পছন্দের গয়নায় ধনতেরাস উদযাপন

শুরু হয়ে গেছে ফেস্টিভ সিজন। প্রকৃতিতে লেগেছে তারই ছোঁয়া৷ সকলেই চাইছে সুন্দর হতে। পোশাক, প্রসাধনের সঙ্গে দরকার মানানসই গয়নাও। সোনা অথবা দামী কোনও ধাতুর গহনা কেনার এটাই উপযুক্ত সময়। তার ওপর সামনেই ধনতেরাস এবং দীপাবলির সমারোহ। ধনতেরাসে গয়না কেনার দৌড় এখন পশ্চিমবঙ্গেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু কী ধরনের গয়নার ফ্যাশন এখন মার্কেটে বেশি চলছে, কী রেঞ্জ-এর ডিমান্ড ক্রেতাদের মধ্যে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এই সবকিছুর খেয়াল রাখতে হচ্ছে Jewellery বিক্রেতাদের।

গয়না কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের মধ্যে দু’টি ধরন রয়েছে। যারা পছন্দ করেন পরম্পরাগত ভারী গয়না এবং আজকের প্রজন্মের প্রথম পছন্দ হালকার মধ্যে মডার্ন ডিজাইনের স্লিক গয়না।

পুরোনো দিনের ভারী গয়না বলতে ঝুমকো, কানবালা, কান, রতনচূড়, চূড়, মানতাসা, সীতাহার, চিক, মভচেন, ভারী ওজনের সোনার নানা ডিজাইনের নেকলেস। এই গয়নার ডিজাইনগুলিতে খুব বেশি কিছু একটা হেরফের ঘটেনি। আগেকার দিনে ধনী ব্যক্তিরা নিজেদের প্রতাপ, আর্থিক ক্ষমতা সাধারণ জনমানুষকে দেখাবার উদ্দেশ্যেই, গা-ভর্তি Jewellery পরে ঘুরতেন। বাড়ির মেয়েরা সর্বাঙ্গ সোনায় মুড়ে রাখতেন রূপের দস্তে। রাস্তাঘাটে বিপদের আশঙ্কা কম ছিল ফলে ভারী গয়নার কদর ছিল তখন।

আমাদের দেশে ফ্যাশনের ট্রেন্ড তৈরি হয় সিনেমার পর্দায় নায়ক-নায়িকাদের দেখে। তাদের যে ধরনের পোশাকের স্টাইল, চুলের স্টাইল, গয়নার স্টাইল তাই দেখে কোটি কোটি দর্শক নিজেদের স্টাইল কপি করেন। মধুবালা, সুরাইয়া, মীনা কুমারী থেকে শুরু করে আজকের সোনাম কপূর, সোনাক্ষি সিনহা, বিদ্যা বালন, করিনা কপুর — সকলেরই ফ্যাশন স্টেটমেন্ট আলাদা আলাদা। গয়নার বেলাতেও সেই একই ফরমুলা। পুরোনো অভিনেত্রীদের ভারী গয়নায় যেখানে অভিনয় করতে দেখা যেত, আজ সেখানে সকলেই চান হালকা গয়নাতেই নিজেদের শ্রীবৃদ্ধি করতে।

উদাহরণ হিসেবে ফিল্ম পার্টি বা অ্যাওয়ার্ড সেরেমনিগুলি ধরা যেতে পারে। বহু দর্শকই কৌতূহলী হয়ে থাকেন ফিল্মের নায়িকারা কী ধরনের পোশাক অথবা কোন নতুন ডিজাইনের গয়নায় নিজেকে সজ্জিত করে হাজার দর্শকের সামনে উপস্থিত হচ্ছেন, তা দেখতে। বিদ্যা বালনকে সাধারণত ভারতীয় পোশাকে সজ্জিত হয়েই বেশি দেখা যায়। আবার সেখানেই সোনাম কপূরকে  নতুন প্রজন্মের নায়িকাদের প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা যায় ওয়েস্টার্ন পোশাকে। কিন্তু তাঁর পরনেও থাকে সেই চিরাচরিত ভারতীয় গয়না। আর ভারতীয় এবং ওয়েস্টার্ন সব রূপেই তিনি সমান স্বচ্ছন্দ।

ফ্যাশনের পাতায় নাকে নথ পড়ার কনসেপ্ট একটু সেকেলে। কিন্তু সোনাম, বিদ্যার দেখাদেখি আবার নাকের গয়না, ফ্যাশনে ভীষণভাবে ইন। পুরোনো ফ্যাশন সবসময়েই ফিরে ফিরে আসে। পোশাক, হেয়ার স্টাইল, গয়না ইত্যাদির ক্ষেত্রেও সামান্য পরিবর্তন, তারতম্য নিয়েই পুরোনোকেই অভিনন্দন জানাই আমরা।

যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের সঙ্গে মেয়েদেরও কর্মজগতে পা রাখতে হচ্ছে। ভারতীয় সভ্যতায় ওয়েস্টার্ন ফ্যাশনের ছোঁয়া লেগেছে। পুরুষরা শার্ট-প্যান্ট পরে কর্মক্ষেত্রে যাচ্ছেন। খুব বেশি হলে গলায় থাকে সরু সোনার চেন, বড়োজোর হাতে আংটি। মেয়েরাও বাসে-ট্রামে ঝুলে অফিস যাচ্ছেন সুতরাং তাদের শরীরে গয়নার সংখ্যাও সীমিত হয়ে পড়েছে। কানে ও গলায় হালকা সোনার কিছু পরলেও বাড়ির বাইরে বেরোবার সময় ভারী যা-কিছু গয়না সবই বাড়িতে অথবা ব্যাংক-এর লকারে তুলে রাখা।

ভারতীয় পোশাক ছেড়ে ওয়েস্টার্ন পোশাকেই এখন মেয়েরা অনেক বেশি স্বতঃস্ফূর্ত বোধ করেন। হাতে হালকা রিস্লেট, গলায় সরু সোনার চেনের সঙ্গে ছোট্ট লকেট, কানে হালকা দুল-ই এখন সকলের পছন্দের ফ্যাশন হয়েছে। সোনার সঙ্গে হিরের সেটিং এখন মেয়েরা পছন্দ করছেন পরতে। বিভিন্ন রেঞ্জে এই ধরনের হালকা ডিজাইন দোকানে রাখছেন ব্যবসায়ীরা। ভারতীয় পোশাকের সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমি পোশাকের সঙ্গেও যা সুন্দর ভাবে মানানসই হচ্ছে।

গয়নার সাজে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে মেয়েদের যেমন জুড়ি মেলে না তেমনি গয়নার দোকানেও কেনাকাটার আছিলায় ঢুঁ মারতেও মেয়েরা আনন্দ পায়। কেনাকাটার জন্যে পুরো বছরই রয়েছে। সোনার দাম একটু কমলেই অফিস গোয়ার্স থেকে শুরু করে হাউস ওয়াইফ— সবাই ছোটেন ছোটোখাটো হালকা Jewellery কেনার জন্যে। দীপাবলির সময়টা একটা বিশেষ সময় যখন দেবী লক্ষ্মী বাড়িতে বাড়িতে পূজিত হন। তিনি ধনের দেবী তাই বাড়িতে ধনাগম শুভ বলে মানা হয়। দীপাবলির আগের দিনটিতেই ‘ধনতেরস’ উৎসবে সোনার সামান্য কিছু কেনাও শুভ বলে বিবেচিত হয়। সেদিনটিতে তাই ধনী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও ভিড় করেন সামর্থ্য অনুযায়ী সোনা কিনে ঘরে তোলার জন্য।

সমস্ত শহর-গঞ্জে সোনার দোকানের ছড়াছড়ি। সব জায়গাতেই পাওয়া যায় হালকা-ভারী সব ধরনের গয়নার সম্ভার। এখন আগের মতো স্যাকরা নিজের পছন্দে গয়নার ডিজাইন দেন না। ডিজাইন করার জন্যে বিশেষ ভাবে পড়াশোনা করা গয়নার ডিজাইনার-রা রয়েছেন, যাঁরা দিনরাত্রি ডিজাইন নিয়েই রিসার্চ করছেন। নতুন ডিজাইন তুলে ধরছেন গয়না প্রস্তুতকারীদের কাছে। পরম্পরাগত গয়নার সঙ্গে মডার্ন ডিজাইনেরও মেলবন্ধন ঘটাচ্ছে তারা। গয়নার ডিজাইনারের কেরিয়ারও এখন নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের হাতছানি দিচ্ছে। অনেকেই বেছে নিচ্ছেন এই পেশা। ফলে গয়নার ব্যাবসাও দিনে দিনে ফুলে-ফেঁপে উঠছে নিজেদের নতুন নতুন সম্ভার নিয়ে।

 

 

ধর্মের নামে লুঠতরাজ

এদেশে ধর্মের নামে লুঠতরাজ করা আর লোক ঠকানো বোধহয় সবচেয়ে সহজ। যে-দেশে অন্ধ ভক্তের সংখ্যা এমনই অগণিত, সেখানে বুজরুকদের কারবার যে ফুলে ফেঁপে উঠবে— এতে আর আশ্চর্য কী! মানুষের এমনই ব্রেনওয়াশ করা হয় শৈশবকাল থেকে, যাতে তার সমস্ত সাফল্য ও ব্যর্থতাকে ঈশ্বরের মহিমা বলে ধরে নিতে বাধ্য হয় মানুষ। পাপের প্রায়শ্চিত্তই হোক বা পুণ্যার্জন, দেব দর্শন ও তীর্থযাত্রাকে জীবনের অঙ্গ করতে হয়।

চারধাম যাত্রাকে সাম্প্রতিক সময়ে পুণ্যার্জনের একটি মাধ্যম করে বিপুল প্রচার করা হচ্ছে গণমাধ্যমে। চারধামের পর্যটন বাড়াতে হাইটেক পরিষেবা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সরকারি তরফে। আর এরই সুযোগ নিয়ে ঠগ-জোচ্চররা বিরাট লোকঠকানোর জাল বিস্তার করেছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। মন্দির দর্শন, পাণ্ডা, পূজার ডালি থেকে হোটেল, যানবাহন— সবই অগ্রিম বুকিং করার হাতছানি রয়েছে আন্তর্জালে। সেই ফাঁদে পা দিয়েছেন অগণিত ভক্ত। শুরুতে তো ঠগবাজরা প্রচুর পরিষেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এমনকী দর্শনের নির্ঘন্ট পর্যন্ত পাঠিয়ে দেওয়া হয় ভক্তের মোবাইলে।আজকাল ভাণ্ডারার টাকাও দেওয়া যায় ইন্টারনেট ব্যাংকিং-এর সুবাদে। দান দক্ষিণার ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা।

এই হাইটেক ব্যবস্থায় প্রভাবিত হয়ে যারা কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করছেন তাদের টাকা চোট যেতেও সময় লাগছে না। এই জোচ্চরের দল টাকা পাওয়ার পর ভক্তের সঙ্গে সব যোগাযোগ ছিন্ন করছে। তাদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

এখন যিনি হেলিকপ্টার বুকিং, মন্দিরের টিকিট, ঘরে বসেই পেয়ে যাবেন এই লোভে পড়ে  অর্থব্যয় করলেন, তাঁর ঈশ্বর কিন্তু তাঁর সহায় হল না। পুণ্যার্জনের আগেই ভক্তের পথে বসার অবস্থা হল। সেই কারণেই ধর্মের নামে সব খুইয়েছেন, এমন লোকের সংখ্যাটা এদেশে কম নয়৷ গর্মীয় অপিম গেলানো এদেশে সবচেয়ে সহজ কারণ জনসংখ্যার একটা বড়ো অংশই এখনও অশিক্ষার অন্ধকারে৷ আর শিক্ষিতরাও ডিজিটাল ওয়ার্লড-এর বিষয়ে এখনও ততটা সড়োগড়ো নয়৷

সাইবার ক্রাইমের অন্তর্গত এইসব ভুয়ো ওয়েবসাইট দেখে চেনার উপায় নেই যে, এগুলি প্রতারকদের পাতা ফাঁদ। পুণ্যলোভীর দান দক্ষিণার টাকা এভাবেই ঢুকছে লুটেরাদের পকেটে। এখন ধর্মের স্রোতে ভেসে গিয়ে এই ফাঁদে পা দেবেন কিনা তা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। কিন্তু ধর্মান্ধরা তো ঠকতেই চান। তা সে মূর্তির সামনে দানসামগ্রী নিয়ে বসে থেকেই হোক, বা জাল এজেন্ট-এর ফাঁদে পড়েই হোক। গুগুলকে টাকা দিয়ে ভুয়ো ওয়েবসাইটের রমরমা তাই ঠেকাবে কে!

নিরামিষ রান্নায় উৎসবের আয়োজন

সকলেই জানে বাঙালির মন মজে  বিরিয়ানি, পোলাও এবং মাংসে। তবে এগুলো তো আছেই, পূজা-পার্বণে অনেকেই  নিয়ম পালনে নিরামিষেই খুশি থাকেন। সামনেই  দীপাবলি৷ আমিষ যারা খান না, তাদের জন্য থাকুক নিরামিষ কিছু পদ। শুধু আয়োজনে ঘাটতি না রাখলেই হল।

চানা বিরিয়ানি

উপকরণ: ১/২ কাপ ভিজিয়ে সেদ্ধ করা কাবলি চানা, ২ বড়ো চামচ ঘি, ১ ছোটো চামচ জিরে, ৩-৪টি লবঙ্গ, ১টি কালো বড়ো এলাচ, ১ ইঞ্চি দারচিনি টুকরো, সামান্য জায়ফল পাউডার, কেওড়ার জল, ২ বড়ো চামচ আদা-রসুনের পেস্ট, ২টি বড়ো টম্যাটো টুকরো করা, ২ ছোটো চামচ লাল লংকার গুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ হলুদ পাউডার, ১/২ কাপ ফেটানো দই, ১/২ কাপ পুদিনা পাতা, ২- ৩টি লম্বা করে কাটা কাঁচালংকা, ৫০০ গ্রাম বাসমতী চাল (আস্ত মশলার সঙ্গে আধসেদ্ধ করে রাখতে হবে), কেসর দুধে ভিজিয়ে রাখা, ১/২ কাপ ভেজে রাখা পেঁয়াজ, সামান্য ধনেপাতা কুচিয়ে নেওয়া, লবণ স্বাদমতো।

প্রণালী: একটি গভীর তল-যুক্ত প্যানে তেল গরম করে তাতে লবঙ্গ, জিরে, এলাচ, দারচিনি দিয়ে সামান্য নাড়াচাড়া করুন। এবার আদা-রসুনের পেস্ট ওতে দিয়ে রান্না হতে দিন, যতক্ষণ না সেগুলির কাঁচা গন্ধ চলে না যাচ্ছে। এবার এতে টম্যাটো, লাল লংকার গুঁড়ো, হলুদ পাউডার, জায়ফল পাউডার এবং লবণ দিয়ে ৫-৬ মিনিট রান্না হতে দিন। দই ঢেলে ভালো করে মিশিয়ে নিন এবং কাবলি চানাটাও দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে দিন। খানিক্ষণ রান্না হলে পুদিনা পাতা, কাঁচালংকা এবং ভেজে রাখা পেঁয়াজ ওতে দিয়ে দিন। এর উপর আধসেদ্ধ চাল ভালো করে ছড়িয়ে দিন এবং উপর থেকে দুধে ভেজানো কেসর, কেওড়া জল দিয়ে ঢাকনা বন্ধ করে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রান্না হতে দিন। শেষে ধনেপাতা ছড়িয়ে গার্নিশ করুন এবং গরম অবস্থায় পরিবেশন করুন রায়তার সঙ্গে।

ইন্সট্যান্ট রাজমা পোলাও

উপকরণ : ১ বড়ো চামচ ঘি, ১/৪ ছোটো চামচ জিরে, ১টি তেজপাতা, ২টি সবুজ এলাচ, ৪-৫টি গোলমরিচের দানা, ১/২ ইঞ্চি টুকরো দারচিনি, ১টি পেঁয়াজ কুচি করা, ১ বড়ো চামচ আদা-রসুনের পেস্ট, ১/৪ ছোটো চামচ হলুদ, ১ ছোটো চামচ কাশ্মীরি লংকার গুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ ধনে পাউডার, ১/২ ছোটো চামচ গরমমশলা, সামান্য পুদিনা পাতা, ১/২ কাপ ভিজিয়ে সেদ্ধ করে রাখা রাজমা, ১ কাপ ভেজানো বাসমতী চাল, ২১/২ কাপ জল, ২ বড়ো চামচ ফ্রায়েড পেঁয়াজ, লবণ স্বাদমতো।

প্রণালী: প্রেশার কুকারে ঘি গরম করে সমস্ত আস্ত মশলা ফোড়ন দিন। এবার তাতে পেঁয়াজ, আদা-রসুনের পেস্ট দিয়ে ভালো করে কষুন, যাতে কাঁচা গন্ধ চলে যায়। এবার রাজমার সঙ্গে বাকি সব মশলা দিয়ে ২ মিনিট মতো রান্না হতে দিন। ভিজিয়ে রাখা চাল ওতে দিয়ে হালকা করে মিশিয়ে নুন এবং জল দিয়ে প্রেশারের ঢাকনা বন্ধ করে, ২টি সিটি আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। আঁচ বন্ধ করে প্রেশার বেরোবার অপেক্ষা করুন। ঢাকনা খুলে উপর থেকে পুদিনা পাতা এবং ভাজা পেঁয়াজ দিয়ে গার্নিশ করে গরম গরম পরিবেশন করুন রায়তার সঙ্গে।

নবরত্ন পোলাও

উপকরণ: ১/৪ কাপ সাদা তেল, ১টি ছোটো আলু চৌকো টুকরো করে কাটা, ১টি গাজর চৌকো টুকরোয় কাটা, ১/৪ কাপ ফ্রেঞ্চ বিন্স টুকরো করে কাটা, ১০০ গ্রাম চৌকো করে কাটা পনিরের টুকরো, ১/৪ কাপ ফুলকপি, ১ বড়ো চামচ বাদাম, ১ বড়ো চামচ আখরোট (২ টুকরো করে কাটা), ১/৪ কাপ কড়াইশুঁটি, ২ বড়ো চামচ কিশমিশ, ১ ছোটো চামচ আদা-রসুনের পেস্ট, ২-৩টি রসুনের শাক, ২-৩টি গোলমরিচের দানা, ২টি তেজপাতা, ১ ইঞ্চি দারচিনি, ২টি এলাচ, ১ কাপ চাল সেদ্ধ করা, ১ বড়ো চামচ ঘি, ১ ছোটো চামচ লেবুর রস, নুন স্বাদমতো৷

ফোড়নের উপকরণ: ১ বড়ো চামচ ঘি, ১ ছোটো চামচ জিরে, ১ চিমটে কেসর (১/৪ কাপ দুধে ভেজানো)

গার্নিশ করার উপকরণ: ধনেপাতা কুচোনো, পাতলা স্লাইস করা পেঁয়াজ, কাটা পাতিলেবু।

প্রণালী: একটি মোটা তল-যুক্ত কড়াইতে তেল গরম করে তাতে আলু, গাজর, বিন্‌স এবং কেসর দুধ ঢেলে ৫-৬ মিনিট ভালো করে নাড়াচাড়া করুন। এবার কড়াই থেকে নামিয়ে এক পাশে সরিয়ে রাখুন। কড়াইতে থাকা বাকি তেলে পনির হালকা বাদামি করে ভেজে নিন এবং আলাদা করে তুলে রাখুন। এতে ফুলকপি দিয়ে একটু ভাজুন এবং আখরোট, বাদাম, কাজু ওতে দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার আদা-রসুনের পেস্ট, রসুনের শাক, গোলমরিচ, তেজপাতা, দারচিনি ও এলাচ মিশিয়ে ভালো করে মেশান। সেদ্ধ করা চাল, নুন ও ঘি ওতে দিয়ে ভালো করে নাড়িয়ে নিয়ে ৫-৬ মিনিট মাঝারি আঁচে রান্না হতে দিন।

অন্য একটি প্যানে ঘি গরম করে তাতে জিরে, কেসর মেশানো দুধ এবং জল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে, সেদ্ধ করা চালের উপর ঢেলে দিন। এবার এতে ভেজে রাখা সবজি এবং লেবুর রস মিশিয়ে দিন। ঢাকনা দিয়ে আরও ৫ মিনিট রান্না হতে দিন। সার্ভিং প্লেটে ঢেলে ধনেপাতা, লেবুর টুকরো, কাটা পেঁয়াজ এবং কাঁচালংকা দিয়ে সাজিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

 

নেপথ্যে কে? (পর্ব-০১)

ফোনের রিসিভারটা কান থেকে নামিয়ে রেখে আমার দিকে সংক্ষিপ্ত দৃষ্টিপাত করেই কমলাক্ষ বলল, ‘তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নাও, আর্জেন্ট।’

ভূমিকাবিহীন এমন নির্দেশ যদিও আমার কাছে নতুন কিছু নয়, তবুও এক স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ায় প্রশ্নটি আমার মুখ ফসকে বেরিয়ে এল, ‘ব্যাপারটা কী একটু খুলে বলবে?’

—ইন্সপেক্টর দিগম্বর মল্লিকের ফোন। খুন। মনোময় বাগচী।

স্বল্প শব্দ ব্যয় করে মানুষকে কতটা বিহ্বল করে তোলা যায় সে শিল্প কমলাক্ষের নখদর্পণে। কৌতূহল যে আমার মধ্যে শাখাপ্রশাখা ছড়িয়ে এক মহীরুহের রূপ নিয়েছে তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু কমলাক্ষ ইতিমধ্যেই নিজের গায়ের উপর একটি সাদা পাঞ্জাবি চড়িয়ে তৈরি হয়ে নিয়েছে দেখে, আমিও তাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লাম।

ট্যাক্সির ড্রাইভারকে কমলাক্ষ ‘১৩/বি মিত্র লেন’ ঠিকানার নির্দেশ দিতেই বুঝলাম আমাদের আপাতত গন্তব্য বরাহনগর থানা নয়, বরং সদ্য খুন হওয়া মনোময় বাগচীর বাড়ি। ট্যাক্সির পেছনের সিটে দু’জনে পাশাপাশি বসলাম। কমলাক্ষের মুখের উপর এই ঝলমলে দিনেও যেন আঁধার নেমে এসেছে। মিনিটখানেক অপেক্ষা করার পরেও যখন কমলাক্ষ আমার কৌতূহল প্রশমনের সামান্যতম চেষ্টাও করল না, তখন নিজেই উদ্যোগ নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম— ‘এই মনোময় বাগচীটা কে? আগে কখনও এই নাম শুনেছি বলে তো মনে পড়ছে না!’

দেশলাই ঠুকে একটা সিগারেট ধরাতে ধরাতে কমলাক্ষ বলল, “পরশু বিকেলে আমার সাথে দেখা করতে এসেছিলেন। তুমি গিয়েছিলে কৃষ্ণনগর, তোমার পৈত্রিক বাড়িতে। তাই তুমি এসবের কিছুই জানো না।”

—কিন্তু আমি তো কাল রাতেই ফিরেছি। এই ব্যাপারে তো কিছুই….

কথাটা শেষ করতে না দিয়েই কমলাক্ষ বলল, ‘সেই প্রথম সাক্ষাতে আজকের পরিণতির বিন্দুমাত্র আভাস আমি পাইনি।’ স্পিডোমিটারের কাঁটা চল্লিশের ঘরে রেখে বিটি রোড ধরে ট্যাক্সি ছুটল প্রায় মিনিট পনেরো। এই সময়টুকুতে কমলাক্ষের মুখে পূর্বঘটনার যা বিবরণ পেলাম তা হল এই যে, মনোময়বাবু ছিলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক ম্যানেজার। পয়সাওয়ালা ব্যক্তি। তাঁর স্ত্রী গত হয়েছেন বছর পাঁচেক আগে। একটি পুত্র সন্তান, নাম অখিলেশ। বয়স পঁয়ত্রিশ। কলেজের ডিগ্রি আছে, ব্যস ওইটুকুই। কাজ কর্মের প্রতি কোনও আগ্রহ তো নেই-ই, উপরন্তু কিছু বদগুণ জুটিয়ে বসেছে। আর এগুলির মধ্যে সবথেকে সাম্প্রতিকতমটি হল, গ্যাম্বলিং, অর্থাৎ জুয়া।

মনোময়বাবু উত্তরাধিকার সূত্রে কয়েকটি মহামূল্যবান পাথর পেয়েছিলেন। পাথরগুলি নাকি তাঁর প্রপিতামহ প্রিয়তোষ বাগচী, উদয়পুরে থাকাকালীন কোনও এক জহুরির কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন। উপহার ঠিক নয়, বলা ভালো প্রাণ বাঁচানোর পারিশ্রমিক। প্রিয়তোষ বাগচী পেশায় ছিলেন ডাক্তার। হাতুড়ে নয়, সে যুগে রীতিমতো পাশ করা ডাক্তার। এক দুরারোগ্য ব্যধিতে সেই জহুরির যখন প্রাণ যায় যায় অবস্থা তখন প্রিয়তোষবাবু একেবারে ধন্বন্তরি হয়ে দেখা দেন। সর্বসাকুল্যে তিনটি মহামূল্যবান পাথর নিয়ে প্রিয়তোষবাবু ফেরেন কলকাতায়। বর্তমান বাজারে ওই পাথরগুলির দর এককথায় কল্পনাতীত। অখিলেশ এই পাথরগুলির বিষয়ে বিলক্ষণ জানত। দিন তিনেক আগে সে মনোময়বাবুর কাছে একটি পাথর চায়। স্বভাবতই মনোময়বাবু কারণ জিজ্ঞেস করেন। ছেলে শুধু এইটুকু বলে যে, সে দেনার পাঁকে গলা পর্যন্ত ডুবে আছে। অর্থাৎ টাকা তার তৎক্ষণাৎ প্রয়োজন।

(ক্রমশ)

জি লে জরা নিয়ে অনিশ্চতায় ফারহান

২০২১ সালে ফারহান আখতার বলিউড স্ক্রিনের জনপ্রিয় তিন কন্যাকে নিয়ে একটি রোড ট্রিপের ছবি ‘জি লে জরা’ ঘোষণা করেছিলেন। জানানো হয়েছিল লিড রোলে অভিনয় করবেন আলিয়া ভট্ট, ক্যাটরিনা কইফ এবং প্রিয়ঙ্কা চোপড়া জোনাস। অর্থাৎ এই ছবি দিয়েই বলিউডে কামব্যাক করার কথা ছিল প্রিয়ঙ্কার। কিন্তু আপাতত বলিউডের অন্দরের খবর হল, এই ছবির কাজ সম্পূর্ণ ভাবে অনিশ্চিত। কখনও প্রিয়ঙ্কা তো কখনও ক্যাটরিনার এই ছবি থেকে সরে দাঁড়ানোর গুঞ্জন শোনা গিয়েছে।

এদিকে ফারহান আখতারের সদ্য ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা একটি ছবি ঘিরে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে নেটদুনিয়ায়৷।ইনস্টাগ্রামে তাঁর ‘ ইমরান ‘ লুকের একটি ছবি শেয়ার করেছেন ফারহান। কে এই ইমরান?সকলের মনে আছে নিশ্চয়ই, জোয়া আখতারের পরিচালনায় তৈরি হয়েছিল ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’। ২০১১ সালে মুক্তি পায় এই ছবি। লিড রোলে অভিনয় করেছিলেন হৃতিক রোশন,ফারহান আখতার এবং অভয় দেওল। দেখা মিলেছিল ক্যাটরিনা কাইফেরও।

সেই ছবির ‘ইমরান’ চরিত্র  হয়ে প্রকাশ্যে এলেন ফারহান৷ সোশ্যাল মিডিয়ার সেই ছবিতে  প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন খোদ অভয় আর হৃতিকও। যা দেখে ফ্যানেরা নিশ্চিত হয়েছে যে, জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা-র সিকুয়েল নিয়ে ফিরছে এই ত্রয়ী।

সাদা শার্টে ঘরের ভিতরে তোলা একটি সেলফি তুলে পোস্ট করেন নায়ক। সঙ্গে লেখেন, ‘ইমরানের লুক৷ জীবনের একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ করল। কী বলেন জোয়া আখতার? ছেলেদের কি আরেকটা ট্রিপ প্ল্যান করা উচিত?’ ব্যস এই কমেন্ট থেকেই জল্পনার সূত্রপাত৷ ফিরছে জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা! সোশ্যাল মিডিয়ায় ফারহানের এই ইঙ্গিতে সিকুয়েলের আঁচ পেয়েই অভয় দেওলের মন্তব্য– ‘আমি তো আমার ব্যাগ ২০১২ সাল থেকেই প্যাক করে রেখেছি।’ হৃতিক রোশন লেখেন, ‘চলো যাওয়া যাক’। খোদ জোয়া আখতার কী বলছেন উত্তরে? পরিচালকের বোন লিখেছেন, ‘আমার তো ব্যাগ প্যাক করাই রয়েছে’।অর্থাৎ ইঙ্গিত স্পষ্ট যে, জি লে জরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায়, এই ছবি নিয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু হয়েছে৷

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রোজেক্ট জি লে জরা নিয়ে প্রশ্ন কিন্তু এখনও থিতিয়ে পড়েনি৷ ‘গার্লস ট্রিপের এই ছবির সম্ভাবনা বিপুল প্রত্যাশা জাগিয়েছিল দর্শকদের মনে৷কিন্তু ক্রমাগত পিছিয়েছে ছবির শুটিং৷

এক সাক্ষাৎকারে ছবি পিছানোর কারণ প্রসঙ্গে ফারহান জানান, ‘আমাদের তারিখ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে কিছুদিন আগে সংঘঠিত হওয়া হলিউডের ধর্মঘট, প্রিয়াঙ্কার তারিখগুলিকে সব ঘেঁটে দিয়েছে।এটাই গোলমালের কারণ। তাই যখন হবে, তখন দেখা যাবে’— এমনটাই বলছেন ফারহান৷ যদিও কানাঘুষো শোনা গিয়েছে যে, প্রিয়ঙ্কার নাকি এই ছবির চিত্রনাট্য পছন্দ হয়নি। সৃজনশীল মতভেদের কারণেই তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন।

জি লে জরা ফারহানের অন্যতম ড্রিম প্রোজেক্ট।প্রিয় তিন নায়িকাকে ছবিতে কাস্ট করতে চেয়েছিলেন পরিচালক।কিন্তু শুরু থেকেই নাকি চলছে এই নায়িকাদের ডেট নিয়ে সমস্যা৷ শোনা যাচ্ছিল  ফারহানকে ২০২৪ সালে ছবির শুটিং পিছনোর অনুরোধ করেছেন প্রিয়ঙ্কা ।এদিকে আলিয়াও ২০২৪ সালে নীতেশ তিওয়ারির রামায়ণ এবং সঞ্জয় লীলা বানশালির বৈজু বাওরা ছবির শুটিং করবেন।পাশাপাশি একাধিক ছবির জন্য চুক্তিবদ্ধ ক্যাটরিনা কাইফও। তাই ২০২৪ সালে কোনওভাবেই তিন নায়িকাকে নিয়ে জি লে জরা-র শুটিং শুরু করা সম্ভব নয়।

ফলে পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে তাতে, শেষ পর্যন্ত জি লে জরা বাতিলও হয়ে যেতে পারে বলে সূত্রের খবর। ইতিমধ্যে আমির খান প্রযোজিত স্প্যানিশ রিমেক ফিল্ম চ্যাম্পিয়নস-এ মুখ্যভূমিকায় রয়েছেন ফারহান আখতার৷ এর পর কি সত্যিই শুরু হবে জিন্দেগি না মিলেগি দোবারার সিকুয়েল ছবির শুটিং? খবরের প্রতিক্ষায় দর্শকরা৷

প্রেম ভাঙা ও প্রতিশোধ

প্রেম একটি স্বর্গীয় অনুভূতি একথা যেমন ঠিক, তেমন প্রেম ভাঙার মতো দুর্বিষহ অনুভূতি আর হয় না এটাও চরম সত্য৷বিচ্ছেদ হতে পারে বা সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত ভেঙে যাবে- প্রথম থেকেই  এমনটা ভেবে কেউ প্রেম করে না। তবুও কোনও কোনও মানুষকে এই তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। সঙ্গী তাঁর ভালোবাসার সুযোগ নিয়ে পরবর্তীতে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এরকম কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে।

প্রেম ভাঙার প্রাথমিক যন্ত্রণার পাশাপাশি, তখন সঙ্গীর কাছ থেকে বিশ্বাসঘাতকতা পাওয়ার চূড়ান্ত কষ্টটাও ভোগ করতে হয়৷ এই পর্যায়ে রাগ বা ঘৃণা থেকে মনে হতে পারে যে, প্রতিশোধ নেওয়া প্রয়োজন।যতক্ষণ না প্রতিশোধ স্পৃহা মিটছে, অন্তর তিষ্ঠতে পারে না৷

বাস্তবে এটাই কিন্তু আপনার মানসিক স্থৈর্য পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়৷নিজের নেতিবাচক আবেগকে প্রশমিত করার সময়৷ মনের মধ্যে যত বেশি রাগ পুষে রাখবেন তত কিন্তু আপনার শরীরের উপরে সেই প্রভাব পড়বে। স্ট্রেস থেকে তৈরি হবে নানা রকম শারীরিক সমস্যা। ভেবে দেখুন তাকে শাস্তি দিতে গিয়ে আপনি নিজের উপরেই অবিচার করে ফেলছেন না তো?

তাই ব্রেকআপ হলে প্রথম কাজ হল সঙ্গীকে মন থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা। সে আপনার প্রতি যা যা অন্যায় করেছে সেগুলি মনে করে প্রথমিক ভাবে আপনি তাকে মন থেকে সরিয়ে ফেলার কাজটা করতে পারেন৷ তাকে জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো ভালো প্রতিশোধ আর হয় না৷

প্রতিশোধ নেওয়া কখনও ভালো পন্থা নয়। বরং রাগ কমিয়ে ঠান্ডা মাথায় ভাবুন। রাগের মাথায় কখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।বাস্তবিক ক্ষেত্রে প্রাক্তনকে  শারীরিক ভাবে আঘাত করতে চাওয়ায় এক ধরনের বোকামি আছে৷ এতে আপনারই সামাজিক সম্মানহানি হবে৷ নিজেকে শান্ত করুন। চুপ করে বসে ভাবুন। যেসব বন্ধুবান্ধবের বৃত্ত সেই মানুষটির সঙ্গে আপনার যোগাযোগের সেতু হতে পারে, সেই সব অপ্রয়োজনীয় মানুষকে জীবন থেকে ছেঁটে ফেলুন।

মনে রাখুন প্রাক্তন আপনার বিশ্বাসভঙ্গ করেছে বলে বা অন্যায্য ব্যবহার করেছে বলে আপনিও যদি ঘুরিয়ে সেই একই ব্যবহার করেন– তাহলে কিন্তু আপনাদের মধ্যে কোনও ফারাক থাকল না। বরং এমন কিছু আচরণ করুন যাতে সেই মানুষটিকে আরও বেশি করে অপরাধ বোধে ভোগাতে পারেন।চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিন মানুষ হিসাবে আপনি তার থেকে কতটা আলাদা৷ ভেতর থেকে কষ্ট পেলে তবেই তিনিআপনার প্রতি কী অন্যায় করেছেন, সেটা বুঝতে পারবেন।

প্রতিশোধ স্পৃহা কিন্তু মনের মধ্যে তিক্ততা বাড়িয়ে দেয়। প্রতিশোধ নিলেই যে আপনি সফল হবেন এমন কিন্তু নয়। শুধু তাই নয়, আঘাতের জায়গায় কিন্তু আরও ক্ষত বেড়ে যায়। তাই আপনাকে চেষ্টা করতে হবে কীভাবে আপনার নিজের ক্ষতে প্রলেপ দেওয়া যাবে।

প্রতিশোধে শান্তি দেয় না। হয়তো আপনার মনে হতে পারে যে, প্রতিশোধ নিতে পারলেই অপমানের শান্তি, এমন কিন্তু নয়। বরং তাঁকে ব্লক করে দিন, যোগাযোগ বন্ধ রাখুন ভালো থাকবেন।এর চেয়ে যোগ্য জবাব আর হয় না৷

সেও শেষ পর্যন্ত বুঝবে সে কী হারাল৷ সে পাকাপাকি ভাবে একজন বিশ্বসভাজন মানুষকে, একটা বড়ো ভরসার আশ্রয়কে হারাল৷তার এই ক্ষতি অপূরণীয়৷এই অভাববোধ নিয়েই তাকে সারা জীবন বাঁচতে হবে৷আপনি জানবেন যে, এতেই আপনার প্রতিশোধ নেওয়া হয়ে গেছে৷

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্কের গুরুত্ব (শেষ পর্ব)

শিক্ষক যেমন শিক্ষার্থীর শুভাকাঙ্ক্ষী, তেমনি শিক্ষক প্রত্যাশা করেন তাঁর ছাত্ররাও তাঁকে ভালোবাসবে এবং তাঁর প্রতি অনুগত থাকবে। একজন আদর্শ শিক্ষক হবেন ছাত্রদের পথপ্রদর্শক। Teacher শিক্ষার্থীর বন্ধু হবেন ঠিকই কিন্তু শিক্ষার্থীরা যা খুশি তা করবে সেটা কোনও শিক্ষকই মেনে নেবেন না। ছাত্ররা তাদের মনের কথা খুলে বলতে পারবে এবং শিক্ষক তা শুনে বন্ধুর মতো সুপরামর্শ দেবেন। শিক্ষককে, ছাত্র সম্মান না করলে প্রকৃত জ্ঞান লাভ করতে পারবে না।

শিক্ষককে সবসময় শিক্ষার্থীদের ক্লাসের বাইরে কথা বলার সময় দিতে হবে। বর্তমানে প্রতিটি পরিবারেই কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাব, মোবাইল ফোন অপরিহার্য উপকরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এসব প্রযুক্তি ব্যবহারে শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ থাকা আবশ্যক। খেয়াল রাখতে হবে, এগুলোর প্রতি যেন শিক্ষার্থীদের আসক্তি তৈরি না হয়। জন্মের পর একটি শিশুর শিক্ষা গ্রহণের প্রথম পাঠ শুরু হয় তার পরিবারে। অতঃপর তার শিক্ষাদানের মহান দায়িত্ব অর্পিত হয় শিক্ষকের ওপর। এই শিক্ষাদান ও গ্রহণের মধ্য দিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে ওঠে সম্পর্কের এক অটুট বন্ধন। শিশুদের সঙ্গে শিক্ষকের সম্পর্ক অত্যন্ত, সম্মানজনক, বন্ধুত্বপূর্ণ ও আনন্দদায়ক হওয়া আবশ্যক।

বর্তমান সময়ে শিক্ষকদের মর্যাদার জায়গাটা আগের তুলনায় অনেকটাই হারিয়ে গেছে তার অন্যতম প্রধান কারণ হল— মানুষের সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। Teacher এবং ছাত্রের মধ্যে নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চা কমে গেছে। শিক্ষা এখন আর জ্ঞান আহরণের বিষয় নেই। শিক্ষা হয়ে গেছে ভালো চাকরি পাওয়ার সিঁড়ি। শিক্ষা নিয়েও হচ্ছে বাণিজ্যিকীকরণ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় শিক্ষা বিতরণ না করে শিক্ষকরা প্রাইভেটে কোচিং ক্লাস নিতে অনেক বেশি আগ্রহী এর কারণ দ্বিগুন অর্থলোভ।

আগের ছাত্র-Teacher সম্পর্ক আর বর্তমান সময়ের ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের মধ্যে ব্যবধান অনেক। শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়, ব্রতও বটে। উপদেশদাতা যদি নিজেই বিশ্বস্ততার মধ্যে না থাকেন অর্থাৎ শিক্ষক যা উপদেশ দেন তা যদি তিনি নিজেই পালন না করেন বা নির্ভুল না পড়ান তাহলে তাঁর শিক্ষাদান কার্যকর হয় না। শিক্ষকরাই পারেন বিশ্বমানের অর্জিত শিক্ষা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়ে শিক্ষার্থীকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে। তাই ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক হওয়া উচিত অভিভাবকতুল্য ও বন্ধুসুলভ। শিক্ষক হবেন ছাত্রের গর্ব আর ছাত্র হবে শিক্ষকের অহংকার।

শিক্ষকতা পেশা সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দাবি রাখলেও অবহেলা, অযত্ন ও অবজ্ঞার ফলে এই পেশা ক্রমেই মেধাবীদের আকর্ষণ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। একজন ভালো শিক্ষক, একজন ছাত্র ও তার অভিভাবকই পারে সামাজিক জীবনে আমূল পরিবর্তন আনতে। তাই ছাত্র-Teacher সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত ও দৃঢ় হওয়া আবশ্যক। স্নেহ ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা-সম্মানে যে-সম্পর্ক তৈরি হয় সেই সম্পর্ক যেন সবসময় অটুট থাকে। ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকের পবিত্র সম্পর্ক অটুট রাখা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একান্তই মঙ্গলজনক।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্কের গুরুত্ব (১-পর্ব)

আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, তাদের মধ্য থেকেই তৈরি হবে বিজ্ঞানী, শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়র, ব্যবসায়ী, দেশপ্রেমিক, রাজনীতিবিদ, দক্ষ প্রশাসক, উদ্যোক্তা, খেলোয়াড়, সমাজকর্মী, শিল্পী, কবি-সাহিত্যিক ইত্যাদি। তারা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে এবং বিশ্বকল্যাণের কাজ করবে। এই গুরুদায়িত্বের ভার কিন্তু বর্তায় অবিভাবক এবং শিক্ষক উভয়ের উপরই।

প্রাচীনকালে জ্ঞান আহরণই ছিল শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই Teacher শিক্ষার্থীদেরকে জ্ঞান দান করতেন। বর্তমান সমাজব্যবস্থা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যও ব্যাপক ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকের প্রধান কাজ, জ্ঞান বিতরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আদর্শ নাগরিক হিসাবে তৈরি করা এবং শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সুষ্ঠু সম্পর্ক গড়ে তোলা। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য এখন চাকরিমুখি, এ ছাড়া এখন শিক্ষার আর যেন কোনও উদ্দেশ্য নেই।

শিক্ষক মানুষকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা দিয়ে সমাজে মাথা তুলে দাঁড়াবার উপযুক্ত করে তোলেন। শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকের সম্পর্ক যত ভালো হবে, বন্ধুত্বপূর্ণ হবে শিক্ষক তার শিক্ষার্থীকে তত ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন। শিক্ষার্থীর কাছে শিক্ষক যেমন সম্মানীয়, তেমনি শিক্ষকের কাছে তার শিক্ষার্থীরা সন্তানের মতো প্রিয়। নিজের বিদ্যা-বুদ্ধি ও শ্রম দিয়ে একজন শিক্ষক তার শিক্ষার্থীকে গড়ে তোলেন।

শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা জীবন এমনকী ব্যক্তি জীবনেও তাদের সাফল্য ও ব্যর্থতায় শিক্ষককে স্মরণ করে। তাই ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হল সাফল্য- ব্যর্থতা, গ্লানি কিংবা গবের সমান অংশীদারিত্বের সম্পর্ক। শিক্ষকের সান্নিধ্যে এসে শিক্ষার্থীরা জীবনকে জানতে, চিনতে ও বুঝতে শেখে।

শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে যান জ্ঞানের পথে, আলোর পথে বিচার বুদ্ধি দিয়ে কাজ করার জন্য। Teacher যে-দর্শন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেন, তার ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীরা তাদের জীবনের ব্রত ঠিক করে। একজন ভালো শিক্ষক বিপথে চলে যাওয়া শিক্ষার্থীকেও সঠিক পথে নিয়ে আসতে পারেন এবং তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। ছাত্র ও শিক্ষকের এই সম্পর্ক খুবই সাবলীল, মধুর, আবার গাম্ভীর্যপূর্ণ।

শিক্ষক প্রয়োজনে শিক্ষার্থীর ওপর অবিভাবকসুলভ কঠোরতা ও শাসন আরোপ করেন। আবার কখনও বন্ধুর মতো ভালোবাসেন, পরামর্শ দেন, উৎসাহ যোগান, সব সময়ই পাশে থাকেন। শিক্ষকের সাথে ছাত্রের সম্পর্ক পথ প্রদর্শক আর পথিকের সম্পর্কের মতো। Teacher শিক্ষার্থীকে পথ দেখান, ভবিষ্যতের দিক-নির্দেশনা দেন। শিক্ষকের কাছে একমাত্র প্রত্যাশা হল তিনি তাঁর শিক্ষার্থীদের ভালোমানুষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চান।

একজন শিক্ষক তখনই সফল হবেন যখন তিনি প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষিত করতে পারেন। Teacher জ্ঞান বিতরণ করেন ঠিকই কিন্তু তিনি কেবল দিয়েই যাবেন তা হয় না। বরং শিক্ষার্থীর কাছে তাঁরাও কিছু প্রত্যাশা করেন। শিক্ষার্থীর কাছে শিক্ষকের সব চেয়ে বড়ো প্রত্যাশা হল শিক্ষার্থীরা তাঁর দেওয়া শিক্ষায় প্রকৃত অর্থেই শিক্ষিত হবে। তাঁকে সম্মান করবে, শ্রদ্ধা করবে, উপযুক্ত মর্যাদা দেবে।

উৎসবে আনন্দে খান আমিষ এবং নিরামিষ PIZZA

তরুণ প্রজন্মের কাছে Pizza  অন্যতম পছন্দের খাবার। তাই পিৎজা বা পিজ্জা বা Pizza-র চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে এবং Pizza প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি তাদের ব্যবসার ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করে চলেছে। অথচ একটা সময় ছিল যখন ভারতবর্ষে Pizza-র চাহিদা তেমন ছিল না। অনেকে হয়তো জানেন যে, Pizza আসলে ইতালিয়ান ফুড। তবে ইতালিতেও একসময় Pizza ছিল গরীবদের পছন্দের খাবার। ব্রেড-এর উপর টম্যাটো আর চিজ দিয়ে তৈরি Pizza-ই প্রচলিত ছিল ইতালিতে। তারপর একসময় এই Pizza সৈন্যদের প্রধান খাদ্য তালিকায় স্থান পেয়েছিল। এরপর অবশ্য Pizza ধীরে-ধীরে আপামর ইতালিবাসীর কাছে প্রিয় খাবার হয়ে ওঠে। আর তারপর তো বিশ্বব্যাপী Pizza হয়ে ওঠে জনপ্রিয়। আমাদের ভারতবর্ষেও ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে Pizza বা পিৎজা বা পিজ্জা।

আজকাল আর শুধু নিরামিষ Pizza-ই পাওয়া যায় এমন নয়, এখন আমিষ Pizza-ও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ক্রমশ। আর তাই ডোমিনোজ নিরামিষ Pizza-র পাশাপাশি আমিষ Pizza-ও পশ্চিমবঙ্গ সহ সারা ভারতবর্ষে সরবরাহ বাড়াচ্ছে। এবার এই সংস্থা নিয়ে এলো শারদ উপহার– মাটন কষা,  মালাই চিংড়ি এবং চম্পারন মাটন পিজ্জা। এছাড়াও আরও নানারকম স্বাদের পিজ্জা পাওয়া যাবে দিনে-রাতে সবসময়। আর যারা নিরামিষ পিজ্জা-র ভক্ত, তাদের জন্যও রয়েছে কষা ভেজ, চম্পারন ভেজ এবং মালাই পনির পিজ্জা। ভেজ Pizza পাওয়া যাবে ন্যূনতম ২৯৯ টাকায় এবং ননভেজ Pizza পাওয়া যাবে ন্যূনতম ৩৯৯ টাকায়।

উৎসবের মরসুমে গত বছরের বিশেষ পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লেভার-এর Pizza খাদ্য-রসিকদের মন জয় করতে সফল হয়েছিল। তাই, এবার মাটন এবং চিংড়ি পিৎজা সরবরাহ করতে বেশি তৎপর ডোমিনোজ।  কলকাতাবাসীরাও এখন পিৎজাতে কষা মাংস, চম্পারন মাটন এবং মালাই চিংড়ির স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন। আর নিরামিষ ভক্তরা পাবেন কষা ভেজ, চম্পারন ভেজ এবং মালাই পনিরের ঐতিহ্যবাহী পিজ্জা।

ডোমিনোজ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং চিফ বিজনেস অফিসার সমীর বাত্রা জানিয়েছেন, ‘প্রাচ্যের পিজ্জা-প্রেমীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে৷ তাই গত বছর ‘ফ্লেভারস অফ ইস্ট রেঞ্জ’-এর জনপ্রিয়তার পর এবার আমরা ননভেজ পিজ্জার উপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। নতুন এই ননভেজ পিজ্জাগুলিও খাদ্য-রসিকদের মন ভরিয়ে দেবে বলেই আশাপ্রকাশ করছি। এবার উৎসবের দিনগুলিতে প্রয়োজন হলে সারারাত সরবরাহ করা হবে পিজ্জা।’

আপনারা অনেকে হয়তো জানেন যে, ইতালিতে জনপ্রিয় পিজ্জার মধ্যে রয়েছে গাম্বেরি পিজ্জা। আসলে গাম্বেরি একটি ইতালীয় শব্দ এবং যার অর্থ ‘চিংড়ি মাছ’। রসুন, মাশরুম এবং পার্সলে দিয়ে ভাজা চিংড়ি, পনির এবং সস দিয়ে তৈরি হয় এই  Pizza। আপনিও বাড়িতে ট্রাই করতে পারেন এই পিজ্জা।

এই ধরনের আরও অনেক Pizza বা পিজ্জা অথবা পিৎজা জনপ্রিয় সারা পৃথিবীতে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল– চিকেন লাহোরি পিজ্জা, কাশ্মীরি ল্যাম্ব পিজ্জা, ডেডপুল পিজ্জা, হট কুইন পিজ্জা ইত্যাদি। এছাড়া, বাজরার ময়দা দিয়ে তৈরি করতে পারেন পিজ্জা। এই পিজ্জা বেশ স্বাস্থ্যকর। কারণ, বাজরা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো,  হজমে সাহায্য করে এবং ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে।  সেইসঙ্গে এটি প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিডের একটি চমৎকার উৎস, যা প্রোটিন অণু তৈরি করে।

উৎসবে বানান মজাদার মিষ্টি (শেষ পর্ব )

উৎসবের দিনে বাচ্চা থেকে বুড়ো, সবাই চুটিয়ে আনন্দ করেন। সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অনেক আনন্দ৷  তাই জমিয়ে উপভোগ করুন উৎসব৷ কিন্তু বচ্ছরকার দিন একটু মিষ্টিমুখ ছাড়া জমে না।  বিশেষ দিনে চাই বিশেষ মিষ্টি। অতিথি অভ্যাগতদের আপ্যায়নে রইল  স্পেশাল মিষ্টির রেসিপি।

গাজরের হালুয়া

উপকরণ: ১ কেজি গাজর, ২১/২ লিটার ফোটানো দুধ, ১/২ ছাটো চামচ এলাচগুঁড়ো, ৩ বড়ো চামচ মাখন, ১০ পিস বাদাম, ১০ পিস পেস্তা, ১০টা কাজু, স্বাদমতো চিনি, ২ চামচ ভালো ঘি।

প্রণালী: গাজর ধুয়ে গ্রেট করে নিন। প্যান গ্যাসে বসিয়ে মাখন গলতে দিন। এতে গ্রেট করা গাজর দিয়ে নাড়তে থাকুন। গাজর রান্না হয়ে এলে একটা সুন্দর গন্ধ বের হবে। এবার এতে দুধ ঢেলে দিন। মাঝে মাঝে নাড়তে থাকুন যাতে দুধ ঘন হয়ে যায়। এবার এই মিশ্রণে এলাচগুঁড়ো দিন। ড্রাই ফ্রুটস দিয়ে সমানে নাড়তে থাকুন। চিনি দিন ও ঘি দিন। মিশ্রণটা কড়াইয়ের গা থেকে আলাদা হয়ে এলে বুঝবেন তৈরি হয়ে গেছে। আঁচ থেকে নামিয়ে বাদাম ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

ফ্রুটি আইসক্রিম

Fruity Ice cream recipe

উপকরণ : ১টা পাকা আম, ২টো কিউয়ি, ৪ বড়ো চামচ বেদানার দানা, ১টা আপেল, ১টা কলা, ১৫০ গ্রাম ভ্যানিলা আইসক্রিম, অল্প বাদাম কুচি করা।

প্রণালী: সমস্ত ফল কুচি করে নিন। একটা বোল-এ ভ্যানিলা আইসক্রিম ভালো ভাবে ফেটিয়ে নিন। এর সঙ্গে ফলের কুচি মেশান। সার্ভিং বোল-এ ফ্রুটি আইসক্রিম দিয়ে বাদাম ছড়িয়ে সার্ভ করুন।

ম্যাঙ্গো পনির রোলস

Mango Paneer Rolls recipe

উপকরণ:  ১টা পাকা দশেরি আম, ৫০ গ্রাম পনির, ১ বড়ো চামচ বাদাম ফ্লেক্স, ২ বড়ো চামচ গুঁড়ো করা চিনি, ১/৪ ছোটো চামচ এলাচগুঁড়ো, অল্প স্ট্রবেরি লম্বা ও পাতলা টুকরোয় কাটা, অল্প পেস্তাকুচি।

প্রণালী : আমের খোসা ছাড়িয়ে, লম্বা স্লাইস করুন। ৭টা স্লাইস হবে। পনিরটা হাত দিয়ে চটকে মসৃণ করে নিন। এবার এর সঙ্গে চিনি, এলাচগুঁড়ো ও বাদাম ফ্লেক্স মেশান। প্রত্যেক আমের স্লাইসের উপর, অল্প করে পনিরের মিশ্রণ রেখে রোল করে নিন। পেস্তা ও স্ট্রবেরি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন। নিমেষে জমে উঠবে উৎসবের দিনগুলি৷

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব