেলে ফ্রিজে ১৫ মিনিট সেট হতে দিন। এবার আভেনে চকোলেট ১-২ মিনিট রেখে গলিয়ে নিন। ক্রিমের সঙ্গে চকোলেট মিশিয়ে ফ্রিজে রাখা মোল্ড বের করে উপরে ঢেলে দিন। তারপর আবার ফ্রিজে ১ ঘন্টা রেখে সেট হতে দিন। ফ্রিজ থেকে বের করে চকোলেট ফ্লেক্স ছড়িয়ে সার্ভ করুন।

Cherry Berry cake for Christmas

চেরিবেরি

উপকরণ : ২ বড়ো চামচ স্ট্রবেরি ক্রাশড়, ২ কাপ ক্রিম, চেরি সাজানোর জন্য, ১ কাপ জল, অল্প ক্যাস্টর সুগার।

স্পঞ্জ কেকের জন্য উপকরণ : ১00 গ্রাম ময়দা, ৩০ গ্রাম মাখন, ৩টি ডিম, ৯০ গ্রাম ক্যাস্টর সুগার, ১ ছোটো চামচ বেকিং পাউডার, ১-২ ফোটা ভ্যানিলা এসেন্স।

প্রণালী : প্রথমে স্পঞ্জ কেক বানিয়ে নিন। এবার কেকটা তিনটি লেয়ারে কাটুন। ১ বড়ো চামচ ক্রাশড্ স্ট্রবেরি, জলের সঙ্গে চটকে স্ট্রবেরি সিরাপ তৈরি করুন। বাকি স্ট্রবেরি ক্রিমের সঙ্গে মিশিয়ে একটি মসৃণ মিশ্রণ বানান। এবার ভ্যানিলা স্পঞ্জ কেক-এর প্রত্যেক লেয়ারে স্ট্রবেরি সিরাপ মাখান। তার উপর স্ট্রবেরির মিশ্রণ দিন। পর পর লেয়ার সাজিয়ে উপরে চেরি দিয়ে সাজান। ক্রিম ও ক্যাস্টর সুগার মিশিয়ে আইসিং করুন।

চকোলেট কেক

উপকরণ : ১/২ ক্যান কনডেনস্‌ড মিল্ক, ১৪০ গ্রাম ময়দা, ১ ছোটো চামচ চকোলেট পাউডার, ১ ছোটো চামচ কোকো পাউডার, ১ ছোটো চামচ বেকিং পাউডার, ১/২ ছোটো চামচ মিষ্টি সোডা, ১ ছোটো চামচ ভ্যানিলা এসেন্স, ৪০ গ্রাম মাখন, ১/২ কাপ জল।

প্রণালী : ময়দা, বেকিং পাউডার, কোকো পাউডার, চকোলেট পাউডার আর মিষ্টি সোডা, জল ও ভ্যানিলা এসেন্স একসঙ্গে ফেটাতে থাকুন। ৬ ইঞ্চি চওড়া বেকিং ট্রেতে এই মিশ্রণ ঢালুন। ২০০ ডিগ্রি তাপমাত্রার প্রি-হিটেড আভেন-এ ১০ মিনিট বেক করুন। রং গাঢ় হলে একবার দেখে নিন কেক শক্ত হয়েছে কিনা। ৫ মিনিট বাদে আভেন থেকে কেক বের করে উলটে দিন। এবার ঠান্ডা হলে মনের মতো ডেকরেশন করে পরিবেশন করুন।

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব