জনগণের সমস্যা বাড়ছে

পৃথিবীর সমস্ত দেশের মধ্যে ভারতবর্ষ এমন এক দেশ, যেখানে ছেঁড়াফাটা নোট কিংবা খুচরো টাকার জন্য চলে ঝগড়া, কথা কাটাকাটি, এমনকী মারামারিও। এই বিষয়ে সরকারের বিশেষ কোনও হেলদোল নেই। কিন্তু যাদের দৈনিক আয় খুবই সামান্য, তাদের হাতে যদি ছেঁড়াফাটা নোট এসে যায় এবং সেই নোট যদি বাজারে অচল হয়— তাহলে তার তো সংসার চালানো মুশকিল হবে।

ছেঁড়াফাটা নোট যে-কোনও ব্যাংক-এ গিয়ে হয়তো চেঞ্জ করা যায় কিন্তু একটা-দুটো ছেঁড়াফাটা নোট বদলানোর জন্য অফিস আওয়ার্স-এ ব্যাংক-এ গিয়ে, লাইনে দাঁড়িয়ে নোট চেঞ্জ করতে গেলে গরিব মানুষ কাজ করে আয় করবে কখন? অথচ ভেবে দেখুন, এক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানের সহজ পথ আছে ব্যাংক- এরই হাতে। ব্যাংক যদি ছেঁড়াফাটা নোট দেওয়া বন্ধ করে, তাহলে বাজারে ছেঁড়াফাটা নোট কমে যাবে এবং সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে অনেকটাই। রিজার্ভ ব্যাংক-এ নোট বদলানোর উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকলেও, গাড়িভাড়া খরচ করে রিজার্ভ ব্যাংক-এ পৌঁছে, ১০, ২০, ৫০ কিংবা ১০০ টাকার নোট বদলাতে যাওয়া কি খুব বাস্তব উপায়?

অবশ্য শুধু ছেঁড়াফাটা নোটের সমস্যাই নয়, খুচরো টাকা বাজারে কমে যাওয়াও এক বড়ো সমস্যা। বাসে, অটোতে কিংবা বাজারে খুচরো টাকা না দিতে পারা নিয়ে প্রায়ই কথা কাটাকাটি, বচসা, এমনকী মারামারিও হতে দেখা যায় অনেক সময়। ১০, ২০, ৫০ এবং ১০০ টাকার নোটের এতটা অমিল হলে, বাসে, অটোতে যাতায়াত কিংবা সবজির বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করা খুবই সমস্যার হয়ে উঠছে। এখন এটিএম থেকে টাকা তুললে বেশিরভাগ এটিএম-এই ৫০০ টাকার নোট পাওয়া যায়। খুব কম এটিএম আছে, যেখানে কিছু ১০০ টাকার নোট পাওয়া যায়। আর ১০, ২০ কিংবা ৫০ টাকার নোট তো ব্যাংক-এ গিয়ে অনুরোধ না করলে পাওয়াই যায় না।

বাজারে খুচরো টাকার নোট কমে যাওয়ার জন্য কিছু অসাধু লোকও দায়ী। যেটুকু খুচরো টাকা বাজারে আছে, তাও অসাধু লোকেরা সংগ্রহ করে ব্যাবসা করছে। অর্থাৎ, এইসব ধান্দাবাজ লোকেরা প্রতি ১০০ টাকার খুচরো নোট দিয়ে ২০ টাকা অতিরিক্ত নিচ্ছে।

আসলে, বাজার থেকে খুচরো টাকা কমিয়ে দেওয়ার পিছনে অন্য এক বড়ো উদ্দেশ্য রয়েছে। এর ফলে ইউপিআই ট্রানজাকশন বাড়ছে। কিন্তু সব মানুষ তো আর ইউপিআই ট্রানজাকশন করতে পারেন না কিংবা সর্বত্র ইউপিআই ট্রানজাকশনের সুবিধেও নেই। অনেক জায়গায় তো নগদ অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে— সরকার যদি জনগণের স্বার্থে এইসব বাস্তব সমস্যার সমাধানের বিষয়ে না ভাবে, তাহলে সাধারণ মানুষের জীবন চলবে কী করে?

দৃষ্টি স্বাভাবিক রাখবে ফ্যাকোইমালসিফিকেশন

ছানি বার্ধক্যের একটি স্বাভাবিক অংশ, কিন্তু সময়মতো সচেতনতা এবং চিকিৎসা পরিসেবা দৃষ্টিশক্তি সঠিক রেখে, জীবনের মান উল্লেখযোগ্য ভাবে উন্নত করতে পারে। কিন্তু এমন অনেক রোগী আছেন, যারা জানেন না যে, তাদের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেয়েছে চোখের অযত্নের কারণে। অর্থাৎ, অবহেলার কারণে তিনি নিজের চোখের অনেকটা ক্ষতি করে ফেলেন।

ছানি সম্পর্কে কমবেশি ধারণা আছে অনেকের। তবুও জানাই যে, ছানি হল চোখের প্রাকৃতিক লেন্সের ঝাপসা ভাব, যা আইরিসের ঠিক পিছনে সৃষ্টি হয়। একটি সুস্থ চোখে যে লেন্সটি রেটিনার উপর আলো ফোকাস করে, যা আমাদের স্পষ্ট দেখতে সাহায্য করে, ছানির সমস্যা হলে সেই স্বাভাবিক লেন্সটি অস্বচ্ছ হয়ে যায়। অর্থাৎ, বার্ধক্য কিংবা অন্যান্য কারণে এই লেন্সটি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে। যার ফলে দৃষ্টিও ঝাপসা বা ম্লান হয়ে যায়।

মনে রাখবেন, বিশ্বব্যাপী অন্ধত্বের অন্যতম কারণ ছানি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, বিশ্বের প্রায় ৫১ শতাংশ অন্ধত্বের জন্য ছানি দায়ী। যা ৬৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে প্রভাবিত করে।

আসলে, ছানি ধীরে ধীরে বিকশিত হয় এবং প্রথমে লক্ষণগুলি প্রকট হয় না। তবে, চোখের অবহেলা কিংবা অযত্নের কারণে যে-সব লক্ষণ প্রকট হয়, তারমধ্যে রয়েছে—

  • ঝাপসা বা কুয়াশাচ্ছন্ন দৃষ্টি
  • আলো বা ঝলকের প্রতি সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি
  • রাতে দেখতে অসুবিধা
  • গাঢ় কোনও রং বিবর্ণ বা হলুদ মনে হওয়া
  • চোখের পাওয়ার-এর ঘন ঘন পরিবর্তন
  • আলোর চারপাশে বলয় দেখা

ছানি-র কারণ এবং প্রতিরোধ

যদিও বার্ধক্য ছানি-র প্রাথমিক কারণ, তবে অন্যান্য ঝুঁকির কারণগুলির মধ্যে রয়েছে—

  • ডায়াবেটিস
  • দীর্ঘক্ষণ অতিবেগুনী রশ্মির সংস্পর্শে থাকা
  • অতিরিক্ত ধূমপান এবং অ্যালকোহল সেবন
  • কর্টিকোস্টেরয়েডের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার
  • চোখে আঘাত

প্রতিরোধ: UV-প্রতিরক্ষামূলক সানগ্লাস পরুন। ডায়াবেটিস-কে নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ধূমপান ত্যাগ করুন। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার (সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি, ফল) খান এবং ৪০ বছর বয়সের পরে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করান।

ছানির চিকিৎসা

ছানির একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা হল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ঝাপসা করে রাখা আস্তরণ অপসারণ করা এবং এটি একটি কৃত্রিম লেন্স দিয়ে প্রতিস্থাপন করা। বর্তমানে সবচেয়ে উন্নত এবং বহুল ব্যবহৃত কৌশল হল— ফ্যাকোইমালসিফিকেশন (ফ্যাকো)।

ফ্যাকো সার্জারি

  • চোখে একটি ছোটো ছেদ করা হয়
  • একটি আল্ট্রাসাউন্ড প্রোব ঝাপসা ভাব দূর করতে সাহায্য করে
  • দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখতে একটি ইন্ট্রা-ওকুলার লেন্স (IOL) স্থাপন করা হয়
  • কোনও সেলাই প্রয়োজন হয় না
  • এটি একটি ব্যথাহীন দ্রুত চিকিৎসা পদ্ধতি, যা দ্রুত আরোগ্য এবং চমৎকার সুরক্ষা প্রদান করে।

ইন্ট্রা-ওকুলার লেন্সের প্রকারভেদ (IOL)

  • মনোফোকাল লেন্স: শুধুমাত্র দূরবর্তী দৃষ্টি সংশোধন করে
  • টরিক লেন্স: অ্যাস্টিগমাটিজম-এর (চোখের আলো ফোকাস করার পদ্ধতিকে প্রভাবিত করে) সমস্যা সমাধান করে।

উন্নত IOL

  • ট্রাইফোকাল লেন্স: কাছাকাছি, মধ্যবর্তী এবং দূরত্বে দৃষ্টি প্রদান করে
  • EDOF (এক্সটেন্ডেড ডেফথ অফ ফোকাস): দূরত্ব এবং মধ্যবর্তী উভয় ক্ষেত্রেই চমৎকার মানের দৃষ্টি প্রদান করে।

এছাড়া, সুনির্দিষ্ট এবং ব্লেডবিহীন পদ্ধতির জন্য রোবোটিক-সহায়তাপ্রাপ্ত ফেমটো লেজার ছানি সার্জারিও কার্যকরী।

সঠিক সময়ে ছানি অস্ত্রোপচারের সুবিধা

  • উন্নত দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া
  • চোখের জটিলতার ঝুঁকি কমে যাওয়া
  • গ্লুকোমা, রেটিনা শুরু হলে তা শনাক্তকরণ
  • দ্রুত আরোগ্য এবং জীবনের মান উন্নত করার সুবিধা

আর মনে রাখবেন, ছানি ভয় পাওয়ার মতো কোনও সমস্যা নয়। এটি চিকিৎসাযোগ্য এবং যত তাড়াতাড়ি ছানির সমস্যার শনাক্তকরণ এবং নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, সার্জারি-র মাধ্যমে আপনার দৃষ্টিশক্তি তত ভালো করা যাবে। যদি আপনার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে দ্রুত একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। আসলে, চোখের ছানির সমস্যায়, সঠিক সময়ে নিরাপদ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেই স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব।

উইন্টার হেলথ টিপ্‌স

ভালো ভাবে খোঁজখবর নিলে জানতে পারবেন যে, গরমকালের তুলনায় শীতকালে নানারকম স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। শুধু তাই নয়, শীতকালে হার্ট অ্যাটাকও বেশি ঘটে। আসলে, শীতে অসুস্থ হয়ে পড়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এই সময় বেশিরভাগ মানুষ ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা কিংবা স্পাইসি খাবার খাওয়া নিয়ে যতটা ব্যস্ত থাকেন, স্বাস্থ্যের ব্যাপারে ততটা নজর রাখেন না। কিন্তু কষ্ট করে হলেও কিছু খাদ্য এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নিয়ম মেনে, লাইফস্টাইল-এ কিছু পরিবর্তন আনতে পারলেই এই শীতেও থাকতে পারবেন সুস্থ, স্বাভাবিক। রইল পরামর্শ।

সামগ্রিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ডা. এম এস পুরকাইত (মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট, টেকনো ইন্ডিয়া ডামা হসপিটাল) —

শীতের ঋতু সাধারণত অক্টোবরের শেষ থেকে শুরু হয় এবং হোলির আগে অর্থাৎ মার্চ মাসে শেষ হয়। আর শীত মানেই অলসতা এবং আরামের অনুভূতি এই সময়ে যে-কোনও মানুষের মন এবং শরীরে বিরাজ করে। যা আমাদের জীবনধারার মান বদলে দেয়। দেখা যায়, এই বাড়তি আরাম কিংবা আলস্যের ফলে, শারীরিক মুভমেন্ট অনেকটাই কমে যায়, যা আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। শীতকালে তেল-মশলাযুক্ত খাবার বেশি খাওয়ার ফলেও হজমের সমস্যা তৈরি হয় এবং রোগভোগ বাড়ে। তাই, শরীরের উপর কোনও নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে, কিছু অপরিহার্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে রুটিন ব্যায়াম, যা একজন মানুষকে ফিট এবং সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

মনে রাখবেন, শরীরকে ঠিক রাখতে গেলে, শীতকালে দ্রুত হাঁটার অভ্যাস জারি রাখতে হবে। শুধু তাই নয়, শীতকালে বেড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করেও শরীর-মনকে ঠিক রাখতে পারি আমরা। যাদের ডায়াবেটিস, হাইপার টেনশন এবং সিওপিডি কিংবা হার্টের সমস্যা আছে, শীতকালে চিকিৎসকের পরমর্শ নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত সেইসব রোগীদের। এর ফলে বড়ো ধরনের বিপদ এড়াতে পারবেন। আর শীতকালে যাদের অতিরিক্ত ধূমপান কিংবা মদ্যপানের অভ্যাস রয়েছে, তাদের তা বর্জন করা উচিত এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো লাইফস্টাইল চেঞ্জ করা উচিত।

শীতে শরীরকে গরম রাখতে প্রয়োজনীয় ক্যালোরির প্রয়োজন হয়। তাই শরীরকে স্বাস্থ্যকর উপকরণ জোগান দেওয়ার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চলা উচিত। এই সময়ে পালংশাক, মেথিশাক, সরষেশাক ইত্যাদি সবুজ পাতা-যুক্ত সবজি রাখুন খাদ্য- তালিকায়। এগুলি আয়রন, অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস, ফলিক অ্যাসিড, ম্যাগ্নেশিয়াম, কপার, ফসফেট ইত্যাদি উপকরণে ভরপুর। এই উপাদান ইমিউনিটি বাড়িয়ে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

এছাড়া ভিটামিন “সি”-র জোগান দেবে কমলালেবু, আমলকী, পাতিলেবু, কিউয়ি, পেয়ারা, ব্রোকোলি, পালংশাক ইত্যাদি ফল ও সবজি। ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া যাবে কমলা বা লাল রঙের ফল আর সবজি থেকে। যেমন পেঁপে, গাজর, রাঙাআলু, তরমুজ, লাল আঙুর, আম ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ থাকে। ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত করতেই যে শুধু দরকার এমন নয়, শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে। দুধ, দই, ঘি, ছানা, চিজ, ঢ্যাঁড়শ, পালং, ব্রোকোলি, বিনস এবং ফলের মধ্যে কমলালেবু, কিউয়ি, ব্ল্যাকবেরি, পেঁপে ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে।

শীতে ভারী খাবার খেয়ে হজম করা একটু মুশকিল। ফাইবার-যুক্ত আহার আমাদের হজম প্রক্রিয়া মজবুত করতে সাহায্য করে। ফাইবার-যুক্ত সবজি, ফল, ব্রাউন ব্রেড, ডাল, গমের আটা, ড্রাইফ্রুটস, ওটস, কড়াইশুঁটি, ভুট্টা ইত্যাদি ইমিউনিটি শক্তি বাড়াতেও খুবই কার্যকরী।

প্রচুর পরিমাণে পানীয় জল গ্রহণ করা প্রয়োজন শীতকালে। জল শুধু তেষ্টা মেটায় না, শরীরে ওষুধের মতো কাজ করে। শরীরের বিষাক্ত বর্জ্য তত্ত্ব বাইরে বার করে দিতেও সাহায্য করে। সারাদিনে অন্ততপক্ষে তিন লিটার জলপান করা অত্যন্ত জরুরি। তুলসী অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। মধুর সঙ্গে তুলসীপাতা সেবন করলে শীতকালে সর্দি, কাশির হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। শরীর ফিট রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম প্রয়োজন। যোগব্যায়াম, এক্সারসাইজের সঙ্গে সিঁড়িতে ওঠানামা, ডান্স, হাঁটাচলা করা, খেলাধুলা সবকিছুই জীবনশৈলীর অন্তর্ভুক্ত করা বাঞ্ছনীয়। শরীরে রোদ লাগানোও দরকার। সকালের নরম রোদের এমন অনেক গুণ রয়েছে, যা নানারকম সংক্রমণ দূরে রাখতে শরীরকে সাহায্য করে। হাড় শক্ত করে। তাই, রোজ সকালে ৮টার মধ্যে অন্তত দশ মিনিট সূর্যের আলোয় থাকুন।

চোখ সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ডা. অনন্যা গঙ্গোপাধ্যায় ( চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ, দিশা আই হসপিটাল) —

অনেকেই শুধু গ্রীষ্মকালে চোখের বিশেষ যত্ন নেন। কিন্তু শীতকালে চোখের যত্নের ব্যাপারে প্রায় উদাসীন থাকেন বলা যায়। কিন্তু চিকিৎসক হিসাবে আমার পরামর্শ— গরমকালের থেকে শীতকালে বেশি যত্ন নেওয়া উচিত চোখের। কারণ, শীতকালে চোখ আরও বেশি সেনসেটিভ এবং দুর্বল থাকে। এর প্রাথমিক কারণ হল— শীতকালে সূর্য পৃথিবীর থেকে ভিন্ন কোণে অবস্থান করে এবং সূর্যের এই ভিন্ন অবস্থানের ফলে এই সময় চোখ বেশি UV রশ্মি বা অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আসে। সেইসঙ্গে, শীতকালে আমরা বাইরে বেশি সময় কাটাই। তাই বিষাক্ত ধোঁয়া, ধুলোময়লা এবং সূর্যের প্রখর তাপ আমাদের চোখকে আরও সমস্যায় ফেলে।

মনে রাখবেন, অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের চেয়ে চোখের টিস্যুর বেশি ক্ষতি করে। ছানি, ম্যাকুলার সমস্যা, ফ্ল্যাশ বার্ন, এমনকী চোখের পাতার ক্যান্সার এবং চোখের চারপাশের মুখের ত্বক সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে এসে চোখের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে শীতকালে। আর যদি আকাশের অবস্থা হালকা মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তাহলেও চোখের ঝুঁকি বাড়তে পারে নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণে। যাদের চোখের সমস্যা আছে, তাদের শীতকালে পাহাড়ে বেড়াতে না যাওয়াই ভালো। কারণ, অতি উচ্চতায় অবকাশ যাপন করলে, নানারকম কারণে চোখ আরও দুর্বল এবং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এক্ষেত্রে বড়োদের থেকে বাচ্চাদের চোখে বেশি কুপ্রভাব পড়তে পারে। কারণ, বাচ্চাদের চোখের লেন্স বেশি পরিষ্কার হয়। তাই এই সময় যতটা সম্ভব তীব্র রোদে বাচ্চাদের নিয়ে বেরোনো উচিত নয় এবং ভালোমানের রোদচশমা পরা উচিত বড়োদের। এমনকী, যারা কনট্যাক্ট লেন্স পরেন, তাদেরও সানগ্লাস পরা উচিত। এছাড়া, চোখের কিছু ওষুধ সূর্যের আলোয় এলে চোখের সংবেদনশীলতা বাড়ায়। তাই যারা চোখের চিকিৎসায় আছেন, তারা রোদে যত কম বেরোবেন, ততই ভালো। শীতকালে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো কিংবা জলে সূর্যের প্রতিফলনের দিকেও সরাসরি তাকানো উচিত নয়। এর ফলে রেটিনার ক্ষতি হতে পারে। ছানি অস্ত্রোপচারের পরে যদিও ইন্ট্রা-ওকুলার লেন্স ইমপ্লান্টে অতিবেগুনি রশ্মির ফিল্টার থাকে, তবুও সানগ্লাস দিয়ে চোখকে আরও সুরক্ষা দেওয়া উচিত।

আমেরিকান আকাদেমি অফ অপথালমোলজি শীতকালীন চোখের যত্নের বিষয়ে বিশেষ কিছু পরামর্শ দিয়েছে। যেমন— আপনি যদি দীর্ঘক্ষণ ইনডোর হিটারের সংস্পর্শে থাকেন, তাহলে আপনার চোখের হিউমিডিফায়ার দিয়ে চিকিৎসা করা দরকার। কারণ এই হিটারগুলি বায়ুকে শুষ্ক করে তোলে, ফলে চোখের ক্ষতি হয়। বিশেষকরে যদি আপনি কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, তাহলে রুম হিটার এড়িয়ে চলা উচিত। আর খুব ঠান্ডা আবহাওয়ায় চোখের চারপাশের নরম অঞ্চলকে সুস্থ রাখার জন্য ভালো মানের আই ক্রিম লাগানো উচিত চোখের চারপাশে।

শীতকালে অনেকে কম জলপান করেন ঠান্ডার কারণে। কিন্তু এই অভ্যাস পরিবর্তন করে প্রতিদিন অন্তত তিন থেকে চার লিটার জলপান করা উচিত শরীরে জলের চাহিদা এবং ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য। কারণ, শরীরে জলের ঘাটতি হলে চোখেরও ক্ষতি হতে পারে।

শীতকালে টাটকা শাকসবজি সঠিক পরিমাণে খাওয়া উচিত। এর ফলে চোখ ভালো থাকবে। গাজরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ থাকে, যা রেটিনার জন্য ভালো। শীতকালে ফল খাওয়াও চোখের জন্য ভালো। মাছের তেল, কড লিভার অয়েল এবং উদ্ভিজ তেলের মতো খাবারেও ওমেগা থ্রি এবং ওমেগা সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা চোখের জন্য উপকারী। এই ফ্যাটি অ্যাসিডগুলি চোখকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সবুজ শাক-সবজি যেমন পালংশাক, ধনেপাতা, সরষেশাক প্রভৃতিতে লুটেইন থাকে, যা ম্যাকুলার-কে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়।

ধূমপান এবং মদ্যপান বর্জন করা উচিত শীতকালে। কারণ, এই সময় জল কম পান করার ফলে শরীরে জলের চাহিদা বাড়ে এবং ধূমপান কিংবা মদ্যপানের ফলে শরীরে জলের ভারসাম্যের সমস্যা হয়। ফলে চোখেরও ভীষণ ক্ষতি হয়। এছাড়া, ধূমপানের ফলে ছানি, ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং অপটিক নার্ভের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। চোখের স্ট্রেন একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা হলেও, এই বিষয়ে অবহেলা করা উচিত নয়। তাই শীতকালের শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে, কম্পিউটার স্ক্রিন অবিরাম দেখা বিপজ্জনক হতে পারে। নিয়মিত সময়ের ব্যবধানে কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে সামান্য বিরতি নেওয়া দীর্ঘমেয়াদে চোখের জন্য উপকারী।

একচ্ছত্র সাহিত্য আকাদেমি (পর্ব-০১)

নিধিরাম বাঁড়ুজ্যে। তবে ঢাল নেই তরোয়াল নেই এমনটি নয়। আছে সবই এবং বিস্তর পরিমাণে। অবশ্য নিন্দুকেরা বলে থাকে— এক্কেবারে ভোঁতা মার্কা। ছোটোবেলা থেকেই কামারকে ইস্পাত ফাঁকি দিতে দিতে তার সব কিছুই নাকি ভোঁতা মেরে গেছে। বিদ্যেবুদ্ধিও তাই বিষম খাওয়ার মতো। তা যাইহোক, রক্তে তো বাঙালি। কবি সাহিত্যিক হতে দোষ কী?

বাবার পূজারি বামুনের ইমেজ তার ভয়ানক না-পসন্দ। যজমানি তো কদাপি না। সুতরাং কাঁধে ঝোলা সাইড ব্যাগ, হাওয়াই চপ্পল পায়ে তার চলা শুরু সাহিত্যের সরণি বেয়ে। ভেক না হলে ভিখ মেলে না— তাই পরনে লম্বা ঝুলের ঢলো ঢলো পাজামা-পাঞ্জাবি, পিঠ ছাড়িয়ে লম্বা চুল। চোখে রিমলেশ কালো রোদ চশমা। ঠোঁটে গনগনে আগুনের ঝুলন্ত সিগারেট। পকেট যদিও খালি জমিদারের। তাতে কী! ‘নামাবলি’ নামক লিটল ম্যাগের সম্পাদক বলে কথা! কত কত কবি সাহিত্যিকের ধাইমা যে, তার ইয়ত্তা নেই।

এক এক কবিতা দু’শো, তিনশো— যাকে যেমন পটকানো যায়। তারপর একটা বই বের করে দিতে পারলে তো কথাই নেই। আহা স্বাদে গন্ধে যেন ইলিশ। নিজের তেলে নিজেই কেমন ভাজা হয়ে যায়। মুচমুচে মুখ থেকে সরতেই চায় না। নিধিরাম ইলিশ খেলে কম সে কম দিন দু’য়েক ব্রাশ করা তো দূরের কথা, সামান্য জল দিয়ে মুখটা পর্যন্ত ধোয় না। স্বাদটা ধুয়ে যাবে যে! নিধির মতো এরকম লিটল ম্যাগাজিন-এর সম্পাদকের তো রমরমা এখন। হাত বাড়ালেই বিশ-পঁচিশটা উঠে আসবে যখন তখন। আর তারাও প্রত্যেকেই এক একটি নিধিরাম। এ বলে আমাকে দ্যাখ, তো ও বলে আমাকে। তারা প্রায় একে অপরকে যে-কোনও ছুতোয় একটা সাহিত্যসভা ডেকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করে।

একটা ফুট দেড়েকের উত্তরীয়, প্লাস্টিকের একটা স্মারক হাতে ধরিয়ে দিয়ে একপ্রস্থ জোর হাততালি ব্যস। এর খরচ-খরচা অবশ্য বহন করতে হয় যিনি সংবর্ধনা নেন তাকেই। এইভাবে দেওয়া-নেওয়া হতে হতে সম্পাদককুলের ঘর ভরতি স্মারক আর উত্তরীয়। এখন এমন অবস্থা ঘরে আর রাখার জায়গা নেই। এমত অবস্থায় নিধিরাম একদিন আসানসোল রেলের লোকোশপের একটা পরিত্যক্ত শেডে ওর আস্থাভাজন সম্পাদককুল ও বিশেষ কিছু গুণগ্রাহীকে জমায়েত হওয়ার ডাক দিল। আলোচনা হল। প্রস্তাবনাটা সকলের খুব পছন্দও হল। এককথায় যাকে বলে লুফে নিল।

আহা, এই না হলে নিধিদা। তুখোড় বুদ্ধি৷ নতুন লেখকরা বেশ ভালো খাবে ব্যাপারটা। এতে আমদানিটাও বেশ বজায় থাকবে বলেই মনে হয়। আর খরচের সাশ্রয় তো নিশ্চয়। সভা শেষ। যে যার মতো চলে গেল। শুধু নিধিরামের খাস টেনিয়া বিল্টু হঠাৎ নিধিকে চমকে দিয়ে বলে বসল, ‘আচ্ছা নিদুদা এই 5G আইডিয়াটা কোত্থেকে নামালে একবার বলো দেখি বাপ।”

নিধিরাম আড়চোখে বিল্টুকে একবার দেখে নিয়ে বলল, “উঁহু বাবা, ওকি আর এমনি এমনি বলা যায়। চল তো সামনের গুমটিটায়। ভালো করে একটা ওমলেট সঙ্গে কড়া করে এক কাপ চা আর সিগারেট খাওয়া দেখি। তারপর যত খুশি শুনিস। আমার ইঞ্জিনে আগে তেল জল দে, তারপর অন্য কথা।’

বিল্টুকে নিধিরাম কবি বানিয়ে দেবে নাকি। কাজেই না করে কী করে? অগত্যা রাজি। নিধি মনে মনে বলে— বাবা বিল্ট, তুমি এখন নিধি নামক খুড়োর কলের অন্তর্গত। আমাকে এখন তুমি অনেকদিন অবধি খাওয়াতে থাকবে আর আমি শুধু খেতে থাকব। অবশ্য তুই গেলে অন্য কোনও বিল্টু ঠিক জুটে যাবে। তুই সম্ভবত কুড়ি কি বাইশ নম্বর হবি। এতগুলো জুটেছে যখন, বাইশ চলে গেলে তেইশও ঠিক এসে পড়বে। শূন্যস্থান কি আর পড়ে থাকে? নিয়মের খাতিরে ঠিক ভরে যায়।

—ও, বিল্টু ওমলেটটা খাসা করেছে রে, খা খা। তবে বুঝলি কিনা, এই একটাতে ঠিক পোষায় না। আর একটা দিতে বল দেখি। খিদেটা পেটে মোচড় মারছে যেন।

বিল্টু রেগেমেগে বলল, “অত পয়সা নেই। পেটে অজগর পুষেছ নাকি। আমার এই আধখাওয়াটা মনে হলে নিতে পারো।” নিধি দ্বিরুক্তি না করে নিয়ে নিল এবং পুরোটাই একবারে কপাৎ করে মুখে পুরে ফেলল। রুমাল দিয়ে মুখ মুছে এবার চায়ের কাপটা তুলে একটা বিরাট টান মারল সশব্দে। বাঁহাতে জ্বলন্ত সিগারেট।

কিছুটা ছাই চায়ের মধ্যে ঝেড়ে ফেলে সেটাকে একটা চামচ দিয়ে ভালো করে ঘেঁটে পরের সিপটা দিয়ে বলল, ‘আহ্, এবারে ব্যাপারটা জমে ক্ষীর হল বুঝলি বল্টু। হ্যাঁ যা বলছিলাম…।’

—শোনো নিদুদা আমি বিল্টু, মোটেই বল্টু নই।

—আরে বাবা ওই হল! তুই ছাড়া এখানে আর কে আছেটা শুনি— এইরকম বিটকেল নামের। সুতরাং আমি বল্টু বিল্টু কেল্ট যাই বলি না কেন, ওটা তুই ছাড়া কেউ না! একমাত্র তুই-ই। তারপর মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, আচ্ছা বাবা বিল্টু বিল্টু বিল্টু এবার হয়েছে তো। আর রাগ করে না।

—হ্যাঁ হ্যাঁ বলছিলাম কী, গতমাসে চালতা বাগানের একটা মঠে গেছিলাম এক আত্মীয়ের শ্রাদ্ধশান্তির কাজ উপলক্ষ্যে। হঠাৎ তড়িঘড়ি জিভ কেটে নিধিরাম ব্যস্তসমস্ত হয়ে বলে বসল, “আরিব্বাস মস্ত বড়ো একটা ভুল হয়ে যাচ্ছিল রে বিল্টু আর একটু হলেই।” বিল্টু তো হাঁ।

—আরে নিদুদা বলি হলটা কী? সেটা তো বলবে ‘খন।

—শোন শোন, তুই তাড়াতাড়ি বিলটা মেটা এখন। তারপর জলদি জলদি এক ডজন ফ্লেক্স বানাতে দিয়ে আয় মনোজের দোকানে। সামনের সপ্তাহে লাগবে। ফেল না হয় যেন। চলি রে আমার আবার অনেক কাজ পড়ে আছে। কোনটা ছেড়ে আগে যে কাকে সামলাই! উঃ আর ভাবতে পারি না। মাথাটা ঝাঁ ঝাঁ করে ওঠে সময় সময়। নিধিরাম হনহন করে হাঁটা লাগায় লম্বা লম্বা পা ফেলে। আর এদিকে বিল মিটিয়ে বিল্টু নিদুদা নিদুদা করে চিল্লাতে চিল্লাতে রাস্তা মাত করে নিদুর দিকে ছুটে যাচ্ছে।

সঠিক ডায়েটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিশোর-কিশোরীদের জন্য খাদ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি কেবল ক্ষুধা মেটানোর জন্য নয় বরং রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখার এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে ঠিক রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ‘ওয়ার্ল্ড ডায়াবেটিস ডে’ উপলক্ষ্যে, ডায়াবেটিস-এর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন আনন্দপুর ফর্টিস হাসপাতালের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের ডিরেক্টর ডা. রচনা মজুমদার।

ডায়েট এবং ডায়াবেটিসের মধ্যে সংযোগ

টাইপ ১ ডায়াবেটিসে, শরীর ইনসুলিন তৈরি করে না, অন্যদিকে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে, শরীর ইনসুলিন কার্যকর ভাবে ব্যবহার করতে পারে না। উভয় ক্ষেত্রেই, খাবার সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রাকে প্রভাবিত করে। অতএব, কিশোর-কিশোরীরা কখন এবং কতটা খায়, তা ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার উপর প্রভাব ফেলে।

সুষম খাদ্যের গুরুত্ব

ডায়াবেটিস আক্রান্ত কিশোর-কিশোরীদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের সঠিক ভারসাম্য থাকা উচিত। কার্বোহাইড্রেটগুলি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন, কারণ এগুলি রক্তের গ্লুকোজের উপর সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে। পরিশোধিত চিনির পরিবর্তে জটিল কার্বোহাইড্রেট যেমন গোটা শস্য, ফল এবং শাকসবজি নির্বাচন করলে হঠাৎ বৃদ্ধি রোধ করা যায়। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, চর্বিহীন মাংস, মটরশুটি এবং দুগ্ধজাত খাবার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, অন্যদিকে বাদাম, বীজ এবং জলপাই তেল থেকে প্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর চর্বি স্থায়ী শক্তি সরবরাহ করে।

কিশোর-কিশোরীদের জন্য ব্যবহারিক টিপস

  • নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরি
  • চিনিযুক্ত খাবার, সোডা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করা উচিত
  • মিষ্টিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে জল কিংবা কম ক্যালোরিযুক্ত পানীয় বেছে নেওয়া উচিত
  • পরিকল্পনা অনুযায়ী খাবার খাওয়া উচিত
  • কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বুঝে খাবার খাওয়া উচিত

ব্যবস্থাপনা কেন গুরুত্বপূর্ণ

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না রাখলে ক্লান্তি, মেজাজের পরিবর্তন, হৃদরোগ, কিডনির ক্ষতি এবং দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি বাড়ায়। কিশোর-কিশোরীদের জন্য, ডায়াবেটিস-এর সঠিক ব্যবস্থাপনা  একটি সক্রিয়, পরিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করে।

কার্যকর ব্যবস্থাপনার মূল দিক

কিশোর-কিশোরীদের নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা উচিত, সুষম খাদ্য গ্রহণ করা উচিত, শারীরিক ভাবে সক্রিয় থাকা উচিত, নির্ধারিত ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণ করা উচিত এবং প্রয়োজনে মানসিক সহায়তা নেওয়া উচিত।

উপসংহার

কিশোর বয়সে ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা আজীবন স্বাস্থ্যের জন্য অত্যাবশ্যক। পরিবার এবং স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের কাছ থেকে শিক্ষা এবং সহায়তার মাধ্যমে, কিশোর-কিশোরীরা তাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে তাদের অবস্থার ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক সুস্থতা, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যতের জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে।

এই কৃতিত্ব মহিলাদের

সরকার জোর করে বা আইন প্রণয়ন করে যা করতে পারেনি, মহিলারা নিজেরাই তা করে দেখিয়েছেন। বিশ্বের জনসংখ্যা কমানোর নীরব উদ্যোগ নিয়েছেন মহিলারাই। এখন পরিসংখ্যানবিদদের সব ভবিষ্যৎ বাণী ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তারা জানিয়েছিলেন যে, পৃথিবীর উপর জনসংখ্যার বোঝা এতটাই বাড়বে যে, সর্বত্র নাকি লুণ্ঠন চলবে, জলের অভাব দেখা দেবে, মানুষ আশ্রয়হীন হবে, খাদ্যদ্রব্যের অভাব দেখা দেবে ইত্যাদি। কিন্তু এখনও এমন কিছু ঘটার কোনও সম্ভাবনা দেখা দেয়নি। কিছু মানুষের আশংকা ছিল যে, ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যা ১২ গুন বাড়বে। এখন মনে হচ্ছে, তেমন কিছুই ঘটবে না। এখন জাপানে প্রতি ঘন্টায় ১০০ জন কমছে, চীনে আগামী ৩০ বছরে জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এখন বিশ্বে স্থিতিশীল জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ২.১ থেকে ০.৭৯-এ নেমে এসেছে। ভারতেও জনসংখ্যা এমন কিছু বাড়ছে না বরং কোভিডের সময় থেকে জনসংখ্যা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। কারণ গর্ভ নিরোধকের ব্যবহার যেমন বাড়ছে, ঠিক তেমনই মেয়েরা এখন বেশিরভাগই এক সন্তানের বেশি চাইছেন না। তাই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের এই কৃতিত্ব মহিলাদেরকেই দিতে হবে বেশিটা। সেইসঙ্গে, মহিলারা এখন বুঝিয়ে দিয়েছেন, তারা আর বাচ্চা উৎপাদনের যন্ত্র নয়। তারা পুরুষের মতো স্বাধীন জীবনযাপন করতে চান। যদি কেউ বাচ্চাদের যত্ন নিতে প্রস্তুত থাকে, তবেই তারা মা হতে চাইছেন, অন্যথায় তারা সন্তান ছাড়াই সুখী।

একজন শহুরে শিক্ষিত, উপার্জনকারী এবং স্মার্ট মেয়ে এক সন্তানকেই সুন্দর ভাবে মানুষ করতে চান, একাধিক সন্তানে তারা আর আগ্রহী নন। যদি পুরুষরা তাদের বংশধরদের নিয়ে চিন্তিত হন কিংবা কে তাদের শ্মশানে নিয়ে মুখাগ্নি করবে ভাবতে থাকেন, তাহলে তারা সন্তান উৎপাদনের জন্য সারোগেট মায়ের সাহায্য নিতে পারেন বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে চলেছেন আজকের মহিলারা। গর্ভ ভাড়া দিয়ে সন্তান প্রসব করতেও কুণ্ঠিত নন কিছু মহিলা। তাই কিছু লোক যারা বেশি চিন্তা করেন, তাদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। এখন মহিলারা উদ্যোগী বলেই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রিত হয়ে চলেছে। কারণ তারা এখন বোঝেন যে, লোক কম মানেই ছোটো ঘর, কম চাহিদা, কম উৎপাদন।

অতএব, বেশি কথা বলবেন না। কারণ, মহিলারা এখন বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, পুরুষদের প্রয়োজন যৌনতার জন্য, শুধু সন্তান উৎপাদনের জন্য নয়। তাই বলা যায়, নারীরা চাইলে পৃথিবী বদলে দিতে পারেন।

‘সলিল চৌধুরী ১০০’ উদযাপন শহর জুড়ে

কিংবদন্তি সুরকার, কবি এবং গীতিকার সলিল চৌধুরীর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে, ‘আনন্দপুর সলিল চৌধুরী জন্মশতবার্ষিকী সোসাইটি’ (ASCBCS) গর্বের সঙ্গে ‘সাত রং-কে স্বপ্নে… স্বপ্ন রঙিন সলিল সংগীত’  শিরোনামে একটি গ্র্যান্ড ট্রিবিউট কনসার্ট উপস্থাপন করতে চলেছে আগামী  ১৯ নভেম্বর, ২০২৫  কলকাতার কলামন্দির প্রেক্ষাগৃহে, বিকেল ৫:০০ টা থেকে। নিবেদনে বোরোলিন।

একজন সত্যিকারের স্বপ্নদ্রষ্টা, যাঁর সংগীত, কবিতা এবং সংস্কৃতিতে বিশাল এবং বহুমুখী অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে, সেই মহান সলিল চৌধুরী-র স্মরণে ‘আনন্দপুর সলিল চৌধুরী জন্মশতবার্ষিকী সোসাইটি’ সম্মান জানানোর প্রয়াস শুরু করে গতবছর থেকে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই সংস্থা কনসার্ট, কর্মশালা, সেমিনার এবং প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে, যা এই  শতবার্ষিকী উদযাপনের অংশ। সলিল সংগীতের অমূল্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সুরক্ষা এবং প্রচারের লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক এবং সামাজিক উদ্যোগের জন্য এই সোসাইটি নিবেদিতপ্রাণ।

সোসাইটিতে আছেন সভাপতি গৌতম ঘোষ, সহ-সভাপতি কল্যাণ সেন বরাট, সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত আচার্য, যুগ্ম সম্পাদক – অন্তরা চৌধুরী (সলিল চৌধুরী-র কন্যা), নির্বাহী সদস্য হৈমন্তী শুক্লা, ইন্দ্রাণী সেন, সৈকত মিত্র, মনোময় ভট্টাচার্য এবং বুদ্ধদেব গঙ্গোপাধ্যায়।

১৯ নভেম্বর সলিল শতবার্ষিকী শ্রদ্ধাঞ্জলি কনসার্টে মুম্বই এবং বাংলার বিখ্যাত সংগীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, সংগীতজ্ঞ  এবং সুরকারদের অনেকেই একত্রিত হবেন। এই তালিকায় আছেন কবিতা কৃষ্ণমূর্তি সুব্রমণিয়াম (মুম্বই),  সুনীল কৌশিক (মুম্বই), শান্তনু মৈত্র (মুম্বই), মমতা শঙ্কর সহ ‘মমতা শঙ্কর ডান্স কোম্পানি’, হৈমন্তী শুক্লা,  ঊষা উত্থুপ,  শ্রীকান্ত আচার্য,  শ্রীরাধা বন্দোপাধ্যায়, মনোময় ভট্টাচার্য, শুভমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রূপংকর বাগচী, লোপামুদ্রা মিত্র,  জয়তী চক্রবর্তী, ইমন চক্রবর্তী,  সৈকত মিত্র, স্বপন বসু, ‘সুরধ্বনি’-র ছাত্র -ছাত্রীদের সঙ্গে অন্তরা চৌধুরী, দীপান্বিতা চৌধুরী, গৌরব সরকার, কল্যাণ সেন বরাট (ক্যালকাটা কয়্যার )। আর  ওই অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবেন  দেবাশীষ বসু ও পরিতোষ সিনহা।

কনসার্টটি কিংবদন্তি বেহালাবাদক এবং সুরকার ড. এল. সুব্রমানিয়ামের উপস্থিতি  অন্যতম প্রাপ্তি হতে চলেছে।

১৯ নভেম্বর ২০২৫-এর বিশেষ প্রকাশনা সলিল চৌধুরী মেমোরিয়াল কালেকশন — বেশ কয়েকজন খ্যাতিমান ব্যক্তির লেখা এবং কিংবদন্তির সংগীত সৃষ্টির সম্পূর্ণ তালিকা সম্বলিত একটি সংকলন এবং এই সংকলন অভিক চট্টোপাধ্যায় এবং সঞ্জয় সেনগুপ্ত দ্বারা সম্পাদিত। দেজ পাবলিশিং দ্বারা প্রকাশ করা হবে।

সলিল চৌধুরীর হাতের লেখা দ্বারা অনুপ্রাণিত একটি স্বাক্ষর সম্বলিত কলম এবং বিশেষ কালির বোতল, ‘সুলেখা ইংক’ দ্বারা উন্মোচিত হবে। এএসসিবিসিএস দ্বারা কিংবদন্তির জীবনের বিভিন্ন পর্যায় চিত্রিত একটি শতবর্ষী ক্যালেন্ডারও উন্মোচন করা হবে। আজ ১৩ নভেম্বর শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্স প্রকাশ করবেন সলিল চৌধুরী স্মরণে স্বর্ণমুদ্রা। উপস্থিত থাকবেন অন্তরা চৌধুরী, শ্রীকান্ত আচার্য, কল্যাণ সেন বরাট , রূপক সাহা, কর্ণধার, শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্স।

এই প্রসঙ্গে অন্তরা চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘’এই উদযাপনকে একটি অসাধারণ সাফল্যে পরিণত করতে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে সলিল সংগীতের জাদু এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা আপনাদের আন্তরিক ভাবে পাশে চাইছি।”

সমস্যা যখন পোষ্য প্ৰাণী

বাড়িতে পোষা প্রাণী তার মালিককে ভালোবাসা আর সুরক্ষা দেয়, এই ব্যাপারে কোনও দ্বিমত থাকার কথা নয়। কিন্তু সবার লাইফস্টাইল যেভাবে বদলে যাচ্ছে, বাড়িতে পোষা প্রাণী নিয়ে তৈরি হচ্ছে বাড়তি সমস্যা। কারণ, পোষ্যের দেখভালের জন্য যতটা সময় দেওয়া দরকার, ততটা সময় যদি মালিক না দিতে পারেন, তাহলেই বিপত্তি।

এমন অনেকেই আছেন, যারা বাড়িতে একাধিক কুকুর পোষেন। আর ওই কুকুরগুলোকে ঠিকমতো ট্রেনিং না দিলে, মাঝরাতে অকারণে হয়তো চিল-চিৎকার শুরু করে দেয় এবং ওই চিৎকারে প্রতিবেশীদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। শুধু তাই নয়, বাড়ির পোষ্যকে সঠিক জায়গায় নিয়ে গিয়ে মলমূত্র ত্যাগ না করিয়ে, প্রতিবেশীর সদর দরজার সামনে কিংবা রাস্তায় যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করালে প্রতিবেশীরা রাগ তো করবেনই। অনেকে আবার বাড়ির পোষা কুকুরকে রাস্তায় খোলা ছেড়ে দেন এবং কখনও হয়তো এমনও দেখা যায় যে, অপরিচিত লোক দেখলেই তাড়া করছে ওই কুকুর কিংবা আক্রমণ করছে। তবে ঘটনা যাই ঘটুক না কেন, পোষ্য নিয়ে কোনও সমস্যার বিষয় তুলে ধরে যুক্তি দিয়ে সমধানের রাস্তা দেখাতে চাইলেও, ডগ লাভার্সরা তা মানতে নারাজ। আর তাই, মুখ বুজে এখন সবকিছু সহ্য করা ছাড়া আর কোনও রাস্তা দেখছেন না অনেকে।

আসলে এমন অনেকে আছেন, যারা পোষ্যের আচার-আচরণের বিষয়ে ন্যূনতম জ্ঞান না নিয়ে বাড়িতে কুকুর, বিড়াল রেখে দেন। অথচ পোষ্যকে বশে রাখা, তাদের টিকাকরণ, স্বাস্থ্যরক্ষা, নিয়মিত যত্ন নেওয়া প্রভৃতি বিষয়ে যেমন সম্পূর্ণ ধারণা থাকা আবশ্যক, ঠিক তেমনই পোষ্যের জন্য উপযুক্ত সময় দেওয়ারও প্রয়োজন। সেইসঙ্গে, বাড়ির সবাই একসঙ্গে কোথাও বেড়াতে গেলে পোষ্যকে কোথায় রেখে যাবেন, পোষ্য সেই নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে কিনা, তাও দেখা দরকার। আবার বাড়িতে বয়স্ক লোকের হাতে কুকুর, বিড়ালের দায়িত্ব দিয়ে গেলে কী কী সতর্কতা এবং ব্যবস্থা নেবেন, সেই দায়িত্বও সঠিক ভাবে পালন করতে জানতে হবে।

রাস্তায় কুকুর নিয়ে বেরলে, মালিকের অসতর্কতার কারণে সেই কুকুরটি যদি কোনও শিশু কিংবা আসহায় বৃদ্ধকে হঠাৎ কামড়ে দেয়, তাহলে অযথা একটা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অনেক সময় দেখা গেছে, এই ধরনের ঘটনা আদালত পর্যন্তও গড়িয়েছে। অতএব, সতর্কতা জরুরি।

সঠিক সময়ে রোগনির্ণয় জরুরি

ক্যান্সার নামক মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার কোনও নির্দিষ্ট বয়স নেই। সাম্প্রতিকতম তথ্য অনুযায়ী, সারা পৃথিবীতে প্রায় ৩ লক্ষ শিশু নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতি বছর। আমাদের দেশেও সংখ্যাটা বেশ উদ্বেগজনক। পরিসংখ্যান থেকে জানা যাচ্ছে, ভারতে প্রতি বছরে ৫০,০০০ শিশু এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে, আশার কথা হল— সঠিক সময়ে যথাযথ চিকিৎসা হলে শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ নিরাময়যোগ্য। এক্ষেত্রে, যত তাড়াতাড়ি রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়, ততই সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়ে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন টেকনো ইন্ডিয়া ডামা হসপিটাল-এর মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. সৌরভ ঘোষ।

ক্যান্সারের ধরন :

শিশুদের মধ্যে লিউকেমিয়া, ব্রেন ও স্পাইনাল কর্ডের টিউমার, নিউরোব্লাস্টোমা, উইলমস টিউমার, লিম্ফোমা, রাবডোমায়োসারকোমা, রেটিনোব্লাস্টোমা, হাড় বা অস্থির ক্যান্সার, উইংস সারকোমা— এই ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর প্রায় ২৮ শতাংশ লিউকেমিয়া বা বোন ম্যারো এবং রক্তের ক্যান্সারের রোগীর প্রায় ২৬ শতাংশ ব্রেন ও স্পাইনাল কর্ডের টিউমার জনিত ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে দেখা যায়।

উপসর্গ :

ক্লান্তি, হাড় ও জয়েন্টে ব্যথা, দুর্বলতা, জ্বর, ওজন কমে যাওয়া, রক্তপাত প্রভৃতি যদি লিউকেমিয়ার অন্যতম লক্ষণ হয়, ব্রেন ও স্পাইনাল কর্ডের টিউমার জনিত ক্যান্সারের রোগীদের মধ্যে হাঁটতে বা কোনও জিনিস হাত দিয়ে ধরতে অসুবিধা, বমি-বমি ভাব, মাথা-যন্ত্রণা, ঘুম-ঘুম ভাব, অস্বচ্ছ দৃষ্টি— এইসব লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায়। নিউরোব্লাস্টোমার বিকাশ প্রধানত ভ্রূণ অবস্থাতেই হয় এবং ১০ বছরের বাচ্চাদের মধ্যেই দেখা যায়। এক্ষেত্রে, পেটে ফোলা ভাব ছাড়াও অনেক সময় জ্বর বা হাড়ের ব্যথার মতো উপসর্গ থাকতে পারে।

৩-৪ বছরের বাচ্চারাই বেশি আক্রান্ত হয় উইলমস টিউমারে। এক্ষেত্রেও পেটে ফোলা ভাব, জ্বর, ব্যথা, বমি ভাব, খিদে না পাওয়া এই সব লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেই আক্রমণ করে লিম্ফোমা। বিশেষত লিম্ফ নোডসে দেখা গেলেও অনেক সময় লসিকা গ্রন্থিতে, অস্থি মজ্জা বা অন্য অংশেও ছড়াতে পারে।

ক্লান্তি, ঘাড়, কুঁচকির নীচে ফোলা, জ্বর, ওজন হ্রাস এই রোগের প্রধান উপসর্গ। রাবডোমায়োসারকোমা মাথা, ঘাড়, পেট, কুঁচকি, হাত, পা অর্থাৎ শরীরের যে-কোনও অংশে হতে পারে এবং ব্যথা ও ফুলে যাওয়াই এর লক্ষণ।

রেটিনোব্লাস্টোমা হল রেটিনা বা চোখের ক্যান্সার, যা সাধারণত ২-৬ বছরের শিশুদের দেখা যায়। এক্ষেত্রে বাচ্চার চোখের মণি আলো পড়লে লাল দেখায়, কখনও-বা চোখের মণি সাদা বা গোলাপিও হয়। বোন বা হাড়ের ক্যান্সার একটু বড়ো বয়সে বা বয়ঃসন্ধিকালে দেখা যায়, তবে যে-কোনও বয়সেই এই রোগ হতে পারে।

অস্টিওসারকোমা হাত বা পায়ের হাড়ে হয়। এটা খুবই যন্ত্রণাদায়ক ও এতে আক্রান্ত হাড়ের কাছের অংশ ফুলেও যায়। উইংস সারকোমা-ও এক ধরনের হাড়ের ক্যান্সার যা সাধারণত হিপ জয়েন্টে, বুকের পাঁজরে, কাঁধের হাড়ে বা পায়ের হাড়ের মধ্যে হয়। এক্ষেত্রেও, আক্রান্ত হাড় ও তৎসংলগ্ন অংশ ফুলে যায় ও খুব যন্ত্রণা হয়।

কারণ:

আমরা জানি যে, বাচ্চাদের ক্যান্সার হওয়ার অন্যতম কারণ হল ডিএনএ-র মিউটেশন, যা জিনগত হতেও পারে আবার না-ও হতে পারে। এছাড়াও, মাতৃগর্ভে বেড়ে ওঠার সময় কোনও সংক্রমণ বা সঠিক ভাবে ভ্রূণের বিকাশ না হওয়া, অতিরিক্ত রেডিয়েশন, দুর্বল ইমিউনিটি সিস্টেম— শিশুদের ক্যান্সার হওয়ার কারণ হিসাবে চিহ্নিত।

বর্তমানে, অনেক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, এই দশকে শিশুদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বিগত কয়েক দশকের থেকে অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সত্যিই দুঃশ্চিন্তার বিষয়। তাহলে স্বল্প সময়ের মধ্যে শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণ কী হতে পারে? এই বিষয়ে বিভিন্ন গবেষণায় প্রথমেই উঠে এসেছে পরিবেশ দূষণের বিষয়টি। সেইসঙ্গে, খাদ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার এবং সেই রাসায়নিক আমাদের শরীরে প্রবেশ করা, উভয়েই বিবেচনাযোগ্য।

প্রতিরোধের উপায় :

গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড খাওয়া। জন্মের পর থেকে ৬ মাস পর্যন্ত মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানো। ক্ষতিকারক রাসায়নিক থেকে দূরে রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা। সর্বোপরি হেলদি জীবনযাত্রা অনেকাংশে এই রোগ প্রতিহত করতে সক্ষম।

কুড়ি হাজার সাতশোর জন্য (শেষ পর্ব)

সুমন এখান থেকে মুক্তি চায়। এখানে আকাশের গায়ে কথারা দানা বাঁধে না। এখানে এসে কবিতার দল তাকে ছেড়ে গিয়েছে। কিন্তু পালাবার পথ নেই। আজকাল কিছু ভালো লাগে না। গত কয়েকদিন পিয়ালির মিলনের ডাক উপেক্ষা করছে সুমন। বারবার গায়ের জোরে ঠেলে সরিয়ে দিয়েছে পিয়ালিকে। এইভাবে সে আর মিলিত হবে না। এমন পরিস্থিতিতে এখানকার মেয়েরা প্রশাসনকে জানাতে পারে। তখন কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি হয় পুরুষটির। কিন্তু সুমন ভালোবাসা চায়। ভালোবাসাবিহীন যৌনতায় লাভ নেই। অবশ্য পিয়ালি কাউকে কিছু জানায়নি।

সেদিন মেডিটেশনের সময় একটা ঘটনা ঘটল। তখন পিয়ালি বাড়ি ছিল না। হঠাৎ বহুদূর থেকে একটা ডাক শুনতে পেল সুমন।

—সুমন শুনতে পাচ্ছিস?

ওই গলা শুনেই সুমন আনন্দে লাফিয়ে উঠল। এই কণ্ঠস্বর তার কাকার। মানসিক তরঙ্গ দিয়ে যোগাযোগ করেছে তার সঙ্গে।

—শুনতে পাচ্ছি কাকা।

—শোন সেদিন আমার একটা ভুলে তুই ব্ল্যাক হোলে পড়ে গিয়েছিলি। অকস্মাৎ ইউনিভার্সাল বোসন পার্টিকলের ভাইব্রেশনের কম্পাঙ্ক বদলে গিয়েছিল। তাই ব্ল্যাক হোল খুলে যায়। তখন তুই ঘরে থাকলে তোর কিছু হত না। আমি অনেক কষ্ট করে মানসিক তরঙ্গ দিয়ে তোকে খুঁজে বের করেছি।

—মা কেমন আছে কাকা?

—ও কথা পরে হবে। শোন ওখানকার হিসেবে আজ থেকে সাতদিন পর আবার ব্ল্যাক হোল খুলবে। এনার্জি ইমপাল্স রিডারের রিডিং সেই কথাই বলছে। তৈরি থাকিস। ওটাই তোর ফিরে আসার রাস্তা।

সেদিন অকস্মাৎ কী হয়ে গেল সুমনের ভিতর। তার ভিতরে তখন কত সুখ। পিয়ালি বাড়ি ফিরেছিল তাড়াতাড়ি। তবে সুমনের কাছে আসেনি। সেদিন সুমন নিজেই পিয়ালিকে আক্রমণ করল। পিছন থেকে অকস্মাৎ ওর বুকে হাত রাখল সুমন। হঠাৎ এমন আক্রমণে হকচকিয়ে গেল মেয়েটি। জীবনে এমন অভিজ্ঞতা এই প্রথম। পুরুষ এমন ভাবে বলিষ্ঠ হাতে আক্রমণ করবে এ পিয়ালি ভাবতেও পারে না।

—এই, পিয়ালির প্রথম শিৎকার।

সমস্ত নিয়ন্ত্রণ তখন সুমনের হাতে। মিলন কাকে বলে পিয়ালিকে শেখাল সুমন। প্রথমবার অনাবিল সুখে ভেসে গেল ওরা।

পরদিন প্রশাসন থেকে মেয়েরা এসেছিল। এখনও সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়নি। পিয়ালি পুরুষ বদলাবে কিনা জানতে চাইল ওরা। কুড়ি হাজার সাতশো তার পুরুষটাকে বদলাতে রাজি হল না। তারপরের দিনক’টা সুমনের কাটল বড়ো আনন্দে। এই ক’দিন পুরুষসুলভ স্বাভাবিকতায় ও নিজেই এগিয়ে গেছে। নীরব আত্মসমর্পণ করেছে মেয়েটা। গুঙিয়েছে, সুমনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে। চুমু খেয়েছে তীব্র আশ্লেষে। ফেরার আনন্দে তখন সুমন মশগুল।

পাঁচদিন পর পিয়ালি জানাল, যুদ্ধ বাধতে চলেছে। তাকে যুদ্ধে যেতে হবে। সে মারা গেলে সুমন অন্য কোনও মেয়ের কাছে জায়গা পাবে। সুমন জানে পিয়ালি না থাকলেও তার কিছু না। ব্ল্যাক হোল খুলে গেলেই সে ফিরবে পৃথিবীতে। সেখানে স্থানকালের হিসেব আলাদা।

দু-দিন পর যুদ্ধ শুরু হল। লেগেছে পাশের দেশের সঙ্গে। তারা অযাচিত ভাবে হানা দিয়েছে এদেশের সীমানার ভিতর। তারা এদের জমি কেড়ে নিতে চায়।

এখানকার দেশগুলো খুব ছোটো ছোটো। প্রাচীন পৃথিবীর মতো। এখানকার সমাজতাত্ত্বিকদের মতে, দেশ ছোটো হলে শাসন করতে সুবিধা হয়।

যুদ্ধের দিন সীমান্তে একটা বড়ো ময়দানে মুখোমুখি দাঁড়াল দুই দল। দুই দল উলঙ্গ মেয়ে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে। এক তরফে আক্রমণকারী হানাদার মেয়েদের দল। অপর দিকে এদিকের মেয়েরা।

দু-পক্ষের সেনা জমায়েত বেশ বড়ো। এখানে খালি হাতে যুদ্ধ হয়। তাই দূর থেকে যুদ্ধ দেখা যায়। ময়দান থেকে নিরাপদ দূরত্বে একটি ঢিবির উপর গিয়ে দাঁড়াল সুমন। তার মতো এখানকার আরও অনেক ছেলে যুদ্ধ দেখতে এসেছে। জুল জুল চোখে তাকিয়ে আছে ছেলেরা। তাদের চোখে মুখে উৎকণ্ঠা। তাদের অনেকেরই ঘরের মেয়েরা রয়েছে ময়দানে।

এক সময় উভয় তরফ থেকে বিউগলের মতো বাজনা বাজল। যুদ্ধ শুরু। প্রথমে উভয় তরফ থেকেই শুধু প্রথম সারির মেয়েরা পরস্পরের মুখোমুখি হল। একের বিরুদ্ধে এক লড়াই। অপরপক্ষ যথেষ্ট মল্লযুদ্ধ পটু এবং শক্তিশালী। এইপক্ষের সবক’টা মেয়েকে ওরা মেরে ফেলল। এবার উভয় তরফের দ্বিতীয় সারির পালা। কিন্তু সেই লড়াইতেও এইপক্ষের মেয়েরা দাঁড়াতে পারল না। ওরা সবাইকে মেরে ফেলল। এবার গেল তৃতীয় সারি। পিয়ালি নামল ময়দানে। মনের মধ্যে কেমন একটা উৎকণ্ঠা অনুভব করল সুমন। এই প্রথমবার। অন্য ছেলেরা নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রয়েছে।

কিছুক্ষণ লড়াইয়ের পর আবার এইপক্ষের মৃত্যুমিছিল শুরু হল। সুমন খেয়াল করল পিয়ালিকেও কোণঠাসা করে ফেলেছে তার প্রতিদ্বন্দ্বী। একটি ঢিবির কাছে নিয়ে গেছে পিয়ালিকে। আর হয়তো কিছুক্ষণ। মেয়েটি নিশ্চিত মেরে ফেলবে পিয়ালিকে।

ঠিক তখনই একটা আবছা কণ্ঠ। সুমনের কাকা। ‘সুমন তাড়াতাড়ি। ব্ল্যাক হোল খুলছে। এনার্জি ভাইব্রেশনের কম্পাঙ্ক বদলাচ্ছে। তাড়াতাড়ি ব্ল্যাক হোলে ঢুকে পড়।”

আশ্চর্য হয়ে নিজের থেকে কয়েক হাত দূরে, একটা কালো গহ্বরকে খুলে যেতে দেখল সুমন। এই সুযোগ। ওদিকে পিয়ালি ততক্ষণে ধরাশায়ী হয়েছে মাটিতে। হঠাৎ মনের ভিতর কেমন যেন ঝটকা দিল সুমনের। বুকে যেন কীসের ঝড় উঠল! মনের ভিতর ও কীসের অনুরণন! সুমন লাফ দিয়ে গিয়ে পড়ল ওদের দু’জনের মাঝখানে। পিয়ালির প্রতিদ্বন্দ্বীর জন্য কমান্ডো ট্রেনিং নেওয়া সুমনের একটা আঘাত যথেষ্ট। সুমনের একটা ঘুষিতে ঘুরে পড়ে গেল মেয়েটি। আর উঠল না।

এই আশ্চর্য ঘটনায় চমকে গিয়েছিল যুদ্ধরত মেয়েরা। যুদ্ধ থামিয়ে তারা হাঁ করে তাকিয়ে ছিল এইদিকে। ঘোর কাটিয়ে অপরপক্ষের দু’জন মেয়ে তেড়ে এল এইদিকে। তবে সুমনের পরের আঘাতে ওদের একজন ধরাশায়ী হতেই অপরজন পালাল। এই দৃশ্য দেখে স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেদের মধ্যে কী হল কে জানে! তারা রে রে করে ময়দানের দিকে ছুটে আসতে লাগল। অপরপক্ষের মেয়েদের ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়া তখন শুরু হয়ে গেছে।

তখনই আবার কাকার গলা। ‘সুমন আর তিরিশ সেকেন্ড বাকি। কুইক।”

পিয়ালিকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়েই ব্ল্যাক হোলে ঝাঁপ দিল সুমন। এখানে কে আর আছে মেয়েটার। কুড়ি হাজার সাতশোর ঠোঁটে তখন মৃদু হাসি। চোখের কোলে দুটো টলটলে মুক্তো। এই জীবনে প্রথমবার। আজ থেকে আকাশের গায়ে আবার কথারা দানা বাঁধবে।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব