অভিনয়ে আবার নজর কেড়েছেন রাধিকা মদান

রাধিকা মদানের অ্যাক্টিং কেরিয়ার শুরু হয়েছিল টিভি সিরিয়াল দিয়ে। এরপর তিনি অভিনয় করেন ‘মর্দ কো দর্দ নেহি হোতা’ ছবিতে। এই ছবিতে রাধিকার বিপরীতে অভিনয় করেছেন ভাগ্যশ্রীর ছেলে অভিমন্যু দশানি। বহুদিন আটকে থাকার পর মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। তবে, এই ছবিটি বাণিজ্যিক ভাবে মুক্তি পাওয়ার আগে, টরেন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ ছবির পুরস্কার জিতে নিয়েছে। ‘পিপল্স চয়েস মিডনাইট ম্যাডনেস’ শীর্ষক এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে ছবিটিকে। আর এরই মধ্যে রাধিকা আলোচনায় উঠে এসেছেন। অন্য একটি ছবিতে অভিনয় করে। বিশাল ভরদ্বাজ পরিচালিত এই ছবিটির নাম ‘পটাখা’। দুই বোনের কাহিনিতে আধারিত এই ছবিতে, চম্পার চরিত্রে অভিনয় করে নজর কেড়েছেন রাধিকা। আর এই সাফল্যের সুবাদে সম্প্রতি রাধিকা শোনালেন তাঁর মনের কথা।

আপনি কি ছোটো থেকেই অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন?

আমি বড়ো হয়েছি দিল্লির নন-ফিল্‌মি আবহে। তবে আমার মা নীরু মদান বড়ো পেইন্টার। আমি অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম না। কোনও আগ্রহ ছিল না অভিনয়ের। বরং আমার আগ্রহ ছিল নাচে তাই ক্লাসিকাল নাচ শিখতাম। ফোর্থ ইয়ার পর্যন্ত নাচ শিখেছি এবং নিজে নাচ শেখার পর বাচ্চাদের নাচ শেখাতামও।

তাহলে আপনি অভিনেত্রী হলেন কীভাবে?

যখন আমি বিএ অনার্স-এর ফার্স্ট ইয়ার-এ পড়ছিলাম, তখন একজন আমার ফেসবুক-এর ছবি দেখে সিরিয়াল-এ অ্যাক্টিং করার জন্য অডিশন-এ ডাকেন। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম, কোনও প্রতারক হয়তো ডাকছে আমাকে। তাই আমি ওকে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়ার জন্য ভাইদের সঙ্গে নিয়ে দেখা করি। কিন্তু গিয়ে দেখি, ব্যাপারটা জেনুইন। কী যে ইচ্ছে হল তখন, অডিশন দিয়ে ফেললাম। প্রথম অডিশন-এ সিলেক্ট হওয়ার পর, দ্বিতীয় অডিশন-এর জন্য মুম্বই যেতে হল। ওখানে অডিশন-এর পর আমি ঈশানির চরিত্রে অভিনয় শুরু করি ‘মেরি আশিকি তুমসে হি’ ধারাবাহিকে। তবে ভয় ছিল অভিনয় ঠিকমতো করতে পারব কিনা। কিন্তু নির্দেশকের সাহায্য নিয়ে ঠিকঠাক অভিনয় করতে পারি। ৪-৫ মাস পর বুঝতে পারি, দর্শকদের কাছে পরিচিতি পেয়েছি আমি।

আপনি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী হওয়ার জন্য অভিনয়ের কিছু সুবিধে হয়েছে কি?

দেখুন, নাচেও সঠিক ভাব প্রকাশ করতে হয়, আবার অভিনয়েও তাই। সেই হিসাবে নাচের প্রশিক্ষণ খুব কাজে লেগেছে অভিনয় করতে গিয়ে। প্রথাগত অভিনয় শিক্ষা ছাড়াও তাই ভালো ভাবে অভিনয় করতে পেরেছি আমি। তাছাড়া, প্রতিটি সৃজনশীল কাজই পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। হয়তো তাই নাচের ট্রেনিং নেওয়ার সময়ই আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়ে গিয়েছিল আমার।

টিভি সিরিয়াল থেকে সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পেলেন কীভাবে?

‘মেরি আশিকি তুমসে হি’ ধারাবাহিকের পর ‘ঝলক দিখলা যা’ টিভি শো করেছি আমি। এরপরই আমি সিনেমায় অভিনয়ের চেষ্টা করতে থাকি। তখন আমার বয়স ছিল ২১ বছর। চুটিয়ে অডিশন দিতে থাকি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য। এভাবেই একসময় সুযোগ পাই ‘মর্দ কো দৰ্প নেহি হোতা’ ছবিতে। আর এই প্রথম ছবির জন্য দুঃখ-সুখ সবই পেয়েছি। ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ, শুটিং বন্ধ হয়ে যাওয়া, আবার শুটিং চালু হওয়া, টরেন্টোর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবির সাফল্য, পুরস্কার লাভ— সব মিলে দুঃখ-সুখের চরম অনুভূতি। আর এই ছবির শুটিং চলাকালীন-ই আমি আবার অডিশন দিয়ে অভিনয়ের সুযোগ পাই ‘পটাখা’ ছবিতে।

বিশাল ভরদ্বাজের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?

দারুণ! সত্যি বলতে কি, আমি কেন, যে কেউ ওঁর ছবিতে কাজ পেলে ধন্য হন। তাই যখন আমি ওঁর ‘পটাখা’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পেলাম, তখন বিশ্বাস-ই হচ্ছিল না। আমি বিশালজির খুব বড়ো ভক্ত। ওঁর ‘ওমকারা’, ‘মকবুল’ প্রভৃতি ছবি দেখে মুগ্ধ হয়েছি। শুধু তাই নয়, আমি ওঁর গানেরও ভক্ত। তাঁর ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে আমি অনেক কিছু শিখেছি। তাই আগামী দিনে আবার যদি উনি আমাকে অভিনয় করতে ডাকেন, তাহলে চোখ বন্ধ করে রাজি হয়ে যাব।

আপনি ফর্সা, সুন্দরী কিন্তু পটাখা ফিল্‌ম-এ এর ঠিক উলটো রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। এই বিষয়ে আপনি কী ব্যাখ্যা দেবেন?

অভিনয়ের জন্য সবকিছু করতে হয়। তাছাড়া, আমি যা তার উলটো রূপে অভিনয় করতেই তো মজা। এর জন্য মেক-আপ আর্টিস্টকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয় এবং প্রতিভাসম্পন্ন হতে হয়। ঠিক তেমনই আমাকেও ওই চরিত্রটা কষ্ট করে ফুটিয়ে তুলতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধূমপান (বিড়ি) করার পর দাঁতে যেমন দাগ পড়ে যায়, ঠিক সেভাবেই আমার দাঁতেও উপযুক্ত মেক-আপ করতে হয়েছে। অনেকবার চিত্রনাট্য পড়ে অভিনয়ের অনুশীলন করতে হয়েছে। রাজস্থানের রঙ্গি গ্রামে গিয়ে গোবর কুড়োনো, গোবর দিয়ে জলছড়া দেওয়া, কুঁয়ো থেকে জল তোলা, কাঠের উনুনে চাটু বসিয়ে রুটি বানানো প্রভৃতি শিখে এসে অভিনয় করেছি। কোনও দিন যে বাড়িতে রান্না করেনি, তাকে এসব করতে হয়েছে— কালো কুৎসিত না হয়ে সুন্দর থাকি কী করে বলুন তো? (হাসি)

অভিনয়ের সময় ব্যবহৃৎ গোবর আসল ছিল?

বিশাল স্যার আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, গোবর আসল রাখব নাকি নকল? যেহেতু রাজস্থানের গ্রামে গিয়ে আসল গোবর ঘেঁটেছি, তাই শুটিং-এর সময় আসল গোবর নিয়েই অভিনয় করেছি। শীতকালে শুটিং ছিল, তাই ঠান্ডার মধ্যে গোবরে হাত ডুবিয়ে অভিনয়ে বেশ আরাম পেয়েছি। কারণ, গোবরে হাত রাখলে উষ্ণতা পাওয়া যায়।

‘পটাখা’ ছবিতে দুই বোনের যেমন লড়াই দেখানো হয়েছে, তা এখনকার মেয়েরা রিলেট করতে পারবে ?

অবশ্যই। কারণ, ‘পটাখা’ বাস্তব কাহিনি আধারিত। যে-গ্রামে আমরা শুটিং করছিলাম, ওই গ্রামের মেয়েরা দুই বোনের লড়াই রিলেট করেছে। দুই বোনের মধ্যে ওদেরও ঠিক ওইভাবেই ঝগড়া হয়।

আগামী দিনে আর কেমন চরিত্রে অভিনয় করতে চান আপনি?

‘জব উই মেট’ ছবিতে করিনা কপুর যে-চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, নির্দেশক ইমতিয়াজ আলি আমাকেও ওইরকম চরিত্রে কাস্ট করলে খুশি হব।

হাতে আর কী ছবি আছে?

হ্যাপি টিচার্স ডে এবং কাচ্চে লিব্বু কিছু দিনের মধ্যে দেখতে পাবেন আমার প্রিয় দর্শকরা। আরও কয়েকটা ছবির কথা চলছে, ফাইনাল হলে-ই জানাব।

শ্বেত অর্কিডভূম কার্শিয়ং-পর্ব ৩

আমাদের পরবর্তী গন্তব্য অম্বুটিয়া চা-বাগিচা ও অম্বুটিয়া শিবমন্দির। সার্কিটহাউস থেকে কিছুটা দূরে গ্রিন টি-র জন্য খ্যাত এই চা-বাগিচাটি। গিদ্দা পাহাড় ভিউপয়েন্টটা পর্যটকদের কাছে বেশ লোভনীয় দ্রষ্টব্য। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার ব্যাপ্তি ও সৌন্দর্য দেখার মতো। গিদ্দা পাহাড়ে রয়েছে স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য রাম-সীতা মন্দির ও দুর্গামাতা মন্দির। সামনেই রোদ্দুর-মেঘের রূপান্তরিত ছটায় হিমালয় দর্শন। কার্শিয়ংয়ের সেন্ট মেরি হিল ক্যাথলিক চার্চ, হিলকার্ট রোডের সেন্ট পলস চার্চ দুটিও দেখার মতো। এছাড়া আপার নয়া বস্তিতে রয়েছে কুনসাং কয়েলিং মনেস্ট্রি। মার্গারেট ডেক টি-লাউঞ্জে একপ্রস্থ ধূমায়িত চা ও কুকিজ খাওয়া হল।

কার্শিয়ংয়ের চোখের পাতায় এখনও যেন ঘুমের আদর লেপটে আছে। মূল সড়ক ধরেই পায়চারি করা ছাড়া আপাতত আর কোনও উদ্দেশ্য নেই, বিধেয় নেই। শহরের ত্রিসীমানায় নিঃশব্দ পদচারণ করে যাই। পায়ে হেঁটেই এক লহমায় শেষ হয়ে যাবে। কার্শিয়ংয়ের কুয়াশার আবডালে জেগে আছে একফালি জনবসতি ও দুধারে গজিয়ে ওঠা হোটেল ছাড়াও বেশ কিছু হোমস্টে।

ইদানীং স্থানীয় প্রায় সব পরিবারই এখানে হোমস্টে খুলে রেখেছেন, বাড়তি আয়ের জন্য। সীমিত ব্যাবস্থা, সাধাসিধে আয়োজন। হোমস্টে মানেই স্থানীয় কোনও পরিবারের গৃহে অতিথি হয়ে থেকে যাও, নগদ অর্থ মূল্যে। নির্ধারিত মূল্যে খাওয়াদাওয়াও সেখানেই। তারপর তো আরাম করো, খানিক ঘোরো-ফেরো। হাতের নাগালেই প্রকৃতি।

ইতিহাসের পাতা ওলটালে আরও দেখা যাবে যে সুভাষচন্দ্র বসু, ভগিনী নিবেদিতা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অতুলপ্রসাদ সেন, মার্ক টোয়েের মতো স্বনামধন্যদের পদধূলি পড়েছিল কার্শিয়ংয়ের গিদ্দা পাহাড়ে বন্দিদশা কাটিয়েছিলেন নেতাজি। কবিগুরুর বেশ কিছু সাহিত্যকর্ম এখানেই। বহু নামকরা আবাসিক স্কুল রয়েছে, এই জন্য কার্শিয়ংকে স্কুল-টাউন বলেন অনেকে। এখানকার হাসেল-খোলা নামের শীর্ণ এক নদীর বাঁক দিয়ে হুইসল বাজিয়ে টয়ট্রেন যেত বলে স্থানটির নামই হয়ে গেছে হুইসল-খোলা বা হাসেল-খোলা।

নেতাজি মিউজিয়ামটিও দ্রষ্টব্য তালিকায়। ওল্ড মিলিটারি রোডের অরণ্যসরণিতে বিস্তারিত শ্বেত অর্কিডের বীথিকা। টিবি হসপিটালের পাশ দিয়ে এগিয়ে গেলে এখানে একটি কীটপতঙ্গের খামারবাড়ি ও কার্শিয়ং বেতার স্টেশন। কার্শিয়ংয়ের তিব্বতি-গোর্খা-নেপালি-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান মিলে মিশ্র সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এখানে গোর্খাদের তিহার অর্থাৎ দীপাবলি ও দেশাই অর্থাৎ বিজয়াদশমী স্বাতন্ত্র উত্সব। তিনপ্রকার তেওহার পালন স্থানীয় লোকবিশ্বাসের আওতায় পড়ে। মাঘে সংক্রান্তি এখানকার অন্য প্রধান উত্সব ছাড়াও তিব্বতীদের নববর্ষ লোশার উত্সব বিখ্যাত।

পাহাড়ের নিজস্ব কিছু ভাষা থাকে। স্তব্ধ ও নীরব। কোথাও পথের এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত টাঙানো মন্ত্রপুতঃ রংদার বৌদ্ধ পতাকাগুলি নীরবতার মধ্যে বহমান। হাওয়ার ঝোঁকায় উড়ছে পতপত করে। পাহাড়িয়া ভূমিপুত্রদের অগাধ বিশ্বাস, এমন করেই হাওয়ার বিস্তারে ছড়িয়ে যাবে তথাগত বুদ্ধের বাণী দেশ থেকে দেশান্তরে। নীরবতার ভেতরেই জাগরুক থাকে পবিত্র মন্ত্রধ্বনি। যাবতীয় ক্লান্তি ভুলে সেইসব ভাষা মিশে যেতে থাকে সফরনামায়।

শ্বেত অর্কিডভূম কার্শিয়ং -পর্ব ২

আমাদের অনলাইন বুকিং করা ছিল কার্শিয়ংয়ের টয়ট্রেন স্টেশন থেকে কিলোমিটার দুয়ে দূরে পঙ্খাবাড়ি ফাটক রোডের ওপর এক বিগতকালের প্রাসাদের হোটেল কোচরেন প্লেস। কেতাদুরস্ত হোটেলটি বেশ কিছুটা মহার্ঘ্য হলেও সমগ্র হোটেলটাই ঘুরে ঘুরে দেখার মতো। সে যুগের পিয়ানো, ফ্রেমবাঁধানো প্রচুর চিত্র, ভিন্টেজ গাড়ি, আসবাবপত্র, বাসনকোসন ইত্যাদি নিয়ে অন্দরমহলটাই রাজকীয় ভাবে সাজানো। মেঘরাজ্যের খোলা বারান্দায় ছিমছাম খাওয়ার জায়গায় মধ্যাহ্নভোজন সেরে শহর ঘুরতে যাব আমি তো হোটেলচত্বর দেখতেই কালক্ষেপ করছি। এখানে বেশ কিছু হোমস্টের গায়ে টয়ট্রেন যাবার লাইন পাতা। সারা দিনমান টয়ট্রেনের যাওয়া-আসা দেখার অভিজ্ঞতাই অন্যরকমের।

কাছেপিঠে কত যে অফবিট দ্রষ্টব্য রয়েছে। যেমন বেলতার নামে এক জায়গায় রয়েছে ওপেন সুইমিং পুল। টুং স্টেশনের পাশ দিয়ে চা-বাগানের মধ্য দিয়ে গড়াতে গড়াতে দিব্যি পৌঁছে যাওয়া যায় বেলতার। সবুজ চারদিকের ছায়ার মাঝে গোল পুষ্করিণীর পাশে নিরালা বেলতার রিসর্ট। মূলশহর থেকে ৫.২ কিলোমিটার দূরে উচ্চতম স্থান ডাউহিল সম্পর্কে প্রচলিত ভূতের গল্প চাউড় রয়েছে। এখানে নাকি ঠাঁই নেয় অশরীরীরা। গোটা এলাকা কুয়াশার জালে আগলে রাখে মায়াবী রহস্যময়তা। লোকমুখে প্রচারিত, এখানে নাকি এক স্কন্ধকাটা বালককে দেখা যায়।

পাহাড়ি-পথে জীবিকা নির্বাহের কারণে কাঠকুটো নিয়ে চলাচল করেন সাধারণ মানুষ। তারা অনেকেই চাক্ষুস করেছেন নানান অলৌকিক ঘটনা, একাধিকবার। কার্শিয়ং থেকে পঙ্খাবাড়ি পথে ডাউহিলের গা ছমছমে ভয়ংকর ভৌতিক ইশারাময় প্রকৃতি কিন্তু মাত করে দেয়। ডাউহিল থেকে বনদফতর পর‌্ন্ত আলোআঁধারি অরণ্যপথটি স্থানীয়দের কাছে ডেথ রোড বা মৃত্যুপথ নামে কুখ্যাত। যদিও ডাউহিলের অপ্রতিম সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু। তবে ভারতের রহস্যঘন স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম। রহস্য মৃত্যুর হরেক কল্পকাহিনি ও প্রেতাত্মার গল্প লোকের মুখে মুখে ফেরে। অনেকেই তা কাল্পনিক বলে উড়িয়ে দিতে পারেন।

উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে কুসংস্কারের পালে হাওয়া দেওয়া ভূতুড়ে গল্প চালু করায় ক্ষুব্ধ স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় অধিবাসীরা। এই এলাকায় রয়েছে ব্রিটিশ আমলের ডাউহিল চার্চ, দুটি স্কুল সেন্ট জোসেফ ও ভিক্টোরিয়া বয়েজ স্কুল। একটি মৃগদাব, বন-প্রদর্শশালা এবং সুন্দর একটি ইকোপার্ক। একধরনের পাহাড়ি ঘুঘু পাখির নাম ডাউ। এই পাহাড়ি এলাকায় ঝাঁকে ঝাঁকে ডাউ পাখি দেখা যায়। সেইজন্যই এই পাহাড়চড়ার নাম ডাউহিল।

Eagles craig kerseong

কার্শিয়ং ঈগল ক্রেগ পার্কের নজরমিনারে ঠায় বসে থাকি। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে উচ্চতা ও সমতলের ঘনত্বের নিরিখে দেখি। দু’চোখের আঙিনায় পান্নাসবুজ তিস্তা ও মহানদী উপত্যকার দিগন্তবিস্তৃত সবুজের সমারোহ প্রশান্তি আনে। কার্শিয়ং থেকে দার্জিলিং অংশে টয়ট্রেন চলে মোটামুটি নিয়মিত। বাঁকের পর বাঁক ভোঁ বাজাতে বাজাতে ধীরে ধীরে এর বাড়ির দাওয়া, ওর বাড়ির জানলার গা ঘেঁষে কু ঝিকঝিকিয়ে কার্শিয়ং-টুং-সোনাদা-ঘুম-দার্জিলিং চলে যায় টয়ট্রেন। সালামান্দার ঝিল প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে, সেখানে নানা প্রজাতির সরীসৃপ, মাছ এমনকী রয়েছে ঝিলের জলে নৌবিহারের বন্দোবস্তও। মেঘে মেঘে ছয়লাপ পাহাড়ের মাঝে নৌবিহারও জমে যায় পর্যটকদের মধ্যে।

সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-২৬

শেষে ফোনটা ওর ভাই ধরেছিল। আশপাশ থেকে বাড়ির অনেকের হই-হুল্লোড় শুনতে পাচ্ছিল। আসলে ওই দিনটা ছিল বিশেষ একটা অনুষ্ঠানের দিন। ওর মায়ের জন্মদিন ছিল, এত কিছু জানলে কস্তুরী ফোনই করত না। সবাই মিলে সারপ্রাইজ বার্থডে পার্টি রেখেছিল সকাল থেকেই। পুরো অ্যারেঞ্জমেন্ট-টাই স্বাগতা আর ওর ছিল। ছোটো ছেলেটার মুখ থেকে যখন একের পর এক এসব শুনেছিল নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেনি কস্তুরী। মনে হচ্ছিল কেউ যেন আচমকাই শিকড়শুদ্ধু ওকে উপড়ে নিয়েছে।

এদিকে বাড়ি থেকে মা-বাবার তাড়া, দিদির বারবার ফোনের কারণে মামারবাড়ি চারটে দিনের বেশি থাকতে পারেনি। বাড়ি ফিরে এসেছে। আবার সেই একই রুটিন। একই ভাবে হোঁচট খেতে খেতে পথ চলা। এটাই ওর নিয়তি এটাই ওর ভবিতব্য। এটাকে যত তাড়াতাড়ি মানতে শিখবে তত কষ্ট কম পাবে। তবে কখনও কখনও দিম্মামার কথা শুনে মনে হয় এত কিছু ঘটে গেলেও জীবনের ওপর কখনও বীতশ্রদ্ধ হতে নেই। জীবনটা অনেকটা বড়ো। তার থেকে পাওয়ার আরও কিছু বাকি আছে।

কস্তুরীর দিম্মামা বলেন, লোভ-হিংসা- রাগ করে আখেরে লাভ কিছুই হয় না। পুরোটাই একটা গোটা শূন্য। যা কিছু মানুষ কেড়ে বাগড়ে নিয়ে নেয় সেসব তো ফেলে রেখেই চলে যেতে হবে। কেউ তো কারুর সম্পত্তি ঐশ্বর্য আমরণ সঙ্গে রেখে দিতে পারবে না। সেটা সম্ভবও নয়।

গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন, মানুষ জন্মে আত্মা অবিনশ্বর, সে কেবল পুরোনো জামা থেকে নতুন জামা পরার মতো এক শরীর থেকে বেরিয়ে আরেক শরীরে যায়! তাই জীবনের যা কিছু মানুষ নিজের বলে মনে করে তা আদপেই তার নয়। সেটা ক্ষণিকের মায়া বই আর তো কিছুই নয়। একটা নির্দিষ্ট সার্কেলে পৃথিবী শুরুর দিন থেকে এটাই ঘটে চলেছে। এক মাটিতে মিশে যাচ্ছে মানুষের শরীর, আবার সেই মাটি থেকেই জন্ম হচ্ছে নতুন প্রাণের।

দিদির সঙ্গে মনোমালিন্যের দিনগুলো, বাড়িতে আঘাত পাওয়ার দিনগুলো, ছোটোবেলার ছোটোবড়ো কষ্টের দিনগুলো তাই কস্তুরীর দিম্মামাই সামলেছেন, বুঝিয়েছেন। সেসময় দিম্মার কথাগুলোর মানে বুঝতে না পারলেও এখন অনেকটাই বোঝে ও। এসব পুরোনো দিনের অনেক কথাই মনে নতুন করে উত্সাহ জাগায়। অনুপ্রেরণা হয়ে ফিরে আসে। কস্তুরী কি পারবে না সব কিছু ডিঙিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে? বাঁধাধরা সিলেবাসের বাইরে সম্পূর্ণ একটা নিজস্ব পরিচয়। যেটার সমস্ত কৃতিত্ব থাকবে ওর!

দিম্মামা বলেন ওঁনার নিজের মায়ের কথা, পরপর চারটে সন্তানের অকালমৃত্যু হওয়ায় ভদ্রমহিলা শোকে পাথর হয়ে অন্ধ হয়ে গেছিলেন। চোখের দৃষ্টিশক্তি কমতে কমতে রঙিন জগত্টা কালো হয়ে গেছিল একসময়, তাও জীবনের সেই প্রবল ঝড়ে নুইয়ে পড়েননি। ভেঙে পড়েননি। একা হাতে মানুষ করে গেছেন তার নাতি-পুতিদেরও। এমনকী বড়ো নাতির তো বিয়ে দেখে গেছেন। আসলে প্রতিটা মেয়ে জীবনেই একটা ঢাকা অংশ থাকে। অজানা গল্প থাকে। কেউ সেটাকে পরম যত্নে লুকিয়ে রাখে। কেউ ঢাকা খুলে মেলে ধরে সমাজের সামনে।

বাবু তোর ফোন এসেছে। কলেজের কোনও বন্ধু…। কস্তুরীকে ডাকে ওর মা।

বন্ধু? তবে কী ও…। বুকের ভেতরটা ছলাৎ করে ওঠে। যদি হয়…। চোখের পাতার নীচের অংশটা জ্বালা জ্বালা করে। বুজে আসা গলায় জোর এনে বলে, হ্যালো…।

কী রে এতক্ষণ লাগে ফোন ধরতে? ওপাশ থেকে ধমকে ওঠে রিমলি।

রিমলি। বোকার মতো কারুর অপেক্ষা করছিল! কী করে এখনও দুহাতে আড়াল করে রেখেছে ছোট্ট আশার সলতেটা…।

এই তো বল।

আরে বিএম স্যার রাজি হয়েছেন আমাদের পড়াতে। তবে থার্ড ইয়ারের একটা ব্যাচ আছে মঙ্গলবারে। ওটাকে উনি সাইজ করে নেবেন। আমাদের ধর ওই যেতে হবে মঙ্গলবার কলেজ ছুটির পর। কী রে রাজি তো?

হুম ওনার ফিজ কত করে?

৪০০ টাকা করে।

আমরা তো আটজনই পড়ব। কলেজে আয়, ডিটেইলে আলোচনা করব।

ওকে, রাখছি।

আমার যৌনাঙ্গ Tuberculosis দ্বারা আক্রান্ত

Tuberculosis বিশেষ করে মেয়েদের গর্ভধারণক্ষমতা থাকার বয়স পর্যন্ত প্রভাবিত করে। এটি ইনফার্টিলিটিরও একটি কারণ।

আমার বয়স ৩৮ বছর। মেডিকেল পরীক্ষায় আমার যৌনাঙ্গে Tuberculosis পাওয়া গেছে। আমি দ্বিতীয় সন্তান নিতে ইচ্ছুক। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে গর্ভধারণ কি সম্ভব? যদি সন্তানসম্ভবাও হই তাহলে সন্তানের জন্মের পর তারও কি এই অসুখটি দ্বারা প্রভাবিত হওয়া সম্ভাবনা রয়েছে?

গর্ভাশয়ে টিবি এমন একটি রোগ যেটি বিশেষ করে মহিলাদের যৌনাঙ্গে যেমন জরায়ু, ডিম্বাশয়, ফেলোপিয়ান টিউব, গর্ভাশয়, ইউটেরাস এবং যোনির আশেপাশের লিমফ নোডস-কে প্রভাবিত করে। রোগের লক্ষণ মোটামুটি একই সেটা শরীরের যেখানেই হোক না কেন। যেমন ওজন হ্রাস, ঘুষঘুষে জ্বর, ক্ষুদামন্দা, ক্লান্তি, অবসাদ, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া ইত্যাদি। তলপেটে ব্যথা হয়, এবং পেটে হাত দিলে অনেক সময় শক্ত কিছু অনুমিত হয়। এই রোগ বিশেষ করে মেয়েদের গর্ভধারণক্ষমতা থাকার বয়স পর্যন্ত প্রভাবিত করে। ইনফার্টিলিটিরও একটি কারণ। জেনিটাল টিবি-র চিকিৎসা ২টি লেভেলে করা হয়। প্রথম লেভেলে ২ মাস পর্যন্ত কম করে ৩টি অ্যান্টি-টিবির ওষুধ দেওয়া হয় আর দ্বিতীয় লেভেলে ৪ থেকে ১০ মাসের জন্য কম করে ২টি অ্যান্টি-টিবি ওষুধের সঙ্গে সমানে চিকিৎসা চালানো হয় এবং জেনিটাল অংশে সার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।

চিকিৎসা চলাকালীন সবরকম নির্দেশ ঠিকমতো মেনে চলাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসার পর এআরটি টেকনিক দ্বারা গর্ভধারণ করতে পারেন। কিন্তু আপনাকে সম্পূর্ণ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। শিশু জন্মালে তাকে বিসিজি ভ্যাকসিন দেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি।

শ্বেত অর্কিডভূম কার্শিয়ং- পর্ব ১

শৈলশহরের নরম রং অসতর্ক ছায়াপথে তুলির টানে দিকদিগন্ত এঁকে রাখে। কার্শিয়ং জানে ভ্রমণপ্রেমী বাঙালির পাহাড়প্রেমের তত্ত্বতালাশ। সুসংহত ও কমনীয় সাজে সাজিয়ে রাখে শহরকে। সাহেবিয়ানা এই শহরের রন্ধ্রে এখনও। দার্জিলিংয়ে মতো প্রখর হাড়কাঁপানো শীত নেই, বরং কার্শিয়ংয়ের আবহাওয়া বছরভরই মনোরম। অথচ দার্জিলিং থেকে কার্শিয়ংয়ের দূরত্ব ব্যবধান মাত্রই ৩০ কিলোমিটার। তুলনা না করেই বলা যায় দার্জিলিং যদি হয় পাহাড়ের রানি, কার্শিয়ং তাহলে পাহাড়ের রাজকন্যে।

লেপচা শব্দ খর্সং মানে হল ভোরের ধ্রুবতারা। তদানীন্তন ব্রিটিশদের অনভ্যস্ত উচ্চারণে খর্সং হয়ে গেছিল কার্শিয়ং। আবার অন্যমতে কার্শান-রিপ্ নামে একপ্রকার সাদা অর্কিডের নাম অনুসারে শহরের নাম কার্শিয়ং। লেপচা ভাষায় কার্শিয়ং মানে ছোট্ট অর্কিড। সমস্ত শহর জুড়ে চন্দ্রবিন্দুর মতো শ্বেত-শুভ্র অর্কিড ফুটে থাকে। প্রভাতের ফুল ফোটার সঙ্গে আকাশের তারার সৌন্দর্যের সাদৃশ্য নিরূপণ করেই সম্ভবত এমন নাম রেখেছিলেন লেপচারা।

আনুমানিক ১৭৮০ সাল নাগাদ নেপালিরা Kurseong ও তার আশপাশের এলাকা বাজেয়াপ্ত করে নেয়। পরে গোর্খাদের সঙ্গে যুদ্ধে নেপালিরা হেরে যায়। ১৮১৭ সালে টিটালিয়ার চুক্তি হয় সিকিম-নেপালের। তখন ব্রিটিশরাজ চলছে, পাহাড়ের এই অঞ্চলের আবহাওয়া তাদের কাছে উপভোগ্য মনে হয়েছিল। মিলিটারি রোড হওয়ার আগে, টিটালিয়ার থেকে কার্শিয়ং হয়ে দার্জিলিং যাবার প্রথম পথ নির্মিত হয় ১৭৭০-৮০ সাল নাগাদ। পাইন, ফার, বার্চে ছাওয়া ৪,৮৬৪ ফুট উচ্চতায় কার্শিয়ং, ব্রিটিশরা সিকিমের ছোগিয়াল রাজবংশ থেকে ১৮৩৫ সালে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেয়।

সিকিমরাজ তুষুপুড় নামগিয়্যাল পারিতোষিক দিয়ে ব্রিটিশ শাসনের বশ্যতা মেনে নিতে বাধ্য হন। আরও পরে ১৮৮০ সালে দার্জিলিং-হিমালয়ান রেলপথ চালু হতেই ব্রিটিশ মিলিটারিদের স্বপরিবারে স্বাস্থ্য উদ্ধারের ঘাঁটি হিসাবে কার্শিয়ংয়ের গুরুত্ব বাড়ে এবং মহকুমার শীর্ষ দফতর হয়। সেই সময়ই এটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। কার্শিয়ংয়ের ইতিহাস সুপ্রাচীন এবং স্বাধীনতার আগে থাকতেই তা বিবর্তিত হয়ে আজকের শৈলশহরের রূপ পেয়েছে।

ইতিহাসের একঘেয়ে কথা থাক। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে জনপ্রিয় শৈলশহর মেঘ, কুয়াশা, কাঞ্চনজঙ্ঘার হাতছানি, খেলনাগাড়ি, চা-খেত, আঁকাবাঁকা পাহাড়িপথ, মেঘে ঘুমিয়ে থাকা পাইনের ঘেরাটোপ এবং একরাশ মায়া নিয়ে ছোট্ট ছোট্ট সাদা রঙের অর্কিড ফুলে ছয়লাপ জমজমাট শহর। তাই তো কার্শিয়ংকে বলা হয় ল্যান্ড অফ হোয়াইট অর্কিড।

প্রকৃতিবিলাসীদের জন্য আসন পেতে রাখা যাত্রাপথে কার্শিয়ংয়ের পৌঁছে খানিক জিরেন নেয় খেলনা-ট্রেন। মন্দির-গির্জার-গুম্ফার সহাবস্থান শহরে। মসৃণ সবুজ জেল্লায় পাহাড়ের ঢাল বরাবর প্রচুর নামিদামি উর্বর চা-খেত। মকাইবাড়ি অন্যতম। মকাইবাড়ি চা-বাগিচার গল্প না বললে কার্শিয়ং ভ্রমণের কথাই অধরা থেকে যাবে। বিশ্বমানের ফার্স্ট ফ্ল্যাশ চায়ের কদর মকাইবাড়ির।

৪,৯০০ ফুট উঁচুতে ৩০০ একর জমি জুড়ে নিখুঁত করে ছাঁটা চায়ের ঝোপের বাহার। বাগিচা কর্তৃপক্ষ থেকে প্রাপ্ত ব্রোশিওর থেকে জানলাম, ১৮৫৯ সালে চা-বাগিচাটির পত্তন হয়, বাঙালি মালিকানায় চা-বাগিচাটি চলতে থাকে। সাতটি গ্রাম যথা কোদোবাড়ি, ফুলবাড়ি, ছেপতে, কৈলাপনি, থাপাথলি, ছুংগে ও মকাইবাড়ি নিয়ে বিস্তীর্ণ চা-ক্ষেত্র। মকাইবাড়ির ঝুলিতে রয়েছে জৈবসারে উত্পন্ন কৃষিজমির চা হিসাবে বিশেষ পুরস্কার। মকাইবাড়ি চা প্রথম বাণিজ্যমেলায় অংশ নেয়। চা-বাগিচা অভিযানে চা-শ্রমিকদের চা-পাতা তোলা, চা-প্রশিক্ষকের অনুমোদিত চায়ের স্বাদ নেওয়া, চা-শ্রমজীবীদের জীবিকা সম্পর্কে ধারণা হয়।

সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-২৫

কোথাও যেন একটা ছন্দপতন। কোথাও যেন তাল কেটে যাচ্ছে। তমাল নিজেকে কস্তুরীর মধ্যে মিশিয়ে দিলেও সেই পুরোনো ওম-টা যেন নেই। সেটা কি তমাল নেশা করেছে বলে নাকি…। তাহলে কি সেই বিশ্বাসের ভিতটাই হারিয়ে গেছে?

তারপরেই একটা প্রচণ্ড ধাক্কায় কস্তুরীর শরীরটাকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে তমাল এক ঝটকায় ওর পাশ থেকে উঠে দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়।

( ১০ )

তোমার সামনে গিয়ে আর দাঁড়াতে চাই না আমি। হয়তো তুমিও মনে মনে চাও না। তোমার কাছে এত তাড়াতাড়ি আমার প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে এক মুহূর্তের জন্য বুঝতে পারিনি আমি, ভেবেছিলাম বাকিরা ঠিক যেভাবে আমাকে ছুঁতে চেয়েছে তুমি তার থেকে অনেকটাই আলাদা। তোমার সঙ্গে কথা বলে, তোমাকে ভালোবেসে একটা অন্যরকম আকাশ খুঁজে পেতাম। যে-আকাশে সারসার ভিড় করে থাকত আমার বাড়িঘর। আমার পছন্দের রঙিন রামধনু।

বু সব মিথ্যে, সবটুকু…

তোমার হয়তো মনে হতে পারে আমি মেয়েটা খুবই স্বার্থপর। নাহলে তোমার কেরিয়ারের কথা না ভেবে কী করে এসব বলতে পারি? বড্ড ভয় হয়। পা টলমল করে। মনে হয় তোমাকে ছাড়া গোটা পৃথিবীটা রাহুর মতো গিলতে আসছে। তোমার ওই নিরাপদ হাত দুটোর ছোঁয়া যে আমাকে কী ভরসা দিয়েছে ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। কিন্তু এতটাও স্বপ্ন দেখা হয়তো আমার ঠিক হয়নি।

ঠিক হয়নি স্বার্থপরের মতো আমার বিশ্রী জীবনে তোমাকে নিয়ে আসায়। জানি না পারব কিনা তবু চলে যেতে চাই, তোমার থেকে অনেক অনেক দূরে। যেখানে এতটুকু মনে পড়বে না তোমাকে। মনে পড়বে না তোমার কথাদের। কারুর জন্য নয়, নিজের মধ্যে নিজেকে আরও ডুবিয়ে রেখে তোমাকে ভুলে যেতে চাই। তুমি ভালো থেকো। ভালো থেকো সবার সাথে।

…কস্তুরী।

চিঠিটা মুড়ে ওর ভাইয়ের হাতে দিয়েছিল কস্তুরী।

আচ্ছা দিদি তোমাদের দুজনের কী হয়েছে বলো তো?

কিছুই হয়নি, তুই চিঠিটা ওকে দিয়ে দিস। আর বেশি বিরক্ত করব না তোদের।

দাদাকে জিজ্ঞেস করলে তো কোনওদিনই কোনও কথার যথাযথ উত্তর পাওয়া যায় না। তুমি তো অন্তত বলো। মুখ গোমড়া করে থাকলে কী করে চলবে?

আরে না না কিছুই হয়নি। ঠিকই আছি।

কতটা ঠিক আছ সেটা তো দেখতেই পাচ্ছি। চোখ মুখ লাল করে ফেলেছ কেঁদে কেঁদে। ও দিদি বলো না প্লিজ।

বলার তো তেমন করে কিছু নেই। সবকথাই আমি চিঠিতে লিখে দিয়েছি।

বেশ তাহলে আমি চললাম। বলবেই না যখন তাহলে আর আমি এখানে বসে থেকে কী করব? তবে তোমরা দুজনে যাই করো না কেন আমি কিন্তু তোমার কাছে আসব বারবার। সে তুমি যতই খারাপ মনে করো।

ইচ্ছে হলে আসিস।

কস্তুরী কলেজে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিল। ছেলেটা আর বেশিক্ষণ দাঁড়ায়নি। চলে গেছিল। হয়তো বাচ্চা ছেলেটার সঙ্গে খুব রুড বিহেভ করা হয়ে গেল। মনটা একদম ভালো নেই। সব কিছু ভেঙে গেল। ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। একটা সম্পর্ক তৈরি হতে যতটা ভালোবাসা, যত্ন, ধৈর‌্য লাগে শেষ হয়ে যাওয়ার সময় ততটাই সমপরিমাণ ঘৃণা জমা হয় যেন। মধুমাখা সেই আবেশটাই উবে গিয়ে তৈরি হয় বিষের আকর। হয়তো কস্তুরীই ওর যোগ্য নয়। হয়তো কস্তুরীই এই কদিনে ওর মনের কাছাকাছি পৌঁছোতে পারেনি।

স্বাগতা যে বুকে চায়, একথা ওর ভাইয়ের কাছ থেকে শুনেছিল আগেই। মেয়েটার পরিবার ওদের মায়ের দিকের কোনও দূর সম্পর্কের আত্মীয়। তাছাড়া দূর সম্পর্ককে কাছের করতে সময় তো আর বেশিদিন লাগে না! নাহলে ওদের বাড়িতে এত ঘন ঘন যাতায়াত করবে কেন ওরা?

সেদিন মামারবাড়ি থেকে ফোনটা করে তো পরিষ্কার শুনেছে ওর গলার আওয়াজ। স্বাগতাকে নাম ধরেও ডাকছিল। তখন ফোনটা নামিয়ে রাখলেও ঘন্টাখানেক পরে আবার রিং করেছিল। মনকে কিছুতেই আটকে রাখতে পারছিল না। এও কি সম্ভব?

আমার এন্ডোমিট্রিয়সিস-এর সমস্যা রয়েছে

আমার বয়স ৩৪ বছর। আমার বারবার এন্ডোমিট্রিয়সিস-এর সমস্যা হয়। আমি সার্জারি করিয়ে রিমুভ-ও করিয়ে দিয়েছি তা সত্ত্বেও ডাক্তার Endometriosis-এর সমস্যা রয়েছে বলছেন। পিরিয়ডস চলাকালীন আমার প্রচণ্ড ব্যথা হয় এবং অধিক পরিমাণে রক্তস্রাব হয়।

এন্ডোমিট্রিয়সিস গর্ভাশয়ের একটি সমস্যা। এর ফলে গর্ভাশয়ের ভিতরের পরতে এন্ডেমিট্রিয়াস লাইনিং-এ অস্বাভাবিক গ্রোথ হতে দেখা যায় এবং এটি গর্ভাশয়ের বাইরেও বেরিয়ে আসে। কখনও কখনও এন্ডোমিট্রিয়াম-এর লেয়ার গর্ভাশয়ের বাইরের লেয়ার ছাড়াও ওভারি ইনটেসটাইন এবং অন্যান্য প্রজনন অঙ্গ পর্যন্তও ছড়িয়ে পড়ে। এটাকেই এন্ডোমিট্রিয়সিস বলা হয়। এন্ডোমিট্রিয়াম লেয়ারে গ্রোথ-এর ফলে ফেলোপিয়ান টিউব, ডিম্বাশয়ের ক্ষমতার উপরেও প্রভাব পড়ে। মহিলাদের পিরিয়ডস-এর সময় অধিক ব্যথা এবং রক্তস্রাবের কারণ হল এন্ডোমিট্রিয়সিস। গর্ভধারণের ক্ষেত্রে এটি বাধার সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে মহিলাদের মধ্যে ইনফার্টিলিটির সমস্যা হতে পারে। বাইরের কোনও সমস্যা নয় বরং শরীরের ভিতরের সমস্যার কারণেই এই সংক্রমণ হয়। ডিম্বাশয় পর্যন্ত এন্ডোমিট্রিয়সিস ছড়িয়ে পড়লে ওই অংশে সিস্ট তৈরি হতে পারে।

মেডিকেল ট্রিটমেন্টে অ্যার্টিফিশিয়াল মেনোপজ-এর মাধ্যমে Endometriosis-কে রোধ করা সম্ভব। এর জন্য হরমোন ওষুধ বা একটা ইনজেকশনই যথেষ্ট। এছাড়াও এন্ডোমিট্রিয়সিস-এর সমস্যাগ্রস্ত মহিলারা যদি সন্তান চান, তাদের জন্য আইইউআই এবং আইভিএফ-এর মতো স্পেশাল ট্রিটমেন্ট রয়েছে। যদি অসুস্থ ব্যক্তির বয়স বেশি হয় এবং কয়েকটি সার্জারি আগেই হয়েছে, তাহলে গর্ভাশয় এবং ওভারি বার করে দিয়ে হিস্টরেক্টমি করানোই সব থেকে ভালো উপায়।

 

সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-২৪

তাহলে কী…? ভেজানো দরজাটা দু’হাত দিয়ে খুলতেই গায়ের ভেতরটা গুলিয়ে ওঠে। অন্ধকার ঘরে দলা দলা একটা বিশ্রী গন্ধ লেগে। তার সাথে সিগারেটের ধোঁয়ায় চোখমুখ জ্বালা জ্বালা করছে।

তমাল ড্রিংক করেছে? কেন? ঘরে ঢুকে লাইট জ্বালিয়ে তাড়াতাড়ি করে দরজা বন্ধ করে দেয় কস্তুরী। দেখে বিছানার কোণে মাথা ঝুঁকিয়ে বসে আছে তমাল। আলো জ্বালাতেও ওর মুখে কোনও হেলদোল নেই। কী বিষ পুষে রেখেছে মনে তমাল?

তমাল…। ছোট্ট ডাকে কাছে এগিয়ে যায় কস্তুরী।

তুমি কখন এসেছ? আমাকে তো বলোনি আজ আগে ফিরবে?

তাহলে কি তুমি যেতে না?

কী বলছ কী তুমি? কেন এমন করছ? আমি তো পরশু একবার বলেছিলাম তোমায় সহেলীর কাছে…।

ভাট বোকো না তো। কোন নাগরের কাছে রস দেখাতে গেছ আমার ভালো করে জানা আছে। আমাকে প্লিজ আর মিথ্যে কথা বলতে এসো না। তোমার চরিত্র আমার জানা হয়ে গেছে। আমার লাইফটা হেল করে দিলে তুমি। হেল…।

প্লিজ চুপ করো। একটু আসতে কথা বলো। সবাই শুনতে…। কস্তুরী কাকুতিমিনতি করে।

আর বাকি কী রেখেছ তুমি? সব তো শেষ করে দিয়ে?

প্লিজ…।

বউমা কী হল তোমাদের। ছেলেটা সন্ধে থেকে এসে বসে আছে ঘরে, তোমার পাত্তাই নেই। দ্যাখো তো আমার শান্ত ছেলেটাকে শেষ করে দিলে। হায় কপাল! কী ভাগ্য নিয়ে এসেছি, একটু শান্তি নেই। কী হল দরজাটা খোলো বলছি! শাশুড়ি, ঠাকুমাশাশুড়ি হয়তো শ্বশুরও দরজার কাছে এসেছে। এখন কী করবে কস্তুরী? কী উত্তর দেবে ওদের?

হে ঈশ্বর! নিজেকে এতটা অপরাধী আগে কখনও মনে হয়নি। কেন গেল শৈবালের কথা শুনে?

তমাল প্লিজ একটু শান্ত হও। একবারটি আমার কথা ভাবো। একটু বোঝার চেষ্টা করো।

আমি বুঝতে চাই না। আমাকে বলতেই তো পারতে তুমি আমার সঙ্গে শুয়ে শান্তি পাও না?

তমাল…!

বউমা আর কত মুখ পোড়াবে? দরজাটা খোলো। পাড়া প্রতিবেশী সবাই শুনছে তো নাকি। কোন বেহায়া ঘরের মেয়ে তুমি? তোমার কী লজ্জা বলে কিছু নেই? চিত্কার করে করে বলেন শাশুড়ি মা।

তমাল আমরা এভাবে শেষ হয়ে যাব কেন বলতে পারো? এরকম কথা তো আমরা দুজন-দুজনকে দিইনি। সেইদিনগুলোর কথা মনে নেই তোমার? মনে নেই তুমি কী বলে ডাকতে আমায়?

না না না আমার মনে নেই, মনে রাখতে চাই না। চলে যাও চোখের সামনে থেকে।

কোথায় যাব বলো? আমার তো যাওয়ার জায়গাটাই নেই। কোথাও নেই…।

তমালের মুখ, চিবুক কস্তুরীর বুকের ওপর ঝুঁকে পড়েছে। কস্তুরী দেখতে পাচ্ছে তমালের চোখদুটো অসম্ভব লাল হয়ে আছে। ও তমালকে কাছে টেনে নেয়। আরও কাছে। ওর চিবুক তুলে উগ্র আঁশটে গন্ধে ঠোঁট ডোবায় নিজের। তমাল তো ওরই। যা কিছু ভুল বোঝাবুঝি সম্পূর্ণ ওদের মধ্যে। দুজনের মধ্যের ফাঁকটা বড়ো হতে দিতে চায় না ও। কিছুতেই না।

তমাল শিশুর মতো কস্তুরীর বুকে মুখ ঢোকায়। ও বুঝতে পারে তমাল কাঁদছে। কিন্তু কেন? কেন ওদের সম্পর্ক ফিকে হয়ে যাচ্ছে? কেন হারিয়ে ফেলছে রঙিন দিন? কস্তুরী দুহাতে টেনে নেয় দুর্বল পুরুষ শরীরটাকে। আবার সেই পুরোনো শরীরী ছন্দ ফিরে পেতে চেষ্টা করে। চেষ্টা করে সব বাধা ঠেলে কস্তুরীর রোমে রোমে আনন্দের স্পন্দন জাগাতে।

তমাল ওর মধ্যে ডুবে যাচ্ছে! খুব চেনা সুখ মিলিয়ে দিচ্ছে দুটো শরীরকে। কখনও আলগোছে, কখনও নিজ জেদে দুজন দুজনকে প্রাণপণ আঁকড়ে ধরছে।

আহঃ!

রোমে রোমে লুকিয়ে রাখা ভালোবাসার স্বেদবিন্দু চুঁইয়ে পড়ার মুহূর্তেরা যেন মিশে যাচ্ছে একটু একটু করে। সেই ভালোবাসার চূড়ান্ত মুহূর্ত। তমালের পৌরুষ মিশে যাচ্ছে কস্তুরীর গভীরে। কোথায় যেন একটা পোড়া গন্ধ। রান্নাঘরে কি ভাতটা…।

অতিরিক্ত ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জের কারণে সমস্যায় আছি

আমার বয়স ৪০ বছর। অতিরিক্ত ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জের Vaginal Problem – এর কারণে খুব চিন্তায় আছি। আগে এই সমস্যা থাকলেও খুব অসুবিধার মুখে কখনও পড়তে হয়নি। কিন্তু এখন সবসময় অসুবিধা বোধ করি। একটা শারীরিক অস্থিরতাও বোধ করি। এর কি কোনও চিকিৎসা আছে?

ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ একটি কমন রোগ। কম বয়সে বিয়ের আগে কিংবা বিয়ের পরেও এটি হতে পারে। প্রথমে এটি খুব অসুবিধা সৃষ্টি করে না, কারণ ফিজিওলজিকাল কারণেও এমনটা হতে পারে। মাসিক স্রাবের আগে অথবা ঠিক পরেও ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ হয়ে থাকে।

শরীরে যতদিন রিপ্রোডাকশনের ক্ষমতা থাকে ততদিন এই অবস্থা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে এটা অস্বাভাবিক। আপনার উচিত ডাক্তারের কাছে গিয়ে Vaginal Problem-এর কথা খুলে বলা। যোনিস্রাবের সময় যোনিতে জ্বালা, চুলকানি, স্কিন র‌্যাশ, ফোলাভাব, বারবার মূত্রত্যাগের সমস্যা এবং মূত্রত্যাগের সময় ব্যথা হওয়া ইত্যাদি সমস্যা হয়ে থাকে। অস্বাভাবিক যোনিস্রাব হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন কোনওরকম যৌন সংক্রমণ রোগ, প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া অথবা ডায়াবেটিস থাকলে ফাংগাল ইস্টের সংক্রমণ হওয়ার সমস্যা বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি হতে পারে।

সাধারণত মহিলারা প্রথমে এই সমস্যা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন যার ফলে কখনও কখনও গর্ভাশয়ে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। যদি প্রথমেই ট্রিটমেন্ট শুরু করে দেওয়া যায় তাহলে এই সমস্যা রোধ করা সম্ভব। কিন্তু যদি এটাকে উপেক্ষা করা হয় বা দেরিতে চিকিৎসা শুরু করা হয় তাহলে সমস্যা বাড়তে পারে এবং চিকিৎসার বাইরে চলে যায়।

যৌনাঙ্গ পরিষ্কার এবং শুকনো রাখা খুব দরকার। এটা পরিষ্কার রাখার জন্য ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করার আগে ডাক্তারকে অবশ্যই জিজ্ঞেস করবেন। যৌনাঙ্গের রোগ থেকে বাঁচতে অথবা কোনওরকম ওই স্থানে সংক্রমণ রোধ করতে প্রোটেকশন ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।

 

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব