উইক এন্ড-এ মাথেরান (পর্ব ১ )

আজ পাঠকদের একটা জায়গার গল্প শোনাতে ইচ্ছে করছে। সেই সুন্দর জায়গাটার চারপাশেই পাহাড়। সেখানে জঙ্গল আছে সেইসঙ্গে একটি সুন্দর লেকও আছে। সমুদ্রতল থেকে জায়গাটা কতটা উঁচুতে? বেশি নয়, মাত্র ৮০৩ মিটার বা ২৬২৫ ফুট। মুম্বই থেকে দূরত্ব ? তাও বেশি নয়, মাত্র ৮৩ কিমি। এবার বোধ হয় বোঝা যাচ্ছে জায়গাটার নাম কী? হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন— জায়গাটার নাম মাথেরান।

কী করে যেতে হয় সেখানে? সেটাও খুব সহজ ব্যাপার। মুম্বই থেকে ট্রেনে চেপে নেরালে এসে, ন্যারোগেজ লাইনের টয় ট্রেন চড়ে মাথেরানে আসা যায়। আবার ওই জায়গা থেকে সড়ক পথে নিজের গাড়ি বা ট্যাক্সিতেও আসা যায় মাথেরানে। নেরাল থেকে টয় ট্রেনে চড়ার ছোট্ট স্টেশনটি হল ‘আমন লজ’— বেশ মজার নাম!

আমরা শনিবারের সকালে মাথেরানের উদ্দেশ্যে বার হয়েছি থানে থেকে, দূরত্ব ৬৮ কিমি। যাত্রার প্ল্যানটা এবার একটু অন্যরকম। মাজিওয়াড়ায় রুস্তমজি আরবানিয়া-র অ্যাজিয়ানো টাওয়ার থেকে অটোয় চেপে চলে এলাম জুম কার রেন্টাল সেন্টার-এ। অনলাইনে আগেই বুক করা ছিল একটি হুন্ডাই অ্যাক্সেন্ট। গাড়ি পেতে প্রায় আধ ঘণ্টা লেগে গেল। এক বন্ধু নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করছে। আমরা পামবিচ রোড ধরে চলে এলাম বেলাপুর-এ। কিছুক্ষণ পরেই সিল-ফাটা রোড ধরে পৌঁছে গেলাম মুম্বরা ভ্যালিতে। কল্যাণ-সিল রোড ধরে গাড়ি ছুটছে। পূর্ব ডোম্বিওলি থেকে গাড়ি ডানদিকে বাঁক নিল।

বহু দিনের ইচ্ছে আজ পূর্ণ হতে চলেছে, তাই মনে বেশ আনন্দ। পালাভা পেরিয়ে নায়ারা-তে পৌঁছোলাম। গাড়ি একটু পরেই পূর্ব বাদলাপুর পেরিয়ে কার্জটি রোডে চলে এল। অম্বরনাথ পেরোতেই রাস্তার দুই পাশে শুষ্ক, পর্ণমোচী বৃক্ষের হালকা সমাবেশ। ভুল করে নেরাল যাবার রাস্তা ছাড়িয়ে সোজা কার্জাটের পথে অনেক দূর চলে এসেছিলাম। ভুল ভাঙতেই গাড়ি ঘোরানো হল।

 Matheran

৪-৫ কিমি রাস্তা ফিরে আসার পরে হঠাৎই গাড়ির গণ্ডগোল শুরু হল এবং কিছু দূর এগিয়ে সেটা থেমেই গেল। গাড়ি স্টার্ট করা গেলেও ঢাকা আর ঘোরে না। শুরু হল মেকানিকের খোঁজ। গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম, কী করে তাড়াতাড়ি পৌঁছানো যাবে মাথেরানে। প্রায় আধ ঘণ্টা পরে এক মেকানিক ও তার হেল্পার এসে গাড়ি চেক করে জানাল, গাড়ির ক্লাচ প্লেট জ্বলে গেছে। সেটা পালটাতে খরচ পড়বে প্রায় ১২ হাজার টাকা এবং সময়সাপেক্ষ। দ্রুত যোগাযোগ করা হল জুম কার-এর অফিসে। সঙ্গের মহিলাদের নিরাপত্তাহীনতার কারণে এবং পুলিশের ভয় দেখিয়ে জুম কার-এর ভারপ্রাপ্ত এক অফিসারকে রাজি করানো গেল শর্ত সাপেক্ষে। আমরা গাড়ির চাবি ভিতরে রেখে গাড়ি বন্ধ করে দিলাম। গাড়ি কোথায় পার্ক করা আছে তা আগেই জানানো হয়েছিল।

অনাহূত ঝামেলায় ইতিমধ্যেই এক ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়েছে। ১০ কিমি দূরত্বে মাথেরান যাবার ট্যাক্সি এল আরও ১৫ মিনিট পরে। সেই গাড়িতে চড়ে বাঁ দিকে নেরাল হয়ে মাথেরানের রাস্তায় আসতেই আমরা খুশি হয়ে উঠলাম। শুরু থেকেই চড়াই রাস্তা পাহাড়কে পাক দিয়ে ওপরে উঠেছে। দুপুরবেলায় রোদের তেজ যথেষ্ট। তবে মাঝে মাঝে হাওয়া বইছিল।

পশ্চিমঘাট পর্বতমালার পর্ণমোচী বৃক্ষকুলের মাঝে চিরহরিৎ গাছগুলি চোখের আরাম জোগাচ্ছিল। দুপুর ১টা নাগাদ পৌঁছে গেলাম মাথেরানের কার স্ট্যান্ডে। সেখান থেকে মূল মাথেরানের হোটেলে পৌঁছোতে হবে ঘোড়ার পিঠে চড়ে। ঘোড়া পিছু ৬৫০ টাকা দরে ৪টি ঘোড়া এবং মাল বওয়ার জন্য আরও ৩০০ টাকায় একজন কুলি নেওয়া হল সঙ্গে। বুঝতে পারলাম, শৈলশহর হিসেবে মাথেরান যথেষ্ট ব্যয়বহুল।

আমাদের মতো আরও কিছু পর্যটক ঘোড়ায় চেপে চলেছেন তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট হোটেলগুলিতে। রাস্তার চড়াই ভয়ংকর নয় কিন্তু অনভিজ্ঞ ও ক্লান্ত পর্যটকদের কাছে ঘোড়ায় চড়ে যাওয়াটা দরকারি। কিছুদূর এগোতেই রাস্তার দু’পাশে প্রাচীন ও নবীন চিরহরিৎ বৃক্ষের জঙ্গল মন ভরিয়ে দিল ভালোলাগায়। চড়াই পথে আড়াই-তিন কিমি দূরত্ব পেরিয়ে হোটেলে পৌঁছোতে আধ ঘণ্টা লেগে গেল।

(চলবে)

আমার স্বামীর সাথে প্রতারণা করা কি উচিত?

প্রশ্ন-

আমি একজন ৩২ বছর বয়সি বিবাহিত মহিলা। আমার স্বামী বেডরুমে প্রবেশ করার সাথে সাথে আমাকে Rapist-এর মতো আক্রমণ করেন। আমি সারাদিন ঘরের কাজ করতে এবং আমার বাচ্চাদের যত্ন নিতে নিতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি এবং বিশ্রাম নিতে চাই, কিন্তু সে কখনওই আমার ইচ্ছার কদর করেনি।  আমার প্রতিবেশী একটি ছেলের প্রতি আমি খুব আকর্ষণ বোধ করি। আমি তার সাথে বন্ধুত্ব করতে চাই এবং তার সাথে নতুন করে সম্পর্ক গড়তে চাই। সে কি আমার প্রস্তাব গ্রহণ করবে? স্বামীর সঙ্গে এটা করা কি ঠিক হবে?

 উত্তর-

আপনি যদি আপনার স্বামীর অভ্যাস জানেন, তবে নিজেকে সেই মতো প্রস্তুত করুন যাতে আপনাদের দুই জনের সম্মতি নিয়েই সব কিছু ঘটে। এটি করার মাধ্যমে আপনিও সহবাস উপভোগ করবেন। আপনি রাতে ক্লান্ত হন বা না হন, আপনার যৌনতা উপভোগ করার পরিকল্পনা করা উচিত। নতুন বন্ধু তৈরি করে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা এবং প্রতিবেশী ছেলের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া সহজ বা বাঞ্ছনীয় একেবারেই নয়।

প্রতারণা একটি মানুষের স্বভাব, সেটা ছোটো হোক বা বড়ো। অনেক সময় একজন মানুষকে প্রেমে প্রতারণা করতে দেখা যায়। কিন্তু আজকাল বিয়ের পরও প্রতারণার প্রবণতা দেখা যায়। বিয়ের পর মানুষ নানা কারণে প্রতারণা করে। কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে, কখনও প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এই প্রতারণা করা হয়। শুধু তাই নয়, বিয়ের পর অনেক সময প্রতারণার কারণ হয়ে দাঁড়ায় অসন্তুষ্টি এবং ডিভোর্সের মূল কারণ প্রতারণা। তবে বিয়ের পর প্রতারণা করা কতটা সঠিক, বিয়ের পর প্রতারণার পরিস্থিতি কীভাবে সামলাবেন, আপনার সঙ্গী যখন আপনার সঙ্গে প্রতারণা করছেন তখন কী করবেন সেটাও জেনে রাখা জরুরি।

বিয়ের পর প্রতারণার কারণ

১. অসন্তুষ্টি- অনেক সময় একজন পুরুষ সহবাসের সময় তার স্ত্রী সঙ্গীর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়, যার কারণে সে বাইরে যেতে বাধ্য হয় এবং শীঘ্রই সে অন্য মহিলাদের কাছাকাছি চলে আসে, ফলস্বরূপ, সে অনিচ্ছাকৃতভাবে তার মহিলা সঙ্গীর সাথে প্রতারণা শুরু করে।

২. উন্মুক্ততা- সমাজে উন্মুক্ততার কারণে পুরুষরা তাদের নারী সঙ্গীকে ধোঁকা দেয়। আসলে ডেমোক্রেটিক সমাজে মানুষ উন্মুক্ত মনের হয়ে উঠেছে, যার কারণে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রাখতে তাদের কোনও সমস্যা হয় না এবং এখনকার নারীরাও খুব সাহসী মানসিকতার হয়ে উঠেছে।

৩. সম্ভাবনার কারণে- আজকাল বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, অর্থাৎ সহজেই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যার কারণে পুরুষরা তাদের স্ত্রীদের সাথে প্রতারণা শুরু করে, এই ভেবে যে তারা কিছুই জানতে পারবে না।

 

 

 

 

 

বাচ্চাকে ফোর্স ফিড করাবেন না

সেবার আমরা কয়েকজন মিলে বেড়াতে গেছি পাহাড়ে। আমাদের নিজেদের ফ্যামিলি ছাড়াও সঙ্গে আরও দুটি পরিবার ছিল। এমনকী একটি পরিবারে তো ১০ মাসের এক দুগ্ধপোষ্য শিশুও ছিল। সাইড সিয়িং-এ যাওয়ার সময় পইপই করে বারণ করা সত্ত্বেও, শিশুটির মা জোর করে বাচ্চাটিকে পেট ভরে দুধ খাইয়ে সঙ্গে করে নিয়ে বেরোল। এর ফলে গাড়িতে যাওয়ার সময় বাচ্চাটির শরীর এতটাই খারাপ হয়ে পড়েছিল যে, অগত্যা তাকে নিয়ে আমাদের ডাক্তারের কাছে ছুটতে হয়েছিল। এটা চোখের সামনে হওয়া একটা ঘটনা।

এমন ঘটনাও কানে এসেছে যে, সন্তানকে জোর করে খাওয়াতে গিয়ে কোনও কোনও মায়ের হাতে সন্তানের মৃত্যু পর্যন্তও ঘটেছে।

অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসাগত কারণে ডাক্তাররাই বলে দেন বাচ্চার খাওয়ার ইচ্ছে না থাকলেও তাকে জোর করে খাবার খাওয়ানো দরকার। কিন্তু অন্যান্য সাধারণ অবস্থায় শিশুর ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর করে খাওয়ানোটা অনুচিত।

সারা পৃথিবীতে বাচ্চাদের Force Feed করানো হয়। ভারতও বাদ যায় না। বাচ্চা দুর্বল হলে তো কথাই নেই, অনেক সময় হেলদি বাচ্চাদেরও অভিভাবকেরা জোর করে খাওয়াবার চেষ্টা করেন। অনেক সময় বাচ্চাদের ভয় দেখিয়ে, পছন্দের জিনিস কিনে দেওয়ার প্রমিস করে অথবা গায়ের জোরেও খাওয়ানো হয়ে থাকে। বাচ্চাদের জোর করে খাওয়াবার একটা পদ্ধতি খুব পরিচিত। বাচ্চার নাক চেপে ধরে খাওয়ানো। বাচ্চার নাক চেপে ধরলে শ্বাস নিতে বাচ্চা মুখ খুলবেই আর সেই সুযোগে বাচ্চাকে জলীয় খাবার জোর করে পান করানো হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে বাচ্চা দমবন্ধ হয়ে মারা যেতে পারে অথবা ফুসফুসে সংক্রমণও ঘটতে পারে। এই ধরনের ফোর্স ফিড করার কী অর্থ বলতে পারেন, যেখানে শিশুর জীবনের সংশয় পর্যন্ত ঘটতে পারে!

খিদে পাওয়াটা বাচ্চার স্বাভাবিক আচরণ এবং খিদে পেলে বাচ্চা নিজে থেকেই কেঁদে উঠবে। ১ বছরের পর বাচ্চার মুখের স্বাদ যখন ডেভেলপ করে, তখন বাচ্চাকে যে-কোনও খাবার খাওয়ানোটা একটু কঠিন হয়ে পড়ে। ফলত ধৈর্য রাখতে না পেরে মা-বাবারা জোর করে বাচ্চাকে খাওয়াতে আরম্ভ করেন।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে Force Feeding-এর কারণ হল, মা-বাবারা ভাবেন তাদের সন্তান ঠিকমতো খাবার খাচ্ছে না। বাচ্চাদের ইরেগুলার খাদ্যাভ্যাসের কারণেও মা-বাবারা অস্থির হয়ে ওঠেন এবং চেষ্টা করেন সময়ে সময়ে সঠিক খাবার খাইয়ে বাচ্চার অভ্যাস তৈরি করে ফেলতে। যেমন দুধ খাওয়ার সময় বাচ্চার দুধ খাওয়ার ইচ্ছে না হলেও ঘড়ি ধরে তাকে জোর করে দুধ খাওয়ানো। এছাড়াও আছে একবারে বাচ্চাকে অনেকটা বেশি করে খাইয়ে দেওয়া। এর কারণ হচ্ছে মা-বাবার রুটিনে সময়ের অভাব। অথচ ফ্রিকোয়েন্টলি খাওয়ানোটাই বাচ্চাকে খাওয়াবার সঠিক নিয়ম বলে তারা জানেন।

এছাড়াও কোনওরকম অসুস্থতার কারণে ১০-১৫ দিন লাগাতার বাচ্চারা খাওয়া বন্ধ করে দিলেও মা- বাবারা চিন্তিত হয়ে পড়েন। আবার অনেক সময় ভালোবাসার আতিশয্যেও বাচ্চাকে জোর করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে খাওয়ানো হয়ে থাকে।

সত্যিই কি Force Feeding করানোটা এতটাই জরুরি যে, বাচ্চার জীবনের ঝুঁকি নিতেও মা-বাবার আপত্তি থাকে না! শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে শিশুর মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টি-যুক্ত খাবারের প্রতি দুর্বলতার অভ্যাস গড়ে ওঠে। এমন একটা মেকানিজম ওদের মধ্যে কাজ করে, যার কাজ হচ্ছে শিশুর শরীর ব্যালেন্সড ডায়েট ঠিকমতো পাচ্ছে কিনা দেখা। খুব কম বাচ্চাদের মধ্যেই ভিটামিনের কমতি অথবা ম্যালনিউট্রিশন দেখতে পাওয়া যায়। অভিভাবকদের বাচ্চার ওপর ভরসা রাখা উচিত যতক্ষণ তাদের সন্তানরা ফিজিক্যালি ফিট রয়েছে। যে-মুহূর্তে শিশু খেতে খেতে, খাওয়ার অনিচ্ছা প্রকাশ করবে সেই মুহুর্তে বড়োদের উচিত তাকে খাওয়ানো বন্ধ করা।

বাচ্চা কী খেতে ভালোবাসে সেটা মায়ের খেয়াল রাখা উচিত। বাচ্চার খাওয়ার সময়টা তার জন্যে একটা আনন্দময় মুহুর্ত করে তোলা প্রয়োজন, বিভীষিকাময় নয়। যদি এতেও কাজ না হয়, বড়োদের দরকার ধৈর্য ধরা। শারীরিক সুস্থ বাচ্চা নিজেই খাবার চাইবে খিদের মুহুর্তে। সে যেটা খেতে ভালোবাসে সেটা অল্প পরিমাণে কিছুদিন খাওয়ানোর পরে, শিশু নিজেই তার প্রিয় খাবারটা চেয়ে খাবে।

শুধু সে যেটা খেতে ভালোবাসে না, সেটা তাকে না দিয়ে, পুষ্টিকর খাবার তার প্রিয় খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ালে শিশু দুটো খাবারের মধ্যে তফাত করতে পারবে না। জোর করে খাওয়ালে খাওয়ার ইচ্ছেই শিশুর চলে যায়। খাবারের উপর শিশুর বিতৃষ্ণা জন্মায়। খাবারের অভ্যাস খারাপ হয়ে গেলে ম্যালনিউট্রিশনে ভোগে শিশুরা। অতিরিক্ত খেয়ে ফেললে, বমি, পেট ব্যথা, এমনকী খাবারের প্রতি ভীতিও তৈরি হয়ে যায় বাচ্চাদের। এতে মা ও সন্তানের মধ্যেও সম্পর্কে চিড় ধরে।

Force Feeding মানে অন্ধ ভালোবাসায় শিশুর দমবন্ধকর পরিস্থিতি তৈরি করা। যারা এই ব্যাপারে সচেতন তারা এই পরিস্থিতি কখনওই তৈরি করবেন না। সন্তানের ডায়েট নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হলে বাচ্চার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত যাতে অভিভাবকের অন্ধ ভালোবাসা, শিশুর গলার ফাঁসে না পরিণত হয়।

 

কর্মস্থলে যৌন নির্যাতন (প্রথম পর্ব)

হাল সময়ে সমগ্র বিশ্বে সব সমাজেই মহিলারা পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে বেরিয়ে এসেছেন ঘর থেকে, সংসার প্রতিপালনের উদ্দেশ্যে এবং বিশেষ ভাবে যখন তাদের পুরুষ জীবনসঙ্গী সংসারের সম্পূর্ণ প্রয়োজন মেটাতে কোনও কারণে অক্ষম হয়ে পড়েন। এছাড়াও আজ পৃথিবীর বেশিরভাগ মহিলাই অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করার জন্য বিভিন্ন ধারার পেশা, কর্মজীবন বেছে নিচ্ছেন এবং কর্মক্ষেত্রে সমান অধিকার দাবি করছেন।

বিগত কয়েক দশকে আমাদের দেশের মহিলাদের মধ্যেও এই মানসিকতার পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কিন্তু মহিলাদের উপর আধিপত্য বিস্তার করা তো পুরুষের সহজাত প্রবৃত্তি। কর্মক্ষেত্রে এই প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে রাখা তো আরও কঠিন, কারণ কয়েক দশক আগেও কর্মক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার ছিল পুরুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এবং পুরুষের কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের প্রতি জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে যৌন নির্যাতনের প্রবণতার উৎপত্তি এখান থেকেই।

কর্মরত প্রায় প্রতিটি মহিলাই কোনও না কোনও সময়ে কোনও না কোনও ভাবে এর শিকার হয়েছেন। অবশ্য এই ধরনের আচরণের মাত্রা বিভিন্ন। এই সব শারীরিক, ব্যক্ত, অব্যক্ত অবাঞ্ছিত আচরণের ফলে শুধুমাত্র মহিলাদেরই মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় না, সমগ্র কাজের পরিবেশটাই ভীষণ ভাবে দূষিত, কলুষিত হয়ে পড়ে।

নানা পরীক্ষা, সমীক্ষায় দেখা গেছে কর্মস্থলের যৌন নির্যাতন মূলত দু’ধরনের। প্রথমটিকে ল্যাটিন ভাষায় বলে ‘কুইড প্রো কুত্ত’। ইংরেজিতে যাকে ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ বলা যায়। অর্থাৎ কিছু পাওয়ার জন্য কিছু দিতে হবে। এক্ষেত্রে একজনকে যৌন আনুকূল্য দেখাতে হবে অন্যজনের কাছ থেকে কর্মক্ষেত্রে অনুকূল ব্যবহার বা সুবিধা পাওয়ার পরিবর্তে। এটি সাধারণত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জাতীয় ব্যক্তির দিক থেকে আসে, যার ফলে মহিলাটির পক্ষে তা অগ্রাহ্য বা প্রত্যাখ্যান করা বেশ কঠিন। এসব ক্ষেত্রে আবার প্রত্যাখ্যান করলে অন্য কর্মগত হয়রানি বাড়ে। তার ফলে অবস্থা আরও কঠিন। পরিস্থিতি ধারণ করে।

দ্বিতীয় ধরনটি আবার উচ্চ পদাধিকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর মধ্যে জড়িত থাকে এক বিরুদ্ধ-ভাবাপন্ন কর্মপরিবেশ— যেখানে যৌন-প্রকট কথাবার্তা, যৌন-উদ্দীপক ছবি দেখানো, নোংরা ভাষা এবং অযৌক্তিক, অকারণ স্পর্শ জড়িত থাকে। কর্মস্থলে যৌন নির্যাতনের হার দিন দিন বেড়ে চলেছে এবং শুধুমাত্র মহিলারাই নয়, কখনও কখনও পুরুষরাও ছাড় পান না মহিলাদের বা অন্য পুরুষদের হাত থেকে। তবে তার শতকরা হার এতই নগণ্য যে মহিলাদের নির্যাতনের ঘটনাগুলোই মনোযোগের কেন্দ্রস্থলে।

নতুন রেসিপির মজা

অনেকেরই প্রিয় শখ হল রান্না৷ তারা রেসিপি আদানপ্রদান করতে পছন্দ করেন৷ নতুনত্ব এক্সপেরিমেন্টাল রান্না করতেও অনেকেই ভালোবাসেন৷ এতে যে শুধু রেসিপির স্টক বাড়ে তা-ই নয়, বাড়ির ছোটো বড়ো সকলেরই মন কেড়ে নিতে পারেন আপনি সহজেই৷ রান্নার মতো ভালো মুড বুস্টার হবি আর নেই৷ আজই ট্রাই করুন এই নতুন রেসিপিগুলি৷স্বাদে আর প্রেজেনটেশনে সকলকে চমকে দিন৷

নাটি ফ্রুটজেলি

উপকরণ : ১ প্যাকেট বাচ্চার পছন্দসই জেলি, ২ কাপ জল, ১/২ কাপ ফেটানো ক্রিম, ২টি আখরোট কুচি করা, পছন্দের ফল কুচি করা।

প্রণালী : ১ কাপ জল গরম করে, এতে জেলি ক্রিস্টাল দিন। জেলি জলে গুলে গেলে, এতে ১ কাপ ঠান্ডা জল ঢেলে সেট হতে ফ্রিজে রেখে দিন। জেলি খানিকটা সেট হয়ে গেলে ক্রিম, আখরোট আর ফলের কুচি মিশিয়ে, জেলি মোল্ডস্-এ ঢেলে ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিন। সেট হয়ে গেলে ঠান্ডা ঠান্ডা সার্ভ করুন।

কর্ন টোস্ট

Corn Toast recipe

উপকরণ : ১টি ভুট্টার দানা (ছাড়িয়ে মিক্সিতে পিষে নিন), ২ কাপ দুধ, ১ বড়ো চামচ চিজ গ্রেট করা, ১/২ ছোটো চামচ অরিগ্যানো, ২ বড়ো চামচ লাল, হলুদ ও সবুজ ক্যাপসিকাম কুচি করা, ৫-৬টা টোস্টেড ব্রেড স্লাইস মাখন লাগিয়ে রাখা, নুন-মরিচ স্বাদমতো।

প্রণালী : গরম দুধে পেস্ট করা ভুট্টা ঢেলে সেদ্ধ করুন। এবার এতে নুন, গোলমরিচ, চিজ ও অরিগ্যানো মিশিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হলে এই স্প্রেড ব্রেড-এর উপর লাগিয়ে, ক্যাপসিকাম কুচি ছড়িয়ে, সার্ভ করুন।

এগ গ্রিলড স্যান্ডউইচ

Egg Grilled Sandwich recipe

উপকরণ : ১টা সেদ্ধ ডিম টুকরো করা, ২ বড়ো চামচ চিজ গ্রেট করা, ১ বড়ো চামচ মাখন, ১ বড়ো চামচ টম্যাটো সস, ৪টি ব্রেড স্লাইস, নুন ও মরিচ স্বাদমতো

প্রণালী : সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে, ব্রেড স্লাইস-এর উপর পরত লাগান। অন্য ব্রেড স্লাইস দিয়ে ঢেকে গ্রিল করুন। সস ছড়িয়ে সার্ভ করুন।

কোকোনাট আইসক্রিম

Coconut Ice Cream recipe

উপকরণ : ২ বড়ো চামচ নারকেলকোরা, ২ ছোটো চামচ, চিনিগুঁড়ো, অল্প চেরি, ১/২ লিটার দুধ, ২ কাপ ভ্যানিলা আইসক্রিম।

প্রণালী : আইসক্রিম বাদ দিয়ে বাকি সমস্ত উপকরণ ব্লেন্ডারে মিশিয়ে, ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করুন। এবার আইসক্রিমের সঙ্গে মিশিয়ে চেরি ছড়িয়ে সার্ভ করুন।

চকোলেট শেক

Chocolate Shake recipe

উপকরণ : ১টি বার চকোলেট, ৩ ছোটো চামচ চকোলেট হ্যালনাটস, ২ কাপ ক্রিম, ১ কাপ দুধ, অল্প চকোলেট চিপ্‌স সাজানোর জন্য।

প্রণালী : চকোলেট ১ মিনিট মাইক্রোওয়েভ করুন যাতে গলে যায়। এবার এতে ক্রিম, দুধ ও চকোলেট হ্যালনাটস মিশিয়ে আরও ২ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করুন, তারপর পরিবেশন করুন।

সুখী সংসারের রসায়ন

যেসব মহিলারা খাওয়াদাওয়া ও রান্নাবান্না নিয়ে কোনও উদ্যোগ গড়ার স্বপ্ন দেখেন, তাদেরও উৎসাহ প্রদান করা উচিত। এতে ওরা যেমন অনুপ্রাণিত হবেন, ঠিক তেমনই ওরা খুশি থাকলে সংসার সুখের হবে এবং পরিবারের সদস্যরাও খুশি থাকবেন।

একটা সময় ছিল যখন রান্নার বিষয়টি সীমাবদ্ধ ছিল শ্বশুরবাড়ির হেঁসেলে। অর্থাৎ, বিয়ের আগে মেয়েদের রান্না করার বিষয়টি শিখতে হতো শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে রান্না করতে হবে বলে। কিন্তু এখন ছবিটা বদলে গেছে। নিজের সংসারে রান্না করা কিংবা না-করা এখন মেয়েদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে। কেউ যদি না চান তাহলে তিনি রান্নার লোক রেখে রান্না করিয়ে নিতে পারেন কিংবা রেস্তোরাঁ থেকে খাবার আনিয়ে নিতে পারেন। আর এটা এখন সম্ভব হচ্ছে কারণ মেয়েরাও এখন উপার্জন করেন, তাই তাদের সংসার এখন অনেকটাই আর্থিক ভাবে সচ্ছ্বল। তাছাড়া, রান্না কিংবা সংসারের কাজে এখন স্বামীরাও অনেকটাই সাহায্য করেন। তাই, মেয়েরাও এখন ঘরে-বাইরে সমান তালে কাজ করার সুবিধে পাচ্ছেন।

আবার যারা নানারকম পদের রান্নায় পারদর্শী, তারা তাদের এই গুণটিকে কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জন করার কথা ভাবতে পারেন। অবশ্য শুধু ভাবনার স্তরেই আটকে নেই বিষয়টি। এমন অনেকে আছেন, বিশেষ করে যারা ভালো রান্না করতে পারেন কিংবা শিখেছেন, অর্থাৎ রান্নার কাজটি বেছে নিয়েছেন প্যাশনেটলি, তারা এটিকে পেশায় পরিবর্তন করে নিয়েছেন কিংবা নিতে উদ্যোগ নিয়েছেন। কেউ বড়ো হোটেলের হেঁসেল সামলাচ্ছেন, কেউ আবার রান্না করে বাড়িবাড়ি খাবার পাঠিয়ে আয় করছেন কিংবা রেস্তোরাঁ খুলে নিয়েছেন। মোটকথা, রান্না করার বিষয়টির মধ্যে এখন কোনও লজ্জার বিষয় নেই, বরং এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান হচ্ছে, ব্যবসায়িক ভিত শক্ত হচ্ছে।

সম্প্রতি একটি বিষয় নজরে এসেছে, এখন কুকিং কম্পিটিশন বেশ চলছে। কোথাও এই ধরনের রান্নার প্রতিযোগিতা হলেই দেখা যাচ্ছে হাজার-হাজার আবেদনপত্র জমা পড়ছে। এই যেমন চলতি বছরে সারা পশ্চিমবঙ্গ থেকে ২০ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে আইটিসি সানরাইজ পিয়োর কুকিং কম্পিটিশন-এ। ‘আজকের অন্নপূর্ণা সিজন থ্রি’ শিরোনামে চলছে এই কুকিং কনটেস্ট। শুধু তাই নয়, আরও বেশি মানুষকে অংশগ্রহণে আগ্রহী করে তুলতে এ বছর হোয়াটসঅ্যাপ-কেও রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যম করেছে এরা এবং দারুণ সাড়াও পাচ্ছে। প্রতিযোগিতায় থাকছে ৯০০-র বেশি কাস্টমাইজড রেসিপি। অংশগ্রহণকারীরা এই সব রেসিপির সাহায্যে তাদের পছন্দের পদ রান্না করে তার ছবি শেয়ার করতে পারেন। রান্না করা প্রতিটা পদের জন্য একজন প্রতিযোগী পাবেন কয়েন। যত বেশি কয়েন জমবে, পরের পর্বের যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাবনা ততই বাড়বে।

রান্নাবান্নার এই জমজমাট অনুষ্ঠানটি জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি-ফাইভ-এ সম্প্রচার করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন সানরাইজ আইটিসি লিমিটেড-এর বিজনেস হেড পিয়ূষ মিশ্র। দু বছরের চমকপ্রদ এবং একটানা সাফল্যের পর আজকের অন্নপূর্ণা ফিরছে রান্নাবান্না নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের আবেগ এবং তাদের উদ্যোগী মানসিকতাতে পুনরুদ্দীপ্ত করতে।

মোবাইল ফোন এখন মেশিনগান-এ পরিণত হয়েছে

হোয়াটস অ্যাপ এবং ট্যুইটারে যা খুশি লিখে দিলে এখন আর রেহাই নেই। ঘৃণ্য বক্তব্য এবং ভুয়ো খবর দেওয়ার আগে সতর্ক থাকুন। আগে এই মাধ্যমের অপপ্রয়োগ এতটাই ছিল যে, অন্ধ ভক্তদের বশে রাখা, জাতিবাদ, ধর্মবাদ কিংবা পৌরুষত্ব ফলানোর সুযোগ করে নেওয়া হতো। কিন্তু এখন এসবের সুযোগ কমেছে।

এখন কেউ যদি হোয়াটস অ্যাপ এবং ট্যুইটারে আপত্তিকর কোনও মন্তব্য করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবে পুলিশ-প্রশাসন। উল্লেখ্য, এক সময় বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে ফেসবুক, ইউটিউব সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছিল।

বাস্তবে দেখা গেছে যে, নিজেদের মধ্যে যদি ৪ জন লড়াই শুরু করে, তাহলে তা উপভোগ করে প্রায় ৪০ জন। কাউকে নিয়ে মজা, নিন্দামন্দ কিংবা কারওর বাড়ির ঝগড়া নিয়ে হাসি-তামাশা করে সময় কাটানোর সুযোগও রয়েছে সোশ্যাল মাধ্যমে। কিটি পার্টিতেও কী হল, তা নিয়েও চর্চা চলে সোশ্যাল মাধ্যমে। কিন্তু এখন বেফাঁস মন্তব্য করলেই দুয়ারে বিপদ।

হোয়াটস অ্যাপ, ফেসবুক, ট্যুইটার, ইনস্টাগ্রাম প্রভৃতির মাধ্যমে টকঝাল তথ্য কিংবা ভুয়ো খবর প্রচারের পিছনেও বড়ো উদ্দেশ্য আছে। আসলে পূজাপাঠ করানোয় উৎসাহিত করা, মন্দিরে আহ্বান, ভক্তিভাব জাগরিত করে প্রণামি আদায়, চাঁদা তোলা, তীর্থযাত্রায় শামিল করানো, স্বামী কিংবা শাশুড়ির অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য ব্রত করানোতে উৎসাহ জোগানো প্রভৃতির প্রচার করা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এর ফলে মন্দির, মঠ, আশ্রমে যেমন জনসমাগম বাড়ছে, ঠিক তেমনই ভণ্ড বাবাদের দৌরাত্মও বাড়ছে।

আপত্তিকর মন্তব্য করার জন্য এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনায়, পুলিশ গ্রেফতার করে ওই ব্যক্তিকে। কিন্তু এরপর আদালত সবকিছু যাচাই করে গ্রেফতার হওয়া ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়। শুধু তাই নয়, অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেও মামলা করার আদেশ দেওয়া হয়। আসলে ওই ব্যক্তিকে চাইল্ড অ্যাবিউস অ্যাক্ট অনুযায়ী পুলিশ গ্রেফতার করেছিল কিন্তু আদালত ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার পর পুলিশই জানিয়েছে যে, কোনও অপরাধ ঘটেনি। তাহলে এখন প্রশ্ন, যদি অপরাধ না-ই ঘটে থাকে, ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল কেন?

পুলিশকে এখন অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা শুরু করতে হয়েছে আদালতের নির্দেশে। হোয়াটস অ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক এবং ট্যুইটারে যারা মিথ্যে খবর ছড়ায়, তাদের জন্য এ এক উচিত শিক্ষা বলে মনে হয়।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম-এও এখন দলিত, কুর্মী, আহির, জাঠ, রাজপুত, ব্রাক্ষ্মণ, বৈশ্য প্রভৃতি লোকেরা আলাদা-আলাদা গ্রুপ তৈরি করছে। অনেকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছে। আর এইসব ঘটে চলেছে সারাক্ষণ মুঠোফোনকে মাধ্যম করে। তাই বলা যায়, মোবাইল ফোন আজ মেশিনগান-এ পরিণত হয়ে গেছে। কোটি কোটি মানুষের মস্তিস্ক এখন মোবাইল ফোন গ্রাস করে নিয়েছে।

জোড়া শালিক (শেষ পর্ব)

শেষ পর্ব

একবার সুশীলা এবং সুনীল ব্যাংক থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফিরছে। সুনীলের বাইকের পিছনে সুশীলা বসল। হঠাৎ করে ব্যাংকের দরজার বাইরে পেয়ারা গাছেতে জোড়া শালিকের একটি ডেকে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে অন্য শালিকটাও কাঁই কাঁই করে উঠল। সুনীল তখন সবে বাইক স্টার্ট দিয়েছে। গাছটা ওদের ঠিক ডান পাশে। ভালো করে দেখার জন্য সুশীলা ‘রুকিয়ে জি’ বলে লাফিয়ে নেমে পড়ল বাইক থেকে। কান হেলমেটে ঢাকা থাকাতে সুনীল কিছুই শুনতে পায়নি। বাইক ব্যাংকের পরিসর থেকে বেরিয়ে বাড়ির রাস্তা ধরল।

জোড়া শালিকে মাথা ঠোকা শেষ হলে সুশীলা সংবিৎ ফিরে পেয়ে দেখল সুনীল ও বাইক দুটোই ধারে কাছে নেই। এদিকে অনেকটা যাওয়ার পর সুনীল অনুভব করল পিছনটা বেশ হালকা লাগছে। পিছনে তাকিয়ে দেখে বউ নেই। দুশ্চিন্তায় বাইক ঘোরাল ব্যাংকের দিকে। ব্যাংকে পৌঁছে অবাক, সুশীলা সেখানে নেই! সুনীলের সঙ্গে আসবে বলে সুশীলা ফোনটাও আনেনি। কী করবে ভাবছে, এমন সময়, গেটের বাইরে বসে থাকা মুচিটা বলল, ‘সাব কিসিকো ঢুঁঢ রহা হ্যায় ক্যায়া?’

সুনীল বলল, ‘মেরি পত্নি কুছ দের পহলে এহি থি, কহা চল দি পতা নহি, ফোন ভি নহি হ্যায় উনকি পাস।’

—এক মেডামজি থোড়া পরিশান দিখ রহি থি। ও তো পয়দল চল দিয়ে।

সুনীল আর্তস্বরে বলল, “কিধার চল দিয়ে, দেখা আপনে?’

—জি সাহাব বাঁয়ে তরফ গয়ি, জবাব দিল মুচি।

এবার প্রমাদ গুনল সুনীল, উলটো দিকে হাঁটা দিয়েছে সুশীলা। বাইক ঘোরাল ডান দিকে। কিছুটা এগোতেই দেখা পেল সুশীলার। ও হেঁটেই বাড়ি যাবে, কিছুতেই সুনীলের বাইকে চড়বে না। অনেকবার সরি বলার পরেও মানতে নারাজ। অগত্যা সুনীল বলল, ‘মগর হামারা ঘর দুসরা তরফ হ্যায়, রাস্তাপে খো যাওগি।’ এবার ভয় পেয়ে গেল সুশীলা, ফিরে এসে বাইকে বসল।

এহেন সুশীলাদেবীর ঝোলা বারান্দার সামনে কবিতাদেবীর বারান্দা। কবিতাদেবী এবং ওনার স্বামী দুবেজি ধার্মিক প্রকৃতির। দুবেজি সকালবেলায় স্নান করে সূর্য প্রণাম করেন। এরকম একদিন, দুবেজি যখন সূর্য প্রণাম সারছেন, সেই সময় এক জোড়া শালিক কচর কচর করতে করতে দুবেজির বারান্দার মাথার উপর কার্নিশে এসে বসল। জোড়া শালিকের কচকচানি শুনে সুশীলা দৌড়ে এসে দরজা খুলে জোড়া শালিক সকাল সকাল দেখে আনন্দে আত্মহারা। ভাবাবেগে পরের পর ফ্লাইং কিস ছুড়ে দিল।

ভগবান বন্দনায় মত্ত দুবেজি পরপর চুমু ছুড়ে দেওয়ার আওয়াজ শুনে চোখ খুলে দেখেন, সুশীলা দেবী চোখ বুজে ক্রমাগত চুমু ছুড়ে দিচ্ছেন তার দিকে। বয়সে অনেকটা ছোটো সুশীলা ওনার থেকে। দুবেজির স্ত্রী রীতিমতো দাপুটে। ভগবানবন্দনা অসম্পূর্ণ রেখে বেশ অসন্তুষ্ট হয়ে ভিতরে চলে গেলেন দুবেজি! সংবিৎ ফিরে এল সুশীলার, এবার খেয়াল হল তির ভুল জায়গায় বিঁধেছে!

চুমুর আওতায় শালিক ছাড়া দুবেজিও ছিলেন। শালিক-চুম্মা দুবেজি-চুম্মাতে পরিণত হয়েছে। লজ্জায় মাটিতে মিশে যাওয়ার উপক্রম। দুবেজিও চাচা নিজের প্রাণ বাঁচা, ঝুল বারান্দায় আসাই বন্ধ করে দিলেন। সুশীলা অনুশোচনায় দগ্ধ। এ কি কাণ্ড হল! ছেলে বড়ো হয়ে গেছে, পাঁচকান হলে আর রক্ষে নেই। বাধ্য হয়ে স্বামী সুনীলকে বলল কিছু একটা করতে।

সুনীল সাফ জানাল, ‘হামসে কুঁছো না হতোই। ই তোহার লাফরা, হম না পরবু।’

এমত অবস্থায় একদিন নীচে মন্দিরে যেতে গিয়ে সামনে পেলেন দুবেজি পত্নি কবিতাজিকে। হিম্মত করে বলেই ফেললেন সমস্ত ঘটনা। সব শুনে কবিতাজি বললেন, ‘ছোড়িয়ে আপ ময়না কো দিয়ে, ক্যায়া দুবেজি কো দিয়ে — ম্যায় ক্যায়া জানু। ঔরতকো সমাহালকে রহনা চাহিয়ে। হমলোগ হ্যায় সজ্জন ব্রাহ্মণ।’ বলে গটগট করে চলে গেলেন কবিতা।

সুশীলার মাথায় হাত— এবার বোধহয় পাড়ায় ঢিঢি পড়তে আর খুব বেশি দেরি হবে না!

 

আকাশ আট-এ দেখুন তিনটি নতুন শো

বিনোদমূলক চ্যানেল আকাশ আট-এ এবার দেখতে পাবেন তিনটি নতুন শো। প্রথম দুটি বাংলা মেগা ধারাবাহিক–‘আদালত ও একটি মেয়ে’ এবং ‘তিন ভুবনের পারে’।  অন্যটি মিউজিক্যাল রিয়েলিটি শো–‘আকাশে সুপারস্টার’।

আদিবাসী মেয়ে দুর্গা সোরেনের কাহিনি তুলে ধরবে ‘আদালত ও একটি মেয়ে’। এই আদিবাসী মেয়েটি পেশায় আইনজীবী। এই কাহিনিতে তুলে ধরা হবে, দুর্গা কীভাবে সমাজের প্রান্তিক ব্যক্তিদের ন্যায়বিচারের জন্য বিভিন্ন সামাজিক ব্যবস্থার কাজের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তার এই সফরে দুই স্তম্ভ হলেন মুন্না ভাই এবং একদল শিশু। কীভাবে একজন ব্যক্তি সর্বদা নিপীড়নের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে পারে, তা তুলে ধরা হবে গল্পটিতে। ‘আদালত ও একটি মেয়ে’ পরিচালনা করছেন সজল বোস। মুখ্য চরিত্র অর্থাৎ দুর্গার ভূমিকায় অভিনয় করছেন কঙ্কনা হালদার। অন্যান্য চরিত্রে দেখা যাবে সাগ্নিক, কৃষ্ণ কিশোর এবং অভিজিৎ গুহ-কে।

সাহিত্যের সেরা সময়-এ ‘তিন ভুবনের পারে’ ধারাবাহিকটি পরিচালনা করছেন সুমন রায়। সিরিজটিতে মন্টুর চরিত্রে প্রান্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং স্বরাশির চরিত্রে দীপশ্বেতা মিত্র অভিনয় করেছেন। স্বরাশির মন পাওয়ার জন্য মন্টু চেষ্টা করে কিন্তু মন্টুর অস্থির জীবনধারা অপছন্দ করে স্বরাশি এবং তাকে প্রত্যাখ্যান করে। মন্টু এমন একজন যে লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে নিজের জীবন উপভোগ করছে। অন্যদিকে স্বরশি একজন গুণী মেয়ে এবং জীবনে ভালো কিছু কাজ করার চেষ্টা করে চলেছে। ধারাবাহিকটির অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করছেন প্রদীপ মৌলিক, চন্দক মুখোপাধ্যায়,  পূর্বা বন্দ্যোপাধ্যায়,  জায়েত্রি বন্দ্যোপাধ্যায়, মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তীর্থ মল্লিক এবং তনিষ্ঠা বিশ্বাস।

এই দুটি ধারাবাহিক ছাড়াও, আকাশ আট একটি নতুন মিউজিক রিয়েলিটি শো ‘আকাশে সুপারস্টার’ নিয়ে আসছে। প্রতি সপ্তাহে ১৮ জন সংগীতশিল্পী অংশগ্রহণ করবে। প্রতিদিন একজন অংশগ্রহণকারীকে দিনের সুপারস্টার নির্বাচিত করা হবে। আর প্রতি রবিবার ছয় জন সুপারস্টারের মধ্যে মিউজিক্যাল মেগা যুদ্ধ হবে। ‘আকাশে সুপারস্টার’ পরিচালনা করেছেন সংগীত তিওয়ারি। বিচারকদের আসন অলংকৃত করবেন দেবজ্যোতি মিশ্র, সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় (সিধু), অনিন্দ্য এবং সুতপা ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন সুজয়নীল।

চলতি নভেম্বর মাসের ২০ তারিখ থেকে (সোম থেকে শনিবার) সন্ধে ৭-টা ৩০ মিনিটে সম্প্রচার শুরু হবে ‘তিন ভুবনের পারে’ এবং রাত ৮-টায় সম্প্রচারিত হবে  ‘আদালত ও একটি মেয়ে’ ধারাবাহিকটি। সেইসঙ্গে, প্রতি সোম থেকে রবিবার দুপুর ২টো থেকে ৩টে পর্যন্ত সম্প্রচারিত হবে রিয়েলিটি শো ‘আকাশে সুপারস্টার’।

আকাশ আট-এর ডিরেক্টর প্রিয়ংকা সুরানা বারদিয়া প্রসঙ্গত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘আমরা আমাদের চ্যানেল-এর অনুষ্ঠানগুলির মাধ্যমে দর্শকদের বিনোদনের সর্বোচ্চ আনন্দ দেওয়ার জন্য ধারাবাহিক ভাবে সচেষ্ট আছি। সেইসঙ্গে, দর্শকদের আন্তরিক সমর্থনও আমাদের জন্য ব্যতিক্রমী প্রোজেক্ট উপহার দেওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলেছে। ‘আদালত ও একটি মেয়ে’, ‘তিন ভুবনের পারে’ এবং ‘আকাশে সুপারস্টার’ এই তিনটি শো সবার মন জয় করে নেবে এই আশা রাখছি।’

ক্রীড়া জগতেও জাতপাত ভেদাভেদ

এখন সমাজে প্রকৃত ভদ্র নম্র যুবতি এবং তরুণীদের সঙ্গে শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ, ব্যাড টাচ প্রভৃতির ঘটনা ঘটে, যার কোনও প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ থাকে না। তবে সাধারণ অপরাধীদের শেষরক্ষা হয় না, পুলিশ ঠিক গ্রেফতার করে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের জেলে কাটাতে হয় বছরের পর বছর। কিন্তু মজার বিষয় হল এই যে, দেশ তথা সারা পৃথিবীর বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় জিতে গোল্ড কিংবা সিলভার মেডেল জিতে আসা মেয়েরাও যখন ছাড় পান না তখন অবাক হতে হয় বৈকি! তাদের উপর শারীরিক অত্যাচার কিংবা শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে তারা ধর্নায় বসেছিল সুবিচারের আশায়। অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে কিংবা শাসকের মদতপুষ্ট হওয়ার কারণে তাদের কোনও শাস্তি হয় না। ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশন-এর বর্তমান প্রেসিডেন্ট ব্রিজভূষণ শরণ সিং-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরেও তাঁকে দোষমুক্ত করার চেষ্টা চলেছে।

অভিযোগকারিণীরা দু’ মাসের বেশি সময় যন্তরমন্তর-এ বসে ধরনাও দেওয়ার পরও তারা কোনও সুবিচার পায়নি। উলটে, রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালীরা অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। শুধু তাই নয়, ওই তরুণীদের অবস্থান বিক্ষোভ থেকে জোর করে তুলে, জেলে নিয়ে যাওয়ার সময়, ছবি তোলা হয় এবং তাদের যন্ত্রণাকাতর মুখের ছবি ফোটোশপ-এ এডিট করে হাসিমাখা মুখ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা হয়। সেইসঙ্গে এটা প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয় যে, যেন ওরা পুলিশের সঙ্গে পিকনিক করতে যাচ্ছে।

আসলে দেশে রেসলারদের যোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয় না কারণ এরা আসে পিছিয়ে পড়া সমাজ থেকে। আমির খান তাঁর ‘দঙ্গল’ ছবিতে যা দেখিয়েছিলেন, ওটাই বাস্তব এবং এখনও তাই চলছে। সরকার, রেসলিং ফাউন্ডেশন কিংবা অন্যান্য ক্রীড়া সংস্থাগুলি যদি নীরব থাকে, অভিযোগকারিণীদের পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে খুবই চিন্তার বিষয়। অনেক সময় চলে টাকার খেলা, ভাগ-বাটোয়ারা এবং মেয়েদের প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত করা। আসলে কুস্তিকে গরিবদের খেলা ধরে নেওয়া হয়েছে।

আর রেসলিং-এ যদি মেয়েরা এগিয়ে যায়, তাহলে সেক্ষেত্রে তো তাদের উঁচু নজরে দেখা হবে না, এটাই বাস্তব। কিছু মানুষের চোখে সেই মহিলারাই সম্মান পাওয়ার যোগ্য, যারা শ্বশুর, শাশুড়ি, স্বামী, সন্তানের সেবা করবে, মন্দির আর পুজোপাঠ নিয়ে থাকবে। যেসব মহিলারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠবেন, ভালো কিছু করে সুনাম অর্জন করবেন, মানুষ তাদের পায়ের নীচে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তাই, পুরুষের সঙ্গে সমানাধিকারের আসন মেয়েরা সঠিক অর্থে কবে পাবে, সে প্রশ্ন আজও থেকে গেল।অন্তত সাম্প্রতিক এই ঘটনাই তার প্রমাণ৷

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব