রঘু

মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানির চাকরি। একদম দুয়ে নিয়ে ছাড়ে। রোজ রোজ অফিস থেকে ফিরতে দেরি হয় খুব। তাই ‘স্লিপ ডেট’ কাটাতে রবিবারই ভরসা। সেখানেও জ্বালা। ন’টা বাজলেই গামলা মুখে বউয়ের গর্জন। চলো বাজার, বাজার চলো! এপাশ ওপাশ করে যে আরও আধঘন্টা ল্যাদ খাবো তার উপায় নেই। আজ যেমন গরম চায়ের কাপে আমার আঙ্গুল দিল ডুবিয়ে। ড্যাশের নাম খগেন। একলাফে বাথরুম গজগজ করতে করতে।

রবিবার বাজার সেরে আমাদের বন্ধুদের একটা আড্ডা হয় কাকার চায়ের দোকানে। জনা পনেরো থাকি। বাজার ফেলেই দে দৌড়। প্রথমে মাছ মাংস কিনে তারপর সবজি বাজার সারি। ক’দিন ধরেই চিংড়ি চিংড়ি করছে ছেলেটা। একটু বড়ো সাইজের কয়েকটা নিলাম। বাটা মাছ বাবার জন্য। কাতলা কিছুটা নিলাম বাড়ির বাকিদের জন্য। চিকেন নিয়ে সবজি বাজারে ঢুকতেই দেখি পল্টুর ফলের দোকানের সামনে খুব ভিড়। পল্টু জুতো খুলে কাউকে মারছে আর “চোর চোর” বলে চিৎকার করছে। উৎসাহী কয়েকজন বেশ সোচ্চার। তাদের হুলোর মতো মুখগুলো, যেন এখনি ঝাঁপিয়ে পড়বে। তাকিয়ে দেখলাম সব মুখগুলোয় অপরের রাগ অন্যকে ঝাড়ার চেষ্টা।

একটু এগিয়ে গিয়ে দেখলাম পল্টু জুতো নিয়ে একটা সাত-আট বছরের বাচ্চাকে মারছে। ছেলেটার জামা ছিঁড়ে গেছে। সারা মুখ লাল মারের চোটে। ঠোঁট দিয়ে রক্ত পড়ছে। খুব মায়া হলো। এইটুকু বাচ্চাকে কেউ ওভাবে মারে! ছুটে গিয়ে পল্টুর হাতটা চেপে ধরে চিৎকার করে উঠলাম, “মেরে ফেলবি নাকি বাচ্চাটাকে”। আস্তে আস্তে ভিড় পাতলা হতে লাগল। নাটকের যবনিকা এতো তাড়াতাড়ি হবে ওরা ভাবতে পারেনি। এর মধ্যে তাপসদা হাজির।

তাপসদা অবসরপ্রাপ্ত মিলিটারি অফিসার। বিশাল চেহারা ও মোটা পাকানো গোঁফ ভয় ধরায়। তাপসদা পিছনে কখন এসে দাঁড়িয়েছে খেয়াল করিনি। পল্টুর হাতে একটা আপেল। মারার কারণ জিজ্ঞাসা করতেই বলল, “ছেলেটা আপেল চুরি করে ছুটে পালাচ্ছিল”। এর মধ্যে বাচ্চা ছেলেটা উঠে বসেছে। সারা শরীরে লাল লাল মারের দাগ।

হঠাৎ তাপসদা গম্ভীর গলায় বাচ্চাটাকে জিঞ্জাসা করল, “কি করেছিলিস সত্যি করে বল।”

তাপসদার চেহারা দেখেই ছেলেটা ভয় পেয়েছে খুব বোঝা গেল। একটু সামলে নিয়ে বলল, ‘একটা আপেল কিনতে চেয়েছিলাম। পাঁচ টাকা আমার কাছে ছিল। দোকানদার বলল, দশটাকা দাম। আমি একটা ছোট আপেল দেখিয়ে বলি, এটা পাঁচ টাকায় দাও না। ও তখন আমাকে গালাগাল করে। বলে অতো কম দামে আপেল হয় না। তারপরও একটা নোংরা কথা বলে।’

‘আমি বলি ‘ওরকম খারাপ কথা কেন বলছো?’ বলতেই ও চিৎকার করতে থাকে আর বলে চোর চোর। আমি ভয় পেয়ে ছুটতেই ও ধরে মারতে শুরু করে। আরও কয়েকজন মারতে থাকে। আমি আপেল চুরি করিনি। আপেলে হাতই দিইনি।’ রিক্সা চালায় হারু সব দেখেছে। সে বলল, ‘বাচ্চাটা ঠিকই বলছে।’ পল্টু এমনি এমনি মারছে বাচ্চাটাকে। ব্যস, আগুনে ঘি পড়ল যেন।

তাপসদা পল্টুকে শূন্যে তুলে ধরে ছুড়ে ফেলল দূরে রাস্তার ওপর। তারপর আগুন চোখে মিলিটারি মার শুরু করল। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সকলে দেখছে। যারা এতক্ষণ ওখানে দাঁড়িয়ে পল্টুর সঙ্গ দিচ্ছিল তারা পগারপার। তাপসদাকে থামানো যাচ্ছে না। অনেকক্ষণ পর নিজের পায়ের জুতো খুলে বাচ্চাটার হাতে দিয়ে বলল, ‘তুই মার এবার ওর মুখে তোকে যেমন মারছিল।’

সকলকে অবাক করে বাচ্চাটা বলে উঠল, ‘মা বলে, বড়োদের অসম্মান করতে নেই। গায়ে হাত দিতে নেই’। স্তম্ভিত সকলে। বাচ্চার কথাটা সকলের হৃদয় ছুঁয়ে গেল যেন। পল্টুকে ছেড়ে হাসিমুখে তাপসদা বাচ্চাটাকে কাকার চায়ের দোকানে নিয়ে গেল।

বাচ্চাটার নাম রঘু। জিজ্ঞাসা করে জানা গেল, সকাল থেকে সে কিছু খায়নি। ওর মা এক বাড়িতে কাজ করে। তারা সকালে চা আর বাসি রুটি দেয়। ওর মা ওই রুটি নিয়ে এলে ওরা সকলে খাবে। বাড়িতে ওরা তিনজন। মা, বোন আর ও। বাবা ওদের ছেড়ে চলে গেছে। চা আর বিস্কুট হাতে চুপ করে বসে রইল রঘু। খেতে বলতেই কেঁদে ফেলল। বলল, ওর বোনের ক’দিন ধরে জ্বর। ও না খেয়ে আছে। এক বাবুর গাড়ি ধুয়ে পাঁচ টাকা পেয়েছিল কাল। ওই টাকা নিয়ে বোনের জন্য আপেল কিনতে এসেছিল। ক’দিন ধরেই রঘুর কাছে আপেল খাবার বায়না করছিল বোন। বোন না খেয়ে আছে, তাই ও চা বিস্কুট খেতে পারবে না!

তাপসদা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রঘুর দিকে। বোনের জন্য ওর ভালোবাসায় মুগ্ধ সকলে। তাপসদা হঠাৎ চিৎকার করে পল্টুকে ডাক দিল। মাথা নিচু করে পল্টু হাজির। ভয়ে ভয়ে তাকাচ্ছে তাপসদার দিকে। তাপসদা হাসতে হাসতে পল্টুকে কাছে ডাকল। বলল, এক কেজি আপেল আর এক ছড়া কলা নিয়ে আয়। দৌড়ে গেল পল্টু দোকানে। আপেল আর কলা আনতেই একটা পাঁচশো টাকার নোট রঘুকে দিয়ে বলল, টাকাটা দে কাকুর হাতে। তুই তোর বোনের জন্য আপেল আর কলা কিনলি।

রঘু কিছুতেই নেবে না। ওর মা বলেছে, ‘এভাবে কেউ দয়া করলে নিবি না’। হো হো করে হেসে উঠল তাপসদা।

পল্টুকে বলল, ‘দেখলি এই ছেলেটাকে তুই চোর বলে মারলি। তোর ছেলেকে কখনও তুই এই শিক্ষা দিয়েছিস? এ ছেলে অনেক দূর যাবে, দেখে নিস।’ তাপসদা জোর করতেই রঘু বলে উঠল, তাহলে আমি বড়ো হয়ে চাকরি করলে তখন ফেরত নিতে হবে কিন্তু। উপস্থিত সকলে রঘুর কথায় হেসে উঠল। কয়েকটা কেক আর বিস্কুটের প্যাকেট আমি দিয়ে দিলাম ফলের ব্যাগে।

আনন্দে রঘু দে দৌড়। আমিও রঘুর মতো দৌড় লাগালাম সবজি বাজারের দিকে। দেরিতে বাজার নিয়ে ঢুকলেই বৌয়ের গামলা মুখের অগ্নিবান কল্পনা করতে করতে।

 

উইন্টার হেলথ প্রবলেমস

শীতের হিমেল বাতাস প্রাণের আরাম ঠিকই, কিন্তু কিছু কিছু অসুস্থতারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাইনাসাইটিস, সর্দি, কাশি, জয়েন্ট পেইন এই ঋতুর কমন সমস্যা। এই সময় আমাদের ক্ষুধা প্রবৃত্তি অর্থাৎ অ্যাপেটাইট বৃদ্ধি পায়। বারবার খাবার খাওয়ার ফলে ওজন বাড়ে। এর সঙ্গে পেয়ে বসে আলসেমি ও লেথার্জি।

শীতের হাওয়ায় ত্বকের শুষ্কতা বৃদ্ধি পায়। যাদের ড্রাই স্কিন তাদের তো আরও সঙ্গীন অবস্থা। তাই এই সময় শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখা দরকার ভিতর থেকে। কীভাবে করবেন শীতের মোকাবিলা, এখানে দেওয়া হল তারই কিছু Winter health tips।

রোগ প্রতিরোধক খাদ্যগ্রহণ

পাতিলেবু, কমলালেবু, আমলকী, ব্রোকোলি ফুলকপি, স্ট্রবেরি আপনার নিত্য খাদ্য-তালিকায় রাখুন। ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এই খাদ্যগুলি, আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। পাচন ক্ষমতা বাড়ায় এমন একটি করে ওষুধ খান রোজ সকালে। এর ফলে আপনার অভ্যন্তরীণ সিস্টেমগুলো ঠিকমতো কাজ করবে এবং ইম্যুনিটি পাওয়ার বাড়বে।

মশলার গুণাগুণ

কাঁচাহলুদ, রসুন, গোলমরিচ, লবঙ্গ, সরষেদানা প্রভৃতি শরীর গরম রাখতে সহায়তা করে। রান্নার সময় দারচিনি ও ধনেগুঁড়োর সঙ্গে এগুলি ব্যবহার করুন। এর ফলে হজমশক্তি বাড়বে, সহজে সর্দিকাশি হবে না।

হালকা আহার

শীতে যেহেতু খাওয়াদাওয়া বেড়ে যায়, তাই কার্বোহাইড্রেট ইনটেক-এর পরিমাণও বেড়ে যায়। ওজন বেড়ে যাওয়ার সমস্যাও বৃদ্ধি পায়। ওট্স, পেয়ারা, আমন্ড, ওয়ালনাট, তিল, গুড়, পরিজ, বিন স্প্রাউট্স, কড়াইশুঁটি, স্যালাড, বেশি করে খান। এগুলি ওজন বাড়ায় না। গরমজল খান অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পর।

ভেজি ডায়েট

গাজর, ফুলকপি, পালংশাক, লাউ ও বাঁধাকপির অশেষ খাদ্যগুণ। লো-ক্যালোরি হওয়া সত্ত্বেও এগুলিতে উপস্থিত মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস্, আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। সুপ বা ভেজিটেবল স্টু এই সময়ে অপরিহার্য করে তুলুন আপনার ফুডচার্ট-এ।

রান্নার তেল কেমন হবে?

রান্নায় ব্যবহার করুন সানফ্লাওয়ার অয়েল বা অলিভ অয়েল। এগুলি ওজন বাড়াবে না, অথচ সহজপাচ্য ও রোগ প্রতিরোধক।

আমাদের দেশে জলপাই তেলের প্রচলন খুব বেশি না হলেও একেবারে কমও নয়। এই তেলের দাম অন্যান্য তেলের তুলনায় বেশি হওয়ায় শুধু ধনীদের রান্নাঘরেই এর ব্যবহার বেশি দেখা যায়।

জলপাই তেলের বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ, স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ, হাড় মজবুত করা, ওজন কমানো, মনকে প্রফুল্ল রাখা এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। শুধু খাবারেই নয়, আমাদের ত্বকের যত্নেও জলপাই তেল দারুণ উপকারী। তাই শীতে ত্বক ও চুলের যত্নে নিয়মিত জলপাই তেল ব্যবহার করতে পারেন। শুষ্ক, স্বাভাবিক ও তৈলাক্ত—সব ধরনের ত্বকের জন্যই এই তেল সমান কার্যকর।

আপনি খাবারে যে তেলই ব্যবহার করুন না কেন, এর দোষ-গুণ নির্ভর করে কিভাবে এবং কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার করছেন তার ওপর। তাই তেল কেনার আগে অবশ্যই পুষ্টিমান দেখে কিনুন। একটি কথা অবশ্যই মাথায় রাখবেন, তেল যতই ভালো হোক, খাবারে মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার এবং মাত্রাতিরিক্ত ভাজাপোড়া সবার জন্যই ক্ষতিকর।

অ্যালকোহলের প্রভাব

অ্যালকোহল শরীরকে ডিহাইড্রেটেড করে। জলের এই ঘাটতিতে শরীরে জনের ঘাটতি  হয়ে যেতে পারে। এছাড়া অ্যালকোহল গ্রহণের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া হিসাবে, শরীরের রক্তনালিকাগুলিকে প্রসারিত করে। যার ফলে শরীর থেকে দ্রুত তাপ বেরিয়ে যেতে থাকে। মদ্যপান করার সঙ্গে সঙ্গে গরমের অনুভূতি হওয়ার এটাই কারণ। কিন্তু এই প্রক্রিয়া থামার পরই শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎই হ্রাস পেতে পারে। এর ফলে অসুস্থতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তাই শীতে সুস্থ থাকতে, মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান না করাই শ্রেয়৷

ব্লিচিং-এর কার্যকারিতা এবং কত ধরনের ব্লিচ

ফরসা রং, মসৃণ এবং ইভেনটোন ত্বক সব বয়সি মেয়েদেরই ফার্স্ট প্রায়োরিটি। এগুলি পেতে হলে সবথেকে কমন বিউটি ট্রিটমেন্ট হল ‘Bleaching’। ব্লিচ মুখের রোমের রং হালকা করে, ফলে রোম ৱুঝতে পারা যায় না এবং ত্বকও সুন্দর ও ফরসা লাগে দেখতে। বাজারে নানা ধরনের ব্লিচ দেখতে পাওয়া যায়। সুতরাং ব্যবহারের আগে ব্লিচ সম্পর্কে কিছু জরুরি তথ্য জেনে রাখা একান্ত দরকার।

প্রোটিন হাইড্রা ব্লিচ

এই Bleach বলিরেখা, এজিং, পিগমেনটেশন, ডার্ক স্পট এবং আনইভন স্কিনটোন-এর মতো সমস্যার ক্ষেত্রে কার্যকরী। এটি ফেসিয়াল হেয়ারকে লাইটটোন করে সঙ্গে পিগমেনটেশনের সমস্যাও দূর করে। এর ফলে ত্বকের রং-ও অনেক হালকা লাগে দেখতে। এটি ত্বককে ডিপ ক্লিন করে ত্বকের পোরস রিফাইন করে এবং সান ট্যান রিমুভ করতেও সহায়ক। সব ধরনের স্কিনটোনের জন্যই এটি উপযুক্ত, এমনকী সেন্সিটিভ স্কিনেও এটি কোনও সমস্যা তৈরি করে না। কোনও ভালো স্যালনে গিয়ে ট্রেন্ড বিউটিশিয়ানকে দিয়ে প্রোটিন হাইড্রা ব্লিচ করানো বাঞ্ছনীয়।

এক্সট্রা অয়েল কন্ট্রোল

মাত্রাতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এই ব্লিচ ব্যবহার করলে ত্বকে মেলানিন পিগমেন্ট কম হয়। মেলানিন পিগমেন্ট যত কম হবে, ত্বক ততই ফরসা লাগবে দেখতে। একই সঙ্গে এই Bleach ত্বকের এক্সট্রা অয়েল কন্ট্রোল করে ত্বকের মৃত কোশ হটাতে সাহায্য করে।

হাইড্রেটিং ব্লিচ

শুষ্ক ত্বকের জন্য এই ব্লিচ খুবই কার্যকরী। এই ব্লিচ ত্বকের ভিতর ঢুকে ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে। ফলে, ত্বক কোমল, মসৃণ, ফরসা এবং সুস্থ লাগে দেখতে।

ব্লিচের রকমফের

পাউডার ব্লিচ অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন পারোক্সাইড এবং ব্লিচ পাউডারের মিশ্রণ ডার্ক স্পট এবং বলিরেখার জন্য সবথেকে ভালো ব্লিচ। ট্রেনড হাতের মাধ্যমেই এই ব্লিচ লাগানো উচিত। কারণ সঠিক পরিমাণে এই ব্লিচ ব্যবহার না করলে ত্বকের ক্ষতি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ক্রিম ব্লিচ

ক্রিম ব্লিচ-ই সবথেকে বেশি ব্যবহৃত হয়। এটি ব্যবহার করা খুব সহজ। এটি ক্রিম ব্লিচ এবং অ্যাক্টিভেটার-এর মিলিত রূপ।

মিশ্রণ বানাবার উপায়

4 ভাগ ব্লিচ ক্রিমের সঙ্গে 1 ভাগ অ্যাক্টিভেটার ঢেলে স্প্যাচুলার সাহায্যে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণের মধ্যে লাম্প যেন না থাকে খেয়াল রাখতে হবে। বেশি ভালো কাজ করবে এই ভেবে অ্যাক্টিভেটারের মাত্রা বাড়ালে ভবিষ্যতে পিগমেনটেশনে সমস্যা হতে পারে। ত্বক জ্বলে যাওয়ার সমস্যাও হতে পারে।

প্যাচ টেস্ট

প্রথমবার ব্লিচ ব্যবহার করার আগে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া খুব দরকার। তাই ব্যবহার করার আগে মিশ্রণ থেকে সামান্য ব্লিচ তুলে নিয়ে হাতে লাগিয়ে দেখে নিতে হবে। যদি জ্বালা করে অথবা জায়গাটা লাল হয়ে যায় তাহলে ওই ব্লিচ মুখে না লাগানোই ভালো।

ব্লিচ লাগাবার আগে

ব্লিচ লাগাবার আগে মুখ ফেসওয়াশ এবং ঠান্ডা জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নেওয়া দরকার। ব্লিচের ঠিক আগে কিংবা ব্লিচ করার ঠিক পরেই খেয়াল রাখা উচিত মুখে একেবারে গরমজল অথবা স্ক্রাব যেন না লাগানো হয়। এতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। স্প্যাচুলা বা আঙুলের সাহায্যে ব্লিচ মুখের উপর থেকে নীচের দিকে লাগানো উচিত। চোখ, ভুরু এবং ঠোঁটে ব্লিচ লাগানো উচিত নয়। ১০ থেকে ১৫ মিনিট ব্লিচ মুখে লাগিয়ে রাখতে হবে এবং এরপর তুলো দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। মুখ পরিষ্কার হয়ে গেলে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিতে হবে।

 

‘রেইড ২’ নিয়ে আশাবাদী অজয় দেবগণ

২০১৮ সালে রেইড ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল। প্রথম ছবিটিতে ইনকাম ট্যাক্সের ডেপুটি কমিশনার অময় পট্টনায়কের চরিত্রে অজয় দেবগণকে দেখা গিয়েছিল। তাঁর স্ত্রী মালিনীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন ইলিনা ডি ক্রুজ। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গিয়েছিল সৌরভ শুক্লাকে। রামেশ্বর সিং-এর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি যাকে কিনা পর্দায় সীতাগড়ের ডন হিসেবে দেখানো হয়েছিল। এবার এই ছবিরই দ্বিতীয় ভাগ মুক্তির অপেক্ষায়। ফের মুখ্য ভূমিকায় আসতে চলেছেন অজয় দেবগণ।

রেইড ছবিটি বক্স অফিসে ভালো সাড়া জাগিয়েছিল। ছবিটির বাজেট ৪০ কোটি ছিল কিন্তু বিশ্বজুড়ে ছবিটির আয় হয়েছিল ১৫০ কোটির উপর। সেই ছবির সাফল্যের হাত ধরেই ছবির দ্বিতীয় ভাগ মুক্তি পেতে চলেছে।

প্রথম ছবিটি প্রযোজনা করেছিলেন কুমার মঙ্গত। তাঁর সুপুত্র অভিষেক পাঠক ‘Raid-2’-এর প্রযোজনার দাযিত্বে রয়েছেন। পরিচালনা করছেন রাজকুমার গুপ্ত।

শোনা যাচ্ছে কানপুর এবং কনৌজ-এর খ্যাতনামা পারফিউম উদ্যোগপতি পীযূষ জৈন-এর বাড়ি এবং ফ্যাক্টরিতে হওয়া ইনকাম ট্যাক্স বিভাগ থেকে একাধিক রেইড-এর সত্যঘটনা নিয়ে ছবিটির মুখ্য কাহিনি দাঁড় করানো হয়েছে। বাড়ি এবং ফ্যাক্টরিতে বারংবার রেইড চালিয়ে প্রায় ২৫৭ কোটি নগদ, ২৫ কেজি সোনা এবং ২৫০ কেজি রুপো উদ্ধার করা হয়। এই সত্য ঘটনা অবলম্বনেই তৈরি হয়েছে ‘রেইড ২’ ছবির কাহিনি। ছবিটির বক্সঅফিস সাফল্য নিয়ে অজয় তাঁর আগের ছবিগুলোর মতোই আশাবাদী।

 

শীতের রূপ-রুটিন

সব ঋতুর মতো শীতেরও একটা রূপ-রুটিন আছে. যেটি মেনে চললে শীতেও আপনার সৌন্দর্য অমলিন থাকবে৷সেই রুটিনের অন্তর্গত ত্বকচর্চা ও  জীবনশৈলীর নানা খুঁটিনাটি৷ চলুন দেখে নেওয়া যাক কী ভাবে শীতে নিজের যত্ন নেবেন৷রইল Winter Skin Care Tips৷

স্কিন কেয়ার

এই ঋতুতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান, অ্যালকোহল বেস ওয়াইপস্ বা কোলন-যুক্ত ওয়াইপস্-এর ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত ঠান্ডা জায়গায় বেড়াতে যাওয়া অ্যাভয়েড করুন, এর ফলে ত্বক ও চুল অতিরিক্ত শুষ্ক হতে পারে। এক্সট্রা ড্রাই স্কিন যাদের, তারা তেল মাসাজ করুন স্নানের আগে এবং ময়েশ্চারাইজার লাগান স্নানের পর। রোদে বেরোনোর আগে সানস্ক্রিন লোশন লাগান। অ্যালোভেরা ও আমন্ড অয়েল মিশিয়ে ফেসমাস্ক তৈরি করে ব্যবহার করুন।

মাসাজ করুন

এক্সপার্টদের মতে, শীতে ত্বকের উপর একটি প্রোটেকটিভ লেয়ার তৈরি করে রাখা প্রয়োজন। এটা ত্বকের স্বাভাবিক তৈলাক্ত ভাব নষ্ট হতে দেয় না। বডি অয়েল ঠিক মতো মাসাজ করা হলে ত্বক কোমল থাকে। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, আমন্ড তেল, জোজোবা তেল, তিল তেল, অ্যাভাকাডো অয়েল, অ্যালোভেরা অয়েল— সবই ত্বকের পক্ষে ভালো। সঙ্গে দরকার কিছু ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ, বিশেষ করে আর্থরাইটিস রোগীদের জন্য।

ত্বকের আর্দ্রতা আবশ্যক

শীতকালে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শীতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। তবে এমন নয় যে শীতের পর ত্বকে আর ময়েশ্চারাইজ করার দরকার নেই। এর জন্য এখন বাজারে একাধিক নামী-দামী পণ্য পাওয়া যায়। কিন্তু প্রাকৃতিক উপাদান আপনাকে যে উজ্জ্বলতা ও সৌন্দর্য প্রদান করবে, তা বাজারে উপলব্ধ পণ্যগুলি দিতে পারবে না। উপরন্ত এই ময়েশ্চারাইজারগুলি ত্বকের ওপর একটা প্রভাব ফেলে যায়। এর বদলে আপনি এমন কিছু প্রাকৃতিক পুষ্টি সমৃদ্ধ উপাদান ব্যবহার করতে পারেন যা ত্বকে ময়েশ্চারাইজার হিসাবে কাজ করে। আপনি বডি অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। কিছু তেল শরীর গরম করে। গায়ে সরষের তেল বা তিল তেল মাসাজ করুন।আরও দুটি উপকারী তেল হল অলিভ এবং জোজোবা অয়েল৷

অলিভ অয়েল– অলিভ অয়েল ত্বকে উজ্জ্বলতা আনতে নানাভাবে ব্যবহার করা হয়। তবে, আপনি যদি এটি একটি ময়েশ্চারাইজার ক্রিম হিসাবে শরীরে প্রয়োগ করেন, তবে এটি অল্প পরিমাণে নেওয়ার চেষ্টা করুন। অন্যদিকে, যদি আপনার ত্বক শুষ্ক হয়, তবে আপনি এটি মুখ এবং শরীর উভয়েই লাগাতে পারেন কোনও চিন্তা ছাড়াই। ট্যানিং দূর করার পাশাপাশি এটি ত্বকে পুষ্টি যোগায়। এর পাশাপাশি এটি শীতে ত্বকের ফাটলকে রোধ করে।

জোজোবা অয়েল– জোজোবার টেক্সচার খুব হালকা, তাই এটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সেরা বলে মনে করা হয়। সেই সঙ্গে শীতের মরসুমে অনেক সময় তৈলাক্ত ত্বকও শুষ্ক হতে শুরু করে, এমন পরিস্থিতিতে জোজোবা তেল সেরা প্রমাণিত হতে পারে। আপনি আপনার ত্বকের Winter Skin Care রুটিনে জোজোবা তেল অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে এবং তারপর এটিকে নরম এবং উজ্জ্বল করে তোলে। স্নানের পর হাতে-পায়ে লাগানোর পাশাপাশি মুখেও লাগাতে পারেন।

ভিটামিনডি জরুরি

শীতের রোদ গায়ে মাখুন। যে-সমস্ত খাবার ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ যেমন, চিজ, মাখন, ছোটো মাছ, মার্জারিন, সিরিয়াল প্রভৃতি নিত্য খাদ্য তালিকায় রাখুন ।

সেফটি রুল্স

আর্থরাইটিসের সমস্যা থাকলে শীতে তা বৃদ্ধি পায়। শীতের প্রকোপে জয়েন্ট পেইন বাড়ে। তাই শীতের হাত থেকে বাঁচতে উপযুক্ত প্রোটেকশন নিন। ফ্ল্যাট জায়গায় হাঁটাচলা করুন।

আলসেমি তাড়ান

দীর্ঘ রাত এবং স্বল্পস্থায়ী দিনের আলো, আমাদের মস্তিষ্কের সেরোটোনিন হরমোনের উপর প্রভাব বিস্তার করে। ফলে দিনের আলো থাকাকালীন মনে স্ফূর্তি থাকলেও, সন্ধে নামার পর থেকেই চনমনে ভাবের অভাব লক্ষ্য করা যায় আমাদের মনে। এনার্জি লেভেল কমে যাওয়ায় ক্ষুধামান্দ হয়। তাই ব্রেকফাস্ট-এ রুটি বা ব্রাউন রাইস খান। ডার্ক চকোলেট মুড চনমনে করতে সহায়ক।

শরীরের যত্ন নিতে টিপসগুলি মেনে চলুন

জানুয়ারি মাস মানেই শীতের ঠান্ডা হাওয়া আর খানিকটা আলসেমি। এই সময় সবারই একটু ভালোমন্দ খাবার প্রবণতা বেড়ে যায়। ফলে ওজনও বাড়তে থাকে। ফিটনেসের দিকে নজর দেওয়া এই সময় তাই একান্তই জরুরি। তাই কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চলুন Fit and Healthy থাকতে, তাহলে আর বডি ওয়েট নিয়ে চিন্তা থাকবে না ।

পরিমিত অ্যালকোহল : পার্টিতে যেতে হয় এইসময় ঠিকই, তাই বলে ওভার ড্রিংকিং করবেন না। মনে রাখবেন অতিরিক্ত অ্যালকোহল কিন্তু স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়। একটা ছোট্ট ট্রিক মনে রাখুন। অ্যালকোহল গ্রহণের আগে এবং পরে এক গ্লাস করে জল পান করে নেবেন। এর ফলে অ্যালকোহল, আপনার শরীরের ক্যালোরি বার্নিং প্রসেসে কোনও অন্তরায় সৃষ্টি করবে না। যত বেশি জল খাবেন অ্যালকোহল তত তরলীকরণ হতে থাকবে।

জিমিং চালিয়ে যান : আলসেমি ছেড়ে প্রতিদিন জিম-এ যান। ওয়ার্ক আউট রুটিন-ই একমাত্র ক্যালোরি বার্ন করতে সাহায্য করবে। ফলে যে-বাড়তি খাবারটা আপনি উৎসব উপলক্ষ্যে খেয়ে ফেলেছেন, সেটার দরুন জমে যাওয়া ফ্যাট ঝরিয়ে ফেলাও সহজ হবে। শীতকালে ভোরবেলায় উঠে মর্নিংওয়াক করার মতো মনের জোর যদি জোটাতে না পারেন, ঘাবড়াবেন না। বিকেলে এক ঘন্টা ওয়ার্ক আউট আপনাকে অনেকটা সাহায্য করবে। বিকল্পে নাচ বা যোগব্যায়ামও করতে পারেন।

সবুজ শাকসবজি : আপনার খাদ্যতালিকায় স্যালাড রাখতে ভুলবেন না। শুধু ওজন কমাতেই নয়, ওগুলো আপনার ত্বকের জেল্লা বাড়াতেও কাজে লাগবে। পালংশাক, বাঁধাকপি, ব্রোকোলি, কড়াইশুঁটি, ক্যাপসিকাম, লাউ প্রভৃতি শাকসবজি নিত্য খাদ্যতালিকায় রাখুন। ভেজিটেবল সুপ খান ডিনারের আগে অ্যাপেটাইজার হিসাবে।

পানীয় গ্রহণে সতর্কতা : হট চকোলেট উইথ হুইপড ক্রিমের প্রলোভন সহজে এড়ানো যায় না এটা ঠিক কিন্তু এটাই আপনার জন্য ক্ষতিকারক। হট চকোলেট, মোচা, ক্যারামেল দেওয়া পানীয়, ওজন বাড়ায় দ্রুত। গাজরের হালুয়ার মতো এগুলো যতই লোভনীয় হোক, চেষ্টা করুন লোভ সংবরণ করতে। গ্রিন টি দিনে দুবার পান করুন, এটি স্বাস্থ্যের পক্ষে সুফলদায়ক।

পার্টিতে যাওয়ার আগে : যে-কোনও পার্টি বা অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় খালি পেট রাখবেন না। এর ফলে অত্যধিক ভাজাভুজি স্ন্যাক্স খাওয়া হয়ে যায়। তার বদলে কিছু খেয়ে বেরোন, যাতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়ে অযথা মশলাদার খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া না হয়ে যায় ।

 

নারকেল দিয়ে বাহারি মিষ্টি

বাঙালির নানা রকম মিষ্টি তৈরি হয় নারকেল অর্থাcoconut দিয়েই। কখনও নারকেল নাড়ু আবার কখনও নারকেলের তৈরি সন্দেশ। ঝাল থেকে মিষ্টি- সব রকম রান্নায়ই নারকেল ব্যবহার করা যায়। নারকেল যেমন কাঁচা খাওয়া যায়, তেমনই তৈরি করা যায় পিঠে, পায়েস, নাড়ু, সন্দেশ ইত্যাদি। নারকেল স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। তাই তো আমরা নারকেল গাছকে ট্রি অফ লাইফ বলি। এর খাদ্যগুণ যেমন বেশি সে রকমই চিকিত্‍সা শাস্ত্রে এর অবদান অনন্য। সাবেকি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় সারা পৃথিবী বিখ্যাত এই নারকেল৷

বদ হজমের ক্ষেত্রে বা যে কোনও পেটের রোগে নারকেলের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা অনেক বেশি। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে পিত্তঘটিত যে কোনও রোগের নিরাময়ে প্রথম সারিতে রাখা হয়েছে নারকেলকে। যে কোনও গ্যাস্ট্রিক জনিত সমস্যায়, পেট ফোলা ও ফাঁপায়, গ্যাস্ট্রিক আলসারে, গ্যাস্ট্রোরাইটিস, জলবাহিত পেটের রোগ সারিয়ে তোলে নারেকেল।

এমনই খাদ্যগুণ সম্পন্ন ফল থেকে আমরা মিষ্টি তৈরি করি৷ আজ জেনে নিন নারকেলের তৈরি দুটি সুস্বাদু মিষ্টির রেসিপি৷

নারকেলবাদাম শাহি মিষ্টি

উপকরণ: ৩/৪ কাপ নারকেলকোরা, ১ ছোটো চামচ বাদাম চর্ণ, ১/৪ কাপ চিনি, ২ বড়ো চামচ ঘি।

সাজানোর জন্য: ২ বড়ো চামচ পেস্তাকুচি, ২ বড়ো চামচ চিরঞ্জী।

প্রণালী: একটা ননস্টিক প্যানে, নারকেলকোরা, বাদাম চর্ণ আর বাদামকুচি ভালো ভাবে নাড়াচাড়া করে একটু শুকনো করে নিন। তুলে আলাদা পাত্রে রাখার পর, ওই প্যানেই দুধ ও চিনি দিয়ে ফুটতে দিন। এবার একটু গুঁড়ো দুধ আলাদা করে গুলে, প্যানের ফুটন্ত দুধে মিশিয়ে দিন। এতে নারকেলকোরা আর বাদামের মিশ্রণটাও দিয়ে দিন। ৩-৪ মিনিট ঢিমে আঁচে ঘন করুন। দুধ উথলে উঠলে ঘি ঢেলে দিন। একটু নাড়াচাড়া করুন তারপর নামিয়ে নিন। একটি থালায় ঘি বুলিয়ে এই মিশ্রণ চারিয়ে দিন। ওপর থেকে পেস্তা, চিরঞ্জী ছড়িয়ে বরফি আকারে কেটে পরিবেশন করুন।

 

নারকেল বরফি

 

Narkel Barfi recipe

উপকরণ: ২০০ গ্রাম নারকেলকোরা, ২৫০ গ্রাম চিনি, ১৫০ মিলি জল, ঘি প্রযোজনমতো, অল্প পেস্তা।

প্রণালী: চিনি আর জল আঁচে বসিয়ে আগে রস তৈরি করে নিন। এতে নারকেলকোরা দিন আর নাড়তে থাকুন। বেশ নরম ভাব এলে নারকেল পাক দেওয়া থামান। এবার একটা প্লেটে ঘি বুলিয়ে নিন। এর উপর নারকেল ভালো ভাবে চারিয়ে দিন। এলাচগুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। ইচ্ছে হলে তবকও দিতে পারেন। পেস্তাকুচি দিয়ে সাজিয়ে বরফির আকারে কেটে পরিবেশন করুন।

হাঁটুতে চোট নিয়েই শুটিং করছেন কার্তিক আরিয়ান

নতুন বছর শুভ হবে তো কার্তিক আরিয়ানের জন্য? এমন আশঙ্কায় তাঁর অনুরাগীরা৷ আসলে বছরের শুরুতেই শুটিং সেটে দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন  কার্তিক। আসন্ন ছবি ‘শেহজাদা’র শুটিং চলাকালীন বিপত্তি ঘটিয়ে বসলেন অভিনেতা Kartik Aaryan ছবির একটি গানের দৃশ্যের শুটিং করছেলেন। আর সেই শুটিং চলাকালীনই হাঁটুতে ভারী চোট পেয়েছেন অভিনেতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি শেয়ার করে অনুগামীদের সঙ্গে সেই খবর ভাগ করে নিয়েছেন কার্তিক।

নভেম্বর মাসে কার্তিকের জন্মদিন উপলক্ষে মুক্তি পেয়েছিল Shehzada -র টিজার। তখনই জানা যায় যে, অল্লু অর্জুন অভিনীত ব্লকবাস্টার হিট তেলুগু ছবি আলা বৈকুন্ঠপুরমালু ছবিরই হিন্দি রিমেক হতে চলেছে কার্তিকের এই নতুন ছবি। ছবির টিজারে মারকাটারি অ্যাকশনে নজর কেড়েছিলেন শেহজাদা কার্তিক আরিয়ান।

আলা বৈকুণ্ঠপুররামুলু ছবিতে আল্লু অর্জুনের সঙ্গে পূজা হেগড়েকে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল। আর তার হিন্দি রিমেকে কার্তিকের সঙ্গে থাকবেন কৃতি শ্যানন। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কৃতি এবং কার্তিক জুটি বাঁধলেন কোনও ছবির জন্য। এর আগে তাঁদের লুকা ছুপি ছবিতে একত্রে দেখা গিয়েছিল।

এছাড়াও শেহজাদা ছবিতে দেখা যাবে মণীষা কৈরালা, পরেশ রাওয়াল,রনিত রায় এবং সচিন খেদকারকে। শেহজাদা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে বরুণ ধাওয়ানের দাদা রোহিত ধাওয়ান।ভ্যালেন্টাইনস ডে-র আগে ১০ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেতে চলেছে কার্তিক-কৃতি অভিনীত এই  নতুন ছবি শেহজাদা। অবশ্য তার আগেই ওটিটিতে হাওয়া গরম করেছেন ভুল ভুলাইয়া ২-র রুহবাবা। কারণ, ২ডিসেম্বর জনপ্রিয় ওটিটিতে মুক্তি পেয়েছে কার্তিকের থ্রিলার ফিল্ম ফ্রেডি। ফ্রেডিতে কার্তিকের বিপরীতে রয়েছেন আলিয়া এফ।

কার্তিক আরিয়ানের শেহজাদা ছবির টিজারে দেখা গেছে যে তিনি একটি প্রাসাদের গেট থেকে ঘোড়ায় চড়ে বেরিয়ে আসছেন। তারপরেই দক্ষিণী ছবির সিগনেচার স্টাইলে মারকাটারি অ্যাকশন। এই টিজার ভিডিয়োতে কেবল নায়ককে দেখা গিয়েছে এমনটাই নয়। নায়িকারও দেখা মিলেছে এক ঝলক। কৃতি শ্যাননকে সমুদ্রের ধারে একটি নাচের দৃশ্যে দেখা গেছে।

এই ছবিতে দক্ষিণী ছবির ছাপ স্পষ্ট, সেটা অ্যাকশন দৃশ্য হোক বা কোরিওগ্রফির স্টাইল। ফলে এই বিষয়টা অনেকেরই পছন্দ হয়নি। এই বার কি তাহলে কার্তিক তাংর ইমেজ অনুযায়ী ভুল স্ক্রিপ্ট বাছলেন!’ এরকমও একটা আশঙ্কা দানা বাঁধছে অনুরাগী মহলে৷ এই ছবির মাধ্যমে আল্লু অর্জুনের সঙ্গে তাঁর তুলনা চলে আসতেও বাধ্য৷ অথচ দুজনের ইমেজ আলাদা, দুটোর তুলনাই হয় না।কার্তিকের এক অনুরাগী তাঁর মতামত জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই লিখেছেন, ‘আমি আপনার খুব বড়ো ভক্ত কার্তিক, কিন্তু এই ছবিতে আল্লু অর্জুনকেই ভালো লেগেছিল।’

কার্তিকের একটি ঈর্ষনীয় ফ্যান ফলোয়িং আছে৷ ২০১১ সালে কার্তিক পেয়ার কা পাঞ্চনামা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনয় জগতে পদার্পণ করেন। এরপর  সনু কে  টিট্টু কি সুইটি নামে আরও একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ছবি দু’টি বাণিজ্যিক ভাবে সাফল্য অর্জন করলেও এগুলির নারীবিদ্বেষী বিষয়বস্তুর জন্য সমালোচিতও হয়। শেষোক্ত ছবিটি কার্তিককে অভিনেতা হিসাবে বিশেষ পরিচিতি দান করে। ২০১৯ সালের রোম্যান্টিক কমেডি লুকাছুপি ছবিতে অভিনয়ের পর তাঁর অনুরাগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে৷ লভ আজকাল ও ভুলভুলাইয়া ২ তাঁকে বিপুল সাফল্য এনে দেয়৷ ১০ ফেব্রুয়ারি শেহজাদা বড়ো পর্দায় মুক্তি পাওয়ার পর দর্শকদের কেমন লাগে, সেটাই এখন দেখার।

সন্তান যথেষ্ট বুদ্ধিমান কিনা বুঝবেন কী করে?

সব অভিভাবকই নিজের সন্তান-কে বুদ্ধিমান হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে দেখতে চান। সেই লক্ষ্যে পৌঁছোতে তারা নিজেদের দিক থেকে নানারকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যান।

নিজের সন্তান কতটা বুদ্ধিমান তার একটা স্পষ্ট ধারণা মা-বাবার থাকা একান্ত আবশ্যক। শৈশবেই যদি শিশুর উপর যথেষ্ট খেয়াল রাখা হয়— তাহলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে আপনার শিশু কতটা বুদ্ধিমান, কারণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় ঘটে শৈশব থেকেই।

একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন আর পাঁচ-দশটা শিশুর থেকে আপনার সন্তান Intelligence-এর দৌড়ে কতটা এগিয়ে তবে সব শিশুর মধ্যেই নিজের মতো করে কিছু নিজস্বতা থাকে, যা তাকে অপরের থেকে আলাদা করে বা তাকে অসাধারণ করে তোলে। শিশুর মধ্যে কোন গুণগুলি দেখে অভিভাবকেরা তাদের বুদ্ধির আন্দাজ করতে পারবেন, বিশেষজ্ঞের মতামতের উপর নির্ভর করে তারই একটা বিশ্লেষণ এখানে দেওয়া হল।

শিশুর সার্বিক বিকাশ

সাধারণের তুলনায় যেসব শিশুর বুদ্ধি বেশি তাদের সার্বিক বিকাশের স্তরটিও অন্যান্য শিশুদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে থাকে। সময়ের আগে যেসব শিশুরা বসতে, হাঁটতে, কথা বলতে বা কোনও জিনিস ধরে তুলতে শিখে যায়, তারা অন্যান্য সমবয়সি শিশুদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে বুঝতে হবে।

যেসব শিশু নিজের অবিভাবকের চোখে চোখ রেখে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে চেষ্টা করে, হাত-পা নেড়ে, মুখে বিভিন্ন শব্দ করে বড়োদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহ দেখায়, তাদের বুদ্ধির বিকাশ অনেক তাড়াতাড়ি শুরু হয়ে যায়। পারিপার্শ্বিকের যে-কোনওরকম পরিবর্তনই তাদের সংবেদনশীল করে তোলে।

একা থাকার বাসনা ও জেদের প্রকাশ

নিজের সঙ্গে নিজে খেলা করা, একা একা খেলনা নিয়ে খেলা, একা বসে রং করা, এগুলোও শিশুর প্রতিভারই পরিচয় বহন করে। নিজের চেয়ে বয়সে বড়ো বাচ্চাদের সঙ্গে এরা মিশতে পছন্দ করে। একা একা সব কিছু করতে চেয়ে তারা সকলের বাহবা অর্জন করতে চায়। কোনওরকম সমস্যা তৈরি না করেই যে-শিশু নিজের মনোরঞ্জন করতে সক্ষম, তাকে জিনিয়াস বলেই ধরে নেওয়া হয়।

বাচ্চা জেদ করলে আমরা শাসন করে থাকি কিন্তু এই জেদই শিশুর ডিটারমিনেশন-এর সাক্ষ্য বহন করে। জেদ করেই হোক, নিজে যেটা চায় সেটা অর্জন করেই ছাড়ে। নিজের মতামতে অপরের সহমত আদায় করে নেওয়াটাও শিশুর বুদ্ধিমত্তারই পরিচয় বহন করে।

স্মৃতিশক্তি

ভালো স্মৃতিশক্তি শিশুর প্রতিভারই একটি লক্ষণ। কোনও কথা বা কিছু দেখলে তা যদি শিশু দীর্ঘদিন মনে রাখতে পারে তাহলে বুঝতে হবে শিশুটির মধ্যে বিরল প্রতিভা রয়েছে।

কল্পনাপ্রবণ ও পড়াশোনায় মনোযোগ

অনেক শিশুই নিজের মনে বানিয়ে বানিয়ে একটা গল্প দাঁড় করিয়ে দেয়। ঘটনা হয়তো কিছু ঘটেইনি কিন্তু কল্পনাশক্তি প্রয়োগ করে না-ঘটা ঘটনাই শিশু বিস্তারিত ভাবে বড়োদের কাছে শোনায়। পরে এর যথাযথ বিচার করতে গিয়ে বড়োদের হয়তো মনে হতে পারে শিশুটি মিথ্যা বলেছে। কিন্তু সদার্থক মানসিকতা নিয়ে যদি বিচার করা যায়, তাহলে বুঝতে হবে শিশুটির কল্পনাশক্তিরই মিশেল ঘটেছে তার বলে যাওয়া ঘটনাক্রমে। অনেক সময় দেখা যায় কাল্পনিক বন্ধু বানিয়ে বাচ্চা খেলা করছে। এই কল্পনাপ্রবণতা বাচ্চার মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়াটাও শিশুর জিনিয়াস হওয়ারই অন্যতম লক্ষণ। যাদের মধ্যে প্রতিভা রয়েছে তারা স্কুলের পরীক্ষাতে ভালো ফলাফল করে থাকে। স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগে থেকে যদি খেলাচ্ছলে শিশুর সঙ্গে নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়, তাহলে তারা নানা ক্ষেত্রে প্রতিভা প্রদর্শন করতে পারে।

জন্ম থেকে ৪-৫ বছর বয়স অবধি শিশুর ৯০ শতাংশ পর্যন্ত Intelligence-এর বিকাশ ঘটে। সন্তানকে এসময় বিশেষ মনোযোগ দেওয়া দরকার। বই পড়া, গল্প লেখা, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে এবং নানা বিষয়ে তাকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করে যাওয়া উচিত। শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য ব্রেন বা মস্তিষ্কের পুষ্টি হওয়া অত্যন্ত জরুরি এবং এতে সবথেকে বেশি সহযোগিতা করতে পারেন অভিভাবকেরাই।

শ্বেত অর্কিডভূম কার্শিয়ং- শেষ পর্ব

স্থানীয় একটি সংস্থার গাড়ি বুক করে ঘুরে আসি কাছেপিঠে। পাহাড়ি আলোছায়ার পথ উজিয়ে মিরিক, গোপালধারা চা-বাগিচা, সীমানা ভিউ পয়েন্ট, মানেভঞ্জন, সুখিয়াপোখরি, ঘুম, বাতাসিয়া লুপ। শীতের শিহরণ, পাহাড়ছোঁয়া হিমেলবাতাস চা বাগানের সবুজ, নতুন ভাবে মন ও চোখকে জিরেন দেয়।

বাদামতাম: আমাদের গন্তব্যে আরও এক অনবদ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ঠেক কার্শিয়ং থেকে ৪৫.৭ কিলোমিটার দুরত্বে বাদামতাম। হিলকার্ট রোড ধরে খারিয়া বস্তি, সিপিয়াঝোরা চা-বাগান, রংবুল ইত্যাদি পেরিয়ে দার্জিলিংকে পাশ কাটিয়ে লেবং রোড ধরে পাহাড়ি বসতি, চা-বাগান, লেবং রেসকোর্স, দুধারে ছোটো ছোটো গ্রাম পাশে নিয়ে বাদামদাম বলে দারুণ এক স্থান। আদপে এটি বাদামদাম টি এস্টেট। কার্শিয়ং দার্জিলিংয়ে মতো ব্যস্ত শহরের থেকে দূরে নির্জনতার স্পর্শ এনে দিতে সদা সহায়ক।

দার্জিলিং এলাকার চাবাগানগুলির মধ্যে সেরা চাবাগানের একটি, ১১.৯৯৫ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই বাদামতাম। চা-বাগানটি ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ জমানায় পত্তন হয়। এখানে ইদানীং সম্পূর্ণ জৈব প্রক্রিয়ায় ও পদ্ধতিতে চা প্রস্তুত করা হয়। বাদামতাম বাজার থেকে পথের বাঁদিকে তাকালেই চোখে পড়বে বাদামতাম টি ফ্যাক্টরি। বিশেষ অনুমতিসাপেক্ষে চা কারখানাটি দেখেও নেওয়া যায়।

লেপচা শব্দ বাদামতাম মানে হল, বাঁশ নির্মিত জলের বাহক। চারিদিক সবুজ বদলে বদলে যাওয়া পাহাড়। প্রায় প্রতিটি ধাপেই চা-বাগান। নিসর্গ আর সৃষ্টির প্রহরে বহুরৈখিক সবুজের চিত্র। মাঝে মাঝে পাহাড়ি গ্রাম্য বসতবাড়ি। এসবের মাঝে নীরবতা ভাঙছে পাখির কলতান। সবুজ উপত্যকা চিরে বয়ে চলেছে রঙ্গিত ও রংদুং খোলা নামের নদীদ্বয়। মাঝহিতারে এসে নদী দুটি মিশেছে। ভারি মনোরম এবং নিঝুম পুরো এলাকাটি।

নদীর ওপরে সেই ব্রিটিশ যুগের তৈরি ঝুলন্ত সেতু। সেতুর ওপারে সিকিমের রংপো। এপারে পশ্চিমবঙ্গের মাঝহিতার। গাড়ি চলাচলের উপযুক্ত নয় এই সেতু। তাই পায়ে হেঁটেই সেতু পেরিয়ে বিদেশের স্পর্শ পেতে রংপো ঘুরে আসা যায়। গেলামও। এদিকটায় কিছু দোকানপাট, বাজার, ঘরবাড়ি নিয়ে সিকিমের গ্রামটি ভারি সুন্দর। ওদিকে রয়েছে খড়ের ছাউনি দেওয়া মাচা করা বাদামতাম নজরমিনার। বসার জন্য কাঠের গুঁড়ি কেটে বানানো প্রাকৃতিক বেঞ্চ।

নীল আকাশের সীমানা জুড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার হাসিমুখ আর একরাশ হিমেল হাওয়াটুকুই যথেষ্ট। কাঞ্চনজঙ্ঘাকে এত অপরূপ দেখায়। এখানে বাদামতাম মঠে ১৪ ফুট উঁচু বুদ্ধমূর্তি রয়েছে। ওদিকে দুপুর গড়িয়ে এসেছে। এখানে বাদামতাম হোমস্টে-তে মধ্যাহ্ন আহার সেরে এবার কার্শিয়ং অভিমুখে।

পাইন, শাল, ওয়ালনট, কনিফার, লালিগুরাস বা রডোডেনড্রন, ফার্ন, লিচেন গাছগুলির ফাঁক গলে খেলা করছে রূপসি কার্শিয়ং ও কাঞ্চনজঙ্ঘা। অপলক চেয়ে থাকি স্বপার্ষদ কাঞ্চনজঙ্ঘার দিকে। প্রকৃতির অমোঘ কারসাজিতে মাঝেমাঝেই ভোল পালটাচ্ছেন তারা। মেঘেদের লুকোচুরি খেলা পাহাড়ভূমে যেমন চলে আর কী!

কখনও মেঘ-কুয়াশায় মুড়ে নিচ্ছেন নিজেদের, তখনই আমাদের মন উশখুশ করতে শুরু করেছে কী করেনি, পরক্ষণেই মেঘের চাদর সরিয়ে পাহাড়শ্রেণির খানিকটা অংশে রোদের ঝিলিক। আবার উধাও। অফুরান দৃশ্যাবলীর কথা জমতে থাকে।

শৌখিন কফি কাপে চুমুক দিয়ে ডায়ারি খুলে লিখতে বসি। আজ সারাদিনের কার্শিয়ং বেড়ানোর গল্প। হাতে আমার তখনও ধূমায়িত কফিকাপ। আমার সজাগ ক্যামেরা দিশেহারা হয় প্রকৃতির সারল্যে। যেন এই আমি আর আমার পর্যটন মুহূর্তগুলোই সত্য।

কীভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে বাস বা ট্রেনে শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছে, সেখান থেকে ভাড়া গাড়ি বা শেয়ার জিপে সোজাসুজি কার্শিয়ং চলে যাওয়া যায়। বিমানপথে গেলে বাগডোগরা বিমানবন্দর। অনেকসময় হোটেলে বলা থাকলেও হোটেল কর্তৃপক্ষ স্টেশন বা বিমানবন্দরে মূল্যের বিনিময় গাড়ি পাঠিয়ে দেন।

কোথায় থাকবেন: কার্শিয়ং শহরে থাকার জন্য বেশ কয়েটি মহার্ঘ্য হোটেল রিসর্ট ছাড়াও নানা বাজেটের হোটেল রয়েছে। এছাড়া হোমস্টে, লজ, গেস্টহাউসও রয়েছে।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব