সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-৩১

ফোনটায় টিংটাং করে মেসেজ ঢুকছে একের পর এক…, তমাল নয়তো। হাত বাড়িয়ে ফোনটা ধরতে যেতেই…

বউমা…। মাগো মা সোজা ওপরের ঘর থেকে এসে শুয়ে আছ? ভাতটা কে বসাবে শুনি? ওদিকে শ্রেষ্ঠার বমি হতে শুরু করেছে।

কস্তুরী চুপচাপ উঠে রান্নাঘরের দিকে যাওয়ার আগেই ফোনটা আরও কয়েকবার বিপ বিপ শব্দ করে ওঠে। কী মনে হতেই ফোনটা হাতে তুলতেই ওর গোটা শরীরটা হিম হয়ে যায়।

একটা অর্ধউলঙ্গ নারী শরীর। তোয়ালে খুলে উন্মুক্ত পিঠে ছড়িয়ে দিল ঢেউ খেলানো চুল। তারপর বুকের নরম অংশে একটু একটু করে জড়িয়ে নেয় অন্তর্বাস। কস্তুরী। ও নিজে? কিন্তু। এটা তো ওরই ঘর। পায়ে পায়ে জড়িয়ে আসে। কী করে সম্ভব? কে এই ছবিটা তুলেছে? এই তো ওর বিছানা, একই দেয়াল, একই আলমারি তার মানে এই ঘরেই? কে তুলেছে ভিডিও?

মনে পড়ছে সেদিন তো ঠাকুমা ছাড়া আর কেউ এ-বাড়িতে ছিল না। সবাই পাশের বাড়ি নেমন্তন্ন খেতে গেছিল। একতলার বাথরুমটা সবার সামনে হওয়ায় বরাবরই শান্তিমতো স্নান করতে পারে না। সেদিন অনেকক্ষণ ধরে স্নান করে তোয়ালে জড়িয়ে ঘরে এসেছিল। নাহলে এভাবে তোয়ালে জড়িয়ে কোনওদিন কস্তুরী বাথরুম থেকে ঘরে আসে না। গা মুছে শাড়ি পরে ঘরে ঢুকতে হয়।

তোমার একটু হট ছবি পাঠালাম, শৈবালদা…!

শৈবালদার মেসেজ। হাত পায়ে রক্ত চলাচল থেমে যায় মুহূর্তের মধ্যে। শৈবালদা ছবিটা তুলেছে? এটা যদি বাড়ির সবার সামনে। না না এমনটা হবে না, হতে দেওয়া যায় না।

তমালকে বলতে যেও না তাতে আরও বিপদে পড়বে। কাল দুপুরে দেখা করো। না হলে জামাইবাবুর সঙ্গে যা লটরপটর করেছিলে সব ফাঁস করে দেব। আর সারা দুনিয়া দেখবে তোমার মাখন শরীরটা। তখন পালিয়ে বাঁচবে না। বুকের ওপর আচমকা কেউ যেন ভারী কিছু চাপিয়ে দিচ্ছিল। নিঃশ্বাস নিতে পারছিল না কস্তুরী।

তুমি এখনও দাঁড়িয়ে আছ? বললাম না তাড়াতাড়ি ভাতটা বসাও। কী বেয়াড়া মেয়েকে বাবা। কখন থেকে বলছি কথা নেয় না কানে। শাশুড়ি রান্নাঘরের বাসনকোসন নাড়াচাড়া করতে করতে অসম্ভব জোরে জোরে বলছিল।

পেট মুচড়ে বমি উঠে আসছিল কস্তুরীর। ঘামে ভেজা শরীরটা হঠাৎ করেই হালকা বোধ হচ্ছিল। কোনওমতে দেয়ালে ঠেস দিলেও একটু একটু করে বিষণ্ণ ধুলোটে ভাব জড়ো হচ্ছিল চোখের সামনে। ধোঁয়া ধোঁয়া অংশটা গ্রাস করছিল ওর চোখ, নাক এমনকী মাথাও। কস্তুরী বুঝতে পারছিল একটু একটু করে তমালের মায়ের গলাটাও কেমন ভেঙেচুরে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল। দুহাতে কান চেপে ধরে ও। দেয়াল ধরে বসে পড়ে।

শীত শীত ঠান্ডা রেশ ছেঁকে ধরে চারপাশ থেকে। খুব শীত। কনকনে হাওয়ায় যুঝতে যুঝতে ও এসে পৌঁছোয় নিবিড় কালোর মাঝে। ওই তো উঁচু একটা ঢিবি। ওখানেই যেতে হবে ওকে। কস্তুরী জোরে জোরে পা ফেলতে চায় কিন্তু কিছুতেই পারে না। কেউ যেন প্রাণপণে ওর পাটাকে কোনও এক অদৃশ্যের দিকে টেনে ধরেছে। চিত্কার করে ওঠে কস্তুরী। কিন্তু একটা কারুর কাছে ওর গলার আওয়াজ পৌঁছোয় না। নাক জুড়ে একটা ঝাঁঝালো গন্ধ এসে বসে।

গন্ধটা কি হাওয়ায় ভেসে আসছে? দূর থেকে। এত নেশা কেন গন্ধটায়? কস্তুরীর শরীরটা মনে হচ্ছে নিজে থেকেই দুলে দুলে উঠছে। কেমন ঝিমঝিম চারদিক। ঝাঁঝালো গন্ধে গলা চোখ বুক জ্বলছে। তাও কস্তুরী পালাতে পারছে না। কেউ যেন ওকে পেরেক দিয়ে মাটির সঙ্গে গেঁথে দিয়েছে। ওর দম বন্ধ হয়ে আসছে। বেশ বুঝতে পারছে বুকের ধুকপুকানির গতিও শ্লথ হয়ে আসছে।

কানের কাছে কেউ যেন চুপিসাড়ে বলে যাচ্ছে, নেই নেই এর থেকে তোমার মুক্তি নেই। কোনও ভাবেই মুক্তি নেই। এগোও কস্তুরী। এগিয়ে যাও…। তোমাকে একাই এগোতে হবে। কেউ তোমার হাত ধরবে না।

ঝাঁঝালো গন্ধে উন্মাদের মতো শরীর আর মন নিয়ে কস্তুরী উঠে দাঁড়ায়। এগিয়ে যায়। ঢিবিটার আরও কাছাকাছি পৌঁছোয় ও। আর তারপরেই বাতাসের সমস্ত শনশনানি এফোঁড় ওফোঁড় করে একটা তীব্র আঘাত হুমড়ি খেয়ে পড়ে ওর শরীরটায়। ঠিক ওর পিঠে। খানিকটা কাঁপুনি। আরও জ্বালা। আঘাতের জায়গাটা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে।

Wedding season -এর মেক-আপ

বিয়েবাড়িতে যখন সকলেই নিজেকে সাজিয়ে তোলেন, তখন আপনি ভিড় থেকে আলাদা হওয়ার জন্য, কীভাবে মেক-আপ করবেন সেটা নিয়ে ইতিমধ্যেই ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন নিশ্চয়ই। যতই হোক  Wedding  party বলে কথা। আমরা তাই আপনাকে সাহায্য করতে এনেছি এই মেক-আপ গাইড।

টোনার, প্রাইমার, ফাউন্ডেশন, কনসিলার, হাইলাইটার, লিপস্টিক, কাজল, আইলাইনার এবং ব্লাশার—- মোটামুটি এই উপকরণগুলো লাগে পারফেক্ট মেক-আপ করার জন্য। আর মেক-আপ স্টে করানোর জন্য অবশ্যই প্রয়োজন ফিক্সার স্প্রে। আপনার মেক-আপ কিট-এর মধ্যে কালার কারেক্টর, ব্রোঞ্জার, আইশ্যাডো, ফেস পাউডারও রাখতে পারেন। তবে এগুলি হেভি মেক-আপ-এর ক্ষেত্রে জরুরি।

আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক কিছু Wedding  party basic make-up steps।

কেকি বা প্যাচ মেকআপ

মেক-আপ ইনফ্লুয়েসার-রা প্রায়শই বলে থাকেন যে, মেক-আপ যেন সমান ভাবে মুখের ত্বকের উপর চারিয়ে দেওয়া হয়। তাই সবচেয়ে আগে আপনার নিজের মুখের খুঁত, দাগ-ছোপগুলি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। সেই অনুযায়ী দাগ বা খুঁতগুলি কারেক্ট করতে হবে। এর জন্য মুখের রোমছিদ্র ভালো ভাবে ঢেকে ফেলতে হবে এবং ত্বক যাতে টাইট থাকে সেই ব্যবস্থাও করতে হবে।

দাগছোপগুলো মেক-আপ কারেক্টর-এর সাহায্যে এমন ভাবে ব্লেন্ড করুন, যাতে গোটা মুখের বর্ণে একটা সামঞ্জস্য থাকে। এর ফলে স্কিন আর প্যাচি দেখাবে না।মেক-আপ প্রক্রিয়া শুরু করার আগে টোনার, ময়েশ্চারাইজার ও প্রাইমার লাগান। এর ফলে আপনার ত্বক একটা স্মুদ ক্যানভাসে পরিণত হবে। এর উপর আপনি খুব সহজেই মেক-আপ করতে পারবেন।

এখানে সবচেয়ে মনে রাখার বিষয়টা হল, যেদিন আপনি স্কিন এক্সফলিয়ে করবেন, সেদিন কোনওরককম মেক-আপ না করাই ভালো। এর ফলে মেক-আপ আপনার রোমছিদ্রে প্রবেশ করার ঝুঁকি থাকবে না। রোমছিদ্রে মেক-আপ ঢুকে যাওয়ার ফলে দুধরনের ক্ষতি হয়। এক, এটা আপনার ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক।

দুই, স্কিন পোরস-এ মেক-আপ ঢুকে যাওয়ার ফলেই মুখ প্যাচি দেখতে লাগে। কনসিলার দিয়ে দাগছোপ ঢাকার পর ফাউন্ডেশন লাগান। প্রত্যেকবার ফাউন্ডেশন অ্যাপ্লাই করার সঙ্গে সঙ্গে এটা স্পঞ্জ দিয়ে ব্লেন্ড করতে থাকুন। ফাউন্ডেশনের রং যেন আপনার গায়ে রঙের সঙ্গে মেলে। এক শেড হালকা বা ডিপ না হওয়াই বাঞ্ছনীয়।

অতিরিক্ত ফাউন্ডেশন লাগাবেন না। এর ফলে মনে হবে আলাদা একটা লেয়ার তৈরি হয়েছে ত্বকের উপর। ততটুকুই লাগান, যতটা ত্বকে ব্লেন্ড হতে পারে। কনসিলার দিয়ে দাগ ঢাকার চেষ্টা করার পরও যদি বোঝেন যে, এক পরত ফাউন্ডেশন লাগানো যাবে তবেই লাগান। না হলে এই পরত যদি অতিরিক্ত মোটা হয়, কিছুক্ষণ পরেই মেক-আপ-এ ফাটল ধরবে এবং স্কিন প্যাচেস দৃশ্যমান হবে। ঘাম হলে তো আরও বিসদৃশ দেখাবে।

প্যাচি কনসিলার

সাধারণত মেক-আপ করার কিছুক্ষণ পর থেকেই চোখের নীচের অংশটায় প্যাচিনেস এসে পড়ে। লাইনস দেখা যায়। এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার সিক্রেট হল যখনই কনসিলার লাগাবেন, চোখের রেখার একটু নীচে থেকে লাগাবেন। এভাবে লাগানোর পর চোখের চারপাশের অংশটায় ব্লেন্ড করে দিন। এতে আই মেক-আপ স্মাজ হবে না। কেকি বা প্যাচি দেখাবে না।

এছাড়াও অন্য একটি পদ্ধতি হল ওয়াটার প্রুফ কনসিলার ও ফাউন্ডেশন লাগানো, যা জল বা ঘামে স্মাজ হয়ে যাবে না। মেক-আপ হয়ে যাওয়ার পর, আপনার মুখের যে-যে অংশ বেশি ঘামে, সেখানে কমপ্যাক্ট পাউডারের একটা পরত বুলিয়ে নিন।

আইশ্যাডো আউট ফিট

অনেক মহিলাই আজকাল ডিজাইনার ওয়্যার-এর সঙ্গে স্মোকি আই মেক-আপ করেন। কিন্তু এটা আদতে গোটা লুকটা-কেই ম্যাড়মেড়ে করে দেয়।

অনেকে আবার আউটফিট-এর সঙ্গে মানানসই আইশ্যাডো ব্যবহার করেন না। এটা লুক-কে ব্লান্ডার-এ পরিণত করে। মেক-আপ কালার প্যালেট থেকে রং বাছুন বিচক্ষণতার সঙ্গে। আই মেক-আপ করার সময় এমন কালার বাছুন যা আপনার পোশাকটিকে কমপ্লিমেন্ট করবে।

আই মেকআপএর সহজ টিপস

কনসিলার আর ফাউন্ডেশন চোখ বন্ধ অবস্থায় চোখ ও ভ্রু-এর নীচের অংশে লাগান। এই অংশের টোন উজ্জ্বল হলে আপনার আইশ্যাডো সুন্দর ভাবে ফুটে উঠবে। চোখ ও এর আশপাশের ত্বকে যেহেতু কালচে ভাব থাকে, তাই ফাউন্ডেশনের সাহায্যে এর টোন হালকা করা প্রয়োজন। কিন্তু এই রং যেন আপনার স্কিন টোনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হয়।

আইশ্যাডোর সঠিক শেড বাছাই করুন। যদি একাধিক রং ব্যবহার করতে চান তাহলে খেয়াল রাখুন সেগুলি যেন ভালো ভাবে ব্লেন্ড হয়। রঙের ব্লেন্ডিংটা কিন্তু এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আইশ্যাডো লাগানোর সময় খেয়াল রাখুন, যাতে সেটা চোখের কোনা পর্যন্ত যায়। না হলে দেখতে খুব বিশ্রী লাগবে। চোখের লাইনারের শেষ অংশটায় এমন ভাবে রেখা টানুন যা আপনার মুখের শেপ-এর সঙ্গে মানানসই।যদি চোখের নীচের অংশে রঙিন কাজল দিতে চান, তাহলে খেয়াল রাখুন যেন সেই রং আপনার পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে।

একক মহিলাদের মানি ম্যানেজমেন্ট কতটা জরুরি

স্বাধীনতা এবং স্বতন্ত্রতা উপভোগ করার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় হল আর্থিক স্বচ্ছলতা। প্রগতিশীল সমাজ গঠন করতে যেমন অর্থের প্রয়োজন, তেমনি সমাজের মহিলাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করাতেও অর্থের একটা বিশাল ভূমিকা রয়েছে। আজ জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে মেয়েরা নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলতে রাতদিন কঠোর পরিশ্রম করছে। কেউ কেউ একক জীবন কাটানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছেন। তাই শুধু বর্তমানের জন্যই নয়, ভবিষ্যতের আর্থিক পরিস্থিতিকেও স্থিতিশীল করার কথা ভাবতে হবে। দীর্ঘ সময়ের জন্য আর্থিক স্বচ্ছলতা উপভোগ করার মতো সম্পত্তি অর্জন করা কিংবা নিজ সম্পদ তৈরি করা স্বশক্তিকরণের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের আর্থিক সম্পদ দ্রুত হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

সাধারণত পুরুষদের থেকে মেয়েদের আয়ু বেশি হয়ে থাকে। ফলে বাস্তবে দীর্ঘকালীন আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন মেয়েদেরই বেশি। হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং নিজের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখা এবং বেঁচে থাকার জন্য যা যা করা দরকার, সেই সব প্রয়োজনের জন্য Money সংগ্রহ করতে মেয়েদের বেশি পরিশ্রম করার দরকার পড়ে। বিকাশশীল দেশ হিসেবে ভারতের নাম আজ পয়লা শ্রেণিতে উঠে এলেও, আজও পুরুষদের তুলনায় মেয়েদের শ্রমের মূল্য অনেকটাই কম। স্বাধীন ভাবে খরচ করার জন্য মেয়েদের কাছে Money তেমন থাকে না। সুতরাং স্বচ্ছলতার সঙ্গে এবং কারও কাছে ঋণী না থেকে জীবন কাটাতে হলে, মেয়েদের আপৎকালীন অবস্থার জন্য কিছু অর্থ জমা রাখতে হয়। ফলে বিনিয়োগ করার জন্য হাতে অর্থের ঘাটতি দেখা দেয়।

ভারতে ২০০৮ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে স্নাতক মহিলার সংখ্যা শতকরা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সঙ্গে আয়ও প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সামাজিক এবং আর্থিক উন্নতির অর্থ হল এই যে, চাকুরিরত মহিলার সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উন্নতির হাওয়া শুধুমাত্র উচ্চবিত্তস্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়নি, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তদের মধ্যেও এখন সামাজিক এবং আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উন্নতির হার প্রতি বছর ৪ থেকে ৫ শতাংশ করে বাড়ছে।

মহিলাদের জন্য অধিক আর্থিক নিশ্চয়তা এবং কেরিয়ার গঠন করার জন্য নতুন নতুন উদ্যম, মহিলাদের আর্থিক ভাবে সাবলম্বী করে তোলার মাধ্যম হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে কোথায় কোথায় আর্থিক বিনিয়োগ করলে লাভ বেশি পাওয়া যাবে, সেটা বুঝে নেওয়াটা খুব জরুরি।

বিনিয়োগ করার অর্থ-ই হল, ভবিষ্যতের জন্য চিন্তাভাবনা করে বর্তমান সময়ে প্রস্তুতি নিয়ে নেওয়া— যাতে ভবিষ্যতে মুশকিলে না পড়তে হয়।

 

 

নির্যাতনের কবলে গৃহবধূরা

দিল্লিতে কয়েক মাস আগে, এক স্বামী তার স্ত্রী-কে হত্যা করে। কারণ স্ত্রী বলেছিল বাড়িতে দুধ নেই তাই চা বানাতে পারব না।

চা খেতে চাওয়ার পর, স্ত্রীর মুখে, ‘যাও দুধ নিয়ে এসো’– এই কথা শোনার পর স্বামী ক্ষুব্ধ হয় এবং দরজার কাচ ভেঙে, সেই কাচ দিয়ে স্ত্রী-কে আক্রমণ করে। মা-কে বাঁচাতে এসে মেয়ে আহত হয় এবং পরে সেও মারা যায়। হত্যাকারী পিতার তিন মেয়ের মধ্যে বড়ো মেয়েটি, চাকরি করে সংসার নির্বাহ করে এবং ছোটো মেয়ে বারো বছর বয়সি। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হল এই যে, স্ত্রী-কে হত্যা করাটা নিয়ে স্মামীর কোনও অনুসোচনা তো নেই-ই বরং স্ত্রী তারই সম্পত্তি৷ অতএব তাকে নির্যাতন করাটাকে, তার মৌলিক অধিকার ধরে নিয়েছিল স্বামী।

সারা পৃথিবীতে এরকম হিংসার ঘটনা আজও ঘটে চলেছে এবং সমাজ এই হিংসাকে পৌরুষত্বের আখ্যা দিয়ে চলেছে। পঞ্জাব কেশরী সংবাদপত্রে ২০২২ সালে প্রকাশিত এক বিশেষ নিবন্ধে বলা হয়েছে, বেদব্যাস-এ নাকি বলা আছে, স্ত্রী-র মন এবং কর্ম সবকিছু স্বামীসেবায় নিয়োজিত থাকা আবশ্যক।

গায়ত্রী পরিবার, যাদের দেশজুড়ে সমর্থক আছে, তাদের বইতে লেখা আছে— পতিব্রত ধর্মের অর্থ হল স্বামীর অস্তিত্বরক্ষার জন্য স্ত্রী নিজেকে আত্মসমর্পণ করবে। কারণ, পতিব্রতা নারী যোগীপুরুষের মতো পূণ্যার্জন করে। স্বামী সেবার মাধ্যমেই ভগবত ভক্তির আনন্দ পাওয়া যায়। আত্মসমর্পণ মানেই অনিবার্য আনন্দলাভ। আর পতিব্রতা নারী মানে তার স্বতন্ত্র কোনও অস্তিত্ব থাকবে না। ইচ্ছে এবং ভাবনাও স্বামীর জন্য নিবেদিত থাকবে। কারণ স্ত্রী-র সেবা এবং প্রেম-ই নাকি একমাত্র স্বামীকে নেশামুক্ত করতে এবং বেশ্যালয়ে যাওয়া থেকে বিরত করতে পারে। স্বামী যাতে কোনও ভাবে দুশ্চিন্তায় না পড়ে, সেই বিষয়েও আবিশ্যিক ভাবে খেয়াল রাখতে হবে স্ত্রী-কে!

সবচেয়ে মজার বিষয় হল এই যে, এইরকম ধর্মান্ধতার বিষয় সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রচার করা হচ্ছে এখন নিয়মিত। এখন প্রশ্ন হল-মাতাল স্বামী চা চাইলে, স্ত্রী যদি দুধ নেই বলে চা বানিয়ে না দেয়, তাহলে কি তাকে হত্যা করবে স্বামী? এর কি কোনওরকম প্রতিবাদ হবে না হোয়াটস অ্যাপ, ফেসবুক, অনলাইন ব্লগ অথবা মিডিয়ায়?

বিষয়টা হল এই যে, যাদের স্বার্থে ঘা পড়ছে, তারাই মেয়েদের উপর এইসব জুলুমবাজি করছে। আসলে ওই হত্যাকারী স্বামী বুঝে গিয়েছিল, ধর্মীয় সমাজ ব্যবস্থায় নারী নিরীহ, দুর্বল এবং নিঃসহায়। বিধবা, বিবাহবিচ্ছিন্না হলে তো কথা-ই নেই, তাদের অত্যাচারিত হতে হয় আরও বেশি। স্বামীর দ্বারা স্ত্রী-কে হত্যা আসলে ধর্মান্ধতার প্রতিফলন।

ছোটো ছোটো কথার জেরে রাগারাগি এবং হত্যা এ কোনও অনিচ্ছাকৃত অপরাধ নয়। এ আসলে এক পরিকল্পিত অপরাধ। রাগের মাথায় চড়থাপ্পড় হতে পারে কিন্তু দরজার কাচ ভেঙে, তারপর সেই কাচ দিয়ে স্ত্রী-কে হত্যার পর মেয়ের উপর আক্রমণ- পরিকল্পিত হত্যা ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। এ এক ধরনের গভীর অসুখ। অসুস্থ সমাজের লক্ষণ। কারণ, সমাজও হত্যকারীর রক্ষকের ভূমিকা নিয়ে থাকে অনেকসময়। তাই, এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়৷ এটা শুধু দিল্লি-র মানুষকেই লজ্জিত করেনি, এই ঘটনা ধর্মান্ধ সমাজেরই এক ঝলক।

সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-৩০

মনে মনে হাসে কস্তুরী। কোথায় রবি? কোথায় ওর মা? ওরা এখন কেমন আছে? বাচ্চাটা অমন করে তাকিয়ে আছে কেন? ও কী কস্তুরীকে চিনতে পেরেছে?

নাহ! ওই তো ওর মা ওকে সরিয়ে নিচ্ছে কস্তুরীর থেকে! ওরা তাহলে ওর চেনা নয়, অচেনা।

ওর এলোমেলো চুলগুলো পাতলা হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ে কপালের এপার থেকে ওপার। মিনমিনে একটা শব্দ ভেসে আসে কানে। ঠেসান দেওয়া পিলারটা থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে আরও আলো আরও অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যায় কস্তুরী। আর তখনই প্রচন্ড একটা শব্দ সজোরে এসে ধাক্কা খায় ওকে।

শরীরটা দুমড়ে মুচড়ে যেতে যেতেই প্রবল একটা টান অনুভব করে কস্তুরী।

( ১২ )

মন বলে যে একটা কিছু আছে। সেটাই আর নতুন করে অনুভব করতে পারছিল না কস্তুরী। এভাবে কোনও মানুষ অপমান করতে পারে, ওর তেত্রিশ বছরের জীবনে যা হয়নি আজ তা হচ্ছে। আজ তা হল।

শুনেছ খবরটা? দ্যাখো দ্যাখো রিপোর্টটা দ্যাখো। ওগো আমি তোমায় বলেছিলাম না এ মেয়ে সাক্ষাৎ লক্ষ্মী। শ্বশুরের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলে পাতলা একটা কাগজ ওর দিকে এগিয়ে দেন শাশুড়ি।

দোতলার ঘর থেকে হাঁক দিয়ে তড়িঘড়ি ডেকে পাঠান কস্তুরীকে। তারপরই মনের অনাবিল আনন্দে নিজেদের ভালোলাগার প্রকাশ করতে থাকেন।

কস্তুরীর ছোটো জা প্রেগন্যান্ট। এটা তারই মেডিকেল রিপোর্ট। গোটা বিষয়টায় অদ্ভূত আনন্দের ছোঁয়া থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু কস্তুরীকে এভাবে চোখে আঙুল দিয়ে অপরের এগিয়ে যাওয়ার বিজয় পতাকা ওড়ানো দেখানোর মানে কী? হ্যাঁ তাছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়? গলার কাছে কিছু একটা দলা পাকিয়ে আসছিল। মনকে যতই শান্ত করার চেষ্টা করছিল, ততই যেন অশান্ত সমুদ্রের ঢেউয়ে মতো উথালপাথাল হয়ে উঠছিল ওর বুকের ভেতরটা।

কী হল একেবারে যে থ মেরে গেলে? মুখে কুলুপ এঁটে থাকলে হবে? শ্রেষ্ঠা কী খায় না খায় সেসব তো দেখতে হবে? দেখো, মেযো ঘরে শুয়ে থাকলে রাতে কী খাবে একটু জিজ্ঞাসা করে এসো। আমি যাই একটা ফোন করে আসি। সবাইকে মিষ্টিমুখ করাতে হবে তো?

শাশুড়ি ড্রযিংরুম থেকে নিজের বেডরুমের দিকে উঠতেই তমালের বাবা বলেন, বউমা, আমাদের বংশপ্রদীপ আসছে, তুমি কিন্তু এভাবে মনমরা হয়ে সবসময় শ্রেষ্ঠার সামনে ঘোরাফেরা করবে না। তাতে ওর মন আর শরীর দুটোই খারাপ হয়ে পড়বে। হবু সন্তানের ক্ষতি। তোমার থেকে আমরা তো কিছুই পেলাম না। অন্তত এটুকু হেল্প পাব আশা করি।

হ্যাঁ বাবা। নিজের সম্মানের সবটুকু জলাঞ্জলি দিয়ে কস্তুরী ঘরে চলে এসেছিল। একটুও অবশিষ্ট ছিল না আর। ওর প্রয়োজন ফুরিয়েছে ওদের কাছে। হয়তো তমালের কাছেও। বিছানায় উপুড় হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। শরীরের সমস্ত সংযম হারিয়ে বাঁধভাঙা জলের মতো একে একে নেমে আসছিল অভিমান, যাবতীয় কষ্ট।

এখন থেকে বৈধভাবে বাঁজা এই অভিধায় বেঁচে থাকতে হবে ওকে। এই অভিধা কখনও মুছবে না জানে কস্তুরী। আসল সত্যিটা কারুর সামনে আসবে না। তমাল ওর থেকে অনেকটা দূরে চলে গেছে। শুধু শরীর থেকে নয়, মন থেকেও। কস্তুরীর জীবনে কে এই সর্বনাশ করেছে তাও ও জানে না।

ঋজুদা…? নাকি বুম্বা…! নাকি অন্য কেউ। কিন্তু কস্তুরীর শরীরের এতটা নিখুঁত বর্ণনা কে দেবে? ঘেঁটেঘুঁটে তমালের প্রোফাইল বের করে কস্তুরীর গোপন জানাবে কে?

বিশ্বাস করে না। তমাল একেবারেই আর কস্তুরীকে বিশ্বাস করে না। দশ বছরের বেশি সম্পর্কটা এভাবে একটা ছোট্ট ঝড়ে উপড়ে যাবে স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি। তাহলে সেই যে-ঝড়ে তমাল ওর হাত ধরেছিল, সবটাই কী দয়ার বশবর্তী হয়ে?

ব্লিচিং -এর মাধ্যমে দাগহীন ত্বক পেতে

ফরসা রং, মসৃণ এবং ইভেনটোন ত্বক সব বয়সি মেয়েদেরই ফার্স্ট প্রায়োরিটি। এগুলি পেতে হলে সবথেকে কমন বিউটি ট্রিটমেন্ট হল ‘Bleaching’। ব্লিচ মুখের রোমের রং হালকা করে, ফলে রোম ৱুঝতে পারা যায় না এবং ত্বকও সুন্দর ও ফরসা লাগে দেখতে। বাজারে নানা ধরনের ব্লিচ দেখতে পাওয়া যায়। সুতরাং ব্যবহারের আগে ব্লিচ সম্পর্কে কিছু জরুরি তথ্য জেনে রাখা একান্ত দরকার।

ত্বকের উপযুক্ত ব্লিচ

সংবেদনশীল ত্বক : এই ধরনের ত্বকে প্রোটিন হাইড্রা, হার্বাল, হাইড্রেটিং বা রেডিযে্ট গ্লো ব্যবহার করুন।

তৈলাক্ত ত্বক : তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ, মেচেতা ইত্যাদি সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। এই ধরনের ত্বকের জন্য এক্সট্রা অয়েল কন্ট্রোল, অ্যামোনিয়া ফ্রি ব্লিচ, ডি ট্যান, ফ্রুট ব্লিচ উপযুক্ত।

শুষ্ক ত্বক : এই ধরনের ত্বকের জন্য অয়েল বা ময়েশ্চার বেসড ব্লিচ ব্যবহার করুন, যেমন হাইড্রেটিং ব্লিচ, হোয়াইটনিং ব্লিচ ইত্যাদি।

ম্যাচিওর স্কিন : এই ধরনের ত্বকে এজিং অক্সিজেন ব্লিচ উপযুক্ত। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে হলে হাইড্রেটিং ব্লিচ ব্যবহার করুন। এছাড়াও ত্বকের মেলানিন স্তর কম করার জন্য প্রোটিন হাইড্রা অক্সি ব্লিচ ব্যবহার করতে পারেন।

ব্লিচ করার সময় খেয়াল রাখুন

  • থ্রেডিং, ওয়্যাক্সিং, স্টিম অথবা স্ক্রাবিং-এর পর ব্লিচ করবেন না।
  • Bleaching করার আগে প্রি ব্লিচ লোশন বা লাইট ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন বিশেষ করে যাদের ত্বক শুষ্ক এবং স্পর্শকাতর।
  • ব্লিচ লাগাবার পর যদি জ্বালা ভাব অনুভূত হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন এবং বরফ লাগান।
  • প্যাচ টেস্ট করেই তবে ব্লিচ ব্যবহার করুন।
  • কেটে গেলে অথবা ফাটা ত্বকে ব্লিচ লাগাবেন না।
  • ব্লিচের ব্যবহার ১৫-২০ দিনের আগে দ্বিতীয়বার করবেন না।
  • ১৫ মিনিটের বেশি ত্বকে ব্লিচ লাগিয়ে রাখবেন না।
  • ব্লিচ ক্রিমের সঙ্গে অ্যাক্টিভেটার মিক্স করার সময় মেটাল চামচ বা মেটালের বাটি ব্যবহার করবেন না।
  • মুখের ব্লিচ শরীরে আর শরীরের জন্য তৈরি ব্লিচ মুখে লাগাবেন না।
  • মুখে ব্লিচ লাগিয়ে টিভি দেখা অথবা বই পড়া উচিত নয়। এতে চোখের ক্ষতি হতে পারে।
  • ব্লিচ করার ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত সাবান বা ফেস ওয়াশ ব্যবহার করবেন না।
  • রোদ থেকে এসেই ব্লিচ করবেন না। শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হতে দেবেন।
  • শরীরের তাপ যার বেশি থাকে তার উচিত ত্বকের পরীক্ষা করিয়ে অনুরূপ ব্লিচ করানো। ব্লিচ করার পর সানগার্ড লাগিয়ে তবেই বাইরে বেরোবেন।
  • ফেসিয়াল করার পর ব্লিচ লাগানো উচিত নয়, নয়তো ফলাফল ভযংকর হতে পারে।

ব্লিচ করানোর উপকারিতা

  • ব্লিচ করলে, ফেসিয়াল হেয়ার স্কিনটোন ভালো ভাবে ম্যাচ করে ত্বককে ইভেন ও ফেয়ার গ্লো দেয়।
  • ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই ত্বক ফরসা এবং রেডিযে্ট লাগে দেখতে।
  • ব্লিচ, ত্বকের মৃত কোশ সরিয়ে দিয়ে ত্বকের ব্রাইট লুক ফিরিয়ে নিয়ে আসে।
  • পোস্ট ব্লিচ প্যাক ত্বককে হাইড্রেট করে ফরসা দেখাতে সাহায্য করে।
  • সানট্যান রিমুভ করে এবং মেলানিন লাইট করে, স্কিনটোনকে লাইটার এবং ফেয়ার বানায়।

ব্লিচ করাবার অসুবিধা

  • ব্লিচে পারদ থাকে, যা ত্বকের ক্ষতি করে। তাই প্রয়োজন ছাড়া ব্লিচ ব্যবহার করবেন না।
  • ব্লিচ করাবার পর ত্বক লাল হয়ে গেলে, রোদে যাবেন না বা আগুনের কাছাকাছি আসবেন না।
  • রং শ্যামলা হোক বা ফরসা, সকলেরই ব্লিচ করাবার দরকার পড়ে। কিন্তু ত্বকের উপযুক্ত ব্লিচ বেছে না নিলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে।
  • ব্লিচ করাবার পর যদি ব্যথা হয় বা ছাল উঠতে থাকে অথবা দাগছোপ বা কোথাও ফুলে ওঠে তাহলে ৱুঝতে হবে সেটা ব্লিচেরই রিয়্যাকশন।
  • কেমিক্যাল পিলিং করাবার পর ৪ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত ব্লিচ করানো উচিত নয়।

এক্সপার্টকে দিয়ে Bleaching করানো উচিত এবং ভালো ব্র‌্যান্ডের ব্লিচ ব্যবহার করা উচিত।

 

সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-২৯

বাড়িতে যা হয় মাঝেমধ্যে টুকটাক বন্ধুদের বলে কস্তুরী। কিন্তু প্রভাস স্যারের বাড়ির ঘটনাটা কী করে বলবে? এ যে একান্তই ওর লজ্জা। ওর পরিবারের লজ্জা।

ওই দ্যাখ, অনিমাদি এসেছেন। এবার হয়তো বোর্ড টাঙানো হবে। আঙুল দেখায় পম্পা।

পম্মা, সোমা স্কুলের বাকি মেয়েদের অভিভাবকেরা একটু একটু করে এগোতে থাকে স্কুলের মধ্যে। অল্পক্ষণের মধ্যেই ভিড় জমে যায় ভালোই। রেজাল্ট বেরিয়ে গেছে। ঠেলাঠেলির মধ্যে থেকে একটু একটু করে কেউ সামান্য মুখ ভার কেউ আবার বেজায় হাসি ফুটিয়ে বেরিয়ে আসে। এগোতে গিয়ে যেন পেছন দিকে অসম্ভব টান মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, কেউ যেন ওর পা দুটোকে আটকে দিয়েছে মেঝের সঙ্গে।

এদিক ওদিক থেকে অস্পষ্ট কানে আসছিল, সাযে্সের শঙ্খমালা প্রথম হয়েছে, আর আর্টসে হয়তো মৃত্তিকা।

কেউ কেউ সটান খাতা রিভিউ করাতে দেওয়ার কথাও বলছিল অসন্তোষের সঙ্গে। নোটিশ বোর্ডের বেশ অনেকটা কাছে এসে গেছিল ও। উঁচু উঁচু মাথাগুলোর পাশ থেকে আঙুল ছুঁয়ে ছুঁয়ে একের পর এক দেখছিল নামগুলো…।

লাল কালির দাগ। সেকেন্ড ডিভিশন। একটা বিষয়ে পাসমার্ক না থাকায় সেটাকে সম্ভবত ফোর্থ সাবজেক্ট করে দেওয়া হয়েছে। হয়তো ইংলিশ…। খুব খারাপ পরীক্ষা হয়েছিল। এমনটাই তো হওয়ার কথা ছিল। ফল তো ভুল কিছু আসেনি। পারেনি। কস্তুরী পারেনি। এই না-পারার জন্য কি একাই ও দায়ী? কোথাও না কোথাও বাবা-মা-দিদিও কি দায়ী নয়? এখন ও মাথা তুলে দাঁড়াবে কোথায়? কোথায়?

হই হই করে ওকে ঠেলে এগিয়ে যাচ্ছিল বাকিরা। স্কুলের মাঠের গা ঘেঁষে একতাল লাল রং নিয়ে ডুবে যাচ্ছিল দিনের সূর্য‌্যটা। এই সূর্য‌্যটাই কি রোজ সকালে ওঠে? আলোয় ভরিয়ে দেয় পৃথিবীটাকে। যা ডুবে যায়, মিলে যায়, মিশে যায় তা কি কখনও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে? নতুন করে সবকিছু শুরু করতে পারে? তাই তো যে হারিয়ে যায়, হেরে যায় সে কখনও কোনওদিন মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। গোটা পৃথিবী ভুল জানে।

সূর্য‌্য এক নয়, অনেক। অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছিল সবুজ ঘাস, হলুদ বিল্ডিংয়ে স্কুলটা।

সেই ঝটফটে লেজের পাখিগুলো একে একে পিড়িক পিড়িক করে ডাক দিয়ে ঢুকে পড়ছিল ঝাঁকড়া কদম গাছটার ডালটার মধ্যে। টিফিনের একটুকরো খেতে আসত যে শালিখটা সেটাও নিশ্চয়ই এতক্ষণে ওর ছানাদের নিয়ে বাসায় ফিরে গেছে।

ওকে কি কেউ ডাকল! কে ডাকবে?

কস্তুরী আর পেছন ফিরে তাকায়নি। ওইতো বাচ্চা ছেলেটা ঠিক যেভাবে তার মায়ের হাত ধরে নেমে যাচ্ছিল নীচে। একটা, দুটো, তিনটে…। পরপর অনেকগুলো ধাপ। কস্তুরীও নামতে থাকে একেকটা ধাপ বেয়ে গা কাঁটা দিচ্ছে। কি প্রচন্ড শীত শীত করছে। এই জায়গাটাই কী ঠান্ডা? নাকি ওর মাঝে মাঝে যে শীতটা করে তেমনিই হচ্ছে। কিছু একটা হবে হয়তো। বাচ্চাটা ওর মায়ের হাত ধরে নাচতে নাচতে এগোচ্ছে। ছোট্ট হাতদুটো নরম বাঁধনে ধরে রেখেছে ওর মা। ঝিমঝিমে একটা ভালোলাগা ঘুরে বেড়াচ্ছে কস্তুরীর শরীর জুড়ে। শীত শীত ব্যাপারটা আরও খানিকটা জাপটে ধরে ওকে। হালকা হয়ে আসা শরীরটা যেন ভেসে যেতে চাইছে। বাচ্চাটা ওর থেকে হাত চারেক দূরে।

ও কী রবি? রবিকে মনে আছে? হ্যাঁ রবিকে মনে আছে কস্তুরীর। সেই যে ছোটোবেলায় দিম্মামায়ের পাশের বাড়ির রবি-র মায়ের কোলে জড়ো হয়ে বসত ও। একবাটি সুজি দুধ খেত। দুধ ওর বরাবরই অপছন্দের। কিন্তু রবির মায়ের হাতের সুজি দুধের স্বাদটা যেন আজও ভুলতে পারে না। খুব ইচ্ছে করছে খেতে…।

মনে হচ্ছে ওই দুধ দুধ গন্ধটা যেন ওরই চারপাশে ঘোরাফেরা করছে। খিদে পাচ্ছে ভীষণ। কস্তুরী তো এখন খেতে পারবে না। এগিয়ে যায় ও। মনে পড়ছে হিংসুটে রবিটা ওকে বারবার নামাতে চাইত ওর মায়ের কোল থেকে। ও নামতে চাইত না। কান্না জুড়ত। রবির মা-ও ওকে নামতে দিত না, উলটে কস্তুরীকে মুখ ভরে চুমু খেয়ে রবিকে বকত। বলতো একদম হিংসুটেপনা যেন না করে রবি।

মিষ্টিমুখে শীতপার্বণ

শীতকালে রোজই এটা-ওটা খেতে ইচ্ছে করে৷ পাটালি আর নলেনগুড়ের ম’ ম’করা গন্ধে মন উচাটন হয়ে ওঠে৷ কোথাও নবান্নের ধানের সুবাস, কোথাও সুগন্ধী আতপের ঘ্রাণ৷Traditional sweet dishes from Bengal-এর এটাই বৈশিষ্ঠ্য৷ সব মিলিয়ে সুগন্ধে ভারী হয়ে ওঠে শীতের বাতাস৷ চলুন রান্নাঘরে উঁকি দিয়ে দেখি আজ কী প্রস্তুত হচ্ছে ?

মেওয়া ক্ষীর

উপকরণ : ১/৪ কাপ সুগন্ধী চাল, ১/২ লিটার ফুল ক্রিম মিল্ক, ১০-১২টা কিশমিশ, ১ ছোটো চামচ চিরঞ্জী, ১ ছোটো চামচ বাদামকুচি, ১ ছোটো চামচ পেস্তাকুচি, ১/৪ ছোটো চামচ এলাচগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ কাজুগুঁড়ো, ৩ বড়ো চামচ ঘি, নলেন গুড় স্বাদমতো।

প্রণালী: চাল ভালো করে ধুয়ে নিন। এক ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন। এবার গ্যাসে একটি গভীর তল-যুক্ত পাত্র বসান। ঘি গরম করে চালটা ভেজে নিন। ২ মিনিট পর আস্তে আস্তে চালের উপর দুধ ঢালুন। ঢিমে আঁচে দুধের মধ্যে চালটা সেদ্ধ হতে দিন। দুধ ঘন হতে থাকুক। আপনি এর ফাঁকে বারবার নাড়তে থাকুন যাতে ক্ষীরের নীচটা পুড়ে না যায়। নলেন গুড় দিন। ঘন হয়ে গেলে গ্যাস বন্ধ করুন। উপর থেকে এলাচগুঁড়ো ও কাজুগুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। মেওয়া দিয়ে সাজান। সার্ভিং বোল-এ রেখে ঠান্ডা অবস্থায় সার্ভ করুন।

 

পনিরের ফিরনি

Paneer Firni recipe

উপকরণ: ১০০ গ্রাম পনির, ১ কাপ ফুল ক্রিম দুধ, ১/৩ কাপ মিল্ক পাউডার, ১০-১২টা কেসরের ছড়া, ১/৪ ছোটো চামচ এলাচগুঁড়ো, অল্প পরিমাণে কাজু, বাদাম ও পেস্তা কুচি করা, অন্প পাটালি দুধে ভেজানো।

প্রণালী: দুধ ফুটতে দিন। ফোটানো দুধ থেকে অল্প পরিমাণে নিয়ে একটা পাত্রে কেসর ভিজতে দিন। ঢিমে আঁচে বসান ফোটানো দুধ। একটু ঘন হলে এতে পনির মেশাতে থাকুন। পনির যেন ভালো ভাবে চটকে মসৃণ করা থাকে দুধে দেওয়ার আগে। এবার দুধটা আঁচে রেখে আরও কিছুটা ঘন হতে দিন। ভেজানো কেসর এবার ওই দুধের মধ্যে ঢেলে দিন। তারপর পাটালি ভেজা দুধটাও ঢেলে দিয়ে মিশ্রণ আরও ঘন করুন।

এবার আঁচ থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। এলাচগুঁড়ো, কাজু, বাদাম, পেস্তাকুচি ছড়িয়ে দিন। ঠান্ডা অবস্থায় জমাট ফিরনি সার্ভ করুন।

 

মালপোয়া

Malpoa recipe

উপকরণ: ১ লিটার দুধ, ১/৪ কাপ ময়দা, ১/৪ কাপ সুজি, ঘি আর জল প্রযোজনমতো, ২৫০ গ্রাম চিনি।

প্রণালী: দুধ ফুটিয়ে অর্ধেক পরিমাণ করে নিন। কড়ায় সুজি ঢেলে আঁচে বসিয়ে নাড়াচাড়া করুন। বাদামি রং ধরলে, সুজির সঙ্গে ময়দা আর ঘন দুধটা মিশিয়ে একটা লেই তৈরি করে নিন। এই মিশ্রণে ৫০ গ্রাম মতো চিনি দিয়ে ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন।

এবার কড়ায় ঘি গরম করুন। অল্প পরিমাণে মিশ্রণ নিয়ে ঘিয়ে মালপোয়াগুলো ভেজে নিন। সব মালপোয়া ভাজা হয়ে গেলে কড়ায় ২০০ গ্রাম চিনি আর জল দিয়ে ফুটতে দিন। রস বেশি ঘন করবেন না। নামিয়ে ঠান্ডা করুন। তারপর মালপোয়াগুলো এক এক করে এই রসে ডুবিয়ে দিন।

সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-২৮

( ১১ )

কস্তুরীর মা আরও বলে যাচ্ছিল, আমি তো তোমার মেয়েকে একদম বিশ্বাস করতে পারি না। নাহলে তুমিই একটা কথা বলো তো। শুধু স্যার হয়ে বাবুর জন্য এত করল? বাড়িতে পৌঁছেও দিল রিকশা করে। ছেলেটার বয়স কম! দ্যাখো কোনও কিছু না আবার কাণ্ড করে বসে। আমাদের মুখ ভর্তি চুনকালি মাখবে তো তখন।

ছেলেটা ফালতু। সেদিন এমন করে ওর কাছে পড়ার কথা বলল ধীমানদা। না করতে পারলাম না। বুম্বা। চুটিয়ে ছোটোবেলায় সিনেমা টিনেমা করেছে। ওইসব করলে যা হয়, পড়াশোনাটা বন্ধ হয়েছে। এখন এখান ওখান থেকে টুকটাক রোজগার করে দেখেছি।

হ্যাঁ আমিও তো শীতলামন্দিরে ওদের বাড়ির পাশ দিয়ে আসা যাওয়ার সময় অনেকবারই সন্ধের দিকে দেখি দু-একটা মেয়ের সঙ্গে খিল্লি করছে। শুধু তো পড়িস? তোর সঙ্গে এত আলাপ হল কী করে রে? বাপের জন্মে দেখিনি স্যার ছাত্রীর সঙ্গে এমন করে মিশছে। চোখ লাল করে বলেন কস্তুরীর মা।

কস্তুরীর হাতের তেলো ঘেমে ওঠে। অদ্ভূত অস্বস্তি শরীরময় দাঁড়া বার করে কামড় দেয়। কী বলবে ও?

আমি ওনার হেল্প চাইনি মা। খুব নীচু স্বরে কথা কটা বলে ও।

সে তো বুঝলুম। কিন্তু ওইদিন তো স্যারের বাড়ি কেউ ছিল না। তুই এতক্ষণ কী করছিলিস? আমাদের একবার বলেও যাসনি দেরি হবে। আরেকটু হলে আমাদের খোঁজ নিতে দৌড়োতে হতো! তোর আক্কেলটা কী রকম?

শোনো বলছি এই মেয়ে কোনদিন না কাল ঘটায়! সব কী আমাদের মাপু পেয়ে। আমাদের কথা ভেবে বুঝেশুনে চলবে।

কস্তুরীর মা আরও কী কী সব বলে যাচ্ছিল। কিছুটা কানে আসছিল। কিছু আসছিল না। চাপ চাপ কষ্টগুলো হাতুড়ি পিটছিল বুকের ভেতরে। কী করে বাবা মাকে বোঝাবে কস্তুরী, ও আরও পড়তে চায়! এগিয়ে যেতে চায়।

দেখতে দেখতে কয়েকটা মাস কী করে কেটে গেছিল কস্তুরী নিজেও জানে না।

পারেনি। কোনওভাবেই টেস্ট পরীক্ষা দিতে পারেনি। পায়ে সেলাই অনেকটা শুকিয়ে গেলেও, মন ও শরীরের ক্ষত ছিল তখনও দগদগে। হারাবে না, বরং আরও একবার নিজে হারবে এই মনে করেই এসে দাঁড়িয়েছিল উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্ট বোর্ডের সামনে। লিস্ট টাঙাতে এখনও ঘণ্টাখানেক দেরি। অনেকে ওয়েবসাইট থেকে জেনে নেবে বলে সাইবার ক্যাফেতে অপেক্ষা করছে। কিন্তু কস্তুরীর মতো যারা স্বচক্ষে নিজের ভাগ্যের ফলাফল দেখতে চায়, তারা এসেছে স্কুল প্রাঙ্গণে।

জয় মা কালী। কস্তুরী খুব টেনশন হচ্ছে রে! তোর সঙ্গে কে এসেছে? আমি মা-কে এনেছি। কেমন হবে কে জানে। বাবার মুখোমুখি দাঁড়াতে পারব না তেমন কিছু হলে।

ধুর এত টেনশন নিয়ে কী আছে? আমি বাপু বেজায় স্টেডি আছি। ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড ডিভিশন হলেও চাপ নেই। পাশটা করলেই হল। বাবা বলেছে আমাকে বুটিক খুলে দেবে। কে অতো হ্যাপা পোহায় বলতো পড়াশোনার? যত ঝামেলা…! অনলাইনেও শুনছি মেয়েদের নানান বিজনেস শুরু হবে। এখন সবাই ঘরে বসেই সবকিছু কিনতে চায়।

রিয়েলি? পম্পার কথা শুনে সোমা প্রায় চেঁচিয়ে ওঠে।

ইশ আমরাও যদি এমন একটা ব্যাবসা পত্তর খুলতে পারতাম, তাহলে বেশ হতো বল কস্তুরী। তুই আমাদের মডেল হতিস। সোমা কনুইয়ে গুঁতো দেয়।

কী যে বলিস তোরা? হালকা ঠোঁট টেনে হাসবার চেষ্টা করে কস্তুরী।

বাবারে অত লজ্জার কী আছে? তুই যেন কেমন ম্যাদা মারা হয়ে গেছিস। টেস্ট পরীক্ষার আগে থেকেই।

বাড়িতে ঝামেলা।

সে তো অনেক আগে থেকেই শুনছি। নতুন কিছু? পম্পা বলে।

কেন ও চুপ? কেন কিছুই আর বলে উঠতে পারছে না কস্তুরী? কেন মনে হচ্ছে প্রবল এক ঝড় দুন্দুভি বাজিয়ে ওর ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে। কোনও বাধাই সে মানতে চাইছে না। প্রবল এই ঝড়ের দাপট হয়তো শিকড় সমেত উপড়ে দিতে চায় ওকে। চিরতরে মিশিয়ে দিতে চায় ভমির সঙ্গে। কস্তুরী কি কোনওদিনই দুঃখ ছুঁয়ে কণামাত্র সুখ খুঁজে পাবে না?

সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-২৭

সত্যি সত্যি একজন স্যারের দরকার ছিল। সামনে বাংলা অনার্স ফাইনাল। গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনে মেম্বারশিপ নিলেও পড়াটা যুত্সই হচ্ছিল না। কলেজের বাইরের সব প্রফেসরের মাইনে ভালোই হয়, তাই কলেজের কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব মিলে চেষ্টা করছিল যাতে একটা কলেজের স্যারকে রাজি করানো যায়।

ফোন রেখে কলেজের পথে পা বাড়াতে বাড়াতে বাপি-মায়ের ঘর থেকে কতগুলো কথা কানে এসেছিল ওর।

যাক বাবা, একটু নিশ্চিন্ত হওয়া গেল এবারে।

হুম হাজরা রোডের জমিটা যে ঠিক এই সময়ই ব্যবস্থা করতে পারব, ভাবতে পারিনি জানো! কিছু না হলেও নমো নমো করে ব্যাপারটা সারতে তো হবে।

কস্তুরীর বাপির কথা শুনে ওর মা অনেকটা নিশ্চিন্ত গলায় বলছিল, হ্যাঁ মাপু আর ঋজু আর কতদিন করবে? ওরা যা করছে যথেষ্ট করছে। গায়ে গতরে বল থাকতে থাকতেই তরী পার করে দিতে হবে। আমাদের গলার কাঁটা আমাদেরই তো বের করতে হবে কী বলো?

হ্যাঁ সামনের বৈশাখও দেরি করব না ভাবছি।

এর মানে কী? বাপি মা তাহলে কি ওর অজান্তেই সমস্তটা সেরে ফেলেছেন। ওকে কিছু জানাবার প্রয়োজনই মনে করেনি। দিদির কথাই শুরু, দিদির কথাই শেষ? ওর মতামত, ওর কথার কোনও দাম নেই?

( ১১ )

নিজের দামটা যেন একটু একটু করে হারিয়ে ফেলছিল কস্তুরী। জীবনটা থেকে যাচ্ছিল শুধুমাত্র একটা জড়বস্তু হয়ে ধীমান স্যারের বাড়ির সেই ঘটনাটা ওর স্বপ্নের দরজা জানলাগুলোকে আটকে দিচ্ছিল একের পর এক। শামুকের মতো খোলসের মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে রাখা ছাড়া আর উপায় কী। কাচের টুকরোতে ফালা ফালা হয়ে পায়ে চামড়া সরে গেছিল, স্টিচও পড়েছিল বেশ অনেকগুলো। মনের সেলাইও ছিল অজস্র। গোটা ঘটনাটা এতটাই নাটুকে আকার নিয়েছিল, যেখানে হাজার গোপন পর্দায় ঢেকে গেছিল সাদাটে সত্যি।

ধীমান স্যার বাড়িতে ফিরেছিলেন রাত আটটা নাগাদ। তার আগেই কস্তুরীর পায়ে ব্যান্ডেজ থেকে টিটেনাস সমস্তটাই দিয়ে দিয়েছিল বুম্বা স্যার। স্যারের বাড়ি থেকে কস্তুরীকে নিজের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে নিজে দায়িত্ব নিয়ে সবটা করিয়েছিল। কারুর মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ হয়নি ছেলেটার উপর।

ধীমান স্যারের বাড়ি আচমকা এসে পড়ে কস্তুরীর আঘাতের কথা জানতে পেরে যে এভাবে পাশে দাঁড়ায় তাকে আর যাই হোক রেপিস্ট বললে কেউ কি বিশ্বাস করবে? তাছাড়া বাপি-মায়ের কাছে পুরো ব্যাপারটা খোলসা হলে ও মুখ দেখাবে কী করে? আর ওর দিদি তো…।

ডাক্তার ডেকে আনার আগে বুম্বা স্যার নিজের হাতেই কস্তুরীর শরীরের সমস্ত এলোমেলো কাপড় ঠিক করে দিয়েছিল। ধূর্ত চোখে বলেছিল, মেয়েরা আমাকে এড়িয়ে যায় এটা আমি মানতে পারি না। আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করলে আজকের দিনটা তোমাকে দেখতে হতো না। মনে রেখো, অন্যরকম কিছু ভাবলে ক্ষতিটা তোমারই হবে। আমার একটা আধখানা চুলও কেউ ছিঁড়তে পারবে না।

গাল বেয়ে নেমে আসছিল বিন্দুরা। শরীরটা যেন কাঠ হয়ে গেছিল ওর। লোকটা শাস্তি দিয়েছে ওকে। ওকে এড়িয়ে যাওয়ার শাস্তি। বাকি মেয়েদের মতো ওর কাছে না যাওয়ার শাস্তি। একটা মাঝারি আকারের ডট পেন ক্রমাগত কস্তুরীর যোনি ভেদ করে ঢুকিয়ে গেছে লোকটা। ক্রমাগত। ক্রমাগত। টানা আধঘন্টা কী তারও বেশি। তারপর ক্লান্ত হয়ে পড়লে কস্তুরীর সামনেই হস্তমৈথুন করেছে বারকয়েক। কাচের টুকরোটা এমন ভাবে বিঁধে ছিল পায়ে নিস্তেজ দেহটাকে কোনও ভাবেই ছাড়াতে পারেনি ও।

কাউকে কিছু বলতেও পারেনি। আরও একধাপ বিপদ এগিয়ে এসেছিল। ডাক্তার বলেছিলেন, পা ঠিক হতে পুরোপুরি একমাস সময় লাগতে পারে। কারণ বেশ অনেকটা ব্লিডিং হওয়ায় রক্ত বেরিয়ে গেছে। প্রেশারও ফল করে গেছে মাত্রাতিরিক্ত। তাই এতকিছুর পর টেস্ট পরীক্ষা দিতে পারবে কিনা জানে না ও। দিলেও তা কীভাবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ ছিল।

এই প্রাণশূন্য জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার কি আদপে কোনও অর্থ ছিল? হয়তো না…। নিজেকে জিইয়ে রাখার ইচ্ছেগুলো একে একে মরে যাচ্ছিল। আবার করে ধসে পড়া ইটের টুকরোগুলো আর জড়ো করতে মন চাইছিল না কস্তুরীর।

আমি মনে হয় পরীক্ষাটা দিতে পারব না। বাপিকে বলেছিল কস্তুরী।

যা ভালো মনে করিস আর কী বলব বল? একে তো ঠিকঠাক এগোয় না তোর পড়াশোনা। তার ওপর বাঁধিয়ে বসলি কী এক পা নিয়ে বলতো?

হ্যাঁ এত অজুহাত। ভেবেছে পার পেয়ে যাবে। আজকাল বিয়ে বাজারেও গ্র্যাজুয়েট না হলে কোনও কিছুই হয় না। সেটা তোমার মেয়েকে ভালো করে বুঝিয়ে দাও। আমি বললে তো কোনওরকম গ্রাহ্যই করবে না। ছোটো থেকে পড়তে কোনওদিন বসল না। কিন্তু টিউশন করে ঠিক নিজের সানস্ক্রিন কেনার পয়সাটা জোগাড় করে নেয়। ওটা তো কখনও ভোলে না।

ক্রমশ…

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব