শীতকালে অ্যালার্জি-র সমস্যা এবং সঠিক চিকিৎসা

শারীরিক সৌন্দর্য সম্পূর্ণ করে ত্বকের লাবণ্য। তাই, ত্বকের লাবণ্যকে ধরে রাখা জরুরি। কিন্তু ত্বকের লাবণ্য নষ্ট করে অ্যালার্জি। আর এই অ্যালার্জির প্রকোপ বৃদ্ধি পায় শীতকালে। শীতের শুষ্ক হাওয়া, হাওয়ায় ভেসে থাকা জীবাণু, ত্বকের ক্ষতি করে। শুধু তাই নয়, খাদ্য, পানীয়, ওষুধ, এমনকী পরনের বস্ত্র থেকেও হতে পারে অ্যালার্জি। অতএব, অ্যালার্জি থেকে রেহাই পেতে হবে। কারণ, ত্বকের লাবণ্য নষ্ট করার পাশাপাশি, অ্যালার্জি আপনাকে শারীরিক কষ্ট দেবে, আর্থিক ক্ষতির শিকার হবেন এবং ঘরে-বাইরে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।

অনেকসময় দেখা যায়, সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করার ফলে, সাধারণ অ্যালার্জি থেকেও বড়ো ধরনের রোগে আক্রান্ত হন রোগী। অ্যালার্জি সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যা এবং সমাধানের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলেন কনসালটেন্ট ডার্মাটোলজিস্ট অ্যান্ড কসমেটোলজিস্ট ডা. শ্রাবণী ঘোষ জোহা।

অ্যালার্জি কী?

অ্যালার্জি বলতে চিকিৎসা পরিভাষায় আমরা বুঝি আমাদের “ইমিউন সিস্টেম’ বা ‘প্রতিরোধ শক্তি’র অত্যধিক সংবেদনশীলতা। অ্যালার্জি’র বহিঃপ্রকাশ নানা ভাবে হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ‘হে ফিভার’। এই হে ফিভার বলতে আমরা বুঝি সিজন চেঞ্জ-এর সময় যখন চোখ চুলকায়, লাল হয়, নাক দিয়ে জল পড়ে এই বিশেষ উপসর্গগুলি। শ্বাসনালির অ্যালার্জি-কে অ্যাস্থমা বলে। আর এই অ্যাস্থমা হয় শ্বাসনালিতে ধুলো ঢুকলে। এছাড়া, হয় ত্বকের অ্যালার্জি। যাদের অ্যালার্জির ধাত আছে, তাদের নানারকম খাবার ওষুধ (অ্যাসপিরিন, অ্যান্টিবায়োটিক) প্রভৃতি অ্যালার্জি বাড়িয়ে দেয়। এর জন্য সাবধান হতে হবে।

সাধারণ ভাবে চামড়াতে যে-কোনও র‍্যাশ বেরোলেই সবাই অ্যালার্জি বলে থাকেন। এটা ঠিক নয়। অ্যালার্জি জনিত যেসব চামড়ার অসুখ আছে, সেগুলি চিকিৎসার মাধ্যমে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

অ্যালার্জি কেন হয়?

এই প্রবণতা সাধারণত আমাদের রক্তে থাকে। পরিবেশ দূষণজনিত কারণে অনেক ক্ষেত্রে এর বহিঃপ্রকাশ হয়। নানাধরনের অ্যালার্জি চামড়াতে আমরা দেখি। প্রথমেই বলি আমবাতের কথা। এক্ষেত্রে চামড়া চুলকে লাল হয়ে ফুলে ওঠে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ১ থেকে ৪ ঘণ্টা বাদে মিলিয়ে যায়। একে আমরা আরটিক্যারিয়া বলি। হঠাৎ করে এ ধরনের লক্ষণ দেখা গেলে, ওষুধ কিংবা খাবার জিনিসের কথা ভেবে দেখতে হবে। এই আমবাত আবার কখনও ঠান্ডা হাওয়া, পরিশ্রম, রোদ, লোকালাইজড প্রেসার ইত্যাদি কারণেও হতে পারে।

অ্যালার্জির প্রকার ভেদ

এছাড়া আরও নানাধরনের অ্যালার্জি দেখা যায়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস আমরা খুব দেখি। এ ধরনের বাচ্চাদের ত্বক খুব শুষ্ক হয়। খুব সহজেই এদের ডার্মাটাইটিস বা একজিমা শুরু হয়ে যায়। বাচ্চাদের চামড়ায় যদি বার বার একজিমা হয়, অবশ্যই ডার্মাটোলজিস্ট-কে দেখাবেন। একটা কথা খুব চালু আছে— ত্বকের অ্যালার্জি ঠিক হলে শ্বাসকষ্ট বা অ্যাস্থমা বাড়ে। এটা একেবারে ভুল কথা। ত্বকের অ্যালার্জি ও অ্যাস্থমা একই কারণে হয়। ত্বক সংবেদনশীল (হাইপার সেন্সেটিভ) হলে স্কিন অ্যালার্জি, শ্বাসনালি সংবেদনশীল হলে অ্যাস্থমা হয়। দুটো রোগ একসঙ্গে থাকতেই পারে। কোনও একটার বহিঃপ্রকাশ আগে হয়। তার মানে কারও একজিমা-র লক্ষণ আগে দেখা যায়, কারও অ্যাস্থমা আগে দেখা যায়। ত্বকের চিকিৎসার জন্য অ্যাস্থমা তৈরি হতে পারে না।

প্রতিকার কী

যদি আমবাতের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হয়, ঠোঁট ফুলে যায়, অবশ্যই তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ, এইক্ষেত্রে শ্বাসনালির পর্দা ফুলে শ্বাসরোধ করতে পারে। যাদের এ ধরনের অসুবিধা হয়, সবথেকে আগে একটা অ্যান্টি হিস্টামিন ট্যাবলেট জিভের তলায় রাখতে হবে। হাসপাতালে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যেতে হবে।

এবার আসা যাক একজিমা প্রসঙ্গে। শরীরের যে-কোনও অংশে হতে পারে একজিমা। এক্ষেত্রে চুলকে চুলকে ত্বক মোটা হয়ে যায়, কখনও তরল নির্গত হয়, তাকে আমরা সাধারণ ভাবে একজিমা বলে থাকি। সবরকম একজিমা সঠিক চিকিৎসার দ্বারা কম করা সম্ভব।

এ ছাড়া হয় কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস। এই ধরনের অ্যালার্জি হয় কোনও কিছু গায়ে লাগলে। অর্থাৎ এই ধরনের রোগের ক্ষেত্রে ত্বকে কিছু লাগলে, সঙ্গে সঙ্গে অসুবিধা হতে পারে, কিংবা কয়েকদিন পরেও সমস্যা শুরু হতে পারে। যেমন, বিছুটিপাতা লাগলে সঙ্গে সঙ্গে চামড়া চুলকোতে থাকে, একথা সবাই জানেন। আবার অনেকেই দেখেছেন, কৃত্রিম (ইমিটেশন) গয়না পরলে অসুবিধা হয়। প্রধানত, নিকেল থেকে অ্যালার্জি হয়। এই ক্ষেত্রে যে জিনিসের থেকে অ্যালার্জি হচ্ছে, সেটা বাদ দিতে হবে।

অনেক সময় নানা ধরনের কসমেটিক্স লাগালে ত্বক জ্বালা করে, ফুলে যায়। সেক্ষেত্রে কোনও একটা কেমিক্যাল ত্বক সহ্য করতে পারে না, তাই অসুবিধা হয়। আবার দেখা যায়, কিছু কিছু ত্বক এত সেন্সিটিভ, সবরকম জিনিসে অসুবিধা হয়। সেক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কসমেটিক্স ব্যবহার করবেন। যাদের সেন্সিটিভ স্কিন তাদের বিভিন্ন রকম প্রোডাক্ট নিয়ে পরীক্ষা না করাই বাঞ্ছনীয়।

অনেক গৃহবধূ দেখে থাকবেন, হাতের চামড়া উঠছে, একজিমার মতো হচ্ছে— এটাও এক ধরনের অ্যালার্জি। নানা ধরনের ক্ষার জাতীয় সাবান, সবজির রস, বাসনমাজা, ফুল তোলা ইত্যাদি কারণে এগুলি বেড়ে যায়। অবশ্যই দস্তানা ব্যবহার করতে হবে। কারণ, এই জিনিসগুলি হাতে লাগলে বারবার অসুবিধা হতে পারে। এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, হেয়ার ডাই ব্যবহার করে অনেকেরই খুব অসুবিধা হয়। এটাও এক ধরনের কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস, সেক্ষেত্রে ডাই একেবারে ব্যবহার না করাই উচিত। হেয়ার ডাই শুধু মাথায় অ্যালার্জি তৈরি করে তা নয়, শরীরের বিভিন্ন জায়াগায়ও হতে পারে। যাদের ডাই অ্যালার্জি আছে তাদের মাথায় রং না করাই ভালো।

অনেকসময় নানা ধরনের ওষুধ থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। নতুন ওষুধ খেতে খেতে বা বন্ধ হলে কারও যদি র‍্যাশ হয়, অবশ্যই ডাক্তার দেখাবেন। ড্রাগ অ্যালার্জি কখনও কখনও খুব ভয়ংকর আকার ধারণ করে। এতটাই ভয়াবহ হতে পারে যে, সমস্ত শরীরে চামড়া আলগা হয়ে যেতে পারে। আমরা একে টক্সিক এপিডার্মাল নিউরোলিসিস বলি। রীতিমতো জীবন-মরণ সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে মৃগীরোগের ওষুধ, ইউরিক অ্যাসিডের ওষুধ, পেনকিলার, অ্যান্টিবাইওটিক্স- – এসব ওষুধে যদি সমাধান না হয়, তখনই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। তার মানে কিন্তু এই নয় যে, সবারই এই অসুবিধা হবে। কারও কারও সিস্টেম এমন হয়, যাদের সব ওষুধ সহ্য হয় না। এটা আগে থেকে বোঝারও কোনও উপায় নেই। তাই, সাবধান থাকাই ভালো। যদি কোনও অ্যালার্জি হয়, চিকিৎসককে অবশ্যই জানাবেন।

অ্যালার্জি হলেই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। যদি শ্বাসকষ্ট হয়, খুব বেশি অ্যালার্জি হয়, তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। একবার কারণ বুঝতে পারলে, তখনই প্রয়োজনমতো ব্যবস্থা নিন।

দর্শকদের বোকা বানানোর চেষ্টা চলছে

কিছু টিভি চ্যানেল যেভাবে ছোটো ছোটো বিষয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন নিজে দক্ষিণ আফ্রিকা-র নামিবিয়া থেকে প্রথমে ৮-টি এবং তারপর ১২-টি চিতাবাঘ এনে মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় অভয়ারণ্যে ছেড়ে দিয়েছিলেন, তখন তা নিয়ে হইহই হয়েছিল। এই ধরনের কাজ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিল না কিন্তু তা-ও তিনি করেছেন প্রচারের আলোয় আসার জন্য।

কত চিতা বাঘ নিয়ে আসা হল, ওরা এখন কেমন আছে, বাচ্চার জন্ম দিতে পারছে কিনা— এসব এখন গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী যখন চিতাবাঘ নিয়ে এসে মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় অভয়ারণ্যে ছেড়ে দিয়েছিলেন, তখন এক ন্যাশনাল চ্যানেল কিছু দিন ‘চিতাময়ী’ হয়ে উঠেছিল হয়তো নরেন্দ্র মোদীকে খুশি করার জন্য। কিন্তু দু-বছর পর চিতা বাঘের বিষয়ে আর কোনও খবর নেই। এখন সেই ব্যাপারে মুখ খুলতেও নারাজ মধ্যপ্রদেশের ওয়াইল্ড লাইফ অফিসার। তাঁর সাফাই, জাতীয় নিরাপত্তা কিংবা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গোপনীয়তা রক্ষার কারণে তিনি চিতা বাঘের বিষয়ে জানাতে পারবেন না!

চ্যানেল যখন লাইভ টেলিকাস্ট করছিল তখন কি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় ছিল না? তখন কি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয় ছিল না? এই প্রশ্নের কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি অবশ্য।

আমাদের অভিযোগ চ্যানেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নয়, ওয়াইল্ড লাইফ অফিসারের বিরুদ্ধে নয়, আবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাজের বিরুদ্ধেও নয়, বরং আমাদের প্রশ্ন টিভি-র দর্শকদের প্রতি— কেন তারা ৮ থেকে ১০ ঘন্টা ওই ফালতু বিষয় দেখে সময় নষ্ট করলেন? কারণ, এখন আসল তথ্য যদি না পাওয়া যায়, তাহলে ওই চ্যানেল-এ চোখ রেখে সময় নষ্ট কেন?

কিছু চ্যানেল ‘ব্রেকিং নিউজ’ উল্লেখ করে ইঁদুরকে হাতি বলে দর্শকদের বোকা বানানোর চেষ্টা করে অনেক সময়। ধর্মের দোকানদাররা যেমন মিথ্যে প্রচার করে ভক্তদের বোকা বানায়, ঠিক তেমনই কিছু টিভি চ্যানেল- এও এই ধরনের মিথ্যে প্রচার চলছে। এই বিজ্ঞানের যুগেও কিছু মানুষ এখনও কেন অবিবেচক হয়ে উঠছেন কিংবা সবকিছু অন্ধের মতো বিশ্বাস করে নিচ্ছেন, তা ভাবলে অবাক হতে হয়!

রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রীরা এমন ভাব দেখান কিংবা সভা-সমিতিতে এমন বক্তব্য রাখেন, যেন আগে সবকিছু বেঠিক ছিল, এখন সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। অথচ বাস্তব এটাই যে, যার যা করার নয়, তিনি সেটাই করছেন।

কুড়ি হাজার সাতশোর জন্য (পর্ব-০২)

এরপর কেটে গেছে বেশ কিছুদিন। এই ক’দিনে এদের সভ্যতার ব্যাপারগুলো ভালো করে জেনেছে সুমন। এদের এখানে মানুষের আবির্ভাব পৃথিবীর অনেক আগে। তাই এরা এগিয়ে গেছে অনেক। এরা গাছে গাছে এদের গ্রহকে ভরিয়ে তুলে দূষণ কমিয়েছে। কল-কারখানায় ক্ষতিকারক ভোগ্যপণ্য উৎপাদন কমিয়েছে। বদলে প্রাকৃতিক শক্তি নির্ভর উৎপাদন বাড়িয়েছে। পরমাণু শক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে। এদের এখানে ইন্টারনেট বা কোনও ধরনের কৃত্রিম নেটওয়ার্কের ব্যবহার নেই। কারণ একটা সময়ে কৃত্রিম নেটওয়ার্কের ব্যবহার এখানকার মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষতি করেছিল ভীষণ ভাবে। এরা তাই মানুষের মস্তিষ্কের উপর গবেষণা করে ইলেকট্রো কেমিক্যাল সিগন্যাল বা (মানসিক) স্নায়ু তরঙ্গের মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। যা সবচেয়ে দ্রুত এবং উন্নত। গোপন রাখাও খুব সহজ। কারণ ট্র্যাক করা যায় না।

এরা আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের ক্ষতি সম্বন্ধে জেনেছে অনেক আগে। তাই এই গ্রহের কোনও দেশের সেনাবাহিনী অস্ত্র ব্যবহার করে না। বদলে যুদ্ধ হয় খালি হাতে মুখোমুখি। যুদ্ধ বাধলে দুই তরফের সেনা খালি হাতে কোনও বিরাট ময়দানে মুখোমুখি হয়। সকল সেনা প্রতিপক্ষের থেকে যে- কোনও একজনকে বেছে নেয়। চলে আমৃত্যু মল্লযুদ্ধ। এই ভাবে শেষ পর্যন্ত যাদের সব সেনা মারা যায় তারা পরাজয় বরণ করে। লোকালয়ের ভিতর কোনও আক্রমণ করা হয় না। কোনও বাড়তি প্রাণহানি হয় না। প্রথাগত যুদ্ধের ফল সবাই মেনে নেয়।

এরা পোশাক পরে না। কারণ এখানে কোনও চামড়া বা কাপড় উৎপাদন হয় না। চামড়া উৎপাদন বন্ধ হয়েছে দূষণের জন্য। আর কাপড় তৈরির মতো কোনও তন্তু এখানে জন্মায় না। কৃত্রিম ভাবে তৈরি তন্তু এরা শরীরে ব্যবহার করে না। তাই পোশাকের বদলে এদের গায়ে থাকে একটা স্বচ্ছ আলোর আস্তরণ।

এদের বক্তব্য, যা সত্যি তাকে আড়াল করে লাভ নেই। যুদ্ধের সময় সেনারা আলোর আভরণটুকুও খুলে ফেলে। সম্পূর্ণ নিরাভরণ হয়ে চলে লড়াই। কারণ ওই আলোর আভরণ যার গায়ে থাকে, তাকে কেউ ছুঁতে পারে না। ওতে থাকে এক বিশেষ লেজার প্রতিরোধক। আর লজ্জা কাকে বলে সেটা এরা বহুদিন ভুলেছে।

এত কথা সুমন শুনেছে কুড়ি হাজার সাতশো নম্বর মেয়েটার কাছ থেকে। মেয়েটা এমনিতেই আলাপ করে খুব কম। সারাদিন বাইরে থাকে। ফেরে রাতে। তখন সুমন কিছু জিজ্ঞেস করলে তার উত্তর দেয়। তার বেশি কথা বলে না। সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জোগান দেয় ও। বদলে সুমন ঘর সামলায়। এখানকার সভ্যতা মাতৃতান্ত্রিক। এখানে প্রশাসন থেকে শুরু করে অফিস, আদালত, শিল্প এমনকী মিলিটারি পর্যন্ত সবকিছু চালায় মেয়েরা। পুরুষরা শুধু বাড়িতে থেকে ঘর সামলায়।

বহুযুগ আগে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারী নির্যাতনের শেষ সীমায় চলে গিয়েছিল। তখন এখানকার মেয়েরা নিজেদের জোরে আন্দোলন শুরু করে এবং ছেলেদের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেয়। এই গ্রহের মেয়েদের মধ্যে তাই পুরুষবিদ্বেষ সাঙ্ঘাতিক। তাই এত উন্নতি সত্ত্বেও এরা প্রেম ভুলেছে। ঘরে রেখে দেওয়া পুরুষ মানুষটা এদের কাছে শুধু সন্তান উৎপাদন আর ঘর সামলানোর যন্ত্র।

প্রতি রাতে একবার নিয়ম করে মিলন ছাড়া সারাদিন আর কোনও মানসিক যোগাযোগ থাকে না। সেখানেও পুরুষ মানুষটির ইচ্ছা অনিচ্ছার কোনও দাম নেই। এরপর আরও আছে। এক বছর এক সঙ্গে থাকার পর মেয়েটা চাইলে তার সঙ্গী বদল করতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘরের পুরুষ সন্তান উৎপাদনে অক্ষম হলে মেয়েরা সঙ্গী বদল করে।

কিছুদিনের মধ্যেই এই জীবনে হাঁপিয়ে উঠেছে সুমন। এখানে দূষণ নেই, ওষুধ চিকিৎসার অভাব নেই, খাওয়ার অভাব নেই। মানুষ এখানে অসুখে বা বিনা চিকিৎসায় মরে না। এখানকার আকাশে নানা ধরনের কৃত্রিম ধাতু দিয়ে তৈরি যান ওড়ে। তাতে চড়ে নিমেষে মহাশূন্য থেকে উড়ে আসা যায়। বিবিধ বিনোদনের ব্যবস্থা আছে এখানে। কিন্তু এখানে প্রেম নেই, নর-নারীর পারস্পরিক ঝগড়া, খুনসুটি, অভিমান নেই। এখানকার যান্ত্রিক যৌনতায় কোনও সুখ নেই। সভ্যতার বিপুল উন্নতি এখানকার মানুষকে কান্না ভুলিয়েছে। কান্না নেই, তাই তার উলটো পিঠে হাসিও নেই ৷

দীর্ঘকাল ঘরে আটকে থাকতে থাকতে পুরুষদের মধ্যে সৃজনশীলতা কমে যাচ্ছে, তাদের যৌন আকাঙ্খা কমছে। নিজেদের শারীরিক শক্তিকে এরা কাজে লাগাতে ভুলে গেছে। আর একটা জিনিস পাল্লা দিয়ে রয়েছে এখানে। সেটা হল পারস্পরিক ঈর্ষা।

কুড়ি হাজার সাতশোকে মনে মনে পিয়ালি বলে ডাকে সুমন। এই কিছুদিন একসঙ্গে থেকে কেমন একটা মায়া পড়ে গেছে ওর উপর। পিয়ালির মনের মধ্যে যে কিছুই নেই সেটা বেশ বোঝে সুমন। তবুও ওর মায়া পড়েছে মেয়েটার উপর। কিন্তু এই পরিবেশে আর কিছুদিন থাকলে সুমনের মৃত্যু নিশ্চিত। মানসিক অবসাদ তাকে মেরে ফেলবে। এখানে ঘরের মেয়েটি অনুমতি না দিলে পুরুষটি ঘর থেকে বেরোতে পারে না। তাও তখন মেয়েটি সঙ্গে থাকে। এককালে পুরুষেরা মেয়েদের এত ধর্ষণ করেছে যে, ক্ষমতা হস্তান্তরের পর মাতৃতান্ত্রিক প্রশাসন ওই নিয়ম করেছে।

ঘরের কাজ না থাকলে সুমন যোগাসন করে। ঘরের ভিতর যতটুকু সম্ভব, নিজের মার্শাল আর্টের বিদ্যাটাকে ঝালিয়ে নেয়। মেডিটেশন করে। একদিন পিয়ালি তাড়াতাড়ি ফিরে এসেছিল। সেদিন চুপ করে দাঁড়িয়ে ও সুমনের অনুশীলন দেখেছে। সেদিন সুমন জেনেছে পিয়ালি এখানকার মিলিটারিতে কাজ করে। ও কাজ করে মিলিটারির একেবারে ফ্রন্ট লাইনে। যুদ্ধ বাধলে যারা প্রথমে শত্রুর মুখোমুখি হয়। সুমন আরও জেনেছে পিয়ালি আসলে অনাথ। সেই জন্যই ওর ভাগ্যে এই গ্রহের কেউ জোটেনি। সুমনকে দেওয়া হয়েছে ওর জন্য। এত উন্নত হয়েও পক্ষপাতদুষ্টতা থেকে এরা মুক্ত হতে পারেনি।

রাজকীয় ভাবে নির্মিত ফিলম ‘বৃষভা’ বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে চলতি বছরেই

অ্যাকশন, আবেগ এবং রাজকীয় সাজপোশাকের মিশ্রণে নির্মিত ‘বৃষভা’ এমন এক মহাকাব্যিক সিনেমাটিক সফর, যা বাবা-ছেলের সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে কালজয়ী গল্প বলার সারাংশ তুলে ধরতে চলেছে। ছবিটি মালয়ালম এবং তেলুগুতে একই সঙ্গে চিত্রায়িত। এই দুটি ভাষা ছাড়াও, হিন্দি এবং কন্নড় ভাষায় ‘বৃষভা’-র মুক্তির পরিকল্পনা করেছেন বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন প্রযোজকরা। অতএব, প্রযোজকদের মতে, ‘বৃষভা’ ২০২৫ সালের সবচেয়ে স্মরণীয় সিনেমাটিক জার্নি হয়ে উঠতে চলেছে।

বহু প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘বৃষভা’র নির্মাতারা আনুষ্ঠানিক ভাবে চলতি বছরের (২০২৫) ২৫শে ডিসেম্বর ছবিটি বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা ঘোষণা করেছেন, যা দর্শকদের আগের মতো সিনেম্যাটিক জার্নি সাকসেস করে তুলবে বলে মনে করছেন এই সিনেমার নির্দেশক এবং নির্মাতারা।

নন্দ কিশোরের রচনা ও পরিচালনায়, ‘বৃষভা’ প্রেম, নিয়তি এবং প্রতিশোধের এক মহাকাব্যিক কাহিনি, যা পিতা ও পুত্রের মধ্যে অটুট বন্ধনকে তুলে ধরবে।

বিশাল পরিসরে নির্মিত এই ছবিটির পোস্ট-প্রোডাকশন-এ প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, অত্যাধুনিক ভিএফএক্স ব্যবহার করা হয়েছে,  যা ছবিটির মান এবং সময় উভয়কেই উপযুক্ত করে তুলেছে।  নির্মাতারা একটি যৌথ প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “আমরা মানের সঙ্গে কখনও আপস করি না। আমাদের প্রতিশ্রুতি সর্বদা দর্শকদের কাছে সর্বোত্তম সিনেম্যাটিক  অভিজ্ঞতা প্রদান করা। তাই, আমরা ২০২৫ সালের ক্রিসমাসে ছবিটি মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা সারা বিশ্বের সমস্ত ভক্ত এবং সিনেমাপ্রেমীদের জন্য একটি দুর্দান্ত ফেস্টিভ-গিফট’ হবে।”

এই ঘোষণাকে স্মরণীয় করে তুলতে, নির্মাতারা একটি আকর্ষণীয় মোশন পোস্টার উন্মোচন করেছেন, যা ২০২৫ সালের ক্রিসমাসে মুক্তির আগে আনুষ্ঠানিক প্রচারের অঙ্গ হয়ে উঠেছে।

ছবিটিতে মোহনলাল, সমরজিৎ লঙ্কেশ, রাগিণী দ্বিবেদী, নয়ন সারিকা, অজয় ​​এবং নেহা সাক্সেনার পাশাপাশি, অভিনয় করতে দেখা যাবে একদল নতুন প্রশিক্ষিত অভিনেতাকে। ‘বৃষভা’-র সংগীত পরিচালনা করেছেন স্যাম সিএস, সাউন্ড ডিজাইন করেছেন আকাদেমি পুরস্কার বিজয়ী রেসুল পুকুট্টি, সংলাপ লিখেছেন এস আর খান, জনার্দন মহর্ষি ও কার্তিক এবং অ্যাকশন কোরিওগ্রাফ করেছেন পিটার হেইন, স্টান্ট সিলভা, গণেশ এবং নিখিল।

‘কানেক্ট মিডিয়া’ এবং ‘বালাজি টেলিফিল্মস’ পরিবেশিত এবং অভিষেক এস ব্যাস স্টুডিওর সহযোগিতায়, ‘বৃষভা’ প্রযোজনা করেছেন শোভা কাপুর, একতা আর কাপুর, সিকে পদ্ম কুমার, বরুণ মাথুর, সৌরভ মিশ্র, অভিষেক এস ব্যাস, প্রবীর সিং, বিশাল গুরনানি এবং জুহি পারেখ মেহতা। সহ-প্রযোজনা করেছেন বিমল লাহোটি।

শীতকালে হজমের সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন কীভাবে?

আবার শীতকাল ফিরে এসেছে! আমাদের দেশের মতো গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশগুলিতে, স্বস্তি আনতে সাহায্য করে শীতকাল। তবে, সাম্প্রতিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের সঙ্গে আমরা যা দেখেছি, তা হল— একটি অত্যন্ত অনিয়মিত শীতকাল। শীতকালে এখন মাঝেমধ্যে বৃষ্টিপাতও দেখতে পাই, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। এর ফলে তাপমাত্রার ওঠানামা এবং ডেঙ্গু ছড়ায়। অন্যান্য সংক্রমণও বৃদ্ধি পায় এবং হজমের সমস্যা দেখা দেয়। যা আমাদের কপালে ভাঁজ ফেলে। তাই, শীতকালে স্বস্তি পেলেও, সর্বদা সতর্ক থাকা উচিত। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন কলকাতা-র মণিপাল হাসপাতালের ( সল্ট লেক স্পেশালিটি ক্লিনিক ) কনসালট্যান্ট জিআই সার্জন ডা. সঞ্জয় মণ্ডল।

শীতকালে বিয়ে এবং পিকনিকের জোয়ার চলতে থাকে। আর তাই ভারী এবং তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার হিড়িক চলে। অতএব, যা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, তা হল— ভালো খাবার মানে তেল-মশলাযুক্ত ভারী এবং  অস্বাস্থ্যকর খাবার নয়। এসব খাবার খেলে হজমের সমস্যা গুরুতর হতে পারে।

এই প্রসঙ্গে জেনে রাখুন, হঠাৎ তাপমাত্রা কমে গেলে কখনও কখনও শরীরের বিপাক ক্রিয়া হ্রাস করে এবং এর ফলে খাবার হজমে ব্যাঘাত ঘটে।

আমরা সাধারণত অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত আমিষ খাবার খেতে ভালোবাসি। তবে, শীতকালে যদি আমরা আমাদের খাদ্যাভ্যাসের প্রতি যত্নবান না হই, তাহলে আমাদের স্বাস্থ্য গভীর সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।

শীতকালে আমাদের বেশি খাওয়ার তাগিদ থাকতে পারে কিন্তু ঠান্ডা আবহাওয়া এবং বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাতের কারণে আমাদের হজমশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, তাই বদহজমের সমস্যা দেখা দেয়।

Consultant GI Surgeon Dr. Sanjoy Mandal
Consultant GI Surgeon Dr. Sanjoy Mandal

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দূষণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শীতকালে এটি আরও বেশি দেখা যাচ্ছে।  এর সঙ্গে পর্যাপ্ত সূর্যালোকের অভাব এবং পর্যাপ্ত সূর্যালোকের সংস্পর্শের থাকার অভাব ঘটে। এর ফলে আমাদের শরীরে ভিটামিন ডি সংশ্লেষণ হ্রাস পায়, যা শেষ পর্যন্ত হাড় দুর্বল করে। আবহাওয়া যত ঠান্ডা, সূর্যালোকের সংস্পর্শ তত কম। খুব চরম পরিস্থিতিতে এর জন্য অতিরিক্ত ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া, ঠান্ডা আবহাওয়ায় আমরা চা এবং কফির মতো প্রচুর গরম পানীয় পান করতে বাধ্য হই, তবে মনে রাখা উচিত যে, এগুলিতে প্রচুর ক্যালোরি থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে আমাদের জন্য ক্ষতিকারক। ক্যাপুচিনো পানীয় থেকে সাবধান থাকুন!

মনে রাখবেন, আজকাল ‘পুষ্টির অভাব’ নিয়ে খুব বেশি চিন্তা না করে বরং ‘অতিরিক্ত অস্বাস্থ্যকর খাবার’ খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়াও, ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে বাইরের কার্যকলাপ সীমিত হতে পারে এবং এর ফলে ওজন আরও বাড়তে পারে।

ঠান্ডা আবহাওয়ায় উত্তেজক পানীয় গ্রহণের অভ্যাস থাকে অনেকের।  কিন্তু অতিরিক্ত অ্যালকোহল শুধু স্বল্পমেয়াদেই নয়, দীর্ঘমেয়াদেও ক্ষতিকারক। অতিরিক্ত অ্যালকোহল স্বল্পমেয়াদে রিফ্লাক্স এসোফ্যাগাইটিস এবং গ্যাস্ট্রাইটিসের দিকে পরিচালিত করে এবং দীর্ঘমেয়াদে লিভারের সিরোসিস, হৃদরোগ, প্যানক্রিয়াটাইটিস এবং স্থূলত্বের দিকে পরিচালিত করে। তাছাড়া, নিয়মিত বেশি মাত্রায় অ্যালকোহল গ্রহণ করলে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে, এমনকি মস্তিষ্কের ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শীতকালে আমরা কম তরল পান করি, বিশেষকরে জল এবং এর ফলে ডিহাইড্রেশন হতে পারে। যার ফলে কিডনির সমস্যা, যেমন– কিডনিতে পাথর হতে পারে। ডিহাইড্রেশনের ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস এবং ফিসারের সমস্যাও বেড়ে যায়।

নিজেকে হাইড্রেটেড রাখার জন্য নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল, বিশেষকরে জল গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শীতকাল এমন একটি সময়, যখন শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকে, তাই আমাদের সঠিক যত্ন এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে, স্বাস্থ্যকর খাবারই সুস্বাস্থ্য এবং সঠিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদান করে এবং এটি রোগ এবং সংক্রমণের সম্ভাবনা কমাতে পারে।

কুড়ি হাজার সাতশোর জন্য (পর্ব-০১)

কতকাল হল আকাশের গায়ে কোনও কথা দানা বাঁধছে না। এই আবছায়া সন্ধ্যাটাকে বড়ো অপরিচিত মনে হচ্ছে সুমনের। সে এখন যেখানে বসে আছে সেখান থেকে রান্নাঘরটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। আধুনিক এই ফ্ল্যাটের রান্নাঘর দরজাবিহীন। তাই যিনি রান্না করছেন তাঁর পিছনটা পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে সুমন। ছেড়ে দেওয়া কালো চুল মহিলার কোমর পর্যন্ত নেমে এসেছে। তার সরু কোমর, গায়ের রং, ঈষৎ মেদবহুল নিটোল স্বাস্থ্য— থেকে থেকে সুমনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার ভদ্রমহিলাকে সুমন ঠিক চিনে উঠতে পারছে না। সে এখন এখানে কী করছে সেটাও সে বুঝতে পারছে না। আসল কথা সম্ভবত আকাশের গায়ে কোনও কথা দানা বাঁধছে না!

যে আরামদায়ক সোফাটায় সুমন বসেছিল, সেখান থেকে ব্যালকনিটা দেখা যায় না। সুমন সোফা ছেড়ে ব্যালকনিতে এল। এখান থেকে শহরটার বহুদূর দেখা যায়। তার মনে হল, এই শহরটাকে সে বহুবার দেখেছে। কিন্তু তবুও সে এই শহরটাকে চিনতে পারছে না। আকাশ থেকে টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। তার এক ফোঁটাও সুমনের গায়ে লাগছে না। বহুতল ফ্ল্যাটের নিরাপদ আশ্রয়ে বৃষ্টি ঢুকতে পারে না।

কয়েকদিন ধরেই কেমন একটা ঘোরের মধ্যে রয়েছে সুমন। সে বুঝতে পারছে সে আছে। কিন্তু কোথায় আছে, সেখানে সে এল কেমন করে, সেটা তার কিছুতেই মনে পড়ছে না। তার যতটুকু মনে পড়ছে শেষবার সে ছিল তার শোবার ঘরে। দেয়াল ঘড়িতে তখন সন্ধ্যা ছ’টা বেজেছিল। রিস্ট ওয়াচে তারিখ ছিল পাঁচ আগস্ট দু’হাজার তিরিশ।

ব্যালকনি থেকে আবার সোফায় ফিরে এল সুমন। আবার তার চোখ গেল রান্নাঘরের দিকে। ওখানে যে মহিলা কাজ করছিল সে ততক্ষণে সুমনের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তার হাতে একটা থালা। থালার উপর কোনও খাবার রয়েছে। এতক্ষণে মহিলাটিকে ভালো করে লক্ষ্য করল সুমন। মহিলা না বলে একে মেয়ে বলাই ভালো। খুব বেশি হলে বছর বাইশ-তেইশের হবে মেয়েটি। সে একদৃষ্টে সুমনের দিকে তাকিয়েছিল। মেয়েটি যথেষ্ট সুন্দরী। সুমন চোখ ফেরাতে পারছিল না। কিন্তু একটা ব্যাপার খেয়াল করে সুমন চমকে উঠল। মেয়েটির শরীরে কোনও পোশাক নেই। বদলে তার শরীরের উপর রয়েছে স্বচ্ছ আলোর একটা আস্তরণ। বলতে গেলে মেয়েটি সম্পূর্ণ নিরাভরণ। সুমন নিজের দিকেও এবার খেয়াল করল। ওই একইরকম আলোর আস্তরণ রয়েছে তার শরীরেও। বলতে গেলে এই মেয়েটির সামনে সুমন নিজেও সম্পূর্ণ নিরাভরণ ভাবে রয়েছে।

মেয়েটি ধীরে ধীরে সুমনের সামনে এসে দাঁড়াল। তারপর থালাটা ধরিয়ে দিল ওর হাতে। থালার উপর থকথকে সবুজ জেলির মতো কিছু একটা রয়েছে। মেয়েটি ওকে ইশারায় খেয়ে নিতে বলল। এবার সুমনের মনে হল তার খিদে পেয়েছে। অনেকটা বাঁধাকপির তরকারির মতো খেতে খাবারটা। তবে সুস্বাদু। তাড়াতাড়ি খেয়ে নিল সুমন। অনেকটা দিয়েছিল মেয়েটা। পেট ভরে গেল সুমনের। আরেকটা থালা হাতে নিয়ে সুমনের পাশে বসেই খেল মেয়েটা।

খাওয়ার পাট চুকে গেলে, নিজের শরীরের উপরের আলোর আস্তরণটা আঙুলের একটা অদ্ভুত কায়দা করে সরিয়ে দিল মেয়েটা। সম্পূর্ণ নিরাভরণ হয়ে এগিয়ে এল সুমনের দিকে। তবে ও সুমনকে স্পর্শ করল না। শুধু ওর দিকে তাকিয়ে বসে রইল। হঠাৎ সুমনের মনে হল তার কানে কানে কেউ কিছু বলছে। পরিষ্কার বাংলায়। কণ্ঠটা কোনও মহিলার।

—স্বাগতম, আপনি শুনতে পাচ্ছেন?

আশ্চর্য হলেও সুমন কথাটার উত্তর দিল।

—পাচ্ছি।

আবার ওপাশের অদৃশ্য কণ্ঠ কথা বলে উঠল, “মুখে বলার দরকার নেই। যা বলার মনে মনে বলুন। আমি সব শুনতে পাব৷’

—কীভাবে?

—কারণ আমরা কথা বলছি স্নায়ু তরঙ্গের মাধ্যমে। যেটা মূলত একটা ইলেকট্রো কেমিক্যাল ইমপালস। আমার মস্তিষ্কের নিউরো ট্রান্সমিটার থেকে সেটা বেরোচ্ছে। তারপর আপনার ঘরের ক্যাচার কাম কনভার্টার সেটাকে ক্যাচ করছে। তারপর সেটাকে এনক্রিপটেড করে বাংলায় কনভার্ট করে আপনার ব্রেনে পাঠাচ্ছে। সেটা ক্যাচ করছে আপনার রিসেপ্টর নার্ভ। আর আপনি স্পষ্ট বাংলায় আমার কথা শুনছেন। উলটো দিকে আমিও নিজের ভাষায় আপনার কথা শুনতে পাচ্ছি একই ভাবে।

—আমি কোথায়?

—আপনি এই মুহূর্তে রয়েছেন আমাদের গ্রহে। এটা আপনাদের সৌরজগৎ থেকে প্রায় দুই আলোকবর্ষ দূরে।

—এখানে আমি এলাম কী করে?

—আপনি এখানে এসেছেন ছায়াপথের মাধ্যমে। যা নিয়ে আপনার কাকা বহুদিন গবেষণা করেছেন। আরও শুনতে চান?

—নিশ্চয়ই।

—আপনার কাকার সূত্র ধরেই বলি। পৃথিবীর প্রতিটি পথ আর ছায়াপথ পাশাপাশি যায়। কিন্তু দুটোর মাত্রা আলাদা। আর সেই মাত্রা হল সময়। ছায়াপথকে সাধারণ ভাবে সময়ের মাপকাঠিতে বাঁধা যায় না। তার সময়ের মাত্রা অন্যরকম। এই সময়ের মাত্রার পার্থক্যের জন্য ছায়াপথ সবার অগোচরে থেকে যায়। কিন্তু মহাজাগতিক বিস্ফোরণের ফলে এক এক সময় তৈরি হয় ব্ল্যাক হোল। ওই ব্ল্যাক হোলের ভিতর দিয়ে ছায়াপথে আসা যায়। তবে এটা একটা দুর্ঘটনা। সেই দুর্ঘটনাই আপনার সঙ্গে ঘটেছে। আপনি ভুলবশত ব্ল্যাক হোলে পড়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ছায়াপথ ধরে আমাদের এখানে চলে এসেছেন।

—আমার কাকার কথা আপনারা জানলেন কীভাবে?

—মেন্টাল ইলেকট্রো কেমিক্যাল সিগন্যাল সিস্টেমের মাধ্যমে। এটি সবচেয়ে শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা। যাকে আপনারা মন বলেন। এর মাধ্যমে খুব দ্রুত যোগাযোগ করা যায়।

সুমনের আর কোনও কথা বলতে ইচ্ছা করছিল না। গোটা ব্যাপারটা কেমন যেন আজগুবি আর ধোঁয়াটে মনে হচ্ছিল। সে চুপ করে গেল। তাকে চুপ করে যেতে দেখে অদৃশ্য মহিলা কণ্ঠ আবার কথা বলল।

—আপনার সামনে যে মেয়েটা বসে আছে, ওর নম্বর কুড়ি হাজার সাতশো। এখানে কারও-র নাম হয় না। লটারিতে ও আপনাকে পেয়েছে। আপনার কাজ ওর সঙ্গে থাকা, ঘরের কাজ করা আর ওর সঙ্গে রতিক্রিয়া করা। আপনাদের লক্ষ্য সন্তান উৎপাদন। অদৃশ্য কণ্ঠ থেমে গেল। ঠিক তখনই আর একটি নারীকণ্ঠ কানে গেল সুমনের।

—আমি কুড়ি হাজার সাতশো বলছি। এখন আমাদের মিলনের সময়।

এরপর কিছুটা জোর করেই সুমনের সঙ্গে মিলিত হল মেয়েটি। সুমনের ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু কিছুটা বাধ্য হয়ে ওর ইচ্ছায় সায় দিতে হল। তবে ভীষণ যান্ত্রিক মিলন। তৃপ্তি পেল না সুমন। ওদিকে কুড়ি হাজার সাতশোর চোখ মুখ দেখে কিছুই বোঝা গেল না।

চিলাপাতা-র আরণ্যক গন্তব্য (শেষ পর্ব)

চিলাপাতা জঙ্গলের পাশেই আমাদের রাত্রিবাসের ঠিকানা চিলাপাতা জঙ্গল ক্যাম্প। গাছের গুড়ি দিয়ে তৈরি প্রবেশতোরণ। জায়গাটা চিলাপাতার উত্তর চকয়াখেতি এলাকায়। জঙ্গল ক্যাম্প হাউসের দোতলায় আমাদের ঘর। বিকেলে গেলাম জঙ্গল সাফারিতে। শীলতোর্সা নদীর ধারে অসাধারণ এক নজরমিনার ‘কুনকি’। আজ এখনও পর্যন্ত আমরাই এসে পৌঁছেছি। এখানে দিনেরবেলায় হাতি ঘোরাঘুরি করে। নদীর ধারে কচি ঘাস খেতে আসে হরিণের ঝাঁক। গণ্ডারও আসে, তবে চিলাপাতায় এখন গণ্ডারের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।

জনশ্রুতি, কোচবিহারের মহারাজা মৃগয়া করতে এসে একটি গণ্ডারকে মারেন, একটিকে আহত করেন। তাঁর নজরে ছিল আরও চোদ্দটি গণ্ডার। সে বহুযুগ আগের গল্প। নদীর ওপারে জলদাপাড়া অভয়ারণ্য। চিলাপাতার নজরমিনারগুলির মধ্যে এই সিসি লাইনের নজরমিনারটি নাকি সেরা। সামনের তোর্সার বালুকাবেলা ও ঘাসজমি, হাতি, গাউর, গণ্ডারদের নিরুপদ্রব বিচরণক্ষেত্র। তবে নজরমিনারের মাস্তুলে উঠেও কোনও হিংস্র জন্তু নজরে আসেনি। বিফল হয়েই নীচে নেমে আবার গাড়ির ভিতর সেঁধিয়ে যাই।

গাড়ি চলতে শুরু করে ঘন জঙ্গলের ঝোপঝাড়ের পাশ কাটিয়ে। ফিসফিসিয়ে কথা বলছি নিজেদের মধ্যে। এই প্রসঙ্গে একটা ব্যক্তিগত কথা জানানোর ইচ্ছে সামলাতে পারছি না। আজ আমাদের বিবাহবার্ষিকী। বাতাসে মাতাল করা বুনো গন্ধ, ঝিঁঝিঁ ডাক, অচেনা পাখির ডাক, নিস্তব্ধ অরণ্যে পাতা ঝরার শব্দ, আর কী চাই।

জনপদগুলির সীমানা মিশে গেছে অরণ্যের আঙিনায়। যেতে যেতে এখানকার রাভা আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলি সিমলাবাড়ি, কুরমাই, নীলপাড়া, আন্দু, বানিয়া বনবস্তি, কোদাল বনবস্তি ঘুরে দেখতে ভালোই লাগে। ওঁরাও, মুণ্ডা, মেচ, রাভা, কোরা, রাজবংশী বিভিন্ন জনজাতির বাস চিলাপাতা অঞ্চলে।

চিলাপাতা অরণ্যের কিছু স্থানে জলদাপাড়া ও বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের মধ্যে হাতি চলাচলের অবাধ পথ। যাকে অরণ্যের পরিভাষায় বলা হয় ‘কোর এরিয়া’। হাতির ধানখেতে আকচার ঢুকে পড়া এখানে নিত্য ব্যাপার। সেই হেতু গাছের মাচায় বসে রাত জেগে, মশাল জ্বালিয়ে, ক্যানেস্তারা পিটিয়ে, পটকা ফাটিয়ে, হাতির প্রকোপ থেকে ফসল বাঁচানোর লড়াইটাও এখানকার গ্রামবাসীদের জীবনের নিত্য ধারাপাত।

সড়কপথেও হাতিরা মর্জিমাফিক পথ অবরোধ করে দাঁড়ায়। আবার হেলতে দুলতে বিনা বাক্যব্যয়ে ফিরে চলেও যায়। রাভা উপজাতির মানুষদের বসবাস এখানে। এই জঙ্গল থেকেই কাঠকুটো সংগ্রহ করে তারা সংসারে জ্বালানির কাজে লাগান। কিছু আদিবাসী মানুষ বনদপ্তরে কর্মী হিসাবে নিযুক্ত। পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন পর্যদ চিলাপাতার কোদাল বনবস্তিতে একটি পরিবেশ-পর্যটন রিসর্ট নির্মাণ করেছে।

সূর্যাস্তের সময় চিলাপাতার আকাশে মঞ্চস্থ হয় রঙের খেলা। জঙ্গলে সন্ধে ঘনায় একটু চটজলদি। জঙ্গল ক্যাম্পের তরফ থেকে আমাদের জন্য একটা চমক তোলা ছিল। আজ আমাদের বিবাহবার্ষিকীর সৌজন্য উপহার হিসাবে রাভা জনজাতির নাচের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মায়াময় পরিবেশে একটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা হল।

আদিবাসী রাভা রমণীরা নিজস্ব ছন্দে নেচে চলেছেন। তাদের পরনে বড়ো সাদা ব্লাউজ ও কালচে লাল ও গাঢ় নীল রঙের ডোরাকাটা লুঙ্গির মতো পোশাক। খোঁপায় জড়ানো সাদা কাগজের ফুলমালা। প্রত্যেকের হাতেই ধরা সূঁচালো লম্বা বেতের ঝুড়ি। তাদের নাচে সঙ্গত দিচ্ছে পুরুষ গায়কদের গান ও লম্বা বাঁশের শিঙার ধ্বনি। ওদের নাচ ভালো ভাবে নিরীক্ষণ করে, কিছুক্ষণ পর আমিও ওদের সঙ্গে নাচে পা মেলাই। সন্ধে ঘন হয় জঙ্গলের বুকে। রাত বাড়ে। তোর্সা নদীর জলে এখন চাঁদের চুম্বন সহবাস। কীভাবে যাবেন: নিউ জলপাইগুড়ি নেমে যে-কোনও ট্রেনে নামতে হবে ফালাকাটা অথবা হাসিমারা স্টেশনে। সেখান থেকে সরাসরি চিলাপাতা জঙ্গল। মালবাজার থেকেও যাওয়া যায় সড়কপথে।

জঙ্গল সাফারি: চিলাপাতায় দু-বার জঙ্গল সাফারি হয়। সকাল ৬টা থেকে ৮টা এবং দুপুর ২:৩০টা থেকে ৫টা। হুডখোলা মারুতি জিপসি গাড়িতে ছয়জনের আসন। চমৎকার এই জঙ্গল সাফারি।

কোথায় থাকবেন: থাকার জন্য রয়েছে রিসর্ট, হোমস্টে, জঙ্গল ক্যাম্প প্রভৃতি।

দেশপ্রেম দিবসে বাণিজ্যিক ভাবে মুক্তি পাবে ‘বর্ডার ২’

‘বর্ডার ২’ ছবির প্রথম পোস্টারে সানি দেওলের বিদ্রোহী রূপ প্রকাশ্যে আসার পর সাড়া ফেলে দিয়েছে সর্বত্র। আর তাই, নির্মাতা ‘টি-সিরিজ’ এবং ‘জেপি ফিলমস’ সম্প্রতি বরুণ ধাওয়ানের বহু প্রতীক্ষিত ফার্স্ট লুক উন্মোচন করেছে। এই পোস্টারও ভক্তদের খুশি করবে বলে মনে করছেন এই ছবির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকে।

পোস্টারটিতে বরুণ ধাওয়ানকে যুদ্ধক্ষেত্রে একজন ভারতীয় সৈনিকের কঠোর এবং সাহসি রূপে দেখানো হয়েছে। হাতে বন্দুক নিয়ে অ্যাকশন-চার্জড ফ্রেমে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন বরুণ। এই পোস্টার জাতির বীরদের সাহস এবং চেতনাকে মূর্ত করে তুলেছে। সেনাবাহিনীর পোশাক এবং হিংস্র চেহারায় বরুণের পোস্টারটি ‘বর্ডার ২’-র শক্তি এবং আবেগকে প্রতিফলিত করেছে বলেই মনে করছেন অনেকে। বরুণকে আগে কখনও এমন রূপে দেখা যায়নি।

এই নতুন পোস্টারটি আবেগঘন সফরের আরও একটি আলোড়নকারী অধ্যায় যোগ করেছে, সাহস, ভ্রাতৃত্ব এবং ত্যাগের উত্তরাধিকারকে সামনে রাখা হয়েছে, যা এই প্রজন্ম এবং পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলেও মনে করছেন সিনেমাপ্রেমীরা। বরুণ ধাওয়ানের প্রভাবশালী ফার্স্ট লুকের মাধ্যমে, ‘বর্ডার ২’ ২০২৬ সালে মেগাহিট হবে বলেও মনে করছেন এই ছবির সঙ্গে যুক্ত সকলেই।

দেশাত্মবোধের বিষয়নির্ভর এই ছবিটি নতুন প্রজন্মকে সাহস জোগাবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন পরিচালক এবং প্রযোজক। অনুরাগ সিং পরিচালিত, ‘বর্ডার ২’ ছবিতে সানি দেওল এবং বরুণ ধাওয়ান ছাড়াও, বিভিন্ন চরিত্রে রূপ দিয়েছেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ, আহান শেট্টি, মেধা রানা, মোনা সিং এবং সোনম বাজওয়ার।

এই হিন্দি ছবিটি প্রযোজনা করেছেন ভূষণ কুমার, জেপি দত্ত এবং নিধি দত্ত। ছবিটি ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারী অর্থাৎ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মদিনে (পরাক্রম দিবস/ দেশপ্রেম দিবস) মুক্তি পাবে বলে জানানো হয়েছে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।

‘বর্ডার ২’-র নিবেদক টি-সিরিজ এবং সহায়ক জেপি দত্তের ‘জেপি ফিল্মস’। ভূষণ কুমার, কৃষ্ণ কুমার, জেপি দত্ত এবং নিধি দত্ত এই ছবিটির সাফল্যের বিষয়ে ভীষণ আশাবাদী বলেও জানানো হয়েছে। অনুরাগ সিং পরিচালিত, এই ছবিটি ভারতীয় সৈন্যদের বীরত্ব এবং অদম্য চেতনাকে সম্মান জানানোর ঐতিহ্য অব্যাহত রাখবে, যা দর্শকদের দেশপ্রেম, সাহস এবং ত্যাগের এক আবেগঘন মুহূর্তে নিয়ে যাবে বলেও আশাপ্রকাশ করা হয়েছে।

‘বর্ডার ২’-র সম্পর্কে প্রযোজক ভূষণ কুমার জানিয়েছেন, ‘এই ছবিটি ভারতীয়দের দেশপ্রেম জাগ্রত করবে এবং আবেগপ্রবণ করে তুলবে।’ পরিচালক অনুরাগ সিং এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘বর্ডার ২’-র মাধ্যমে ভারতীয় সৈন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পেরে আমি গর্বিত এবং আনন্দিত। ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবিটি নতুন প্রজন্মের সাহসিকতার উপর আলোকপাত করবে।’

ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য ওরাল হেলথ কেয়ার জরুরি

ওরাল হেলথ কেয়ার বা মৌখিক স্বাস্থ্য রক্ষা কেবল দাঁত এবং মাড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভালো মৌখিক স্বাস্থ্য পরিষ্কার দাঁতের চেয়েও বেশি কিছু, এটি সামগ্রিক সুস্থতার মাধ্যম। দন্তচিকিৎসক এবং চিকিৎসক উভয়েই মুখ এবং শরীরের সংযোগকে রোগ প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসাবে মনে করেন, তাই ওরাল হেলথ কেয়ার-এর বিষয়ে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন। সর্বোত্তম মৌখিক স্বাস্থ্য সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে মজবুত করে, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং এমনকি কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং পরামর্শ দিয়েছেন ডেন্টিস্ট ডা. সোনিয়া দত্ত।

অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস-এর (এআইআইএমএস) গবেষকদের মতে, মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি স্ট্যান্ডার্ড অনকোলজি কেয়ারের সঙ্গে একীভূত করা উচিত। কারণ, কেবল আরামের জন্য নয়, বেঁচে থাকা উন্নত করার জন্যও মৌখিক স্বাস্থ্যরক্ষা জরুরি। আরও একটি প্রমাণ হল— INHANCE অর্থাৎ ‘ইন্টারন্যাশনাল হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সার এপিডেমিওলজি’ এক সমীক্ষার মাধ্যমে জেনেছে যে, ভালো মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি (দাঁতের নিয়মিত চেক-আপ, প্রতিদিন ব্রাশ করা) মাথা এবং ঘাড়ের ক্যান্সারের ঝুঁকিকে সামান্য হলেও হ্রাস করে। তাই, নিয়মিত দাঁতের পরীক্ষা-নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সুস্থ দাঁত বজায় রাখার জন্য নয় বরং মৌখিক ক্যান্সারের প্রাথমিক সতর্কতার লক্ষণ সনাক্ত করার জন্য। সন্দেহজনক ক্ষত, স্থায়ী আলসার বা টিস্যুর গঠনের পরিবর্তন সনাক্ত করতে পারেন দন্ত চিকিৎসকরা, যা অন্যথায় অবহেলিত হতে পারে। তামাক এড়িয়ে চলা এবং অ্যালকোহল সীমিত করা ক্যান্সারের ঝুঁকি আরও কমায়।পাশাপাশি, এই ব্যবস্থাগুলি শুধু মৌখিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে না বরং দীর্ঘমেয়াদী ক্যান্সার প্রতিরোধ কৌশলগুলিতে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করে, বিশেষকরে মাথা এবং ঘাড়ের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে।

Oral health must be taken care of to prevent cancer
Dr. Sonia Datta

মৌখিক স্বাস্থ্য এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সারের মধ্যে সংযোগ:

  • মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সার: দীর্ঘস্থায়ী মাড়ির রোগ এবং দুর্বল মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি প্রদাহ এবং কোষীয় পরিবর্তন বৃদ্ধি করে, যা মুখ, গলা এবং স্বরযন্ত্রে ম্যালিগন্যান্সির কারণ হতে পারে
  • পাচনতন্ত্রের ক্যান্সার: পেরিওডেন্টাল রোগ পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয় এবং কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত
  • ফুসফুস এবং প্রোস্টেট ক্যান্সার: মৌখিক রোগজীবাণু এবং সিস্টেমিক প্রদাহ প্রতিরোধের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে
  • মিউকোসাইটিস এবং সংক্রমণের মতো জটিলতা হ্রাস করে ক্যান্সারের চিকিৎসার ফলাফল উন্নত করে
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং সিস্টেমিক প্রদাহ হ্রাস করে
  • ডেন্টিস্ট-এর সাহায্যে নিয়মিত চেক-আপ, মৌখিক ম্যালিগন্যান্সির প্রাথমিক সনাক্তকরণ নিশ্চিত করে এবং বিপদমুক্ত করতে সাহায্য করে।

ক্যান্সার রোগীদের জন্য, বিশেষকরে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল অথবা যাদের জটিল কোনও থেরাপি চলছে, তাদের জন্য মুখের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা কেবল আরামের বিষয় নয়। এটি সরাসরি বেঁচে থাকার ফলাফল এবং জীবনের মানকে প্রভাবিত করে। ডাবর রেড পেস্টের মতো আয়ুর্বেদিক পেস্ট দিয়ে দিনে দুবার ব্রাশ করা, ফ্লসিং করা এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল মাউথওয়াশ ব্যবহারের মতো সহজ অভ্যাসগুলি ব্যাকটেরিয়ার ভার কমিয়ে এবং মুখের সামগ্রিক ভারসাম্য বজায় রেখে এই ঝুঁকিগুলি উল্লেখযোগ্য ভাবে কমাতে পারে।

মুখের যত্নের জন্য ব্যবহারিক টিপস:

  • আয়ুর্বেদিক পেস্ট দিয়ে প্রতিদিন দুবার দাঁত ব্রাশ করুন এবং নিয়মিত ফ্লস করুন
  • অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন
  • তামাক এড়িয়ে চলুন এবং অ্যালকোহল সীমিত করুন অথবা ত্যাগ করুন
  • চিনিযুক্ত এবং অ্যাসিডিক খাবার এবং পানীয় সীমিত করুন: এগুলি দাঁতের এনামেল ক্ষয় করতে পারে এবং ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা নিতে পারে।

বছরে অন্তত একবার দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যান এবং লক্ষণগুলি সম্পর্কে সচেতন থাকুন। যদি আপনি আপনার মুখে কোনও অস্বাভাবিক পিণ্ড, ঘা কিংবা পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, তাহলে অবিলম্বে আপনার দাঁতের চিকিৎসককে জানিয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করুন।

সর্বোত্তম মুখের স্বাস্থ্য আপনার সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। অনকোলজি যত্নকেও প্রভাবিত করে মুখের যত্ন। বিশেষকরে ভারতের মতো ধুলোধোঁয়ায় ভরা দেশে তো ওরাল হেলথ-এর বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ফলাফল উন্নত করার জন্য নিয়মিত দাঁতের চেক-আপ, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্রাশিং প্রোগ্রাম-এ অংশ নেওয়া জরুরি।

মাইনিং সেক্টর-এ মহিলাদের নেতৃত্বের সুযোগ বাড়ছে

কলকাতা-র ইএম বাইপাস সংলগ্ন মিলনমেলা গ্রাউন্ড-এ অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল মাইনিং এক্সপো ২০২৫’ (আইএমই ২০২৫), অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক খনি, সরঞ্জাম ও খনিজ প্রদর্শনী ২০২৫ -এর ১১তম সংস্করণে ৪০টিরও বেশি অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি খনি সরঞ্জাম, প্রযুক্তি এবং পরিষেবার (এমইটিএস) ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বব্যাপী নেতৃত্বের অবস্থান প্রদর্শন করল।

অস্ট্রেলিয়ান ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশন (অস্ট্রেড) অস্ট্রেলিয়ার অংশগ্রহণকে ইনভেস্ট অ্যান্ড ট্রেড ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া; ইনভেস্টমেন্ট নিউ সাউথ ওয়েলস; ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কুইন্সল্যান্ড; অস্টমাইন – অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম খনি শিল্প সংস্থা-র সঙ্গে অংশীদারিত্ব একত্রিত করেছে এবং এটি দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া সরকারের রাজ্য উন্নয়ন বিভাগ দ্বারা সমর্থিত।

প্রদর্শনীতে অস্ট্রেলিয়ান অংশগ্রহণে পরামর্শ, অনুসন্ধান, খনির আইটি, খনির সরঞ্জাম, পরিবেশগত ও কম কার্বন খনির এবং মান ও নিরাপত্তার মতো অস্ট্রেলিয়ান এমইটিএস সংস্থাগুলির একটি ক্রস সেকশন অংশ নিয়েছিল।

‘অস্ট্রেড’ একটি অস্ট্রেলিয়ান মাইনিং অ্যান্ড রিসোর্স ইনভেস্টমেন্ট সেমিনারের আয়োজন করে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং তামার জন্য নিরাপদ এবং টেকসই সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরির উপর আলোকপাত করা হয়, যা উন্নত প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং যা উভয় দেশের কার্বনমুক্তকরণ এবং পরিষ্কার শক্তির রূপান্তরকে সমর্থন করে।

‘অস্ট্রেড’ ও ‘উইমেন ইন মাইনিং ইন্ডিয়া’ যৌথভাবে খনিতে মহিলাদের নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। মাইনিং-এ বৈচিত্র্য এবং অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কিত সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে ‘অস্ট্রেড’ ও ‘উইমেন ইন মাইনিং ইন্ডিয়া’। অস্ট্রেলিয়ান ফার্স্ট নেশনস প্রতিনিধিদল তাদের পেশাদার সম্প্রদায়ের মধ্যে বৈচিত্র্য এবং অন্তর্ভুক্তি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেয়।

Australian Trade and Investment Commissioner Nathan Devis
Australian Trade and Investment Commissioner Nathan Devis

অস্ট্রেলিয়ার অংশগ্রহণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে, অস্ট্রেলিয়ান ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশন (অস্ট্রেড) এর ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশনার নাথান ডেভিস প্রদর্শনীতে উপস্থিত থেকে জানিয়েছেন, ‘আমরা আইএমই ২০২৫ -এ ৪০ টিরও বেশি অস্ট্রেলিয়ান এমইটিএস সরবরাহকারীর সঙ্গে উপস্থিত থাকতে পেরে গর্বিত। অস্ট্রেলিয়া একটি নিরাপদ, আরও উৎপাদনশীল এবং টেকসই খনি খাত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারতের বিশ্বস্ত অংশীদার হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সহযোগিতা, উদ্ভাবন এবং ভাগ করা উচ্চাকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, অস্ট্রেলিয়ান এমইটিএস প্রতিনিধিদল বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণের জন্য নতুন পথ খুলে দেবে।’

অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতের মধ্যে খনি ও খনিজ সম্পদ খাতে ব্যবসায়িক সংযোগ স্থাপন এবং  উন্নয়নের সুবিধার্থে, অস্ট্রেলিয়ান ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব