সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-২৩

( ৯ )

নারে বিশ্বাস কর রিমলি, আমার হাতে একদম সময় নেই। একটু কাজে এসেছিলাম…।

আহা লক্ষ্মী বউমা আমার…। যাও বাবা তুমি ঘরে যাও। শাশুড়ির পা টেপো। মারব মাথায় এক গাঁট্টা। হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারটা দে শিগগির। মুখ ভেংচি দিয়ে রিমলি বলে।

সেভ করে নে ৯৪৫৭২… আমার মোবাইলটা কোথায় গেল? কোথায় রাখলাম এক্ষুনি তো ব্যাগের চেনের ভেতরে ঢুকিয়েছিলাম। রাস্তাটা পার হয়ে ওলা বুক করতাম। কোথায় গেল বলতো…?

দেখ ব্যাগেই রেখেছিস। কী উত্পাত।

কস্তুরী। কস্তুরী এই যে এদিকে এদিকে। ক্যাফের দিক থেকে হাত নাড়তে নাড়তে শৈবাল এগিয়ে আসে।

খুব বাঁচান বাঁচালে বাবারে বাবা। একটা অফিসের কলে ব্যস্ত হয়ে গেছিলাম। উঠতে গিয়ে দেখি ফোনটাই ফেলে গেছ তুমি। দ্যাখো তো কী কাণ্ড। নাও নাও শিগগিরই ধরো। না হলে যে কী হতো? তোমাকে কুরিয়ার করে ফোন পাঠাতে হতো। নাহলে আমি ফোন ফেরত দিচ্ছি তোমার বাড়ির লোক জানলে…।

থ্যাং ইউ শৈবালদা। সত্যি খুব বিপদে পড়তাম। আসলে আমি…।

ওসব কোনও ব্যাপার নয়, এরকম হয়ে থাকে। পরে কথা হবে, আমাকে বেরোতে হবে জলদি। তোমাকে কি ড্রপ করে দেব?

না না আমি চলে যাব। আপনি যান।

ওকে ডান। সি ইউ নেক্সট টাইম। একটা থাম্বসাপ দেখিয়ে হনহন করে হেঁটে ক্যাফের পার্কিং জোনের দিকে চলে যায় শৈবাল।

ও তাহলে এটাই তোর সেই…? কী রে কস্তুরী? মালটা কে রে? মালটা হেব্বি হ্যান্ডু। তারপর কী সাংঘাতিক টল। উফঃ!

প্লিজ সুপু কাউকে বলিস না, প্লিজ…।

আরে তুই এমন করে ভয় পাচ্ছিস কেন? মালটা তো দেখছিলাম বেশ ডেসপারেট। তোদের এই দেখাটা বেশ চুপিচুপি। তাই না? ওই যে বলল ফোনটা সবার সামনে ফেরত দিতে পারত না। আশা করি তুই নিশ্চয়ই ওকে রাখি পরাতে আসিসনি? ইশারা করে চোখ টেপে রিমলি।

না মানে বিশ্বাস কর, আমি না বেরোতে চাইনি। এমন একটা ঘটনা ঘটল ঠিক না করতে পারলাম না। এখন যে কী করব বুঝে উঠতে পারছি না।

কী আর করবি আমার সঙ্গে কফি মারবি। চল তো… মেলা বকিস না। অনেক হয়েছে।

না রে সুপু বিশ্বাস কর দেরি হলে প্রবলেমে পড়ে যাব…।

ওর কোনও কথা না শুনে হাত ধরে প্রায় টানতে টানতে ক্যাফের মধ্যে ঢুকে পড়ে রিমলি।

কোথায় চরতে গেছিলে? বাড়িতে ঢুকতেই ঠাকুমাশাশুড়ির প্রথম মন্তব্য ছিল এটাই।

চা চেয়ে চেয়ে গলা শুকিয়ে গেল, তোমার শাশুড়ির তো টিভি সিরিয়াল ছেড়ে ওঠবারই সময় নেই। আমাকে চা দেবে কে? তা কোথায় গেছিলে শুনি?

আমি তো বলে গেছিলাম ঠাকুমা। বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে ওর বাড়ি যাব। অনেকদিন দেখা হয়নি তাই…। রান্নাঘরের দিকে আসতে আসতে বলেছিল কস্তুরী।

এখন চা করে দেব ঠাকুমা?

আর মা। তোমাকে আর কিছু করতে হবেনি, রাতের বেলা হয়ে গেল, ভাত খাব। ঠাকুমা গজগজ করে।

বন্ধু? তোমার শাশুড়ি যে বলল, নাং… নাংয়ের বাড়ি গেছিলে?

কানটা গরম হয়ে ওঠে কস্তুরীর। কী ভাষা। বাইরের কাপড়েই রান্নাঘরে ঢুকে ভাত বসিয়ে দেয়! বাড়ি তো চলে আসতেই চেয়েছিল। শৈবালদার সঙ্গে কথা বলে ফিরে এলেই ভালো হতো। এতটা দেরি হতো না। শুধুমুধু আটকে দিল রিমলি। না করবেই বা কী করে? কতবছর পর দেখা। তবে একদিক থেকে দেখতে গেলে ভালোই হয়েছে। রিমলি তো গোটাকতক সেলফি তুলল ওর সাথে। যদি বাড়ির অবিশ্বাসের সুরটা আরও বাড়ে, তাহলে ছবিগুলো দেখাতে তো পারবে।

সন্ধে থেকে কতজন আইল, বউটারে দেখতে পেল না। ঘরের বউ ঘরে নাই। চরতে গেসে। বউমা আমার কথা না-হয় ছাড়ান দাও। ছেলেটাকে তো কিছু খেতে দেবে। কতক্ষণ আর শুকনা মুখে থাকবে? ঠাকুমার কথা শুনে বুকের ভেতরটা ধক করে উঠেছিল।

Hostel-লাইফে সুরক্ষিত থাকার শিক্ষা দিন আপনার সন্তানকে

শ্রুতির বরাবরের জেদ, সে হায়ার স্টাডিজ Hostel থেকেই করবে। কিন্তু ওর মা তার এই ইচ্ছেয় একেবারেই সহমত ছিলেন না। মেয়ের রাত করে শোওয়ার অভ্যাস, জামাকাপড় ছেড়ে বাথরুমে ফেলে রাখা, খাবার নিয়ে রোজের অশান্তি এসব শ্রুতির মা সহ্য করতে পারেন না। কিন্তু শ্রতি-কে কিছু বলতে গেলেই ওর সেই এক কথা, ঘাড়ে এসে পড়লে সবই শিখে যাব। শ্রুতির একটাও কথা ওর মায়ের বিশ্বাসযোগ্য মনে হতো না।

একবার শ্রুতির এক বন্ধু মিতালি শ্রুতির সঙ্গে দেখা করতে বাড়িতে আসে। শ্রুতির মা চায়ের কথা জিজ্ঞেস করলে মিতালি বলে, কাকিমা, আপনি বসুন আমি চা করে নিয়ে আসছি। শ্রুতি শুধু দেখিয়ে দিক কোথায় কী আছে।

শ্রুতির মা আশ্চর্য হয়ে যান। মিতালি দ্রুত তিন কাপ চা বানিয়ে নিয়ে আসে। শ্রুতির মা মুখে কিছু বলেন না, শুধু শ্রুতির দিকে তির্যক দৃষ্টি নিক্ষেপ করে চুপ করে চা খেতে থাকেন।

—তুই এসব করা আবার কবে শিখলি? আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করে শ্রুতি।

—আরে পরের মাসেই তো মুম্বই যাচ্ছি। ওখানকার কলেজে ইকোনমিক্স-এ চান্স পেয়েছি, Hostel-ও ঠিক হয়ে গেছে। সুতরাং মায়ের কাছে শিখে নিচ্ছি সব, যাতে অচেনা শহরে গিয়ে মুশকিলে না পড়তে হয়। জানিসই তো গতবছর পুণায় গিয়ে পিয়ালের কী হাল হয়েছিল, মিতালি বলে।

শ্রুতির মা কী হয়েছিল জানতে চাইলে মিতালি আবার বলে, মাসিমা, পুণার হোস্টেলের খাবার পছন্দ না হওয়াতে ও পিজিতে চলে যায়। কিন্তু সেখানেও ওর খাবার পছন্দ হয় না। হবেই বা কী করে? ও বাঙালি আর মহারাষ্ট্রের খাবারের স্বাদ একেবারেই আলাদা। কী করে বেচারা? নিজে কিছু জানে না করতে। বাইরে খাওয়া আরম্ভ করল। ফলে ওজনও বেড়ে গেল আর পেটে আলসার ধরা পড়ল। সব খাওয়া এখন ওর বারণ হয়ে গেছে। ওর মায়ের কাছে তেলমশলা ছাড়া খিচুড়ি বানানো শিখে এখন পিজিতে তা-ই রান্না করে খাচ্ছে।

শ্রুতির মা বলে উঠলেন, তুমি শ্রুতিকে বোঝাও মিতালি। ও কোনও কিছু শিখতে চায় না, ওরও পিয়ালের মতোই অবস্থা হবে। বাড়ির বাইরে গিয়ে একা থাকা কি অতই সোজা? শ্রুতির দিকে ইশারা করে বললেন, ও তো সেই তোমার বন্ধুর পথই অনুসরণ করছে।

—মাসিমা, শুধু খাওয়ার সমস্যাই নয় আরও হাজারো সমস্যা ফেস করতে হয় একা থাকতে গেলে, যেগুলো বাড়ির সুরক্ষিত চার দেয়ালের মধ্যে কল্পনাই করা যায় না। সুতরাং সময় থাকতে আমাদের উচিত প্রয়োজনীয় সবকিছু শিখে নেওয়া।

আজকের যুবক বা যুবতি যাদের একা গিয়ে অচেনা জায়গায় থাকতে হচ্ছে তাদের কিছু জিনিস শিখে নেওয়া উচিত যাতে প্রবাসে তাদের সমস্যায় না পড়তে হয়।

ব্যক্তিগত ট্রেনিং

  • বাড়ির বাইরে গিয়ে একা থাকতে হলে প্রথম সমস্যা হয় খাওয়াদাওয়া নিয়ে। Hostel, পিজি সর্বত্রই খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে কিন্তু রোজের খাবার, জলখাবার যে পছন্দসই হবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। কারণ বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন ভাষাভাষীর ছেলেমেযেরা একসঙ্গে থাকছে এবং সকলের জন্যই ওই একই খাবার। সুতরাং বেসিক কিছু খাবার বানানো ও নিজের পছন্দের কয়েকটা রেসিপি শিখে রাখাটা একান্ত প্রযোজন।
  • খাবার বানাতে গেলে বাসন ব্যবহার করতে হবে এবং হোস্টেলে থাকলে নিজের রান্না করা বাসনটা নিজেকেই ধুয়ে নিতে হবে। বাড়িতে থাকলে পরিচারিকা হয়তো এই কাজটা করে দেয়। কিন্তু বাইরে থাকলে নিজেকে বাসন মাজাটা শিখে নিতে হবে।
  • খাবার তৈরি করতে যে-উপকরণগুলোর প্রযোজন যেমন গ্যাসস্টোভ, হিটার বা ইন্ডাকশন প্লেট এগুলো সম্পর্কেও সামান্য জ্ঞান থাকা দরকার।
  • খাবারের পরেই আসে জামাকাপড়ের চিন্তা। বাইরের পোশাক, বিছানার চাদর, তোয়ালে ইত্যাদি ধোপাকে দিয়ে ধুইয়ে নেওয়া গেলেও রোজকার সর্বক্ষণের পরার পোশাক, অন্তর্বাস এগুলো নিজেকেই ধুয়ে নিতে হবে। এমারজেন্সি সিচুয়েশনের জন্য পোশাক ঠিকমতো প্রেস করাটাও শিখে রাখা একান্ত জরুরি।
  • Hostel বা পিজি-তে যে-ঘরে থাকছেন সেটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখাটাও খুব দরকার। এটা শুধুমাত্র স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, গোছানো ঘর ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখতে যেমন সাহায্য করবে, তেমনি কিছু করার উৎসাহও বাড়িয়ে তুলবে। জিনিসপত্র অগোছালো পড়ে থাকলে তা অবসাদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
  • শেয়ারিং বেসিসে যদি থাকেন তাহলে রুম পার্টনারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার রাখুন। কারণ আপনার সমস্যায় সে-ই প্রথম আপনাকে সাহায্য করতে পারবে।

ব্যবহারিক ট্রেনিং

ব্যক্তিগত এবং প্রযুক্তিগত ট্রেনিং যে-কোনও অন্য ব্যক্তির সহায়তাতেও নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু ব্যবহারিক ট্রেনিং নিজেকেই নিতে হবে। এগুলি জেনে রাখা একান্ত জরুরি—

  • একা বাড়ির বাইরে থাকতে গেলে প্রথমেই দরকার আত্মবিশ্বাস। যে-কোনও অপ্রিয় পরিস্থিতিতে নিজেকে স্বাভাবিক রেখে সঠিক সমাধান খুঁজতে আত্মবিশ্বাস-ই আপনাকে সাহায্য করতে পারে।
  • অচেনা ব্যক্তির সঙ্গেও ব্যবহার সবসময় ভালো রাখবেন। আপনার ব্যবহার অনেক সমস্যার হাত থেকে আপনাকে বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে।
  • শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতা এই দুয়েরই খেয়াল রাখতে হবে। একাকিত্বে যাতে না ভোগেন তার জন্য নিজের শখ-সাধ বজায় রাখুন। বন্ধু এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন।

প্রযুক্তিগত ট্রেনিং

ব্যক্তিগত ট্রেনিং-এর সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা থাকা খুব দরকার। দৈনন্দিন জীবনে হয়তো এটার প্রযোজন না-ও পড়তে পারে কিন্তু এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।

  • যাওয়া-আসার জন্য অনলাইন টিকিট বুক করা
  • ব্যাংক এবং পোস্ট অফিসের সঙ্গে যুক্ত কিছু সাধারণ কাজকর্ম
  • ইন্টারনেট ডেটা-র সঠিক ব্যবহার
  • নিজের জিনিস ঠিকমতো প্যাকিং করা
  • এমারজেন্সি ওষুধপত্র সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান
  • খরচা চালাবার জন্য সঞ্চিত অর্থের সঠিক ব্যবহার।

নিজের সঙ্গে দেখা

একাকিত্বের অনুভূতি কষ্টকর হলেও, সেটা জয় করা কঠিন নয়৷ এই পৃথিবীতে অনেকেই নিজের ইচ্ছেতে বা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষীতে সঙ্গীহীন৷ গত দুবছরে কোভিডের ঢেউয়ে অনেকে প্রিয়জন বা জীবনবঙ্গীকে হারিয়েছেন৷ কিন্তু জীবন তো থেমে থাকে না৷ তাই কষ্ট ভুলে আবার উঠে দাঁড়াতেও হয়েছে৷ এই পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলে নেওয়ার, overcoming loneliness -এর কিছু পরামর্শ দিচ্ছি আমরা৷

মনখারাপকে জয় করতে হলে

নিজে কী করতে চান, সেটা আপনাকেই স্থির করতে হবে। অন্য কেউ কিছু করছে বলেই যে আপনাকে তার অনুকরণ করতে হবে, তেমন নয়। আপনার বিশেষ গুণগুলিকে আগে চিহ্নিত করুন। আপনার ইন্টারেস্ট-এর বিষয়গুলিতে জোর দিন। অপূর্ণ ইচ্ছাপূরণের জন্য কিন্তু প্রভূত মানসিক জোর লাগে। সেই জোর আগে মনে মনে একত্রিত করুন। তারপর যা সংকল্প করছেন, সেদিকে পা বাড়ান।

 নিজের মতামতের বিষয়ে নিশ্চিত হোন

যে-কোনও বিষয়ে নিজেকে আপগ্রেড করার মধ্যে লজ্জার কিছু নেই। ইন্টারনেট-এর সাহায্য নিন। দ্বিধা কাটিয়ে তারপর ফিল্ড-এ নামুন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই হাতেকলমে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করার মূল্য আছে। এর ফলে যে-কোনও বিষয়ে ভালো-মন্দ সম্পর্কে আপনার সম্যক জ্ঞান লাভ হবে। আপনার আগে যারা কোনও কাজে উদ্যোগ নিয়েছেন, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং-এর দ্বারা তাদের সঙ্গে পরিচিত হোন। এতে আপনার যোগাযোগের পরিধিটাও বাড়বে। কীভাবে আপনি এগোবেন, তাদের পরামর্শ নিয়ে এরপর নিজের কাজের একটি রূপরেখা তৈরি করুন। যদি ব্যাংক লোন নেওয়ার প্রয়োজন হয়, নিজের প্রোজেক্ট-টি গুছিয়ে লিখে ব্যাংক ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। তাঁর সাহায্য চান আর্থিক সহায়তার জন্য।

মনে রাখবেন যে-কোনও কাজের শুরুতে অনেক বাধা, অনেক প্রতিবন্ধকতা আসে। ভয় পেয়ে বা হতাশ হয়ে হাল ছাড়লে চলবে না। অনেকেই আছেন যারা অর্থের অভাবে বিউটি পার্লার খুলতে না পারলেও বাড়ি থেকে বিজনেস কনট্যাক্ট তৈরি করে কনে সাজানোর অর্ডার নেন। এভাবেও কিন্তু শুরু করা যায় মূলধন না থাকলেও।

স্বপ্ন দেখতে সংকোচ কীসের?

মনে রাখবেন কোনও কিছু শুরু করতে গেলে বয়সটা কিন্তু আদৌ কোনও ফ্যাক্টর নয়। লোকলজ্জার ভয়ে পিছিয়ে আসবেন না। আত্মবিশ্বাসই হল সাফল্যের মন্ত্র। আপনি চাইলে যে-কোনও বয়সেই আপনার পছন্দের কাজ শুরু করতে পারেন। আপনার অধরা স্বপ্নকে ছোঁওয়া সত্যিই অসম্ভব নয়। মনের জোরে মানুষ কী না পারে! ঝুঁকি সব কাজে থাকে। যদি বিফলও হন প্রাথমিক ভাবে, তাহলেও ভেঙে পড়লে চলবে না। নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিন। দেখবেন পরের বার সাফল্যের সোপান স্পর্শ করা আর ততটা অসম্ভব মনে হবে না।

চারপাশে চোখ রাখলেই জানতে পারবেন এমন কত শত মানুষের কথা। কেউ বিকলাঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও এভারেস্ট জয় করেছেন। কেউ ক্যানসারের মতো মারণ ব্যাধি জয় করেও চালিয়ে যাচ্ছেন সাফল্যের জয়যাত্রা। কেউ দৃষ্টিহীন হয়ে থেমে থাকেননি, ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে প্রমাণ করেছেন জীবনে কিছুই অসম্ভব নয়।

স্বপ্ন দেখলে তা সফল করার তাগিদও অনুভব করতে হবে। থেমে যেতে যেতে একবার যদি ঘুরে দাঁড়ান, নতুন করে পথ চলা শুরু করেন দেখবেন স্বপ্ন আপনার হাতের মুঠোয় ধরা দেবে।

সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-২২

এর কোনও উত্তর নেই আমার কাছে…। আমি চলি। কথাটা বলে কস্তুরী ক্যাফে কফিডে থেকে বেরিয়ে পড়ে।

এখান থেকে বাড়ি পৌঁছোতে পৌঁছোতে হার্ডলি পঞ্চাশ মিনিট। ওলা, উবের যাহোক একটা বুক করে নিতে হবে। বাড়ি থেকে বেরিয়েছে সেই দুপুরে। খাওয়ার পরে। সবাই ওই সময়ে টিভি দেখতে ব্যস্ত থাকে। কস্তুরী নিজের কাজ সারতে পারে। কিন্তু শাশুড়ির চায়ে টাইমের আগে পৌঁছোতে না পারলে আবার দক্ষযজ্ঞ। বলে এসেছে, সহেলি, কস্তুরীর কলেজবেলার বান্ধবীর সঙ্গে অনেকদিন দেখা হয়নি, তাই যাচ্ছে দেখা করতে। সন্ধের মধ্যে ফিরে আসবে। ওর কোথাও বেরোনোর কথা শুনলে তমালের মা-বাবার মুখটা সাংঘাতিক রকমের ভারী হয়ে যায়। আজও সেটাই দেখে বেরিয়েছে।

ভালো লাগছে না কিছুই। রাস্তায় না, না একেবারে তমাল বাড়িতে ফিরলে তবেই কথা বলবে। কেন করল ও এরকম? শৈবালদা কস্তুরীর চেয়ে অন্তরঙ্গ হল ওর কাছে? কস্তুরীর নামে কেউ কিছু বললে সেটা ওকেই তো সরাসরি জিজ্ঞাসা করতে পারত। তা না করে? তমাল এতটা বদলে গেল কেন? আগে তো এমন কখনও করত না উলটে বলত নিজেদের সম্পর্কে যাই হোক না কেন, কখনও কোনও কথা পাঁচকান করতে নেই। ছি ছি…

বিয়ে হবার পর থেকে কতটা সময় নিজের জন্য পেয়েছে কস্তুরী? চার চারটে বছর কেটে গেছে এইভাবে। শুধু পাগলের মতো চেষ্টা করে চলেছে অন্যের মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলার জন্য। আর বাকিরা…। যেনতেনপ্রকারেণ ওকে নিজেদের থেকে হেয় দেখানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। সত্যি সত্যি কাজের মধ্যে ডুবে থাকলে হয়তো এতটা অশান্তির কথা মাথাতেই আসবে না…। কিছু না কিছুতে ব্যস্ত থাকতেই হবে।

বিকেল গড়িয়ে শহরের বুকে সন্ধ্যা নামছিল। নীল আকাশটা একটু একটু করে কালোমাখা কালিতে ভরে উঠছিল। কস্তুরী ফুটপাথের চৌকো খোপগুলো মাড়িয়ে মাড়িয়ে একটা আলোময় পথ খুঁজছিল। সত্যি কি কোনওদিন খুঁজে পাবে ও পথটা? নাকি এই অন্ধকার খোপগুলোই ওকে মুছে দেবে চিরদিনের মতো।

আরে কস্তুরী না…? খবর কী? কতদিন পর?

হুরপুর করে ওর গায়ে ওপর উঠে পড়ে একটা বেশ মোটাসোটা ভদ্রমহিলা গোছের কেউ। মুখটা চেনা চেনা লাগছে। তবে নামটা ঠিক পেটে এলেও মুখে আসছে না। কে যেন… কে যেন…।

যাহ কেলো। চিনতে পারছিস না? সানগ্লাসটা খুলে কপালে সেঁটে দেন মহিলা।

ওরে বাপরে। রিমলি তো। রিমলি…।

এতক্ষণে মা আমায় দয়া করলেন দেখছি। কস্তুরীর হাতে একটা ছোট্ট চিমটি কাটে রিমলি।

তা কী করে চিনব বল? কী সাংঘাতিক ওজন বাড়িয়েছিস মাইরি।

দিল দেখো দিল, ওজন দেখো না কন্যে। সুর কেটে বলে রিমলি।

একদম বদলাসনি তুই।

তুইও না। ঠিক যেমন ছিলিস তেমন…তখনও ম্যাদামারা ছিলিস, এখনও তাইই আছিস। নো চেঞ্জ। শুধু তোর চোখ দুটো…। হায়। এখনও সেই ঘায়ে করে দেওয়া। ছেলে হলে বিশ্বাস কর কস্তুরী ঠিক তোর প্রেমে পড়ে যেতাম।

ফাজলামো ছাড়। কেমন আছিস তাই বল?

আর কেমন আছি। জরা-ব্যাধি-কাম নিয়ে একেবারে জর্জরিত। তার মধ্যে শেষেরটার পার্সেন্টেজ একেবারে লোয়ে দিকে বুঝলি, নেই বললেও চলে। কথাগুলো বলে নিজেই হো হো করে হেসে ওঠে রিমলি।

উফঃ। এটা রাস্তা…।

ন্যাকামি ছাড়। তোর কী খবর বল। বাই দ্য ওয়ে আনমনা হয়ে এখান দিয়ে কোথায় যাচ্ছিলিস বলতো? অনেকক্ষণ ধরে লক্ষ্য করছিলাম। ভাবলাম যদি তুই রাস্তা পেরিয়ে যাস তাই আগেভাগে ডাকলাম। আগে তো এখানে কখনও দেখিনি। আমার তো ওই বিল্ডিংটার ফোর্থ ফ্লোরে অফিস। চল না ক্যাফেতে বসে দুটো কোল্ড কফি মেরে দিই। রিমলি ডানহাতের একটা আঙুল তুলে কাছের সাদা বিল্ডিংটা দেখাল।

ট্যাক্স ব্যবস্থার মাকড়সা-জাল

স্ট্যাম্প ডিউটি কোনও এক ঐতিহাসিক কালে সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশনের খরচ হিসাবে ধার্য করা হতো। ব্রিটিশ সরকার, সম্পত্তির মালিকানা-কে স্বীকৃত করতে এবং অর্থের লেনদেনের বিষয়টিকে বৈধতা দিতে স্ট্যাম্প ডিউটির ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি খাতায় এটা একপ্রকার ট্যাক্স-এরই নামান্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনি যে-মুহূর্তে কোনও প্রকার সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় করতে যাবেন, সঙ্গে সঙ্গে সরকার ঝাঁপিয়ে পড়বে আপনার থেকে এ বাবদ ৮ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত কর উশুল করতে। কিছু রাজ্যে তো পরিবারের মধ্যেও সম্পত্তি হস্তান্তরিত করতে হলে ভারী স্ট্যাম্প ডিউটি বহন করতে হয়। ঝামেলা এড়াতে লোকে এখন পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি প্রয়োগ করে সম্পত্তি বিক্রির পথ নিয়েছে।

বহু বিরোধিতার পর এখন কিছু রাজ্যের সরকারের বোধগম্য হয়েছে যে, এই অন্যায্য কর উশুল করা এক প্রকার মাফিয়াগিরির দৃষ্টান্ত। মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতে এখন সম্পত্তির হস্তান্তর যদি পরিবারের মধ্যে হয়, তাহলে সেখানে নামমাত্র শুল্ক প্রযোগ করা হয়। এর ফলে সম্পত্তির বিলিবন্টন এখন অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছে ওইসব রাজ্যে।

বস্তুত সম্পত্তি বেচাকেনার বিষয়টি, যে-কোনও জিনিস কেনা বা বিক্রি করার মতোই সহজ হওয়া উচিত। তা না করে প্রতি লেনদেনে মোটা ট্যাক্স দিতে হলে, তা মধ্যবিত্তের উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়ায়। মানুষ তাই চেষ্টা করে যাতে কোনও না কোনও উপায়ে এই খরচটা এড়ানো যায়। ব্ল্যাক মানি-র উদ্ভব তো এই কর ফাঁকি দেওয়ার ইচ্ছা থেকেই তৈরি হয়েছে। স্ট্যাম্প ডিউটির বোঝা এড়াতেও তাই মানুষকে অসাধু পথ বাছতে হচ্ছে। কে আর বাজে কারণে অর্থের অপচয় চায়!

সম্পত্তি মানুষ তখনই বিক্রি করার কথা ভাবেন, যখন তিনি আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে সেই সময় অর্থের অপচয় না করাটাই তার পক্ষে স্বাভাবিক। সরকার যদি এভাবে ট্যাক্স-এর মাকড়সার জাল বিস্তার করে থাকে, তাতে স্বাভাবিক ভাবেই পা দিতে নারাজ হবে সাধারণ মানুষ।

সরকারের কোষাগার তখনই পরিপূর্ণ হবে যখন মানুষ সদ্বিচ্ছায় কর দেওয়া শুরু করবেন। সম্পত্তি কেনাবেচা যখন অন্ন-বস্ত্র কেনার বা বিক্রি করার মতো সহজ হবে। এখন বযঃজ্যেষ্ঠরা অনেকেই চান, তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর সম্পত্তি পুত্রদের মধ্যে সঠিক ভাবে বন্টন করে দিতে। কে কতটা অংশ পাবেন ওই বিষয়-আশয়ে এবং সে বাবদ কত বার স্ট্যাম্প ডিউটি লাগু হবে প্রতিটি অংশে এ একটি অত্যন্ত জটিলতার পর্ব। এই পর্বটা সহজ না হলে পারিবারিক বিবাদ ও বাকবিতণ্ডারও নিষ্পত্তি হওয়া অসম্ভব।

স্বপ্নের পাখায় ভর করে নতুন সূত্রপাত

একটি অতিমারি আমাদের জীবনের চালচিত্রটাই বদলে দিয়েছে। শুধু অসুস্থতার করাল গ্রাসই নয় বহু মানুষকে চিরকালের মতো হারিয়ে ফেলেছি আমরা, হারিয়েছি জীবনের নানা অমূল্য মুহূর্ত যার অভিব্যক্তি হয়তো দুটো মানুষের আলিঙ্গনে উদ্যাপিত হতে পারত। আবারও দেখা দিতে পারে ভাইরাসের চোখরাঙানি এই অনিশ্চয়তা দিয়ে শুরু হছ্ছে ২০২৩ কিন্তু তাই বলে সব স্বপ্ন, সমস্ত আশা কি চিরতরে শেষ হয়ে যাবে?

না, প্রতিকূলতার মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোই মানুষের ধর্ম। নতুন বছর, নতুন সময়, নতুন চিন্তধারা, নতুন কমিন্টমেন্ট। তাই সবই যখন নতুন, আমাদের নতুন করে সব ভাবতে হবে একটা নতুন শুরুয়াতের জন্য।New year wishes আর স্বপ্নকে আপনাকেই বাস্তবায়িত করতে হবে৷

আগের বছরটা ভালো-মন্দ যেমনই কেটে থাকুক না কেন, মনে মনে আনকোরা বছরটার জন্য ডুজ অ্যান্ড ডোন্টস-এর তালিকা তৈরি করে নিন। পুরোনো বছর থেকে যা কিছু শিখেছেন, সেই অভিজ্ঞতাকেই নতুন বছরে পাথেয় করুন। গত বছর যে-ভুলগুলো করেছেন এবং তার জন্য মাশুল দিয়েছেন, তাকে পুরোনো বছরের গণ্ডিতেই রেখে দেওয়া ভালো।

কী করবেন তার চেকলিস্ট

New year resolutions করতে হলে, প্রথমেই নেতিবাচক ভাবনাগুলো থেকে বেরিয়ে আসুন। আগামী দিনগুলিতে কী করবেন তার একটা তালিকা তৈরি করুন। কোভিড আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে, জীবনের আসলে কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাই চেষ্টা করুন এক এক করে নিজের উইশ লিস্ট পূরণ করতে। যা কখনও করবেন বলে ভেবেছেন কিন্তু করা হয়ে ওঠেনি এবার সেই তালিকা তৈরি করুন। এক এক করে ইচ্ছাগুলো পূরণ করুন আর টিক দিন। এই ১০-টি কাজ করতে পারেন প্রাথমিক ভাবে।

হয়তো ভেবেছিলেন লেখিকা হবেন, কলেজে থাকতে ওয়াল ম্যাগাজিন আর লিটল ম্যাগাজিন করতেন। সংসারের চাপে সে সব চুকেবুকে গেছে। কুছ পরোয়া নেই। বহু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তথা পত্রিকা আছে। লেখা পাঠান। লেখায় নিজের নাম দেখে আপনি নতুন করে বাঁচার উৎসাহ পাবেন।

  • স্পোকেন ইংলিশ-টা শিখব শিখব করে আর শেখাই হয়নি? মেয়ের মুখে খই ফুটছে দেখে আপনি হীন্মন্যতায় ভুগছেন? চিন্তা কী? অনলাইনে ভর্তি হয়ে যান ইংরেজি শেখার ক্লাসে।
  • ফোটোগ্রাফির শখ অথচ সাহস করে ছবি তুলতে পারেননি? বাড়ির কাছেই কোনও সংস্থা থাকলে ভর্তি হয়ে যান। ক্যামেরা কাঁধে বেরিয়ে পড়ুন হাতে-কলমে শেখার জন্য।
  • গানের গলাটা একসময় মন্দ ছিল না। অথচ হারমোনিয়ামে এখন ধুলো পড়ছে? আবার শুরু করুন। স্টারমেকার-এর মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বা ইউটিউবে গান ফ্লোট করুন নিজের। আপনার মতো অনেকেই সেখানে শিল্পী হিসেবে নিজের প্রতিভা তুলে ধরছেন।
  • সেলাই আর হাতের কাজে আপনি দক্ষ? তাহলে নিজের বুটিক-টা এবার খুলেই ফেলুন। না না, কোনও দোকান বা শোরুম-এর দরকার নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজে অর্ডার নিন আর কুরিয়ারে ডেলিভারি করুন।
  • অন্তেপ্রেনিয়োর হওয়ার ইচ্ছে ছিল, সে আশা পূরণ হয়নি? চিন্তা কী! বাড়িতেই শুরু করুন বেকিং ক্লাস বা জ্যাম-জেলি-আচার তৈরির ছোটো উদ্যোগ। কয়েক মাসের মধ্যেই চেনা সার্কেল ছাপিয়ে আপনার নাম আরও অনেকেই জেনে যাবে।
  • বেড়ানোর শখ অথচ সাহস করে সোলো ট্রিপ-এ যাওয়া হয়নি? আজকাল অনেকেই কিন্তু যাচ্ছে সোলো ট্রিপ-এ। একান্ত সাহস না পেলে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই কোনও ফিমেল গ্রুপের সঙ্গে বেরিয়ে পড়ুন।
  • বাগান করার শখ অথচ এবার এর মাধ্যমে আয় করতে চান? অবশ্যই সম্ভব। চারাগাছ বিক্রি শুরু করুন সুন্দর টবে করে। বাড়ি থেকেই দিব্যি এই ব্যাবসা চালাতে পারেন।
  • আপনার রান্নার সুখ্যাতি করে আত্মীয়-বন্ধুরা? ছোটো ছোটো অর্ডার নেওয়া শুরু করুন। কিছুদিনের মধ্যেই আপনি হোম ডেলিভারি খুলে ফেলতে পারবেন। আর্থিক স্বাবলম্বিতা আপনাকে অন্যরকম জোর দেবে।
  • আর্তের সেবায় নিজেকে নিয়োগ করতে চান? দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে শুরু করুন সোশ্যাল ওয়ার্ক। বহু অনাথ আশ্রম বা বৃদ্ধাশ্রম আছে, সেখানে কেয়ার গিভার হিসাবে যুক্ত হোন। পরার্থে জীবনের মূল্যবান সময় ব্যয় করার মতো আনন্দ আর কিছুতে নেই।

Junk food-এ রেস্ট্রিকশন রাখুন

আমরা খিদে পেলেই স্বাস্থ্যকর খাবারের বদলে অস্বাস্থ্যকর জাঙ্ক ফুডের দিকে রোজ হাত বাড়াই। এটাই ডেকে আনে সর্বনাশ। তার মূল কারণটা কী, জানেন?  অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আসক্তির দু’টি কারণ আছে৷ প্রথমটির মধ্যে পড়ে খাবারটির স্বাদ, গন্ধ এবং তা মুখে পোরার পর মুখ গহ্বরের অনুভূতি৷ এই শেষের বিষয়টির পোশাকি নাম হচ্ছে ‘ওরোসেনসেশন’ — জাঙ্ক ফুড ভালো লাগার মূল কারণ হচ্ছে এটিই৷

কোনও সুস্বাদু খাবার বা পানীয় যখন আমরা খাই, তখন সুখের অনুভূতিটা মুখ থেকে মনে যাতে সঞ্চার হয়, সেটা খেয়াল রাখে আমাদের মস্তিষ্ক৷ জাঙ্ক ফুড মস্তিষ্কে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে, সেই কারণেই আমরা মাঝে মাঝেই এই ধরনের খাবার খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা অনুভব করি৷

আর দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান৷ সব খাবারেই প্রোটিন, ফ্যাট আর কার্বোহাইড্রেট থাকে। কিন্তু জাঙ্ক ফুড প্রস্তুতকারকরা খাবারে নুন, মিষ্টি আর ফ্যাটের মাত্রাটা এমনই রাখেন যে তা বারবার খাবার ইচ্ছে হয়৷

নতুন বছরে Resolution নিন,রাশ টানবেন এই ইচ্ছেতে। সুস্বাস্থ্যের এটাই সিক্রেট। কিন্তু তার জন্য কয়েকটি বিশেষ পথ অবলম্বন করতে হবে, নাহলে নিজেকে থামিয়ে রাখা যাবে না। আসুন দেখে নেওয়া যাক।

চোখের সামনে অস্বাস্থ্যকর খাবার রাখবেন না

ফ্রিজে বা রান্নাঘরে অস্বাস্থ্যকর খাবার থাকলেও একেবারে পিছনের তাকে রাখুন৷ সামনে রাখুন স্বাস্থ্যকর খাবার৷ খিদের সময় যেন জাঙ্ক ফুড চট করে চোখে না পড়ে৷

প্রসেসড ফুড কিনবেন না

প্রসেসড ফুড একবার খাওয়া ধরলে কিন্তু নেশা লেগে যেতে পারে, তাই যতদিন সম্ভব তা থেকে দূরে থাকুন৷ বাচ্চাদেরও হতে আসক্ত হতে দেবেন না।

আসক্তির সময়কাল

যে -কোনও অভ্যেসে আসক্ত হয়ে পড়তে অন্তত ২১ দিন সময় লাগে, নেশা কাটাতেও ন্যূনতম অতগুলি দিনই প্রয়োজন হয়৷ জাঙ্ক ফুডে যাঁরা আসক্ত, তাঁরা অন্ততপক্ষে ২১ দিন স্বাস্থ্যকর খাবার খান, তা হলে হয়তো নেশাটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন!

খাবারের পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ আনুন

পুষ্টিবিদের সঙ্গে কথা বলে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় আহার করুন৷ পছন্দের খাবারও খেতে পারেন, তবে পরিমাণটা নির্ধারিত হওয়া উচিত৷

টিভির সামনে বসে খাবেন না

টিভি দেখতে দেখতে খেলে কোনওভাবেই খাবারের পরিমাণের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন না৷

ভরা পেটে বাজার করতে যান

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভরা পেটে বাজার-দোকান করতে গেলে আমরা সাধারণত অস্বাস্থ্যকর খাবার কিনি না৷ হাতের কাছে জাঙ্ক ফুড না থাকলে খেতেও পারবেন না!তাই কেনা থেকে বিরত থাকুন।

শিশুকন্যার উপর যৌন নির্যাতন করছে তার কাকা

আমি খুব সমস্যায় পড়ে আজ এই কথা আপনাদের জানাচ্ছি৷ আমার স্বামী অল্প বয়সে মারা যাওয়ার পরও আমি শ্বশুর বাড়িতেই থাকি৷ যৌথ পরিবার আমাদের৷ আমি উপার্জন করি না৷ আমার মেয়ের বয়স দশ৷ আমার মা-বাবা না থাকায়, স্বামীর মৃত্যুর পর মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই রয়ে গেছি৷ একদিন মেয়ে আমায় বলল ওর কাকা ওর সাথে খুব খারাপ কাজ করেছে। আমি খুব অবাক হয়ে জানতে চাইলাম, তোমাকে কি উনি মেরেছেন নাকি বকেছেন? এর উত্তরে ও যা বলল, তা শুনে সত্যিকথা বলতে অবাক না হয়ে পারিনি। ও বলেছিল, ওর কাকা নাকি ওকে  দিয়ে নানা ভাবে তার যৌনঅঙ্গগুলি স্পর্শ করতে বাধ্য করে৷ এই কথাটি  কাউকে বলতে পারিনি। শুধু নোংরা ব্যাপারটা বুঝতে পেরে, ঘৃণায় গা গুলিয়ে উঠেছিল।

দিনের পর দিন চলছে এই অত্যাচার।আমি বাড়ি থেকে বেরোলেই, মেয়েকে তার ঘরে ডেকে নিয়ে যান ওর কাকা এবং খারাপ কাজে লিপ্ত করান৷ আমি কীভাবে এর প্রতিবাদ করব বুঝতে পারছি না৷ আমায় ওরা বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলে কোথায় যাব, ভেবে পিছিয়ে আসি৷

 

এরকম বাজে অভিজ্ঞতা আমাদের অনেকেরই হয়েছে, কিন্তু সমাজ, সংসার ও নিজের সম্মানের কথা বিবেচনা করে আমরা কেউ মুখ খুলি না । আর মুখ খুলি না বলে অপরাধ ও অপরাধীরা দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন একটি লুকিয়ে রাখা সমস্যা। কারণ এখানে এসব নিয়ে চুপচাপ থাকার একটি সংস্কৃতি রয়েছে। কিন্তু মা হিয়েবে আপনার উচিত এই ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা। অভিযুক্ত, পরিবারের সদস্য হলেও।

শিশুদেরও সেফ টাচ আর আনসেফ টাচ সম্পর্কে চেনান। আগে এটিকে গুড টাচ, ব্যাট টাচ বলা হত। কিন্তু এর সঙ্গে একটা নৈতিকতা জড়িয়ে থাকত। যার জেরে তারা অনেক সময় নির্যাতন নিয়ে অভিযোগ জানাতেন না।

সবথেকে বড়ো কথা ওই তথাকথিত পরিবারের সম্মানের তুলনায় শিশুর সুরক্ষার উপর জোর দিন। এ ব্যাপারে পরিবারের গুরুজনদের সাহায্য নিতে হবে৷ এই ধরনের নির্যাতন হলে তা আপনার কন্যার মনে সারা জীবনের মতো একটি ভীতির সঞ্চার করবে। পরিবারের সদস্য হলেও তার এই অপরাধ প্রবণতার কথা পরিবারের বাকিদের জানাতে হবে।

যদি তাতেও দেখেন সমাধান হল না, বহু এনজিও এখন এই ধরনের ইসুতে কাজ করছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন৷ পুলিশের হেল্পলাইন নম্বরেও যোগাযোগ করতে পারেন৷

তবে বিষয়টি আর বাড়তে দেবেন না৷ এতে আপনার ও আপনার মেয়ের, উভয়েরই জীবন নষ্ট হচ্ছে৷ দোষীকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া দরকার, না হলে নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়বে৷ আপনারা দুর্বল ভেবে সে আরও পেয়ে বসবে৷

সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-২১

অসম্ভব উল্লাসে কস্তুরীকে পিষে ফেলা হচ্ছে। ডানপায়ে যে অংশটা একটু আগে কাচে বিঁধে গেছিল সেটাও একটু একটু করে অবশ হয়ে যাচ্ছে। কেউ কি নেই ওকে উদ্ধার করে? ধারালো দাঁত দিয়ে টেনে ছিঁড়ে খাচ্ছে কস্তুরীর বুকের পেলব নরম মাংস।

হা ঈশ্বর! কস্তুরী ওর শেষ অস্ত্র দুহাত দিয়ে শয়তানটার মাথায় মুখে নখের আঁচড় দিয়ে চলেছে। কিন্তু কেন? কেন সরাতে পারছে না দানবটাকে? কেন আগেই কস্তুরী এখান থেকে চলে গেল না? মনে হচ্ছে অবশ পায়ের পাতার কাছটাতে গলগল করে কিছু একটা বেরিয়ে যাচ্ছে…। রক্ত। রক্ত বেরিয়ে যাচ্ছে কাটা অংশটা দিয়ে।

লোকটার হাত ক্রমশ কস্তুরীর শরীরটাকে ঘেঁটে চলেছে, ছিঁড়ে চলেছে। পৈশাচিক টানাহেঁচড়ার মধ্যে সজোরে হ্যাঁচকা একটা টান দিয়ে প্যান্টের দড়িটা খুলে দেয় লোকটা। কস্তুরী চিত্কার করছে। কিন্তু ওর চিত্কার অস্পষ্ট গোঙানি হয়ে ঘরের মধ্যেই ঘুরছে। বাইরের পৃথিবীর কাছে পৌঁছোচ্ছে না।

একটা কঠিন অংশ কোনও বাধা না পেয়ে ওর শরীরের নরম অংশে আঘাত করতে করতে ঢুকে যাচ্ছে। বারবার ঢুকে যাচ্ছে।

কস্তুরীর মাথাটা অদ্ভূত ভাবে হেলে আছে। বুজে আসা চোখের কোণায় জড়ো হয়ে আছে একতাল শুকনো জল।

( ৯ )

চোখের কোণের জলের দাগগুলো মুছে কস্তুরী বলে, ও তো আমাকে জানাতে পারত? আপনাকে জানাল আর আমাকে…।

তমালের হয়তো বাধোবাধো ঠেকেছে। আর তাছাড়া বাড়িতেও তোমাকে নিয়ে অশান্তি তো কম হয় না…। শৈবালের কথাগুলো কানে আসছিল কিন্তু কোনও কিছুরই স্পষ্ট করে মানে খুঁজে পাচ্ছিল না কস্তুরী।

কে তমালের মনে বিষ ঢোকাচ্ছে। কে হতে পারে? ফেসবুকে তমালকে খুঁজে বের করেছে। কস্তুরী যে তমালের স্ত্রী সেই বা কী করে জানবে। পায়েলের সঙ্গেও তো বহু বছর আর যোগাযোগ নেই। কস্তুরীর বিয়েতেও ওর দিদি আসেনি। তাই সেদিক থেকেও যে-কোনও খারাপ ইঙ্গিত আসবে এমনটাও তো মনে আসছে না। তবে?

স্ট্রেঞ্জ!

কিন্তু কস্তুরীকে এত নিখুঁত ভাবে কে চেনে? শৈবালের মুখে নিজের শরীরের এতটা ডিটেইল শুনতে শুনতে মানসিক লজ্জা, যন্ত্রণায় মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছিল কস্তুরীর। তমালকে কেউ এসব কথা খুঁটিয়ে ফেসবুক মেসেঞ্জারে জানিয়েছে। আর তমাল বলেছে শৈবালকে। কীভাবে পারল তমাল একটা বাইরের লোককে…?

তমাল এখন গুমরে থাকে মনের মধ্যে। দশটা কথা বললে বড়ো জোর একটা কথার উত্তর দেয়। ওর মনের তল পাওয়া বড়োই কঠিন। তবে ইদানীং যে আরও কম কথা বলছে সেটা ও লক্ষ করেছে। এর পেছনে যে এই নির্দিষ্ট কারণটা আছে তা তো জানত না তখন।

কী হল কী ভাবছ? হঠাৎই বিপরীত দিকের চেয়ার থেকে হাত বাড়িয়ে কস্তুরীর আঙুলটা ছুঁয়ে বলে শৈবাল।

না ভাবছি না কিছু…। হাত সরিয়ে নেয় কস্তুরী।

ভাবছ তো নিশ্চয়ই। তোমার চোখ দেখে বোঝা যাচ্ছে। টেনশন কোরো না। ভেবে আর কী করবে বলো? আমি একটা না একটা উপায় ঠিক বের করে দেব। যদিও আমি বাইরের লোক। আমার মতামত তুমি নাও নিতে পারো। কিছুটা অভিমানের সুরে বলে শৈবাল।

তা ঠিক নয়, আসলে…।

আসলে আমাকে ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারো না তাই তো…? নিজের চেয়ার থেকে উঠে সোজা একেবারে ঘেঁষাঘেঁষি চেয়ারে এসে বসে শৈবাল।

তোমাকে একটা কথা বলব? সরাসরি প্রশ্ন করে।

বলুন…। আমরা কথা বলছি প্রায় এক ঘন্টারও বেশি হয়ে গেল। এবার আমি উঠব। কস্তুরী ব্যাগ কাঁধে উঠে দাঁড়ায়।

শৈবালের তাকানোটা কেমন অন্যরকম লাগছে। অস্বস্তি অনুভব করছে।

হুম আমারও মিটিংটা অ্যাটেন্ড করতে হবে। জাস্ট ওয়ান মিনিট প্লিজ। যে কথাটা বলছিলাম। তোমাকে আজকে অসম্ভব সুন্দর দেখাচ্ছে। তোমার ওই চোখদুটো…। তুমি কি করে জানলে আমার ফেভারিট কালার কমলা। তোমার শাড়ির রংটাও হুবহু। ঠিক যেন… ঠিক… তোমাকে শাড়ি পড়লে অদ্ভুত মায়াময় লাগে। তবে কস্তুরী আমি বুঝতে পারি তুমি মনে মনে খুব কষ্টে আছ। এত কষ্ট নিজের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছ কেন বলো তো? মন খুলে বাঁচো। এই পৃথিবীতে কেউ তোমার জন্য কিচ্ছু করবে না। তাই কারুর জন্য নিজের ভালোলাগাগুলোকে এভাবে বাদ দিও না। প্লিজ! আমার খারাপ লাগবে। আচ্ছা একটা জব তো অন্তত জয়েন করতে পারো, ঘরে বসে বোর না হয়ে আর তমালেরও খানিকটা হেল্প হবে। ভেবে দেখতে পারো।

চার সুপারস্টারের ‘বাপ’ আসছে নতুন বছরে

আশির দশকের চারজন সুপারস্টার অভিনেতা আগামি বছরেই একসঙ্গে বড়োপর্দায় অ্যাকশনের ঝড় তুলতে আসছেন৷ বড়োপর্দায় Mithun Chakraborty, Jackie Shroff, Sunny Deol, Sanjay Dutt  যদি একই ছবিতে অভিনয় করেন, তাহলে তো সেটাকে ঝড়ের সঙ্গেই তুলনা করা চলে৷  ছবির নাম ‘বাপ’! ছবির পরিচালক বিবেক চৌহান। ছবিটি প্রযোজনা করছে জি স্টুডিও এবং আহমেদ খান।

এঁরা প্রত্যেকেই ৮০-৯০ দশকের সেরা অ্যাকশন হিরো ছিলেন। খবর অনুযায়ী, এই ছবি একেবারেই অ্যাকশনে ভরপুর হতে চলেছে। ‘Baap’ ছবিতে পরিচালক মূলত এই অভিনেতাদের ইমেজের কথা মাথায় রেখেই, অ্যাকশন ছবিতে অভিনয় করতে রাজি করিয়েছেন।

এর আগে বলিউডের এই চারমূর্তিকে এক সিনেমায় একসঙ্গে দেখা না গেলেও, আলাদা আলাদা তাঁরা জুটি বেঁধেছেন। যেমন, ‘যোদ্ধা’ ছবিতে সঞ্জয় দত্ত ও সানি দেওল, জ্যাকি ও সঞ্জয় ‘খলনায়ক’ ছবিতে। সানি ও জ্যাকিকে দেখা গিয়েছিল ‘বর্ডার’ ও ‘ত্রিদেব’ ছবিতে। একসঙ্গে ছবি করেছেন সানি ও মিঠুনও। খবর অনুযায়ী, ছবির কনসেপ্ট শুনে নাকি একবারেই রাজি হয়ে যান এই চার তারকা। এই ছবির অ্যাকশনের জন্য নাকি বিদেশ থেকে আনা হয়েছে অ্যাকশন ডিরেক্টরকে।রাফ অ্যান্ড টাফ গ্যাংস্টারের লুকে তাঁরা দর্শকদের অফুরীন ভালোবাসা পাবেন, এমনই বিশ্বাস প্রযোজনা সংস্থার।

মাস খানেক আগেই জ্যাকি শ্রফ তাঁর ছবির ফার্স্ট লুক টুইটার এবং ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন। এবং সেখানে লেখেন, ‘শ্যুট, মজা, বন্ধুত্ব অনাবিল।’ এই ছবিতে দেখা যায় চার অভিনেতা সিঁড়িতে বসে আছেন ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে।

জ্যাকি শ্রফ পরে আছেন তাঁর সিগনেচার স্টাইলের মিলিটারি প্রিন্টের জ্যাকেট সঙ্গে আন্ডার শার্ট। কপালে একটি ফেট্টি বাঁধা তাঁর। যেমনটা তাঁকে তাঁর অল্প বয়সের ছবিতে দর্শক দেখেছে। অন্যদিকে সঞ্জয় দত্ত পরেছিলেন একটি লেদার জ্যাকেট সঙ্গে গোটি। তাঁর এই ছবির হেয়ার স্টাইল দর্শকদের মনে করিয়ে দেবে তাঁর প্রাক ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়ার ছবির কথা। সানি দেওল পরেছিলেন খাকি রঙের একটি পোশাক, অনেকটা আমেরিকান কয়েদিদের পোশাকের মতো। সঙ্গে লম্বা চুল, দাড়ি। তাঁর এই লুক অনেকটা তাঁর জিৎ ছবির লুকের মতো হয়েছে। মিঠুন চক্রবর্তীর পরনে দেখা গেছে আর্মি টুপি, যার জন্য তিনি একটা সময় চর্চিত ছিলেন। এছাড়া তিনি একটা লেদার জ্যাকেট এবং ডেনিম পরে রয়েছেন।

বলিউডে বর্তমানে চুটিয়ে কাজ করছেন বক্সঅফিসে ঝড় তুলে দেওয়া এই চার সুপারস্টার।বর্তমানে কম ছবিতে অভিনয় করলেও সম্প্রতি দ্য কাশ্মীর ফাইলস ছবিতে নজর কেড়েছিলেন ডিস্কো ড্যান্সার খ্যাত মিঠুনের অভিনয়। থ্রিলার ফিল্ম চুপ-এ সম্প্রতি অভিনয় করেছেন সানি দেওল।এবং ক্যাটরিনা কাইফ অভিনীত ফোন ভূত-এ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গিয়েছে জ্যাকি শ্রফকে। আর বর্তমানে বলিউড ফিল্মে ভিলেনের প্রসঙ্গ উঠলে একজনের নামই উঠে আসে তিনি সঞ্জুবাবা। কেজিএফ ২ থেকে সামশেরা নেগেটিভ চরিত্রে তিনি যে সেরা, সেটা কিন্তু প্রমাণ করে দিয়েছেন মুন্নাভাই।

চার অভিনেতার Action packed film ‘বাপ’ দেখে দর্শকরা কী বলেন, এখন সেটা দেখারই অপেক্ষা৷

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব