কচুরি ও কোফতা

উত্তর ভারতীয় নোনতার বহু রকম আছে। বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে বিশেষ ধরনের নোনতা প্রস্তুত হয়। মুখরোচক এই সব নোনতা আমাদের বাঙালি জিভেও মন্দ লাগে না। শিখে নিন এই নোনতা তৈরির পদ্ধতি।

মখানা কচুরি

উপকরণ: ১/২ কাপ বাদাম ভাজা, ১/২ কাপ মখানা, ১ ছোটো চামচ গোটা ধনে, ৪ ছোটো চামচ হিং, ১৪ ছোটো চামচ কাশ্মীরি লংকাগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ কাজুবাদামকুচি, ভাজার জন্য রিফাইন্ড তেল, ২৫০ গ্রাম ময়দা, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: ১ চামচ তেল দিন প্যানে। বাদাম আর মখানা এই তেলে ভেজে নিন। সুগন্ধ বের হতে শুরু করলে গ্যাস অফ করে দিন ও ঠান্ডা করুন। এবার এই ভাজা মখানা আর বাদাম মিক্সিতে দিয়ে মিহি করে বেটে নিন। এতে ধনে, জিরে, হিং ও কাশ্মীরি লংকাগুঁড়ো দিয়ে ভালো ভাবে ব্লেন্ড করুন। এবার ওই মিশ্রণে দিন কাজুবাদাম, নুন ও ২-৩ ফোঁটা তেল। আবার মিক্সিতে পেস্ট করুন।

অন্য একটি পাত্রে ময়দা ঢালুন। এতে ময়ানের জন্য তেল, অল্প নুন আর জল দিন। ময়দা মাখতে থাকুন। সমান আকারের লেচি কেটে নিন মাখা ময়দা থেকে। এবার তৈরি করা মিশ্রণ থেকে অল্প পরিমাণে নিয়ে, ময়দার ভেতরে পুর হিসেবে ভরুন। পুরভরা লেচি বেলে নিন। কড়ায় তেল গরম করে, কচুরি ভেজে নিন। আচারের সঙ্গে পরিবেশন করুন। এগুলি এয়ারটাইট কন্টেনার এ স্টোর করতে পারেন অতিথিদের জন্য।

 

নার্গিসি কোফতা

Nargisi Kofta recipe

উপকরণ : ২০০ গ্রাম পনির, ১/৪ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, ১/৪ ছোটো চামচ গরমমশলা, এক চিমটে জোয়ান, এক চিমটে চাটমশলা, ১/২ কাপ বেসন, ভাজার জন্য তেল, নুন স্বাদমতো।

গ্রেভির জন্য: ২ ছোটো চামচ তেল, ২ ছোটো চামচ মৌরি, ২টো লবঙ্গ, ২টো এলাচ, ৭-৮টা পেপার কর্ম, ১/২ ছোটো চামচ জিরে, ২টো তেজপাতা, ১ ছোটো চামচ কসৌরি মেথি, ১/২ ছোটো চামচ গরমমশলা, ১১/২ কাপ দুধ, ১ কাপ জল, ১/৪ ছোটো কাপ ক্রিম, সাজানোর জন্য ধনেপাতা বা পুদিনাপাতা।

প্রণালী: একটা পাত্রে পনির ম্যাশ করে নিন। এতে হলুদগুঁড়ো, গরমমশলা, জোয়ান, চাটমশলা, বেসন ও নুন দিয়ে ভালো ভাবে মেশান। এবার ভালো ভাবে চটকে বল তৈরি করুন। প্যানে তেল গরম করে, ডোবা তেলে কোফতাগুলো ভেজে নিন। ভাজা হলে আলাদা পাত্রে তুলে রাখুন।

এবার একটা ফ্রাইং প্যানে তেল গরম করুন। অন্য একটি কড়ায় মৌরি, লবঙ্গ, এলাচ ও গোলমরিচ দিয়ে একটু শুকনো অবস্থায় ভেজে নিন। আঁচ থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করুন ও বেটে নিন। ওদিকে তেল গরম করা ফ্রাইপ্যানে জিরে ফোড়ন দিন। তেজপাতা দিন। একটু গরমমশলা দিন এবং দুধ ঢেলে ফুটতে দিন। এই দুধে বেটে নেওয়া মশলাটা দিয়ে দিন। একটু জল ও কসৌরি মেথি দিন। এবার ৫ মিনিট রান্না হতে দিন।

মশলা ভালো ভাবে মিশে গেছে বুঝলে, এতে স্বাদমতো নুন দিন ও ক্রিম ঢেলে একটু নাড়াচাড়া করুন। গ্রেভি একটু ঘন হলে এতে কোফতাগুলো দিয়ে দিন। ধনেপাতা বা পুদিনাপাতা দিয়ে গার্নিশ করে সার্ভ করুন।

এক অন্যরকম ভালোবাসার গল্প ‘চিরসখা হে’

ভালোবাসার অনুভূতি জীবনকে বদলে দেয়। আর তাই ভালোবাসার আদানপ্রদানের মাধ্যমে জীবনকে করে তোলা যায় উপভোগ্য। কিন্তু এই ভালোবাসা কোন পথ ধরে কখন, কীভাবে অন্তরে প্রবেশ করে অন্তর আলোকিত করবে, তা আমরা কেউ জানি না। আসলে ‘চিরসখা হে’ ছবিটিও এমনই এক ভালোবাসার গল্পে আধারিত।

Actor Ishan Mazumder

ঈশান এক বনেদি বাঙালি পরিবারের তরুণ। ছোটোবেলায় নিজের বাবাকে হারিয়েছে সে। অনিবার্য কারণবশত, ঈশান এখন ওর মা এবং জেঠুর সঙ্গে গিয়ে বসবাস করছে উত্তরবঙ্গে। ওখানে ঈশানের আদিবাড়ি। জেঠু শিবাশিস পেশায় উকিল। ঈশান পেশায় ফ্রিল্যান্স ফোটোগ্রাফার। ভালো ছবি তোলে। শুধু তাই নয়, ভালো ছবিও আঁকে। অন্যদিকে তিলোত্তমার স্বামী মারা গেছেন বছর সাতেক আগে। শুধু তাই নয়, তিলোত্তমার ব্যক্তিজীবনে রয়েছে এক মর্মান্তিক সত্য। সময়ের কাছে প্রায় হার মেনে নেওয়া তিলোত্তমার কুয়াশাচ্ছন্ন জীবনে আচমকাই একদিন মিঠে রোদের মতো উপস্থিত হয় ঈশান। একতরফা ভালোবাসা, মান-অভিমান, এই সবকিছুর শেষে, সব বাধা অতিক্রম করে ঈশান এবং তিলোত্তমার ভালোবাসা সম্পূর্ণতা পাবে কিনা, তা-ই ‘চিরসখা হে’ ছবির ক্লাইম্যাক্স।

Film Chirasakha Hey
Tanusree Chakraborty

কলকাতায় আনুষ্ঠানিক ভাবে ট্রেলার লঞ্চ করার আগে, ‘চিরসখা হে’ ছবির বিষয়ে বিশদে জানানো হল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। ছবিটির পরিচালক অর্ঘ্যদীপ চট্টোপাধ্যায়। পরিচালক নিজেই লিখেছেন এই ছবির কাহিনি। চিত্রনাট্য এবং সংলাপ লিখেছেন অভীক রায় এবং সুজয়নীল বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবিটির চিত্রগ্রাহক শুভদীপ নস্কর। সম্পাদক অনির্বাণ মাইতি। সংগীত পরিচালক সৌম্য-ঋত। বিভিন্ন চরিত্রে রূপদান করেছেন ঈশান মজুমদার, তনুশ্রী চক্রবর্তী, মিঠু চক্রবর্তী, বরুণ চন্দ প্রমুখ। ছবিটির শুটিং হয়েছে উত্তরবঙ্গের মিরিকে। ‘৬৯ ক্রিয়েটিভ এন্টারটেইনমেন্ট’  -এর ব্যানারে, ছবিটি পরিবেশন করতে চলেছে ‘মেজোপ্লেক্স এন্টারটেইনমেন্ট’।

পরিচালক অর্ঘ্যদীপ এর আগে প্রেমের ছবি তৈরি করেননি, তাই এমন একটি প্রেমের ছবি তৈরি করতে পেরে তিনি ভীষণ খুশি বলেও জানিয়েছেন। তবে প্লেটোনিক লভ গুরুত্ব পেয়েছে কিনা কাহিনিতে, তা জানা যাবে ছবির শেষে। ছবিটির সাফল্যের বিষয়ে পরিচালক এবং অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ভীষণ আশাবাদী।

পিরামিড (প্রথম পর্ব)

অঘটন বিভিন্ন রকমের হয়। সবই যে শরীর ধ্বংস করে বা হাত পা মাথা কাটে এমন নয়, মাঝে মাঝে এই অঘটন একটা অদ্ভুত আনন্দও দেয়। আনন্দের ধারণাটাও আপেক্ষিক, তাই একই ঘটনা এক পরিবারের একজনকে আনন্দিত করলেও অন্য আরেকজনকে দুঃখিত করে। সমস্যা হল এই দুঃখ আবার প্রকাশ করা যায় না, ঠিক যেমন রূপার হল।

ক্লাস টুয়েলভে পড়বার সময় একদিন রান্নাঘরে মায়ের সঙ্গে বাবার গুজুরফুসুর কানে এল। ব্যাপারটা একটু গোলমেলে ঠেকল। জ্ঞান হওয়ার পর থেকে কোনওদিন এইভাবে বাবা-মা আড়ালে ফিসফাস করেছে বলে কোনও কিছু চোখে পড়েনি। আর পড়বেই বা কী করে— তিনজনের সংসারে ঝামেলা বলতে শুধুমাত্র স্কুল আর অফিসের ভাত দেওয়া নিয়ে। তাও তো অর্ধেক দিন বাবাকে আগের দিনের রান্নাই গরম করে দেয়। বাবা অম্লান মুখে খেয়ে নেয়। মায়ের টুকটাক ঠুসঠাস যা হয়, তা রূপার সঙ্গে।

সরাসরি মা বা বাবাকে তো জিজ্ঞেস করা যায় না, তোমরা কী সব চুপিচুপি আলোচনা করছিলে? বাবা চুপ থাকলেও মা হয়তো রেগে যাবে। তাই জানার ইচ্ছে থাকলেও চুপ করেই থাকতে হল। কয়েকদিন পরেই অবশ্য সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেল।

স্কুল থেকে ফেরবার সময় কমার্স সেকশনের অমৃতা বেশ হাসি হাসি মুখ করে বলল, কী রে খবরটা দিসনি তো?

কথাটা শুনে চমকে উঠেছিল রূপা। চয়ন মানে চাঙ্কির সঙ্গে ঘোরাঘুরি নিয়ে অনেকেই জিজ্ঞেস করে। রূপা উত্তরও দেয় আবার দেয়ও না। তবে অমৃতাকে খুব স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন করে, কোন খবরটা রে?

—সে কী রে, তোর নাকি ভাই বা বোন হবে? বেশ ভালো, তবে এজ গ্যাপটা একটু বেশি হয়ে যাবে।

রূপা এবার বিরক্তি নিয়ে বলে উঠল, কী বাজে বকছিস?

—বাজে নয় কাজের কথাই বলছি, তুই খবর না দিলেই বা কী! আমি ঠিক খবর পেয়ে গেছি। কবে ট্রিট দিবি বল?

আকাশ থেকে পড়ল রূপা, চারপাশটা দেখে গম্ভীর ভাবেই বলে উঠল, তোকে কে বলল?

—মা-বাবা আলোচনা করছিল, আমি শুনেছি। তোর মা আমার মাকে বলেছে।

সব শুনেও রূপা কিছু সময় কোনও কথা বলতে পারল না। রাস্তার একপাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকল, তাহলে গুজুরফুসুর মানে এইসব। কয়েক সপ্তাহ আগে বাবা অফিস কামাই করে মা-কে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে গেছিল, তার মানে ভিতরে ভিতরে এতদূর সবকিছু হয়ে গেল, আর কিছুই জানা গেল না। নিজের ওপরেই রাগ হল রূপার। অমৃতাকে বলল, আমার একটু তাড়া আছে। তারপরেই তাড়াতাড়ি সাইকেল চালিয়ে বাড়ির দিকে চলে গেল।

বাড়ি পৌঁছে নিজের ঘরে ঢুকতেই চোখ ফেটে জল এল। কারওর সঙ্গে কোনও কথা না বলে দরজা বন্ধ করে সন্ধে পর্যন্ত বসে রইল। মাঝে মা কয়েকবার এসে, কী হয়েছে? কেন এমন করছিস? এসব জিজ্ঞেস করল। স্কুলে বা টিউশনে কোনও কিছু হয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করল। রূপম নামের সেই ছেলেটা আর বিরক্ত করছে কিনা তাও জিজ্ঞেস করল।

সব প্রশ্নেরই এক উত্তর, না, কিছু হয়নি। কেউ কিছু করেনি। তুমি যাও। সন্ধের পর বাবা এসেও জিজ্ঞেস করল কিন্তু এবারেও উত্তর পেল না।

সমস্যা আরও বাড়ল। খেতে বসবার সময়। রূপা প্রথমে তো আসতেই রাজি হচ্ছিল না। পরে বাবার কথা শুনে খাবার টেবিলে এলেও খাবার নিয়ে বসে রইল। বাবা-মা দুজনে গিয়ে মাথায় গায়ে হাত বুলিয়ে দিতে, রূপার দুচোখ দিয়ে জল নেমে এল।

কিছুসময় পর রূপা কাঁদতে কঁদতেই বলে উঠল, আমার নাকি ভাই-বোন কিছু একটা হবে?

—কে বলল তোকে? কথাটা মা কিছুক্ষণ চুপ থাকবার পর বলল।

—কে বলল জানতে হবে না। সত্যি না মিথ্যা সেটা বলো।

বাবা এবার লম্বা একটা শ্বাস ছেড়ে উত্তর দিল, হ্যাঁ, চারমাস চলছে।

—আর ইউ ম্যাড, অর স্যাভেজ ইললিটারেট?

মা কোনও উত্তর না দিয়ে গালে এক চড় কষিয়ে দিল। আচমকা আসা এই আঘাতে প্রথমে হকচকিয়ে গেলেও কিছুসময় পরেই গালে হাত বোলাতে বোলাতে রূপা বলে উঠল, আমাকে চড় মারলে কিন্তু পাড়ার সবাই, ফ্ল্যাটের সবাই? ছিঃ ছিঃ করছে তোমাদের। কজনকে চড় মেরে মুখ বন্ধ করবে।

সেই রাতে আর কারওরই খাওয়া হল না। পরেরদিন সকালে উঠেই বাবা রূপাকে চায়ের টেবিলে ডেকে বলল, দেখ তুই বড়ো হয়ে গেছিস। আজকের যুগের মেয়ে তুই, আসলে ঘটনাটা খুবই সাডেন। এমনকী তোর মা পর্যন্ত বুঝতে পারেনি।

—বোকা বোকা কথা বোলো না বাবা। তুমি বুঝতে পারোনি দ্যাটস ওকে, বাট মা!

—তোর মায়ের একটা প্রবলেম আছে সেটা তো জানিস। তোর সঙ্গে ডাক্তারও দেখাতে গেছিল।

—আমি বুঝতে পেরেছি কি পারিনি, সেটা তোকে বলব না। তোর আমি ইয়ার দোস্ত না। আমরা মা-কাকিমাদের কখনও এইসব কথা বলবার সাহস পেতাম না। কথাগুলো একটু চিবিয়ে চিবিয়ে বলে উঠল মা।

—তোমাদের কথা আলাদা মা।

—আলাদা মানে কি? মা-বাবার সঙ্গে এইসব কথা বলা?

—তোমরা কি এইসব কথা বলবার জন্য আমাকে ডাকলে, তাহলে আমি আসছি, কাজ আছে।

—কাজ মানে তো ফোনে ফটর ফটর করা।

—আমার এটাই বয়স। যে-বয়সে যেটা মানায়, সেটাই করতে হয়।

বাবা কিছুসময় চুপ থেকে মা-মেয়ের কথা শুনছিল। রূপার কথা শেষ হতেই বাবা বলে উঠল, ঠিক আছে, এবার বল তোর মতামত কী?

—হোয়াই শুড আই বাবা? ইউ হ্যাভ নট আস্কড মি বিফোর ডুইং দ্যাট।

—তা না, আমরা তো, মানে ব্যাপারটা একটা দুর্ঘটনা।

—দুর্ঘটনা! হাউ ফানি বাবা, দুর্ঘটনা মেড মাই মাদার প্রেগন্যান্ট।

—শোন ব্যাপারটা ঠিক ওইরকম নয়। আসলে আর বছর তিন পরে তোকে বিয়ে দিতে হবে, তার পরে তো আমরা একা।

—ইজ ইট এনি এক্সকিউজ? আমার বিয়ের পরে তোমার জামাই আসবে। কোথাও তো লেখা নেই বিয়ের পর মেয়েরা বাবা-মা-কে দেখবে না। তাছাড়া আমি বিয়ে করব কিনা সেটাও ঠিক নেই। তোমরা এত কিছু ভেবে এই বয়সে এরকম করে ফেললে?

—শোনো, মেয়ের কথা শোনো, তোমার প্রশ্রয়ে আজ এইরকম অবস্থা। আমার না হয় ভাই বোন নেই কিন্তু তোমার তো আছে। বুগি তোমার থেকে কত ছোটো?

—মা, ননসেন্সের মতো কথা বলো না। বুগি বাবার থেকে এগারো বছরের ছোটো, না জ্যাঠা বাবার থেকে বারো বছরের বড়ো, এটা নিয়ে কোনও কমপ্যারিজন হয় কি?

—ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া মেয়ে বলে কথা, বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলবার বহর শোনো।

—মা, আমার শিক্ষা আমাকে তোমাদের সামনে এইভাবে কথা বলতে শিখিয়েছে। আর পৃথিবীর কোথাও লেখা নেই সন্তান হলে বাবা-মায়ের ভুল বলা যাবে না।

শেষের কথাগুলো বলেই ব্রেকফাস্টের টেবিল ছেড়ে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল রূপা। বাবা একভাবে দরজার দিকে কিছুসময় তাকিয়ে থেকে আবার একটা জোরালো শ্বাস ছেড়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, কী হয়ে গেল বলো তো?

—তুমি বলো। তখন বারবার বারণ করেছিলাম, এখন সামলাও।

 

আপনি কি emotionally স্ট্রং? (শেষ পর্ব)

অন্যের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকবেন না

আপনি নিজেকে সবচেয়ে বেশি চেনেন। তাই আপনি ঠিক না ভুল সেটা অন্য লোকে বলবে সেই অপেক্ষায় থাকবেন না। আপনি সর্বাঙ্গীণ ভাবে সুন্দর। ভেতরে এবং বাইরে। তাই অন্য কারও মুখ থেকে আপনার সম্পর্কে তার মতামত শোনার বদলে, নিজের জাজমেন্ট-এর উপর ভরসা রাখুন।

বাইরে আনন্দের উপকরণ খুঁজবেন না

আমরা অনেক সময়ই মনে করি যে, আনন্দে থাকার জন্য আমাদের বাহ্যিক কোনও কারণ দরকার। এর ফলে কোনও ব্যক্তি বা নেশার প্রতি নির্ভরতা তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু মনে রাখুন, প্রকৃত আনন্দ নিজের ভেতরেই সঞ্চিত থাকে, এর জন্য বাহ্যিক কোনও খুশিকে আঁকড়ে ধরতে যাবেন না। মনের ভেতরে ভাবনার সৌন্দর্য না থাকলে, আনন্দে থাকা মুশকিল। একমাত্র হেলদি মাইন্ড-ই আপনাকে অনাবিল আনন্দ দিতে পারে।

নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরোন

চোরা ছিদ্র দিয়ে জল না ঢুকলে কোনও নৌকোই ডোবে না। তাই মেনে নিতে চেষ্টা করুন আপনার প্রেম ভেঙে যাওয়ার মূলে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা নিশ্চয়ই ছিল। সে ঘটনার জন্য কে দায়ী ভেবে সময় নষ্ট করবেন না। যা ঘটেছে তা নিশ্চয়ই আপনাকে ভালো কিছুর দিশাই দেখাবে। অভিজ্ঞতা- তা সে ভালোই হোক বা খারাপ, সবসময় সেগুলো থেকে শিক্ষা নিন। অপ্রীতিকর ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন। মানুষ আমাদের তাদের ব্যবহার দিয়ে আঘাত করে। তার মানে এই নয় যে, হতাশা আঁকড়ে আপনি দিন কাটাবেন। মনে রাখুন আপনার যোগ্য নয় সেই মানুষটি, যে আপনাকে আঘাত দেওয়ার কথা ভেবেছে। মানুষ চেনার এর চেয়ে বড়ো সুযোগ আর হয় না।

নিজের সঙ্গ উপভোগ করুন

যে-কোনও সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরেই, চোট আঘাত ভুলতে আবার একটা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা ঠিক নয়। নিজেকে সময় দিন। নিজেকে ভালোবাসুন। নিজের প্যাশনকে আমল দিন। এর ফলে নেতিবাচক ভাবনাগুলো থেকে আপনি বেরোতে পারবেন এবং একসময়ে দেখা যাবে আপনি নিজের কম্প্যানি উপভোগ করা শুরু করেছেন। কাউকে আর আপনার প্রয়োজান হবে না ইমোশনালি নির্ভর করার জন্য।

একা সিনেমা দেখতে যাওয়া বা গানের প্রোগ্রামে যাওয়া যতই অস্বস্তিকর ঠেকুক, প্রাথমিক জড়তা কাটিয়ে এটা করতে পারলেই দেখবেন নিজের সঙ্গ আপনার আর খারাপ লাগবে না।

হারিয়ে যাওয়া প্যাশন

আপনার হারিয়ে যাওয়া শখগুলোকে নতুন করে আমল দিন। বই পড়ুন, নাচের ক্লাস অ্যাটেন্ড করুন। ভালো গান শুনুন, রান্না করুন, রেস্তোরাঁয় খেতে বেরোন। এক নতুন ‘আপনি’কে আবিষ্কার করবেন শিগগিরি।

নব পরিণয় (শেষ পর্ব)

—বিয়ে তো কখনওই স্থগিত করা যাবে না। পরিষ্কার জানিয়ে দিল সঞ্জয়। তবে বিয়ের জন্য চাকরি ছেড়ে দাও বা চাকরির জন্য বিয়ে, এর কোনওটাই আমি বলব না। কারণ আমি চাই না তোমার নিজের এই সিদ্ধান্তে সারাজীবন পস্তাতে থাকো। নমিতা, জীবনে সবকিছু নিজের ইচ্ছেমতো হয় না বা করা যায় না। পরে গিয়ে তোমার মনে হতেই পারে, এই কাজটা যদি সেদিন না করতাম তাহলে আজ আমাকে এই দিন দেখতে হতো না। এই চিন্তা তোমার ভবিষ্যৎ নরক করে তুলতে পারে। সঞ্জয় নমিতাকে বুঝিয়ে বলে।

—তাহলে আমি এখন কী করব? নিজেকে এতটা অসহায় আগে কোনওদিন মনে হয়নি নমিতার।

—বিয়ে করে আমিও তোমার সঙ্গে আমেরিকা চলে যাচ্ছি। হনিমুনে কোথাও তো যেতেই হতো, তাহলে আমেরিকা নয় কেন? তুমি নিজের কাজ কোরো আর আমি আমার ব্যাবসা সংক্রান্ত কাজগুলো করে নেব। এখানকার ফ্যাক্টরি ছেড়ে যতদিন আমার পক্ষে থাকা সম্ভব ততদিন থেকে যাব তারপর দেশে ফিরে তোমার ফিরে আসার অপেক্ষা করব।

—কিন্তু তাতে তো সময় লাগবে। বিয়ে পরই এভাবে আলাদা থাকা কি ভালো দেখাবে?

—ঠিকই বলেছ কিন্তু পরিস্থিতি বিচার করে যা মনে হচ্ছে তাতে এক কাজ করতে পারো। কোম্পানির কাজ তুমি কতদিনের মধ্যে সেরে ফেলতে পারবে তা একবার ভালো করে ভেবে দ্যাখো। তারপর কোম্পানিকে জানাও এতদিনের মধ্যে তুমি ওদের কাজ করে দিতে পারবে এবং কাজ শেষ হলে একদিনও তুমি আর আমেরিকায় থাকবে না।

এর মধ্যে সময় সুযোগ হলে আমিই চলে যাব তোমার কাছে, কিছুদিন কাটিয়ে আসব। তোমার সুযোগ হলে নিজের খরচাতেই তুমি চলে আসতে পারো। এটা হচ্ছে মানিয়ে নেওয়ার যুগ নমিতা, গম্ভীর হয় সঞ্জয়। পরিস্থিতি বুঝে সেইমতো নিজেকে মানিয়ে নেওয়াই এখন চলার রাস্তা, সেখানে ব্যক্তিগত অহং দেখাবার কোনও পথ নেই। সময়ে হিসেবটা যদি একবার বুঝতে পারো তাহলে দেখবে সময় তোমার অনুকূলেই চলছে।

—তুমি ঠিকই বলেছ সঞ্জয়। কিন্তু আর সকলে আমাদের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবে কি! আশঙ্কা কাটাতে পারে না নমিতা।

—সকলে বলতে যদি দুটো পরিবার আর তোমার অফিসের কথা বলো, তাহলে পরিবারের সকলকে বোঝাবার দাযিত্ব আমার আর তোমার স্বামী যদি নিজের খরচে তোমার সঙ্গে আমেরিকা যায় তাহলে অফিসে কারও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। পল্লবী ম্যাডামের সঙ্গে কথা বলে দ্যাখো ওনার কি প্রতিক্রিয়া হয়। তারপর চিন্তা করা যাবে, বলে সঞ্জয় উঠে দাঁড়াল। ফ্যাক্টরির কাজ মধ্যেখানে ছেড়ে চলে এসেছি।

পল্লবী নমিতার সব কথা মন দিয়ে শুনল। অফিসে এর আগে এরকম ঘটনা কোনওদিন ঘটেনি তাই অফিসরুলস-এ কিছু দেওয়া নেই। তবে এটাতে ম্যানেজমেন্ট কীভাবে রিয়্যাক্ট করবে সেটা এখনি বলতে পারছি না নমিতা। তবে সঞ্জয় যেটা বলেছে তাতে আমার নিজের মত আছে। নমিতার শুকনো মুখ দেখে পল্লবী সান্ত্বনা দেয়, তোমাকে আশ্বাস দিচ্ছি নমিতা আমার পক্ষে যতটা সম্ভব তোমায় সাহায্য করব। ম্যানেজমেন্টকে বোঝাব সঞ্জয়ের মতো জীবনসঙ্গী, চাকরির খাতিরে ছেড়ে দেওয়াটা ঠিক হবে না। সেটা যেমন বোকামি হবে তেমনি কোম্পানিকেও বুঝতে হবে তোমার মতো কর্মীকে ছাড়িয় দেওয়াও তোমার প্রতি অন্যায় করা হবে। তোমাকে অবশ্যই চান্স দেওয়া উচিত।

পল্লবীর প্রচেষ্টায় ফার্স্ট জুনের জায়গায় এক সপ্তাহ পরে স্বামীর সঙ্গে আমেরিকা যাওয়ার অনুমতি পেয়ে গেল নমিতা। কিন্তু ওকে বন্ড সই করতে হল যে আমেরিকার অফিস যতদিন না ঠিকমতো কর্মক্ষম হচ্ছে, ততদিন নমিতা কোনও ছুটি নিতে পারবে না এবং দেশে ফিরেও একটা সময়সীমা অবধি ওকে অফিসে থাকতে হবে, অফিস ছাড়তে পারবে না।

—চাকরি যখন করতেই হবে তখন বন্ড সই করে দাও কিন্তু একটা শর্তে যে তুমি মেটারনিটি লিভ নিতে পারবে। বিয়ে যখন হবে তখন সন্তান তো আসবেই আর সেটা সঠিক সময় আসা দরকার। সঞ্জয় পরামর্শ দিল।

নমিতা শর্তের কথা পল্লবীকে জানাল।

—মেটারনিটি লিভ নেওয়া তো আমাদের জন্মসিদ্ধ অধিকার নমিতা। পল্লবী হাসল!

—ওটা পেতে কোনও অসুবিধা হবে না। তবে এই অধিকারের অপব্যবহার আমেরিকায় থাকাকালীন দয়া করে কোরো না।

ওদের সিদ্ধান্ত অর্থাৎ নমিতা আর সঞ্জয়ের মত নিয়ে পরিবারের লোকজন কিছুটা অখুশি হলেও সঞ্জয়ের বোঝানোতে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠল। আমেরিকা যাওয়ার প্রস্তুতি আর বিয়ে বাড়ির জমজমাট পরিবেশ নমিতার মনের সব শঙ্কা এবং চিন্তা দূর করে দিল। ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্নে নমিতার বর্তমান স্বর্ণালি আভায় ঝলমল করে উঠল।

( সমাপ্ত )

নব পরিণয় (পর্ব-০৪)

—তুমি ঠিকই বুঝেছ নমিতা, আমেরিকা যাওয়া তো অনিবার্য কারণ এটা চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত আর ওনাকে তো জানোই, ওনার আদেশ কেউ অমান্য করলে সেটা উনি অপমান বলেই ধরে নেন। ওনার আদেশ না শুনে কোম্পানিতে থাকার থেকে কোম্পানি ছেড়ে চলে যাওয়া ভালো হবে, সপাট উত্তর পল্লবীর।

—আপনি যেটা ভালো মনে করেন ম্যাডাম, ধীর স্বরে উত্তর দিল নমিতা। কিছু পেতে গেলে কিছু তো হারাতেই হয়।

নমিতার উত্তর শুনে পল্লবী ভিতরে ভিতরে চমকালেও বাইরে ব্যক্তিত্ব বজায় রেখে নমিতার দিকে এমন ভাবে তাকাল যেন ওকে দেখে পল্লবীর দয়া হচ্ছে।

—নমিতা এমনও তো হতে পারে, এখন একটা আবেগের বশে সবকিছুই তুমি হারিয়ে ফেললে। তোমার কথা শুনেই মনে হয়েছে সঞ্জয় তোমাকে পছন্দ করেছে তুমি চাকরি করো বলে। এখন যদি এত বড়ো পদের চাকরি ছেড়ে দিয়ে কেরিয়ার বিসর্জন দিয়ে সাধারণ মেয়েের মতো গৃহবধূ হয়ে যাও, তাহলে তো সঞ্জয়ের তোমাক বিয়ে করারই আর কোনও কারণ থাকবে না। যাই-ই সিদ্ধান্ত নাও না কেন খুব ভেবেচিন্তে নিও। চট করে কোনও কাণ্ড ঘটিয়ে বোসো না। আজ বরং তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে যাও, পল্লবী বলল।

নমিতা তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে এল। পল্লবীর কথাগুলো ওর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল, সত্যিই তো ম্যাডাম তো ঠিকই বলেছেন। সঞ্জয় পরিষ্কারই বলে দিয়েছিল ওর ঘরোয়া নয়, কেরিয়ার মাইন্ডেড বউ চাই। বিয়ে জন্য কেরিয়ার নষ্ট করা সঞ্জয় পছন্দ করবে না আবার বিয়ে দিন পিছিয়ে দিতেও দুই পরিবারের কেউই রাজি হবে না। টাকাকড়ি খরচ করে সব হল, ক্যাটারার অগ্রিম বুক করা হয়ে গেছে। নমিতা কী করবে ভেবে দিশেহারা বোধ করছিল। বাড়িতে মা-বাবাও কেউ ছিলেন না। নমিতা মনের বোঝা হালকা করতে ছোটো ভাইয়ে ঘরে ঢুকে দেখল ও পড়ায় ব্যস্ত রয়েছে। দিদিকে ঢুকতে দেখে নিখিল জিজ্ঞাসু চোখে নমিতার দিকে তাকাতে নমিতা ভাইকে সব খুলে বলল।

—দিদি, তোর পল্লবী ম্যাডাম তোর ইমোশন, তোর পার্সোনাল লাইফটাকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়ে তুই অফিসে কী করে কাজ করবি শুধু তাই নিয়ে চিন্তা করছে আর এদিকে সঞ্জয়েরও তোর থেকে বেশি তোর চাকরিটাই পছন্দ অর্থাৎ তোর খুশি, আনন্দ, ইমোশনের কারও কাছেই কোনও দাম নেই। নিখিল কিছুটা চিন্তা করেই কথাগুলো বলল।

—তাহলে তুই বা কেন এই হৃদয়হীন লোকগুলোর সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে নিজের জীবনটাকে নষ্ট করবি? ছেড়ে দে চাকরি আর এটা যদি সঞ্জয়ের পছন্দ না হয়, তোর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে দিতে চায় তাহলে ভাঙতে দে। এই স্বার্থপর লোকগুলোর জন্য বৃথা জীবন নষ্ট করিস না। আজ নয়তো কাল ঠিক আবার চাকরি পাবি এবং যোগ্য বর জুটতেও সময় লাগবে না।

নমিতা জিজ্ঞেস করতে চাইছিল, এটার কী গ্যারান্টি যে ও আবার মনের মতো পাত্র পাবেই? এরকম না হয় যে ব্যক্তিগত অহংকার বজায় রাখার চক্করে রেণুদিদির মতো একলা চলো রে-র রাস্তাই ওকে বেছে নিতে হল। মনে মনে শিউরে উঠল নমিতা। ও জানে আমেরিকা না গেলে বা চাকরি ছেড়েও দিলে ওর মা-বাবা বা শ্বশুর-শাশুড়ি বিন্দুমাত্র রাগ করবেন না। আপত্তি যদি কারও থাকে সঞ্জয়েরই থাকতে পারে। নমিতা কিছুক্ষণ চিন্তা করল, ঠিক করল সঞ্জয়ের সঙ্গে সরাসরি এ বিষয়ে কথা বলবে। ফোনে সঞ্জয়কে সবকিছু জানিয়ে নমিতা ওকে দেখা করার জন্য অনুরোধ করল।

আপনি কি emotionally স্ট্রং? (পর্ব- ১)

আবেগ প্রেমের গোড়ার কথা। কিন্তু এই আবেগই কি আপনার ক্ষতি করছে? আশেপাশে প্রেমের দিন ঘিরে উচ্ছ্বাস দেখে আপনি কি আরও বেশি মানসিক অবসাদের শিকার হয়েছেন? প্রেম ভেঙে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন? প্রেমের আবেগে এক একসময় আমরা ভুল মানুষকে নির্বাচন করে ফেলি। তারপর প্রেম ভেঙে গেলে নিজেকে সামলাতে সামলাতে বহু সময় ব্যয় হয়ে যায়। তাই প্রথমেই বলে রাখা ভালো যে, আবেগকে মাথায় চড়তে দেবেন না।

জীবনের এই পর্যায়ে এসে আপনাকে নিজেই নিজেকে সামলাতে হবে। তাই পুরোনো চোট-জখমের কথা ভেবে নিজেকে ওভারস্ট্রেস করবেন না। আপনি পৃথিবীটাকে বদলাতে পারবেন না। কিন্তু নিজেকে অবশ্যই বদলাতে পারেন। নতুন করে গুছিয়ে নিন জীবনটা। এখানে কিছু সাহায্যের টিপ্‌স দেওয়া হল।

নিজের প্রতি বিশ্বাস

আপনার প্রেম ভেঙে গেছে মানেই নিজেকে আন্ডার এস্টিমেট করার প্রয়োজন নেই। নিজের যোগ্যতা, সৌন্দর্য ও প্রতিভার ব্যাপারে আপনার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনুন। মনে করুন, আপনাকে যে অস্বীকার করেছে, সেটা তার অক্ষমতা ছিল, আপনার নয়। এটা ভাবতে শুরু করলেই দেখবেন, আশেপাশে যদি আপনাকে নিয়ে সমালোচনাও হয়, আপনার তাতে কিছুই এসে যাবে না। সবসময় ভাবার চেষ্টা করুন, আপনি স্বতন্ত্র। অন্য কারও সঙ্গেই আপনার তুলনা চলে না।

অবসাদের কারণকে দূরে সরান

এটা আপনার জীবন, আপনারই অধিকার আছে এটার উপর। কারও ছেড়ে চলে যাওয়াতে আপনার চলা থেমে যাবে না, আনন্দে থাকাটা আপনার জন্মগত অধিকার। যে-সমস্ত লোকজন আপনাকে অবসাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, সচেতন ভাবে তাদের থেকে দূরত্ব বাড়ান। গঠনমূলক সমালোচনা অর্থাৎ হেলদি ক্রিটিসিজম আর তিক্ত অপমানকর শব্দের মধ্যে প্রভেদ বুঝুন। এর ফলে বুঝতে অসুবিধে হবে না, কে আপনাকে প্রকৃত পথ দেখাচ্ছে, আর কুকথা বলে কে আপনার মনোবল ভেঙে দিতে চাইছে। তারপর সচেতন ভাবে সেইসব মানুষকে এড়িয়ে চলুন।

হৃদয়ের কথা বলুন

আবেগ চেপে রাখার ফল খারাপ হতে পারে। তাই লোকে কী বলবে ভেবে, ইমোশন অবদমন করবেন না। কাঁদতে ইচ্ছে করলে, মন হালকা করে কাঁদুন। মনে রাখবেন আপনার ভেঙে যাওয়া সম্পর্কের কারণে কিছু বক্রোক্তি আপনাকে সহ্য করতে হবে। তাই একা থাকলে, কেঁদে ভেতরের কষ্ট দূর করুন। কোনও বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু থাকলে তাকে মনের কথা খুলে বলুন। এর ফলে স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি দুটোই কমবে। আপনার লেখার অভ্যেস থাকলে মনের কষ্ট লিখেও লাঘব করতে পারেন। আসল উদ্দশ্য হল নিজে্র ভিতরে ব্যথা জমিয়ে রাখবেন না।

সন্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হলে

মা-বাবার উৎসাহ এবং সাকারাত্মক জীবনবোধ বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বাচ্চার নিজের উপর এবং অন্যান্য সবকিছুর ওপরে একটা ধারণা তৈরি হয়, যেটা ওই ছোটো বয়স থেকেই বাচ্চার Confidence বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। বাচ্চার দুর্বল আত্মবিশ্বাস তাদের নিজের মনের মধ্যে গুটিয়ে থাকা মনোভাব তৈরি করে এবং তাদের, চুপচাপ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। মা-বাবাকে বাচ্চার এই মানসিক পরিস্থিতির সংকেতগুলো বুঝতে হবে এবং সেইমতো পরিস্থিতির মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এভাবে বাচ্চারও Confidence বাড়বে এবং সেইমতো সমস্যার মুখোমুখি হয়ে সেটা সমাধানের সাহস সে খুঁজে পাবে।

কৌতূহলী হতে দিন

বাচ্চা বারবার প্রশ্ন করলে বিরক্ত হবেন না। বাচ্চার মনে কৌতূহল থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। তাকে প্রশ্ন করতে উৎসাহ দিন। প্রশ্ন করাটা বাচ্চার মানসিক বিকাশের জন্য খুব জরুরি। এতে তার আত্মবিশ্বাস, অধ্যাবসায় এবং প্রচেষ্টা বাড়বে।

বাচ্চার সঙ্গে ইন্টার‍্যাক্ট করুন

বাচ্চাকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইন্টার‍্যাক্ট করবার সুযোগ করে দিন যাতে সম্পর্কের ভ্যালু সে ছোটো থেকেই বুঝতে পারে এবং তার সোশ্যাল লাইফ বিকশিত হতে পারে। বাচ্চার সঙ্গে সহানুভূতিপূর্ণ সহৃদয় ব্যবহার করুন। বাচ্চার প্রতি স্নেহশীল হন। এর ফলে বাচ্চার, সম্পর্ক গড়ে তুলতে সুবিধে হবে এবং মনের কথা খুলে বলার মতো Confidence বাড়বে।

নিজের পছন্দ বাছার সুযোগ দিন

অভিভাবকদেরই সুযোগ করে দিতে হবে বাচ্চাকে নিজের পছন্দ বেছে নিতে। বড়োরা বাছাইয়ের সুবিধা করে দিলেও পুরো ব্যাপারটায় ইন্টারফিয়ার না করে বাচ্চাদের উপর ছেড়ে দেওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। নিজের পছন্দের বিকল্প বেছে নেওয়া এবং নিজের পরিস্থিতি নিজেই সামলে নেওয়ার স্বাধীনতাও বাচ্চার উপর ছেড়ে দেওয়া ভালো। এতে বাচ্চার কনফিডেন্স বাড়বে। ডিসিশন নিতে শিখবে এবং কী বেশি পছন্দ, সেটা ভালো করে বোঝার ক্ষমতা তৈরি হবে।

বাহবা এবং পুরস্কার দিন

প্রতিটি পদক্ষেপে বাচ্চাকে বুঝতে দিন যে তার মা-বাবা তাকে ভালোবাসে। বাচ্চাকে বলুন, প্রত্যেক বাচ্চার মধ্যেই কোনও না কোনও গুণ অবশ্যই থাকে এবং প্রত্যেক ইনডিভিজুয়ালের মধ্যেই বিশেষ ক্ষমতা ও প্রতিভা থাকে। আপনার জীবনে আপনার সন্তানের যে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে সেটা বাচ্চাকে বুঝতে দিন। বাচ্চার সঙ্গে পজিটিভ আলোচনা করুন এবং হাবভাবে অথবা ছোটো ছোটো কথায় বাচ্চার সাফল্যের প্রশংসা করুন। উৎসাহ দেওয়ার জন্য বাচ্চাকে ছোটো ছোটো পুরস্কার দিন, যেটা আপনার বাচ্চা পছন্দ করে। জিনিস দামি হতে হবে এমন কিন্তু নয়। আশা অনুযায়ী ফল না পেলে অযথা বাচ্চাকে বকাবকি করবেন না। পরের বার ভালো করতে উৎসাহ জোগান।

অন্যের সঙ্গে তুলনা করবেন না।

নিজের বাচ্চার ক্ষমতার তুলনা অন্যান্য বাচ্চাদের সঙ্গে কখনও করবেন না। প্রত্যেক বাচ্চার আলাদা আলাদা গুণ থাকে। মানসিক গঠনও আলাদা হয়। সন্তানের সঙ্গে অন্য বাচ্চাদের তুলনা করা হলে বাচ্চার মনে হীনম্মন্যতা জন্ম নিতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মনোভাবও তৈরি হয়। ফলে বাচ্চারা ঈর্ষাপরায়ণ এবং বিদ্বেষপ্রবণ হয়ে ওঠে। বাচ্চার শরীরের জন্যও এটি যথেষ্ট ক্ষতিকারক।

দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করার সাহস জোগান

বাচ্চা যখন কারও দেওয়া কাজ নিজে নিজে শেষ করে তখন বাচ্চার মন আত্মবিশ্বাসে ভরে ওঠে। কাজের প্রতি তার উৎসাহ বেড়ে যায়। রাহুল কিছুতেই নিজের জুতোর ফিতে বাঁধতে পারত না। কিন্তু ওর মা-বাবা সবসময় ওকে বলত যে চেষ্টা করতে করতেই একদিন ওই কাজটা ও নিশ্চয়ই করতে সফল হবে। শেষ পর্যন্ত রাহুল সত্যিই কাজটা করতে সফল হয়। এই ভাবে বাচ্চাকে সব কাজে এনকারেজ করা উচিত যাতে বাচ্চা নিজের উদ্যমেই লক্ষ্যে পৌঁছোতে পারে।

শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলুন

বাচ্চা নিজের বন্ধু এবং শিক্ষকদের সঙ্গে কী ধরনের ব্যবহার করে সেটা অভিভাবকদের খোঁজ রাখা একান্ত কর্তব্য। এতে বাচ্চার সামাজিক জীবন বুঝতে মা-বাবার অনেকটা সুবিধা হবে। অনাত্মীয়দের প্রতিও বাচ্চার কী ব্যবহার সেটা লক্ষ্য রাখা উচিত বড়োদের।

এ ছাড়া যদি বাচ্চার কোনও কিছুতে সমস্যা হয় অথবা শেখার পথে কিছু অন্তরায় দেখা দেয়, তাহলে সেটা বুঝতেও অভিভাবকদের অনেকটা সুবিধা হবে। সেইমতো প্রয়োজন অনুযায়ী বাচ্চার খেয়ালও তারা রাখতে পারবেন। সুতরাং বাচ্চার বন্ধু এবং শিক্ষকদের সঙ্গে সময়ে সময়ে কথা বলুন এবং বাচ্চার পছন্দ জানার চেষ্টা করুন।

কাল্পনিক খেলাকে মাধ্যম করুন

সাধারণত বাচ্চারা আশেপাশের মানুষদের এবং জিনিসপত্রের সঙ্গে মনে মনে একটা কাল্পনিক খেলার পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে সেই কল্পলোকে বাচ্চা নিজেকে একটা প্রধান ভূমিকায় দেখতে চায়। এই ধরনের কাল্পনিক খেলার মাধ্যমে বাচ্চারা বড়ো কিছু নিয়ে ভাবতে শেখে এবং জীবনে সেটা হয়ে ওঠার স্বপ্নই দেখে। বড়োরাও বাচ্চাদের সঙ্গে এই ধরনের খেলায় যদি অংশগ্রহণ করেন, তাহলে বাচ্চা কল্পনার মাধ্যমে কী ভাবনাচিন্তা করছে সেটা বুঝতে পারবেন এবং বাচ্চার Confidence বাড়াতে সাহায্য করতে পারবেন।

সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল সম্পর্কের ভিত হচ্ছে ভরসা। বাচ্চাকে ভালোবাসুন, সম্পর্কের ভিত শক্ত করুন। বাচ্চার বোঝা উচিত, যখনই তার আত্মবিশ্বাস কমতে থাকবে তখনই সাহায্যের জন্য আপনি ওর পাশে থাকবেন।

সম্পর্কের ভিত যদি ভরসার হয়, তাহলে সমস্যা এলে স্বাভাবিক ভাবেই বাচ্চা, মা-বাবার কাছেই আগে আসবে। মা-বাবার উপদেশ শুনবে এবং সেই কথার সম্মানও করবে। বাচ্চার নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়লে বাচ্চা অপরের সঙ্গে যেমন সহজে মিশে নিজের মত প্রকাশ করতে পারবে, তেমনি অপরের কথাও মন দিয়ে শুনবে এবং অপরের কথাকেও সম্মান দিতে শিখবে। সহজে সকলের মাঝে নিজের একটা জায়গা তৈরি করে নিতে সক্ষম হবে বাচ্চারা।

 

নব পরিণয় (পর্ব-০৩)

এরপর জিজ্ঞাস্য কিছুই আর থাকে না। সুতরাং সঞ্জয়ের সঙ্গে নমিতার বিয়ের দিন পাকা হয়ে গেল। সঞ্জয়ের ছোটোভাই আমেদাবাদে এমবিএ করছিল। ওটাই ওর শেষ বছর সুতরাং সঞ্জয়ের পরিবার চাইছিল ছোটো ছেলে ফিরলে তবেই আশীর্বাদ আর বিয়ে দিন ফাইনাল করতে। মেয়ের বাড়িও রাজি ছিল, কারণ মেয়ের বিয়ের কেনাকাটায় সময় তো দরকার পড়েই।

নমিতা আর সঞ্জয় মাঝেমধ্যেই বাইরে একসঙ্গে কোথাও ঘুরতে যেত বা রেস্তোরাঁতে খেয়ে বাড়ি ফিরত। বাড়িতেও ওদের

আসা-যাওয়া লেগেই থাকত। ধীরে ধীরে নমিতাও সঞ্জয়কে নিয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা শুর করল। আশীর্বাদ হওয়ার কিছুদিন আগে নমিতা সঞ্জয়কে জিজ্ঞেস করল বিয়ে জন্য ও নিজে কতদিনের ছুটির অ্যাপ্লাই করবে অফিসে।

স্বাভাবিক ভাবেই সঞ্জয় উত্তর দিল, ঝামেলা না করে পাওনা যতটা ছুটি পাও নিয়ে নাও। ইচ্ছে তো আছে লম্বা মধুচন্দ্রিমাযাপনের কিন্তু তাই বলে তোমার কেরিয়ারের ক্ষতি করে নয়।

সঞ্জয়ের কথা শুনে নমিতা অভিভত হয়ে পড়ল, আমার অনেক ছুটি জমা হয়ে আছে। আমি পল্লবী ম্যাডামের সঙ্গে কথা বলব, নমিতা বলল। উনি খুবই ভালো মানুষ, নিজে থেকেই দেখবে আমার লম্বা ছুটির ব্যবস্থা করে দেবেন।

 

পরের দিন অফিস পেঁছেই পল্লবী ম্যাডামের সঙ্গে কথা বলার আগেই বোর্ডরুমে ম্যানেজমেন্ট মিটিং-এ যোগ দেওয়ার জন্য ডাক পড়ল নমিতার। মিটিং-এ পল্লবীর শ্বশুর কোম্পানির চেয়ারম্যান অভীক বাসু থেকে শুরু করে ভাশুর, স্বামী যাঁরা কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং পরিবারের আরও সদস্য যারা কোম্পানিতে উঁচু পদে রয়েছেন, সকলেই উপস্থিত ছিলেন।

—কনগ্রাচুলেশনস নমিতা, তুমি যে পল্লবীকে নিউইয়র্কে অফিস খোলার পরামর্শ দিয়ে, সেটা আমাদের প্রত্যেকেরই খুব ভালো লেগেছে। চেয়ারম্যান অভীক বাসু বললেন, যেহেতু এই আইডিয়াটা তোমার তাই ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটা সম্পূর্ণ করার দাযিত্বও মানে নিউ ইয়র্কে অফিস খোলার জন্য তুমিই যাবে। ফার্স্ট জুন তোমার ওখানে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

নমিতা সব শুনে বড়ো ধাক্কা খেল। ২৮ মে ওর বিয়ে দিন স্থির হয়েছে।

—থ্যাংক ইউ সো মাচ স্যার। কিন্তু এই দাযিত্ব আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভব হবে না স্যার।

—কেন হবে না? পল্লবী মাঝখানেই বলে উঠল, আমি আর যশ-ও যাব তোমার সঙ্গে কয়েক সপ্তাহের জন্য। তোমার কোনও সমস্যা হবে না।

অভীক বাসু বললেন, সমস্যা হলেও কোম্পানি তোমার পুরো খেয়াল রাখবে তাছাড়া সাফল্য পেতে গেলে সমস্যা তো আসবেই। আমিও এভাবেই আজ এতদূর পেঁছেছি। যাও, যাওয়ার জন্য তৈরি হও। এখানে যাকে যা বোঝাবার বুঝিয়ে দাও। এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করতে হবে।

নমিতার আর কিছুই করার ছিল না, উপরমহলের আদেশই সবকিছু। কিন্তু পল্লবী ম্যাডামের সঙ্গে কথা বলাটা দরকার মনে হল নমিতার। পল্লবীর রুমে গিয়ে ওনার আসার অপেক্ষা করতে লাগল। পল্লবী ঘরে ঢুকে নমিতাকে দেখে অবাক হল— কী হল নমিতা, তোমার মুখ এক শুকনো লাগছে কেন?

সব শুনে সহানুভতির বদলে ব্যাঙ্গের সুরে পল্লবী বলল, ইন্টারভিউয়ে সময় তো তুমি বলেছিলে সাত-আট বছর তুমি এখন বিয়ে করবে না। সবে তো তিনবছর হয়েছে, এর মধ্যেই চাকরি থেকে মন উঠে গেল?

—চাকরি থেকে মন উঠে যায়নি ম্যাডাম। ভাগ্য করে এমন একজন জীবনসঙ্গীর সন্ধান পেয়েছি, যে কোনওদিন আমাকে চাকরি ছাড়ার জন্য জোর করবে না বা খোঁটাও দেবে না। বিয়ে সমস্ত ঠিক হয়ে গেছে, এই পরিস্থিতিতে বিয়ের দিন পিছোবার বা বিয়ে ভেঙে দেওয়ার কোনও উপায় নেই। আমার আমেরিকা যাওয়া অনিবার্য জেনেও। নমিতা মৃদু স্বরে কথাগুলো পল্লবীকে বলল।

ফ্যাশন অ্যাক্সেসরিজ

চোকার লেয়ার্ড নেকলেস

চোকার লেয়ার্ড নেকলেস টিপিক্যাল চোকারের চেয়ে একটু আলাদা, একটা সেমি ইন্ডিয়ান লুক আছে এই চোকারটিতে। এটা ইন্ডিয়ান ওয়্যার অর্থাৎ শাড়ির সঙ্গেও যেমন পরা যায়, তেমনি ওয়েস্টার্ন ওয়্যার অর্থাৎ অফশোল্ডার টপ, বা টিউব ড্রেসের সঙ্গেও পরতে পারবেন।

হেড চেন

বিয়ের অনুষ্ঠানে যখন আপনি শাড়ি বা ঘাঘরা চোলি বা লহঙ্গা চোলি পরার প্ল্যান করছেন, তখন টিপিক্যাল টিকলির বদলে এই হেডচেন ট্রাই করতে পারেন।

ট্যাসেল ইয়াররিংস্

লং ট্যাসেল ইয়াররিংস এখন বেশ জনপ্রিয়। ওয়েস্টার্ন ও ইন্ডিয়ান— দুধরনের আউটফিটের সঙ্গেই এটা পরা যায়। এইরকম হেভি ইয়াররিংস তো আর রোজ পরা যায় না, তাই এগুলি বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্যই রাখুন।

Fashion tips

হ্যান্ড হার্নেস

মানতাসার-ই অনুকরণে তৈরি হ্যান্ড হার্নেস। হাতের সৌন্দর্য বাড়াতে ব্রেসলেটের বদলে এটা ট্রাই করতে পারেন। ডিজাইনে বেশ একটু অন্যরকম এবং স্টাইলিশ এই গয়না।

লেদার কোটার্স

কনফিডেন্স বুস্ট করার জন্য হাই হিল্ড স্যান্ডাল ট্রাই করতে পারেন। আর এক্ষেত্রে আপনার পার্টি লুক-এ আলাদা মাত্রা যোগ করতে পারে লেদার কোটার্স।

কর্মা ব্যাঙ্গলস্

রেগুলার ব্যাঙ্গলস্-এর বদলে এই ইজি টু ওয়্যার কর্মা ব্যাঙ্গলস্ রাখতে পারেন আপনার হ্যান্ডব্যাগে। এটি ওয়েস্টার্ন ওয়্যার-এর সঙ্গে, যেমন থ্রিকোয়ার্টার স্লিভ ড্রেস, ফর্মাল শার্ট, টপ ও হাই ওয়েস্ট স্কার্টের সঙ্গে খুব ভালো মানায়।

ডাল সিলভার হ্যান্ডকাফ

ওয়েস্টার্ন ওয়্যারের সঙ্গে অনবদ্য কম্বিনেশন এই ব্যাঙ্গল বা ব্রেসলেট, যা আপনাকে স্টাইলিশ লুক দেবে। খোলা- পরা সহজ বলে অনেকেই এটা পছন্দ করেন।

ক্লাসিক প্ল্যাটফর্ম

রেগুলার বা ফর্মাল জুতোর বদলে ডে- আউট, পিকনিক, প্রভৃতির জন্য বাছুন এই ক্লাসিক প্ল্যাটফর্ম ফুটওয়্যার। অত্যন্ত ফ্যাশনেবেল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খুব আরামদায়ক এই জুতো।

অক্সিডাইজ রিং

এই ঋতুতে গোল্ড বা সিলভারের বদলে ফ্যাশনের তুঙ্গে অক্সিডাইজড জুয়েলারি। এই রিং-টি আপনি ইন্ডিয়ান কুর্তা বা ওয়েস্টার্ন টপ দু’ধরনের পোশাকের সঙ্গেই পরতে পারবেন। আনারকলি কিংবা ম্যাক্সি ড্রেসের সঙ্গেও মানাবে এটা।

বোহো নেকপিস

বোহো নেকপিস একধরনের ইন্ডোওয়েস্টার্ন জুয়েলারি। এটি ইন্ডিয়ান বা ওয়েস্টার্ন, দুধরনের পোশাকের সঙ্গে বা ফিউশন পোশাকের সঙ্গে পরা যায়।

Tips to be fashionable

 

চাঁদবালি

আপনি কি চাঁদবালি পরতে ভালোবাসেন, তাহলে আপনার জন্য সুখবর হল এই চাঁদবালির ফ্যাশন এখনও বেশ তুঙ্গে। ফুল বা হাফ যে-কোনও চাঁদবালি এখন আনারকলির সঙ্গে ভালো মানায়।

ট্রেন্ডি ব্যাকপ্যাক

ফ্যাশনেবল ওয়েস্টার্ন ক্যাজুয়াল ওয়্যার- এর সঙ্গে এই ব্যাকপ্যাক আপনাকে স্টাইলিশ করে তুলবে। সাধারণ ল্যাপটপ ব্যাগ বা সাইড ব্যাগের বদলে— এটি আপনার পার্সোনালিটিকে অনেক বেশি স্মার্ট করে তুলবে।

কলার চোকার

ওয়েস্টার্ন গাউন, টিউব ড্রেস বা অফশোল্ডার ড্রেসের সঙ্গে কী ধরনের নেকপিস মানাবে, এটা নিয়ে যদি চিন্তায় থাকেন, তাহলে এই কলার চোকার আপনার গুড পিক হতে পারে। এটি সাধারণ চোকারের থেকে অনেক বেশি। স্টাইলিশও।

হেয়ার ব্যান্ড

এখন স্ট্রেট ও খোলা চুলের ফ্যাশন। আপনি পার্টিতে যদি খোলা চুল রাখতে চান, তাহলে এই স্টাইলিশ স্টোন বসানো হেয়ারব্যান্ড আপনাকে পার্টি লুক দিতে সাহায্য করবে।

কালারফুল কাফ

ইন্ডিয়ান ওয়্যার-এর জন্য এটি মাস্ট বাই। এই ধরনের কালারফুল কাফ আপনার হাতে বেশ একটা ভরন্ত ভাব আনবে। দেখতেও খুব এথনিক এই গয়না।

ট্রেন্ডি ঝুমকা

ঝুমকা চিরকালের পছন্দের গয়না। এখনও এটার আবেদন অমলিন। তাই আনারকলি বা লং কুর্তার সঙ্গে অনায়াসে পরতে পারেন এই ঝুমকাগুলি।

বিগ ক্লাচ

ক্লাচ ব্যাগের কিউট লুক সবারই মন কেড়ে নেয়। পারফেক্ট পার্টি লুকের জন্য এটা অপরিহার্য। তবে ছোটো ক্লাচ ব্যাগের বদলে বিগ ক্লাচ ব্যাগই এখন ফ্যাশনের শীর্ষে।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব