কাজের চাপে চোখের সমস্যা খুব ভোগাচ্ছে

লকডাউন থেকে শুরু হয়ে এখনও ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু থাকায় দিনের বেশিরভাগ সময়ে আমাকে ল্যাপটপ বা মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকতে হয়। অফিসের কাজের সঙ্গে সঙ্গে অন্য কাজও করতে হয়। একটাই ভালো দিক যে, সময়টা কেটে যাচ্ছে কিন্তু বর্তমানে Eye Problems বেশ ভোগাচ্ছে। চোখে ক্লান্তি অনুভব, মাঝে মাঝে চোখ ঝাপসা হয়ে যাওয়া, শরীরে ব্যথা ব্যথা ভাব ইত্যাদি লেগেই আছে। কাজের চাপে জিম-এ যাওয়াও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। কী করে এই সমস্যার মোকাবিলা করব বুঝে উঠতে পারছি না।

দীর্ঘসময় ল্যাপটপ অথবা মোবাইল ফোনে কাজ করার জন্য Eye Problems হচ্ছে। তার উপর জিম বন্ধ হওয়াতে এক্সারসাইজ বন্ধ ফলে শরীরে সমস্যা হচ্ছে। আপনার শারীরিক পরিস্থিতি নির্ভর করছে আপনি নিজে কীভাবে সারাদিনটা কাটাচ্ছেন। আপনার ছোটো ছোটো সিদ্ধান্তের উপরেও কিন্তু নির্ভর করছে আপনার শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য। অফিস যদি এখনও খুলে না থাকে এবং ওয়ার্ক ফ্রম হোম করতে হচ্ছে তাহলে জিম যাওয়ার বদলে বাড়িতেই যে ব্যায়ামগুলো করা সম্ভব সেগুলি ট্রাই করতে পারেন। পুশআপ, সিটআপস, স্ট্রেচিং, হাত-কাঁধ-কোমরের ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ ইত্যাদি বাড়িতেই করা সম্ভব। বারান্দায়, ছাদে, রাস্তায়, ওয়াক করুন। মা-বাবা বা বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে অনায়াসেই এই ড্রিলগুলি ট্রাই করতে পারেন।

২৪ ঘন্টা মোবাইল, ল্যাপটপ-এ সময় না কাটিয়ে পরিবারের সকলের সঙ্গে কোয়ালিটি সময় কাটান। পুরোনো ছবি দেখুন, পুরোনো স্মৃতি ঝালিয়ে নিন। রেসিপি দেখে রান্না করুন এতে মাকেও সাহায্য করা হবে। বাড়িতে গাছ থাকলে গাছের পরিচর্যা করুন। বই পড়ুন, বাড়ির অন্যান্য কাজেও হাত লাগান। দেখবেন মনও ভালো থাকবে এবং নতুন কিছু করারও উৎসাহ পাবেন।

যখন অফিসের কাজ করতে বসবেন চেয়ার-টেবিলই ব্যবহার করবেন। এতে ঘাড়, কাঁধ এবং পিঠের উপর অনাবশ্যক প্রেশার পড়বে না। এমন জায়গায় ল্যাপটপ রাখুন সেখানে ওর উপর কিছু পড়ার বা কোনও ছায়া পড়ার চান্স নেই। ঘরে খুব বেশি আলো আসলে পর্দা ব্যবহার করুন। কাজের মাঝে মাঝেই চোখকে বিশ্রাম দিন। চেয়ারে বসেই ২-৩ মিনিট চোখ বন্ধ করে থাকুন। হাত দিয়ে চোখ ঢেকে রাখুন বা জানলার বাইরের দৃশ্য উপভোগ করুন। অনেকে ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে থাকতে গিয়ে চোখের পাতা ফেলতেও ভুলে যায়, যেটা একেবারেই অনুচিত। চোখে পাতা খোলা-বন্ধ করলে চোখের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং চোখের উপর প্রেশার কম পড়ে।

 

সাগরবেলায় বেলা অবেলায় (শেষ পর্ব)

শুধু অসীম জলরাশি আর বিশালাকার ঢেউ দেখাই নয়, আরও নতুন অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের ইচ্ছে থাকলে ঘুরে আসুন এই পাঁচ সাগরবেলায়। শান্ত-স্নিগ্ধ, বর্ণময় সাগরবেলা। দেখুন সূর্যোদয়। মুগ্ধ হবেন। সাগরপাড়ে সিল্ক শাড়ির মেলা দেখে, ফরাসি খাবারের স্বাদও নিতে পারেন। কাজু, কলা, নারকেল, কাঁঠাল প্রভৃতি গাছের ডালপালা আপনাকে স্বাগত জানাবে। সমুদ্রসৈকতের অনতিদূরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সুন্দর বাড়িঘর, বাগান, মন্দির আর টাইলস ও সিরামিক ফ্যাক্টরি দেখার অভিজ্ঞতাও অমলিন হয়ে থাকবে। বালিয়াড়িতে জেলেদের নোঙর ফেলে নৌকো বাঁধা কিংবা মাছ ধরার শুকনো জাল গুটিয়ে বাড়ি ফেরার দৃশ্য উপভোগ করতে-করতে গোধূলির আলো গায়ে মেখে নিরালা সৈকতে ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগবেই।

রুশিকুল্যা

ওড়িশার তিনটি সি-বিচের মধ্যে রুশিকুল্যা অন্যতম। এই সি-বিচের সৌন্দর্য এবং বৈচিত্র্যের কথা আগেই শুনেছিলাম অনেকের কাছ থেকে। তাই দলবেঁধে বেরিয়ে পড়েছিলাম রুশিকুল্যার উদ্দেশে।

ভুবনেশ্বর রেলওয়ে স্টেশন থেকে চারচাকার যান ভাড়া করে বেরিয়ে পড়েছিলাম গন্তব্যে। গঞ্জাম জেলায় অবস্থিত রুশিকুল্যা বিচে পৌঁছোতে সময় লেগেছিল মাত্র তিন ঘণ্টা। তখন বিকেল গড়িয়েছে। সূর্যাস্তের সময়। দেখলাম রুশিকুল্যায় সূর্যাস্ত। অপূর্ব! লালচে নরম বালি আর জলের ওপর সূর্যের রক্তিম আভা এক মোহময় পরিবেশ তৈরি করেছিল। সেই সৌন্দর্য শুষে নিয়ে আমরা হোটেলে ফিরেছিলাম।

নৈশভোজের পর সামান্য অপেক্ষা। তারপর ঠিক রাত ১২টায় আবার এসে পৌঁছোলাম রুশিকুল্যা বিচে। জ্যোৎস্না রাত। মায়াবি আলোয় ঘেরা নির্জন সাগরবেলা। মার্চ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে মধ্যরাতে সমুদ্রসৈকতে পৌঁছোনোর কারণ ছিল এই যে, এই সময় কচ্ছপের ডিমপাড়ার দৃশ্য উপভোগ করা যায়। পৃথিবীর বিরলতম অলিভ রিড়লে কচ্ছপে ভরা থাকে এই সমুদ্রসৈকত। নিরালা এই সমুদ্রসৈকতে পুরুষ কচ্ছপরা ঘুরে বেড়ায় এদিক-ওদিক, আর মেয়ে কচ্ছপরা বালির গর্তে ডিম পাড়ে। নিস্তব্ধতা না ভেঙে আমরা সেই কচ্ছপদের ডিমপাড়ার দৃশ্য উপভোগ করেছিলাম এবং ক্যামেরার ফ্ল্যাশলাইট অফ করে সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতেও পেরেছিলাম।

কীভাবে যাবেন : দমদম থেকে বিমানে কিংবা হাওড়া থেকে ট্রেনে ভুবনেশ্বর পৌঁছোন। ওখান থেকে গাড়িতে মাত্র ১৪০ কিলোমিটার পেরোলেই রুশিকুল্যা বিচ। তবে ট্রেনে ভুবনেশ্বর না নেমে, গঞ্জাম স্টেশনেও নামতে পারেন কিন্তু ওখান থেকে গাড়ি পেতে একটু অসুবিধা হয়।

কোথায় থাকবেন : রুশিকুল্যায় ভালোভাবে থাকার আদর্শ জায়গা ফরেস্ট গেস্টহাউস। এসি, নন এসি রুম ছাড়াও রয়েছে তাঁবুতে থাকার ব্যবস্থা।

সূর্যলংকা বিচ

শালিমার স্টেশন থেকে বিকেল চারটে পাঁচের সেকেন্দ্রাবাদ এসি এক্সপ্রেস ধরে রওনা দিয়েছিলাম রাজামুন্দ্রির উদ্দেশে। ষোলো ঘণ্টার জার্নি শেষে পৌঁছেছিলাম স্টেশনে। বিশাখাপত্তনম থেকে ট্রেনে মাত্র দু-ঘণ্টার ব্যবধানে এই স্টেশনটির অবস্থান। স্টেশনের বাইরে এসে গাড়ি ভাড়া করে অল্প সময়ের ব্যবধানে আমরা পৌঁছোলাম কোকোনাট কান্ট্রি রিসর্টে। অসংখ্য নারকেল গাছ বেস্টিত ছায়া সুনিবিড় এই রিসর্টে স্নান-খাওয়া সেরে আমরা রওনা দিলাম সূর্যলংকা বিচের দিকে।

বড়ো রাস্তা ছেড়ে গাড়ি চলল প্রত্যন্ত গ্রামের পথ ধরে। নারকেল পাতায় ছাওয়া বাড়ি আর বাড়ির উঠোনে জমা করা শতসহস্র নারকেলের স্তুপকে দুদিকে রেখে, এগিয়ে চলল গাড়ি। ঘণ্টা দুয়েক এই আবহে কাটানোর পর গাড়ি এসে থামল সূর্যলংকা বিচে। সূর্য তখন সমুদ্রের জলের দিকে ঢলে পড়েছে। লালচে নরম বালির উপর হেঁটে গিয়ে আমরা সমুদ্রের জল ছুঁলাম, দূরে দেখা গেল জাহাজের মাস্তুল। বালিয়াড়িতে দেখা গেল জেলেরা নোঙর ফেলে নৌকো বাঁধছে আর মাছ ধরার শুকনো জাল গুটিয়ে বাড়ি ফেরার উদ্যোগ নিচ্ছে। এসব উপভোগ করতে করতেই গোধূলির আলো গায়ে মেখে নিরালা সৈকতে ঘুরে বেড়াতে বেশ ভালো লাগছিল। রাতে সমুদ্রসৈকতের এক অস্থায়ী রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে-খেতেও রাতের সামুদ্রিক পরিবেশে থাকার আনন্দ নিয়েছিলাম। পরেরদিন সকালে হোটেল থেকে আবার সমুদ্রসৈকতে এসে জেলেদের মাছ ধরা দেখে স্নান সেরে ফিরলাম হোটেলে।

কীভাবে যাবেন : শালিমার স্টেশন থেকে প্রতিদিন বিকেল ৪টে ৫-এ ছাড়ে সেকেন্দ্রাবাদ এসি এক্সপ্রেস। ষোলো ঘণ্টার জার্নি। নামুন রাজামুল্লি স্টেশনে। ওখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে পৌঁছোন। হোটেলে।

কোথায় থাকবেন : এপি টুরিজমের কোকোনাট কান্ট্রি রিসর্টে থেকে আনন্দ পাবেন। দারুণ পরিবেশ অসাধারণ আতিথেয়তা।

যোগাযোগ : এপিটিডিসি

আন্দামান

দমদম বিমানবন্দর থেকে সকাল সাড়ে পাঁচটার বিমানে চেপে, সকাল সাড়ে সাতটায় পৌঁছোলাম আন্দামানের গেটওয়ে বীর সাভারকর বিমানবন্দরে। সময়টা ছিল নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ। বিমানবন্দর থেকে প্রথমে পৌঁছোলাম শহরের কেন্দ্রে। পাঁচ কিলোমিটার দুরের মায়াবন্দর থেকে আবার পাড়ি দিতে হল বারো কিলোমিটার পথ। গম্ভব্য— কর্মাটেং সাগরবেলা। আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল সাগরপাড়ের সরকারি অতিথিশালায়। প্রথম দিন স্নান, খাওয়া সেরে আমরা নামলাম বিচে। নির্জন মায়াময় বিচ। জানা-অজানা নানারকম গাছগাছালিতে ভরা সাগরপাড়। পাড়ে রয়েছে বার্মিজ বসতি। ওদের জীবনযাত্রা দর্শন বেশ উপভোগ্য। বিচের অস্থায়ী দোকানগুলিতে সামুদ্রিক কোরাল-শাঁখ-ঝিনুকের মেলা দেখার পাশাপাশি, কেনাকাটাও সারলাম আমরা। তবে শুধু সাগরবেলার অপরূপ সৌন্দর্যদর্শন-ই নয়, তিনদিনের টুরে আমরা দেখে নিয়েছিলাম আশপাশের অনেক কিছু। ঘুরে বেড়িয়েছি ফাইবার গ্লাস লাগানো বোটে জলিবয়, রেড স্কিন ও সিঙ্ক দ্বীপে। দ্বীপের অগভীর স্বচ্ছ জলে রংবেরঙের মাছ, প্রবাল, সামুদ্রিক প্রাণী দর্শনে তৃপ্তির স্বাদ নিয়েছি। এছাড়া বটানিক্যাল গার্ডেন, ফুচি চাঙ বৌদ্ধ মঠ, ব্যাম্বু ফ্ল্যাট প্রভৃতি দর্শনের আনন্দও নিয়েছি।

কীভাবে যাবেন : দমদম বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট-এ পৌঁছোন আন্দামানের সাভারকর বিমানবন্দরে। অথবা চারদিনের জাহাজ যাত্রায়ও পৌঁছোনো যায় আন্দামানে। ওখান থেকে গাড়িতে মায়াবন্দর হয়ে পৌঁছে যান কর্মাটেং সাগরবেলায়।

কোথায় থাকবেন : থাকার জন্য ছোটো-বড়ো অনেক হোটেল আছে, তবে কর্মাটেং বিচ সংলগ্ন সরকারি অতিথিশালায় থাকাই ভালো ৷

যোগাযোগ : আন্দামান অ্যান্ড নিকোবর টিডিসি।

(সমাপ্ত)

অবিবাহিতা ফলে বাড়িতে ভাইদের অত্যাচারের শিকার

আমি ৩০ বছর বয়সি অবিবাহিতা। আমি ছাড়াও বাড়িতে আমার তিন দাদা রয়েছে। আমিই ওদের একমাত্র বোন। স্বাভাবিক ভাবে ওদের আদরের বোন হওয়া উচিত ছিল কিন্তু ওরা কোনওদিন আমার সঙ্গে ভালো ভাবে কথা পর্যন্ত বলেনি, আদর করা তো দূরের কথা! মা প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন তাই বাড়ির কাজকর্ম, পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে আমিই সামলাতাম। তা সত্ত্বেও আমার মেজদা আমাকে কিছুতেই সহ্য করতে পারত না। ঝগড়া করার সঙ্গে সঙ্গে গায়েও হাত তুলত। একবার গলা টিপে প্রায় মেরেই ফেলেছিল, মা এসে সেদিন আমায় প্রাণে বাঁচিয়েছিল।

মেজদা চাকরি পায়নি বলে সবসময় ডিপ্রেসড্ থাকত। কারও ওপর নিজের হুকুম চালাতে পারত না বলে আমাকেই যখন তখন মারধর করত। একদিন হঠাৎ-ই ও আত্মহত্যা করে। মেজদার মৃত্যুর পর মা-র শরীর আরও খারাপ হয়ে পড়ে এবং মায়েরও মৃত্যু হয়।

এরপর আমার বড়ো দাদা বিয়ে করে। আমি মনে মনে ভাবি, বউদি আসায় হয়তো বাড়িতে একটু প্রাণ আসবে। আমিও বাড়ির কাজে সাহায্য পাব। একাকিত্বও কাটবে। কিন্তু উলটে বাড়ির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেল। বউদি বাড়ির কোনও কাজ করত না। আমার কাজ আরও বেড়ে গেল, তার উপর পেট ভরে খেতে দিত না। বউদি বাড়িতে আসতেই আমাকে বিয়ে করে নেওয়ার জন্য তাড়া দিতে আরম্ভ করে। মায়ের মৃত্যুর পরেই আমার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যেহেতু পড়াশোনার শখ ছিল তাই প্রাইভেটে পরীক্ষা দিয়ে আমি গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করি।

আমি বিয়ে করতে চাই না, চাকরি করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই কিন্তু আমার দুই দাদা কিছুতেই এতে রাজি নয়। আমার ছোড়দা বিয়ের জন্য খুবই চাপ দিচ্ছে আর বলছে বিয়ে না করলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে। ওই বাড়ির ওপর আমার নাকি কোনও অধিকার নেই, ওটা খালি ওদের দু’জনেরই।

কখনও কখনও মনে হয় আত্মহত্যা করি। ছোটো থেকেই আমার জীবন দুঃখের মধ্যেই কেটেছে। কখনও কেউ আমার সঙ্গে ভালো করে কথা পর্যন্ত বলেনি। আমার জন্মের কয়েকদিন পরেই বাবা মারা যান। মা আমাকে অপয়া বলতেন। ভাইয়েরা মারত, বকাবকি করত। বউদি এসেও আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা আরম্ভ করল। এদিকে সারাদিন বাড়িতে আমি হাড়ভাঙা পরিশ্রম করি।

আমি বুঝতে পারছি না আমার কী করা উচিত। দাদারা চাকরি করতে দেবে না আর আমি কিছুতেই বিয়ে করতে চাই না। পুরুষদের আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। আর যেখানে ভাইরাই কোনওদিন আমাকে ভলোবাসেনি সেখানে বাইরের লোকের উপর ভরসা করি কী করে? কখনও পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করে তো, কখনও আত্মহত্যা! বুঝতে পারছি না আমি কী করব?

এটাকে ভাগ্যের পরিহাস-ই বলতে হবে যে, ছোটো থেকে এখনও পর্যন্ত আপনি কারও ভালোবাসা পাননি। এর জন্য আপনার দাদাদের থেকেও আপনার বাড়ির প্রতিকূল পরিস্থিতি-ই দায়ী। আপনার বাবার মৃত্যুর পর আপনাদের চার ভাইবোনের দায়িত্ব আপনার মায়ের উপর এসে পড়েছিল। একলা মহিলার পক্ষে এতসব সামলানো নিশ্চয়ই খুব সহজ ছিল না। এছাড়া উনি প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন, ফলে মনের কষ্ট চাপার জন্যই হয়তো উনি আপনার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন। আপনি কখনওই ভাববেন না যে, আপনার মা আপনাকে ভালোবাসতেন না।

আর ভাইদের কথাই যদি ধরেন তাহলে বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর স্বাভাবিক ভাবেই আপনার বিয়ের দায়িত্ব ওদের উপরেই। তাই ওরা চায় আপনার বিয়ে দিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতে। আর আপনার সঙ্গে ভাইরা খারাপ ব্যবহার করে বলেই ধরে নেবেন না, সব পুরুষই খারাপ!

আত্মহত্যার চিন্তা মন থকে দূর করুন। ভীতুরাই এ ধরনের চিন্তা করে। এতে সমস্যার কোনও সমাধান হবে না। আর বাড়ি থেকে পালানোও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। কারণ সমস্যা এড়াতে গিয়ে আরও বড়ো সংকটের মধ্যে গিয়ে পড়তে পারেন। সুতরাং এই ভুলটা করবেন না। পজিটিভ চিন্তা করুন এবং বাড়ির সকলের কথা মেনে নিন। বিয়ের পর হয়তো আপনার জীবন খুশিতে ভরে যাবে। নিজের একটা সংসার হবে, পরিবার হবে যেখানে আপনি সম্পূর্ণ নির্ভয়ে থাকতে পারবেন।

 

বুদি

অনেকক্ষণ ধরে স্কুলের বড়ো গেটটার বাইরে, ভাই ও ঝুপড়ির কতগুলো ছোটো ছোটো ছেলেমেয়ের সাথে দাঁড়িয়েছিল চোদ্দ বছরের বুদি। বছর চোদ্দো হলেও বুদিকে যুবতি বলে ভুল হয়। অনেক ‘শিক্ষিত’, ‘সভ্য’ বাবুরাও মশকরা করে বলে— ‘ঝুপড়ি ঘরে এত সুন্দর একটা ‘মাল’ কীভাবে পয়দা হল মাইরি। মা-টা বোধহয় কোনও বাবুর ঘরে…’

এই সুবাদে স্কুলে মাঝেমধ্যেই কাজের সুযোগ পায় বুদি। মাস্টার, ক্লার্কদের চা-টা এনে দিয়ে দু’চার পয়সা বকশিস পায়। মাস্টারদের লোভাতুর চোখ বুদির উপর থাকলেও, পেশাগত অবস্থান চিন্তা করে তেমন কিছু একটা করে উঠতে পারে না তারা। তবে অশিক্ষক কর্মীরা মশকরা করতে ছাড়ে না। এইটুকু জীবনেই বুদি বুঝে গেছে, এইটুকু মশকরা মেনে না নিলে আয় বন্ধ, পিতৃহীন সংসার চলবে না। রুগ্ন মা ও ছোটো ভাইয়ের একমাত্র অবলম্বন সে।

আজ ২৬ জানুয়ারি। এই স্কুলের একটা আভিজাত্য আছে। স্কুলেরই প্রাক্তন মস্তান ছাত্র বর্তমানে এমএলএ হয়েছেন। তিনি নিজের স্কুলে পতাকা তুলে স্কুলকে গৌরবান্বিত করবেন। অন্যান্য বার পতাকা তোলার আগে একপ্রস্থ চা দিয়ে দু’একটা মিষ্টির প্যাকেট পায় বুদি। এবার এমএলএ আসবেন। ‘দেশপ্রাণ জননেতা’র সিকিউরিটির জন্য বুদিদের গেটের বাইরে আটকে দেওয়া হয়েছে। বুদি এতসব বোঝে না, প্যাকেটের লোভে দাঁড়িয়ে থাকে। ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েগুলোও চকোলেটের আশায় থাকে।

যথা সময়ের দু’ঘণ্টা পরে এমএলএ এসে পতাকা উত্তোলন করেন। শিশুদের মঙ্গল কামনায় দুর্দান্ত মানবতার ভাষণ দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় ৷

শিক্ষকরা চলে গেছেন। টুকিটাকি কাজের জন্য অশিক্ষক কর্মী, ডেকোরেটাররা মাঠে ঘোরাফেরা করে। অশিক্ষক কর্মীরা বুদিকে ডাকে। বলা হয় মাঠ থেকে চায়ের কাপ, মিষ্টির প্যাকেটগুলো তুলে বাইরে ফেলে দিতে।

বুদি ক’টা টাকার লোভে চায়ের কাপ, প্যাকেট জড়ো করতে থাকে। কোনও যুবতির দেওয়া ঢিলেঢালা, মাপে বড়ো নাইটির ভেতর থেকে উঁকি দেয় বুদির প্রাকযৌবনের বিকশিত স্তন। লোলুপ দৃষ্টিতে দেখতে থাকে স্কুলের কর্মীরা। ‘সস্নেহে’ আদর করার অছিলায় বুদিকে কাছে টানে।

শীতের রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশে উত্তুরে হাওয়ায় পতপত করে উড়ছে জাতীয় পতাকা। হঠাৎই জাতীয় পতাকাটি উড়ে এসে পড়ে বুদির গায়ে। জড়িয়ে যায় ওড়নার মতো। কেউ বুঝতে পারে না কীভাবে খুলে গেল জাতীয় পতাকা, উড়ে রক্ষা করল সরল বুদির সম্ভ্রম। শিক্ষিত অশিক্ষক কর্মীরা অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, দাঁড়িয়েই থাকে….।

সাগরবেলায় বেলা অবেলায় (পর্ব-০১)

শান্ত-স্নিগ্ধ, বর্ণময় সাগরবেলা। দেখুন সূর্যোদয়। মুগ্ধ হবেন। সাগরপাড়ে সিল্ক শাড়ির মেলা দেখে, ফরাসি খাবারের স্বাদও নিতে পারেন। কাজু, কলা, নারকেল, কাঁঠাল প্রভৃতি গাছের ডালপালা আপনাকে স্বাগত জানাবে। সমুদ্রসৈকতের অনতিদূরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সুন্দর বাড়িঘর, বাগান, মন্দির আর টাইলস ও সিরামিক ফ্যাক্টরি দেখার অভিজ্ঞতাও অমলিন হয়ে থাকবে। অতএব, ঘুরে আসুন এই পাঁচ সাগরবেলায়।

চুনামবার বিচ

ফ্রান্সিস মার্টিন-এর হাতে গড়ে ওঠা শহর পুদুচেরি বা পণ্ডিচেরির চুনামবার বিচ একটি নব অন্বেষণ। তাই দল বেঁধে বেরিয়ে পড়েছিলাম চুনামবার সাগরবেলার উদ্দেশে। কলকাতা থেকে ট্রেনে চেন্নাই এবং ওখান থেকে ১৯৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আমরা পৌঁছেছিলাম পণ্ডিচেরি পর্যটন দফতরের গেস্টহাউসে। সুন্দর, সাজানো গোছানো চুনামবার গেস্টহাউসে পা রাখতেই মন আনন্দে নেচে উঠেছিল। তবে গেস্টহাউসে পৌঁছোতে রাত হওয়ায় সেদিন আর বেড়াবার সুযোগ পাইনি। পরের দিন খুব ভোরবেলা উঠেই পায়ে হেঁটে এগোলাম সমুদ্রের দিকে। পথে দেখে নিলাম ঋষি অরবিন্দের মহিমামণ্ডিত ছাই রঙের বাড়ি আর বাগানে ঘেরা অরবিন্দ আশ্রম। দারুণ। বাগানে বোগেনভিলিয়ার মাধুর্য চোখকে আরাম দিয়েছিল।

এরপর পৌঁছালাম সমুদ্রসৈকতে। শান্ত-স্নিগ্ধ, বর্ণময় সাগরবেলা। দেখলাম সূর্যোদয়। মুগ্ধ হলাম। দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ বিচ। সাগরবেলায় গান্ধি স্কোয়্যার-এ চোদ্দো ফিট উঁচু গান্ধি মূর্তি আর আটটি মনোলিথ পিলার দর্শনও করলাম চলার পথে। আকাশ ছুঁই-ছুই ২৯ মিটার উঁচু লাইটহাউস দেখার স্মৃতি আজও অমলিন। ২৮৪ মিটার লম্বা কংক্রিটের জেটিতে অনেককে সানবাথ এবং সি-বাথ নিতেও দেখলাম আমরা। সাগরপাড়ে সিল্ক শাড়ির মেলা দেখে, ফরাসি খাবারের স্বাদ নিয়ে ফিরলাম গেস্টহাউস-এ।

কীভাবে যাবেন : বায়ুপথে কিংবা রেলপথে প্রথমে চেন্নাই পৌঁছোন। ওখান থেকে ট্রেনে ১৯৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছোন পণ্ডিচেরির চুনামবার গেস্টহাউস-এ।

কোথায় থাকবেন : চুনামবারে অনেক বেসরকারি হোটেল রয়েছে, তবে সাগরপাড়ের সরকারি গেস্টহাউস-এ থাকার মজাই আলাদা।

যোগাযোগ : পণ্ডিচেরি টুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন।

কোল্লাম

হাওড়া থেকে তিরুভনন্তপুরম এক্সপ্রেস ধরে পৌঁছোলাম কোল্লাম রেলস্টেশনে। ছিমছাম রেলস্টেশন। কেরলের বন্দরনগরী হিসাবে খ্যাত এই কোল্লাম-এ প্ল্যাটফর্ম-এর বাইরে আসতেই চোখে পড়ল ব্যস্ত জনজীবন। স্থানীয় লোকজন ছাড়াও, ভ্রমণার্থীদের কোলাহলে মুখরিত চারিদিক। সেসব উপভোগ করতে করতেই গাড়ি ভাড়া করে আমরা চললাম কেরল টুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন-এর গেস্টহাউস-এর দিকে। কোল্লাম, রেলস্টেশন থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার পথ। গাড়ি চলল ব্যাক ওয়াটারকে পাশে রেখে। চোখকে আরাম দিল সবুজ গাছগাছালি। কাজু, কলা, নারকেল, কাঠাল প্রভৃতি গাছের ডালপালা যেন আমাদের স্বাগত জানাতে ব্যস্ত। চোখে পড়ল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সুন্দর বাড়িঘর, বাগান, মন্দির আর টাইলস ও সিরামিক ফ্যাক্টরি। স্নিগ্ধ লেকের পাড়ে গড়ে ওঠা পিকনিক ভিলেজটিও মন কাড়ল।

অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা পৌঁছোলাম কোল্লাম-এর বিচ গেস্টহাউস-এ। সমুদ্রতট ছুঁয়ে পাহাড়ের ঢালে গড়ে তোলা হয়েছে এই অতিথিশালা। স্নান-খাওয়া সেরে খানিক বিশ্রাম নিয়েই আমরা পৌঁছে গেলাম কোল্লাম সাগরবেলায়। দেখলাম মাছ ধরার চিনা জাল আর বিশালাকার কেব্রুভাল্লম নৌকো। এই নৌকো অতীতে পণ্যবাহী ছিল। এখন এই নৌকো ব্যবহার করা হয় প্রমোদ ভ্রমণের জন্য। সূর্যাস্তের পরে সেদিনের মতো সাগরবেলা থেকে গেস্টহাউস-এ ফিরতে হয়েছিল কারণ, সমুদ্রে তখন জোয়ার শুরু হয়। তবে পরেরদিন সূর্যোদয়ের পরে সমুদ্রে শরীর ডুবিয়ে কোল্লাম ভ্রমণের পূর্ণ আনন্দ নিয়েছিলাম।

কীভাবে যাবেন : হাওড়া থেকে তিরুভনন্তপুরম এক্সপ্রেস ধরে সোজা কোল্লাম স্টেশনে নামবেন। রেলস্টেশন থেকে অটো, ট্যাক্সি, বাস সবই যায় কোল্লাম বিচ গেস্টহাউস-এ। স্টেশন থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে।

কোথায় থাকবেন : কোল্লাম স্টেশন চত্বরে প্রচুর হোটেল আছে। থাকতে পারেন সেইসব হোটেলে। আর যদি সাগর পাড়ে থাকতে চান তাহলে কেরল টুরিজমের গেস্টহাউস-এ থাকার বন্দোবস্ত করুন।

যোগাযোগ : কেরল টিডিসি।

( ক্রমশঃ……)

প্রিন্টেড প্যান্ট-এ বর্ষার বাহার

পার্টি হোক বা বন্ধুদের সঙ্গে আউটিং, কী পরে যাবে জুন সেই নিয়ে খুব টেনশনে থাকে। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সেই একঘেয়ে জিন্স-টিশার্ট, জিন্‌স-টপস্, কুর্তি, পাতিয়ালা, সালোয়ার নয়তো স্কার্ট পরতে পরতে সে রীতিমতো ক্লান্ত। ইউনিক কিছু চাই। এখন তো সে আর ছোটোটি নেই, যে মা-বাবা যা পছন্দ করে কিনে দেবে, তাই পরবে। এখন সে ইলেভেন বলে কথা। গত কয়েকদিন ধরে কোচিং ক্লাসের একজনকে দেখলে হৃদপিণ্ডের দাপাদাপি শুরু হয়ে যায়। ওই কোচিং ক্লাস থেকেই পিকনিক যাওয়া ঠিক হয়েছে। তাই সাজগোজে সকলের থেকে একটু অন্য তাকে লাগতেই হবে। আর লাগবে না-ই বা কেন, সে যথেষ্ট ফ্যাশন কনশাস-ও বটে। তবু একটা কিন্তু কিন্তু। কী পরা যায়।

হঠাৎই সামনের বুটিকের রিয়াদির কথা মনে পড়ে জুনের। রিয়াদিই প্রথম Printed Pants-এর কথা সাজেস্ট করে। প্রিন্টেড প্যান্ট? বেশ অবাকই হয় জুন। কেমন লাগবে তাকে, এর আগে তো কোনওদিন ট্রাই করেনি। একটা দ্বিধা ছিলই। কিন্তু ক্যারি করার গুণে সেটাও সুপারহিট হল পিকনিকে। ছোট্ট একরঙা টপ আর প্রিন্টেড প্যান্টে পার্টির মধ্যমণি হয়ে উঠল জুন।

শুধু জুন নয়, আজ টিনএজারদের ওয়ার্ডরোবে ক্রমশ জায়গা করে নিচ্ছে প্রিন্টেড প্যান্ট। ভাবছেন কোনটা বাছবেন, কোনটা পরবেন? চিন্তা করবেন না। সেখানেও ডিফারেন্ট শেডের ডিফারেন্ট ডিজাইনের ভ্যারিয়েশন। শুধু আপনার চেহারা আর লুকের কথা খেয়াল রেখে সঠিক জিনিসটি বেছে নিতে পারলেই বাজিমাতা। প্রিন্টেড প্যান্টের ভ্যারিয়েশনে আপনি পেয়ে যাবেন—স্ট্রিট স্টাইল, অ্যানিম্যাল প্রিন্টস, ফ্যাশন, বুটিক, পাইথন, রেট্রো, স্পটিক্‌স, ফ্লোরাল প্যাটার্ন এবং স্টাইল নিউজ।

Trendy Printed Pants

 

প্রিন্টেড প্যান্টের রকমফের

ফিটেড অ্যান্ড ফেমিনিন যথাযথ ফিটেড কার্ট ও কেতাদুরস্ত ডিজাইনের উপরই নির্ভর করবে আপনার ওভারঅল লুক। দিনের বেলা কোথাও যেতে হলে প্রিন্টেড প্যান্টের সঙ্গে চুজ করুন সিম্পল টপ আর রাতে শুধু টপের উপর একটা জ্যাকেট বা শ্রাগ অ্যাড করলেই আপনি অনায়াসেই হয়ে উঠতে পারেন মোহময়ী।

রেট্রো ইন্সপিরেশন ক্যাজুয়াল অ্যান্ড ক্যান্ডিড লুক পেতে মাল্টিকালারড আই ক্যাট প্যান্টের সঙ্গে ক্যাজুয়াল লুকের সাধারণ স্যান্ডাল একেবারে পারফেক্ট।

প্রিটি ইন পাইথন নিজেকে একটু বোল্ড লুক দিতে চাইলে আপনি বেছে নিতেই পারেন মেটালিক অ্যান্ড স্নেক প্রিন্ট। মাঝেমধ্যে লুক বদলানোর জন্য দু-এক পিস ওয়ার্ডরোবে রেখে দিন।

অ্যানিম্যাল প্রিন্ট যদি প্রিন্ট নিয়ে কনফিউজড হন, তাহলে বলব অ্যানিম্যাল প্রিন্ট ট্রাই করুন। উজ্জ্বল রং এবং অ্যানিম্যাল নকশার বোল্ডনেস আপনার প্রেজেন্সটাকেই চোখে পড়ার মতো করে তুলবে। এর মধ্যে একটা বোহেমিয়ান ব্যাপারও আছে।

এছাড়া ফ্লোরাল প্রিন্ট, সিকোয়েন্স বা রকমারি জ্যামিতিক নকশার প্যান্টও রাখতে পারেন পছন্দের তালিকায়। রয়েছে অ্যাবস্ট্র্যাক্ট আর বাঁধনি প্রিন্টও। কোনওটা এথনিক আবার কোনওটা ইন্দো-ওয়েস্টার্ন লুকের এক রেঞ্জ তৈরি করুন আপনার পছন্দমতো।

সব থেকে বড়ো কথা এগুলো বিভিন্ন কালার দিয়ে এমনভাবে মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে বানানো হয়ে থাকে যে, চাইলে একটা প্যান্টের সঙ্গেই আপনি বদলে বদলে যে-কোনও টপ ব্যবহার করতে পারেন।

তবে প্রিন্টেড প্যান্ট পরার আগে কয়েকটা বিষয় খেয়াল রাখা উচিত

  • যদি আপনার শরীরের নীচের অংশ অর্থাৎ কোমরের পোরশন হেভি হয়, তাহলে ফিটেড প্যান্ট এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। বরং সেক্ষেত্রে আপনি ডার্ক গ্রাউন্ড প্রিন্ট, হরাইজন্টাল প্রিন্ট অথবা অলওভার সাবটাইল প্রিন্ট বাছুন। তুলনামূলক স্লিম লাগবে।
  • আপনার উচ্চতা যদি কম হয়, তাহলে হরাইজন্টাল প্রিন্টের পরিবর্তে ভার্টিকাল প্রিন্ট বাছলে অনেকটা দীর্ঘাঙ্গী লাগবে।
  • প্রিন্টেড প্যান্টের সঙ্গে কখনোই খুব জমকালো জুতো পরবেন না।

মেক-আপ থেকে অ্যালার্জির সমস্যা – (শেষ পর্ব)

সৌন্দর্য বাড়াবার জন্য যে-প্রসাধনীগুলি আমরা ব্যবহার করি, সেগুলি সৌন্দর্য না বাড়িয়ে নানা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এগুলোর থেকে অনেক সময়েই ত্বকে অ্যালার্জি হয়ে থাকে। যেগুলি আমাদের সৌন্দর্য খর্ব করে।  প্রথম পর্বে আমরা আলোচনা করেছি ফাউন্ডেশন , কনসিলার , ব্লাশ এবং হাইলাইটার নিয়ে।

আই Makeup: চোখের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলতে আমরা আই মেক-আপের সাহায্য নিয়ে থাকি। কাজল, লাইনার, মাসকারা, আইশ্যাডো, আইল্যাশ, কার্লস ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়, আই মেক-আপের জন্য। কিন্তু অনেক সময় এগুলি থেকে চোখের অ্যালার্জি হতে দেখা যায়। এতে থাকে লেড সালফাইড, কার্বন ব্ল্যাক, এথানলমাইন, বেনজ্যাঙ্কোনিয়াম ক্লোরাইড (প্রিজারভেটিভ), প্রাইম ইয়েলো কারনোভা ওয়্যাক্স (ওয়াটার প্রুফ বানাতে সাহায্য করে), ফর্মালডিহাইড রিলিজিং প্রিজারভেটিভস ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এছাড়াও হেভি মেটালস, অ্যালুমিনিয়াম পাউডার, এসমস্ত কিছুই ক্যান্সার, চোখের ড্রাইনেস, অ্যালার্জি, চোখ লাল হয়ে ওঠারও কারণ হয়। সুতরাং উপাদানগুলি দেখে তবেই চোখের মেক-আপ কেনা উচিত। ওয়াটার প্রুফ আই মেক- আপ চোখ ড্রাই হওয়ার অন্যতম কারণ। প্রোডাক্ট-এ যত কম কেমিক্যালস থাকবে, ততই ভালো চোখের পক্ষে।

লিপস্টিক: লিপস্টিক হল Makeup-এর অপরিহার্য অংশ। কিন্তু অনেকেই জানেন না লিপস্টিকে ব্যবহৃত কেমিক্যালস ঠোঁটের ক্ষতি করার সঙ্গে সঙ্গে ঠোঁটের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করেও, মানুষকে অসুস্থ করে তুলতে পারে। প্রিজারভেটিভস হিসেবে লিপস্টিকে মিথাইলোপ্যারাবেন ব্যবহার করা হয়, যেটি অ্যালার্জি এবং ক্যান্সারেরও কারণ।

এতে সিন্থেটিক ডাই-ও ব্যবহার করা হয়, যেটি কিনা পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্টস থেকে তৈরি হয়। এতে ত্বক জ্বালা এবং ইরিটেশন-এর সমস্যাও শুরু হয়। সেজন্য লিপস্টিক কেনার সময় দেখে নেওয়া বাঞ্ছনীয় যে তাতে ন্যাচারাল প্রিজারভেটিব্স-এর সঙ্গে এসেনশিয়াল অয়েলও পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যবহার করা হয়েছে কিনা।

কপালের টিপ এবং সিঁদুর: ট্র্যাডিশনাল লুক-এর জন্য মেক-আপের সঙ্গে টিপ এবং সিঁদুর অপরিহার্য। কিন্তু দীর্ঘ সময় টিপ এবং সিঁদুর পরে থাকলে অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অনেক সময় টিপের পিছনের আঠা ভালো হয় না। আমাদের অভ্যাস একটা টিপ আয়না বা কিছুর গায়ে আটকে রেখে বারবার ব্যবহার করা। এর থেকে স্কিন অ্যালার্জি হওয়ার ভয় থাকে।

সিঁদুরে রেড লেড থাকে যেটা চুল পড়ার প্রধান কারণ। এছাড়াও যে-অংশে সিঁদুর লাগানো হয় সেখানটা ড্রাই হতে থাকে। তার উপর শরীরের জন্যও এটি অপকারী। সুতরাং টিপ এবং সিঁদুর ভালো কোম্পনির ব্যবহার করাই বাঞ্ছনীয়।

নেল পেইন্ট: নেলপলিশ লাগাবার সঙ্গে সঙ্গে এখন নেল আর্টে-রও চাহিদা ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে নেলপলিশ এবং নেলরিমুভার ব্যবহার করার পর নখে হলুদ রঙের পরত পড়তে থাকে এবং নখ দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে নখে সবসময় নেলপলিশ অনিচ্ছা সত্ত্বেও লাগিয়ে রাখতে হয়। এতে থাকে ফর্মালডিহাইড, টলিউন-এর মতো কেমিক্যালস। এগুলি নখকে ভঙ্গুর, হলুদ করে তোলে। এছাড়াও ফার্টিলিটির উপরেও প্রভাব ফেলে।

নেলরিমুভারেও অ্যাসেটোন টলিউন, মেথানলের মতো কেমিক্যালস ব্যবহার করা হয়— যেগুলি ক্যান্সার, স্কিন অ্যালার্জি এবং মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই, কেমিক্যাল-ফ্রি নেলপলিশ এবং রিমুভার ব্যবহার করা উচিত। নেলপলিশ লাগাবার আগে প্রোটেকশন হিসেবে বেস কোট অবশ্যই লাগানো বাঞ্ছনীয়।

ক্রিম এবং লোশন: অনেক ফেস ক্রিম থেকেই অ্যালার্জি হতে পারে কারণ ক্রিমে কেমিক্যালস ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও ত্বকের ধরন না জেনেই ক্রিম ব্যবহার করলে সেটা অ্যাকনে, স্কিন ইচিং, পোরস ব্লগ হয়ে যাওয়ার সমস্যা ইত্যাদির কারণ হয়ে ওঠে। অনেক ফেস ক্রিম, লোশনে মিনারেল অয়েল থাকে, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক এবং ত্বাকের পোরস ক্লগ করে দেয়। এর ফলে টক্সিক ত্বকের বাইরে বেরোতে পারে না এবং অ্যাকনের মতো সমস্যার সৃষ্টি করে। এতে থাকা প্যারাবেনস অ্যালার্জির সঙ্গে সঙ্গে হরমোনের ভারসাম্যও নষ্ট করে।

মুক্তি পেতে চলেছে ইন্দ্রাশিস আচার্য-র নতুন ছবি ‘নীহারিকা’

আর মাত্র কিছুদিনের অপেক্ষা। তারপরই বড়োপর্দায় প্রদর্শিত হবে ইন্দ্রাশিস আচার্য পরিচালিত ছবি ‘নীহারিকা’। এ ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র এক নারী। যার নাম দীপা। ছোটোবেলায় গিরিডির শিমুলতলায় দীপাকে নিয়ে আসেন ওর ছোটো মামা। যে বাড়িতে মামার সঙ্গে থাকে দীপা, সেই বাড়ির নাম–নীহারিকা।

ছবিটির কাহিনি প্রসঙ্গে পরিচালক ইন্দ্রাশিস জানিয়েছেন, এক অন্ধকার শৈশব পেরিয়ে যৌবনে যখন পা রাখে দীপা, তখন তার জীবনে নতুন ভাবে আশা-আকাঙ্ক্ষার জন্ম হয়। কিন্তু অস্তিত্বের সংকট কাটে না দীপার জীবনে। শহর থেকে অনেক দূরে প্রায় জনমানবহীন প্রান্তরে নতুন করে নিজেকে খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যায় দীপা। কিন্তু কী ঘটবে এরপর, সেই কৌতূহল মেটাতে হলে, প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবিটা দেখতে হবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক ইন্দ্রাশিস আচার্য। উল্লেখ্য, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের ‘ভয়’ উপন্যাস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছবিটি তৈরি করেছেন বলে জানিয়েছেন  ইন্দ্রাশিস।

‘নীহারিকা’ ছবিটিতে মুখ্য চরিত্রে (দীপা) অভিনয় করেছেন অনুরাধা মুখোপাধ্যায়। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রূপদান করেছেন শিলাজিৎ মজুমদার, অনিন্দ্য সেনগুপ্ত, মল্লিকা মজুমদার, প্রিয়ংকা গুহ, রাজেশ্বরী পাল, শশী গুহ, জুঁই বাগচি, অমিত চক্রবর্তী, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, মলয় রক্ষিত, প্রবাল মুখোপাধ্যায়, রোহিনী চট্টোপাধ্যায় এবং শ্রাবণী রায়। চিত্র গ্রহনের দায়িত্বে ছিলেন শান্ত্বনু দে। সম্পাদনা করেছেন লুব্ধক চট্টোপাধ্যায়। পরিচালক নিজেই লিখেছেন এ ছবির চিত্রনাট্য। সহযোগী চিত্রনাট্যকার শৌভিক দাশগুপ্ত এবং সর্বাশিস সরকার। ছবিটির সংগীত পরিচালক জয় সরকার। কন্ঠদান করেছেন অবর্ণা রায় এবং শ্রাবণী রায়। ছবিটির নিবেদক  ‘শ্রীমা ক্রিয়েশন’। মুখ্য প্রযোজক ‘প্যাস্টেল এন্টারটেইনমেন্টস অ্যান্ড মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’। সহ প্রযোজক ‘অ্যাডভার্ব মুভিজ প্রাইভেট লিমিটেড’। সহযোগিতায় ‘চেরিপিক্স মুভিজ প্রাইভেট লিমিটেড’। কলকাতা-সহ গিরিডি এবং বিহারের মধুপুরে শুটিং হয়েছে ছবিটির। বাণিজ্যিক ভাবে মুক্তির আগে, এখনও পর্যন্ত মোট ৮টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে ‘নীহারিকা’।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মুক্তি পেয়েছিল ইন্দ্রাশিস আচার্য-র প্রথম ছবি ‘বিলু রাক্ষস’। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত এবং প্রশংসিতও হয়েছিল ছবিটি। আর এই সাফল্যের সুবাদে তিনি তৈরি করার সুযোগ পান ‘পিউপা’। এই ছবিটিও একই ভাবে সাফল্য পায় ২০১৮ সালে। এর ঠিক দু’বছর পর অর্থাৎ ২০২০ সালে ‘দ্য পার্সেল’ ছবিটির মাধ্যমেও জনপ্রিয়তা পান ইন্দ্রাশিস। তবে এত সাফল্যের পরেও, চতুর্থ ছবি ‘নীহারিকা’ তৈরি করতে গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিচালক। কিন্তু সিনেমা তৈরি করার তাগিদ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারেননি, তাই আর্থিক সমস্যা কাটাতে শেষ পর্যন্ত অনেকের সাহায্য নিয়ে ছবির কাজ শেষ করেন ইন্দ্রাশিস। আর এবার ট্রেলার লঞ্চ উপলক্ষ্যে ছবির বাণিজ্যিক মুক্তির তারিখ আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা হল দক্ষিণ কলকাতা-র একটি ক্যাফে-তে। আগামী ২১ জুলাই মুক্তি পেতে চলেছে ‘নীহারিকা’(In the Mist)।

মেক-আপ থেকে অ্যালার্জির সমাধান (দ্বিতীয় পর্ব)

চিকিৎসা কী

অ্যালার্জি একটি মারাত্মক রোগ। এটি মানুষের শরীরে প্রচণ্ড অস্বস্তি তৈরি করে। প্রত্যেক মানুষের শরীরে এক একটি প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম থাকে। অ্যালার্জি দুই ধরনের হতে পারে। একটি হল irritant connecting dermatitis (আইসিডি) এবং অন্যটি হল অ্যালার্জিক connecting dermatitis (এসিডি)

  • মেক-আপের পর অ্যালার্জি দেখা দিলে সর্বপ্রথম মুখ জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে মুখে বরফ ঘষুন, যাতে ত্বক রিল্যাক্স হতে পারে। কিন্তু তাতেও যদি আরাম না হয় তাহলে অ্যান্টি অ্যালার্জি মেডিসিন নেওয়া শুরু করতে হবে, সেইসঙ্গে ১ শতাংশ হাইড্রোকর্টিসন ক্রিমও অ্যাপ্লাই করতে হবে। ২-৩ দিনের মধ্যে যদি অ্যালার্জি না ঠিক হয়। তাহলে অবশ্যই ডার্মাটোলজিস্ট দেখাতে হবে
  • ডার্মাটোলজিস্ট মাইল্ড ময়েশ্চারাইজার প্রেসক্রাইব করেন
  • ট্রপিকাল স্টেরয়েডস ক্রিম প্রেসক্রাইব করেন কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তবেই এই ক্রিম লাগানো উচিত
  • অ্যান্টি অ্যালার্জি ট্যাবলেট-ও দেওয়া হয়
  • বেশ কিছুদিন কেমিক্যালস, ফেসিয়াল, ব্লিচ না করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়
  • কসমেটিক সিরিজ-এর প্যাচ টেস্ট করানো হয়, যাতে বিউটি প্রোডাক্টের কোন উপাদান থেকে অ্যালার্জি হচ্ছে সেটা জানা যায়
  • অ্যালার্জির জন্য ঠোঁট বা ত্বকের পিগমেনটেশন হ্রাস করতে টাইরোসিনেস ইনহিবিটর দেওয়া হয়
  • অ্যালার্জি ঠিক হয়ে যাওয়ার পরেও বিশেষ কিছু স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টস লাগাতে পরামর্শ দেওয়া হয়
  •  চিকিৎসা চলাকালীন এটি বন্ধ করা উচিত নয়।

বিশেষ খেয়াল রাখুন

ওয়াটার বেসড মেক-আপ ব্যবহার করুন

চোখের অ্যালার্জিতে মেক-আপ এড়িয়ে চলুন

মেক-আপ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়

মাশকারা শুধু চোখের উপরের পাতায় লাগান

বিউটি প্রোডাক্ট কেনার সময়, শুধুমাত্র ৫-৬টি উপাদান রয়েছে এমন প্রোডাক্ট বাছুন। কারণ যত বেশি উপাদান থাকবে অ্যালার্জি হওয়ার ভয়ও তত বেশি থাকবে

মেক-আপ কিট কেনার আগে সামান্য পরিমাণ নিয়ে কানের পিছনের ত্বকে লাগিয়ে রাখুন অন্তত ৪৮ ঘণ্টা। যদি কোনও রকম প্রতিক্রিয়া হয় তাহলে পণ্যটি কেনা থেকে বিরত থাকুন

সুগন্ধী এবং প্যারাবেন ফ্রি বিউটি প্রোডাক্ট বাছুন

পারফিউম বা বডি স্প্রে সরাসরি ত্বকে ব্যবহার না করে পোশাকে ব্যবহার করুন

যখন নতুন কোনও বিউটি প্রোডাক্ট ট্রাই করবেন, সবথেকে আগে ২-৩ দিন পর্যন্ত কনুই-এর নীচে লাগিয়ে ট্রাই করুন। এই টেস্ট করলে অ্যালার্জি হচ্ছে কিনা বুঝতে পারবেন

অ্যালার্জি রোধ করতে মাইল্ড ক্লিনজার ব্যবহার করে মেক-আপ রিমুভ করুন। মেক-আপ লাগিয়ে শোবেন না, এতে পোরস ক্লগ হয়ে যাবে এবং সেইসঙ্গে অ্যালার্জিও হতে পারে

এক্সপায়ারি ডেট দেখে বিউটি প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন

মাঝেমধ্যে মেক-আপ কিটস অ্যালকোহল প্যাড দিয়ে পরিষ্কার করুন। সঙ্গে ব্রাশগুলো পরিষ্কার করতেও যেন ভুল না হয়

পুরোনো প্রোডাক্ট ব্যবহার করবেন না

ত্বক যদি স্পর্শকাতর হয়, তাহলে ডার্মাটোলজিস্ট-কে জিজ্ঞেস করে বিউটি প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন।

ই-কমার্স ও বাজেট শপিং (শেষ পর্ব)

যে-সমস্ত ই-কমার্স সংস্থা নকল ব্র্যান্ড-এর জিনিস বিক্রি করে না, তাদের থেকে কেনা জিনিসও অনেক সময় ফেরত দেবার প্রয়োজন হতে পারে। কারণ, ছেঁড়া কিংবা মাপে ছোটো জামাকাপড়, ত্রুটিযুক্ত কোনও ইলেক্ট্রনিক্স জিনিসপত্র প্রভৃতি অনেক সময় বদলে ঠিকঠাক জিনিস নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু অনলাইন কেনাকাটায় একবার যদি কোনও জিনিস ত্রুটিযুক্ত বেরোয়, তাহলে বিশাল ঝামেলার ব্যাপার। প্রথমে চিঠি লিখতে হবে, নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সেই অভিযোগ-পত্র পাঠাতে হবে ই-কমার্স সংস্থার কাছে এবং এরপর ধৈর্য নিয়ে কার্যসিদ্ধির অপেক্ষায় বসে থাকতে হবে। আর দামি জিনিস সহজে যদি বদলে না নেওয়া যায়, তাহলে আইনি সাহায্য নিয়ে সেই জিনিস আদায় করাও খুব কঠিন কাজ। অর্থাৎ, অনলাইন কেনাকাটায় যেমন বিশেষ কিছু সুবিধা পাওয়া যায়, ঠিক তেমনই সতর্কতা অবলম্বনও জরুরি।

বিশেষ পরামর্শ

যখনই কোনও জিনিস কেনার কথা মনে হবে সেটি একটি ফর্দ-তে আপডেট করতে থাকুন। সময়ের আগেই কি আপনার সব টাকা খরচ হয়ে যায়? এখনও পর্যন্ত আপনি কোনও টাকা বাঁচাতে পারেননি? তাহলে আমাদের দেওয়া এই সাধারণ টিপসগুলি আপনার দৈনন্দিন জীবনে মেনে চলুন। দেখবেন কিছু না কিছু আপনি বাঁচাতে পারছেন।

) ভালো একটি প্ল্যান বানান

কি খুব আশ্চর্য হচ্ছেন তো? জেনে রাখুন, শপিং করতে যাওয়ার ঠিক আগেই কখনও ডিসাইড করবেন না কী কিনবেন দোকান থেকে। বরং যখনই কিছু কেনার কথা মনে হবে, একটি ফর্দ-তে সেটি আপডেট করতে থাকুন। দোকানে গিয়ে সেটি চোখে পড়লেই কিনে ফেলুন প্রয়োজন অনুযায়ী এবং সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচান।

) কেনার কী কী আছে সেই হিসেব মতো লিস্ট বানান

যা যা কেনার আছে সেগুলি গ্রুপে ভাগ করে নিন। এতে বুঝতে পারবেন কোন দোকানে গেলে কোন জিনিস পাবেন এবং মোট ক’টা আলাদা আলাদা দোকানে আপনাকে যেতে হবে। এই প্ল্যানিং করা থাকলে আপনার টাকা ও সময় দুটোই বাঁচবে। যেমন মুদির দোকানের আলাদা, সবজির দোকানের আলাদা লিস্ট— এইভাবে চাহিদাটাকে গুছিয়ে নিন।

) লিস্টটাকে এড়িয়ে যাবেন না

বিশেষ কারণের জন্য আপনি লিস্ট-টা বানিয়েছেন, সুতরাং সেটাই ফলো করুন। ফর্দ অনুযায়ী চললে আজেবাজে জিনিস কেনা আটকাতে পারবেন এবং অর্থেরও সাশ্রয় হবে।

) একমাত্র প্রয়োজনীয় জিনিসই একসঙ্গে অনেকটা কিনুন

বেশিরভাগই আমরা নানা অফার্স, ফ্রি গিফট বা একটার সঙ্গে আরেকটি ফ্রি ইত্যাদি লোভনীয় প্রস্তাব দেখে, কেনার সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস কিনে ফেলি। বরং ভ্যারাইটি জিনিস কিনুন যাতে দু’দিন পরেই জিনিসটির প্রতি আপনার বিতৃষ্ণা না আসে। সেইসঙ্গে, একসঙ্গে একই জিনিস একগাদা কেনার ফলে জিনিসটির অপচয়ও হয় এবং বাজে টাকা খরচও হয়।

) এক সপ্তাহের প্রয়োজনের লিস্ট তৈরি করুন

রোজ কিছু না কিছু কিনতে দোকানে যাওয়ার বদলে আপনি পুরো সপ্তাহে কী কী লাগবে তার একটা লিস্ট তৈরি করুন এবং সেইমতো জিনিস কিনুন। নেক্সট কবে আবার শপিং করবেন সেটাও ঠিক করে নিন। এর ফলে বাড়িতে হঠাৎ কোনও জিনিস ফুরিয়ে যাওয়ার সমস্যায় আপনাকে পড়তে হবে না এবং একসঙ্গে বেশি জিনিস কিনলে কিছুটা সস্তায়ও জিনিস পাওয়া যায়।

) পিক আওয়ার্স শপিং করবেন না

যখন ভিড়ভাট্টা কম হয়ে যায়, তখনই শপিং করতে যান। এতে পেমেন্ট করার সময়ও সুবিধা হবে, ছোটো লাইনে দাঁড়াতে হবে। সাধারণত সন্ধের পর থেকে কিংবা রবিবারের দুপুরে শপিং করাটা এড়াতে পারলেই ভালো হয়। এই সময় বেশিরভাগ মানুষই দোকান বাজার করতে বেরোয় এবং ভিড়ের মধ্যে হামেশাই প্রয়োজনীয় জিনিসটাই আমরা কিনতে ভুলে যাই এবং ঠিকমতো দামাদামি না করে কেনার ফলে অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়ে যায়।

) শপিংএর লিস্ট সবসময় কাছে রাখুন

দোকানে পৌঁছে যাবার পর আমরা অনেক সময় বুঝতে পারি লিস্ট-টা বাড়িতেই ফেলে এসেছি। তাই শপিং করতে যাওয়ার আগে মনে করে লিস্ট-টা সঙ্গে রাখুন। যখন আপনার হাতে শপিং-এর জন্য সময় কম থাকবে তখন দেখবেন লিস্ট-টার থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। আর লিস্ট থাকলে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে বাজে খরচও হবে না।

(সমাপ্ত )

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব