বাচ্চা মা-বাবার সঙ্গে শোবে নাকি একলা?

একটু একটু করে বড়ো হয়ে উঠতে থাকা সন্তানকে নিজেদের সঙ্গে শোওয়াবে নাকি আলাদা শোবে বাচ্চা– এই চিন্তা প্রত্যেক মা-বাবার কাছেই একটি জটিল সমস্যা। আপাতভাবে এটাকে সমস্যা মনে না হলেও এটা সত্যি করেই একটা ভাবার বিষয়। এখন বেশিরভাগই বড়ো বড়ো শহরে এক কিংবা দুই কামরার ফ্ল্যাটে জীবন কেটে যায়। তাই সন্তানের লালনপালনে প্রত্যেক অভিভাবকদেরই এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় যে তারা তাদের সন্তানকে আলাদা শুতে দেবেন নাকি নিজেদের সঙ্গে রাখবেন। কোনটা তাদের সন্তানের জন্য মঙ্গলদায়ক?

মনোবিদরা কী বলেন?

মনোবিদ শ্রীতমা ঘোষের মতে, সমস্ত কিছুরই যেমন ভালো এবং খারাপ দুটি দিক আছে, এক্ষেত্রেও তাই। শিশু অবস্থা থেকে একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত শিশুর, মা-কে ভীষণরকম প্রয়োজন হয়। সেটা প্রকৃতিগতভাবে নির্ভরতার কারণেই। মায়ের সঙ্গে শুলে একটা সিকিউরিটি বোধ বাচ্চার মধ্যে কাজ করে। মায়ের ছোঁয়ায় বাচ্চা অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। হঠাৎ করে কোনও কারণবশত মায়ের পাশে শুতে না পারলে বাচ্চা নিজেকে ইনসিকিওর মনে করে যেটা বাচ্চার মানসিক গঠনের ক্ষেত্রে কখনওই কাম্য নয়।

সাধারণভাবে মনে করা হয় অন্ততপক্ষে দশ বছর বয়সটাকে বাচ্চার আত্মনির্ভরতার এবং মানসিকভাবে পরিণত হওয়ার বেঞ্চমার্ক। সেসময় থেকেই তারা নিজেদের একটা স্পেসের বা নিজস্ব গোপনীয়তার একটা জায়গার প্রয়োজনবোধ করতে শুরু করে। তবে যেহেতু এযুগে বাচ্চা বেশ দ্রুত মানসিকভাবে পরিণত হয়ে উঠছে তাই দশ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে তাকে আট বছর বয়স থেকেই একটা প্রাইভেট স্পেস দেওয়া উচিত।

সন্তান এবং মা উভয়ের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখে

প্রথম থেকেই বাচ্চাকে একা শোয়াবার অভ্যাস করানোই বাঞ্ছনীয়। এতে অনেক লাভ আছে। বাচ্চা আলাদা শুলে মায়ের স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। রাত্রে বাচ্চার জন্য উঠতে হলেও মা আরামে শুতে পারেন। বাচ্চাও নিজের মতো করে পুরো বিছানা জুড়ে এপাশ-ওপাশ করার সুযোগ পায়। সীমিত জায়গায় তাকে থাকতে হয় না। এর ফলে দু’জনের স্বাস্থ্যই ভালো থাকে। ডাক্তারের কাছে দৌড়োদৌড়ির পরিস্থিতি তৈরি হয় না।

শিশু অবস্থায় মায়ের স্পর্শ

অনেক ঘটনা এমনও ঘটে থাকে যে গভীর ঘুমের মধ্যে মায়ের সামান্য অসাবধানতায় পাশে শোয়া সদ্যোজাত সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। শিশুর জন্মের পর মায়ের জন্য ঘুমটা খুবই জরুরি। বাচ্চা যদি আলাদা শোয় তবেই সেটা সম্ভব। সারাদিন বাচ্চার এবং সংসারের কাজ সামলাবার পর সুস্থ্য থাকতে হলে নিশ্চিন্ত হয়ে ঘুমোনো খুব দরকার। এক্ষেত্রে মায়ের সঙ্গে বাবারও উচিত দায়িত্বটা ভাগ করে নেওয়া। তার জন্য অবশ্য তাকে কট-এ শোওয়ানো যেতে পারে। কিন্তু ভুললে চলবে না, সদ্যোজাতদের মায়ের শরীরের স্বাভাবিক উষ্ণতার প্রয়োজন রয়েছে, সেটা মায়ের সঙ্গে শুলেই সে পেতে পারে। বারে বারে বাচ্চার ভিজে বিছানাও বদলাবার দরকার পড়ে। সন্তানকে পাশে নিয়ে শুলে সহজেই মা বুঝতে পারেন বাচ্চা বিছানা ভিজিয়ে ফেললে এবং সঙ্গে সঙ্গে সেটা বদলেও দিতে পারেন। এছাড়াও রাত্রে সদ্যোজাত শিশুর বারবার ক্ষিদে পায় তাই মা পাশে শুলে সহজেই বুঝতে পারেন সন্তানের ক্ষিদে পেয়েছে এবং তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থাও নিতে পারেন।

বেড়ে ওঠা শিশুর অভ্যাসে পরিবর্তন

অনেক মায়েরাই ৭-৮ বছর পর্যন্ত বাচ্চাদের নিজের সঙ্গে শোয়ান। বাড়িতে সব থেকে ছোটো যে সন্তান তাকে অথবা একমাত্র সন্তানকে অতিরিক্ত আদর দেওয়ার বাহানায় ১২-১৩ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চারা মায়ের ইচ্ছেতেই বড়োদের সঙ্গে শুতে থাকে। কিন্তু এই বয়সি বাচ্চাদের একসঙ্গে নিয়ে শোয়া মা এবং বাচ্চা উভয়ের জন্যই ক্ষতিকারক।

বাচ্চার যখন ৮-৯ বছর বয়স হবে তখন নিজের ঘর থেকে অন্য ঘরে আলাদা করে বাচ্চার শোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। অবশ্য সেই ক্ষেত্রে মায়ের সঙ্গে পাশাপাশি ঘর হলেই ভালো হয়। এইভাবে বাচ্চার একা শোয়ার ভয়টাও কেটে যাবে ফলে বড়ো হয়ে বাড়ির বাইরে কোথাও গিয়ে থাকতে হলে সেখানে আর অসুবিধা হবে না।

ওদের স্পেস দিন

বাচ্চার জন্য আলাদা শোয়ার ঘরের ব্যবস্থা করার সঙ্গে সঙ্গে তার পছন্দমতো ঘরটিকেও সাজিয়ে তুলুন যেখানে সে নিজেকে নিঃসঙ্গ মনে করবে না। তার ঘরের মধ্যেই পড়াশোনা করার জন্য চেয়ার টেবিলের ব্যবস্থা রাখুন। রঙিন সুন্দর ছবি দিয়ে দেয়াল ভরিয়ে তুলুন। যদি আপনার সন্তান কাউকে হিরো ওয়ারশিপ করে তাহলে তাকেও বলতে পারেন পছন্দের ব্যক্তিটির পোস্টার জোগাড় করে দেয়ালে টাঙাতে। রাত্রে যাতে ঘর সম্পূর্ণ অন্ধকার না হয়ে যায় তারজন্য হালকা পাওয়ারের নৈশবাল্বের ব্যবস্থা রাখুন ঘরে। ঘরটি সম্পূর্ণ বাচ্চার হাতে ছেড়ে দিন এবং ওকে নিশ্চিন্ত করুন যে আপনি কোনও ভাবেই ওর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবেন না।

মা এবং বাচ্চার ঘরের মধ্যে যদি কোনও দরজা থাকে তাহলে রাত্রে দরজা খোলা রাখবেন এবং দরজায় পর্দা দিয়ে রাখবেন। দরজা বন্ধ করে দিলে বাচ্চার মনে নেগেটিভ চিন্তা আসতে পারে যার ফলে মায়ের সঙ্গে বাচ্চার মনের দূরত্ব বাড়তে পারে। এমনও মাঝেমধ্যে দেখা যায় লুকিয়ে লুকিয়ে বাচ্চারা, মা কী করছে দেখার চেষ্টা করে।

যদি শোওয়ার জন্য একটাই ঘর থাকে তাহলে অস্থায়ী বিভাজন করে দুটো আলাদা শয্যা রাখা যেতে পারে। একটা দিকে স্বামী-স্ত্রী এবং অপর দিকে সন্তানের থাকার ব্যবস্থা হতে পারে। এখন নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির যুগ সুতরাং এক বা দুটির বেশি সন্তান খুব কম পরিবারেই হয়। সুতরাং একটি ঘরে বাচ্চাকে আলাদা শোয়ানো অসম্ভব নয়।

সম্পর্কের মাধুর্যের জন্য প্রয়োজন

প্রয়োজন অনুসারে স্বামী-স্ত্রীর দৈহিক সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলে পুরুষ-নারী উভয়ের মনেই শান্তি বিরাজ করে এবং দৈহিক পরিশ্রম করারও ক্ষমতা বাড়ে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বামীদের মধ্যে স্ত্রীর সঙ্গসুখ পাওয়ার চাহিদা বাড়তে থাকে। সেইসময় ইচ্ছাপূরণ না হলে পুরুষরা বদমেজাজি হয়ে পড়ে, কথায় কথায় ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। এর প্রভাব স্ত্রী এবং উঠতি বয়সি সন্তানের উপর এসে পড়ে। মাঝেমধ্যে পুরো পরিবারের সুখশান্তি এর জন্য নষ্ট হয়ে যায়।

অনেক স্ত্রীয়েরাই মনে করেন বাচ্চা বড়ো হয়ে গেলে স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক রাখা অন্যায়। কিন্তু এই চিন্তা ভুল। বাচ্চারা বড়ো হয়ে যাওয়া মানে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়া নয়। সুতরাং সঠিক সময়ে বাচ্চাকে আলাদা শোয়াবার ব্যবস্থা করুন। এতে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মাধুর্য বজায় থাকবে এবং বাচ্চার মধ্যেও কোনও ভুল ধারণা লালিত হবে না।

স্টাইলিশ কিচেন ক্যাবিনেটস

সেই পুরোনো রান্নাঘর, একেবারেই না। সবাই এখন ছুটছে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। সময় নষ্ট করার মতো সময় কারও হাতে নেই। অল্প সময়ে রান্না সেরে অফিস বেরোবার তাড়া থাকলে, গোছানো রান্নার জিনিসপত্র দরকার হাতের কাছে। তাই কিচেন ক্যাবিনেট দরকার সবকিছু গুছিয়ে রাখার জন্য।

কিচেন ক্যাবিনেটস শুধু জিনিস স্টোর করার জন্যই যে ব্যবহার করা হয় তা নয়, রান্নাঘরকেও করে তোলে পরিপাটি এবং স্টাইলিশ। বাজারে এখন বহু কোম্পানির নানা ধরনের কিচেন ক্যাবিনেটস পাওয়া যায়। প্রয়োজন অনুসারে রং বেছে সাইজ অনুযায়ী রান্নাঘরে সেট করানো যায়।

স্টেনলেস স্টিল ক্যাবিনেটস

অনেকেই উইপোকা লাগার ভয়ে রান্নাঘরে কাঠের জিনিস করাতে চান না, তাছাড়াও জল হাতেও আমরা রান্নাঘরে কাঠের জিনিসে হাত দিয়ে ফেলি। জল এবং উইপোকা তাড়াতাড়ি কাঠের জিনিস খারাপ করে বলে স্টেনলেস স্টিল দিয়ে তৈরি ক্যাবিনেটস-ও আজকাল অনেকেই প্রেফার করছেন রান্নাঘরের জন্য। এই ক্যাবিনেটস সহজে খারাপ হয় না বা উই-ও ধরে না।

স্টোরেজ ক্যাবিনেটস

রান্নাঘরের সঙ্গে স্টোররুম (ভাঁড়ার ঘর) না থাকলে, চাল, ডাল ইত্যাদি সারা মাসের রান্নার জিনিসপত্র রাখতে অসুবিধা হয়। স্টোরেজ ক্যাবিনেটস এই অসুবিধা লাঘব করে কাজটাকে অনেক সহজ করে দেয়। এই ধরনের ক্যাবিনেটস-এ অনেক ড্রয়ার এবং আলমারি থাকে। তাতে সহজেই জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা যায়। এমনকী সারা মাসের রেশন-ও সহজে ওর মধ্যে ধরে যায়। শুধু কেনার সময় খেয়াল রাখতে হবে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী তাতে স্টোরেজ স্পেস আছে কিনা। নিজের দরকার বুঝে অর্ডার দিয়েও এগুলি বানিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

কাচের ক্যাবিনেটস

রান্নাঘর-কে একটু অন্যভাবে সাজাতে চাইলে গ্লাস ক্যাবিনেটস আপনার চাহিদা পূরণ করবে। এই ক্যাবিনেটস-এর দরজাগুলো কাচের হয়। সবথেকে সুবিধা হল কাচের পাল্লা হওয়ার দরুণ ভেতরে রাখা জিনিস সহজেই দেখতে পাওয়া যায় এবং দরকারে খুঁজে পেতেও অসুবিধা হয় না। এছাড়া শৌখিন কাচের কাপ-প্লেট-ডিনার সেট রাখার জন্যও কাচের ক্যাবিনেট ব্যবহার করা যায়। ক্রকারি-র সৌন্দর্য রান্নাঘরকেও দেবে অ্যাট্রাক্টিভ লুক। নানা সাইজ এবং ডিজাইনের কাচের ক্যাবিনেটস বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। কাচের পাল্লাকে স্টাইলিশ লুক দেওয়ার জন্য এখন এর উপর ডিজাইন-ও করা হচ্ছে।

মডার্ন ক্যাবিনেটস

এখন মডার্ন কিচেন-এর যুগ। কিচেন-এর প্রত্যেকটি জিনিস এখন সকলে মডার্ন এবং স্টাইলিশ চাইছেন। লিভিং রুম, বেডরুমের মতো কিচেনও মডার্ন হওয়া বাঞ্ছনীয়। বাজারে এই ধরনের বিভিন্ন ডিজাইন এবং রঙের ক্যাবিনেটস পাওয়া যায়। ক্যাবিনেট-এর ডিজাইনিং-এ, আলমারির শেপ এবং রঙের কাজে মডার্ন টেকনোলজি ব্যবহার করে করা হয়। সামনের শেল্ফ-এ ডেকোরেটিভ আইটেম সাজিয়ে রাখা যায়। ড্রয়ারগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয় যাতে সকলেরই এটি ব্যবহার করতে সুবিধা হয়। এই ক্যাবিনেট-এ লাইটের ব্যবহারও করা হয়, যার ফলে পুরো রান্নাঘর-এর লুকটাই অ্যাট্রাক্টিভ হয়ে ওঠে। কিচেনের প্রয়োজনীয় প্রত্যেকটা জিনিসের জন্য প্রপার আলমারি এবং ড্রয়ার ডিজাইন করা হয়।

সিম্পল ক্যাবিনেটস

রান্নাঘরকে সিম্পল এবং সোবার লুক দিতে বাজারে বহু ডিজাইনের সিম্পল লুকের ক্যাবিনেটস পেয়ে যাবেন। এটি জায়গাও কম নেয় এবং আলমারি ও ড্রয়ারের সংখ্যাও এতে কম থাকে। জিনিস রাখলে খুঁজে পেতেও অসুবিধা হয় না। লুকটাকে সিম্পল রাখার জন্য একটি কিংবা দুটোর বেশি রং এতে ব্যবহূত হয় না। খুব সাধারণ দেখতে হ্যান্ডল লাগানো হয় যাতে পুরো জিনিসটা খুব ডেকরেটিভ মনে না হয়।

ক্যাবিনেটস কেনার সময় খেয়াল রাখুন

টাইপ অ্যান্ড স্টাইল – বাজারে বহু ধরনের এবং বিভিন্ন স্টাইলের ক্যাবিনেট পাওয়া যায়। কিন্তু কিচেন অনুযায়ী ক্যাবিনেট বাছাটা বাঞ্ছনীয়। রান্নাঘরে জিনিসপত্র রাখার জন্য কতটা জায়গা দরকার সেটা মাথায় রেখে পছন্দ মতন ক্যাবিনেট ডিজাইনও করাতে পারেন। ক্যাবিনেটস, ফ্রেমড এবং ফ্রেমলেস, দুই ধরনেরই পাওয়া যায়। নিজের পছন্দ অনুযায়ী বেছে নেওয়াটা শুধু দরকার।

মেটেরিয়াল – বেশিরভাগই ক্যাবিনেট তৈরি হয় সলিড উড, প্লাই উড, থার্মোফয়েল, মেলামাইন, পার্টিকল বোর্ড, মিডিয়াম ডেনসিটি ফাইবার বোর্ড অথবা স্টেনলেস স্টিল দিয়ে। কোনটা আপনি ব্যবহার করতে চান সেটা আগে থাকতে ঠিক করুন এবং পকেটের সামর্থ্য অনুযায়ী মেটেরিয়াল বেছে নিন।

কালার্স – ক্যাবিনেট-এর রং বাছাটাও জরুরি। রান্নাঘরের সঙ্গে রং মিলিয়ে ক্যাবিনেট কেনা অথবা বানানো যায়। ক্যাবিনেটের কয়েকটা রং খুব কমন যেমন হোয়াইট, সিলভার, ব্রাউন, ব্ল্যাক ইত্যাদি রংগুলো ম্যাচিং ছাড়াই ব্যবহার করা যেতে পারে। এখন অবশ্য কম্বিনেশন কালার ব্যবহার করার ট্রেন্ড চলছে। দুটো-তিনটে রং একসঙ্গে ব্যবহার করে ক্যাবিনেটকে আরও অ্যাট্রাক্টিভ লুক দেওয়ার ট্রেন্ড চলছে।

টেকসই – ক্যাবিনেট কেনার সময়, সেটির মেটেরিয়াল কতটা টেকসই সেটাও খেয়াল করা দরকার। কাঠের হলে তার কোয়ালিটি কেমন, স্টেনলেস স্টিলের হলে স্টিলের মান কীরকম, থিকনেস কতটা– সেগুলি ভালো করে যাচাই করে তবেই ক্যাবিনেট সিলেক্ট করা উচিত। মার্কেটে লাইট থেকে হেভি সব ধরনের কোয়ালিটি-ই পাওয়া যায়।

ক্যাবিনেটস-এর যত্ন

রান্নাঘরের ক্যাবিনেট নিয়মিত পরিষ্কার করা দরকার। তা না হলেই তেল-ময়লা জমতে আরম্ভ করে। পোকামাকড়ে রান্নাঘর ভরে যায় এবং খাদ্যবাহিত সংক্রমণের ভয়ও বেড়ে যায়।

১    ক্যাবিনেট রোজ বাইরে থেকে মোছা উচিত, যাতে দাগ-ছোপ না পড়ে। সপ্তাহে একবার অথবা ১৫ দিনে একবার আলমারি, ড্রয়ার সবকিছু ভিতর থেকেও পরিষ্কার করা উচিত। ডাস্টিং করার কাপড় পরিষ্কার এবং নরম হওয়া বাঞ্ছনীয়।

২    ক্যাবিনেটের পলিশ ফেড হতে দেখলে নতুন করে পলিশ করিয়ে নিন।

৩    কাচের ক্যাবিনেট হলে খেয়াল রাখুন স্ক্র্যাচ যেন না পড়ে।

৪    ক্যাবিনেটের কোনও অংশ খারাপ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করিয়ে নিন।

৫    ক্যাবিনেটে জল লাগাবেন না। জল পড়লে তাড়াতাড়ি খারাপ হয়ে যেতে পারে এবং উই লাগারও ভয় থাকে।

 

মিতব্যয়ী হতে শেখান বাচ্চাকে

অর্থের সঠিক মূল্য এবং সঞ্চয়ের গুরুত্ব যদি শুরু থেকেই বুঝে নেওয়া যায়, তাহলে সঠিক দিশায় পথ চলা অনেক সহজ হয়ে যায়। বাচ্চা যদি শৈশব থেকেই মিতব্যয়ী হয় এবং সঞ্চয় করার গুরুত্ব বুঝতে শিখে যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ জীবনে যে-কোনও পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে সমস্যা বোধ করবে না।

অভিভাবকদের দাযিত্ব হচ্ছে, সন্তানকে ছোটো থেকেই সাধারণ অভ্যাসগুলো করানো, যাতে তার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হতে পারে। সঞ্চয়ের গুরুত্ব একবার বুঝতে পারলেই অর্থের সঠিক মূল্য বোঝাটা অনেক সহজ হবে। এর ফলে যথেচ্ছ খরচা করার অভ্যাসেও একটা পরিবর্তন অবশ্যই আসবে। কীভাবে নিজের সন্তানকে তৈরি করবেন, সে বিষয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করা হল।

অর্থের সঠিক মূল্য বোঝান

মূল্যস্ফীতির অবস্থা যখন সারা বিশ্বজুড়ে তখন দরকার হচ্ছে বাচ্চারও অর্থের মূল্য বুঝতে শেখাটা। বাচ্চাকে শৈশব থেকেই বোঝাতে হবে, অর্থ উপার্জনের জন্য আপনি সারাদিন অনেক পরিশ্রম করেন। ওকে এটাও বোঝাবার চেষ্টা করুন, তার চাহিদা পূরণ করার জন্য আপনাকে টাকা জমাতে হয় এবং এই টাকা উপার্জন করা অত সহজ নয়। রীতিমতো পরিশ্রম করতে হয় অর্থ উপার্জন করতে হলে। এটাও বোঝানো দরকার আজেবাজে খরচা করতে থাকলে ধারের বোঝা মাথার উপর চাপতে পারে।

বাচ্চার সব চাহিদা পূরণ করবেন না

সব অভিভাবকেরাই ভালোবাসার খাতিরে বাচ্চার সব সাধ-আহ্লাদ পূরণ করতে চান। কিন্তু যদি বাচ্চাকে অনুশাসন শেখাতে চান এবং কষ্টের অর্জিত অর্থের মূল্য বোঝাতে ইচ্ছুক থাকেন, তাহলে তার ছোটো বড়ো চাহিদাগুলো সঙ্গে সঙ্গে পূরণ করে, বাচ্চার ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না। কারণ আপনার সব ইচ্ছা সঙ্গে সঙ্গে পূরণ করে দেওয়ার অভ্যাসই বাচ্চাকে ভবিষ্যতে মুশকিলে ফেলতে পারে। বাচ্চা জেদি, অনুশাসনবিহীন হয়ে উঠতে পারে।

নিজের প্রয়োজনকে বশে রাখতে না পারার কারণে তার মধ্যে অপরাধপ্রবণতা গুরুত্ব পেতে পারে এবং সে অপরাধ জগতের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলতে পারে। তাই ছোটো থেকেই বাচ্চাকে সত্যিকারের প্রযোজন এবং বিলাসিতার মধ্যে পার্থক্য বোঝাবার চেষ্টা করুন। কোন জিনিসটার জন্য খরচা করতেই হবে এবং কোন খরচটা এড়ানো যেতে পারে, সেটা শৈশব থেকেই বোঝানো জরুরি। তবে একবারে সবকিছু বোঝাবার চেষ্টা না করে ধীরে ধীরে বোঝান।

বাচ্চাকে পিগি ব্যাংক কিনে দিন

বাড়িতে অতিথির যাওয়া-আসা লেগেই থাকে। বেশিরভাগ সময়ে তারা চলে যাবার আগে বাচ্চার হাতে কিছু টাকা দিয়ে যান। এছাড়াও বাড়িতে ঠাকুমা, ঠাকুরদা, কাকা, পিসিরা থাকলে তারাও মাঝেমধ্যে বাচ্চার হাতে কিছু কিছু টাকা দেন। তাছাড়া মা-বাবার কাছ থেকেও হাত খরচা পায় বাচ্চা। এর পুরোটাই আপনার সন্তান খরচ করে ফেলছে, নাকি কিছুটা সঞ্চয় করছে? যদি সঞ্চয় করে জানবেন তার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত। কিন্তু যদি পুরো টাকাটাই ফুর্তি-আনন্দ করতে এবং পছন্দসই জিনিস কিনে খরচা করে ফেলে, তাহলে ভবিষ্যতে বিপদের মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপনাকে প্রথম থেকেই শেখাতে হবে ওই অর্থের মধ্যে কিছুটা খরচ করলেও, বাকিটা জমানো দরকার।

সঞ্চয়ের পথে বাচ্চাকে আকর্ষিত করতে তাকে সুন্দর আকষর্ণীয় দেখতে পিগি ব্যাংক কিনে দিন। কার্টুন বাচ্চারা ভালোবাসে, তাই কার্টুনের আকৃতিরও পিগি ব্যাংক-ও তাকে কিনে দিতে পারেন। পিগি ব্যাংকে টাকা ফেলতে আরম্ভ করলে, সঞ্চয়ের অভ্যাস নিজে থেকেই বিকশিত হবে।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দিন

সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি হলে বাচ্চার কী লাভ হবে, সেটা বাচ্চাকে বোঝান। ওকে বলুন প্রতি মাসে কিছু কিছু জমানো টাকায় বড়ো কিছু ইনভেস্টমেন্ট করতে পারবে ভবিষ্যতে। ব্যাংকে নিয়ে গিয়ে ওর নামে অ্যাকাউন্ট খুলে দিন কারণ ব্যাংকে আজকাল এই সুবিধা রয়েছে। ব্যাংকের খাতায় নিজের নামে টাকা জমা করতে শেখান বাচ্চাকে। ওকে শেখান বর্তমানে অল্প অল্প করে জমানো টাকায়, ভবিষ্যতে কোনও বড়ো প্রযোজন মেটাতে পারবে।

অপ্রযোজনীয় খরচ করার লোকসান বুঝিয়ে বলুন

বাচ্চারা অনেক সময় জিনিস নষ্ট করে। যেমন পেনসিল একটু ছোটো হলেই ডাস্টবিনে ফেলে দেয় বা খাতার পাতা ছিঁড়ে ফেলে। আঁকিবুঁকি কেটে খাতার পাতা নষ্ট করে। দু-তিন পাতা লিখে বাকি খাতা ফেলে দেয়। বাচ্চাকে বলুন গাছ কেটে কাগজ তৈরি হয় সুতরাং পাতা নষ্ট করা মানে, আর একটা নতুন গাছ কাটবার প্রস্তুতি নেওয়া। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয় সুতরাং গাছের বেঁচে থাকা খুব দরকার।

এছাড়াও বিস্কুট, চকোলেট, কোল্ড ড্রিংক, পিৎজা-বার্গার ইত্যাদি খাওয়ার জেদ বাচ্চারা করেই যেটার জন্য বাড়ির খরচার বাজেট বেড়ে যায়। ফাস্টফুড খাওয়ার জন্য বাচ্চাদের শরীর স্বাস্থ্যও খারাপ হয়। স্থূলতা এবং ওবেসিটির শিকার হয় তারা। চাইলেই পাবে এমন অভ্যাসে তারা অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। সুতরাং তাদের বোঝানো দরকার এই ধরনের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। নয়তো তাদের জেদ পূরণ করতে গেলে বাড়ির বয়স্ক ব্যক্তিদের ওষুধের টাকায়, বাড়ির পোষ্যটির খাবারে টান পড়তে পারে।

বাচ্চারা এটা সহজেই বুঝবে কারণ তারা বাড়িতে দাদু, ঠাকুমা এবং পোষ্যের প্রতি খুবই সংবেদনশীল হয়। এর ফলে নিজে থেকেই মিতব্যয়ী হয়ে উঠতে পারে এবং সঞ্চয় করার ইচ্ছা মনের মধ্যে জাগতে পারে।

বাড়ির বাজেট বানানোর সময় বাচ্চাকেও শামিল করুন। বাড়ির বাজেট যখন বানাচ্ছেন তখন বাচ্চারও মতামত নিতে ভুলবেন না।

টাকা-পয়সার চিন্তা, অসুবিধা, আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধবকে দেওয়া-নেওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলি বাচ্চার কাছে গোপন রাখবার চেষ্টা করা উচিত নয়। কিছুদিন পর থেকেই বাচ্চাও আপনার অবস্থার একটা মোটামুটি ছবি মনের মধ্যে এঁকে নিতে পারবে এবং ধীরে ধীরে দেখবেন আপনার বাচ্চা অকারণ খরচ করা ছেড়ে দিয়েছে এবং সঞ্চয় করার মানসিকতা তার মধ্যে বিকশিত হচ্ছে।

বাচ্চার সঞ্চয় থেকে তাকে প্রযোজনীয় জিনিস কিনে দিন

আপনার সন্তান হয়তো বিশেষ কোনও জিনিসের জন্য কিছুদিন ধরে আপনাকে বলছে যেমন, পড়ার টেবিল-চেয়ার হতে পারে, টেবিল ল্যাম্প বা ভিডিও গেম্স-ও হতে পারে। এগুলোর যে-কোনওটা তার সঞ্চয় করা অর্থ থেকেই ওকে কিনে দিন। এতে বাচ্চার সঞ্চয়ের প্রতি উৎসাহ বাড়বে। আপনার কিনে দেওয়া জিনিসের প্রতিও আপনার বাচ্চার যত্ন বাড়বে।

বাচ্চাকে ক্রিয়েটিভ বানান

বাড়ির পুরোনো জিনিসপত্র দিয়ে প্রযোজনীয় কোনও জিনিস বানানো শেখান। খালি কাচের শিশি দিয়ে পেন স্ট্যান্ড অথবা আইসক্রিমের স্টিক দিয়ে ল্যাম্পশেড ইত্যাদি ক্রাফ্ট বানানো ওকে শেখাতে পারেন। এতে বাচ্চার ক্রিয়েটিভিটি বাড়বে এবং ছোটো থেকেই সব জিনিসকেই গুরুত্ব দিতে শিখবে। এতে আপনারও অকারণ খরচা বাড়বে না।

হাতখরচ কমানো

প্রতি মাসে বাচ্চাকে হাতখরচ দেওয়া ছাড়াও তাকে হাতখরচ কমাতে উৎসাহিত করুন। এছাড়াও বাচ্চা বাড়ির কোনও কাজ করে দিলে বা ছোটো ভাই-বোনকে হোমওয়ার্ক করতে সাহায্য করলে অথবা নিজের ঘর পরিষ্কার করলে, উপহার হিসেবে তাকে কিছু টাকা দিন। সেই টাকা তাকে পিগি ব্যাংক-এ ফেলতে তাকে উৎসাহিত করুন। কাজের বদলে হাতে টাকা পেলে বাচ্চা আনন্দ পায়। তখন পরিশ্রমের গুরুত্ব এবং টাকার মূল্য বুঝতে পারে।

সঞ্চয়ের জন্য পুরস্কার দিন

সঞ্চয় করা আপনার সন্তান শিখে গেলে তাকে পুরস্কৃত করা জরুরি। আপনার কথামতো যদি ওই অঙ্কের মূল্যরাশি জমা করে ফেলতে পারে, তাকে বাহবা দিন, পুরস্কৃত করুন। নতুন পোশাক কিনে দিন বা তার পছন্দের খাবার কিনে দিন আপনার সাধ্যমতো। বাচ্চা যতটা জমিয়েছে সেই সমপরিমাণ অর্থ আপনিও তার অ্যাকাউন্টে জমা করে দিন। এতে বাচ্চার উৎসাহ বাড়বে এবং আরও বেশি সঞ্চয়ের লক্ষ্যে বাচ্চা এগিয়ে আসবে।

 

বাচ্চার উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে কেরিয়ারের চাপ

সব অভিভাবকদেরই স্বপ্ন থাকে তাদের সন্তান বড়ো হয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হোক। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়র বা চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। ছোটো থেকেই বাচ্চার মস্তিষ্কে এটা গেঁথে দেওয়া হয়, একজন কেউকেটা তাকে হতেই হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কেরিয়ারের এই চাপ সহ্য করতে না পেরে শিক্ষার্থী, কম্পিটিটিভ পরীক্ষার মার্কশিট নকল করেও বাড়িতে মা-বাবাকে দেখায়।

বাচ্চাদের মধ্যে এই অপরাধপ্রবণতার জন্য দায়ী কিন্তু আসলে তাদের মা-বাবাই। বড়োরা নিজেদের পছন্দের পেশাকে জোর করে নিজেদের সন্তানকে গ্রহণ করার জন্য জবরদস্তি করা থেকেই, এই মিথ্যার আশ্রয় নেওয়াটাই একমাত্র উপায় বলে বাচ্চারা ভেবে নেয়। অনেক ক্ষেত্রে বাচ্চারা নিজেদের পছন্দ মা-বাবাকে জানালেও তাদের বকে ধমকে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়। বোঝানো হয় মা-বাবাই সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। অথচ অভিভাবকেরা এটা বোঝার চেষ্টা করেন না যে, তাঁর সন্তানের যোগ্যতা কতটা, কী তার মনের ইচ্ছা, কোন পেশা তার পছন্দের।

কৌশিক না-তো ইঞ্জিনিয়র হতে চেয়েছিল আর না ম্যানেজমেন্ট পড়ায় তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল। কিন্তু তার বাবার জেদ, ছেলে ইঞ্জিনিয়রই হবে। তার ইচ্ছের কথা জানতে না চেয়ে টুয়েলভ পাশ করতেই তাকে বেঙ্গালুরু পাঠিয়ে দেওয়া হল ইঞ্জিনিয়রিং পড়তে। কিন্তু দুবছরের মধ্যেই কৌশিক বেঙ্গালুরু ছেড়ে কলকাতায় বাড়িতে ফিরে এল কারণ পড়াশোনাতে মন বসাতে পারছিল না। মায়ের জেদ রাখতে ম্যানেজমেন্ট-ও ট্রাই করল কিন্তু সেখানেও অসফল হল। অথচ প্রথমেই যদি তার মা-বাবা ছেলের কথা শুনতেন! কৌশিক এগ্রিকালচারাল লাইন-এ যেতে চেয়েছিল। কিন্তু পরিণাম আজ এই দাঁড়িয়েছে যে, সে আজও বেকার এবং কোনও জিনিসে তার কোনও আগ্রহ নেই।

বন্দনার মা-বাবা ইন্দোরে থাকেন। হঠাৎ-ই কোটা থেকে মেয়ের একটা চিঠি পেলেন, তাতে লেখা, আমাকে ক্ষমা করে দিও। তোমরা যা চেয়েছিলে সেটা পূরণ করতে আমি অসমর্থ। কিন্তু প্লিজ তোমরা ছোটো ভাইয়ের উপর কেরিয়ারের প্রেশার দিও না। ও যা পড়তে চায় ওকে পড়তে দিও। এর দিন দশেকের মধ্যেই বন্দনার আত্মহত্যা করার খবর পেলেন ওর অভিভাবকেরা। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে বন্দনাকে কোটায় পাঠানো হয়েছিল।

সমাজকে সচেতন করার জন্য এই ধরনের ঘটনাই যথেষ্ট। কারণ দুটো ক্ষেত্রেই জোর করে বাচ্চাদের অপছন্দ সত্ত্বেও, তাদের উপর বিপরীত কেরিয়ার গড়ে তুলতে প্রেশার দেওয়া হয়েছিল। মা-বাবার স্বপ্নপূরণ করতে না পারায় এই দুটো ক্ষেত্রেই বাচ্চারা নিজেদের ক্ষতির রাস্তা বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে প্রত্যেক ঘন্টায় একজন ছাত্র আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। কারণ সকলের আশা থাকে তারা তাদের মা-বাবার স্বপ্ন অবশ্যই পূরণ করবে। অধিকাংশ অভিভাবকেরাই এখন কর্মরত সুতরাং সন্তানকে তারা যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না। নয় ক্রেশ-এ বাচ্চারা বড়ো হচ্ছে আর নয়তো আয়ার কাছে। অথচ আশা করা হয় এই বাচ্চাই বড়ো হয়ে মা-বাবার কথামতো চলবে। বহু সমীক্ষায় দেখা গেছে বাচ্চাদের মধ্যে ডিপ্রেশনের সংখ্যা বাড়ছে, ফলে তাদের হয় কাউন্সেলর নয় সাইকোলজিস্টদের কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বাচ্চাদের উপর সাইকোলজিক্যাল প্রভাব

১৯৯৮-তে পরীক্ষায় ভালো ফল করতে না পারায় আত্মহত্যার সংখ্যা যেখানে প্রায় ৪১ শতাংশ ছিল, ২০১৮ তে তা ২৬ শতাংশতে কমে এসেছে। এতে করে একটা কথা পরিষ্কার যে ধীর গতিতে হলেও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাইকোলজিস্টদের মতে এর মধ্যে বেশির ভাগেরই আত্মহত্যার কারণ হল ভালো রেজাল্ট করার জন্য অভিভাবকদের অত্যধিক চাপ। এর মধ্যে অধিকতর কেস মহারাষ্ট্র এবং তামিলনাড়ুর, যেখানে মা-বাবারা বাচ্চাদের হাইস্কুলে বিজ্ঞান এবং গণিত নিতে বাধ্য করেন যাতে ভবিষ্যতে তারা ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়র হতে পারে। অথচ বাচ্চাদের কী ইচ্ছে সেটাকে গুরুত্বই দেওয়া হয় না।

নেশার কবলে

কৈশোরে মা-বাবার অত্যধিক চাপে বাচ্চার মধ্যে অবসাদ জন্ম নেয় এবং অবসাদ থেকেই বাচ্চার শিশুমন বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। এই চাপ থেকে বেরোবার উপায় না পেয়ে বাচ্চা নেশার কবলে পড়ে। নিজের পছন্দের কাজ করতে যখন সন্তানকে বাধা দেওয়া হয়, তখনই ডিপ্রেশন থেকে নিজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে ফেলতে উদ্যত হয় সে। সুতরাং মা-বাবাকে সাবধান হতে হবে যে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রেশার বাচ্চার উপর দেওয়া চলবে না।

মা-বাবার কর্তব্য সন্তানকে সঠিক পথে চালনা করা। বাচ্চার মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা, কঠিন পরিশ্রম করতে শেখানো এবং তাদের মেধার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা। মা-বাবার দাযিত্ব তাদের সন্তানকে মেধা অনুযায়ী তার কেরিয়ার বাছতে সহযোগিতা করা।

ছেলে ও মেয়ের মধ্যে তফাত

অনেক সময় সন্তান ছেলে কি মেয়ে সেই অনুসারে তাদের ব্যবহার কী হওয়া উচিত সেটা অভিভাবকেরাই ঠিক করে দেন। যেমন মেয়ে সন্তানের ক্ষেত্রে খেলাধুলা, স্পোর্টস-এ যাতে সে অংশ না নেয় তার পরামর্শ দেওয়া হয়। ছেলেদেরকে নিজের ইমোশন, অনুভতি সর্ব সমক্ষে প্রকাশ না করতে শেখানো হয়। এর ফলে বাচ্চার মধ্যে হীনম্মন্যতা জন্ম নেয়।

বিশেষজ্ঞের মতামত

সাইকোলজিস্ট-রা মনে করেন ভারতীয় অভিভাবকদের লক্ষ্য বেছে নেওয়ার পদ্ধতি সঠিক নয়। বিদেশি সংস্কৃতি দ্বারা তারা প্রভাবিত। তারা দেখেন না যে তাদের সন্তান কীসে খুশি। অভিভাবকদের বোঝা উচিত বাচ্চার খুশি ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই। বাচ্চা নিজের লক্ষ্য তখনই ছুঁতে পারবে যখন সে খুশিমনে কোনও রকম চাপ ছাড়াই লক্ষ্যে পৌঁছোতে উদ্যত হবে।

কেরিয়ার প্রেশারে স্বাস্থ্যের খেয়াল

হাই মার্কস-এর জন্য শারীরিক ক্ষমতার অতিরিক্ত পড়াশোনা করা, বন্ধু অথবা সহপাঠীদের থেকে বেশি ভালো কলেজ অথবা প্লেসমেন্ট পাওয়ার দুশ্চিন্তা, ভালো মাইনের চাকরির চিন্তা, জবরদস্তি চাপিয়ে দেওয়া কেরিয়ারের প্রেশার, মনের মতো কেরিয়ার বাছতে না পারার দুঃখ ইত্যাদি বাচ্চাদের মধ্যে নানা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যা তৈরি করতে পারে। এগুলি বাচ্চার ভবিষ্যতের জন্য যেমন ক্ষতিকারক তেমনি প্রাণঘাতীও হয়ে উঠতে পারে। হাইপারটেনশন, ডিপ্রেশন, অ্যাংজাইটি, হার্টের অসুখ, শারীরিক দুর্বলতা, মাধাব্যথা, মাইগ্রেন, আত্মহত্যার প্রবণতা ইত্যাদি নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে বাচ্চারা।

বাবা-মায়ের উচিত সবসময় সন্তানের ব্যবহার এবং অনুভতির উপর কড়া নজর রাখা। বাচ্চার বিশ্বাস অর্জন করা। তাদের কথার বিরোধীতা না করা এবং ধৈর্য ধরে তাদের সমস্ত কথা শোনা। বাচ্চার উপর বিশেষ কেরিয়ার বা নিজের ইচ্ছে চাপিয়ে দেওয়া কখনওই সঙ্গত নয়। যে-ফিল্ড বাচ্চা বেছে নিতে চায় সেটাতে সম্মতি দেওয়ার চেষ্টা করুন।

বাচ্চার কেরিয়ারের জন্য ফাইন্যানশিয়াল প্ল্যানিং

মাত্র ২৪ শতাংশ মা-বাবা সন্তানের কেরিয়ারের জন্য অর্থের ব্যবস্থা আগে থেকেই করে রাখেন। বেশিরভাগ মা-বাবা সন্তানের পড়াশোনার জন্য একটা বাজেট ঠিক করেন কিন্তু বাস্তবিক সঞ্চয়ের জন্য কোনও পদক্ষেপ নিয়ে উঠতে পারেন না। সুতরাং ইচ্ছেমতো বাচ্চা পড়তে চাইলেও অর্থাভাবে সেটা অনেক সময়ে হয়ে ওঠে না। ফলে কেরিয়ার নিয়ে অনেকবার বাচ্চাকে চাপে পড়তে হয়।

 

 

সামার স্ট্রেস এড়াতে

সূর্য পারদ চড়াচ্ছে বলে তো আর অফিস যাওয়া বন্ধ রাখা যায় না। ফেলে রাখা যায় না নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। তাই এই দগ্ধানো তাপের সঙ্গে ‘পাঙ্গা’ নেওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন। হালফিল সময়ের মেয়েরা যে-কোনও চ্যালেঞ্জকেই নিতে পারেন হাসিমুখে। ক্লান্তি নিবারণী কিছু টোটকাও তাই তারা বের করে ফেলেছেন, যাতে করে এই দুর্দান্ত গ্রীষ্মের চোখরাঙানিকেও ‘ডোন্ট কেয়ার’ করা যাবে।

এই অসহনীয় তাপের প্রকোপে সবচেয়ে বড়ো সমস্যাটা হল এনার্জি লেভেল ড্রপ করা। সুতরাং নিজেকে পুনরায় এনার্জিটিক করে তুলতে কিছু ফুড সাপ্লিমেন্টস-এর প্রয়োজন রয়েছে। বিভিন্ন নিউট্রিশনিস্টদের পরামর্শ মতো এখানে আপনার জন্য কিছু তথ্য একত্রিত করা হয়েছে, যা আপনাকে প্রাণচঞ্চল থাকতে সাহায্য করবে।

ফুড সাপ্লিমেন্টস-এর সহজ বিকল্প

এনার্জি বাড়ানোর প্রাথমিক শর্ত হল প্রত্যেকদিন ফুল কোর্স ব্রেকফাস্ট করা। কারণ সকালের এই আহার আপনাকে সারাদিনের প্রয়োজনীয় এনার্জির জোগান দেবে। তাই এমন খাবার ব্রেকফাস্ট-এ রাখুন যাতে প্রোটিন ও ফাইবারের মাত্রা বেশি থাকে আর সুগার ও ফ্যাটের পরিমাণ কম থাকে। ব্রেকফাস্টে তাই ফল, বিনস, স্প্রাউট্স প্রভৃতি অবশ্যই রাখুন।

ক্লান্তি নিবারণের জন্য প্রয়োজন হেলদি ডায়েট। আপনার ডায়েটে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফাইবার ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাদ্য অবশ্যই রাখুন। শরীরকে অ্যাক্টিভ রাখতে এগুলো অত্যন্ত জরুরি।

ওটমিল – স্ট্রেস ও ক্লান্তি কমাতে ওটমিল একেবারে পারফেক্ট খাবার। এতে উপস্থিত কার্বোহাইড্রেট, গ্লাইকোজিনের আকারে শরীরে জমা হয়, ফলে দিনভর আপনার মস্তিষ্ক ও মাংসপেশিগুলো সক্রিয় থাকে। এছাড়াও এই খাবারের পৌষ্টিক গুণ, এনার্জি লেভেল বাড়াতে সাহায্য করে।

হার্বাল ড্রিংক – হার্বাল ড্রিংক, যেমন আমলকী বা অ্যালোভেরা জুস বা গ্রিন-টি, শরীরের এনার্জি লেভেল-কে ধরে রাখে। এর কারণ এই ধরনের পানীয়গুলোতে এমনই পৌষ্টিকগুণ থাকে, যা আমাদের ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে। এখন বাজারে নানা রকমের হার্বাল-টি পাওয়া যায়, যাতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট্স-এর এবং ফ্ল্যাভোনাইড-এর উচ্চমাত্রায় উপস্থিতির ফলে, শরীরের হারানো এনার্জি পুনরুজ্জীবিত হয়, পাচনতন্ত্র মজবুত হয়, এবং ডিটক্সিফিকেশনের কাজটিও হয়ে যায়।

কলা – কলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে, যা শরীরে উপস্থিত শর্করাকে এনার্জিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে। এছাড়া কলায় আরও অনেক পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে, যার দ্বারা স্ট্রেস কমে, মাসল্ পেন কমে এবং ক্লান্তি দূর হয়।

আখরোট – গ্রীষ্মকাল, সুতরাং গরমে কষ্ট হবে ভেবে রেগুলার ওয়ার্কআউট কিন্তু ছাড়বেন না। ওয়ার্কআউট অবশ্যই করুন, কিন্তু তারপর কয়েকটি আখরোট খেয়ে নিন। ক্লান্তি দূর করতে, ফাইবারযুক্ত আখরোট অত্যন্ত কার্যকর। এগুলি ওমেগা-৩ ও ফ্যাটি অ্যাসিড-এ ভরপুর, ডিপ্রেশান দূর করতে সহায়ক।

দই – দই-তে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে। যা ক্লান্তির সঙ্গে যুঝতে সাহায্য করে। যখনই এনার্জির প্রয়োজন বোধ করবেন খানিকটা টক দই খেয়ে নেবেন। কাজে গতি ফিরে আসবে। তবে খেয়াল রাখুন দইটা যেন ডাবল টোনড দুধের হয়।

পালং শাক – ক্লান্তি উপশমের জন্য হাতে-গরম টোটকা হল আয়রন-এ সমৃদ্ধ পালং শাক খাওয়া। মেটাবলিজম বাড়ানোর কাজেই বলুন বা এনার্জি লেভেল নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য– পালং শাক একেবারে অব্যর্থ দাওয়াই।

পি-নাট বাটার – এই জিনিসটিতে নিউট্রিয়েন্টস্, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট্স ও ভিটামিন মজুদ রয়েছে। এর প্রত্যেকটিই আপনার শরীরের কোনও না কোনও উপকারে লাগে। পি-নাট বাটার-এ রয়েছে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, যা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল লেভেল কমায় এবং প্রয়োজনীয় কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে।

বিন স্প্রাউট্স – অঙ্কুরিত মুগ বা ছোলা শরীরকে মজবুত করতে সাহায্য করে। প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

কফি – কফির সঠিক পরিমাণ শরীরের এনার্জি বুস্ট আপ করে ও ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। কফি খাওয়ার পর ওই জন্য ভেতর থেকে একটা শক্তি অনুভব করবেন।

ড্রাই ফ্রুটস – শুকনো খেজুর, কিশমিশ, মুনাক্বা, চিলগোজা, বাদাম প্রভৃতি ড্রাইফ্রুট শরীরে শক্তি জোগায়। এগুলি নিয়মিত খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং রোগের সঙ্গে লড়ার ক্ষমতাও বাড়ে।

জল – শরীরকে হাইড্রেট করতে, ক্লান্তি হঠাতে জলের কোনও বিকল্প নেই। প্রচুর জল খান যাতে ডিহাইড্রেশন রোধ হয়। শুধু জল ছাড়াও, ডাবের জল বা যে-কোনও ফলের রস খুবই উপকারী।

গয়নার গপ্পো

সমস্ত আনন্দ অনুষ্ঠানেই গয়না পরার একটা রেওয়াজ আমাদের দেশে রয়েছে। পাঁচ হাজার বছর আগেও ভারতীয় মহিলা এবং পুরুষেরা সোনার গয়নায় নিজেদের শরীর ঢেকে রাখতেন। গয়না এবং নারী এই দুয়ের সম্পর্ক চিরন্তন। গয়না পরার সংস্কৃতি আজও বিদ্যমান। শুধু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পছন্দ, তৈরির পদ্ধতি, ডিজাইন ইত্যাদির হেরফের হতে দেখা যায়। ইতিহাসের যুগ থেকেই রাজারাজড়া থেকে শুরু করে সমাজের মাথা যারা ছিলেন, সকলেই শিল্প এবং শিল্পীদের কদর দিয়ে এসেছেন যাতে তারা নিজেদের শিল্পকলাকে আরও উন্নত মানের করে তুলতে পারেন। সব ধরনের গয়নারই চাহিদা রয়েছে ভারতে। যার মধ্যে সোনার গয়নার মহিমা আজও আগের মতোই উজ্জ্বল। এছাড়াও রুপো, হিরে, প্ল্যাটিনামের গয়নার জনপ্রিয়তাও এখন ধীরে ধীরে ভারতীয় গয়নার সাম্রাজ্যে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে।

ভারতের আলাদা আলাদা রাজ্যে সেখানকার লোকপরম্পরা অনুযায়ী বিভিন্ন রকমের গয়নার ডিজাইন করা হয়। সাধারণত পোশাক অনুযায়ী কী গয়না পরা হবে সেটা ঠিক করা হয়। এমনকী ডিজাইনের থিম এবং গয়নার রং-ও পছন্দ করা হয় পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে। গয়নাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে নানা রকমের দামি পাথর এবং হিরে দিয়ে গয়নার অলংকরণ করা হয়। সংস্কৃতি অনুযায়ী ভারতীয় গয়না তৈরি হয় ভারী এবং অনেক বেশি সোনা দিয়ে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দাম ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে হালকা এবং অল্প সোনায় পছন্দসই গয়না বানানোর রেওয়াজ শুরু হয়ে গেছে। স্বর্ণকাররা যাতে গ্রাহকদের ঠকাতে না পারে তার জন্যে হলমার্কযুক্ত সোনার গয়নারও কদর বেড়ে চলেছে এবং সতর্ক ক্রেতারাও এখন হলমার্ক দেখেই সোনার গয়না কিনছেন।

দুই ধরনের সোনার গয়না এখন তৈরি হয়। একটা ছাঁচে বানানো হয় অন্যটি হাতে তৈরি করা হয় (হ্যান্ডমেড)। ছাঁচের গয়না হালকা এবং কম বাজেটের হয়। খুব কম ডিজাইনই হয় এই ধরনের গয়নায়। তুলনায় হ্যান্ডমেড সোনার গয়নার কোয়ালিটি ভালো হয়। এটিতে সোনা একটু বেশি লাগে এবং দেখতেও আকর্ষণীয় হয়। বিয়ের গয়নায় (সোনা) ডিজাইন বলতে বেশিরভাগই পছন্দ করেন, হাঁস, ময়ূর, মাছ অথবা সাপের ডিজাইন। ফুল, লতাপাতার ডিজাইনও এখন ফ্যাশনে বিশেষ ভাবে ইন। বিয়ের গয়নায় এখন একটা নতুন ট্রেন্ড লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিয়ের দিনটির জন্য ভারী গয়না কেনা হয় ঠিকই কিন্তু আজকাল এমন ভাবে ছোটো ছোটো অংশকে একসঙ্গে যুক্ত করে গয়নাটা তৈরি করা হয় যে প্রয়োজন অনুযায়ী গয়নাটি থেকে একটা করে অংশ খুলে রেখে ইচ্ছেমতো গয়নাটাকে হালকা এবং ছোটো করে নেওয়া যায়। সোনার গয়না সকলের পছন্দের আরও একটি কারণ এর সহজ লিকুইডিটি ভ্যালু।

প্রাচীন সময়ের ভারী সোনার গয়না এখন খুব বেশি আর তৈরি হয় না। অ্যান্টিক জুয়েলারি নামে এই গয়না জনপ্রিয়। এই গয়নার, ডাল এবং রাফ লুক-এর আকর্ষণ ক্রেতাদের দৃষ্টি সহজে আকৃষ্ট করে। নেকলেস, কানবালা, কোমরবন্ধ, কঙ্গন, মানতাসা ইত্যাদি গয়নার কদর সেই প্রচীন যুগ থেকেই।

বিডস জুয়েলারিও যথেষ্ট পপুলার ক্রেতাদের কাছে। সোনা, রুপো, তামা, হাতির দাঁতের, কাঠের, মাটির বিডস-এর গয়না ক্রেতাদের যথেষ্ট পছন্দের।

অনেক জুয়েলারি দোকানেই ক্রেতাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে, নিজের পছন্দের ডিজাইন দিয়ে গয়নার অর্ডার দেওয়ার। ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী গয়নার ডিজাইন দেওয়ার স্বাধীনতা সেখানে থাকে। কাস্টমাইজড্ জুয়েলারি-র সুবিধা এখন অনেক গয়নার দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে।

ফিলিগ্রির কাজ বহু প্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে গয়নার ডিজাইনে। তবে রুপোর গয়নাতেই এই কাজ বেশি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। ওড়িশায়, প্রধাণত গয়নায় এই কাজের বাহুল্য রয়েছে।

গুজরাতে হাতির দাঁতে-র জুয়েলারির চল রয়েছে। ওখানে নতুন বউকে হাতির দাঁতের চুড়ি দেওয়া হয় পরিবারের তরফ থেকে (মামার বাড়ি) যেটা বিয়ের দিন মেয়েকে পরতে হয়। তবে এখন হাতির দাঁত ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় বলে সাদা প্লাস্টিক দিয়েও এই চুড়ি তৈরি হচ্ছে।

সোনার গয়নায় মোগল সাম্রাজ্যের শিল্পকলার উদাহরণ দেখতে পাওয়া যায়। জড়োয়া, কুন্দন, মিনাকারি কাজের জন্য গুজরাতি, রাজস্থানি কারিগরদের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। নবরত্নের গয়নাও ভারতীয় শিল্পকলার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। নয় রকমের অসপিসিয়াস (শুভলক্ষণযুক্ত) পাথর সোনার উপর বসিয়ে গয়না বানানো হয়। টেম্পল জুয়েলারি-রও একটা বিশেষ জায়গা রয়েছে। প্রধানত মন্দিরে দেব-দেবীর অঙ্গশোভার কাজে এই গয়না ব্যবহূত হতো। ওজনে ভারী এই সোনার গয়নার চল এখন অনেক কম হলেও এই গয়নার ডিজাইন খুবই জনপ্রিয়। দক্ষিণভারতে এই ডিজাইনের গয়নার প্রচলন বেশি।

গয়নার গপ্পো করতে বসে ট্রাইবাল গয়নার কথা না বললেই নয়। ভারতে যত রকম আদিবাসী রয়েছে, প্রত্যেকেরই গয়নায় তাদের নিজস্ব কিছু আলাদা স্টাইল আছে। আদিবাসীদের মধ্যে হাড়ের, মাটির, কাঠের, ঝিনুকের এবং বিভিন্ন রকমের ধাতুর গয়নারই চল বেশি। ডোকরার গয়না যেমন সারা ভারতে অত্যন্ত জনপ্রিয়। মধ্যপ্রদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সর্বত্রই এই ডোকরা শিল্পের আধিক্য রয়েছে। এই ধরনের আদিবাসী শিল্পকলা নিয়ে সোনার গয়নার প্রস্তুতকারকরাও নানা ধরনের পরীক্ষা চালাচ্ছেন। ট্রাইবাল গয়নার প্রতিফলন সোনার গয়নাতেও এখন যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বিশেষ করে আধুনিকাদের মধ্যে।

সুতরাং সময়োপযোগী গয়নায় ডিজাইনের তারতম্য ঘটতে থাকলেও গয়নার চাহিদা এবং জনপ্রিয়তা আজও এতটুকু ম্লান হতে পারেনি।

হট হেয়ার কালারস্

ঋতুবদলের সময়টাতে মনের উপর একটা প্রভাব ফেলে। গ্রীষ্ম থেকে বর্ষা আসছে। আকাশে মেঘের ঘনঘটা চোখে পড়তে এখনও যদিও বেশ কিছুদিন বাকি তবুও মনে একটু একটু করে আশা জাগছে। বৃষ্টি এলে তবেই গরমের দাবদাহ একটু কমবে কিন্তু তাই বলে নিজেকে শ্যাবি করে রাখবেন কেন? মনে আনুন রঙের ছোঁয়া। আর সেই জন্যই হেয়ার কালারের সাহায্য নিন। আপনার লুক-এ বদল আনবে ফাংকি হেয়ার কালারস্। ফ্যাশনে কোন কোন রং এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে, সেগুলো শুধু একবার জেনে নিন।

ওয়েভি মিন্ট গ্রিন হেয়ার

এই প্যাস্টেল গ্রিন শেড আপনার মেক-ওভারে বেশ একটা বদল আনবে। বিচি (Beachy) ওয়েভস্-এর সঙ্গে মিলিয়ে যদি মিন্ট গ্রিন শেড-টা দেওয়া যায় চুলে, তাহলে একটা বার্বি ডল এফেক্ট আসবে আপনার মেক ওভার-এ।

রেব্যান হেয়ার উইথ হাইলাইট্স

চুলের গ্লসি ব্ল্যাক-এর সঙ্গে পিংক, পার্পল আর ব্লু-শেডস্-এর স্ট্রিকস্ লাগান। এই ধরনের কালার কম্বিনেশন-এ ভাইব্র্যান্ট শেড-এর সঙ্গে চুলের ব্ল্যাক কন্ট্রাস্ট– বেশ একটা পরিবর্তন আনবে আপনার লুকস্-এ।

ইউনিকর্ন হেয়ার

গর্জিয়াস ও ম্যাজিকাল অ্যাপিলের জন্য গ্রে ও পার্পল কম্বিনেশন করে হাইলাইট করলে, যে-কোনও ওয়েস্টার্ন আউটফিটের সঙ্গেই মানানসই হবে।

ডেনিম ব্লু হেয়ার কালার

নাম থেকেই স্পষ্ট, হেয়ার কালারিং-এর এই প্যাটার্নটি ডেনিম জিনস দ্বারা অনুপ্রাণিত। কেউ কেউ ব্লু-এর সঙ্গে সিলভার স্ট্র্যানড্স ও রাখছেন। এতে ওভারঅল লুক খুব হট হয়।

রেনবো হেয়ার

চুলে মাল্টিপল্ কালার ব্যবহার করে রেনবো লুক পেতে পারেন। বোল্ড অ্যান্ড স্মার্ট পার্সোনালিটির জন্য, অনেকেই পছন্দ করছেন এই রেনবো হেয়ার কালার।

টার্কোয়াইজ ব্ল্যাক

টার্কোয়াইজ-এর সঙ্গে ব্ল্যাক কম্বিনেশন-এ বরাবরই খুব ভাইব্র্যান্ট লাগে। তাই ব্ল্যাকের সঙ্গে মিলিয়ে মিশিয়ে কিছু স্ট্র্যানড্স ব্লু রাখলে, গোটা গেটআপটায় নজরকাড়া পরিবর্তন আসবে। এরপর হেয়ার টুইস্ট করে ক্লাচার আটকে রাখলে দারুণ স্টাইলিশ দেখাবে।

কেমন হবে বিয়ের বেনারসি

বাঙালি বিয়ে বেনারসি ছাড়া ভাবা যায় না। পরম্পরাগত অভ্যাস আজও বাঙালি দূরে ঠেলে দিতে পারেনি। যদিও আচার-রীতি-অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে অনেক পরিবর্তন তারা স্বীকার করে নিয়েছেন। তবুও তাদের আদরের কন্যাকে বিয়ের আসরে তারা দেখতে চান লাল বেনারসি আর চোলিতে।

বর্ণাঢ্য এই জমকালো বিয়ের শাড়ির জন্মস্থান ‘বেনারস’। ইতিহাসের পাতায় পাতায় বেনারসির ঐতিহ্য খোদাই করা। মসৃণ রেশমের শাড়ির গায়ে সোনালি বা রুপোলি জরির বর্ণময় সাবেক শৈলীটি বেনারসের নিজস্ব সম্পদ।

১৭ শতকে বেনারসি শাড়ি তৈরি হওয়া শুরু হলেও তা উৎকর্ষতার শীর্ষে পৌঁছোয় ১৯ শতকে। মোগল আমলে কলকা আর লতাগুল্মের ঠাস বুননে এক একটা শাড়ি নান্দনিকতা এবং শিল্পকর্মের চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। তিনজন কারিগরের মিলিত প্রচেষ্টায় ১৪ দিন থেকে ৬ মাস লেগে যায় এক একটি শাড়ি তৈরি করতে। শাড়ির নকশার উপর নির্ভর করে কতটা সময় লাগবে।

শুধুমাত্র কনের সাজই নয়, বিয়ের আসরে সম্ভ্রান্ত রুচির গৃহিণী তথা কমবয়সি আধুনিকাদের অঙ্গেও শোভা পায় চিরকালীন বেনারসি। এককথায় বলা যেতে পারে বাঙালি বিয়ের ঐতিহ্যকে আজও অক্ষুণ্ণ রেখেছে বেনারসি শাড়ি।

মূলত চার ধরনের বেনারসি শাড়ি প্রস্তুত হয়। পিওর সিল্ক কাতান বেনারসি, অর্গাঞ্জা বা কোরা বেনারসি, তাঞ্চই বেনারসি এবং টিস্যু বেনারসি। জর্জেট এবং শাত্তির – এই দুটো ফ্যাব্রিকও এখন বেনারসিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে ট্র্যাডিশনাল নকশার পাশাপাশি কলকা, বুটি, জংলা, ভাসকাট, কাটওয়ার্ক ডিজাইনের চাহিদা বহুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। মোগল জমানায় মুসলিম কারিগরদের নকশার ধারাবাহিকতা আজও অক্ষুণ্ণ– তবে নকশায় হেরফের আনতে এই সময়ের তাঁতিরাও বেনারসি নিয়ে বহু পরীক্ষানিরীক্ষা চালাচ্ছেন।

কাতান – সিল্কের সুতোর ঠাস বুনোটে এই শাড়ি তৈরি করা হয়। গিনি বুটি থেকে শুরু করে নানা ধরনের জংলা নকশা এবং লতাগুল্মের নকশা ফুটিয়ে তোলা হয় জরির ব্যবহারে।

তাঞ্চই – জামেওয়ার নকশার সাবেক বর্ণাঢ্যতাই এই শাড়ির মূল বৈশিষ্ট্য। সম্প্রতি নকশায় তারতম্য আনতে আঁচল এবং বর্ডারের কাজে আলাদা আলাদা নকশার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। আঁচলে কলকা থাকলে বর্ডারে রাখা হচ্ছে জ্যামিতিক প্যাটার্ন।

টিস্যু – সোনালি জরির ঠাস বুনোটে তৈরি করা হয় এই শাড়ি। নকশার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল জলে ভাসা পদ্ম। আঁচল এবং কুঁচির নকশায় সামঞ্জস্যতা বজায় রাখা হয়।

কাটওয়ার্ক – করাতকাজ নকশার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয় এই শাড়িতে। জুঁই, গাঁদাফুল, লতাপাতার মোটিফ বেশিমাত্রায় প্রয়োগ করা হয়।

বুটিদার – ডার্ক রঙের পিওর সিল্কের উপর সিল্কসুতো, সোনালি ও রুপোলি জরির কাজ এই শাড়িকে আকর্ষণীয় করে তোলে। জরি বুটি, লতাপাতা বুটি, আঙুরগুচ্ছ আশরফি বুটি, রেখা বুটি, ঝুমুর বুটি, লতিফা বুটি, বালুচরি বুটি ইত্যাদি নকশার মেলবন্ধন ঘটে এই সব শাড়িতে।

এখন অনেকেই সাবেক বেনারসি ছেড়ে হাফ অ্যান্ড হাফ বেনারসি পছন্দ করছেন। এতে শাড়ির বেসটা কাতান রেখে ঘিচা বা চান্দেরির কম্বিনেশন করা হচ্ছে। কখনও ঘিচার সঙ্গে পশমিনারও মিক্স অ্যান্ড ম্যাচও করা হচ্ছে। এই শাড়িগুলি দেখতে অনেকটা মেখলার মতো। এছাড়াও লহঙ্গার অনুকরণে কাতানে সিকুইন্স, জরদৌসির ভারী নকশা ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে, সঙ্গে নকশাদার ব্লাউজ। স্টোন বসানো ব্রোকেডের কাজও এখন বেনারসি শাড়িতে খুব চলছে। ডবল শেডের বেনারসি শাড়িও এখন অনেকে বাছছেন তবে দুইরঙা জামেওয়ার এবং তাঞ্চই শাড়ির চাহিদা তুঙ্গে। রিসেপশনের জন্য এই দুইরঙা শাড়ির চাহিদা বেশি হলেও বিয়ের কনের জন্য কিন্তু লালের নানা শেড, ফুশিয়া ও ম্যাজেন্টাই রয়েছে পছন্দের শীর্ষে। পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে ষাট-পঁয়ষট্টি হাজার অবধি নানা দামের বেনারসি শাড়ি রয়েছে বিভিন্ন দোকানে।

 

স্বর্ণালংকারে সাজান কনেকে

মেয়ের বিয়ের দিন এগিয়ে আসছে, হাতে আর বেশি সময় নেই। আর বিয়ে মানেই বেনারসি শাড়ি, মেক-আপের পাশাপাশি হেভি জুয়েলারি। বিয়ের গয়না নিয়ে কমবেশি সকলেই চিন্তায় থাকেন, কী ধরনের গয়না কিনবেন, কোথায় যাবেন?

আভিজাত্যই বলুন কিংবা পরম্পরা, বিয়েতে গয়নাটা মাস্ট। সেই প্রয়োজনীয়তা মেটাতে হাজির পাড়ার মোড়ের ছোটোখাটো বিপণি থেকে শহরের নামিদামি জুয়েলারি শপ্। এর মধ্যে অবশ্যই উল্লেখযোগ্য সেনকো গোল্ড জুয়েলার্স, সুভাষ ব্রাদার্স, পি সি চন্দ্র জুয়েলার্স, এম পি জুয়েলার্স, গিরীশ প্যালেস এবং এ সরকারের মতো বিপণিগুলি, যেখানে গেলেই আপনি পেয়ে যাবেন আপনার সখ এবং সাধ্যের মধ্যে হরেকরকম ডিজাইনের গয়না।

গয়নার ডিজাইন, ভ্যারিয়েশন এবং দাম নিয়ে সম্প্রতি আমরা কথা বলেছিলাম, সেনকো গোল্ড জুয়েলার্সের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর শুভঙ্কর সেন এবং সুভাষ ব্রাদার্সের কর্ণধার সম্বিত দে-র সঙ্গে। তাঁদের মতানুযায়ী, মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত সব ধরনের ক্রেতার চাহিদার গুরুত্ব দেওয়া হয়। সাবেকিয়ানার ছোঁয়াও যেমন থাকে, তেমনই রাখা হয় আধুনিক ডিজাইনের গয়নাও। বিয়েতে মোটামুটি ভারী গয়নার চাহিদাই বেশি। নেকলেস, চূড়, বালা, মানতাসা, কানবালা, কানপাশা, ঝুমকো, ছেলের রিস্টলেট, বোতাম, গলার চেনের বিক্রিই বেশি। তবে পুরোটাই নির্ভর করে ক্রেতাদের পকেট কতটা পারমিট করবে তার উপর।

চিরাচরিত নকশা ছাড়াও চুড়ির মধ্যে পেয়ে যাবেন চতুষ্কোণ, বেঁকি চুড়ি সহ বিভিন্ন ধরনের স্টাইলিশ চুড়ি। নেকলেসের মধ্যে ট্র্যাডিশনাল সীতাহারের পাশাপাশি পাবেন অত্যাধুনিক ডিজাইনের চওড়া এবং সরু হার। চেনের মধ্যে রয়েছে মব চেন, বক্স চেন, গোট চেন, মেশিন চেন। চূড়ের মধ্যেও রয়েছে অভিনব ম্যাট ফিনিশের মিনে করা শৌখিন চূড়। তবে ঐতিহ্যবহনকারী রতনচূড়ের চাহিদা আজও অক্ষুণ্ণ। ফ্যাশনে ইন বিভিন্ন ধরনের গালা-ভরা বালা থেকে সলিড বালা। কানবালা এবং ঝুমকোর মধ্যেও থাকছে অত্যাধুনিক সব ডিজাইন। এছাড়া মকর, হাঙর এবং সিংহমুখী পলা-ই হোক বা শাঁখা বাঁধানোই হোক– বিয়ের গয়নার তালিকায় এর উপস্থিতি চিরাচরিত ভাবে চলে আসছে। তবে আজও এমন অনেক কনেই আছেন, যারা পারম্পরিক সূত্রে পাওয়া গয়নাকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। আবার অনেকেই বহুযুগ থেকে চলে আসা সেই একঘেয়ে ট্র্যাডিশনাল লুক বদলাতে পছন্দের তালিকায় রাখছেন ডায়মন্ড জুয়েলারি। হালফ্যাশনে অবশ্য কেউ কেউ আবার ভারী গয়নার বদলে ডেলি ইউজের জন্য হালকা জুয়েলারিও বেছে নিচ্ছেন।

তবে সবকিছুর পরে যেটা বলতেই হয়, সেটা হল বাজেট। সোনার দাম যেখানে অগ্নিমূল্য, সেখানে হিসেব কষে পা ফেলাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিপণিগুলি সেই কথা ভেবেই ক্রেতাদের সুবিধার্থে কিছু পকেট-ফ্রেন্ডলি প্যাকেজের ব্যবস্থা করেছে। যার মধ্যে ন্যূনতম প্যাকেজটি রাখা রয়েছে ১,৫০,০০০ টাকার। যার মধ্যে আছে– নেকলেস, ইয়াররিং, ব্রোঞ্জের দু-গাছা চুড়ি, আংটি, চেন এবং ছেলের আংটি। পরের প্যাকেজটি রয়েছে ২,৫০,০০০ টাকার। যার মধ্যে পাবেন নেকলেস, ইয়াররিং, গালা ভরা বালা, ব্রেসলেট, বর-কনের দুটি আংটি এবং একটি সোনার চেন। রয়েছে ৩,০০,০০০ টাকার প্যাকেজও। যার মধ্যে পেয়ে যাবেন নেকলেস, ইয়াররিং, গালা ভরা বালা, চূড়, দুটি আংটি ও একটি চেন। পাঁচ লক্ষ টাকার প্যাকেজে পাবেন সলিড বালা, চূড়, মানতাসা, নেকলেস, ইয়াররিং, দুটি আংটি ও একটি চেন। এছাড়া আপনি যদি মনে করেন প্যাকেজে কিনবেন না, আলাদা আলাদা ভাবে আপনার পছন্দ অনুযায়ী কিনবেন, তার ব্যবস্থাও রয়েছে। মোটামুটি নেকলেস এবং ইয়াররিং সেট কিনতে চাইলে, পড়বে প্রায় ৬৭,১৭৮ টাকা। ১,৫০,০০০ এর মধ্যে সলিড বালা এবং তার কমে গালা ভরা বালা পাওয়া যাবে। চূড় তৈরি করতে প্রায় এক লাখের মতন লাগবে। তাছাড়া এর থেকে কমেও গয়না কিনতে পারবেন। সেক্ষেত্রে কানের দুলের জন্য ৩ গ্রাম, নেকলেস ৭ গ্রামের মধ্যে এসে যাবে।

সুতরাং গয়না নিয়ে আর চিন্তাভাবনা না করে চলে যান নিজের পছন্দ অনুযায়ী যে-কোনও একটি জুয়েলারি শপ-এ, আর কিনে নিন আপনার বিয়ের অলংকার। তবে মাথায় রাখবেন যতটা সোনা-ই কিনুন না কেন, সেটা যেন হলমার্ক করা গয়নাই হয়।

 

বিয়ের টেনশন কাটিয়ে উঠুন

সম্পর্কের বন্ধনকে আরও বেশি করে দৃঢ় করে ‘বিয়ে’। একটা নতুন জীবনের শুরু, যেখানে জীবনের পরিবর্তনের সঙ্গে যোগ হয় বিবিধ দায়িত্বের বোঝা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বিয়ের দিনটার জন্যেই মাতামাতি বেশি থাকে। বিয়ের পরের সময়টার গুরুত্ব যে অনেক বেশি, তা নিয়ে মাথাব্যথা সকলেরই কম থাকে। আসলে বিয়ের দিনের অনুষ্ঠান পর্বকে চাকচিক্যে ভরিয়ে তোলাটাই মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়।

অথচ বিয়ের দিনের আগের মুহূর্ত পর্যন্ত পাত্র এবং পাত্রী উভয়েরই আসন্ন বিয়ে নিয়ে থাকে চাপা উত্তেজনা। তাদের কাছে শুধুমাত্র বিয়ের দিনটাই নয়, তার পরের জীবনটা নিয়েও থাকে বহু জল্পনাকল্পনা ও উদ্বেগ। যা মনে রয়েছে তা বাস্তবায়িত হয়ে উঠবে কিনা, এমন জিজ্ঞাসা থেকেই জন্ম নেয় উত্তেজনা। উভয়ের ক্ষেত্রেই নতুন পরিবার এবং নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার প্রশ্ন থেকেই যায়। সুতরাং বিয়ের আগে থেকেই যদি নিজেকে উপযুক্ত ভাবে গড়ে তোলা যায় তাহলে অতটা টেনশনে থাকার আশঙ্কা থাকে না। নিজেদের মানসিক ভাবে প্রস্তুত করার জন্যে যেমন রয়েছে প্রি-ম্যারেজ কাউন্সেলিং তেমনই ঘরোয়া কিছু উপায়ও রয়েছে টেনশন কাটাবার জন্যে।

বিদেশের মতো ভারতেও এখন ডিভোর্সের হার এতটাই বেড়ে গেছে যে, এখানেও প্রি-ম্যারেজ কাউন্সেলিং-এর প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেড়ে গেছে।

প্রি-ম্যারেজ কাউন্সেলিং-এর লাভ

১) একে অপরকে জানার এবং বোঝার সুবিধা।

২) বিয়ের আগেই জীবনসঙ্গীকে ভালো ভাবে পরখ করে নেওয়ার একটা সুযোগ পাওয়া যায়।

৩) পাত্র-পাত্রী উভয়েরই প্রয়োজনীয়তা উভয়েরই সামনে খোলা পাতা হয়ে দাঁড়ায়।

৪) আসন্ন বৈবাহিক জীবনে আসে পরিপূর্ণতা।

৫) ভবিষ্যতে মতভেদের কারণে কোন কোন বিষয়ে অসুবিধার সৃষ্টি হতে পারে, সেটা প্রথম থেকেই চর্চা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।

৬) বিবাহবিচ্ছেদের সম্ভাবনা অনেকাংশে কম হয়ে যায়।

প্রি-ম্যারেজ কাউন্সেলিং-এর সময় পাত্র-পাত্রী উভয়ের মধ্যে কী কী খামতি রয়েছে, দুজনের ব্যক্তিত্বের তফাত কতটা, একে অপরের কাছে কী ধরনের প্রত্যাশা রাখে, খোলাখুলি দুজনে দুজনের কাছে মনের কথা খুলে বলতে পারবে কিনা, নিজেদের জীবন এবং কেরিয়ার সম্পর্কে তারা কী ভাবছে, তাদের আর্থিক স্থিতি, সেক্স ও সন্তান নিয়ে তাদের কী ভাবনা এবং ভবিষ্যতে মতবিরোধ ঘটলে কে কীভাবে পরিস্থিতি সামলাতে সক্ষম, এমন নানা বিষয়ে বিশেষ করে জোর দেওয়া হয় ।

এই ধরনের বহু সমস্যা নিয়েই কাউন্সেলিং করা হয়ে থাকে, ফলত বিয়ের আগেই পাত্র-পাত্রী অনেকটা টেনশনমুক্ত হয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারে।

বাইরের পেশাগত সাহায্য ছাড়াও ঘরোয়া কয়েকটি উপায়ও রয়েছে বিয়ের আগের টেনশন কাটাবার জন্যে। বিয়ের দিনটির চাপ ছাড়াও সারা জীবনের সম্পর্ক যেখানে জুড়তে চলেছে, সেখানে প্রয়োজন হয় বাড়িতে থেকেও ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের তৈরি করা। মেডিটেশন, মাসাজ, যোগা, বিভিন্ন হবিতে নিজেকে ব্যস্ত রেখেও টেনশন অনেকটাই কমানো যায়। যেমন–

মিউজিক – ধীর মধুর সুদিং মিউজিক মনের চঞ্চলতা কমিয়ে তাকে শান্ত করতে সক্ষম। শরীরের মধ্যে জমে থাকা টেনশন কম করে জীবন এবং আত্মাকে সজীব করে তুলতে সাহায্য করে মিউজিক।

ব্রিদিং এক্সারসাইজ – টেনশন কমাতে বাড়িতেই ব্রিদিং এক্সারসাইজ করলে খুব ভালো লাভ পাওয়া যায়। শরীরের পেশিগুলোকে উত্তেজনামুক্ত করতে, সারাদিনে যে-কোনও সময়েই এই ব্রিদিং এক্সারসাইজ করা যায়। খুব সহজে এবং তাড়াতাড়ি এটি কাজ করে।

মেডিটেশন – মনের মধ্যে ক্রমাগত আসতে থাকা চিন্তাধারাকে মেডিটেশন কনট্রোল করে মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। ফলে মনে স্বচ্ছতা আসে। সারা দিনে ১৫ থেকে ২০ মিনিট মেডিটেশন করতে পারলেই যথেষ্ট।

শরীরের এক্সারসাইজ – শারীরিক শ্রম স্ট্রেস কমাতে অনেকটাই সাহায্য করে। শ্রমের কারণে শরীরে এনডরফিনের মাত্রা বেড়ে যায়, যেটি শরীরকে রিল্যাক্স রাখতে সাহায্য করে।

জীবন উপভোগ করুন – নিয়মে আবদ্ধ থেকেই যে শুধু রিল্যাক্স করা যায়, এমনটা মনে করা ঠিক নয়। নিজেকে কিছুটা হলেও ছাড় দেওয়া উচিত। বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সঙ্গে জীবনটাকে উপভোগ করা উচিত। বর্তমানকে উপভোগ করার নামই রিল্যাক্স করা। ভবিষ্যতে কী হবে এবং অতীতে কী হয়ে গেছে, তাই চিন্তা করে বর্তমানের মুহূর্তকে নষ্ট করা উচিত নয়।

পারিপার্শ্বিক আবহ – কী পরিবেশে, কোথায় সময় কাটাচ্ছেন এটা যে-কারওর জন্যেই একটা ভাইটাল পয়েন্ট। পারিপার্শ্বিক স্থিতি মানুষের মন, চিন্তাধারাকে বহুলাংশে প্রভাবিত করে। যে-জায়গায় অথবা যাদের সঙ্গে থাকলে মন প্রফুল্ল থাকবে, বিয়ের আগে তেমন পরিবেশই বেছে নেওয়া উচিত পাত্র অথবা পাত্রীর।

নিজেদের রিল্যাক্স রাখতে গেলে আরও একটা খেয়াল রাখা জরুরি। অন্যের অযাচিত প্রশংসা অথবা কুৎসা কোনওটাই গায়ে মাখলে চলবে না। অন্যে কী বলবে অথবা ভাববে এই নিয়ে কুন্ঠাবোধ করা অনুচিত। এছাড়াও নাচ, এরোবিক্স, গান করে, শপিং করে, বই পড়েও টেনশন দূর করা যায়। মূল কথা হল, বিয়ের আগে যেভাবে পাত্র অথবা পাত্রী কমফর্ট ফিল করবে সেই ভাবেই নিজেকে চালিত করতে পারলেই মানসিক ও শারীরিক উত্তেজনামুক্ত থাকা সম্ভব হবে।

 

 

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব