ই-কমার্স ও বাজেট শপিং (পর্ব-০১)

মাসে মাসে যতটা সম্ভব টাকা জমানোর অভ্যাস তৈরি করা, যাতে আর্থিক ভাবে চাপমুক্ত থাকা যায় এবং খোঁজখবর নিয়ে ন্যায্যমূল্যে ভালোমানের জিনিস কেনা যায়। এছাড়া, বাজেট শপিং-এর বিষয়টি হল, পকেটের ওজন বুঝে, নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে প্রয়োজনের জিনিস কেনা সম্পূর্ণ করা। কিন্তু কোথায় কিনবেন, কী কিনবেন, কত দামের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে সে বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান থাকা আবশ্যক।

পোশাক কেনার ব্যাপারে বছরের শুরুতে একটা বাজেট করে নেওয়াই ভালো। এই বাজেটকে আবার চার ভাগে ভাগ করে নিতে হবে। বাজেটের একটা অংশ যাবে দৈনন্দিন ব্যবহারযোগ্য পোশাকের জন্য, একটা অংশ কর্মক্ষেত্রের পোশাকের জন্য, তৃতীয় অংশ থাকবে উৎসব অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য এবং চতুর্থ অংশ বরাদ্দ থাকবে বেড়াতে যাওয়ার পোশাকের জন্য।

এরই পাশাপাশি, কিছু টাকা রাখতে হবে শীতের পোশাক কেনার জন্য। আর বাজেট করার সময় একটু ভেবেচিন্তে বাজেট করা উচিত। উপলক্ষ্য যদি হয় উৎসব-অনুষ্ঠান এবং বেড়ানো, তাহলে ভালো গুণমানের পোশাক কিনতে হবে এবং এর জন্য বেশি পরিমাণ টাকা মজুত রাখতে হবে। তবে প্রসঙ্গত মনে রাখতে হবে, পোশাক-আশাক কেনার জন্য এক বছর আগে থেকে টাকা জমানো ভালো। এর ফলে কেনাকাটার ক্ষেত্রে একসঙ্গে চাপ পড়বে না এবং একটু বেশি দাম দিয়ে ভালোমানের পোশাক-আশাক কেনার সুযোগ পাওয়া যাবে।

যাইহোক, বাজেট-এর পরে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তা হল শপিং। শপিং-এর ক্ষেত্রে একা না গিয়ে, নিয়মিত শপিং করেন এমন কাউকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়াই ভালো। এতে যেমন ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, তেমনই কেনাকাটার ক্ষেত্রে দেখেশুনে সিদ্ধান্ত নিতেও সুবিধে হয়।

এই বিষয়ে উল্লেখ্য, অনলাইন কেনাকাটার সূত্রপাত হওয়ার ফলে, কিছুটা হলেও ভিড় কমেছে দোকানে। এখন আর শুধু উৎসবের আগে কেনাকাটার হিড়িক পড়ে না, অনলাইন-এ প্রায় সারা বছর ধরেই চলতে থাকে কেনাকাটা। বাজারের থেকে কিছুটা হলেও কম দামে কেনাকাটার সুযোগ পাওয়া যায় অনলাইন-এর ই-কমার্স সাইটে। কেনাকাটার জন্য প্রয়োজন প্লাস্টিক মানি। মানে ডেবিট কার্ড বা ক্রেডিট কার্ড। অনেক সময় ক্রেডিট কার্ড- এর পয়েন্টস বা কেনাকাটার বিশেষ অফার পেয়ে লাভবান হতে পারেন।

উৎসবে যেহেতু সবরকম খরচা অনেকটাই বেড়ে যায়, তাই খানিকটা সাশ্রয় করতে অনলাইন কেনাকাটার সুযোগ নেন অনেকেই। মোবাইলের ইন্টারনেট অন করে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড-এর জিনিসপত্রের ছবি এবং বিবরণ দেখে নিয়ে কেনাকাটা করা যায় এই মাধ্যমে। অনলাইন কেনাকাটায় দাম অনেকটা কম পড়ে কারণ, এক্ষেত্রে দোকান চালানোর খরচ নেই, শুধু ক্যুরিয়ারে জিনিসটি ক্রেতার ঠিকানায় পৌঁছে দিতে পারলেই কাজ শেষ। এক্ষেত্রে আগাম পেমেন্টও করা যায়। জামাকাপড়, জুতো, গয়না, প্রসাধন সামগ্রী, ব্যাগ, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টিভি, ফ্রিজ প্রভৃতি প্রায় সবকিছুই অনলাইন-এ বিক্রি করছে বিভিন্ন সংস্থা। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও, অনলাইন কেনাকাটার সুবিধে-অসুবিধে নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অনেক সময় কেউ-কেউ নানা সমস্যায়ও পড়ছেন। প্রতারণারও শিকার হয়েছেন অনেকে।

( ক্রমশঃ… )

মেক-আপ থেকে অ্যালার্জির সমস্যা – (প্রথম পর্ব)

বর্তমান সময়ে প্রায় সমস্ত অনুষ্ঠানেই মেয়েদের মেক-আপ করে আসতে দেখা যায়। যদিও খুব অল্প সময়ের জন্য মেক-আপ করার প্রয়োজন হয়, তবুও এটি সৌন্দর্য এবং আকর্ষণ বাড়াতে সহায়তা করে। এছাড়াও মুখের যে-কোনও খামতিও মেক-আপের সাহায্যে চট করে ঢেকে ফেলা সম্ভব হয়।

কিন্তু অনেক সময়েই দেখা যায়, সৌন্দর্য বাড়াবার জন্য যে-প্রসাধনীগুলি আমরা ব্যবহার করি, সেগুলি সৌন্দর্য না বাড়িয়ে নানা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সুতরাং প্রয়োজন মেক-আপ অ্যালার্জি সম্পর্কে সবকিছু জেনে রাখা এবং প্রোডাক্টগুলির কোন কোন উপাদান আমাদের ত্বকের ক্ষতি করতে পারে, সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা। এতে নিজেকে মেক-আপ অ্যালার্জি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সুবিধা হবে। এই সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক ‘এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস’- এর ডার্মাটোলজিস্ট ডা. অমিত বাংগিয়া-র মতামত।

কোন কোন Makeup থেকে অ্যালার্জি?

অনেক সময়েই দেখা যায় মেক-আপ অ্যাপ্লাই করার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে লাল রঙের চাকা চাকা দাগ, র‍্যাশ, জ্বালা, চুলকানি, ব্যথা ভাব ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়, যা সহ্য করা মুশকিল হয়ে যায়। সেজন্য কোন কোন প্রেডাক্ট থেকে ত্বকে অ্যালার্জি হতে পারে, সেটা আগে থেকেই জেনে রাখা ভালো।

ফাউন্ডেশন এবং কনসিলার:  স্কিন টোন ইমপ্রুভ করার জন্য এবং দাগছোপ লুকোবার জন্য ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এগুলিতে এমন কেমিক্যালস ব্যবহার করা হয়, যেগুলি ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক। রোজ যদি এগুলি ব্যবহার করা হয়, তাহলে ত্বকে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে।

সাধারণত এগুলিতে থাকে সুগন্ধী, প্যারাবেনস, প্রিজারভেটিবস, সোডিয়াম লৌরেথ সালফেট, পথহালেটস, সীসা। এইসব উপাদান ফাউন্ডেশন এবং কনসিলারের রং, শেলফ লাইফ এবং মিষ্টি গন্ধ বজায় রাখতে ব্যবহার করা হয়। এগুলি ত্বকের পোরস ক্লগ করে, অ্যালার্জির সমস্যা বাড়ায়, এমনকী অ্যাকনের সমস্যা থেকে শুরু করে ক্যান্সার এবং বন্ধ্যাত্বরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সুতরাং ফাউন্ডেশন কেনার সময় সবসময় খেয়াল রাখা উচিত ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য যে-উপাদানগুলি খুবই জরুরি যেমন জিংক অক্সাইড ইত্যাদি, সেটি ফাউন্ডেশনে রয়েছে কিনা। স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য এই উপাদানটি অত্যন্ত কার্যকরী। এছাড়াও জিঙ্ক অক্সাইড, সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রেখে এজিং প্রসেস-কেও স্লো করে।

ব্লাশ এবং হাইলাইটার:  Makeup করতে গেলেই প্রয়োজন ব্লাশ এবং হাইলাইটারের। চিকবোনস-এর সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলতে এবং মুখের গ্লো এবং ফ্রেশ ভাব বাড়িয়ে তুলতে ব্লাশ যেমন সাহায্য করে তেমনি হাইলাইটার, কনটিউরিং এবং শাইন নিয়ে আসে। কিন্তু কখনও কখনও এগুলির প্রভাবে মুখের সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর প্রভাবে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং কোনও ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজারও তখন কোনও কাজ করে না। এর কারণ, এগুলির একটা শেড তৈরি করতে, তিন-চার ধরনের পিগমেন্টস অথবা কেমিক্যালস ব্যবহার করা হয়।

যে-মহিলাদের কালার থেকে অ্যালার্জি হয়, তাদের ত্বক এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুতরাং উচিত হচ্ছে অর্গ্যানিক ব্লাশ ব্যবহার করা। ন্যাচারাল শেড ব্যবহার করা সবথেকে ভালো। ব্লাশ বা হাইলাইটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ করে খেয়াল রাখা দরকার, যে-ব্রাশটি ব্যবহার করছেন, সেটি পরিষ্কার কিনা। কারণ ব্রাশ-ও অ্যালার্জি হওয়ার অন্যতম কারণ।

Beauty Treatment জেট পিল

বহু প্রচেষ্টা চালিয়েও যাদের অবাধ্য ত্বক বশ্যতা স্বীকার করে না, তাদের জন্য ‘জেট পিল’ এক দারুণ বিশ্বস্ত থেরাপি। এটি কেবল অনাবশ্যক দাগছোপ, বলিরেখাই দূর করে না, এক ধাক্কায় আপনার বয়সটাও কমিয়ে দেয় খানিকটা। তাই ওয়ার্কিং লেডি কিংবা হাউজওয়াইফ সকলেই কম-বেশি এই বিউটি থেরাপির ব্যাপারে আগ্রহী। এখনও যারা  এই ‘জেট পিল ’ সম্পর্কে অবহিত নন, তাদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে এটা আসলে কী ?

মূলত ‘জেট পিল’ হল এমন একটি পেনলেস ট্রিটমেন্ট, যেটি কেবলমাত্র ত্বকের উপরিভাগেই নয়, এয়ারসোল স্প্রে-র মাধ্যমে ত্বকের গভীরে ঢুকে অক্সিজেন, জল এবং অ্যাকটিভ সিরামের সাহায্যে স্কিন রিপেয়ার করতে সাহায্য করে। যার ফলে স্কিনে আল্ট্রা হাইড্রোজেনের ঘাটতি পূরণ হয়। রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। ফলে ত্বক হয় ঝকঝকে পরিষ্কার, মরা কোশবিহীন এবং আর্দ্রতা সম্পন্ন। এটি বলিরেখা ও অবাঞ্ছিত দাগছোপ দূর করার জন্য ভীষণ ভাবে কার্যকরী।

এছাড়াও অ্যাকনে, ব্রণ, ফুসকুড়ি, মেলাজমা, মাইক্রোডার্মা এবং স্কিন রিজুভিনেশন-এর জন্যও উপযোগী। স্কিনের টেক্সচার অনুযায়ী সব ধরনের স্কিনেই এই ট্রিটমেন্ট করা হয়ে থাকে। এব্যাপারে কিছু শিডিউল মেনটেন করে টাচ-আপ করা হয়। সাধারণত ১৪-৩০ দিন অন্তর একটা করে সিটিং দেওয়া হয়ে থাকে। তবে আপনার স্কিনের কন্ডিশনের উপরই নির্ভর করবে, আপনাকে ক’টা সিটিং নিতে হবে বা ক’মাস ট্রিটমেন্ট করাতে হবে। একটা সিটিং নিলেই বুঝতে পারবেন, আপনার ত্বক আগের তুলনায় কতটা স্মুদ হয়েছে।

Jet Peel -এর প্রয়োগ বিধি

প্রথমে হাত ও মুখ ভালো করে ধুয়ে, টিস্যু পেপারের সাহায্যে মুখের জল শুকিয়ে নেওয়া হয়। তারপর পেশেন্টের স্কিনের সমস্যা অনুযায়ী মেডিসিন স্লাইং মেশিনে দেওয়া হয়। এবার যে-পেনটি স্লাইং মেশিনে কানেক্ট করা থাকে, সেটির দ্বারা প্রবলেমেটিক এরিয়ায় মিনিমাম প্রেশারে পিলিং শুরু করা হয়। এতে মুখের উপর একটা কুলিং এফেক্ট চলে আসে।

পরে স্কিনের যে-অংশ ঢিলে হয়ে গেছে, সেখানে বিশেষ পদ্ধতিতে স্ট্রেচ করে পিলিং করা হয়। বাকি জায়গায় স্ট্রেচিং-এর প্রয়োজন পড়ে না, পেন প্রেশার দিয়েই কাজ সারা হয়। পুরো ব্যাপারটায় সময় লাগবে ২০ থেকে ২২ মিনিট। নিয়মানুযায়ী ফোরহেড থেকে শুরু হয় পিলিং। তারপর নাক, পরে বাকি অংশ। মাথায় রাখবেন মেডিসিন নেওয়ার সময় প্রতিবার ১ মিলিলিটার অর্থাৎ ১০০ মিলিলিটার স্লাইং-এ ১ মিলিলিটার মেডিসিন ব্যবহার করা হয়। ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে এই ওষুধ। মেডিসিন মেশানোর সময় চোখ ঢাকতে ভুলবেন না। জেট পিলের জন্য প্যাকেজ অনুযায়ী তিনটি সিটিং-এ খরচ পড়বে আনুমানিক ২৫,০০০ টাকা।

করণ জোহরের কর্মজীবনের ২৫ -এ নতুন প্রেমের জোয়ার

কেরিয়ারের ২৫ বছর পার করলেন করণ জোহর৷আর এটাই সেলিব্রেট করলেন করণ তাঁর আগামী ছবি রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি-র টিজার লঞ্চ দিয়ে৷ এই টিজার লঞ্চ করলেন তাঁর দীর্ঘদিনের জিগরি দোস্ত, শাহরুখ খান স্বয়ং৷আলিয়া-রণবীর সিং জুটি ছাড়াও এই ছবিতে রয়েছেন ধর্মেন্দ্র, জয়া বচ্চন, শবানা আজমি এবং টলিউডের দুই অতি পরিচিত মুখ, টোটা রায়চৌধুরি এবং চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়৷ ঝাঁ চকচকে সেট, প্রেম, মন ভাঙা, রঙের বাহার- সবমিলিয়ে এক  মিউজিকাল সাগা নিয়ে আবার তাঁর চেনা ছকে ফিরলেন করণ।

১৯৯৮ সালে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ দিয়ে শুরু। এরপর ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’ ছবি পরিচালক হিসেবে কর্ণ জোহরের ২৫ বছর পূর্তির সাক্ষী হতে চলেছে।তাঁর ছবির একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্ন আছে৷ এই ছবির টিজার দেখে স্বাভাবিক কারণেই অনুরাগীরা কভি খুশি কভি গম-এর নস্টালজিক ফ্লেভার পাচ্ছেন৷

এদিকে  ছবির টিজার পোস্ট করে ক্যাপশনে কর্ণ জোহর লিখেছেন, ‘আপনাদের সামনে হাজির করছি আমার হৃদয়ের এক টুকরোর প্রথম ঝলক… ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’। অবশেষে আপনাদের সামনে এই টিজার নিয়ে আসতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত ও উত্তেজিত… দেখুন… এবং ভালবাসা দিন!’

ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে আগামী ২৮ জুলাই, ২০২৩। Ranveer Singh ও Alia Bhatt অভিনীত এই ছবির টিজারেই পরিষ্কার দুই তারকার প্রেমকাহিনির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে এক বড়োসড়ো ক্যানভাস৷ সঙ্গে অবশ্যই থাকবে পারিবারিক নাটক, ভুল বোঝাবুঝি আরও অনেক কিছু। ঝাঁ চকচকে বিশালাকার সেট, রঙিন পোশাক, বরফের কোলে নাচ গান হাসি কান্না সব মিলিয়ে জমজমাট এই ছবির টিজার মনে করাবে চেনা ঢঙে তৈরি কর্ণ জোহরের পারম্পরিক ছবির কথাই। তবে আলিয়া ও রণবীরের পর্দায় রসায়ন সকলেরই খুব পছন্দের।

এই মুহূর্তে করণের রকি অউর রানি কি প্রেম কাহিনিই সব আলোচনার কেন্দ্রে। পরিচালক থেকে প্রযোজক, স্টার কাস্ট সবেতেই রয়েছে স্পেশাল চমক। টিজারে রণবীর-আলিয়ার অন স্ক্রিন কেমস্ট্রির রসায়নের কয়েক ঝলক মন কেড়ে নিয়েছে দর্শকের।

প্রসঙ্গত, নয়ের দশকে করণ জোহরের হাত ধরে বড়ো পর্দায় ভালোবাসার রঙিন মুহূর্তগুলো প্রায় ম্যাজিকাল হয়ে উঠেছিল। শাহরুখ-কাজলের রোম্যান্স থেকে রানি-শাহরুখ, রণবীর-ঐশ্বর্যের রোমান্টিক প্রেমের কাহিনিতে করণের মুনশিয়ানা ছিল প্রশ্নাতীত। নয়ের দশক পেরিয়ে এবার নতুন আঙ্গিকে সম্পূর্ণ নতুন ছন্দে প্রেমের নয়া জোয়ার আনতে চেষ্টা করেছেন পরিচালক করণ জোহর। নতুন প্রেম কাহিনির হাত ধরেই তাই তাঁর ইন্ডাস্ট্রিতে ২৫ বছর পূর্তি উদযাপনের সিদ্ধান্ত৷

করণের এই নতুন কাহানিতে রানধাওয়াস আর চট্টোপাধ্যায় দুই পরিবারের একটা গল্প রয়েছে।করণের শেয়ার করা পোস্টারে রানধাওয়াস ফ্যামিলির সদস্য তালিকায় রয়েছেন, রণবীর সিং, জয়া বচ্চন, রণিত রায়, ধর্মেন্দ্র সহ আরও দু-একজন স্টার। অন্যদিকে বাঙালি পরিবারে রয়েছেন আলিয়া ভট্ট, শাবানা আজমি এবং বাংলার দুই ফেমাস স্টার টোটা রায় চৌধুরী ও চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়। সিনেমার পোস্টারে এটুকু স্পষ্ট চট্টোপাধ্যায় পরিবার ভার্সেস রানধাওয়াস পরিবারের জমাটি গল্প নিয়েই রোমান্টিক সুরে বাঁধা হয়েছে করণের রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানির বনেদ।

Rocky aur Rani ki prem kahani-তে টোটা আর চূর্ণীকে বড়ো পর্দায় দেখার জন্য কিন্তু, আলাদা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বাঙালি দর্শকের মধ্যে। সিনেমার পোস্টারে ‘রকি’ অবতারে রণবীর ‘ ডেমন সুপারকুল। তেমনি ট্র্যাডিশনাল লুকে আলিয়ার দিক থেকে চোখ ফেরানো দায়। কোথাও শাড়ি লুকে তো কোথাও আবার ওয়েস্টার্ন ড্রেসে তাক লাগিয়েছেন রণবীর ঘরণী।সব মিলিয়ে এক প্রেমের জোয়ারে গা ভাসাতে চলেছেন দর্শক, এ কথা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়৷

ন্যায়বিচার, লিঙ্গ অনুযায়ী করা বাঞ্ছনীয় নয় (শেষ পর্ব)

মধ্যপ্রদেশে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা দায়ের

মধ্যপ্রদেশে সরকারি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে, বেশিরভাগ মামলাই মিথ্যা এবং সরকারি ক্ষতিপূরণের জন্য ছিল। প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রদেশে এসসিএসটি নৃশংসতা আইনের আওতায় ভুক্তভোগী মহিলাকে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয় রাজ্য সরকার। মামলায় এফআইআর দায়ের করার সময় ১ লক্ষ টাকা এবং আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়ার সময় ২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়, অর্থাৎ সাজা হওয়ার আগে ৩ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। অভিযুক্তের শাস্তি হলে আরও ১ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। শাস্তি না পেলেও আগে দেওয়া ক্ষতিপূরণ ফেরত চাওয়া হয় না। এই বিধানটি শুধুমাত্র এসসি/এসটি বিভাগের জন্য, অন্যদের জন্য নয়।

কেন মিথ্যা ধর্ষণ মামলার গুজব ছড়ানো হয়েছিল?

সাগরের এক মহিলা তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হলে এবং আদালতে মামলার বিচার শুরু হলে দলিত মহিলা ট্রায়াল কোর্টে স্বীকার করে যে, সে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তার নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিল। এখানে ক্ষতিপূরণের লোভ এতটাই বেড়ে গেছে যে মিথ্যা অভিযোগ করে সরকারি ক্ষতিপূরণ আদায় করা হচ্ছে।

উত্তরপ্রদেশের বেরেলি শহরের নেহা গুপ্তা এবং সাফিয়া নামের দুজন মেয়ে টাকার জন্য পুরুষদের ফাঁদে ফেলার চক্র চালাচ্ছিল। অনেক ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে টাকা আদায় করে তারা ধরা পড়ে।

আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞা হল যখন কোনও মহিলার সাথে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার সম্মতি ছাড়াই, জোরজবরদস্তি করা, ভুল উপস্থাপনা বা জালিয়াতির মাধ্যমে বা এমন সময়ে এই ধরনের আচরণ(জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন) করা হয় যখন মেয়েটি মদ্যপ অবস্থায় বা বেহুঁশ অবস্থায় থাকে অথবা মেয়েটি অস্বাস্থ্যকর মানসিক স্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে থাকে। এছাড়াও যদি তার বয়স ১৮ বছরের কম হয়, তাহলে পুরো ব্যাপারটা ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে। কিন্তু কিছু নারী পুরুষদের বদনাম করার জন্য, তাদের জন্য প্রণীত আইনের সুযোগ নিয়ে থাকে।

ক্ষতিগ্রস্থদের উপর খারাপ প্রভাব

উত্তর ইংল্যান্ডের গবেষক এলিজাবেথ বেটস-এর মতামত অনুযায়ী, সমাজ পুরুষদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করতে বেশি সময় নেয় না, কিন্তু পুরুষরাও যে শিকার হতে পারে সেটা ভেবে নিতে তাদের সমস্যা রয়েছে। তিনি বলেন, টিভি-তে কমেডি শো-তে অনেক সময় মানুষকে হাসানোর জন্য পুরুষদের নির্যাতন করা দেখানো হয়। অতএব, আমাদের সমাজের কাছে এটাই হাস্যকর, যখন কোনও পুরুষকে কোনও মহিলা মারধর করে। এই ধরনের ঘটনা প্রায়শই ভুক্তভোগীদের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে।

অনেক সময়, পুরুষরা লজ্জা এবং উপহাসের ভয়ে এগিয়ে আসে না, মেয়েদের হাতে অত্যাচার সহ্য করে নেয় এবং সাহায্য চাইতে দ্বিধা বোধ করে। বেটস-এর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সমাজে এই ধরনের ব্যবহারকে যেভাবে দেখা হয় সেটা পারিবারিক হিংসার শিকার পুরুষদের উপর প্রচণ্ড প্রভাব ফেলে। এই ধরনের ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেক সময় পারিবারিক বিদ্বেষ দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ও শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে।

আমাদের দেশে প্রতি ১৫ মিনিটে একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, প্রতি ৫ মিনিটে একটি গার্হস্থ্য হিংসার ঘটনা ঘটে, প্রতি ৬০ মিনিটে বিয়ের যৌতুক বা পণের জন্য একজন নববধূকে হত্যা করা হয় এবং প্রতি বছর হাজার হাজার মেয়ের ভ্রূণ জন্মের আগেই মায়ের গর্ভে মেরে ফেলা হয়। এরকম সামাজিক পরিবেশেই দীপিকা নারায়ণ ভরদ্বাজ, যিনি একসময় ইনফোসিসে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন এবং পরে চাকরি ছেড়ে সাংবাদিকতায় যোগ দিয়েছিলেন, ডকুমেন্টারি ফিলমও তৈরি করেন। দীপিকার প্রশ্ন শুধু কি নারীরাই, পুরুষরাও কি বৈষম্যের শিকার হয় না? তারা কি গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হতে পারে না?

দীপিকা ২০১২ সালে এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং দেখতে পান যে বেশিরভাগ যৌতুক নিয়ে হয়রানির ঘটনা মিথ্যা। মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে পড়ার কারণে মানহানির ভয়ে অনেক ছেলের বাবা-মা আত্মহত্যা করেছেন। দীপিকাই প্রথম মহিলা যিনি দাবি করেছেন যে ভারতে পুরুষরাই প্রকৃত হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন। কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক এমন নয়। নারীরাও গার্হস্থ্য হিংসার কারণে যথেষ্ট হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

দীপিকা নারায়ণের মতে, সমাজে পরিবর্তন আনতে হলে পুরুষের দুর্ব্যবহারের উদাহরণ দিয়ে পুরো পুরুষজাতিকে অপরাধমূলক মানসিকতার অধিকারী দেখিয়ে দোষারোপ না করে, পুরুষদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, যেসব নারী এ ধরনের বেশিরভাগ সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা নিজেদেরকে মহান আখ্যায়িত করে, অন্যের কাজে অবাধে কৃতিত্ব অর্জন করছেন, আইন, সংবিধান ও সরকারকে নিজেদের সুবিধায় কাজে লাগিয়ে মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছেন, যাতে নিজেরা কষ্ট না করেই বিনামূল্যে পেটের জোগান ও প্রশংসা পেতে থাকেন।   তাদের জেদের কারণে বহু সংসার বরবাদ হয়ে যাচ্ছে।

পুরুষরা শোষক নয়

এটা সত্যি যে বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যা আজও প্রতিটি স্তরে সংগ্রাম করে যাচ্ছে এবং পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নিজেদের প্রাপ্য স্থান পাচ্ছে না। কিন্তু এটাও সমান সত্য যে, সমতার এই সংগ্রামের মাঝে এমন একটি স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে যেখানে পুরুষকে সর্বদা শোষক(Gender Discrimination) এবং নারীদের শোষিত হিসাবে দেখানো হচ্ছে। কিন্তু সত্য হল, ঈর্ষা, বিদ্বেষ, ঘৃণা, ভালোবাসার মতো মানুষের আবেগ যদি নারী-পুরুষের মধ্যে সমানভাবে প্রসারিত হয়, তাহলে শুধু পুরুষরাই কীভাবে শোষক হতে পারে?

এটা বললেও ভুল হবে না যে, আমাদের বিচার ব্যবস্থা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে মানুষের কষ্টকে উপেক্ষা করে। গার্হস্থ্য হিংসা, পনপ্রথা, যৌন হয়রানির ক্ষেত্রে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, নারীদের সুরক্ষা এবং তাদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন দেওয়ার জন্য। লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠার জন্যও এগুলো প্রয়োজন। কিন্তু যখন একজনের প্রতি ন্যায়বিচার করা হবে এবং অন্যের প্রতি অবিচার করা হবে, তখন সমাজ নিজেই ভেঙে পড়বে।

কিছু মহিলা তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই আইনগুলি ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। ২০০৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট এটিকে আইনি সন্ত্রাসবাদ বলে অভিহিত করেছিল, যখন আইন কমিশন তার ১৫৪ তম রিপোর্টে স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছিল যে, আইপিসির ৪৯৮-এর ধারার অপব্যবহার করা হচ্ছে।

স্পেশাল টেস্টি বিরিয়ানি

বৈচিত্র্যের দেশ ভারতবর্ষ। বস্ত্র এবং বাসস্থানের মতো স্থানভেদে খাদ্যেও বৈচিত্র্য নজর কাড়ে। আর তাই লখনউ বিরিয়ানি কিংবা হায়দরাবাদি বিরিয়ানির স্বাদের সঙ্গে কলকাতার বিরিয়ানির স্বাদের পার্থক্য অনেক। কলকাতার বিরিয়ানিতে প্রচুর পরিমাণে মশলা ব্যবহার করার সত্ত্বেও, মশলাদার (স্পাইসি) নয়। তাই স্বাদে-গন্ধে কলকাতার বিরিয়ানি অনন্য এবং যত দিন যাচ্ছে, কলকাতার বিরিয়ানির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বিরিয়ানির রেস্তোরাঁর সংখ্যাও যেমন বাড়ছে, ঠিক তেমনই আনুষ্ঠানিক ভাবে বিরিয়ানি তৈরির প্রতিযোগিতাও বাড়ছে। এই যেমন এলটি ফুডস লিমিটেড তার ফ্ল্যাগশিপ ব্র্যান্ড ‘দাওয়াত’-এর ব্যানারে কলকাতায় বিরিয়ানি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-এর আয়োজন করে মন জয় করে নিল সবার।

প্রতিযোগিতার লক্ষ্য ছিল, পেশাদার শেফদের ব্যতিক্রমী দক্ষতা এবং সৃজনশীলতা উদযাপন করা।

‘দাওয়াত বিরিয়ানি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ’-এর মাধ্যমে পরিবেশিত হল সুস্বাদু বিরিয়ানি। কলকাতার ৬জন বিখ্যাত পেশাদার শেফ লাইভ বিরিয়ানি তৈরিতে অংশ নেন। এদের মধ্যে ছিলেন শেফ সরফরাজ হোসেন , শেফ আহমেদ, শেফ শরাফত আলী , শেফ মোহাম্মদ আল কামার , শেফ রাজকুমার এবং শেফ অশোক বিশ্বাস। আর এই প্রতিযোগিতায় ট্রফি, শংসাপত্র, বিরিয়ানি চ্যাম্পিয়নের শেফ কোট এবং ৫১,০০০ টাকার নগদ পুরস্কার জিতে নেন শেফ সরফরাজ হোসেন। সুগন্ধি বাসমতি চালের একটি নিখুঁত মিশ্রণের সঙ্গে সুগন্ধি মশলা দিয়ে পেশাদার শেফরা নিপুণভাবে তৈরি করেন স্পেশাল বিরিয়ানি। এবার আপনি বাড়িতেও যাতে স্পেশাল টেস্টি বিরিয়ানি বানাতে পারেন, তারজন্য দেওয়া হল সঠিক উপাদান এবং রন্ধন-প্রণালী।

উপাদান:

১ কেজি মাটন অথবা চিকেন (প্রত্যেকটি ১০০ গ্রামের বড়ো টুকরো), ৫টি আস্ত আলু (চন্দ্রমুখি) , ৫০০ গ্রাম বাসমতি চাল (সিদ্ধ না করা), ‍১৫০ গ্রাম পেঁয়াজ (টুকরো করা), ১৫০ সাদা তেল  বিরিয়ানির মশলার জন্য১.২৫ গ্রাম সবুজ এলাচ, ০.৭৫ গ্রাম বড়ো এলাচ, ১.৫ গ্রাম লবঙ্গ, ০.৫ গ্রাম দারুচিনি, ১.২ গ্রাম জায়ফল, ২ গ্রাম শাহী জিরা, ২ গ্রাম কাবাব চিনি, ১ গ্রাম মৌরি , ৩ গ্রাম সাদা মরিচ , ১.২৫ গ্রাম কালো মরিচ  মাটন কিংবা চিকেন মেরিনেট করার জন্য১০০ গ্রাম দই, ১০ গ্রাম আদা, ১০ গ্রাম রসুন, ২০ গ্রাম বিরিস্তা, ৮ গ্রাম বিরিয়ানি মশলা, কেওড়ার জল ৫ গ্রাম, হাফ চা চামচ লাল লঙ্কা গুঁড়ো, ২০ গ্রাম লবণ, আধা চা চামচ কাঁচালঙ্কা, ১৫০ মিলিলিটার জল চালের জন্য‍১.২৫ গ্রাম সবুজ এলাচ, ১.৫ গ্রাম বড়ো এলাচ, ৭ গ্রাম লবঙ্গ, ১ গ্রাম দারুচিনি, ৭ গ্রাম মৌরি , ৩ গ্রাম তেজপাতা, পরিমাণ মতো জল, পরিমাণ মতো লবণ

অন্যান্য উপকরণ ‍৬ থেকে ১০ টি তেজপাতা , ৪০ গ্রাম আলুবোখরা , ১ চা চামচ গোলাপের পাপড়ি , ১৫ গ্রাম বিরিস্তা, ৫ গ্রাম বিরিয়ানি মশলা, ৫০ গ্রাম গ্রেটেড খোয়া খির, ২০০ গ্রাম ইয়াখনি, ১ চিমটি জাফরান (দুধে ভেজা), ১ চিমটি হলুদ , ১৮০ গ্রাম দুধ, কেওড়ার জল ৫ মিলিলিটার, ৫ গ্রাম গোলাপ জল, ৩০ গ্রাম ঘি, ২০ গ্রাম মাখন

পদ্ধতি

প্রথম ধাপঃ আলুর (প্রতিটি টুকরো প্রায় ৮০ গ্রাম হওয়া উচিত)খোসা ছাড়িয়ে তাতে হলুদ দিন। একটি প্যানে সাদা তেল দিয়ে গরম করুন। আলু ভাজুন যতক্ষণ না সব দিকে হালকা রঙ হয় (প্রায় ৪ মিনিট)।এগুলিকে তেল থেকে ছেঁকে আলাদা করে রাখুন।

দ্বিতীয় ধাপ–ওই একই  তেলে, কাটা পেঁয়াজ ভেজে নিন।

তৃতীয় ধাপ—বিরিয়ানি মশলা তৈরি করামাঝারি আঁচে একটি প্যানে বিরিয়ানি মশলা-র জন্য প্রদত্ত অনুপাতে সমস্ত মশলা যোগ করুন। আলতো করে এগুলি টোস্ট করুন, ক্রমাগত নাড়ুন।টোস্ট করা মশলাগুলিকে একটি মশলা গ্রাইন্ডারে স্থানান্তর করুন এবং ব্লিট করুন।

চতুর্থ ধাপ—মাটন অথবা চিকেন মেরিনেট করাআদা এবং রসুনের খোসা ছাড়িয়ে নিন, মোটামুটি করে কেটে নিন এবং একটি সূক্ষ্ম পেস্ট করে নিন।একটি বড়ো মিক্সিং বাটি বা প্রেসার কুকারে, দই, আদা এবং রসুনের পেস্ট,কেওড়ার জল, বিরিয়ানি মশলা, লাল মরিচের গুঁড়ো, লবণ এবং মরিচ একসঙ্গে মেশান, ম্যারিনেট মাটন কিংবা চিকেন-এর সঙ্গে।  মাংসের টুকরোগুলি যোগ করুন এবং ম্যারিনেডের সঙ্গে ভালো ভাবে প্রলেপ দিন।ঢেকে ১ ঘণ্টা রেখে দিন।

পঞ্চম ধাপ —চাল ধুয়ে ৩০ মিনিট জলে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর জল ঝরিয়ে নিন এবং চাল ছেঁকে নিন।

ষষ্ঠ ধাপ— মাংস মেরিনেট করার ১ ঘন্টা পরে, এটি একটি প্রেসার কুকারে দিন। প্রেসার কুকারের নীচে ভাজা আলু রাখুন, তারপরে উপরে মাংস রাখুন।১৫০ মিলিলিটার জল যোগ করুন এবং ৩০ মিনিটের জন্য মাঝারি আঁচে রান্না করুন। প্রেসার কুকারের ঢাকনা খোলার আগে আরও ১৫ মিনিটের জন্য বাষ্পটিকে স্বাভাবিকভাবে ছেড়ে দিতে দিন।আলু এবং মাংসের টুকরোগুলো বের করে আলাদা করে রাখুন।

সপ্তম ধাপ— উপরের ‘ভাত’ বিভাগে উল্লিখিত মশলাগুলি প্রদত্ত অনুপাতে একটি ছোটো চৌকো চিজক্লথের উপর রাখুন। একটি ব্যাগ গঠন করার জন্য একটি সুতলির টুকরোর সঙ্গে তাদের বেঁধে একটি বড়ো পাত্রে ৩ লিটার জল নিন। এতে ৩০ গ্রাম লবণ যোগ করুন।জলে মশলা যোগ করুন।

অষ্টমধাপ—তেজপাতা, রান্না করা চিকেন কিংবা মাটনের টুকরো, রান্না করা আলু, আলুবোখরা, ভাজা পেঁয়াজ, গোলাপের পাপড়ি (যদি ব্যবহার করা হয়), বিরিয়ানি মশলা, গ্রেট করা খোয়া খির, ২০ মিলিলিটার উষ্ণ দুধে জাফরান এবং হলুদ রঙ মিশিয়ে নিন। ১৮০ মিলিলিটার উষ্ণ দুধে গোলাপ জল, কেওড়া জল মিশিয়ে নিন। ঘি এবং মাখন যোগ করুন।

নবম ধাপ— আপনি যে বিরিয়ানির প্যান ব্যবহার করছেন, তা কম আঁচে ডামের জন্য সেট করুন। ঘি দিয়ে মাখিয়ে নিন। প্যানের নীচের অংশ গরম রাখতে তেজপাতা দিন। এটি সুবাসও দেবে। চিকেন কিংবা মাটনের টুকরোগুলিকে মিশিয়ে দিন এবং আলুগুলি মাটনের উপরে রাখুন। আলুবোখরা, ভাজা পেঁয়াজ এবং গোলাপের পাপড়ি সমানভাবে মেশান। অর্ধেক পরিমাণ বিরিয়ানি মশলা এবং খোয়া খীর নিন এবং সমানভাবে ছড়িয়ে দিন। পরবর্তী স্তরে অবশিষ্ট অর্ধেক ব্যবহার করতে হবে।

ভাইজাগের ডাকে

বিশাখাপত্তনম আমাদের স্বাগত জানাল। পূর্বঘাট পর্বতমালার হিমেল হাওয়া আর বঙ্গোপসাগরের লবণাক্ত গন্ধ মিলেমিশে একাকার।

এপিটিডিসির হরিথা পান্থশালার জানালার পর্দা সরাতেই উন্মুক্ত হল ঋষিকোন্ডা বিচ। ভারতের পরিচ্ছন্নতম বিচে, সবসময়েই পর্যটকদের আনাগোনা। কেউ সমুদ্রস্নানে, কেউ ঝিনুক কুড়োতে ব্যস্ত। সোনালি বালুতটে বসেই কাটিয়ে দেওয়া যায় দিনের অনেকটা সময়। ঋষিকোন্ডায় দেশি-বিদেশি পর্যটকের মেলা। এখানে সাঁতার, ডাইভিং, উইন্ড সার্ফিং-সহ বিভিন্ন জলক্রিড়ায় মেতে থাকেন পর্যটকরা।

বিকেলের দিকে গিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ পর্যটনের অফিস থেকে আরাকু উপত্যকার টিকিট বুকিং করতে গেলাম। সরকারি টুর প্যাকেজ বুক করে আরাকু ঘুরে আসাটাই সুবিবেচনার কাজ। তবে আরাকু পাড়ি দেওয়ার আগে ভাইজাগ ঘুরে নেওয়ার প্ল্যান আমাদের। সেইমতো পরদিন আমরা দেখে নিলাম সাবমেরিন মিউজিয়াম ও আরকে বিচ। ‘গাজী’ নামের একটি পাকিস্তানি সাবমেরিন, যেটিকে ভারতীয় নৌসেনা, ৭১ সালের যুদ্ধে ঘায়েল করেছিল, সেটিই এখন মিউজিয়ামের রূপ পেয়েছে। অনেকেই দেখলাম এই আরকে বিচে অর্থাৎ রামকৃষ্ণ বিচে নৌকা করে সমুদ্র ভ্রমণ করেন। আমরা অবশ্য তা না করে ভাইজাগ থেকে ৩০ কিমি দূরে ভিমানিপত্তনম সমুদ্র সৈকত বেড়িয়ে নিলাম। এখানে সপ্তদশ শতকের প্রাচীন ওলন্দাজ কলোনির ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাওয়া যায়।

ভাইজাগ এসে সিমাচলম মন্দির না দেখে ফেরার কোনও মানেই হয় না। সিমহা মানে সিংহ আর আচলম মানে পাহাড়। পাহাড়ের উপরে নরসিংহ অবতার ও বিষ্ণুর মন্দির। এই পাহাড়টিকে স্থানীয়রা নরসিমাচলম নামে ডাকে। এই মন্দির, তিরুপতির পরে পৃথিবীর দ্বিতীয় ধনসম্পদশালী মন্দির হিসাবে খ্যাত।

মন্দির চত্বরে পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে। নরসিংহের মূর্তিটি প্রায় সারা বছর চন্দনের প্রলেপে ঢাকা থাকে। কেবল বৈশাখ মাসে দেবতার আসল রূপের দর্শন মেলে। এই দর্শনকে বলা হয় চন্দনযাত্রা। অক্ষয় তৃতীয়ার দিন, কেবল ঘন্টাখানেকের জন্য মূর্তিটির এই বিরলরূপ ভক্তরা চাক্ষুস করেন।

বিকেলের মুখে পৌঁছোলাম ইয়ারাডা বিচে। এটি অবশ্য একটি বেসরকারি সংস্থার তত্ত্বাবধানে থাকা এক সমুদ্রসৈকত। এর অদূরেই এক অসাধারণ ভিউ পয়েন্ট ‘ডলফিন নোজ’। ডলফিন হিলের শীর্ষে এই ভিউপয়েন্ট থেকে সোনালি বালিয়াড়ি আর নীল জলরাশির নিসর্গ অপূর্ব লাগে। নিরাপত্তার কারণেই ইয়ারাডা বিচে সাঁতার কাটা বা অন্যান্য জলক্রিড়ার নিষেধাজ্ঞা জারি করা আছে।

আমাদের পরের দিনের গন্তব্য ছিল কৈলাসগিরি পার্ক। পাহাড়ের মাথায় অবস্থিত একটি পার্ক যেখানে অপূর্ব সব গাছগাছালি আর নীচে তাকালেই বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি। পার্কে পৌঁছোনোর জন্য রোপওয়ে ব্যবস্থা। অত্যন্ত থ্রিলিং এই সফর।

পরদিন আমাদের আরাকু ভ্রমণের প্ল্যান। সকাল সকাল ব্রেকফাস্ট সেরে সোজা স্টেশনে। অপূর্ব এক রেলপথে ৫৮ টা টানেল ও ৮৪ টা ব্রিজ পেরিয়ে, পাহাড় ও ঝরনার শোভা দেখতে দেখতে এক স্বপ্নের সফর শেষে পৌঁছোলাম আরাকু। টুরিজম-এর রিসর্টে ফ্রেশ হয়ে আরাকু স্পেশাল ব্যাম্বু চিকেনের আস্বাদে মন ভরে গেল। আরাকুর সৌন্দর্য শুধু এর সবুজ পাহাড়ের জন্যই নয়, কফির বাগানের জন্যও এটি সমাদৃত। অর্গ্যানিক কফি খেয়ে, কিছু চকোলেট কিনে রওনা হলাম বোরা কেভস দেখতে।

অনন্তগিরি পর্বতের কোলে স্ট্যালাকটাইট-স্ট্যালাগমাইট পাথরের এই গুহা যেন এক রহস্যময়তার ছোঁয়া দেয়। বিকেলের মুখে হঠাৎই বৃষ্টি নামল ঝমঝমিয়ে। উপত্যকাকে আরও সজীব সবুজ করে, আমাদের ফেরার পথকে আরও মোহময়ী করে তুলল এই বৃষ্টি। মেঘের আনাগোনা আর বৃষ্টির সিম্ফনিতে এক স্বর্গীয় সফরের শরিক হলাম আমরা।

কিচেনে কোফতার মজা

সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দু’দিন বহু বাড়িতেই নিরামিষ রান্নার চল রয়েছে।কিন্তু  নিরামিষের দিনেই হাত পড়ে  মাথায়। কী রান্না করলে মুখে রুচবে পরিবারেরর তা ভাবতে বসেন গৃহিণীরা। রকমারি ডালনা , কারি রেঁধেও মন জয় করা যায় বটে। কিন্তু কোফতার কোনও জবাব নেই! একবার রেঁধে দেখুন এই দুই রকমের কোফতা কারি। আঙুল চেটে খাবে সক্কলে।

গাজরমালাই কোফতা

উপকরণ: ২৫০ গ্রাম গাজর, ৫০ গ্রাম পনির, ১ বড়ো চামচ কর্নফ্লাওয়ার, ১/৪ কাপ নারকেলকোরা, ১ বড়ো চামচ আলুকুচি, ১৫-২০টা কিশমিশ, ১/২ ছোটো চামচ গোলমরিচ, ১ টা কাঁচালংকা মিহি করে কাটা, ১/২ ছোটো চামচ জিরেগুঁড়ো, ১টা কাঁচালংকা গোটা, ভাজার জন্য তেল, নুন স্বাদমতো।

গ্রেভির জন্য: ২-৩টি টম্যাটো, ১ ছোটো টুকরো আদা, ১টা কাঁচালংকা, ১/২ কাপ দই, ১ বড়ো চামচ ক্রিম, ১ ছোটো চামচ জিরে, ১ ছোটো চামচ কসৌরি মেথি, ১/৪ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ ধনেগুঁড়ো, ১/৪ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ গরমমশলা, অল্প ধনেপাতাকুচি, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: গাজরের খোসা ছাড়িয়ে গ্রেট করে নিন। পনিরও গ্রেট করে নিন এবং চটকে নিন। কর্নফ্লাওয়ারে জল মিশিয়ে একটা লেই তৈরি করুন। গাজর, পনির, গোলমরিচ, নুন, কাঁচালংকা একসঙ্গে চটকে মেখে কোফতা গড়ে নিন। কোফতা গড়ার সময় ভেতরে নারকেলকোরা আর কিশমিশের পুর ভরে দিন। এই কোফতা কর্নফ্লাওয়ারে চুবিয়ে গরম তেলে ভেজে নিন। হালকা বাদামি রং ধরলে নামিয়ে রাখুন।

এবার গ্রেভির জন্য কড়ায় তেল দিন। টম্যাটো, আদা, কাঁচালংকা মিক্সিতে পেস্ট করে নিন। তেলে জিরে ফোড়ন দিয়ে এই মিশ্রণ ঢেলে দিন। নুন, কসৌরি মেথি ও অন্যান্য মশলা দিয়ে কষতে থাকুন। অল্প জল দিন। গ্রেভি ঘন হলে ক্রিম ঢেলে দিন ও দই ফেটিয়ে দিন। লাগাতার নাড়ুন। রান্না হলে এতে কোফতা দিয়ে দিন। ২-৩ মিনিট রান্না করে ধনেপাতা ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।

আলুর কোফতা

 Aloo kofta recipe

উপকরণ: ৪ বড়ো চামচ ছানা, ২ টো আলু খোসা ছাড়ানো, ১ ছোটো চামচ ধনেপাতাকুচি, ১ ছোটো চামচ লংকাকুচি, অল্প কিশমিশ, ১ ছোটো চামচ ধনেবাটা, ১/৪ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ মৌরিবাটা, ১ ছোটো চামচ গোটা জিরে, ১ চিমটে হিং, ১/২ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ গরমমশলা, ১/৪ কাপ দই, ২ বড়ো চামচ, রিফাইন্ড তেল, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: আলু সেদ্ধ করে নিন। ছানা, আলু অল্প নুন দিয়ে চটকে নিন। কিশমিশ ভরে কোফতা গড়ে নিন। এবার কড়ায় তেল গরম করে আলুর কোফতা ভেজে নিন।

গ্রেভির জন্য প্যানে তেল গরম করুন। জিরে-হিং ফোড়ন দিন। আদা, কাঁচালংকা দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। নুন, ধনেবাটা, মৌরিবাটা, হলুদগুঁড়ো, লংকাগুঁড়ো দিয়ে রান্না করুন। প্রয়োজনমতো জল দিন। এবার গ্রেভি ফুটতে দিন। ৫ মিনিট পর এতে কোফতা ঢেলে দিন। ঢিমে আঁচে ২ মিনিট রান্না করুন। গরমমশলা ও দই ফেটিয়ে মিশিয়ে দিন। ধনেপাতা ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।

মণিদা আমি এলাম (শেষ পর্ব)

শেষ পর্ব

অমরেশ অবশ্য থাকে সব সময়ই ওর হাতের নাগালে। ওকে কাল থেকেই কাজে শামিল করে নিতে হবে। এমনিতেই অমরেশ তিওয়ারি পত্রিকার কার্যনির্বাহী সহ-সম্পাদক৷ কাজেই কোনও সমস্যা নেই। কালই স্ক্রিপ্টগুলো ডিটিপি-র জন্য অমরেশকে দিয়ে বাবুলের কাছে পাঠিয়ে দেবে। বাবুল-ই ওদের সমস্ত ডিটিপি করে থাকে। ও জানে কীভাবে কী করতে হয় এবং মোটামুটি ঠিকঠাকই করে। এখন দেখা যাক সকালে অমরেশ কখন হাজির হয়।

বেলা দশটা নাগাদ অমরেশ এল। করিতকর্মা ছেলে। ব্যাটার খরচের হাতটা একটু বেশি, তবে নিজের পকেট বাদ দিয়ে। মণি ওটা দেখেও দেখে না। কারণ জানে কিছু কিছু জিনিস মেনে নিতে হয়। কাল ও বাবুলকে ভালো করে বুঝিয়ে দেবে। বাবুলকে কাজে লাগিয়ে তবেই ফিরবে। প্রায় সারাদিন ওখানেই কাটাবে। চা টিফিন দুপুরের খাবার সব মণির পকেট থেকে যাবে। কিন্তু কাজ দিয়ে নিশ্চিন্ত। ফেরার সময় কাজের কতটা কী হল জানিয়ে যাবে। সারাদিনের রাহা ও খাই খরচটুকুও চেয়ে নেবে। ভালো ছেলে। কথা শোনে। মোটামুটি মাসখানেক লাগবে বলেছে ডিটিপি হাতে পেতে। অবশ্য যেমন যেমন শেষ হবে এক এক করে কবি লেখকদের কাছে পৌঁছে যাবে প্রুফ দেখার জন্য। ফাইনাল হলে প্রেসে যাবে।

বাঁকুড়া আর সিউড়ির দু’টো প্রুফ ক্যুরিয়ারে পাঠাবে, ওরাও আবার প্রুফ দেখে রিটার্ন ক্যুরিয়ারে মণির কাছে পাঠিয়ে দেবে। কাছেপিঠের পাঁচজনের কাছে তো মণি নিজেই যাবে আবার নিয়েও আসবে, বলাই বাহুল্য। মানে দশদিনের জন্য চা টিফিন দুপুরের খাওয়া দাওয়া ফ্রি — ভাবা যায়! মণির মনে এখন যেন কোটি টাকার লটারি পাওয়ার আনন্দ, ডগমগ করে ফুটছে। এবার তো পোয়াবারো কারণ সাত সাতখানা বইয়ের প্রত্যেক কবি লেখকরা তাদের মণিদাকেই উৎসর্গ করছে। মণির আলতো অনিচ্ছা — এই এটা আবার আমাকে কেন আমাকে কেন…! ধোপে টেকেনি। কিন্তু মনে মনে ভীষণ খুশি।

সময় তো নয় যেন ভরা বর্ষার জলস্রোতের দামোদর। হু হু করে বয়ে যাচ্ছে। দেখতে দেখতে অমরেশ তিওয়ারির তাগাদার পাল্লায় পড়ে পঁচিশে বৈশাখের দিন পনেরো আগেই সব বই এখন মণির জিম্মায়। মণি দেখে নিয়েছে প্রোডাকশন লা জবাব! প্রত্যেক লেখক কবিকে একটা করে কপি পাঠিয়ে দিয়েছে। মলাট উন্মোচনের পর বাকি কপিগুলো হ্যান্ডওভার করবে। কিন্তু মণির কড়া শর্ত অন্তত ওই সাতজন কবি লেখকদের প্রত্যেককেই যুগলে উপস্থিত থাকতে হবে। কেউ না করেনি, সবাই সম্মতি জানিয়েছে একবাক্যে। মণির উত্তেজনা প্রত্যেক দিন একটু একটু তুঙ্গে উঠছে পঁচিশে বৈশাখ যত এগিয়ে আসছে। অবশ্য অমরেশ সব সময়ই আছে ওর ছায়াসঙ্গী হয়ে। এটাই যা রক্ষে। পেমেন্ট থেকে টাকা পয়সার হিসাব রাখা ব্যস্থাপনার সিংহভাগ অমরেশের নিয়ন্ত্রণে। যদিও মণির ডেরা থেকেই ঘটছে সবটাই এবং অবশ্যই তার সম্মতিক্রমে।

পঁচিশে বৈখাশ মঞ্চের উপরে সাজানো চেয়ার টেবিল। রবি ঠাকুরের একটা বড়ো বাঁধানো ছবি। ফুলমালা ধূপধুনো প্রদীপের সমারোহে। রবীন্দ্রগান দিয়েই সভার উদ্বোধন। তারপর রবীন্দ্র কবিতা আবৃত্তি ছোটো বড়ো সকলের জন্য। আজকের সভার প্রথম চমক ছিল মঞ্চের উপরে — যেখানে সব নতুন কবি লেখকরা সভা আলোকিত করলেন। না কোনও কেউকেটা নেই। মণি এখন তিতিবিরক্ত হয়ে গেছে কেউকেটাদেরকে সামাল দিতে দিতে। ব্যাটাদের হাজার বাহানা। তার ওপর পান থেকে চুন খসার যো নাই। এই মারে কি সেই মারে। বিরুদ্ধতায় নেমে পড়বে গালিগালাজ করতে করতে। পরিবর্তিত সময়ের প্রয়োজনে মণি এখন তাই নতুনদের উপরই ভরসা রাখছে। উপস্থিত সমবেতের অনেকেরই চোখে মুখে জিজ্ঞাসা উপচে পড়ছে — বইগুলোর মলাট উন্মোচন কারা করবেন? সে রকম কাউকেই তো চোখে পড়ছে না। মণি মুচকি হেসেছে। সময়ে জানতে পারবে। একটু সবুর করো না ভাই, আছো তো এখন! অত তাড়া কিসের?

এবার মলাট উন্মোচনের সময়। মণি মাইক হাতে একে একে মঞ্চে ডেকে নিলেন অজানা পাঁচজন পুরুষ ও দু’জন মহিলাকে৷ দর্শক তো অবাক। আরে এরা কারা? এদেরকে তো আগে কখনও কোনও সভায় দেখিনি, নাম শোনা তো দূরের কথা।

মণি আবেগপ্লুত গলায় বলতে শুরু করল— জানি আপনাদের এখন অনেক প্রশ্ন, মঞ্চে উপবিষ্ট এই সাতজন যারা আজ মলাট উন্মোচন করবেন। তবে শুনুন, এনারা সেই মানুষজন যাদের প্রতিদিনের যাপনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক একজন কবি লেখকের উত্থানকথা। এদের সক্রিয় ও হার্দিক সহযোগিতা ছাড়া উদীয়মান এই সাতজন কবি সাহিত্যিকের চর্চার খবর আমরা কোনওদিনই জানতে পারতাম না। আজকের এই মঞ্চ যে আলোকিত, এ তাদেরই অমূল্য অবদান ধন্য। আহা, হাততালির কলরবে ফাটাফাটি সভাগৃহ! উপচে ওঠা উচ্ছ্বাস সভাস্থলের বাইরেও মুখরিত।

মণি প্রথমেই তনুকে ডেকে নিল মঞ্চে। তারপর সদর্পে ঘোষণা করল বইটির মলাট উন্মোচনের জন্য উপস্থিত, মাননীয় অনুপম নাগরাজ মহাশয় যিনি কবির হাজব্যান্ড, সাহিত্যপ্রেমী এবং সরকারি সংস্থার একজন উচ্চপদস্থ সফল আধিকারিক। আবার হাততালির রোল উঠল। মোবাইল ক্যামেরা ঝলসে উঠল, ভিডিও হল। বাপরে বাপ! অনুপম মনে মনে ভাবল — কে জানে শালা, সে যে এত কিছু সে কি নিজেই জানত নাকি কোনওদিন। মণি ঘোষাল মালটা তো খতরনাক আছে!

যাইহোক, তারপর একই ভাবে একে একে বাকি ছ’খানা বইয়েরও মলাট উন্মোচন হয়ে গেল। অমরেশ মঞ্চে উঠে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সভা সমাপ্তির ঘোষণা এবং একটু চা পান করে যাবার আমন্ত্রণ রাখল সবার কাছে।

মণি বাড়ি ফিরে এসে— আহা, লাখ দুয়েক টাকার ওমটা একটু স্পর্শ করে নেবার জন্যে তালা খুলে, বাক্সের ভিতর একদম ফাঁকা দেখে মাথায় হাত দিয়ে মাটিতে বসে পড়ল ধপাস করে।

কিছুক্ষণ পর একটু ধাতস্থ হলে ফোন করে অমরেশকে এক্ষুনি একবার জলদি আসতে বলল। কেন জিজ্ঞেস করাতে বিরক্ত হয়ে বলেছে— আসতে বলছি আয় না, অত কেন কিসের? আর এলেই তো জানতে পারবি। যত্তসব…

কয়েক মিনিটের মধ্যে অমরেশ হাজির। মণির দুঃখের কথা শুনে অমরেশের আর বলা কিংবা করারই বা কী আছে! নিশ্চুপ কয়েকটা সেকেন্ড কাটিয়ে, পিঁপড়েতে খেয়েছে বলে স্বগতোক্তি করতেই মণি বলল, “তুই কি কিছু বললি?”

—না না, পিছন ফিরে চলে যেতে যেতে অমরেশ বলল, মণিদা আমি এলাম। ভালো থেকো।

 

 

ন্যায়বিচার, লিঙ্গ অনুযায়ী করা বাঞ্ছনীয় নয় (পর্ব ১)

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে এক ব্যক্তি বিয়ে করলেও স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বনিবনা হয়নি। এক বছরের মধ্যে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যে তাঁর মনে হয়, এই সম্পর্কের মধ্যে থাকলে তিনি মারা যাবেন। তাই তিনি তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং আদালতে গিয়ে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন।

এই ঘটনায় স্ত্রী ৪৯৮-এ ধারায় মামলা দায়ের করেন। স্বামীর জেল হয়। কিন্তু সত্যটা আসলে কী তা জানার চেষ্টা করেননি কেউ। মিথ্যা মামলা সাজানো হয় স্বামীর বিরুদ্ধে। কোনওভাবে মহিলার স্বামী আদালত থেকে জামিন পান, তখন তিনি নিজের মামলা নিজেই লড়তে সিদ্ধান্ত নেন। ফিজিওথেরাপিস্টের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরে, তিনি আইন অধ্যয়ন করেন যাতে তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন। তাঁর কঠোর পরিশ্রম ফল দেয় এবং তিনি বেকসুর খালাস পান। স্ত্রীর কাছ থেকেও ডিভোর্স পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্ত্রীর কাছ থেকে মুক্ত থাকার জন্য তাঁকে চড়া মূল্য চোকাতে হয়েছিল। সময় ও অর্থেরও অপচয় হয়।

ধৈর্যের বাঁধ যখন ভেঙে যায়

এরকম আরেকটি ঘটনায় বিবাহবিচ্ছেদের পরেও স্ত্রী তার স্বামীর পিছু ছাড়তে অস্বীকার করেন। তিনি তার স্বামীর অফিসে গিয়ে হট্টগোল শুরু করতেন, তাঁকে গালিগালাজ করতেন। ওই ব্যক্তি চাকরি ছেড়ে পালিয়ে গেলে স্ত্রী হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে তাঁকে হয়রান করতে শুরু করেন। লোক দিয়ে স্বামীকে মারধর করান, অপহরণ করে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসে তালাবদ্ধ করে রাখেন। শুধু তাই নয়, পুলিশকে ফোন করে বলেন যে স্বামী তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন।  ধর্ষণ মামলায় ওই ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘ সুইসাইড নোট লিখে ওই ব্যক্তি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

কী দোষ ছিল ওই ব্যক্তির? একজন পুরুষ তাই? আদালতের কি তাঁর কথা শোনা উচিত ছিল না এবং তাদের দুজনের কথা শোনা কি সমাজের কর্তব্য ছিল না? এখানেও কি সেই Gender Discrimination?

মিরাটের এক মহিলা তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে একটি সরকারি হাসপাতাল থেকে জাল মেডিকেল সার্টিফিকেট তৈরি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। মহিলার কথায় পুলিশ তার স্বামীকে গ্রেফতার করে। কিন্তু পরে এই মামলার তদন্তে জানা যায়, ওই নারীর সঙ্গে অন্য এক পুরুষের অবৈধ সম্পর্ক ছিল এবং স্বামী তাতে আপত্তি জানান। স্বামীকে পথ থেকে সরানোর জন্য ওই নারী এই পরিকল্পনা করে স্বামীকে মিথ্যা মামলায় জড়ায় এবং তাকে জেলে পাঠায়।

পুরুষরাও পারিবারিক হিংসার শিকার হন

গার্হস্থ্য হিংসা ও শোষণের কথা বাড়ির চার দেয়াল থেকে খুব কমই বাইরে বের হতে পারে এবং তা এলেও সাধারণত সকলেই ধরে নেন ভুক্তভোগী নিশ্চয়ই একজন নারী। কিন্তু অনেক সময় পুরুষরাও চুপ করে থেকে এসব কষ্ট ভোগ করেন। লজ্জা, সমাজের ভয়ের কারণে তারা তাদের বেদনা প্রকাশ করতে পারেন না এবং ভেতরে ভেতরে শ্বাসরুদ্ধ অবস্থা হয় তাঁদের।

হলিউড সুপারস্টার জনি ডেপের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। স্ত্রীর হাতে গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হওয়া সত্ত্বেও জনসাধারণ ও সমাজ তাঁর সম্পর্কে কী বলবে সে বিষয়ে ভেবে তিনি নীরব থাকাটাই শ্রেয় মনে করেন।

জনি ডেপের প্রাক্তন স্ত্রী অ্যাম্বার ডেপ স্বামীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ এনে বলেন, ডেপ মদ্যপ অবস্থায় তাকে যৌন নিপীড়ন করেন এবং হত্যার হুমকি দেন। অ্যাম্বারের পক্ষ থেকে তাঁর ডাক্তার আরও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে মদ্যপ অবস্থায় জনি জোর করে তার সাথে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছিল এবং তাকে আক্রমণও করেছিল। ডাক্তার সাক্ষ্যে আরও বলেছিলেন যে একবার জনি এতটাই হিংস্র হয়ে পড়েছিল যে, সে অ্যাম্বারের শরীরের গোপনাংশে কোকেন খোঁজার চেষ্টা শুরু করেছিল। কিন্তু সব সাক্ষী, প্রমাণ, ভিডিও, অডিও এবং শত শত মেসেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, জন ডেপের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা।

করোনাকালে সারা দেশে লকডাউনের কারণে মানুষ ঘরে বন্দি হয়ে পড়েছিল। সেই সময়ে, গার্হস্থ্য হিংসার ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু সে সময় শুধু নারীরাই পারিবারিক হিংসার শিকার হননি, অনেক পুরুষও পারিবারিক হিংসার শিকার হয়েছিলেন। এটা অন্য বিষয় যে ভারতে এখনও পর্যন্ত পারিবারিক হিংসার শিকার পুরুষদের সংখ্যা খুঁজে বের করার জন্য কোনও সরকারি গবেষণা বা জরিপ হয়নি। তবে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অবশ্যই এই দিশায় কাজ করছে।

বিশ্বব্যাপী, নৃশংসতার ঘটনা কেবল নারী ও শিশুদের সাথে নয়, Gender Discrimination-এর মতো ঘটনা পুরুষদের সাথেও ঘটছে, রিপোর্ট বলছে। শুধু ভারতেই বিয়ের জন্য যৌতুক, গার্হস্থ্য হিংসা, ধর্ষণের মতো মিথ্যা মামলার কারণে প্রতি বছর ৬৫ হাজারেরও বেশি বিবাহিত পুরুষ আত্মহত্যা করেন।

ধর্ষণ, যৌতুক প্রভৃতি আইন নারীর নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়, কিন্তু কিছু মহিলা এই আইনগুলিকে অস্ত্র বানিয়ে অপব্যবহারও করছেন। এই ধরনের মামলায় আটকে পড়া বা জড়িত পুরুষদের সম্মান, সময় এবং অর্থের ক্ষতির ক্ষতিপূরণ কে দেবে? বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় আইনের অপব্যবহার বন্ধ করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে, অন্যথায় নিরপরাধ মানুষের জীবন মিথ্যা মামলায় বিষময় হয়ে উঠবে সন্দেহ নেই।

হাসির পাত্র

সেভ ইন্ডিয়া ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন এবং মাই নেশন নামের একটি এনজিও-র এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতে ৯০ শতাংশেরও বেশি স্বামী, তিন বছরের সম্পর্কের মধ্যে অন্তত একবার পারিবারিক হিংসার শিকার হয়েছেন। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, পুরুষরা যখন পুলিশ বা অন্য কোনও প্ল্যাটফর্মে অভিযোগ জানাতে চেয়েছেন, তখন লোকেরা তাদের কথা বিশ্বাস করেনি, বরং তারা হাসির পাত্র হয়ে উঠেছেন।

তবে একটি গবেষণা বলছে, গুরুতর হিংসার ঘটনা মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে কিছুটা কম দেখা যায়।

পুরুষদের মিথ্যা ধর্ষণের মামলায় জড়ানো হচ্ছে

দিল্লির আত্মা রাম সনাতন ধর্ম কলেজের আর্টসের ছাত্রী আয়ুশি ভাটিয়া গত এক বছরে বিভিন্ন থানায় সাতটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করে ছিল। কিন্তু এগুলো সবই ছিল মিথ্যা ধর্ষণের মামলা। পুলিশের সামনে আয়ুশি স্বীকার করে যে সে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ এনে ছেলেদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করত।

জিম, ইন্সটা, অনলাইন ডেটিং অ্যাপে ২০ থেকে ২২ বছর বয়সি ছেলেদের সঙ্গে আয়ুশি কোনও অছিলায় বন্ধুত্ব করত এবং তারপর তাদের সঙ্গে দেখা করত। ছেলেটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক ও কারও সঙ্গে প্রেমের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনত সে। ধর্ষণ শুধু একটি জঘন্য অপরাধই নয়, এর চেয়েও জঘন্য হল যখন একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে ধর্ষক হিসেবে চিহ্নিত করা হয় কারণ এখানে একজন নিরপরাধ ব্যক্তির সুনাম বিপন্ন হয় এবং তার জীবনও গ্লানিময় হয়ে ওঠে।

কয়েক বছর আগে নয়াদিল্লির কারাওয়াল নগরের ইব্রাহিম খানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং এই অভিযোগ অন্য কেউ করেননি, তাঁর নিজের মেয়ে করেছিলেন। গুরুতর অভিযোগ ছিল যে তিনি তার মেয়েকে ধর্ষণ করেছিলেন, যার কারণে সে গর্ভবতী হয়েছিল। এই অভিযোগের পর ইব্রাহিমকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হয় এবং তাকে কারাগারেও পাঠানো হয়। কারাগারে বন্দিদের হাতে তাকে মারও খেতে হয়েছিল।

৭ বছর জেলে থাকার পর প্রমাণিত হয় যে, তার মেয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছিল কারণ সে মেয়ের দেহ ব্যাবসায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। মেয়ের পেটের শিশুটিও তার ছিল না। আদালত ইব্রাহিমকে নির্দোষ প্রমাণ করার পরে তাকে বেকসুর খালাস দেয়, তবে ততক্ষণে তার পুরো জগৎটাই ধ্বংস হয়ে গেছে।

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব