অর্শ এবং উপযুক্ত চিকিৎসা

আধুনিক জীবনযাপনের অন্যতম কুফল হল অর্শ। শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা, শাকসবজির মতো খাদ্য গ্রহণে বিরত থাকা, প্রচুর পরিমাণে মাংস-সহ ফাস্ট ফুড খাওয়ার প্রবণতা, প্রযোজনের তুলনায় কম জল পানের কুঅভ্যেস ডেকে আনে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পরবর্তীকালে অর্শের মতো রোগ। ল্যাপারস্কোপিক, লেজার, অঙ্কোলজি অ্যান্ড গ্যাস্ট্রো সার্জন,ডা. প্রসেনজিৎ চৌধুরি এ বিষয়ে জানিয়েছেন বিস্তারিত।

জটিলতা

অর্শ যে-কোনও বয়সেই হতে পারে। আজকাল অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের মধ্যে অর্শের প্রকোপ বেড়েছে।

রোজকার জীবনে অভিশাপ বয়ে আনে অর্শ। ব্যথার কারণে রুটিনমাফিক কাজে মনোনিবেশ করা সম্ভব হয় না। কোনও খাবার খেতে গেলেও ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়।

অর্শের লক্ষণ

  • প্রাতঃকৃত্যের সময় মলদ্বারে পীড়া অনুভব করা
  • মলদ্বারের চারপাশে ব্যথার অনুভূতি
  • রেকটামে বেদনা
  • মলদ্বারের চারপাশে যন্ত্রণাদায়ক ফোলা অথবা শক্ত মাংসপিন্ডের অংশ বেরিয়ে আসা।

চিকিৎসা 

কোষ্ঠকাঠিন্য হলে আমরা সকলেই চাপ দিয়ে মলত্যাগের চেষ্টা করি। সমস্যা হল, জন্ম থেকেই আমাদের রেকটামে এমন একাধিক অংশ থাকে যেখানে রক্ত সঞ্চিত থাকে। চাপ দিয়ে মলত্যাগের কারণে রক্ত জমাট বাঁধা অংশগুলি নীচের দিকে নেমে আসে। মলত্যাগের সময় বারবার আঘাত পেতে থাকে ওই অংশগুলি। ফলে আরও বেশি করে ফুলে যায় ও থলির মতো আকার ধারণ করে। প্রতিবার মলত্যাগের সময় শুরু হয় প্রবল ব্যথা। ব্যথার ভয়ে রোগী প্রাতঃকৃত্য করতে ভয় পান।

মুশকিল হল, ব্যথা যন্ত্রণা শুরু হলেই সাধারণ মানুষ নিজের থেকে রেকটামে নানবিধ ওষুধ প্রযোগ করতে থাকেন। তার ফলে রোগ নির্ণয়ে আরও দেরি হয়। অসুখ আরও জটিল আকার ধারণ করে।

রোগী চিকিৎসকের কাছে পরামর্শের জন্য পৌঁছলে, ডাক্তারবাবু সাধারণত প্রক্টোস্কোপির (ক্যামেরাযুক্ত বিশেষ যন্ত্র যার সাহায্যে মলদ্বারের অন্দরের পরীক্ষা করা হয়) মাধ্যমে অসুখ কতখানি জটিল হয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করেন।

অসুখ প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলে সাধারণত কিছু ওষুধ দিয়ে সমস্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। তবে অসুখের অগ্রগতি হলে তখন সার্জারি ছাড়া উপায় থাকে না।

আগে সাধারণত ওপেন সার্জারি করে অর্শ বাদ দেওয়া হতো। পুরোনো পদ্ধতি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ছিল। এই কারণে অপারেশন পরবর্তী জটিলতাও হতো বেশি। তবে এখন চিকিৎসা ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। এসেছে লেজার সার্জারি। লেজার অপারেশনে নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মির সাহায্যে রক্ত-সহ পাইলস-কে অনায়াসে শুকিয়ে দেওয়া যায়।

এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড়ো সুবিধা হল, পদ্ধতিটি প্রায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন। অনেক ক্ষেত্রে ওপেন সার্জারির পর রোগী পায়খানার বেগ এলে মল ধরে রাখতে পারতেন না। লেজার সার্জারির পর রোগী আগের মতোই স্বাভাবিক মলত্যাগের অভ্যেসে ফিরতে পারেন।

এছাড়া ওপেন সার্জারিতে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকত। বেশ কয়েকদিন পর্যন্ত রোগী টয়লেটে ঢুকতে পারতেন না। শয্যাশায়ী হয়ে থাকতে হতো। লেজার সার্জারিতে সেক্ষেত্রে একদিনের মধ্যেই রোগী হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে যান। ফিরতে পারেন রোজকার কর্মে।

লেজার সার্জারিতে রেকটামে কয়েকদিন সামান্য ব্যথা বোধ হতে পারে। মলত্যাগের সময় কয়েকফোঁটা রক্তও বেরোতে পারে। তবে তা তেমন চিন্তার ব্যাপার নয়।

৪ থেকে ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ওপেন সার্জারিতে অর্শ ফিরে আসার আশঙ্কা থাকত। সেই জায়গায় লেজার সার্জারিতে ১ থেকে ২ শতাংশ ক্ষেত্রেই রোগ ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে।

‘দোস্তজি’র প্রশংসায় বলিউড বাদশা অমিতাভ বচ্চন

নিম্নবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা দুই বন্ধু আশিক শেখ এবং আরিফ শেখ। একজনের বাবা ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে দিন গুজরান করেন, অপরজন কাঠের কাজ করেন। শৈশবের বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, ধর্মনিরপেক্ষতা সবকিছুর মিশেল ঘটেছে Cinema-টিতে।

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নিবেদনে ১১ নভেম্বর সারা দেশে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি ‘দোস্তজি’ পরিচালনা করেছেন টলিউডের তরুণ পরিচালক প্রসূন চট্টোপাধ্যায়। পরিচালনার দক্ষতায় ছবিটি এক অনন্য মাত্রা পেয়েছে। তুহিন বিশ্বাসের ক্যামেরা, গল্পের গাঁথুনি, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক সবকিছুই অনবদ্য।

এই ছবির সিনেমাটোগ্রাফার, রানাঘাটের প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক তুহিন বিশ্বাস এই ছবির দৌলতে পৌঁছেছেন গোল্ডেন গ্লোবালের মঞ্চে, যেখানে সেরা চিত্রগ্রাহকের মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। লন্ডন, সুইডেন, ডারবান, জাপানের ফেস্টিভ্যালে দেখানো হচ্ছে এই ছবি। এছাড়াও সারা বিশ্বের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি সমাদৃত হয়েছে। একাধিক দেশের ফেস্টিভ্যালেও প্রশংসিত হয়েছে। ২৬টি দেশে দেখানো হয়েছে ‘দোস্তজি’। আটটি আন্তর্জাতিক স্তরের পুরস্কারও রয়েছে ছবিটির ঝুলিতে।

বহু কষ্টের ফসল হল ‘দোস্তজি’ Cinema-টি। পরিচালক প্রসূন চট্টোপাধ্যায়ের এটিই প্রথম কাজ। প্রথম প্রথম অর্থাভাবের কারণে ছবিটি করতে অনেক কষ্ট করেছেন পরিচালক। পাশে পেয়েছেন তুহিনের মতো সিনেমাটোগ্রাফারকে, যিনি বিনা পারিশ্রমিকে বন্ধুর কাজ করেছেন এবং সফল হয়েছেন। স্টিল ফটোগ্রাফার থেকে সিনেমাটোগ্রাফার হয়ে ওঠার যে জার্নি তুহিনের সেটাও কম সংঘাতময় ছিল না তাঁর জন্য। কিন্তু আজ তাঁরা পরিচিত নাম, সারা বিশ্বে বাঙলির গর্ব।

এবার আসা যাক ছবির দুই শিশু শিল্পী আশিক শেখ এবং আরিফ শেখের কথায়। ছবিতে দুই বন্ধুর চরিত্রে দু’জনের অভিনয় প্রশংসিত আজ বিশ্বজুড়ে। এক বন্ধু হিন্দু ব্রাহ্মণ নাম পলাশ, অন্যজন সফিকুল জাতে মুসলমান। বাংলাদেশ বর্ডারের কাছে মুর্শিদাবাদের প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা এই দুই শিশুর বিশুদ্ধ সম্পর্কের উষ্ণতা, একে অপরের প্রতি ভালোবাসার টানই এই ছবির প্রাণ। মুর্শিদাবাদের ডোমকলের অন্তর্ভুক্ত ভগীরথপুরের বাসিন্দা এই দুই খুদে মাস্টার। গ্রামের বাইরে পা না রেখেও বিশ্বের মানুষের মন জয় করে নিয়েছে নিজেদের অভিনয় ক্ষমতা দিয়ে। জিতে নিয়েছে ২০২২-এর মালয়েশিয়া গেল্ডেন গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড-এ সেরা অভিনেতার পুরস্কার। ইউনেস্কোর ‘সিফেজ’ পুরস্কারও রয়েছে ‘দোস্তজি’ ছবির ঝুলিতে।

ছবির দুই খুদে শিল্পীর অভিনয় এবং পুরো Cinema-টি দেখে মুগ্ধ বলিউডের সিনিয়র অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন এবং সেকথা তিনি জানিয়েছেন টুইট করে। ছবিটির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক শিল্পীর জন্য রইল আমাদের অনেক শুভকামনা।

 

এ এক মিথ্যাচারের জাল

গত ২ দশক ধরে ফোটোগ্রাফি ও ভিডিয়োগ্রাফির কারিগরিতে প্রভূত উন্নতি ঘটেছে। কিন্তু সেই উন্নতির অপপ্রয়োগও ক্রমাগত বাড়ছে। ভিডিয়ো তৈরি করে কারও রাজনৈতিক কেরিয়ারে কলঙ্কের দাগ লাগানো এখন যতটা সহজ, ততটাই সহজ কারও চরিত্র হনন করা। ক্ষমতায় থাকা মানুষজন রাজনৈতিক ভাবে এর যথেষ্ট ফায়দা লুঠছেন। হিন্দু-মুসলিম বিদ্বেষ তৈরি করেই হোক কিংবা গোষ্ঠিদ্বন্দ্ব, সবেতেই ব্যবহার করা হচ্ছে এই ভিডিয়োগুলো। অধিকাংশই যা বিকৃত ভাবে উপস্থাপন করা হয় টেকনোলজির সাহায্যে।

এইসব ফোটো ও ভিডিয়োকে লোক সমক্ষে আনার এখন সহজতর উপায় হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া। এর ফলে যে-কোনও মানুষ যেমন রাতারাতি বিখ্যাত হতে পারেন, আবার এক রাতেই তার ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্তও করে দেওয়া যায় জাল ভিডিয়োর সাহায্যে।

এই টেকনোলজির অপব্যবহারের সবচেয়ে বড়ো শিকার এখন মহিলারা। দেশের নানাপ্রান্তে ঘটছে এমন নানা ঘটনা যা তাদের সম্ভ্রমকে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে। সম্প্রতি দিল্লির গাজিয়াবাদের এক টেক্সটাইল কোম্পানির নামি অফিসারের স্ত্রীয়ের মুখ, একটি নগ্ন মহিলার ভিডিয়োর সঙ্গে কারিগরির সাহায্যে যুক্ত করে দেওয়া হয়। তারপর ওই অফিসারের নম্বর-সহ তাঁর পরিচিতের কাছে ফোনের সাহায্যে পৌঁছে দেওয়া হয় ওই অশ্লীল ভিডিয়ো। এই লোকলজ্জা থেকে বাঁচতে ভদ্রলোককে ৫ লক্ষ টাকা দিতে হয় দুষ্কৃতকারীদের। জানা যায়, তাঁর স্ত্রী বস্তুত নিজের খারাপ হয়ে যাওয়া মোবাইলটি কোনও দোকানে সারানোর জন্য দিয়েছিলেন, সেখান থেকে ডেটা কপি করে বাধানো হয়েছে এই বিপত্তি।

আসলে আমরা কেউই সুরক্ষিত নই এই অন্তর্জালের দুনিয়ায়। কার মুখ কার নগ্ন শরীরে বসিয়ে ভিডিয়ো ভাইরাল করে দেওয়া হবে তা কোনও নারীই জানেন না। আসলে দেশের কারিগরিকে উন্নত করা হয়েছিল একটি সাধু উদ্যোগ নিয়ে আর এখন তার সম্পূর্ণ অপপ্রয়োগ ঘটছে।

কারিগরি উন্নতির আর কত মাশুল আমাদের দিতে হবে জানা নেই। তবে এর সবচেয়ে বড়ো ক্ষতি যে মহিলাদেরই হচ্ছে, এতে কোনও সন্দেহ নেই। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে অপরাধী চিহ্নিত করতে হবে আর শাস্তির ব্যবস্থাও করতে হবে কঠোরতর।

Action packed ‘খেলা যখন’-এ অর্জুন-মিমি জুটি

আড়াই বছর আগেই নাকি ছবির শুটিং হওয়ার কথা ছিল। প্রথমে অন্য নানা সমস্যার জটে এবং পরে অতিমারির জন্য পিছিয়ে গিয়েছিল শুটিং। শেষ পর্যন্ত ৪ ডিসেম্বর মুক্তি পেতে চলেছে নির্দেশক অরিন্দম শীলের থ্রিলার ছবি ‘খেলা যখন’।

ছোটোপর্দার এক সময়ে খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল মিমি চক্রবর্তী এবং অর্জুন চক্রবর্তীর রসায়ন। ঋতুপর্ণ ঘোষ নির্দেশিত ‘গানের ওপারে’  সিরিয়ালটিতে, বাঙালি দর্শককে মোহাবিষ্ট করে রেখেছিল এই জুটি৷ তবে বড়োপর্দায় এটা মোটেই মিমি আর অর্জুনের প্রথম কাজ নয়। এর আগেও তাঁদের একত্রে দেখা গিয়েছে। ‘বাপি বাড়ি যা’ ছবিটিতে তাঁরা একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। এছাড়া  বিরসা দাশগুপ্তর ‘ক্রিসক্রস’ ছবির একটি অংশে মিমির বিপরীতে অর্জুনকে দেখা গিয়েছিল। তবে এবার বড়ো পর্দায় একেবারে অন্য স্বাদ আর থ্রিলারের মেজাজে দর্শকমন জিততে প্রস্তুত এই যুগল৷

পরিচালক অরিন্দম শীলের মতে ‘খেলা যখন’ ছবিটি একটি আদ্যোপান্ত অ্যাকশন থ্রিলার ছবি।এই ছবিটি তাঁর অন্যতম স্বপ্নের প্রজেক্ট।ছবিটির প্রযোজনা করেছে এসভিএফ, ক্যামেলিয়া প্রোডাকশনস ও রাজপ্রতিম ভেঞ্চার্স।

এর আগে নানা থ্রিলারে নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন অরিন্দম শীল, এবারেও তাই ‘খেলা যখন’ নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা অনেক।গল্পের শুরু হচ্ছে একটি দুর্ঘটনা দিয়ে। আর সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন এই ছবির অন্যতম মূল চরিত্র মিমি চক্রবর্তী। কিন্তু যখন এই দুর্ঘটনার উৎস অনুসন্ধান পর্ব শুরু হয়, তখনই সেখানে নানা চমক লুকিয়ে থাকে।অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে তবেই মিমি আসল সত্যটা অবিষ্কার করতে পারেন৷ কী সেই সত্য? জানতে হলে প্রেক্ষাগৃহে যেতে হবে৷

ছবির পোস্টারে দেখা গেছে পিস্তল হাতে টার্গেট-কে তাগ করছেন অর্জুন।এক অদ্ভুত বিপন্নতা মিমির চোখে মুখে৷ যেন কাটিয়ে উঠতে চাইছেন তাঁর অস্তিত্বের সংকট৷ ছবিতে মিমি অভিনীত চরিত্রের নাম ঊর্মি। ছবির গল্পও দ্রুত গতিতে এগোয়, পরতে পরতে সত্য উন্মোচন করে চিত্রনাট্য। পোস্টারে মিমি-অর্জুন ছাড়াও দেখা যাচ্ছে সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়কে। Khela Jawkhon ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেতা বরুণ চন্দকে। এছাড়াও অন্যান্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অলকানন্দা রায়  অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।

ছবির বেশিরভাগ শুটিং হয়েছে আউটডোরে। কলকাতা এবং ওডিশায় লোকেশন চয়ন করেছেন পরিচালক।অরিন্দমের অধিকাংশ ছবির মতো, এই ছবিরও সংগীত পরিচালনা করবেন বিক্রম ঘোষ৷

প্রসঙ্গত,এ বছরটা মিমির জন্য বেশ উল্লখযোগ্য৷ চলতি বছরেই মুক্তি পেয়েছিল Mimi Chakraborty  অভিনীত ছবি ‘মিনি’। সেই ছবির পর আবারও পর্দায় দেখা যাবে সাংসদ অভিনেত্রীকে। এছাড়াও OTT platform -এ  একটি হিন্দি ওয়েব সিরিজে ডেবিউ করতে চলেছেন নায়িকা। শোনা যাচ্ছে, মিমির সঙ্গে এই ওয়েব সিরিজে অভিনয় করতে পারেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং অদিতি রাও হায়দরি । ওয়েব সিরিজটি পরিচালনা করবেন বলিউডের বিখ্যাত পরিচালক বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানি।

পর্যটন মানেই কি তীর্থযাত্রা?

নিরন্তর ধর্মপ্রচারের ফল হল সমস্ত দেশে হিন্দু রিলিজিয়াস টুরিজম-এর প্রচার ও প্রসার। চারধাম যাত্রা, কাশি করিডোর, তিরুপতি, বৈষ্ণোদেবী তো আছেই, সেই সঙ্গে প্রচুর অখ্যাত দেবদেবীর দোরেও বেশ ভিড় বাড়ছে। ঝাড়খণ্ডের দেওঘরে রোপওয়ে দুর্ঘটনা, এমন এক ভিড়ের ফল, যেখানে পূণ্যার্থী টানার জন্যই ব্যবহার করা হয়েছিল রোপওয়েগুলি।

এমনই ভক্তের ভিড় লেগে থাকত দেওঘরে যে, রোপওয়ে ট্রলিগুলি সারানোর পর্যন্ত ফুরসত পাওয়া যায়নি। বহু মানুষের প্রাণ চলে গেল এই অসতর্কতার ফলে।

আমাদের দেশে ধর্মপ্রচার এতই জোরদার ভাবে করা হয় যে, পর্যটন ও তীর্থ এখন সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। টেলিভিশনের ভক্তি চ্যানেল, মন্দিরে পান্ডাদের রমরমা সবই পরোক্ষ ভাবে তীর্থযাত্রীর সংখ্যা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।

দেবদেবীর উপর এই বিশ্বাসই ভারতের আপামর মানুষকে ঘরছাড়া করে তীর্থস্থানে পুণ্যার্জনের জন্য। দানদক্ষিণা, উপবাস, কী করলে যে পাপস্খলন হবে, তা ঠাওর করতে পারে না সাধারণ মানুষ। কখনও ব্যাবসার ডুবে যাওয়া হাল সামলাতে, কখনও সংসারের অশান্তি নিরাময়ের উপায় হিসেবে পুণ্যলোভী মানুষ তীর্থস্থানে ঘুরে বেড়ান।

মহিলাদের লক্ষ্য করেই এইসব তীর্থস্থানের মাহাত্ম্য প্রচার করা হয়। বাড়িতে ঠাকুরঘর থাকা সত্ত্বেও বৃহত্তর পুণ্যার্জনই যখন উদ্দেশ্য হয়ে ওঠে তখনই হয় পান্ডা-পুরোহিতদের পোয়াবারো। সাধারণ ধর্মভীরু মানুষদের পকেট থেকে অর্থ বের করে নেওয়ায় এইসব মানুষগুলো সিদ্ধহস্ত।

ক্রিশ্চানরা রবিবার আর কোনও কাজ করুন বা না করুন চার্চে যাওয়াটা বাধ্যতামূলক। পাদরির ধর্মপ্রচার ও ভাষণের টানে সকলেই হাজির হন চার্চে। আমেরিকাতেও আজ বর্ণবিদ্বেষ, বিত্তবান ও গরিবদের মধ্যেকার ফারাক বড়ো প্রকট। অর্থাৎ কিনা কোনও ধর্ম এই ভেদাভেদ মোটেই দূর করতে পারেনি। এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের বলি কিছু ধর্মান্ধদের সেন্টিমেন্ট-কে কাজে লাগানো হয়েছে বৃহত্তর স্বার্থসিদ্ধির জন্য।

আবার আফগানিস্তানে ইসলামি প্রচারতন্ত্রের বোঝা চেপেছে সেখানকার মহিলাদের কাঁধে। শ্রীলংকার বৌদ্ধ-সিংহলি বনাম হিন্দু-তামিলদের বিদ্বেষ যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। অতিরিক্ত ধর্মের বশবর্তী হয়ে ওঠার ফল এখন মহিলাদের বিশ্বের সর্বত্র ভোগ করতে হচ্ছে। নবরাত্রিতে মহিলাদের বিশেষ ব্যঞ্জন প্রস্তুত করতে হিমসিম খেতে হবে এও যেমন পূর্বনির্ধারিত, তেমনই মন্দিরে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে দেব-দেবী দর্শনের জন্য, এও তাদের ভবিতব্য।

অথচ অ্যাডভেঞ্চারের মজাই আলাদা। পর্যটনকে যদি সেভাবে প্রোজেক্ট করা হতো, তাহলে এই আকর্ষণে গা ভাসাতেন আরও বহু মানুষ। তা না হয়ে এটা হয়ে উঠেছে ধর্মীয় স্থানে টাকা লুঠপাটের একটা ষড়যন্ত্র মাত্র!

আজি ঝড়ের রাতে…

আঠারো বছর বয়সের সময় যখন আমি কলকাতায় পালিয়ে যাই, তখন নন্দিনীর বয়স ছিল পনেরো। আজ তিন বছর পর আমি বাড়ি ফিরলাম। এখন আমার বয়স একুশ আর নন্দিনীর আঠারো। মা বললেন, দুজনের বিয়ের বয়স হয়ে গেছে এবার চারহাত এক করতে হবে।

ওই যে কথায় আছে না, জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে তিন বিধাতা নিয়ে। কেউ জানে না কার ভাগ্য কার সঙ্গে লেখা হয়ে আছে। কিন্তু শুরুটা তো এমন ভাবে হয়নি, হয়েছিল এক প্রাণবন্ত ছন্দে। নন্দিনী যে কখনও অন্য কারও হয়ে যাবে সে কথা তো কোনওদিন ভেবেই দেখিনি।

নন্দিনীর সঙ্গে ছোটোবেলায় স্কুলে গেছি। পুতুল খেলেছি। পুতুলের বাবা মা সাজার সময় আমি বাবা হয়েছি ও মা হয়েছে। কখনও আবার বর-বউ খেলেছি। ওদের বাড়িতে গেলে নন্দিনীর মা আমাকে খুব আদর যত্ন করতেন। স্কুল ছুটি থাকলে দুপুরবেলা প্রায়ই ডেকে নিয়ে খাওয়াতেন এবং দস্তুর মতো দুজনকে পাশে বসিয়ে হাত দিয়ে ভাত মেখে খাইয়ে দিতেন। আবার আমাদের দুজনকে একসাথে দাঁড় করিয়ে আপনা-আপনি বলাবলি করতেন, আহা, বেশ মানিয়েছে দুটিকে।

তখন ক্লাস টু-তে পড়ি। অনেক ছোটো ছিলাম তাই হয়তো কথাটার মানে বুঝতে পারতাম না। শুধু এটুকু বুঝতাম আমাদের দুজনকে ওনারা খুব পছন্দ করতেন। নন্দিনীর প্রতি আমার একটু বেশিই দাবি ছিল অন্যান্য বন্ধুবান্ধব বা ওর আত্মীয়স্বজনের থেকে এবং সেই ধারণা ক্রমশই বদ্ধমূল হয়ে যাচ্ছিল আমার মনের মধ্যে। সেই অধিকারে আমি কখনও তাকে শাসন করতাম এবং সেও আমার সব শাসন মাথা পেতে নিত সহিষ্ণু ভাবে।

মাঝে মাঝে তাকে উপদ্রব করতাম, শাস্তি দিতাম কিন্তু কোনওদিন টুঁ-শব্দটি করেনি। নির্দ্বিধায় সব মাথা পেতে নিত। খুব সুন্দরী বলব না তবে বেশ ভালোই দেখতে ছিল। পাড়ার বখাটে ছেলেদের কাছে সে সৌন্দর্যের কোনও দাবি ছিল না। তবে আমি জানতাম আমার আদেশ পালন করার জন্যেই তার জন্ম এবং হয়তো সেই কারণে আমি অনেকটাই তাকে অবহেলা করতাম।

বাবাকে হারিয়েছি বছর দুই আগে। শুনেছি বাবা বলতেন, বাড়ুজ্জ্যে মশাই ওর হাত দেখে বলেছেন আমার রাজা একদিন সত্যি-সত্যিই দেশের রাজা হবে। বাবার ইচ্ছা আমি পড়াশোনা করে অনেক বড়ো হই। তাঁর মতো কলমপেশার চাকরি যেন না করি। ছোটোবেলায় আমি কিন্তু মনে মনে তা, কোনওদিন চাইতাম না। আমি চাইতাম সারাদিন ধরে শুধু খেলাধুলা করব। তাই জীবনে আমি হয়তো কোনও খেলাই বাদ দিইনি।

মার্বেলগুলি, ডাংগুলি, সিগারেট-এর প্যাকেট কেটে তাস, পিট্টু ছাড়াও মেয়েদের সঙ্গে গোল্লাছুট, আরও কত বলব। ফুটবল, ক্রিকেট তো একটা ইতিহাস। দুপুর রোদে ঘর থেকে পালিয়ে যেতাম ক্রিকেট ম্যাচ খেলার জন্যে। মা আবার আমাকে খোঁজ করে ঘরে এনে বেঁধে রাখতেন। কখনও মার সবে একটু তন্দ্রা এসেছে, সেই ফাঁকে বাঁধন খুলে, দরজার খিল খুলে আবার পালিয়ে গিয়েছি। পরে দাদাদের হাতে মার খেয়েছি কিন্তু খেলা থেকে কখনও পিছপা হইনি।

প্রতিদিন বিকালে স্কুল থেকে ফিরে এসে কোনওমতে নাকেমুখে গুঁজে সোজা অরবিন্দ স্কুলের মাঠে। আর বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। এদিকে মা ছাতা নিয়ে যখন আমাকে মাঠে খুঁজতে গেছে তখন আমি স্ট্রাইকার রোলে সররা খাচ্ছি।

যাইহোক ধীরে ধীরে খেলাধুলার জগৎ থেকে ইতি টানলাম। শৈশব থেকে কৈশোরে পা বাড়াতেই দেখলাম আমার বন্ধু রঞ্জন ডাক্তার হওয়ার বাসনায় তেড়েফুঁড়ে লেগেছে। হঠাৎ একদিন এও শুনলাম যে, সে কলকাতায় পালিয়ে গেছে। উঠেছে কোনও এক আত্মীয়ের বাড়িতে। সেখানে থেকে সে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন সফল করবে।

আমার জীবনেও সেরকম অনেক উচ্চাশা ছিল। ওর মতো ডাক্তার না হতে পারি (যদিও মনে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার বাসনা ছিল) নিদেনপক্ষে একটা সরকারি চাকুরে অর্থাৎ সরকারি অফিসের বড়োবাবু হওয়ার জন্য মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলাম।

ছোটোবেলার কথা আবছা মনে পড়ে। বাবাকে দেখতাম হাওড়া ব্রিজের নির্মাণ পদ্ধতি কত সুন্দর করে বুঝিয়ে বলতেন। তাছাড়া বাবার আত্মীয়দের মধ্যে অনেকেই উঁচু পোস্টের ইঞ্জিনিয়ার। বাড়িতে তাঁরা এলে বাবা তাঁদের অনেক সম্মান করতেন। সেদিন যেন বাড়িতে উৎসব আনন্দের ঢেউ উঠত। কত পদ যে-মাকে রান্না করতে হতো তার হিসাব নেই।

আমিও শিশুকাল থেকে সেই ইঞ্জিনিয়ার আত্মীয়দের হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে সম্ভ্রমের আসন দিয়েছিলাম। যেন আমার ভারতবর্ষের পূজ্য দেবতা। তেত্রিশ কোটি দেবতার ছোটো ছোটো সংস্করণ। যেন বাবা বিশ্বকর্মার সন্তান, নাতি, পুতি এঁরা। বাবা বিশ্বকর্মা কী কী খেতে ভালোবাসতেন জানি না, তবে এদের খাতির আরও বেশি ছিল।

আমিও রঞ্জনের মতো একবার বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলাম কলকাতায়। যাই হোক বালিগঞ্জে একটা চেনা লোক পেয়ে গেলাম। তার বাড়িতেই উঠলাম। ভদ্রলোকের নাম বীরেন দাস। তাঁর আবার তিন মেয়ে, বড়োজন ভালো গান গাইতে পারে অনেক মেডেলও পেয়েছে। সে আমার চেয়ে বছর দু-তিনেক বড়ো। আবার প্রেমও করে। ছেলে সাধারণ কারখানায় কাজ করে।

বীরেনবাবুর আপত্তি ওই ছেলের সঙ্গে বড়ো মেয়ের বিয়ে দিতে। সেই দুঃখে বড়ো মেয়ে কন্টিনিউয়াস সাতদিন অনশনে। বীরেনবাবু অনেক কষ্টে বিয়েতে রাজি হলেন এবং তারপর বড়ো মেয়ে অনশন ভঙ্গ হল। মেজটার বিয়ে হবে হবে করছে। ছেলে আর্মিতে চাকরি করে। ছোটোটা স্কুলে পড়ে। আমার উপর দায়িত্ব পড়ল ছোটোটাকে পড়ানোর।

মাথায় গোবর আছে বললেও বেশি বলা হবে। আমি পড়াব কী, সে উলটে আমায় পড়িয়ে দেয়। জানি না ওনারা কী ভেবেছিলেন বা আমার ছাত্রীর মনে কী মনোভাব ছিল। তবে ওদের পাড়ায় কানাঘুষো চলত আমি ওই বাড়ির ছোটো জামাই। যাই হোক মা কেঁদেকেটে যখন খবর পেলেন যে, আমি কোথায় আছি তখন দাদাদের হাত দিয়ে পড়াশোনার জন্য কিছু কিছু দক্ষিণা পাঠাতে লাগলেন।

পড়াশোনাও ধীরে ধীরে এগিয়ে চলল। আর টিউশানির পয়সা আমি নিতাম না, ওটা বীরেনবাবুর কাছে জমা থাকত। ওনার রেফারেন্সে গ্রাজুয়েশনের পরে ম্যানেজমেন্ট পড়তে গেলাম। কারণ উনি বলেছিলেন সাধারণ গ্রাজুয়েট হয়ে কিচ্ছু হবে না। দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যাই শুধু বাড়বে। খরচা ম্যানেজ করেছিলাম ওই জমা টিউশানির পয়সা আর ওনার সামান্য কিছু সাহায্য দিয়ে। বীরেনবাবুকে কোনওদিন ভুলব না!

মাঝে মাঝে কলকাতার মিছিল-মিটিং-এ যোগ দিতাম। সেই সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভযংকর ছিল। দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা অবিলম্বে প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল এবং সে সম্বন্ধে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না। সেই দুঃসাধ্য কাজটা কীভাবে করব, লোকে উপদেশ দিত কিন্তু দৃষ্টান্ত কেউ দেখাত না।

সেই শহরে তখন নীলুদা, রূপকদার পাল্লায় পড়ে দেশের কাজে লেগে পড়লাম। বদমাস ছিলাম ঠিকই, তবে সেই কাজে উৎসাহের কোনও ঘাটতি ছিল না। আমরা পাড়াগাঁয়ের ছেলে হতে পারি, কলকাতার ওই ইঁচড়ে-পাকা ছেলেদের মতো সব জিনিস নিয়ে পরিহাস করতে শিখিনি। সুতরাং আমাদের নিষ্ঠা অত্যন্ত দৃঢ় ছিল।

আমাদের সভায় নেতা-নেত্রীরা বক্তৃতা দিতেন, আর আমরা চাঁদার বই হাতে নিয়ে না-খেয়ে দুপুর-রৌদ্রে টো-টো করে বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে বেড়াতাম। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে লিফলেট-পত্রিকা বিলি করতাম। সভার জন্য চেয়ার-বেঞ্চি সাজাতাম। আমাদের নেতার নামে কেউ একটা খারাপ মন্তব্য করলে মারামারি পর্যন্ত করতে এগিয়ে যেতাম। শহরের ছেলেরা এসব দেখে আমাদের নিয়ে মজা করত।

আসলে পার্টির লোকেরা যে আমার ব্রেন ওয়াশ করে রেখেছে। দেশের এখন দুরবস্থা, তাই দেশের জন্য লড়তে হবে। মনে মনে আমি প্রতিজ্ঞাও করেছিলাম, আজীবন বিয়ে না করে দেশের জন্য লড়ে যাব। মাকেও তাই বললাম, পড়াশোনা শেষ না করে আমি বিয়ে করব না।

এসব ভাবনা যখন চলছিল, তার ঠিক ছমাস পরেই খবর পেলাম, এলআইসি-তে কর্মরত অবিনাশবাবুর সাথে নন্দিনীর বিয়ে হয়ে গেছে। রাজনৈতিক ডামাডোলে অসহায় ভারতের চাঁদা-আদায়ের কাজে ব্যস্ত ছিলাম, নন্দিনীর বিয়ের খবর তখন অত্যন্ত তুচ্ছ বলে মনে হয়েছিল। পরে শুনেছিলাম দুজনের বয়সের অনেকটাই পার্থক্য, বছর পনেরো তো হবেই।

বন্ধুরা বলেছিল বিয়ের দিন নন্দিনী নাকি খুব কান্নাকাটি করেছিল। বারবার বলছিল রাজা আমাকে ভীষণ ঠকাল। সেই ছোটোবেলা থেকে ওকে আমি ভালোবাসি। সে কথা শুনে আমার চোখের কোণাটা একটু ভিজেছিল ঠিকই আর ঠিক সেই সময়ে রবিঠাকুরের কবিতাটা কোথা থেকে যেন উড়ে এসে আমার দিকে বুকের মধ্যে তার তির নিক্ষেপ করে বলতে চাইল, যে আছে অপেক্ষা করে তার পরনে ঢাকাই শাড়ি কপালে সিঁদুর।

ম্যানেজমেন্ট পড়া সবে শুরু করেছি এমন সময় দাদা বিয়ে করে বউ নিয়ে আলাদা হয়ে গেল। সংসারে আমি আর মা। কলেজ থেকে ফিরে রাত্রে দুটো টিউশানি ধরলাম। এর ফাঁকে চাকরির সন্ধানও চলতে লাগল। ম্যানেজমেন্ট পড়ার পাঠ অনেক লড়াই ও কষ্টে শেষ হল। রেজাল্ট ভালোই করলাম। অনেক ইন্টারভিউ দেওয়ার পর একটা বিদেশি কোম্পানিতে ট্রেনিং অফিসার-এর কাজ পেলাম। মনে মনে ভাবলাম মাঠে-ঘাটে পার্টির জন্য লেকচার দেওয়াটা এখন বেশ কাজে লাগবে। কাজও যেমন শেখাতে পারব, উপদেশ আর উৎসাহ দিয়ে এক একটা ছাত্রকে আগামী ভারতবর্ষের সৈনিক করে গড়ে তুলতে পারব।

ট্রেনিং শুরু হয়ে গেল। দেখলাম আগামী ভারতবর্ষের চেয়ে প্রোজেক্ট-এর কাজের ধারণা ও প্রোগ্রেস নিয়ে তাদের তাড়া বেশি। প্রোজেক্ট-এর সিলেবাসের বাইরে কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা হলে ম্যানেজারবাবু রাগ করেন। ধীরে ধীরে আমারও উৎসাহ নিস্তেজ হতে লাগল।

আমাদের বেশির ভাগ লোকেদেরই বোকা বুদ্ধি বেশি, আর কাজের বুদ্ধি কম। তাছাড়া বেশির ভাগই প্রতিভাহীন। ঘরে বসে নানান কল্পনা করতেই ব্যস্ত। কার্যক্ষেত্রে নেমে ঘাড়ে লাঙল নিয়ে পশ্চাত্দেশে ল্যাজমলা খেয়ে নতশিরে সহিষ্ণু ভাবে প্রত্যেকদিন মাটি-ভাঙার কাজ করে, সন্ধ্যাবেলায় একপেট জাবনা খেতে পারলেই সন্তুষ্ট থাকে। লম্ফেঝম্ফে আর উৎসাহ থাকে না।

যাই হোক প্রোজেক্ট শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ট্রান্সফার হয়ে গেলাম ভুবনেশ্বর। যে-গ্রামের মধ্যে আমাদের প্রোজেক্ট শুরু হবে তার প্রায় কাছাকাছিই সমুদ্র। ওখানেই একটা গ্রামে মেস ভাড়া করে থাকলাম। চারিদিকে সুপুরি, নারকেল এবং মাদারের গাছ। মেস-বাড়িটার প্রায় গায়ে দুটো প্রকাণ্ড বৃদ্ধ নিমগাছ গায়ে গায়ে সংলগ্ন হয়ে ছায়া দান করছে।

অনেকদিন ধরে একটা কথা বলব বলব করে আর বলা হয়ে ওঠেনি। আসলে আমি নিজেই সেই কথাটাকে বেশি প্রাধান্য দিতে রাজি ছিলাম না। সেই যে অবিনাশবাবু, এলআইসি-তে চাকরি করেন, যার সঙ্গে আমার ছোটোবেলার বান্ধবী নন্দিনীর বিয়ে হয়েছিল তিনিও এই সুদূরে ভুবনেশ্বরে আমাদের পাশের বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

অবিনাশবাবুর সঙ্গে দেখা হল, আলাপ হল। আসলে আমরা দুই বাঙালি কলকাতা থেকে এসেছি। আশেপাশের বাড়িতে উড়িষ্যাবাসীরাই বেশি থাকেন। ভাষার অজ্ঞানতায় তাই কথা বলতে একটু অসুবিধা হয়। নন্দিনীর সাথে ছোটোবেলায় আমার যে জানাশোনা ছিল সেটা অবিনাশবাবু জানতেন কি না জানি না, তবে আমিও নতুন পরিচয়ে সে সম্বন্ধে কোনও কথা বলা উচিত হবে বলে মনে করলাম না। এবং নন্দিনী যে কোনওদিন আমার জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত ছিল, সে কথাগুলোও আমি ভাবতে চাইছিলাম না। যাই হোক উনি সস্ত্রীক এখানে আছেন আমাকে বললেন, নিমন্ত্রণও জানালেন ওনার বাড়িতে যাওয়ার জন্য।

এক রবিবার প্রোজেক্টে না গিয়ে অবিনাশবাবুর বাড়ি গিয়ে হাজির হলাম। অনেকরকম বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার পর ভারতবর্ষের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হল। আলোচনার ইতি টানা হল বর্তমান ভারতবর্ষের দুরবস্থা প্রসঙ্গে। তিনি যে সেজন্য বিশেষ চিন্তিত এবং ম্রিয়মান সেটা কিন্তু নয়। কিন্তু বিষয়টা এমন যে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে এ সম্বন্ধে ঘন্টাখানেক অনর্গল শখের দুঃখ করা যেতেই পারে।

আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে শুনতে পাই পাশের ঘরে অত্যন্ত হালকা বাসন পড়ার আওয়াজ, দরজা খোলা-বন্ধের শব্দ, আর হাওয়াই চটির খসখস। বুঝতে দেরি হল না, জানলার ফাঁক দিয়ে কোনও কৌতূহলী চোখ আমার দিকে ইশারা করছে।

সেই মুহুর্তে চোখে চোখ পড়তেই আমার মনে পড়ে গেল সেই সরলতা, সেই নিবেদিত প্রাণ এবং শৈশবের প্রেমের ঢলঢল দুটো বড়ো বড়ো চোখ, কালো কালো তারা, ঘনকৃষ্ণ পল্লব, স্থিরস্নিগ্ধ দৃষ্টি। হঠাৎ আমার হৃদপিণ্ডটাকে কে যেন তার ডান হাত দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরল আর অব্যক্ত বেদনায় বুকের ভিতরটা টন টন করে উঠল।

সেই বুকের ব্যথা সঙ্গে নিয়ে অবশেষে মেসে ফিরলাম। রাত্রে যখন লিখতে বসি কিংবা কোনও ম্যাগাজিন পড়তে বসি সেই চিন চিন ব্যথাটা শরীরটাকে কেমন যেন অবসন্ন করে রাখে। মনের মধ্যে একটা ভারী বোঝার সঙ্গে শিরা-উপশিরার রক্তগুলো দ্রুতলয়ে ছুটতে থাকে। গভীর রাতে একটু স্থির হয়ে বসে ভাবতে লাগলাম এমনটা কেন হল? বিবেক যেন জিজ্ঞেস করল, তোমার নন্দিনী কোথায় গেল?

বিবেকের প্রশ্নে আমার মনের ভেতর থেকে উত্তর এল, কই তাকে তো আমি ভালোবাসিনি। কবেই তো তাকে মন থেকে মুছে দিয়েছি। সে আমার জন্য অপেক্ষা করবে কেন? বিবেক আবার প্রত্যুত্তরে বলল, নন্দিনীকে তুমি ইচ্ছা করলেই পেতে পারতে। আজ শত চেষ্টা করলেও, মাথা খুঁড়ে মরলেও তাকে আর দেখতে পাবে না।

সেই ছোটোবেলার নন্দিনী যতই তোমার চারপাশে ঘুরে বেড়াক, আজ হয়তো তুমি দূর থেকে তার পায়ের নুপূরের ধ্বনি শুনতে পাবে, দূর থেকে তার শরীর থেকে মিষ্টি সুগন্ধ অনুভব করতে পারবে কিন্তু মাঝখানে চিনের প্রাচীরের মতো একটা দেয়াল থাকবে বরাবর।

মনের অব্যক্ত বেদনাকে চেপে রেখে বিবেককে উত্তর দিলাম, তা থাক না, নন্দিনী আমার কে? প্রত্যুত্তরে বিবেক বলল, নন্দিনী আজ হয়তো তোমার কেউ নয়, কিন্তু এই নন্দিনী তোমার মনের অনেক কিছু হতে পারত।

কথাটা হয়তো সে সত্যি বলেছে। নন্দিনী আমার জীবনে, মননে অনেক কিছুই হতে পারত। আমার সবচেয়ে অন্তরঙ্গ, আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী, আমার সমস্ত জীবনের সুখদুঃখের অংশীদার ছিল সে। আজ অনেক দূরে, কত আপন ছিল, আজ পর হয়ে গেছে, আজ তাকে দেখার অবকাশ নেই। একটু দেখার চেষ্টা করলে লোকে পরকীয়ার বদনাম দেবে। সেটা হয়তো নন্দিনীর শান্তির জীবনে অশান্তি ডেকে আনবে। আর আমিও সেটা চাই না। তার সঙ্গে কথা বলা তো দূর অস্ত, তাকে নিয়ে চিন্তা করাও পাপ। আর ওই ভদ্রলোক, কোথা থেকে যে উড়ে এসে জুড়ে বসল, শুধু কটা মন্ত্র উচ্চারণ করে নন্দিনীকে আমার কাছ থেকে চিলের মতো ছোঁ মেরে নিয়ে পালিয়ে গেল।

তবু স্বামীর সুখের সংসারে যে-নন্দিনী বিরাজ করছিল সে যে ওই মানুষটার চেয়ে বেশি করে আমার, এ কথা আমি কিছুতেই মন থেকে উড়িয়ে দিতে পারছিলাম না। জানি এরকম চিন্তা করা নিতান্ত অন্যায় এবং সেটা আমি স্বীকার করি। তবে নিজের মনের কাছে সেটা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। তারপর থেকে আর কোনও কাজে মনঃসংযোগ করতে পারছিলাম না। লাঞ্চের পরে যখন সুপারভাইজাররা ট্রেনিং-এর ক্লাসে বসে সোরগোল করতে থাকত, বাইরে প্রখর রোদ ঝাঁ ঝাঁ করত, গরম বাতাস নিমগাছের ফুলের গন্ধ বহন করে আনত, তখন ইচ্ছা করত… জানি না কী ইচ্ছা করত! এই পর্যন্ত বলতে পারি, ভারতবর্ষের শিল্পের এই সমস্ত ভাবী অফিসারদের প্রযুক্তিগত উপদেশ দিয়ে এই ইট-কাঠ-বালির জীবনযাপন করতে ইচ্ছা করত না।

অফিসের ছুটি হয়ে গেলে আমার ছোট্ট ওই মেসবাড়িতে একলা থাকতে মন টিকত না, অথচ কোনও অফিসের স্টাফ দেখা করতে এলেও অসহ্য লাগত। রাত্রে যখন পাশের একটা পুকুর ধার দিয়ে হাঁটতাম, তখন সুপারি-নারকেলের হেলেদুলে ওঠা অর্থহীন মর্মরধ্বনি শুনতে শুনতে ভাবতাম, মানুষ জাতটা মাকড়সার জালের মতো ভুলগুলিকে বুনতে থাকে। আবার ঘুরে ঘুরে ফিরে এসে কবে যে তাকে শোধরাবে সে নিজেই জানে না। ঠিক সময়ে ঠিক কাজ করতে মনে পড়ে না, তার পরে প্রয়োজনে মনের বাসনা চরিতার্থ করতে টেনশন নিয়ে মরে।

অবচেতন মনে বিবেকের খোঁচা মারা ভাষণ শুনতে পাই, তুমি নন্দিনীর স্বামী হয়ে বুড়ো বয়স পর্যন্ত বেশ সুখে থাকতে পারতে, আর তুমি কিনা প্রথমে হতে গেলে দেশপ্রেমী এবং শেষে ইট-বালি-চুন-সুরকি কোম্পানির ট্রেনিং অফিসার। আর, অবিনাশবাবু একজন অফিসার, আর তার কি বিশেষ করে নন্দিনীর স্বামী হবার কোনও জরুরি আবশ্যকতা ছিল? বিয়ের আগে পর্যন্ত তার কাছে নন্দিনীও যেমন, রানী লক্ষ্মীবাঈও তেমন। সে কিনা কিছু না ভেবে না চিন্তা করে বিয়ে করে বসলেন আর সরকারি কর্মচারী হয়ে হাজার হাজার টাকা কামিয়ে যাচ্ছেন। যেদিন তরকারিতে বেশি নুন পড়ে যায় সেদিন তিনি নন্দিনীকে গালিগালাজ করেন, আর যেদিন মন প্রসন্ন থাকে সেদিন নন্দিনীর জন্য উপহার কিনে আনেন। গোলগাল শরীর, সু্ট-টাই পরেন, মনের মধ্যে কোনও টেনশন নেই। যাকে পুকুরের ধার দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আকাশের তারা গুনতে গুনতে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে অবসর সময় কাটাতে হয় না।

যাই হোক, ভদ্রলোক অফিসের কাজে কয়েকদিনের জন্য কলকাতায় গেছেন। অবশ্য যাওয়ার আগে আমাকে বলে গেছেন। আমি হাঁটছি আর ভাবছি, এই মেসবাড়িতে আজ আমি যেরকম একা আছি নন্দিনীও সেরকম বোধহয় তার ঘরে একাই আছে।

মনে পড়ে, সেদিনটা ছিল মঙ্গলবার। সকাল থেকেই আকাশটা কালো মেঘে ঢেকে আছে। সকাল আটটা থেকেই টুপটুপ করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। টিভির খবরে বলছে ভযংকর এক ঘুর্ণিঝড় ফণী, উড়িষ্যার উপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে। আকাশের ভাবগতিক দেখে আশেপাশের সব স্কুল ছুটি ঘোষণা করে দিয়েছে। প্রোজেক্টের কাজও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। খণ্ড খণ্ড কালো কালো মেঘগুলো যেন আকাশের বুকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিকালের দিকে মুষলধারে বৃষ্টি এবং সঙ্গে সঙ্গে ঝড় আরম্ভ হল। যত রাত বাড়ছে বৃষ্টি আর ঝড়ের বেগ ভযংকর ভাবে বাড়তে লাগল। প্রথমে পূর্ব দিক থেকে বাতাস বইছিল, ক্রমে উত্তর এবং উত্তর-পূর্ব দিক থেকে বইতে লাগল।

ওই দুর্যোগের রাতে ঘুমোবার চেষ্টা করা বৃথা। মনে পড়ল, এই দুর্যোগে নন্দিনীও ঘরে একলা আছে। আমাদের মেসবাড়ি তাদের একতলা ঘরের থেকে অনেক মজবুত। কতবার মনে করলাম, তাকে মেসবাড়িতে বসিয়ে রেখে আমি না হয় পুকুর পাড়ে গ্রামের কোনও চালাঘরের নীচে দাঁড়িয়ে বিধ্বংসী ঝড়ের রূপ উপভোগ করব। কিন্তু কিছুতেই মন স্থির করে উঠতে পারলাম না। অনেকটা মনের দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আটকে গেলাম।

রাত যখন একটা-দেড়টা হবে হঠাৎ আরও প্রবল বেগে ঝড়ের সোঁ সোঁ ডাক শোনা গেল। সমুদ্র যেন উথাল পাতাল হয়ে ছুটে আসছে। ঘর থেকে ছাতা হাতে বাইরে বেরোলাম। দেখি একটা রক্তকরবী গাছ ঝড়ের দাপটে একদম শিকড় থেকে উপড়ে পড়েছে। আমার খুব পছন্দের ফুল। মনে পড়ে কতদিন নন্দিনী তার ওড়নায় বেঁধে আমার জন্য নিয়ে এসেছে। সে কথা মনে পড়তেই কটা ফুল কুড়িয়ে নিলাম। নন্দিনীর বাড়ির দিকে পা বাড়ালাম। পথে যে-পুকুরের পাড়, সে পর্যন্ত যেতে না যেতেই দেখি হাঁটুজল হয়ে গেছে। পুকুরের পাড়ের উপর যখন উঠে দাঁড়ালাম তখন দ্বিতীয় আর একটা জলের স্রোত এসে আছড়ে পড়ল।

পুকুর পাড়ের একটা অংশ প্রায় দশ-এগারো হাত উঁচু। পাড়ের উপর আমি যখন উঠে দাঁড়ালাম, বিপরীত দিক থেকে আরেকজন লোকও উঠে দাঁড়াল। লোকটা যে কে সেটা আমার সমস্ত অন্তরাত্মা, মাথা থেকে পা পর্যন্ত আমার সমস্ত শরীর অনুভব করতে পারল। এবং সেও যে আমাকে চিনতে পারল সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। শুধু একটা কন্ঠস্বর শুনতে পেলাম রাজা, তুমিও এখানে?

সমস্ত জলমগ্ন হয়ে গেছে কেবল হাত-পাঁচ-ছয় দূরত্বে দ্বীপের উপর আমরা দুটি প্রাণী এসে দাঁড়ালাম। তখন প্রলয় চলছে, আকাশে তারার আলো ছিল না এবং পৃথিবীর সমস্ত প্রদীপ যেন নিভে গেছে। তখন একটা কথা বললেও বলতে পারতাম। হাতে ধরা সিক্ত রক্তকরবী ওর পায়ের কাছে পড়ে গেল কিন্তু একটা কথাও বলা গেল না। কেউ কাউকেও একটা কুশল প্রশ্নও করল না। শুধু দুজনে অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে রইলাম। মনে মনে রবিঠাকুরের গান গেয়ে উঠলাম, আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার।

আজ সমস্ত বিশ্বসংসার ছেড়ে নন্দিনী আমার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। আজ এই বিপদের দিনে আমি ছাড়া নন্দিনীর পাশে কেউ নেই। সেই কবে শৈশবে, কোন এক জন্মান্তর, কোন এক পুরোনো রহস্য অন্ধকার থেকে ভেসে, এই সূর্য‌্য আর চন্দ্রের আলোকে আলোকিত হয়ে এই পৃথিবীর কোলে আমারই পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল; আর, আজ বহুদিন পরে সেই আলোকিত পৃথিবী ছেড়ে এই ভযংকর জনশূন্য প্রলয় অন্ধকারের মধ্যে নন্দিনী একাকিনী আমারই পাশে এসে দাঁড়িয়ে আছে। জন্মের পরে সেই ফুলের কলিকে যেমন বিধাতা আমার হাতে সমর্পণ করেছিল, আজও প্রকৃতির তাণ্ডবে জীবনমৃত্যুর মাঝখানে সেই বিকশিত পুষ্পকে আমারই কাছে এনে দাঁড় করিয়েছে। সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গে আর একটা ঢেউ আসলেই পৃথিবীর এই সীমানা থেকে বিচ্ছেদের শেষ বৃন্তটুকু ছিঁড়ে, আবার আমরা দুজনে এক হয়ে যেতে পারি।

ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি সে ঢেউ যেন আর না আসে। স্বামী সংসার নিয়ে নন্দিনী যেন বাকি জীবন সুখে থাকে। ওই রাতে ফণীর তাণ্ডবে হয়তো অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তবু এই মহাপ্রলয়ের তীরে দাঁড়িয়ে নন্দিনীকে ফিরে পেয়ে এক অনন্ত আনন্দের আস্বাদ পেয়েছি।

রাত প্রায় শেষ হয়ে এল। ঝড় থামল, জলও নেমে গেল। নন্দিনী কোনও কথা না বলে বাড়ির পথে পা বাড়াল। তার পায়ের সামনে পড়ে থাকা রক্তকরবী ফুলগুলো কি বলল জানি না, তবে আমিও কোনও কথা না বলে মেসবাড়ির দিকে রওনা হলাম। কোনওদিন কবিতা লিখিনি, কিন্তু আজ বিবেকের দংশন খেয়ে হৃদয়ের গভীর থেকে কয়েকটা লাইন লিখে ফেললাম,

আজ এই প্রলয়ে দিনে,

মেঘে মেঘে গুরু গর্জনে

ধেয়ে আসে ঘুর্ণিঝড় ফণী,

তুমি এসে দাঁড়ালে নন্দিনী।

নূপুর ছিল না ওই পায়,

এভাবে কেউ অভিসারে যায়?

পায়ে পায়ে বাজে না কিঙ্কিণী,

কেন এসে দাঁড়ালে নন্দিনী?

এলে যদি কেন গেলে একা?

আর কি হবে না তবে দেখা?

শৈশবের কৈশোরের রানি

সব ভুলে গেলে নন্দিনী?

ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। মেসে ফিরতে ফিরতে ভাবছিলাম, আমি একজন সাচ্চা দেশপ্রেমীও হতে পারলাম না, ইঞ্জিনিয়ারও হতে পারলাম না, আমি সামান্য এক ইট-বালি-চুন-সুরকি কোম্পানির ট্রেনিং অফিসার। সাধারণ মেস বাড়িতে থাকি। শুধু ক্ষণিকের অবকাশে এক প্রলয়রাত্রির উদয় হয়েছিল আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে। সমস্ত দিনরাত্রির মধ্যে, একমাত্র সেই প্রলয়রাত্রিতে আমার তুচ্ছ জীবনে নন্দিনীকে ফিরে পাওয়াই আমার জীবনের চরম সার্থকতা।

 

ফেসলিফ্ট বিউটি ট্রিটমেন্ট- শেষ পর্ব

সতর্ক থাকলে এবং সঠিক ভাবে Face lift surgery করলে, এর কুপ্রভাব অনেকটাই এড়ানো যায়। কিন্তু মনে রাখা দরকার, Beauty treatment সার্জারি ঠিকমতো না হলে আরও কিছু স্থায়ী জটিলতা বা সমস্যা তৈরি হতে পারে, যেমন—

  • হেমাটোমা
  • সার্জারির দাগ থেকে যাওয়া
  • নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
  • কাটা জায়গায় চুল না থাকা
  • ত্বকেরও ক্ষতি হতে পারে।

শুধু তাই নয়, ভুল ফেসলিফ্ট সার্জারি নানারকম অসুখ এবং জীবনশৈলীর পরিবর্তনও ঘটাতে পারে। যেমন যদি কেউ রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করেন, তাহলে তার ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। কারণ, ফেসলিফ্ট সার্জারির সময় রক্ত পাতলা করার ওষুধ খাওয়া বন্ধ রাখতে হয়। এর ফলে, সার্জারির সময় বা ঠিক পরে ব্লাড ক্লট অর্থাৎ রক্ত জমাট বাঁধতে বিলম্ব হতে পারে।

অন্যান্য সমস্যা বা অসুখ

যিনি ফেসলিফ্ট করাবেন, তার যদি ডায়াবেটিস কিংবা হাই ব্লাড প্রেসার-এর সমস্যা থাকে, তাহলে ফেসলিফ্ট সার্জারির পর ঘা শুকোতে দেরি হবে এবং হেমাটোমা-র সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ধূমপানের বিষয়টিও এক্ষেত্রে ভীষণ ক্ষতিকারক। যদি আপনি ধূমপায়ী হয়ে থাকেন, তাহলে ফেসলিফ্ট সার্জারির দুই সপ্তাহ আগে থেকে ধূমপান বন্ধ করতে হবে। শুধু তাই নয়, ফেসলিফ্ট সার্জারির পরও কমপক্ষে তিন সপ্তাহ ধূমপান বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক। আর তা যদি না করেন, তাহলে সার্জারির পর নানারকম সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ওজন কম-বেশি হওয়া : যদি আপনার ওজন ঘনঘন কম-বেশি হওয়ার সমস্যা থাকে তাহলে ফেসলিফ্ট সার্জারির পর ফেস শেপ-এর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে ফেসলিফ্ট-এর উদ্দেশ্য বিফলে যেতে পারে।

সার্জারি আগে পরে : কসমেটিক সার্জন-এর মতে, যদি ফেসলিফ্ট সার্জারি করাতেই হয়, তাহলে তা ভালো কোনও হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দিয়ে করান। এক্ষেত্রে যেহেতু অ্যানাস্থেসিয়া ব্যবহার করতে হয়, তাই ভালো অ্যানাস্থেটিক-কে নিয়োগ করা উচিত।

সার্জারি : ত্বক টাইট করানোর প্রক্রিয়ার জন্য টিশু, মাসলস প্রভৃতিতে জমা ফ্যাট রিমুভ করা হয়। এরপর ঝুলে যাওয়া ত্বক বাদ দিয়ে টানটান রূপ দেওয়া হয়। আর সার্জারির পর টেপ-এর সাহায্য নিয়ে কাটা জায়গা ঢেকে দেওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই ধরনের সার্জারির জন্য একদিন, এক রাত্রি হাসপাতালে থাকতে হয় রোগীকে।

ফেসলিফ্ট সার্জারির জন্য সময় লাগে ২-৩ ঘন্টা। তবে, বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে আরও একটু বেশি সময় লাগতে পারে।

প্রক্রিয়ার পরে

ফেসলিফ্ট-এর পর যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে, তা হল—

  • হালকা ব্যথা। এই ব্যথা লাঘব করার জন্য ওষুধ দেওয়া হয়
  • চুলকানির সমস্যা হতে পারে
  • অস্বস্তি হতে পারে
  • সামান্য ফুলে যেতে পারে সার্জারির জায়গা
  • শ্বাসকষ্ট হতে পারে
  • মাথার যন্ত্রণা করতে পারে
  • হার্টবিট বাড়তে-কমতে পারে।

এই সমস্ত সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শমতো উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন।

সার্জারির পর চিকিৎসকরা যেসমস্ত পরামর্শ দিয়ে থাকেন

  • মাথার নীচে উঁচু বালিস দিতে পরামর্শ
  • ব্যথা কমানোর জন্য ওষুধ খেতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শমতো
  • সার্জারির আশপাশে আইসপ্যাক ব্যবহারের পরামর্শ
  • সার্জারির পর দু’মাস ফলো-আপে থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে, ব্যান্ডেজ খোলা এবং তারপর ওষুধ প্রয়োগ করাতে হবে ট্রেনড নার্স-কে দিয়ে

সার্জারির পর আর যা করতে হবে

যত্ন এবং সতর্কতা-ই আপনাকে জটিল সমস্যা থেকে রক্ষা করতে পারে সার্জারির পর। এ ক্ষেত্রে যা যা করণীয়—

  • চিকিৎসকের পরামর্শমতো সঠিক ভাবে যত্ন নেওয়া
  • সার্জারির জায়গায় নখ দিয়ে চুলকাবেন না
  • সার্জারির জায়গায় যে-আস্তরণ তৈরি হয়, তা তুলে ফেলবেন না
  • এমন পোশাক পরুন যা সামনে থেকে খোলা যায়। কারণ, মাথা দিয়ে খুলতে গেলে সার্জারির স্থানে আঁচড় লাগতে পারে, যা ক্ষতিকারক
  • সার্জারির পর বেশি মুভমেন্ট যেন না হয়
  • সার্জারির পর কিছুদিন মেক-আপ করবেন না
  • সার্জারির পর যদি মাথার চুলে শ্যাম্পু করতে হয়, তাহলে তা কীভাবে করতে হবে, তা চিকিৎসকের থেকে জেনে নিন
  • সার্জারির পর ভারী ব্যায়াম করবেন না
  • সার্জারির পর অন্তত ৬ থেকে আট সপ্তাহ সরাসরি রোদ লাগাবেন না মুখে
  • সার্জারির পর অন্তত ৬ সপ্তাহ চুলে ব্লিচ কিংবা কালার করবেন না।

সাবধান থাকুন

সত্যিই যদি বিউটি ট্রিটমেন্ট কিংবা কোনও সার্জারি করাতে চান, তাহলে প্রথমে খোঁজখবর নিয়ে ভালো কোনও কসমেটিক সার্জন-এর কাছে যান। শুধু তাই নয়, ফেসলিফ্ট করানোর আগে সবরকম ফিজিক্যাল চেক-আপ করে চিকিৎসকের থেকে জেনে নিন যে, সার্জারি করাতে পারবেন কিনা। অর্থাৎ সার্জারির পর কোনও জটিলতা তৈরি হতে পারে কিনা। কারণ, অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা কিংবা অসুখ থাকলে ফেসলিফ্ট সার্জারি করানো অনুচিত।

জীবন-নদী

অদিতি এভাবে চলে যাবে ভাবিনি। অদিতি এভাবে ফিরিয়ে দিয়ে যাবে তাও অকল্পনীয়। জীবনের বাঁকে বাঁকে এত রূপ রস, সব আমার জন্য!

‘আমি তোমার সাথে দেখা করব।’ অচেনা স্বর, কিন্তু আওয়াজে বোঝা যায় কিশোরী কণ্ঠ। দ্বিধাহীন ভাবে ‘তুমি’ সম্বোধনে সে কথা বলল।

‘কে কথা বলছ?’

‘নয়না।’

ভেবে পেলাম না এমন নামে আমি কাউকে চিনি কি না। গম্ভীর হয়ে তাই জবাব দিলাম, ‘আমার কোনও আগ্রহ নেই তোমার সাথে দেখা করায়।’ ওধার থেকে ধীরে জবাব এল, ‘আপনি আমায় মানে নয়নাকে চেনেন না কিন্তু আমার মাকে চেনেন।’ মেয়েটা হঠাৎ ‘তুমি’ থেকে ‘আপনি’তে উঠে এল। বোধহয় আমার বলাটা একটু বেশিই রুক্ষ হয়ে গিয়েছিল।

সকালবেলা একটা উটকো ফোন। চা খাওয়া হয়নি এখনও। বাসি মুখেই এমন ঝামেলা। দিনটা কেমন যাবে কে জানে। ‘আমি তোমার সঙ্গে দেখা করতে চাই না,’ বলেই রিসিভারটা নামিয়ে রাখলাম। চুপচাপ বসে অনেকক্ষণ ভাবলাম। কোনও দিশা খুঁজে পেলাম না। কার মেয়ে! আমার কাছে কী চায়? ‘মেয়ে’ শব্দটাই আমার কাছে অতীত মাত্র। সেই স্মৃতি– যা আমায় রুক্ষ, একা করে দিয়েছে। জীবনবোধে বিতৃষ্ণা এলেও জীবনকে ছাড়তে পারিনি। মেয়েটা কে? অদিতির চলে যাওয়া, আমার মাথার উপর ছাদ উড়ে যাওয়ার সমান। আমি ফিরে গেলাম চল্লিশ বছর আগের স্মৃতির পাতায়।

মফসসলের ছেলে আমি। উচ্চমাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট করায় বাবা পাঠিয়ে দিল কলকাতায়, কাকার বাড়ি। ভর্তি হলাম আশুতোষ কলেজে। কাকার বাড়ি থেকে কলেজ হাঁটা পথ। একদিন এমনই একা একা হেঁটে ফিরছি রবীন্দ্রসরোবর লেকের ভিতর দিয়ে হঠাৎ কেউ ডাকল ‘হাই অলোক।’ তাকিয়ে দেখি আমাদেরই সাইকোলজি ক্লাসের একটি মেয়ে। অনেকবার চোখাচোখি হয়েছে কিন্তু কথা হয়নি। বেশ ভালো লাগল কিন্তু ও আমার নাম জানল কী করে? ওই বয়েসে বেশ গর্ব-ও হল ক্লাসমেট আমার নাম জানে বলে। আমি হেসে দাঁড়িয়ে বললাম, ‘আমার নাম অলক, অলোক নয়।’ ও পরিচয় দিল, ‘আমি অদিতি। তুমি কোথায় থাকো? আমি কি তোমার সাথে একটু হাঁটতে পারি? আমার বাড়ি কাঁকুলিয়া রোড। বাড়িতে…।’ বেশ অনেকক্ষণ একা একাই বকবক করে গেল। হঠাৎ কী মনে হতে নিজেই চুপ করে হেসে জিজ্ঞাসা করল, ‘কই কথার জবাব দিলে না তো?’ আমি ওর দিকে সোজাসুজি তাকিয়ে বললাম– ‘সময় দিলে কোথায় কথা বলার?’ এইভাবেই আমাদের বন্ধুত্ব। অদিতি কবে যে আমার কাছে ‘দিতি’ হয়ে গেল তা নিজেই জানি না। এই আমার দিতি। অদিতি।

সামাজিকতার ধার আমি কোনওদিন ধারিনি। নিজের ইচ্ছেতেই চলেছি।

আমি এই বয়েসে নিজের কাজকর্ম নিয়ে বেশ আনন্দে আছি। জীবনে তেমন উচ্চাশা নেই, কেউকেটা হতেও চাইনি। তাই কলেজ জীবনে যখন, কলেজের মধ্যে সবথেকে সুন্দরী, মেধাবী মেয়েটি আমার দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে ছিল, আমার সহপাঠীরা বেশ ঈর্ষান্বিতই হয়েছিল। আমার কিন্তু কোনও হেলদোল নেই, আমি স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছিলাম ব্যাপারটা। অদিতিও বেশ স্বাভাবিক। আমাদের মেলামেশা দিনের আলোর মতো সহজই ছিল কিন্তু অদিতি ধীরে ধীরে সেই সীমা ছাড়িয়ে অনেক এগিয়ে এল। আমি বারণ করেছিলাম, বুঝিয়েছিলাম ‘দিতি তোমার সমাজ আর আমার সমাজে অনেক তফাত। প্লিজ, তুমি এমন কোরো না, পরে কষ্ট পাবে।’ কিন্তু কাকস্য পরিবেদনা। অদিতি আমার কোনও কথাই শুনল না। ও দুর্দম, আমিও ভেসে গেলাম ওর সাথে। জানতাম অদিতির জীবনে আমি প্রথম পুরুষ নয়, তবু নিজের মধ্যে একটু দোটানা থাকলেও আমি নিজেকে আটকাতে পারিনি। আমরা স্বপ্নে ভেসে গেলাম– ছোট্ট সংসার, টলোমলো পা।

সত্যি আমরা ভেসে গেলাম। যেদিন দিতি জানাল তার শরীরের নতুন অনুভবের, সেদিন আমি আনন্দের পরিবর্তে বেশ ভীত হয়ে উঠলাম। মুখে হাসলেও দিতি ঠিক বুঝতে পারল, আমি ভয় পেয়েছি। দুজনের বাড়িতে কে কী বলবে? কীভাবে সামলাব? আমার শুকনো মুখ দেখে অদিতি কি বুঝল, কে জানে! বারবার একই কথা জোরের সঙ্গে পুনরাবৃত্তি করতে থাকল, ‘আমাদের ভালোবাসার ফসল, নতুন মানুষ আসবেই। আমাদের উত্তাপ ওর মধ্যেই। আমি পারবই।’ আমি অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম। খটকা লাগল ওর কথায় ‘আমি পারবই,’ তবে কী ‘আমরা’ নয়? হঠাৎ অনুভব করলাম আমি ঘেমে উঠেছি। এমনই হয়েছিল যেদিন প্রথম অদিতিকে আমি চুমু খেয়েছিলাম, ফাঁকা কলেজ করিডোর-এ। ভুল বললাম, আমি নয়, ও এগিয়ে এসে সপাটে জাপটে ধরে…। আমি ছটফট করে ওকে ঠেলে দিতেই ওর বাঁধভাঙা হাসি। ভয়, ভালোলাগা মিলেমিশে… এমনটাই হয়। হয়তো বা সকলের জীবন-সন্ধিক্ষণে। সেই শুরু। এতদিন পরে অদিতির সন্তানসম্ভাবনার কথা শুনে আবার তেমন ভয় আমায় চেপে ধরল।

সময় এগিয়ে চলে। অদিতির আড়ষ্টতাহীন চলাফেরা আমায় আবার স্বাভাবিক করে তুলল। আমি প্রায় ভুলেই গেলাম ওর শরীরের নতুন অঙ্কুরোগদ্মের কথা। আমি মেতে উঠলাম ওকে নিয়ে। ছুটির দিনে বেড়াতে যাওয়া, আইসক্রিম খাওয়া, হইচই করা, ঘুরে বেড়ানো সব আগের মতোই। ধীরে ধীরে আমি ধাতস্থ হয়ে গেলাম। দুজনের আনন্দের জীবনে শুধু নিস্তরঙ্গ জোয়ারের খেলা। অদিতি কিছু বুঝতে দেয়নি।

জোয়ারের পর ভাটা অনিবার্য। তা এল, কিন্তু এমনভাবে যা আমার কল্পনার অতীত। দিতি একদিন এসে খুব স্বাভাবিক ভাবে বলল, ‘আজ আমার লাঞ্চ আছে, স্পেশাল ব্যাপার।’ আমি শান্ত চোখ তুলে তাকালাম। কোনও প্রশ্ন নেই মুখে। শুধুই তাকিয়ে থাকলাম। ও আশা করেছিল আমি কিছু জিজ্ঞাসা করব। দিতিই নীরবতা ভাঙল, ‘আমার পুরোনো প্রেমিক। লন্ডন থেকে এসেই যোগাযোগ করেছে। সোহম সেন।’ আমি জানতাম, অদিতি বলেছিল, দুম করে সোহমের লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স-এ চান্স পেয়ে যাওয়ার কথা। অদিতির খুব মন খারাপ হয়েছিল। তবে ওর মতন হুল্লোড়বাজ মেয়ের সব কিছু ভুলে যেতে সময় লাগেনি। মাঝে মধ্যে মনে হয় অদিতি খুবই ক্যাজুয়াল। জামাকাপড় বদলানোর মতো বয়ফ্রেন্ড বদল করে। ভাবতেও ভালো লাগে না এভাবে। আসলে ও তো ধনী পরিবারের দুলালি। আমারও কখনও কখনও সংশয় হয়। সত্যি ভালোবাসে তো মেয়েটা আমায়! আচ্ছা ও কি সত্যিই প্রেগন্যান্ট! তাই ওর সাথে দেখা করা। আমার মনের মধ্যে যাই-ই হোক, আমি ‘না’ বলতে পারিনি ওর মুখ দেখে।

সেদিন দিতি কলেজে এলেও ক্লাস করল না, তারপর দিনও এল না। পরপর চারদিন এল না। ওর ক্লাসমেটদের জিজ্ঞাসা করলাম, কেউ সদুত্তর দিতে পারল না। যেখানে যেখানে খোঁজ নেওয়া যায় নিলাম, কিন্তু কোথাও দিতির খোঁজ পেলাম না। হতাশা কেমন যেন আমায় গ্রাস করে নিল। আমি কলেজে আসতাম, শুধু আমার শরীরটাকেই বয়ে নিয়ে। মনটা সারাক্ষণ অদিতি-অদিতি করে ওকেই খুঁজে চলত।

গাছতলায় মাথা হেঁট করে বসে আনমনে ঘাস ছিঁড়ছি, মাটি খুঁটছি এমন সময় লক্ষ্য করলাম সামনে একটা ছায়া। মুখ তুলে দেখি অদিতি। অপূর্ব সুন্দর দেখাচ্ছে, ঝলমল করছে ও। আমি বুঝলাম না, কারণটা কী? আমি রাগে-দুঃখে ওকে দেখে চিৎকার করে উঠলাম ‘কী ব্যাপার তোমার? তুমি বোঝো না, তোমার সাথে একদিন দেখা না হলে আমি প্রায় পাগল হয়ে যাই। কোথায় ছিলে? এত দায়িত্বজ্ঞানের অভাব কেন?’ অন্য সময় আমি চিৎকার করলেই দিতিও সমানতালে ঝগড়া করত। সব সময় আমিই পরাজিত হতাম এবং হেসে সারেন্ডার করতাম। আজ এ কোন দিতি, আমার সামনে? আমি চিৎকার করছি, ও মাথা নিচু করে দাঁড়িয়েই থাকল। আমি হতভম্ব। দিতি চুপ করেই থাকল, তারপর যেন বহু কষ্টে নীরবতা ভেঙে অস্ফূটে বলল, ‘সরি অলক, এই ক’দিনের মধ্যেই বাড়ি থেকে আমার বিয়ের কথা পাকা হয়ে গেছে। আমার মতামত নিয়ে, সোহমের সাথে।’ অর্থাৎ অদিতির প্রাক্তন প্রেমিক, লন্ডন ফেরত, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় পূর্ণ সেই সোহম সেনই দিতির মনোনীত পাত্র। দিতির কথা শুনে আমি প্রায় হিংস্র বাঘের মতন হয়ে উঠেছিলাম। আমি হিস হিস করে বলে উঠলাম, ‘অসম্ভব, আমার দিতি অন্যের হতে পারে না। আমি তোমার বাড়িতে যাব, মা-বাবার সাথে কথা বলব, তুমি এভাবে আমায় ছেড়ে…।’

‘চুপ অলক’, আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই দিতির শানিত স্বর আমায় থামিয়ে দিল। ‘কত উপার্জন তোমার? তোমার স্ট্যাটাস কী? কী খাওয়াবে? সবার আগে বলো, আজ বিয়ে করলে কোথায় রাখবে আমায়?’ আমি ঝড়ে ধাক্বা খাওয়া পাখির মতন যেন কিছুটা টাল খেয়ে গেলাম ওর কথায়, একটু সামলে নিজেকে প্রবোধ দিলাম। সত্যিই তো, অদিতির কথাগুলো বাস্তব-যুক্তিপূর্ণ। আমার কী আছে?

অদিতি সত্যিই চলে গেল আমায় ছেড়ে। আমার অনেক কিছু বলার ছিল, করার ছিল। কিন্তু আমি পারলাম না। নিজেকে গুটিয়ে নিলাম শামুকের মতন। দিতির শেষ কথাগুলো ‘তোমার স্ট্যাটাস কী? কোথায় রাখবে?…’ আমায় যেন এক নতুন আমি-তে রূপান্তরিত করল। আমি নিজেকে নিয়ে একটা ব্যূহ রচনা করে ফেললাম। নিজেরই অজান্তে। দিতি-সোহম, চলে গেল গোয়ায়। ও বিয়েতে নিমন্ত্রণও করে গিয়েছিল। কলেজ সহপাঠীরা জোরজবরদস্তি করে আমায় নিয়ে গিয়েছিল। ওরা সব কিছু জানত, তবুও। পরে শুনেছি অদিতি ওদের বারবার বলেছিল আমায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। ওদের বাড়ি গিয়েও আমি অদিতির সামনে দাঁড়াতে চাইনি। ঢুকেই কোল্ড-ড্রিংকস নিয়ে অন্যদিকে চলে গিয়েছিলাম। অদিতি খুঁজে পেতে ঠিক আমার সামনে হাজির। অদিতি– না স্বর্গ থেকে নেমে আসা পরি! আমার চোখের পলক পড়ে না। আমি মূর্তির মতো নিথর। নিজের না পাওয়া আকাঙ্খাগুলো, ক্ষোভ-যন্ত্রণা আবার যেন সামনে এসে প্রাচীর হয়ে দাঁড়াল। অদিতি আমার। কেন অন্যের বিছানায় ও শোবে! কেন? কেন? একটা কথাও অদিতিকে বলতে পারলাম না। অথবা ওই অবস্থাতেও সে আমার হাতে মৃদু চাপ দিয়ে হাসতে হাসতে বলেছিল, ‘অলক আমি তোমারই থাকব।’

মেয়েদের প্রতি আমার এক অদ্ভুত বিতৃষ্ণা সেই থেকে। আমি নিজের লেখাপড়ার মধ্যেই পুরোপুরি ডুবে গেলাম। নিজের শরীর, খাওয়াদাওয়া, কোনও দিকে দৃষ্টি নেই। বাবা-মা এসেছিলেন, আমায় বাড়ি নিয়ে যাবার জন্য। কিন্তু আমি নারাজ। এভাবে মাস গড়াল, ফুরোল বছর।

স্মৃতির জালে যেন খাবি খাচ্ছিলাম, হঠাৎ দরজায় কলিংবেল শুনে আমার চমক ভাঙল। আমি স্খলিত পায়ে উঠে দাঁড়ালাম। আবার বেল, ভাবার চেষ্টা করলাম কে হতে পারে? মাথা কাজ করল না। প্রায় অবশ হাতে দরজা খুলতেই চমকে উঠলাম। একটা ঠান্ডা স্রোত শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে গেল। এ কে! প্রায় কুড়ি বছর আগের দিতি এতটুকুও বদলায়নি! এ কী করে সম্ভব! আমি স্থাণুবৎ দাঁড়িয়েই রইলাম। দিতি না, দিতির প্রতিচ্ছবি আমার দিকে তাকিয়ে একটু হেসে আমারই ঘরে বিনা অনুমতিতে গিয়ে বসে পড়ল চেয়ারে। বিছানায় ছড়ানো আমার পুজো সংখ্যার উপন্যাসের খসড়া। দিতি নয়, নয়না মেয়েটি আমার কোনও পরোয়া না করেই ঘরের মধ্যে এটা ওটা ঘুরে দেখতে শুরু করল। বইয়ের তাক, টেবিলে ছড়ানো বই, ঢাকনা না লাগানো পেন, পেনসিল, ফাইল-ক্লিপ সব এলোমেলো। ও শুধু দেখেই গেল। যেমন দিতিকে আমি কখনও বারণ করতে পারতাম না, নয়নাকেও আমি কিছুই বলতে পারলাম না। আমার চোখজোড়া ওকে অনুসরণ করে গেল। একসময় ও থামল, আবার চেয়ারে এসে বসল, ‘আপনার লেখা আমি পড়েছি।’ প্রসঙ্গে না গিয়ে আমি ওকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কেন এসেছ?’ নয়না তক্ষুণি কোনও প্রত্যুত্তর করল না। কয়েক সেকেন্ড সময় নিল, তারপর দৃঢ় স্বরে বলে উঠল, ‘আমি জানি, আপনি আর মা মেড ফর ইচ আদার ছিলেন। সমাজ, পরিবার আপনাদের এক হতে দেয়নি। আমার মা পারেনি নিজের পরিবারের বিরুদ্ধে যেতে। তাই আপনাদের দুজনের ভালোবাসার চিহ্ন নিয়ে সে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিল। যে-বীজ বপন হয়েছিল তার শরীরে, তাকে সে বিনষ্ট হতে দেয়নি। ডালপালা মেলে তাকে পৃথিবীর আলো দেখতে সাহায্য করেছে। সোহম সেন সামাজিক দায়িত্ববোধে অবশ্যই আমার বাবা। কিন্তু আমার মা, মানে আপনার অদিতি, দিতি আমায় সব বলেছে অকপটে। আমার স্কুল-গণ্ডি পার হয়ে যাবার পরেই। আমি দিনটার অপেক্ষায় ছিলাম, কবে আপনার সাথে দেখা হবে।’

আমি স্থবির, নিশ্চল হয়ে বসে রইলাম। একি শুনছি। দিতি এখানেও তুমি আমায় হারিয়ে দিলে! তোমার প্রতি আমার যে ধারণা তা চুরচুর করে ভেঙে তুমি সোহমের সঙ্গে চলে গিয়েছিলে। সেটা যে তোমার অভিনয় ছিল তা বিন্দুমাত্র আমাকে বুঝতে দাওনি। আমার ভালোবাসাকে তুমি অপমানিত হতে দাওনি, দিতি। মেয়েদের প্রতি আমার যত বিষ সব আমি উগরে দিয়েছি, ঘৃণা, জ্বালা সব মিলিয়ে মেয়েরা যে বিশ্বাসঘাতকতার নজির তৈরি করেছিল আমার জীবনে, তা একমুহূর্তের জন্য ভুলিনি। আজ নয়না আমায় সম্পূর্ণরূপে এলোমেলো করে দিল। দিতি আমায় তুমি ক্ষমা করো। নিজেকে অবহেলা অযত্নে শেষ করে দিয়েছি। তুমি চলে যাওয়ার পর নেশা ধরলাম। কিছুদিন বাদে বুঝলাম আমি নেশা না করতে চাইলেও মদ আমার পিছু ছাড়ে না। আমার শরীর পুরোপুরি ভেঙে গেছে। এই মধ্যচল্লিশে আমায় দেখতে লাগে ষাট বছরের বুড়োর মতো। আজ আমার সামনে আমার আত্মজ– নয়না। আমি কি স্বপ্ন দেখছি!

মা জানত, বাড়িতে জানাজানি হলে দাদু আপনাকে খুন করিয়ে দিতেও দ্বিধা করবেন না। আপনিও জানেন আমার মামার বাড়ির অর্থনৈতিক ক্ষমতা-প্রতিপত্তির কথা। তাই মা নিজের ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখতে মুখ বুজে সব মেনে নিয়েছিল। মায়ের জেদ ছিল আমায় পৃথিবীতে আনার। সোহম সেনের প্রতি তার কর্তব্যে কোনও ত্রুটি ছিল না। শুধু এতগুলো বছর মা অপেক্ষায় ছিল, আপনাকে দেখানোর জন্য মা ও আপনার ভালোবাসায় ফাঁকি ছিল না।’

এ কোনও স্বপ্ন নয়, বড়ো নির্দয় কঠিন বাস্তব, নয়না, নয়নমণি।

 

ফেসলিফ্ট বিউটি ট্রিটমেন্ট-পর্ব ১

শুধু বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণেই নয়, অকালেও ত্বকের জৌলুস হারিয়ে ফেলেন মায়েরা। দুঃশ্চিন্তা, কম ঘুম, শরীরের সঠিক যত্ন না নেওয়া প্রভৃতি কারণে অনেকেরই ত্বকে বার্ধক্যের ছাপ পড়ে অকালে। বিশেষ করে মুখেচোখে বার্ধক্যের রেখাগুলি স্পষ্ট হয় আগে। আর সৌন্দর্য‌ কমতে থাকলে আত্মবিশ্বাসও কমতে থাকে।

একসময় Cosmetic anti ageing প্রক্রিয়া বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সৌন্দর্য‌ ধরে রাখার জন্য এবং সৌন্দ‌র্য বাড়ানোর জন্য অনেকেই এই প্রক্রিয়াকে মাধ্যম করেছেন। আবার কেউ কেউ শুধু ইঞ্জেকশন এবং ডার্মাল ফিলারকে মাধ্যম করেও সৌন্দর্য‌ ধরে রেখেছেন। তবে শুধু এখানেই থেমে নেই বিউটি ট্রিটমেন্ট-এর বিষয়টি। আজকাল অনেক মহিলা Facial rejuvenation surgery অর্থাৎ ফেসলিফ্ট সার্জারি-কেও মাধ্যম করছেন সৌন্দর্য‌ বর্ধনে।

Face-lift বিষয়টি আসলে কী?

ফেসলিফ্ট হল এক ধরনের কসমেটিক সার্জারি। এই সার্জারির মাধ্যমে শিথিল হয়ে যাওয়া ত্বককে টানটান রূপ দিয়ে, ত্বকের তারুণ্য ফিরিয়ে আনা যায়। আগে শুধু মুখের অংশ ঠিক করা যেত এই সার্জারির মাধ্যমে। কিন্তু বর্তমানে গলা এবং ঘাড়ের ত্বকও টানটান করে দেওয়া যায়। অবশ্য শুধু ত্বক-ই নয়, শিথিল হওয়া মাংশপেশিও ঠিক করা যায় এই সার্জারির মাধ্যমে। এমনকী ফ্যাটও সরিয়ে ফেলা যায়।

ফেসলিফ্ট সার্জারি-কে মাধ্যম করে যে-সমস্ত সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে, তা হল—

  • মুখ এবং নাকের শিথিল ত্বক টানটান করে দেওয়া যায়
  • গলার ত্বক ঠিক করা যায়
  • ঘাড়ের অংশের ত্বক এবং মাংসপেশির শিথিলতা দূর করা যায়
  • মুখমণ্ডলের যে-কোনও অংশের অতিরিক্ত মেদ কমিয়ে ফেলা যায় এই সার্জারির মাধ্যমে।

এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ফেসিয়াল ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করে সৌন্দর্য‌ ধরে রাখা যায় ৮ মাস থেকে ২ বছর কিন্তু ফেসলিফ্ট সার্জারির পর সৌন্দর্য‌ বজায় থাকে প্রায় ১০ বছর।

কারা এই সার্জারি করাতে পারবেন

অকালে যাদের মুখের ত্বক জৌলুস হারিয়েছে কিংবা যারা বয়স বাড়লেও আরও কিছুদিন সৌন্দর্য‌ ধরে রাখতে চান, তারাই সাধারণত এই ধরনের বিউটি ট্রিটমেন্ট করাতে পারেন। ফেসলিফ্ট সার্জারি করাতে হলে যে-দুটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, তা হল

  • ধূমপান এবং মদ্যপান করা যাবে না
  • অন্য কোনও বড়ো অসুখ থাকলে এই সার্জারি করা যাবে না।

ফেসলিফ্ট সার্জারির সুফল

  • মুখমণ্ডলের মাংসপেশি টাইট থাকে এবং ত্বকের জৌলুস বাড়াতে সাহায্য করে
  • চোয়াল এবং ঘাড়ের শেপ বজায় রাখে
  • কোনও সার্জারির দাগ থাকলে তা দূর করা যায়
  • স্বাভাবিক সৌন্দর্য‌ ফিরে পাওয়া যায় এবং দীর্ঘদিন সৌন্দর্য‌ বজায় থাকে।

ফেসলিফ্ট সার্জারির সাইড এফেক্ট

বেশিরভাগ সার্জারির যেমন কিছু সাইড এফেক্ট থাকে, ফেসলিফ্ট সার্জারিরও তেমনই কিছু সাইড এফেক্ট আছে। যেমন—

  • অ্যানেস্থেসিয়া-র কুপ্রভাব পড়তে পারে
  • কিছুটা রক্তক্ষয় হতে পারে
  • সংক্রমণের ভয় থাকে
  • রক্ত জমে যেতে পারে
  • যন্ত্রণা হতে পারে
  • দীর্ঘ সময় ফোলা ভাব থাকতে পারে
  • ঠিক হতে সময় লাগে।

বিয়েবাড়ির সাজ ও সোনার গয়না

সামনেই কোনও নিকটজনের বিয়ে? তাহলে  সোনার গয়না, সোনালি জরির কারুকাজ করা শাড়ি বা কুর্তায় সেজে না উঠলে বিয়েবাড়ির জাঁক ফিকে হয়ে যাবে,তাই না ? যারা বেনারসি বা কাঞ্চিপুরমের মতো ট্র্যাডিশনাল শাড়ি বেছে নিতে চান, খুব ভালো। ব্লাউজ় নিয়ে ইদানীং অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে, কিছু কিছু ডিজ়াইনার এমন ব্লাউজ় তৈরি করেন যেগুলি আপনার একেবারে সাদামাঠা শাড়িকেও চোখ ধাঁধানো করে তুলবে – তেমন কিছু বেছে নিতে পারেন।

কিন্তু বিয়েবাড়ির সাজে মাস্ট হল গয়না৷ এমন অনেকেই আছেন যারা ornaments পরতে একেবারেই ভালোবাসেন না। কোনও সমস্যা নেই তাতে! রোজের জীবনে গয়নাগাটি পরাও খুব ঝক্কির, তা ছাড়া হারিয়ে গেলে বড্ড মন খারাপও হয়! তবে সাজগোজ করলে তো কিছু গয়না পরতেই হয় – বিশেষ করে দেশি পোশাকের সঙ্গে, তাই যদি একান্ত পরতেই হয়, তা হলে এমন গয়না পরুন যা  কালজয়ী এবং বহুদিন ধরে তার কদর একইরকম আছে। যেমন ধরুন চোকার। মোটামুটি শ’ পাঁচেক বছর ধরে চোকার পরাটা ফ্যাশনেবল বলে মনে করা হয় এবং আজকের তরুণীদের কাছেও তার আবেদন বিন্দুমাত্র কমেনি। বলিউড তারকারাও দেশি ও  ইন্দো-ওয়েস্টার্ন সাজের সঙ্গে চোকার পরেন।

মুক্তো, লেস, ভেলভেট, আনকাট হিরে, পান্নার চোকার যেমন হয়, তেমনই আবার ফিউশন সাজের সঙ্গে আপনি বেছে নিতে পারেন রুপো বা মেটালের চোকার। যাদের গলাটা লম্বা, রাজহাঁসের মতো, তাদের চোকার বেশি মানায়। যদি আপনার গলাটা একটু চাপা হয়, তা হলে অবশ্য চোকারের উপর আস্থা না রেখে নেকলেসে ভরসা রাখুন। নেকলেসই আপনার গলার সৌন্দর্যটা ঠিকঠাক ফুটিয়ে তুলবে।

গলায় ভারি গয়না পরলে  কিন্তু কানে খুব লম্বা, ঝোলা দুল পরার প্রয়োজন নেই। ছোট, গোল টপ পরতে পারেন। চুলটা তুলে বেঁধে নিতে পারলেই ভালো হয়,  তাহলে গয়নার সৌন্দর্য সুন্দরভাবে চোখে পড়বে।Dressing with ornaments  কিন্তু একটা আর্ট৷

ঝোলা কানের দুল বা এক জোড়া ঝুমকো পরতে পারেন সঙ্গে হাতে বাউটি বা বালা।অনেকেই আবার এক হাতে মোটা ব্রেসলেট পরা পছন্দ করেন৷তারা ট্রাডিশনাল সেট পরতে পছন্দ করেন ৷ নিঃসংকোচে ট্র্যাডিশনাল নকশার দুল আর হালকা নেকলেস পরুন! যারা দুল পরতে ভালোবাসেন না, তারা ভারী নেকলেসে ভরসা রাখতে পারেন।আঙুলে স্টাইলিশ এবং বড়ো আংটি পরা এখন ফ্যাশন৷ সে ক্ষেত্রে হাতের চুড়ি ছিমছাম হওয়াই ভালো, যাতে আক্ষটিই হয়ে ওঠে আপনার হাতের প্রধান আকর্ষন৷

বুঝতেই পারছেন, এই ধরনের সাজের সঙ্গে খুব পরিচ্ছন্ন, সাদাসিধে মেকআপই দেখতে ভালো লাগে। দুল-নেকলেস যা-ই পরুন না কেন, চুলটা তুলে বেঁধে নিন। তাতে গয়নার সৌন্দর্যটা পরিষ্কার বোঝা যাবে। চোখের মেকআপটা মন দিয়ে করুন – কাজল, আইশ্যাডো, বেশ কয়েক পরত মাসকারায় সেজে উঠুন। আর সব শেষে একটা ছোট্ট টিপ পরতে ভুলবেন না যেন!

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব