দুর্গা (পর্ব-৩)

পর্ব – ৩

আজও বেশ মনে আছে দুর্গার লালকালিতে লেখা প্রথম প্রেমপত্রটি দলমঘাটা বাস রাস্তায় এসে লাইট পোস্টের নীচে দাঁড়িয়ে শুভায়ু প্রায় তিরিশবার পড়েছিল। ইচ্ছে করেছিল, তার সেই পবিত্র নিষ্পাপ ভালোবাসার কথা পৃথিবীর সবাইকে জানাতে। সে কারণে সে সন্ধেবেলা প্রেমপত্রটি দেখাতে শোভনের বাড়ি ছুটে গিয়েছিল। কিন্তু শত চেষ্টা করেও দুর্গার লেখা প্রেমপত্র শোভনকে সে দেখাতে পারেনি। একটা অপরাধবোধ তার মনকে সতর্ক করে দিয়েছিল।

সে এক পা এগিয়ে আবার দু’পা পিছিয়ে এসেছিল। তার কারণ হল দুর্গা শোভনের দাদার শালি। শোভনের দৌলতেই শুভায়ু দুর্গাদের বাড়িতে যাওয়ার ছাড়পত্র পেয়েছে। শোভনকে চিঠিটা দেখালে যদি সে রাগ করে, যদি তাকে ঘেন্না করে, তা হলে তো শুভায়ুর সব আনন্দটাই মাটি হয়ে যাবে। তাই সে দিন শোভনকে চিঠিটার কথা বলতে পারেনি।

ইতিমধ্যে জল অনেক দূর গড়িয়েছে। দুর্গার সঙ্গে শুভায়ুর প্রেম যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষার ফল বেরোতে দেখা গেল, শুভায়ু ভালো ভাবেই পাস করেছে। কিন্তু শোভন কম্পার্টমেন্টাল পেয়েছে। শোভনের কম্পার্টমেন্টাল পাওয়ার কারণ হল লেখাপড়ায় তার যতটা না মন ছিল, তার চেয়ে বেশি মনোযোগ ছিল ছাত্র রাজনীতিতে। রাজনীতি করতে গিয়েই তার লেখাপড়ার এই হাল হয়েছিল।

যাই হোক, পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট করে শোভন যখন মনে প্রাণে ক্ষতবিক্ষত, তখনই সে ঠিক করল যে-দিকে দু’- চোখ যায় চলে যাবে। এ পোড়া মুখ নিয়ে বারড্রোন গ্রামে সে আর থাকতে রাজি নয়। একটা কিছু কাজ জোগাড় করে তবেই সে গ্রামে ফিরবে, নচেৎ নয়। শোভনের মনের কথা জানতে পেরে শুভায়ু তখন তাকে বলেছিল, ‘আমিও তোর সঙ্গে যাব।’

সে কথা শুনে শোভন বাধা দিয়ে বলেছিল, ‘তুই ভালো ভাবে পাস করেছিস। তুই আমার সঙ্গে জাহান্নামের পথে কেন যাবি? তা ছাড়া তোকে কলেজে ভর্তি হতে হবে। তোর এখানে থাকা দরকার।’

শুভায়ু বলেছিল, ‘তোকে জাহান্নামের পথে একা ঠেলে দিতে পারব না। তা ছাড়া তোকে ছেড়ে আমি থাকতে পারব না। আমি তোর সঙ্গে যাবই।’

শুভায়ু জেদ ধরে থাকায় শোভন আর বারণ করতে পারেনি। তার পর একদিন কাউকে কিছু না বলে হাওড়া স্টেশনে এসে পাটনার টিকিট কেটে গয়া প্যাসেঞ্জারে দু’জনে উঠে বসল। ট্রেনটা যখন ধানবাদ স্টেশনে এসে পৌঁছোল, তখন শুভায়ুর বাড়ির জন্য মন কেমন করে উঠেছিল।

শুভায়ু বলেছিল, ‘বাড়ির লোকেরা যদি তোর খোঁজ না পেয়ে পুলিশে খবর দেয়, তাহলে কী হবে?’

—যা হওয়ার তাই হবে। তবে আমি শুধু পাটনায় যাওয়ার খবর দুর্গাকে জানিয়ে এসেছি। বলে শোভন একটা সিগারেট ধরিয়েছিল।

শুভায়ু আবার প্রশ্ন করেছিল, ‘ও কিছু বলেনি।’

—তখন সে কিছু বলেনি। তবে চলে আসার আগে দুর্গা আমার হাতে একটা চিঠি ধরিয়ে দিয়েছে। এই নে পড়ে দেখ। বলে শোভন ট্রাউজারের পকেট থেকে দুর্গার লেখা চিঠিটা বাড়িয়ে দিয়েছিল।

শোভনের হাত থেকে চিঠিটা নিতে গিয়ে শুভায়ুর বুকের ভেতর ক্যানেস্তারা পেটানোর মতো দ্রিমদ্রিম শব্দ হচ্ছিল। তার জন্য তখন হয়তো কোনও অশুভ সংকেত অপেক্ষা করছিল। দুর্গার হাতে লালকালিতে লেখা চিঠিটা চোখের সামনে মেলে ধরতেই দেখা গেল তাতে লেখা রয়েছে- -দোহাই শোভনদা, তুমি ফিরে এসো। তুমি ফিরে না এলে বুঝব আমাকে তুমি একটুও ভালোবাসো না।

—ইতি দুর্গা

চিঠিটা শোভনকে ফিরিয়ে দিয়ে শুভায়ু ট্রেনের জানলার ধারে বসে দূর আকাশের দিকে তাকিয়েছিল। অব্যক্ত যন্ত্রণায় পুড়ে যাচ্ছিল তার দেহ-মন। সেই প্রথম সে বুঝতে পেরেছিল নারী কী বিষম বস্তু। নারী যেমন ভালোবাসা দিয়ে পুরুষ মানুষকে রাজা বানাতে পারে, তেমনি আবার চূড়ান্ত ছলনা করে পথেও বসাতে পারে। দুর্গা শোভনকে ভালোবাসে বলে তার একটুও দুঃখ হয়নি। দুঃখ হয়েছে শোভনকে ভালোবাসার কথা দুর্গা কেন গোপন করল। নারী যে ছলনাময়ী, এ কথা দুর্গা সেদিন চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিল।

ক্রমশ…

 

ব্রেকফাস্ট Mistakes

ইংরেজিতে একটি আপ্তবাক্য আছে— ‘ব্রেকফাস্ট লাইক দ্য কিং, লাঞ্চ লাইক দ্য প্রিন্স অ্যান্ড ডিনার লাইক দ্য পপার’। এটা সকলেই প্রায় জেনে বড়ো হয়েছি যে, প্রাতরাশ আমাদের সুস্থ জীবনশৈলীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সেই কারণেই নিউট্রিশনিস্টরা পরামর্শ দেন, ভারী ব্রেকফাস্ট দিয়ে দিন শুরু করতে। রাতে ঘুমোনোর পর বেশ কয়েক ঘন্টা আমরা না খেয়ে থাকি। এই উপোস বা ‘ফাস্ট’ ভাঙার নামই হল ব্রেকফাস্ট। প্রাতরাশে আমরা যে-খাদ্য গ্রহণ করি, তার মাধ্যমে শরীরে গ্লুকোজ তৈরি হয়। এটাই আমাদের শরীরে এনার্জির মূল উৎস।

কিন্তু সবকিছু জানা সত্ত্বেও অনেকেরই হ্যাবিট আছে ব্রেকফাস্ট স্কিপ করার। সারা সকাল কিছুই না খেয়ে, সরাসরি ভারী লাঞ্চ করার। কেউ কেউ মনে করেন রোগা থাকতে গেলে ব্রেকফাস্ট জীবনশৈলী থেকে বাদ দিতে হবে। কিন্তু এই অভ্যাসের দরুণ আমাদের শরীরে মেটাবলিজমের প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়ে পড়ে এবং শরীরে ফোলাভাব এসে যায়। অনেকে আবার ব্রেকফাস্ট হয়তো করেন কিন্তু তার ফুডভ্যালু জিরো। সেক্ষেত্রে শরীর তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না। এর ফল হল, সারাদিন শরীরে ক্লান্তির ভাব থেকে যায়। এটা আমাদের সামগ্রিক কর্মক্ষমতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটা যাতে না হয়, তাই একবার তলিয়ে ভেবে দেখুন তো— আপনি কোনও ব্রেকফাস্ট মিস্টেক করছেন না তো?

চাকফির অভ্যাস

আমরা অনেকেই দিনের শুরুটা চা কফি দিয়ে করতে পছন্দ করি। এরপর আবার প্রাতরাশ শেষ করেই চা-কফির জন্য আশক্তি দেখা দেয়। এতে একটা তাৎক্ষণিক ফ্রেশ ভাব এলেও, এটা আখেরে সুফল দেয় না। কারণ এর দরুণ ব্রেকফাস্ট-এর মাধ্যমে আমরা যে-নিউট্রিশন গ্রহণ করি, শরীর সেগুলি ঠিকমতো শোষণ করতে পারে না। তাই ব্রেকফাস্ট করার অন্ততপক্ষে ১ ঘন্টা আগে অথবা ১ ঘন্টা পরে চা-কফি সেবন করা উচিত।

ব্রেকফাস্ট বাদ দেওয়া

লেট নাইট ডিনার করার অভ্যাস যাদের থাকে, তাদের সকাল অবধি পেট ভরে থাকার অনুভূতি হয়। এদের মধ্যেই ব্রেকফাস্ট স্কিপ করার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। অনেকেই ভাবেন ব্রেকফাস্ট বাদ দিলে ক্যালোরি কন্ট্রোল করা বুঝি সহজ হবে। তাদের জানাই— এই ধারণা কিন্তু একেবারেই ভুল। রাতের লম্বা উপোসের পর, প্রাতরাশ মেটাবলিজম বুস্ট করতে সাহায্য করে। এটা শুধু আমাদের ওজনকেই নিয়ন্ত্রণ করে না বরং গ্লুকোজের মাত্রাকেও নিয়ন্ত্রিত করে। গ্লুকোজ লেভেল কন্ট্রোল করার অর্থ হল, সারাদিন ক্লান্তিহীন ভাবে আমরা কাজ করতে পারব। কম খাওয়া বা প্রাতরাশ বাদ দেওয়ার ফলে শুধু যে এনার্জির ঘাটতি হয় তা-ই নয়, ব্লাড কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাওয়া ও হার্টের সমস্যা, এমনকী টাইপ ২ ডায়াবিটিজ-এর মাত্রাও বাড়তে পারে। তাই ব্রেকফাস্ট তো স্কিপ করবেনই না, বরং খেয়াল রাখুন প্রাতরাশে যেন যথেষ্ট প্রোটিন ও ফাইবার থাকে৷

ফ্যাট: যারা ব্রেকফাস্ট স্কিপ করে ভারী লাঞ্চ করেন, দেখা গেছে তারা লাঞ্চে ওভার ইটিং-এর কারণে অনেক বেশি ক্যলোরি গ্রহণ করে থাকেন। এটা শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকারক। এছাড়া সারাদিন আলস্য আর ক্লান্তি তাদের ঘিরে রাখে। কাজ করার এনার্জিটাই তাদের কম থাকে।

টিপ: ব্রেকফাস্ট-এ প্রোটিন থাকা বিশেষ ভাবে জরুরি। হিসেবমতো ৭-৮ গ্রাম প্রোটিন। এর জন্য ব্রেকফাস্ট-এ রাখুন ১ বাটি স্প্রাউটস্ বা ৪০ গ্রাম পনির বা তফু কিংবা ১টা ডিম। এর মধ্যে থেকে যে-কোনও একটি নিয়মিত ব্রেকফাস্ট-এ খান। সেইসঙ্গে দরকার ক্যালসিয়াম। তাই দুধ বা দই কিংবা লস্যি-এর যে-কোনও একটি দৈনিক বরাদ্দ করুন।

মিসিং প্রোটিন ইন ব্রেকফাস্ট

আমরা দ্বিতীয় ভুলটা করে ফেলি ব্রেকফাস্ট-এ প্রোটিন বাদ দিয়ে। অধিকাংশ মানুষ, ব্রেকফাস্ট-এ সেটাই খেতে পছন্দ করেন যা তার অতি প্রিয় খাবার। অর্থাৎ আমরা জিভের স্বাদকে গুরুত্ব দিই, ফুড ভ্যালুকে নয়।

অনেকেই আবার প্রাতরাশে হাই কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করে ফেলেন। এতে ব্লাড সুগার লেভেল বেড়ে গিয়ে এই কার্ব কন্টেন্ট-কে ফ্যাটে রূপান্তরিত করে দেয়। এটাই ডায়াবিটিজ তথা অন্য অনেক রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রোটিন রিচ ব্রেকফাস্ট গ্রহণ করলে আমাদের মাসলস মজবুত থাকে, দীর্ঘক্ষণ খিদের অনুভূতি থাকে না। ফলে সারাদিনে এক্সট্রা ক্যালোরি ইনটেক-এর সম্ভাবনা হ্রাস পায়।

এছাড়াও জেনে রাখুন, প্রোটিন রিচ ব্রেকফাস্ট, টিরোসিনে নামক অ্যামিনো অ্যাসিড-এর লেভেল বাড়িয়ে দেয়। এটি ডোপামাইন উৎপন্ন করে, আমাদের এনার্জি ও মুড বুস্ট করার কাজে সহায়তা করে। অর্থাৎ প্রোটিন স্কিপ যদি করেন, তাহলে অচিরেই আপনাকে কার্বোহাইড্রেটের উপর নির্ভর করতে হবে বেশি। এর ফলে ওজন তো বাড়বেই, তাড়াতাড়ি খিদেও পেয়ে যাবে।

ফ্যাট: যারা প্রোটিনের সঠিক মাত্রা রেখে ব্যালেন্সড ব্রেকফাস্ট করেন, তাদের খিদে বোধ কম হয়। এর ফলে নিজের ওজন ম্যানেজ করাও সহজ হয়।

টিপ: রোজ ব্রেকফাস্ট-এর পদ বদলান। প্রোটিনের জন্য হয় ডিম, নয়তো স্প্রাউটস, কলা, ডালের প্যানকেক বা চিলা, পালংশাকের র‍্যাপ, ডাল-রুটি, ওটমিল প্রভৃতি অপশন রাখুন।

ফাস্ট ইটিং

এই ভুলটা আমরা কম-বেশি সকলেই করে থাকি। কাজে বেরনোর তাড়াহুড়োয় ফাস্ট ইটিং আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে। ব্রেকফাস্ট করার মতো ফুরসতও যেন আমাদের নেই। এই তাড়াহুড়োয়, বেশিরভাগ সময় আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই খাবারটা গলধঃকরণ করি বা চলার পথে রাস্তায় যা পারি তাই খেয়ে নিই। এর ফলে না তো আমরা ব্রেকফাস্টটা এনজয় করি, আর না যথেষ্ট চিবিয়ে খাবারটা খাই। হজমের সমস্যা হয়, আর শরীরে খাবারটা ঠিকমতো শোষিত হয় না। অনেকে তাড়াহুড়োয় বেশিও খেয়ে ফেলেন, যার ফল হল ওজন বৃদ্ধি।

তাই সিট অ্যান্ড ইট পদ্ধতি মেনটেইন করুন। বসে সঠিক পরিমাণের ব্রেকফাস্ট গ্রহণ করার অভ্যাস তৈরি করুন। ভালো করে চিবিয়ে খান, যাতে খাবার হজম হতে সমস্যা না হয়।

ফ্যাট: গবেষণা বলছে, যে-মানুষরা স্বাভাবিক স্পিডে প্রাতরাশ করেন, তারা খাবারটা এনজয় করার সঙ্গে সঙ্গে, হজমের সমস্যায়ও কম ভোগেন।

টিপ: ঘুম থেকে ওঠার ২ ঘন্টার মধ্যে ব্রেকফাস্ট সেরে ফেলুন। এতে অ্যালার্টনেস বৃদ্ধি পাবে, এনার্জি লেভেলও বুস্ট হবে দ্রুত। অর্থাৎ ব্রেকফাস্ট করার সঠিক সময় হল সকাল ৮.৩০ মিনিট থেকে ১০ টার ভেতর।

কার্বোহাইড্রেটএ নিয়ন্ত্রণ

আমরা যখনই ওয়েট কন্ট্রোলিং-এর কথা ভাবি, তখনই ব্রেকফাস্ট থেকে কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ দিয়ে দিই। অথচ আমরা ভুলে যাই, কার্বস-ই আমাদের ব্রেইন-কে কাজ করার মূল ইন্ধন যোগায়। কিন্তু কমপ্লেক্স কার্ব অর্থাৎ যাতে ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবার আছে— তা যদি ব্রেকফাস্ট থেকে বাদ দিয়ে দেন, এতে আপনার শরীরে ক্লান্তিভাব বেড়ে যাবে। মাথা ঘোরা, দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দেবে। তাই ব্রেকফাস্ট যেমন প্রোটিন-রিচ হওয়া দরকার, তেমনি ব্যালেন্সড মাত্রায় কমপ্লেক্স কার্বসও থাকা জরুরি। এতে আপনি অনেক বেশি এনার্জেটিক ফিল করবেন।

ফ্যাট: ওটমিল কমপ্লেক্স কার্বস-এর গুণাগুণে সমৃদ্ধ। এটা শরীরে এনার্জি দিতে পারে যেমন, তেমন এই ফাইবার হৃদযন্ত্র-কে সুস্থ রাখতে সহায়ক।

টিপ: প্রত্যেকদিন ব্রেকফাস্ট-এ কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট শামিল করুন। ভেজিটেবল চিঁড়ের পোলাও, ভেজিটেবল উপমা, ভেজিটেবল দালিয়া, ওটস-এর যে-কোনওটি ব্রেকফাস্ট-এর জন্য আদর্শ।

ফলের বদলে জুস নেওয়ার ভুল

আধুনিক জীবনশৈলীতে আমরা গোটা ফল খাওয়ার অভ্যাস প্রায় ত্যাগ করেছি। মর্নিং ব্রেকফাস্ট-এ জায়গা করে নিচ্ছে প্রসেসড জুস। এতে ক্যালোরির মাত্রা যেমন বেশি, তেমনই ফাইবারের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। টেস্ট বাড়ে বটে এই জুস-এ কিন্তু ফুডভ্যালু কমে যায়। রাতের উপোসের পর জুস কিন্তু পাচনতন্ত্রের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কনস্টিপেশনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ব্রেকফাস্ট-এ গোটা ফল শামিল করুন। এর পুষ্টিগুণ এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করবে। এছাড়া আপনার শরীরকে ডিটক্স করতেও সহায়তা করবে।

ফ্যাট: ১ গেলাস জুস-এ আপনি জিরো ফাইবার গ্রহণ করেন। কিন্তু ১টা গোটা আপেলে ৪ গ্রাম ফাইবারও পেয়ে যাবেন আপেলের পুষ্টিগুণের সঙ্গে।

টিপ: রোজ ১৫০ গ্রাম ফল খাওয়া জরুরি। এটি পাচন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।

দুর্গা (পর্ব- ২)

পর্ব – ২

আসলে শোভনের জন্যই শুভায়ুর, দুর্গার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। তা না হলে তার জানাই হতো না জয়নগর গ্রামে এরকম একটি সুন্দরী রমণী রত্ন আছে। পাওয়া হতো না প্রেমের রূপ-রস-গন্ধ। তার বেশ মনে আছে, অভাবের জন্য যখন তাদের সংসার অচল হয়ে পড়েছিল, তখন শোভন জয়নগরে তার দাদার শ্বশুরবাড়িতে পাঁচশো টাকার একটা টিউশনি জোগাড় করে দিয়েছিল। সে সময় অভাবের সংসারে টিউশনি করে পাওয়া পাঁচশো টাকার মূল্য ছিল অনেক।

শুভায়ু যখন দুর্গার ছোটো ভাই রাজুকে পড়াতে যেত, তখন সে দেখত ছলছুতো করে দুর্গা পড়ার ঘরে হঠাৎ ঢুকে তার উপস্থিতি ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিত। কখনও ছাত্র পড়ানোয় ব্যস্ত শুভায়ুর কানের কাছে আলতো স্বরে বেজে উঠত রঙিন কাচের চুড়ির রিনিঝিনি শব্দ আবার কখনও কোনও মুহূর্তে ভেসে আসত শাড়ির খসখস শব্দ। যদি কখনও পড়ার ঘরে স্নো পাউডারের গন্ধ ঘ্রাণে ভেসে আসত, শুভায়ু বুঝতে পারত দুর্গা এসে ঘরে ঢুকেছে। সে এক অপূর্ব অনুভূতি ঘিরে থাকত শুভায়ুকে সারাক্ষণ।

সে সময় শুভায়ুকে যেন নেশায় পেয়ে বসেছিল। পড়াতে এসে যদি কোনও দিন দুর্গার উপস্থিতি টের না পেত, মনটা তখন ভীষণ খারাপ লাগত। অথচ তখনও তার ছাত্রের দিদির মুখটা দেখা হয়নি। সে যেমন মাথা নীচু করে শোভনের দাদার শ্বশুড়বাড়ি পড়াতে আসত, তেমনি পড়ানো শেষ হলে মাথা নীচু করেই চলে যেত। শুধু একদিন সে যখন তাকে চা দিতে এসেছিল, সেদিন শুভায়ু সাহস করে চশমার ফাঁক দিয়ে তার পদ্মফুলের মতো আলতা পরা ফরসা পা দু’খানা দেখেছিল। তাইতেই সে মজে গিয়েছিল। তারপর থেকে দুর্গার মুখটা দেখার জন্য সে চঞ্চল হয়ে উঠেছিল।

একদিন দুর্গা সে সুযোগ করে দিল। সে দিন কী কারণে যেন ঘরে ঢুকেছিল। ‘উরি বাবারে বলে হঠাৎ সে চিৎকার করে উঠতেই শুভায়ু চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলেছিল, “কী হয়েছে?”

—দেখুন না, আরশোলা। বলে দুর্গা কাঁচুমাচু মুখ করে দাঁড়িয়েছিল।

শুভায়ু দেখল তার সামনে যেন কুমোরটুলির রাখাল পালের দুর্গা প্রতিমা দাঁড়িয়ে আছে। সে দিন কি তিথি ছিল তা মনে নেই। শুধু মনে আছে দুর্গার পরনে ছিল জরিপাড় বসানো লাল ছাপা তাঁতের শাড়ি, কানের লতিতে ছিল সোনার রিং, গলায় ছিল কালো পুঁতি দিয়ে গড়া মঙ্গলসূত্র হার, আর নাকে ছিল ডালিমের দানার মতো লালপাথর সেট করা নাকছাবি। যতদূর মনে পড়ে, কপালের মাঝখানে কুমকুমের একটা ছোটো টিপও ছিল।

আজও মনে আছে, দুর্গার সেই অপরূপ মোহিনী রূপ দেখে শুভায়ু ফস করে বলে ফেলেছিল, ‘দুর্গা নামটা তোমার সার্থক!’

সে কথা শুনে দুর্গার মেক-আপ করা মুখটা লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠেছিল। শুভায়ুর স্পষ্ট মনে আছে, দুর্গা তাকে জিভ ভেংচে ছুটে পালাতে গিয়ে দরজার চৌকাঠে হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়েছিল।

শুভায়ু পড়ার টেবিল থেকে উঠে এসে কোনও দ্বিধা না করে তার হাত ধরে তুলে বলেছিল, ‘খুব লেগেছে বুঝি?’ দুর্গার সুন্দর মুখটা তখন ঘামতেলের মতো চকচক করছিল। সে যখন মাথা নেড়ে তার ভ্রমরকালো চঞ্চল চোখের দৃষ্টি দিয়ে শুভায়ুকে মোহিনী মায়ায় আচ্ছন্ন করে পাশের ঘরে চলে গিয়েছিল, তখন শুভায়ুর বুকে হাজার খুশির ঢেউ আছড়ে পড়েছিল। ছোটোবেলা থেকে যত দুঃখ যন্ত্রণা তার মনে জমা হয়েছিল, তা যেন দুর্গার এক পলকের সম্মোহনী দৃষ্টিতে সেই মুহূর্তে গলে জল হয়ে গিয়েছিল।

তার পর পরম লগ্ন এল সেই দিন, যে-দিন পড়াতে গিয়ে দুর্গা তার প্রেমপত্রে কোনও ভনিতা না করেই জানিয়ে দিয়েছিল তার মনের গোপন কথা… ‘তোমাকে ভালোবাসি। এর চেয়ে বড়ো সত্য আমার কাছে আর কিছু নেই। ভালোবাসা যদি কোনও পাপ না হয়, যদি অন্যায় না হয়, তাহলে অন্তত একটা চিঠি লিখে আমাকে জানিও। তোমার চরণে শত কোটি প্রণাম জানিয়ে চিঠি এখানেই শেষ করছি।’

— ইতি দুর্গা।

ক্রমশ…

দুর্গা (পর্ব – ১)

দুর্গার কথা মতো শুভায়ু নিমপাতা দাঁতে কেটে চিনি মুখে দিয়ে বারান্দার এককোণে গিয়ে কুশাসন পেতে বসল। শুভায়ু একটু আগে ভাবছিল শ্মশান থেকে বাড়ি ফেরার পর শ্মশানযাত্রীদের মুখে কে একটু চিনি জল দেবে। কে তাদের যত্ন করে দাওয়ায় বসাবে। দিদিটাও যদি বেঁচে থাকত, তাহলে তার কোনও চিন্তা ছিল না।

বাসুলডাঙ্গা গ্রামে দিদির যখন বিয়ে হয়, তখন সে রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের ছাত্র। বাবা বেশ ধুমধাম করেই দিদির বিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই কপাল পুড়ল। ছেলেপুলে না হওয়ায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন দিদির ওপর অকথ্য অত্যাচার চালাতে লাগল। শুধু তার খাওয়া বন্ধ নয়, বাঁজা মেয়েছেলের মুখ দেখা পাপ বলে শাশুড়ির অকথ্য গঞ্জনাও চলতে লাগল।

শ্বশুরবাড়ির অনাচার আর অবহেলা পেয়ে দিদি যখন মনের দুঃখে বাপের বাড়ি ফিরে এল, তখন শুভায়ু দেখল দিদি নয়, যেন তার কঙ্কালসার দেহটা ফিরে এসেছে। অসুস্থ শরীর নিয়ে সে বছর খানেক বেঁচেছিল। তারপর একদিন দিদি শ্বশুরবাড়ি থেকে পাওয়া সব দুঃখ আঁচলে বেঁধে পরপারে পাড়ি দিয়েছিল।

শ্বশুরবাড়ির লোকজন দিদির নিন্দেমন্দ করলেও বাসুলডাঙা গ্রামের লোকজন দিদিকে দেবীর আসনে বসিয়েছিল। তারা এখনও বলে সতীলক্ষ্মী এরকম মেয়ে আর হয় না। গ্রামের কারও বিপদ-আপদ হলে দিদি যেন তখন দশভুজা হয়ে তাদের সেবা করত। সাধে কি আর বাসুলডাঙা গ্রামের লোকেরা তাকে দেবী বলে। আজ মায়ের শব দাহ করে এসে শুভায়ুর দিদির কথা বড়ো বেশি করে মনে পড়ছে।

—এই চা-টুকু খেয়ে নাও। শরীরের ধকলটা একটু কমবে, বলে দুর্গা চায়ের প্লেটটা শুভায়ুর পায়ের কাছে নামিয়ে রেখে উঠোনে নেমে গেল।

দুর্গা যে কখন স্টোভ ধরিয়ে চা করেছে, কখন শ্মশানযাত্রীদের হাতে মিষ্টি তুলে দিয়েছে— শুভায়ু জানতেই পারেনি। জানতে পারল তখন, যখন সে দেখল শ্মশানবন্ধুরা একে একে যে-যার বাড়ি চলে গেছে। শুধু বারান্দার একধারে শোভন হাঁটু মুড়ে বসে আছে। চায়ের কাপে সে চুমুক দেয়নি। তার বিষণ্ণ চোখের দৃষ্টি এখন উঠোনে উড়ে এসে বসা শালিখ পাখির দিকে, না কাপ-ডিশ ধোয়ায় ব্যস্ত দুর্গার পদতলে, বোঝা মুশকিল।

একটু পর দুর্গা হাতের কাজ সেরে এসে বলল, ‘কী হল শোভনদা চা যে জুড়িয়ে গেল।’

শোভন তাড়াতাড়ি এক চুমুকে চা-টুকু খেয়ে দুর্গার উদ্দেশে বলল, “তুমি শুভায়ুর জন্য হবিষ্যির ব্যবস্থা করো। আমি বাড়ি থেকে ঘুরে আসছি।’

দুর্গা বলল, “দিদিকে বোলো সে যেন আমার জন্য চিন্তা না করে। আমি একটু পরেই যাচ্ছি।

—আসি রে, বলে শোভন, শুভায়ুর উদ্দেশে হাত নেড়ে বাইরে বেরিয়ে গেল।

—চা-টা খেয়ে নাও। চা খেলে মাসিমার আত্মা মোটেও কষ্ট পাবে না। বলে দরজার কাছে ঠেস দিয়ে দাঁড়াল দুর্গা। শুভায়ু চোখ তুলে দেখল, দুর্গার কথা বলার ধরন, তার দাঁড়াবার ভঙ্গি, এমনকী কাজলকালো টানা চোখের দৃষ্টিটাও ঠিক সাত বছর আগেকার মতো। যা কিছু পরিবর্তন ওর হয়েছে, তা হল কপালের সিঁদুর আর তার পলা বাঁধানো শাঁখা – যাকে বলে এয়োস্ত্রীর চিহ্ন। শোকের দিনেও দুর্গার চিবুকের তিলটার দিকে তাকিয়ে শুভায়ুর বুকের ভেতর পুষে রাখা পুরোনো ক্ষতস্থান দিয়ে রক্ত ঝরতে লাগল। পৃথিবীর কোনও ওষুধেই এ ক্ষত সারবে না। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত এই ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে ঠিক পেসমেকারের মতো।

—কী হল, চা খেলে না? দুর্গার সেই পিয়ানোর সুর বেজে ওঠা কণ্ঠস্বরটা শোনা গেল। যে-কণ্ঠস্বর শুনলে এখনও একরাশ কান্না গুমরে গুমরে ওঠে শুভায়ুর পোড়খাওয়া বুকের মধ্যে। এর জন্য দায়ী তার বন্ধু শোভন।

ক্রমশ…

 

নেপথ্যে কে? (শেষ পর্ব)

সিন্দুকের কী-হোলের চারপাশে চাবি ঘষার দাগ থেকে আন্দাজ করা যায়, যিনি চাবিটি ব্যবহার করেছেন তিনি অনভিজ্ঞ। সিন্দুকের চাবি কোথায় রাখা থাকে সেকথা সাধন বিলক্ষণ জানত, শুধু জানত না ঠিক কোন চাবিটা তার প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, সিন্দুকের হাতলটিতে নস্যির গুঁড়ো লক্ষ্য করেছিলাম। ওই বাড়িতে নস্যি নেওয়ার অভ্যাস যে একমাত্র সাধন পান্ডেরই আছে সেটা আশাকরি তুমি মনে করতে পারছ?

শেষের প্রশ্নটা আমার উদ্দেশ্যে করল কমলাক্ষ। তৎক্ষণাৎ প্রথম দিনের স্মৃতিটা তাজা হয়ে উঠল। জিজ্ঞাসাবাদ করতে রান্নাঘরে প্রবেশ করতেই কোনও একটা পিঁড়ির উপর বসে থাকতে দেখা গিয়েছিল সাধনকে। বয়স এবং দুঃখের মিশেলে মুখটা হয়ে উঠেছিল বেজায় ফ্যাকাশে। তার হাতে ছোট্ট স্টিলের নস্যির কৌটা তখনই নজরে পড়েছিল বটে।

—মূল্যবান পাথরগুলো রাতারাতি সরিয়ে ফেলা সাধনের পক্ষে সম্ভব ছিল না। কমলাক্ষ পুনরায় বলতে শুরু করল, তাই সে বুদ্ধিকরে ওইগুলোকে অ্যাকোয়ারিয়ামের মধ্যে ফেলে দেয়। খুব স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য রঙিন পাথরের সাথে সেগুলি দিব্বি আত্মগোপন করে যায়, এতদূর বলে কমলাক্ষ একটু বিরাম নিল।

—সে না হয় বুঝলাম। ইন্সপেক্টর মল্লিক বললেন, কিন্তু ওই ইউকোলেলের স্ট্রিং খুলেই যে হত্যার কাজটি করা হয়েছে তা কী করে বুঝলেন?

— ইউকোলেলে! মানে যেটা মনোময়বাবুর দেয়ালে টাঙানো ছিল? প্রশ্নটা এবার আমি করলাম।

—একদম ঠিক বলেছ বিনয়। কাল রাতে ফোনে পোস্টমর্টেমের রিপোর্টের বক্তব্যটা শোনামাত্রই ব্যাপারটা মাথায় আসে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, খুব সরু কিছু দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। ওই ঘরে সবচেয়ে সহজলভ্য অস্ত্রটি ছিল ইউকোলেলের তার। এখানে মনে রাখতে হবে সাধন কিন্তু গ্রামের মানুষ। একতারার মতো বাদ্যযন্ত্র সম্বন্ধে তার জ্ঞান থাকাটা মোটেই আশ্চর্যের কিছু নয়। কিন্তু হায়, এই রন্ধনশিল্পী ইউকোলেলের তারের বন্ধনশৈলীটি আত্মস্থ করতে পারেনি।

—সে ক্ষেত্রে মধুলতাদেবীও নিশ্চয়ই সন্দেহের তালিকায় ছিল? প্রশ্নটি করলেন ইন্সপেক্টর মল্লিক।

—তা তো বটেই। কিন্তু সেক্ষেত্রে দুটি সমস্যা আছে, প্রথমত- খুনি তারটি খুলেছে বটে কিন্তু পরিপাটি করে সেটিকে পূর্বরূপে ফিরিয়ে দিতে পারেনি। অর্থাৎ আবার সেই অপরিপক্ক হাতের কাজ! দ্বিতীয়ত- ওই ইউকোলেলেটি ছিল দেয়ালে টাঙানো একটি শোপিস হিসেবে এবং সেটি বোঝা যায় তার উপর জমে থাকা ধুলোর আস্তরণ দেখে। সেই ধুলোর উপর যে-আঙুলের ছাপগুলো পাওয়া গেছে তা খুব ভালো করে পরীক্ষা করলে বোঝা যায়, খুনির বাঁ হাতের আঙুল যেখানে রাখা হয়েছে সেখানে মধ্যমার কোনও ছাপ পড়েনি, অর্থাৎ…

—মনে পড়েছে, গতকাল সাধনের সাথে কথা বলার সময় খেয়াল করেছিলাম ওর বাঁহাতের মধ্যমা আঙুলটা নেই। মনে মনে কমলাক্ষের উদ্দেশ্যে বললাম, সাব্বাস, তোমার চোখ বটে!

—ফলে দুইয়ে দুইয়ে চার করতে আর সময় ব্যয় হয়নি। তবে আরও একটি ব্যাপার হল, যদি মধুলতাদেবী বা অখিলেশ চুরিটা করতেন, তাহলে পাথরগুলিকে কখনওই অ্যাকোয়ারিয়ামের মধ্যে ফেলে রাখতেন না, চায়ের কাপে শেষ চুমুকটা দিয়ে কমলাক্ষ উপসংহার টানল।

—সত্যিই আপনার জবাব নেই কমলাক্ষবাবু, ইন্সপেক্টর মল্লিক বললেন।

গত সাত বছর কমলাক্ষ আমার পরম বন্ধু। তার প্রত্যেকটি সফলতার পর ওর প্রতি আমার শ্রদ্ধা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। আজও তার ব্যাতিক্রম হল না। মনে মনে আমার বন্ধুটির মগজকে কুর্নিশ জানালাম।

(সমাপ্ত)

নেপথ্যে কে? (পর্ব-০৪)

তাহলে পাথরগুলো গেল কোথায়! আর ওই মেয়েটি, কী যেন নাম— হ্যাঁ, মধুলতা, দ্যাখো হয়তো সেই টাকার লোভে…. ঠিক এইসময় টেলিফোনটা বেজে উঠতেই আমার কথার তাল কেটে গেল। রিসিভারটা কানে ধরে প্রায় আধ মিনিটে সর্বসাকুল্যে তিনটি শব্দ ব্যয় করল কমলাক্ষ — ‘আচ্ছা’, ‘বেশ’, ‘বুঝলাম’। কিন্তু এই কথোপকথনের কিছুই আমার বোধগম্য হল না। ফোনটা রাখার পর থেকেই কমলাক্ষ যেন চিন্তার সাগরে ডুব দিল। আমি জানি, কমলাক্ষের এই মৌনতা রহস্যের যবনিকা উন্মোচিত না হওয়া পর্যন্ত চলবে। এমন জটিল মুহূর্তগুলিতে কমলাক্ষ একাকিত্ব পছন্দ করে। প্রশ্ন খরস্রোতা নদীর মতো ধেয়ে চলেছে মনজুড়ে কিন্তু মৌনতার বাঁধ দিয়ে তার গতি রুদ্ধ করা ছাড়া উপায় নেই। অগত্যা আমি মনোনিবেশ করলাম রবীন্দ্রনাথের ‘নৌকিডুবি-তে’।

রাতের খাওয়া শেষ হয়েছে কিছুক্ষণ আগে। কমলাক্ষ একটি সিগারেট ধরিয়ে বসেছে। রাতে খাবার পরে আমার আবার একটি পান না হলে চলে না।

একটা বড়ো করে হাই তুলতে তুলতে আমি বললাম, ‘বাড়িতে একটা কিছু পুষলে কেমন হয় বলো তো? তুমি যখন থাকো না, বা এমন ধ্যানমগ্ন মুনির রূপ ধারণ করো তখন অন্তত একটা সঙ্গি পাওয়া যাবে।’

—সারমেয়?

—না না, ওতে অনেক হ্যাপা। এই ধর যদি একটা অ্যাকোয়ারিয়াম আনা যায়, বেশি বড়ো নয়— ওয়ান ফুট বাই ওয়ান ফুট, খান পাঁচেক গোল্ড ফিশ….

—কী বললে বিনয়, অ্যাকোয়ারিয়াম ? সাব্বাস! একটা সম্ভবনাময় সূত্র তুমি আমার হাতে তুলে দিয়েছ, কমলাক্ষ উচ্ছসিত কণ্ঠে কথাগুলি বলে উঠল। তার শরীর এখন আরাম কেদারায় সোজা হয়ে বসেছে।

হতভম্বতা আমার মুখমন্ডলে এমন ভাবে প্রকট হয়ে উঠেছিল যে তা দেখে কমলাক্ষ হেসে বলল, “আমার বিশ্বাস, চুনি, পান্না আর পোখরাজ এখনও মনোময়বাবুর বাড়ি-ছাড়া হয়নি। তবে দিনের আলো ফুটলে কী হবে তা আমার জানা নেই, তাই যা করতে হবে আজ রাতেই। কথাটায় যে প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত আছে তা বুঝতে আমার বাকি রইল না। তবে আমার আক্ষেপ একটিই, এই সমস্ত রোমাঞ্চকর মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার সৌভাগ্য আমার একটিবারও হয়নি। সমস্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজের দায়িত্ব কমলাক্ষ একাই নিজের কাঁধে তুলে নেয়। আমি প্রতিবাদ করলে সে বলে, ‘সমাজে মগজের চেয়েও কলমের প্রয়োজন অনেক বেশি।”

কমলাক্ষ যখন বাড়ি ফিরল তখন ঘড়িতে সকাল সাড়ে দশটা। সঙ্গী ইন্সপেক্টর মল্লিক। দীর্ঘ অপেক্ষমান মুহূর্তের উদ্বিগ্নতা নিমেষে বিস্ময়ে পরিণত হল যখন দেখলাম, পুলিশ মহাশয়ের ঠোঁট জুড়ে এক প্রসন্নতার হাসি।

—একটু চা খাওয়াতে পারো বিনয়? কমলাক্ষ আবদার করল।

আমার রন্ধনশিল্প গরম ভাত, ডিমের অমলেট এবং চা— এই ত্রিশঙ্কুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ৷ আমি তড়িঘড়ি তিন কাপ চা করে নিয়ে এলাম। চায়ের কাপে একটা মৃদু চুমুক দিয়ে ইন্সপেক্টর মল্লিক বললেন, “এবার বলুন তো আপনি কী করে বুঝলেন যে, ওই চাকর ব্যাটাই চোর ? শুধু চোরই বা বলি কী করে, ও যে খুন করতে পারে সে তো আমি স্বপ্নেও ভাবিনি!”

—চাকর, মানে ওই সাধন পান্ডে? সে খুনি? আমার ভেতরে সব যেন ওলোটপালট হয়ে যাচ্ছিল। কমলাক্ষের পরের কথা কানে আসতেই আমার সম্বিত ফিরল।

(ক্রমশ)

নেপথ্যে কে? (পর্ব-০৩)

চাবি ঘোরানোর জায়গাটা একটু ভালো করে লক্ষ্য করো, কমলাক্ষ বলল।

চাবি প্রবেশ করানোর ছিদ্রটির আশেপাশে সিন্দুকের শরীরে অনেকগুলি দাগের চিহ্ন, খুব স্পষ্ট নয় তবে বোঝা যায়, ঠিক যেন কেউ অনভ্যস্ত হাতে চাবি ঘোরানোর চেষ্টা করেছে।

—কী বুঝছেন, কমলাক্ষবাবু? ইন্সপেক্টর মল্লিক ঠিক আমাদের পেছনে এসে দাঁড়িয়ে প্রশ্নটি করলেন।

—বিশেষ কিছু নয়। আপনি কিছু বুঝতে পারলেন? কমলাক্ষ পালটা প্রশ্ন করল।

—আরে মশাই বাইশ বছর হল এই লাইনে আছি। সপ্তাহে অন্তত একটা এরকম মার্ডার কেস আসেই। ভেরি সিম্পল ডিডাকশন, ছেলে দেনা শোধ করার জন্য বাপকে প্রাণে মেরেছে।

—হুম, তাই বটে, কমলাক্ষ বলল। কিন্তু তার কথায় কোনও উপসংহারের আভাস পেলাম না এবং বুঝলাম ইন্সপেক্টর মহাশয়ের কাছে বিষয়টি জলের মতো সহজ হলেও, কমলাক্ষ আপাতত সেটিকে কাঠিন্যতার পর্যায়েই রেখেছে।

—তাহলে আপনি এখন চললেন? ইন্সপেক্টর মল্লিক বললেন।

—বাড়ির চাকরের সাথে দু’একটা কথা বলেই রওনা দেব। আর একটা কথা পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট…

কমলাক্ষকে কথাটা সম্পূর্ণ করতে না দিয়েই ইন্সপেক্টর মহাশয় তৎপর হয়ে বললেন, “সে আর বলতে হবে না। রিপোর্টের একটা ফটোকপি আপনার কাছে পৌঁছে যাবে।”

ইন্সপেক্টর মল্লিককে ধন্যবাদ জানিয়ে আমরা সিঁড়ি ধরে নীচে নেমে এলাম। বাড়ি যখন ফিরলাম তখন ঘড়ির কাঁটা দুপুর বারোটা ছুই ছুই। মনোময়বাবুর চাকর, সাধন পান্ডের কাছ থেকে যে একটি বিশেষ তথ্য সংগ্রহ করা গেছে তা এখানে বলে রাখা প্রয়োজন। মনোময়বাবু বিপত্নীক ছিলেন সে কথা আগেই বলেছি। তাঁর এই একাকিত্বের জীবনে একটি নতুন মনোরঞ্জনের উপায় হিসেবে তিনি জুটিয়ে বসলেন একটি বাদ্যযন্ত্র, ইউকোলেলে। শিক্ষিকাও জুটে গেল দ্রুত, নাম মধুলতা বিশ্বাস। যুবতি ও সুন্দরী শিক্ষিকার সাথে মনোময়বাবুর ঘনিষ্ঠতা ছিল বেশ দৃষ্টিকটু। এই নিয়ে ছেলের সাথে বিস্তর ঝামেলাও হয়েছে বেশ কয়েকবার। সবচেয়ে বড়ো কথা, যে- রাতে মনোময়বাবু খুন হন, মধুলতাদেবী সেদিন রাত দশটা পর্যন্ত ওই বাড়িতেই ছিলেন।

সন্ধে পর্যন্ত আমাদের প্রাত্যাহিক রুটিনে কোনও বদল ঘটল না। কমলাক্ষের মধ্যেও বিশেষ কোনও দুশ্চিন্তার ভাব লক্ষ্য করা গেল না। রাত সাতটার পর প্রায় ঘন্টা দুয়েকের মতো কমলাক্ষ একবার উধাও হল। ফিরে এসে, ওর প্রিয় আরাম কেদারাটায় বসে আমার উদ্দেশ্যে বলল, ‘নতুন খবর, কলকাতার এক হোটেল থেকে অখিলেশ গ্রেফতার হয়েছে।”

—অখিলেশ ! কলকাতা থেকে! কিন্তু সে তো…

—সে ভূবনেশ্বর যায়নি। যদিও ব্যাপারটা আগে থেকেই আমি আন্দাজ করেছিলাম।

—ও, তাহলে তো সবটাই জলের মতো পরিষ্কার।

— কোনটা?

—অখিলেশ ভেবেছিল সকলে ভাববে সে ভূবনেশ্বরে আছে এবং সুযোগ বুঝে সে রাতে বাড়ি ফিরে, বাপকে মেরে, পাথরগুলো হাতিয়ে নেবে, সিম্পল।

—ভেবেছিল?

—না, মানে করেছে।

—তোমার যুক্তি যদি মেনেও নেওয়া যায় তাতেও একটা সমস্যা আছে।

—সেটা কী? আমি বেশ বিরক্ত হয়েই জিজ্ঞেস করলাম।

—পাথরগুলো অখিলেশের কাছে পাওয়া যায়নি, কমলাক্ষ বলল।

—পাওয়া যায়নি!

—তোমার প্রথম অনুমানটুকু সঠিক। অখিলেশ রাতে ফিরে লকার খুলেছিল বটে, তবে ততক্ষণে চুরিটি হয়ে গিয়েছে। তার বাবাও যে ইতিমধ্যেই খুন হয়েছেন, সেকথা সে আন্দাজ করতে পারেনি।

(ক্রমশ)

‘সিতারে জমিন পর’ আমিরের নতুন ছবি

বলিউডের শক্তিশালী অভিনেতা Amir Khan শীঘ্রই পর্দায় ফিরে আসতে চলেছেন। লাল সিং চাড্ডা বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ার পরে আমির বহুদিন ছবির জগত থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখে ছিলেন। আমির খানের ভক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পরবর্তী ছবির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। আমির খান বর্তমানে প্রযোজকের চেয়ারে রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি লাহোর ১৯৪৭ ছবিটির ঘোষণা করেছেন, পরিচালনায় থাকবেন রাজকুমার সন্তোষী এবং সানি দেওল এই ছবিতে অভিনয় করবেন। এরই সঙ্গে আমির খান আরেকটি চলচ্চিত্রের ঘোষণা করেছেন। ২০২৪ সালে আমির তাঁর এই ছবিটি বড়ো পর্দায় নিয়ে আসার ঘোষণা করেছেন। ছবির নাম ‘সিতারে জমিন পর’। এই ছবির মাধ্যমে আমির, অক্ষয় কুমারের ওয়েলকাম থ্রি-র সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

সম্প্রতি একটি মিডিয়া সাক্ষাৎকারে আমির বলেন, ‘আমি সিতারে জমিন পর’ ছবিতে অভিনয় ও প্রযোজনা করছি।’ এই ছবিটির মাধ্যমে অভিনেতা হিসেবে আবার ফিরতে চলেছেন তিনি। তিনি এটাও জানিয়েছেন যে, ‘তারে জমিন পর’ থিম নিয়েই গল্প এগিয়েছে তবে নতুন ছবিটিতে তাঁর টিম আরও অনেকটা এগোবার চেষ্টা করেছে। আগের সিনেমাটি যেমন দর্শকদের কাঁদিয়েছে, নতুন ছবিটি দর্শকদের হাসাবে। তারে জমিন পর ছবিতে আমির, দর্শিলের চরিত্রকে সাহায্য করেছিলেন, কিন্তু এই ছবিতে নয়জন ব্যক্তি, তাদের নিজস্ব সমস্যা নিয়ে আমিরের অভিনীত চরিত্রটিকে সাহায্য করবে। বলিউডে মিস্টার পারফেকশনিস্ট হিসাবে পরিচিত Amir Khan তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলির সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়গুলি নিয়ে কাজ করেন। আমির খানকে সর্বশেষ ‘লাল সিং চাড্ডা’ ছবিতে দেখা গিয়েছিল, যা বক্স অফিসে খুব বেশি আয় করতে পারেনি।

‘সিতারে জমিন পর’ ছবিটি ‘তারে জমিন পর’-এর সিক্যুয়েল কিনা তা স্পষ্ট করেননি অভিনেতা। ২০০৮ সালের চলচ্চিত্রে আমির, দর্শিল সাফারি অভিনীত চরিত্র ঈশান নন্দকিশোর অবস্থির শিক্ষক রাম শঙ্কর নিকুম্ভের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যিনি ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন।

Amir Khan তাঁর নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা সমর্থিত, সানি দেওল অভিনীত প্রকল্প সম্পর্কেও বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি একটি সিনেমা প্রযোজনা করছি, যা পরিচালনা করবেন রাজকুমার সন্তোষী। ছবিটির নাম ‘লাহোর ১৯৪৭’ এবং সানি দেওল ছবিটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করবেন। আমি শুধু সিনেমাটি প্রযোজনা করছি। নায়ক সানি। এটি একটি খুব ভালো গল্প’, তিনি জানান।

আমির গত বছর ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি পরিবারের দিকে মনোনিবেশ করার জন্য চলচ্চিত্র থেকে বিরতি নিচ্ছেন। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আমির তাঁর ছবির পাশাপাশি ছেলের কথাও জানিয়েছেন। অভিনেতা জানিয়েছেন যে, তাঁর ছেলে জুনেইদ চলচ্চিত্র ‘প্রীতম পেয়ারে সে’ দিয়ে বলিউডে প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন। আমিরের ছেলে জুনেইদ যে পর্দার আড়ালে থেকেই কাজ করবেন, তিনি অভিনয় করবেন না, তা পুরোপুরি নিশ্চিত।

আলোর উৎসবে দিন ভালোবাসা-র উপহার

সারা বছর-ই কিছু-না কিছু উৎসব-অনুষ্ঠান চলতেই থাকে। তবে শারদোৎসব থেকে বড়ো উৎসবের সূচনা বলেই আমরা ধরে নিতে পারি। এই সময় থেকেই আমরা সবচেয়ে বেশি আনন্দে মেতে থাকি। বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনদের আগমনও ঘটে এই সময় থেকেই। কিন্তু ভালোবাসার মানুষকে উপহার দেওয়ার বিষয়টি এসে পড়ে ঠিক দীপাবলির সময়ই।

মনে রাখবেন, দীপাবলিতে উপহার দেওয়া মানেই আনন্দ এবং সুখের আলো ছড়িয়ে দেওয়া। কিংবা বলা যায়, পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়া। তাই দীপাবলি-র উৎসবকে উপহার প্রদানের প্রতীক বলে মনে করা হয়। আর সেই আলোর উৎসব এখন দরজায় প্রায় কড়া নাড়াচ্ছে। তাই এখন থেকেই পরিকল্পনা করে রাখুন কী উপহার দেবেন ভালোবাসা-র মানুষজনকে। সাধারণ কিছু উপহার দেবেন, নাকি দেবেন সোনা-হিরের অলংকার? পকেটের ওজন বুঝে কী উপহার দিলে আপনার ভালোবাসা-র মানুষকে খুশি করতে পারবেন, এই বিষয়ে রইল উপযুক্ত পরামর্শ।

উপহার দেওয়ার আগে যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে, তা হল—যাকে উপহার দিচ্ছেন, তাকে খুশি করা। তাই আগে থেকেই জেনেবুঝে নিতে হবে, যাকে উপহার দেবেন তার রুচি এবং পছন্দের বিষয়টি। আর তা যদি না পারেন, তাহলে আপনার পছন্দের এমন কিছু উপহার দিন, যা প্রাপক মনে রাখবেন দীর্ঘদিন।

দিতে পারেন ড্রাই-ফ্রুট অথবা শুকনো মিষ্টি ভর্তি ডেকোরেটেড ঝুড়ি। এছাড়া, ইলেকট্রনিক্স গ্যাজেট যেমন স্মার্টওয়াচ, ফিটনেস ট্র্যাকার, পোর্টেবল ব্লুটুথ স্পিকার, হেডফোন, ফোন অ্যাডাপ্টার, পাওয়ার ব্যাংক ইত্যাদি উপহার সামগ্রী। দিতে পারেন ফ্যান সহ ল্যাপটপ টেবিল।

প্রিয় মানুষটির ছবি সহ ফটো ফ্রেম এবং কফি মগ হতে পারে দুর্দান্ত দীপাবলি উপহার।ছোটো ব্যাগ, স্টেইনলেস স্টিলের জলের বোতল, পুনঃব্যবহারযোগ্য স্ট্র, থার্মাল কফি মগ, নোটবুক, ডেস্ক প্ল্যান্ট এবং ডেকোরেটেড মাটির প্রদীপও দিতে পারেন আপনি।

নিজের হাতে তৈরি চকোলেট এবং কুকিজও হতে পারে ভালো গিফট। ইউ টিউব-এ চকোলেট বানানোর পদ্ধতি দেখে নিয়ে ট্রাই করতে পারেন নিজেই। সুন্দর শাড়ি, কুর্তি, ফরমাল স্যুট, জ্যাকেট, সোয়েটার ইত্যাদির মতো পোশাক যা আপনার কাছের মানুষ যেমন মা, বোন বা স্ত্রীকে খুশি করতে পারে, এমন কিছুও দিতে পারেন উপহার হিসাবে।

ছেলেদের দিতে পারেন শার্ট কিংবা টি-শার্ট। আপনার পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের উপহার হিসাবে দিতে পারেন ভালো মানের কেক। এই কেক যদি নিজের হাতে বানিয়ে দিতে পারেন, তাহলে আরও ভালো। এটি অনেক ধরনের হতে পারে যেমন বাটারস্কচ, ব্ল্যাক ফরেস্ট, চকোলেট, ডিমবিহীন কেক প্রভৃতি।

আপনার প্রিয়জনকে দীপাবলির সময় তাদের বাড়ি সাজানোর জন্য উপহার হিসাবে দিতে পারেন মোমবাতি। এটি অনেক ধরনের হতে পারে যেমন জেল মোমবাতি, ট্রেন্ডি মোমবাতি, সুগন্ধি মোমবাতি ইত্যাদি।দিতে পারেন ঝুলন্ত বৈদ্যুতিক আলোও।  আবার ইচ্ছে হলে দিতে পারেন যে-কোনও বিপনীর গিফট-ভাউচার।

বডি-স্প্রে, পুরুষদের জন্য ফেসিয়াল ক্লিনজারও দিতে পারেন উপহার হিসাবে। ক্রোকারিজ সেট যেমন কাচের পাত্র, কফি সেট, ওয়াইন গ্লাস, ডিনার সেট, ককটেল শেকার, চায়ের পাত্র, চা সেট, বার সেট, থার্মো-ফ্লাস্ক ইত্যাদি এবং ফুলদানি, ল্যাম্প, কোস্টার, ভাস্কর্য, ইত্যাদিও রাখতে পারেন উপহারের তালিকায়।

আপনি যদি আপনার বন্ধু এবং পরিবারের জন্য দীপাবলির উপহারের সঙ্গে অতিরিক্ত আনন্দ পেতে চান, তাহলে যে-কোনও অলংকার হতে পারে আদর্শ উপহার। আপনার পকেটের ওজন বুঝে দিতে পারেন যে-কোনও অলংকার। আর যদি সামর্থ্য থাকে, তাহলে অতি প্রিয়জনকে দিতে পারেন হিরেযুক্ত অলংকার। কারণ, হিরে আমাদের শত শত বছর ধরে মুগ্ধ করেছে।

ইতিহাস জুড়ে হিরে সম্পদ, মর্যাদা, শৈলী এবং গ্ল্যামারের প্রতীক হয়ে আছে। এক্ষেত্রে মনে রাখুন, হিরে সবচেয়ে টেকসই পদার্থগুলির মধ্যে একটি। প্রকৃতির এই অনন্য সৃষ্টিকে প্রেমের চিরন্তন প্রতীক করে তুলেছে। তাছাড়া, হিরেতে উজ্জ্বলতা বজায় থাকে, তাই দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্যও উপযুক্ত। আর ঠিক এই কারণে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ব্যবহার করা যেতে পারে হিরের গয়না। এমনকি খুব উচ্চ তাপমাত্রা, অ্যাসিড বা অন্যান্য ক্ষয়কারী উপাদান সহ্য করার বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে হিরের। ডি বিয়ার্স ফরএভারমার্ক-এর ‘অবন্তী’ কালেকশন এর মধ্যে অন্যতম। হাতের চুড়ি থেকে শুরু করে কানের দুল, পেন্ডেন্ট, নেকলেস, চেইন প্রভৃতি রাখতে পারেন আপনার উপহারের তালিকায়।

নেপথ্যে কে? (পর্ব-০২)

ছেলের কথা শুনে মনোময়বাবু রাগে জ্বলে ওঠেন এবং ছেলেকে একটি চড় মারেন। সবটাই ছিল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। কিন্তু এর ফল ছিল অনভিপ্রেত। অখিলেশ একটা ছোটোখাটো ব্যাগে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র গুছিয়ে ভুবনেশ্বরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ব্যাপারটা রাগে গৃহত্যাগ অথবা পাওনাদারদের থেকে গা ঢাকা দেওয়ার মধ্যবর্তী কিছু একটা। মনোময়বাবু ছেলেকে জিজ্ঞেস করেও কোনও সদুত্তর পাননি। কিন্তু সেই থেকে তাঁর মনে এই ভয় যে, অখিলেশ কোনও এক মস্ত বিপদে পড়েছে এবং ওই পাথর তিনটিও মোটেই নিরাপদ নয়।

—বুঝলাম। কিন্তু খুন হওয়ার পর তো ব্যাপারটা সম্পূর্ণ পুলিশের জিম্মায় চলে গেছে। এক্ষেত্রে তবে তোমাকে তলব করার কারণ? আমি জানতে চাইলাম।

—ইন্সপেক্টর মল্লিকের বক্তব্য অনুযায়ী মনোময়বাবু তাঁর টেবিলের দেরাজে একটি চিঠি লিখে রেখে গিয়েছেন এবং সেখানে স্পষ্ট বলা আছে তাঁর ওই তিনটি পাথর অথবা স্বয়ং তাঁর কিছু হয়ে গেলে তদন্তের দায়িত্বভার যেন কমলাক্ষ মজুমদার অর্থাৎ আমাকে দেওয়া হয়। অগত্যা…

এই পরিশ্রমের কোনও পারিশ্রমিক আদৌও কমলাক্ষ পাবে কিনা আমার জানা নেই। কিন্তু একজন মৃত ব্যক্তির শেষ ইচ্ছেটুকু পূরণ করার জন্য সে যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তা দেখে তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরও কয়েকগুন বেড়ে গেল।

গাড়ি এসে থামল একটি লোহার গরাদ দেওয়া বিশাল গেটের সামনে। মোরাম বিছানো রাস্তার ওপারে দাঁড়িয়ে একটি দু’তলা বাড়ি। একটু সেকেলে, ফলে উল্লেখযোগ্য কোনও বৈশিষ্ট্য নেই বললেই চলে। নীচতলা জনশূন্য এবং নিশ্চুপ। গাড়িবারান্দা ধরে উত্তরমুখে কিছুটা এগোলেই উপরতলায় ওঠার সিঁড়ি। আমরা সেই পথে এগোনোই স্থির করলাম।

দোতালায় উঠে ডানহাতের প্রথম ঘরটি মনোময়বাবুর। ইন্সপেক্টর মল্লিক দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। কমলাক্ষকে দেখে ব্যস্ত গলায় বললেন, ‘যাক ভালোই হয়েছে আপনারা এসে গেছেন। যা দেখার একটু তাড়াতাড়ি দেখে নিন। ফটোগ্রাফি হয়ে গেছে। বড়ি পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠিয়ে ঘর সিল করতে হবে।

ইন্সপেক্টর মল্লিকের কথা শুনে বোঝা গেল, এই খুনের ব্যপারে কমলাক্ষের মধ্যস্থতা তিনি খুব খুশি মনে মেনে নিতে পারেননি। সত্যি বলতে, আমার এই বন্ধুটির ক্রমবর্ধমান খ্যাতি যে অনেকেরই ঈর্ষার কারণ তা আমার খুব ভালো করেই জানা।

আমরা যে-ঘরটিতে প্রবেশ করলাম দৈর্ঘ্যে সেটি মাঝারি মাপের। আদ্যোপান্ত আসবাবে ঠাসা – আলমারি, ড্রেসিং টেবিল, দেয়ালের উপর বই সাজানো দুটি শেল্ফ এবং দুটি ফ্রেম বাঁধানো অয়েল পেন্টিং। ঘরের পশ্চিম দেয়ালে একটি মাত্র জানলা। ঘরের মাঝ বরাবর খাটের উপর মনোময়বাবুর নিথর শরীরটি পড়ে আছে এবং সেই শরীর আগলে দাঁড়িয়ে এক উর্দি পরিহিত কনস্টেবল। আমার চোখ আটকে গেল সিলিং-এর দিকে চেয়ে থাকা মনোময়বাবুর বিস্ফোরিত চোখদুটির উপর। মুখের উপর থেকে দৃষ্টি গেল মৃতের উপর। সেখানে চেপে বসে আছে একটি সরু অথচ গভীর রক্তের দাগ। শরীরের আর কোথাও কোনও ক্ষতের চিহ্ন নেই। বিছানার চাদরের উপর মৃতের শেষ লড়াইয়ের চিহ্ন স্পষ্ট। দৃশ্যটার সামগ্রিক প্রভাব এমনই যে আমার শরীর শিউরে উঠল।

—বিনয়, একবার এদিকে এসো।

কমলাক্ষের ডাকে যেন আমার সম্বিত ফিরল। ঘরের উত্তর দেয়াল ঘেঁষে আলমারি ও ড্রেসিং টেবিলের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত একটি লোহার সিন্দুক। কমলাক্ষ এখন সেটিকে বেশ মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা করে চলেছে। আমিও তার দৃষ্টি অনুসরণ করলাম। সিন্দুকের তালা খোলা। ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখা গেল কিছু কাগজপত্র বাদে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

(ক্রমশ)

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব