পিছল পর্ব- ০২

অনিচ্ছা সত্ত্বেও সীমা নরেনের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অনিলের তুলনা করা শুরু করে দিয়েছিল। ওর মনে হল নরেন হাজার চেষ্টা করলেও অনিলের সমকক্ষ কিছুতেই হতে পারবে না। যদিও সামাজিক আলাপচারিতায় নরেনেরই পাল্লা ভারী ছিল। লোকলৌকিকতায় নরেন যতটা পারদর্শী অনিল সেই তুলনায় অনেক বেশি মুখচোরা। সেই কারণেই নরেনের বাড়িতে ওর যাতায়াত থাকলেও সীমার সঙ্গে কোনওদিন কথা বলার কোনও চেষ্টা করেনি সে।

অনিলের চরিত্রের এই দুর্বলতা সীমাও অনেকবার চোখে আঙুল দিয়ে ওকে দেখাবার চেষ্টা করেছে। কতবার বলেছে, আপনি কীরকম মানুষ, উন্নতির জন্য শর্টকাট রাস্তা নিতেও আপনার এত আপত্তি?

হঠাৎ ফোনের শব্দে সীমার চিন্তার জাল ছিন্ন হল। হ্যালো বলাতে নরেনের কণ্ঠস্বর ভেসে এল অপর প্রান্ত থেকে। সীমা জিজ্ঞেস করল, কেমন আছ তুমি?

—তোমার কথা খুব মনে হচ্ছিল।

—আর কতদিন লাগবে কাজ শেষ হতে?

—হয়তো আর তিন-চারদিন লাগবে। আমি খুব সরি সীমা।

—ঠিক আছে, এখন আর ভেবে কী করবে? হালকা কিছু কথা বলে সীমা ফোন রেখে দিল। নরেনের ফিরতে তার মানে আরও তিন-চারদিন দেরি।

পরের দিন ঝরঝরে মেজাজে নিজের বাড়ির কাজে হাত লাগাল সীমা। সে সময় কারও উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে কোনও দিনই সীমার কিছু যায় আসে না। শুধু সন্ধের পর অবসাদের গ্রাস থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে সীমার মনে হতো কেউ ওর কাছে থাকুক।

নরেন সাধারণত যখনই বাইরে যেত সীমা নিজের মায়ে কাছে এসে কয়েকটা দিন কাটিয়ে যেত। এবার সেটাও হওয়া সম্ভব ছিল না কারণ মা আসানসোল গিয়েছে ভাইয়ে কাছে। আর সেটাই সীমার জন্য সবথেকে বেশি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অনেক চিন্তা করার পর সীমা অনিলকে ফোন করল।

সীমার আওয়াজ শুনে অনিল আশ্চর্য হল! কী হল ম্যাডাম, সব ঠিক আছে তো?

—একা বাড়িতে ভালো লাগছিল না, তাই ভাবলাম আপনার সঙ্গে গল্প করে কিছুটা সময় কাটাই।

—ঠিক আছে আপনি ফোন রাখুন। দশ মিনিটের মধ্যে আপনার বাড়ি পেঁছোচ্ছি। আমি কাছাকাছিই আছি। সীমার উত্তরের অপেক্ষা না করেই অনিল ফোন কেটে দিল।

সীমা নিজেই নিজের ব্যবহারে মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে গেল, বুঝতে পারল না অনিলকে ফোন করে ঠিক করল, না ভুল করল। অনিলের প্রতি নিজের বাড়তে থাকা আকর্ষণ খুব ভালো ভাবে নিজেই বুঝতে পারছিল।

কিছুক্ষণের মধ্যেই অনিল সীমার বাড়িতে পেঁছে গেল। প্রায় তিনঘন্টা গল্পে সময় কাটিয়ে অনিল যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াল। সীমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলল, আপনার ভদ্র ব্যবহার এবং রুচিসম্পন্ন মানসিকতা আমাকে এখানে আসতে প্রলুব্ধ করে। স্যার সত্যিই ভাগ্যবান যে আপনার মতো স্ত্রী পেয়েছেন। এখন আমিও আপনাকে মিস করতে আরম্ভ করেছি।

নিজের প্রশংসায় লজ্জায় সীমার মুখ চোখ লাল হয়ে উঠল। নিজের অনিচ্ছাতেই ঘুরে ফিরে আবার নরেনের কথাই বারবার মনে হতে লাগল। যদি নরেন সত্যিই ওকে নিয়ে চিন্তা করত, তাহলে কি এতদিন ওকে ছেড়ে বাইরে থাকতে পারত? সমস্ত চিন্তা দূরে ঠেলে সরিয়ে সীমা নিজের মনকে বোঝাল, নরেন চিন্তা না করলেও অনিল তো ওর কথা ভাবে, ওকে গুরুত্ব দেয়। ধীরে ধীরে নরেনের প্রতি আকর্ষণ সীমার কমে আসতে লাগল। বেশ বুঝতে পারছিল ক্রমশ অনিলের প্রতি ওর টান বাড়ছে।

কোম্পানির ম্যানেজার রাজেনের বাড়িতে পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ পেয়ে সীমা দ্বিধান্বিত ছিল একা যাবে কি যাবে না। নরেন ফোন করে জোর দিল পার্টিতে যাওয়ার জন্য সীমাকে, যাতে আনন্দ করে কিছুটা সময় ওখানে ও কাটাতে পারে। নরেনকে ছাড়া পার্টিতে একেবারেই মন বসছিল না ওর, তখুনি অনিলকে দেখতে পেল সীমা। নরেনের চিন্তা ছেড়ে অনিলের দিকে পা বাড়াল।

অনিল নিজের কলিগদের সঙ্গে কথায় ব্যস্ত ছিল। সীমা এগোতেই ওরও নজর সীমার উপর পড়ল। বন্ধুদের ছেড়ে সীমার দিকে এগিয়ে এল সে। অভ্যাসবশত হাত তুলে নমস্কার জানাল। সীমার সৌন্দর‌্যের প্রতি অনিলের মুগ্ধতা ওর চোখে মুখে স্পষ্ট পড়তে পারছিল সীমা। কিন্তু অনিল নিজের মুখে এই মুগ্ধতা প্রকাশ করতে পারল না। দুজনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নানারকম প্রসঙ্গ টেনে গল্প করতে লাগল।

খাওয়াদাওয়া হয়ে গেলে হঠাৎই সীমা অনিলকে জিজ্ঞেস করল, আপনি কি গাড়ি নিয়ে এসেছেন? যদি অসুবিধা না থাকে আমাকে একটু বাড়ি পেঁছে দেবেন?

অসুবিধা হবে কেন? বলে অনিল সকলের কাছে বিদায় নিয়ে সীমাকে সঙ্গে করে গাড়িতে এসে বসল। অনিল নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিল। সীমা পাশে বসে মাঝে মাঝে অনিলের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করছিল। যতবার সীমার সঙ্গে অনিলের দেখা হতো প্রতিবারই সীমার চোখে অনিলের ব্যক্তিত্বের নতুন একটা দিক উন্মোচিত হতো।

সীমা লক্ষ করছিল অনিল যে-কাজটা করে পুরো আগ্রহের সঙ্গে এবং একশো শতাংশ দিয়ে করে। গাড়িতে বসেও পুরো মনোযোগ সহকারে অনিল ড্রাইভ করছিল। পাশে সীমার উপস্থিতি যেন ভুলতেই বসেছিল অনিল। সামনে থেকে হঠাৎই স্পিডে একটা গাড়ি আসতে দেখে স্টিয়ারিং ঘোরাতেই এক ঝটকায় সীমা অনিলের হাতের উপর গিয়ে পড়ল। মুহূর্তে বিদ্যুৎ খেলে গেল সীমার সারা শরীরে। চকিতে নিজেকে সরিয়ে অনিলের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে সিটে আবার সোজা হয়ে বসল। অনিলের দিকে চোখ পড়তেই ওর মনে হল, ইচ্ছে করেই কি অনিল অত জোরে স্টিয়ারিং ঘুরিয়েছিল?

অনিলকে আবার স্বাভাবিক ভাবে গাড়ি চালাতে দেখে ওর মনের সব সংশয় দূর হয়ে গেল। কিছুক্ষণ আগের স্পর্শের অনুভতি সীমাকে ভিতরে ভিতরে রোমাঞ্চিত করে তুলল। বাড়িতে পেঁছে এক কাপ চা খেয়ে যাওয়ার জন্য অনিলকে আমন্ত্রণ জানাল সীমা কিন্তু অনিল রাজি হল না। সীমাকে নামিয়ে বাইরে থেকেই সে বিদায় নিল।

রাতে বিছানায় শুয়ে কিছুতেই ঘুম আসছিল না সীমার। ওর ভিতরের স্ত্রীসত্ত্বার অহংকার কোথাও যেন টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে ওর হৃদয়কে বারবার আঘাত করছিল। বারবার একটা কথাই মনে হচ্ছিল, বিবাহিতা হয়ে অনিলের সামান্যতম স্পর্শে ও যদি রোমাঞ্চিত হয়ে উঠতে পারে, তাহলে অবিবাহিত পুরুষ হিসেবে অনিল কি ওর স্পর্শে রোমাঞ্চিত হয়ে ওঠেনি?

সীমা যত অনিলের চিন্তা থেকে নিজেকে বিরত করার চেষ্টা করতে লাগল, ততই চিন্তার গতি প্রবলতর হওয়া শুরু হল। আর কিছু না হোক পার্টিতে অন্তত অনিল ওর সৌন্দর‌্যের প্রশংসা করতে পারত। কেন ও সেটা করল না? সারারাত এরকম নানা চিন্তায় ছটফট করতে করতে কাটিয়ে দিল সীমা। ভোরের দিকে ওর চোখ বুজে এল।

হঠাৎ ফোন বাজার শব্দে ও ধড়মড়িয়ে উঠে বসল। মোবাইলে চোখ রেখে দেখল নরেনের ফোন। হ্যালো সীমা, আজ সন্ধের ফ্লাইটে আমি ফিরছি। নটা-দশটার মধ্যে বাড়ি এসে যাব।

বাচ্চাকে অবসাদমুক্ত রাখুন পর্ব-২

করোনা অতিমারি আমাদের সকলের জীবনশৈলীতে বড়সড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। শারীরিক ছাড়াও মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যও প্রবল ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবসাদ, মানসিক অবসাদের লক্ষণ নিয়ে রোগীরা ডাক্তারের সাহায্য নিতে বাধ্য হচ্ছেন। শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্করাই নন, বাচ্চারাও অবসাদের শিকার হচ্ছে। বাচ্চাদের অবসাদের পিছনে যে শুধু করোনার হাত রয়েছে তা নয়, আরও অনেক কিছু কারণেও বাচ্চা অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে। পড়াশোনার মাত্রাতিরিক্ত চাপ, পারিবারিক সমস্যা, মা-বাবার মধ্যে সম্পর্কের তিক্ততা, আর্থিক সমস্যার প্রভাব, বন্ধুবান্ধবহীন জীবন এসব কিছুই শিশুকে অবসাদের দিকে ঠেলে দিতে পারে। অভিভাবকেরা বেশিরভাগ সময়ে বাচ্চাদের অবসাদের লক্ষণকে সেভাবে গুরুত্ব দিতে চান না। তাঁরা মনে করেন বাচ্চা আসলে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে। কিন্তু বড়োদের উচিত এই বিষয়ে আরও অনেকবেশি সচেতন হওয়া। বাচ্চার মনে যদি Depression একবার গেঁড়ে বসে যায় এবং বাড়ির বড়োরা সেটা এড়িয়ে যাওয়াই সমীচীন মনে করেন তাহলে ক্রমশ বাড়তে থাকা অবসাদ বাচ্চাকে আত্মহত্যাপ্রবণ করে তুলতে পারে। বাচ্চাদের ব্যবহারে কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখলেই সতর্ক হন। বর্তমান সময়ের চাপে বাচ্চাদের মধ্যে বাড়তে থাকা স্ট্রেস এবং একাকিত্ব দূর করা কীভাবে সম্ভব, তাই আমাদের আলোচ্য বিষয়।

বাচ্চার মন থেকে Depression এবং স্ট্রেস দূর করতে

বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক পরিবেশ : বাচ্চার মনে স্ট্রেসের প্রধান কারণ হল বাড়ি এবং বাইরে নেতিবাচক পরিবেশে কাটানো। অভিভাবকেরাই বাচ্চার কাছে রোল মডেল হয়ে থাকে তাই পেরেন্টদের দায়িত্ব বাড়ির পরিবেশ বন্ধুত্বপূর্ণ রাখা। কোনও কারণ যদি বাচ্চাকে চিন্তিত করে তোলে বা বাচ্চার মনে দুঃখ দেয়, তাহলে পরিবেশ এমন হওয়া উচিত যে, মা-বাবাকে সত্যিকারের বন্ধু ভেবে বাচ্চা তাদের সঙ্গে সব কিছু শেয়ার করতে পারে। এতে বাচ্চা সঠিক রাস্তাও খুঁজে পাবে এবং মনের অবসাদও কম হবে।

এছাড়াও বাড়িতে বড়োদের মধ্যে ঝগড়া, অশান্তি, অভদ্র ভাষার ব্যবহার বাচ্চাকে ভীত সন্ত্রস্ত যেমন করে তোলে, তেমনি চরিত্রগত ভাবে আক্রামণাত্মক হয়ে উঠতেও বাচ্চার দেরি লাগে না। সেজন্য বাড়ির পরিবেশ পজিটিভ রাখা জরুরি। বাচ্চার উপর কথায় কথায় রাগ না করে মৃদু কণ্ঠে রুচিসম্মত ভাষায় বাড়িতে কথা বলার অভ্যাস তৈরি করা বাঞ্ছনীয়। বাচ্চার সামনে অপরের আলোচনা একেবারেই করবেন না। বাচ্চাকে নিজের কথা বলার সুযোগ দিন এবং তাকে বোঝার চেষ্টা করুন। এতে ভালো-মন্দর বিচারবোধ জন্মাবে বাচ্চার মধ্যে এবং এরকম পরিবেশে বাচ্চা খুশিও থাকতে পারবে।

তুলনা করবেন না : সাধারণত বাচ্চার আত্মসম্মান তখনই আঘাতপ্রাপ্ত হয় যখন সেই বাচ্চাকে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তাই অন্য বাচ্চাদের সামনে তাকে নীচু প্রতিপন্ন করা বা পরীক্ষার ফলাফল ভালো করতে না পারলে তাকে অপর বাচ্চার সঙ্গে তুলনা করা ইত্যাদি ব্যবহার বাচ্চার সঙ্গে না করে বরং তাকে রেজাল্ট নিয়ে বেশি চিন্তা করতে বারণ করুন। পরামর্শ দিন, পরের বারের পরীক্ষার জন্য মন দিয়ে এখন থেকেই পড়াশোনা করতে। সবরকম ভাবে আপনি তাকে গাইড করবেন এ ধরনের আশ্বাস বাচ্চার মনোবল বাড়াতে সাহায্য করবে।

ভয়ের কথা শেযার করবেন না : অনেক সময় পরিবারে বা বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটে যায় যেটা নিয়ে বড়োদের মনেই এমন ভয় বসে যায় যে, তার থেকে বাইরে বেরোতে বেশ সময় লাগে। সুতরাং বড়োদের যদি এই অবস্থা হয় তাহলে বাচ্চাদের মনে কী হতে পারে সেটা ভেবে দেখার। তাই বাচ্চাদের সঙ্গে ভয়ের বা দুঃখের ঘটনা শেয়ার করা, একেবারেই বাঞ্ছনীয় নয়। যদি বাচ্চাকে এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হতেই হয়, তাহলে চেষ্টা করবেন তাকে বুঝিয়ে মন থেকে ভয়টা বার করে দিতে। কোনও ঘটনা বাচ্চার মনকে কীভাবে প্রভাবিত করবে আগে থেকেই সেটা বোঝা খুব মুশকিল।

মনের ভিতরের ভয় দূর করার চেষ্টা করুন : অনেক সময় বাচ্চা খেতে ভয় পায় বা লোকজনের সামনে আসতে চায় না। বন্ধুদের থেকেও দূরে দূরে থাকা পছন্দ করে। এই নিয়ে বাচ্চাকে বকাবকি করবেন না। বরং বড়োদের দায়িত্ব এই আচরণ নিয়ে বাচ্চার সঙ্গে কথা বলা। কেন সে স্কুলে যেতে ভয় পায় বা লোকজন এড়িয়ে চলে তাকে ভালো করে কাছে বসিয়ে জিজ্ঞেস করে পুরোটা জেনে নিন। প্রয়োজন হলে স্কুলের টিচারদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান বার করার চেষ্টা করুন।

খেলার মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করুন : অভিভাবকরা যদি বাচ্চাদের সময় না দেয়, মজার মজার খেলায় তাদের সঙ্গে মেতে না ওঠে, তাহলে বাচ্চা বোর ফিল করতে থাকবে। নতুন কিছু করার উৎসাহ যদি বাচ্চা হারিয়ে ফেলতে থাকে, তাহলে তাদের মোটিভেট করার জন্য নানারকমের খেলায় তাকে শামিল করুন। এতে সে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে পারবে।

আপনি সন্তানকে বন্ধু ভাবুন : যদি চান সন্তান আপনার সঙ্গে সবকিছু শেয়ার করবে, কোনও কিছু লুকোবে না, তাহলে আপনাকেও তার বন্ধু হয়ে উঠতে হবে। তার সঙ্গে নিজের কথা শেয়ার করতে হবে। তাকে বলুন সেই প্রথম ব্যক্তি যার সঙ্গে আপনি এই কথা শেয়ার করছেন। এর ফলে সন্তানের চোখে আপনিই হয়ে উঠবেন সবথেকে ভালো বন্ধু এবং এই সম্পর্কে বিশ্বাস যদি বাচ্চার মনে নিজের জায়গা তৈরি করে নিতে পারে, তাহলে বন্ধু থেকে বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে উঠতে আপনার বেশি সময় লাগবে না।

 

পিছল পর্ব- ০১

গাড়ির আওয়াজ শুনে সীমা জানলার বাইরে তাকাতেই নরেনের গাড়িটা গেট দিয়ে ঢুকছে দেখতে পেল। অন্যমনস্ক হয়ে যন্ত্রচালিতের মতো উঠে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াল। এটাই রোজকার নিয়ম। অফিস থেকে ফিরে হাতের কাছে এক কাপ চা না পেলে চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় করবে নরেন। চা বানিয়ে ড্রয়িংরুম-এ আসতেই নরেনের বদলে অনিলকে দেখে বিস্ময়ে ভুরু কুঁচকে উঠল সীমার।

—হ্যাপি বার্থডে ম্যাডাম, ফুলের তোড়াটা সীমার হাতে ধরিয়ে হাত জোড় করল অনিল।

সীমা নিজেকে সামলে নিয়ে অনিলকে ধন্যবাদ জানাল। ব্যথিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, নরেন কোথায়? সীমার চাউনি কিছু খোঁজার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে আবার অনিলের মুখের উপর এসে স্থির হল।

—স্যার-ই আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন। হঠাৎ ওনাকে অফিসের কাজ নিয়ে শহরের বাইরে যেতে হয়েছে।

—এটা তো আপনার স্যার ফোন করেই আমাকে জানাতে পারতেন। সীমার গলার রুক্ষতা স্পষ্ট ধরা পড়ল।

—আসলে, স্যার এই বিশেষ দিনে আপনাকে মনমরা হয়ে থাকতে দিতে চাননি। এমন একটা এমারজেন্সি এসে গেল যে…।

—আপনাকে আর আপনার স্যারের হয়ে ওকালতি করতে হবে না। আমি আপনার থেকে ওকে বেশি চিনি। অনিলের কথার মাঝখানেই সীমা বলে উঠল।

কিছুক্ষণের জন্য দুজনেই চুপ করে রইল। পরিবেশ হালকা করতে সীমাই প্রথম বলল, আপনি কী করে জানলেন আজ আমার জন্মদিন?

—স্যারই বললেন, সীমা ডিনারে আমার জন্য অপেক্ষা করছে নিশ্চই। তুমি বরং গিয়ে ওকে খাওয়ার টেবিলে সঙ্গ দাও এবং আমি আসতে না পারার কারণটাও বুঝিয়ে বোলো। সেজন্যই আমি এখানে এসেছি, নয়তো আমিও খবরটা আপনাকে ফোনেই দিতে পারতাম।

—আই অ্যাম ভেরি সরি, আপনি প্লিজ বসুন। জন্মদিনে নরেনকে আসতে না দেখে সীমা কিছুক্ষণের জন্য ভদ্রতা দেখাতে ভুলে গিয়েছিল ঠিকই কিন্তু সামলে নিতেও বেশি সময় লাগলা না। চায়ে কাপটা অনিলের দিকে ঠেলে দিয়ে নিজেও সোফায় এসে বসল।

—আমি আপনার দুঃখটা বুঝতে পারছি ম্যাডাম। আপনি আমাকে দেখে রেগে উঠবেন এটাই স্বাভাবিক। আমার বোধহয় এভাবে চলে আসাটা উচিত হয়নি, অন্তত একটা ফোন…

আজকের দিনটা নষ্ট করতে সীমার মন চাইছিল না তাই কথার মোড় ঘোরাতে বলল, আপনার ফ্যামিলিও কি এখানেই থাকে? আমার এখানে মাঝে মাঝে নিয়ে আসতে পারেন।

—না ম্যাডাম আমি এখনও বিয়ে করিনি, সপ্রতিভ উত্তর অনিলের।

সীমা অনিলের দিকে আশ্চর্য হয়ে তাকাল। বেশ লম্বা, চওড়া কাঁধ, রংটা একটু তামাটে বর্ণ হলেও আকষর্ণীয় ব্যক্তিত্ব এরকম একটা মানুষ এখনও বিয়ে করেনি! সীমার মনে হল এর নিশ্চই একটা কারণ আছে।

অনিল আগেও নরেনের সঙ্গে কয়েকবার এ বাড়িতে এসেছে। অফিসের লোকেদের বাড়িতে আসা খুব সহজ ভাবে নিতে পারত না সীমা। অনিলের সঙ্গেও এত কথা কখনও বলেনি সে। আজ বাধ্য হয়ে এবং নিজের ব্যবহারে লজ্জিত হয়ে সীমা অনিলের সঙ্গে বসে গল্প করতে লাগল।

কথায় কথায় সীমা জানতে পারল নরেনের কোম্পানিতে ভালো পদে চাকরি করা ছাড়াও অনিলের রাজনীতিতেও ইন্টারেস্ট আছে। সীমা অবাক হল এটা ভেবে যে, নরেন আর অনিলের স্বভাব সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর হওয়া সত্ত্বেও দুজনের মধ্যে কীভাবে বন্ধুত্ব হল!

ডিনার শেষে অনিল সীমার রান্নার প্রশংসা করতেই সীমা বলল, আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। আপনার ব্যবহার এবং সেন্স অফ হিউমার সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। আপনার জন্যই দিনটা আজ খুব ভালো কাটল।

অনিলও সীমাকে থ্যাংক ইউ বলে বিদায় নিল। নরেন আজকের দিনে শহরের বাইরে চলে যাওয়াতে মনে মনে ক্ষিপ্ত হয়েছিল সীমা। অনিলের সঙ্গে সন্ধেটা কাটিয়ে মনটা ভালো হয়ে গিয়েছিল ওর। নরেনের চিন্তাটা সরে গিয়ে সীমার মন জুড়ে দখল নিয়েছিল অনিলের উপস্থিতি।

রাত্রে নরেনের ফোন এল, সরি সীমা, আজ জন্মদিনের দিনও তোমাকে একটু সঙ্গ দিতে পারলাম না।

—ঠিক আছে, কী আর করা যাবে। রুক্ষ একটা উত্তর দিয়ে সামান্য একথা ওকথা বলে সীমা ফোন কেটে দিল।

পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সীমার নিজেকে খুব হালকা মনে হল। কিন্তু সন্ধেবেলায় একাকিত্ব বোধ থেকে আবার নরেনের প্রতি সীমার মন বিষিয়ে উঠল। ওর শুধু মনে হতে লাগল, মানুষের কাছে কি, খালি কাজে উন্নতি করা এবং টাকা উপার্জন করাটাই একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে? নরেনের সময় তো খালি অর্থ উপার্জন এবং ভোগবিলাসের সুবিধার ব্যবস্থা করার প্রচেষ্টাতেই অতিবাহিত হয়ে যায়। সারাটা দিন ও বসে বসে কী করে? সময় কাটাবার জন্য চাকরি করাও সীমার কোনওকালে পছন্দ ছিল না।

সেই মুহূর্তে কলিংবেল-টা বেজে উঠল। দরজা খুলতেই মুখোমুখি হল অনিলের। অফিসের এক পিওন এসেছে ওর সঙ্গে। অসময়ে অনিলকে দেখে ক্ষণেকের জন্য মনের তিক্ততা ভুলে গিয়ে গতকালের সময় কীভাবে কাটিয়েছিল মনে পড়ে গেল সীমার।

সীমাকে দেখে অফিসের পিওন বলল, ম্যাডাম, স্যার অফিসের একটা জরুরি ফাইল বাড়িতে ভুলে রেখে গেছেন, আমি সেটা নিতে এসেছি।

নরেনের স্টাডিরুমে গিয়ে দেখল অনেকগুলো ফাইল ওখানে রয়েছে। ওর মধ্যে কোনটা দিতে হবে বুঝতে পারছিল না সীমা। তখনই পিছনে অনিলের কণ্ঠস্বর শুনল, আপনার সমস্যা কম করতেই আমি ওর সঙ্গে এসেছি। চলুন আমি ফাইলটা খুঁজে নিচ্ছি। একটা ফাইল বেছে সেটা ভালো করে দেখে পিওনের হাতে ফাইলটা ধরাতেই পিওন ফাইলটা নিয়ে চলে গেল। অনিলও বেরোতে যাবে, এমন সময় সীমা পেছন থেকে বলল, এক কাপ চা অন্তত খেয়ে যান।

—না না আজ নয়, পরে একদিন স্যারের সঙ্গে এসে চা খেয়ে যাব।

—আসলে চা-টা তো একটা এক্সকিউজ। সত্যি কথা বলতে কি একাকিত্ব কাটাতেই আপনার সঙ্গে বসে একটু আড্ডা মারার ইচ্ছে হচ্ছিল। সীমা মনের কথা বিনা দ্বিধায় বলে ফেলল।

এরপর সঙ্গ দিতে অনিলও থেকে গেল এবং গল্পে দুজন মেতে উঠল। হঠাৎ ঘড়ির দিকে চোখ পড়তেই অনিল উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল। ঘড়িতে রাত আটটা বেজে দশ মিনিট।

—আমার এখনই যাওয়া দরকার, কথায় কথায় রাত হয়ে গেল, বলে অনিল বেরিয়ে গেল।

সীমার ইচ্ছা করছিল আরও কিছুক্ষণ অনিলের সঙ্গে সময় কাটাতে কিন্তু সামাজিক মর‌্যাদা লঙ্ঘন করারও ওর সাহস ছিল না। বাধ্য হয়ে অনুমতি দিতেই হল।

অনিল চলে যাওয়ার পর ওর ব্যক্তিত্বেরই আকর্ষণ নিয়ে সীমা নিজের মনে নানা বিশ্লেষণ করে চলছিল। ওর কথা বলার স্টাইল, পোশাকের চয়ন, শব্দের মারপ্যাঁচ কোনও বিষয়ে গভীর জ্ঞান ইত্যাদি সবকিছু মিলে সাধারণের ভিড়ে ওকে একদম আলাদা করে দাঁড় করিয়ে দেয়।

বাচ্চাকে অবসাদমুক্ত রাখুন পর্ব-১

পারিপার্শ্বিক নানা ঘটনার জেরে এবং দীর্ঘকালীন চলতে থাকা করোনার পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে সবকিছু থেমে থাকার সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাচ্চারাও হয়ে পড়েছিল গৃহবন্দি। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়াও যেমন এতদিন বন্ধ ছিল তেমনি খেলার মাঠে যাওয়া, পার্কে সমবয়সিদের সঙ্গে খেলাধূলায় মেতে ওঠা সবকিছুর ওপরেই নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। এর ফলে একাকিত্বে ভুগতে থাকার সমস্যা এবং Depression বাচ্চাদের মধ্যে খুব কমন হয়ে পড়েছিল।

পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, মানুষের চাকরি চলে যাওয়া থেকে শুরু করে বেতন কমতে থাকা, করোনার মতো ভয়াবহ অতিমারিতে আক্রান্ত হয়ে পড়া, প্রিয়জনের মৃত্যু এই সবকিছুই বাড়িতে এবং চারপাশে একটা অবসাদপূর্ণ পরিবেশের আবহাওয়া ছড়িয়ে দিয়েছিল। বাড়িতে ছোটো ছোটো বিষয় নিয়ে বাচ্চাদের বকাবকি, তাদের প্রতিটা পদক্ষেপে বড়োদের মুখঝামটা দেওয়া ইত্যাদি বাচ্চাদের মনে এতদিন গভীর প্রভাব ফেলে এসেছে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। সুতরাং করোনা পরবর্তী এই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে একাকিত্ব দূরে সরিয়ে রেখে বাচ্চাদের সহজ হয়ে উঠতে সাহায্য করতে হবে, অভিভাবকদেরই। বর্তমান সময়ের চাপে বাচ্চাদের মধ্যে বাড়তে থাকা স্ট্রেস এবং একাকিত্ব দূর করা কীভাবে সম্ভব, তাই আমাদের আলোচ্য বিষয়।

মারধর করা বা বকাবকি সমস্যার সমাধান নয়

এতদিন পর মুক্ত পরিবেশে এসেও দেখা যাচ্ছে, অনেক বাচ্চা মেলামেশা করতে পারছে না। এক্ষেত্রে বকলে বা মারলে সব সমস্যার সমাধান হয় না। ভালোবেসে কিছু শেখানো, অনেক সময় বাচ্চাকে বেশি প্রভাবিত করে। এমন অনেক পরিবার আছে যেখানে বাচ্চাকে শাসনে রাখতে ছোটোখাটো বিষয়ে তাকে বকাবকি করা হয়ে থাকে। এমনকী মারধোরও করা হয়। এর ফলে বাচ্চার মনে এমন ভাবে ভয় গেড়ে বসে যে, সে নিজের মনের কথা অভিভাবকদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারে না। নিজের ইচ্ছেমতন কাজ করতেও ভয় পায় যেটা ভবিষ্যতে গিয়ে বাচ্চার মনে অবসাদ তৈরি করতে পারে।

বাচ্চার সামনে মা-বাবার ঝগড়া

বর্তমান সময়ে হওয়া সমীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে গত দশ বছরের তুলনায় করোনা পরিস্থিতি চলাকালীন পরিবারে লড়াই ঝগড়ার ঘটনা অনেক বেড়েছে। কাজের চাপ, ইচ্ছেমতো জীবনের গতি এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারা, চাকরিতে বরখাস্ত হওয়া, বাড়িতে চব্বিশটা ঘন্টা কাটানোর বাধ্যতা, টাকাপয়সার অভাব ইত্যাদি মানুষকে প্রয়োজনের তুলনায় চিন্তান্বিত এবং স্ট্রেসের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ফলে পরিস্থিতির কারণেই পেরেন্টস নিজেদের সন্তানের সামনেও একে অপরের বিরুদ্ধে অভদ্র আচরণ করতে পিছু হটেন না। একবারও মনে করেন না তাদের মধ্যেকার কলহ বাচ্চার উপর কী প্রভাব ফেলতে পারে। বাচ্চা এই পরিবেশে ভয় পায়, চুপচাপ হয়ে পড়ে, এমনকী মানসিক স্বাস্থ্যও এর ফলে প্রভাবিত হয়।

ভয়ের সিনেমাও ভীতির কারণ

চারপাশে যখন নেতিবাচক পরিস্থিতি, তখন বাড়িতে ইচ্ছেমতো যেমন খুশি আমরা চলতে চাই। বাড়িতেই অনেকে ভয়ের সিনেমা, নেতিবাচক ভিডিও বা কোনওরকম ভয়ের ভিডিও দেখা পছন্দ করেন। কিন্তু সেটা বাড়িতে বাচ্চার সামনে হলে বাচ্চার মনে তার গভীর প্রভাব পড়ে কারণ বাচ্চাদের মন খুব কোমল হয়। পুরো সিনেমাটা বা ভিডিওটা হয়তো খুব আগ্রহ নিয়ে আপনার সঙ্গে বসে দেখবে। কিন্তু পরে সেই ভয়টাই এমন মনের মধ্যে গেঁথে যেতে পারে যা বাচ্চার রাতের ঘুম কেড়ে নিয়ে তাকে অবসাদগ্রস্ত করে তুলতে পারে।

শিক্ষকের ভয় এবং পড়াশোনার মাত্রাতিরিক্ত চাপ

বাচ্চাদের মনে পড়াশোনা আর শিক্ষকদের নিয়ে অনেক সময় গভীর ভয় থাকে। শিক্ষকের ব্যবহার যদি বন্ধুত্বপূর্ণ না হয় তাহলে বাচ্চা পড়াশোনা সম্পর্কে যেমন প্রশ্ন করতে ভয় পাবে, তেমনি মনের কথাও টিচারকে খুলে বলতে পারবে না। সব সময় ভয় পাবে এই ভেবে যে, কোন কথায় শিক্ষক রেগে উঠবেন এবং এতে শিশুর ক্রিয়েটিভিটি চাপা পড়ে যাবে। এছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে এবং বাড়িতে এসেও অত্যধিক পড়াশোনার চাপ অনেক বাচ্চাই সহজ ভাবে নিতে পারে না। এই পরিস্থিতি বাচ্চাকে Depression-এর দিকে ঠেলে দিতে পারে।

কথা শুনতে বাধ্য করা

বেশির ভাগ পরিবারেই কখনও বাচ্চাকে খাওয়ানোর জন্য, ঘুম পাড়ানোর জন্য, কান্না বন্ধ করার জন্য বা পড়তে বসানোর জন্য মজা করে ভূতের ভয় বা অন্য কিছুর ভয় দেখানো হয়, যার ফলে বাচ্চা চাপে পড়ে কাজটা করতে বাধ্য হয়। অনেক বাচ্চার মধ্যে ভয়টা এমন ভাবে চেপে বসে যে, বড়ো অবধি সেটা মনের মধ্যে থেকে যায়। বাচ্চা ভিতরে ভিতরে ভীত প্রকৃতির হয়ে ওঠে যার ফলে মানসিক অবসাদেও সে ভুগতে থাকে।

টেস্টি Side dishes

অনেক সময় লুচি বা পরোটার সঙ্গে কী সাইড ডিশ সার্ভ করবেন তা নিয়ে চিন্তায় পড়তে হয়৷ শীতের সকালে বা ছুটির দিনের বিকেলে এবার লুচি- পরোটা করুন কনফিডেন্টলি৷ কারণ আমরা আজ শিখিয়ে দেব দুটি টেস্টি Side dishes৷ শীতে খুব সুন্দর বেগুন পাওয়া যায়৷  তাই কাজু-বেগুন তৈরি করার জন্য এটা আদর্শ সময়৷ আর সঙ্গে যদি থাকে গরম গরম ছোলে, তবে তো কথাই নেই৷ নিমেষে জমে যাবে ভোজ৷রইল রেসিপি৷

কাজুবেগুন

উপকরণ

১০০ গ্রাম ছোটো আকারের বেগুন, ১টা পেঁয়াজ, ১টা ছোটো টুকরো আদা, ১টা কাঁচালংকা, ১ কোয়া রসুন, ৮-১০টা কাজু, ১ বড়ো চামচ তেল, ১/২ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ ধনেগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ গরমমশলা, ১ বড়ো চামচ ক্রিম, অল্প ধনেপাতাকুচি, প্রয়োজনমতো নুন।

প্রণালী

কড়ায় তেল গরম করে কাজু ভেজে নিন। এই তেলেই মিহি করে কাটা পেঁয়াজ, আদা-রসুন ভেজে নিন। এবার টম্যাটো ও অন্যান্য মশলা এবং নুন দিয়ে নাড়তে থাকুন। এই সবজি ও কাজু মিক্সিতে দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।

এবার বেগুন চার ভাগে কেটে রাখুন। কড়ায় তেল গরম করে ভেজে নিন। ভাজা বেগুন মিক্সিতে তৈরি পেস্ট-এর সঙ্গে ভালো ভাবে কড়ায় রান্না করুন। ২-৩ মিনিট পর এর উপর ক্রিম ঢেলে দিন। ধনেপাতা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন। এটা শুধু পরোটার সঙ্গেই নয়, ভাতের সঙ্গে খেতেও দারুণ লাগে৷

 

মশলাদার ছোলে

Chhole masale recipe

উপকরণ

১ কাপ সেদ্ধ কাবলিছোলা, ১টা ছোটো পেঁয়াজ, ১-২ কোয়া রসুন, ১টা কাঁচালংকা, ১টা ছোটো টুকরো আদা, ২টো টম্যাটো, ১ ছোটো চামচ ছোলা মশলা, ১ ছোটো চামচ তেঁতুলের পেস্ট, ১/৪ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ ধনেগুঁড়ো, ১/৪ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো, ১ বড়ো চামচ তেল, অল্প ধনেপাতাকুচি, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী

পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লংকা ও টম্যাটো মিক্সিতে পিষে নিন। কড়ায় তেল গরম করে হলুদগুঁড়ো, ধনেগুঁড়ো ও লংকাগুঁড়ো দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। টম্যাটোর পেস্ট দিয়ে কষুন। নুন দিন ও ৪ মিনিট রান্না হতে দিন। ছোলা প্রেশারে দিয়ে নুন ও প্রয়োজনমতো জল দিয়ে সেদ্ধ করুন। এই সেদ্ধছোলা মশলার সঙ্গে কষতে হবে। তেঁতুলের পেস্ট ও ছোলা মশলা দিয়ে রান্না করুন। নামানোর আগে ধনেপাতাকুচি ছড়িয়ে দিন।

Hygiene মেনে শিশুদের স্বাস্থ্য বজায় রাখুন

সন্তান আপনার। তাই, তাকে সুস্থ রাখার দায়িত্বও নিতে হবে আপনাকেই। Hygiene-এর সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। কারণ, খালি চোখে দেখা যায় না এমন রোগজীবাণু ছড়িয়ে রয়েছে চারিদিকে। একটু অসতর্ক থাকলে যা বাসা বাঁধতে পারে শিশুদের শরীরে। অতএব, আপনার সন্তান যাতে সর্বদা জীবাণুমুক্ত থাকে, তারজন্য আপনাকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।

আমাদের শরীরের অঙ্গগুলির মধ্যে সবথেকে বেশি ব্যবহূত হয় হাত। এই হাত প্রতি মুহূর্তে অন্যান্য উপাদানের সংস্পর্শে আসে এবং ওইসব উপাদানে থাকা জীবাণু আশ্রয় নেয় হাতে। তাই খাওয়ার আগে, বাইরে থেকে এসে কিংবা বাথরুম থেকে বেরিয়ে হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করা প্রয়োজন। বাচ্চাদেরও এই শিক্ষা দেওয়া উচিত। সাধারণ বার সোপ দিয়ে হাত ধোওয়ার অভ্যাস না করে, মেডিকেটেড লিকুইড সোপ ব্যবহার করবেন। এক্ষেত্রে ব্র্যান্ডেড সোপ-ই ব্যবহার করা উচিত। কারণ, ব্র্যান্ডেড সোপ-এর উপর ভরসা রাখা যায় এবং এর দ্বারা অনেকটাই জীবাণুমুক্ত হওয়া যায়।

একটু বড়ো বাচ্চাদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের দায়িত্ব থাকে শুধু তাদের জীবাণুমুক্ত থাকার অভ্যাস গড়ে দেওয়া কিন্তু একেবারে শিশুদের ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব নিতে হয় মা-বাবাকেই। কারণ, ছোট্ট শিশু যেহেতু বিষয়টির গুরুত্ব বোঝে না কিংবা নিজে জীবাণুমুক্ত থাকতে পারে না, তাই প্রয়োজনমতো মা-বাবাকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে হ্যান্ডওয়াশ করানোর পর, হাত অবশ্যই নরম তোয়ালে দিয়ে ভালো করে মুছে দেবেন। কারণ, শিশুর হাত দীর্ঘসময় ভেজা থাকলে বাতাসে ভাসমান জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে হাতে। বর্তমানে হ্যান্ডওয়াশের পাশাপাশি তাই স্যানিটাইজারেরও ব্যবহার বেড়েছে। এতে জল ব্যবহার করার দরকার হয় না।

শরীরের আরও একটি অমূল্য সম্পদ হল দাঁত। তাই দাঁতের যত্ন রাখার বিষয়েও ছোটো থেকে শিক্ষা দেওয়া উচিত বাচ্চাদের। এখন বাজারে বাচ্চাদের জন্য মেডিকেল টুথব্রাশ এবং টুথপেস্ট পাওয়া যায়। বাচ্চারা যেহেতু প্রচুর লজেন্স খায়, তাই দিনে অন্তত দু-বার বাচ্চাদের টুথ, ব্রাশ করিয়ে দেওয়া উচিত কিংবা করিয়ে নেওয়া উচিত। এতে দাঁত যেমন জীবাণুমুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হবে, ঠিক তেমনই মুখের দুর্গন্ধ দূর হবে।

শিশুকে জীবাণুমুক্ত রাখতে হলে বাড়ির অন্যান্য সদস্যদেরও জীবাণুমুক্ত থাকতে হবে। অর্থাৎ, বাইরে থেকে ঘেমো গায়ে বাড়িতে ঢুকেই শিশুকে কোলে তুলে নেবেন না। এতে আপনার দ্বারা বাহিত জীবাণু শিশুর শরীরেও সংক্রমিত হতে পারে। তাই বাইরে থেকে বাড়ি ঢুকে, প্রথম নিজে মেডিকেটেড লিকুইড সোপ দিয়ে হাত ধুয়ে এবং সম্ভব হলে সম্পূর্ণ স্নান সেরে তবেই সন্তানকে কোলে তুলুন। এই অভ্যাস আপনার এবং আপনার সন্তান উভয়ের পক্ষেই লাভজনক হবে। এছাড়া, মাঝেমধ্যে ছোট্ট শিশুকেও বেবি সোপ দিয়ে সম্পূর্ণ স্নান করিয়ে দিন। ব্র্যান্ডেড বেবি সোপ শিশুর চোখে গেলেও, জ্বালা কিংবা ক্ষতি করবে না। অবশ্য শিশুকে শুধু হ্যান্ডওয়াশ কিংবা বডিওয়াশ-ই নয়, শিশু যাতে ময়লা কিংবা ক্ষতিকারক কোনও উপাদান হাত দিয়ে না ধরে কিংবা মুখে না তুলে নেয়, এ বিষয়েও মা-বাবাকেই সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, শিশুর সুস্থতার জন্য এই সতর্কতা ভীষণ জরুরি। এছাড়া, বাচ্চারা মল-মূত্র ত্যাগ করার পর, জলে সামান্য জীবাণুনাশক তরল ফেলে বাচ্চার রেচনাঙ্গ ধুয়ে দেওয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে, শুধু বাহ্যিক নয়, শিশু যেন সম্পূর্ণ (অভ্যন্তরীণ) সুস্থ থাকে। আর এই সম্পূর্ণ Hygiene রক্ষার জন্য শিশুকে উপযুক্ত পরিমাণে শুদ্ধ জলও খাওয়াতে হবে। কারণ, মূত্রের মাধ্যমে শরীরের অনেক বর্জ্য এবং রোগজীবাণু বাইরে বেরিয়ে যায়।

শিশুদের স্নান করানোর জন্য ব্যবহূত জলে সামান্য গরমজল মিশিয়ে নিলেও ভালো। এতে চট করে যেমন ঠান্ডা লাগবে না, ঠিক তেমনই স্নানের জন্য ব্যবহূত জলকেও জীবাণুমুক্ত রাখা যাবে। কখনও যদি শিশু বৃষ্টিতে ভিজে যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে হালকা গরমজলে তোয়ালে ভিজিয়ে শিশুর গা মুছে দিন। এতে বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে থাকা জীবাণু সংক্রমিত হবে না শিশুর শরীরে।

রাতে যদি বাচ্চাদের ন্যাপি পরিয়ে রাখেন, তাহলে মল-মূত্র ত্যাগ না করলেও ন্যাপি বদলে ফেলুন। কারণ, দীর্ঘ সময় হাওয়া না ঢুকলে ন্যাপিতে জীবাণু সংক্রমণ করতে পারে। বাচ্চার জন্য ব্যবহূত বিছানা এবং জামাকাপড় সাবান দিয়ে ভালো ভাবে কেচে ধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে নিন। এতে বিছানা এবং জামাকাপড়ে জীবাণু বাসা বাঁধতে পারবে না। যে-বোতলে বাচ্চাকে দুধ খাওয়ান, সেই বোতল প্রতিদিন অন্তত কুড়ি মিনিট গরমজলে ফুটিয়ে নিন। কারণ, ঠান্ডা জলে দুধের বোতল ধুলে তা পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত হয় না। এভাবেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে আপনার বাচ্চা শারীরিকভাবে সুস্থ থাকবে এবং দীর্ঘজীবন লাভ করবে।

 

ডেঙ্গু এবং হজমের সমস্যা

কলকাতা ও দেশের আরও কয়েকটি রাজ্যে ডেঙ্গু জ্বর ব্যাপক ভাবে বাড়ছে। নতুন নতুন স্ট্রেন প্রভাব ফেলছে। ডেঙ্গু জ্বরের বৃদ্ধি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কারণ রোগীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অসুস্থতা এবং মৃত্যু হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে ছোটোদের উপর এবং তরুণ-তরুণীদের উপর। ডেঙ্গুর সময় পেটের সমস্যা খুবই সাধারণ। প্রায়ই পেটে ব্যথা, বমি এবং যকৃতের সমস্যা দেখা দেয়। এএমআরআই হাসপাতালের কনসালটেন্ট জিআই সার্জন, ল্যাপারোস্কোপি এবং অনকো-সার্জন ডা. সঞ্জয় মন্ডল এই বিষয়ে জানিয়েছেন বিস্তারিত।

ডেঙ্গু জ্বরের সময় লিভারের কার্যকারিতা বিঘ্নিত হতে পারে। অনেক লোক লিভারের কার্যকারিতার এই বিপর্যয়কে হেপাটাইটিস বলে মনে করেন, তবে এটি অবশ্যই উল্লেখ করা উচিত যে, মশার কামড়ে ডেঙ্গু হয়, অন্য কারণে নয়।

ডেঙ্গু থেকে মুক্তি পাওয়ার পর চুল পড়া, হজমের সমস্যা ছাড়াও,  ডিসপেপসিয়া, ফোলা ইত্যাদি অনেক সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও খিদে কমে যাওয়া এবং এরফলে শেষ পর্যন্ত ওজন হ্রাসের সমস্যা তৈরি হয়।

চুল পড়ার সমস্যা ১-২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। একইভাবে হজমের সমস্যাও একই রকম বা তার বেশি সময় ধরে চলতে পারে।

Dengue and doctor's advice
Dr. Sanjoy Mandal

 

তাই, ডেঙ্গু পরবর্তী সময়ে অন্তত তিন মাস তৈলাক্ত এবং মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন এবং সেইসঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাবারে খান। কারণ এই সময় খাদ্য-ভারসাম্য প্রয়োজন। আর এই খাদ্য-ভারসাম্য হল– সঠিক সময়ে খাওয়া এবং অল্প পরিমাণে খাওয়া। ফল, শাকসবজি এবং স্যালাড পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত। ডিম, মাংস, মাছ, সয়াবিন ও ডালের মতো প্রোটিনও পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করতে হবে, তবে তেল ছাড়া। প্রাতঃরাশ সবচেয়ে ভারী হওয়া উচিত। তারপর দুপুরের খাবার এবং রাতের খাবার সবচেয়ে হালকা হওয়া উচিত।

তৈলাক্ত ও মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। ভাজাভুজি খাবার এবং ঠাণ্ডা পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে। উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার স্বল্প মেয়াদে কিছুটা গ্রহণযোগ্য হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এড়িয়ে যাওয়া উচিত। যে খাবারগুলি এড়ানো উচিত তা হল—ঠাণ্ডা পানীয়, চকোলেট, ডেজার্ট, পেস্ট্রি, মিষ্টি, পোড়া তেলে ভাজা খাবার, চাউমিন, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, আইসক্রিম ইত্যাদি। আপনি যদি স্যালাড খান, তাহলে সস এবং মশলা যোগ করা এড়িয়ে চলুন।

সুস্থ হওয়ার পরপরই ভারী ব্যায়াম এবং হার্ড-ওয়ার্ক এড়িয়ে চলুন।

প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন (প্রতিদিন অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার)।  অ্যালকোহল এবং ধূমপান এড়িয়ে চলুন। স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং রাতে ঘুমোন অন্তত আট ঘন্টা।

আর ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পর সঙ্গে সঙ্গে কাজে যোগ দেবেন না, কিছুটা সময় ছুটি নিয়ে বিশ্রাম নিন।

কনের অলংকার

উত্তুরে হিমেল হাওয়ায় শীতের টান৷ ভোররাতে শরীরে বেশ একটা শিরশিরানি অনুভূতি। বিয়ের আদর্শ সময় আসন্ন। আর বিয়ে মানেই বেনারসি শাড়ি, মেক-আপের পাশাপাশি হেভি জুয়েলারি। বিয়ের গয়না নিয়ে কমবেশি সকলেই চিন্তায় থাকেন, কী ধরনের গয়না কিনবেন, কোথায় যাবেন?

আভিজাত্যই বলুন কিংবা পরম্পরা, বিয়েতে গয়নাটা মাস্ট। সেই প্রয়োজনীয়তা মেটাতে হাজির পাড়ার মোড়ের ছোটোখাটো বিপণি থেকে শহরের নামিদামি জুয়েলারি শপ্।  মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত সব ধরনের ক্রেতার চাহিদার গুরুত্ব দিয়ে রাখা হয় সাবেক এবং আধুনিক ডিজাইনের গয়নাও।Wedding ornaments বলতে গেলে, বিয়েতে মোটামুটি ভারী গয়নার চাহিদাই বেশি। নেকলেস, চূড়, বালা, মানতাসা, কানবালা, কানপাশা, ঝুমকো, ছেলের রিস্টলেট, বোতাম, গলার চেনের বিক্রিই বেশি। তবে পুরোটাই নির্ভর করে ক্রেতাদের পকেট কতটা পারমিট করবে তার উপর।

চিরাচরিত নকশা ছাড়াও চুড়ির মধ্যে চলছে চতুষ্কোণ, বেঁকি চুড়ি-সহ বিভিন্ন ধরনের স্টাইলিশ ডিজাইন। নেকলেসের মধ্যে ট্র্যাডিশনাল সীতাহারের পাশাপাশি রয়েছে অত্যাধুনিক ডিজাইনের চওড়া এবং সরু হার। চেনের মধ্যে রয়েছে মফ চেন, বক্স চেন, গোট চেন, মেশিন চেন। চূড়ের মধ্যেও রয়েছে অভিনব ম্যাট ফিনিশের মিনে করা শৌখিন চূড়। তবে ঐতিহ্যবহনকারী রতনচূড়ের চাহিদা আজও অক্ষুণ্ণ।

Bridal jewellery ফ্যাশনে ইন বিভিন্ন ধরনের গালা-ভরা বালা থেকে সলিড বালা। কানবালা এবং ঝুমকোর মধ্যেও রয়েছে অত্যাধুনিক সব ডিজাইন।এছাড়া চিরাচরিত মকর, হাঙর এবং সিংহমুখী পলা-ই হোক বা শাঁখা বাঁধানোই হোক– বিয়ের গয়নার তালিকায় এর উপস্থিতি বহুকাল যাবৎ চলে আসছে।

আজও এমন অনেক কনেই আছেন, যারা পারম্পরিক সূত্রে পাওয়া গয়নাকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। আবার অনেকেই বহুযুগ থেকে চলে আসা সেই একঘেয়ে ট্র্যাডিশনাল লুক বদলাতে পছন্দের তালিকায় রাখছেন ডায়মন্ড জুয়েলারি। আসলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলায় Trends of wedding jewellery৷

হালফ্যাশনে অবশ্য কেউ কেউ আবার ভারী গয়নার বদলে ডেলি ইউজের জন্য হালকা জুয়েলারিও বেছে নিচ্ছেন। হাল্কা ঝুমকো, সরু চুড়ি বা রিস্টলেট আর গলার জন্য মফ চেন৷ তবে সবকিছুর পরে যেটা বলতেই হয়, সেটা হল বাজেট। সোনার দাম যেখানে অগ্নিমূল্য, সেখানে হিসেব কষে পা ফেলাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সলিড বালা, চূড়, মানতাসা, নেকলেস, ইয়াররিং, দুটি আংটি ও একটি চেন। মোটামোি এটাই বিয়ের গয়না হিসাবে যথেষ্ট৷ এর থেকে কম গয়নাও কিনতে পারবেন। তবে মাথায় রাখবেন যতটা সোনা-ই কিনুন না কেন, সেটা যেন হলমার্ক করা গয়নাই হয়।

সুস্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য্যের সমীকরণ

আপনি কি নিয়মিত Morning walk করেন? নাকি প্রাতর্ভ্রমণের কথা উঠলেই কোনও না কোনও অজুহাতে তা খারিজ করে দেন? আসলে মহিলাদের স্বাভাবিক প্রবণতা হল মর্নিং ওয়াক এড়িয়ে যাওয়া। অথচ বহু মহিলাই জানেন না যে, এর মধ্যেই কিন্তু লুকিয়ে আছে সৌন্দর্য‌্য ও সুস্বাস্থ্য বহাল রাখার টোটকা।

আসলে মর্নিং ওয়াক করব এই প্রতিজ্ঞা না করলে আপনি কিছুতেই এর শুরুটা করতে পারবেন না। অথচ ” চলাই জীবন, থেমে যাওয়াই মরণ” — এই গানের কলির সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। তাই হাঁটতেই হবে। আপনার পা দু’টির বিশ্রামও যেমন প্রযোজন, তেমন হাঁটাও একান্ত জরুরি।

আজকের এই স্ট্রেস-যুক্ত জীবনশৈলীতে আমরা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি ডেকে আনি। আমরা নিজেদের হাত পায়ের পরিবর্তে, বেশি নির্ভর করি যন্ত্রের উপর। এই যন্ত্র নির্ভর জীবনে আমরা নিজেদের শরীরের কলকবজাগুলিকে পরিশ্রম না করিয়ে সেগুলিকে দুর্বল করে ফেলছি। ফলত পড়ে থাকা মেশিনের যেমন পার্টস খারাপ হয়ে যায়, আমাদের শরীরেরও তাই।

অবশ্যই যা করণীয়

মনে রাখবেন আপনার সৌন্দর্য‌্যের অনেকটাই কিন্তু নির্ভর করে আপনার শারীরিক Fitness-এর উপর। আজকাল ৪০ পার হলেই শরীরে কোনও না কোনও রোগ বাসা বাঁধে। হাইপারটেনশন, হার্টের সমস্যা এমন নানা রোগে মানুষ জর্জরিত। পুরুষ-নারী নির্বিশেষে এইসব রোগের শিকার। একটু নিজের ব্যাপারে অসতর্ক হলে আর অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করলেই আপনি এইসব রোগের কবলে পড়বেন।

ডায়াবেটিজ, ব্লাডপ্রেশার, থাইরয়েড, হাইপার টেনশন প্রভৃতি রোগ ধরা পড়লেই, সব চিকিৎসকই হাঁটার পরামর্শ দেন রোগীকে। আসলে এটাই সবচেয়ে সুলভ ও সহজ উপায় নিজেকে সুস্থ রাখার। কথায় বলে প্রাতর্ভ্রমণের মাধ্যমেই আমরা সারাদিন পরিশ্রম করার এনার্জি সংগ্রহ করে ফেলতে পারি। তবে যদি একান্তই আপনার পক্ষে মর্নিং ওয়াক-এ বেরোনো অসম্ভব হয়, তাহলে বিকেলটাকেই বেছে নিন হাঁটার জন্য। শুধু এটুকু খেয়াল রাখবেন যে, দ্বিপ্রাহরিক খাওয়া আর হাঁটতে বেরোনোর সময়ের মধ্যে যেন ৩-৪ ঘন্টার ব্যবধান অবশ্যই থাকে।

হাঁটার সময় কী করবেন?

  • হাঁটতে বেরোনোর সময়টা একই রাখুন প্রতিদিন। একটা রুটিন মেনটেইন করলে তা স্বাস্থ্যের জন্যও যেমন ভালো, তেমন নিত্যসঙ্গীও পেয়ে যাবেন
  • হাঁটার সময় আরামদায়ক জুতো অবশ্যই পরুন
  • গায়ে পরার পোশাকটিও যেন যথাসম্ভব আরামদায়ক হয়
  • হাঁটার জন্য কোনও সবুজ গাছগাছালি ভরা জায়গারই নির্বাচন করুন। সবুজে ঢাকা পার্ক আপনাকে হাঁটার স্ফূর্তি জোগাবে
  • হাঁটার সময় গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিন
  • যদি অনেকটা পথ হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তবে সঙ্গে অবশ্যই জলের বোতল রাখুন
  • হাঁটার সময় পেট খালি রাখাই ভালো
  • শীতের সময় অবশ্যই গরম কাপড় গায়ে দিয়ে হাঁটুন
  • সমস্ত কাজ সেরে নিশ্চিন্তে হাঁটুন, মাথায় অসম্পূর্ণ কাজের চিন্তা নিয়ে হাঁটবেন না

বিশেষ সতর্কতা

  • প্রথম দিনেই অনেকটা পথ হাঁটতে যাবেন না, এতে পরদিন উৎসাহ হ্রাস পাবে
  • হাঁটতে না যাওয়ার অজুহাত খুঁজবেন না
  • হাঁটার সময় গল্প করবেন না
  • হাঁটার পোশাক অতিরিক্ত ঢিলে, কিংবা অতিরিক্ত টাইট না হওয়াই ভালো
  • হাঁটার জন্য এমন জায়গা বাছবেন না যেখানে বারবার বাঁক আছে বা মোড় ক্রস করতে হয়। জায়গাটা সমতল এবং টানা অনেকটা রাস্তা হওয়াই ভালো
  • হাঁটার সময় মুখ দিয়ে নিশ্বাস নেবেন না
  • ইয়ারফোনের ব্যবহার করতে পারেন কিন্তু আওয়াজ কম রাখুন
  • শারীরিক চোট আঘাত থাকা অবস্থায় হাঁটতে বেরোবেন না।

ছোটোদের Snacking time

অনেক মায়েদের কাছে  বাচ্চাদের খাওয়ানো একটা মুশকিলের কাজ হয়ে দাঁড়ায়৷বাচ্চারা একই ধরনের খাবার রোজ রোজ খেতে চায় না৷ বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে,বাচ্চারা পছন্দ করে নতুন স্বাদের এবং গঠনের খাবার৷ নানা ধরনের স্বাদের সঙ্গে পরিচিত হতে চায়৷ আর এখন এই ডিজিটাল যুগে, সোশ্যাল অ্যাপগুলির মাধ্যমে ছোটোরা নানা দেশি-বিদেশি খাবারের সঙ্গে পরিচিত হয়৷ তাই মায়েদেরও আপডেটেড থাকা জরুরি৷ ছোটোদের Snacking time জন্য রইল Children’s special recipe৷ 

বেসনডিমের মুখরোচক

উপকরণ: ৪টে ডিম, ২ কাপ বেসন, ৩ ছোটো চামচ ঘি, অল্প লেটুসপাতাকুচি, অল্প লাল-সবুজ-হলুদ ক্যাপসিকামকুচি, অল্প বিটকুচি, ১/৪ কাপ ভুট্টার দানা সেদ্ধ করা, চাইনিজ সস, চাট মশলা ও নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: ২টো ডিম সেদ্ধ করুন আর ২টো ডিম বেসনের সঙ্গে মেখে নিন। প্রয়োজনে এই মিশ্রণে একটু জল দিতে পারেন। গোলার সময় স্বাদমতো নুন দেবেন। এবার এই মণ্ড থেকে লেচি তৈরি করে রুটির মতো বেলে নিন। একটি নন-স্টিক তাওয়ায় সেঁকে নিন অল্প ঘি দিয়ে লালচে রং ধরলে নামিয়ে রাখুন। সেদ্ধ ডিমগুলো চার টুকরো করুন। চাইনিজ সস মিশিয়ে বাকি কাটা সবজি মিক্স করুন। এই পুর রুটির উপর রেখে রোল করুন। ফয়েছে মুড়ে সার্ভ করুন। আপনি চাইলে সবজিগুলি শ্যালো ফ্রাই করে তারপর এই পুর বানাতে পারেন।

 

বেকড  র‍্যাডিওলি

Baked Radiole recipe

উপকরণ: ১ কাপ ময়দা, ১ বড়ো চামচ মাখন, ৩ বড়ো চামচ পনির গ্রেট করা, ১টা পেঁয়াজ, ১টা টম্যাটো, ২টো কাঁচালংকা, ১ বড়ো চামচ ক্রিম, ১ কোয়া রসুন, ১ ছোটো চামচ মাখন, ২ বড়ো চামচ গ্রেটেড চিজ, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: ময়দার সঙ্গে ১ ছোটো চামচ মাখন, ১/৪ চামচ নুন ও প্রয়োজনমতো জল দিয়ে মেখে নিন। এর থেকে লেচি কেটে নিন, তারপর লুচির মতো বেলে নিন। পনির, নুন ও পেঁয়াজ দিয়ে চটকে মেখে, এই পুর লুচির উপর চারিয়ে দিন এবং কোণাগুলো মুড়ে দিন। সবকটা র‌্যাডিওলি তৈরি হলে গরম জলে এগুলিকে ছেড়ে দিন ও ফুটতে দিন। ২-৩ মিনিট পর নামিয়ে রাখুন ও জল থেকে তুলে নিন।

পেঁয়াজ, টম্যাটো, রসুন ও লংকা একসঙ্গে মিক্সিতে পিষে নিন। কড়ায় মাখন গরম করে টম্যাটো দিয়ে এই মিশ্রণ নাড়াচাড়া করে রান্না করুন। নুন ও ক্রিম দিন। বেকিং ডিশ-এর নীচে দিন সসটা, তার উপর র‌্যাডিওলিগুলি সাজিয়ে দিন। উপর থেকে চিজ ছড়িয়ে আভেনে বেক করুন। চিজ গলে গেলে বের করে নিন ও সার্ভ করুন।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব