মহারাষ্ট্রের কেলভা সৈকত (পর্ব-২)

পালঘর তালুকের ছোট্ট এক সৈকত ঘেঁষা গ্রাম Kelva। পালঘর ও সাফালে দুটি রেলস্টেশন থেকেই দূরত্ব ১২ কিলোমিটার। “কেলভা’ শব্দটির বুৎপত্তি ‘কারদালিবহ’ শব্দ থেকে। ফলত মনে করা হয় প্রাচীনকালে ইতিহাস ও পৌরাণিক গাথার সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে এই স্থানটির। নারকেল, আম, জাম, কলা, সুপুরি, তাল এবং চিকুর ফলন এখানে প্রচুর। বিশেষত সতেজ রসালো উন্নতমানের চিকুর ফলনকে মান্যতা দিয়ে প্রতিবছর ‘চিকু উৎসব’ পালিত হয়।

নানা ধরনের মানুষজনের বসবাস এখানে। কয়েকটি মন্দির ছাড়াও রয়েছে দুটি মসজিদ ও একটি চার্চ। রয়েছে খোলা বাজার, মাছের আড়ত, নুনের ক্ষেত্র। যাওয়া-আসার পথে বেশ কিছু অভিজাত শৈলীর বসতবাড়ি নজরে পড়ল। প্রতিটি বাড়ির উঠোনেই সুদৃশ্য কাঠের কারুকাজ করা, লোহার শিকলে বাঁধা দোলনা রয়েছে। তাতে সুন্দর গদি ও তাকিয়া ঠেশ দিয়ে রাখা। গৃহস্থের আরামদায়ক আয়োজন। শৌখিন ওই দোলনায় বসার লোভ হয়। কল্পনায় দোল খাই। এখানে প্রায় প্রত্যেকের ঘরেই মহার্ঘ্য চার চাকা ও হাল ফ্যাশনের দু’চাকা মজুদ।

এমনিতে গ্রাম হলেও কেলভার কেতাদুরস্ত সাজপোশাকে মহিলারা প্রায় সবাই স্কুটার বাহক। চুলে বার্গান্ডি রং ও বাহারি ছাঁটে চুল কাটা। পুরুষরাও যাতায়াত করছেন নামিদামি মোটরবাইকে। বরং সাধারণ সাইকেল আরোহী চোখে পড়ল না মোটেই। Kelva বর্ধিষ্ণু গ্রাম হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

হৈমন্তিক দুই রাতের ঠাঁই আমাদের জন্য বরাদ্দ আরিয়ান ফার্মহাউস-এ। আসন্ন অগ্রহায়ণকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে কেলভার প্রকৃতি। সৌজন্যমূলক প্রাতরাশে পোহা, ডিমসেদ্ধ, পাও ও ফিল্টার কফি। ফার্মহাউস থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার হেঁটে পৌঁছোলাম কেলওয়া সৈকতে। এ পথে কোনও সওয়ারি গাড়ি চোখে পড়ল না। পরিচ্ছন্ন গ্রামের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে চারপাশের দৃশ্য কেমন পালটে যেতে থাকে। কোথাও কলাবাগান, কোথাও নারকেল বাগান, সুসজ্জিত ফুলবাগান, বাড়ির দাওয়ায় শৌখিন দোলনা, মিহি করে ছাঁটা ঘাসের লনের মধ্যে দোতলা একতলা বাড়িগুলো দেখে উপলদ্ধি হয়, একটা আঁকা ছবির সামনে যেন দাঁড় করিয়ে গেছে কেউ!

সৈকতে প্রবেশমূল্য জনপ্রতি পাঁচ টাকা। হলুদরঙা ‘করাবদল পাবতী’ অর্থাৎ প্রবেশমূল্য টিকিটের গায় মরাঠি হরফে লেখা ‘গ্রাম পঞ্চায়েত কেলভা ক্ষেত্র সুরুবাগ-সাগরী কিনারা’। যেখানে প্রতি টিকিটে স্বচ্ছতা কর বাবদ তিন টাকা ও ‘সুরুবাগ’ তথা ঝাউবন কর বাবদ দুই টাকা ধার্য। মূল লোহার গেট প্রবেশপথ থেকে সৈকতকিনারা পর্যন্ত যাত্রাপথের দু’ধারে প্যাকেটবন্দি ১০০ টাকা ডজন সতেজ তালশাঁস, ডাব, ভেলপুরি, পানিপুরি, মকাইদানা, মসলা-মাখা লাল কুল, কাঁচা আম ফালি করে কাটা, নুন-মাখা কামরাঙা, ইডলি-বড়া, বড়া-পাও, বরফগোলা ইত্যাদি হরেক খাবারের স্টল। এছাড়াও শিশুদের খেলনা, মহিলাদের নানাবিধ প্রসাধনী সরঞ্জাম, দেওয়ালি উৎসবের মাটির দিয়া, রঙ্গোলি আবির— সব এন্তার বিকোচ্ছে। দোকানিরা ডাকাডাকি করছে— ‘তাই’ আমার দোকানে আসুন। মহারাষ্ট্রে দিদিকে ‘তাই” বলে সম্বোধন করা হয়।

রোদ্দুরের প্রতিচ্ছায়া সাগরজলে। ঢেউয়ের লহরিতে কাঁপে তার রৌনক। সোনালি মিহি বালুতট আট কিলোমিটার বিস্তৃত। বহুসংখ্যক বিনোদিনী জলক্রীড়ার ব্যবস্থাও মজুদ। ওয়াটার স্কুটি, কায়াকিং, প্যারাসেলিং, ওয়াটার স্কি, বানানা বোট ইত্যাদি। বালুতটে রয়েছে ঘোড়ায় টানা এক্কাগাড়ি, হাওদা লাগানো সওয়ারি উট, রিমোটচালিত তিন চাকার মোটরযান, ট্রাই সাইকেল, প্যারাগ্লাইডিং ইত্যাদি কত না আমোদবিহার। সাগরের কোমর জলে নেমে খানিক হুল্লোড় করে সেই আনন্দ মুহূর্তের কিছু ছবি তুলে রাখি। শাঁসওলা ডাবের জলটুকু পান করে ভেতরের নরম শাঁস, ডাবের খোলের চামচ দিয়েই চেটেপুটে খেয়ে নিই ফিরতি পথে।

Kelva বাজার রোডে, শীতলাদেবী নাকার কাছে প্রায় ২,৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে আরিয়ান ফার্মহাউস। আমাদের হৈমন্তিক অবসরের আপাত ঠেক। মাথার ওপর করোগেটের চাঁদোয়া দেওয়া বিশাল উঠোন। একধাপ উঁচুতে ছোটো অনুষ্ঠান উপযোগী মুক্তমঞ্চ। চত্বরে ছড়ানো দুটি দোতলা ভবনে ১৬টি ঘর। মাঝারি আকারের সুইমিং পুল, গোটাকয়েক দোলনা, বসার জায়গা, ক্যারামবোর্ড, ফলের বাগিচা।

বাথরুমে গিজার না থাকলেও বাগানের পরিত্যক্ত কাঠকুটো জড়ো করে আগুন জ্বালিয়ে, সেই ধিকিধিকি আঁচ বাইরের মোটা পাইপের সাহায্যে জলের বড়ো গামলায় প্রাকৃতিক রূপে গরম হচ্ছে, স্নানের জন্য। চারদিকে প্রচুর গাছপালা থাকায় নানাধরনের জংলা পোকামাকড়ের উৎপাত খুব। মধ্যাহ্ন আহারে সম্পূর্ণ মহারাষ্ট্রিয়ান ব্যাঞ্জন পরিবেশিত হল। স্থানীয় চাষের চালের একমুঠো ভাত, গ্রিন স্যালাড, সেঁকা ফুলকা, পনির কোলিওয়ারা, সুরমাঈ মচ্ছি ফ্রাই, মুর্গ লসুনী, পাঁপড় ও শ্রীখন্ড।

আত্মসম্মান বোধের অধিকার

আধুনিক সমাজে শ্বশুর-শাশুড়ির নির্দেশে, স্বামীকে নিয়ে আলাদা থাকতে বাধ্য হয় তরুণী গৃহবধূরা। এ বিষয়ে শ্বশুর-শাশুড়ি-র যুক্তি, ছেলে ও ছেলের বউয়ের যাতে কোনওরকম অসুবিধা না হয় এবং তারা যাতে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বি হয়, তার জন্য নাকি এই ব্যবস্থা। কিন্তু আলাদা থেকেও শান্তি নেই! কারণ, শাশুড়ির উপদ্রব তাতে বন্ধ হয় না। নতুন ঠিকানায় এসেও তিনি শুরু করে দেন মাতব্বরি। সোফা এখান থেকে সরাও, পর্দার রং বদলে দাও, কলিং বেল বাজানো সত্ত্বেও কাজের লোক এসে ঠিক সময়ে দরজা খোলেনি, তাই তাকে তাড়িয়ে দাও ইত্যাদি। শুধু তাই নয়, তিনি এসে গ্রিন টি-তেও দুধ, চিনি মিশিয়ে দেন জোর করে। তবুও শাশুড়ি-র কোনও কিছুতে প্রতিবাদ করার জো–টি নেই৷ কী বিচিত্র তার মহিমা! এখানেই শেষ নয়, শাশুড়ি-র বক্তব্য, বউমা বাড়িঘর কিংবা স্বামী-সংসার ঠিকমতো সামলাতে পারছে না, তাই সংসার ভাঙছে।

সমাজে চিরকালীন সমস্যার কথা আমরা শুনে আসছি শাশুড়ি-বউমার সম্পর্ককে ঘিরে৷ শাশুড়ি পুত্রবধূ নির্বাচন না করেও, খবরদারি করে পুত্রবধূর উপর। আসলে তিনি খুব সহজে সংসারের উপর থেকে বা তার পুত্রের উপর থেকে কতৃত্ব ছাড়তে চান না৷ তাই বাড়ি আলাদা করলে কী হবে, তার ক্ষমতা জাহির করতে শাশুড়ি পুত্রের সংসারেও খবরদারি করতে শুরু করেন৷

পুরাণে যেমন রাজকার্যে বিঘ্ন ঘটাতেন মুনিঋষিরা, ঠিক তেমনই বর্তমানে শাশুড়িরা এসে সব কাজে বিঘ্ন ঘটান৷পুরাণে রাজারা যুদ্ধ করতে বাধ্য হতেন মুনিঋষিদের আদেশে, আর এখন ভণ্ড সাধুরা শাশুড়ির নির্দেশে বিরক্ত করেন গৃহবধূদের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, শাশুড়িরা কোনও এক ভণ্ড সাধুর সান্নিধ্যে থাকেন এবং পুত্রবধূকেও সেই পথ অনুসরণ করতে বলেন।

এদিকে বৃহত্তর সমাজচিত্রটিও তাই৷ এখন রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রীদের হাতে চলে গেছে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের ভালোমন্দের বিষয়টি। তাই কেউ যদি ভেবে থাকেন সরকার আর্থিক ভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছে, তাহলে তার ধারণা ভুল। রাজ্যপাল দ্বারা অনধিকার চর্চা, সরকারের ভ্রান্ত নীতি, বুলডোজার শাসন কিংবা হিন্দু-মুসলিম বিবাদ, প্রত্যক্ষে অথবা পরোক্ষে সবকিছুর কুপ্রভাব পড়ছে পারিবারিক জীবনে। আপশোশের বিষয় এই যে, সভ্য-শিক্ষিত গৃহবধূরাও ভোটদানের সময় স্বামীর আদেশ কিংবা আদর্শ অনুসরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে রাজ্যপালের প্রতি এমনই অলিখিত নির্দেশ থাকে যে, হয় তুমি আমার নির্দেশ মতো কাজ করো, নয়তো পুতুল হয়ে থাকো। গৃহবধূদের অবস্থাও ঠিক একইরকম। তাই মনে প্রশ্ন জাগে, এভাবেই কি চলতে থাকবে? বিরোধ, বিতর্ক কিংবা আত্মসম্মান পাওয়ার অধিকার কি থাকবে না গৃহবধূদের? গণতান্ত্রিক দেশে সরকারের সমালোচনা করার জন্য বিরোধীপক্ষ বলেও কি কিছু থাকবে না? কবে পাওয়া যাবে এর উত্তর?

স্বার্থপর (পর্ব-০১)

রীতা শিয়ালদা স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে ভিতরের দিকে একটা সিটে গিয়ে বসল। এখন তিনটের মতো বাজে। অফিস ফেরত লোকের ভিড় এখনও শুরু হয়নি। তাই ট্রেনটা একটু ফাঁকা। বাইরে তাপমাত্রা আজ চল্লিশ ছুঁয়েছে। চারদিকে গরম বাতাস দাবানলের মতো ছুটছে। বিশ্বায়নের যুগে গাছপালা বলতে তো তেমন কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। দিন দিন তাই গরমও বাড়ছে।

রীতা শাড়ির আঁচলটা দিয়ে ওর ঘামে ভেজা মুখটা মুছল। সকাল আটটা নাগাদ যখন বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল, সূর্য তখন এতটা ক্রুদ্ধ ছিল না। তখনও পৃথিবীর উপর মায়ের ঠান্ডা আঁচল বিছানো ছিল। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আঁচলটা খসে পড়েছে। পিচ গলানো তাপমাত্রায় শুধু প্রকৃতি কেন, মানুষের ভিতরের আদিম রূপটাও যেন বেরিয়ে পড়তে চায়!

রীতা চোখ বন্ধ করে বসে ভাবতে লাগল। কেমন কাটল আজকের দিনটা? কেমন হয়েছিল ওর ইন্টারভিউটা? এবারও নিশ্চয়ই চাকরিটা হবে না! জনা দশেক ছেলে মেয়ে তো ইন্টারভিউ দিল। তার মধ্যে ওর মতো অনেকেই হয়তো ইন্টারভিউ ভালোই দিয়েছে, তবুও কয়েকদিন পর চাকরিটা পায়নি জানিয়ে ওদের নামে একটা চিঠি পাঠানো হবে। প্রথম প্রথম খুব খারাপ লাগত রীতার, আজকাল অবশ্য গা-সওয়া হয়ে গেছে। বিকেলের দিকে চিঠিটা পেলে কিছুক্ষণ একটু খারাপ লাগে, তারপর আবার শুরু হয় পেপার ঘেঁটে চাকরির বিজ্ঞাপন বার করা, দরখাস্ত করা, ইন্টারভিউ দেওয়া আর সব শেষে আবার এরকমই একটা চিঠির জন্য অপেক্ষা করা।

কিন্তু কেন? কেন রীতার জীবনটা এরকম উলটো প্রবাহে বইতে শুরু করল? কী দোষ ছিল ওর? শুধুই কি গরিব বাবা-মার ঘরে জন্মানো? নাকি সমাজের সেই সব অশ্লীল নোংরা লোভী মানুষজন, যারা রীতার মতো মেয়েদের শুধু ভোগ করতে জানে, ছিঁড়ে খেতে জানে, আর তারপর নিজের উচ্ছিষ্ট প্রসাদ অন্যের পাতে ছুড়ে দিয়ে আবার বেরিয়ে পড়ে নুতন কিছুর সন্ধানে?

এরকম তো ঠিক হবার কথা ছিল না। রীতা কখনও ভাবেওনি এরকম হতে পারে। রীতার ভাবনায় বাধা পড়ল যখন দমদম স্টেশনে ট্রেনটা থামল। লোকজন ওঠা নামা করতে শুরু করল। হঠাৎ একটি মেয়ে কাছে এগিয়ে এসে সামনের ফাঁকা সিটটায় বসতে বসতে বলল, ‘কী রে রীতা না? আমায় চিনতে পারছিস?’

রীতা একটু অবাক চোখে তাকিয়ে থেকে আমতা আমতা করে বলল, ‘না তো, ঠিক…।’

আরে, আমি কুহেলি। আমরা দু’জন একসঙ্গে স্কুলে পড়েছি। আমরা ক্লাস টেন পর্যন্ত একসঙ্গে পড়েছি, তারপর তুই সায়েন্স নিয়ে ভর্তি হলি আর আমি আর্টস। আমি তো তোর মতো পড়াশোনায় ভালো ছিলাম না। তুই উচ্চ মাধ্যমিকে স্কুলে সব থেকে বেশি নম্বর পেয়েছিলি। একসঙ্গে ঝড়ের বেগে কথাগুলো বলল কুহেলি।

—মনে পড়েছে এবার। তুই ভালো গান গাইতিস।

—না, তেমন কিছু না। বাবা-মার শখ মেটাতে শিখতে হতো, এই আর কি। কিছুটা তাচ্ছিল্যের সুরে বলল কুহেলি। তারপর একটু থেমে আবার জিজ্ঞেস করল, তুই এখন কী করছিস?

(ক্রমশঃ…)

মেগা ওপেনিং-এর জন্য প্রস্তুত ‘গদর ২’

গদর ২ : দ্য কথা কন্টিনিউস, হল একটি আসন্ন ২০২৩ সালের হিন্দি-ভাষায় অ্যাকশন চলচ্চিত্র। ভারতে ছবিটির মুক্তির তারিখ ১১ আগস্ট, ২০২৩। পরিচালনা এবং প্রযোজনায় রয়েছেন অনিল শর্মা। এর গল্প লিখেছেন শক্তিমান তালওয়ার। এটি ২০০১ সালের চলচ্চিত্র Gadar : এক প্রেম কথার সিক্যুয়েল। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন সানি দেওল, আমিশা প্যাটেল, উৎকর্ষ শর্মা, সিমরাত কউর, আমির নায়েক ইত্যদি অভিনেতারা।

মেগা ওপেনিংয়ের জন্য প্রস্তুত ‘Gadar-2’! মুক্তির কয়েক দিন আগেই অগ্রিম বুকিং সংগ্রহ বেশ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে শাহরুখ খান অভিনীত ‘পাঠান’ থেকে ৩২ কোটি টাকা আয়ের পর সানি দেওল এবং আমিশা প্যাটেল অভিনীত ‘গদর ২’ এ বছর সবচেয়ে বেশি অগ্রিম বুকিং সংগ্রহকারী দ্বিতীয় চলচ্চিত্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। এরই মধ্যে সিনেমাটি সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে যথেষ্ট গুঞ্জন সৃষ্টি করেছে। অক্ষয় কুমার অভিনীত ‘ওএমজি ২’ এর সাথে বক্স অফিসে সংঘর্ষ সত্ত্বেও, ‘গদর ২’ তার প্রথম দিনে শক্তিশালী ব্যাবসা করবে বলে মনে করা হচ্ছে এবং স্বাধীনতা দিবসের ছুটির কিছুটা সুবিধাও রয়েছে বলে আশা করা হচ্ছে। অ্যাকশন-প্যাকড ছবিটি ১১ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। অনিল শর্মা পরিচালিত এই সিনেমাটি ২০০১ সালের ব্লকবাস্টার ‘গদর: এক প্রেম কথা’র সিক্যুয়েল, যেখানে সানি দেওল আবারও তাঁর আইকনিক তারা সিং অবতারে অভিনয় করেছেন এবং অমিশা প্যাটেলকে সাকিনার চরিত্রে পুনরায় দেখা যাবে।

এরই মধ্যে ‘Gadar-2’-এর ট্রেলার দর্শকদের সামনে এসেছে। যেখানে বেশ কিছু অ্যাকশন দৃশ্য দেখে ট্রেলার থেকেই হইচই শুরু হয়েছে ভক্তমহলে। সকলেই ছবিটির দিকে বিরাট আশা নিয়ে অপেক্ষা করছেন। প্রায় দু’দশক পর তারা সিং আবার পাকিস্তানে লাহোরে পৌঁছেছেন পাকিস্তানি সেনার হাত থেকে ছেলে জিতে-কে উদ্ধার করার জন্য। তারা সিং-এর মারের হিসেব নাকি পুরো পাকিস্তান মিলে করে উঠতে পারবে না। সেরকমই শোনা গেছে ছেলের ভূমিকায় উৎকর্ষ শর্মার মুখে। ছেলে আর বাবার পাকিস্তানের হাত থেকে বেরিয়ে আসার গল্প নিয়েই ২০০১-এর ব্লকবাস্টারের দ্বিতীয় পর্ব। ২০০১ সালে তারা সিংকে পাকিস্তানে আসতে হয়েছিল সাকিনার প্রেমের টানে।

পোস্টারে সানিকে দেখা যাচ্ছে হাতে বিশাল আকারের একটি হাতুড়ির সঙ্গে। কখনও মাথার উপর বিশাল গরুর গাড়ির চাকা আবার কখনও বিশাল হাতুড়ির এক ঘায়ে উলটে পড়তে দেখা গেল সেনাবোঝাই জিপ। ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল পুরো পাকিস্তানি সেনা। ছেলেকে শত্রুসেনার হাত থেকে বাঁচাবার জন্য কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন তারা সিং পুরো ছবিটা দেখলেই তার হিসেব মিলবে।

এছাড়াও প্রথম ছবির মতোই সানি দেওলের মুখ থেকে শোনা গেছে ভারত পাকিস্তান সম্পর্কে কিছু গা গরম করে দেওয়া ডায়লগ। পরিবার এবং দেশের জন্য লড়ার স্লোগানও উঠে এসেছে ট্রেলারে। তবে প্রযোজকদের আশা, স্বাধীনতা দিবসের আগে দেশপ্রেমের এমন একটা ছবির মুক্তি আলাদাই মাইলেজ দেবে। একই সঙ্গে রিলিজ করছে অক্ষয় কুমারের OMG2, তবে প্রথমবারও আমির খানের লগানের সঙ্গে রিলিজ করেছিল গদর। তবুও ছবিটি দুর্দান্ত ব্যাবসা দিয়েছিল। তাই নতুন করে Gadar-2-এর টিম অন্য ছবির রিলিজ নিয়ে একেবারেই চিন্তিত নন। দেখার বিষয় কতটা সাফল্য পেতে চলেছে গদার-২ ছবিটি।

মহিলারাই মহিলাদের বিপর্যয়ের কারণ

আফগানিস্তানে তালিবান শাসনে মহিলাদের লেখাপড়ায় সম্পূর্ণ ভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।এতে কি সত্যিই বিস্ময়ের কিছু আছে, কারণ এর পটভূমি তৈরি হয়েছিল বহু আগেই। ইরান, সৌদি আরব, ইউএই, কাতার, ইরাক, লিবিয়ার ক্ষমতায় মধ্যে যদি এটা কুলত, তাহলে বহু আগে ওখানকার মহিলাদেরও লেখাপড়া নিষিদ্ধ হতো। কিন্তু তেল বিক্রির সুবাদে এই দেশগুলিকে পশ্চিমি দুনিয়ার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে হয়েছে, ফলে তারা পুরোপুরি ইসলামিক রাষ্ট্র বলে নিজেদের ঘোষণা করেনি।

আফগানিস্তানের কাছে এখন না আছে তেল, আর না আছে আমেরিকা বা চিনের সঙ্গে যোগ দেওয়ার মতো সৈন্যদল। ফলে সেটা এখন পুরোপুরি ইসলামিক দেশ হয়ে গেছে। যে-কোনও ধর্মের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে মহিলাদের শিক্ষার আলো থেকে দূরে রাখার নীতি। শিক্ষিত নয়, মহিলাদের হয়ে উঠতে হবে সন্তান তৈরির যন্ত্র। পুরুষদের সেবায় নিয়োজিত থাকাই প্রধান কর্তব্য।—- এই মানসিকতা ছিল  ক্রিশ্চান দেশে কিন্তু সেখানে প্রিন্টিং প্রেসের অবতারণা হওয়ার ফলে পুনর্জাগরণ হয় এবং জ্ঞান আহরণ ও কারিগরির উন্নতির ঢেউ থেকে মহিলাদের দূরে রাখা সম্ভব হয়নি।

আফগানিস্তানের মানুষের অশিক্ষার কারণে তারা নিজেরা কিছুই করে উঠতে পারেননি। অনুর্বর জমিতে যেটুকু চাষ সম্ভব তা করা, মেষপালন এবং তালিবানি রাজত্বে মানুষ মারা ছাড়া আর কীই বা করার আছে। আধুনিক হাতিয়ার কেনার জন্য কার্পেট তৈরি আর আফিমের চাষ যথেষ্ট। তারা কাঁচারাস্তা, কাঁচাবাড়ি, হাতে বোনা সস্তার বস্ত্রতেই সন্তুষ্ট। ফলে না চিন, না আমেরিকা, না পাকিস্তান— কারও কাছেই এই মানুষগুলোর কোনও প্রয়োজন নেই।

ভুললে চলবে না আজও দেশের নারীরা যে-সংকটে রয়েছেন তার মূলে নারীরাই। মায়েরা মেয়েদের মনে বছরের পর বছর ধরে ঢুকিয়ে দিয়েছেন পরাধীন হয়ে থাকার মন্ত্র। আজ আর তাই তারা ঘুরে দাঁড়াতেও অক্ষম অবিচারের বিরুদ্ধে।

নবজাগরণ একটা পারস্পরিক ভাবে বয়ে নিয়ে যাওয়ার জিনিস, যা আফগানিস্তানের রুক্ষমাটিতে কখনও হয়ে ওঠেনি। মেয়েরা রয়ে গেছে অশিক্ষার অন্ধকারে।

ভারতেও চেষ্টা যে হয়নি তা নয়। মেয়েরা কী পরবে, কী খাবে, কোথায় যাবে, কাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাবে, কাকে বিয়ে করবে, কার স্ত্রী হয়ে জীবন কাটাবে— সবই ঠিক করে দেবে সমাজ। হিন্দুরাষ্ট্র হলে একইরকম বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে ধর্মভীরু মেয়েদের। এটা ভুললে চলবে না হিন্দুরাষ্ট্রের অর্থ মুসলিমহীন দেশ নয়, বরং পুরোহিত ও ধর্ম নিয়ন্ত্রিত দেশ। যেখানে চাইলেই কারও নাক-কান কেটে নেওয়া যাবে, চাইলেই কারও চরিত্রে কালিমা লেপা যাবে, যখন তখন রেপ হবে, শরীর টুকরো টুকরো করা হবে। তালিবান কোনও একটি গোষ্ঠীর নাম নয়। এক স্খলিত চরিত্র ও নেতিবাচক শক্তি যা যে-কোনও সমাজে ও রাষ্ট্রে যখন তখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

হেলদি ফুড Recipes

ক্ষিদে পেলেই পেট ভরানোর মতো জাংক ফুড খেতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি আমরা৷ কিন্তু এতে পেট ভরলেও পুষ্টিগুণ একেবারেই থাকে না৷  বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া উচিত, যা আমাদের মানসিক উন্নতির পাশাপাশি বিষন্নতাকে দূরে রেখে শরীরকে সম্পূর্ণ নীরোগ রাখতে পারে। সুস্থ শরীরের পাশাপাশি, এনার্জি লেভেল বাড়াতেও এগুলো প্রতিদিন সাহায্য করে।

আশেপাশে বহু মানুষই শরীরের যত্ন নেওয়ার জন্য পুষ্টিকর খাবার বেছে নেন। কোনও নির্দিষ্ট এক ধরনের খাবারই পুষ্টিকর নয়। এর তালিকা বেশ দীর্ঘ। তাই ব্রেকফাস্ট বা বিকেলের স্ন্যাক্স হিসাবে, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানা ধরনের পুষ্টিকর খাবার খাওয়া যেতেই পারে। পুষ্টিকর খাবার যে শুধুমাত্র শরীরকেই সুস্থ রাখে, এমনটা নয়। এই খাবার সুস্থ রাখে মস্তিষ্ককেও। রইল দুটি  Healthy recipe, যা আপনার দৈনিক ফুড হ্যাবিট-এ সামিল করতে পারেন৷

 

পনির কিউবস

উপকরণ: ২০০ গ্রাম পনির কিউবে কাটা, ২ বড়ো চামচ কর্নফ্লাওয়ার, ২ বড়ো চামচ ময়দা, ১ চামচ আদা-রসুন পেস্ট, ২ বড়ো চামচ জল ঝরানো দই, ১ ছোটো চামচ চাটমশলা, ১ ছোটো চামচ তন্দুরি মশলা, ১/২ ছোটো চামচ কাঁচালংকাবাটা, ১ ছোটো চামচ বিট, ১ ছোটো চামচ লাল লংকাগুঁড়ো, ভাজার মতো তেল, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: বিটগুলো টুকরো করে নিন ও কড়ায় জল দিয়ে সেদ্ধ হতে দিন। নরম হলে মিক্সিতে পেস্ট তৈরি করে নিন। এই পেস্ট-এ পনির ছাড়া বাকি সব উপকরণ মেশান। এবার তৈরি হওয়া মিশ্রণে পনিরগুলি দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিন। কিছুক্ষণ এভাবেই রেখে দিন। এবার কড়ায় তেল দিয়ে পনির কিউবস ভেজে নিন। গরম গরম সার্ভ করুন।

ভেজ অপ্পম

Veg Appam recipe

উপকরণ: ২০০ গ্রাম মশলা ওটস, ১ বড়ো চামচ সুজি শুকনো খোলায় ভাজা, ১টা গাজর গ্রেট করা, ৮-১০টা বিনস কুচি করা, অল্প কারিপাতা, ১/২ কাপ দই, ২-৩টি কাঁচালংকা কুচি করা, ১টা ছোটো পেঁয়াজ মিহি করে কাটা, ১ ছোটো চামচ তেল, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: একটা বোল-এ ওটস, সুজি, নুন, কাঁচালংকা একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার প্যানে অল্প তেল গরম করে কারিপাতা, পেঁয়াজ, বিনস ও গাজর ভেজে নিন। এটাও ওটস-এর মিশ্রণে দিয়ে দিন। তারপর দই ও অল্প জল ঢেলে অল্পম তৈরির উপযুক্ত মিশ্রণ তৈরি করুন। অল্পম তৈরির পাত্রে অল্প করে তেল বুলিয়ে নিন। মিশ্রণ ছাঁচে ঢেলে দু’দিক ভালো করে সেঁকে নিন। চাটনির সঙ্গে অগ্গম পরিবেশন করুন।

মহারাষ্ট্রের কেলভা সৈকত (পর্ব-১)

পালঘর তালুকের ছোট্ট এক সৈকত ঘেঁষা গ্রাম কেলভা। আরবসাগর যেন এক অনন্ত জলরাশির মহাকাব্য। স্থানীয়দের উচ্চারণে ‘কেলওয়া বিচ’। আবার অনেকে বলেন ‘কেলভা সৈকত’। মুম্বই মহানগরীর বাস্তব কাঠিন্য থেকে অনেকটা দূরে আমার যাত্রাকে দুই রাতের জন্য নোঙর করেছি এই বিজন সৈকত গ্রামে। যেখানে সাগরপাড়ে হাত বাড়ালেই ঝাউবন। পা বাড়ালেই অথৈ সমুদ্দুর। ঝাউগাছগুলো নুইয়ে থাকে কিছুটা উঁচুতে, বালিয়াড়ির ধার ঘেঁষে। সাগরের লোনা হাওয়ায় মেতে থাকে চরাচর। ঢেউ ভাঙার মৃদু কলতান, বালির বুকে সফেন উর্মিমালার আঁকিবুকি ও খেলার চাদর বিছিয়ে ফিরে যাওয়ার চিরন্তন প্রয়াস।

আশ্চর্য এক সাগরগান শুনিয়ে যাচ্ছে কেলভা সৈকত। অদ্ভুত শান্ত সত্তা আছে এই গ্রামে। নিস্তব্ধতাকে দোসর করে সাগরঘেঁষা পথটি চলে গেছে কিছু জলযোগের দোকানপাট, সি-শোর রিট্রিট, ফার্মহাউস, রেস্তোরাঁ, হোটেল সঙ্গী করে। প্রাথমিক ভাবে কেলভা ছিল যথেষ্ট অফবিট পর্যটনস্থল। তবে ইদানীং পর্যটকদের কাছে কিছুটা জনপ্রিয়তা পাচ্ছে আনকোরা এই সৈকত। বিশেষ করে স্থানীয়দের কাছে সপ্তাহান্তিক বেড়াবার জায়গা হিসাবে ধীরে ধীরে সমাদৃত হচ্ছে কেলভা।

মুম্বইয়ের আস্তানা থেকে গত দীপাবলির দু’দিনের ছুটিকে সম্বল করে যাত্রা শুরু করলাম, ঘড়িতে তখন সকাল ছ’টা। মুম্বই মহানগরীর ঘুম ভাঙতে তখনও যথেষ্ট দেরি। মহারাষ্ট্রের পালঘর তালুকে কেলভা সৈকত মুম্বই থেকে ১০৩.৮ কিলোমিটার পথ মাত্র। সময় লাগে কমবেশি আড়াই ঘন্টার মতো। ওয়েস্টার্ন এক্সপ্রেস, জাতীয় সড়ক ৪৮ ধরে চলেছি। যাত্রাপথে কাথিয়াওয়াড়ি অঞ্চলে এক পথচলতি ধাবায় মশালা-পাও খাওয়া হল সঙ্গে কফিপানও।

বলিউড ফিল্ম সঞ্জয় লীলা বনসালীর ‘গাঙ্গুবাঈ কাথিয়াওয়াড়ি” বেশ জনপ্রিয় ছবি। সেই কাথিয়াওয়াড়ি অঞ্চলে রয়েছি ভেবেই খানিক নড়েচড়ে বসি। এখন পথের ধারে নাতিদীর্ঘ ঢালু পাহাড়। সদ্য বর্ষা শেষ হয়েছে। গাছগাছালির পাতায় ঘন সবুজের সতেজ পরত। হাইওয়ে বরাবর মাঝখানে টানা ডিভাইডারের জমিতেও বাহারি মরশুমি ফুলের ছটা। তার দু’ধারে যাওয়া-আসার মসৃণ ঝকঝকে পিচ রাস্তা। ইতিমধ্যে পেরিয়ে এলাম ভাসাই খাঁড়ি। যার পূর্বনাম ছিল বেসিন ক্রিক। এই ভাসাই ক্রিকের উত্তর সীমানায় জলবেষ্টিত লবণাক্ত এক ভূখন্ড রয়েছে। যেটি ওপাশে কোঙ্কন উপকূল এলাকাকে বিভক্ত করেছে। উপকূলবর্তী পোতাশ্রয় হিসেবেই মূলত পরিচিত ভাসাই ক্রিক। ভাসাই-বিরার হল যমজ শহর।

ভিকালে নামে আরও একটি জনপদ পেরিয়ে, হাইওয়েকে ডানদিকে ফেলে আমরা মাকুনসর ভিলেজ মেইন রোড ধরলাম। কিছুটা চড়াই-উৎরাই সম্বলিত ‘ঘাট রোড’ তথা পাহাড়ি পথ উজিয়ে গাড়ি চলছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেকটাই ওপরে উঠে এল পথ। MSTRC সরকারি বাস পরিষেবা রয়েছে এই পথে। সাফালে নামে আরও একটি জমজমাট জনপদও পার হয়ে যাই। তারপরই ঘাট রোড শেষ হয়ে আবার সমতল পথ শুরু হয়। এই পথে তভুলওয়াড়ি রোডও বেশ ব্যস্ত এলাকা। ভিড়ে ঠাসা প্রচুর দোকানপাট পথের ধারে। দেদার বিকোচ্ছে দেওয়ালির রঙ্গোলি তৈরির আবির, বাহারি মাটির প্রদীপ, ব্যাটারিচালিত নানান কিসমের শৌখিন আলো।

 

নতুন শহরে চাকরি, একাকীত্ব কাটাতে পারছি না

প্র:  আমার বয়স ৩০৷ চাকরির সূত্রে আমি নতুন শহরে এসেছি৷ মা-বাবা এবং পরিবারকে ছেড়ে আগে কখনও একা থাকিনি৷ তাই স্বাভাবিক ভাবেই আমার খুব একা লাগছে৷ নতুন শহরে কিছুতেই মানিয়ে নিতে পারছি না৷ ডিপ্রেশন হচ্ছে৷ মনে হচ্ছে চাকরিটা ছেড়ে দিই৷ কিন্তু এই মুহূর্তে আমার বাবার ক্যানসারের ট্রিটমেন্ট চলছে৷ তাই আমার অর্থের প্রয়োজন৷ চাকরিটা সেই জন্যই আমার কাছে জরুরিও৷ কী করব বুঝতে পারছি না৷ বাড়িতে আমার একাকিত্বের কথা জানাতে পারছি না৷এটা ছাড়লে নতুন চাকরি আবার পাব কিনা তারও নিশ্চয়তা নেই৷

 

উ :  চাকরির সুবাদে অনেক সময়ই নিজের শহর ছেড়ে নতুন কোনও জায়গায় আমরা যেতে বাধ্য হই৷ প্রথম প্রথম খারাপ লাগলেও, মানিয়ে নেওয়া ছাড়া কোনও বিকল্প থাকে না৷অপনার ক্ষেত্রে তো চাকরিটা এই মুহূর্তে ভীষণ প্রয়োজনীয়৷ তাই ছাড়ার কথা না ভাবাই ভালো৷

নতুন শহরে গিয়ে আগে একটা সুরক্ষিত বাসস্থান জোগাড় করুন৷ নতুন পরিবেশের কোনও একটি বিষয় আপনাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতে হবে। হতে পারে তা পরিবেশ, হতে পারে মানুষ, প্রকৃতি, বা অন্য কিছু। আপনি যখন ভালোবাসা দেবেন, তখন ভালোবাসার পাত্রটি আপনার জন্য দু‘হাত প্রসারিত করে দেবে। আপনি মায়ার জালে আটকা পড়ে যাবেন। আপনি ভালোবাসা দিতে পারেন,  এমন অনেক উপাদানই নতুন পরিবেশে আপনি পাবেন, শুধু আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে।ধীরে ধীরে আপনার মনে প্রশান্তি আসবে, অস্থিরতা কমতে থাকবে।

আপনি নতুন পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। এমন একটা সময় আসবে, আপনার পূর্বের অবস্থান হয়তো আপনি  ভুলেই যাবেন। তবে প্রথমেই কিন্তু স্বল্প পরিচিত মানুষকে দারুণ ভাবে বিশ্বাস করে ফেলবেন না৷ বিশ্বাসটাও বরফের মতে৷ জমতে সময় লাগে৷ সেটুকু সময় দিন৷ যে-নতুন পরিবেশের সঙ্গে আপনি পরিচিত হচ্ছেন, সে পরিবেশে চট করে নিজেকে বিলিয়ে দেবেন না৷ ভালো মন্দ বিবেচনা করুন৷ যা অন্যেরা করছে, তা-ই যে আপনার জন্য উপযুক্ত হবে, তেমন না-ও হতে পারে৷সবার সঙ্গে মিশুন, কিন্তু অবজর্ভেশনটাও রাখুন, কে আপনার বিশ্বস্ত বন্ধু হতে পারে৷ ছুটির দিনগুলোয় শহরটা ঘুরে দেখুন৷ ভালো লাগবে৷

খারাপ অভ্যেস গড়ে তুলবেন না৷ অকারণে নেশার কবলে পড়বেন না৷ নিজের যত্ন নিন৷ হেলদি ফুড দিয়ে দিন শুরু করুন৷ ব্যয়ামের অভ্যাস যেন আগের মতোই বজায় থাকে৷ নতুন মানুষদের সঙ্গে কাজের সূত্রে আলাপ পরিচয়ের পরিধি বাড়ান৷ এতে আপনার ব্যস্ততাও বাড়বে৷কাজের আদানপ্রদান, কথাবার্তায় অচেনা মানুষদের আপন করে নিন৷ এর ফলে আর একা লাগবে না৷

নতুন অফিস মানে নতুন পরিবেশ। নতুন  মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া। সেখানে ভালো- ধুরন্দর দুই ধরনের মানুষই থাকবে। তাদের ভিড়ে ভালো সহকর্মীকে খুঁজে পেতে সময় লেগে যায়। এসব কারণে নতুন কর্মস্থলে নিজেকে মানিয়ে নিতে সময় লাগে। সততা, ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তা আর আত্মবিশ্বাস বজায় রেখে কাজ করে গেলে দেখবেন, খুব সহজেই নতুন সহকর্মীরা আপনার অতি আপনজন হয়ে উঠবে।

খাবার খেতে অ্যাপই যখন ভরসা

হোম ডেলিভারি-র কারণে বাড়ির মহিলারা এখন বাড়িতে রান্নার পার্ট প্রায় তুলে দিতে বসেছেন। এর ফলে এমন একটা সময় আসবে, যখন খাবারের বিষয়টি পুরো অ্যাপযুক্ত হোম ডেলিভারি-র উপর নির্ভর করবে এবং রান্নাঘরের বিষয়টি আর থাকবে না। অতএব, সংসার খরচও তখন দ্বিগুন হবে।

মা কিংবা বউয়ের হাতে তৈরি খাবারের যে স্বাদ কিংবা যে ভালোবাসার বন্ধন গড়ে ওঠে, তা আগামী দিনে বিরল হয়ে যাবে হয়তো। আর যখন সবই প্রেমহীন হয়ে উঠবে, তখন পরিস্থিতিও এমন হয়ে উঠবে, যা বাড়ির ছাদ ধসে পড়ার মতো। তাই বলা যায়, প্রেমও হয়ে উঠতে চলেছে আরও বাণিজ্যিক। বাজার থেকে শুরু করে পরিবার, সবই চলে যেতে বসেছে পুঁজিপতিদের হাতে। সর্বত্রই চলছে অবাধে লুট।

Dependence on apps to eat is increasing

অ্যাপ-বেসড যতগুলো সংস্থা আছে, তা কিছু সময় গ্রাহকদের নানারকম সুযোগ সুবিধা দিতে গিয়ে কিছু টাকা ক্ষতির শিকার হয়।এই যেমন এক ফুড হোম ডেলিভারি সংস্থা-র একবছরে ক্ষতি হয়েছে ৩,৬২৯ কোটি টাকা। অন্য এক সংস্থাও ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। এর জন্য ওই সংস্থাকে ৫৫০ কোটি টাকা সাহায্য নিতে হয়েছে এক ইনভেস্টর-এর কাছ থেকে। এক বছর আগে ওই সংস্থার  ক্ষতি হয়েছিল ১,৬১৭ কোটি টাকা। এর পরেও ওই সংস্থা প্রচুর টাকা ইনভেস্ট করে এবং এক বছরের মধ্যে প্রায় দু’গুন ক্ষতির শিকার হয়৷ মজার বিষয় হল, ওই যে ক্ষতি হওয়া টাকা, তা আজ নয়তো কাল অবশ্যই উশুল করা হবে গ্রাহকদের পকেট থেকেই।কিন্তু যখন বাজার আবার ওদের হস্তগত হয়, তখন ক্ষতি হওয়া টাকার দ্বিগুন টাকা অবশ্যই তুলে নেয় ক্রেতাদের থেকে।

মনে রাখা দরকার, মহিলারা যদি বাড়িতে কোনও কাজ না করেন, তাহলে তাদের শরীর স্বাস্থ্য যেমন ভালো থাকবে না, ঠিক তেমনই অলস মস্তিষ্ক পরনিন্দা পরচর্চায় ব্যস্ত থাকবে। কিন্তু আগামী দিনে পরিবারের সকলকে সম্ভবত অ্যাপ ব্যবহার করে খাবার ব্যবস্থা করতে হবে।

লোকেরা এখন সুন্দর প্যাকিং দেখে মুগ্ধ হয়ে যান কিন্তু প্যাকেটর ভিতরে যে অস্বাস্থ্যকর খাবার থাকতে পারে, তা আর ভেবে দেখার সময় হয় না কারওর। নতুন বছরে যে-কর্মীরা ১৩ লক্ষ বাড়িতে খাবার ডেলিভারি করে ঘাম ঝরাল, তাদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য কিংবা আর্থিক নিরাপত্তার কথা ক’জন ভাবে! ৩,৬০০ কোটি টাকার ক্ষতি শিকার করে যারা বাজার ধরল, তারা কি বিনা স্বার্থে জনসেবা করল বলে মনে হচ্ছে? একটু ভাবলে বুদ্ধিমানরা এর উত্তর পেয়ে যাবেন নিশ্চয়ই।

ওই কাজল কালো চোখ

কাজলকালো চোখের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন না, এমন মানুষ বোধহয় নেই। চোখের ভাষাকে পরিপূর্ণতা দিতে কাজলের কোনও জুড়ি নেই। কাজল যদি সঠিক ভাবে লাগানো না হয়, তাহলে কিন্তু সেটা মেক-আপ ব্লান্ডার হয়ে দাঁড়াবে। সম্পূর্ণ লুকটাই নষ্ট হয়ে যাবে চোখের মেক-আপ-এর এই ত্রুটিতে। তাই জেনে নিন কাজল পরার সঠিক নিয়মকানুন— যাতে অনুরাগীরা আপনার চোখের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে যায়।

কাজলের ব্যাপারে একটা কথা প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো— কখনও কাজলের কোয়ালিটি কমপ্রোমাইজ করবেন না। চোখের ক্ষতি হতে পারে এমন অনামি বা সস্তার প্রোডাক্ট ব্যবহার না করাই ভালো। নিজের চোখদুটির স্পর্শকাতরতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে, ব্র্যান্ডেড প্রোডাক্ট-ই কিনুন। বাজারে হার্বাল, জেলবেসড, গোলাপজল-যুক্ত এবং অর্গ্যানিক কাজল পাওয়া যায়। এগুলো আপনার চোখের কোনও ক্ষতি করবে না।

আপনার কাজলে কর্পূর কিংবা আমন্ড অয়েল আছে কিনা দেখে নিন। এই দুটি জিনিসই কিন্তু চোখের সুরক্ষা তো দেবেই উপরন্তু আইল্যাশ গ্রোথ-এও সাহায্য করবে। চোখে শীতল অনুভূতি হয় এই কাজল ব্যবহারে। তাছাড়া এই ধরনের কাজল চোখে দীর্ঘক্ষণ লাস্ট করে, ঘেঁটে যায় না। এবার চোখের সুরক্ষার কিছু টিপ্‌স জেনে নিন।

চোখের চারপাশ পরিষ্কার রাখুন

চোখের চারপাশের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়। তাই আই মেকআপ করার পর মেক-আপ তোলাটাও কিন্তু সমান জরুরি। আই মেক-আপ করার সময় চোখের নীচে ত্বকের তেলাভাব যদি প্রকট হয়, একটু ট্রানগ্লুসেন্ট পাউডার লাগিয়ে নিন। এর ফলে কাজল স্মাজ করবে না।

কীভাবে লাগাবেন কাজল

চোখের গড়ন অনুযায়ী কাজলের রেখা টানার নিয়ম। এর ফলে আপনার চোখ আকারে বড়ো দেখাবে। অর্থাৎ আপনার চোখ যদি আকারে ছোটো হয়, তাহলে ওয়াটারলাইন বরাবর রেখা না টেনে একটু চোখের বাইরের কোণ পর্যন্ত নিয়ে যান। চোখের কোণটিকে হাইলাইট করুন। চোখ যদি খুব বড়ো হয়, তাহলে কাজলের রেখা খুব সরু করে টেনে চোখ আকারে স্বাভাবিক দেখানো যেতে পারে। লং লাস্টিং কাজলই ব্যবহার করুন, যাতে দীর্ঘসময় পর্যন্ত চোখের সৌন্দর্য অব্যাহত থাকে।

স্মোকি আইজ লুক

আজকাল স্মোকি আইজ-এর জনপ্রিয়তা অত্যন্ত বেশি। কিন্তু এই লুক একমাত্র তখনই পারফেক্ট হবে, যদি আপনি সঠিক কালার শেডস-এর চয়ন করেন। ব্লেন্ডিং-ও এক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক ব্লেন্ডিং না হলে আই মেক-আপে প্যাচিনেস এসে যাবে।

তাই এই ধরনের লুক তৈরি করতে হলে প্রথমে আইশ্যাডো প্রাইমার লাগান। এবার এই প্রাইমার খুব ভালো করে ব্রাশের সাহায্যে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর এক এক করে ট্রানজিশন কালারগুলো অ্যাপ্লাই করুন ও ব্লেন্ড করুন। সব শেষে ব্ল্যাকের শেড দিয়ে ব্লেন্ডিং করুন। যত স্মুদ হবে এই ব্লেন্ডিং, ততই প্যাচিনেস এড়াতে পারবেন।

ক্রিজ-এ ব্ল্যাক অ্যাপ্লাই হয়ে গেলে পুনরায় ট্রানজিশন কালার লাগান। আইলিড্স-এ এরপর ব্ল্যাক আইশ্যাডো লাগানোর পালা। এরপর ওয়াটার লাইন বরাবর কালো কাজল লাগিয়ে নিন। এর উপর ব্ল্যাক আইশ্যাডো দিয়ে ব্লেন্ড করুন। চোখের কোণে গোল্ড আইশ্যাডো দিয়ে হাইলাইট করে মেক-আপ সম্পূর্ণ করুন।

তবে খেয়াল রাখবেন স্মোকি আইজ লুক কিন্তু পোশাকের রঙের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে করা উচিত। অর্থাৎ ব্লু পোশাক হলে চোখের শেডগুলি ব্লুয়ের উপর রাখুন। সবুজ হলে কালোর পরিবর্তে একই ভাবে সবুজের শেড দিয়ে মেক-আপ করুন।

স্পেশাল কেয়ার

বিউটি প্রোডাক্ট— বিশেষ করে লিপস্টিক, লিপগ্লস, কাজল ও লাইনার, কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না। কারণ এর দ্বারা ব্যাক্টিরিয়া সংক্রমণ হতে পারে। এতে আপনার চোখের ক্ষতি হতে পারে। ব্রাশ প্রভৃতি উপরণগুলি নিয়মিত পরিষ্কার করুন, তারপর পুনরায় ব্যবহার করুন।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব